পদত্যাগের পর দেশত্যাগ করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৮টি অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটিতে তার দল আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ সংগঠনকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী, পুলিশের তৎকালীন আইজিসহ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কয়েকজন ওসি, পরিদর্শক, এসআই, এএসএসআই, কনস্টেবল, র্যাবের তৎকালীন ডিজি, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কয়েকজন নেতার নাম। এমনকি কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এর মধ্যে বুধবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কসহ ১০ জনকে নতুন করে তদন্ত সংস্থায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো বিচারিক প্যানেল না থাকায় এসব অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়া তথা আসামি গ্রেপ্তারের কোনো আদেশ নিতে পারছে না প্রসিকিউশন।
আজ বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, আজকের তিনটিসহ ট্রাইব্যুনালে (প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থায়) এ পর্যন্ত ২৮টি অভিযোগ এসেছে। সবগুলোতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নাম রয়েছে। আইনের বিধান অনুযায়ী তদন্ত সংস্থা এবং প্রসিকিউশন পর্যালোচনা করে যাদের মূল আসামি মনে হবে, তাদের নাম ট্রাইব্যুনালে পেশ করা হবে। বাদী পক্ষ যেটা নিয়ে এসেছেন পর্যালোচনা করে তার সাথে সংযোজন বিয়োজন হতেই পারে। ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর যেটা দাখিল করব, সেটাই হবে প্রোপার মামলা। কোর্ট বসামাত্র আমরা এ বিষয়ে যথাযথ আবেদন করব।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যনালে প্রথম অভিযোগটি দায়ের করা হয়েছিল ১৪ আগস্টে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের শহীদ আরিফ আহমেদ সিয়ামের বাবা মো. বুলবুল কবির এ অভিযোগ তদন্ত সংস্থায় দায়ের করেন। আবেদনে ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ঘটনার তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া এ সময়ে আহত হয়ে পরবর্তীতে বিভিন্ন তারিখে নিহতরা এর আওতায় থাকবেন। ঘটনার স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সমগ্র বাংলাদেশকে।
অপরাধের ধরনে বলা হয়েছে, আসামিদের নির্দেশে ও পরিকল্পনায় অন্যান্য আসামিরা দেশীয় এবং আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী সাধারণ নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে হত্যা করে তাদের সমূলে বা আংশিক নির্মূল করার উদ্দেশে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অপরাধ।
অভিযোগে ব্যক্তি ছাড়াও সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
সবশেষ বৃহস্পতিবার অভিযোগটি প্রসিকিউশনের কাছে দাখিল করে ৩ আগস্ট উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হওয়া ভ্যানচালক জসিম উদ্দিনের পরিবার।
নতুন সুখবর আসছে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য। মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বরপ্লেট স্থাপন ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিগত জটিলতা দূর করতে সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ সংশোধন করেছে সরকার। ফলে মোটরসাইকেলের কাঠামোগত ভিন্নতা বিবেচনায় নিয়ে সামনে নম্বরপ্লেট স্থাপনের পথ আরও সুগম হলো।
গত রোববার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব আল-আমীন মো. নূরুল ইসলামের স্বাক্ষরে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ১২২ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ সংশোধনী আনা হয়েছে এবং সংশোধিত বিধান অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সংশোধিত বিধিমালায় যা থাকছে এক লাইনে লেখার সুযোগ: প্রচলিত বিন্যাসের পাশাপাশি মোটরসাইকেলের সামনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর এক লাইনে লেখার সুযোগ রাখা হয়েছে। এক লাইনে লেখার ক্ষেত্রে জেলা বা অঞ্চলের নাম এবং যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের পর নির্ধারিত দৈর্ঘ্যের হাইফেন ব্যবহার করা যাবে। বিআরটিএকে ক্ষমতা প্রদান প্রসঙ্গে যা থাকছে, মোটরসাইকেলের নকশা ও কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সামনের নম্বরপ্লেটের আকার, অক্ষরের উচ্চতা, জেলা বা অঞ্চলের নাম ও যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের আকার নির্ধারণের ক্ষমতা বিআরটিএকে দেওয়া হয়েছে।
