বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
১০ চৈত্র ১৪৩২

শিক্ষার্থী হত্যা: সাবেক এমপি শাহে আলম তিন দিনের রিমান্ডে

বরিশাল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহে আলম। ফাইল ছবি
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ২১:৫১

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গুলশানে কলেজ ছাত্র মো. নাইমুর রহমান হত্যার ঘটনায় করা মামলায় বরিশাল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহে আলমের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

আজ রোববার তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানা এসআই রাজু আহমেদ মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গতকাল শনিবার বরিশাল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম তালুকদারকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে জনতা।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ভিকটিম মো. নাইমুর রহমান (২২) গুলশান ডিগ্রি কলেজের একজন ছাত্র। গত ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে তিনি গুলশান থানার শাহাজাদপুর মেইন রোডের সুবাস্তু নজর ভ্যালি শপিং মলের সামনে হাজার হাজার ছাত্র-জনতার মিছিলে যোগদান করেন। বিকাল ৪ টার পর ৪শ’ থেকে ৫শ’ জন যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ সহ অওয়ামীলীগের নেতা কর্মী আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে অবৈধ্য অস্ত্র দিয়ে গুলি ছুড়ে। তাদের ছোড়া গুলিতে অনেক আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। এতে মো. নাইমুর রহমানও গুলিবিদ্ধ হন। বাদী খবর পেয়ে বাড্ডা এএমজেড হাসপাতালে গিয়ে তার ছেলে নাইমুর রহমান (২২) কে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা খলিলুর রহমান বাদী হয়ে গুলশান থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৬৪ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিরা হলেন, শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা, শেখ হাসিনার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়, সাবেক চিফ হুইফ নুরে আলম চৌধুরী লিটন, সাবেক সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান, সাবেক বিদুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত ও সাবেক এমপি নুর মোহাম্মদ।

বিষয়:

ভয়াল ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ আজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ ভয়াল ২৫ মার্চ, জাতীয় গণহত্যা দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে ১৯৭১ সালের এইদিন শেষে এক বিভীষিকাময় ভয়াল কালরাত নেমে এসেছিল। ওই রাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের পূর্ব পরিকল্পিত ‘অপারেশন সার্চ লাইট’র নীলনকশা অনুযায়ী বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার ঘৃণ্য লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

এই অভিযানের নির্দেশনামা তৈরি করেন পাকিস্তানের দুই সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা ও মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী। নির্দেশনামার লিখিত নথি রাখা হয়নি। গণহত্যার সেই পুরো নির্দেশ মুখে মুখে ফরমেশন কমান্ডার বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়। অনেক পরে, ২০১২ সালে, মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা ‘এ স্ট্রেঞ্জার ইন মাই ওন কান্ট্রি’ শিরোনামে আত্মজীবনী প্রকাশ করেন। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত সেই আত্মজীবনীতে প্রথমবারের মতো ‘অপারেশন সার্চলাইট’ সম্পর্কে কিছু তথ্য প্রকাশিত হয়।

‘অপারেশন সার্চলাইট’ কীভাবে পরিকল্পিত হয়, ১৯৭১ সালের সেই স্মৃতিচারণ করে মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা লিখেছেন, ‘১৭ মার্চ, সকাল প্রায় ১০টা বাজে। টিক্কা খান আমাকে ও মেজর জেনারেল ফরমানকে কমান্ড হাউসে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে খবর পাঠান। খবর পেয়ে আমরা দুজন টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করি। গিয়ে দেখি, সেখানে জেনারেল আবদুল হামিদ খানও রয়েছেন। টিক্কা খান আমাদের বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শেখ মুজিবের সমঝোতা আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট চান আমরা যেন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করি এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরি করি। এ ছাড়া আর কোনো মৌখিক বা লিখিত নির্দেশনা আমরা পাইনি। আমাদের বলা হয়, পরদিন ১৮ মার্চ বিকেলে আমরা দুজন যেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ওই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করি।’

পরদিন সকালেই খাদিম হোসেন রাজা তার কার্যালয়ে রাও ফরমান আলীকে নিয়ে বসেন। তারাই গণহত্যার এ অভিযানের নাম দেন ‘অপারেশন সার্চলাইট’।

