বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৭ ফাল্গুন ১৪৩২

শিক্ষার্থী হত্যা: সাবেক এমপি শাহে আলম তিন দিনের রিমান্ডে

বরিশাল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহে আলম। ফাইল ছবি
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ২১:৫১

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গুলশানে কলেজ ছাত্র মো. নাইমুর রহমান হত্যার ঘটনায় করা মামলায় বরিশাল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহে আলমের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

আজ রোববার তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানা এসআই রাজু আহমেদ মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গতকাল শনিবার বরিশাল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম তালুকদারকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে জনতা।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ভিকটিম মো. নাইমুর রহমান (২২) গুলশান ডিগ্রি কলেজের একজন ছাত্র। গত ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে তিনি গুলশান থানার শাহাজাদপুর মেইন রোডের সুবাস্তু নজর ভ্যালি শপিং মলের সামনে হাজার হাজার ছাত্র-জনতার মিছিলে যোগদান করেন। বিকাল ৪ টার পর ৪শ’ থেকে ৫শ’ জন যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ সহ অওয়ামীলীগের নেতা কর্মী আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে অবৈধ্য অস্ত্র দিয়ে গুলি ছুড়ে। তাদের ছোড়া গুলিতে অনেক আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। এতে মো. নাইমুর রহমানও গুলিবিদ্ধ হন। বাদী খবর পেয়ে বাড্ডা এএমজেড হাসপাতালে গিয়ে তার ছেলে নাইমুর রহমান (২২) কে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা খলিলুর রহমান বাদী হয়ে গুলশান থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৬৪ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিরা হলেন, শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা, শেখ হাসিনার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়, সাবেক চিফ হুইফ নুরে আলম চৌধুরী লিটন, সাবেক সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান, সাবেক বিদুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত ও সাবেক এমপি নুর মোহাম্মদ।

বিষয়:

সচিবালয়ে দ্বিতীয় দিনে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো সচিবালয়ে তাঁর দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন। সকাল ৯টার কিছু পরেই তিনি সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ ভবনে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর অস্থায়ী কার্যালয়ে পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত কার্যালয় এবং তাঁর জন্য নির্ধারিত সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’-র জরুরি সংস্কার ও মেরামতের কাজ বর্তমানে চলমান থাকায় সাময়িকভাবে তিনি সচিবালয় থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করছেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর এই নিরবচ্ছিন্ন কর্মব্যস্ততা ও প্রশাসনিক তৎপরতা নজরে আসার মতো।

প্রধানমন্ত্রীর আজকের দিনটি কাটছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী সভার মধ্য দিয়ে। তাঁর নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, বেলা সাড়ে ১১টায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে একটি বিশেষ আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক আয়োজিত হয়েছে। বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হলো সাধারণ মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি কীভাবে আরও স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত উপায়ে সম্পন্ন করা যায়, সেই বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রীদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে এই কার্ড বিতরণের ভূমিকা নিয়ে তিনি বিশেষ দিকনির্দেশনা দেবেন বলে জানা গেছে।

দিনের দ্বিতীয় ভাগে দুপুর ২টায় প্রধানমন্ত্রী আরও একটি বড় ধরনের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতিত্ব করবেন। এই সভার মূল আলোচ্য বিষয় হলো আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং দেশের মৃতপ্রায় নদী ও খাল খননসহ জলাধার পুনরুদ্ধারের এক বিশাল পরিকল্পনা। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকারের এই ‘সবুজ প্রকল্প’ বাস্তবায়নের বিস্তারিত রূপরেখা এই বৈঠকেই চূড়ান্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। দখল হয়ে যাওয়া জলাধার উদ্ধার এবং নদীমাতৃক বাংলাদেশের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে তাঁর প্রথম কার্যদিবসেও তিনি দীর্ঘ সময় দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। নতুন সরকারের যাত্রালগ্নে প্রধানমন্ত্রীর এই ত্বরিত ও সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক পদক্ষেপ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে যে, যমুনা এবং নিয়মিত কার্যালয় মেরামতের কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আরও বেশ কয়েক দিন তিনি সচিবালয় থেকেই তাঁর সকল দাপ্তরিক কার্যাবলি পরিচালনা করবেন। জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকারের প্রতিটি বিভাগকে সক্রিয় করতে প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি তদারকি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


আজ থেকে সরকারি অফিস-আদালত-ব্যাংকের নতুন সময়সূচি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস রমজান শুরু হওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ ব্যাংক ও আদালতের নতুন সময়সূচি কার্যকর হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আজ থেকে নতুন এই সূচি অনুযায়ী দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জনগণের সুবিধার্থে এবং সেহরি ও ইফতারের সময় বিবেচনা করে গত ৮ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এই সময়সূচি নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল।

