অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, সরকার এবার স্বাচ্ছন্দ্যে পূজা উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এবছর আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারিভাবে ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। বিগত সরকারের সময় বরাদ্দ ছিল মাত্র ২কোটি টাকা। পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় দাওরায়ে হাদিস ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রদের এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আজ বুধবার ধর্ম উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে একটি চক্র ধর্ম নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছে; যাতে সত্য বিন্দুমাত্র ছিল না। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় কোনো কোনো জায়গায় কিছু ঘটনা ঘটেছে; তবে তা বিচ্ছিন্ন ঘটনা।
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, আমরা উপদেষ্টারা চেয়ার দখল করে বসে থাকার জন্য ক্ষমতায় আসিনি। রাষ্ট্র, নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে সংস্কারপূর্বক মেরামত করে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসার পর সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে আমরা সরে যাব। এ জন্য সকল রাজনৈতিক দলসহ দেশের প্রতিটি মহলকে সহযোগিতা করা দরকার।
হেফাজত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যা মামলা রুজু করা হয়েছে এর তালিকাসহ দায়িত্বশীলদের কাছে জানালে এসব মামলা থেকে বা তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রত্যাহার করা হবে।
হাটহাজারী মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক আল্লামা শেখ আহমদের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় বক্তব্য রাখেন মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা খলিল আহমেদ কুরাইশ কাসেমী। উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক বোরহান উদ্দীন মো. আবু আহসান, মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক আল্লামা মুফতি জসিম উদ্দিন, আল্লামা দিদার কাসেম, আল্লামা সোয়েব জমিরী, মুফতি কেফায়েতুল্লাহ, নাজিরহাট মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা হাবিবুর রহমান কাসেমী ও হাটহাজারী মডেল থানার ওসি হাবিবুর রহমান।
এদিকে হাটহাজারী মাদ্রাসা সংলগ্ন শ্রী শ্রী শীতাকালি মন্দির পরিদর্শন করেন ধর্ম উপদেষ্ঠা। এসময় উপস্থিত মন্দির পরিচালনা কমিটি ও ভক্তদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন মুন্সি বিজয় কুমার বণিক। মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক উদয় সেনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। মন্দির পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা শিক্ষক শিমুল কান্তি মহাজন, চবি শিক্ষক শিপক কৃষ্ণ দেবনাথ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এরপর উপদেষ্টা হাটহাজারী পৌরসভার একটি মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৯ হাজার ধর্মী এবং শূন্য পদসমূহে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কবরী হলে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমীন। বর্তমান সরকারের দুই মাস পূর্ণ হওয়ায় সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; উপজেলা পর্যায়ে ৬টি খেলায় ৩ জন করে মোট ১৮ জন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ শুরু হয়েছে। মহানগর পর্যায়ে উন্মুক্ত খেলার মাঠের সংস্থান করা হচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, আবারও শুরু হয়েছে শিশু কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণের প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি’, প্রথমবারের মতো সংযুক্ত হচ্ছে ক্রীড়া ও কোরআন তিলাওয়াত। জাতীয় সংসদের গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০ আসন বরাদ্দ এবং দেশব্যাপী বইপড়াকে উৎসাহিত করার জন্য বেসরকারি খাতের সাথে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ড. মাহদী আমীন বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মাঝে বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের তৈরি ব্যাগ বিতরণের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্কুলে পর্যায়ক্রমে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে লার্নিং উইথ হ্যাপীনেস, কারিগরি শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি যুক্ত করে শিক্ষাক্রমকে সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মাদরাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্পোর্টস কার্ড ও স্পোর্টস অ্যালাউন্স কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ইতোমধ্যে শতাধিক ক্রীড়াবিদকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ৮টার মধ্যে এসব শিশুর মৃত্যু হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৪২ জন রোগী। এর মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ৮৬ জনের।
