শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৮ ফাল্গুন ১৪৩২

আমরা যেন পরমুখাপেক্ষী না হই: অর্থ উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ২০:০৮

অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আমরা চেষ্টা করব নিজেরা নিজেদের অর্থের সংস্থান করতে। তবে লক্ষ করতে হবে আমরা যেন পরমুখাপেক্ষী না হই। পরমুখাপেক্ষী হওয়ার বিপদ অন্তর্বর্তী সরকার টের পাচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি খরচ ও অন্য ব্যয় নির্বাহে অর্থ প্রয়োজন।

শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাল্টিপারপাস হলে ‘অর্থ আইন, ২০২৪-এর মাধ্যমে প্রত্যক্ষ করের ক্ষেত্রে আনীত পরিবর্তন’ বিষয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন তিনি। আলোচনা সভাটির আয়োজন করে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (ট্যাকসেশন) অ্যাসোসিয়েশন।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা কমাবো না। আমাদের ঘাটতি বাজেট থাকে। বাজেটের বড় অংশ বাইরে থেকে ঋণ হিসেবে আনতে হয়। দিন দিন ঋণের বোঝা বাড়ছে। আমরা চেষ্টা করব নিজেরা নিজেদের অর্থের সংস্থান করতে। তবে এটা ঠিক যে নিজেদের অর্থে হবে না, বাইরে থেকেও অর্থ আনতে হবে। তবে লক্ষ করতে হবে আমরা যেন পরমুখাপেক্ষী না হই। এ সময় সরকার যেন কোনো অর্থের অপচয় না করে, সেদিকেও লক্ষ রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলেন, একটা কথা আছে- আপনার হাতটা যদি আমার পকেটে থাকে, আমি ডান দিকে গেলে আপনিও যাবেন। আমি বাঁয়ে গেলে আপনিও বায়ে যাবেন। সেটা কিন্তু হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করছি। দাতা সংস্থারা যেদিকে বলে যেতে, অবশ্য আমরা চেষ্টা করছি নিজেরা অ্যাসল্ট (প্রতিউত্তর) করতে। ডান দিকে যেতে বললে আমার যাওয়ার কথা বাঁদিকে, বাঁদিকে গেলে আমার যাওয়ার কথা ডান দিকে। সেটা অনেক সময় সম্ভব হয় না। আমরা চাই না তাদের ওপর নির্ভরশীল হতে।

প্রকল্পগুলো মাঠ পর্যায়ের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয় না। ফলে অর্থের অপচয় হয় জানিয়ে সরকারের এ উপদেষ্টা বলেন, যেটা দরকার তার ভিত্তিতে যেন প্রকল্প আসে।

এনবিআরের আইনকে ব্যবসাবান্ধব করার ঘোষণা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, ‘আমরা যথেষ্ট রাজস্ব আদায় করতে পারছি না। আমরা ঘাটতি বাজেট করছি। পরবর্তী প্রজন্মের ওপর বেশি বেশি ঋণের দায় চাপিয়ে দিচ্ছি। করদাতারা তাদের দেওয়া করের অপচয় দেখতে চায় না। প্রতি বছর বড় অঙ্কের টাকা আমরা কর ছাড় দেই। এটার বড় অংশ ঠিক করলে কর আদায় বাড়বে। আমরা সঠিকভাবে কর আইন প্রয়োগ করতে চাই।

সবাইকে অনলাইনে রিটার্ন দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আপনাদের পরিচিতদেরও অনলাইনে রিটার্ন দিতে আহ্বান করবেন। আমাদের আইনকানুন ব্যবসাবান্ধব করতে হবে। ২০১২ সালে আমরা মুসক আইন করেছি, অথচ ১২ বছরে তার ইংরেজি ভার্সন হয়নি। তাহলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রস্তুতি নিতে পারবেন কীভাবে?


বাংলাসহ বিশ্বের সব ভাষাভাষী মানুষ ও জাতিগোষ্ঠীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে বিশ্বের সব ভাষাভাষী মানুষ ও জাতিগোষ্ঠীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একুশের মূল চেতনা ছিল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনগণের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠা। এই চেতনাকে ধারণ করে দীর্ঘ লড়াই ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে আজ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বর্তমান সরকার তা সুসংহত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, ‘মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আমাদের মাতৃভাষা বাংলাসহ বিশ্বের সব ভাষাভাষী মানুষ ও জাতিগোষ্ঠীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আজকের এই দিনে, আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সকল শহীদকে, যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা।’

