অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কেউ সমাজে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করলে আমরা তাকে অবশ্যই শাস্তির আওতায় নিয়ে আসবো। আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের এক মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা আর যেন কোনো স্বৈরাচারের হাতে পড়তে না হয় উল্লেখ করে বলেন, আমাদের সন্তানদের জন্য একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রূপরেখা তৈরি করতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আমরা যাতে বলতে পারি আমরা একটি গণতান্ত্রিক দেশে বসবাস করি, আমরা যাতে সকলেই দাবি করতে পারি যে এই দেশটি আমাদের- আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।
গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ড. ইউনূস তার ভাষণে বলেন, আমরা সংস্কার চাই। আমাদের একান্ত অনুরোধ, আমাদের ওপর যে সংস্কারের গুরু দায়িত্ব দিয়েছেন, সেই দায়িত্ব দিয়ে আপনারা দর্শকের গ্যালারিতে চলে যাবেন না। আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকুন। আমরা একসঙ্গে সংস্কার করবো। এটা আমাদের সবার দায়িত্ব।
দেশবাসীকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে সংস্কার আনার আহ্বান জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, আপনারা নিজ নিজ জগতে সংস্কার আনুন। একটা জাতির সংস্কার শুধুমাত্র সরকারের সংস্কার হলে হয় না। আপনি ব্যবসায়ী হলে আপনার ব্যবসায় সংস্কার আনুন। ব্যবসায়ী গোষ্ঠিরা তাদের নিজ নিজ সমিতির মাধ্যমে সংস্কার আনুন। সমিতিতে সংস্কার আনুন। নতুন করে সমিতির গঠনতন্ত্র সংশোধন করুন।
তিনি আরও বলেন, আপনি শ্রমিক হলে আপনার ক্ষেত্রে আপনি সংস্কার করুন। আপনি রাজনৈতিক নেতা-কর্মী হলে আপনার ক্ষেত্রে সংস্কার করুন। আপনি প্রতিষ্ঠান প্রধান হলে আপনার প্রতিষ্ঠানে সংস্কার আনুন। আমি এটাকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করার জন্য সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এই সংস্কারের মাধ্যমে আমরা জাতি হিসেবে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করতে চাই। আমাদের এই যাত্রা আমাদের পৃথিবীর একটি সম্মানিত জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করুক এটাই আমাদের সবার কাম্য।
রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অন্তর্র্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিগত মাসে আমি বেশ কিছু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পৃথকভাবে বসেছি। তাদের সঙ্গে মতামত বিনিময় করেছি। তারা আমাদের উৎসাহিত করেছেন। ছাত্র, শ্রমিক জনতার বিপ্লবের লক্ষ্যের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। সংস্কারের কাজে পূর্ণ সহযোগতিা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের কথা উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছে আমাদের সরকারের লক্ষ্যগুলি ব্যাখ্যা করেছি। তারাও আমাদের লক্ষের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ছাত্র শ্রমিক জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে এবং হাজারো মানুষের আত্মদানের বিনিময়ে বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়েছে। এই গণঅভ্যুত্থানের বার্তা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য একটি অভূতপূর্ব সময় ও সুযোগ আমরা এর মধ্যে দিয়ে অর্জন করেছি। এখন বাংলাদেশে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রোধ এবং জনমালিকানা ভিত্তিক, কল্যাণমুখী ও জনস্বার্থে নিবেদিত একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে কিছু জাতীয়ভিত্তিক সংস্কার সম্পন্ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এসব সংস্কার ভাবনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি বলেন, আমরা যেহেতু জনগণের ভোটাধিকার ও জনগণের মালিকানায় বিশ্বাস করি, সেহেতু নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়নে আমাদের সংস্কার ভাবনায় গুরুত্ব পেয়েছে। আমরা মনে করি নির্বাচনের নামে সংখ্যাগরিষ্ঠতার একাধিপত্য ও দুঃশাসন মানুষের ওপর চাপিয়ে দেয়া বা এর মাধ্যমে এক ব্যক্তি বা পরিবার বা কোনো গোষ্ঠীর কাছে সকল ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব আশঙ্কা রোধ করার জন্য নির্বাচনের সাথে সম্পর্কিত নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের কথা আমরা ভাবছি।
ড. ইউনূস বলেন, নির্বাচনব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রশাসন, বিচার প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন এই চারটি প্রতিষ্ঠানের সংস্কার করা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য। এসব প্রতিষ্ঠানের সংস্কার জনমালিকানা ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায়ও অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর পাশাপাশি করে সমাজের সকল স্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব ও স্বার্থ নিশ্চিত করার জন্য এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্তাকে প্রতিফলিত করার জন্য সাংবিধানিক সংস্কারের প্রয়োজন আমরা অনুভব করছি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে উল্লেখ করেন, এসব বিষয়ে সংস্কার করার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসাবে সরকার প্রাথমিকভাবে ছয়টি কমিশন গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব কমিশনের কাজ পরিচালনার জন্য বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে ছয়জন বিশিষ্ট নাগরিককেএই কমিশনগুলো পরিচালিনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর পর আরও বিভিন্ন বিষয়ে কমিশন গঠন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
