অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কেউ সমাজে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করলে আমরা তাকে অবশ্যই শাস্তির আওতায় নিয়ে আসবো। আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের এক মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা আর যেন কোনো স্বৈরাচারের হাতে পড়তে না হয় উল্লেখ করে বলেন, আমাদের সন্তানদের জন্য একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রূপরেখা তৈরি করতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আমরা যাতে বলতে পারি আমরা একটি গণতান্ত্রিক দেশে বসবাস করি, আমরা যাতে সকলেই দাবি করতে পারি যে এই দেশটি আমাদের- আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।
গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ড. ইউনূস তার ভাষণে বলেন, আমরা সংস্কার চাই। আমাদের একান্ত অনুরোধ, আমাদের ওপর যে সংস্কারের গুরু দায়িত্ব দিয়েছেন, সেই দায়িত্ব দিয়ে আপনারা দর্শকের গ্যালারিতে চলে যাবেন না। আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকুন। আমরা একসঙ্গে সংস্কার করবো। এটা আমাদের সবার দায়িত্ব।
দেশবাসীকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে সংস্কার আনার আহ্বান জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, আপনারা নিজ নিজ জগতে সংস্কার আনুন। একটা জাতির সংস্কার শুধুমাত্র সরকারের সংস্কার হলে হয় না। আপনি ব্যবসায়ী হলে আপনার ব্যবসায় সংস্কার আনুন। ব্যবসায়ী গোষ্ঠিরা তাদের নিজ নিজ সমিতির মাধ্যমে সংস্কার আনুন। সমিতিতে সংস্কার আনুন। নতুন করে সমিতির গঠনতন্ত্র সংশোধন করুন।
তিনি আরও বলেন, আপনি শ্রমিক হলে আপনার ক্ষেত্রে আপনি সংস্কার করুন। আপনি রাজনৈতিক নেতা-কর্মী হলে আপনার ক্ষেত্রে সংস্কার করুন। আপনি প্রতিষ্ঠান প্রধান হলে আপনার প্রতিষ্ঠানে সংস্কার আনুন। আমি এটাকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করার জন্য সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এই সংস্কারের মাধ্যমে আমরা জাতি হিসেবে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করতে চাই। আমাদের এই যাত্রা আমাদের পৃথিবীর একটি সম্মানিত জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করুক এটাই আমাদের সবার কাম্য।
রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অন্তর্র্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিগত মাসে আমি বেশ কিছু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পৃথকভাবে বসেছি। তাদের সঙ্গে মতামত বিনিময় করেছি। তারা আমাদের উৎসাহিত করেছেন। ছাত্র, শ্রমিক জনতার বিপ্লবের লক্ষ্যের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। সংস্কারের কাজে পূর্ণ সহযোগতিা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের কথা উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছে আমাদের সরকারের লক্ষ্যগুলি ব্যাখ্যা করেছি। তারাও আমাদের লক্ষের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ছাত্র শ্রমিক জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে এবং হাজারো মানুষের আত্মদানের বিনিময়ে বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়েছে। এই গণঅভ্যুত্থানের বার্তা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য একটি অভূতপূর্ব সময় ও সুযোগ আমরা এর মধ্যে দিয়ে অর্জন করেছি। এখন বাংলাদেশে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রোধ এবং জনমালিকানা ভিত্তিক, কল্যাণমুখী ও জনস্বার্থে নিবেদিত একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে কিছু জাতীয়ভিত্তিক সংস্কার সম্পন্ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এসব সংস্কার ভাবনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি বলেন, আমরা যেহেতু জনগণের ভোটাধিকার ও জনগণের মালিকানায় বিশ্বাস করি, সেহেতু নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়নে আমাদের সংস্কার ভাবনায় গুরুত্ব পেয়েছে। আমরা মনে করি নির্বাচনের নামে সংখ্যাগরিষ্ঠতার একাধিপত্য ও দুঃশাসন মানুষের ওপর চাপিয়ে দেয়া বা এর মাধ্যমে এক ব্যক্তি বা পরিবার বা কোনো গোষ্ঠীর কাছে সকল ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব আশঙ্কা রোধ করার জন্য নির্বাচনের সাথে সম্পর্কিত নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের কথা আমরা ভাবছি।
ড. ইউনূস বলেন, নির্বাচনব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রশাসন, বিচার প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন এই চারটি প্রতিষ্ঠানের সংস্কার করা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য। এসব প্রতিষ্ঠানের সংস্কার জনমালিকানা ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায়ও অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর পাশাপাশি করে সমাজের সকল স্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব ও স্বার্থ নিশ্চিত করার জন্য এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্তাকে প্রতিফলিত করার জন্য সাংবিধানিক সংস্কারের প্রয়োজন আমরা অনুভব করছি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে উল্লেখ করেন, এসব বিষয়ে সংস্কার করার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসাবে সরকার প্রাথমিকভাবে ছয়টি কমিশন গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব কমিশনের কাজ পরিচালনার জন্য বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে ছয়জন বিশিষ্ট নাগরিককেএই কমিশনগুলো পরিচালিনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর পর আরও বিভিন্ন বিষয়ে কমিশন গঠন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
