জুলাই-আগস্টে ছাত্র জনতার আন্দোলনের সময় বিগত সরকারের নির্দেশে পরিচালিত গণহত্যার তথ্য উপাত্ত চেয়ে সকল গণমাধ্যম, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, সিভিল সার্জন, প্রত্যেক জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারকে চিঠি পাঠাচ্ছে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের আজ সোমবার এ তথ্য জানান।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গণহত্যার তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করতে আমরা হাসপাতাল গুলোতে গতকাল থেকে পরিদর্শন শুরু করেছি। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। জুলাই-আগস্ট গণহত্যার তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করতে সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আহ্বান জানান চিফ প্রসিকিউটর।
তিনি বলেন, বিভিন্ন কবরস্থান পরিচালনাকারীদের কাছেও তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আন্দোলনের সবচাইতে বড় সাক্ষী হচ্ছেন ছাত্র-ছাত্রীরা। এ বিচারের সবচেয়ে বড় সাক্ষি তারা। আমরা এ আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে মত বিনিময় করব।
আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি বলেন, এ অপরাধগুলোর মাত্রা এতটাই ভয়াবহ যে তদন্ত কালে আসামিদের গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন হবে। নিশ্চয়ই আমরা অপরাধীদের গ্রেপ্তার চাইবো। আমাদের প্রথম চেষ্টা থাকবে যারা সম্ভাব্য অপরাধী তারা যাতে আদালতের জুরিকিডিকশনে বাইরে চলে যেতে না পারেন। সেটা ঠেকানোর চেষ্টা থাকবে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট তাজুল ইসলামকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর হিসেবে শনিবার নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
এডভোকেট তাজুল ইসলাম ছাড়াও ট্রাইব্যুনালে আরও চার আইনজীবীকে প্রসিকিউটর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন-মো. মিজানুল ইসলাম, গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম, বি এম সুলতান মাহমুদ এবং আব্দুল্লাহ আল নোমান।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এডভোকেট তাজুল ইসলাম এটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা সুযোগ সুবিধা ভোগ করবেন। বাকি চার প্রসিকিউটরের মধ্যে মো. মিজানুল ইসলাম অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল, গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম ও বিএম সুলতান মাহমুদ ডেপুটি এটর্নি জেনারেল ও আব্দুল্লাহ আল নোমান সহকারী এটর্নি জেনারেলের সমমর্যাদা পাবেন।
দ্যা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনাল) এ্যাক্ট, ১৯৭৩ এর সেকশন ৭ অনুসারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলা পরিচালনার জন্য পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত এ নিয়োগ কার্যকর থাকবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে সংঘটিত অভ্যুত্থানে পদত্যাগ করে গত ৫ আগস্ট দেশ ছাড়েন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এরপর নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শপথ গ্রহণ করে।
বৈষম্যবিরোধী টানা ৩৬ দিনের আন্দোলন নির্মূলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, তৎকালীন আওয়ামী লীগ দলীয় ক্যাডারদের হামলায় সরকারি হিসেবেই ৮০০ লোক নিহত হয়েছে। এ সংখ্যা আরো বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন। গুলিতে আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছে বহু মানুষ। এখনো চিকিৎসাধীন কয়েক হাজার মানুষ। এ গণহত্যার বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হবে। ইতোমধ্যে প্রসিকিউশন টিম নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করতে দীর্ঘ ১৫ বছরের বিরতি শেষে জাতীয় সংসদ ভবনে ফিরছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সংসদ সদস্যরা। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণকে ঘিরে সকাল ৯টা থেকেই সংসদ ভবন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। একের পর এক নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গাড়ি সংসদ ভবনের প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। দীর্ঘ দেড় দশক পর নিজেদের প্রিয় প্রাঙ্গণে প্রত্যাবর্তনের এই মুহূর্তে অনেক সংসদ সদস্যকেই আবেগাপ্লুত হতে দেখা গেছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে এই অনুষ্ঠান পরিচালিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। সংসদীয় রীতি ও রেওয়াজ অনুযায়ী, নির্বাচনে জয়ী নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সদস্যরা প্রথম ধাপে শপথ নেবেন। উল্লেখ্য যে, ২০১৪ এবং ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচন বয়কট এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও কারচুপির অভিযোগে সংসদ থেকে পদত্যাগ করার ফলে দীর্ঘ সময় বিএনপি সংসদীয় রাজনীতির বাইরে ছিল। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের মাধ্যমে তারা আবারও দেশের শাসনভার ও সংসদীয় নেতৃত্বে ফিরে এসেছে।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন ও এর আশপাশের পুরো এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সংসদ ভবনের প্রতিটি প্রবেশপথে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সংসদ সদস্য হিসেবে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবেশ রোধে গেটে কড়াকড়িভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় নথি পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র্যাব সদস্য পুরো চত্বর নজরদারিতে রাখছেন। আজকের এই আয়োজনের সফল সমাপ্তির জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