পরিমাপ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও নতুন সংশোধন আনা হয়েছে। প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ নম্বরপ্লেটের চুম্বক অংশে ফাঁকা জায়গা, দুটি সংখ্যার মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানের দৈর্ঘ্য এবং দ্বিতীয় লাইনে সংখ্যাগুলোর মধ্যবর্তী হাইফেনের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করতে পারবে। হঠাৎ করে কেন এই সংশোধন তা বিস্তারিত তুলে ধরেছে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। অনেক মডেলের ক্ষেত্রে প্রচলিত আকারের নম্বরপ্লেট স্থাপন করা কঠিন ছিল। এই বাস্তব অসুবিধা দূর করতেই কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নম্বরপ্লেটের আকার ও বিন্যাস নির্ধারণের সুযোগ তৈরি করা হলো।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়ার কারণে সিসিটিভি ও স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে যানবাহন পর্যবেক্ষণে সামনের নম্বরপ্লেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সড়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অন্যান্য যানবাহনের পাশাপাশি মোটরসাইকেলকেও ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা জরুরি হয়ে পড়েছিল।
তবে কোনো ধরনের মোটরসাইকেলে কী আকারের ও বিন্যাসের নম্বরপ্লেট স্থাপন করা হবে, সে বিষয়ে বিআরটিএ’র পরবর্তী নির্দেশনা দেবে বলে জানা যায়।
২০২৭ সালের জন্য সাধারণ ও নির্বাহী আদেশ মিলিয়ে মোট ২৯ দিনের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই বৈঠকে বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত আইনের সংশোধনীর খসড়াও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৬তম বৈঠকে এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২৭ সালের জন্য অনুমোদিত সরকারি ছুটির তালিকায় জাতীয় দিবস ও বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে ১৫ দিন সাধারণ ছুটি রাখা হয়েছে। তবে এই ১৫ দিনের মধ্যে চার দিন পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে (দুটি শুক্রবার ও দুটি শনিবার)। অন্যদিকে বাংলা নববর্ষ ও ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে আরও ১৪ দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে তিন দিন সাপ্তাহিক ছুটি (একটি শুক্রবার ও দুটি শনিবার) রয়েছে।
ফলে ১৫ দিনের সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিনের নির্বাহী আদেশের ছুটি মিলিয়ে মোট ২৯ দিন হলেও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়ে যাওয়া সাত দিন বাদ দিলে আগামী বছর কার্যকর সরকারি ছুটি হবে মোট ২২ দিন। এছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা বছরে সর্বোচ্চ তিন দিন ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও দেশের অন্যান্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীরা তাদের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি বা অনুরূপ উৎসবে দুই দিন ঐচ্ছিক ছুটি পাবেন।
ছুটির তালিকার পাশাপাশি একই বৈঠকে বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণের জন্য প্রস্তুতকৃত ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। এর আগে জারি করা অধ্যাদেশটিকে সংবিধানের নিয়ম অনুসারে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে আইনে পরিণত করার লক্ষ্যে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে এই খসড়াটি অনুমোদন দেয়া হয়।
এ ছাড়া সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সম-আচরণ ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
নতুন এই সংশোধনীতে দেশীয় শিল্প সংরক্ষণ, নতুন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, নারী এবং সুযোগবঞ্চিত দরপত্রদাতাদের জন্য বিশেষ সুবিধার পাশাপাশি উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির আধুনিকায়ন ও বিকল্প ক্রয় ব্যবস্থার সংস্থান রাখা হয়েছে। সম্প্রতি জারি করা অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে তৈরিকৃত এই খসড়াটি ইতিমধ্যে বিপিডিএ ও আইএমইডি-র ওয়েবসাইটে জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রকাশ করা হয়েছিল।
এখন থেকে নিবন্ধন নিয়ে রাজধানীর বুকে চষে বেড়াতে পারবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব যানবাহনকে নিয়ন্ত্রণ করবে সরকার। সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। প্রথমে যানবাহনগুলোকে আইনি নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। পরে পর্যায়ক্রমে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হবে।
গত রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে সিটি করপোরেশন এলাকায় ধীরগতির ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান (ই-রিকশা) চলাচল-সংক্রান্ত বিধিমালা নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
২০২৬ সালে জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ সংশোধনের মাধ্যমে ই-রিকশা নিবন্ধনের আইনি ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আইনের ১২০ ধারায় এ-সংক্রান্ত বিধান যুক্ত করা হয়েছে। বিধিমালা প্রণয়নের পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে তা সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে।’
ফলে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করতে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানান তিনি। নতুন নীতিমালায় দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি আট হাজার টাকা। ফিটনেস পরীক্ষা শেষে এক বছর পর নবায়ন করতে ফি দিতে হবে চার হাজার টাকা। চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা। এক বছর পর নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ টাকা। বিধিমালা অনুযায়ী, একটি ই-রিকশা সর্বোচ্চ ১২ বছর চলাচল করতে পারবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের দেওয়া কিউআর কোডযুক্ত ফিটনেস সনদ প্রদর্শনের জন্য অতিরিক্ত এক হাজার টাকা ফি দিতে হবে।