এসব কমিশনের অন্য সদস্যদের নাম কমিশন প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে। কমিশনগুলোর আলোচনা ও পরামর্শসভায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ছাত্র, শ্রমিক, জনতা আন্দোলনের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
পূর্ণাঙ্গভাবে গঠিত হওয়ার পর কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাজ আগামী পহেলা অক্টোবর থেকে শুরু করতে পারবে বলে প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন এবং এটি পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে সরকার পরবর্তী পর্যায়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে পরামর্শসভার আয়োজন করবে।
চূড়ান্ত পর্যায়ে ছাত্র সমাজ, নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সরকারের প্রতিনিধি নিয়ে ব্যাপকভিত্তিক তিন থেকে সাত দিনব্যাপী একটি পরামর্শসভার ভিত্তিতে সংস্কার ভাবনার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে। এতে এই রূপরেখা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তার একটি ধারণাও দেওয়া হবে।
ড. ইউনূস বলেন, এই আয়োজন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্তা বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র পুনঃনির্মাণ তাগিদের ঐক্যবন্ধনে গোটা জাতিকে শক্তিশালী ও আশাবাদী করে তুলবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্বিতীয় বারের মতো জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন ড. ইউনূস। এর আগে ২৫ আগস্ট তিনি জাতির উদ্দেশে প্রথমবারের মত ভাষণ দেন।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। বিদ্যমান ২০০৫ সালের আইনটিকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত এই অধ্যাদেশটি গত ৩০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর আজ ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হলো। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তার মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন এই অধ্যাদেশের প্রধান লক্ষ্য হলো তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া এবং দেশে তামাক ব্যবহারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা। এর মাধ্যমে ই-সিগারেট, ভ্যাপ এবং হিটেড টোব্যাকোসহ সব ধরনের উদীয়মান তামাকজাত পণ্যকে বাংলাদেশে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
নতুন এই আইনে তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞাকে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে, যার ফলে ই-সিগারেট, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম, এবং নিকোটিন পাউচসহ সমসাময়িক সব পণ্য এখন থেকে তামাকের আওতায় পড়বে। সরকার চাইলে ভবিষ্যতে যেকোনো নতুন ক্ষতিকর পণ্যকে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করার ক্ষমতা রাখে। জনস্বার্থ রক্ষায় পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের পাশাপাশি সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিয়ম অমান্যকারীদের ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণও কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে; আগে যেখানে এই অপরাধের জরিমানা ছিল মাত্র ৩০০ টাকা, এখন তা বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি সর্বসাধারণের জন্য একটি ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তামাক পণ্যের প্রচারণা বন্ধে এই অধ্যাদেশে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এমনকি ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও তামাকজাত দ্রব্যের কোনো বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে না। বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকের প্যাকেট প্রদর্শন করা এবং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর কার্যক্রমের নামে তামাক কোম্পানির লোগো বা নাম ব্যবহার করাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তরুণ প্রজন্মকে এই নেশা থেকে দূরে রাখতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ এবং শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই সীমানার মধ্যে তামাক পণ্য বিক্রি করলে তাকে কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।