সংসদ সদস্যদের এই আনুষ্ঠানিক শপথের পর আজ বিকেলেই অনুষ্ঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। এই আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত বরেণ্য ব্যক্তিবর্গসহ অন্তত ১ হাজার ২০০ জন আমন্ত্রিত অতিথি ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছেন। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাসহ সার্কভুক্ত বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা এই শপথ অনুষ্ঠানের সাক্ষী হতে আসছেন। এই ঐতিহাসিক দিনটির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নতুন পথচলা শুরু হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। এবার অপেক্ষা প্রত্যাশিত গণতন্ত্রে ফেরার। সেই শুভক্ষণেরও সাক্ষী হতে চলেছে দেশ। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টায় সংসদ ভবনের নির্ধারিত কক্ষে হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী ২৯৭ সংসদ সদস্যের শপথ। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীসহ নতুন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরাও শপথ নেবেন আজ। এ মহাযজ্ঞ ঘিরে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সংসদের প্রবেশপথ ও ভেতরে নেওয়া হয়েছে চারস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবির ১৫ হাজার সদস্য। স্ট্যান্ডবাই থাকবে সোয়াট, বোম্ব ডিস্পোজাল ও বিশেষায়িত সব ইউনিট। এই শপথের মধ্য দিয়ে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হতে যাচ্ছে; যাত্রা শুরু হচ্ছে নতুন বাংলাদেশের।
সাধারণত বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠান হয়ে থাকলেও এবার তেমনটা হচ্ছে না। এবার প্রধানমন্ত্রীসহ নতুন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হবে। শপথ অনুষ্ঠানে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। একই দিন সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্যরা শপথ নেবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন সংসদ-সদস্যদের শপথ পড়াবেন। অনুষ্ঠানে ভারত, পাকিস্তান ও ভুটানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি এবং দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ প্রায় ১ হাজার ২০০ জন আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত থাকবেন।
প্রথা অনুযায়ী শপথ অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিবৃন্দ, জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, বিশিষ্ট আইনজীবী, সাংবাদিক এবং কূটনীতিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। ছাড়া নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ খলিল এবং শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিন্দা জয়াতিসাও ঢাকায় আসছেন। যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রার উপস্থিতি অনুষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিবে বলে ধরণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নির্বাচন এবং শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাতির সামনে এক নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে নিশ্চিত করতে হবে আইনের শাসন ও মানবাধিকার। সরকারের শাসন ব্যবস্থা এমনভাবে দৃশ্যমান হতে হবে-যেন নিশ্চিতভাবে ‘জনগণের সরকার’ হিসাবে আখ্যা দেওয়া যায়।
সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক বলেন, এটা একটা নতুন যাত্রা। অতীতের স্বৈরশাসনের পরিণতি আমরা দেখেছি। আমরা অবশ্যই আশা করব-যেন সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে মসৃণভাবে সামনের পথ পাড়ি দিতে পারি। তিনি আরও বলেন, স্বৈরশাসন কেন হয়েছিল, সেটার কারণগুলোও মনে রাখতে হবে। কারণ জবাবদিহির অভাব ছিল। সংসদ ঠিকমতো কাজ করত না। বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে রাখা হয়েছিল। এখন এগুলো যে রাতারাতি সব ঠিক হয়ে যাবে, এমনটা নয়। কিন্তু এগুলোর দিকে অবশ্যই নজর রাখতে হবে। আমরা চাইব-জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, জাতীয় সংসদ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসহ সবকিছু যেন সুসংহত থাকে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পর প্রথমদিনের যাত্রাটা খুব সুন্দর হয়েছে। বিএনপি বিজয় মিছিল বা সমাবেশ না করে দোয়া ও প্রার্থনার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটা ভালো পদক্ষেপ ছিল। আমরা আশা করব-নতুন সরকার অতীতের তুলনায় অনেক বেশি জবাবদিহিমূলক হবে। তারা নাগরিকদের বাকস্বাধীনতার ব্যাপারে সচেতন থাকবে। আইনের শাসনের ব্যাপারেও নজর দেবে এবং কোনো ধরনের পক্ষপাত করবে না। এসব কিছুর একটা মূল্যায়ন নতুন সরকারের প্রথম ৬ মাসের মাথায় করা যাবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমাদের প্রত্যাশিত যে বাংলাদেশ, সেই পথে যাত্রা শুরুর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এটাকে কতটুকু কাজে লাগানো যায় সেটা দেখতে হবে।
নতুন সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। কারণ আমাদের কোনো ব্যাপারেই ঐকমত্য নেই। আমরা একে অপরের সঙ্গে মিলে কাজ করতে পারি না। কিন্তু আমাদের সবাই মিলেই এগিয়ে যেতে হবে। তরুণদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। কারণ যে সমাজে তরুণ বেশি সেখানে অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও বেশি।