নতুন নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, সব সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলবে। তবে জরুরি প্রয়োজনে নামাজের জন্য দুপুর সোয়া ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ১৫ মিনিটের বিরতি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই সময়সূচিটি সব সরকারি দপ্তরের জন্য বাধ্যতামূলক হলেও বিমা, ডাক, রেলওয়ে, হাসপাতাল, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার মতো জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব আইন ও জনস্বার্থ বিবেচনা করে সময়সূচি সমন্বয় করতে পারবে। সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে যথারীতি শুক্র ও শনিবার বলবৎ থাকবে।

দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্যও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিশেষ সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। রমজান মাসে সাধারণ গ্রাহকদের লেনদেনের সুবিধার্থে ব্যাংকগুলো সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত খোলা থাকবে। তবে লেনদেন পরবর্তী দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করার জন্য ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিকেল ৪টা পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করতে হবে। লেনদেন চলাকালীন নামাজের বিরতি থাকলেও গ্রাহকসেবা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য ব্যাংকগুলোকে অভ্যন্তরীণ বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে সেবা সচল রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে পৃথক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে যে, রমজান মাসে নিম্ন আদালতের বিচারিক কার্যক্রম সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলবে। তবে আদালতের দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার জন্য অফিসগুলো সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। উচ্চ আদালতের সময়সূচি সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

পুঁজিবাজার বা শেয়ারবাজারের ক্ষেত্রেও লেনদেনের সময় কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী, রমজান মাসে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত শেয়ারবাজারে সাধারণ লেনদেন চলবে। লেনদেন পরবর্তী আনুষঙ্গিক কার্যক্রমের জন্য আরও ১০ মিনিট ‘পোস্ট ক্লোজিং’ সেশন রাখা হয়েছে। মূলত পবিত্র রমজান মাসে কর্মজীবী মানুষের যাতায়াত ও ইবাদত-বন্দেগির সুযোগ করে দিতেই প্রতি বছরের ন্যায় এবারও রাষ্ট্রীয়ভাবে এই সময়সূচি সংস্কার করা হয়েছে। প্রথম কার্যদিবসেই দেশের সকল প্রতিষ্ঠানে এই নতুন নিয়ম মেনে কাজ শুরু হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।


প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব, পিএস-২ ও এপিএস-২ নিয়োগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ, যিনি রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনে ছালেহ শিবলী নামেই সমধিক পরিচিত। দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা এই অভিজ্ঞ সংবাদ কর্মীকে এখন সরকারের সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। গত বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, অন্য যে-কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর এই দায়িত্বকাল প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টির ওপর (যেটি আগে ঘটে) নির্ভর করবে। মূলত তারেক রহমানের প্রতি দীর্ঘদিনের আনুগত্য এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে সুসমন্বয় বজায় রাখায় তাঁর ওপর এই বড় দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একই দিনে পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে। আতিকুর রহমান রুমনকে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা গ্রেড-২ পদমর্যাদার সর্বশেষ ধাপের বেতন স্কেলে কার্যকর হবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ (পিএস-২) হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন মো. মেহেদুল ইসলাম, যা গ্রেড-৪ বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত। সহকারী একান্ত সচিব-২ (এপিএস-২) পদে নিয়োগ পেয়েছেন আব্দুর রহমান সানি, যাকে গ্রেড-৬ বেতন স্কেলের সর্বশেষ ধাপে বেতন প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন এই নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই অভিন্ন শর্তারোপ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকেই তাঁদের নিয়োগ কার্যকর হবে এবং তাঁদের বর্তমান অন্য সকল পেশাদার সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন প্রশাসনের গণমাধ্যম ও ব্যক্তিগত দপ্তরের কার্যাবলি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যেই এই চৌকস কর্মকর্তাদের বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনে নতুন এই নিয়োগসমূহ সরকারের নীতি নির্ধারণী বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং দাপ্তরিক গতিশীলতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ থেকেই তাঁরা নিজ নিজ পদে যোগদান করবেন বলে জানা গেছে।


