রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
৮ ভাদ্র ১৪৩৩

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন

প্রধান উপদেষ্টাসহ সব উপদেষ্টার সম্পদের হিসাব বিবরণী প্রকাশ হবে
ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ২১:৪৭

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষমতা ও দায়িত্ব, প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাগণের পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা, পদত্যাগ এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিধান করতে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে আইন ও বিচার বিভাগ। ইতোমধ্যে ওই খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদনও করেছে উপদেষ্টা পরিষদ।

আজ বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক ব্যাপক দমন-পীড়ন ও গণহত্যা চালানোর ফলশ্রুতিতে সমগ্র দেশে দল-মত নির্বিশেষে ছাত্র-জনতা উত্তাল গণবিক্ষোভ করে এবং আন্দোলনের এক পর্যায়ে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে ঐক্যবদ্ধ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গত ৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন।’ ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি গত ৬ আগস্ট দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন।’

‘উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলা, জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা রক্ষা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সচল রাখা এবং রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্য পরিচালনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন বিষয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের মতামত যাচনা করেন।’

‘সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার প্রয়োগ করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ৮ আগস্ট স্পেশাল রেফারেন্স নম্বর-১/২০২৪ দ্বারা মতামত প্রদান করেছে যে, ‘রাষ্ট্রের সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণে জরুরি প্রয়োজনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্য পরিচালনার নিমিত্ত অন্তর্র্বতীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্যান্য উপদেষ্টা নিযুক্ত করতে পারবেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ওই রূপে নিযুক্ত প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্য উপদেষ্টাদেরকে শপথ পাঠ করাতে পারবেন।’

‘বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ডকট্রিন অব নেসেসিটি অনুসারে সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলায় সর্বস্তরের জনগণের ঐকান্তিক ইচ্ছা ও পরম অভিপ্রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে গণঅভ্যুত্থানকারী ছাত্র-জনতার প্রতিনিধিদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের রাষ্ট্র সংস্কার আকাঙ্ক্ষা পূরণের ও রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্য পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে।’

‘ওই রূপে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষমতা ও দায়িত্ব, প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা, পদত্যাগ এবং আনুষঙ্গিক অন্য বিষয়ে বিধান করা জরুরি।’ ‘বর্ণিত প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদ ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন করেছে।’ এদিকে স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও সরকাররের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরিতে উপদেষ্টা পরিষদের সব সদস্য ও সমপদমর্যাদাসম্পন্ন সব ব্যক্তির সম্পদের হিসাব বিবরণী প্রকাশ করবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

এ উপলক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালা, ২০২৪-এর খসড়ার অনুমোদনও দিয়েছে সরকার।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালার খসড়া প্রণয়নপূর্বক উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি যারা সরকার অথবা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত, তারা প্রতিবছর আয়কর জমা দেওয়ার সবশেষ তারিখের পরবর্তী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নীতিমালায় সংযুক্ত ছকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের আয় ও সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার বিধান রেখে খসড়া ‘আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালা’ উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে অনুমোদিত হয়। প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সব উপদেষ্টার সম্পদ বিবরণী প্রকাশের অঙ্গীকার করার পর এ নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ড. ইউনূস বলেছিলেন, ‘বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছে। আমাদের সকল উপদেষ্টা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের সম্পদের হিসাব বিবরণ প্রকাশ করবেন। পর্যায়ক্রমে এটি সকল সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক করা হবে।’ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে ন্যায়পাল নিয়োগ অধ্যাদেশ প্রণয়ন করার কথাও বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা।

গত ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সকল সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদ বিবরণ দাখিল করা বাধ্যতামুলক করা হয়েছে। চাকরিজীবীদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করার আগেই উপদেষ্টা পরিষদের সকল সদস্য ও সমমর্যাদা সম্পন্নদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করতে আগ্রহী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদের হিসাব বিবরণী প্রকাশের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠলেও আগের সরকারগুলো তা বাস্তবায়ন করেনি।


নির্বাচিত

বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করলেন নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবনে নিজের দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টায় তিনি রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন ও কার্যালয়ে এসে পৌঁছালে তাঁকে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

বঙ্গভবনের ২ নম্বর প্রধান ফটকে পৌঁছালে বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল রাষ্ট্রপতিকে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানায়। এরপর বঙ্গভবনের ক্রেডেনশিয়াল মাঠে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) একটি চৌকস দল তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মান তথা ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে।