মার্কিন সাংবাদিক রবার্ট পেইন ২৫ মার্চ রাত সম্পর্কে লিখেছেন, ‘সেই রাতে সাত হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়, গ্রেপ্তার করা হয় আরও তিন হাজার। ঢাকায় ঘটনার শুরু মাত্র হয়েছিল। এরপর সমস্ত পূর্ব পাকিস্তানজুড়ে সৈন্যরা বাড়িয়ে চলল মৃতের সংখ্যা। জ্বালাতে শুরু করলো ঘর-বাড়ি, দোকান-পাট। লুট আর ধ্বংস যেন তাদের নেশায় পরিণত হল। রাস্তায় রাস্তায় পড়ে থাকা মৃতদেহগুলো কাক-শেয়ালের খাবারে পরিণত হল। সমস্ত বাংলাদেশ হয়ে উঠলো শকুনতাড়িত শ্মশান ভূমি।’

এই গণহত্যার স্বীকৃতি খোদ পাকিস্তান সরকার প্রকাশিত দলিলেও আছে। পূর্ব পাকিস্তানের সংকট সম্পর্কে যে শ্বেতপত্র পাকিস্তান সরকার মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রকাশ করেছিল তাতে বলা হয়, ‘১৯৭১ সালের পয়লা মার্চ থেকে ২৫ মার্চ রাত পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি মানুষের জীবননাশ হয়েছিল।’

১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের কাছে পাকিস্তানি জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করার ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের প্রক্রিয়া চলাকালে পাকিস্তানি সেনারা কুখ্যাত ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ নাম দিয়ে নিরীহ বাঙালি বেসামরিক লোকজনদের হত্যা করতে শুরু করে। তাদের এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ সব সচেতন নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করা। সেদিন দুপুরের পর থেকেই ঢাকাসহ সারাদেশে থমথমে অবস্থা বিরাজ করতে থাকে। সকাল থেকেই সেনা কর্মকর্তাদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। হেলিকপ্টারে তারা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সেনানিবাস পরিদর্শন করে বিকেলের মধ্যে ঢাকা সেনানিবাসে ফিরে আসে।

ঢাকার ইপিআর সদরদপ্তর পিলখানায় থাকা ২২তম বালুচ রেজিমেন্টকে পিলখানার কয়েকটি স্থানে অবস্থান নিতে দেখা যায়। মধ্যরাতে পিলখানা, রাজারবাগ, নীলক্ষেত আক্রমণ করে পাকিস্তানি সেনারা। হানাদার বাহিনী ট্যাংক ও মর্টারের মাধ্যমে নীলক্ষেতসহ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দখল নেয়। সেনাবাহিনীর মেশিনগানের গুলিতে, ট্যাংক-মর্টারের গোলায় ও আগুনের লেলিহান শিখায় নগরীর রাত হয়ে উঠে বিভীষিকাময়।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল এএকে নিয়াজির জনসংযোগ অফিসারের দায়িত্বে থাকা সিদ্দিক সালিকের ‘উইটনেস টু সারেন্ডার’ গ্রন্থেও এ সংক্রান্ত বিবরণ পাওয়া যায়। সিদ্দিক সালিক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় জেনারেল নিয়াজির পাশেই ছিলেন।

বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে অনুগত পাকিস্তানি হিসেবে পাক সামরিক জান্তার চক্রান্ত তিনি খুব কাছে থেকেই দেখেছেন। ২৫ মার্চ ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ শুরুর মুহূর্ত নিয়ে তিনি লিখেন ‘নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সামরিক কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়। এমন আঘাত হানার নির্ধারিত মুহূর্ত (এইচ-আওয়ার) পর্যন্ত স্থির থাকার চিহ্ন বিলুপ্ত হয়ে গেল। নরকের দরজা খুলে গেল।’

পাকিস্তানি হায়েনাদের কাছ থেকে রক্ষা পায়নি রোকেয়া হলের ছাত্রীরাও। ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব ও জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, ড. মনিরুজ্জামানসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বিভাগের নয় শিক্ষককে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে চলে নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে বড় ঘটনাটি। সেখানে হত্যাযজ্ঞ চলে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত।

