শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন

প্রধান উপদেষ্টাসহ সব উপদেষ্টার সম্পদের হিসাব বিবরণী প্রকাশ হবে
ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ২১:৪৭

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষমতা ও দায়িত্ব, প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাগণের পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা, পদত্যাগ এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিধান করতে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে আইন ও বিচার বিভাগ। ইতোমধ্যে ওই খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদনও করেছে উপদেষ্টা পরিষদ।

আজ বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক ব্যাপক দমন-পীড়ন ও গণহত্যা চালানোর ফলশ্রুতিতে সমগ্র দেশে দল-মত নির্বিশেষে ছাত্র-জনতা উত্তাল গণবিক্ষোভ করে এবং আন্দোলনের এক পর্যায়ে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে ঐক্যবদ্ধ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গত ৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন।’ ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি গত ৬ আগস্ট দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন।’

‘উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলা, জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা রক্ষা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সচল রাখা এবং রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্য পরিচালনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন বিষয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের মতামত যাচনা করেন।’

‘সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার প্রয়োগ করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ৮ আগস্ট স্পেশাল রেফারেন্স নম্বর-১/২০২৪ দ্বারা মতামত প্রদান করেছে যে, ‘রাষ্ট্রের সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণে জরুরি প্রয়োজনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্য পরিচালনার নিমিত্ত অন্তর্র্বতীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্যান্য উপদেষ্টা নিযুক্ত করতে পারবেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ওই রূপে নিযুক্ত প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্য উপদেষ্টাদেরকে শপথ পাঠ করাতে পারবেন।’

‘বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ডকট্রিন অব নেসেসিটি অনুসারে সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলায় সর্বস্তরের জনগণের ঐকান্তিক ইচ্ছা ও পরম অভিপ্রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে গণঅভ্যুত্থানকারী ছাত্র-জনতার প্রতিনিধিদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের রাষ্ট্র সংস্কার আকাঙ্ক্ষা পূরণের ও রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্য পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে।’

‘ওই রূপে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষমতা ও দায়িত্ব, প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা, পদত্যাগ এবং আনুষঙ্গিক অন্য বিষয়ে বিধান করা জরুরি।’ ‘বর্ণিত প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদ ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন করেছে।’ এদিকে স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও সরকাররের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরিতে উপদেষ্টা পরিষদের সব সদস্য ও সমপদমর্যাদাসম্পন্ন সব ব্যক্তির সম্পদের হিসাব বিবরণী প্রকাশ করবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

এ উপলক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালা, ২০২৪-এর খসড়ার অনুমোদনও দিয়েছে সরকার।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালার খসড়া প্রণয়নপূর্বক উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি যারা সরকার অথবা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত, তারা প্রতিবছর আয়কর জমা দেওয়ার সবশেষ তারিখের পরবর্তী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নীতিমালায় সংযুক্ত ছকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের আয় ও সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার বিধান রেখে খসড়া ‘আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালা’ উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে অনুমোদিত হয়। প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সব উপদেষ্টার সম্পদ বিবরণী প্রকাশের অঙ্গীকার করার পর এ নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ড. ইউনূস বলেছিলেন, ‘বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছে। আমাদের সকল উপদেষ্টা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের সম্পদের হিসাব বিবরণ প্রকাশ করবেন। পর্যায়ক্রমে এটি সকল সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক করা হবে।’ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে ন্যায়পাল নিয়োগ অধ্যাদেশ প্রণয়ন করার কথাও বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা।

গত ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সকল সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদ বিবরণ দাখিল করা বাধ্যতামুলক করা হয়েছে। চাকরিজীবীদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করার আগেই উপদেষ্টা পরিষদের সকল সদস্য ও সমমর্যাদা সম্পন্নদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করতে আগ্রহী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদের হিসাব বিবরণী প্রকাশের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠলেও আগের সরকারগুলো তা বাস্তবায়ন করেনি।