ই-সিগারেট ও আধুনিক তামাক পণ্যের বিস্তার রোধে এই অধ্যাদেশে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এসব পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ এবং বিক্রয়কে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে। এছাড়া কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ির উৎপাদন ও বিপণন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তামাকের সাথে যেকোনো ধরনের ক্ষতিকর বা আসক্তিমূলক রাসায়নিক মিশ্রণকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের ৭৫ শতাংশ জায়গা জুড়ে রঙিন ছবি ও স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা সংবলিত স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং এখন থেকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সরকার আশা করছে যে, এই অধ্যাদেশটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। আইন লঙ্ঘনের দায়ে কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স বাতিল এবং মালামাল জব্দ করার মতো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা এখন থেকে প্রশাসনের হাতে থাকবে। তামাকের মতো একটি মরণঘাতী উপাদানের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুস্থ ও তামাকমুক্ত সমাজ উপহার দিতে এই আইনটি একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশে ধূমপানের হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম মোবাইল ফোন আমদানিতে ট্যাক্স কমানোর বিষয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান যে, মোবাইল ফোন আমদানির ক্ষেত্রে আগে কাস্টমস ডিউটি ছিল ২৫ শতাংশ, যা বর্তমানে কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশে উৎপাদিত মোবাইল ফোনের ওপর আরোপিত ট্যাক্স ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। সরকারের এই ইতিবাচক পদক্ষেপের ফলে দেশের মোবাইল ফোন শিল্পে ব্যাপক গতিশীলতা আসবে এবং সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্মার্টফোন কেনা আরও সহজসাধ্য হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রেসসচিব শফিকুল আলম তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, দেশে বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত বা 'ইউজড' মোবাইল ফোন আনা হয় এবং সেগুলো কিছুটা মেরামত বা রিফারবিশড করে বাজারে বিক্রি করা হয়। এতে একদিকে যেমন সাধারণ ক্রেতারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, তেমনি সরকারও বড় অংকের রাজস্ব হারায়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশে কর হ্রাসের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এতে করে দেশে উৎপাদিত মোবাইল ফোনের চাহিদা বাড়বে এবং বাজারে মানসম্মত ফোনের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে বলে সরকার মনে করছে।
সংবাদ সম্মেলনে নতুন বছরের পাঠ্যপুস্তক বিতরণ নিয়েও হালনাগাদ তথ্য প্রদান করা হয়। প্রেসসচিব জানান যে, আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সকল শিক্ষার্থীর হাতে পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে এবং শিক্ষকদের পরামর্শ অনুযায়ী ইতিমধ্যে ১২৩টি বইয়ের ভুল সংশোধন করা হয়েছে। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান যে, ইতিমধ্যে মোট পাঠ্যপুস্তকের প্রায় ৮৩ শতাংশ বই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। সময়মতো বাকি বইগুলো পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগ শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন অ্যান্ড গোয়েন্দা-দক্ষিণ) বিপ্লব কুমার সরকার এবং তাঁর স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগমের নামে থাকা ২৮টি ব্যাংক হিসাব ও দুটি বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে করা একটি বিশেষ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আলমগীর এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, দুদকের সহকারী পরিচালক রাসেল রনি অভিযুক্তদের অবৈধ আয়ের উৎস আড়াল করার চেষ্টা এবং সম্পদ বেহাত হওয়ার আশঙ্কার বিষয়টি আদালতে গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন।
আবেদনে দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিপ্লব কুমার সরকার ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিতে থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে বর্তমানে গভীর অনুসন্ধান চলছে। সংস্থার দাবি, অভিযুক্তরা অবৈধভাবে অর্জিত আয়ের উৎস গোপন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন অপকৌশল অবলম্বন করছেন, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় একটি গুরুতর অপরাধ। তদন্ত চলাকালে দুদক লক্ষ্য করেছে যে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও বিও হিসাবগুলো থেকে অর্থ অন্যত্র স্থানান্তর বা হস্তান্তরের চেষ্টা করা হচ্ছে। যদি এই অর্থগুলো সরিয়ে ফেলা হয়, তবে পরবর্তীতে তা উদ্ধার করা রাষ্ট্রের জন্য দুরূহ হয়ে পড়বে বলে আদালতকে অবহিত করা হয়।