প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সব ব্যবস্থা চূড়ান্ত করে গোপনে ঢাকা ছেড়ে করাচি চলে যান। সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে।

এদিকে, যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আজ দেশের সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা হবে।

এছাড়া, দুপুর ১২টা থেকে ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় মিনিপোলসমূহে গণহত্যা বিষয়ক বস্তুনিষ্ঠ ও নৈর্ব্যক্তিক দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।

বাদ জোহর বা সুবিধাজনক সময়ে ২৫ মার্চের রাতে নিহতদের স্মরণে সারাদেশের মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হবে।

দিবসটি উপলক্ষে রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত এক মিনিটের প্রতীকী ব্ল্যাকআউট পালন করা হবে। তবে কেপিআই ও জরুরি স্থাপনাগুলো এ কর্মসূচির বাইরে থাকবে। রাতে কোনো অবস্থাতেই আলোকসজ্জা করা যাবে না।

এদিন সকাল ১০টা বা সুবিধাজনক সময়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ব্যবস্থাপনায় দিবসটি উপলক্ষে একটি সেমিনার আয়োজন করা হবে।

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস-২০২৬ পালন এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।


গণতান্ত্রিক দেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

একটি ন্যায়ভিত্তিক, উন্নত-সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২৫ মার্চ) ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দেওয়া এক বাণীতে সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘২৫ মার্চ ১৯৭১, গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত ও নৃশংসতম গণহত্যার দিন।

এ কালরাতে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে বাংলাদেশের নিরস্ত্র স্বাধীনতাকামী মানুষের উপর ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা চালায়। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও নিরপরাধ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় এবং হত্যা করে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২৫ মার্চের গণহত্যা ছিল একটি সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ। সুপরিকল্পিত এ হত্যাযজ্ঞ কেন প্রতিরোধ করা গেল না এ ব্যাপারে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃশ্যমান ভূমিকা এখনো ইতিহাসের গবেষণার বিষয়। তবে ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে ‘উই রিভোল্ট’ বলে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে চট্টগ্রামের ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। গণহত্যা প্রতিরোধের মধ্য দিয়েই শুরু হয়ে যায় দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ।’

স্বাধীনতার মূল্য ও তাৎপর্য বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হলে ২৫ মার্চের গণহত্যা দিবস সম্পর্কেও জানা জরুরি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই রাষ্ট্র ও সমাজে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করি।’

প্রধানমন্ত্রী মহান আল্লাহতায়ালার কাছে প্রার্থনা করে বলেন, ‘আল্লাহ যেন সকল শহীদের বিদেহী আত্মাকে মাগফিরাত দান করেন।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।


খুলতে যাচ্ছে ঋণচুক্তির জট, ১.৩ বিলিয়ন ছাড়ের সম্ভাবনা

* ঋণের কিস্তি পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার * অন্তর্বর্তীর সময়ে স্থগিত হওয়া ঋণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা  * থাকছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচন পরবর্তী বাংলাদেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার নজর পড়তে শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসনের সফর অনেকটাই ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন সৌজন্য সাক্ষাৎ নতুন কিস্তির ছাড় পাওয়ার ক্ষেত্রে আশার আলোর সঞ্চার করেছে। সভায় আইএমএফের স্থগিত থাকা ঋণচুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঢাকায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আশা প্রকাশ করেছেন, সব ঠিক থাকলে আগামী জুলাই মাসে ঋণের এই কিস্তি পাওয়া যেতে পারে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইএমএফের ঋণপ্রদান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটি নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে কিস্তি ছাড়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যদিও কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়নের শর্ত ছিল।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হলে এবং বিএনপি সরকার একমত হওয়া শর্ত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলে বাংলাদেশ জুনের মধ্যে ডিসেম্বরের বাকি থাকা কিস্তিসহ ঋণের ১.৩০ বিলিয়ন ডলার পাবে।