নির্বাচিত

আবরার হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:২২
নিজস্ব প্রতিবেদক   

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রয়াত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবরারের পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আশ্বাস দেন। আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, এক মামা ও এক চাচা এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেন। এসময় কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ, বুয়েটে আবরারের নামে হল নির্মাণ এবং নতুন প্রজন্মকে তার সম্পর্কে জানাতে পাঠ্যবইয়ে তার ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানান আবরারের পরিবারের সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব সুজন মাহমুদ এ তথ্য জানান।

সুজন মাহমুদ বলেন, ‘সাক্ষাতে আবরারের বাবা তার ছেলের হত্যা মামলার বিচারিকপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান।’

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালত স্বাধীনভাবে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।’ তবে পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

আবরারের বাবা কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবিও জানান। তিনি বলেন, ‘ওই এলাকার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার করেন।’ প্রধানমন্ত্রী সেতু নির্মাণের বিষয়ে আশ্বাস দেন এবং সেটি আবরার ফাহাদের নামে করার প্রতিশ্রুতি দেন।

এ ছাড়া আবরারের কবর পাকাকরণ এবং পাশের মসজিদের নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য সহযোগিতা চান তার বাবা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মসজিদটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা দেন।

সাক্ষাতে আবরার হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের বিষয়টিও তুলে ধরেন তার বাবা। তিনি জানান, মামলার একজন আসামি কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর বিষয়টি পরিবারকে জানানো হয়েছিল। কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং এখনো গ্রেপ্তার না হওয়া আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

আবরারের মা রোকেয়া খাতুন ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক ক্যাম্পাসের ছেলেমেয়েই আমার মতো কোনো না কোনো মায়ের সন্তান। আমি চাই, কোনো ক্যাম্পাসেই যেন আর আগের মতো পরিবেশ ফিরে না আসে। আমার মতো কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়।’

আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ প্রধানমন্ত্রীকে বুয়েট ক্যাম্পাসে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। তিনি বুয়েটে আবরার ফাহাদের নামে একটি হল নির্মাণ এবং পাঠ্যবইয়ে তার ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। নতুন প্রজন্মকে আবরারের মতো বিভিন্ন সময়ে নিহত ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানাতে তাদের একটি তালিকা তৈরিরও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এ নিয়ে কাজ চলছে।

সাক্ষাতের সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির উপস্থিত ছিলেন।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এর আগের দিন ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে স্বাক্ষরিত কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতার সমালোচনা করেছিলেন তিনি। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক, মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ, ফেনী নদীর পানি ও গ্যাস রপ্তানি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন আবরার।

ওই পোস্টের জের ধরে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা তাকে হলে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং একপর্যায়ে মারধর করেন। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে হলের সিঁড়িতে ফেলে রাখা হয়। পরে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর বুয়েটসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। ৭ অক্টোবর আবরারের বাবা চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

তদন্ত শেষে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট ওই রায় বহাল রাখেন। পরে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা নয় আসামি আপিল বিভাগে আপিল করেন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামিও লিভ টু আপিল করেন। মামলাটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন।


নির্বাচিত

ধর্মীয় শিক্ষা, গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদায় গুরুত্ব রাষ্ট্রপতির

বঙ্গভবনে কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজ, হাজি মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) প্রতিনিধিদল এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কোরআন শিক্ষা ও ধর্মীয় চর্চার প্রসার, গণতন্ত্রে মতপার্থক্য ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পরিবেশ এবং মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তরুণদের মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বঙ্গভবনে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাতে কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজ, হাজি মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) প্রতিনিধিদল এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ আহ্বান জানানা রাষ্ট্রপতি।

আন্তর্জাতিক সাফল্যে কোরআন শিক্ষায় উৎসাহ দেওয়ার উদ্যোগ: ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বাংলাদেশি প্রতিযোগীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বাংলাদেশি হাফেজদের সাফল্য দেশের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের বিষয়।’ তিনি বিজয়ী প্রতিযোগীদের পাশাপাশি তাদের শিক্ষক-উস্তাদ, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অভিনন্দন জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুরস্কৃত কোরআনের হাফেজ ও শিক্ষার্থীদের সম্মানিত করার পাশাপাশি কোরআন শিক্ষা ও চর্চাকে আরও উৎসাহিত করতে সরকার কাজ করবে। ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়ন এবং হাফেজ-আলেমদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করতেও সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।’

