সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
৪ কার্তিক ১৪৩৩

ট্রাইব্যুনালে হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার ২৮ অভিযোগ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ২০:৩৭

পদত্যাগের পর দেশত্যাগ করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৮টি অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটিতে তার দল আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ সংগঠনকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী, পুলিশের তৎকালীন আইজিসহ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কয়েকজন ওসি, পরিদর্শক, এসআই, এএসএসআই, কনস্টেবল, র‌্যাবের তৎকালীন ডিজি, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কয়েকজন নেতার নাম। এমনকি কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে।

এর মধ্যে বুধবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কসহ ১০ জনকে নতুন করে তদন্ত সংস্থায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো বিচারিক প্যানেল না থাকায় এসব অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়া তথা আসামি গ্রেপ্তারের কোনো আদেশ নিতে পারছে না প্রসিকিউশন।

আজ বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, আজকের তিনটিসহ ট্রাইব্যুনালে (প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থায়) এ পর্যন্ত ২৮টি অভিযোগ এসেছে। সবগুলোতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নাম রয়েছে। আইনের বিধান অনুযায়ী তদন্ত সংস্থা এবং প্রসিকিউশন পর্যালোচনা করে যাদের মূল আসামি মনে হবে, তাদের নাম ট্রাইব্যুনালে পেশ করা হবে। বাদী পক্ষ যেটা নিয়ে এসেছেন পর্যালোচনা করে তার সাথে সংযোজন বিয়োজন হতেই পারে। ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর যেটা দাখিল করব, সেটাই হবে প্রোপার মামলা। কোর্ট বসামাত্র আমরা এ বিষয়ে যথাযথ আবেদন করব।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যনালে প্রথম অভিযোগটি দায়ের করা হয়েছিল ১৪ আগস্টে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের শহীদ আরিফ আহমেদ সিয়ামের বাবা মো. বুলবুল কবির এ অভিযোগ তদন্ত সংস্থায় দায়ের করেন। আবেদনে ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ঘটনার তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া এ সময়ে আহত হয়ে পরবর্তীতে বিভিন্ন তারিখে নিহতরা এর আওতায় থাকবেন। ঘটনার স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সমগ্র বাংলাদেশকে।

অপরাধের ধরনে বলা হয়েছে, আসামিদের নির্দেশে ও পরিকল্পনায় অন্যান্য আসামিরা দেশীয় এবং আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী সাধারণ নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে হত্যা করে তাদের সমূলে বা আংশিক নির্মূল করার উদ্দেশে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অপরাধ।

অভিযোগে ব্যক্তি ছাড়াও সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

সবশেষ বৃহস্পতিবার অভিযোগটি প্রসিকিউশনের কাছে দাখিল করে ৩ আগস্ট উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হওয়া ভ্যানচালক জসিম উদ্দিনের পরিবার।


নির্বাচিত

জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে না বিরোধী দল: প্রধানমন্ত্রী

স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান মঞ্চে বিরোধী দলের অনুপস্থিতি মূলত শহীদ পরিবারের প্রতি একধরনের অবজ্ঞার সামিল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৫৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কার হাতে থাকবে তা দেশের সচেতন জনগণ ভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ করেছে এবং সেই রায়ের ফলেই বিএনপি আজ রাষ্ট্রক্ষমতায় আর অন্য দল বিরোধী দলের আসনে বসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, আমন্ত্রিত হওয়া সত্ত্বেও ওসমানী উদ্যানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান মঞ্চে বিরোধী দলের অনুপস্থিতি মূলত শহীদ পরিবারের প্রতি একধরনের অবজ্ঞার সামিল।

সোমবার সকালে রাজধানী ঢাকার ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানে সদ্য নির্মিত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত উদ্যান এবং এর প্রাঙ্গণে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করার পর আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বর্তমান বিরোধী দল কেবল অন্ধভাবে বিরোধিতার খাতিরেই সরকারের বিরোধিতা করে যাচ্ছে বলে সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে এবং তা হওয়া উচিত বাস্তবসম্মত। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, এই রাজনৈতিক দল ও তাদের নেতারা কখনোই অন্তরে জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করতে পারে না, আর সে কারণেই আমন্ত্রণপত্র পাওয়ার পরেও বিরোধীদলীয় নেতা এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।

বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন যে, শাসক দলের সঙ্গে একই মঞ্চে আসন গ্রহণ করায় যদি তাদের কোনো ধরনের নীতিগত আপত্তি বা অনীহা থেকেই থাকে, তবে তারা তো চাইলে সরাসরি শহীদ পরিবারের সদস্য ও প্রিয়জনদের সঙ্গেও একত্রে বসতে পারতেন। অথচ এই সাধারণ জনগণের ভোটদানের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের ফলেই আজ একদিকে বিএনপি সরকার গঠন করেছে এবং অন্যদিকে তারাই প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে স্থান পেয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন যে ভোটযুদ্ধের আগে বর্তমান বিরোধী দল ও তাদের প্রার্থীরা নিশ্চয়ই দেশের সাধারণ ভোটারের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে নিজেদের পক্ষে রায় চেয়েছিল, যেমনটি আমরাও গিয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত জনগণই স্বতঃস্ফূর্তভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আগামী পাঁচ বছর কারা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে এবং সেই জনরায়ের মাধ্যমেই বিএনপিকে সরকারে বসানো হয়েছে এবং অপর দলকে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

উদ্বোধনী এই বিশেষ আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।


নির্বাচিত

জাপান-বাংলাদেশের চুক্তি সই, ১ এপ্রিল থেকে কর্মী নিয়োগ শুরু

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দক্ষ কর্মী পাঠানোর পথ সুগম করতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত একটি নতুন সহযোগিতা স্মারক বা এমওসি চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক চুক্তির আওতায় আগামী ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে পূর্ব এশিয়ার উন্নত দেশটিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের কর্মসংস্থান শুরু হবে।

সোমবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চুক্তি সই এবং কর্মী নিয়োগ চালুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

এর আগে গত রোববার উভয় দেশের দীর্ঘ প্রায় এক বছরের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জাপান সরকারের মধ্যে ‘এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট’ বিষয়ক এই নতুন চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশের পক্ষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাপানের পক্ষে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা এই চুক্তির নথিতে স্বাক্ষর করেন।

বর্তমান সরকারের বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের দীর্ঘ ইতিহাসেও এটি একটি অন্যতম যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির কপি উভয় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।

নির্ধারিত এই চুক্তির শর্তানুযায়ী, ২০২৭ সালের এপ্রিল মাস থেকেই জাপান বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করবে। চুক্তিটির প্রাথমিক মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ বছর এবং এই মেয়াদ সমাপ্ত হওয়ার পর তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছর বর্ধিত হবে, যার ফলে সামগ্রিক চুক্তির মেয়াদ দাঁড়াবে দীর্ঘ দশ বছর। এই ঐতিহাসিক চুক্তির মাধ্যমে জাপানে গমনকারী বাংলাদেশি কর্মীরা নজিরবিহীন পেশাগত সুযোগ এবং পূর্ণাঙ্গ আইনি সুরক্ষা লাভ করবেন।

চুক্তির মূল সুবিধাসমূহ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন যে, এর মাধ্যমে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং কর্মী পাঠানো ও গ্রহণের ক্ষেত্রে উভয় দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে। এছাড়া এই কর্মসংস্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের পেশাগত দক্ষতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মীরা তুলনামূলক উচ্চ বেতন অর্জনের পাশাপাশি জাপানে দীর্ঘমেয়াদে বসবাস করার সুবর্ণ সুযোগ পাবেন।

মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে জানান যে, এই চুক্তির আওতায় নিয়োজিত কর্মীরা স্থানীয় জাপানি শ্রমিকদের সম্পূর্ণ সমতুল্য আইনি অধিকার ও সুরক্ষাপ্রাপ্ত হবেন এবং কর্মক্ষেত্রগুলোতে নারী ও পুরুষ কর্মীরা সমান সুযোগ লাভ করবেন। বিশেষ করে বিদেশি নারী কর্মীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা কিংবা সন্তান জন্মদানের মতো বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের চাকরিচ্যুতি বা বৈষম্যমূলক আচরণ করার সুযোগ রাখা হয়নি। অর্থাৎ গর্ভধারণ বা সন্তান প্রসূতি হওয়ার কারণ দেখিয়ে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানোর কোনো বাধ্যবাধকতামূলক বিধান এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দুই বন্ধুভাবাপন্ন দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিশাল জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের পথ আরও অনেক বেশি প্রশস্ত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল দৃঢ় আশা প্রকাশ করেছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