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেল আমদানি করতে বাংলাদেশ আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে অতিরিক্ত ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা চেয়েছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল তিতুমীর। এই সময়ে আইএমএফের ঋণের কিস্তি পাওয়ার বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারির এক চিঠিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) বলেছে, শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে আইএমএফ। তাদের কর্মসূচির আওতায় দেশে কী কী সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং তা কতটা সফল, মূলত সেই বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা হবে। পাশাপাশি নতুন সরকারের সঙ্গে আগামী দিনেও ধারাবাহিকভাবে সহযোগিতা বজায় রাখার বার্তা দিতে চায় আইএমএফ।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বলেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাসহ আইএমএফের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত এখনো পূরণ করা সম্ভব হয়নি।

এর পাশাপাশি অমীমাংসিত কাজের তালিকায় রয়েছে আরও কিছু বিষয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পুনর্গঠন, বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও বেশি স্বাধীনতা দেওয়া এবং বিদেশি মুদ্রার ক্ষেত্রে পুরোপুরি বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু করা।

করোনা মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে চরম অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে গত ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফের সঙ্গে ৪.৭০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তিতে সই করে বাংলাদেশ।

এই চুক্তির আওতায় রাজস্ব ব্যবস্থায় সংস্কার, ব্যাংকিং অবকাঠামোর পুনর্গঠন ও সরকারি ভর্তুকি কমানোর মতো একাধিক শর্ত রাখা হয়েছিল। পরে গত বছরের জুনে এই কর্মসূচির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়। সেই সঙ্গে বাড়তি ৮০০ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন করে আইএমএফ। ফলে মোট ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলার।

এখনো পর্যন্ত পাঁচটি কিস্তিতে মোট ৩.৬৪ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৪৭৬.৩ মিলিয়ন ডলার, ওই বছরের ডিসেম্বরে ৬৮১ মিলিয়ন ডলার, ২০২৪ সালের জুনে ১.১৫ বিলিয়ন ডলার ও ২০২৫ সালের জুনে ১.৩৩ বিলিয়ন ডলার পাওয়া গেছে। অর্থাৎ এখনো ১.৮৬ বিলিয়ন ডলারের ঋণ পাওয়া বাকি।

গত ডিসেম্বরেই আইএমএফের আর একটি কিস্তির টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনার পরেই তা ছাড় করা হবে বলে ঋণপ্রদান স্থগিত রাখা হয়।

গত অক্টোবরে ওয়াশিংটনে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক বৈঠক বসে। সেখানে তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে আইএমএফের পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্বাচিত প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর পরবর্তী কিস্তির টাকা দেওয়া হবে।

আইএমএফের ঋণপ্রদান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের পর গত নভেম্বরে সালেহউদ্দিন জানিয়েছিলেন, নির্বাচিত সরকার ঠিক কতটা আর্থিক সহায়তা চাইতে পারে, তা নিয়েও সংস্থাটি সঙ্গে আলোচনা করবে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে পরবর্তী কিস্তি হিসেবে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার বিষয়ে আগামী এপ্রিলে সংস্থাটির বোর্ড সভায় চূড়ান্ত আলোচনা হবে। সব ঠিক থাকলে আগামী জুলাই মাসে ঋণের এই কিস্তি পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। গতকাল সচিবালয়ে সফররত আইএমএফ-এর এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানিয়েছেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, আইএমএফের ঋণ ছাড়ের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে জুলাই মাসে রিভিউ হবে। এর মধ্যেই আমরা বাজেটের প্রস্তুতি নেব। এপ্রিলে ওয়াশিংটনে আইএমএফের ‘স্প্রিং মিটিং’ আছে, সেখানে এ বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হবে।

আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান কর্মসূচিগুলো পুনরায় পর্যালোচনা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এতে কোনো সমস্যা নেই। আইএমএফের যে শর্ত বা রিকোয়ারমেন্টগুলো রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

তবে আইএমএফের সব শর্ত এখনই বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন অর্থমন্ত্রী বলেন, এখন কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব আর বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেগুলো এখন সম্ভব নয়, সেগুলো ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। অর্থনীতি এখন যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, সেখান থেকে সবকিছু আমাদের মতো করেই করতে হবে।