তদন্তের স্বার্থে এবং রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষায় এই অর্থ উত্তোলন অবিলম্বে অবরুদ্ধ করা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করেছেন আদালত। আদালতের এই আদেশের ফলে বিপ্লব কুমার ও তাঁর স্ত্রীর উল্লেখিত হিসাবগুলো থেকে এখন আর কোনো ধরনের লেনদেন করা সম্ভব হবে না। এর আগেও এই দম্পতির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ৯ ডিসেম্বর বিপ্লব কুমার সরকার, তাঁর স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম, ভাই প্রণয় কুমার সরকার এবং হোসনেয়ারার বোন শাহানারা বেগমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছিলেন একই আদালত। দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের এই তদন্তে পর্যায়ক্রমে আরও অনেকের সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের আকস্মিক ঢাকা সফরকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের সমীকরণ হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। উপদেষ্টা বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শ্রদ্ধা জানাতে জয়শঙ্করের এই সফরটি ছিল মূলত একটি আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার এবং মানবিক সৌজন্যের বহিঃপ্রকাশ। এটিকে বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার না করাই শ্রেয় বলে তিনি মনে করেন।
উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন উল্লেখ করেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা কেবল বাংলাদেশে নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় অত্যন্ত ইতিবাচক। দল-মত নির্বিশেষে সব স্তরের মানুষের মাঝে তাঁর যে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তা আন্তর্জাতিক মহলেও স্বীকৃত। এই জনপ্রিয়তার কারণেই প্রতিবেশী দেশের প্রতিনিধি হিসেবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে বাংলাদেশে এসেছিলেন। এটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত একটি সফর ছিল এবং এর পেছনে গভীর কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য খোঁজা উচিত হবে না বলে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান।
সফরের সময় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কোনো ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, তাঁদের মধ্যে কোনো ধরনের দ্বিপাক্ষিক বা রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা হয়নি। পুরো প্রক্রিয়াটি সবার সামনেই সম্পন্ন হয়েছে এবং সেখানে কেবল শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপনের বিষয়গুলোই প্রাধান্য পেয়েছে। দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্কের টানাপোড়েন এই সফরের মাধ্যমে কমবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর উত্তর ভবিষ্যতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যাবে। মূলত বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি আন্তর্জাতিক শ্রদ্ধা প্রদর্শনের বিষয়টিকে কোনো তাত্ত্বিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় অদ্য ৩০/১২/২০২৫ খ্রি. তারিখ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের আপসহীন নেত্রীর মৃত্যুতে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড/পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সকল কর্মকর্তা/কর্মচারী গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। তাঁর প্রয়াণ দেশের জন্য এক বড় ক্ষতি এবং তাঁর সহনশীলতা ও নিষ্ঠা চিরকাল দেশ ও জাতিকে অনুপ্রাণিত করবে।
বিএনপি’র চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণার কারণে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ১লা জানুয়ারি’র পরিবর্তে ৩ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, আগামী ৩ জানুয়ারি শনিবার থেকে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শুরু হতে যাচ্ছে।
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার নতুন নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী, বিআরটিসি শাটল বাস সার্ভিস আগামী শনিবার (৩ জানুয়ারি) থেকে শুরু হবে। ঢাকা ও ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকার বিভিন্ন রুট থেকে বিআরটিসি উক্ত শাটল বাস সার্ভিস মেলা সমাপনী দিন পর্যন্ত চলবে।
বাণিজ্য মেলায় যাতায়াতকারী যাত্রী সাধারণের যাত্রা কে সহজ করতে এবার অনলাইন ও অফলাইন দুইভাবেই টিকেট সংগ্রহ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট কাউন্টারের পাশাপাশি বিআরটিসি’র ওয়েবসাইট থেকেও অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। অনলাইন এ টিকেট প্রাপ্তির ঠিকানা: www.brtc.gov.bd
বিরতি স্থান (স্টপেজ): বাণিজ্য মেলার উদ্দেশ্যে কুড়িল, ফার্মগেট (খেজুরবাগান)/ খামারবাড়ী), চাষাড়া (নারায়ণগঞ্জ), নরসিংদী ও গাজীপুর (শিববাড়ি-ভোগড়া বাইপাস-মিরের বাজার এক্সপ্রেসওয়ে) থেকে প্রতিদিন সকাল ০৮.০০ টা হতে বিআরটিসি'র শাটল বাস চলাচল শুরু হবে। মেলা প্রাঙ্গণ থেকে সর্বশেষ ট্রিপ ছেড়ে আসবে রাত ১১.০০ টায়।
