হাজার বছরের ঐতিহ্য আর বাঙালির প্রাণের স্পন্দন নিয়ে আবার এলো পহেলা বৈশাখ। ফিরে এলো রৌদ্রকরোজ্জ্বল বৈশাখী দিনে সুরে-বাণীতে, সাজসজ্জায়, আহারে-বিহারে, আনন্দ-উল্লাসে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলার নতুন বছর ১৪৩৩ বরণ করে নেবে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে দেশের সব মানুষ। পুরোনো ব্যর্থতা ঝেরে ফেলে সবার কল্যাণ কামনায় উদ্যাপিত হবে নববর্ষের উৎসব। নববর্ষকে আবাহন জানিয়ে বহুকণ্ঠে ধ্বনিত হবে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো...।’ আয়োজনের মূল দায়িত্বে থাকছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদের ৭১তম ব্যাচ। এবারের প্রতিপাদ্য—‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। রাষ্ট্র, সমাজে ঐক্য, সম্প্রতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পুনরুজ্জীবনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এই নববর্ষের প্রতিপাদ্য।
বাংলা নববর্ষের চেয়ে বড় কোনো সর্বজনীন উৎসব দেশে আর নেই। এ কারণে মানুষে মানুষে মহাপ্রাণের মিলন ঘটানোর বর্ষবরণের এই উৎসব গভীর তাৎপর্যময় হয়ে আছে আমাদের জীবনে। এ উৎসব বাঙালির আত্মপরিচয়, অসাম্প্রদায়িক চেতনা আর শিকড়ের দিকে ফিরে তাকানোর এক মহতী লগ্ন। ইতিহাসের ধুলোবালি মাখা পথ পেরিয়ে বাংলা নববর্ষ আজ যে অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে, তা যেমন গৌরবের, তেমনি সংগ্রামের।
এবারের শোভাযাত্রার মূল কাঠামোর মধ্যে থাকছে চার চাকার কাঠের হাতি, কিশোরগঞ্জের টেপা পুতুল, শান্তির পায়রা, মোরগ ও দোতারা। এর পাশাপাশি মাছ, বাঘ ও হরিণ শাবক, ছাগল ও ছাগশিশু, কাকাতুয়া, ময়ূর ও ঘোড়া। এ ছাড়া বিভিন্ন মুখোশের মধ্যে থাকছে রাজা-রানি মুখোশ, প্যাঁচা, বাঘ, সিংহ, খরগোশ প্রভৃতি।
চারুকলার শিক্ষক শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিটি মোটিফের সঙ্গে বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য মিশে আছে। রংতুলির আঁচড়ে তারা সেই ইতিহাসকে তুলে ধরছেন।
মূল কাঠামোর মধ্যে আছে টেপা পুতুল কিশোরগঞ্জের সংস্কৃতিকে মনে করিয়ে দেবে, মোরগের পেছনে সূর্যের কাঠামো দিয়ে গ্রামীণ সকালের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। শান্তির বার্তা দেবে পায়রা, আর লোকঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে থাকছে সোনারগাঁয়ের কাঠের হাতি। আর বাংলার লোকসংস্কৃতি, বাউল ঐতিহ্য ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে থাকছে দোতারা।
এছাড়া ভয়কে জয় করার প্রত্যয় নিয়ে বাংলা নতুন বছরের ভোরে কণ্ঠ ছেড়ে গান গাইবে ছায়ানট। ছায়ানটের নববর্ষ বরণের প্রভাতি অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা নির্ধারণ করা হয়েছে—‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’।
ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন, দলবদ্ধ আক্রমণের ভয়ের সংস্কৃতি থেকে মুক্ত হয়ে আমরা নির্ভয়ে গান করতে চাই। ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৬৭ সালে রমনার বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনে নববর্ষ বরণের প্রভাতি অনুষ্ঠানের প্রধান বৈশিষ্ট্যই ছিল ভয়ের পরিবেশ থেকে বের হয়ে এসে সংগীতের ভেতর দিয়ে বাঙালি জাতিসত্তার পরিচয়কে তুলে ধরা। পয়লা বৈশাখের এ অনুষ্ঠান কালক্রমে দেশের সব ধর্ম, বর্ণের মানুষের কাছে এক অভিন্ন উৎসবে পরিণত হয়েছে।
সারওয়ার আলী বলেন, এ বছর ছায়ানটসহ দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সংবাদপত্রের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা হয়েছে। কিন্তু সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাংবাদিকেরা দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। নির্ভয়ে নিজেদের অবস্থান থেকে নিজেদের লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন। আমরা আশা করব, সেদিন প্রকৃতই আর বেশি দূরে নয়, যখন এমন পরিস্থিতির অবসান হবে। রাষ্ট্র ও সমাজে একটি মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হবে।
ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক শিল্পী লাইসা আহমদ লিসা জানান, বরাবরের মতোই সংস্কৃতিবিরোধী অপশক্তিকে তুচ্ছ করে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে বাঙালি তার সর্ববৃহৎ উৎসব নতুন বছর বরণ করতে প্রস্তুত হয়েছে। ছায়ানট বলতে চায় ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’, সেখানেই বাঙালির জয়। সব প্রতিকূলতা দূর করে নতুন বছরে আমরা আরও মানবমুখী হতে চাই। তিনি বলেন, মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধবাজরা হাজার হাজার বছরের পারস্য সভ্যতা ধ্বংসলীলায় মত্ত হয়েছে, বিশ্ব জনজীবন যখন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে, তখন শান্তি-কল্যাণ-স্বস্তির আকাঙ্ক্ষাও থাকবে ছায়ানটের এ আয়োজনে।
সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে অনুষ্ঠান শুরু হবে সম্মেলক কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের পরিবেশনা দিয়ে। এবার অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন সাঁইর গান, লোকগানের পাশাপাশি, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অজয় ভট্টাচার্য, আবদুল লতিফ, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের গান দিয়ে।
এবারের অনুষ্ঠানে বিশেষ সংযোজন থাকবে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রখ্যাত গণসংগীতজ্ঞ সলিল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ ও প্রয়াত বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা গীতিকার সুরকার ও চিত্রশিল্পী মতলুব আলীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের গান দিয়ে। মোট ২২টি গান পরিবেশিত হবে প্রায় দুই ঘণ্টার এ অনুষ্ঠানে। এর মধ্যে ৮টি থাকবে সম্মেলক গান, আর একক কণ্ঠের গান থাকবে ১৪টি। পাঠ থাকবে দুটি। ছায়ানটের শিশু বিভাগের শিক্ষার্থীসহ সব বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশিষ্ট শিল্পী মিলিয়ে প্রায় ২০০ শিল্পী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। রমনার বটমূল থেকে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি ও দীপ্ত টেলিভিশন এবং প্রথম আলো ও বিডিনিউজ টুয়েন্টি ফোর ডটকমের ওয়েব পোর্টাল। এ ছাড়া সরাসরি দেখা যাবে ছায়ানটের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজে।
এদিকে, ‘জাগাও পথিকে, ও সে ঘুমে অচেতন’—প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজন করবে বর্ষবরণ পর্ষদ। রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে এই শোভাযাত্রা হবে। এ ছাড়া দিনব্যাপী থাকবে গান, আবৃত্তি, নৃত্য, মূকাভিনয়সহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন।
গতকাল সোমবার বিকেলে বর্ষবরণ পর্ষদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে দিনব্যাপী এ আয়োজন শুরু হবে সকাল ৯টায় শিশুদের নেতৃত্বে সমবেত কণ্ঠে গানের মধ্য দিয়ে। জাতীয় সংগীত, ধনধান্য পুষ্প ভরা এবং এসো হে বৈশাখ—এই তিনটি গান পরিবেশন করবে তারা। এরপর সকাল সাড়ে ৯টায় ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের মীনাবাজারের সামনে থেকে শুরু হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। রাপা প্লাজা ঘুরে ২৭ নম্বর সড়ক, ছায়ানট, স্টার কাবাব হয়ে আবার অনুষ্ঠানস্থলে ফিরে আসবে শোভাযাত্রা। এরপর বেলা ১১টা থেকে মীনাবাজার চত্বরে শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালা। সেখানে থাকবে ব্রতচারী ও ঢালীনৃত্য, মূকাভিনয়, একক আবৃত্তি, একক গান পরিবেশনা।
বেলা ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত মধ্যাহ্নবিরতি শেষে শুরু হবে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার বৈকালিক অধিবেশন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ পর্বে থাকবে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ ও বিভিন্ন শাখা সংসদ, উঠোন, তপোবন, খেলাঘরসহ বিভিন্ন সংগঠনের পরিবেশনায় সমবেত কণ্ঠে সংগীত। এ ছাড়া বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করবে মুক্তধারা সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র, উদীচী, স্রোত, কথা আবৃত্তি চক্রসহ বিভিন্ন সংগঠনের বাচিক শিল্পীরা।
একক সংগীত পরিবেশনায় থাকবেন মকবুল আহমেদ, সুকুমার বিশ্বাস, নারায়ণ চন্দ্র শীল, পীযূষ বড়ুয়া, মনিরা রওনক বুবলি, আখি হালদার, শাওন রায়, অরুনিমা আহমেদ প্রথমা, শিল্পী সাহা।
