বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন

প্রধান উপদেষ্টাসহ সব উপদেষ্টার সম্পদের হিসাব বিবরণী প্রকাশ হবে
ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ২১:৪৭

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষমতা ও দায়িত্ব, প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাগণের পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা, পদত্যাগ এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিধান করতে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে আইন ও বিচার বিভাগ। ইতোমধ্যে ওই খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদনও করেছে উপদেষ্টা পরিষদ।

আজ বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক ব্যাপক দমন-পীড়ন ও গণহত্যা চালানোর ফলশ্রুতিতে সমগ্র দেশে দল-মত নির্বিশেষে ছাত্র-জনতা উত্তাল গণবিক্ষোভ করে এবং আন্দোলনের এক পর্যায়ে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে ঐক্যবদ্ধ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গত ৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন।’ ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি গত ৬ আগস্ট দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন।’

‘উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলা, জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা রক্ষা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সচল রাখা এবং রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্য পরিচালনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন বিষয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের মতামত যাচনা করেন।’

‘সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার প্রয়োগ করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ৮ আগস্ট স্পেশাল রেফারেন্স নম্বর-১/২০২৪ দ্বারা মতামত প্রদান করেছে যে, ‘রাষ্ট্রের সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণে জরুরি প্রয়োজনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্য পরিচালনার নিমিত্ত অন্তর্র্বতীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্যান্য উপদেষ্টা নিযুক্ত করতে পারবেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ওই রূপে নিযুক্ত প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্য উপদেষ্টাদেরকে শপথ পাঠ করাতে পারবেন।’

‘বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ডকট্রিন অব নেসেসিটি অনুসারে সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলায় সর্বস্তরের জনগণের ঐকান্তিক ইচ্ছা ও পরম অভিপ্রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে গণঅভ্যুত্থানকারী ছাত্র-জনতার প্রতিনিধিদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের রাষ্ট্র সংস্কার আকাঙ্ক্ষা পূরণের ও রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্য পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে।’

‘ওই রূপে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষমতা ও দায়িত্ব, প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা, পদত্যাগ এবং আনুষঙ্গিক অন্য বিষয়ে বিধান করা জরুরি।’ ‘বর্ণিত প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদ ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন করেছে।’ এদিকে স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও সরকাররের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরিতে উপদেষ্টা পরিষদের সব সদস্য ও সমপদমর্যাদাসম্পন্ন সব ব্যক্তির সম্পদের হিসাব বিবরণী প্রকাশ করবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

এ উপলক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালা, ২০২৪-এর খসড়ার অনুমোদনও দিয়েছে সরকার।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালার খসড়া প্রণয়নপূর্বক উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি যারা সরকার অথবা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত, তারা প্রতিবছর আয়কর জমা দেওয়ার সবশেষ তারিখের পরবর্তী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নীতিমালায় সংযুক্ত ছকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের আয় ও সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার বিধান রেখে খসড়া ‘আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালা’ উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে অনুমোদিত হয়। প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সব উপদেষ্টার সম্পদ বিবরণী প্রকাশের অঙ্গীকার করার পর এ নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ড. ইউনূস বলেছিলেন, ‘বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছে। আমাদের সকল উপদেষ্টা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের সম্পদের হিসাব বিবরণ প্রকাশ করবেন। পর্যায়ক্রমে এটি সকল সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক করা হবে।’ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে ন্যায়পাল নিয়োগ অধ্যাদেশ প্রণয়ন করার কথাও বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা।

গত ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সকল সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদ বিবরণ দাখিল করা বাধ্যতামুলক করা হয়েছে। চাকরিজীবীদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করার আগেই উপদেষ্টা পরিষদের সকল সদস্য ও সমমর্যাদা সম্পন্নদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করতে আগ্রহী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদের হিসাব বিবরণী প্রকাশের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠলেও আগের সরকারগুলো তা বাস্তবায়ন করেনি।


নির্বাচিত

আইনি যাচাই চলছে পে-স্কেলের, গেজেট শিগগিরই

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রজ্ঞাপনের খসড়া রেজল্যুশন বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানোর পর এখন আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং বা আইনি যাচাইয়ের অধীনে রয়েছে। আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দ্রুতই এসআরও নম্বর দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