এখন থেকে ই-রিকশা উৎপাদন তদারকি এবং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদনের সুপারিশ করতে সরকার সাত সদস্যর একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), সিটি করপোরেশন, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা শুধু চালালেই হবে না, মানতে হবে বিস্তর আইন। আর আইন ভঙ্গ করলেই হবে শাস্তি ও জরিমানা। এ ছাড়া নিষিদ্ধ এলাকায় চলাচল, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, যাত্রী ছাড়া মালামাল বহন, ট্রাফিক সংকেত অমান্য করা এবং দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়াও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এদিকে ঢাকায় ই-রিকশা চলাচলের জন্য আটটি জোন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, যার মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিটিতে চারটি করে জোন থাকবে। প্রতিটি জোনের ই-রিকশার রং হবে আলাদা। ফলে এক জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না। নিবন্ধনের পর চালকদের লাইসেন্স প্রদান করা হবে বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়।
ব্যাংক ঋণের সুদ ও পরিচালন ব্যয় কমানো এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আয় বাড়িয়ে চলতি অর্থবছরে ভর্তুকি ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।
একই সঙ্গে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি। তবে বিদ্যমান ভর্তুকির পণ্যের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই সরকারের।
টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ বলেন, ‘সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সংস্থাটিকে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য পণ্য কেনার খরচ, ব্যাংক ঋণের সুদ ও পরিচালন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
ফয়সল আজাদ বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে আমরা ভর্তুকির ব্যয় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা কমানোর লক্ষ্য নিয়েছি। তবে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়লে সংস্থার মোট ভর্তুকির প্রয়োজনও বাড়তে পারে।’
২০২৫-২৬ অর্থবছরে টিসিবির ভর্তুকি ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৫১৪ কোটি ২২ লাখ টাকা। এ খাতে বাজেটে বরাদ্দ ছিল প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। পণ্য কেনা ও বিক্রির দামের পার্থক্য এবং ব্যাংক ঋণের সুদ—ভর্তুকির বড় দুটি উৎস।
টিসিবির চেয়ারম্যান বলেন, ‘টিসিবির মূল সমস্যা হলো, যে দামে পণ্য কেনা হয়, সেই দামের চেয়ে অনেক কম দামে তা বিক্রি করতে হয়। কিছু পণ্য কেনা দামের তুলনায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কম দামে বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে ভোজ্যতেলে ভর্তুকির প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি।’
২০২২ সাল থেকে টিসিবি প্রতি লিটার ভোজ্যতেল ১০০ টাকায় বিক্রি করছে। অথচ বর্তমানে ডিলার কমিশন ও সংশ্লিষ্ট ব্যয়সহ প্রতি লিটার তেল কিনতে খরচ হচ্ছে প্রায় ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা। ব্যাংক ঋণের সুদ যোগ করলে এ খরচ প্রায় ২০০ টাকায় দাঁড়ায়।
ব্যাংক ঋণের সুদ কমাতে টিসিবি এখন ঋণপত্র (এলসি) ও ঋণপত্রের বিপরীতে ঋণ (এলটিআর) সুবিধার পরিবর্তে নগদ অর্থে চিনি ও মসুর ডাল কিনছে। এতে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ব্যাংক ঋণের সুদ বাবদ প্রায় ১৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। একই সময়ে স্থানীয় বাজার থেকে নগদ অর্থে চিনি ও মসুর ডাল কেনায় এলসি চার্জ ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় কমেছে প্রায় ৪২ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
টিসিবির চেয়ারম্যান জানান, সংস্থাটির বার্ষিক ব্যাংক ঋণের সুদ ব্যয় বর্তমানে প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি টাকা। এ ব্যয় থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
ফয়সল আজাদ বলেন, ‘আমরা ঋণপত্র (এলসি) এবং ব্যাংক ও সরকারের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার নির্ভরতা কমাচ্ছি। যেখানে সম্ভব, নগদ অর্থে পণ্য কেনা হচ্ছে।’
এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের তুলনায় ১ দশমিক ২৫ শতাংশ কম সুদে ঋণসুবিধা পাওয়ায় বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি খোলা ও এলটিআর সুবিধা নেওয়া শুরু করেছে টিসিবি।
বিক্রির অর্থ দ্রুত সংস্থার ব্যাংক হিসাবে জমা নিশ্চিত করতে একটি অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) চালু করেছে টিসিবি। আগে অর্থ জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) হিসাবের মাধ্যমে আসত। নতুন ব্যবস্থায় ডিলারদের কাছ থেকে বিক্রির অর্থ দ্রুত টিসিবির হিসাবে জমা হবে। এতে নগদ অর্থের প্রবাহ বাড়বে এবং ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভর না করে নগদে পণ্য কেনা সহজ হবে।