এমপিদের গাড়ি-প্লট না নেওয়ার ঘোষণায় টিআইবির সাধুবাদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণাকে সাধুবাদ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বিষয়টিকে বহুল প্রতীক্ষিত, সুচিন্তিত, সময়োপযোগী ও আশা-জাগানিয়া বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, এ ঘোষণায় দীর্ঘদিন লালিত কর্তৃত্ববাদী ও বৈষম্যমূলক রাষ্ট্র পরিচালনার চর্চার অবসানের পথে গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হয়েছে। একই সঙ্গে, এ পদক্ষেপের পরিপূর্ণ ও টেকসই সুফল অর্জনের লক্ষ্যে রাষ্ট্র মেরামতে বিএনপির ৩১ দফা রূপরেখা, নির্বাচনী ইশতেহার, জুলাই সনদ ও দুদক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে একটি সমন্বিত জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা গ্রহণেরও আহ্বান জানায় সংস্থাটি।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা যেন ভুলে না যাই যে, জুলাই অভ্যুত্থান ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণরায়ের মৌলিক অভীষ্ট এমন এক জনকল্যাণমূলক বাংলাদেশ—যা হবে সুশাসিত, জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত। এক্ষেত্রে বিপুল জনরায় নিয়ে সদ্য ক্ষমতাসীন জোট তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রচারণাসহ বিভিন্নভাবে জনগণের কাছে প্রদত্ত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিকসহ যতগুলো অঙ্গীকার করেছে, তার কার্যকর ও ফলপ্রসূ বাস্তবায়নের অপরিহার্য পূর্বশর্ত হচ্ছে দুর্নীতি প্রতিরোধ।

তিনি বলেন, সরকারি ও জনপ্রতিনিধিত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সদিচ্ছা ও প্রয়াস থাকলেও কার্যকরভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ছাড়া প্রদত্ত কোনো ধরনের প্রতিশ্রুতিই সঠিকভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। তেমনই সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের বাস্তব সুফলও জনগণের কাছে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছাবে না।

বরং উন্নয়ন প্রকল্প ও ক্রয়খাতসহ বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই বহুমুখী প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পর্যায়ে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থের দ্বন্দ্ব, দলবাজি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং পেশাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দলীয়করণের পাশাপাশি ঘুষ ও অন্যান্য অবৈধ লেনদেন, কর ফাঁকি ও অর্থপাচারসহ চৌর্যতান্ত্রিক অনাচার অব্যাহত থাকার ঝুঁকি প্রসারিত হবে।

সরকার পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে সংসদ সদস্য ও সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত সবার আয়-ব্যয় ও সম্পদবিবরণী বাৎসরিক নবায়নযোগ্যভাবে ওয়েবসাইটে প্রকাশ নিশ্চিতের দাবি জানান ড. ইফতেখারুজ্জামান।

তিনি বলেন, সরকার ও জাতীয় সংসদের দুর্নীতিবিরোধী প্রত্যয়ের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে জুলাই সনদের সম্পূর্ণ দ্বিমতহীন ৭৪ ধারা অনুযায়ী সব জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে নিজ ও পরিবারের সদস্যদের আয়-ব্যয় ও সম্পদবিবরণী বাৎসরিক ভিত্তিতে হালনাগাদ করার বাধ্যবাধকতাসহ অনতিবিলম্বে ওয়েবসাইটে প্রকাশের চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে, এই চর্চা সব খাত ও পর্যায়ের সব সরকারি কর্মচারী ও অন্যান্য জনবল—যাদের বেতন-ভাতা রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হয়, তাদের সবার জন্য প্রযোজ্য করতে হবে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরো বলেন, শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট সুবিধা গ্রহণ না করার সুচিন্তিত ঘোষণা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্যবিরোধী চেতনায় রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম পদক্ষেপ বলে মনে করছি। এটি দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে নবগঠিত সরকারের প্রতি জনমনে প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে।

একই সঙ্গে, রাষ্ট্র মেরামতে ৩১ দফা রূপরেখা ও নির্বাচনী ইশতেহারে ‘সমাজের সর্বস্তরে দুষ্টচক্রের মতো ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার জন্য পদ্ধতিগত ও আইনের সংস্কারের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে’—মর্মে যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা-ও যেন কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, এই প্রত্যাশা করছি।

এক্ষেত্রে সাংবিধানিক ও আইনগত ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী কৌশলে সরকারি জোটসহ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী ও সংসদের বাইরে অন্যান্য রাজনৈতিক দল এবং সব রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও খাতের দায়িত্ব, তথা সার্বিকভাবে জনগণের ভূমিকা পালনের সুযোগ নিশ্চিতের আহ্বান জানান তিনি।


আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি

* শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার * সরকার সবক্ষেত্রে অনাচার অনিয়মের সিন্ডিকেটে ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর * কর্মসংস্থান এবং কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু
জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক  

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পেরেছি। তাবেদারমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান তথা দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী, এই দেশ আমাদের সবার। প্রতিটি নাগরিকের জন্যই এই দেশকে আমরা একটি নিরাপদ ভূমিতে পরিণত করতে চাই। দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি অথবা জোর জবরদস্তি নয়, রাষ্ট্র পরিচালিত হবে আইনের শাসনেই। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণে এ কথা বলেন তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের সময়কালের দুর্নীতি দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। একটি স্বনির্ভর নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই বিএনপি সরকারের লক্ষ্য। দেশে গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই যাত্রালগ্নে আমি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা এবং আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