এসব কমিশনের অন্য সদস্যদের নাম কমিশন প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে। কমিশনগুলোর আলোচনা ও পরামর্শসভায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ছাত্র, শ্রমিক, জনতা আন্দোলনের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
পূর্ণাঙ্গভাবে গঠিত হওয়ার পর কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাজ আগামী পহেলা অক্টোবর থেকে শুরু করতে পারবে বলে প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন এবং এটি পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে সরকার পরবর্তী পর্যায়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে পরামর্শসভার আয়োজন করবে।
চূড়ান্ত পর্যায়ে ছাত্র সমাজ, নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সরকারের প্রতিনিধি নিয়ে ব্যাপকভিত্তিক তিন থেকে সাত দিনব্যাপী একটি পরামর্শসভার ভিত্তিতে সংস্কার ভাবনার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে। এতে এই রূপরেখা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তার একটি ধারণাও দেওয়া হবে।
ড. ইউনূস বলেন, এই আয়োজন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্তা বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র পুনঃনির্মাণ তাগিদের ঐক্যবন্ধনে গোটা জাতিকে শক্তিশালী ও আশাবাদী করে তুলবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্বিতীয় বারের মতো জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন ড. ইউনূস। এর আগে ২৫ আগস্ট তিনি জাতির উদ্দেশে প্রথমবারের মত ভাষণ দেন।
দেশের পর্যটন খাতকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে একটি পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। তিনি বলেন, ‘জনগণের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিএনপি সরকার নির্বাচনী ইশতেহার দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। সারা বাংলাদেশে বর্তমানে ১ হাজার ৭৪২টি পর্যটন স্পট শনাক্ত করা হয়েছে, যার অর্থ দেশের প্রতিটি জেলাতেই পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২৬’-এর প্রথম অধিবেশনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘প্রতিটি জেলা প্রশাসক নিজ নিজ এলাকায় পরিবর্তনের অগ্রদূত হতে পারেন। একটি নতুন পর্যটন স্পট বা একটি সৃজনশীল উদ্যোগ জেলার অর্থনীতি বদলে দিতে পারে। বাংলাদেশকে বিশ্বের পর্যটন মানচিত্রে উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরার মূল দায়িত্ব আপনাদের কাঁধেই।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সভাপতিত্বে এই অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। অধিবেশনে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন: সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
দেশের সব বেসরকারি (নন-এমপিও) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার দাবিতে ১২ দিনের সময়সীমা বেঁধে (আল্টিমেটাম) দিয়েছেন শিক্ষকেরা। এর মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ১৭ মে থেকে লাগাতার কর্মসূচি ও রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দেন সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের পক্ষে সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়ক অধ্যক্ষ সেলিম মিঞা।
সোমবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদ’ আয়োজিত শিক্ষক সমাবেশ থেকে এসব ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ সময় দাবি আদায়ের জন্য প্রয়োজনে ঈদের পর সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তুলতে ‘ডু অর ডাই’ কর্মসূচিতে যাওয়ার পরিকল্পনাও তাদের রয়েছে বলে শিক্ষক সমাবেশ থেকে জানানো হয়।
সম্মিলিত নন-এমপিওভুক্ত ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যক্ষ সেলিম মিঞা সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আগামী ১৬ মে পর্যন্ত আমরা সময় নির্ধারণ (আল্টিমেটাম) করে দিয়েছি। এর মধ্যে যদি আমাদের দাবি না মানা হয়, ১৭ মে থেকে লাগাতার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে শিক্ষক সমাজ নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হব। আমরা চাই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকার নির্বাহী আদেশ দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত করুক।’
সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মনিমুল হক বলেন, ‘সরকার প্রাথমিকভাবে সচল প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্তি করবে বলে আমরা আশাবাদী।’
নন-এমপিও ডিগ্রি শিক্ষক কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ ফারুক বলেন, ‘আমরা আর কত দিন এভাবে রাজপথে থাকব? আমাদের থাকার কথা পাঠদান কক্ষে। আমরা এ সমস্যার সমাধান চাই। না হলে শিক্ষক সমাজ আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ‘সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের’ মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মো. দবিরুল ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যক্ষ নাজমুছ সাহাদাত আজাদী, সাংগঠনিক সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মনিমুল হক প্রমুখ।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে দালাল নির্মূল করতে যৌথ অভিযান চালিয়েছে এনএসআই ও শাহবাগ থানা পুলিশ। অভিযানে নতুন ভবন থেকে ৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, আটকের পর তাদের শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছেন, আটকদের মধ্যে বহিরাগত বিভিন্ন প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধি, ব্লাড বিক্রি, বাইরের ক্লিনিকে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়া, আইসিইউর জন্য প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়া ও বিভিন্ন ওষুধ কম্পানির প্রতিনিধি রয়েছে।