প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ‘১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে শহীদ হন আবুল বরকত, আবদুস সালাম, রফিকউদ্দিন আহমদ, আব্দুল জব্বারসহ আরও অনেকে। তাদের আত্মদানের মধ্য দিয়ে রচিত হয় পূর্ব বাংলার মুক্তির প্রথম সোপান। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার এই আন্দোলন শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠাই করেনি, বরং বাঙালির স্বাধিকার, গণতন্ত্র ও সাংস্কৃতিক চেতনার ভিত্তিকে আরও মজবুত করেছে।’

তিনি বলেন, ইউনেসকো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। একুশের চেতনা আজ বিশ্বজুড়ে সব ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও সুরক্ষার আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আমরা ভাষা শহীদ এবং স্বাধীনতা অর্জন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সকল শহীদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ, মানবিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চাই।’ তিনি দেশব্যাপী ভাষা বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা এবং বাংলা ভাষার সঠিক ব্যবহার ও চর্চা নিশ্চিত করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শহীদদের মাগফিরাত কামনা করেন এবং গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।


একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: কোলাজ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার দুপুরে বিএনপির মিডিয়া সেল এ তথ্য জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টায় তিনি শহীদ মিনারে উপস্থিত হবেন এবং সে সময় তাঁর সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দও শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশ নেবেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানান, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ। এছাড়া বিদেশি কূটনীতিকরাও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর শহীদ মিনার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

শহীদ মিনার পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য পলাশীর মোড়-জগন্নাথ হল ক্রসিং-শহীদ মিনার রুট অনুসরণ করতে হবে। অন্য কোনো রাস্তা ব্যবহার করে শহীদ মিনারে প্রবেশ করা যাবে না। শ্রদ্ধা শেষে শহীদ মিনার থেকে রোমানা ক্রসিং হয়ে দোয়েল চত্বর অথবা চাঁনখারপুল হয়ে স্থান ত্যাগ করা যাবে। কেউ কোনো ধরনের ধারালো বস্তু, দাহ্য পদার্থ বা বিস্ফোরক দ্রব্য সঙ্গে আনবেন না।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কিছু প্রবেশপথে ডাইভারশন চালু থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বসবাসকারী শিক্ষক, ছাত্র, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ট্রাফিক নির্দেশনা অনুসরণ করে সহযোগিতা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।


তারেক রহমানের সঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টায় বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে টেলিফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

ফোনালাপে দুই নেতা বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এসময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমকে ধন্যবাদ জানান এবং দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


দাবি আদায়ের নামে বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না: র‍্যাব ডিজি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্দোলন বা দাবি আদায়ের নামে নাশকতা কিংবা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না বলে সতর্ক করেছেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমান।

শহিদুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন নিশ্চিত করতে র‍্যাব সতর্ক অবস্থানে থাকবে। গত দেড় বছরে ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে স্থিতিশীলতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করেছে। ভবিষ্যতেও পরিস্থিতির উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে। আন্দোলনের নামে নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে র‍্যাব আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘিরে র‍্যাব বিশেষ নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েছে জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। রাত ১২টা ১ মিনিটে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে এবং তা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

র‍্যাবের এই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শহীদ মিনার এলাকায় ইনার ও আউটার পেরিমিটারভিত্তিক নিরাপত্তা বলয় গঠন করা হয়েছে। পুরো এলাকা কয়েকটি সেক্টরে ভাগ করে ফুট পেট্রল, গাড়ি টহল ও স্ট্রাইকিং রিজার্ভ মোতায়েন থাকবে। বম্ব ডিসপোজাল টিম ও ডগ স্কোয়াড স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে।

মহাপরিচালক বলেন, নিরাপত্তাজনিত কোনো নির্দিষ্ট হুমকি নেই। তবে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

দেশব্যাপী কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সারা দেশে বিভিন্ন আয়োজন হবে। এসব কর্মসূচি নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।


ভারতের স্পাইসজেটের জন্য বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

দীর্ঘদিনের বকেয়া পরিশোধ না করায় ভারতের বেসরকারি বিমান সংস্থা স্পাইসজেটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। ফলে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে সংস্থাটি বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারছে না।

নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ইতোমধ্যে বিভিন্ন রুটে পড়েছে। একাধিক ফ্লাইট এখন বিকল্প করিডোর ব্যবহার করায় দূরত্ব ও সময় বেড়েছে, সঙ্গে বেড়েছে জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয়।

বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশের আকাশপথ ব্যবহারের বিপরীতে স্পাইসজেটের কাছে বড় অঙ্কের ‘ওভারফ্লাইট চার্জ’ বকেয়া রয়েছে। একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হলেও পাওনা পরিশোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংস্থাটি।

দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কলকাতা থেকে গুয়াহাটি ও ইম্ফলগামী স্পাইসজেটের ফ্লাইটগুলো এখন বাংলাদেশের আকাশসীমা এড়িয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে চলছে।

সাধারণত উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে যেতে বাংলাদেশের আকাশপথ ব্যবহার করলে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় হয়। তবে বর্তমান নিষেধাজ্ঞায় প্রতিটি ফ্লাইটে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে এবং খরচও বেড়েছে।

ইতোমধ্যে আর্থিক সংকটে থাকা স্পাইসজেটের জন্য এটি নতুন চাপ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। গত বছরের ডিসেম্বর প্রান্তিকের হিসাবে সংস্থাটি ২৬৯ কোটি রুপির বেশি লোকসান করেছে। অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় তাদের আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা।

বকেয়া পরিশোধ করে পুনরায় অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রুটে স্বাভাবিক ফ্লাইট পরিচালনা সংস্থাটির জন্য কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।


সংসদের প্রথম অধিবেশন ২৬ ফেব্রুয়ারি

জাতীয় সংসদ। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি রমজানের মধ্যে জাতীয় সংসদ ভবনে বসতে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম অধিবেশন। সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী এ কথা জানা গেছে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের ২ নম্বর উপধারা অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হবে। অধিবেশন আহ্বান করবেন রাষ্ট্রপতি, তবে প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শের ভিত্তিতেই তা করা হয়। প্রথম বৈঠকের তারিখ ও সময় রাষ্ট্রপতির আদেশেই নির্ধারিত হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ফল সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি। সেই হিসাবে আগামী ১৬ মার্চের মধ্যেই নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন বসা বাধ্যতামূলক। তবে সংসদ সচিবালয়ের তথ্য বলছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই ২৬ ফেব্রুয়ারি অধিবেশন ডাকার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে বিগত ১২টি জাতীয় সংসদের মধ্যে মাত্র তিনটির প্রথম অধিবেশন রমজান মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।


এনআইডি আবেদন নিয়ে জরুরি ৩ নির্দেশনা দিলো ইসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) জারির মাধ্যমে জন্ম তারিখসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনের সব আবেদন এখন আর মাঠ পর্যায়ে নয়, সরাসরি এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ে নিষ্পত্তি করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) সহকারী পরিচালক মুহা. সরওয়ার হোসেনের সই করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ায় সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এ নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নাগরিক সেবা সচল রাখা এবং জমে থাকা আবেদন দ্রুত শেষ করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য বলে ইসি জানিয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আবেদনগুলো ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করা হবে এবং সেগুলো এনআইডি মহাপরিচালকের অধীনে ন্যস্ত থাকবে। ফলে এসব আবেদন এখন থেকে মহাপরিচালক পর্যায়েই চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হবে।
জরুরি তিন নির্দেশনা
১. জন্ম তারিখ সংক্রান্ত যেসব আবেদন আগে ‘ক-১’ থেকে ‘গ’ ক্যাটাগরিতে ছিল, সেগুলোর তালিকা তৈরি করে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাতে হবে।
২. প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী, অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব আবেদনের ক্যাটাগরি পরিবর্তন করে ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করবেন।
৩. ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে সংশোধন কার্যক্রম সীমিত থাকায় বর্তমানে জমে থাকা অনিষ্পন্ন আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।


ঈদের আগেই মিলবে ফ্যামিলি কার্ড, হবে সর্বজনীন

* পাওয়া যাবে নগদ টাকা, অগ্রাধিকার পাবেন হতদরিদ্র ও নারীরা * বাস্তবায়নে মন্ত্রিসভা কমিটি, ৮ উপজেলায় পাইলটিং
সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির বহুল আলোচিত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ঈদের আগেই বিতরণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে সচিবালয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এই বৈঠক হয়। বৈঠকে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বন ও পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর-রশীদ ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কথা বলেন।

এদিকে, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের আর্থিক সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এক প্রজ্ঞাপনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, ২ মন্ত্রী ও ২ প্রতিমন্ত্রীসহ ১৫ সদস্যের 'ফ্যামিলি কার্ড প্রদান সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি' গঠন করা হয়েছে।

দেশের ৮ বিভাগের ৮ উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের পাইলটিংয়ের লক্ষ্য করা হয়েছে। তবে কোন উপজেলায় পাইলটিং হবে তা এখনো নির্ধারণ হয়নি।