ওসমানী উদ্যানে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে উদ্যানটি আজ নগরবাসীর সাধারণ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানে নতুনভাবে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার সকাল দশটার দিকে প্রধানমন্ত্রী আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত এই উদ্যান প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ এবং সংস্কারকৃত পুরো উদ্যানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

প্রায় পঞ্চাশ কোটি টাকা ব্যয়ে মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে পার্কটির আধুনিকায়ন কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে উদ্যানটি আজ নগরবাসীর সাধারণ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো।

উদ্বোধনের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান (মিল্টন)।


নির্বাচিত

সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে ব্যাখ্যা চাইল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহকে ডেকে ব্যাখ্যা চেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় তাকে ডাকা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহকে ডেকে পাঠানো হয়। তিনি উপস্থিত হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব-পশ্চিম) বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করেন।

এর আগে শনিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছিলেন, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে সৌদি সরকারকে আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দিয়েছি। আমরা একটু অপেক্ষা করি। দেশটির জবাব পেলে তারপরে পরিষ্কারভাবে বলতে পারব। মৃত্যুদণ্ড নিয়ে সৌদির কাছে যা যা জানার দরকার, সবকিছুই জানতে চেয়েছি’—উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই বাংলাদেশির নাম নাজেরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সিতি আক্তার বলে জানিয়েছে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গত বুধবার ওই দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ করার দায়ে তাদের এ সাজা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এক বিবৃতিতে জানায়, সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী ওই দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে। পরে তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় এবং সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই দুই বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।

অপরাধের গুরুত্ব এবং স্থানের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইসলামি আইনের ‘তাজির’ ধারায় এ সাজা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে দেশটি।

তাজির হলো ইসলামি আইনে বিচারকের বিবেচনাধীন শাস্তি। রায়ের পর রাজকীয় আদেশের মাধ্যমে সাজা কার্যকর করতে বলা হয় বলে উল্লেখ রয়েছে বিবৃতিতে। তবে ঠিক কী ধরনের অপরাধের জন্য তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, মক্কার কোন মসজিদে ঘটনাটি ঘটেছিল কিংবা কী অবস্থায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।


নির্বাচিত

ডিএনএ পরীক্ষার অপেক্ষায় ১০ মরদেহ

# হস্তান্তরে লাগতে পারে দুই সপ্তাহ # নিহতদের পরিচয় শনাক্তে সিআইডির ওপর নির্ভরতা # অনুমোদনহীন রিসোর্টে প্রাণহানি নিয়ে তদন্ত শুরু
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রিয়জনের মরদেহের অপেক্ষায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গের সামনে স্বজনদের দীর্ঘশ্বাস আর কান্না। কেউ এসেছেন স্ত্রীকে খুঁজতে, কেউ সন্তানকে, কেউবা পরিবারের একাধিক সদস্যকে। কিন্তু আগুনে মরদেহগুলো এমনভাবে পুড়ে বিকৃত হয়েছে যে, দেখে পরিচয় নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। পরিচয় শনাক্তের একমাত্র নির্ভরযোগ্য উপায় এখন ডিএনএ পরীক্ষা। অথচ পর্যটননগরী কক্সবাজারে নেই এ পরীক্ষার প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগার। ফলে নিহত ১০ পর্যটকের পরিচয় নিশ্চিত করতে নমুনা পাঠাতে হচ্ছে ঢাকার অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবে। এতে মরদেহ হস্তান্তরে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।

