শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন

প্রধান উপদেষ্টাসহ সব উপদেষ্টার সম্পদের হিসাব বিবরণী প্রকাশ হবে
ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ২১:৪৭

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষমতা ও দায়িত্ব, প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাগণের পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা, পদত্যাগ এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিধান করতে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে আইন ও বিচার বিভাগ। ইতোমধ্যে ওই খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদনও করেছে উপদেষ্টা পরিষদ।

আজ বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক ব্যাপক দমন-পীড়ন ও গণহত্যা চালানোর ফলশ্রুতিতে সমগ্র দেশে দল-মত নির্বিশেষে ছাত্র-জনতা উত্তাল গণবিক্ষোভ করে এবং আন্দোলনের এক পর্যায়ে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে ঐক্যবদ্ধ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গত ৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন।’ ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি গত ৬ আগস্ট দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন।’

‘উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলা, জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা রক্ষা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সচল রাখা এবং রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্য পরিচালনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন বিষয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের মতামত যাচনা করেন।’

‘সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার প্রয়োগ করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ৮ আগস্ট স্পেশাল রেফারেন্স নম্বর-১/২০২৪ দ্বারা মতামত প্রদান করেছে যে, ‘রাষ্ট্রের সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণে জরুরি প্রয়োজনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্য পরিচালনার নিমিত্ত অন্তর্র্বতীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্যান্য উপদেষ্টা নিযুক্ত করতে পারবেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ওই রূপে নিযুক্ত প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্য উপদেষ্টাদেরকে শপথ পাঠ করাতে পারবেন।’

‘বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ডকট্রিন অব নেসেসিটি অনুসারে সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলায় সর্বস্তরের জনগণের ঐকান্তিক ইচ্ছা ও পরম অভিপ্রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে গণঅভ্যুত্থানকারী ছাত্র-জনতার প্রতিনিধিদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের রাষ্ট্র সংস্কার আকাঙ্ক্ষা পূরণের ও রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্য পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে।’

‘ওই রূপে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষমতা ও দায়িত্ব, প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা, পদত্যাগ এবং আনুষঙ্গিক অন্য বিষয়ে বিধান করা জরুরি।’ ‘বর্ণিত প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদ ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন করেছে।’ এদিকে স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও সরকাররের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরিতে উপদেষ্টা পরিষদের সব সদস্য ও সমপদমর্যাদাসম্পন্ন সব ব্যক্তির সম্পদের হিসাব বিবরণী প্রকাশ করবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

এ উপলক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালা, ২০২৪-এর খসড়ার অনুমোদনও দিয়েছে সরকার।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালার খসড়া প্রণয়নপূর্বক উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি যারা সরকার অথবা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত, তারা প্রতিবছর আয়কর জমা দেওয়ার সবশেষ তারিখের পরবর্তী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নীতিমালায় সংযুক্ত ছকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের আয় ও সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার বিধান রেখে খসড়া ‘আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালা’ উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে অনুমোদিত হয়। প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সব উপদেষ্টার সম্পদ বিবরণী প্রকাশের অঙ্গীকার করার পর এ নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ড. ইউনূস বলেছিলেন, ‘বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছে। আমাদের সকল উপদেষ্টা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের সম্পদের হিসাব বিবরণ প্রকাশ করবেন। পর্যায়ক্রমে এটি সকল সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক করা হবে।’ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে ন্যায়পাল নিয়োগ অধ্যাদেশ প্রণয়ন করার কথাও বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা।

গত ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সকল সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদ বিবরণ দাখিল করা বাধ্যতামুলক করা হয়েছে। চাকরিজীবীদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করার আগেই উপদেষ্টা পরিষদের সকল সদস্য ও সমমর্যাদা সম্পন্নদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করতে আগ্রহী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদের হিসাব বিবরণী প্রকাশের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠলেও আগের সরকারগুলো তা বাস্তবায়ন করেনি।


কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর। আজ শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ এর জেল সুপার মো. আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল শুক্রবার তার জামিনের কাগজ কারাগারে পৌঁছায়।

পরে যাচাই-বাছাই শেষে আজ শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

এ সময়ে তাঁর স্ত্রীসহ স্বজনেরা কারাগারে উপস্থিত ছিলেন।


অল্প সময়ের মধ্যে বন্ধ পাটকল চালু হবে: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি

খুব অল্প সময়ের মধ্যে বন্ধ পাটকল চালু হবে বলেছেন ‎বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।

তিনি বলেন, পাট আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবনের সঙ্গে মিশে আছে। একসময় সোনালী আঁশের মাধ্যমে বাংলাদেশের পরিচিতি ছিল। আজকে এটা প্রায় অনেকটা পিছিয়ে গেছে। আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতেই ছিল বন্ধ পাটকল মিল আবার চালু করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই খাতে বৈচিত্র্য এনে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।

শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

‎তিনি বলেন, আপনারা জানেন আমাদের সরকারের বয়স খুবই কম তবুও আমরা বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা করছি যাতে খুব অল্প সময়ের মধ্যে এগুলো দৃশ্যমান হয়। পাশাপাশি পাট ও পাটের বীজের উৎপাদন বৃদ্ধি করা, বন্ধ মিল কারখানা গুলো চালু করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।

২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্লাস্টিককে নিষিদ্ধ করেছিলেন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর ধারাবাহিকতায় আমরা আবার মানুষকে প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলে আমরা এই চট ও পাটের দ্রব্যাদি ব্যবহারের জন্য উদ্বুদ্ধ করব। ইতোমধ্যে আত্ম মন্ত্রণালয় ও সরকারের বিভিন্ন অফিসে পাটপণ্যের ব্যবহার বাড়াতে আমরা উদ্যোগী হচ্ছি। পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় যেসব জায়গায় পাট ও চটের ব্যবহার করা যায় সেগুলো নিশ্চিত করা হবে।

এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, গণপূর্ত বিভাগ পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.শহীদুল ইসলাম, ভান্ডারিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন আকন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সদস্য সচীব মাসুদ রানা পলাশ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বিপ্লবসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।


দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন ১৬ মার্চ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

প্রথম পর্যায়ে ৫৪টি জেলায় এ কর্মসূচি শুরু হবে। আগামী ১৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় খাল খননের মাধ্যমে ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

একইসঙ্গে আরও ৫৩টি জেলায় মন্ত্রী, উপদেষ্টা, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ ও সংসদ সদস্যগণ সংশ্লিষ্ট জেলায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

এ কর্মসূচি কৃষি ও সেচ কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে; কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এবং গ্রামীণ জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। একইসঙ্গে ভূ-উপরিস্থ পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে; যার ফলে খরা, বন্যা ও জলাবদ্ধতা হ্রাসে সহায়ক হবে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-৩ শাখা থেকে এক পত্রের মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তুরস্কে সংক্ষিপ্ত যাত্রা বিরতি করবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা গনমাধ্যমকে জানান, নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে তুরস্কে অবস্থানকালে ড. খলিলুর রহমান কয়েকটি বৈঠক ও কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্ব পাওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আরও জোরালো করার চেষ্টা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের মাসিক সম্মানি প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সম্মানি ভাতা দেওয়ার ঘোষণা আগেই দিয়েছিল বিএনপি।

ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতিটি মসজিদে মাসিক ভাতা ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ইমাম ৫ হাজার, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার এবং খাদেম ২ হাজার টাকা করে পাবেন।

প্রতিটি মন্দিরের জন্য ৮ হাজার টাকা দেওয়া হবে। যা থেকে পুরোহিত ৫ হাজার এবং সেবাইত ৩ হাজার টাকা পাবেন। প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারের জন্য ৮ হাজার টাকা দেওয়া হবে। যার মধ্যে বিহার অধ্যক্ষ ৫ হাজার এবং উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা পাবেন।

