আজ থেকে চালু হচ্ছে মেট্রোরেলের ক্ষতিগ্রস্ত কাজীপাড়া স্টেশন। স্টেশনটি পুনরায় সচল করতে প্রাথমিকভাবে সাড়ে ২০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এ ছাড়া এখন থেকে সপ্তাহের সাত দিনই যাত্রীসেবা দেবে মেট্রোরেল।
মেট্রোরেল পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ এই তথ্য জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটনে ডিএমটিসিএলের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, কাজীপাড়া স্টেশন চালুর জন্য ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিছু যন্ত্রপাতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কিছু জিনিস ও যন্ত্রাংশ মিরপুর-১০ স্টেশন, ডিএমটিসিএল ল্যাব, প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনী কেন্দ্র থেকে এনে লাগানো হয়েছে। ক্ষতি নির্ধারণের কাজ শেষের পর দরপত্রে গেলে জানা যাবে, কত টাকার ক্ষতি হয়েছে।
শুক্রবারও মেট্রোরেল চালু করা নিয়ে ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, প্রতি শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটায় উত্তরা থেকে প্রথম ট্রেন ছাড়বে। আর মতিঝিল থেকে প্রথম ট্রেন ছাড়বে বেলা ৩টা ৫০ মিনিটে। রাতে উত্তরা থেকে শেষ ট্রেন ছাড়বে রাত ৯টায়, মতিঝিল থেকে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে। শুক্রবার ১২ মিনিট অন্তর অন্তর ট্রেন চলবে।
মেট্রোরেলের মিরপুর-১০ স্টেশন চালুর বিষয়ে মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, স্টেশনটি দ্রুত চালুর চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া ওই স্টেশনের আইটেম অনুযায়ী কোনটির কতটুকু ক্ষতি হয়েছে, সেটা নির্ধারণে কাজ চলছে। এতে আরও সাত বা আট দিন সময় লাগতে পারে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর দরপত্রে গেলে বোঝা যাবে, আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কত হয়েছে।
গত ১৮ দিনে (শুক্রবার বাদে ১ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর) ৪৯ লাখ যাত্রী মেট্রোরেলে যাতায়াত করেছেন বলে জানিয়েছেন ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বলেন, এ সময় আয় হয়েছে ২০ কোটি ৬৭ লাখ ৩ হাজার ৮৯১ টাকা। সবচেয়ে বেশি যাত্রী ছিল গত ১২ সেপ্টেম্বর। সেদিন আয় হয়েছে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৫৭ হাজার ৫৬৬ টাকা। যাত্রী ছিল ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৮৯২ জন।
গত বুধবার খামারবাড়ি অংশে ভায়াডাক্টের মধ্যবর্তী স্থানের বিয়ারিং প্যাড স্থানচ্যুত হওয়ায় মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে সেদিন ৫৪ লাখ ৫১ হাজার ১৪০ টাকা আয় হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে জাতীয় সংসদ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে গুরুত্ব পেয়েছে সংসদ সদস্যদের আবাসন বরাদ্দ বিষয়ক আলোচনাসহ সংসদে অধিবেশন চলাকালীন অডিও তথা শব্দ বিভ্রাট ইস্যু। আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে এমপিদের আবাসন বরাদ্দ দেয়া হবে বলে জানানো হয়।
শনিবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কেবিনেট কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সরকার দলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. আবদুল্লাহ তাহেরসহ কমিটির ১১ সদস্য।
বৈঠক শেষে সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, 'বৈঠকে সংসদ সদস্যদের আবাসন এবং চিকিৎসা সুবিধা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংসদ সদস্যদের কাজের সুবিধার জন্য কাছাকাছি থাকা দরকার, সেজন্য তাদের সংসদের কাছাকাছি রাখার চেষ্টা হচ্ছে। সব সদস্যকে আবাসনের আওতায় আনার প্রত্যাশা করি। ১০ এপ্রিলের মধ্যে সংসদ সদস্যদের আবাসন বরাদ্দ শেষ হবে বলে প্রত্যাশা। আগামী ৩০ মার্চ হাউজ কমিটির আরেকটি বৈঠক আছে। বাসা বরাদ্দ নিয়ে সংসদ সদস্যরা সে বাসা নিজেরাই ব্যবহার করবেন বলে প্রত্যাশা, কারণ সেটিই সঙ্গত।'
তিনি আরও জানান, 'সংসদ অধিবেশনে অডিও বিভ্রাট এবং কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ৩ এপ্রিল প্রতিবেদন জমা দিবে।'
এদিকে, বিকাল ৪টায় সরকারি দলের সংসদীয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ ভবনে সরকার দলীয় সভাকক্ষে ওই বৈঠক হবে। বিএনপি সংসদীয় দলের সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। এরপর থেকেই সংসদীয় কার্যক্রমকে নিয়মিত ও গতিশীল করতে বিভিন্ন প্রস্তুতি চলছিল। আজকের বৈঠকের মধ্য দিয়ে সংসদীয় কমিটিগুলোর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২৮ মার্চ) এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মরহুমা দিলারা হাফিজ একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবী ছিলেন। তার মৃত্যুতে জাতি একজন সজ্জন শিক্ষাবিদকে হারালো।