বৈঠক শেষে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন সাংবাদিকদের বলেন, ঋণ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং আরও আলোচনা হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচির রিভিউ হবে।


জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তিতে একমত সংসদীয় কমিটি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতাকে আইনি সুরক্ষা দিতে জারি করা ‘দায়মুক্তি’ অধ্যাদেশের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বৈঠক থেকে বের হওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতাকে দায়মুক্তি দেওয়ার যে অধ্যাদেশ রয়েছে, তার সঙ্গে সংসদীয় বিশেষ কমিটি পূর্ণ একমত পোষণ করেছে। এই বীর যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী ছাড়াও সংসদীয় কমিটির অন্যান্য সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


অটোমেশনের আওতায় আসবে ঢাকার ১২০ ট্রাফিক সিগন্যাল

আপডেটেড ২৪ মার্চ, ২০২৬ ২৩:৩১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে ঢাকার ১২০টি ট্রাফিক সিগন্যাল পর্যায়ক্রমে অটোমেশনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ‘ঢাকা শহরের যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন’ শীর্ষক বিশেষ সভায় মোট ৯টি সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। তিনি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার কথা বলেছেন। কীভাবে যানজট সমস্যার সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে মঙ্গলবারের (২৪ মার্চ) বৈঠকে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকার ট্রাফিক সিগন্যালগুলো দেশীয় পদ্ধতিতে অটোমেশনের ব্যবস্থা করা হবে। পর্যায়ক্রমে ঢাকার ১২০টি সিগন্যালের অটোমেশন করা হবে।

যানজট নিরসনে ঢাকা শহরের চারপাশে নতুন বাইপাস সড়ক এবং শহরের ভেতরে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ঢাকায় যত্রতত্র যেসব বাস কাউন্টার রয়েছে, সেগুলো অপসারণ করা হবে। ঢাকা মহানগরের ভেতরে থাকা পাঁচটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল অতিদ্রুত সরিয়ে শহরের বাইরে স্থাপন করা হবে। এই পাঁচটি বাস টার্মিনাল ‘সিটি সার্ভিসের’ জন্য চালু করা হবে।

রাস্তার দুপাশের সড়ক দখলমুক্ত করার এবং রাস্তার মাঝে বিদ্যুতের খুঁটি থাকলে সেগুলো সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে সভায়।

সিদ্ধান্ত হয়েছে, ঢাকা শহরের ভেতরে রেল ক্রসিংয়ে ম্যানুয়াল ব্যবস্থার পাশাপাশি অটো সিগন্যাল লাইটিং সিস্টেম চালু করা হবে। সিটি বাসকে জিপিএস সিস্টেমের আওতায় আনা হবে।

ঢাকার অধিকাংশ ফুটব্রিজে চলন্ত সিঁড়ি স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি শহরের হাসপাতাল এলাকায় ফুটব্রিজে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি লিফট স্থাপন করা হবে।

রুমন বলেন, আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে অধিকাংশ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক।

এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করতে বিএনপির সংসদ সদস্য ও শ্রমিক নেতা শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, সড়ক ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল সালাম, ঢাকা উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রিজু, বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা, পুলিশ মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকিরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।


ইতিহাসের শিক্ষা লাগাতারভাবে চর্চা করবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ইতিহাসের শিক্ষাগ্রহণ ও সেটির ধারাবাহিক চর্চার মধ্যেই সঠিক সুশাসনের গতি নির্ভর করে। তাই সরকার ইতিহাসের শিক্ষা লাগাতারভাবে চর্চা করবে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাজধানীর সিরডাপ কনফারেন্স সেন্টারে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের লেখা ‘ফিরে দেখা সেই সময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণের মধ্য দিয়েই একটি রাষ্ট্র সঠিকপথে এগিয়ে যেতে পারে। মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি হলো অতীতে ফিরে দেখা। তবে সেই স্মৃতিকে শুধু আবেগে সীমাবদ্ধ না রেখে তা নথিবদ্ধ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষার উপকরণ হিসেবে উপস্থাপন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