তিনি আরও বলেন, সারাদেশে জুয়া এবং মাদকের বিস্তারকেও বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ বলে চিহ্নিত করেছে। সুতরাং, জুয়া ও মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবরকমের কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ নিচ্ছে। দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি নিয়মে।

দেশবাসীর তারেক রহমান বলেন, রমজান আত্মশুদ্ধির মাস। আমরা যদি আত্মশুদ্ধি শব্দটির মর্মার্থ উপলব্ধি করি তাহলে এই মাসে মানুষের ভোগান্তি বাড়ার কথা নয়। যদিও আমাদের অনেকের মধ্যেই এই মাসটিকে ঘিরে ব্যবসায় অধিক মুনাফা লাভের প্রবণতা লক্ষণীয়।

আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রমজানের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে এই মাসটিকে আপনারা ব্যাবসায় মুনাফা লাভের মাস হিসেবে পরিগণিত করবেন না। দ্রব্যমূল্য যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়, এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা সতর্ক থাকবেন। হাজারো প্রাণের বিনিময়ে একটি মাফিয়া সিন্ডিকেটের পতন ঘটিয়ে রাষ্ট্র এবং সরকারের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়েই আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিএনপি সরকার সবক্ষেত্রেই অনাচার অনিয়মের সব সিন্ডিকেটে ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর।

ক্ষুদ্র, মাঝারি কিংবা ছোট-বড়, সব ব্যবসায়ীদের প্রতি বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সহজ এবং স্পষ্ট’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার ব্যবসায়ী ও ক্রেতা—উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চায়। সুতরাং, সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের উদ্যোগ নিলে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কিংবা ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা হবে, এ ব্যাপারে আপনাদের যেকোনো পরামর্শ কিংবা অভিযোগ শুনতে সরকার প্রস্তুত। ক্রেতা, বিক্রেতা, গ্রহীতা—এই সরকার সবারই সরকার। এই সরকার আপনাদেরই সরকার। আপনারাই ভোটের মাধ্যমে এই সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনারাই এই সরকারের শক্তি।

রমজানে ইফতার, তারারি, সেহরির সময় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, অপচয় রোধ করে কৃচ্ছ্রতাসাধন প্রতিটি মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব। অফিস-আদালতে বিনা প্রয়োজনে কিংবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি খরচের ব্যাপারে সচেতনতা অবলম্বন করাও ইবাদাতের অংশ বলেই আমি মনে করি। দেশের সব সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জনসাধারণের প্রতি কৃচ্ছ্রতাসাধনের আহ্বান জানানোর আগে আমি সরকারের মন্ত্রী এবং বিএনপির এমপিদের দিয়েই একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছি। বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভাতেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিএনপি থেকে নির্বাচিত কোনো এমপি সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি আমদানি করবেন না এবং প্লট সুবিধা নেবেন না।

তারেক রহমান আরও বলেন, আমি আপনাদের বলেছিলাম, রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে বিএনপি সরকার মহানবীর ‘ন্যায়পরায়ণতার’ আদর্শ অনুসরণ করবে। আমি মনে করি, বিএনপির সংসদীয় দলের এসব সিদ্ধান্ত ‘ন্যায়পরায়নতার’ আদর্শেরই প্রতিফলন।

যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় যানজট প্রায় নিয়ন্ত্রণহীন। হাটে, মাঠে, ঘাটে, অফিস-আদালতে জনগণের ভোগান্তির শেষ নেই। জন-জীবনের নানা ক্ষেত্রে জনদুর্ভোগ লাঘব করা না গেলে জনমনে স্বস্তি ফিরবে না। রাজধানীতে জনসংখ্যার চাপ কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। মানুষ তার নিজ জেলায় কিংবা নিজের বাসা বাড়িতে থেকেও যেন সহজভাবে সঠিক সময়ে অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারেন, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথমেই রেল নৌ, সড়ক এবং সেতু মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস ও সমন্বয় করা হচ্ছে। আমরা মনে করি, সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার সহজ সুলভ এবং নিরাপদ করা করা গেলে একদিকে যেমন জনগণের শহর-নগরকেন্দ্রিক নির্ভরতা কমবে অপরদিকে পরিবেশেরও উন্নতি হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও বলেন, আমাদের চারপাশে সমস্যার শেষ নেই। তবে সমস্যার পাশাপাশি সম্ভাবনাও কিন্তু কম নয়। আমাদের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে যদি আমরা দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারি তাহলে এই জনসংখ্যাই হবে আমাদের ‘জনসম্পদ’। আমরা নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে শুধু বাংলাদেশই নয় বিশ্ববাজারও আমাদের জন্য উন্মুক্ত।’

