মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না: প্রধান উপদেষ্টা

বুধবার সন্ধ্যায় অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের এক মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ২১:২৭

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কেউ সমাজে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করলে আমরা তাকে অবশ্যই শাস্তির আওতায় নিয়ে আসবো। আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের এক মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা আর যেন কোনো স্বৈরাচারের হাতে পড়তে না হয় উল্লেখ করে বলেন, আমাদের সন্তানদের জন্য একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রূপরেখা তৈরি করতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আমরা যাতে বলতে পারি আমরা একটি গণতান্ত্রিক দেশে বসবাস করি, আমরা যাতে সকলেই দাবি করতে পারি যে এই দেশটি আমাদের- আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।

গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ড. ইউনূস তার ভাষণে বলেন, আমরা সংস্কার চাই। আমাদের একান্ত অনুরোধ, আমাদের ওপর যে সংস্কারের গুরু দায়িত্ব দিয়েছেন, সেই দায়িত্ব দিয়ে আপনারা দর্শকের গ্যালারিতে চলে যাবেন না। আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকুন। আমরা একসঙ্গে সংস্কার করবো। এটা আমাদের সবার দায়িত্ব।

দেশবাসীকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে সংস্কার আনার আহ্বান জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, আপনারা নিজ নিজ জগতে সংস্কার আনুন। একটা জাতির সংস্কার শুধুমাত্র সরকারের সংস্কার হলে হয় না। আপনি ব্যবসায়ী হলে আপনার ব্যবসায় সংস্কার আনুন। ব্যবসায়ী গোষ্ঠিরা তাদের নিজ নিজ সমিতির মাধ্যমে সংস্কার আনুন। সমিতিতে সংস্কার আনুন। নতুন করে সমিতির গঠনতন্ত্র সংশোধন করুন।

তিনি আরও বলেন, আপনি শ্রমিক হলে আপনার ক্ষেত্রে আপনি সংস্কার করুন। আপনি রাজনৈতিক নেতা-কর্মী হলে আপনার ক্ষেত্রে সংস্কার করুন। আপনি প্রতিষ্ঠান প্রধান হলে আপনার প্রতিষ্ঠানে সংস্কার আনুন। আমি এটাকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করার জন্য সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এই সংস্কারের মাধ্যমে আমরা জাতি হিসেবে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করতে চাই। আমাদের এই যাত্রা আমাদের পৃথিবীর একটি সম্মানিত জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করুক এটাই আমাদের সবার কাম্য।

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অন্তর্র্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিগত মাসে আমি বেশ কিছু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পৃথকভাবে বসেছি। তাদের সঙ্গে মতামত বিনিময় করেছি। তারা আমাদের উৎসাহিত করেছেন। ছাত্র, শ্রমিক জনতার বিপ্লবের লক্ষ্যের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। সংস্কারের কাজে পূর্ণ সহযোগতিা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের কথা উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছে আমাদের সরকারের লক্ষ্যগুলি ব্যাখ্যা করেছি। তারাও আমাদের লক্ষের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ছাত্র শ্রমিক জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে এবং হাজারো মানুষের আত্মদানের বিনিময়ে বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়েছে। এই গণঅভ্যুত্থানের বার্তা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য একটি অভূতপূর্ব সময় ও সুযোগ আমরা এর মধ্যে দিয়ে অর্জন করেছি। এখন বাংলাদেশে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রোধ এবং জনমালিকানা ভিত্তিক, কল্যাণমুখী ও জনস্বার্থে নিবেদিত একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে কিছু জাতীয়ভিত্তিক সংস্কার সম্পন্ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এসব সংস্কার ভাবনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি বলেন, আমরা যেহেতু জনগণের ভোটাধিকার ও জনগণের মালিকানায় বিশ্বাস করি, সেহেতু নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়নে আমাদের সংস্কার ভাবনায় গুরুত্ব পেয়েছে। আমরা মনে করি নির্বাচনের নামে সংখ্যাগরিষ্ঠতার একাধিপত্য ও দুঃশাসন মানুষের ওপর চাপিয়ে দেয়া বা এর মাধ্যমে এক ব্যক্তি বা পরিবার বা কোনো গোষ্ঠীর কাছে সকল ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব আশঙ্কা রোধ করার জন্য নির্বাচনের সাথে সম্পর্কিত নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের কথা আমরা ভাবছি।