কোরআন শিক্ষা মিশন, বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাওলানা মো. বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন ১৫ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তেলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকারী আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া, তৃতীয় স্থান অর্জনকারী তানযীমুল উম্মাহ গার্লস হিফয মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান, ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তেলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী মারকাযুল মদীনা মাদ্রাসার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী হাফেজ শেখ মো. মাহমুদুল হাসান (আশরাফী) এবং সাউদা বিনতে জামআ’হ রা. আন্তর্জাতিক বালিকা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ।

বিজয়ীদের অভিভাবক ও উস্তাদরা মাদ্রাসা-মক্তবসহ ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থী, হাফেজ ও আলেমদের সম্মানিত করার জন্য সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানান। তাদের মতে, এ ধরনের স্বীকৃতি কোরআন চর্চা ও ধর্মীয় শিক্ষায় আরও উৎসাহ তৈরি করবে।

সাক্ষাৎ শেষে রাষ্ট্রপতি বিজয়ী হাফেজদের হাতে রাষ্ট্রপতির ক্রেস্ট এবং তাদের পরিবারের সদস্য ও উস্তাদদের সৌজন্য উপহার তুলে দেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সচিবরা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মতপার্থক্য ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য: হাজি মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এনামুল্লাহর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। এ সময় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘রাজনীতিতে মতপার্থক্য, গঠনমূলক সমালোচনা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ থাকবেই। এটিই গণতন্ত্রের মূল সৌন্দর্য।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি গণতন্ত্রের বিকাশকে ব্যাহত করে।’

একই সাক্ষাতে তরুণ প্রজন্ম এবং সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি এবং শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

সাক্ষাৎকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এনামুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে ৬০০ কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ, ছাত্রীদের আবাসন সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন উপাচার্য।

রাষ্ট্রপতি এসব সমস্যা সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা দেশের উত্তরাঞ্চলে উচ্চশিক্ষার প্রসারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান। আসন্ন সমাবর্তনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণও গ্রহণ করেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং হাবিপ্রবির উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রার উপস্থিত ছিলেন।

প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি ও মর্যাদা নিশ্চিতের আহ্বান: বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। এ সময় রাষ্ট্রপতি মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা নিশ্চিত এবং মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্য ও গৌরব সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেশের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।’ তাদের সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ তালিকা প্রণয়ন ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সবাইকে দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করা উচিত নয়।’ জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন দাবি ও কল্যাণসংক্রান্ত বিষয় রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরা হয়। তারা বিগত সময়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরির অভিযোগসহ মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস, আদর্শ ও চেতনা বিকৃত করার অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের নিজস্ব উদ্যোগে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আয়োজনের কথাও জানান।

প্রতিনিধিদলে ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেজর সৈয়দ মুনিবুর রহমান (অব.), সদস্য-সচিব সাদেক আহমেদ খান, সদস্য-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আবুল বাশার, সদস্য-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সিরাজুল হক, সদস্য-অর্থ সম্পাদক আলহাজ মো. মনসুর আলী সরকার, সদস্য-কল্যাণ ও সেবা সম্পাদক অনিল বরণ রায়, সদস্য-ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আলহাজ মো. নুরুল ইসলাম, সদস্য-ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির, সদস্য-দপ্তর সম্পাদক প্রকৌশলী জাকারিয়া আহমদ, ঢাকা মহানগর ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক মো. নুরুল বাসার এবং সদস্য-সচিব মিজানুর রহমান খান (বীর প্রতীক)।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি তাদের বক্তব্য শোনেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ও মর্যাদা রক্ষায় উত্থাপিত বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন।


নির্বাচিত

রূপপুরে পারমাণবিক বিক্রিয়ার অনুমতি

* প্রথম নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর পথ খুলল * ডিসেম্বরে গ্রিডে বিদ্যুতের আশা * শেষ ধাপে প্রথম ইউনিট
ছবি: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা কারিগরি জটিলতা পেরিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি মিলেছে। এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ প্রথম নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করার পথ খুলে গেল। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো সফলভাবে শেষ হলে আগামী ডিসেম্বরের শেষ দিকে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা) প্রথম ইউনিটের প্রথম নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়ার অনুমোদন দেয়।

