শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

ডেঙ্গু যাতে বৃদ্ধি না পায় সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে: স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১৮:০৪

অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ বলেছেন, ডেঙ্গু যাতে বৃদ্ধি না পায় সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা ও সচেতনতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার সকালে সচিবালয়ে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধবিষয়ক জাতীয় কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এফ হাসান আরিফ বলেন, আমাদের লক্ষ্য হবে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজন রোগীও যেন মারা না যায়। দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

ডেঙ্গুবিষয়ক সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন সংস্কৃতি কর্মিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সচেতনতা বাড়াতে প্রতি শুক্রবার মসজিদ, মন্দিরসহ সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রচারণা চালানো হবে। উন্নত দেশের ন্যায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে গবেষণামূলক কার্যক্রম নেওয়া হবে।

সংবিধান ও নির্বাচন ইস্যুতে উপদেষ্টা বলেন, সংবিধান সংস্কার ও নির্বাচনী ব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনতে আলোচনা হচ্ছে। তবে সেটি কোন প্রক্রিয়ায় হবে তা এখনও ঠিক হয়নি। এক্ষেত্রে, ছাত্র-জনতার কাছ থেকে মতামত নিতে হবে। সংবিধান পুনর্লিখন, সংশোধন নাকি বাতিল করা হবে তা ছাত্র-জনতার মতামতের ওপর নির্ভর করবে। সংবিধানের মধ্যে থেকে জিম্মি করে আওয়ামী লীগ সরকার মানুষকে দমন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এফ হাসান আরিফ বলেন, সংস্কার ১৫ দিনে করা যাবে না। এক্ষেত্রে সময় লাগবে। নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য করার ব্যবস্থা করা হবে। আগামী নির্বাচন কবে হবে ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়টি ছাত্র-জনতা ঠিক করবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। এ নিয়ে কাজ করছে অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকার। এ সরকার হচ্ছে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ফসল। এ বিষয়ে ছাত্র - জনতারও ভূমিকা আছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, একমাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি এটা ঠিক। জুলাই এর ঘটনায় পুলিশ দলীয়ভাবে নির্দেশ পালন করতে গিয়ে যে কাণ্ড ঘটিয়েছে সেখান থেকে তারা এখনও বের হতে পারেনি। সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।

এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামানসহ স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন সকল প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়:

শিক্ষাব্যবস্থার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শিক্ষকদের একটি অংশ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এতে শিক্ষকদের মর্যাদাহানির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থা।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকার জাতীয় সংসদের এলডি হলে বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তিনি।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, দেশে শিক্ষকদের একটি অংশ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের। এতে শিক্ষকদের মর্যাদাহানির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থা।

তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অনিয়মের সমালোচনা করে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। দুর্নীতি দূর করতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়।

কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশ আর আই অ্যাম জিপিএ ফাইভের যুগে ফিরে যেতে চায় না। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গঠন করতে চায়, যেখানে মানবাধিকার থাকবে, গণতন্ত্র থাকবে।


মোটরসাইকেল চালকদের জন্য বিআরটিএ'র নতুন নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রতিটি মোটরসাইকেলের সম্মুখভাগে নির্ধারিত নিয়মের অধীনে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট যুক্ত করার বিষয়ে সব চালক ও মালিকদের প্রতি নির্দেশিকা জারি করেছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। ঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সুনির্দিষ্ট শর্ত মেনে নম্বরপ্লেট স্থাপন এবং তা দৃশ্যমান করার যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত এই সীমার মধ্যে নির্দেশ পালন না করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বলবৎ থাকা সড়ক পরিবহন আইন এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী যেকোনো মোটরসাইকেলের পেছনের অংশে নিবন্ধনের নম্বর প্রদর্শনের পাশাপাশি সামনের অংশেও নম্বর প্রদর্শনের আইনগত বিধান রয়েছে। এই বিধান বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই মূলত দ্বিচক্রযানের সামনের দিকে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট প্রদর্শনের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারজাতীয় মোটরসাইকেলের সামনের অংশে সংযোজিত নম্বরপ্লেটের দৈর্ঘ্য ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার হতে হবে। এছাড়া ব্যবহৃত অক্ষর ও সংখ্যার ফন্টের উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখার কথা বলা হয়েছে।