উল্লেখ্য, দিলারা হাফিজ আজ (শনিবার) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২৯ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি স্বামী, এক ছেলে, এক মেয়ে ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মরহুমা দিলারা হাফিজ তার দীর্ঘ কর্মজীবনে দেশে শিক্ষা প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিভিন্ন মেয়াদে ইডেন মহিলা কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সোমবার ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। প্রথমে মোট ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়াভাতা প্রদান করা হবে।
আজ শনিবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
আমিনুল হক বলেন, ‘যারা জাতীয় ক্রীড়াবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাদেরকে বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হবে।
তাদেরকে সম্মানিত করতে ক্রীড়া কার্ড দেওয়া হবে।
যারা বিভিন্ন পদক পেয়েছে তাদের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা সম্পর্কে আমিনুল হক জানান, ৪৯৫ উপজেলায় ক্রীড়া অফিসার নিয়োগ করা হবে। ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় দখল হয়ে থাকা মাঠ উদ্ধারে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে মন্ত্রণালয়।
জ্বালানি তেল মজুদ প্রতিরোধ, বিপননে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতে দেশের বিভিন্ন ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
আজ শনিবার (২৮ মার্চ) বিজিবির সদর দপ্তর থেকে পাঠানো জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামের সই করা এক বিজ্ঞপ্তি এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অননুমোদিতভাবে জ্বালানি তেল মজুদের অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হচ্ছে। জ্বালানি তেল মজুদের অপচেষ্টা প্রতিরোধ, জ্বালানি তেল বিপণনে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
এতে আরো জানানো হয়, ডিপোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি সদর দপ্তরের তত্ত্বাবধানে মোতায়েন কার্যক্রম একটি সুপরিকল্পিত কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। ইউনিট সদর থেকে দূরবর্তী স্থানে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে নিরাপদ স্থানে অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে। গত ২৫ মার্চ থেকে ঢাকা জেলায় ১টি, কুড়িগ্রাম জেলায় ২টি, রংপুর জেলায় ৩টি, রাজশাহী জেলায় ৩টি, সিলেট জেলায় ২টি, মৌলভীবাজার জেলায় ৩টি, কুমিল্লা জেলায় ৩টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ১টি এবং সুনামগঞ্জ জেলায় ১টি ডিপোতে সর্বমোট ০৯টি জেলায় ১৯টি ডিপোতে বিজিবি মোতায়ন করা হয়েছে।
মোতায়েনকৃত সদস্যরা অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্পে একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে নিয়মিত তদারকি, প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোর বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করছে।
যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, অবৈধ জ্বালানি মজুদ ও বিক্রয় প্রতিরোধ এবং নাশকতা প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। দায়িত্বাধীন ডিপো কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করছে। সংশ্লিষ্ট ডিপো এলাকায় বিজিবির দৃশ্যমান উপস্থিতি নিশ্চিতের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জনমনে আস্থা বৃদ্ধিতে কাজ করছে বিজিবি।
এছাড়াও, সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধে সীমান্তে অতিরিক্ত টহল পরিচালনা, নৌ টহল জোরদার, চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সীমান্তবর্তী আইসিপি ও এলসিপিগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানিতে ব্যবহৃত ট্রাক-লরিসহ বিভিন্ন যানবাহনে নিয়মিতভাবে তল্লাশি করা হচ্ছে।
চলমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে দেশে সব পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।