ভর্তুকির বাইরেও আয় বাড়াতে সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণকে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে বাজারে এনেছে টিসিবি। এসব পণ্য প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হলেও কেনা দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা মুনাফা করেছে সংস্থাটি।
আয়ের উৎস বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ফয়সল আজাদ বলেন, ‘শুধু ব্যয় কমিয়ে ভর্তুকির চাপ কমানো সম্ভব নয়। আমাদের আয়ও বাড়াতে হবে।’
পরিবহন, পণ্য ওঠানো-নামানোসহ সংশ্লিষ্ট ব্যয় কমাতে বিতরণব্যবস্থায়ও পরিবর্তন এনেছে টিসিবি। আগে আঞ্চলিক গুদাম থেকে পণ্য জেলা প্রশাসনের গুদামে পাঠানো হতো। এখন আঞ্চলিক গুদাম থেকেই সরাসরি পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে এ ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে।
এ ছাড়া জরিপের কাজে পুনরাবৃত্তি ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। টিসিবির চেয়ারম্যান জানান, জরিপ ও এ সংক্রান্ত কাজে বছরে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। একই ধরনের জরিপের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করা গেলে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব।
তবে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়লে ভর্তুকির মোট পরিমাণও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেন টিসিবির চেয়ারম্যান। বর্তমানে অতিরিক্ত পণ্যসহ টিসিবির কার্যক্রমের আওতায় প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ পণ্য কিনছেন। চলতি অর্থবছরে এ সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
ফয়সল আজাদ বলেন, ‘চলতি বছর ৮০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারলে আগামী অর্থবছরে এক কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানোর আশা করছি।’
বিদ্যমান ভর্তুকির পণ্যের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই জানিয়ে টিসিবির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এসব পণ্য আগের দামেই বিক্রি হবে। নতুন বাণিজ্যিক পণ্যও যুক্ত করা হচ্ছে, তবে সেগুলো কেনা উপকারভোগীদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।’
ফয়সল আজাদ বলেন, ‘উপকারভোগীরা চাইলে নতুন পণ্য কিনতে পারবেন। এসব পণ্য কেনা সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। কাউকে তা কিনতে বাধ্য করা হবে না।’
টিসিবি চেয়ারম্যানের আশা, বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আয় বৃদ্ধি, ঋণের সুদ ও পরিচালন ব্যয় কমানো এবং দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরে ধীরে ধীরে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন করে চুক্তি করা হবে, নাকি বিদ্যমান চুক্তি নবায়ন করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, গঙ্গা চুক্তি নিয়ে ভারত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি আশা করছেন, গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী একটি কমিটি গঠন করেছেন। সেই কমিটিতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও অর্থ উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা রয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।
চুক্তির বিষয়টি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ে গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। আনুষ্ঠানিক আলোচনাটি ফলপ্রসূ হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ।’ শামা ওবায়েদ আরও বলেন, ‘যে চুক্তিটি এ বছর মেয়াদোত্তীর্ণ হচ্ছে, সেটি আবার নবায়ন হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি এবং আশা রাখি। আশা করছি, ভারত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।’
চুক্তি নবায়ন নাকি নতুন কোনো কাঠামোয় আলোচনা হবে, এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আলোচনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ন্যায্য দাবি এবং দেশের মানুষের পানির প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পানিসংকটের সমাধানে ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে উপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বার্থ ও মানুষের পানির চাহিদা বিবেচনায় রেখেই ভারতের সঙ্গে আলোচনায় এগিয়ে যাবে সরকার।’
শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা করছে, তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, শ্রমিকদের দাবি ছিল মজুরি বোর্ড গঠনের, সেটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মজুরি বোর্ডের জন্য শ্রমিকরা কখনো সড়ক-মহামসড়ক অবরোধ করেনি। আমরা দেখেছি মুখোশধারী যারা গ্রেপ্তার হয়েছে, তারা ওখানে রাজনৈতিক স্লোগান দিয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন গার্মেন্টস মালিক নেতারা। ওই বৈঠক শেষে ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হবে।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে রবিবার (১ নভেম্বর) মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে। সোমবার সেই বোর্ডের প্রথম সভা হতে পারে অথবা সম্ভাব্য খুব স্বল্পতম সময়ের মধ্যে তারা বসবেন।
এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা হবে এবং সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই যথা-শিগগির সম্ভব তাদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে সেটি ঘোষণা হতে পারে। আশা করি, তারা সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ন্যূনতম মজুরি ঠিক করতে পারবেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন— যেন শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ হয় এবং তাদের জীবনমানের উন্নয়ন হয়। শ্রমিকদের বিষয়গুলো যেন অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে দেখা হয়। সুতরাং, বাস্তবতার নিরিখে মজুরি নির্ধারিত হবে। এখানে অসন্তোষের কিছু নেই।
গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা শিল্প মালিকদের সহযোগিতা চেয়েছি এবং তারা আমাদের সহযোগিতা করবেন। সেই সঙ্গে তারা বলেছেন— কিছু শিল্প মালিক আছে এবং শিল্প কারখানা আছে, যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে শিল্প কারখানা বন্ধ করেছে। তাদের তালিকা তারা আমাদের প্রদান করবেন। এ ছাড়াও কিছু কিছু শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এখানে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য পাঁয়তারা করছে, সে সব সংগঠন এবং নামের তালিকাও আমরা তাদের সরবরাহ করতে বলেছি। তবে আমরা বিশ্বাস করি, কোনো শ্রমিক এবং কোনো শ্রমিক সংগঠন শ্রমিকের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থাকতে পারেন না।
জাতীয় সংসদ ভবনে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) এই সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সংসদীয় গণতান্ত্রিক চর্চা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রম অধিকার এবং সংবিধান সংশোধন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।
এসময় চিফ হুইপ বলেন, দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশে সংসদীয় গণতান্ত্রিক চর্চা ফিরে এসেছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, সাংবাদিক, জুলাইযোদ্ধা এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। বিরোধী দলকেও সংশ্লিষ্ট কমিটিতে অংশগ্রহণের জন্য বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে। এখনও তাদের জন্য আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল আন্দোলনের পরিবর্তে সংসদে এসে তাদের বক্তব্য তুলে ধরতে পারে। গণতান্ত্রিক কার্যব্যবস্থার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো জাতীয় সংসদ। সংসদীয় আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
আলোচনায় সংসদ সদস্যদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে বাংলাদেশ-ইইউ সংসদীয় ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি সংসদীয় বাজেট ব্যবস্থাপনা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ফোরাম আয়োজনের বিষয়টি আলোচনায় স্থান পায়। একই সঙ্গে শ্রম আইন সংশোধন, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা, ট্রেড ইউনিয়নের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং শিল্প খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়।
এসময় গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করা এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত অগ্রগতি অব্যাহত রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়।
ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রত্যাবর্তনের প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে কৌশলগত নেতৃত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা অবশ্যই ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে পরিচালিত হতে হবে। এ ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, জাতীয় মর্যাদা, নিরাপত্তা ও জনগণের কল্যাণ সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুবিধার ভিত্তিতে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।’
আজ বঙ্গভবনে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২৬ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০২৬-এ অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদানকালে রাষ্ট্রপতি এ গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে মানসম্মত নেতৃত্ব, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় স্বার্থ অর্জনে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
তিনি এসময় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তাঁদের সাহস, আত্মত্যাগ ও অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করেন।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের অসামান্য অবদান ও স্বাধীনতার ঘোষণার কথা উল্লেখ করে তিনি তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