এ ছাড়া প্রতি চার্চের জন্য ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যারমধ্যে পালক/যাজক ৫ হাজার ও সহকারী পালক/যাজক ৩ হাজার টাকা পাবেন।


অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় জোর সরকারের

* উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন * কমিটিতে রয়েছে অর্থ, জ্বালানি, বাণিজ্য, স্বরাষ্ট্র, প্রবাসী কল্যাণ, খাদ্য ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় * সমন্বিত এবং বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নই লক্ষ্য
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে জ্বালানি তেল, গ্যাস, সার, পরিবহন ব্যয় ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বাজার স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিচ্ছে বিএনপি সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ‘ফার্মারস কার্ড’ ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রবর্তন, সার্কুলার অর্থনীতির মাধ্যমে বর্জ্যকে জ্বালানিতে রূপান্তর, তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা পুনরায় চালুর উদ্যোগ এবং দুর্নীতি রোধ ও বাজার স্থিতিশীল রাখার কার্যকর পদক্ষেপ। এছাড়া গণতান্ত্রিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সংকটের বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ কারণেই সরকার উদ্যোগ নিয়েছে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে উৎপাদন সচল রাখা এবং মানুষের জীবনযাত্রায় অপ্রয়োজনীয় কষ্ট বাড়তে না দেওয়া।

তিনি বলেন, আমরা দ্রুত উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছি, যার কাজ হলো যুদ্ধ পরিস্থিতির সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন করা এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি কার্যকর ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট প্রস্তুত করা। কমিটিতে অর্থ, জ্বালানি, বাণিজ্য, স্বরাষ্ট্র, প্রবাসী কল্যাণ, খাদ্য ও স্থানীয় সরকারের মতো সব গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়কে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে সমন্বিত এবং বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।

তিনি বলেন, আমাদের প্রস্তুতি কয়েকটি স্তরে এগোচ্ছে। প্রথমত, জ্বালানি তেল, এলএনজি ও সারের মজুত, আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্যও কাজ চলছে। তৃতীয়ত, প্রয়োজন হলে বিদ্যুৎ, কৃষি ও জরুরি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে জ্বালানি বণ্টনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থাৎ আমরা প্যানিক রেসপন্স নয়, প্ল্যানড রেসপন্সের পথে হাঁটছি।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান কাজ। বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরদিন থেকেই রমজান মাস শুরু হয়েছে। প্রস্তুতির জন্য খুব বেশি সময় না থাকলেও দেশে যে পরিমাণ খাদ্যপণ্যের সরবরাহ মজুত আছে, তা দিয়ে বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখা সম্ভব, শঙ্কার কোনো কারণ নেই।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, ২০২৬ সালের পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে আমাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। বৈশ্বিক পরিসরে বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে নিতে আগামী পাঁচ বছরের প্রতিটি দিন, প্রতিটি ঘণ্টা আমরা পরিকল্পরা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করব।

দেশের রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। তার মতে, চার-পাঁচ মাস ধরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ধারায় আছে, যার প্রভাব বাজারে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনার বিকল্প নেই। আগামী দিনে বিষয়গুলো মোকাবিলা করাই সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।

এদিকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অর্থনীতির কঠিন একসময়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১৭ বছরে নানা চড়াই-উত্রাইয়ে নিজেকে ‘শাণিত’ করা তারেক রহমান এমন একসময় বাংলাদেশকে সাজানোর ক্ষমতা পেয়েছেন, যখন ব্যাংক খাত লুটপাটে পথহারা। দেশ চলছে ধারদেনায়।

অর্থনীতি বিশ্লেষক ও ফিন্যানশিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মামুন রশীদ বলেন, একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের প্রথম এবং প্রধান কাজ ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক কাঠামোকে মেরামত করা। দীর্ঘদিনের লুণ্ঠনমূলক অর্থনীতি আর সুশাসনের অভাব বিনিয়োগকারীদের মনে যে গভীর আস্থাহীনতা তৈরি করেছে, তা দূর করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ।