বায়রা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সংযুক্ত করার আগে আরও দুটি অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ব্যবস্থার সেফটি ভালভ—প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভ (পিওআরভি/পিওএসভি)—নিয়ে জটিলতার কারণে এতদিন অনুমোদন আটকে ছিল। রাশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসে কারিগরি সমস্যার সমাধানে কাজ করে। এরপর বিভিন্ন ধাপে ভালভটির পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।

প্রথমে ১৬ মেগাপাসকেল চাপের পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হয়। পরে সর্বশেষ ১৮ মেগাপাসকেল চাপের নিরাপত্তা পরীক্ষাতেও সন্তোষজনক ফল পাওয়া যায়। এসব পরীক্ষার ফলাফল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনার পর ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটির অনুমোদন দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

শুরু হবে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া: ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি হলো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরে ধীরে ধীরে শক্তিস্তর বাড়িয়ে একটি স্থিতিশীল ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন শুরু করা হয়। তবে এটি সরাসরি বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়; বরং রিঅ্যাক্টরের বিভিন্ন ব্যবস্থা নিরাপদ ও নির্ধারিতভাবে কাজ করছে কি না, তা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটির আগে ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরকে তার পূর্ণ নির্ধারিত তাপীয় ক্ষমতার এক শতাংশেরও কম শক্তিস্তরে পরিচালনা করা হবে। এ সময় রিঅ্যাক্টরের গুরুত্বপূর্ণ পরামিতি, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও সংশ্লিষ্ট সিস্টেমের কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটিসহ পুরো ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো হবে।

ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ শেষ হলে কেন্দ্রটি প্রবেশ করবে ‘পাওয়ার স্টার্ট-আপ’ পর্যায়ে। এ ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়ানোর পাশাপাশি টারবাইনকে জেনারেটরের সঙ্গে সমন্বয় করা এবং শেষ পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযোগের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

এ জন্য কেন্দ্র পরিচালনাকারী সংস্থাকে বায়রার কাছ থেকে ট্রায়াল অপারেশনাল লাইসেন্স নিতে হবে। গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার আগে রিঅ্যাক্টর, টারবাইন, জেনারেটর ও নিরাপত্তাব্যবস্থার সমন্বিত কার্যকারিতাও যাচাই করা হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, উৎপাদন শুরুর পর প্রথমে কম ক্ষমতায় কেন্দ্রটি পরিচালনা করা হবে। পর্যায়ক্রমে উৎপাদন ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সক্ষমতায় নেওয়া হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে। এরপরও কেন্দ্রটির বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করে দেখা হবে। এ কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার পর কয়েক মাস পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলতে পারে।

দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানিও পৌঁছেছে: এদিকে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান গত শনিবার প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। ফলে প্রথম ইউনিটের পাশাপাশি দ্বিতীয় ইউনিটের প্রস্তুতিও এগিয়ে যাচ্ছে।

রূপপুর দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। দুটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতেও নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।

প্রথম ইউনিটের ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটির অনুমোদন তাই শুধু রূপপুর প্রকল্পের জন্য নয়, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এখন সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো পরবর্তী পরীক্ষাগুলো নিরাপদে সম্পন্ন করে নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত করা।


নির্বাচিত

মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল-কনটেইনার ডিপোতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে ফ্রি ট্রেড জোন ও রেলভিত্তিক ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) স্থাপনসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার জন্য আন্তর্জাতিক লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের বন্দর অবকাঠামো ও লজিস্টিকস ব্যবস্থার আধুনিকায়নে প্রতিষ্ঠানটির সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সচিবালয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বোর্ড অব ডিরেক্টরসের চেয়ারম্যান এসা কাজিমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক এ তথ্য জানান।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা ও আধুনিকায়নে বাংলাদেশ ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৫ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়।