ভাড়া: কুড়িল থেকে মেলা প্রাঙ্গণ ৪০ টাকা, ফার্মগেট (খেজুরবাগান/খামারবাড়ী) থেকে মেলা প্রাঙ্গণ ৭০ টাকা, সাইনবোর্ড থেকে মেলা প্রাঙ্গণ ১০০ টাকা, চাষাড়া (নারায়ণগঞ্জ) থেকে মেলা প্রাঙ্গণ ১২০ টাকা, নরসিংদী থেকে মেলা প্রাঙ্গণ ১০০ টাকা এবং গাজীপুর থেকে (শিববাড়ি-ভোগড়া বাইপাস-মিরের বাজার এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে) মেলা প্রাঙ্গণ ৭৫ টাকা।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনে তাঁর এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয় যে, প্রধান উপদেষ্টা ডা. সায়েদুর রহমানকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় এই দায়িত্ব প্রদান করেছেন। এই নিয়োগের ফলে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে বিশেষ ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবেন এবং তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে কাজ করবেন।
প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, প্রধান উপদেষ্টা 'রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬'-এর ৩বি (১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমানকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থলাভিষিক্ত করেছেন। একই সঙ্গে রুলস অব বিজনেসের ৩বি (২) ধারা মোতাবেক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী ক্ষমতাও তাঁর ওপর অর্পণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক ও পরিচালনাগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরাসরি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। বিশেষ সহকারী পদে অধিষ্ঠিত থাকাকালে তিনি একজন প্রতিমন্ত্রীর সমান বেতন-ভাতা এবং যাবতীয় আনুষঙ্গিক রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্ত হবেন।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই প্রজ্ঞাপনটি জারি করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদ। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। ডা. সায়েদুর রহমানের এই নিয়োগকে স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও গতিশীলতা আনয়নের ক্ষেত্রে সরকারের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা, একজন দক্ষ চিকিৎসককে মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী ক্ষমতায় নিয়ে আসায় দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিদ্যমান সংকটগুলো নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ সহজতর হবে। মূলত চিকিৎসা সেবার উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে তাঁর প্রধান দায়িত্ব।
রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস তাদের বহর ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিমানের পরিচালনা পর্ষদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন এবং আর্থিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেই বোয়িংয়ের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। নতুন এই উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক রুটে বিমানের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি যাত্রীসেবার মান ও বাণিজ্যিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিমানের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, কেনার জন্য নির্ধারিত ১৪টি উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ মডেলের বিমান। এই ক্রয়ের প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর, যখন বোয়িং আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিক্রয় প্রস্তাব পাঠায়। পরবর্তীতে ২০ ডিসেম্বর তারা একটি সংশোধিত খসড়া চুক্তি পাঠালে তা পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়। বৈঠকে বর্তমান ও ভবিষ্যতের যাত্রী চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনা করে বোয়িংয়ের প্রস্তাবিত মূল্য ও শর্তাবলিতে নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিমানের অপারেশনাল কার্যক্রম যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি বহরে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটবে।
উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার আগে থেকেই বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছিল। যদিও এই বিশাল কার্যাদেশ পেতে ইউরোপীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস এবং তাদের পক্ষে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত কারিগরি ও বাণিজ্যিক দিক বিবেচনায় বোয়িংকেই বেছে নিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সরকারি সকল আনুষ্ঠানিকতা এবং অর্থায়নের বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার পর ধাপে ধাপে এসব উড়োজাহাজ বাংলাদেশে আসতে শুরু করবে। এই পদক্ষেপটি দেশের এভিয়েশন খাতে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বিশ্ব দরবারে বিমানের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আজ বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে দ্বিতীয় দিনের মতো রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচি আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। শোক পালনের অংশ হিসেবে আজ দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বেসরকারি ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। এছাড়া