নম্বরপ্লেট তৈরির জন্য ব্যবহৃত উপাদান হিসেবে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে এবং প্লেটের জমিনের ওপর কালো রঙে বাংলা বর্ণমালা ও সংখ্যা লিখতে হবে। এতে অতিরিক্ত কোনো ধরনের সৌন্দর্যবর্ধন বা নকশা বা ফুটিয়ে তোলার সুযোগ রাখা হয়নি। স্কুটার ব্যতীত অন্যান্য সাধারণ মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে নম্বরপ্লেটের মাপ হতে হবে ২৮৫ মিলিমিটার দৈর্ঘ্য এবং ৫০ মিলিমিটার প্রস্থ। এ ক্ষেত্রেও অক্ষর ও সংখ্যার ফন্টের উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার হতে হবে এবং নিবন্ধনের এই অনুলিপি সামনের দিকে প্রদর্শন করা যাবে। নম্বর প্রদর্শনের ধরন হিসেবে উদাহরণস্বরূপ 'ঢাকা মেট্রো-ল-১১-১২২৯' নম্বরটি ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও পরিষ্কার করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সব শর্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সম্মুখভাগে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট সংযোজন ও প্রদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


মহাষষ্ঠীর আবাহনে আজ থেকে শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল পর্বের সূচনা ঘটছে মহাষষ্ঠী পূজার আয়োজনের মধ্য দিয়ে। গত ১০ অক্টোবর মহালয়ার পবিত্র তিথিতে দেবীপক্ষের সূচনা হওয়ার পর থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরি, নান্দনিক সাজসজ্জা, বর্ণিল আলোকায়ন এবং আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে ব্যাপক কর্মব্যস্ততা পার করেছেন সংশ্লিষ্ট আয়োজকেরা। অধিকাংশ মণ্ডপে আয়োজনের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে, আবার কোথাও কোথাও চলছে শেষ মুহূর্তের সৌন্দর্যবর্ধন কিংবা ভক্ত ও দর্শনার্থীদের চলাচলের পথ সুগম করার কাজ।

নির্ধারিত ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, মহাষষ্ঠী পূজার পবিত্র আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মূলত দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়, যার অংশ হিসেবে সকালে ষষ্ঠীপূজা এবং সন্ধ্যায় দেবী দুর্গার বোধন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। ধর্মীয় পরিভাষায় বোধন বলতে মূলত জাগরণ বা সুপ্ত চৈতন্যের প্রাপ্তিকে নির্দেশ করা হয়ে থাকে। উৎসব আয়োজক কমিটির পরিসংখ্যা অনুযায়ী, চলতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে গত বছর পূজামণ্ডপের সংখ্যা ছিল ৩৩ হাজার ৩৫৫টি এবং সেই হিসেবে এবার সারা দেশে মণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৪৯৬টি। অন্যদিকে, রাজধানী ঢাকা মহানগরে এবার মোট ২৫৮টি মণ্ডপে পূজা উদযাপিত হচ্ছে, যেখানে গত বছর এই সংখ্যাটি ছিল ২৬১টি।

উৎসবমুখর এই সময়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সর্বাত্মক নিরাপত্তা বজায় রাখতে ২২ দফা সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এর মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি মণ্ডপে সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবী নিয়োজিত রাখা, সুযোগ সাপেক্ষে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করা, পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা সংরক্ষণ করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বা ঘটলে দ্রুততম সময়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে তা অবহিত করা।


মধ্যপ্রাচ্যে ধাক্কা, মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ

* সৌদির বিমানবন্দরে বিধিনিষেধে স্থগিত ১০৩ ফ্লাইট * ভোগান্তিতে ১৫ হাজার ৭৭৯ যাত্রী * মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী বিনা খরচে নিয়োগে নীতিগত সম্মতি * ৩৩৮ রিক্রুটিং এজেন্সি তালিকাভুক্ত
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের যাত্রাসংকটের মধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দরে বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশের ১০৩টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইটের কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী। এর মধ্যে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী সম্পূর্ণ বিনা অভিবাসন ব্যয়ে নিয়োগের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

দুটি ঘটনা বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক যাতায়াতে কার্যকর প্রস্তুতি এবং বিকল্প সুযোগ সম্প্রসারণের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। তবে সৌদির ফ্লাইটে বিঘ্নের অর্থ মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়; অন্যদিকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের ঘোষণাটিও এখনো নীতিগত সম্মতির পর্যায়ে রয়েছে।

সৌদিতে ১০৩ ফ্লাইটে প্রভাব: সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে পরিচালনাগত বিধিনিষেধের কারণে ১০৩টি ফ্লাইটের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ৪২টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৬১টি। এতে ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলার ১০টি, সৌদিয়ার আটটি এবং রিয়াদ এয়ারের সাতটি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে। ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের আটটি, সালামএয়ারের সাতটি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি, এয়ার ইন্ডিয়ার তিনটি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে।

রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন ও বাতিলের ঘটনা ঘটে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে ফ্লাইট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। যাত্রীদের সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ সময়সূচি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে যাত্রীদের পাশাপাশি বিদেশে চাকরিতে যোগ দিতে যাওয়া কর্মীদের ভিসার মেয়াদ, যোগদানের সময়সীমা ও সংযোগ ফ্লাইট নিয়ে জটিলতা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত সহায়তা প্রয়োজন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে ১০ হাজার কর্মী সম্পূর্ণ বিনা অভিবাসন ব্যয়ে নিয়োগের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে মালয়েশিয়া। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে বিদেশে চাকরি পেতে কর্মীদের আর্থিক চাপ কমবে এবং ঋণনির্ভরতা হ্রাসের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে কোন খাত থেকে কর্মী নেওয়া হবে, নির্বাচনপ্রক্রিয়া কী হবে এবং বিমানভাড়া, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় কারা বহন করবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রয়োজন। নীতিগত সম্মতির পর নিয়োগকর্তার চাহিদা, কর্মীদের যোগ্যতা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভিসা ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই কর্মী পাঠানোর অগ্রগতি নিশ্চিত হবে।

মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে।

অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তা খুঁজে চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ ও কর্মী নির্বাচন করতে পারবে। কলিং ভিসা, ই-ভিসাসহ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বোয়েসেল ও ২৫টি প্রসেসিং এজেন্সি সহায়তা করবে। এরপর বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কর্মীদের ছাড়পত্র নেওয়া হবে।

২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন ও তালিকাভুক্তির বিধান রয়েছে। এর আগে ৪২৩টি এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল।

মালয়েশিয়ায় কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। দুই দেশের যৌথ প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রগুলো যাচাই-বাছাই করে তালিকা অনুমোদন করা হবে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র বাদ দিয়ে অনুমোদিত অবশিষ্ট কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো একটি কেন্দ্রকে এককভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না।

একই সঙ্গে নিয়োগকর্তার বৈধতা, চাকরির চুক্তি, বেতন, কর্মঘণ্টা ও আবাসনের শর্ত যাচাই করা জরুরি। কর্মীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের হিসাব স্বচ্ছ রাখা এবং অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা থাকলে অনিয়মের সুযোগ কমবে।

বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক কর্মী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কাজ করেন। এসব দেশের কর্মসংস্থান ও যাতায়াতব্যবস্থায় পরিবর্তন হলে প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবার প্রভাবিত হতে পারেন। তাই বিদ্যমান শ্রমবাজারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি মালয়েশিয়ার মতো বাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ।

সৌদির ফ্লাইট পরিস্থিতি মোকাবিলায় যাত্রীদের দ্রুত তথ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া এবং মালয়েশিয়ায় নিয়োগের প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা এখন অগ্রাধিকার। ১০ হাজার কর্মী বিনা খরচে নিয়োগের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে ঘোষণার বাস্তবায়ন, দক্ষতাভিত্তিক নির্বাচন এবং কর্মীদের অধিকার নিশ্চিত করার ওপর।


বিদ্যুৎ ক্রয়ে নতুন নীতি, সারের ভর্তুকি যাচ্ছে কৃষকের হাতে

* কৃষক কার্ডে সহায়তার পরিকল্পনা * মূল লক্ষ্য, বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক চাপ কমানো
ফাইল ছবি। দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় সাশ্রয় এবং কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা আরও কার্যকর করতে ভর্তুকি ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গড় ট্যারিফের চেয়ে বেশি দামে নতুন বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি না করা এবং উচ্চমূল্যের বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সারের ভর্তুকি বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করার পরিবর্তে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে যোগ্য কৃষকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে।

সরকারের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য, বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক চাপ কমানো, সরকারি অর্থের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতে সহায়তার সুফল প্রকৃত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। পরিকল্পনাগুলো কার্যকর হলে একদিকে বিদ্যুৎ ক্রয়ে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য আরও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে।