ড. ইউনূস বলেন, নির্বাচনব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রশাসন, বিচার প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন এই চারটি প্রতিষ্ঠানের সংস্কার করা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য। এসব প্রতিষ্ঠানের সংস্কার জনমালিকানা ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায়ও অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর পাশাপাশি করে সমাজের সকল স্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব ও স্বার্থ নিশ্চিত করার জন্য এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্তাকে প্রতিফলিত করার জন্য সাংবিধানিক সংস্কারের প্রয়োজন আমরা অনুভব করছি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে উল্লেখ করেন, এসব বিষয়ে সংস্কার করার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসাবে সরকার প্রাথমিকভাবে ছয়টি কমিশন গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব কমিশনের কাজ পরিচালনার জন্য বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে ছয়জন বিশিষ্ট নাগরিককেএই কমিশনগুলো পরিচালিনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর পর আরও বিভিন্ন বিষয়ে কমিশন গঠন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

এসব কমিশনের অন্য সদস্যদের নাম কমিশন প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে। কমিশনগুলোর আলোচনা ও পরামর্শসভায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ছাত্র, শ্রমিক, জনতা আন্দোলনের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

পূর্ণাঙ্গভাবে গঠিত হওয়ার পর কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাজ আগামী পহেলা অক্টোবর থেকে শুরু করতে পারবে বলে প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন এবং এটি পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে সরকার পরবর্তী পর্যায়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে পরামর্শসভার আয়োজন করবে।

চূড়ান্ত পর্যায়ে ছাত্র সমাজ, নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সরকারের প্রতিনিধি নিয়ে ব্যাপকভিত্তিক তিন থেকে সাত দিনব্যাপী একটি পরামর্শসভার ভিত্তিতে সংস্কার ভাবনার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে। এতে এই রূপরেখা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তার একটি ধারণাও দেওয়া হবে।

ড. ইউনূস বলেন, এই আয়োজন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্তা বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র পুনঃনির্মাণ তাগিদের ঐক্যবন্ধনে গোটা জাতিকে শক্তিশালী ও আশাবাদী করে তুলবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্বিতীয় বারের মতো জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন ড. ইউনূস। এর আগে ২৫ আগস্ট তিনি জাতির উদ্দেশে প্রথমবারের মত ভাষণ দেন।


৩৫ হাজার মুসল্লিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত আয়োজনের লক্ষে রাজধানীর ঐতিহাসিক জাতীয় ঈদগাহ ময়দান এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিবিড় তত্ত্বাবধানে এবারও এই প্রাঙ্গণে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই ধর্মীয় সমাবেশে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্যবর্গ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিবৃন্দ, পদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকরা অংশ নেবেন।

ঈদের এই জামাতকে সুশৃঙ্খল ও আরামদায়ক করার লক্ষে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক যাতায়াত এবং বসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রায় ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই বিশালাকার ময়দানের একটি বড় অংশ জুড়ে তৈরি করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন প্যান্ডেল, যার আয়তন প্রায় ২৫ হাজার ৪০০ বর্গমিটার। এখানে মোট ১২১টি কাতারে প্রায় ৩৫ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলিম একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায়ের সুযোগ পাবেন। ভিআইপি অতিথিদের সুরক্ষায় ২৫০ জন পুরুষ এবং ৮০ জন নারীর জন্য বিশেষ স্থান সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ এবং সাড়ে ৩ হাজার নারীর জন্য আলাদা অংশে নামাজের সুব্যবস্থা করা হয়েছে।

নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য ময়দানে প্রবেশের উদ্দেশ্যে ৪টি গেট এবং প্রস্থানের জন্য ৭টি সুনির্দিষ্ট গেট রাখা হয়েছে, যেখানে ভিআইপি, সাধারণ পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা পথ বরাদ্দ থাকবে। অজুর জন্য পুরুষদের ১১৩টি ও নারীদের জন্য ২৭টি ট্যাপসহ মোট ১৪০ জনের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। আকস্মিক বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে স্থাপন করা হয়েছে ওয়াটারপ্রুফ সামিয়ানা ও উন্নত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। এছাড়া গ্রীষ্মের তাপদাহ থেকে মুসল্লিদের রক্ষা করতে পর্যাপ্ত ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার ও পর্যাপ্ত আলোর সংস্থান রাখা হয়েছে। বিশুদ্ধ পানীয় জল, আরামদায়ক কার্পেট ও জায়নামাজের পাশাপাশি জরুরি সেবার জন্য ফায়ার সার্ভিস, প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র এবং ভ্রাম্যমাণ টয়লেট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।


