শ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতা না কাটলে আজ রোববার থেকে কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের হুমকি দিয়েছিল কারখানা মালিকরা। তবে কারখানায় অস্থিরতা তৈরি হলে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সব কারখানা খোলা রাখতে বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিকে বিপদে ফেলতে কেউ যদি কারখানা বন্ধ রাখার অপচেষ্টা করেন, সেটা মনে রাখা হবে।’ এমন আশ্বাস পেয়ে কারখানা মালিকরা শর্ত সাপেক্ষ আজ থেকে সব কারখানা খোলা রাখতে রাজি হয়েছেন। তবে, কোনো কারখানায় অস্থিরতা তৈরি হলে আগামীকাল সোমবার থেকে সেই কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেন তারা।
গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় শিল্প উপদেষ্টার এই আশ্বাস ও কারখানা মালিকদের পক্ষ থেকে নতুন ঘোষণা দেওয়া হয়। তৈরি পোশাক কারখানায় চলমান সংকট ও উত্তরণের পথ নিয়ে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বিজিএমইএ। এতে উপস্থিত ছিলেন শ্রম উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. মঈন খান ও বিজিএমইএ সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
মতবিনিময়ের শুরুতে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘অস্থিরতা না কাটলে আগামীকাল (আজ) থেকে তারা কারখানা বন্ধ রাখবেন।’ বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনও (বিকেএমইএ) বিজিএমইএর এই সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানায়।
পরে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সব কারখানা খোলা রাখতে মালিকদের নির্দেশনা দিয়ে শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, ‘তৈরি পোশাক খাতে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে সরকার কমিটি করেছে। এই কমিটির মাধ্যমে সবার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘ব্যবসা যেমন চালাতে হবে, শ্রমিকদের অধিকারও রক্ষা করতে হবে। এটার সমন্বয়ের জন্যই আমরা সবাই এখানে উপস্থিত হয়েছি। একসঙ্গে কাজ করার সংস্কৃতি যেটা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, সেটা আবার চালু করতে হবে। মালিক পক্ষ বলেছে ব্যাংকের কী কী সমস্যা আছে, আমরা সেগুলো সমাধানে কাজ করব।’
এ সময় শ্রম উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হওয়ায় অনেকের মতো শ্রমিকরাও নিজেদের কথা বলছেন। শ্রমিকদের অভিযোগ সমাধানে শ্রমসংক্রান্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা সব অভিযোগ ও দাবি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। তবে শ্রমিকের আন্দোলনে একদমই যে ষড়যন্ত্র নেই- এমনও নয়।’
শ্রম উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে শ্রমিকদের জন্য কোন প্রক্রিয়ায় রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা যায়, সে বিষয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার। এ ছাড়া গত বছরের শেষ দিকে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের সময় যেসব মামলা হয়েছে, সেগুলো প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শ্রম আইনের মধ্য থেকে ট্রেড ইউনিয়ন করার যতটা সুযোগ আছে, তা নিশ্চিত করবে সরকার।’
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, ‘শ্রমিক-মালিক কেন পরস্পরকে দোষারোপ করবে? বরং এটা জরুরি, আমাদের পরস্পরের দায়িত্বটা নিতে হবে। এই সেক্টর রক্ষা করা আমাদের দেশপ্রেমেরই অংশ। দেশের মানুষকে ভালোবাসলে এই সেক্টরকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। সামনে জিএসপি সুবিধা এলে এই বিষয়গুলো সামনে আসবে। এই অর্ডারগুলো অন্য দেশে চলে যাক- এটা আমরা কেউ চাই? তাই কেউ পক্ষ-বিপক্ষ হওয়া যাবে না। আমাদের সবার খেয়াল রাখতে হবে দেশের অর্থনীতিকে রক্ষা করতে।’
সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. মঈন খান বলেন, ‘শ্রমিকদের দাবিগুলো যৌক্তিক, তবে সমাধান না হলে শিল্পের অস্থিরতা নিরসন সম্ভব নয়। পোশাক শিল্পকে রক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবে সেনাবাহিনী।’
তিনি বলেন, ‘পোশাক শিল্পে চলমান এ অস্থিরতার জন্য মূলত তিনটি কারণ দায়ী। এগুলো হলো- বহিরাগতদের আক্রমণ, শ্রমিকদের যৌক্তিক ও অযৌক্তিক দাবির সমন্বয়ে অস্থিরতা ধরে রাখা এবং ঝুট ব্যবসার আধিপত্য। তবে বহিরাগতদের আক্রমণ এখন আর হচ্ছে না।’
সভায় সভাপতির বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ায় আগামীকাল (আজ) সব পোশাক কারখানা খোলা থাকবে। তবে কোনো কারখানায় অস্থিরতা তৈরি হলে আগামী পরশু (আগামীকাল) থেকে সেই কারখানা শ্রম আইনের ১৩/১ ধারা (কাজ নেই, বেতন নেই) অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।’
পোশাক খাতের অন্য সংগঠনগুলোর নেতারাও বিজিএমইএ সভাপতির এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সায় দিয়েছেন।