গত ২ সেপ্টেম্বর পে-স্কেলের রেজল্যুশনটি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফিরে আসে। বর্তমানে প্রজ্ঞাপনটি আইন মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনার মুখে রয়েছে। প্রশাসনিক ও আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে খুব শিগগিরই আদেশ জারি করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় পে-স্কেলের অনুমোদন দেওয়া হয়, যা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামোতে নিম্ন ও উচ্চ উভয় গ্রেডেই মূল বেতন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে। তবে পুরো বর্ধিত বেতন একবারে কার্যকর না হয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে তিন ধাপে মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে। যেমন—২০তম গ্রেডের বর্তমানের ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করা হয়েছে, যা তিন ধাপে মূল বেতন হবে যথাক্রমে ১৪,১২৫ টাকা, ১৭,০৬২.৫০ টাকা এবং ২০,০০০ টাকা। ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫৬,০০০ টাকা করা হয়েছে, যার তিন ধাপে মূল বেতন দাঁড়াবে যথাক্রমে ১,০৯,২০০ টাকা, ১,৩২,৬০০ টাকা এবং ১,৫৬,০০০ টাকা। এ ছাড়া ৯ম গ্রেডের মূল বেতন ২২,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৪,০০০ টাকা করা হয়েছে, যার তিন ধাপে এই গ্রেডের বেসিক হবে যথাক্রমে ৩০,৮০০ টাকা, ৩৭,৪০০ টাকা এবং ৪৪,০০০ টাকা। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে বর্ধিত অংশের অর্ধেক প্রথম ধাপে, এক-চতুর্থাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ তৃতীয় ধাপে কার্যকর হবে। আর প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে বর্ধিত অংশের ৪০ শতাংশ, ৩০ শতাংশ ও ৩০ শতাংশ হারে তিন ধাপে নতুন বেসিক কার্যকর করা হবে।

নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন বা বেসিক বাড়লেও বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা একই সময়ে কার্যকর হচ্ছে না। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামোয় এসব ভাতা প্রদান করা হবে। নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে বেতন, ভাতা ও পেনশন খাতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়বে। এর মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগী মিলিয়ে প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ নতুন এই সুবিধার আওতায় আসবেন। সরকারের রাজস্ব আদায়, মূল্যস্ফীতি এবং বাজেট ব্যবস্থাপনার ওপর যাতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি না হয়, সে জন্যই ধাপে ধাপে এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলযোগ্য: দুদক সচিব

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ আমলযোগ্য হওয়ায় অনুসন্ধান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। তিনি বলেন, যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আজ বুধবার দুদকের সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি দুদকের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিষ্ঠানটিতে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ করেন আসিফ মাহমুদ। তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর কারণ এবং এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক সচিব বলেন, দুদক একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। আইন অনুযায়ীই সংস্থাটি অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত করে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়।

‘প্রাথমিক সত্যতা’ নিয়ে দুদকের অবস্থান

ব্রিফিংয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন ওঠে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ নিয়ে। এর আগে তাঁর বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের সময় দুদকের এক মুখপাত্র বলেছিলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। পরে ওই বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব টাং’ বা অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

বুধবারের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকেরা বিষয়টি নিয়ে বারবার স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান। জবাবে দুদক সচিব বলেন, মুখপাত্রের আগের বক্তব্যকে কমিশনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য হিসেবে ধরা হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘এটা হয়তো স্লিপ অব টাং হিসেবে বের হয়ে গেছে। আমরা এটাকে অফিশিয়ালি গ্রহণ করছি না। আইন যেভাবে বলেছে, সেভাবেই আমরা প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করছি।’

এরপর সরাসরি জানতে চাওয়া হয়, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে দুদক আদৌ কোনো প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে কি না। জবাবে সাইদুর রহমান খান বলেন, ‘এখনো এটা বলার সময় হয়নি। আরও অনুসন্ধান হবে। এ পর্যায়ে এটা বলার কোনো সুযোগ নেই।’

যাচাই-বাছাইয়ের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অনুসন্ধান

অভিযোগ অনুসন্ধানে নেওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে দুদক সচিব বলেন, কোনো অভিযোগ পাওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই কমিটি পর্যালোচনা করে। এরপর ওই কমিটির মতামত, পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশের ভিত্তিতে কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ আসার পর সেটি যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই-বাছাইয়ের পর অবশ্যই কোনো মন্তব্য, সুপারিশ বা মতামত থাকে। সেই মতামতের ভিত্তিতে কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়।’

আসিফ মাহমুদের অভিযোগের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, ‘এই অভিযোগ পাওয়ার পর আমাদের যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদন এসেছে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নথি ও ফাইল চেয়ে আমরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি।’