বিদ্যুৎ ক্রয়ে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতি: বিদ্যুৎ কেনা ও বিক্রির দামের ব্যবধান কমিয়ে সরকারের ভর্তুকির চাপ নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতি নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। গত ৬ অক্টোবর অর্থ বিভাগকে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, গড় ট্যারিফের চেয়ে বেশি দামে নতুন বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি অনুমোদন করা হবে না। একইভাবে, গড় ট্যারিফের চেয়ে বেশি দর নির্ধারিত রয়েছে—এমন চুক্তির মেয়াদও বাড়ানো হবে না।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ গড়ে ১২ টাকা ৮০ পয়সায় কিনে ৮ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি করা হচ্ছে। এতে প্রতি ইউনিটে সরকারের ভর্তুকি দাঁড়াচ্ছে ৪ টাকা ৩০ পয়সা। বিপিডিবির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনার গড় মূল্য ছিল প্রতি ইউনিট ১৪ টাকা ৫৬ পয়সা।

বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কেনা হচ্ছে ১৩ টাকা ৫৭ পয়সায়। ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের ক্রয়মূল্য ১৪ টাকা ৮৬ পয়সা। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তির ব্যয় পর্যালোচনা এবং গড় ট্যারিফের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতের ক্রয়নীতি নির্ধারণকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের ফলে ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির প্রয়োজন কমতে শুরু করবে। পরবর্তী বছরগুলোতে ব্যয় সাশ্রয়ের সুযোগ আরও বাড়তে পারে। তবে এ উদ্যোগের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে কত টাকা সাশ্রয় হবে, সে হিসাব এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, সরকারি মালিকানাধীন কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুতের দাম ইতিমধ্যে গড় দরের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। অন্য কেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রেও পর্যায়ক্রমে একই পদ্ধতি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

ভর্তুকি কমলে বিদ্যুতের দাম স্থিতিশীল রাখার সুযোগ: বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের ব্যবধান কমানো গেলে সরকারের ভর্তুকি বাবদ ব্যয় নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়ানোর চাপও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে।

এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস ইনস্টিটিউটের প্রধান বিশ্লেষক শফিকুল আলমের মতে, গড় লেভেলাইজড ট্যারিফের চেয়ে কম দামে বিদ্যুৎ কেনার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এটি সরকারের ব্যয় ও ভর্তুকি কমাতে সহায়তা করবে এবং বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি করবে। তবে এ নীতি কার্যকর করতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ধরন, জ্বালানি সরবরাহ, উৎপাদন সক্ষমতার ব্যবহার এবং প্রকৃত উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে ট্যারিফ নির্ধারণ করতে হবে। স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি অনুসরণ করা গেলে এ উদ্যোগের সুফল দীর্ঘমেয়াদে পাওয়া সম্ভব।

সারের ভর্তুকিতে আসছে কৃষক কার্ড: বিদ্যুৎ খাতের পাশাপাশি কৃষি খাতেও সরকারি সহায়তার কার্যকারিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ বাংলাদেশ উন্নয়নবিষয়ক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সারের ভর্তুকির বড় অংশ পাচ্ছেন বড় কৃষকেরা। বিপরীতে, ক্ষুদ্র কৃষকেরা তুলনামূলক কম সহায়তা পাচ্ছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মোট কৃষকের ৪০ শতাংশ ক্ষুদ্র কৃষক হলেও তারা সারের ভর্তুকির মাত্র ১৩ শতাংশ পান। অন্যদিকে, ভর্তুকির প্রায় অর্ধেক পান বড় কৃষকেরা। এ চিত্রের ভিত্তিতে কৃষি খাতের সরকারি সহায়তা আরও লক্ষ্যভিত্তিক করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে বিশ্বব্যাংক।

গত পাঁচ বছরে সারের ভর্তুকি প্রায় চার গুণ বেড়ে ২৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এ বিপুল অর্থের সুফল যাতে প্রকৃত কৃষকদের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছায়, সে জন্য বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ এবং সরাসরি আর্থিক সহায়তার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় সারের বিক্রয়মূল্য থেকে ভর্তুকি সমন্বয়ের পরিবর্তে প্রকৃত দামে সার বিক্রি করে যোগ্য কৃষকদের কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে। কৃষক কার্ডের সঙ্গে ইলেকট্রনিক ভাউচার যুক্ত করা হলে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়ার সুযোগও তৈরি হতে পারে। তবে এ পরিকল্পনার চূড়ান্ত কাঠামো এখনো নির্ধারিত হয়নি। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়, সারের প্রাপ্যতা এবং সহায়তার পরিমাণ বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হবে।

তথ্যভান্ডার তৈরিতে গুরুত্ব: কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কৃষকদের একটি তথ্যভান্ডার তৈরির কাজ চলছে। এতে কৃষকের জমির পরিমাণ, চাষাবাদের আওতাধীন জমি, উৎপাদিত ফসলসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ধরনের তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা চালু হলে প্রকৃত কৃষক শনাক্ত করা, তাদের যোগ্যতা যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা নির্ধারণ সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থের ব্যবহার আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার সুযোগ তৈরি হবে।

