অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষমতা ও দায়িত্ব, প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাগণের পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা, পদত্যাগ এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিধান করতে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে আইন ও বিচার বিভাগ। ইতোমধ্যে ওই খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদনও করেছে উপদেষ্টা পরিষদ।
আজ বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক ব্যাপক দমন-পীড়ন ও গণহত্যা চালানোর ফলশ্রুতিতে সমগ্র দেশে দল-মত নির্বিশেষে ছাত্র-জনতা উত্তাল গণবিক্ষোভ করে এবং আন্দোলনের এক পর্যায়ে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে ঐক্যবদ্ধ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গত ৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন।’ ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি গত ৬ আগস্ট দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন।’
‘উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলা, জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা রক্ষা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সচল রাখা এবং রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্য পরিচালনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন বিষয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের মতামত যাচনা করেন।’
‘সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার প্রয়োগ করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ৮ আগস্ট স্পেশাল রেফারেন্স নম্বর-১/২০২৪ দ্বারা মতামত প্রদান করেছে যে, ‘রাষ্ট্রের সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণে জরুরি প্রয়োজনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্য পরিচালনার নিমিত্ত অন্তর্র্বতীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্যান্য উপদেষ্টা নিযুক্ত করতে পারবেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ওই রূপে নিযুক্ত প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্য উপদেষ্টাদেরকে শপথ পাঠ করাতে পারবেন।’
‘বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ডকট্রিন অব নেসেসিটি অনুসারে সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলায় সর্বস্তরের জনগণের ঐকান্তিক ইচ্ছা ও পরম অভিপ্রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে গণঅভ্যুত্থানকারী ছাত্র-জনতার প্রতিনিধিদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের রাষ্ট্র সংস্কার আকাঙ্ক্ষা পূরণের ও রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্য পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে।’
‘ওই রূপে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষমতা ও দায়িত্ব, প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা, পদত্যাগ এবং আনুষঙ্গিক অন্য বিষয়ে বিধান করা জরুরি।’ ‘বর্ণিত প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদ ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন করেছে।’ এদিকে স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও সরকাররের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরিতে উপদেষ্টা পরিষদের সব সদস্য ও সমপদমর্যাদাসম্পন্ন সব ব্যক্তির সম্পদের হিসাব বিবরণী প্রকাশ করবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
এ উপলক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালা, ২০২৪-এর খসড়ার অনুমোদনও দিয়েছে সরকার।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালার খসড়া প্রণয়নপূর্বক উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি যারা সরকার অথবা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত, তারা প্রতিবছর আয়কর জমা দেওয়ার সবশেষ তারিখের পরবর্তী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নীতিমালায় সংযুক্ত ছকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের আয় ও সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার বিধান রেখে খসড়া ‘আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালা’ উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে অনুমোদিত হয়। প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সব উপদেষ্টার সম্পদ বিবরণী প্রকাশের অঙ্গীকার করার পর এ নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ড. ইউনূস বলেছিলেন, ‘বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছে। আমাদের সকল উপদেষ্টা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের সম্পদের হিসাব বিবরণ প্রকাশ করবেন। পর্যায়ক্রমে এটি সকল সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক করা হবে।’ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে ন্যায়পাল নিয়োগ অধ্যাদেশ প্রণয়ন করার কথাও বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা।