গত শনিবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় কাঠের তৈরি তিন তলা টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন লাগে। এতে ১০ পর্যটক নিহত হন, দগ্ধ হন আরও ছয়জন। প্রায় সাত ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে বিকেল ৩টায় ১০টি মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে অভিযান শেষ হয়। দগ্ধ চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য উড়োজাহাজে ঢাকায় পাঠানো হয়। অন্য দুজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর ছাড়া পান। রোববার সকাল থেকে নিহতদের স্বজনেরা হাসপাতালের মর্গের সামনে অপেক্ষা করছেন। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় মরদেহ হস্তান্তর করা যাচ্ছে না।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেছেন, কক্সবাজারের ঘটনায় নিহত পরিবারের কয়েকজন রবিবার সকালে ঢাকার মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে ডিএনএ নমুনা দিতে এসেছেন। আমাদের ফরেনসিক বিভাগ কাজ করছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, নিহত ১০ জনের মধ্যে সাতজনের পরিবারের সঙ্গে পুলিশ যোগাযোগ করতে পেরেছে। তাদের স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেলের ভাষ্য, দগ্ধ ও বিকৃত মরদেহ শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। কক্সবাজারে এ পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ল্যাব ও যন্ত্রপাতি নেই। তাই নমুনা ঢাকার সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবে পাঠাতে হচ্ছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পেতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মরদেহগুলো হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হবে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কক্সবাজারের হাসপাতালগুলোতে নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে ঢাকা থেকে সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল এনে কক্সবাজারেই পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হতে পারে।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর যশোরের একই পরিবারের চারজনের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। তারা হলেন নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রোবাইনা (৭) ও সুনাইনা (৩)। গত ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিসোর্টের ২০২ নম্বর কক্ষে তাদের থাকার বুকিং ছিল। নিহতদের তালিকায় তাদের নাম না থাকায় তারা আগুনে মারা গেছেন কি না, তা নিয়ে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।

নাহিদুর রহমান যশোরের মণিরামপুরের মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি ঢাকার শ্যামলীর গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় থাকতেন।

ঢাকার বাসিন্দা নাসরিন আক্তারেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। দুই বান্ধবী আইরীন জাহান ও ইসরাত জাহানের সঙ্গে বৃহস্পতিবার রিসোর্টটিতে উঠেছিলেন তিনি। আইরীন জানান, শনিবার ভোরে তারা সূর্যোদয় দেখতে সমুদ্রসৈকতে যান। নাসরিনকে সঙ্গে যেতে বললেও তিনি ঘুমানোর জন্য রিসোর্টে থেকে যান। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তারা রিসোর্টে আগুন দেখতে পান।

খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে কক্সবাজারে আসেন নাসরিনের স্বামী দেওয়ান ফয়সাল। তিনি বলেন, টুপটুপ রিসোর্টে ছুটে গিয়েও নাসরিনকে পেলাম না। হাসপাতালে লাশের যে অবস্থা দেখলাম, কারও পরিচয় শনাক্ত করার উপায় নেই। পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ টেস্ট লাগবে।

নাসরিন আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। ছয় বছর আগে দেওয়ান ফয়সালের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহানের নেতৃত্বে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও রিসোর্ট পরিচালনায় অনিয়ম তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সকালে কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে আগুনের সূত্রপাত, অনুমোদন সংক্রান্ত অনিয়ম এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান তাসনীম জাহান সাংবাদিকদের বলেছেন, রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল না। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আগে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আগুনের সূত্রপাতের কারণ এবং অনুমোদন ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শনিবার রাতে উখিয়া থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। রিসোর্টের মালিক মো. তানভীর আহমদ ও তার ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোর্শেদ এবং ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আরও ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর মালিক আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।


নির্বাচিত

আইন করে অপতথ্য ও সাইবার অপরাধ ঠেকানো সম্ভব নয়: ইফতেখারুজ্জামান

# প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন পাস হলে বুমেরাং হবে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন (সংশোধন) পাস করা হলে সরকারের জন্য বুমেরাং ও আত্মঘাতী হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেছেন, সামাজিক মাধ্যম জায়ান্ট মেটার (ফেসবুক) মুনাফাকেন্দ্রিক অ্যালগরিদম ও প্ল্যাটফরমের জবাবদিহি নিশ্চিত না করে শুধু কঠোর আইন করে অপতথ্য ও সাইবার অপরাধ ঠেকানো সম্ভব নয়। রোববার রাজধানীর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন নিয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। টিআইবি, ব্র্যাক, ব্লাস্ট, মহিলা পরিষদসহ মোট ১৯টি সংগঠন এই বৈঠকে অংশ নেয়।