আড়ালে-আবডালে দুর্বৃত্ত আছে, অস্বীকার করার সুযোগ নেই: সড়ক মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘আড়ালে-আবডালে দুর্বৃত্ত আছে, সেটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে তাদের কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

এরপরও কেউ যদি ভাড়া বেশি নিয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেওয়া হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি কাউন্টারে নির্ধারিত ভাড়ার স্টিকার লাগানো হয়েছে। বাসেও ভাড়ার তালিকা সংযুক্ত করা হয়েছে।

যাত্রীরা আগের তুলনায় নির্ধারিত সময়ে ভালোভাবে বাড়ি যেতে পারছেন এবং মোবাইল কোর্টও কাজ করছে। যাত্রীরা পরিবহনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, অনেক যাত্রী অগ্রিম টিকিট না কাটার কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে চালক বা সুপারভাইজার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।

কোরবানির পশুর হাট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল যে সড়কে গরুর হাট বসবে না। তবে পশু ও ক্রেতার চাপ বেড়ে যাওয়ায় অনেক সময় হাট সড়কে চলে আসছে। এতে কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের মনিটরিংয়ে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ পণ্যবাহী ট্রাকে যাতায়াত করছে।

এসব ট্রাক থামাতে গেলে অনেক সময় মহাসড়কে যানজট তৈরি হয়। নাগরিকদের সচেতন না হলে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।’


জঙ্গল সলিমপুরের ঘটনায় কঠোর বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় কঠোর বার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে কোনো আইনের শাসন ছিল না, তাই জঙ্গল সলিমপুরের মতো ঘটনা ঘটেছে।

জঙ্গল সলিমপুরসহ অন্যান্য জায়গায় যেখানে পুলিশ-সদস্যদের ওপর হামলা হচ্ছে, সেটা নজরে রাখা হচ্ছে। তারা যে দুঃসাহস দেখিয়েছে, সেটি কঠোরভাবে নির্মূলভাবে করা হবে। এদেশে কোনোভাবেই সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, এবার সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কম। যা হচ্ছে বেশিরভাগই নিজেদের ভুলে। এ জন্য যাত্রীদের সচেতন হতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের মনিটরিং সেল বিশেষভাবে কাজ করে ঈদের সময়।

মহাসড়ক, পশুর হাট সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকারী ব্যবস্থাপনা আছে। ঈদ পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য সরাতে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়েও কাজ চলবে।

সড়কে যানজট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, টোলে আধুনিকায়নে সড়ক মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়া হবে। ডিজিটালাইজেশন প্রয়োজন। নারায়ণগঞ্জে লোকনাথ উৎসব ও মাদারীপুরে কুম্ভ মেলার নিরাপত্তায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত রবিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে জঙ্গল সলিমপুরের আলী নগর যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালায় কয়েক শ সন্ত্রাসী। তারা নির্মাণাধীন ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেয়। উপস্থিত লোকজনকে মারধর করে। আত্মরক্ষার্থে ১০৫ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে যৌথ বাহিনী। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। এ ঘটনার পর গতকাল সোমবার সেখানে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বেশকয়েক জনকে আটক করা হয়েছে।


রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাজধানীতে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূতি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল ১১টা ৪২ মিনিটের দিকে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৬।

ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমসিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পেটির উৎপত্তিস্থল ছিল টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থেকে ২৯ কিলোমিটার উত্তর-পূবে। আর ময়মনসিংহ থেকে ৪৭ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং সখিপুর থেকে ২২ কিলোমিটার উত্তর-পূবে। এর ভৌগোলিক অবস্থান ছিল ২৪ দশমিক ৩৩ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০ দশমিক ৩৯ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।

এই ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পনের সৃষ্টি হয় বলেও জানায় সংস্থাটি।


পদ্মা সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪.৮০ কোটি টাকা টোল আদায়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ, যার ফলে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতুতে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুতে ৪ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৩৫০ টাকা টোল আদায় করা হয়েছে। এটি পদ্মা সেতুর ইতিহাসে এ যাবৎকালের চতুর্থ সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড। এই সময়ে সেতুর উভয় প্রান্ত দিয়ে মোট ৪৩ হাজার ৩৫১টি যানবাহন পারাপার হয়েছে বলে সেতু কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