প্রথম দিকে প্রান্তিক ও নিম্ন-আয়ের পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।

অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সচিবদের সমন্বয়ে এ কমিটি করা হয়েছে। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিল করতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।

কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন—মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী। এছাড়া আছেন, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, মাহদী আমিন, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ ৭টি মন্ত্রণালয়ের সচিব।

কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে—‘ফ্যামিলি কার্ড’ ব্যবস্থাপনার একটি উপযুক্ত ডিজাইন প্রণয়ন এবং সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি চূড়ান্ত করা, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের প্রতিটিতে একটি করে উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রবর্তনের ব্যবস্থা গ্রহণ, নারীদের জন্য বিদ্যমান অন্য কোনো কার্ডকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, তা পর্যালোচনা, সুবিধাভোগীদের ডাটাবেজ প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডাটাবেজের আওতায় প্রয়োজনীয় ডিজিটাল এমআইএস প্রস্তুত করা।

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন জানান, প্রাথমিকভাবে পাঁচ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘মন্ত্রিসভার বৈঠকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড দেশের মায়েদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। কাজটি বাস্তবায়নের জন্য অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি ছোট মন্ত্রিসভা উপকমিটি হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এই কমিটিতে রয়েছে। ঈদের আগে এটা বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে।’

আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন আরও বলেন, ‘এই কার্ড হবে সর্বজনীন। কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক পরিচয় এখানে বিবেচ্য হবে না। কোনো ভায়া না হয়ে সরাসরি কীভাবে উপকার ভোগীর হাতে টাকা পৌঁছানো যায়, সে বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হবে। এখন যেসব কার্ড প্রচলিত আছে, সেগুলো চলমান থাকবে। এখন যা পাচ্ছে, প্রতি কার্ডে তার চেয়ে দ্বিগুণের বেশি টাকা পাবে।’

আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ রয়েছে। কীভাবে এটি কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে আজ আলোচনা হয়েছে এবং কার্ড দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।

কতো পরিবার এ সুবিধা পাবে—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, এটি মূলত সার্বজনীন উদ্যোগ হিসেবে ভাবা হচ্ছে। কোনো কঠোর বিধিনিষেধ থাকছে না। এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রথমে যারা হতদরিদ্র, এরপর পর্যায়ক্রমে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে এই সুবিধার আওতায় আসবে।

এই রমজানেই কি কার্যক্রম শুরু হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ঈদের আগেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি চালু করা হবে। প্রধানমন্ত্রী চান, অন্তত পরীক্ষামূলকভাবে হলেও রমজানেই এর সূচনা হোক।

পরিবেশমন্ত্রী মিন্টু বলেন, এটি তো চালু হবেই, এটা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। আমরা এখন কেবল মেকানিজম ঠিক করছি—কীভাবে দ্রুত ও কার্যকরভাবে শুরু করা যায়।

কৃষিমিন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড হিসেবে নগদ টাকা দেওয়া হবে। ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে হতদরিদ্র এবং নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।


অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে বড় সিদ্ধান্তে নাজুক অর্থনীতি 

* এক লাখ সাত হাজার ৯৯৩ কোটি প্রকল্পের ৪০টিই নতুন * ঋণ ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি, পরিশোধের চাপ বাড়বে * নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে অতিরিক্ত খরচের শঙ্কা এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা * বোয়িংয়ের ১৪টি বিমান ক্রয় চুক্তি, সুফল আসছে না সরকারের সময়ে * বিশেষজ্ঞদের মতে- সরকারের শেষ আয়ুর সময়ে অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হয়নি
আপডেটেড ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০০:২২
ইমামুল ইসলাম

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে নেওয়া বড় সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলেছে। ফলে নতুন সরকারকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এগুতে হবে ভেবে-চিন্তে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন নতুন সরকারকে হয় নতুন করে টাকা ছাপাতে হবে, নয়তো বড় অঙ্কের ঋণ নিতে হবে, যা অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

সূত্র বলছে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ছিল শুধু রুটিন কাজ ও নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা। কিন্তু ২৫ দিনে (১ ডিসেম্বর থেকে ২৫ জানুয়ারি) তড়িঘড়ি করে এক লাখ ছয় হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ের ৬৪টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭৯ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকার ৪০টি প্রকল্পই সম্পূর্ণ নতুন। দেড় বছর মেয়াদে এই সরকার ১৩৫টি নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লাখ তিন হাজার কোটি টাকা।