অভ্যর্থনা পর্ব শেষে বঙ্গভবনের অক্টাগনালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, জনবিভাগের সচিব এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী, প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এবং পিজিআর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম আরিকুল আলম সপরিবারে রাষ্ট্রপতিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

দাপ্তরিক কার্যক্রমের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল তাঁর নির্ধারিত অফিস কক্ষে বসে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া তিনি বঙ্গভবনের পরিদর্শন বইয়েও স্বাক্ষর করেন বলে জানা গেছে। গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং পরদিন ২১ আগস্ট বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শপথ গ্রহণ করেন। আজ দাপ্তরিক কাজ শুরুর মধ্য দিয়ে তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্বের পূর্ণ সক্রিয়তা প্রকাশ করলেন।


নির্বাচিত

দক্ষতা ও সততার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে পেশাগত দক্ষতা ও সততাকে প্রধান্য দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কর্মকর্তাদের নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলার মান, বিশ্বস্ততা এবং আনুগত্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করতে তিনি নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। আজ রবিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ এর উদ্বোধনকালে তিনি এসব দিকনির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ছাড়াও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় নৌ ও বিমান বাহিনী বেসামরিক প্রশাসনকে যেভাবে সহায়তা করছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বাহিনীর সকল স্তরের সদস্যদের এই ত্যাগের জন্য তিনি নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত সকল শহীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রে নবস্থাপিত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন (এডিএসআই)-এর উদ্বোধনী স্মারক ফলক উন্মোচন করেন এবং এর কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। এছাড়া তিনি এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার (এসিওসি) পরিদর্শন করে ড্রোনের মাধ্যমে লাইভ ফিড এবং হেলিকপ্টার থেকে সেনা অবতরণের মহড়া অবলোকন করেন।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর এ্যারোস্পেস রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স এবং সেখানে নিজস্ব সক্ষমতায় তৈরি কামিকাজি ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ও ভিটোলসহ বিভিন্ন ধরনের আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল (ড্রোন) প্রদর্শনী উপভোগ করেন। তিনি কোয়াডকপ্টারের উড্ডয়ন দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আশা করেন যে, প্রযুক্তিগত এই আত্মনির্ভরতা বিমান বাহিনীর সক্ষমতাকে আরও সুসংহত করবে।

এর আগে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে ‘নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:০১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির লক্ষ্যে গঠিত ‘নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন।

আজ রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এর উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।

এই পদোন্নতি পর্ষদে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন, কমান্ডার ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এবং বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন, উইং কমান্ডার ও স্কোয়াড্রন লিডার পদবির যোগ্য কর্মকর্তাগণ পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

নির্বাচনী পর্ষদ শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে এডমিরাল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। র‌্যাংক ব্যাজ পরিধান শেষে প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান।

এ সময় নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক, সক্ষম ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে এগিয়ে নিতে তার মূল্যবান পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা কামনা করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সেনা ও বিমান বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিগত ১৭ বছর ধরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে সংঘটিত যাবতীয় দুর্নীতি ও অনিয়মের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রথম কার্যদিবসে কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন।

ড. আবদুল মঈন খান তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “গত ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। আমার মূল লক্ষ্য হবে দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন পূরণ এবং তাদের কাছে সরকারি সেবা যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া।” একইসাথে তিনি এই মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করে এর হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই মন্ত্রণালয় সরাসরি জনগণের সাথে কাজ করে বিধায় এর মাধ্যমে যথাযথ সেবা নিশ্চিত করা গেলে রাষ্ট্রব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে। তিনি জনগণের ক্ষমতার উৎসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান। ড. মঈন খান বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, সচ্ছল ব্যক্তিরা নিজেদের প্রয়োজনে পথ খুঁজে নিতে পারলেও দরিদ্র মানুষ সম্পূর্ণভাবে সরকারি সেবার ওপর নির্ভরশীল, তাই তাঁদের অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করাই হবে তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন যে, সেই সময় এমনকি বিচার বিভাগের স্বাধীনতাও ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল এবং মন্ত্রণালয় থেকে রায় লিখে দেওয়া হতো। বর্তমান সরকার জনগণের জীবনমান উন্নয়নে তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের স্মৃতিচারণ করে বলেন, তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক আদর্শ দেশপ্রেম ও সেবার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।

মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়াকে একটি গুরুদায়িত্ব হিসেবে অভিহিত করে ড. মঈন খান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জনগণের কাতারে দাঁড়িয়ে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। দেশের বিপুল সংখ্যক দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে তিনি তাঁর সর্বোচ্চ সামর্থ্য নিয়োগ করবেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি মন্ত্রণালয়ের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঐকান্তিক সহযোগিতা কামনা করেন।


নির্বাচিত

দীর্ঘ ১৭ বছর সংবাদমাধ্যমের হাত বেঁধে রাখা হয়েছিল: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, বিগত দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের হাত আক্ষরিক অর্থে বেঁধে রাখা হয়েছিল। দেশের তথাকথিত গণতান্ত্রিক পরিবেশে গণমাধ্যমকে মুক্তভাবে কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে নিজের প্রথম কর্মদিবসে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

আন্দালিব রহমান পার্থ জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে সংবাদমাধ্যমের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।" তিনি মনে করেন, দেশের সাম্প্রতিক এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং এই অবদানের স্বীকৃতি অবশ্যই থাকতে হবে।

বিগত সময়ে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত ও নৈতিক অবক্ষয়ের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, "গত কয়েক বছরে দেশের সব বিভাগেই নৈতিক অবক্ষয় হয়েছে। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সময় লাগবে।" তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাই একযোগে কাজ করলে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

সংবাদমাধ্যমকে গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে আন্দালিব রহমান পার্থ আরও বলেন, সরকারের যাবতীয় কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে পৌঁছে দিতে হবে। এক্ষেত্রে তিনি গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান। দেশের গৌরবময় ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে মন্ত্রণালয় ও গণমাধ্যমকে একযোগে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।


নির্বাচিত

ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হলেন চৌধুরী আশিক মাহমুদ

চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকে নিয়োগ প্রদান করেছে সরকার। তাঁকে আগামী এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে সম্প্রতি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকে এই পদে অধিষ্ঠিত করা হলো। নিয়োগের প্রধান শর্ত হিসেবে তাঁকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে বিদ্যমান সকল কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে। তাঁর এই নিয়োগের মেয়াদ হবে দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছর।

প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়, জনস্বার্থ বিবেচনা করেই এই আদেশ জারি করা হয়েছে এবং তাঁর নিয়োগের আনুষঙ্গিক অন্যান্য শর্তাবলি সম্পাদিত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান এখন থেকে দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।


নির্বাচিত

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গার্ড অব অনার প্রদান। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণের পর আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) প্রথমবারের মতো নিজের দাপ্তরিক কার্যালয় ‘বঙ্গভবনে’ গিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে তিনি রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে বঙ্গভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন এবং বেলা ১১টায় সেখানে পৌঁছান।

বঙ্গভবনে প্রবেশের পর রাষ্ট্রপতি গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) একটি চৌকস দল তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানিয়ে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। এই আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হলো। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

উল্লেখ্য, গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে তিনি দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। এরপর গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের কাছে শপথবাক্য পাঠ করেন তিনি।

দায়িত্ব গ্রহণের পর গতকাল শনিবার সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহিদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি। এর আগে একই দিন দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতেও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। আজ থেকে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হিসেবে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক অভিভাবকের দায়িত্ব পালনে তিনি পুরোপুরি সক্রিয় হলেন। এখন থেকে তাঁর যাবতীয় রাষ্ট্রীয় ও দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড এই ঐতিহাসিক ভবন থেকেই পরিচালিত হবে।


নির্বাচিত

বঙ্গভবনে উঠলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিন্টো রোডের মন্ত্রিপাড়ার বাসা ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজের নতুন ঠিকানা ‘বঙ্গভবনে’ উঠেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে তিনি রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবনে এসে পৌঁছান।

বঙ্গভবনের প্রধান তোরণ দিয়ে প্রবেশের পর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে সেখানে রাষ্ট্রপতি গার্ড রেজিমেন্টের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় কায়দায় অভিবাদন বা ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। এখন থেকে তিনি দেশের এই সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদাধিকারীর দাপ্তরিক কাজ এবং সপরিবারে বসবাস বঙ্গভবনেই করবেন। রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির বাসভবন হিসেবে বঙ্গভবনে অবস্থান করা বাধ্যতামূলক।

উল্লেখ্য, গত ২১ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এর আগে গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক এক নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে জয়লাভ করেন তিনি। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদীয় ব্যবস্থায় অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫টি ভোট পান। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮টি ভোট।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিনন্দন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে তাঁর সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।