গত ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সকল সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদ বিবরণ দাখিল করা বাধ্যতামুলক করা হয়েছে। চাকরিজীবীদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করার আগেই উপদেষ্টা পরিষদের সকল সদস্য ও সমমর্যাদা সম্পন্নদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করতে আগ্রহী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদের হিসাব বিবরণী প্রকাশের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠলেও আগের সরকারগুলো তা বাস্তবায়ন করেনি।
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পদক (মরণোত্তর) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও সংসদীয় রাজনীতিতে ভূমিকা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই সম্মাননায় ভূষিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। এদিন আরো ১৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের চেতনা ধারণ করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকা ব্যক্তিদের সম্মান জানাতে প্রতি বছর স্বাধীনতা পদক দেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এ বছর আলোচনায় এসেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাম।
রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পথচলা: ১৯৮০ এর দশকের শুরুতে রাজনীতিতে সক্রিয় হন খালেদা জিয়া। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
১৯৯১ সালে দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর তিনি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরে ২০০১ সালেও আবার সরকার গঠন করে তার নেতৃত্বাধীন জোট। এই সময়কালে অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ এবং বৈদেশিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। বিরোধী দলের নেতা হিসেবে সংসদ ও রাজপথে দীর্ঘ সময় আন্দোলন করেছেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন, গণতান্ত্রিক অধিকার ও নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে তার ভূমিকা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
বাংলাদেশে স্বাধীনতা পদক রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার। মুক্তিযুদ্ধ, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, শিক্ষা, সমাজসেবা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পদক দেওয়া হয়। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর এ পুরস্কার দিয়ে আসছে।
বিএনপি নেতারা মনে করেন, এই সম্মাননা খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের স্বীকৃতি। তারা বলছেন, দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা একজন নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার অবদান অস্বীকার করা কঠিন।
খালেদা জিয়া ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল, সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী, সমাজ সেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও মাহেরীন চৌধুরী, সংস্কৃতিতে বশির আহমেদ এবং জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান এবার স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন। এছাড়া বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম, সংস্কৃতিতে একেএম হানিফ (হানিফ সংকেত), ক্রীড়ায় জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজ সেবায় সাইদুল হক, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু) এ সম্মাননা পাচ্ছেন।
পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কারে মনোনীত করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসা বিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), জনসেবায় এসওএস শিশু পল্লী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র পাচ্ছে স্বাধীনতা পুরস্কার।
স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর এ পুরস্কার দিয়ে আসছে।
পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ১৮ ক্যারেট মানের পঞ্চাশ গ্রাম স্বর্ণের পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা, ৩ লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।
স্বাধীনতা দিবসের আগে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এই পদক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান করেন।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানী জিয়া উদ্যানে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে যান পল কাপুর। সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।
জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে সংস্কার কাজ চলায় তারা কবরের গেইটের সামনে পুস্পস্তবক অপর্ণ করেন এবং কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
এদিকে, ঢাকায় সফররত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করেছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিএনপি। বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেলা ১১টায় রাজধানীতে এই বৈঠক হয়।
প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, ডা. মাহবুবুর রহমান, নায়েবা ইউসূফ ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী।
বৈঠকে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত মঙ্গলবার ঢাকায় এসে পৌঁছান পল কাপুর। এটিই তার প্রথম ঢাকা সফর।