এদিকে, রাজস্ব ঘাটতি মোকাবিলায় বাজেট সহায়তা এবং বড় প্রকল্পগুলোতে অর্থছাড় বাড়াতে গিয়ে পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের মতোই বিদেশি ঋণের পথে হেঁটেছে অন্তর্বর্তী সরকার, ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে সরকারি খাতে বৈদেশিক ঋণের দায় দাঁড়িয়েছে ৭৭ বিলিয়ন ডলারে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হিসাব মতে, মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে এই ঋণের বোঝা প্রায় ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে আইএমএফ ও সরকারের গ্যারান্টি দেওয়া ঋণ অন্তর্ভুক্ত করলে প্রকৃত দায়ের পরিমাণ আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের চাপ ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

এছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় আর্থিক দায় রেখে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হতে পারে প্রস্তাবিত নবম পে স্কেল। এই বেতন স্কেল বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বছরে অতিরিক্ত এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যচুক্তির অংশ হিসেবে বোয়িং থেকে নতুন ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে গত অন্তর্বর্তী সরকার। তবে আপাতত বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে।

বিমান ও সরকারি উচ্চপদস্থ সূত্রগুলো জানায়, উড়োজাহাজবহর আধুনিকীকরণ জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় হলেও ভোটের ঠিক আগে এমন তাড়াহুড়া ও জবাবদিহির অভাব নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। উড়োজাহাজগুলো সরবরাহ শুরু হবে ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে। অর্থাৎ বর্তমান সরকারের সময়ে এর কোনো সুফল পাওয়া যাবে না।

অন্তর্বর্তী সরকার চীন থেকে চারটি নতুন জাহাজ কেনার ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি সই করেছে। নৌসদর দপ্তরে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে একটি ‘অফ দ্য শেলফ’ হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

ঢাকার চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, চারটি জাহাজের মধ্যে দুটি ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাংকার এবং দুটি মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার। এর মোট ব্যয় ২৪ কোটি ১৯ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। এর মধ্যে দুটি ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাংকারের জন্য ব্যয় হবে ১৫ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। আর দুটি মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার কেনায় ব্যয় হবে আট কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার।

সাবেক একজন অর্থসচিবের মতে, মেয়াদের শেষ সপ্তাহে এসে এক লাখ কোটি টাকার বেশি আর্থিক দায় তৈরি করা প্রশাসনিক শিষ্টাচারবহিভর্ভূত। বিশেষ করে পে স্কেল বা মেগাবিমান ক্রয়ের মতো বিষয়গুলো নির্বাচিত সরকারের ম্যান্ডেট হওয়া উচিত ছিল। এখন পরবর্তী সরকারকে হয়তো শুরুতেই বড় ধরনের বাজেট ঘাটতি ও আইএমএফের কঠিন শর্তের মুখে পড়তে হবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, যে চুক্তিগুলো জরুরি নয় এবং দীর্ঘমেয়াদি, সেগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের এড়িয়ে যাওয়া উচিত ছিল। বড় কোনো অর্থনৈতিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও প্রয়োজনীয় আলোচনা করা হয়নি। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারত।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে. মুজেরি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আয়ু মাত্র কয়েক দিন ছিল, শেষ সময়ে বড় বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিল অযৌক্তিক। নির্বাচন-পরবর্তী সরকার অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সংকুচিত করেছে গত অন্তর্বর্তী সরকার।

তিনি আরো বলেছেন, গত অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনীতিতে সফলতা নেই বললেই চলে। তাদের নেওয়া অর্থনৈতিক নীতিগুলোর একটি সাধারণ ধরন, ভুল সময়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া।

অন্তর্বর্তী সরকার আগের চেয়ে ঋণ পরিস্থিতি আরও বেশি নাজুক করে রেখে গেছে বলে মন্তব্য করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার ঋণ পরিস্থিতি যেভাবে পেয়েছিল, তার চেয়েও তা আরও নাজুক অবস্থায় রেখে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকার বন্দরসহ যে সব বৈদেশিক চুক্তি করেছে তা পুনর্বিবেচনা করা দরকার। নতুন সরকারের টাকা ছাপানোর চিন্তা স্বপ্নেও করা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।


নতুন সরকারের সামনে পাঁচ বড় চ্যালেঞ্জ

* বাজার নিয়ন্ত্রণ, আইএমএফের শর্ত মোকাবিলা, ঋণের বোঝা কমানো এবং কর ও ব্যাংক সংস্কার
ফাইল ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