বিদেশের মাটিতে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনগুলোতেও একই গুরুত্বের সাথে শোক পালন করা হচ্ছে এবং জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বেগম খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করে এই গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর রুহের মাগফিরাত কামনায় আগামীকাল শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর দেশের সকল মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হবে। একই সাথে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতেও তাঁর আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি ফুসফুসের সংক্রমণসহ দীর্ঘদিনের বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এবং মৃত্যুর আগে টানা ৩৭ দিন হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সারা দেশে এক শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় জানাজা শেষে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে বেগম খালেদা জিয়াকে সমাহিত করা হয়। সেখানেও হাজারো মানুষের ঢল নেমেছিল এবং এক আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে তাঁকে শেষ বিদায় জানানো হয়। বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরাও এই শোকের সময় জাতীয় ঐক্য ও শ্রদ্ধার সাথে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছেন। বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন এবং দেশের জন্য তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেই তিন দিনের এই রাষ্ট্রীয় শোক পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সাধারণ মানুষ এবং দলীয় নেতাকর্মীরা সেখানে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন। এর আগে বুধবার বিকেলে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর স্বামীর কবরের পাশেই দাফন করা হয়। দাফন পরবর্তী কিছু জরুরি সংস্কার ও ব্যবস্থাপনা কাজের জন্য উদ্যানটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল, যা বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে পুনরায় খুলে দেওয়া হয়।
সকাল থেকেই প্রিয় নেত্রীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় ভিড় জমাতে শুরু করেন সর্বস্তরের মানুষ। উদ্যানের প্রবেশপথগুলো বন্ধ থাকায় অনেক নেতাকর্মী এবং সাধারণ সমর্থককে দীর্ঘক্ষণ বিজয় সরণি মোড়সহ আশপাশের ব্যারিকেডের সামনে অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়। সমাধিস্থলে সরাসরি প্রবেশ করতে না পেরে অনেককেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে মোনাজাত ও দোয়া করতে দেখা গেছে। বর্তমানে উদ্যানটি উন্মুক্ত করে দেওয়ার পর সেখানে মানুষের ঢল নেমেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও মোতায়েন রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ফুসফুসের সংক্রমণ, নিউমোনিয়া এবং কিডনিসহ নানা শারীরিক জটিলতায় দীর্ঘ দিন ভোগার পর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। বুধবার বিকেলে বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আবদুল মালেকের ইমামতিতে জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁকে জিয়া উদ্যানে সমাহিত করা হয়। এখন থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সাধারণ মানুষ এই দুই জাতীয় নেতার কবরে শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন।
দেশের অধস্তন আদালতের বিচারকদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার এবং পেশাগত আচরণের বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক বিশেষ অভিভাষণে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, আদালতের নির্ধারিত কর্মঘণ্টার মধ্যে ফেসবুকসহ কোনো ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। যদি কোনো বিচারক কর্মঘণ্টার মধ্যে এসব মাধ্যম ব্যবহার করেন এবং তার সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে সেদিনই সংশ্লিষ্ট বিচারকের বিচারিক জীবনের শেষ দিন হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। এই কঠোর বার্তার মাধ্যমে তিনি বিচার বিভাগে পূর্ণ শৃঙ্খলা এবং সময়ের সঠিক সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে প্রধান বিচারপতি বলেন যে, বিচার আসনে বসে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের অবশ্যই সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং এক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিচ্যুতি ঘটলে তাকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। পাশাপাশি বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি কমাতে তিনি প্রতিটি মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তি হওয়ার তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে রায় প্রদানের নির্দেশ দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, রায় দিতে দেরি করলে নতুন করে নথি পর্যালোচনা করতে হয়, যা সময়ের অপচয় ঘটায় এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আদালতের কর্মঘণ্টাকে পুরোপুরি বিচারিক কাজে ব্যয় করার জন্য তিনি সকল বিচারককে নির্দেশ প্রদান করেন।