একক আবৃত্তি নিয়ে মঞ্চে উঠবেন বেলায়েত হোসেন, লায়লা আফরোজ, নায়লা তারান্নুম কাকলি, মো. মাসুদ উজ জামান, শিখা সেনগুপ্তা, অনিকেত রাজেশ, শাহদাত হোসেন নিপু, ইকবাল খোরশেদ, অলক বসু, শাহীদা ফাল্গুনী, মোস্তাফিজুর রহমান মামুন, মেহেদী হাসান প্রমুখ। এ ছাড়া ব্রতচারী নৃত্য পরিবেশন করবে তক্ষশীলা বিদ্যালয়, আর মূকাভিনয় পরিবেশন করবে রঙ্গন আহমেদ। পুরো অনুষ্ঠানমালা শেষ হবে সরদার হিরক রাজা ও তার সঙ্গীদের বাউলগান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে।
বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ বাঙালি জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দিনটি শুধু নতুন বছরের সূচনা নয়, বরং এক নতুন অধ্যায়ের শুরু। এর মধ্য দিয়েই আসে নতুন সকাল, নতুন স্বপ্ন, নতুন সম্ভাবনা; গড়ে ওঠে মানুষ আর প্রকৃতির মধ্যে অপূর্ব মেলবন্ধন।
যেভাবে এলো পহেলা বৈশাখ: বাংলা সনের প্রবর্তনে দুই মুসলিম শাসকের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—সুলতান হোসেন শাহ ও মোগল সম্রাট আকবর। তবে অধিকাংশ গবেষকের মতে, আকবরই বাংলা সনের প্রধান প্রবর্তক।
কৃষির সুবিধার্থে আকবরের নির্দেশনায় পণ্ডিত ফতেহ উল্লাহ সিরাজী সৌর সন ও আরবি হিজরি সালের সমন্বয়ে বাংলা সন প্রণয়ন করেন। প্রথমে এর নাম ছিল ‘ফসলি সন’; পরে তা ‘বঙ্গাব্দ’ বা বাংলা সন নামে পরিচিতি পায়।
কেউ কেউ মনে করেন, গৌড়েশ্বর রাজা শশাঙ্কের আমলেই বাংলা পঞ্জিকার সূচনা। তখন খাজনা আদায় হতো চন্দ্রবর্ষ অনুযায়ী, অথচ কৃষিকাজ নির্ভর করত সৌরবর্ষের ওপর। ফলে চৈত্রের শেষ দিনে খাজনা পরিশোধের পর পহেলা বৈশাখে জমিদারেরা মিষ্টান্ন দিয়ে প্রজাদের আপ্যায়ন করতেন। সেখান থেকেই শুরু হয় নববর্ষ উদযাপনের প্রথা, যা ক্রমে সামাজিক উৎসবে রূপ নেয়। আকবরের চালু করা ফসলি সনের এই রেওয়াজ ‘হালখাতা’ হিসেবেও পরিচিত। ফারসি শব্দযুগল ‘হালখাতা’ বলতে নতুন খাতা বোঝায়। এর মাধ্যমে সাধারণত পুরোনো খাতার পুরোনো হিসাব পরিশোধ করে নতুন খাতায় নতুন হিসাব তোলা হয়।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের সমাপ্তি হলে এই অঞ্চলে সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন আসে। পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের শাসনের অধীনে গেলে প্রথম আঘাত আসে ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর। ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ হলেও অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্যের কারণে পূর্ব বাংলার বাঙালির নিজস্ব ঐতিহ্যচেতনা প্রবল হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলা নববর্ষ হয়ে ওঠে সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের এক শক্তিশালী প্রতীক।
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করলে বাংলা নববর্ষকে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপনের উদ্যোগের পাশাপাশি দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। যদিও পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক শাসনের কারণে এই উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়। তবুও বাঙালির জাতীয় চেতনা দমে যায়নি।
রাষ্ট্রচিন্তক আবুল মনসুর আহমদ বলেন, ‘বহুদর্শনের ফলে শহরবাসীর এই যে মনের বিকাশ ও দৃষ্টির প্রসারতা, এটা তারা লাগাইতে চায় নিজের সমাজের ও দেশের কাজে। অপরের দেখাদেখি নিজের লোককে ভাল করিয়া তুলিবার প্রবল ইচ্ছা জাগে তাদের অন্তরে। তারা হইয়া উঠে রিফর্মিস্ট। তারা নিজেদের চাল-চলনে, আচার-ব্যাবহারে, ঈদে-পার্বণে, এমনকি ধর্ম বিশ্বাসে, এক কথায় নিজেদের কালচারে, সংস্কার প্রবর্তন করিয়া সেটাকে করিতে চায় অধিকতর ভব্য, শালীন সুন্দর।’
বর্তমান সময়ে পহেলা বৈশাখ কেবল রমনার বটমূল বা চারুকলায় সীমাবদ্ধ নেই। দেশজুড়ে বৈশাখী মেলা, পান্তা-ইলিশের আমেজ আর নাগরদোলার কিড়িং-কুড়িং শব্দে মুখরিত হয় জনপদ। বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগেও বাঙালির এই প্রাণের উৎসব হারায়নি তার জৌলুস। বরং বিদেশে অবস্থানরত লাখো প্রবাসী বাঙালির মাধ্যমে পহেলা বৈশাখ এখন নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার থেকে শুরু করে লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ার পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।