তিনি বলেন, তথ্য-প্রযুক্তির সিঁড়ি বেয়ে বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছে। প্রযুক্তির এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মান এবং স্বচ্ছলতার সঙ্গে টিকে থাকতে হলে আমাদের কোনো না কোনো একটি বিষয়ে বা কাজে পারদর্শী হতে হবে।

শিক্ষার্থী ও যুবশক্তির উদ্দেশে তিনি বলেন, মেধায় জ্ঞানে-বিজ্ঞানে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য যত রকমের সহযোগিতা দেওয়া যায়, সব রকমের সহযোগিতা দিতে বর্তমান সরকার প্রস্তুত। কর্মসংস্থান এবং কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার নিয়ে বর্তমান সরকার যাত্রা শুরু করেছে।

দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর দেশে ফিরে গত বছরে ২৫ ডিসেম্বর আমি বলেছিলাম, দেশ এবং জনগণের জন্য ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে আমার ‘প্ল্যান-পরিকল্পনা’র অনেক কিছুই আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরেছিলাম। আপনারা স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপিকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দিয়েছেন। এখন এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সকল অঙ্গীকার পূরণ করার দায়িত্ব বিএনপি সরকারের। আমরা আমাদের পরিকল্পনা এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে দিয়েছি। অঙ্গীকার পূরণের এই যাত্রাপথে আমরা ভবিষ্যতের দিনগুলোতেও আপনাদের অব্যাহত সমর্থন প্রত্যাশা করি।

তিনি আরও বলেন, সরকারপ্রধান হিসেবে আমি দেশবাসীর উদ্দেশে একটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, নবগঠিত সরকার গঠনের সুযোগ দিতে যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি অথবা কাউকেই ভোট দেননি, এই সরকারের প্রতি আপনাদের সবার অধিকার সমান। বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে, দলমত, ধর্ম-দর্শন যার যার, রাষ্ট্র সবার। এই দেশে, এই রাষ্ট্রে একজন বাংলাদেশি হিসেবে আপনার, আমার, আমাদের প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের অধিকার সমান।


জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে প্রথম বৈঠকেই মন্ত্রিসভাকে কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রথম মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক  

জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করার জন্য মন্ত্রী ও সচিবদের প্রতি কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী কোন মন্ত্রণালয় কী কাজ করবে, তা দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দিতেও নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রথম মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে প্রাথমিকভাবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি, সরবরাহ চেইন সচল রাখা এবং জ্বালানি খাতে যাতে কোনো সংকট সৃষ্টি না হয়—গ্যাস এবং বিদ্যুতের দিকে লক্ষ্য রাখা, এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন, প্রত্যেকটা সরকার প্রথম ১০০ দিনের একটি কর্মসূচি নেয়। আমাদের সরকার সেই কর্মসূচিটি একটু বৃহত্তর পরিসরে ১৮০ দিনের জন্য গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং শিগগিরই বিস্তারিত জানানো হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী সচিবদের উদ্দেশে বলেছেন, আমাদের ইশতেহারের ওপর জনগণ আস্থা রেখেছে। তাই যথাযথ সময়ে যথাযথভাবে এই ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে হবে।

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, প্রথম মন্ত্রিপরিষদের সভায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কাল থেকে রমজান শুরু। দ্রব্যমুল্য, আইন শৃঙ্খলা, বিদ্যুৎ জ্বালানি সবক্ষেত্রেই জনগনকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য যার যার জায়গা থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনাটি খুব দ্রুত মন্ত্রিপরিষদের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, জনগণের জন্য প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয় কীভাবে কাজ করবে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। বিএনপি মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলো মনে রেখে মন্ত্রণালয়গুলোকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের সবাইকে পরামর্শ দিয়েছেন। রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখা এই মুহূর্তের প্রধান অগ্রাধিকার। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, ইফতার তারাবিতে যেন কোনো কষ্ট না হয়।

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা তাদের কর্মপরিকল্পনা দুয়েকদিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী আমরা আমাদের পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্র মেরামতের জন্য ৩১ দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। এই কর্মসূচি শুধু বিএনপির ছিল না, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সকল দল এর সঙ্গে যুক্ত ছিল। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ১৮০ দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী ১৮০ দিনের পরিকল্পনার পাশাপাশি রমজান মাসে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য পুরো প্রশাসনকে সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া দ্রুত ফ্যামিলি কার্ড চালু করার বিষয়ে প্রস্তুতি নিতেও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।


ভয়মুক্ত গণমাধ্যমের পরিবেশ তৈরি করা হবে: তথ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক  