চলতি বছর দেশে এ পর্যন্ত হামে ৩৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৭৮ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত হাম শনাক্ত হয়েছে মোট ৩ হাজার ২৭৮ জনের।
সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ২২ হাজার ৪০৯ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা যায়। এসবের মধ্যে ১১ হাজার ৭৫১ জনকে চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত অংশীজনদের সঙ্গে এক সমন্বয় সভায় এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আসন্ন এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে গ্রহণের নিমিত্ত অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় সভায় মন্ত্রণালয়, বোর্ড, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা সরাসরি ও জুম মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠক শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি বিবেচনায় রেখে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকেই পরীক্ষা শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাত বছর পরে এবার পূর্ণ সিলেবাসে পরীক্ষা হচ্ছে। এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হয়েছে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে। সে হিসেবে দুই বছর পূর্ণ হতে এ বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় চান শিক্ষার্থীরা। তবে বিস্তারিত আলোচনা করে ২ জুলাই পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্যিক চুক্তি জ্বালানি আমদানিতে হরমুজ প্রণালির চাইতেও বড় বাধা বলে মন্তব্য করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শেষ মুহূর্তে যে ‘অসম’ চুক্তি করেছে, তা জ্বালানি নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বড় ঝুঁকি। শনিবার (১৮ এপ্রিল) এফডিসিতে প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছে ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসি।
ড. দেবপ্রিয় বলেন, আমলা, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের অসাধু যোগসাজশে জ্বালানি খাতে তোষণমূলক নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল। উৎপাদনমুখী বিনিয়োগের পরিবর্তে কায়েমী স্বার্থে আমদানিমুখী জ্বালানি নির্ভরতাকে প্রাধান্য দিয়ে এলএনজি নিয়ে আসা হয়েছে। বাপেক্সের মতো প্রতিষ্ঠানকে ঠুটো জগন্নাথ করা হয়। জ্বালানি আমদানিতে হরমুজ প্রণালি বড় বাধা নয়। অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শেষ মুহূর্তে যে ‘অসম’ চুক্তি করেছে, তা জ্বালানি নিরাপত্তা ও সর্বভৌমত্বের জন্য বড় ঝুঁকি। তবে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে তেল আমদানির শর্ত এক মাস রহিত করার সুযোগ বাংলাদেশকে নেওয়া উচিত। জ্বালানি নিরাপত্তা ইস্যুতে সরকার যে কেবিনেট সাব কমিটি করেছে, সে কমিটি কি করছে স্বচ্ছতার মাধ্যমে তা জনগণকে অবহিত করে জাতীয় সংসদে আলোচনার দাবি রাখে।
তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংস্কারের লক্ষ্যে সরকার রিফর্ম কমিশন গঠনের কথা বললেও তা এখনো দৃশ্যমান হয়নি। সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আয় ও প্রণোদনার ক্ষেত্রে সরকার কী ধরনের সংস্কার করতে চায় তা জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে করা ঋণ কর্মসূচির চুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিকে সরকার সম্মান করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ‘সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, আর্থিক সক্ষমতা ও সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনা’ বিষয়ে এক সেমিনারে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেছেন।
ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত এ সেমিনারে সংগঠনের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু, বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম।
আইএমএফ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তির বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কতগুলো অভ্যাস থাকে। এগুলো হচ্ছে গ্লোবাল নর্মস বা বৈশ্বিক মানদণ্ড। কোথাও এগুলো লেখা আছে, কোথাও লেখা নেই। কোনো দেশ যদি আন্তর্জাতিক সংস্থা বা চুক্তির অংশীদার হয়, তবে সেই চুক্তির শর্তাবলি- যেমন মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং ও আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন- মানা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ঋণ বা ক্রেডিট ফ্যাসিলিটির ক্ষেত্রে এই দায়বদ্ধতা থেকে যায়। তবে সে চুক্তি বা শর্ত যদি দেশের বিরুদ্ধে যায়, তাহলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে।
আন্তর্জাতিক চুক্তি একবার স্বাক্ষরিত হলে তা সম্মান করা জরুরি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তবে এর প্রয়োগে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও কিছুটা নমনীয়তা থাকা উচিত। নীতিনির্ধারণে বিজ্ঞানভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি সতর্ক করেন, অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করলে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