তিনি বলেন, ‘ফিরে দেখা সেই সময়’ বইটিতে দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা হয়েছে। যা দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশি-বিদেশি মহলে একতরফা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল এবং ১৫১টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ের বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ উল্লেখ থাকলেও শেখ হাসিনা তা বিশ্বাস করত না। আওয়ামী সরকারের দেড় দশকের শাসন আমলে জনগণের কাছ থেকে রাষ্ট্রের মালিকানা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

জনগণের বড় একটি অংশ অংশগ্রহণ না করলে সেই নির্বাচন কতটা গ্রহণযোগ্য হয়— সেই প্রশ্নও তোলেন তথ্যমন্ত্রী।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এটি ‘নিশিরাতের ভোট’ হিসেবে পরিচিত। ওই নির্বাচনে তিনি নিজেও প্রার্থী ছিলেন এবং দীর্ঘ এক মাস ১০ দিন নিজ বাড়িতে গৃহবন্দি অবস্থায় থাকতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, সেসময় বাসভবনের সামনে নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান, রাতে অভিযান পরিচালনা এবং রাজনৈতিক কর্মীদের গ্রেফতারের বিষয়টিও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, একইভাবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের প্রধান বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ ছিল না। নিজ দল থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড় করানোর মাধ্যমে একটি নির্বাচনি পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হলেও বাস্তবে ৯০ শতাংশ ভোটার ভোটদানে অংশ নেয়নি।

মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের নির্বাচন দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয় না এবং জনগণ শেষ পর্যন্ত এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটেও তিনি এ বাস্তবতার প্রতিফলন দেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক ইতিহাসের এ ধরনের অধ্যায়ন ভবিষ্যতের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সহায়ক হবে।

তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে তিনি বলেন, তাদের মধ্যে বিতর্কের সংস্কৃতি গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে সমাজ বিতর্ককে ভয় পায় বা তা এড়িয়ে চলে, সে সমাজ স্থবির হয়ে পড়ে। অন্ধভাবে কোনো কিছু গ্রহণ না করে তা বুঝে গ্রহণ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। এজন্য প্রয়োজন মুক্তচিন্তা, সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ এবং যুক্তিনির্ভর আলোচনার পরিবেশ।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন এবং চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত এর সাংবিধানিক অবস্থান স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত আলোচনাও চলমান রয়েছে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা এবং জনগণের প্রত্যাশা বিবেচনায় একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এমন একটি নির্বাচন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে, যা জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হবে।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বইয়ের প্রকাশক সৈয়দ আবদাল আহমদ।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান, বাংলাভিশন টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক ও হেড অব নিউজ ড. আবদুল হাই সিদ্দিক।

বইয়ের লেখক ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।


শিখন ঘাটতি পূরণে ‘১০ শনিবার’ খোলা থাকছে প্রাথমিক বিদ্যালয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রমজান মাসজুড়ে বিদ্যালয়ে ছুটি ঘোষণা করায় শিখন ঘাটতি পূরণে ১০টি শনিবার (সাপ্তাহিক ছুটির দিন) প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক মো. অয়নাল আবেদীন স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তুহিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, রমজান মাসজুড়ে বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করায় শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে রমজানের ছুটির পরে বিদ্যালয়সমূহে শ্রেণি কার্যক্রম শুরুর পরবর্তী ১০টি শনিবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্দেশনা প্রদান করেছে।

এমতাবস্থায়, উক্ত বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। এ সংক্রান্ত চিঠি সব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।


জ্বালানির মজুত পর্যাপ্ত, পাম্পে ভিড়ের জন্য দায়ী প্যানিক বায়িং: জ্বালানি মন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু । ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের কারণ হিসেবে জ্বালানির অভাবকে নয়, বরং সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটাকে (প্যানিক বায়িং) দায়ী করেছেন।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে জ্বালানি সংকটের খবরের মধ্যে চাহিদাই অপ্রত্যাশিতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় পাম্প পর্যায়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। তবে মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনতে শুরু করেছে, যার ফলে ফিলিং স্টেশনগুলোর মজুত স্বাভাবিক সময়ের আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