নবনিযুক্ত তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশে একটি ভয়মুক্ত গণমাধ্যমের পরিবেশ তৈরি করা হবে।‘অপতথ্য ও গুজব বর্তমানে সারা বিশ্বজুড়ে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই বাস্তবতায় আমাদের ভেবে-চিন্তে পথ চলতে হচ্ছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রথম কার্যদিবসে দায়িত্ব গ্রহণ করে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির ক্ষমতার কারণে একদিকে যেমন মানুষের ক্ষমতায়ন হয়েছে, অন্যদিকে কিছু সমস্যাও সৃষ্টি হয়েছে। এসব সমস্যার সমাধানও প্রযুক্তির মাধ্যমেই করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, গণমাধ্যমের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের কাছে তথ্য নির্ভেজালভাবে উপস্থাপন করা। প্রচলিত বিধিমালার আলোকে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কার্যকর সমাধান বের করা হবে।

ভয়হীন সাংবাদিকতা থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমি একজন নির্যাতিত রাজনীতিবিদ। নির্যাতনের পথ পেরিয়েই আপনাদের সামনে মন্ত্রী হিসেবে কথা বলছি।

তিনি বলেন, আমি জানি ভয়ের মধ্যে যারা বাস করে তা কি পরিমাণ মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে থাকতে হয়। বিশেষ করে গণমাধ্যমের মতো সম্মানিত পেশায় যারা কাজ করেন তাদেরকে যদি সারাক্ষণ নজরদারির মধ্যে রাখতে হয়।

এ সমস্যাটা আমরা জানি।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনার মধ্যেও গণমাধ্যম সংক্রান্ত সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। ইনশাআল্লাহ, সেই পরিকল্পনার আলোকে দেশে একটি ভয়মুক্ত গণমাধ্যমের পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।


দ্রুত স্থানীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করব: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহিত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক  

দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকার জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব আমরা এগুলোতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করব। যত দ্রুত সম্ভব এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের সব সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা মেয়রদের অপসারণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। এসব শীর্ষ পদে তখন বেশির ভাগই ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতারা। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তাদের অধিকাংশই আত্মগোপনে চলে যান। পরে সরকার শীর্ষ পদে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভায় এখনো প্রশাসকেরা দায়িত্ব পালন করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, স্থানীয় নির্বাচন কবে নাগাদ হতে পারে। তখন তিনি বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব আমরা এগুলোতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করব। যত দ্রুত সম্ভব এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করা উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, তিনি এ বিষয়ে এখন মন্তব্য করবেন না। কী হয়েছে আগে দেখে, তারপর কথা বলবেন। অন্তর্বর্তী সরকারের কাজের মূল্যায়ন করবেন কি না, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি প্রয়োজন নেই। কারণ, বিশেষ একটি সময়ে তারা দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। তারা সিংহভাগ কাজ করতে পেরেছেন। তাদের কৃতিত্ব দিতে হবে। তারা অনেক ভালো কাজ করেছেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা যতটা খারাপ বলা হয়, ততটা খারাপ নয়। আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে। অর্থনীতি অনেক ইতিবাচক। ব্যাংক খাত নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বিগত সময়ে এসব খাত ধ্বংস হয়ে গেছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে একটা বড় ঝড় গেছে। দেশে একটা বিদ্রোহ, গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। এক দিনে সব ঠিক হয়ে যাবে না। নির্বাচিত সরকার এসেছে। সব ঠিক হয়ে যাবে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিষয়ে বিএনপি সরকারের অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এটা আমরা পলিটিক্যালি পরে আপনাদের জানাব। সরকারে আলোচনার পর জানাব।’

দেশের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দেওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ঢালাও বলা ঠিক হবে না।


সরকারি গাড়িতে চড়বেন না প্রধানমন্ত্রী, কমালেন প্রটোকল

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । ছবি: সংগৃহিত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক  

রাষ্ট্র পরিচালনায় মিতব্যয়িতা, স্বচ্ছতা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে একাধিক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই তিনি সরকারি সুযোগ-সুবিধা পরিহার করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দাপ্তরিক কাজ শুরু করেছেন। বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিজস্ব গাড়িতে যাতায়াত : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি সরকারি কোনো গাড়ি ব্যবহার করবেন না। পরিবর্তে নিজের ব্যক্তিগত সাদা রঙের টয়োটা গাড়ি, নিজস্ব চালক এবং নিজের অর্থে কেনা জ্বালানি ব্যবহার করে তিনি যাতায়াত করবেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) গুলশানের বাসা থেকে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শেরে বাংলা নগর এবং সচিবালয়ে যাওয়ার পথে তিনি এই ব্যক্তিগত গাড়িটিই ব্যবহার করেছেন।