সভায় বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও হা-মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান এ কে আজাদসহ বিভিন্ন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানী ঢাকা যেন ধুলার চাদরে ঢাকা এক শহর। টানা পাঁচ দিন ধরে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত নগরীর তালিকায় শীর্ষে রাজধানী—বাতাসে ভাসছে ধুলাবালু। রাস্তায় নামলেই চোখ জ্বালা করে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এ ক্ষেত্রে বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। অসহনীয় বায়ুদূষণে নানা শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি চলাচলেও ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রাজধানীবাসী।
বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন গবেষণা বলছে, রাজধানীতে ধুলাদূষণের অন্যতম উৎস অপরিকল্পিত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, সরকারি উন্নয়নকাজ ও ভবন নির্মাণ। শীত এলেই রাজউক, ওয়াসা, তিতাস গ্যাস ও সিটি করপোরেশন একসঙ্গে যার যার কাজ শুরু করে। পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো সরকারের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন চলমান। আবাসন খাতে কাজ চলে সারা বছর। তবে শীতে একটু বেশি থাকে। এ মৌসুমে বৃষ্টি হয় না বললেই চলে। সব মিলিয়ে ধূলায় আচ্ছাদিত থাকে রাজধানী ঢাকা।
সরেজমিনে রাজধানীর বেশ কয়েকটি রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির স্থান ও নির্মাণাধীন স্থাপনা ঘুরে দেখা যায়, অব্যবস্থাপনায় চলছে নির্মাণকাজ। বিভিন্ন জায়গায় চলছে অপরিকল্পিত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি। নির্মাণসামগ্রী যত্রতত্র ফেলে রাখা। কোথাও দেখা যায়নি নির্মাণ বিধি মেনে ছাউনি দিতে কিংবা রাস্তা কাটাকাটি করতে। এসব জায়গা থেকে উড়ছে ধুলাবালি, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিনিয়ত ভোগাচ্ছে।
মালিবাগ রেলগেট থেকে বাসাবো পর্যন্ত গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি। এ সড়কটি ঘুরে দেখা যায় কোথাও নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখতে দেখা যায়নি। ইট, বালু, সিমেন্ট সুরকি আর মাটি থেকে প্রতিনিয়ত ধুলা ছড়াচ্ছে। এসব ধুলাবালিতে আশপাশের বাসিন্দারা বিরক্ত। এই সড়ক দিয়ে চলা গণপরিবহনের যাত্রীরাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পথচারীরা মাস্ক পরেও নিস্তার পাচ্ছেন না।
মালিবাগ বাজারের দোকানি গফুর হক বলেন, গত দেড় বছর ছিল এক্সপ্রেওয়ের কাজের কারণে ধুলাবালি। সেটি কিছুটা কমলেও এখন গ্যাসলাইনের কাজের কারণে এত ধুলাবালি বেড়েছে। এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করা কষ্টকর। মাস্ক পরলেও ধুলাবালি মুখে ঢুকছে। দোকানের জিনিসিপাতি প্রতি ঘণ্টায় মুছতে হয়।
শুধু মালিবাগ নয়। রাজধানীর বসুন্ধরা, নদ্দা, নতুনবাজার, প্রগতি সরণি, মৌচাক সিদ্ধেশ্বরী রোড, যাত্রাবাড়ী এলাকায়ও দেখা যায় একই চিত্র। সিদ্ধেশ্বরী রোডে কেটে রাখা রাস্তায় কংক্রিট, বালি ও মাটি রাস্তার ওপর পড়ে রয়েছে, যা বাতাসে ধুলা ছড়াচ্ছে। প্রগতি সরণিতে পাতালরেলের কাজ চলমান থাকায় ব্যাপক আকারে ছড়াচ্ছে ধুলাবালি। ইউটিলিটি লাইন অপসারণ করে নতুন করে বসানোর কাজ চললেও সেখানে যত্রতত্র জমে আছে মাটির স্তূপ।
রাজধানীর মৌচাক মোড়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙার কার্যক্রম। বুলডোজার ও কন্সট্রাকশন ক্রেন দিয়ে ইট, সিমেন্ট, সুরকি নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। ধুলাবালি উড়ে আশপাশে ছড়িয়ে যাচ্ছে। ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ফুটপাতের দোকানি ও পথচারীরা।
মৌচাক মোড়ের দোকানি হুমায়ুন কবির বলেন, গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এই ভবন ভাঙার কাজ চলমান। ইটের গুঁড়া আর বালি বাতাসে উড়ছে। আমি জামা-কাপড় বিক্রি করি। প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। ধুলাবালি দোকানে ঢুকে যাচ্ছে।
অপার সম্ভাবনা থাকার পরও কেবল দায়িত্বশীল আচরণের অভাবে দেশের পর্যটন শিল্প কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, ‘পর্যটনের অপার সম্ভাবনা থাকার পরও আমরা এখানে ভালো করতে পারিনি। এজন্য দায়িত্বশীল আচরণ দরকার। এটি যেমন পর্যটকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তেমনি যারা পর্যটন ব্যবসা করছেন তাদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’ রাজধানীর একটি হোটেলে দি বাংলাদেশ মনিটর ও গ্যালাক্সি গ্রুপের যৌথ আয়োজনে এক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘সেন্ট মার্টিন নিয়ে যখন অপপ্রচার হয়েছে, তখন যদি আপনারা পর্যটন খাতের উদ্যোক্তারা কথা বলতেন, তবে এত শোরগোল হতো না। আমরা সোনার ডিম পাড়া হাঁস থেকে একবারে সব ডিম পেতে চাই। একই ঘটনা সিলেটের সাদা পাথর এবং হাওরের ক্ষেত্রেও ঘটেছে।’