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সহায়তা কার্যকরভাবে পৌঁছানো গেলে ক্ষুদ্র কৃষকেরা তাদের উৎপাদন ব্যয় সামাল দিতে বাড়তি সহায়তা পেতে পারেন। তবে এ সুফল নিশ্চিত করতে কৃষকের সঠিক নিবন্ধন, সহজ আবেদনপ্রক্রিয়া এবং সময়মতো অর্থ বিতরণ জরুরি।

অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত সংস্কার: বিদ্যুৎ ও কৃষি খাতের ভর্তুকি ব্যবস্থায় পরিবর্তনের উদ্যোগ সরকারের ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের অংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তিন বছরের সংস্কার রোডম্যাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কৃষি খাতে সরকারি সহায়তা আরও কার্যকরভাবে বণ্টনের বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সুপারিশ বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমানোর পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কৃষিতে সহায়তার নতুন পদ্ধতি চালুর ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে সারের মূল্যব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার আগে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, বিদ্যুৎ ক্রয়ে ব্যয় সাশ্রয় এবং কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহারের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। স্বচ্ছ নীতিমালা, যথাযথ বাস্তবায়ন ও প্রকৃত সুবিধাভোগীদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা গেলে এ উদ্যোগ বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপ কমানো এবং কৃষকদের সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


সংস্কার ও বিনিয়োগে খুলছে অর্থনীতির নতুন দুয়ার

* অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট আইএমএফ * উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে গতি * মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগ
ফাইল ছবি। দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে সংস্কার, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো, ব্যাংক খাতের সক্ষমতা উন্নয়ন এবং রাজস্ব আদায়ের পরিধি সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনীতির ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক অর্থায়নে ঋণের পাশাপাশি সরাসরি বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা সামনে এসেছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চারের সুযোগ তৈরি হবে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতার আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তার মতে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সংস্কার কার্যক্রম ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অংশীদার সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হচ্ছে। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের অগ্রগতিতে আইএমএফ সন্তুষ্ট বলেও জানান তিনি।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে চলছে। বেশ কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে এবং বাকি বিষয়গুলো নিয়েও সমঝোতার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আগামী কয়েক মাসে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও সুসংহত করতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপপরিচালক সোনালি জৈন চন্দ্র জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখার পাশাপাশি রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক খাতে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির গতি কমিয়ে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে মুদ্রানীতির সঙ্গে বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার তদারকি কার্যকর করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কৃষি ও শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, পণ্য পরিবহন ও বিপণনব্যবস্থার দক্ষতা উন্নয়ন এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড সহজ করার মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব। এসব উদ্যোগ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়িত হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পরিবেশও শক্তিশালী হবে।

মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি ও মজুরি সমন্বয়ের গুরুত্ব: অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল সাধারণ মানুষের জীবনে পৌঁছে দিতে প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। বিবিএসের মজুরি হার সূচক অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এই ব্যবধান কমিয়ে আনতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নিয়মিত মজুরি পর্যালোচনা এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমানের মতে, উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়ানো মজুরি বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশাও শ্রমিকদের মজুরি সমন্বয় এবং দাবি-দাওয়া তুলে ধরার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

এ ক্ষেত্রে শিল্পায়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের সম্প্রসারণ, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। কৃষি, শিল্প ও সেবাখাতে উৎপাদনশীল কাজের সুযোগ বাড়লে শ্রমের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের আয় ও কর্মপরিবেশের উন্নয়ন ঘটলে অভ্যন্তরীণ বাজারে ভোগব্যয় এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্যাংক খাতের সক্ষমতা উন্নয়নে গুরুত্ব: আর্থিক খাতকে আরও কার্যকর ও বিনিয়োগবান্ধব করতে ব্যাংকগুলোর মূলধন শক্তিশালী করা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, আইএমএফের সঙ্গে আলোচনায় ব্যাংক খাতের পুনঃমূলধনীকরণ, কর-জিডিপি অনুপাত এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

ব্যাংক খাতের সক্ষমতা বাড়াতে আর্থিক অবস্থার স্বচ্ছ মূল্যায়ন, ঋণ আদায় ব্যবস্থার উন্নয়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং ঋণ বিতরণে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এর ফলে আমানতকারীদের আস্থা বৃদ্ধি, ব্যবসায়িক উদ্যোগে অর্থায়ন সম্প্রসারণ এবং উৎপাদনশীল খাতে পুঁজি প্রবাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