অর্থনীতি বিশ্লেষক মামুন রশীদ আরো বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ হাতে নিতে হবে। সবার আগে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করে একটি শক্তিশালী ও গতিশীল মুদ্রানীতি প্রণয়ন করতে হবে, যা কেবল কাগজ-কলমে নয়, বাস্তবে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফেরাবে। হুন্ডি বন্ধ করে বৈধ পথে রেমিট্যান্স আনা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে বিশেষ প্রণোদনা দিতে হবে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে বেকারত্ব, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য আর ব্যবসায়ের পরিবেশ তৈরিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

নিট পোশাক রপ্তানি খাতের উদ্যোক্তা ও বিকেএমইএর সাবেক প্রেসিডেন্ট ফজলুল হক বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীরা নির্বাচনের আগে তারেক রহমানকে আমাদের সমস্যার কথা জানিয়েছিলাম। বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি করা, জনজীবন-ব্যবসায় মব কালচার নিয়ন্ত্রণ করা, ব্যাংক খাত পুনর্গঠন, সুদের হার কমানো, জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো, সুশাসন নিশ্চিত করা ইত্যাদি বিষয়ে তিনি খুবই আন্তরিক।


২৩ থেকে ২৫ মার্চ স্মৃতিসৌধে সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষেধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মহান স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে আগামী ২৩ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত সেখানে সর্বসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সরকারি এক তথ্যবিবরণীতে এ কথা বলা হয়েছে।

তথ্য অধিদপ্তর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এ বিবরণীতে বলা হয়, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদ্‌যাপন উপলক্ষে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আগামী ২৩ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত স্মৃতিসৌধ এলাকার অভ্যন্তরে সর্বসাধারণের প্রবেশ বন্ধ থাকবে।

এতে আরও বলা হয়, ২৬ মার্চ প্রত্যুষে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ স্মৃতিসৌধ ত্যাগ না করা পর্যন্ত জাতীয় স্মৃতিসৌধে সর্বসাধারণের প্রবেশ বন্ধ থাকবে।

জাতীয় স্মৃতিসৌধের পবিত্রতা ও সার্বিক সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।


রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে শিলাবৃষ্টিতে নিহত ৩

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হেনেছে আচমকা বজ্রসহ বৃষ্টি। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আচমকা বজ্রসহ বৃষ্টিতে ৩ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যার পর শুরু হওয়া এই ঝড় ও তীব্র শিলাবৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে জনজীবন।

রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় আকারের শিলাবৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। এঝড়ে অনেক এলাকায় গাছপালা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে প্রথম দিন রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

শনিবার (১৪ মার্চ) দ্বিতীয় দিনেও রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে আচমকা এ ঝড়ে ঠাকুরগাঁওয়ে এক স্কুল ছাত্রের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। এছাড়া নেত্রকোনায় বজ্রপাতে ২ জন নিহত হয়েছেন।


ওয়াকআউট প্রচলিত রীতি, তবে সংসদে স্লোগান দেওয়া ঠিক না: স্পিকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংসদে ওয়াকআউট প্রচলিত রীতি; তবে সেখানে স্লোগান দেওয়া ঠিক নয়, এটি রেওয়াজের বাইরে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ বলেছেন তিনি।

স্পিকার বলেন, ‘সংসদে ওয়াকআউট একটি প্রচলিত রীতি। তবু তারা মোটামুটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ছিল। তবে সংসদে স্লোগান দেয়া ঠিক না, এটা সংসদের রেওয়াজের বাইরে।’

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণের মাধ‌্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