এসময় তিনি ১৯৭৭ সালে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পেশাদার সামরিক শিক্ষা বিস্তারে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথাও স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রপতি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও গত ১৭ বছরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারীদের স্মরণ করেন এবং জনগণের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার দেওয়ার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, প্রচলিত নিরাপত্তা উদ্বেগের পাশাপাশি বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন, সাইবার হুমকি, আন্তঃদেশীয় অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, মহামারি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা শুধু সামরিক প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশগত স্থায়িত্ব, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানও জড়িত।
পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গোপসাগর ও বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের কারণে সতর্কতা ও দূরদর্শিতার গুরুত্ব বিশেষভাবে বেড়েছে।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি যুদ্ধ ও নিরাপত্তার ধরন পরিবর্তন করে দিচ্ছে। একই সঙ্গে ভুল তথ্য, অপতথ্য এবং সাইবার হুমকি জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
উদীয়মান এই বাস্তবতা মোকাবিলায় কৌশলগত দূরদর্শিতা, সঠিক বিচার-বিশ্লেষণ, বুদ্ধিবৃত্তিক উদারতা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দেশের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতাসম্পন্ন নেতৃত্ব প্রয়োজন বলে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন।
ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি সশস্ত্র বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে মতবিনিময় ও সমসাময়িক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অভিন্ন উপলব্ধি গড়ে তোলার একটি অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
রাষ্ট্রপতি ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২৬ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০২৬-এর অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সবকিছুর ঊর্ধ্বে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে স্থান দিতে হবে। একই সঙ্গে পেশাদারিত্ব, সততা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি বজায় রেখে কাজ করতে হবে।
কোর্সে অন্য দেশের অংশগ্রহণকারীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে তাঁদের এই অভিজ্ঞতা তাদের নিজে নিজ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে সহায়ক হবে।
রাষ্ট্রপতি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, জাতিসমূহের মধ্যে বন্ধুত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পৃক্ততার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা, মতবিরোধের পরিবর্তে সংলাপ এবং সংঘর্ষের পরিবর্তে শান্তির আহ্বান জানান।
পাশাপাশি সক্ষম ও দূরদর্শী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার জন্য ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো: ফয়জুর রহমান।
এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ফ্যাকাল্টির সদস্য, এনডিসি কোর্স সম্পন্নকারী সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, এএফডব্লিউসি কোর্স সম্পন্নকারী সেনাবাহিনীর অফিসার, এনডিসি কোর্সে অংশগ্রহণকারী বিদেশি কোর্স সদস্য, আর্মি স্টাফ অফিসারবৃন্দ ও জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও)গণ এবং বঙ্গভবনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
উল্লেখ্য, ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স ২০২৬-এ বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী থেকে ৫৪ জন, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস থেকে ১৮ জন এবং বন্ধুপ্রতিম ১৭টি দেশ থেকে ৩১ জনসহ মোট ১০৩ জন সদস্য অংশ নেন। সূত্র: বাসস
শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও মজুরির দাবিকে হাতিয়ার বানিয়ে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো চক্রান্তই সফল হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ের পথ উন্মুক্ত থাকলেও শিল্প খাতে কোনো ধরনের তাণ্ডব, ভাঙচুর কিংবা নাশকতার সুযোগ দেওয়া হবে না।
সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি এসব অভিমত ব্যক্ত করেন।
পোশাক খাতের পটভূমি তুলে ধরে মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী উদ্যোগেই বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের ঐতিহাসিক সূচনা ঘটেছিল, যার মাধ্যমে দেশে নারীর ক্ষমতায়ন ও বৃহৎ পরিসরে কর্মসংস্থানের দিগন্ত উন্মোচিত হয়। পরবর্তী সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলেও এ শিল্পের বিস্তার এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখা হয়েছিল।