অনুষ্ঠানে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, দয়া করে আমাদের হাতটা আবার বাঁধবেন না। হাত বেঁধে দিলে আপনার ক্ষতি হবে। আপনার জন্য কিন্তু আমি আর লিখতে পারবো না। আপনাকে একদিন আমাদের কাছে আবার আসতে হবে। নোয়াব সভাপতি আরও বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার সমালোচনার বিরুদ্ধে আইন করতে চায়, কিন্তু ক্ষমতা হারানোর পর তারাই অন্যায়ের শিকার। পৃথিবীতে ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, এ কারণে ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে আইন প্রণয়ন করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের ঝুঁকি রয়েছে।

বৈঠকে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিশ্বের যেসব দেশ অপতথ্য নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, তারা মেটার অ্যালগরিদমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করেছে। সামাজিক মাধ্যমে অপতথ্য ও ভুয়া খবর ছড়ানোর পেছনে প্ল্যাটফরমগুলোর বিপুল আর্থিক মুনাফার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আরও বলেন, ব্যবসা বাড়ানোর স্বার্থে মেটা সংঘাত ও সহিংসতামূলক বক্তব্যকে বেশি প্রচার করে, অথচ ধর্মনিরপেক্ষ বা যৌক্তিক আলোচনাকে সেন্সর করে। রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রযুক্তি ব্যবসার অশুভ আঁতাতের ফলে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। প্ল্যাটফরমের জবাবদিহি নিশ্চিত না করে সাধারণ নাগরিকদের ওপর আইন চাপিয়ে দেয়া কোনো টেকসই সমাধান নয়।

বৈঠকে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি দেখে মনে হচ্ছে, এটি শুধু ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের সুরক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এতে গণমাধ্যমকর্মীদের হাত-পা বেঁধে দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একজন ব্যক্তির অপরাধ বা ভুলের কারণে পুরো গণমাধ্যম বা মিডিয়া হাউজ বন্ধ করে দেয়ার মতো বিধানও রয়েছে। গোলটেবিল বৈঠকে টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশ প্রধান ফৌজিয়া আফরোজ প্রমুখ অংশ নেন।


নির্বাচিত

সচিব পর্যায়ে বড় রদবদল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জনপ্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। সচিব পদমর্যাদার সাতজন কর্মকর্তার দপ্তর পরিবর্তনের পাশাপাশি একজন অতিরিক্ত সচিবকে পদোন্নতি দিয়ে সচিব করা হয়েছে এবং দুজনকে ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রবিবার (১৮ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই রদবদলের আদেশ জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মিজ আয়েশা আক্তারকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের দুজন অতিরিক্ত সচিবকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল আলম খানকে নিজ মন্ত্রণালয়েরই ভারপ্রাপ্ত সচিব এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবিরকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব করা হয়েছে।

বর্তমান সচিবদের কর্মস্থল পরিবর্তনের অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলামকে জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির (নাডা) রেক্টর হিসেবে বদলি করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (সচিব) করা হয়েছে। এছাড়া ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মিজ বিলকিস জাহান রিমিকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) এবং জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির রেক্টর ড. মো. কামরুজ্জামানকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে। অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানকে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে এবং নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে থাকা মো. জাকারিয়াকে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান (সচিব) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

করব্যবস্থা সহজ করে নতুন করদাতা বাড়ানোর আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন ও সরকারের আয় বাড়াতে বর্তমান করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে কর দেওয়ার সামর্থ্য আছে—এমন নতুন নাগরিকদের করের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

তিনি বলেন, কর দেওয়ার নিয়ম সহজ করতে হবে, করদাতাদের হয়রানিমুক্ত সেবা দিতে হবে এবং যাদের কর দেওয়ার সামর্থ্য আছে, তাদের স্বেচ্ছায় কর দিতে উৎসাহিত করতে হবে।

শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমটিএম (মাস্টার অব ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট) অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ‘তৃতীয় অভিষেক অনুষ্ঠান ও এমটিএম নাইট ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। এ লক্ষ্য পূরণে রপ্তানির পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, শিল্পায়ন, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও দক্ষ কর্মী গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে সরকারের আয় বাড়ানো, অর্থের সঠিক হিসাব রাখা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতে এ হার প্রায় ১২ শতাংশ এবং চীনে ২০ শতাংশ। বাংলাদেশে করদাতার সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম। তাই সরকারের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি করব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারের কাজের দক্ষতা বাড়ানো এবং জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার সময় বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত সুফল বা রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (আরওআই) বিবেচনা করতে হবে। সরকারি অর্থ খরচের ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থ ও বাস্তব ফলাফলকে গুরুত্ব দিতে হবে।