শনিবার (২৮ মার্চ) এক বার্তায় মন্ত্রণালয় জানায়, শুক্রবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সিদ্ধান্তে বলা হয়, দেশের সব পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করতে হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় বিপিসি ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা ব্যতীত জেলা ও বিভাগীয় শহরে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা ও উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা তাদের অধিক্ষেত্রাধীন প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ করবেন। ট্যাগ অফিসাররা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ/বিপিসি নির্ধারিত পদ্ধতিতে কাজ করবেন ও দৈনিক প্রতিবেদন দেবেন।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগপূর্বক জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে তথ্য পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর/সংস্থাকে অনুরোধ করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী দিলারা হাফিজ মারা গেছেন।
সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় সময় দুপুর ১ টা ২৯ মিনিটে তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।
দিলারা হাফিজ অনেকদিন ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ঈদুল ফিতরের দিন দুপুরে এয়ার এম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তার মরদেহ রোববার সন্ধ্যায় দেশে আনা হবে। এর পরদিন সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেলা ১১ টার দিকে মরহুমার প্রথম নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর বাদ জোহর ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে বনানী সামরিক বাহিনীর কবরস্থানে দাফন করা হবে।
এদিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের স্ত্রীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও চিপ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং এই খাতে যেকোনো ধরনের অনিয়ম রোধে দেশজুড়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দেশের ৬২টি জেলায় একযোগে ২৯৩টি বিশেষ অভিযান বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। জ্বালানি বিভাগের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই অভিযানে বিভিন্ন অনিয়ম ও আইন লঙ্ঘনের দায়ে মোট ৭৮টি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযানে দণ্ডিতদের কাছ থেকে সম্মিলিতভাবে তিন লাখ ১৫ হাজার ৫৫০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং তদারকি জোরদার করতে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই মোবাইল কোর্টগুলো পরিচালিত হচ্ছে। শুক্রবারের অভিযানে ফিলিং স্টেশনসহ জ্বালানি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কারিগরি ত্রুটি, ওজনে কম দেওয়া কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির মতো বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হয়। আইন অমান্যকারীদের তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন অঙ্কের আর্থিক দণ্ডে দণ্ডিত করার পাশাপাশি সতর্কতামূলক নির্দেশনাও প্রদান করা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে জ্বালানি বিভাগের ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিতভাবে তদারকি চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও নিশ্চিত করেছে যে, ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও জ্বালানি খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এই অভিযান শিথিল করা হয়নি। শুক্রবারের ব্যাপক সফলতার পর আজ শনিবারও ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং জ্বালানি পণ্যের সঠিক সরবরাহ ও বণ্টন নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম সামনের দিনগুলোতেও চলমান থাকবে। যেকোনো ধরণের কালোবাজারি বা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকারের এই জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান পোশাকে পুলিশ বাহিনী সন্তুষ্ট নয়, আগের ঐতিহ্যমণ্ডিত যেকোনো একটি পোশাক যাতে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী পায় সেজন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪৩তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, পুলিশ কোনো বিশেষ দলের লাঠিয়াল বাহিনী নয়, পুলিশ হবে জনগণের বন্ধু। পুলিশ বাহিনীকে দলীয় প্রভাব মুক্ত করে আধুনিক সেবাধর্মী ও মানবিক বাহিনী হিসেবে জনগণের কাছে সেবা নিশ্চিত করাই এ সরকারের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কারে রাষ্ট্র কাঠামোর যে সংস্কারের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন। পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ মুক্ত রাখতে পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে। অচিরেই এর সুফল সবাই পাবে।