প্রটোকল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংকোচন: রাজধানীর তীব্র যানজট এবং ভিআইপি চলাচলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী তার প্রটোকল বা গাড়িবহরের সংখ্যা ব্যাপক হারে কমিয়ে দিয়েছেন। আগে প্রধানমন্ত্রীর বহরে সাধারণত ১৩ থেকে ১৪টি গাড়ি থাকলেও বর্তমানে তা কমিয়ে মাত্র চারটিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের সময় রাস্তার দুই পাশে দীর্ঘক্ষণ পোশাকধারী পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকার প্রচলিত নিয়মটিও তিনি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

পতাকাবিহীন গাড়ি ও জনবান্ধব সিদ্ধান্ত: রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান অথবা বিদেশী মেহমানদের সফর ছাড়া দৈনন্দিন চলাচলের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তাঁর গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করবেন না বলে জানিয়েছেন। এছাড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকগুলো এখন থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিবর্তে সচিবালয়ে হবে। এর ফলে মন্ত্রীদের যাতায়াতের কারণে তৈরি হওয়া যানজট ও জনভোগান্তি অনেক কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রথম দিনের কর্মসূচি: বুধবার সকালে ব্যক্তিগত গাড়িতে চড়ে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি শেরে বাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এসব কর্মসূচিতে তার সঙ্গে নবগঠিত মন্ত্রিসভার সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি সচিবালয়ে গিয়ে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে অংশ নেন।

প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এমন পরিবর্তন এবং সাধারণ মানুষের সুবিধা বিবেচনা করে নেওয়া এই পদক্ষেপগুলো এরই মধ্যে বিভিন্ন মহলে বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।


বাংলাদেশে মব কালচার শেষ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এখন থেকে মব কালচারকে কোনোভাবেই উৎসাহিত করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, আইনানুগ সব ধরনের গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত থাকবে। কিন্তু দাবি আদায়ের জন্য মহাসড়ক বা সড়ক অবরোধ, কিংবা মব কালচার—এগুলো সহ্য করা হবে না। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সবার জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। কোনো ধরনের অবৈধ তদবির চলবে না। বাহিনীর কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে এখন থেকে ‘মব কালচার’ শেষ। জনগণের বন্ধু হতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে ভাবমূর্তিটা আগে বিনষ্ট হয়েছে, সেটাকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। আর পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত মন্ত্রণালয় গড়তে চাই।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারের প্রথম দিন একটা কেবিনেট মিটিং করতে হয়। আমরা সবাই বসেছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন, কিছু অনুশাসন দিয়েছেন। সরকারের প্রথম ১০০ দিনের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হয়। আমরা এবার ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছি। সরকারের অগ্রাধিকার বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, সরবরাহ চেইন ঠিক রাখা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে যেন সমস্যা না হয়, গ্যাস-বিদ্যুতের প্রতি লক্ষ্য রাখা প্রাথমিক অগ্রাধিকার।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রথা অনুযায়ী সচিবদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের বলেছেন যে, জনগণ আমাদের ম্যানিফেস্টোর ওপর ম্যান্ডেট দিয়েছে। সুতরাং যেটা জনগণের ইচ্ছা সেটাই প্রাধান্য পাবে। সে হিসেবে সরকারের ম্যানিফেস্টো বাস্তবায়নের জন্য তারা আন্তরিক হবেন। সবাইকে আমরা বলেছি যে, কার কী অ্যাফিলিয়েশন আছে সেটা আমরা দেখব না। আমরা মেধার ভিত্তিতে সবাইকে যাচাই করব।


মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু

বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর সাভারে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে এই শ্রদ্ধা জানান তিনি।

এর মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের প্রথম কর্মদিবস শুরু হলো। সেখানে পরিদর্শন বইয়ে সই করেন দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী। স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন তিনি।

এর আগে, ১০টায় গুলশানের বাসভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সাভারের উদ্দেশে রওনা দেয়।

স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন।

প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের আগমন উপলক্ষে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। দুপুর ১টার দিকে সচিবালয়ে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। বিকেল ৩টায় নতুন প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠকে অংশ নেন। পরে বিকেলে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।


আইজিপি বাহারের ক্ষুদে বার্তায় বিদায়ের সুর!