সাংবাদিকেরা জানতে চান, যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল কি না। জবাবে সচিব বলেন, প্রতিবেদনটি এ মুহূর্তে তাঁর কাছে নেই। ফলে এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে পারবেন না।

কর্মকর্তার ব্যক্তিগত বক্তব্য নিয়ে দুদকের অবস্থান

অনুসন্ধান চলাকালে দুদকের কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগত মতামত দিয়ে অনুসন্ধানকে প্রভাবিত করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, কমিশনের তিন সদস্য সব বিষয় পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের তিনজন কমিশনার রয়েছেন। কমিশন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে।’

রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ

আসিফ মাহমুদের রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগের বিষয়ে দুদক সচিব বলেন, কেউ সংক্ষুব্ধ মনে করলে নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারেন এবং আইন অনুযায়ী প্রতিকার চাইতে পারেন। দুদকও আইন অনুযায়ীই বিষয়টি মোকাবিলা করবে।

ব্রিফিংয়ের শেষে দুদক সচিব বলেন, অভিযোগ যাচাই-বাছাই এবং কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

আইসিইউতে চিকিৎসাধীন মেঘমল্লার বসু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও ন্যাশনাল পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য মেঘমল্লার বসু অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের বরাতে তাঁর সহযোদ্ধারা জানিয়েছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে আগের চেয়ে কিছুটা ভালো এবং উন্নতির দিকে রয়েছে।

হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট এলাকা থেকে মেঘমল্লার বসুকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর পরিচিত লোকজন তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা প্রাথমিকভাবে বিষক্রিয়ার আশঙ্কায় তাঁর পাকস্থলী ওয়াশ করেন এবং চিকিৎসা দিয়ে একটি সাধারণ ওয়ার্ডে রাখেন।

তবে পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাঈন আহমেদ জানান, মেঘমল্লার বসুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আগে থেকেই কিছুটা দুর্বল ছিল। ফুসফুসে কফ জমে যাওয়া এবং অজ্ঞান থাকার কারণে নিজে থেকে কাশতে না পারায় শ্বাসপ্রশ্বাসে বাড়তি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। ফলে ফুসফুসের কফ পরিষ্কার ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের স্বার্থেই চিকিৎসকেরা তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন।

বুধবার রাতে মাঈন আহমেদ আরও নিশ্চিত করেন যে মেঘমল্লার বসুর শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতির দিকে রয়েছে। চিকিৎসকদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহত থাকায় বৃহস্পতিবারের মধ্যেই তাঁর জ্ঞান ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

মেট্রোরেলের ৪৬ পিলারে ফাটল, ২৭টি বিয়ারিং প্যাড গুরুতর ত্রুটিপূর্ণ: সংসদে সড়কমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল রুটের ৪৬টি পিলারে বিভিন্ন মাত্রায় ফাটল এবং ২৭টি বিয়ারিং প্যাড গুরুতর (ক্রিটিক্যাল) ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব ত্রুটি নিরূপণ ও মেরামতের কৌশল নির্ধারণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) পরামর্শক হিসেবে নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এসব তথ্য জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, অডিট কমিটির প্রতিবেদনে ৭৩০টি বিয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া গেলেও সবগুলো গুরুতর নয়। এর মধ্যে ৪৯৭টি ত্রুটি ‘মাইনর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

২৯৭টি প্যাডের ত্রুটি মূলত স্থাপনের সময়কার ওয়ার্কম্যানশিপ-সংক্রান্ত।

মন্ত্রী বলেন, ‘শুধুমাত্র ২৭টি ত্রুটিপূর্ণ বিয়ারিং প্যাডকে ক্রিটিক্যাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

’ একইসঙ্গে ৪৬টি পিয়ারে বিভিন্ন মাত্রায় ক্র্যাক বা ফাটল চিহ্নিত হওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করেন তিনি।

যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ডিএমটিসিএল গত ১৬ জুলাই ২০২৬ ‘সুপারিশ বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করেছে। এরই মধ্যে ১০টি স্থানে স্টিল ব্র্যাকেট ও ২৭টি স্থানে বিয়ারিং প্যাডের সেটেলমেন্ট পরিমাপের জন্য ‘সেটেলমেন্ট মার্কার’ বসানো হয়েছে।

চিহ্নিত ২৭টি ক্রিটিক্যাল বিয়ারিং প্যাড আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ৪৬টি পিলারের ফাটলের ঝুঁকি নিরূপণ ও মেরামতের কৌশল নির্ধারণে বুয়েটকে স্ট্রাকচারাল কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে।