৪৩তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে এবার মোট ৭২ জন এএসপি তাদের প্রশিক্ষণ শেষ করে চাকরিতে যোগ দেবেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটি এবং এর সঙ্গে স্বাধীনতা দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে দীর্ঘ এক অবকাশ যাপন শেষে প্রাণপ্রিয় কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। আজ শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকেই রাজধানীর প্রধান প্রবেশদ্বার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ ছুটির পর এটিই ফেরার পথে সবচেয়ে বড় ভিড় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় বা বড় কোনো অব্যবস্থাপনার অভিযোগ না থাকায় যাত্রীদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে।
এবারের ঈদের নির্ধারিত ছুটি আরও আগেই শেষ হলেও যাতায়াতের সুবিধার জন্য অনেকে গত ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত ছুটি নিয়েছিলেন। এর ফলে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, ২৭ মার্চ শুক্রবার এবং ২৮ মার্চ শনিবার—সব মিলিয়ে টানা কয়েকদিনের একটি বড় ছুটির সুযোগ তৈরি হয়। এই দীর্ঘ অবসরের শেষ দিনে আজ নাড়ির টান ছিঁড়ে জীবিকার তাগিদে রাজধানীতে ফিরছে লাখো মানুষ।
শনিবার সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিটি ট্রেনই ছিল যাত্রীবোঝাই। স্টেশনের প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে ছিল মানুষের জটলা। ট্রেনের ভেতরে নির্ধারিত আসনের অতিরিক্ত যাত্রী যেমন ছিল, তেমনই অনেককে কামরার করিডোরে দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে দেখা গেছে। এমনকি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে চড়েও অনেককে ঢাকায় প্রবেশ করতে দেখা গেছে। তবে যাত্রীদের দাবি, ঈদযাত্রার চরম ভোগান্তির তুলনায় ফেরার এই সফর কিছুটা হলেও সহনীয়।
চিলাহাটি এক্সপ্রেসের যাত্রী রকিবুল বাশার গণমাধ্যমকে বলেন, "তেমন কোনো বড় ঝামেলা ছাড়াই ঢাকা আসতে পেরেছি। টিকিট আগেভাগেই কেটে রেখেছিলাম, তবে ট্রেনের যে প্রচণ্ড চাপ তাতে সিট পাওয়াটাই বড় ভাগ্যের বিষয় মনে হচ্ছে। যাত্রীর চাপ অনেক বেশি হবে চিন্তা করেই পরিবারের অন্য সদস্যদের গ্রামে রেখে এসেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কয়েকদিন পর তাদের নিয়ে আসব।"
একইভাবে পরিবার নিয়ে ঢাকা ফেরা রেদওয়ান নামে এক যাত্রী জানান, "স্টেশনে মানুষের প্রচুর ভিড়, ট্রেনে ওঠার সময় কিছুটা ধাক্কাধাক্কি পোহাতে হয়েছে। বিশেষ করে বাচ্চাদের নিয়ে যাতায়াত করাটা বেশ কষ্টের। ট্রেনে বসার জায়গা মেলেনি, তবুও কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই যে নিরাপদভাবে ঢাকায় পৌঁছাতে পেরেছি, এটাই এখন বড় স্বস্তি।"
সুন্দরবন এক্সপ্রেসের যাত্রী কাজী ফয়সাল তাঁর অভিজ্ঞতায় বলেন, "গ্রামে পরিবারের সঙ্গে দারুণ সময় কাটিয়ে এখন কর্মব্যস্ত জীবনে ফিরছি। ট্রেনে ভিড় থাকবে জানতাম, তবুও সড়কপথের দীর্ঘ যানজটের কথা চিন্তা করে রেলকেই বেছে নিয়েছি। গরমে কিছুটা অস্বস্তি লাগলেও কোনো শিডিউল বিপর্যয় না থাকায় সময়মতো ফিরতে পেরেছি, এটাই বড় পাওনা।"
কমলাপুর স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ দিনভর যাত্রীদের এই চাপ অব্যাহত থাকবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও ভোগান্তি কমাতে স্টেশনে শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা ট্রেন বিলম্বে আসার বড় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে মানুষের এই রাজধানীমুখী যাত্রা অনেকটা সুশৃঙ্খলভাবেই সম্পন্ন হচ্ছে।
৪ দিনের সরকারি সফরে আজ শনিবার (২৮ মার্চ) নিজ জেলা পাবনায় যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো. লুৎফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠনের পর এটাই রাষ্ট্রপতির প্রথম নিজ জেলা পাবনা সফর।
তার সফর ঘিরে ইতোমধ্যে পাবনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রহণ করেছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
প্রটোকল অফিসারের দেয়া তথ্যানুযায়ী, রাষ্ট্রপতি আজ শনিবার দুপুর ১টায় ঢাকার বঙ্গভবন থেকে হেলিকপ্টারযোগে পাবনার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। তিনি দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে পাবনা ক্যাডেট কলেজ মাঠে হেলিপ্যাডে অবতরণ করবেন। এরপর দুপুর ২টায় পাবনা সার্কিট হাউসে পৌঁছে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন এবং সেখানেই রাতযাপন করবেন।
পরদিন ২৯ মার্চ (রোববার) বেলা ১১টা ১০ মিনিটে পাবনা সদর গোরস্থান আরিফপুরে গিয়ে তিনি তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় পাবনা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। রাত ৮টা ১০ মিনিটে সার্কিট হাউসে ফিরে রাতযাপন করবেন।