স্পিকার বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রকৃত এ সরকার মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্যসমূহ সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার বাস্তবায়ন ও জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণের মাধ্যমে একটি সুখী, সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি এবং সংসদ হবে তার কেন্দ্রবিন্দু।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি জাতীয় সংসদে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের জন‌্য দল থেকে পদত‌্যাগ করেছি। বিরোধী দল সংসদে যথেষ্ট সুযোগ পাবে। স্বৈরাচার হটানোর আন্দোলনে আমরা একই সাথে ছিলাম। তাদের প্রতি আমাদের যথেষ্ট সহনশীলতা রয়েছে। সংসদ পরিচালনায় আমার ভূমিকা হচ্ছে ক্রিকেট খেলায় আম্পায়ারের মতো নিরপেক্ষ অবস্থান।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় স্মৃতিসৌধ একটি পবিত্রতম স্থান যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ধারক ও বাহক। এখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান বোধ করছি ও অনুপ্রাণিত হয়েছি। গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা অংশগ্রহণ করে শহীদ হয়েছেন তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলাম এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অধীনে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করার সৌভাগ‌্য হয়েছে। যুদ্ধে আমি আহত হয়েছি। শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি গত ১৭ বছর বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক কর্মী, ছাত্র, অভিভাবকসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ যারা মাফিয়া সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে স্বৈরাচারী সরকারকে উৎখাত করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন।’

এ সময় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব, সার্জেন্ট এ্যাট আর্মসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।


১৫ মার্চ থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি পাবে গণপরিবহন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামী ১৫ মার্চ থেকে সারাদেশে গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে এবং তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক ও সেতু, রেল এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। শুক্রবার (১৩ মার্চ) কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মন্ত্রী জানান, জ্বালানিমন্ত্রী তাকে এই বিষয়ে পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন, যার ফলে জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহনের সংকট বা ভাড়া বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। ঘরমুখী মানুষের ঈদযাত্রা এখন পর্যন্ত স্বস্তিদায়ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

অনলাইনে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ৩ মার্চ থেকে শুরু হওয়া টিকিট বিক্রিতে যাত্রীদের ব্যাপক চাপ ছিল। প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ টিকিট কেনার চেষ্টা করলেও সক্ষমতা অনুযায়ী দৈনিক ৩৬ হাজার টিকিট বিক্রি করা সম্ভব হয়েছে। রেলের সেবার মান নিয়ে যাত্রীদের উদ্বেগের বিষয়ে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, বর্তমান মান যেকোনো মূল্যে ধরে রাখা হবে এবং ভবিষ্যতে এটি আরও উন্নত করা হবে।

শেখ রবিউল আলম উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় রেল যোগাযোগকে আধুনিক ও জনবান্ধব করতে আমূল পরিবর্তনের কাজ চলছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ইতোমধ্যে রেলে ১২৪টি অতিরিক্ত কোচ এবং পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন যুক্ত করা হয়েছে, যা প্রতিদিন ৪২ হাজার পর্যন্ত যাত্রীকে সেবা দিতে সক্ষম হবে।

ট্রেনের সময়সূচি বা শিডিউল বজায় রাখার বিষয়ে মন্ত্রী জানান যে, বড় কোনো বিপর্যয় এড়াতে বর্তমানে ৭৮টি লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন যুক্ত করা হয়েছে এবং আগামী দুয়েক দিনের মধ্যে এই সংখ্যা আরও বাড়বে।

রেলের ছাদে যাতায়াতের প্রবণতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শতভাগ নিশ্চিত করা কঠিন হলেও কেউ যেন ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়াত না করে সে বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। ঢাকা ছেড়ে যাওয়া প্রায় দেড় কোটি মানুষের বিশাল চাপ সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ হলেও পরিবহন ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে নতুন কোচ ও বাস যুক্ত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

নিরাপত্তা ও সড়ক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান যে, ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে পুলিশ, আনসার ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রতি ৫০০ মিটার পরপর স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হয়েছে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য।

এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ছয় লেনের কাজ চললেও অন্তত দুটি লেন সচল রাখা হয়েছে যাতে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে যায়। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দিতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি সংকটের সময় যাত্রীদের কিছুটা ধৈর্য ও সহযোগিতা প্রদর্শনের অনুরোধ জানিয়েছেন।