আদালতের পরিবেশ রক্ষা এবং বহিরাগতমুক্ত রাখার বিষয়েও প্রধান বিচারপতি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জানান যে, আইনজীবী ও মামলার সংশ্লিষ্ট পক্ষ ছাড়া অন্য কারো এজলাস কক্ষে প্রবেশ করা উচিত নয়। আদালত প্রাঙ্গণে হকার বা অপ্রয়োজনীয় লোকজনের আনাগোনা বন্ধ করার পাশাপাশি আইনজীবীগণ যেন যথাযথ ড্রেসকোড মেনে চলেন সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। উল্লেখ্য যে, গত ২৩ ডিসেম্বর দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর এবং শপথ গ্রহণের পরপরই তিনি নিম্ন আদালতের বিচারকদের এই কঠোর ও দিকনির্দেশনামূলক বার্তা দিলেন। বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখাই তাঁর এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া অত্যন্ত মর্যাদা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পন্ন হওয়ায় দায়িত্বরত সকলকে বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি নিজের এবং পরিবারের পক্ষ থেকে এই ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, তাঁর মায়ের এই অন্তিম বিদায় ছিল একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যা সংশ্লিষ্ট সকলের গভীর যত্ন, দায়িত্ববোধ এবং পেশাদারিত্বের কারণে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
তারেক রহমান তাঁর বার্তায় বিশেষভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তারা কেবল শৃঙ্খলা বজায় রাখেননি বরং শোকময় পরিবেশে মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। এছাড়াও তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা থেকে শুরু করে পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, আনসার এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ধৈর্যের প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, কয়েক বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত লাখ লাখ মানুষের এই বিশাল জনসমুদ্রের মাঝে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে সবাইকে নিরাপদে শোক প্রকাশের সুযোগ করে দেওয়া ছিল এক অসাধারণ প্রশাসনিক সাফল্য।
পোস্টে তিনি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। বিশেষ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রচেষ্টায় বিদেশি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি খালেদা জিয়ার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্মানের বহিঃপ্রকাশ বলে তিনি মনে করেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীরা যেভাবে এই শোকাবহ অনুষ্ঠানের সংবাদ ও ছবি সারা বিশ্বে পৌঁছে দিয়েছেন, তাদের সেই নিষ্ঠার প্রতিও তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পরিশেষে, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের ব্যক্তিগত উপস্থিতি ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই সম্মিলিত শক্তির কারণেই তাঁর পরিবার ও পুরো জাতি মর্যাদার সঙ্গে দেশনেত্রীর স্মৃতিকে সম্মান জানাতে পেরেছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় ধরনের রদবদল ও অস্থিরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ডা. তাসনিম জারার পদত্যাগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং পলিসি ও রিসার্চ উইংয়ের প্রধান খালেদ সাইফুল্লাহ পদত্যাগ করেছেন। গত বুধবার তিনি দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বরাবর তার আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দেন। এনসিপির মিডিয়া সেল থেকে এই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। খালেদ সাইফুল্লাহ তার পদত্যাগপত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ না করলেও পদত্যাগের অনুলিপি দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেনকেও পাঠানো হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির সাম্প্রতিক নির্বাচনী আসন সমঝোতার সিদ্ধান্তের পরই দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে এই সরে দাঁড়ানোর প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
খালেদ সাইফুল্লাহর এই পদত্যাগ দলটির জন্য বড় একটি সাংগঠনিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ তিনি দলের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্বশীল ব্যক্তি ছিলেন। এর আগে ঢাকা-৯ আসনের মনোনীত প্রার্থী তাসনিম জারা দল ত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং খালেদ সাইফুল্লাহ শুরু থেকেই তার স্ত্রীর নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ এবং যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা খালেদ সাইফুল্লাহর মতো পেশাদার ব্যক্তির বিদায় নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এনসিপির রাজনৈতিক ও গবেষণামূলক কার্যক্রমে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে তিনি তার স্ত্রীর স্বতন্ত্র প্রার্থিতার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।