রোজার প্রথমদিনেই বাজার চড়া। এই সময় নিত্যপণ্যের চাহিদা বাড়ে, সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে দামও। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান থেকেও স্বস্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাজার নিয়ন্ত্রণ, আইএমএফের শর্ত মোকাবিলা, ঋণের বোঝা কমানো এবং কর ও ব্যাংক সংস্কার—এই পাঁচ চাপ সামলে সামনে এগিয়ে যাওয়াই নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সাফল্য পেতে হলে শুধু সঠিক নীতিই নয়, প্রয়োজন রাজনৈতিক দৃঢ়তা। সরকার যদি এই চাপ সামলাতে পারে, তবেই ভিত্তি মজবুত হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে, যা মূল্যস্ফীতি কমার সব পূর্বাভাস ভুল প্রমাণ করেছে। আরও উদ্বেগের বিষয়, খাদ্য মূল্যস্ফীতি গত ডিসেম্বরের ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে বেড়ে জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি অর্থমন্ত্রীকে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর জনআস্থা ওঠানামা করে মূলত খাদ্যপণ্যের দামের ওপর নির্ভর করেই। ফলে নতুন সরকারের সামনে দীর্ঘ অগ্রাধিকারের তালিকা—রাজস্ব সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের সঙ্গে দর-কষাকষি। তবে তার সামনে এখন সবচেয়ে বড় এবং রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর চ্যালেঞ্জ—মূল্যস্ফীতি। কারণ, কোটি কোটি পরিবারের কাছে নতুন সরকারের সাফল্যের মাপকাঠি একটাই—খাদ্যপণ্যের দাম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনা করে অযৌক্তিক দাম বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের কাছে কঠোর বার্তা পৌঁছাতে হবে। এ জন্য অর্থ, বাণিজ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অতীতে সরকারগুলো এখানেই হোঁচট খেয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকারের রাজনৈতিক ‘হানিমুন পিরিয়ড’ ছয় মাসের বেশি স্থায়ী নাও হতে পারে। এরপরই মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙতে শুরু করবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার এমন এক অর্থনীতির দায়িত্ব নিয়েছে, যা ভঙ্গুর এবং এখনো বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ আইএমএফের ঋণ কর্মসূচিতে প্রবেশ করে। এরপর থেকে আইএমএফের সঙ্গে সম্পর্ক নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গেছে।

আগের অন্তর্বর্তী সরকার আশা করেছিল, আন্তর্জাতিক সদিচ্ছায় হয়তো ঋণ আলোচনা সহজ হবে। কিন্তু ঋণদাতারা তাদের শর্তে অনড় ছিল। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় কিস্তি আটকে গিয়েছিল, আবার কঠোর শর্ত মানার পর তা ছাড় হয়েছে।

আগামী মাসে আইএমএফের আরেকটি মিশন ঢাকায় আসছে। সেখানে রাজনৈতিক কোনো অজুহাত টিকবে না। আইএমএফ মূলত রাজস্ব আদায়ে শৃঙ্খলা, মুদ্রানীতির সংকোচন এবং আর্থিক খাতের সংস্কারের অগ্রগতির ওপর জোর দেবে। আইএমএফের সমর্থন শুধু অর্থের জন্য নয়, অন্য দাতা সংস্থাগুলোর আস্থা অর্জনের জন্যও জরুরি।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অর্থমন্ত্রীকে প্রথমেই সম্পদের সঠিক হিসাব-নিকাশ করতে হবে। আইএমএফ সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বা সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিচ্ছে। সরকারের জন্য এভাবে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন এক চ্যালেঞ্জ। সরকার কি কঠোর নীতি বজায় রেখে দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করবে, নাকি প্রবৃদ্ধির সুযোগ বাড়াতে শর্ত শিথিলের জন্য দর-কষাকষি করবে?

রিজার্ভ স্থিতিশীল থাকলেও তা স্বস্তির কোনো কারণ নয়। বর্তমান রিজার্ভের স্থিতিশীলতা মূলত অর্থনীতির শ্লথগতির ফল। বিনিয়োগ কমেছে, আমদানি কমেছে এবং ব্যাংকিং খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ঐতিহাসিকভাবে নিচে নেমেছে। ব্যবসায়ীরা এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সরকার যদি প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারে সফল হয়, তবে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা আবারও বাড়বে এবং রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। অতীতে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ দ্রুত কমে যাওয়ার নজির রয়েছে।

রাজস্ব পরিস্থিতিও বেশ চ্যালেঞ্জিং। বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব বাজেটের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করবে। বেতন বাড়াতে হলে বছরে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে, যা দেশের পুরো স্বাস্থ্য বাজেটের আড়াই গুণের সমান। মোস্তাফিজুর রহমান সতর্ক করে বলেন, রাজস্ব আয় না বাড়িয়ে আবেগের বশবর্তী হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।