অনুষ্ঠানে দেশের ট্রাভেল, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেওয়া হয়। ২৯টি ক্যাটাগরিতে ২৭টি প্রতিষ্ঠান ও ৮ জন ব্যক্তি এবার এই সম্মাননা পেয়েছেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই অ্যাওয়ার্ডের মূল লক্ষ্য হলো পর্যটন খাতের অংশীজনদের সেবার মান ও পেশাদারত্ব উন্নয়নে অনুপ্রাণিত করা।
এ বছর আতিথেয়তা খাতে পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে অসামান্য অবদানের জন্য ‘লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন পাটা বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান শহীদ হামিদ। গ্যালাক্সি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আহমেদ ইউসুফ ওয়ালিদ জানান, দেড়শর বেশি মনোনয়ন থেকে জুরি বোর্ড যোগ্যদের নির্বাচিত করেছে।
সম্মাননা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো– র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন ঢাকা, পেনিনসুলা চট্টগ্রাম, প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল, গ্র্যান্ড প্যালেস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট রংপুর, হোটেল গ্র্যান্ড পার্ক বরিশাল, ওয়ান প্যারাডাইস হোটেল কক্সবাজার, ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা কক্সবাজার, সায়মন বিচ রিসোর্ট কক্সবাজার ও হোটেল সারিনা।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই সঙ্গে আয়োজিত গণভোটের সুষ্ঠুতা ও স্বচ্ছতা যাচাইয়ে বিশ্বের ১৬টি দেশ থেকে মোট ৫৭ জন দ্বিপক্ষীয় পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে যে, এই একক দেশগুলোর প্রতিনিধিদের বাইরেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), কমনওয়েলথ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক শাসন বিষয়ক সংস্থার কয়েকশ বিশেষজ্ঞ নির্বাচনী কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। দ্বিপক্ষীয় পর্যবেক্ষক দলের মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে সর্বোচ্চ ১৪ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন, যাঁর নেতৃত্বে থাকবেন দেশটির নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান দাতো শ্রী রামলান বিন দাতো হারুন। এর পরেই ১২ জন সংসদ সদস্য নিয়ে গঠিত তুরস্কের প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দেবেন সাবেক তুর্কি রাষ্ট্রদূত মেহমেত ভাকুর এরকুল।
তালিকায় আরও রয়েছে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৫ জন, জাপান থেকে ৪ জন এবং পাকিস্তান থেকে আসা ৩ জন পর্যবেক্ষক। এছাড়া ভুটান, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, জর্ডান, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ মোট ১৬টি দেশের প্রতিনিধিরা এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সাক্ষী হতে বাংলাদেশে পা রাখবেন। এই বিশিষ্ট পর্যবেক্ষক দলে পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ জালাল সিকান্দার সুলতান এবং ভুটানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডেকি পেমার মতো ব্যক্তিত্বরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা এসডিজি সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে জানান যে, ‘এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে।’ তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, খুব শিগগিরই আরও কয়েকটি দেশ তাদের প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করবে।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে কমনওয়েলথের ১৪ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানান আকুফো-আদ্দো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন লাতভিয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভার্স ইজাবস। ইইউ প্রতিনিধিদলে অস্ট্রিয়া, রোমানিয়া, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশের অন্তত সাতজন পার্লামেন্ট সদস্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। উল্লেখ্য যে, জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে এবারের নির্বাচনে ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের প্রায় ২ হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই দিনে ‘জুলাই সংস্কার সনদ’ নিয়ে দেশব্যাপী এক ঐতিহাসিক গণভোটও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের কাছে এই নির্বাচনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ কার্যক্রম ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’-এর আওতায় গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর ১১টি থানা এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এই অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেন।
ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান যে, ‘রাজধানীর বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় অভিযান পরিচালনা করে ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।’ গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে শাহবাগ থানা এলাকা থেকেই সর্বোচ্চ ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের নাম হলো— মো. রমজান (১৯), কাউছার আহম্মেদ (৩৩), মো. আলম সরদার (৪২), মো. আইউব আলী (৩৩), মিজানুর রহমান (৩৮), মো. শাহদাত (২৪), এমসার ইউনুছ (৪০), মাইখেল চন্দ্র (২৮), আলী আহম্মেদ (২৬), ইয়াহিয়া ফেরদৌস হিটলার (৩০), লিমন (১৯), মো. করিম মিয়া (২৬), মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৫) ও মো. রমজান আলী (২৪)।
অভিযানের ধারাবাহিকতায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ সাব্বির হোসেন (২৪) নামের এক তরুণকে এবং লালবাগ থানা পুলিশ শাহীন বাপ্পী শামীম ওরফে সেলিম (২৫) ও আমির হোসেন (২৬) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে। ডেমরা থানা পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন আক্তার হোসেন (৫৩), সূত্রাপুর থানা থেকে মনা ব্যাপারী (২৭) এবং মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ মো. হাফিজুল ইসলামকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া খিলগাঁও থানা এলাকা থেকে তাজবিন খান (৩২), শরিফুল ইসলাম (২৯), মো. ফারুক (৩৫) ও শরিফুল ইসলাম (৫৩) নামের চারজন এবং হাজারীবাগ থানা থেকে সুফল চৌধুরী (৩৫), মো. মুন্না (২০) ও মেহেদী হাসান (৩০) গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাড্ডা থানার অভিযানে মো. সাহেব আলী (২১) নামের একজন এবং যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা থেকে ইফতেখার রেজা (৪০), মামুন (৩০), রাজিব (২৬) ও শাওন ওরফে সেন্টু (২৮) নামের চারজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
একই সময়ে শেরেবাংলানগর থানা এলাকা থেকে এ বি এম মাহমুদুল বসরি (৩০), মো. জয়নাল হাওলাদার (৬৩) ও মো. সেলিম (৩০) নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান আরও জানিয়েছেন যে, বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এসব ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রাজধানীর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির এই বিশেষ অভিযান পর্যায়ক্রমে অব্যাহত থাকবে বলেও পুলিশ প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে।
দেশের সার্বিক জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত সাম্প্রতিক যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৫০৪ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বার্তায় জানানো হয় যে, গত ২৩ থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন ও স্বতন্ত্র ব্রিগেডের সেনাসদস্যরা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সমন্বিত তল্লাশি ও অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাং এবং ডাকাতসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আটক করে। এই এক সপ্তাহের অভিযানে মোট ৪৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৭৫ রাউন্ড গোলাবারুদ, ৯৫টি ককটেল এবং দেশীয় অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ধৃত ব্যক্তিদের যথাযথ জিজ্ঞাসাবাদের পর সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আইএসপিআর তাদের বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করেছে যে, জননিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা অভিযান চলমান রয়েছে। এর পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণেও সেনাবাহিনী নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বৃহত্তর স্বার্থে এ ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। একইসাথে যেকোনো ধরনের অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক তৎপরতা নজরে এলে দ্রুততম সময়ে তা ‘নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে অবহিত করার জন্য’ সাধারণ জনগণের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরবর্তী সময় থেকে অর্থাৎ গত ১১ ডিসেম্বর থেকে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে মোট ১ হাজার ৫০৭ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এই সময়কালের মধ্যে যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে ১৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১ হাজার ৮৩৪টি গোলাবারুদ উদ্ধার করার সাফল্য অর্জিত হয়েছে। মূলত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমন ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধে সেনাবাহিনীর এই সমন্বিত তৎপরতা জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