ফাটল পরিমাপ ও পর্যবেক্ষণের জন্য ১০২টি স্থানে ‘স্ট্রাকচারাল ক্র্যাক গেজ’ বসানো হচ্ছে। আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে এ কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

রাষ্ট্র কখনোই শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের ঋণ শোধ করতে পারবে না: রাষ্ট্রপতি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন এবং একটি সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র অবলোকনকালে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। চোখে জল নিয়ে তিনি বলেন, "ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি এবং গণতন্ত্র ফেরত পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি। রাষ্ট্র কখনোই এই শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের ঋণ শোধ করতে পারবে না। এ দেশে যেন আর কোনোদিন এ ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ না ঘটে।" এ সময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমও তার সঙ্গে ছিলেন।

বুধবার বেলা এগারোটার দিকে জাদুঘর প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছান রাষ্ট্রপ্রধান। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এবং প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর-রহমান। এ ছাড়া সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত থেকে তাকে স্বাগত জানান।

সাধারণ দর্শনার্থীদের মতো টিকিট কেটে জাদুঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর ‘লংওয়াক-টু-ডেমোক্রেসি’ ওয়াকওয়ে ধরে হেঁটে তিনি একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নানা ঐতিহাসিক পর্যায় প্রত্যক্ষ করেন। বিগত দীর্ঘ ১৬ বছরের দুঃশাসনে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের স্মৃতির উদ্দেশে নির্মিত মেমোরিয়াল এবং আয়নাঘরের রেপ্লিকা ঘুরে দেখেন তিনি। এরপর গণ-অভ্যুত্থানের বীর শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জাদুঘর চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন রাষ্ট্রপতি বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে তিনি বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, বলপ্রয়োগে গুম ও নির্যাতনের নানা সামগ্রী প্রদর্শনী কক্ষ ঘুরে দেখেন। মুক্তিকামী শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন, স্মারক ও ব্যক্তিগত চিঠি দেখে তিনি গভীরভাবে আবেগতাড়িত হন। একইসঙ্গে ছাত্র-জনতার উত্তাল আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন প্রদর্শনী ঘুরে দেখার পর জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে প্রামাণ্যচিত্র প্রত্যক্ষ করে অশ্রুসিক্ত হন তিনি। আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন শেষে তিনি জাদুঘরের মন্তব্য বইয়ে স্বাক্ষর প্রদান করেন।

পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রপতি ব্যক্ত করেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে এ ধরনের স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"

রাষ্ট্রপ্রধান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সুস্থতা ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। এই ঐতিহাসিক আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় আখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও আত্মোৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।" তিনি বীর শহীদদের অবদান ও আহতদের সাহসিকতাকে স্যালুট জানানোর পাশাপাশি তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

এ অনুষ্ঠানে জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ উপস্থিত ছিলেন। পুরো পরিদর্শনকালে জাদুঘরের গবেষণাদলের প্রতিনিধি জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ বিভিন্ন প্রদর্শনী ও ঐতিহাসিক নথিপত্র সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে বিস্তারিত অবহিত করেন।


নির্বাচিত

বাল্যবিবাহ ও জালিয়াতি রোধে আসছে নতুন ব্যবস্থা, যা বললেন আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিবাহ ও বিচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বন্ধের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও তথ্য জালিয়াতি প্রতিহত করতে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ তথ্য জানান আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এদিন আইন ও বিচার বিভাগের সঙ্গে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

আইনমন্ত্রী জানান, নতুন এই কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ব্যবস্থাটি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য জাতীয় সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে, যার ফলে এক ক্লিকেই যে কারও বৈবাহিক সংক্রান্ত সঠিক তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে। এ উদ্যোগের কার্যকারিতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সার্ভারের সঙ্গে তথ্যব্যবস্থা সংযুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রয়োজনীয় তথ্য সহজেই পাওয়া যাবে। বাল্যবিবাহ রোধ হবে, বহুবিবাহ রোধ হবে, পাশাপাশি জালিয়াতিও রোধ হবে।’ এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভিসা আবেদনের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বৈবাহিক তথ্যাদি দ্রুত ও নির্ভুলভাবে যাচাইয়েও এই প্ল্যাটফর্ম কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে জানানো হয়, প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১০টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম হিসেবে এই ডিজিটাল নিবন্ধন চালু করা হবে। পরীক্ষামূলক পর্যায়ের ফলাফল ও অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে তা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে এ প্রকল্পে ব্র্যাককে অংশীদার করার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, সরকারের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার জন্য নয়, বরং মাঠপর্যায়ে সংস্থাটির দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতেই এ যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ব্র্যাক তাদের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কাজ করছে। গত ৫৫ বছর ধরে প্রায় সারা বাংলাদেশের গ্রাসরুট পর্যায় পর্যন্ত নারীদের বৈবাহিক অবস্থান নিয়ে তারা কাজ করছে। তাদের একটি অভিজ্ঞতা আছে। আমরা তাদের কাছ থেকে আমাদের কাজিদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা সরকারের দুর্বলতার বিষয় নয়। আমরা শুধু তাদের দক্ষতা কাজে লাগাচ্ছি।’