চুক্তির আওতায় ডিপি ওয়ার্ল্ড চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল এবং এর ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে। এ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে টার্মিনালটির আধুনিকায়ন, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দেশের বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে ফ্রি ট্রেড জোন ও রেলভিত্তিক ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো স্থাপনসহ নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রতিনিধিদলের আগ্রহের কথা জানতে চান। জবাবে প্রতিনিধিদল এসব খাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগের বিষয়ে তাদের আগ্রহের কথা জানায়।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে ডিপি ওয়ার্ল্ডসহ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানান। বৈঠকে বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন, আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং লজিস্টিকস ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও কার্যকর করার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় হয়।


নির্বাচিত

১৭ বছরের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করেছে বিএনপি সরকার: এলজিআরডিমন্ত্রী

ছবি: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
আপডেটেড ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:২৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিগত সময়ে বিদেশি সহায়তার সঠিক ব্যবহার হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, ধনী দেশগুলোও এখন তাদের আর্থিক সহায়তা কমিয়ে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে ইউনিসেফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছরের অনিয়ম-দুর্নীতি বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার এসে বন্ধ করেছে। এ সরকার দুর্নীতি বন্ধ করে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।’

সাক্ষাৎ শেষে ইউনিসেফ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা জানান, বাংলাদেশের সব মানুষের নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে সহায়তা করবেন তারা।

এ সময় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘সুপেয় পানি সরবরাহ করা তার মন্ত্রণালয়ের অন্যতম কাজ। কিন্তু উজানে পানি আটকে দেওয়ার কারণে নদীর পানি কমে যাচ্ছে, লবণাক্ততা বাড়ছে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে সুপেয় পানির সমস্যা দেখা দিচ্ছে।’


নির্বাচিত

পরিকল্পিত ও টেকসই নগরায়নের লক্ষ্যে গুরুত্বারোপ

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:২৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির ৪র্থ বৈঠক কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর সার্বিক কার্যক্রম, চলমান আবাসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়।

বৈঠকে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রাপ্য প্লট দ্রুত নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি অতীতে প্লট বরাদ্দে সংঘটিত অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। নতুন ভূমিনির্ভর প্রকল্পের পরিবর্তে বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের মাধ্যমে আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।

রাজধানীতে অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবন নির্মাণ এবং আবাসিক এলাকায় অনুমোদনবহির্ভূত বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়। রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারদের মাধ্যমে গ্রাহক হয়রানি বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে রাজউককে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পরিকল্পিত ও টেকসই নগরায়নের লক্ষ্যে সমন্বিত ইউটিলিটি ব‌্যবস্থা ও ভূগর্ভস্থ ক্যাবল ব্যবস্থা, নতুন বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত ওয়াশরুম ও নামাজের স্থান নিশ্চিতকরণ এবং ঢাকার লেক সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি ঢাকা শহরে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে নিরীক্ষা কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন ও অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির তাগিদ দেওয়া হয়।

বৈঠকে হিসাব মহা নিয়ন্ত্রক, রাজউক চেয়ারম্যান, সিএজি কার্যালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউক, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সব নাগরিককে সমানভাবে দেখার পাশাপাশি ছেলে ও মেয়েদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে শিশুদের শারীরিক, মানসিক, সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে ‘শিশু অধিকার দিবস-২০২৬’ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সব নাগরিককে আমরা সমানভাবে দেখতে চাই। ছেলে ও মেয়েদেরকে সমানভাবে দেখতে চাই। সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।’

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশ বর্তমানে একটি খারাপ অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ এবং বিগত সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে সবাইকে নিয়ে যে বাংলাদেশ গড়ার চিন্তা করা হচ্ছে, সেখানে শিশুদের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের স্বার্থে আগামীর পথনির্দেশনা বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