বিস্তারিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মাওয়া প্রান্ত দিয়ে সবচেয়ে বেশি যানবাহন পার হয়েছে। এই প্রান্ত দিয়ে গত এক দিনে ২৮ হাজার ৬৭টি গাড়ি পারাপার হওয়ায় ২ কোটি ৬৪ লাখ ২১ হাজার টাকা টোল সংগৃহীত হয়েছে। অন্যদিকে, জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ১৫ হাজার ২৮৪টি গাড়ি সেতু পার হয়েছে এবং সেখান থেকে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ৯৪ হাজার ৩৫০ টাকা। গত ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবার এক দিনে যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ডটি ছিল ২০২৫ সালের ৬ জুন, যখন এক দিনে ৫ কোটি ৪৩ লাখ ২৮ হাজার ১০০ টাকা আদায় হয়েছিল। এছাড়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড দুটিও ছিল যথাক্রমে ২০২৫ ও ২০২৪ সালের ঈদকেন্দ্রিক। এবারের বাড়তি চাপ সামাল দিতে এবং ঘরমুখো মানুষের যাত্রা আরামদায়ক করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সেতুর দুই প্রান্তে মোট ১৯টি টোল বুথ সার্বক্ষণিক সচল রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মাওয়া প্রান্তে মূল ৭টি এবং মোটরসাইকেলের জন্য ৩টিসহ মোট ১০টি বুথ কাজ করছে। জাজিরা প্রান্তে ৭টি মূল ও ২টি মোটরসাইকেল বুথসহ মোট ৯টি বুথ চালু আছে। এছাড়া মোটরসাইকেলের বাড়তি ভিড় সামলাতে মাওয়া প্রান্তে অতিরিক্ত অস্থায়ী বুথের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে টোল প্লাজায় কোনো দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি না হয়।

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবারের ঈদযাত্রায় বাড়তি গতি যোগ করেছে। মাওয়া ও জাজিরা উভয় প্লাজায় ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) এবং আরএফআইডি কার্ডের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় টোল আদায় ব্যবস্থা চালু থাকায় যানবাহনগুলোকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ে টোল সংগ্রহ নিশ্চিত করায় যাতায়াত আরও সহজ ও আরামদায়ক হয়েছে। এর ফলে ভোগান্তি ছাড়াই যাত্রীরা তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।


ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ, ঈদযাত্রীদের ভোগান্তি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

আসন্ন ঈদ উদযাপনের প্রাক্কালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে পণ্যবাহী যানের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। যাত্রীবাহী বাসের পাশাপাশি সড়কে শত শত ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান বিকল বা যত্রতত্র চলাচলের ফলে বিভিন্ন অংশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ অনুযায়ী, বর্তমানে মহাসড়কে যাত্রীবাহী যানবাহনের তুলনায় মালবাহী ট্রাকের প্রাধান্যই বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই গাজীপুরের চন্দ্রা, কালিয়াকৈর ও মৌচাক সংলগ্ন এলাকাগুলোতে যানবাহনের গতি অত্যন্ত ধীর হয়ে পড়ে এবং কোথাও কোথাও কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়।

ঘরমুখো মানুষেরা জানিয়েছেন যে, যে পথটি পাড়ি দিতে স্বাভাবিক সময়ে মাত্র এক ঘণ্টা সময় লাগত, এখন সেখানে তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত ট্রাকের চাপ, মাঝপথে যানবাহন বিকল হওয়া এবং চালকদের বেপরোয়াভাবে ওভারটেক করার প্রবণতাকেই এই যানজটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। মহাসড়কে চলাচলকারী চালকদের মতে, শিল্পকারখানার মালামাল পরিবহন বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং রাস্তার পাশে ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

এই সংকট নিরসনে পুলিশি তৎপরতা সম্পর্কে কোনাবাড়ী হাইওয়ে থানার অফিসার্স ইনচার্জ সাওগাতুল আলম জানান যে, “মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যানজট নিরসনে কাজ করছে একাধিক টিম। তবে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে মাঝে মধ্যেই ধীরগতি তৈরি হচ্ছে।” পরিস্থিতির উন্নয়নে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক দল নিরলস কাজ করে যাচ্ছে ।