৩০ মার্চ (সোমবার) বেলা ১১টায় সদর উপজেলার ভবানীপুর মসজিদ পরিদর্শন করবেন। একই দিন সন্ধ্যা ৭টায় পাবনা শহরে নিজ বাসভবনে যাবেন রাষ্ট্রপতি। সার্কিট হাউসে ফিরে রাতযাপন করবেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি ৩১ মার্চ (মঙ্গলবার) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন। এরপর দুপুর ১২টায় পাবনা ক্যাডেট কলেজ মাঠের হেলিপ্যাডে পৌঁছে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার বঙ্গভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
নতুন অধিবেশন ঘিরে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে জাতীয় সংসদে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বৈঠক। এতে নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (২৮ মার্চ) বেলা ১১টায় সংসদ সচিবালয়ের ক্যাবিনেট কক্ষে (লেভেল-২) সংসদীয় কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন সংসদের অধীনে এটি প্রথম কমিটি বৈঠক হওয়ায় এতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রাথমিক দিকনির্দেশনা আসতে পারে।
একই দিনে বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে সরকার-দলীয় সংসদ সদস্যদের পৃথক বৈঠক। সংসদ ভবনের সরকার-দলীয় সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে সংসদ সচিবালয়। এতে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইন প্রণয়ন কার্যক্রম এবং সংসদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বৈঠকগুলো সংসদের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে। এরপর থেকে সংসদের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন প্রস্তুতি চলছিল। আজকের বৈঠকের মধ্য দিয়ে সংসদীয় কমিটিগুলোর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে।
রাজনীতিতে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি রক্ষায় পাহাড়সম দৃঢ়তা দেখানোর নজির বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই বিরল নেতৃত্বের উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কর্মসূচির আলোকে এবং মা দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন তারেক রহমান। তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম মাসেই ৭০টি উদ্যোগ নিয়েছেন, যা শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়—বরং নেতৃত্বের এক নতুন দর্শনের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
প্রটোকল কমানো, সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী মিলনায়তনে যাওয়া, সাদামাটা শুভ্র পোশাক পরা, মন্ত্রী-এমপি ও কর্মকর্তাদের সময়মতো অফিসে উপস্থিতির নির্দেশ—সব মিলিয়ে তার প্রথম মাস যেন একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে; ক্ষমতা মানুষের জন্য, দূরত্বের জন্য নয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার শপথ নিয়ে সরকার গঠন করেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এ সরকার গতকাল শুক্রবার, ৩৭ দিন পার করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই সময়ের মধ্যেই ইশতেহার অনুযায়ী বেশ সংখক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সূচনা করে এক ঝাঁক মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে— মহান আল্লাহর উপর বিশ্বাস ও আস্থা (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) সংসদে বসানো এবং সংসদকে জনগণের সংসদ হিসেবে ঘোষণা করা। প্রতিশোধ নয় প্রতিহিংসা নয় ভালোবাসা দিয়ে মানুষকে আবদ্ধ করার কালচার তৈরি করা। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর বিরোধীদলীয় নেতাদের বাড়ি যাওয়া, ইফতারে অংশগ্রহণ করা। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। জুলাই যোদ্ধাদের ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া। জনগণের মূল্য বোঝে এমন কর্মকর্তাদের নিয়োগ প্রদান করা। মিথ্যা এবং ভৌতিক মামলা থেকে নেতা কর্মীদের মুক্তি দেয়া। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা সীমিত করা, প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থা চালু করা, বাজার মনিটরিং ও দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীলতা, শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ, রপ্তানিমুখী শিল্পে প্রণোদনা, বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠান পুনঃচালু, স্থানীয় উদ্যোগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ইপিজেড- বিসিক এলাকা ও হাই-টেক পার্কে সম্ভাবনাময় ব্যবসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়। ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির উদ্যোগ, মাদকবিরোধী অভিযান-সীমান্তবর্তী পয়েন্টে সিসিটিভি ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে চোরাচালান ও মাদক প্রবাহ কমানো। মুক্তিযুদ্ধ তালিকা যাচাই করে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা হতে বাদ দিয়ে প্রকৃতদের সুবিধা নিশ্চিত। শ্রমবাজার পুনরুদ্ধার, চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি, ওএমএস-এর মাধ্যমে অতি দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য স্বল্পমূল্যে চাল সরবরাহ। পুনর্ভর্তি ফি বাতিল করে প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি স্কুলে বাৎসরিক পুনঃভর্তি ফি নেওয়া বন্ধ করা। মেধাভিত্তিক ভর্তি নিশ্চিত করে লটারি পদ্ধতি বাতিল ও স্বচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা চালু, শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানো। দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা জোরদার-পুলিশ ও গোয়েন্দা কার্যক্রম শক্তিশালী করা , সন্ত্রাস ও চোরাচালান রোধে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া। নারীর নিরাপত্তা ও পিংক বাস চালুর ব্যাবস্থা করা। শহর ব্যবস্থাপনায় স্মার্ট প্রযুক্তি প্রয়োগ করে স্মার্ট ট্রাফিক ও নাগরিক সেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন। শহীদ সেনা দিবস ঘোষণা- ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ পালন ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ বিচারে গুরুত্বারোপ। ঢাকা হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালু। বিমানবন্দর ও চলন্ত ট্রেনে ফ্রি ওয়াইফাই, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব নীতি প্রণয়ন ও ব্যবহার নিশ্চিত, গ্রিন এনার্জি সচেতনতা বৃদ্ধি। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ক্লিনিক কার্যক্রম জোরদার-প্রধানত গ্রামীণ ও পৌর এলাকায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি-আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে চাষাবাদে দক্ষতা ও উৎপাদন বৃদ্ধি। কৃষি পণ্যের বাজার ও মূল্য সংরক্ষণে কৃষকের আয় নিশ্চিত করতে বাজার পর্যবেক্ষণ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। রপ্তানিমুখী শিল্প সম্প্রসারণে বিদেশি বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণ ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি। নতুন শিল্প খাতের মাধ্যমে নারীর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নতুন গার্মেন্টস জোন ও শিল্প ক্লাস্টার উন্নয়ন, স্থানীয় উদ্যোগ ও কর্মসংস্থান। শ্রমবাজার পুনরুদ্ধার, মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে বাধা দূর করার জন্য সফল কূটনৈতিক উদ্যোগ। পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনের প্রক্রিয়া ইত্যাদি।
নারীপ্রধান দরিদ্র পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড; ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবকদের সম্মানি প্রদান; ক্ষুদ্র কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফ; সব নির্বাচনী এলাকার অসহায় ও গরিবদের জন্য শাড়ি, থ্রিপিস ও হাজি রুমাল বরাদ্দ এবং সব পরিচ্ছন্নতা কর্মীর জন্য ঈদ উপহার। এছাড়া কৃষি খাতে সহায়তা দিতে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা পয়লা বৈশাখ থেকে শুরু হওয়ার কথা। প্রাথমিক পর্যায়ে টাঙ্গাইলের ১১ উপজেলায় ২১ হাজার ৫০০ কৃষককে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বছরে আড়াই হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়া হবে। এ ছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের দরিদ্র পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবার এই সুবিধা পাচ্ছে। এটি ধাপে ধাপে সারাদেশে সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে শিগগিরই ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে এসব কর্মসূচির মধ্যে অন্যতম সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন প্রকল্প। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপি সরকার গঠনের পর জনগণের কল্যাণ ও সুশাসন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলো নিয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে-নির্বাচনে জয়লাভের পর বড় উদযাপন না করা, জনগণের প্রতি নম্রতা প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক সংহতি ও সামাজিক ঐক্য নিশ্চিত করা। বিরোধী দলকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা, সংসদে ও সংসদের বাইরে বিরোধী দলের প্রতি শালীন আচরণ এবং অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা। প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও অফিস সময় নিশ্চিতকরণ। শনিবারও প্রধানমন্ত্রীর অফিস খোলা রাখার ব্যাবস্থা এবং কর্মকর্তাদের যথা সময়ের মধ্যে অফিসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সাধারণ চলাফেরায় ট্রাফিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন, জনগণও আইন মেনে চলতে উৎসাহিত হচ্ছে। এমপিদের বিশেষ সুবিধা বাতিল। শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, যা জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করেছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাতে চাপ তৈরি হওয়ায় সরকার ইতোমধ্যে কয়েকটি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে এলএনজি আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা মজুত রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা এবং জ্বালানি তেল ক্রয়ে সীমা নির্ধারণের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ফলে সমগ্র বিশ্বে জ্বালানি সংকটের মধ্যেও তারেক রহমানের সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি না করায় যা ভোক্তাদের কাছে এক আস্থা- ভরসার প্রতীক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ৩৭ দিনে রাষ্ট্র পরিচালনার ধরনে এক আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে ফ্যাসিবাদের জাঁতাকলে পিষ্ট রাষ্ট্রযন্ত্রকে সংস্কার করার পাশাপাশি তিনি জনগণের মৌলিক চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তিনি নিজে ‘ভিভিআইপি কালচার’ বর্জন করে যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন, তা নজিরবিহীন। এছাড়া দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ সুগম করতে তার কঠোর নির্দেশনাগুলো দেশের ভেতরে ও বাইরে সরকারের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছে।
রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, এসবই তাৎক্ষণিক কৌশল। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলো চাপের মুখে পড়তে পারে। জ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়লে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় ব্যয় সংকোচন বা অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে চলমান কর্মসূচিগুলোর ওপর।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, খাল খনন কর্মসূচি : তারেক রহমান কেবল স্বপ্ন দেখাননি বরং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরি করে তা হাতে-কলমে প্রমাণ করছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে তিনি পিতার সেই কালজয়ী ‘খাল কাটা কর্মসূচি’কে আধুনিকায়ন করে পুনরায় জাতীয় এজেন্ডায় পরিণত করেছেন। সরকার গঠনের মাত্র এক মাসের মাথায় নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম বড় এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দৃষ্টান্ত দেখিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন—এটি কেবল কোনো রাজনৈতিক স্লোগান ছিল না, বরং এটি ছিল একটি অর্থনৈতিক বিপ্লবের অঙ্গীকার।
১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন খাল কাটা কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন, তখন সেটি কেবল পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ছিল না, ছিল একটি আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতির বীজ বপন। আজ কয়েক দশক পর তারই সন্তান তারেক রহমান সেই কর্মসূচির মশাল হাতে নিয়েছেন। নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি অঙ্গীকার করেছিলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নদী ও খাল খনন হবে তার সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
খাল খনন কর্মসূচি কেন বর্তমান সময়ে অপরিহার্য, তা বুঝতে হলে আমাদের জলবায়ু পরিবর্তন এবং কৃষি ব্যবস্থার দিকে তাকাতে হবে। বাংলাদেশের কৃষি এখনো অনেকাংশেই বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। বর্ষায় বন্যা আর খরায় পানির অভাব—এই দ্বিমুখী সংকট থেকে পরিত্রাণের একমাত্র পথ হলো নদী ও খালগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা। তারেক রহমানের এই উদ্যোগ কেবল মৃত খালগুলোকে প্রাণ দেবে না, বরং কয়েক কোটি একর কৃষিজমিকে সেচ সুবিধার আওতায় নিয়ে আসবে, যা আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা: শহীদ জিয়ার সময় মানুষ কোদাল হাতে যেভাবে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে খাল খনন করেছিল, সেই ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ পুনরাই শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক কর্মীদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে যে, এই খাল তাদের সম্পদের অংশ। যখন মানুষ নিজে থেকে সম্পৃক্ত হবে, তখন সেখানে দুর্নীতির সুযোগ কমে যাবে এবং কাজের গুণমান নিশ্চিত হবে।