শিশুদের সৃজনশীলতা ও মেধার বিকাশে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ভূমিকার কথা তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, যেকোনো সভ্য সমাজে শিশুদের সৃজনশীলতা ও মেধার বিকাশের জন্য এ ধরনের প্রতিষ্ঠান থাকা প্রয়োজন। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শিশুদের বাবা-মায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানদের সঙ্গে মা-বাবার যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় সন্তানরা বেশি প্রশ্ন করলে মা-বাবা উত্তর দিতে চান না। এটি ঠিক নয়। শিশু যত প্রশ্ন করবে, তার উত্তর দিতে হবে। কারণ, প্রশ্নের মাধ্যমে শিশুকে শিখতে ও জানতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে সঠিক শিক্ষা দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামীর বাংলাদেশে শুধু লেখাপড়ায় ভালো করলেই হবে না। শিশুদের খেলাধুলা, অঙ্কন, সংগীত ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে। গান শেখা ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে বাংলাদেশের সংস্কৃতির ভিত গড়ে তুলতে হবে।

শিশুদের মধ্যে ছেলে-মেয়ের কোনো বিভেদ না রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পরিবারের মধ্য থেকেই ছেলে ও মেয়ের সমান অধিকার এবং উচ্চশিক্ষাসহ বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সমান সুযোগের বিষয়টি শেখাতে হবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান এমপি।


নির্বাচিত

মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান-মর্যাদা নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা নিশ্চিত এবং মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্য ও গৌরব সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ তালিকা প্রণয়ন ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সবাইকে দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি না হয়। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার আহ্বানও জানান।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন দাবি ও কল্যাণসংক্রান্ত বিষয় রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরা হয়। এ সময় তারা বিগত সরকারের আমলে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি, নিজস্ব বয়ানে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস, আদর্শ ও চেতনাকে বিকৃত এবং রাজনীতিকে দূষিত করার অভিযোগ করেন।

একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের নিজস্ব উদ্যোগে একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আয়োজনের কথা জানান প্রতিনিধিরা।

রাষ্ট্রপতি তাঁদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ও মর্যাদা রক্ষায় উত্থাপিত বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেজর সৈয়দ মুনিবুর রহমান (অব.), সদস্য-সচিব সাদেক আহমেদ খান, সদস্য-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আবুল বাশার, সদস্য-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সিরাজুল হক, সদস্য-অর্থ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মনসুর আলী সরকার, সদস্য-কল্যাণ ও সেবা সম্পাদক অনিল বরণ রায়, সদস্য-ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আলহাজ্ব মো. নুরুল ইসলাম, সদস্য-ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির, সদস্য-দপ্তর সম্পাদক প্রকৌশলী জাকারিয়া আহমদ, ঢাকা মহানগর ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক মো. নুরুল বাসার এবং সদস্য-সচিব মিজানুর রহমান খান (বীর প্রতীক)সহ বীর মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ডিএফপির সাবেক মহাপরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা সনৎ কুমার বিশ্বাসের ইন্তেকাল

ছবি: সনৎ কুমার বিশ্বাস
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) সাবেক মহাপরিচালক এবং বিসিএস তথ্য ক্যাডারের ১৯৭৯ ব্যাচের কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা সনৎ কুমার বিশ্বাস গত ৫ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি. তারিখ ঢাকাস্থ সেগুনবাগিচায় তাঁর নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর মৃত্যুতে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপির) বর্তমান মহাপরিচালক খালেদা বেগম গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তাঁর মৃত্যুতে ডিএফপি পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।

উল্লেখ্য, সনৎ কুমার বিশ্বাস ১৯৫১ সালে নড়াইলের চারিখাদা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।


নির্বাচিত

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জলবায়ু পরিবর্তন একক কোনো দেশের নয় বরং সমগ্র বিশ্বের সমস্যা হওয়ায় এর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে তৃণমূলের সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের বলরুমে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ (বিসিডিপি) নলেজ কনফারেন্স ২০২৬’-এর একটি অধিবেশনে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এ ধরনের সেমিনার ও নীতিনির্ধারণী আলোচনা কেবল সম্মেলন কক্ষের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবেশ দূষণ, পানিসম্পদ রক্ষা ও জলবায়ুর মতো জরুরি বিষয়গুলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে হবে।

বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী নিরাপদ পানি ও পরিবেশ সচেতনতা প্রসঙ্গে প্রশ্ন তোলেন যে প্রতিদিন সকালে কতজন নাগরিক বিশুদ্ধ পানি পান করে দিন শুরু করতে পারছেন এবং জলবায়ুর অভিঘাত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা কতটা স্পষ্ট। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে সরকার এখন ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় ‘প্রকৃতিনির্ভর সমাধান’ বা নেচার-বেসড সলিউশনসকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। নদীভাঙন ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধে প্রচলিত জিওব্যাগ ও ব্লকের পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যাপকভাবে বিন্না ঘাস ব্যবহারের মতো টেকসই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় নদী ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন এবং পুনঃখননের বড় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। তিনি স্পষ্ট করেন, যেকোনো পরিকল্পনা শুধু কাগজে-কলমে রাখলে চলবে না, তা মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী, বিশেষজ্ঞ গবেষক, বেসরকারি খাত এবং সর্বস্তরের জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

‘ওয়াটার রিসোর্সেস: ক্লাইমেট রিস্কস অ্যান্ড অ্যাডাপ্টিভ ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক এই অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আইডব্লিউএফএম-এর অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুল ইসলাম। সমাপনী দিনে জলবায়ু ঝুঁকি, সমন্বিত নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা, উপকূলীয় লবণাক্ততা মোকাবিলা ও ভূগর্ভস্থ পানির টেকসই ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত প্যানেল আলোচনায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিআইডব্লিউটিএ, সিইজিআইএস, বিশ্বব্যাংক ও নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ মূলমন্ত্রকে ধারণ করে একটি নিরাপদ, জলবায়ু সহনশীল ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আলোচকরা।


নির্বাচিত

সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করুন: আইজিপি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ মোঃ আলী হোসেন ফকির বিপিএম সততা, আন্তরিকতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আগামী দিনের টেকসই ও নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি ০৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব ইন্টেগ্রিটিতে বিভিন্ন ইউনিটে পদায়িত ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের কর্মকর্তাদের (এএসপি) যোগদানপূর্ব দিকনির্দেশনামূলক ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।

অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) জনাব এ কে এম আওলাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজি (অর্থ) জনাব মোঃ আকরাম হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (এইচআরএম) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজি (ডেভেলপমেন্ট) সরদার নূরুল আমিন, অতিরিক্ত আইজি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) জনাব মোঃ মুশফেকুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) জনাব মোঃ সায়েদুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি (অডিট অ্যান্ড ইন্সপেকশন) ও নবগঠিত সাইবার পুলিশ ইউনিটের প্রধান জনাব মোঃ ইকবাল হোসেন এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিআইজি (প্রশাসন) জনাব মোঃ হুমায়ুন কবীর।

৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচে ৭২ জন কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬৬ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী রয়েছেন।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ঢাকা মহানগরের গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।

বৈঠকে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গণপরিবহনের বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা নিরসনে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।


নির্বাচিত

ভিসা সহজীকরণ ও বাণিজ্য বৃদ্ধি জোরদারে ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মাহ্দী আমিনের বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে ভিসা ও ভ্রমণ প্রক্রিয়া সহজ করা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিনের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ আনিস মাত্তা।

আজ সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতে সংযোগ সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি খাতে গ্যাস ও তেল সহযোগিতার বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বিশেষত, বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়ায় ভ্রমণ করা বিপুল সংখ্যক পর্যটকের সুযোগ, সুবিধা ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে আরও বেশি ইন্দোনেশীয় কোম্পানির কাজের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন।

বৈঠকে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা পুনরায় চালু করা এবং বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সরাসরি বিমান ফ্লাইট চালুর বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার লক্ষ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, পর্যটন, শিক্ষা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বাংলাদেশে ইন্দোনেশীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে আরও নিবিড় যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোচনা হয়।

এছাড়া তৈরি পোশাক, পাট, কৃষি এবং পাম অয়েলের বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি হালাল পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একইসাথে বহুমাত্রিক সহযোগিতা জোরদার ও অভিন্ন মুসলিম ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিসতিওওয়াতী এবং ইন্দোনেশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. আবুল হাসান মৃধা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

banner close