তিনি জানান, সেই ধারা বজায় রেখে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রমবান্ধব প্রশাসন মেহনতি মানুষের ন্যায্য মজুরি, আত্মমর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। ক্ষমতাসীন হওয়ার পর অতি দ্রুততার সঙ্গে বিগত ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় শ্রমিকদের সমুদয় বেতন ও বোনাস যথাসময়ে পরিশোধের বিষয়টি সরকার নিশ্চিত করেছে।
পোশাক শিল্পের সঙ্গে লাখ লাখ শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খল ও সামগ্রিক অর্থনীতি ওতপ্রোতভাবে যুক্ত থাকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই উপদেষ্টা জানান, শ্রমিকদের উপযুক্ত মজুরি নিশ্চিতের পাশাপাশি কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যয়, সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতার দিকগুলোকেও গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। এ কারণেই মালিক, শ্রমিক ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে পোশাক খাতের মজুরি পুনর্নির্ধারণে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় একটি নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। সবার ইতিবাচক আলোচনার মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক ন্যূনতম মজুরি চূড়ান্ত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তবে মজুরি নির্ধারণ প্রক্রিয়ার মধ্যেও একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী পোশাক শিল্পকে অস্থিতিশীল করতে অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন মাহদী আমিন। তিনি লেখেন, ‘পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের উসকানি ও নাশকতার মাধ্যমে শ্রমিকদের দাবিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। কারখানায় আক্রমণ, আগুন দেওয়া ও পুলিশের ওপর হামলা শ্রমিকদের স্বার্থের পরিপন্থি।’
শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ হয়ে পড়লে খোদ শ্রমিকরাই সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে কর্মহীনতা বৃদ্ধি ও রপ্তানি আয় কমার পাশাপাশি সার্বিক অর্থনীতি চরম বিপর্যয়ে পড়বে; তাই কোনো ধরনের সহিংসতা কিংবা শিল্প ধ্বংসের অপতৎপরতাকে বরদাশত করা হবে না।
সাধারণ শ্রমিকদের উসকানি ও গুজবের ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘সাধারণ শ্রমিক ভাই-বোনদের প্রতি আমাদের আহ্বান, কোনো ধরনের গুজব বা উসকানিতে পা দেবেন না। যেকোনো যৌক্তিক ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় শ্রমবান্ধব সরকার সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে।’
ভূমিকম্পের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণ এবং জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও করণীয় বিষয়ে এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।
সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাগুলোতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরোনো ভবন শনাক্ত, ভবন নির্মাণে জাতীয় বিল্ডিং কোড অনুসরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা, উদ্ধার সরঞ্জামের পর্যাপ্ততা, উদ্ধারকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভূমিকম্পবিষয়ক সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজুসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস
সাধারণ ও নিরীহ পোশাক শ্রমিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রাজপথে নাশকতা, সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে দেশে চরম অস্থিরতা তৈরির নেপথ্যে কিছু কারখানা মালিকের সরাসরি জড়িত থাকার অডিও ও ভিডিও প্রমাণ সরকারের হাতে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে তৈরি পোশাক খাতের চলমান অস্থিরতা নিরসনে গার্মেন্টস মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিগত কিছুদিন ধরে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শক্তির মদদপুষ্ট কিছু পক্ষ শ্রমিক অসন্তোষের আড়ালে রাজপথ উত্তপ্ত করে দেশকে অস্থিতিশীল করার সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। অথচ প্রকৃত উৎপাদনমুখী শ্রমিক কিংবা তাঁদের ট্রেড ইউনিয়ন নেতারা কখনই নিজেদের রুটি-রুজির কর্মসংস্থান ধ্বংস অথবা নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি প্রত্যাশা করেন না। অডিও ও ভিডিওর মতো সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে এ সংঘাতের পেছনে থাকা মূল ইন্ধনদাতা এবং চিহ্নিত কিছু শিল্পমালিককে ইতিমধ্যে আইনের আওতায় নেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
পোশাক খাতের সংকট নিরসনে আয়োজিত এই বিশেষ বৈঠকে সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, শ্রমিক নেতা ও সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার। এ ছাড়া বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ও নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানসহ পুলিশ এবং বিভিন্ন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।