পাবনার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা, বড়াল ও ইছামতীসহ বিভিন্ন শাখা নদীতে এক শ্রেণির অসাধু মৎস্য শিকারি মেতে উঠেছে ‘কারেন্ট’ মরণখেলায়। নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের পর এখন নতুন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে ইলেকট্রিক শক বা বৈদ্যুতিক চুইচ দিয়ে মাছ শিকার। এতে কেবল বড় মাছই নয়, ধ্বংস হচ্ছে পোনামাছ, ডিম ও জলজ কীটপতঙ্গ। পরিবেশবিদরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নদীর দেশি সুস্বাদু মাছের দেখা আর পাবে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ব্যাটারি ও ইনভার্টার ব্যবহার করে শক্তিশালী বিদ্যুৎ তৈরি করা হয়। এরপর দীর্ঘ জিআই তার বা লোহার খাঁচা নদীর পানিতে ফেলে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করা হয়। মুহূর্তের মধ্যে কয়েকশ গজ এলাকার ছোট-বড় সব মাছ নিস্তেজ হয়ে ভেসে ওঠে। শিকারিরা দ্রুত সেসব মাছ তুলে নিয়ে সটকে পড়ে।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদ্যুতিক শকের ফলে নদীর যে ক্ষতি হচ্ছে তা অপূরণীয়: শকের সংস্পর্শে আসা যেসব মাছ বেঁচে যায়, তাদের প্রজনন ক্ষমতা চিরতরে হারিয়ে যায়। মাছের প্রধান খাবার শ্যাওলা ও অণুজীব বিদ্যুৎপ্রবাহে মারা যাচ্ছে, ফলে নদীতে মাছের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। দেশি প্রজাতির মাছ যেমন-আইড়, বোয়াল, পাঙাশ ও কাজলি আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে।
স্থানীয় জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা জাল দিয়ে মাছ ধরে কুলাই না, আর ওরা মেশিন দিয়ে সব সাবাড় করে দিচ্ছে। এভাবে চললে নদী কিছুদিনের মধ্যে মরুভূমি হয়ে যাবে।"
নদী বাঁচাও আন্দোলনের কর্মীরা দাবি জানিয়েছেন, নিয়মিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই অপরাধীদের কঠোর শাস্তি প্রদান করতে হবে। অন্যথায়, পাবনার নদীগুলো কেবলই পানি প্রবাহের নালায় পরিণত হবে, যেখানে কোনো প্রাণের অস্তিত্ব থাকবে না।
সৌদি আরব প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য যাতায়াত ব্যয় সহজ ও সাশ্রয়ী করতে মাত্র ২০ হাজার ৫০০ টাকায় দেশে ফেরার এক বিশেষ সুযোগ ঘোষণা করেছে সরকার। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তার মাধ্যমে প্রবাসীবান্ধব এই নতুন উদ্যোগের কথা জানানো হয়। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এই ব্যবস্থার আওতায় সৌদি আরব ও বাংলাদেশ মিলিয়ে মোট ৮০ হাজার টিকিট বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই উদ্যোগের ফলে প্রবাসী কর্মীরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও আর্থিকভাবে লাভবান হবে।
উপদেষ্টা জানান যে, বিশেষ করে হজ ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে আগে একমুখী ফাঁকা ফ্লাইট পরিচালনার যে চর্চা ছিল, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেটিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। এর ফলে বিমানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অতিরিক্ত ১০০ কোটি টাকারও বেশি আয় করার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, মদিনা-ঢাকা ও জেদ্দা-ঢাকা রুটে একমুখী সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং মদিনা-ঢাকা-মদিনা ও জেদ্দা-ঢাকা-জেদ্দা রুটে রিটার্ন টিকিটের সর্বনিম্ন ভাড়া ৪২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিশেষ ছাড় বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৬ পর্যন্ত এবং পুনরায় সৌদি আরবে ফেরার ক্ষেত্রে ৩০ মে ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই পদক্ষেপকে প্রবাসীবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, ‘ভবিষ্যতে এ ধরনের বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনযাত্রা আরও সহজ করবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।’ তবে এর যথাযথ বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ করে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘অতীতে দেখা গেছে প্রবাসীদের সুবিধায় অনেক ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হলেও সঠিক তদারকির অভাবে তা মুখ থুবড়ে পড়েছে। তাই খেয়াল রাখতে হবে, এই উদ্যোগটি যেন শতভাগ কার্যকর থাকে।’ মূলত প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এবং বিমানের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়েই এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বর্তমান প্রশাসন।
জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনে (পিবিসি) ২০২৬ সালের জন্য সহসভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে কমিশনের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট ব্যুরো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০তম অধিবেশনের প্রথম সভার মাধ্যমে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই সহসভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি এবং মহাসচিবের পক্ষে তাঁর শেফ ডি ক্যাবিনেট উপস্থিত থেকে শান্তি বিনির্মাণে কমিশনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। নির্বাচন-পরবর্তী এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের জন্য বাংলাদেশের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখায় কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানায়। একই সাথে তারা জাতিসংঘের শান্তি বিনির্মাণ কার্যক্রমের প্রতি বাংলাদেশের গভীর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে।