এমটিএম অ্যালামনাই সদস্যদের উদ্দেশে তিনি করসংক্রান্ত জটিলতা কমানো, অনলাইনে করব্যবস্থা বাড়ানো, কর ফাঁকি বন্ধ এবং করদাতাদের সেবার মান উন্নত করতে সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান। সাধারণ মানুষের মধ্যে কর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য বিশ্লেষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমটিএম অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

আগারগাঁওয়ে যাচ্ছে সচিবালয়, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে স্থানান্তরিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সচিবালয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে আয়োজিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে বিস্তারিত ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি জানান, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠের ৩১ একর জমির ওপর নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে এবং ২০২৯ সালের মধ্যেই সেখানে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের সমন্বিত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত ও কাজের গতি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার সার্বিক ব্যয় নির্ধারণের হিসাব-নিকাশ বর্তমানে চলমান রয়েছে।

নতুন সচিবালয় নির্মাণের মহাপরিকল্পনায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় রয়েছে বেজমেন্টসহ মোট ৩ হাজার ৮০০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, ১৪টি ১২ তলাবিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবন, দুটি মসজিদ, মাল্টিপারপাস হল, ক্যাফেটেরিয়া ও একটি আধুনিক ডাকঘর। এছাড়া আগারগাঁও এলাকার যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বেশ কিছু আন্ডারগ্রাউন্ড রাস্তা ও আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে। এদিকে বর্তমান সচিবালয়ের জায়গাটির ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, পুরান ঢাকার বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তর বা আদালতের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে নির্ধারণ করা হবে।

একই বৈঠকে প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা লেজিসলেটিভ যাচাই শেষে সোমবারই জারি হতে পারে। বৈশ্বিক সংঘাতের বাস্তবতায় জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করতে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবনে ওপেক্স এবং ক্যাপেক্স—উভয় মডেলে দীর্ঘমেয়াদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে এই নতুন আইনে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিতে ‘রটারডাম কনভেনশন অন দ্য প্রায়র ইনফর্মড কনসেন্ট প্রসিডিউর ফর সার্টেন হ্যাজার্ডাস কেমিক্যালস অ্যান্ড পেস্টিসাইডস ইন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড’-এ বাংলাদেশের যোগদানের প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এর ফলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রাসায়নিক কিংবা কীটনাশকের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে আমদানির পূর্বেই অবগত হওয়ার এবং ঝুঁকি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হলো। পূর্বে বাংলাদেশ এই কনভেনশনের বাইরে থাকলেও এখন থেকে সব ধরনের বিপজ্জনক রাসায়নিক আমদানিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ কাঠামো কার্যকর হবে।

বৈঠকে জাতীয় সংসদ ভবনের মাস্টার প্ল্যানের মূল কনসেপ্টেরও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের আন্তর্জাতিক প্রশংসিত ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলীর মূল ভাবাদর্শ বজায় রেখে এবং কানের ফর্মুলার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আধুনিক কিছু প্রয়োজনীয় সংযোজন যুক্ত করা হয়েছে। মূল কনসেপ্ট অনুমোদনের পর এখন স্থাপত্য, প্রকৌশল কাঠামো, বিদ্যুৎ এবং প্লাম্বিংসহ বিস্তারিত কারিগরি নকশা ধাপে ধাপে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আগামী ৭ জানুয়ারি থেকে পর্দা উঠতে যাচ্ছে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৭’-এর। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বইমেলার এই আনুষ্ঠানিক সময়সূচি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রকাশক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে এ মেলা চলবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অমর একুশে বইমেলা ২০২৭ সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে গত ১৩ অক্টোবর সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকাশক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই সভায় অংশ নেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ও সচিব ইয়াসমিন বেগম। বিস্তারিত আলোচনার পর সবার ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে বইমেলার এই সময়সীমা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে ইতালির রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ. কে. এম. শামছুল ইসলামের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