একই সঙ্গে রাজস্ব আদায়ের পরিধি বাড়ানো সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, করের আওতা সম্প্রসারণ এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত উন্নত করা সম্ভব। এতে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্পে অর্থায়নের সক্ষমতা বাড়বে।

চীনের ঋণের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও অংশীদারত্ব: বৈদেশিক অর্থায়নে দীর্ঘমেয়াদি সুফল বাড়াতে চীনের সঙ্গে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণে আগ্রহী বাংলাদেশ। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকার ধীরে ধীরে সরকারি পর্যায়ের ঋণনির্ভর মডেল থেকে যৌথ ও সরাসরি বিনিয়োগের দিকে এগোতে চায়।

ব্যাংককে চীনের এক্সিম ব্যাংক ও মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে অর্থায়ন, বিনিয়োগ এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়লে নতুন শিল্প স্থাপন, প্রযুক্তি স্থানান্তর, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি দেশীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশীদারত্ব গড়ে উঠলে উৎপাদন সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সুযোগ বাড়বে।

এ লক্ষ্য অর্জনে নীতির ধারাবাহিকতা, ব্যবসা পরিচালনার সহজ পরিবেশ, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, দক্ষ জনশক্তি এবং উন্নত অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগ পরিকল্পনাকে বাস্তব প্রকল্পে রূপ দেওয়া গেলে অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি সুফল তৈরি হবে।

আইএমএফের সঙ্গে সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা: বাংলাদেশের নতুন আইএমএফ-সমর্থিত কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে বেশ কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে এবং অবশিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করা হবে।

অর্থমন্ত্রী মনে করেন, আলোচনার অগ্রগতি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কৌশলের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতিফলন। তিনি জানিয়েছেন, কর্মসূচির বিভিন্ন শর্ত ও মতপার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের নিজস্ব উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

নতুন কর্মসূচির বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হলে অর্থনৈতিক সংস্কার, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। তবে কর্মসূচির চূড়ান্ত শর্ত, অর্থায়নের পরিমাণ ও অর্থ ছাড়ের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তই হবে পরবর্তী অগ্রগতির নির্ভরযোগ্য ভিত্তি।

টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে অগ্রাধিকার: বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে তিনটি ক্ষেত্রে সমন্বিত অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো। দ্বিতীয়ত, ব্যাংক খাতের সক্ষমতা উন্নয়ন এবং রাজস্ব ব্যবস্থার আধুনিকায়ন। তৃতীয়ত, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়িয়ে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এই উদ্যোগগুলোর সমন্বিত বাস্তবায়ন অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মূল্যস্ফীতির চাপ কমলে পরিবারের ব্যয় ব্যবস্থাপনা সহজ হবে, বিনিয়োগ বাড়লে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং রাজস্ব আদায় বাড়লে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সক্ষমতা শক্তিশালী হবে।

সব মিলিয়ে, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সহযোগিতার অগ্রগতি, ব্যাংক খাতের সংস্কার এবং বিনিয়োগমুখী অর্থায়নের উদ্যোগ বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এখন এসব পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়ন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের মাধ্যমে সেই সম্ভাবনাকে টেকসই অগ্রগতিতে রূপ দেওয়াই হবে প্রধান লক্ষ্য।


ডিজিটাল অপরাধ দমনে ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠনে গুরুত্বারোপ 

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির পঞ্চম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাদকের বিস্তার রোধ ও সাইবার অপরাধ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে সরকারের নেওয়া বিশেষ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে পৃথক ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠনের বিষয় নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির পঞ্চম বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বিগত ২০২৫ এবং চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসের অপরাধের একটি তুলনামূলক পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয়।

কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে উভয় বছরের তৃতীয় কোয়ার্টার বা প্রান্তিকের (জুলাই–সেপ্টেম্বর) অপরাধের চিত্রও কমিটির সামনে তুলে ধরা হয়। এছাড়া দেশের বর্তমান সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, অপরাধ দমন ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়।

উপস্থাপিত প্রতিবেদনে ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, দ্রুত বিচার আইনের আওতাধীন অপরাধ, দাঙ্গা, ধর্ষণ, অ্যাসিড নিক্ষেপ, নারী ও শিশু নির্যাতন, অপহরণ, চুরি, পুলিশের ওপর হামলা, অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদক এবং চোরাচালান সংক্রান্ত মামলার তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ও ইতিবাচক উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। পরিস্থিতির এই ধারাবাহিক উন্নয়নে বৈঠকে উপস্থিত কমিটির সদস্যরা গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সারাদেশে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়। এসময় সরকারের নেওয়া বিশেষ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে পৃথক ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