বৈজ্ঞানিক ও টেকসই পরিকল্পনা: কেবল যত্রতত্র মাটি কাটলেই হবে না। আধুনিক প্রকৌশল বিদ্যা ব্যবহার করে পানির প্রবাহ ও ভৌগোলিক ঢাল বিশ্লেষণ করে নকশা করতে হবে। ড্রেজিং প্রযুক্তির পাশাপাশি স্থানীয় পলি অপসারণের সহজ উপায়গুলো ব্যবহার করতে হবে যাতে বছরের পর বছর ধরে খালের নাব্যতা বজায় থাকে।
সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা: খাল খননের সঙ্গে মৎস্য চাষ, সামাজিক বনায়ন এবং হাঁস পালনের মতো কার্যক্রম যুক্ত করতে হবে। খালের পাড়ে পরিকল্পিতভাবে ফলদ ও বনজ গাছ রোপণ করলে তা বজ্রপাত প্রতিরোধ এবং মাটির ক্ষয় রোধে কাজ করবে। সেই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিকল্প আয়ের উৎস তৈরি হবে।
তদারকি ও স্বচ্ছতা: বড় প্রকল্পে সবচেয়ে বড় ভয় থাকে অর্থ অপচয় ও দুর্নীতির। তারেক রহমানের সরকার যেহেতু স্বচ্ছতার ওপর জোর দিচ্ছে, তাই প্রতিটি খালের জন্য একটি ‘ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম’ থাকা প্রয়োজন। প্রতিটি খালের বর্তমান অবস্থা এবং খনন পরবর্তী ফলাফল ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে জনগণের সামনে উন্মুক্ত রাখতে হবে।
দখলমুক্ত করা: খালের নাব্যতা ফেরানোর প্রথম ধাপ হলো অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে খালগুলোকে উদ্ধার করা। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে যারা খাল দখল করে ঘরবাড়ি বা কারখানা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।
তারেক রহমান কেবল খাল কাটার কথা বলছেন না, তিনি আসলে একটি ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতির ভিত গড়তে চাচ্ছেন। অভ্যন্তরীণ নৌপথ সচল হলে পণ্য পরিবহনের খরচ কমে যাবে, যা সরাসরি বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলবে। এছাড়া এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে, ফলে পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।
শহীদ জিয়ার ‘১৯ দফা’ থেকে শুরু করে আজকের ‘ভিশন’—তারেক রহমানের ৩১ দফা তার নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন তিনি তার পিতার যোগ্যতম উত্তরসূরি। গত এক মাসাধিককাল ধরে তার নির্বাচনী ওয়াদাগুলো একের পর এক বাস্তবায়ন করে চলেছেন। তারেক রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ আত্মমর্যাদাশীল ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে হাঁটছে।
নতুন প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপগুলো প্রশাসন ও রাজনীতিতে এক ধরনের নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম মাসের পদক্ষেপগুলো সমাজ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তিনি সরকারকে জন অংশগ্রহণমূলক করার চেষ্টা করছেন। নির্বাচনের ইশতিহারে যা প্রকাশ করেছেন, তা দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যে দৃশ্যমান। ফ্যামিলি কার্ড পাইলট প্রক্রিয়ায় অনেকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। অতীতে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচিত হওয়ার পর ইশতিহার এড়িয়ে যেত। এবার ভিন্নতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে —বর্তমান সরকার যা বলেছে তা বাস্তবায়ন করছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ এবং বিশ্বাসের সম্পর্ক আরও মজবুত হচ্ছে।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে না মেলানোর আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘একাত্তরকে অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে মেলানো যাবে না। একাত্তর আগে, বাকি সব পরে। বিএনপি কারো অবদান অস্বীকার করে না।’
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির আলোচনাসভায় এসব কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জানে ও শুনে এসেছে যে স্বাধীনতার ঘোষণা কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত হয়। ২৭ মার্চ তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান প্রভিশনাল হেড অব দ্য স্টেট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন এবং যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের সবার অবদান সরকার স্বীকার করে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কারো বিজয় ছিনিয়ে নিতে চাই না। সবাই মিলে একাত্তরের ইতিহাসকে আগে সম্মান জানাতে হবে। একাত্তর কখনো অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে তা মিলবে না।’