২০২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তুতি এখনই শুরু করতে হবে। প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশ রাজস্ব উদ্বৃত্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে, ফলে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারকে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। পরিচালন ব্যয় যদি অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে, তবে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যখন বিনিয়োগ নয়, বরং দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতেই সরকারকে ঋণ করতে হবে।

সরকারি ঋণের বোঝা দ্রুত বাড়ছে। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে মোট সরকারি ঋণ প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ২১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ঋণের উৎসেও পরিবর্তন এসেছে। সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়া কমেছে, কিন্তু ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ২০২২ সাল থেকে ব্যাংক খাতের ঋণ ৮৫ শতাংশ বেড়েছে। ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে তারল্য তুলে নেওয়ায় সরকার বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ সংকুচিত করে ফেলছে।

প্রবৃদ্ধি ঠিক রেখে সরকারি অর্থের জোগান দিতে হলে সরকারকে কর আদায় বাড়াতে হবে। অর্থনীতিবিদেরা প্রায়ই ভ্যাট আদায়ে বড় ধরনের লিকেজ বা ফাঁকির কথা বলেন। কর প্রশাসন শক্তিশালী করা, ফাঁকি কমানো এবং আদায় ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করলে করহার না বাড়িয়েও রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব।

অবশ্য কাঠামোগত সংস্কারের কথা বলা সহজ, কিন্তু বাস্তবায়ন কঠিন। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন দেওয়া এবং এনবিআরকে ঢেলে সাজানোর কথা দীর্ঘদিন ধরে বলা হলেও বাস্তবায়নে গতি কম।

এদিকে ব্যাংকিং খাতেও গভীর সংস্কার প্রয়োজন। ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন, বিশেষ করে ব্যাংক পর্ষদে পারিবারিক প্রতিনিধিত্বের নিয়ম পরিবর্তন করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। আর্থিক খাতের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি, যাতে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হন।

অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির বাইরে ভূ-রাজনীতির একটি সময়সীমাও ঘনিয়ে আসছে। নভেম্বরে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ হওয়ার কথা। এটি অগ্রগতির মাইলফলক হলেও এর সঙ্গে কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। এলডিসি থেকে বের হয়ে গেলে বাণিজ্য সুবিধা কমবে, যা রপ্তানিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ অন্তত তিন বছর পেছানোর চেষ্টা করবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছানো বিএনপির নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।


রং-তুলির ছোঁয়ায় প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আবারও ফিরে আসছে রক্তঝরা একুশে ফেব্রুয়ারি। অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এখন সাজ-সাজ রব। ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পী ও কর্মীরা। মূল বেদী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা থেকে শুরু করে আলপনা আঁকা– সব মিলিয়ে এক কর্মমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়।

শুক্রবার রাত থেকেই ফুল হাতে জনতার ঢল নামবে শহীদ মিনারে। মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হবেন মাতৃভাষার জন্য প্রাণ উৎসর্গকারী শহীদরা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে শহীদ মিনার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেদীর আলপনার কাজ চলছে পুরোদমে। মূল চত্বরের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও রাস্তার আলপনার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা।

শহীদ মিনার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ধুলোবালি পরিষ্কার করে মূল মিনার ও বেদীকে ধুয়ে নতুন রূপ দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে মিনারের বেশ কিছু অংশে সাদা রঙের প্রলেপ পড়েছে। এ কাজে নিয়োজিত কর্মীরা জানান, মিনারের মূল কাঠামোর কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। রং করার কাজ শেষ হলেই মিনারের পেছনে প্রতীকী লাল সূর্যটি স্থাপন করা হবে।

প্রস্তুতির বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী মেহেরুন্নেসা ইতি বলেন, ‘আমরা চারুকলা অনুষদের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে লাইন টানার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন আজ এবং আগামীকাল রং করার কাজ চলবে। আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করছি যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুরো আয়োজনটি সুন্দরভাবে শেষ করা যায়।’

একই অনুষদের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বিবেক কুমার বলেন, ‘আমরা সবাই অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। চারুকলা অনুষদের শিক্ষকরা এবং শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছেন। আশা করছি আগামীকালের মধ্যেই আমাদের সম্পূর্ণ প্রস্তুতি শেষ হবে এবং সবকিছু যথাসময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।’