নির্বাচিত

ডিএমপির ক্রাইম বিভাগে নতুন ডিসি পদায়ন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্রাইম বিভাগে নতুন উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাবকে। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়।

মঙ্গলবার জারি করা ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাবকে ক্রাইম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। জনস্বার্থে গৃহীত এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্বোধনে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহার না করার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’সহ কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকার, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির পূর্বে সম্মানসূচক শব্দ হিসেবে যথাক্রমে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ শব্দ লিখিতরূপে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং এর অধীন সব দপ্তরের দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ প্রেরণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে বিষয়টিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নির্দেশনাটি অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত পরিপত্রটি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব সিনিয়র সচিব ও সচিব, সব বিভাগীয় কমিশনার, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তা, সব জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

পরিপত্রে সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সচিব ও সচিবদের তাঁদের নিয়ন্ত্রণাধীন সব দপ্তর ও সংস্থাকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

সরকারের দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদধারীদের সম্বোধনের ক্ষেত্রে অভিন্ন রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় ও সময় বৃদ্ধি রোধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:২৯
সংসদ প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদে উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বারবার বৃদ্ধির প্রবণতা বন্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যয় বাড়ার অন্তর্নিহিত কারণগুলো ব্যাখ্যা করেন এবং এসব সংকট নিরসনে সরকারের নেওয়া বহুমুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কালক্ষেপণ ও অতিরিক্ত ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে একক কোনো বিষয় দায়ী নয়। মূলত সঠিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষার দুর্বলতা, ত্রুটিপূর্ণ ব্যয় প্রাক্কলন, জমি অধিগ্রহণ ও সেবা সংযোগ (ইউটিলিটি) স্থানান্তরে বিলম্ব, জটিল ক্রয় প্রক্রিয়া, সময়মতো প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ না দেওয়া, মাঠপর্যায়ে দুর্বল তদারকি এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের অভাবের কারণে এসব জটিলতার সৃষ্টি হয়।

এসব সমস্যা দূর করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে জানানো হয়, নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি অনুমোদনের পরপরই বাস্তবায়ন প্রস্তুতি দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যমান প্রকল্প নির্দেশিকা যুগোপযোগী করার কাজ চলছে। কাজের অগ্রগতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোতে ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড স্থাপন, নিয়মিত পর্যালোচনা সভা এবং মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি নিশ্চিতের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব প্রকল্প যথাসময়ে শেষ হয়নি, সেগুলোর বিলম্বের কারণ ও অনিয়ম চিহ্নিত করে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে যেগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের নিচে, সেগুলোর প্রায়োগিক উপযোগিতা বিবেচনা করে পুনর্বিন্যাস বা নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াতে ই-জিপি (e-GP) ব্যবস্থার পরিধি সম্প্রসারণ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ২০২৫ হালনাগাদ করার উদ্যোগ চলমান রয়েছে। সেই সঙ্গে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, সমন্বিত গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলে জোর দিয়ে উন্নয়ন ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।


নির্বাচিত

হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনে দুর্ঘটনায় ২ সেনাসদস্য নিহত, আহত ১

আইএসপিআর লোগো। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই জন সৈনিক নিহত এবং এক কর্মকর্তা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আইএসপিআর।

আইএসপিআর জানায়, আজ চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই জন সৈনিক নিহত এবং এক জন কর্মকর্তা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।

আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল ঢাকায় স্থানান্তর করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


নির্বাচিত

পলিথিনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পলিথিন ও প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে এ নিয়ে যথাযথ দায়িত্ব পালনের নির্দেশনাও দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