এই আধুনিক অপরাধগুলোর ধরণ বিবেচনা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও যুগোপযোগী ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে জোর সুপারিশ করা হয়েছে।

বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. নূরুল ইসলাম সম্প্রতি ঢাকা মেগাসিটিতে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ এবং ঢাকার সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান। এর জবাবে কমিটির সদস্য এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর নেওয়া সমন্বিত তৎপরতা ও এর দৃশ্যমান অগ্রগতি কমিটির সামনে তুলে ধরেন।

সংসদীয় কমিটির এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মো. মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, মো. নূরুল ইসলাম এবং মো. আব্দুল বাতেন।

এছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, আইন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রধানরাসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।


‘ডাক বিভাগকে আধুনিক ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে কাজ করছে সরকার’

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে বিশ্ব ডাক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্তকরণ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ডাক বিভাগকে আধুনিক, জনবান্ধব ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে বিশ্ব ডাক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্তকরণ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘ডাকসেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে এবং পার্সেল সেবায় ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। ডাক বিভাগকে আধুনিক ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

ডাক বিভাগে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে চায়। আগামী দিনে ডাক বিভাগের সেবার মান, আয় ও সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘নগদ বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের এই মুহূর্তে নেই। বরং প্রতিষ্ঠানটিকে আরও আধুনিক ও লাভজনক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে মাহবুব আনাম বলেন, ‘প্রকল্পটি চালুর লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সরকার কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে কারিগরি প্রক্রিয়া ও পরীক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হবে।’

ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘কাজের স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন কর্মীদের উৎসাহিত করে। তাই যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে পুরস্কার প্রদানের এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ের ডাকঘর ও কর্মীদের কাজের মূল্যায়নে গুরুত্ব দিতে হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মিজ বিলকিস জাহান রিমি বলেন, ‘ডাক বিভাগের বিদ্যমান অবকাঠামো ও দেশব্যাপী বিস্তৃত পোস্ট অফিস নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে আধুনিক, জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর ডাকসেবা নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে ডাকসেবার সংস্কার ও রূপান্তরের পাশাপাশি ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় এবং ডাক বিভাগের ফ্র্যাঞ্চাইজি কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

গত শুক্রবার বিশ্ব ডাক দিবস উদযাপনের ধারাবাহিকতায় ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী ডাকসেবা সপ্তাহ পালিত হয়েছে।


‘ই-জাতীয় সংসদ প্রকল্প’ কমিটির সভাপতি ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) উদ্যোগে প্রণীত ‘ই-জাতীয় সংসদ প্রকল্প’ বাস্তবায়নে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জাতীয় সংসদ। এ কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের নির্দেশনায় এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), নায়াব ইউসুফ আহমেদ, মীর আহমাদ বিনকাসেম, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আখতার হোসেন, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ও আন্না মিন্জ।

কমিটির সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মহাপরিচালক (বিঅ্যান্ডআইটি)।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কমিটির অন্যতম দায়িত্ব হলো ইউএনডিপি প্রণীত ‘ই-জাতীয় সংসদ প্রকল্প’-এর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেওয়া। পাশাপাশি ই-পার্লামেন্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কমিটি।

এ ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগও রাখা হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ নিরাপত্তা পাচ্ছেন ড. ইউনূস

ছবি: সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস একদল ব্যক্তির দ্বারা হেনস্তার শিকার হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ও প্রটোকলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক সরকারপ্রধান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তাঁর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটন ডিসিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও নিউইয়র্ক কনস্যুলেটের কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তজা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ এবং বিমানবন্দর পোর্ট অথরিটির কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার এই ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করে। এ ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও সতর্ক বার্তা জারি করা হয়েছে। এ ঘটনার পেছনে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মার্কিন স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছে বাংলাদেশ মিশন।


জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন রাখা ও সংস্কারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৩৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন রাখা, সবুজায়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক জানান, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন।

তিনি আরও জানান, পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের মাঠ, বাগান ও বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকার সার্বিক পরিবেশ, অবকাঠামোগত অবস্থা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

সহকারী প্রেস সচিব জানান, জাতীয় সংসদ প্লাজার সৌন্দর্য ও পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। মাঠ ও বাগান পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি বিদ্যমান গাছপালার সঠিক পরিচর্যা এবং সবুজায়ন কার্যক্রম জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও তিনি দেন।