কর নীতির ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স নিয়ে ব্যবসায়ীদের আপত্তির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এমন একটি করব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না, যা ব্যবসায়ীদের বড় অংশ গ্রহণযোগ্য মনে করে না। নীতি প্রণয়নে সমান সুযোগ ও ন্যায্যতার বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নির্ধারণে বাস্তববাদী হওয়ার ওপর জোর দিয়ে তিতুমীর জানান, জিডিপির তুলনায় কর আদায়ের হার ধাপে ধাপে বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারে। যেমন ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ শতাংশ এবং ২০৩২ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করা, যা তার মতে বাস্তবসম্মত।
তিনি বলেন, অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা বুঝে, জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিকে সম্মান করেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
বিগত দুটি সরকার যথাসময়ে শিশুদের হামের টিকা না দিয়ে ‘ক্ষমাহীন অপরাধ’ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে শিশুদেরকে হামের টিকা না দেওয়ার ফলে বিগত ইমিডিয়েট দুটি সরকারের জীবনবিনাশী ব্যর্থতা মনে হয় ক্ষমাহীন অপরাধ। ভবিষ্যতে আর কখনোই যাতে এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়। বর্তমান সরকার সারা দেশে জরুরি ভিত্তিতে হামের টিকা দিয়ে তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়ায় আল্লাহর রহমতে পরিস্থিতির অবনতি কিছুটা রোধ করা সম্ভব হয়েছে। এ জন্য আমি সকল চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীসহ সকলকে ধন্যবাদ জানাই।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা তাদের প্রিয় সন্তান হারিয়েছেন সেই সকল পিতামাতা এবং স্বজনদের কাছে আমি ব্যক্তিগতভাবে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। দেশের প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে নাগরিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং উন্নত ল্যাব প্রায় সবকিছুই ঢাকা কেন্দ্রিক। এই বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে এসে জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক হাসপাতালগুলোর মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। শহর ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য দূর করে সেবার বিকেন্দ্রীকরণ বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। যদিও কাজটি এক মাস বা এক বছরে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, তবুও সরকার ধাপে ধাপে এটি অর্জনের পথে রয়েছে।’
বর্তমান সরকার ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়তে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে আগে আমরা জনগণের কাছে স্বাস্থ্যনীতির রূপরেখা তুলে ধরেছিলাম। চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে, ‘‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’’ বা প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। আমরা যদি রোগের শুরুতেই রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে পারি তাহলে রোগের বিস্তার মোকাবিলা সম্ভব। আমাদের এই নীতি বাস্তবায়নে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিবেশগত বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের কারণে সংক্রামক রোগের পাশাপাশি অসংক্রামক রোগ যেমন শ্বাসকষ্ট, স্ট্রোক, হৃদরোগ ইত্যাদি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ওপর নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। এসব কারণে উপজেলা পর্যায়েই গুরুত্বসহকারে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো অসংক্রামক রোগের স্ক্রিনিং নিয়মিত করা প্রয়োজন। জীবনযাপনের ধরন পরিবর্তন করার ব্যাপারে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরী জরুরি।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে ইউ-এইচ-এফ-পি-ও অর্থাৎ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাগণ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি।’ তিনি বলেন, একজন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নিজ নিজ কর্মস্থলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার কাজটিও সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে হয়। কারণ, হেলথ কেয়ার ম্যানেজমেন্ট এবং হেলথ কেয়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ম্যানেজমেন্ট এই দুটি বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় এবং সমউন্নয়ন না হলে স্বাস্থ্য সেবায় কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না।
দেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে বিএনপি সরকারের বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্রমান্বয়ে স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে সরকার শিগগিরই একটি সমন্বিত ই-হেলথ কার্ড চালু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যতথ্য ডিজিটালি সংরক্ষিত থাকবে। এতে যে কোনো নাগরিক প্রয়োজনে দেশের যে কোনো হাসপাতালে সহজেই চিকিৎসা সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবে। এর পাশাপাশি বর্তমান সরকার ধাপে ধাপে একটি জাতীয় স্বাস্থ্যবীমা ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। যাতে কোনো নাগরিক চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।’
চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের আবাসন, নিরাপত্তা, মর্যাদা রক্ষায় সরকার আন্তরিক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নাগরিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হলে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের আবাসন, নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং জীবন মান উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়টি সম্পর্কেও সরকার ওয়াকিবহাল। এ ব্যাপারেও সরকার সাধ্যমতো যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে বদ্ধ পরিকর।’
সবশেষে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সম্মেলনের মাধ্যমে আমি একটি বার্তা দিতে চাই, সেটি হলো প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিজ নিজ এলাকায় একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক এবং মানবিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নেতৃত্ব দেবেন। আপনারা একটি জবাবদিহিমূলক, টেকসই এবং জনগণকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলবেন। আপনাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকার কর্মস্থলকে একটি মডেল স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে পরিণত করবেন, আপনাদের কাছে এই প্রত্যাশা।’
আগামী বছর থেকে হজযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি হজের খরচ আরো কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এই আশ্বাস দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে রাত ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্প পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তদারকি ব্যবস্থার খোঁজখবর নেন।
এ সময় তার সঙ্গে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদসহ ধর্ম মন্ত্রণালয় ও বিমানবন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
হজযাত্রীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সরকার গঠনের আগেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই হজ ব্যবস্থার বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। তারপরও দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করেছি এবং অন্তত ১২ হাজার টাকা খরচ কমানোর ব্যবস্থা করেছি। আগামী বছর যাতে আরো কম খরচে আপনাদের হজে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারি, সেজন্য আপনারা দোয়া করবেন।’
হজযাত্রীদের নিরাপদ সফর কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন আমাদের তৌফিক দেন, যাতে সামনের সব সমস্যা ও বিপদ মোকাবেলা করতে পারি। সরকারের নেওয়া জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলো যেন সফলভাবে বাস্তবায়ন হয়, সেই প্রার্থনা করবেন।’
এরপর বিমানেই হজযাত্রীদের নিয়ে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
মোনাজাত শেষে প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জ হয়ে নিজ বাসভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণায় শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে নোঙর তুলেছিল বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। তবে যাত্রা শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বেতারবার্তায় ইরানের বাহিনী জাহাজটি পারস্য উপসাগরে ফেরত যাওয়ার নির্দেশনা দেয়। নির্দেশনা পেয়ে আবারও পারস্য উপসাগরে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যাচ্ছে জাহাজটি।
জাহাজের ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ১টায় বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা শুনে আমরা শুক্রবার রাতে হরমুজ পাড়ি দিতে রওনা হয়েছিলাম।
তবে ইরানের বাহিনী জাহাজটি হরমুজ পার হওয়ার অনুমতি দেয়নি। জাহাজটি ফেরত নেওয়ার নির্দেশনা পাওয়ার পর আমরা আগের জায়গায় অর্থাৎ পারস্য উপসাগরে ফেরত যাচ্ছি।
রাতে এর আগে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছিলেন, পারস্য উপসাগর থেকে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে। রাত তিনটা নাগাদ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে শুক্রবার রাত ১১টায় দেখা যায়, ইরানের কর্তৃপক্ষ এই প্রণালি উন্মুক্ত ঘোষণার পর পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা একের পর এক জাহাজ নোঙর তুলতে শুরু করে। শতাধিক জাহাজ পূর্ণ গতিতে হরমুজ প্রণালির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তবে রাত পৌনে ১টায় মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, সব কটি জাহাজ আবার পারস্য উপসাগরে ফেরত যাচ্ছে। এই তালিকায় বাংলার জয়যাত্রাও রয়েছে।
বিএসসির এই জাহাজ ২ ফেব্রুয়ারি থেকে পারস্য উপসাগরে রয়েছে। সেখানে এক বন্দর থেকে আরেক বন্দরে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ছিল। গত ১১ মার্চ জাহাজটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএসসি। তবে সেবার অনুমতি না পেয়ে হরমুজ পার হওয়া যায়নি।