রাজনীতি বিশ্লেষক ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আমরা একটা নতুন বাংলাদেশের দিকে যাচ্ছি। কারণ নির্বাচনের পরে ঝুঁকি থাকে সব পক্ষ নির্বাচনকে মেনে নিয়েছে কিনা? শক্তিশালী সরকারের জন্য যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার ছিল সেটা তারেক রহমান পেয়েছেন, এখন নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরুর অপেক্ষা মাত্র।
নতুন সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জন্য মন্ত্রিপাড়া হিসেবে পরিচিত রাজধানীর মিন্টো রোড, হেয়ার রোডসহ আরও কয়েকটি জায়গায় ৩৭টি বাড়ি প্রস্তুত করা হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য দিয়েছেন।
নতুন সরকারের মন্ত্রীদের আবাসনের বিষয় জানতে চাইলে আদিলুর রহমান বলেন, আমরা ৩৭টি বাড়ি প্রস্তুত করে রেখেছি। মিন্টো রোড, হেয়ার রোড, ধানমন্ডি ও গুলশানে এ বাড়িগুলো রয়েছে। প্রয়োজনে আরও কয়েকটি বাড়ি তৈরি করার প্রস্তুতি চলছে।
এ ৩৭টি বাড়ির মধ্যে বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের বসবাস করা বাড়িগুলোও রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভান কোথায় হচ্ছে জানতে চাইলে শপথের আগের দিনও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি আদিলুর রহমান।
তিনি বলেন, ওনারা যেভাবে চান সেভাবে হবে। ওনাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়ে মঙ্গলবান নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে নতুন সরকারের শপথ বঙ্গভবনের বাইরে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সেখানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে বলে জানিয়েছেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতারা।
এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজাতেই মঙ্গলবার সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের ভালোমন্দ ভুলে গেলেও জুলাই সনদ জাতি স্মরণ রাখবে মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এবারের নির্বাচন কেবল একটি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়, এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নতুন অভিযাত্রার সূচনা; নতুন বাংলাদেশের জন্ম। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে এসব কথা বলেছেন তিনি।
তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাই মাসে বাংলাদেশের মানুষ এক অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তাদের মুক্তি, আকাঙ্ক্ষা ও মর্যাদার দাবি উচ্চারণ করেছিল। সেই সময় দেশ একটি গভীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও মানবিক সংকটে নিপতিত ছিল। রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল, গণতন্ত্র হয়েছিল ধুলিস্যাৎ, ভবিষ্যৎ ছিল অনিশ্চিত। ঠিক সেই সংকটময় সময়ে আমাকে আহ্বান জানানো হয়েছিল—একটি লক্ষ্য সামনে রেখে। বাংলাদেশকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর জন্য তিনটি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। আমি ও আমার সহকর্মীরা—সবাই আমরা সেই অঙ্গীকার রক্ষার চেষ্টা করে গেছি। কোথায় কতটুকু সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি, কোথায় ব্যর্থ হয়েছি সে বিচারের ভার আপনাদের ওপর থাকল। আমাদের প্রচেষ্টায় কোনো ঘাটতি ছিল না।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এই নির্বাচন কেবল একটি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়—এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নতুন অভিযাত্রার সূচনা; নতুন বাংলাদেশের জন্ম। এই অর্জনের পেছনে যারা ছিলেন—জুলাইয়ে রাস্তায় নেমে আসা প্রতিবাদকারী তরুণ-তরুণীরা, সেই সাহসী মানুষ, শহীদ ও আহতরা—তাদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তাদের অভূতপূর্ব ত্যাগ ছাড়া এই পরিবর্তন সম্ভব হতো না। এই প্রক্রিয়া সফল করতে দেশের আবালবৃদ্ধবণিতা সবাই সহযোগিতা করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক দিক থেকে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো, নির্বাচন কমিশন, সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের সদস্যরা আন্তরিক সহযোগিতা করেছেন। আপনাদের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা রইল। আপনাদের ধৈর্য, পেশাদারিত্ব ও আস্থার ওপর ভর করেই এই পথচলা সম্ভব হয়েছে।
মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন জুলাই সনদ, যার ভিত্তিতে গণভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত দিয়েছে দেশের মানুষ। জুলাই সনদের বাস্তবায়ন হলে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথগুলো চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। আশা করব এটা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের ছোট-বড় ভালোমন্দ অনেক কথা ভুলে গেলেও জুলাই সনদের কথা জাতি কখনো ভুলবে না। এই সনদ রচনা এবং গণভোটে পাশ করানোর জন্য আমি সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, অধিকার রক্ষা প্রতিষ্ঠান যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে তাদের সবাইকে আজ অভিনন্দন জানাচ্ছি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেয়ালে দেয়ালে তরুণরা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন এঁকেছিল—তার কেন্দ্র ছিল প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধনী প্রণয়ন করেছে এবং প্রায় ৬০০টি নির্বাহী আদেশ জারি করেছে, যার প্রায় ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। এই সংস্কারগুলো নাগরিক অধিকারকে সংহত করেছে, বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে এবং গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি যেন আর কখনো ফিরে না আসে সেটা নিশ্চিত করেছে।