দেশের সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনায় জাকজমকপূর্ণ ইফতার মাহফিল এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কূটনীতিক এবং এতিম-আলেম-উলামাদের সন্মানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দুটি ইফতার মাহফিলে থাকবেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন একথা জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে শুধু দুটি ইফতার মাহফিল যথাক্রমে (শুক্রবার) আজ কূটনীতিকদের সম্মানে এবং আগামীকাল ৭ মার্চ এতিম-আলেম-উলামা-মাশায়েক সন্মানে দুটি ইফতার আয়োজন করছেন। এই দুটি হবে যমুনায়।
প্রধানমন্ত্রী রাজনীবিদদের সম্মানে ৮ মার্চ এবং গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সন্মানের ১০ মার্চ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যুমনায় ইফতার পার্টির সময়সূচি নির্ধারিত থাকলেও তার ‘সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে বাতিল করা হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে বলেন, দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় খরচ সাশ্রয়ের জন্য একই ভেন্যু ও একই মঞ্চে দুইটি ইফতার মাহফিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি টাকাও অপ্রয়োজনীয়ভাবে খরচ করতে চান না। তাই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন এড়িয়ে সীমিত পরিসরে দুইটি ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রতিবছর রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার সম্মানের ইফতার মাহফিলের আয়োজন থাকে। তবে এবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করে তারেক রহমান নিজের বাসায় পরিবারের সঙ্গেই ইফতার করছেন।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান প্রথম রোজায় রাজধানীর ভাষানটেকসহ কয়েকটি এলাকায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেন।
রমজানজুড়ে তারা মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণও করছেন।
ঈদে সারা দেশে যানজটের গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য ২০৭টি স্পট চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশ। যদিও গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১৫৯। গতবারের চেয়ে এবার যানজটের স্পট বেড়েছে ৪৮টি। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার সভার কার্যপত্র সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয় সড়ক পরিবহন মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে ঈদযাত্রা নিয়ে বৈঠক করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন মন্ত্রী।
এদিকে যানজটের এসব স্পট ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে বলে সভায় জানানো হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে যানজটের ২০৭টি স্পটের মধ্যে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে আছে ১৪টি, ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে ৫৫, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ২১, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৪৩, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪৫, ঢাকা-কক্সবাজার মহাসড়কে ৯, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ১৪ ও যশোর-খুলনা মহাসড়কে ৬টি।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঢাকার পাঁচটি টার্মিনালে সিসিটিভির মাধ্যমে নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পদ্মা ও যমুনা সেতু এবং কর্ণফুলী টানেলে ইটিসি টোল বুথ চালু থাকবে। ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ রাখা হবে। যাত্রী পারাপারে পর্যাপ্ত ফেরির ব্যবস্থা রাখা হবে এবং রাজধানীর কাঞ্চন ব্রিজ ও বছিলা এলাকায় লঞ্চ চলাচলের ব্যবস্থাও করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দুই প্রতিমন্ত্রী, বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারাসহ পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সুদসহ পুরো আমানতের টাকা ফেরতের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন একীভূত উদ্যোগে থাকা পাঁচ ব্যাংকের কিছু আমানতকারী।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেলা ১১টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তারা একপর্যায়ে শাপলা চত্বরের প্রধান সড়ক অবরোধ করলে জলকামান ব্যবহার করে সরিয়ে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
একীভূত করা ব্যাংক পাঁচটি হলো ইউনিয়ন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল, সোশ্যাল ইসলামী ও এক্সিম ব্যাংক। পাঁচ ব্যাংকের সমন্বয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হচ্ছে। এই ব্যাংকের আমানতকারীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এসব ব্যাংকের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আমানতের ওপর ৪ শতাংশ করে সুদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা ‘হেয়ার কাট’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সাবেক গভর্নরের সিদ্ধান্তে আমানতের ওপর গত দুই বছরের ৪ শতাংশ করে মুনাফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা অমানবিক ও অন্যায্য। অনেক আমানতকারী এসব ব্যাংক থেকে মূলধন ও মুনাফা তুলতে পারছেন না। এতে অনেকেই কষ্টে জীবন যাপন করছেন।