তিনি গ্রাহকদের যৌক্তিক থাকার এবং অপ্রয়োজনীয় মজুত পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে আশ্বস্ত করে বলেন, কেনাকাটার আচরণ স্থিতিশীল হলে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় থাকবে। তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ যদি অতিরিক্ত কেনাকাটা থেকে বিরত থাকে, তবে সবাই তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি পাবে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।’

জ্বালানি মন্ত্রী আরও বলেন, সম্প্রতি জ্বালানি ক্রয়ের এই প্রবণতা ছিল ‘অস্বাভাবিক’, যা সরবরাহ শৃঙ্খলে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছি যে জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু অতিরিক্ত ক্রয়ের কারণে পাম্পগুলো দ্রুত খালি হয়ে যাচ্ছে, যা একটি অপ্রয়োজনীয় সংকটের অনুভূতি তৈরি করছে।’

ইকবাল হাসান মাহমুদ জ্বালানি তেলের আমদানি নির্ভরতার কথাও তুলে ধরেন, যা দেশীয় বাজারকে বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল করে তোলে। তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন অনিশ্চয়তা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে আমাদের সবাইকে জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক ও সাশ্রয়ী হতে হবে।’

জ্বালানির সম্ভাব্য দাম বৃদ্ধির প্রশ্নে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, সরকার সরাসরি জ্বালানির দাম নির্ধারণ করে না। তিনি বলেন, জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। সরকার এই মুহূর্তে দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।


মহান স্বাধীনতা ও গণহত্যা দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে র‍্যাবের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। বিশেষ করে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও জাতীয় প্যারেড স্কয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ভিভিআইপি ও বিদেশি কূটনীতিকদের গমনাগমন বিবেচনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঢাকাসহ সারাদেশে পর্যাপ্ত র‍্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করতে সাদা পোশাকে বিপুল সংখ্যক সদস্য মাঠে কাজ করছেন।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় ও জেলা শহরে আয়োজিত কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে ও মেলাসহ সকল জনসমাগমস্থলে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বা উগ্রবাদী গোষ্ঠী যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য র‍্যাব সার্বক্ষণিক সজাগ রয়েছে।

মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তার পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গুজব বা উসকানিমূলক তথ্য ছড়ানো রুখতে সাইবার মনিটরিং টিম কাজ করছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং ডগ স্কোয়াড দিয়ে নিয়মিত সুইপিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‍্যাব সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে এবং যেকোনো সমস্যায় তাৎক্ষণিক ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক বা টহল ইনচার্জকে অবহিত করার পরামর্শ দিয়েছে।


শনিবারও প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার সিদ্ধান্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র রমজান মাসজুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকার ফলে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে ১০টি শনিবার প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু রাখার বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক মো. অয়নাল আবেদীন স্বাক্ষরিত একটি পরিপত্রের মাধ্যমে এই নতুন নির্দেশনার কথা জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তুহিন গণমাধ্যমকে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পরিপত্রে জারি করা নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, রমজানের দীর্ঘ ছুটির পর যখন পুনরায় শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হবে, তখন থেকে পরবর্তী ১০টি শনিবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত পাঠদান প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। মূলত শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণ করতেই এই বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এই সিদ্ধান্তটি যথাযথভাবে কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট সকল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে ইতোমধ্যে দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর ফলে ছুটির পরবর্তী সময়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেও খুদে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই উদ্যোগের ফলে রমজানের দীর্ঘ ছুটির কারণে পড়ালেখার যে সাময়িক বিরতি তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।


জুলাই দায়মুক্তির অধ্যাদেশের বিষয়ে সবাই একমত: সালাহউদ্দিন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে জুলাই দায়মুক্তি অধ্যাদেশের বিষয়ে সবাই একমত প্রকাশ করেছে। প্রথম দিনে অন্তত ৪০টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ে জুলাই জনআকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে সংবিধান পরিপন্থী কোনো অধ্যাদেশ আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিশেষ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ. এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মো. মুজিবুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম খান ও জি এম নজরুল ইসলাম।

কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকের শুরুতে চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ছাত্র-জনতার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এক মিনিট নীরবতা ও মোনাজাত করা হয়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের জারিকৃত অধ্যাদেশগুলো নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

এরমধ্যে সর্বাধিক গুরুত্ব ছিল ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ-২০২৬’। এই অধ্যাদেশের বিষয়ে বৈঠকে উপস্থিত সবাই একমত প্রকাশ করেন। এরপর দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশসহ অন্তত ৪০টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়। অধ্যাদেশগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও যথার্থতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট আকারে তা জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পেশ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে এক মিটিংয়ে ফয়সালা করা সম্ভব না। তাই আরো কয়েক দফা বৈঠকে বসতে হবে। তবে অনেক বিষয়ে একমত হওয়া গেছে। জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি সংক্রান্ত অধ্যাদেশের বিষয়ে সবাই একমত প্রকাশ করেছেন। আগামীতে কোন অধ্যাদেশ গ্রহণ করা যায়, কোনটা সংশোধন করে নেওয়া যায়, আর কোনটার ক্ষেত্রে আরো পরিবর্তন লাগবে, সেগুলো নিয়েই আলোচনা হবে।

অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে কিছু সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করা হচ্ছে। আবার কিছু অধ্যাদেশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। যাচাই-বাছাইয়ে জনআকাঙ্ক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার কাজ শুরু হয়েছে। আমরা ২ এপ্রিলের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি করব। সংবিধান এবং জনআকাঙ্ক্ষা দুইটাকে সমন্বয় করে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান অবশ্যই সবার থেকে এগিয়ে থাকে।

তিনি বলেন, সব সিদ্ধান্ত এখনই জানানো যাবে না। রিপোর্ট যখন প্রকাশ হবে তখন বলা যাবে। আমরা মধ্যপথে আছি, এগোচ্ছি।

বিশেষ কমিটির সুপারিশের সঙ্গে সঙ্গে অধ্যাদেশ সরাসরি আইনে পরিণত হয় না, উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, কমিটি তাদের মতামত ও সুপারিশ সংসদে পেশ করবে, পরে সংসদই চূড়ান্তভাবে ঠিক করবে কোন অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত হবে।

সংসদ সচিবালয়ের তথ্যমতে, ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনেই অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী। পরে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিনের নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ১৫ মার্চ সংসদ অধিবেশনে সংসদে উত্থাপিত অধ্যাদেশগুলো বিশেষ কমিটিতে পাঠিয়ে ২ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কোনো অধ্যাদেশ জারি করলে এরপর অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম বৈঠকে ওই অধ্যাদেশ তুলতে হয়। সংসদ গ্রহণ না করলে অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারায়।


জ্বালানি তেল আমদানিতে গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছে ভারত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় ভারত থেকে জ্বালানি আমদানির প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে বাংলাদেশ—এ কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। একইসঙ্গে ভারতে পলাতক আসামি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ফেরত আনার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতিতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবেলায় বাংলাদেশ ভারত থেকে জ্বালানি আমদানির আগ্রহ জানায়। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ভারতের পক্ষ থেকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, ভারতে গ্রেফতার হওয়া শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামি ফয়সাল করিম ও আলমগীর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এখনো কনস্যুলার অ্যাক্সেস পায়নি বাংলাদেশ। তবে দ্রুতই এ অ্যাক্সেস পাওয়া যাবে বলে আশা করছে সরকার। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনা সরকারের অগ্রাধিকার বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত ব্যক্তিদের দেশে ফেরানোর বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়েও কাজ করছে সরকার। তিনি জানান, ইরানে অবস্থানরত দুই হাজারের বেশি বাংলাদেশি বর্তমানে নিরাপদে আছেন। তবে কেউ দেশে ফিরতে চাইলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এ সময় ১৯৭১ সালের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।


২৬ মার্চ প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আগামী ২৬ মার্চ সকাল ৯টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠিত হবে।

গতকাল (২৩ মার্চ) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন।

আইএসপিআর জানায়, এই অনুষ্ঠান সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রবেশের জন্য নির্ধারিত গেট হলো ২, ৩, ৪, ১০ ও ১১।


banner close