গণমাধ্যমকে ঢেলে সাজিয়ে তথ্যের অবাধ প্রবাহ সৃষ্টি করতে চায় সরকার: তথ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৩ মার্চ, ২০২৬ ২৩:১৭
বগুড়া প্রতিনিধি

গণমাধ্যম ছাড়া আধুনিক সভ্যতার কথা চিন্তা করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, গণমাধ্যম ছাড়া রাষ্ট্র ও সমাজ অন্ধকারে থেকে যায়। তাই গণমাধ্যম রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য। এটির অবাধ স্বাধীনতা দিতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। গণমাধ্যমকে ঢেলে সাজিয়ে তথ্যের অবাধ প্রবাহ সৃষ্টি করতে চায় সরকার। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বগুড়ায় সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে রাজশাহী বিভাগের ৭ জেলার সাংবাদিকদের আর্থিক অনুদান ও সাংবাদিক পরিবারের মেধাবী সন্তানদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এ কথা বলেন তিনি। এসময় অনুদানের চেকও বিতরণ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যম ছাড়া আধুনিক সভ্যতার কথা চিন্তা করা যায় না। এটি ছাড়া রাষ্ট্র ও সমাজ অন্ধকারে থেকে যায়। তাই গণমাধ্যম রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য। এটির অবাধ স্বাধীনতা দিতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। গণমাধ্যমকে ঢেলে সাজিয়ে তথ্যের অবাধ প্রবাহ সৃষ্টি করতে চায় সরকার।’

বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও সিনিয়র সাংবাদিক আতিকুর রহমান রুমন। আরও বক্তব্য দেন বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য ও বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ, দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক লালু, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান, বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু, সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সভাপতি গণেশ দাস। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সাঈদ।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘আজকের যে আর্থিক চেক সেটি অনুদান নয়, এটি সাংবাদিকদের প্রাপ্য।’ এসময় তিনি সাংবাদিকদের উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গিকারও ব্যক্ত করেন।

পরে বাদ জুম্বা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বগুড়ার বেতার কেন্দ্র ও বগুড়া প্রেসক্লাব পরিদর্শনে যান।

অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জ ছাড়া বাকি সাত জেলার ৫১ জন সাংবাদিককে কল্যাণ অনুদানের এবং ৪৬ জন মেধাবী সন্তানকে মোট ২ কোটি ৪৩ লাখ ৫০ হাজারের চেক বিতরণ করা হয়।


জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের শ্রদ্ধা

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানান স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার। সংগৃহীত ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে ফাতেহা পাঠ, দোয়া ও পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তারা শ্রদ্ধা জানান।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন সেখানে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে যথাক্রমে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন তারা।


১৫ মার্চ থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি পাবে গণপরিবহন: মন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১৫ মার্চ থেকে গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। জ্বালানির কারণে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

আজ শুক্রবার (১৩ মার্চ) ঈদ উপলক্ষ্যে ট্রেনযাত্রা শুরুর প্রথম দিনে ঢাকার প্রধান রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করতে আসেন মন্ত্রী। রেল স্টেশন পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

জ্বালানি সংকটে পরিবহন সংকট হওয়ারও কোনো সুযোগ নেই বলেও আশ্বস্ত করেন মন্ত্রী।

ঈদযাত্রার চ্যালেঞ্জের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, মাত্র দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ থেকে দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়েন, যা বিশ্বের খুব কম শহরেই দেখা যায়। এত স্বল্প সময়ে এত মানুষের যাতায়াত বড় একটি চ্যালেঞ্জ হলেও সরকার তা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

বর্তমানে ৭৮টি লোকোমোটিভ যুক্ত করা গেছে এবং আগামী দুই দিনের মধ্যে আরও কয়েকটি যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে বলে জানান সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। উল্লেখ্য, বড় কোনো শিডিউল বিপর্যয় এড়াতে অন্তত ৮৫ থেকে ৮৭টি লোকোমোটিভ প্রয়োজন।


banner close