শনিবার এক বার্তায় ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস বলেছে, ‘রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করতে কাজ করার প্রত্যাশা করছে যুক্তরাষ্ট্র।’

গত ২০ আগস্ট মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। শুক্রবার তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।


নির্বাচিত

অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতি পেলেন নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম

নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: আইএসপিআর
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে অ্যাডমিরাল পদমর্যাদায় উন্নীত করা হয়েছে। আজ রবিবার সকালে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পদোন্নতির এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ২০২৯ সালের ২২ জুলাই পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। এর আগে গত ২৩ জুলাই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীর শীর্ষ পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

বর্ণাঢ্য সামরিক ক্যারিয়ারের অধিকারী খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তিনি মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রিও অর্জন করেছেন।

সুদীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও স্টাফ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম ও ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন এবং বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির কমান্ড্যান্ট হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়া নৌ সদর দপ্তরে পরিচালক নৌ অপারেশনস ও পরিচালক নৌ পরিকল্পনা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও নৌঘাঁটির অধিনায়কত্ব করেছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর কাজের ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। প্রায় ৪০ বছরের এই দীর্ঘ কর্মজীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি) এবং জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা ও পদকে ভূষিত হন।


নির্বাচিত

সচিবালয়ে প্রথমবার অফিস করছেন তথ্যমন্ত্রী আন্দালিব পার্থ, ফুল দিয়ে বরণ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) প্রথমবারের মতো সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে কাজে যোগ দিয়েছেন। এদিন সকালে তিনি সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে অবস্থিত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

সকাল ৮টা ২০ মিনিটে দপ্তরে উপস্থিত হওয়ার পর মন্ত্রী তাঁর নতুন কার্যদিবসের সূচনা করেন। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ৯টায় মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দিনেই তিনি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত হন এবং উপস্থিত সকলের সাথে সৌজন্য বিনিময় করেন।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারাও এসময় উপস্থিত থেকে মন্ত্রীকে বরণ করে নেন।


নির্বাচিত

কর্মী নিয়োগে ২৫ এজেন্সি নির্ধারণ করল মালয়েশিয়া, প্রক্রিয়া অস্পষ্ট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে ২৫ রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া। দেশটির ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এফডব্লিউসিএমএস) ওয়েবসাইটে এজেন্সিগুলোর তালিকা দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগ ব্যবস্থা নতুন করে সাজানোর মধ্যেই এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগ কীভাবে হবে, তা এখনো অস্পষ্ট।

ওয়েবসাইটে এজেন্সিগুলোর নাম কবে আপলোড হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি নতুন ব্যবস্থার অধীনে এজেন্সিগুলো কীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে, সে বিষয়েও বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, কর্মীদের কাজ না পাওয়া এবং অন্যায়-অত্যাচারের অভিযোগের পর ২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ স্থগিত করে মালয়েশিয়া।

২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নিয়োগের ক্ষেত্রে ১০১টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়েছিল মালয়েশিয়া।

সে সময় লাইসেন্সপ্রাপ্ত অন্য কোনো এজেন্সি মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে নিয়োগের আদেশ পেলেও, তা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে তালিকাভুক্ত ওই ১০১ এজেন্সির যেকোনোটির মাধ্যমে প্রক্রিয়া চালাতে হতো।

এমন নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেট ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছতার অভাবের কারণে প্রক্রিয়াটি চরম সমালোচনার মুখে পড়ে।

পরে চলতি বছরের জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটিতে সফরে গেলে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় শ্রম অভিবাসন নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা এবং একটি সংশোধিত চুক্তি তৈরির জন্য যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে সম্মত হয় দুই নেতা।

মালয়েশিয়া পরে জানায়, বিদেশী কর্মী নিয়োগে কোটার আবেদন এফডব্লিউসিএমএসের ‘ই-কোটা’ মডিউলের মাধ্যমে প্রক্রিয়া করা হবে।

এর মধ্যেই এফডব্লিউসিএমএসের ওয়েবসাইটে নতুন করে রিক্রুটিং এজেন্সির নাম দেওয়া হলো। যদিও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি এবং আগের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সমস্যাগুলো নতুন ব্যবস্থায় সমাধান হবে কি না—এমন উদ্বেগও শেষ হয়নি।

এর আগে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে নির্দেশ দিয়েছিল যেন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রক্রিয়া ঘোষণা না করা পর্যন্ত চুক্তি সই, কর্মীদের পাসপোর্ট সংগ্রহ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা কোনো টাকা যেন না নেওয়া হয়।