সূত্র আরো জানান, এসব দালালদের কারণে রোগীদের অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়। অনেকে তাদের খপ্পরে পরে নিঃস্ব হচ্ছেন।
হাসপাতালে শুধু বহিরাগত দালাল নয়, তাদের অবৈধভাবে টাকা উপার্জনে হাসপাতালে কতিপয় স্টাফ, আনসার সদস্যরা জড়িত রয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এ বোর্ডের সদর দপ্তর ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদেরর এবং ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস)-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার, জেনারেল ম্যানেজারদেরর সঙ্গে সোমবার এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এমপি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি। সভায় সভাপতিত্ব করেন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল এস এম জিয়া-উল-আজিম।
মতবিনিময় সভার উপস্থাপনায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃক পল্লী বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার চলমান কার্যক্রমের সার্বিক অবস্থা মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। সভায় সদর দপ্তরের কর্মকর্তা, মাঠপর্যায়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীরা ও ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার জেনারেল ম্যানেজার পল্লী বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার জন্য তাদের বস্তুনিষ্ঠ মতামত প্রকাশ করেন। তারা আনুপাতিক লোডশেডিং, সিস্টেম লস হ্রাসকরণ, বকেয়া আদায়, বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও অন্যান্য সংস্থার সাথে সমন্বয় এসব বিষয়াদি মতবিনিময় সভায় তুলে ধরেন।
এ সময় মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এমপি বলেন, ‘আরইবি প্রতিষ্ঠা একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত কারণ এর সাথে জড়িত কৃষি বিপ্লব, খাল খনন কর্মসূচিসহ গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন।’ তিনি আরও বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম যে মডেলে চলছে প্রচলিত মডেলের মধ্যে এটি একটি উৎকৃষ্ঠ হিসেবে প্রমাণিত মডেল তাই তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।’ তিনি গ্রাহকদের সাথে সুসম্পর্ক বৃদ্ধি করার জন্য পবিসের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার জেনারেল ম্যানেজারদের নির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি বলেন, ‘লাইফ লাইন গ্রাহকের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের ভোটে আসা সরকারের কাছে জনগণের সন্তুষ্টিই অগ্রাধিকার।’ গ্রাহকের সাথে নিবিড় সম্পর্ক রেখে গ্রাহকসেবা বৃদ্ধি করা এবং লোডশেডিং অন্যান্য বৈদ্যুতিক সমস্যার প্রকৃত কারণ সম্মানিত গ্রাহকদের অবহিত করার জন্য তিনি নির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রসঙ্গত, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে দেশের নগর ও গ্রামাঞ্চলের জীবনযাত্রার মানের বৈষম্য দূরিকরণের লক্ষ্যে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) অধ্যাদেশ জারি করে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড গঠন করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার সুষম উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যকে রক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার সুষম উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সুচিন্তিত দিকনির্দেশনায় পার্বত্য চট্টগ্রামে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা ও অধিকতর সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে।
সোমবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে কানাডা সরকারের অর্থায়নে ‘গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা’ (জিএসি)-এর মাধ্যমে বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় গৃহীত ‘হিন্দু-কুশ হিমালয় অঞ্চলে সমন্বিত জলবায়ু অভিযোজন সমাধান’ (হাই-কাস) প্রকল্পের উদ্বোধনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
দীপেন দেওয়ান বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় হিমালয় অঞ্চলের জনগোষ্ঠী ও দুর্দশাগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো জরুরি।’
সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বান্দরবানের সুয়ালক ও খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় এই পাইলট প্রকল্পের সাফল্য পর্যায়ক্রমে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামে সম্প্রসারণ করা হবে।’
অনুষ্ঠানে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। সরকার জলবায়ু সহিষ্ণু কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশ রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী একটি ‘রেইনবো নেশন’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চান, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না।