কেবল মূল মিনারই নয়, আশপাশের দেওয়ালে বর্ণমালা লিখন এবং ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সংবলিত গ্রাফিতি তৈরির প্রস্তুতিও চলছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম তৈরির কাজও চলমান রয়েছে।


খাল খনন বিষয়ে সিদ্ধান্ত এক সপ্তাহের মধ্যে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চারটা মন্ত্রণালয় একসঙ্গে বসে আলোচনা করে খাল খনন কর্মসূচির বিষয়ে পরবর্তী সপ্তাহে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং জাতীয় পর্যায়ে নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচিবিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ওনার জীবদ্দশায় এ কর্মসূচি নিয়ে বাংলাদেশে একটি মহাবিপ্লবে পরিণত করেছিলেন। তো দীর্ঘদিন থেকে আমরা দেশবাসী ভুক্তভোগী যে খাল খননও নেই এবং এই যে পানি জলাবদ্ধতা অথবা জলাশয়ে কোনো পানি নেই, সেচের ব্যবস্থা নেই—সবকিছু থেকে দেশবাসী আমরা বঞ্চিত।’

তিনি বলেন, ‘এবার নির্বাচনী ইশতেহারে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগ থেকেই বারবার এই কথাটা উল্লেখ করেছেন এবং খাল খনন প্রক্রিয়াটাকে পুনঃখনের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে নিয়ে আসবেন, আমরা যেন দেশের মানুষ সুবিধাটা পাই।’

শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘আজকে আমরা মিটিং করেছি। সিদ্ধান্ত হয়েছে চারটা মন্ত্রণালয় আমরা বসে—বিশেষ করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়সহ আমরা এই চারটা মন্ত্রণালয় বসবো। আলোচনা করবো এবং পরবর্তী সপ্তাহে সিদ্ধান্ত হবে।’

তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা কীভাবে খাল খননের এই কর্মসূচি এবং বিপ্লব আকারে নিয়ে এটাকে সাকসেস করতে পারি, সেই সিদ্ধান্তে আমরা পৌঁছাব। আমাদের কার্যক্রম ১৮০ দিন যেটা, সেই কার্যক্রম আমাদের শুরু হবে।’

১৮০ দিনের মধ্যে কি এটা শুরু হবে- এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শুরু করবো এবং ম্যাক্সিমামটা করার চেষ্টা করব ১৮০ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান করার। শুরু হবে খুব শিগগিরই। এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা সিদ্ধান্ত নেব কবে থেকে শুরু হবে।’


জানুয়ারিতে সড়কে ঝরল ৪৮৭ প্রাণ, আহত ১১৯৪

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জানুয়ারিতে দেশে ৫৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮৭ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৯৪ জন আহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৮ জন নারী ও ৫৭ শিশু রয়েছে। এ ছাড়া ২০৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৯৬ জন নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতের ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ। মোট দুর্ঘটনার ৩৭ দশমিক ২০ শতাংশই মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট। তাছাড়া ১৩২ জন পথচারী নিহত হয়েছে, যা মোট মৃত্যুর ২৭ দশমিক ১০ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৭ জন, অর্থাৎ ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রোড সেফটি ফাউন্ডেশন প্রকাশিত মাসিক দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যানবাহনভিত্তিক নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বাসযাত্রী ২১ জন, ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর আরোহী ২৮, প্রাইভেট কার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ আরোহী ৯, থ্রি-হুইলার যাত্রী ৭৭ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ১৩ এবং বাইসাইকেল আরোহী ১১ জন রয়েছে।

দুর্ঘটনায় ৮৮৫টি যানবাহন সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে ২১৭টি মোটরসাইকেল, ১৬৪টি থ্রি-হুইলার, ১৪৪টি ট্রাক, ১০৮টি বাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন রয়েছে।

সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৫৬টি দুর্ঘটনা জাতীয় মহাসড়কে, ২০৭টি আঞ্চলিক সড়কে, ৮৫টি গ্রামীণ সড়কে, ১০৩টি শহরের সড়কে এবং ৮টি অন্যান্য স্থানে ঘটেছে। দুর্ঘটনার ধরনে ২০৯টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১৩৫টি মুখোমুখি সংঘর্ষে, ১৩৭টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দিয়ে, ৭২টি পেছন থেকে আঘাতে এবং ৬টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সকালে ২৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে, রাতে ২৩ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং দুপুরে ১৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ২৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ২৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ প্রাণহানি ঘটেছে। এই বিভাগে ১৪৩টি দুর্ঘটনায় ১১৯ জন নিহত হয়েছে। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৪টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় ২৬টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও ৪১ জন আহত হয়েছে।


banner close