আজ বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান।

সভায় পরিবেশবান্ধব ব্লক ইটের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বায়ু, পানি, মাটি ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক) ড. সাইমুম পারভেজসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সম্পর্ক সুদৃঢ়করণ ও পারস্পরিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলামের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের সূচনাপর্বে উভয় প্রতিনিধি পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সামরিক ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এতে উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সামরিক কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সমুদ্রসীমার নিরাপত্তার মতো কৌশলগত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।

আলোচনাকালে বাংলাদেশ সরকারের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, "ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে গভীর সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়।"

ভবিষ্যতেও উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে একযোগে কাজ করে যাওয়ার বিষয়ে নয়াদিল্লির ধারাবাহিক অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন হাইকমিশনার। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব সুসংহত রাখা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় প্রতিবেশী দুই দেশের সমন্বিতভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ করা হয়।


নির্বাচিত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে একগুচ্ছ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ডেঙ্গু সংক্রমণের হার কমাতে তিন মাসব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক বিশেষ কর্মসূচিসহ একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী দেশের সব জেলার সিভিল সার্জনদের নিয়ে বৈঠক করে নির্দেশনা দিয়েছেন।

চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষে অথবা অক্টোবর মাসের শুরুতে দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকে সরকার তিন মাসব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১২ সেপ্টেম্বর এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর চলতি বছরের মার্চ মাস থেকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধের ওপর জোর দিয়েছে। সেই থেকে প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান বা বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন করে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করার জন্য সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত গঠন করেছে।

উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। বেশি রোগীর চাপ সামাল দেওয়ার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাঠে একটি ‘ফিল্ড হসপিটাল’ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এছাড়াও ডেঙ্গুরোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে সারা দেশে প্রায় ৩০০ চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনামূল্যে করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ১০ শতাংশ শয্যায় বিনামূল্যে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা এবং রোগ নির্ণয় কেন্দ্রগুলোকে ডেঙ্গু ও ডেঙ্গু রোগ সংক্রান্ত পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড় দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটির সহায়তায় ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসার সমন্বিত গাইডলাইন হালনাগাদ করা হয়েছে।

একইসাথে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক এ বিশেষ কর্মসূচিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গুর কারণে প্রতিদিন মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সকল সিভিল সার্জনকে হাসপাতালের প্রস্তুতি জোরদার রাখতে এবং জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম বাড়াতে জুম মিটিং করে নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া নির্দেশনার বিষয়ে সিভিল সার্জনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে ডেঙ্গু রোগীদের অগ্রাধিকার দিতে এবং সক্ষমতা অনুযায়ী ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা সংখ্যা বাড়াতে তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও সংক্রমণ বিস্তার রোধে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য এবং পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডের রোগীদের জন্যও মশারির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্যালাইন, ওষুধ এবং ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিটের কোনো ঘাটতি দেখা দিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিজস্ব তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বাসস’কে জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা সারা দেশের সিভিল সার্জনদের সাথে জুম মিটিং করেছি। ডেঙ্গু রোগীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভর্তি করা এবং হাসপাতালগুলোতে যেখানে সম্ভব ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে শয্যা সংকটের মুখে পড়তে না হয়।

তিনি বলেন, বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন মজুত রয়েছে। তবে ঘাটতি দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালের নিজস্ব বাজেট থেকে সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।

ঢাকার সিভিল সার্জন ডা. জাকারিয়া মাহমুদ বাসস’কে বলেন, ইতোমধ্যে হাসপাতালগুলোতে স্যালাইন ও ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট বিতরণ করা হয়েছে। এসব উপকরণের কোনো ঘাটতি নেই।

তিনি বলেন, বৈঠকে আমাদের সব সময় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যাতে কোনো সংকট তৈরি না হয়।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত ডেঙ্গুর সম্ভাব্য মহামারি ঠেকাতে এখন থেকেই সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থল ও বাসাবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি দেশজুড়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে সিভিল সার্জনদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে এবং স্কুল হেলথ কর্মসূচির আওতায় স্কুলগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের সমন্বয় করা হবে।

চলতি বছরের ২৩ জুন ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে জাতীয় কমিটির প্রথম সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। টাস্কফোর্সের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

টাস্কফোর্সের প্রধান কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে, জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করা এবং মাঠ পর্যায়ের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে জাতীয় কমিটিকে অবহিত করা। বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এই কমিটি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন এবং এ সময়ে ১৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও যথাসময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা (সিডিসি), রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর), এমআইএস ও হাসপাতাল শাখার পরিচালকদের নিয়ে একটি সেল গঠন করা হয়েছে।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

banner close