তারা ‘হেয়ার কাট’ সিদ্ধান্ত বাতিল করে মুনাফাসহ পুরো আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি স্বাভাবিক লেনদেন শুরুর দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের সিদ্ধান্তে শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের ওপর গত দুই বছরের মুনাফা কেটে মাত্র ৪ শতাংশ সরকারি অনুকম্পা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আমানতকারীদের জন্য অমানবিক ও অন্যায্য। দাবি মানা না হলে আগামী ১২ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে জানান আন্দোলনকারীরা।
এবারের ঈদুল ফিতরে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা সাত দিনের ছুটি পাচ্ছেন। ঈদ উপলক্ষে আগে ঘোষিত ছুটির সঙ্গে আগামী ১৮ মার্চও ছুটি ঘোষণা করায় দীর্ঘ এই বন্ধ পাওয়া যাবে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে ঈদের আগে ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠক শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর হতে পারে। সম্ভাব্য এই তারিখ ধরেই আগে পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করেছিল সরকার। এর আগে ১৭ মার্চ পবিত্র শবে কদরের ছুটি রয়েছে। এর পরদিন ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণায় ঈদের আগে মিলছে চার দিনের ছুটি। আর ঈদের পরে ২২ ও ২৩ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারণ করা রয়েছে। ফলে এবার ঈদুল ফিতরে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা সাত দিন ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারকে কেবল মুখে নয়, বরং দলীয় পর্যায়ে কঠোর বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সুশাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের প্রতি একগুচ্ছ সুপারিশমালা পেশ করার সময় এসব কথা বলেন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নরের নিয়োগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে যে, নবনিযুক্ত গভর্নরের ক্ষেত্রে জোড়ালো স্বার্থের সংঘাত বিদ্যমান। টিআইবির মতে, এমন নেতৃত্বের হাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিরাপদ নয় এবং এর ফলে নজরদারি সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের সুযোগ বিঘ্নিত হবে।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই ধরনের নিয়োগের মাধ্যমে বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বা অর্থপাচারকারী শীর্ষ ব্যক্তিরা পুনরায় কর্তৃত্ব ফিরে পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে, যা রাষ্ট্রের জন্য কোনোভাবেই কল্যাণকর হবে ন। তাই এই নিয়োগ বাতিল করে একজন সৎ, অভিজ্ঞ এবং স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম ব্যক্তিকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন যে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘শূন্য সহনশীলতা’ বা জিরো টলারেন্সের ঘোষণাটি যেন কেবল সাধারণ জনগণের উদ্দেশে দেওয়া কোনো বক্তৃতা না হয়।
তিনি সরকারকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই বার্তাটি নিজের দল, মন্ত্রিপরিষদ, সংসদ সদস্য এবং সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছে দিতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান যেন সরকারের অভ্যন্তরীণ চর্চায় প্রতিফলিত হয়, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
ড. ইফতেখারুজ্জামান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দৃশ্যমান ‘এবার আমাদের পালা’ বা দখলদারিত্বের সংস্কৃতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আগে অন্যরা দুর্নীতি করেছে বলে এখন আমাদের কর্মীরা করবে—এই মানসিকতা বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক বা সরকারি অবস্থানকে যেন দুর্নীতির ‘লাইসেন্স’ হিসেবে ব্যবহার করা না হয়, সেজন্য দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে কঠোর নির্দেশনা ও নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সরকার যদি তার অভ্যন্তরে থাকা দুর্নীতিবাজ বা স্বার্থান্বেষী মহলের ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করে তা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তবে তাদের সকল সংস্কার উদ্যোগ আত্মঘাতী হয়ে উঠতে পারে। সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটানো জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিদেশযাত্রা এবং স্বদেশে প্রত্যাবর্তনকালে অনুসরণীয় রাষ্ট্রাচারে পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর ও দেশে ফিরে আসার সময় বিমানবন্দরে ৪ জন উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক বিধিমালায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকার এ মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি ও রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশযাত্রা এবং স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকালে নিম্নোক্ত ব্যক্তিরা বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন।
তারা হলেন, মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠতম একজন মন্ত্রী, চিফ হুইপ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশযাত্রা এবং স্বদেশে প্রত্যাবর্তনকালে প্রটোকল অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সামরিক ও অসামরিক বাহিনীর প্রধান (যেমন, তিন বাহিনীর প্রধান) এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকতেন।