অনুমতি না পেয়ে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করা হয় জাহাজটিতে। এই সার নেওয়া হবে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে। তবে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর দ্বিতীয় দফায়ও অনুমতি চেয়ে পায়নি জাহাজটি। এর পর থেকেই হরমুজের কাছাকাছি পারস্য উপসাগরে নোঙর করেছিল জাহাজটি। তৃতীয় দফায় শুক্রবার হরমুজ পার হতে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ফেরত যাচ্ছে জাহাজটি।
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে আজ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে বিকাল সাড়ে ৩টায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেস সচিব ও মুখপাত্র সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের সদস্যরা।
শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের গত দুই মাসের কার্যক্রম, অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হতে পারে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও বক্তব্য দেওয়া হতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৪ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মানব উন্নয়ন অর্জন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দরিদ্র মানুষের আয়ের পথ প্রবাসী আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে। নতুন করে শ্রম অভিবাসন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং যারা কর্মরত আছেন, তারা চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে আছেন। মূলত জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন বা সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশসহ এশিয়ার মানুষের জীবনযাত্রায় এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সংকট যত দীর্ঘ হবে, দারিদ্র্য নিরসনে বাংলাদেশের গত কয়েক বছরের সাফল্য ততই ম্লান হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। ‘মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা: এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মানব উন্নয়নের প্রভাব’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি গত বুধবার (২২ এপ্রিল) ইউএনডিপি প্রকাশ করেছে।
ইরান যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যে সংকট চলছে, তার ওপর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৩৬টি দেশের ওপর করা একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এ সতর্কতা জানিয়েছে।
ইউএনডিপি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ফলে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের কবলে পড়তে পারে। মূলত জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন বা সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হওয়া এবং রেমিট্যান্সপ্রবাহের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, এটি কেবল একটি অর্থনৈতিক ধাক্কা নয়, বরং এই অঞ্চলের গত কয়েক দশকের মানব উন্নয়নের অগ্রগতি রক্ষার এক বড় পরীক্ষা।
বাংলাদেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব : ইউএনডিপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় উত্তেজনার কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিমান সংস্থাগুলো ফ্লাইট বাতিল করায় বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশের আকাশপথের কার্গো পণ্যের অর্ধেকেরও বেশি সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের ‘হাব’গুলো হয়ে বিভিন্ন দেশে যায়, যা এখন হুমকির মুখে।
সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিট্যান্স আয়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের সাড়ে ৪৬ থেকে ৫০ শতাংশ আসে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা সরাসরি রেমিট্যান্স কমিয়ে দেবে এবং অভিবাসী পরিবারে খাদ্য অনিরাপত্তা বাড়িয়ে তুলবে। নতুন করে শ্রম অভিবাসন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং যারা কর্মরত আছেন, তারা চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে আছেন। মধ্যপ্রাচ্যের এ সংকট দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের মানব উন্নয়নের অগ্রগতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ অবস্থা মোকাবিলায় অন্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষত জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকার স্কুলগুলোর জন্য বৈদ্যুতিক বাস আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে। এ ছাড়া জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কাজের সময় কমিয়ে আনার মতো নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ছিলেন এবং বাকি দুজন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৪৬৭ জনে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ১১৫ জন সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় ১২৭ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে, যা মিলিয়ে গত এক মাসে মোট নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৯২ জনে।