এটিএম বুথে নগদ টাকার সংকট

আপডেটেড ২৬ মে, ২০২৬ ০২:২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহার টানা সাত দিনের ছুটি শুরু হওয়ার আগেই দেশের বিভিন্ন স্থানের এটিএম বুথগুলোতে নগদ টাকার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বন্ধের দিনগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন অনলাইন ও বুথ সেবা নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশনা থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। গত শনিবার থেকেই অনেক গ্রাহক বুথে গিয়ে টাকা না পেয়ে ফিরে আসছেন। বিশেষ করে ঈদের খরচ ও পশুর হাটে লেনদেনের জন্য যখন নগদ টাকার চাহিদা তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই সংকট সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।

অভিযোগ উঠেছে যে, অনেক ব্যাংক তাদের এটিএম বুথ থেকে অন্য ব্যাংকের কার্ড দিয়ে টাকা উত্তোলন বন্ধ অথবা সীমিত করে দিয়েছে। মূলত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনিয়ম ও জালিয়াতির শিকার হওয়া দুর্বল ব্যাংকগুলোর গ্রাহকরা এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। নিজস্ব বুথ অকেজো থাকায় তারা অন্য ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল হলেও আন্তঃব্যাংক সেবা সীমিত হওয়ার কারণে টাকা সংগ্রহ করতে পারছেন না। ব্যাংকাররা বলছেন, ঈদের আগে ছাপানো টাকার চাহিদা বাড়ে, তবে অনেক ব্যাংক তারল্য সংকটের কারণে গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, কোরবানি ঈদ উপলক্ষে ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত নগদ টাকা সরবরাহ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সকল এটিএম বুথে যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সার্বক্ষণিক পর্যাপ্ত টাকা রাখার কথা। এর পরও অনেক ব্যাংকের বুথে টাকা না পাওয়ার ঘটনাকে তিনি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন। কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো এবং সেবা নিশ্চিত করার শর্ত ভঙ্গ করা হলো কি না, তা খতিয়ে দেখতে ঈদের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

তবে কোরবানির হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে কিছু বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মোট ২১টি পশুর হাটসহ বিভাগীয় শহরগুলোর প্রধান হাট-সংলগ্ন ব্যাংক শাখাগুলো বিশেষ ব্যবস্থায় খোলা রাখা হয়েছে। এসব শাখা সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নগদ লেনদেন সেবা দিচ্ছে। এছাড়া তৈরি পোশাক শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট শিল্প এলাকার ব্যাংক শাখাগুলো মঙ্গলবার রাত ১টা পর্যন্ত লেনদেনের সুযোগ রেখেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, এই পদক্ষেপের ফলে পশুর হাটে নগদ টাকার সংকট কিছুটা লাঘব হবে।

সাধারণত ঈদের ছুটিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে যাওয়ায় উপজেলা পর্যায়ের বুথগুলোতে টাকার চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে বুথের সংখ্যা কম হওয়া এবং কারিগরি ত্রুটির কারণে প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রাহকদের বিড়ম্বনা এখন চরমে পৌঁছেছে। ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রসারের কথা বলা হলেও ঈদের মতো বড় উৎসবে প্রতিবছরই ক্যাশ সংকটের এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর তদারকির প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


১ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের অনলাইন সেবা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে আগামী ১ জুন পর্যন্ত জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের অনলাইন সফটওয়্যার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, ২৪ মে রাত ১১টা ৫৯ মিনিট থেকে ১ জুন সকাল ৬টা পর্যন্ত বিডিআরআইএস (BDRIS) সফটওয়্যারের মাধ্যমে সকল প্রকার নিবন্ধন কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। সিস্টেমের আধুনিকায়ন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে জানানো হয়।

সফটওয়্যার বন্ধ রাখার পাশাপাশি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফেরাতে নতুন এক জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়। এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো অননুমোদিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে সরকারি ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করা। অনেক ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কারিগরি দক্ষতার অভাব অথবা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের অজুহাতে ইউজার আইডি অন্যের হাতে হস্তান্তর করার অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখন থেকে কঠোর তদারকির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

নতুন নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যদি কোনো ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কারিগরি সমস্যার কারণে নিবন্ধনকারীর দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হন, তবে তার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের নিয়মিত বেতনভুক্ত ‘হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর’ এই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। ২০১৮ সালের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী, শুধুমাত্র নিয়মিত কর্মচারীদেরই এই সিস্টেমের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড প্রদান করা যাবে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে অন্য কাউকে এই তথ্য প্রদান করা হলে তা বড় ধরনের অনিয়ম হিসেবে গণ্য হবে।

রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় আরও সতর্ক করেছে যে, ব্যক্তিগত ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড কোনোভাবেই হস্তান্তরযোগ্য নয় এবং এটি করা একটি দণ্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ। অনিবন্ধিত বা বহিরাগত ব্যক্তিদের মাধ্যমে তথ্য এন্ট্রি করার ফলে সিস্টেমের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাই ডিজিটাল নিরাপত্তার স্বার্থে পাসওয়ার্ড সুরক্ষা এবং গোপনীয়তা বজায় রাখার বিষয়ে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিশেষে বলা যায়, ১ জুন থেকে পুনরায় সফটওয়্যারটি চালু হলে সাধারণ মানুষ আগের মতোই তাদের প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার ফলে নিবন্ধক কার্যালয়গুলোর কার্যক্রমে আরও শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানিয়েছে। এর মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি জালিয়াতির সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।


ঈদ যাত্রায় মহাসড়কে মরণফাঁদ: দেশের ৬ জেলায় ২৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সোমবার (২৫ মে) দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু ও নারীসহ অন্তত ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও গোপালগঞ্জে এসব মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আহত আরও অনেকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জেলাভিত্তিক দুর্ঘটনার চিত্র-
টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ প্রাণহানি: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতি উপজেলার সরাতৈল এলাকায় সোমবার ভোরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি রডবাহী ট্রাক রাস্তার পাশে খাদে উল্টে যায়। এ সময় ট্রাকের ওপরে থাকা ১৫ জন যাত্রী রডের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। তারা সবাই ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাশ্রয়ী ভাড়ায় ট্রাকে চড়ে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিলেন। কালিহাতি ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আতাউর রহমান জানান, “টাঙ্গাইলে ট্রাক দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ জনের পরিচয় মিলেছে”। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের দাফনের জন্য ২৫ হাজার এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ১৫ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু: কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে অলওয়েদার সড়কে চালবোঝাই পিকআপ ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় ভাতশালা সেতুর কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন কোচিং সেন্টার পরিচালক মনির হোসেন (৩৭), তার স্ত্রী মুন্নি আক্তার (৩০) ও তাদের ১০ বছর বয়সী ছেলে আয়ান। কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, তারা মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় বিপরীতমুখী পিকআপের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিথর হয়ে যান।
বগুড়ায় পৃথক দুর্ঘটনায় ৪ জনের প্রাণহানি: বগুড়ার কাহালু উপজেলায় বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে মা জেসমিন খাতুন ও মেয়ে তণু আক্তার নিহত হয়েছেন। কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “নিহত মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।” এছাড়া শাজাহানপুর উপজেলায় অজ্ঞাত যানবাহনের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা আনিছুর রহমান ও তার ৪ বছরের মেয়ে পুষ্পর মৃত্যু হয়েছে। বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানান, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।”
সিরাজগঞ্জে দুই শিশুর মৃত্যু: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিশু প্রাণ হারিয়েছে। দিলরুবা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সিএনজি ও ভটভটির সংঘর্ষে ৮ বছরের সারা খাতুন এবং মশিপুরে রাস্তা পার হওয়ার সময় ট্রাকচাপায় ৭ বছরের আহম্মদ মারা যায়। হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, “আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুইজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
মানিকগঞ্জে মোটরসাইকেল চালক নিহত: মানিকগঞ্জ-হেমায়েতপুর আঞ্চলিক সড়কের কিটিংচর এলাকায় অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মো. কাউসার আহম্মেদ (১৮) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বিপরীতমুখী দুটি যানের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
গোপালগঞ্জে ত্রিমুখী সংঘর্ষে চালক নিহত: গোপালগঞ্জ সদরের সোনাশুর এলাকায় যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষে মাইক্রোবাসের চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক শিপলু আহম্মেদ জানান, একটি বাস ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীতমুখী মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দিলে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে ।


ঈদের ছুটির মধ্যে প্রশাসনে বড় রদবদল, তিন অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতি পেয়ে সচিব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল আজহার অবকাশকালীন সময়েই দেশের প্রশাসনিক উচ্চস্তরে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। সোমবার (২৫ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে প্রকাশিত পৃথক আদেশের মাধ্যমে তিন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে উন্নীত করে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে।

জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে তথ্য নিশ্চিত করে বলা হয়েছে যে, "অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার তিন কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।" এই পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ্ শাম্মীকে সচিব হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের (সমন্বয় ও সংস্কার) দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আতাউর রহমান খানকে সচিব পদে উন্নীত করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।

রদবদলের এই প্রক্রিয়ায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাসির-উদ-দৌলাকেও সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনিক প্রয়োজনে পৃথক এক আদেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনকে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।


ইতোমধ্যেই ২ কোটির বেশি শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশে ইতোমধ্যেই ২ কোটির অধিক শিশুকে প্রতিষেধকের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে এবং হামের টিকাদান কার্যক্রমে সাফল্যের হার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১২২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আজ দুপুরে কুমিল্লা সদর জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, ‘প্রথম ধাপে দেশের ১৮টি উপজেলায় হামের টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়েছে।’ এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে রোগ সংক্রমণের প্রকোপ অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ‘শিশুদের সুরক্ষায় সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দ্রুত সময়ের মধ্যে শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা।’

আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করতে এদিন সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তিনি জরুরি সেবা প্রদান, রোগীদের ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ততা খতিয়ে দেখেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালের পথ্যের গুণগত মান পর্যবেক্ষণ করেন। মন্ত্রীর এই সফরের সময় কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. শাহ জাহান, সহকারী পরিচালক ডা. নিশাত সুলতানা এবং স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


ঈদুল আজহার প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়, অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী: ডিএসসিসি প্রশাসক

আপডেটেড ২৫ মে, ২০২৬ ২১:০২
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৭টায়। এতে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে।

সোমবার (২৫ মে) সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন শেষে এসব তথ্য জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম।

তিনি জানান, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। মুসল্লিদের প্রবেশের জন্য রাখা হবে ৪টি এবং বের হওয়ার জন্য ৭টি গেট।

এছাড়া কোরবানির বর্জ্য ৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পশুর বর্জ্য ড্রেনে না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে, যাতে নগর পরিচ্ছন্ন রাখা যায়।


আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এডিবি’র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সোমবার (২৫ মে) ঢাকায় সফররত এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশাল সহায়তার ঘোষণা দেন। এই অর্থ মূলত ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ কর্মসূচির আওতায় ব্যয় করা হবে, যার মূল লক্ষ্য দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নতুন বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সারা দেশে একটি ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

সফরকালে এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন অগ্রাধিকার, প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বৈদেশিক অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এই বিষয়ে মাসাতো কান্দা বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। এই পরিস্থিতিতে এডিবি দেশটিকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি এবং আরও বৈচিত্র্যময় ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে সার্বিক সহায়তা প্রদান করবে। এই প্যাকেজের আওতায় প্রতি বছর প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার করে অর্থ ছাড় করা হবে, যা বাংলাদেশের জন্য এডিবির সার্বভৌম অর্থায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে যুক্ত হচ্ছে।

বিশ্বের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে এডিবি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার ও পরিবহন ব্যয় মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। এর ফলে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় ধরনের চাপে পড়েছে। একই সঙ্গে দেশে মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং ব্যাংক খাতে তারল্য সংকটও অব্যাহত আছে। এই মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও বৈশ্বিক পণ্যমূল্যের চাপ মোকাবিলায় অর্থায়ন ঘাটতি পূরণের জন্য এডিবি অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তাও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এডিবি প্রেসিডেন্টের এই সফরকালে ২০২৬ সালের প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের একটি ঋণচুক্তি সই হয়েছে। এই চুক্তির অর্থ দেশের জ্বালানি, পরিবহন, জলবায়ু সহনশীলতা ও সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পে সরাসরি ব্যয় করা হবে।

এছাড়া বাংলাদেশে তাদের বার্ষিক সার্বভৌম অর্থায়নের পরিমাণ ২০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার থেকে ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। এই বাড়তি অর্থ বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য, সুশাসন সংস্কার এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে। বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে পুঁজিবাজার শক্তিশালী করা, নতুন প্রকল্প প্রস্তুত এবং যৌথ অর্থায়ন বাড়াতেও এডিবি সরকারকে নিরলসভাবে সহায়তা করছে।


banner close