কমিশনের এই নতুন অধিবেশনে মরক্কো সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে এবং বাংলাদেশের সাথে জার্মানি, ব্রাজিল ও ক্রোয়েশিয়া সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। মূলত সংঘাতকবলিত দেশগুলোতে শান্তি বজায় রাখতে সহায়তাকারী এই আন্তরাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা সংস্থাটি ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ এবং শীর্ষ সেনা ও অর্থ প্রদানকারী দেশগুলোর মধ্য থেকে নির্বাচিত ৩১টি সদস্যরাষ্ট্র নিয়ে এই কমিশন গঠিত। বাংলাদেশ শুরু থেকেই এর সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করছে এবং ইতিপূর্বে ২০১২ ও ২০২২ সালে সভাপতি এবং ২০১৩ ও ২০২৩ সালে সহসভাপতির দায়িত্ব সাফল্যের সাথে পালন করেছে।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর নিজ দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র বাস্তব ও টেকসই সমাধান বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরকে সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউএনএইচসিআরের নবনিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেন তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
সাক্ষাতে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে সহায়তা কার্যক্রমে ‘নাটকীয়ভাবে অর্থায়ন কমে যাওয়ার’ বিষয়টি তুলে ধরেন। পাশাপাশি শিবিরগুলোতে স্বনির্ভরতা ও জীবিকাভিত্তিক সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গত এক বছরে একাধিক উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি আয়োজন করলেও রোহিঙ্গা সংকট এখনো প্রত্যাশিত আন্তর্জাতিক মনোযোগ পাচ্ছে না।
তিনি বলেন, গত বছর রমজান মাসে জাতিসংঘ মহাসচিবের শরণার্থী শিবির পরিদর্শন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি তুলে ধরতে সহায়ক হলেও আরও মনোযোগ প্রয়োজন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের শিবিরে অবস্থান কোনো সমাধান হতে পারে না। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ইতোমধ্যে নানা ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি।
তিনি বলেন, ‘সমস্যার শুরু মিয়ানমারে, সমাধানও সেখান থেকেই আসতে হবে। শিবিরে প্রযুক্তি-সুবিধা পাওয়া এক হতাশ ও ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম বড় হয়ে উঠছে—এটি কারও জন্যই ভালো খবর নয়। আমাদের দায়িত্ব হলো তাদের শান্তি ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো।’
বৈঠকে ভাসানচরের রোহিঙ্গা পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট এবং দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিয়েও আলোচনা হয়। ড. ইউনূস জানান, ভাসানচর থেকে অনেক শরণার্থী আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে মূল ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ছেন, যা দেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
ইভো ফ্রেইজেন বলেন, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ইউএনএইচসিআর প্রধান বারহাম সালিহ শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং তার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, তার পূর্বসূরি ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি ২০১৭ সাল থেকে একাধিকবার শিবির পরিদর্শন করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আমরা একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে চাই। বিশ্বাসযোগ্য ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন নিশ্চিত করাই আমাদের সব প্রচেষ্টার লক্ষ্য। প্রথমবার ভোট দেওয়া ও নতুন ভোটারদের জন্য আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আনন্দময় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে চাই।’
বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, আমরা নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে ঘরে ফেরার জন্য প্রস্তুত।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর বাসাবোতে ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার মিলনায়তনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৌদ্ধধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এবং খ্রিষ্টানধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট্র যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
বৌদ্ধধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ভবেশ চাকমার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার ও ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।