শিল্পের নিরাপত্তা ও উৎপাদনশীলতা নিশ্চিতের প্রত্যয় ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের কোনো কারখানা যেন এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ না হয় এবং একজন শ্রমিকও যাতে চাকরি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে লক্ষ্যে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার ধারাবাহিকতায় সোমবার বিকেলেই সকল শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক আরেকটি সমন্বিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং উভয় পক্ষের বাস্তবসম্মত মতামতের ভিত্তিতেই পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে বলে জানান তিনি।
মোটরসাইকেলের সামনের অংশে রেজিস্ট্রেশন নম্বরপ্লেট প্রদর্শনের প্রচলিত নীতিমালায় সংশোধনী এনেছে সরকার। নতুন বিধানের আওতায় দ্বিচক্রযানের কাঠামোগত নকশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সামনের অংশে নিবন্ধন নম্বর এক লাইনে লেখার অনুমতি দিতে পারবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। একই সঙ্গে বিভিন্ন মাপের বিপরীতমুখী রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ প্লেট ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ার এখতিয়ারও দেওয়া হয়েছে সংস্থাটিকে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জারি করা এ-সংক্রান্ত সংশোধিত প্রজ্ঞাপনটি রবিবার বাংলাদেশ গেজেটে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে গত ২৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেন উপসচিব আল-আমীন মো. নুরুল ইসলাম। আদেশে জানানো হয়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ১২২ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর ৩৬ বিধিতে এই সময়োপযোগী পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, পূর্বে নির্ধারিত পদ্ধতির পাশাপাশি বিআরটিএর বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে সামনের নম্বরপ্লেটে এক সারিতেই রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শন করা যাবে। সে ক্ষেত্রে জেলা বা অঞ্চলের নাম এবং যানের শ্রেণি নির্দেশক অক্ষরের পর নির্দিষ্ট মাপের হাইফেন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া সামনের নম্বরপ্লেটের অক্ষরের উচ্চতা, জেলা বা অঞ্চলের নামের মাত্রা, যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশক হরফের অনুপাত, প্লেটের উপরিভাগের ফাঁকা অংশ এবং সংখ্যানুক্রমের মধ্যবর্তী দূরত্ব নির্ধারণের প্রশাসনিক কর্তৃত্বও বিআরটিএকে দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, সড়ক পরিবহন বিধিমালার ৩৬ বিধির উপবিধি (১০) থেকে ‘মোটরসাইকেল এবং’ শব্দ দুটি প্রত্যাহার করে বিলুপ্ত করা হয়েছে। নতুন এই সংশোধিত বিধিমালা অবিলম্বে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপতৎপরতা সরকার অত্যন্ত কঠোর হাতে প্রতিহত করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি অভিযোগ করেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে অনেকেই ভিন্ন অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে সীমান্তের ওপারের ইশারায় দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছেন। সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তৈরি পোশাক কারখানার মালিক নেতাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজপথে আন্দোলনের নামে আইনবহির্ভূত তৎপরতা ও জনজীবনে দুর্ভোগ তৈরির চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। যারা শ্রমিক আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে নাশকতায় জড়াবে কিংবা আইন অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শিল্পাঞ্চলে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে, তার সঙ্গে প্রকৃত সাধারণ পোশাকশ্রমিকেরা জড়িত ছিলেন না; বরং ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক শক্তির দোসররাই ভিন্ন উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এসব সহিংসতা উসকে দিচ্ছে।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মহলে আলোচিত ‘ডিসেম্বর’ ইস্যু নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ডিসেম্বর হলো জাতির মহান বিজয়ের মাস এবং এ মাসে রাষ্ট্রীয় নানাবিধ গৌরবময় কর্মসূচি থাকবে। কোনো পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি যদি দেশে ফিরতে চায়, তবে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা না করে তাদের এখনই ফিরে আসা উচিত। দেশে প্রত্যাবর্তন করলে তাঁদের প্রচলিত আইন অনুসারেই বিচার ও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিদেশে আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক নিয়মে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। মূলত নিজেদের হতাশ ও পলাতক নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখতেই একটি মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে ডিসেম্বরের কথা বলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।