বর্তমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষে সরকারি সব অফিসে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। দেশের সকল সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ও কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দেশের সকল সচিব, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবহার পরিহার করতে হবে। এ জন্য জানালা, দরজা কিংবা ব্লাইন্ড খোলা রেখে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অফিসে বিদ্যমান আলোর অর্ধেক ব্যবহার করতে হবে এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাইট জ্বালানো থেকে বিরত থাকতে হবে। অফিস চলাকালীন ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার সীমিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এয়ার কন্ডিশনার (এসি) ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার উপরে রাখার নির্দেশ দিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, অফিস কক্ষ ত্যাগের সময় বাতি, ফ্যান, এসিসহ সকল বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। এছাড়া অফিসের করিডোর, সিঁড়ি ও ওয়াশরুমের মতো স্থানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় বাতি জ্বালানো যাবে না। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে চিঠিতে।
সাশ্রয়ী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে অফিস সময় শেষ হওয়ার পর লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার ও এসিসহ সকল যন্ত্রপাতির সুইচ বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
বিদ্যুতের পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়ে যাবতীয় আলোকসজ্জা পরিহার করার এবং সরকারি গাড়ির ব্যবহার সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ পাচ্ছেন প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৫ ব্যক্তি। একইসঙ্গে পাঁচ প্রতিষ্ঠানও এই পুরস্কার পাচ্ছে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পাবনার কৃতি সন্তান এবং দীর্ঘ তিন দশকের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ফটোসাংবাদিক খালেদ হোসেন পরাগ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অন্য যেকোনো পেশা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগের শর্তে তাঁকে এই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি জাতীয় বেতন স্কেলের গ্রেড-৯ ভুক্ত সুযোগ-সুবিধাসহ প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা তাঁর সন্তুষ্টি অনুযায়ী এই দায়িত্ব পালন করবেন।
নতুন এই দায়িত্বে খালেদ হোসেন পরাগ প্রধানমন্ত্রীর দাপ্তরিক কার্যক্রম, রাজনৈতিক কর্মসূচি, রাষ্ট্রীয় সফর এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আলোকচিত্র ধারণ ও সংরক্ষণের কাজ করবেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন কর্মসূচির ভিজ্যুয়াল ডকুমেন্টেশন এবং আর্কাইভ তৈরির ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। পেশাদার এই আলোকচিত্রীর নিয়োগের খবরে তাঁর জন্মস্থান পাবনাসহ সাংবাদিক মহলে আনন্দের জোয়ার বইছে।
খালেদ হোসেন পরাগের আলোকচিত্র জীবনের পথচলা শুরু হয় ১৯৯৩ সাল থেকে। প্রায় তিন দশকের এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি দৈনিক দিনকাল, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক নির্ভরসহ বিভিন্ন স্বনামধন্য গণমাধ্যমে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। সর্বশেষ তিনি দৈনিক দিনকাল পত্রিকার স্টাফ ফটোগ্রাফার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭৮ সালে পাবনা শহরের এক মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া পরাগ ছোটবেলা থেকেই ক্যামেরার প্রতি এক ধরণের বিশেষ টান অনুভব করতেন। সেই নেশাই পরবর্তীতে তাঁকে পেশাদার আলোকচিত্রীর আসনে বসিয়েছে। ১৯৯৭ সালে পাবনায় তাঁর প্রথম একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘আজকের প্রজন্ম ধারা’ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল।
ফটোসাংবাদিকতার পাশাপাশি খালেদ হোসেন পরাগ একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক ও সমাজকর্মী। তাঁর হাত ধরেই পাবনায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘আজকের প্রজন্ম ফোরাম’, ‘পাবনা ফটোগ্রাফারস ফোরাম’, ‘পাবনা ফিল্ম সোসাইটি’ এবং ‘পাবনা ইয়াং জার্নালিস্ট ফোরাম’-এর মতো জনপ্রিয় সব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। শুধু তাই নয়, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক জেলা পর্যায়ের প্রথম পত্রিকা ‘প্রযুক্তির সূর্য’ প্রকাশের কৃতিত্বও তাঁর। তিনি সবসময় চেয়েছেন তরুণ প্রজন্মকে সৃজনশীল ও জ্ঞানভিত্তিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে।
তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো বিএনপি ও জিয়া পরিবারের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিরল সব মুহূর্তের সংগ্রহ ও সংরক্ষণ। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘ছবির গল্প বাংলাদেশ’ নামক একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। ২০০৬ সালে প্রকাশিত ‘ছবির গল্প’ এবং পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রামের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ‘দেশনেত্রী’ নামক ফটোডকুমেন্টেশন বই দুটি তাঁকে এক অনন্য পরিচিতি দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করা এই গুণী আলোকচিত্রী এখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত টিমে যুক্ত হয়ে দেশের জন্য নতুন এক দায়িত্বে নামলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তাঁর মেধা ও অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের সঠিক নথিবদ্ধকরণে সহায়ক হবে।
আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঢাকা থেকে প্রায় দেড় কোটি মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে ঈদযাত্রা সংক্রান্ত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সড়ক পরিবহন, রেল ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি জানান, সীমিত সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের এই স্থানান্তর একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও অতীতের অভিজ্ঞতায় এবার আরও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
সড়কে চাঁদাবাজির বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মন্ত্রী বলেন, ঈদযাত্রায় সড়কে কোনো ধরনের চাঁদাবাজির সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে তৎপর রয়েছে।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের অনৈতিক সুবিধা নেয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সমিতির নামে নিবন্ধিত ফি ছাড়া অন্য কোনো অবৈধ অর্থ আদায় করলে তাৎক্ষণিক কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক টাকাও বেশি নেয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে এসি বাসগুলোর ক্ষেত্রে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের রুট পারমিট বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঈদের আগে যানজট কমাতে পোশাক কারখানার ছুটি ধাপে ধাপে কার্যকর করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। ১৬ মার্চ থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকার গার্মেন্টস ছুটি হবে। এ ছাড়া মহাসড়কের ওপর অস্থায়ী দোকানপাট, যত্রতত্র পার্কিং এবং থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন কাজ করবে। ঈদের আগে ও পরে কয়েক দিন পচনশীল দ্রব্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া ভারী ট্রাক ও লরি চলাচল সীমিত রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সড়কের অবস্থা নিয়ে মন্ত্রী জানান, ঢাকার প্রবেশপথ এবং মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো ঈদের ১০ দিন আগেই সংস্কার সম্পন্ন করার জন্য প্রকৌশলীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। টোল প্লাজায় যানজট কমাতে প্রয়োজনে আগাম টিকিট সিস্টেম চালুর প্রস্তাবও বিবেচনা করছে সরকার। এ ছাড়া নৌপথে সদরঘাটের চাপ কমাতে বসিলা ও কাঞ্চনঘাটে দুটি নতুন অস্থায়ী স্টেশন চালু করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, গার্মেন্টস কর্মীদের যাতায়াত সহজ করতে বিআরটিসির বিশেষ বাস প্রস্তুত রাখা হবে এবং বাস টার্মিনাল ও মহাসড়কে যাত্রী হয়রানি রোধে মোবাইল কোর্টের সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়েছে।
এ ছাড়া রেলওয়ের লেভেল ক্রসিংগুলোতে সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যাতে ক্রসিংয়ের কারণে সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি না হয়।
রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় প্রবীণ সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) তাঁর বিষয়ে ইতিপূর্বে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। উচ্চ আদালতের এই আদেশের ফলে দীর্ঘ কয়েক মাস কারাবাসের পর তাঁর মুক্তির পথ প্রশস্ত হলো।
আদালতে সাংবাদিক আনিস আলমগীরের পক্ষে জামিন আবেদনের শুনানি করেন অ্যাডভোকেট তামান্না ফেরদৌস। এর আগে গত ২২ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন। নিম্ন আদালতে ন্যায়বিচার না পাওয়ায় তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এবং আদালত তাঁর আবেদনের প্রেক্ষিতে কেন জামিন দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন। আজ সেই রুলটি চূড়ান্তভাবে গ্রহণ করে তাঁকে জামিন দেওয়ার আদেশ দেন আদালত।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডির একটি ব্যায়ামাগার থেকে আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁকে উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেই থেকে তিনি টানা কয়েক মাস কারাগারে বন্দি ছিলেন।
সাংবাদিক আনিস আলমগীরের গ্রেপ্তার এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মতো গুরুতর মামলায় তাঁকে অভিযুক্ত করায় সাংবাদিক মহলে সে সময় ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলাটিকে ভিত্তিহীন দাবি করে দীর্ঘ দিন ধরে তাঁর মুক্তি চাওয়া হচ্ছিল। অবশেষে উচ্চ আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে তিনি আইনি স্বস্তি পেলেন। এখন আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুতই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা করছেন তাঁর আইনজীবীরা।