হাসপাতালে ভর্তি ও সুস্থতার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১৩ হাজার ৮৯৮ জন রোগী সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১১ হাজার ২৪৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগীরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হঠাৎ হামের এই ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের ফলে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।
সংবাদে গতি, নির্ভুলতা আর বস্তুনিষ্ঠতায় ১৫ বছরের এক গৌরবময় যাত্রা শেষ করে ১৬ বছরে পদার্পণ করল সময় টেলিভিশন। যা দেশের টেলিভিশন সাংবাদিকতায় একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মধ্য দিয়ে অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামীতেও সময় টেলিভিশন দর্শকের আস্থায় অটুট থাকবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আগত অতিথিরা।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে মুখরিত ছিল সময় টেলিভিশনের প্রাঙ্গণ। দুপুর থেকেই বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে উপস্থিত হন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি, জাতীয় সংসদের সরকারি দলের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী), ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পরে আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে কেক কাটা হয়।
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মধ্য দিয়ে অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামীতেও সময় টেলিভিশন দর্শকের আস্থায় অটুট থাকবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন অতিথিরা।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের গণমাধ্যম জগতে বিগত ১৫ বছরে সমস্ত ধরনের গৌরব ও তরৎপরতা অতিক্রম করে আজ ১৬ বছরের পদার্পণ করেছে সময় টিভি। এটি অত্যন্ত আনন্দঘন একটি মুহূর্ত।’
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘সার্বভৌমত্বকে ঠিক রাখার জন্য যে কার্যক্রম প্রয়োজন, আমরা বিশ্বাস করতে চাই সময় টেলিভিশন সেই কাজটি করবে।’
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সময় টিভি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই।’
ডিএনসিসির প্রশাসক বলেন, ‘১৫ বছর পেরিয়ে ১৬ বছরে পা দিয়েছে সময় টিভি। সবাইকে শুভ জন্মদিন।’
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, ‘রাষ্ট্র এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি দায়িত্বশীল এবং স্বাধীন গণমাধ্যম অত্যন্ত জরুরি। আশা করি সময় টেলিভিশনও একই পথে হাঁটবে।’
দর্শকদের প্রত্যাশা কোনো চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে জনগণের কথা বলবে সময় টেলিভিশন। পাশাপাশি অপতথ্য রুখে দিয়ে সঠিক তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরবে।
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, তারুণ্যনির্ভর টিমের সমন্বয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় আরও জোর দিয়ে ভবিষ্যতে এগিয়ে যাবে দেশের একমাত্র অপ্রতিদ্বন্দ্বী এই টেলিভিশন। এমন প্রত্যাশা দর্শক, কলাকুশলী ও শুভানুধ্যায়ীদের।
“একবছর আগে যার রিকশা ভাড়া ছিল না, পরের বছর দেখা যায় ঢাকাতে ফ্ল্যাট কিনছে”—রাজনীতিতে অর্থের অস্বাভাবিক উত্থান নিয়ে এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, “রাজনীতি করতে গেলে অর্থের প্রয়োজন হয়। কিন্তু পদ বা সুযোগ পেলেই কেউ কেউ চাঁদাবাজি, দুর্নীতি কিংবা পদ বিক্রি করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে যাচ্ছে।” তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছরে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে “অকল্পনীয় লুটপাট” হয়েছে এবং এর ফলে বিদেশে বাংলাদেশ “লুটেরা জাতি” হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “একেকজন মন্ত্রীর ৩০০-৪০০টি বাড়ি বিদেশে—লন্ডন, আমেরিকা, দুবাইয়ে। সীমাহীন লুটপাটের পর আল্লাহর গজব তাদের ওপর নেমে এসেছে।”
২০১৮ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ আমলে তিনি নিজেই গৃহবন্দী ছিলেন। “৬ বারের এমপি হয়েও নির্বাচনের দিন ঘর থেকে বের হতে পারিনি,” বলেন তিনি।
স্পিকার ছাত্রসমাজ ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, তাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলেই “মাফিয়া সরকার” বিদায় হয়েছে এবং উন্নয়নের পথ সুগম হয়েছে।
রাজনৈতিক সহনশীলতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “দলবাজি বন্ধ করুন। মতাদর্শের কারণে কাউকে হয়রানি করবেন না।”
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে তিনি বলেন, “তারা ভদ্রলোকের দল, সংসদে ভালো আচরণ করে।” একইসঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতকে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “ঐক্য ভেঙে গেলে আবার বিদেশি প্রভাব ফিরে আসতে পারে এবং লুণ্ঠনের রাজত্ব কায়েম হতে পারে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টু এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টু।