তিনি বলেন, স্বৈরাচারের ১৬ বছরে এ দেশের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা যে ভয়াবহ নিপীড়ন, মামলা–হামলা, গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন, তা আমাদের জাতির জন্য এক গভীর ও বেদনাদায়ক শিক্ষা। এই অভিজ্ঞতা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—যাতে ভবিষ্যতে আর কখনো কোনো জালেম মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত না হয়, শত শত আয়নাঘর সৃষ্টি না হয়, বিচারবহির্ভূত হত্যা ফিরে না আসে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যারা ভয়াবহ নিপীড়ন ও নির্যাতন চালিয়েছে তাদের বিচার করা এবং যেন আর কেউ এ ধরনের দুঃশাসন কায়েম করতে না পারে সেটা নিশ্চিত করা আমাদের গুরুদায়িত্ব। বিচার একটা চলমান প্রক্রিয়া। একাধিক ট্রাইবুনাল বর্তমানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যেই একাধিক মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফ্যাসিবাদের সময়ে দেশে যে গুমের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল সেই ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারও শুরু হয়েছে। বেশকিছু মামলার বিচারিক কার্যক্রম এখন শেষের পথে। আমরা আশা করছি, আগামী দিনগুলোতেও বিচারিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এগিয়ে যাবে।
বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে এখনই আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু কিছু সংবাদমাধ্যমে বিভিন্নজনের নাম বলা হচ্ছে।
বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিবেচনায় রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খানও আলোচনায় আছেন।
তবে মোশাররফ হোসেনের নাম জোরালোভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিএনপির একাধিক সূত্র।
বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিবেচনায় রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খানও আলোচনায় আছেন।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ। বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ হবে।
মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে বিএনপির ভেতরে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন নাম সামনে আছে। বেশ কিছু নেতা মন্ত্রী হচ্ছেন, সেটা প্রায় চূড়ান্ত। এর সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে।
নতুন সরকার গঠনের পর বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন। বিষয়টি তিনি গত ডিসেম্বরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন।
আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ৭৫ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি রয়টার্সকে বলেছিলেন, ‘আমি সরে যেতে চাই। আমি চলে যেতে আগ্রহী।’
নতুন সরকার গঠনের পর বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন। বিষয়টি তিনি গত ডিসেম্বরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন।
মো. সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ‘নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমার দায়িত্ব পালন করে যাওয়া উচিত। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির পদে থাকায় আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।’
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তখন আরও বলেছিলেন, ‘সব কনস্যুলেট, দূতাবাস ও হাইকমিশনে রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি, রাষ্ট্রপতির ছবি ছিল। হঠাৎ এক রাতেই সেগুলো উধাও করে ফেলা হয়েছে। এতে মানুষের কাছে একটি ভুল বার্তা গেছে যে সম্ভবত রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমি খুবই অপমানিত বোধ করেছিলাম।’
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ পাঁচ বছর। সে হিসাবে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মেয়াদ আছে মো. সাহাবুদ্দিনের। যদিও সেই সময় পর্যন্ত তিনি পদে থাকছেন না, যা স্পষ্ট হয়েছে রয়টার্সের সঙ্গে তার সাক্ষাৎকারে।
বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে খন্দকার মোশাররফ হোসেন রাষ্ট্রপতি হতে পারেন বলে আগেও আলোচনা হয়েছে। ২০২৩ সালে বগুড়ায় বিএনপির একটি বিভাগীয় সমাবেশে দলটির নেতা জি এম সিরাজ বলেছিলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে তারেক রহমান হবেন প্রধানমন্ত্রী। আর রাষ্ট্রপতি হবেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
৭৯ বছর বয়সি খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুমিল্লা–১ আসন থেকে এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে চারবার সংসদ সদস্য হন তিনি (১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ১২ জুন এবং ২০০১)।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য বলছে, খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। ১৯৯১ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি জ্বালানিমন্ত্রী হন। ২০০১ সালে হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যে থাকা অবস্থায় তিনি বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন আদায়ে সংগঠকের ভূমিকায় ছিলেন।
৭৯ বছর বয়সি খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুমিল্লা–১ আসন থেকে এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে চারবার সংসদ সদস্য হন তিনি (১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ১২ জুন এবং ২০০১)।
এদিকে বিএনপির একটি সূত্র বলছে, খন্দকার মোশাররফ দলের কার্যক্রমে কিছুটা কম সক্রিয়। নিজেকে কিছুটা আড়ালে রাখেন, যাতে তাকে নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি না হয়।
সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামটি আলোচনায় থাকলেও তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করার পরামর্শ রয়েছে দলের ভেতর। খালেদা জিয়ার জানাজায় বিপুল জমায়েতে দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দিয়েছেন নজরুল ইসলাম খান। এবার বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন তিনি।
নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আজ মন্ত্রীদের নাম জানা যাবে। এর কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হতে পারে, কে হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে বড় ধরনের ধীরগতি দেখা দিয়েছে। অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) এডিপিতে ব্যয় হয়েছে ৫০ হাজার ৫৫৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা, যা গত ৯ অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সরকারের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ২১ দশমিক ১৮ শতাংশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এ হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময়ে বাস্তবায়নের হার ছিল ২৭ দশমিক ১১ শতাংশ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ২৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। এমনকি রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে থাকা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়েও বাস্তবায়নের হার ছিল ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ— যা চলতি বছরের চেয়ে সামান্য বেশি।
আইএমইডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান, সরকার পতন ও প্রশাসনিক অস্থিরতার মধ্যেও মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো এডিপিতে ৫৯ হাজার ৮৭৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় করতে সক্ষম হয়েছিল। সেই তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় কমেছে ৯ হাজার ৩২০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
আরও পেছনে তাকালে দেখা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে এডিপিতে ব্যয় হয়েছিল ৩৯ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা। এরপর থেকে প্রতি অর্থবছরেই একই সময়ে ব্যয়ের পরিমাণ চলতি বছরের তুলনায় বেশি ছিল। ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাস্তবায়ন হার ও ব্যয়ের পরিমাণ সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চলতি অর্থবছরে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার অর্থায়নসহ মোট ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৯৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা এডিপিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে অর্থবছরের অর্ধেকের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও বরাদ্দের বড় একটি অংশ এখনো অব্যবহৃত রয়েছে।
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে এ ধীরগতির প্রভাব অর্থনীতির সামগ্রিক গতিশীলতায়ও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে অবকাঠামো, পরিবহন, জ্বালানি ও সামাজিক খাতের বড় প্রকল্পগুলোতে ব্যয় কমে গেলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার ওপর তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারের মূল বেদীসহ সংলগ্ন এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রং করার কাজ শুরু হয়েছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে শহীদ মিনার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ধুলোবালি পরিষ্কার করে মূল মিনার ও বেদীকে ধুয়ে নতুন রূপ দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে মিনারের বেশ কিছু অংশে সাদা রঙের প্রলেপ পড়েছে। মিনারের মূল কাঠামোর কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। রং করার কাজ শেষ হলেই মিনারের পেছনে প্রতীকী লাল সূর্যটি স্থাপন করা হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কেবল মূল মিনারই নয়, আশপাশের দেওয়ালে বর্ণমালা লিখন এবং ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সম্বলিত গ্রাফিতি তৈরির প্রস্তুতিও চলছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম তৈরির কাজও চলমান রয়েছে।
১৮ মাসের দীর্ঘ পথচলা শেষে এবং একটি অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ প্রদান করেছেন। মূলত সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার ও রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুদায়িত্ব পালন শেষে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান।
মঙ্গলবার নির্বাচিত সরকারের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের আগমুহূর্তে আজ সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন তিনি। ভাষণটি শুরু হয় রাত ৯টা ১৫ মিনিটে। এই বিশেষ ভাষণে তিনি নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি গণতন্ত্রের প্রকৃত তাৎপর্য ও গত ১৮ মাসের অভিজ্ঞতার কথা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে একটি উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্পন্ন করার মাধ্যমে জনগণ ও প্রতিষ্ঠানগুলো একটি প্রশংসনীয় নজির সৃষ্টি করেছে। ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অচল রাষ্ট্রব্যবস্থাকে সচল করার যে কঠিন দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করেছিলেন, মঙ্গলবার নতুন সরকারের শপথের মাধ্যমে তার চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। ৫ আগস্টের সেই মহা মুক্তির দিনটির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “দৈত্যের গ্রাস থেকে তরুণ ছাত্রছাত্রীরা দেশকে বের করে এনেছে। দেশ মুক্ত হয়েছে। কিন্তু দেশ সম্পূর্ণ অচল। অচল এই দেশটিকে কীভাবে সচল করা যাবে সেটা ছিল সবার মনে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “বিগত ১৮ মাস আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন শেষে, একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রাক্কালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আজ আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নেবার জন্য উপস্থিত হয়েছি।” প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন—এই তিনটি মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে তাঁর সরকারের নিরলস প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন যে মানবাধিকার ও দুর্নীতির বিচার প্রক্রিয়াকে প্রতিশোধের ঊর্ধ্বে রাখা হয়েছে। প্রফেসর ইউনূস হার-জিতের দার্শনিক ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “হার-জিতই হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।” তিনি উল্লেখ করেন যে যারা জয়ী হয়েছেন তারা যেমন জনআস্থা পেয়েছেন, তেমনি যারা পরাজিত হয়েছেন তাদের ওপরও প্রায় অর্ধেক ভোটারের সমর্থন রয়েছে যা গণতন্ত্রের একটি শক্তিশালী ও সুন্দর দিক। অতীতে রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর মানুষের আস্থা হারিয়ে যাওয়া ও গণতন্ত্র ধূলিসাৎ হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান যে ১৮ মাসে ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন সংস্কার করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিজেকে স্থাপন করতে না পারে। বর্তমানে দেশে একটি নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সূচনা হতে যাচ্ছে এবং মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ও বিকেলে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন সরকার পূর্ণাঙ্গভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ক্যাপটেন (অবঃ) সাহাবউদ্দিন আহমেদ বীর উত্তম এর মৃত্যুজনিত কারণে বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য হওয়ায় এসোসিয়েশনের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যানের শূন্য হওয়া পদ পূরণ এবং সংগঠনকে গতিশীল করার লক্ষ্যে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট এই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
আজ সোমবার বেলা ১১টায় রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস এলাকার ৩০ নম্বর রোডের একটি বাড়িতে আয়োজিত এক সাধারণ সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মেজর (অব.) এটিএম হাসিবদুল হোসেন বীর বিক্রম।
সভায় উপস্থিত খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘ আলোচনার পর মেজর (অব.) এটিএম হাসিবদুল হোসেন বীর বিক্রমকে চেয়ারম্যান এবং আলহাজ্ব মো. শাহজাহান কবির বীর প্রতীককে মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। কমিটির অন্যান্য পদে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন গোলাম আজাদ বীর প্রতীক, মাহবুব এলাহী রঞ্জু বীর প্রতীক এবং মিজানুর রহমান খান বীর প্রতীক। এছাড়া যুগ্ম মহাসচিব পদে অধ্যক্ষ মো. ইদ্রিস আলী বীর প্রতীক এবং সাংগঠনিক সচিব হিসেবে মো. মহসীন আলী সরদার বীর প্রতীককে মনোনীত করা হয়েছে।
নবগঠিত এই কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন অর্থ সচিব হিসেবে আনোয়ার হোসেন বীর প্রতীক, দপ্তর সচিব নূর উদ্দিন আহমেদ বীর প্রতীক, সমাজকল্যাণ ও পুনর্বাসন সচিব বজলুল মাহমুদ বীর প্রতীক এবং প্রচার ও সাহিত্য সাংস্কৃতিক বিষয়ক সচিব হিসেবে মোজাম্মেল হক বীর প্রতীক। এছাড়া কার্যকরী সদস্য হিসেবে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন মো. মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী বীর প্রতীক, কাজী জয়নাল আবেদীন বীর প্রতীক, ডা. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বীর প্রতীক এবং সৈয়দ রেজোয়ান আলী বীর প্রতীক।
সভার শুরুতে এসোসিয়েশনের প্রয়াত চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন (অব.) সাহাবউদ্দিন আহমেদ বীর উত্তমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোক প্রকাশ করা হয়। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের চেতনা সমুন্নত রাখতে এবং খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার ও কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়ী নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। আগামীকাল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারের ঐতিহাসিক এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালনার নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন আগামীকাল বিকেলে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন যেখানে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ১২০০ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথের পর বিকেল ৪টায় মন্ত্রিসভার মূল শপথ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে এবং এর জন্য সরকারি পরিবহন পুল থেকে ৩৭টি গাড়ি ও মিন্টো রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় ৩৭টি বাসভবন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রস্তুতি নিয়ে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, “জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আমাদের এখানে ৩৭টি গাড়ি রেডি করে রাখা হয়েছে। আরও বেশি গাড়ির প্রয়োজন হলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানোর সঙ্গে সঙ্গে পাঠানোর ব্যবস্থা আমরা রেখেছি। আগামীকাল দুপুরের পরপরই সেগুলো জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নেওয়া হবে।”