জনকল্যাণে গৃহীত সকল প্রকল্পে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে বলে আশ্বস্ত করে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, ‘প্রকৃতির পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কৃষি জীববৈচিত্র্যের ওপর জোর দেওয়া একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।’
কর্মশালায় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আরণ্যক ফাউন্ডেশন ও ইসিমোডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশের নতুন পোশাক মানানসই নয়। তাই আগের পোশাকেই ফিরছে পুলিশ সদস্যরা বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, শার্ট আগের মতোই থাকবে—মেট্রোপলিটন এলাকায় সবুজ এবং সারা দেশে নীল। প্যান্ট থাকবে খাকি রঙের।
সোমবার (৪ মে) সচিবালয়ে ‘বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’র প্রথম সভা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সদস্যদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে ঐতিহ্যবাহী ড্রেসের একটি অংশ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার ভাবছে।
মন্ত্রী বলেন, এবারের সংসদ অধিবেশন ছিল ইতিহাসের অন্যতম সফল। এটি কোনো বিতর্ক ছাড়াই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তা গঠনমূলকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, ক্যাম্পের ভেতরে ও বাইরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনা, যৌথ অভিযান পরিচালনার পদ্ধতি এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার এবং সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরো নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলানগরের জিয়া উদ্যানে গিয়ে তারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে মাজার প্রাঙ্গণে যান এবং সংক্ষিপ্ত দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিসহ সংরক্ষিত আসনে দলের নারী সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সংসদ সদস্য হিসেবে যারা নির্বাচিত হয়ে এসেছেন, তারা দেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, এটাই প্রত্যাশা।’
সংসদে গিয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে জানান সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরা। তারা নারী, শিশুসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এর আগে গতকাল রবিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ জন সদস্য শপথ গ্রহণ করেন।
স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাদের শপথ পাঠ করান।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সরকারি কল-কারখানাগুলোতে যারা আন্তরিকভাবে বিনিয়োগ করতে চান, তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৪ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন্ধ কল-কারখানাগুলোর বর্তমান অবস্থা ও করণীয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে উপস্থিত একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগে, যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তর থেকে অনুমতি নেওয়ার জটিলতাও বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।
এ প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ ও সময়োপযোগী করার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের অনুমোদন অপরিহার্য নয়, সেগুলো অনুমোদন প্রক্রিয়া থেকে বাদ দিতে হবে। সরকার একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান জটিলতা দূর করা জরুরি।
বন্ধ থাকা সরকারি কল-কারখানায় বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে ঋণপ্রাপ্তি সহজ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদ হাসান এবং বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান কবির উদ্দিন সিকদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বন্ধ হয়ে থাকা বস্ত্র ও পাট খাতের কারখানাগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং সেগুলো পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (৪ মে) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে খাতটির বিদ্যমান সমস্যা, আর্থিক চ্যালেঞ্জ এবং পুনরুজ্জীবনের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ জানান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন্ধ কল-কারখানার বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি জানান, বৈঠকে বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কারখানাগুলো পুনরায় চালুর জন্য বিনিয়োগ আকর্ষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনা সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বন্ধ কারখানা চালু করে বেকারদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। আজ সোমবার (৪ মে) সকালে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য ভারতীয় হাইকমিশনার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান।
তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চলমান অগ্রগতি নিয়েও পর্যালোচনা করেন এবং উভয় দেশের নতুন সক্ষমতা ও নতুন আকাঙ্ক্ষার দ্বারা চালিত এই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