আজ ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে তারা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

বৈঠককালে তারা বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। বিশেষ করে উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতামূলক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও বিস্তৃত করার বিষয়ে পারস্পরিক আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আলোচনায় প্রতিরক্ষা খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধি, সামরিক প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষা সামগ্রী সংগ্রহের সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো গুরুত্বের সাথে স্থান পায়। এছাড়া শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দুই দেশের প্রশংসনীয় ভূমিকা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ভবিষ্যৎ পারস্পরিক সহযোগিতা ও যৌথ প্রশিক্ষণের সুযোগ নিয়ে বিশদ মতবিনিময় হয়।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে প্রতিরক্ষা শিল্প ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতালি সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে, ইতালির রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ইতালির অংশীদারিত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেন যে, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সংলাপ ও যোগাযোগ দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক এবং সার্বিক দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্বকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

পরিকল্পনা ও সদিচ্ছায় পরিচ্ছন্ন-পরিবেশবান্ধব এলাকা গড়ে তোলা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে কথা বলেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো এলাকাকে মানুষের কল্যাণে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। ঢাকার আমিনবাজারে গত দুই মাসে দৃশ্যমান পরিবর্তন এর বড় প্রমাণ।

তিনি বলেন, ‘পরিবেশের সৌন্দর্য ধরে রাখতে স্থানীয়জনগণকে দায়িত্ব নিতে হবে। সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা থাকলে পরিবেশদূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে সমাধান করা সম্ভব হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আজ রোববার দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজারে সড়কের পাশে গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রায় দুই মাস আগে আমিনবাজার এলাকার যে অবস্থা ছিল, বর্তমানে সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।এতে এলাকাটি যেমন দৃষ্টিনন্দন হয়েছে, তেমনি আশপাশের মানুষের জন্য অপেক্ষাকৃত সুন্দর পরিবেশে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’

তিনি এ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা বেগমসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

তারেক রহমান বলেন, সরকারের উদ্যোগে একটি এলাকাকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। এখন সেই সৌন্দর্য ও পরিবেশের উন্নয়ন ধরে রাখার দায়িত্ব স্থানীয় বাসিন্দাদেরও নিতে হবে। সবাই সহযোগিতা করলে এলাকাটিকে আরও সবুজ ও বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব হবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী ঢাকা জেলা প্রশাসককে আমিনবাজারের আশপাশে ঢাকা জেলার আওতাধীন এলাকায় সবুজায়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে বলেন।

তিনি বলেন, মহাসড়কের দুই পাশে থাকা মিল ও কারখানার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্দিষ্ট কিছু জায়গার পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তাদের দেওয়া যেতে পারে।

একই সঙ্গে যেসব স্থানে এখনো ময়লা-আবর্জনা জমে রয়েছে, সেসব জায়গা উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে আমিনবাজার ও এর আশপাশের এলাকার সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে পরিবেশদূষণ কমিয়ে স্থানীয় মানুষের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

এ বিষয়ে সহযোগিতার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যদের প্রতিও আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করলে এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ যেন নির্মল পরিবেশে বুকভরে শ্বাস নিতে পারে এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে, সে লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ঢাকা জেলা প্রশাসক আমিনবাজারে পরিবেশ উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে দেশের অন্যান্য জেলার প্রশাসকদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

এ উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে অন্যান্য জেলার জেলা প্রশাসকরাও নিজ নিজ এলাকার অনুরূপ স্থানগুলোকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও সুন্দর করে গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মহাসড়কের দুই পাশে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচির আওতায় ঢাকা- আরিচা মহাসড়কের দুই পাশে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সবুজায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

আমিনবাজার এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে গাছের চারা রোপণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিজ হাতে চারা রোপণের মধ্য দিয়ে তিনি মহাসড়কের দুই পাশে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে আমিনবাজার এলাকায় গিয়ে এ কর্মসূচির সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।

মহাসড়কের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের এ উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন সড়কের সৌন্দর্য বাড়বে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলাতেও তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী সড়কের পাশে সবুজায়ন নিশ্চিত করতে এবং রোপণ করা গাছের যথাযথ পরিচর্যার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।


নির্বাচিত

banner close