ধর্ম উপদেষ্ট বলেন, ‘একবার ক্ষমতায় বসতে পারলে ছলেবলে কৌশলে চেয়ার ধরে রাখার দুঃখজনক প্রবণতা এ দেশে রয়েছে। কিন্তু আমরা যেদিন দায়িত্ব নিয়েছি সেদিন থেকেই বিদায়ের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। ইতোমধ্যে আমাদের অনেক উপদেষ্টা তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট স্যারেন্ডার করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুত রয়েছি- একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় আসবেন তাদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করব।’
সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার অনুরোধ জানিয়ে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক মাইলফলক। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ যদি পাস হয় তাহলে দেশে আর কোনোদিন স্বৈরতন্ত্রের জন্ম হবে না। দেশকে আমরা উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে পারব।’
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি যখন ভোট দিতে যাবেন তখন আপনাকে দুটো ব্যালট দেওয়া হবে। একটি সাদা, আরেকটি গোলাপি। সাদা ব্যালটের মাধ্যমে আপনার বিবেচনায় যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেবেন। আর গোলাপি ব্যালোটের মাধ্যমে আমাদের জনপ্রতিনিধিরা কীভাবে দেশ পরিচালনা করবে সেই গাইডলাইন আপনি তৈরি করে দেবেন।’ এ সময়ে তিনি স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদীমুক্ত দেশ গড়তে সকলকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেন।
জুলাই সনদের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ৫৪ বছরে আমরা এই তিনটি লক্ষ্য অর্জন করতে পারিনি। বিগত ৫৪ বছরের শাসনামলে আমরা এমন এমন শাসনের কবলে পড়েছিলাম যা আমাদের কাঙ্ক্ষিত ছিলো না। কখনো সংবিধানকে সুটকেসবন্দি করে আবার কখনো সংবিধানের দোহাই দিয়ে আমাদের ওপর নিপীড়নমূলক শাসন চালানো হয়েছে।’ একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে রমনার সেন্ট মেরীস্ ক্যাথেড্রাল চার্চের প্রধান পালক ফাদার আলবার্ট টমাস রোজারিও, বৌদ্ধধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, খ্রিষ্টানধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি পিউস কস্তা বক্তৃতা করেন।
দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে আমূল পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) ভেঙে পৃথক দুটি সংস্থা গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে একটি সংস্থা ‘রেগুলেটর’ বা নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করবে এবং অন্যটি ‘অপারেটর’ হিসেবে বিমানবন্দর পরিচালনা ও নেভিগেশন সেবা প্রদানের দায়িত্ব পালন করবে। গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক চিঠিতে বেবিচককে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয় এবং আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
বর্তমান কাঠামোতে বেবিচক একই সাথে দুটি পরস্পরবিরোধী ভূমিকা পালন করে আসছে। একদিকে সংস্থাটি রেগুলেটর হিসেবে বিমান চলাচলের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা তদারকি করে, অন্যদিকে অপারেটর হিসেবে বিমানবন্দরসমূহ পরিচালনা ও এয়ার নেভিগেশন সেবা প্রদান করে। নিজের কাজের তদারকি নিজেই করার এই প্রক্রিয়ায় দীর্ঘকাল ধরে এক ধরণের ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of Interest) তৈরি হচ্ছিল, যা আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন মহলে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও) তাদের বিভিন্ন অডিটে বারবার বেবিচকের এই দুই সত্তা পৃথক করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে আসছিল।
এছাড়া গত বছরের ১৮ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও সংস্থাটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করার জোর সুপারিশ করা হয়েছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিল যে, নিয়ন্ত্রণকারী ও পরিচালক সংস্থা এক হওয়ায় তদারকি প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকারের বর্তমান সিদ্ধান্তটি বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন এবং সংশোধন করা হবে। নতুন এই কাঠামো অনুযায়ী, একটি স্বতন্ত্র অপারেটর সংস্থা গঠিত হবে যারা নেভিগেশন পরিসেবা এবং দেশজুড়ে বিমানবন্দর পরিচালনার যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবে। এর ফলে একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ও আইসিএও-র মানদণ্ড পরিপূরণ হবে, অন্যদিকে বেসামরিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত যাবতীয় সেবার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের এভিয়েশন সেক্টরে আরও স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব ফিরে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের একমাত্র বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গত বুধবার রাতে ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর নবনিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা এবং বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা রোহিঙ্গা সংকটের শিকড় যে মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও যে সেখান থেকেই আসতে হবে, সেই বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘকালীন অবস্থান কোনোভাবেই কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। বর্তমানে শিবিরে এক বিশাল তরুণ প্রজন্ম বেড়ে উঠছে যারা অত্যন্ত হতাশ ও ক্ষুব্ধ। প্রযুক্তিতে তাদের অবাধ প্রবেশাধিকার থাকলেও কর্মসংস্থান বা উন্নত জীবনের সুযোগ না থাকায় এটি একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করছে যা কারো জন্যই শুভকর নয়। তাই তাদের সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়াই এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
বৈঠকে ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে মানবিক সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক তহবিলের ‘নাটকীয় হ্রাসের’ বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি শিবিরে বসবাসরতদের জন্য আত্মনির্ভরশীলতা এবং জীবিকাভিত্তিক কার্যক্রম বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে ড. ইউনূস জানান, বর্তমান সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুকে বিশ্বমঞ্চে সক্রিয় রাখতে রমজান মাসে জাতিসংঘ মহাসচিবের শিবির পরিদর্শনসহ বেশ কিছু উচ্চপর্যায়ের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এতকিছুর পরও এই সংকটটি বিশ্ববাসীর কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত মনোযোগ পাচ্ছে না যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ উপস্থিতির ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গেও সম্পর্কের অবনতি ঘটছে, যা নতুন সামাজিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
আলোচনায় ভাসানচর প্রকল্পের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সেখান থেকে শরণার্থীদের মূল ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ার চ্যালেঞ্জগুলোও উঠে আসে। প্রধান উপদেষ্টা জানান, ভাসানচর থেকে অনেকে পালিয়ে গিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মিশে যাচ্ছে, যা নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি করছে। ইভো ফ্রেইজেন বৈঠকে জানান যে, ইউএনএইচসিআর-এর নবনিযুক্ত প্রধান বারহাম সালিহ খুব শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন এবং সরেজমিনে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। ২০১৭ সালের পর থেকে সংস্থাটির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সফর বাংলাদেশের এই মানবিক প্রচেষ্টার প্রতি আন্তর্জাতিক সংহতির প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
বৈঠকের শেষ অংশে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, বাংলাদেশ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। ড. ইউনূস বলেন, “আমরা নির্বাচন পরিচালনায় একটি নতুন জাতীয় মানদণ্ড স্থাপন করতে চাই।” তিনি আরও যোগ করেন যে, প্রথমবার ভোট দিতে আসা তরুণ ভোটারদের জন্য এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াটিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আনন্দময় করে তোলা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকারের সকল অঙ্গ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিকে আশ্বস্ত করেন।
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেয় না। নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করার অধিকার বাংলাদেশের জনগণের। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জনগণ যে সরকার নির্বাচিত করবে, যুক্তরাষ্ট্র তার সঙ্গেই কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের এ কথাগুলো বলেন।
ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল এদিন সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে। ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল সিইসির সঙ্গে ক্রিস্টেনসেনের প্রথম সাক্ষাৎ।
ক্রিস্টেনসেন সাংবাদিকদের বলেন, সিইসির সঙ্গে ভালো বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার যে নীতিমালা, প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়াগুলো গ্রহণ করেছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে তাকে জানিয়েছেন সিইসি।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে শুনানির সময় তিনি যেমনটি বলেছিলেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত এবং তিনি এর ফলাফল দেখতে আগ্রহী।
গত সপ্তাহে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেই বৈঠক সম্পর্কে ক্রিস্টেনসেন বলেন, প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেছিলেন যে নির্বাচন উৎসবমুখর হবে। তিনিও (মার্কিন রাষ্ট্রদূত) আশা করেন, বাংলাদেশে একটি উৎসবমুখর নির্বাচন হবে।