লজিস্টিক সুবিধার পূর্ণতা নিয়ে নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সোমবার দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “একজন মন্ত্রী মহোদয়ের জন্য গাড়ি লাগে, একজন দেহরক্ষী থাকেন, তার বাসস্থান কোথায় হবে সেগুলোর ব্যবস্থা করতে হয়। এগুলোর জন্য সরকার সব সময়ই প্রস্তুত।” নতুন সরকারের মন্ত্রীদের আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান জানিয়েছেন, "এখন পর্যন্ত আমরা ৩৭টি বাড়ি প্রস্তুত করে রেখেছি। মিন্টো রোড, হেয়ার রোড, ধানমন্ডি ও গুলশানে এ বাড়িগুলো রয়েছে। প্রয়োজনে আরও কয়েকটি বাড়ি তৈরি করার প্রস্তুতি চলছে।"
বর্তমানে সংসদ নির্বাচনের ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির গেজেট প্রকাশিত হয়েছে যেখানে বিএনপি ও মিত্র দলগুলো ২১২টি আসন পেয়ে সরকার গঠন নিশ্চিত করেছে এবং তাদের এক সময়কার মিত্র জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দলে বসতে যাচ্ছে। আগামীকাল সকালে সংসদ সদস্যদের শপথের পর সংসদীয় দলের বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ নেতা নির্বাচিত হবেন এবং এর পরপরই হবু সরকারপ্রধানের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী সম্ভাব্য মন্ত্রীদের শপথের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে টেলিফোনে আমন্ত্রণ জানানো শুরু হবে।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জুলাই জাতীয় সনদে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনায় যান।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন দলের পক্ষে এই সনদে স্বাক্ষর করেন যেখানে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ, সদস্য বদিউল আলম মজুমদার ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এনসিপির এই সনদে স্বাক্ষর করবে বলেই জাতির বিশ্বাস ছিল, আজকে সেই বিশ্বাস পূর্ণতা পেলো, জুলাই জাতীয় সনদ পূর্ণতা পেলো। এনসিপিকে ধন্যবাদ এই মহতি কাজে অংশগ্রহণের জন্য।” তিনি আরও গুরুত্বারোপ করে বলেন, “এই দলিল যেন নতুন বাংলাদেশকে মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে গড়তে প্রতিটি পদে পদক্ষেপ রাখে তার জন্য প্রতি মুহূর্তে সচেতন থাকতে হবে।”
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ সময় মন্তব্য করেন, “আমাদের দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আগামীকাল শপথ গ্রহণ করবেন। আমরা একইসঙ্গে দুটো শপথ গ্রহণ করতে যাচ্ছি। আমাদের ওপর দেশের মানুষ যে আস্থা রেখেছে আমরা তা বাস্তবায়ন করবো।” তিনি আরও বলেন, “জুলাই সনদে সবার শেষ স্বাক্ষর করলেও এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আমরা ছিলাম সর্বোচ্চ তৎপর।” জুলাই বিপ্লবের পর রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে এই সনদটি রাজনৈতিক ঐক্য ও ভবিষ্যৎ গাইডলাইন হিসেবে প্রণয়ন করা হয়েছে।
এনসিপির প্রতিনিধিদলে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন মনিরা শারমিন, সারওয়ার তুষার, জাভেদ রাসিন ও জহিরুল ইসলাম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০৯টি আসনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি আগামীকাল নতুন সরকার গঠনের চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিকতা শুরু করতে যাচ্ছে। সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ এবং বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করবে দলটি।
আগামীকাল মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় এই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানমালা আয়োজিত হবে। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বিএনপি’র ২০৯ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করবেন এবং একই দিনে বিকেলে মন্ত্রিসভার সদস্যরা রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নেবেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে সংসদ ভবন এলাকায় বিপুল জনসমাগম ও ভিভিআইপিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ব্যাপক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ডিএমপির মিডিয়া বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, “মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং লেকরোড এলাকায় যান চলাচল সীমিত থাকবে।” বর্তমানে পুরো সংসদ এলাকা বিশেষ নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা রয়েছে এবং যানজট এড়াতে নগরবাসীকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও লেকরোড এলাকার পরিবর্তে বিকল্প পথ ব্যবহারের জন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যান চলাচল সীমিত থাকবে যেসব পথে
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান চলাকালীন খেজুর বাগান ক্রসিং হতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং জুলাই স্মৃতি জাদুঘর (গণভবন ক্রসিং) হতে উড়োজাহাজ ক্রসিং পর্যন্ত লেকরোডে সাধারণ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রিত বা সীমিত রাখা হবে।
ডাইভারশন পয়েন্ট ও বিকল্প সড়কসমূহ
যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ফলে সৃষ্ট সাময়িক অসুবিধা নিরসনকল্পে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক ডাইভারশনের মাধ্যমে নিম্নোক্তভাবে যানবাহনের প্রবাহ সচল রাখা হবে।
১) মিরপুর রোড টু ফার্মগেট ভায়া মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ
মিরপুর রোড হয়ে উত্তর দিক থেকে আগত ফার্মগেট বা সোনারগাঁও অভিমুখী যানবাহন প্রতিরক্ষা গ্যাপ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিংয়ে ডানে মোড় নিয়ে ফার্মগেট এর দিকে গমন করবে।