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পদে পরিবর্তনের জোরালো গুঞ্জনের মধ্যেই সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে এক আবেগঘন ও ইঙ্গিতপূর্ণ খুদে বার্তা পাঠিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। আজ বুধবার রাতে তাঁর সরকারি মোবাইল নম্বর থেকে পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এই বার্তায় তিনি বিশ্ববিখ্যাত সাহিত্যিক চার্লস ডিকেন্সের অমর পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করে নিজের দায়িত্বকালের মূল্যায়ন করেছেন। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সংস্কার ও রদবদলের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, আইজিপির এই বার্তাটি সেই প্রেক্ষাপটে তাঁর সম্ভাব্য বিদায়ের এক স্পষ্ট সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো সেই খুদে বার্তায় বাহারুল আলম ইংরেজিতে চার্লস ডিকেন্সের ‘এ টেল অব টু সিটিজ’ উপন্যাসের সেই বিখ্যাত শুরুর অংশটি তুলে ধরেন। যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায়— "এটি ছিল শ্রেষ্ঠ সময়, এটি ছিল সবচেয়ে খারাপ সময়; এটি ছিল প্রজ্ঞার যুগ, এটি ছিল নির্বুদ্ধিতার যুগ; এটি ছিল বিশ্বাসের সময়, এটি ছিল অবিশ্বাসের সময়; এটি ছিল আলোর ঋতু, এটি ছিল অন্ধকারের ঋতু; এটি ছিল আশার বসন্ত, এটি ছিল হতাশার শীত।" বার্তার শেষ অংশে তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে উল্লেখ করেন যে, গত ১৫ মাসে পুলিশ বাহিনীর অর্জিত সকল সাফল্যের কৃতিত্ব তাঁর সহকর্মীদের, আর এই সময়ের সকল ব্যর্থতার দায়ভার তিনি একান্তই নিজের কাঁধে নিচ্ছেন। সবশেষে তিনি সকলের মঙ্গল কামনা করে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা জানিয়েছেন।

আইজিপির এই বার্তাটি পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ সদর দপ্তরসহ পুরো বাহিনীর ভেতরে এক ধরনের অস্থিরতা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গত কয়েকদিন ধরে প্রশাসনিক অলিন্দে আলোচনা চলছিল যে বাহারুল আলমকে খুব শীঘ্রই তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। বিডিআর হত্যাযজ্ঞ নিয়ে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ওই নৃশংস ঘটনার সময়কার কিছু বিষয়ে বাহারুল আলমের নাম ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এই বিতর্ক এবং নতুন নির্বাচিত সরকারের প্রশাসনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাঁর প্রস্থান অনিবার্য হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

যদিও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাহারুল আলমকে অব্যাহতি প্রদান বা নতুন আইজিপি নিয়োগের বিষয়ে সরকার থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি, তবে তাঁর এই ‘বিদায়ি সুরের’ বার্তাটি গুঞ্জনের পালে নতুন করে হাওয়া দিয়েছে। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মনে করছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ছাড়ার আগেই তিনি নৈতিক অবস্থান থেকে সহকর্মীদের প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা ও দায়বদ্ধতা প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘ দেড় দশক পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে পুলিশ বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে এমন পরিবর্তন আগামী দিনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সংস্কারে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। আপাতত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ প্রশাসনের সকলে সরকারের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক আদেশের অপেক্ষায় রয়েছেন।


বাংলাদেশে মব কালচারের দিন শেষ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২০:৩৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে চলমান ‘মব কালচার’ বা বিশৃঙ্খল জনরোষের সংস্কৃতি আর কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, দেশে এই ধরনের অরাজকতাকে আর উৎসাহিত করা হবে না এবং যেকোনো দাবি-দাওয়া বা অভিযোগ কেবল যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই উত্থাপন করতে হবে। আজ বুধবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত প্রথম পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনা ও শৃঙ্খলা ফেরানোর বিষয়ে তাঁর এই কঠোর অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মিছিল, সমাবেশ এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সবার রয়েছে। বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও বাকস্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ সম্মান জানাবে। তবে দাবি আদায়ের অজুহাতে যত্রতত্র সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করা কিংবা ‘মব’ তৈরি করে জনজীবন বিপর্যস্ত করার প্রবণতা কঠোরভাবে বন্ধ করা হবে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তাই যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সকলকে ধৈর্য ধারণ করে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে যেকোনো সমস্যার সমাধান খোঁজার পরামর্শ দেন।

পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মানেই মূলত পুলিশ বাহিনী। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে এই বাহিনীর সুনাম ও পেশাদারিত্ব চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর লক্ষ্য হলো পুলিশের হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করা এবং এই বাহিনীকে প্রকৃত অর্থেই ‘জনগণের বন্ধু’ হিসেবে গড়ে তোলা। সাধারণ মানুষ যেন নির্ভয়ে থানায় গিয়ে আইনি সহায়তা পেতে পারে, তা নিশ্চিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা অবৈধ তদবির বরদাশত করা হবে না। পুলিশের পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অন্যান্য সংস্থাকেও জনগণের সেবায় আরও বেশি সক্রিয় ও জনমুখী করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, পুরো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত করা হবে। প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা তাঁর মেয়াদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বাহিনীর সদস্যদের কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য কোনো প্রকার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হন, তবে মুহূর্তেই তাঁর বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করা হবে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাহিনীর ভেতরে শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে একটি সুশৃঙ্খল ও আদর্শিক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দীর্ঘ দেড় দশক পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন সাহসী বক্তব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


banner close