এছাড়া সংসদ প্লাজা ও এর আশপাশের এলাকায় যেসব স্থানে সংস্কার দরকার, সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কারকাজ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক আরও জানান, জাতীয় সংসদ ভবনের স্বতন্ত্র স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ ও এর সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার নির্দেশও দেন তিনি।


ইসরাইলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকালে বাংলাদেশের ওয়াকআউট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে এশিয়াবিষয়ক একটি সম্মেলনে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের বক্তব্যকালে ওয়াকআউট করেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে বাকুতে ‘এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা প্রতিষ্ঠা বিষয়ক’ (সিআইসিএ) সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেয় ঢাকা।

সেখানে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট বক্তব্য শুরু করলে সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করে হুমায়ুন কবির ও অন্যান্য প্রতিনিধিরা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে আরও কয়েকটি দেশও ইসরাইলের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য চলাকালীন হল ত্যাগ করেন। এই ওয়াকআউট ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলের মানবতাবিরোধী হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে কূটনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুইদিন ব্যাপী এশিয়া শীর্ষক সম্মেলন। এতে এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা ও আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা। বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বাকুর উদ্দেশে গত বুধবার দিবাগত রাতে ঢাকা ছাড়েন তিনি।

সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে এশীয় দেশগুলোর মধ্যকার আঞ্চলিক সহযোগিতা এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার তুলে ধরেন মিস্টার হুমায়ুন কবির। নিজের বক্তব্যে সুনির্দিষ্ট করে তিনটি প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি। সেগুলো হলো— সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে আনুষ্ঠানিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও অনুসরণ ব্যবস্থাসহ ফলাফলভিত্তিক খাতওয়ারি প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিভিন্ন অংশীজনের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আরও বেশি সরাসরি উপস্থিতিভিত্তিক অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্ষেত্রে উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আইসিটি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিনিময় জোরদার করা।

১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এ ফোরামের লক্ষ্য এশিয়াজুড়ে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা ও জোরদার করা। এ ছাড়া, শীর্ষ সম্মেলনে ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য সিআইসিএ- এর সভাপতিত্বে আজারবাইজানের দায়িত্ব গ্রহণ এবং এর পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে মহামান্য সুলতান হাজিয়েভের নিয়োগ অনুমোদন করা হয়েছে।


দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসার-ভিডিপির ২ লক্ষাধিক সদস্য মোতায়েন

আনসার-ভিডিপি সদর দপ্তরে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখছেন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে সারাদেশে আনসার-ভিডিপির ২ লাখ ১২ হাজার ৮১৮ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৮৮ জন পুরুষ ও ৬৬ হাজার ৩৩০ জন নারী সদস্যসহ জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়াদানের জন্য আনসার ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে ১০৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স টিমের ৬২৪ জন সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

তিনি আরো বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি, ডিজিটাল নজরদারি, দক্ষ জনবল এবং আন্তঃবাহিনী সমন্বয়ের মাধ্যমে এবারের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও গতিশীল, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করা হয়েছে।

আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কর্মমুখী শিক্ষার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চালু করা হয়েছে কলেজভিত্তিক ভিডিপি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও জননিরাপত্তায় অংশগ্রহণের উপযোগী দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। তারা এবারের শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান ও দক্ষতার বাস্তব প্রয়োগ ঘটাবেন।

নিরাপত্তা কার্যক্রমের তদারকি ও তাৎক্ষণিক সাড়াদানে ব্যবহৃত ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’-এর কার্যকারিতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ আরও সহজ ও কার্যকর হচ্ছে। পূজামণ্ডপে নিয়োজিত ভিডিপি সদস্যরা নিরাপত্তার প্রথম সারিতে থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ ও তাৎক্ষণিক সাড়াদানে ভূমিকা রাখবেন। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। পাশাপাশি, সার্বিক কার্যক্রম তদারকি, ঘটনা ও দুর্ঘটনা মোকাবিলা এবং গুজব প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, দেশের পূজামণ্ডপ ও মন্দিরগুলোর গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিবেচনায় তিন শ্রেণিতে নিরাপত্তা জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৬ হাজার ৯১৪টি মণ্ডপের প্রতিটিতে ৮ জন করে এবং গুরুত্বপূর্ণ ১১ হাজার ৭৮১টি ও সাধারণ ১৪ হাজার ৪৭০টি মণ্ডপের প্রতিটিতে ৬ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় সারাদেশে ১০৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় বাহিনীর সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন স্তরের গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


banner close