২) ধানমন্ডি হতে ফার্মগেট
ধানমন্ডি-২৭ হতে আগত যানবাহন আসাদগেট-প্রতিরক্ষা গ্যাপ দিয়ে ডানে মোড় নিয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিং-ডানে মোড় নিয়ে ফার্মগেট ক্রসিং এর দিকে যাতায়াত করবে।
৩) আসাদগেট হতে ফার্মগেট ক্রসিং
আসাদগেট-বামে মোড় নিয়ে গণভবন ক্রসিং (জুলাই স্মৃতি জাদুঘর)-প্রতিরক্ষা গ্যাপ-ডানে মোড় নিয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিং-ডানে মোড় নিয়ে ফার্মগেট ক্রসিং এর দিকে গমন করবে।
৪) এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বা ইন্দিরা রোড হতে ধানমন্ডি
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বা ইন্দিরা রোড হতে আগত যানবাহন খেজুর বাগান ক্রসিং-ডানে মোড় নিয়ে উড়োজাহাজ ক্রসিং-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র বামে মোড় নিয়ে প্রতিরক্ষা গ্যাপ-বামে মোড় নিয়ে আসাদগেট হয়ে ধানমন্ডির দিকে গমন করবে।
৫) মিরপুর রোড হতে ধানমন্ডি
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ হতে ব্লকেড সরিয়ে ফেলা হবে বিধায় মিরপুর রোড হতে দক্ষিণ অভিমুখী যানবাহন শ্যামলী-শিশুমেলা-গণভবন (জুলাই স্মৃতি জাদুঘর)-আসাদগেট হতে সোজা ধানমন্ডি ২৭-এর দিকে গমনাগমন করবে।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সংক্রান্ত নির্দেশনা
শপথ গ্রহণ চলাকালীন যানজট ও জনদুর্ভোগ এড়াতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ফার্মগেট এক্সিট র্যাম্প ব্যবহারের পরিবর্তে চালকদের এফডিসি (হাতিরঝিল) র্যাম্প ব্যবহারের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সব ধরনের যানবাহন চালকদের আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত যানজট এড়ানোর লক্ষ্যে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও লেকরোড এড়িয়ে উল্লিখিত নির্দেশনা মোতাবেক চলাচলের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে ডিএমপি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে দীর্ঘ দুই যুগ পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আগামীকাল মঙ্গলবার ঐতিহাসিক এক মুহূর্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছে দেশ, যেখানে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এক হাজারেরও বেশি দেশি-বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথির উপস্থিতিতে আয়োজিত এই মেগা ইভেন্টকে ঘিরে পুরো সংসদ এলাকা ও রাজধানীজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে নজিরবিহীন ৪ স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়। কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট শঙ্কা না থাকলেও একটি অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর পরিবেশে নিরাপদ ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নতুন সরকারের এই রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠান সফল করতে মাঠ পর্যায়ে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবির প্রায় ১৫ হাজার প্রশিক্ষিত সদস্য। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও এর আশপাশের পুরো এলাকাকে কয়েকটি জোনে ভাগ করে এই চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। ইতিমধ্যে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং ডগ স্কোয়াড (কে-নাইন) পুরো অনুষ্ঠানস্থল কয়েক দফা সুইপিং করে নিরাপদ ঘোষণা করেছে। সংসদ ভবনের প্রতিটি প্রবেশপথ এবং অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশেষ নজরদারি। পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে সোয়াট (SWAT) ও বিশেষায়িত বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের মতো চৌকস দলগুলোকে।
নিরাপত্তার এই মহাযজ্ঞ কেবল সংসদ এলাকাতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে পুরো রাজধানীতেই। বিভিন্ন পয়েন্টে এবং জনসমাগমস্থলে সাদা পোশাকে অবস্থান নিয়েছেন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য তাঁদের নিজ নিজ বাসভবন থেকেই বিশেষ প্রোটোকল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সংসদ ভবনে আনা-নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে ৫০টি বিশেষ গাড়ি ও প্রয়োজনীয় এসকর্ট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বাসভবন থেকে সংসদ ভবন পর্যন্ত নির্ধারিত রুটগুলোতে ট্রাফিক পুলিশ ও টহল দলের বিশেষ মহড়া সম্পন্ন হয়েছে যাতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই অতিথিরা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতে পারেন।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, শপথ অনুষ্ঠানটি নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রশাসনিক প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে রুটকেন্দ্রিক এবং এলাকাভিত্তিক যে নিরাপত্তা ছক তৈরি করা হয়েছে, তা যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম। তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন যে, এখন পর্যন্ত নিরাপত্তাজনিত কোনো নেতিবাচক গোয়েন্দা তথ্য বা থ্রেট নেই। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পেশাদারিত্বের সাথে তাঁদের দায়িত্ব পালন করছে। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার উন্মুক্ত পরিবেশে আয়োজিত এই শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশে একটি নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার সূচনা হবে বলে আশা করছে সাধারণ মানুষ। সব মিলিয়ে, আগামীকাল বিকেল চারটার মাহেন্দ্রক্ষণকে ঘিরে পুরো ঢাকা এখন কঠোর নিরাপত্তা ও উৎসবের চাদরে ঢাকা।