হাইকমিশনার উভয় দেশের নিজ নিজ জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে সকল ক্ষেত্রে জনকেন্দ্রিক সহযোগিতা জোরদার করতে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ভারতের অভিপ্রায় পুনর্ব্যক্ত করেন।
হাইকমিশনারের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তার নতুন দায়িত্বে সাফল্য কামনা করেন।
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গত কয়েক দিন ধরে চলা মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে হাওর অঞ্চলের নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদী স্টেশনের সংখ্যা ৬টি থেকে বেড়ে ৮টিতে পৌঁছেছে। সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং পানির এই ক্রমবর্ধমান চাপ স্থানীয় জনপদে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর পয়েন্টে নলজুর নদীর পানি গত একদিনে ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যদিও জেলার অন্যান্য হাওর অঞ্চলে পানি বাড়ার গতি কিছুটা ধীর এবং ঘণ্টায় গড়ে শূন্য থেকে ১ সেন্টিমিটার হারে বাড়ছে, তবুও সামগ্রিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল নয়। অন্যদিকে, নেত্রকোনা জেলায় ধনু-বাউলাই নদীর পানি ৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। মগরা নদীর পানিও নেত্রকোনা ও আটপাড়া পয়েন্টে বিপৎসীমার যথাক্রমে ৭৯ ও ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানি ১৪ সেন্টিমিটার এবং ভুগাই-কংস নদীর পানি ২২ সেন্টিমিটার কমলেও তা এখনো বিপৎসীমার বেশ ওপরে অবস্থান করছে। বর্তমানে সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার এবং ভুগাই-কংস নদীর পানি ৬৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। হবিগঞ্জ জেলাতেও নদ-নদীর পানি নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। আজমিরিগঞ্জে কালনি নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং সুতাং রেল ব্রিজ পয়েন্টে সুতাং নদীর পানি ৮৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনার জারিয়াজঞ্জাইলে ৭৪ মিলিমিটার এবং হবিগঞ্জে ৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া চাঁদপুর-বাগান এলাকায় ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলেও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। চেরাপুঞ্জিতে ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা উজান থেকে পানির প্রবাহ বাড়িয়ে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, উজানের পাহাড়ি ঢল ও স্থানীয় অতিবৃষ্টির কারণে হাওর বেসিনের নদীগুলোয় পানি সমতল আগামী কয়েক দিন আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলগুলোতে কৃষি জমি ও ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হ্রাস না পেলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের সার্বিক কর্মকাণ্ডের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।
এই সরকারের সময়ে গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, আইন প্রণয়ন, সংস্কার কমিশন গঠন এবং দেশি-বিদেশি চুক্তির বৈধতাও রিটে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
রোববার (৪ মে) সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মুহাম্মদ মহসিন রশিদ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিটটি দায়ের করেন।
রিটে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখার জন্য একটি কমিশন গঠনের আর্জি জানানো হয়েছে।
রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
এর আগে বর্তমান সরকারের শপথ ও গঠন প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আরও একটি রিট আবেদন দায়ের করেছিলেন এই আইনজীবী। তবে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সেই আবেদনটি খারিজ করে দেন। পরবর্তীতে ওই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে সুপ্রিম কোর্ট অন্তর্বর্তী সরকারকে বৈধ বলে আদেশ প্রদান করেন।
সরকারের মতো জনপ্রশাসনের কোনো পদও চিরস্থায়ী নয় বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি সরকার যে রকম চিরস্থায়ী নয়, জনপ্রশাসনের কোনো পদ কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়। প্রতিটি পদকেই গুরুত্বপূর্ণ এবং অনিবার্য ভাবুন। দেশের যে কোনো স্থানেই যে কোনো সময়ে জনপ্রশাসনের যে কোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদেরকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে রাখুন। রোববার, রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেছেন
বাজার সিন্ডিকেট দমন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, ডিজিটাল ও স্মার্ট প্রশাসন, সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধ; মাদক নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মোবাইল কোর্ট জোরদার; স্থানীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীরে ওপর গুরুত্বারোপ করে এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ ঘোষণা করেছেন।

তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে দুর্নীতি লুটপাট রাষ্ট্র এবং জনগণকে ঋণগ্রস্ত করে ফেলেছিল। ৩০ লক্ষ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়েই বর্তমান সরকার যাত্রা শুরু করেছে। স্বাভাবিকভাবেই জনগণ সরকারের প্রতিটি কাজের মাধ্যমে তাদের আকাঙ্ক্ষার একটি বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চাইবে।
বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি সরকারের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে এই মুহূর্তে পৃথিবীর কোনো দেশই রক্ষা পায়নি, সব দেশই কমবেশি অ্যাফেক্টেড (ক্ষতিগ্রস্ত) হয়েছে, বাংলাদেশও হয়েছে। তবে জনগণের ভোগান্তি না বাড়িয়ে আমরা সকলে মিলে কীভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায়, সকলের সহযোগিতায় সেই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।
জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদই সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কর্মকর্তাদের সব পদেই কাজ করার মানসিকতা থাকা জরুরি। তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র পদোন্নতি কিংবা নিজেদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিং এর জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করলে সাময়িকভাবে হয়তো লাভবান হবেন, তবে সেটি সার্বিকভাবে জনপ্রশাসনের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সবসময় নিজেদের পছন্দের পদে পদায়ন কিংবা পোস্টিং পাওয়ার মানসিকতাই দুর্নীতি পরায়ণতা ও অপেশাদারীত্বের অন্যতম কারণ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাই আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ আহ্বান, জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদকে গুরুত্বপূর্ণ ও অনিবার্য ভাবুন। দেশের যে কোনো স্থানে, যে কোনো সময় জনপ্রশাসনের যে কোনো পদে দায়িত্ব পালনে নিজেদের মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখুন।’
তিনি আরো বলেন, ‘সততা, মেধা এবং দক্ষতাই হবে জনপ্রশাসনের নিয়োগ, বদলি কিংবা প্রমোশনের মূলনীতি। স্বচ্ছতা এবং দ্রুততার সঙ্গে শূন্য পদে জনবল নিয়োগ, শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন, বেসরকারি সার্ভিস রুল প্রণয়নসহ সর্বত্র প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’
তিনি বলেন, ‘জনগণের যে কোন ন্যায্য অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে প্রতিকারের ব্যবস্থা আপনারা করবেন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, বাল্যবিবাহ রোধসহ নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যেগুলো আপনাদের সক্ষমতার মধ্যেই আছে। বিশেষ করে আবারো আমি এখানে উল্লেখ করতে চাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, বাল্যবিবাহ রোধ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন-দয়া করে এই কয়টি বিষয়ে আপনারা আপনাদের অবস্থান থেকে পদক্ষেপ নেবেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যই হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকতেই পারে। কিন্তু দেশের স্বার্থে ব্যক্তিগতভাবে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি বিশ্বাস করি ‘সবার আগে বাংলাদেশ।’
প্রধানমন্ত্রী মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ ঘোষণা করেন:
বাজার সিন্ডিকেট দমন: কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা মজুতদারি সহ্য করা হবে না। নিয়মিত বাজার তদারকির মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
খালখনন ও কৃষিবিপ্লব: প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচিতে জনগণকে সরাসরি সম্পৃক্ত করা। এটি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: সুশাসন নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করা।
ডিজিটাল ও স্মার্ট প্রশাসন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবাকে আরও দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করা।
সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী: কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও স্পোর্টস কার্ডের সঠিক বণ্টন এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা কার্যক্রম স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন।
মোবাইল কোর্টের কার্যকারিতা: খাদ্যে ভেজাল, বাল্যবিবাহ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টকে আরও নিয়মিত ও দৃশ্যমান করা।
মাদক ও আইনশৃঙ্খলা: মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধ: সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষ যেন কোনো অনিয়মের শিকার না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা।
স্থানীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা: কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং গ্রামীণ জনগণের শহরমুখিতা হ্রাস করতে স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা।
জাতীয় ঐক্য ও সেবা: রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দল-মতনির্বিশেষে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।
সম্মেলন উদ্বোধনকালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উপদেষ্টামণ্ডলী, মন্ত্রী পরিষদ সচিব, সশস্ত্রবাহিনীর প্রধানগণ, অন্যান্য উধ্বতন কর্মকর্তা, বিভাগীয় কমিশনারগণ এবং জেলা প্রশাসকগণ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আরও বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার প্রমুখ।
চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে মোট অধিবেশন হচ্ছে ৩৪টি। এর মধ্যে কার্য অধিবেশন ৩০টি এবং অংশগ্রহণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সংখ্যা হচ্ছে ৫৬টি। সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের ৪৯৮টি প্রস্তাব উত্থাপিত হচ্ছে। ৫৬টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীগণ সম্মেলনে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন। চার দিনব্যাপী এ সম্মেলন শেষ হবে ৬ মে।