মন্ত্রণালয় সতর্ক করে দিয়েছিল যে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে যেকোনো ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম বেআইনি বা অননুমোদিত হিসেবে গণ্য হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিল মন্ত্রণালয়।

এ অবস্থায় ২৫টি বাংলাদেশি এজেন্সি নির্দিষ্ট করা হলেও কর্মী নিয়োগ এগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, চাকরির আদেশ কীভাবে বণ্টন করা হবে বা কর্মীরা কবে থেকে মালয়েশিয়া যেতে পারবেন—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট কিছু পাওয়া যায়নি।

এজেন্সিগুলো হলো—বাংলাদেশ ওয়ান ওভারসিজ লিমিটেড, বেঙ্গল হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট, জেনারেল ট্রেডিং কোম্পানি, ইউনাইটেড গালফ সার্ভিসেস, অন্বেষা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, আত-ত্বাকওয়া ওভারসিজ লিমিটেড, আর্থ-স্মার্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, খান জাহান আলী ওভারসিজ, মেসার্স আল-সুপ্ত ওভারসিজ, মাদারল্যান্ড ওভারসিজ লিমিটেড, রিফা ইন্টারন্যাশনাল, ভেলি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, এ-প্লাস ইন্টারন্যাশনাল, আল-হায়াত ওভারসিজ, ভালুকা ওভারসিজ, ব্রাদার্স ট্রেডিং অ্যান্ড কন্ট্রাক্টিং লিমিটেড, চাঁদপুর ইন্টারন্যাশনাল, কান্ট্রি এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি, গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড, জুয়েল রিংকু এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সাতক্ষীরা ইন্টারন্যাশনাল, ম্যানগ্রোভ ক্যারিয়ার লিংক, নেইবার অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড, তানিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ও দ্য অ্যাংকর কেয়ার গ্লোবাল মাইগ্রেশন।

এ তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও কম্বোডিয়া, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের রিক্রুটিং এজেন্সি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

বর্তমান সরকার মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমে বিশ্বাসী: তথ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্তমান সরকার মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমে বিশ্বাসী। তবে স্বাধীনতা ভোগের পাশাপাশি সংবাদকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ।

শনিবার দুপুরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করার সময় এ কথা বলেন তিনি।

এর আগে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন নতুন তথ্যমন্ত্রী। পরে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

স্মৃতিসৌধে যাওয়ার আগে একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্ব ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন আন্দালিভ রহমান পার্থ। তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরুর পর গণমাধ্যমবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত রেখে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর বাড়তি কোনো চাপ অনুভব করছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পার্থ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভালো জানেন কখন কাকে কোথায় দায়িত্ব দিতে হবে। যেহেতু অনেক দিন ধরে রাজনীতির পাশাপাশি মিডিয়ার সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে, তাই আশা করি সবার সহযোগিতায় ভালো কিছু করতে পারব।’

টেলিভিশনের টক-শো ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে তার নিয়মিত উপস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখন হয়তো আগের মতো ঘন ঘন কথা বলার সুযোগ হবে না, তবে মিডিয়ার সঙ্গেই থাকব এবং ভিন্ন আঙ্গিকে দায়িত্বশীল জায়গা থেকে কথা বলব।’

সরকারের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে পার্থ বলেন, ‘জনতাই ক্ষমতার উৎস। এই সত্য আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে। রাজনীতিবিদদের আসল সফলতা তখনই আসে, যখন তারা রাষ্ট্র পরিচালনায় থেকেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেন।’

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে নানা ভয়ভীতির মধ্যেও গণমাধ্যম জনগণের কথা বলার চেষ্টা করেছে। নতুন সরকারের সময়ে সংবাদমাধ্যমের ওপর অযাচিত নিয়ন্ত্রণ বা হস্তক্ষেপের কোনো মানসিকতা নেই বলেও জানান তিনি।

আমরা মুক্ত গণমাধ্যমে বিশ্বাসী। তবে মুক্ত মানে ‘কেয়ারলেস’ বা দায়িত্বজ্ঞানহীন হওয়া যাবে না। গণমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ, তাই দেশের স্বার্থ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় থেকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা করতে হবে।’

একনজরে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান:

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র জোটসঙ্গী হিসেবে আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা এবং একাধিকবার কারাবরণ করে নিজের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার প্রমাণ দেওয়া বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ পা রাখলেন এক নতুন দিগন্তে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তিনি।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর বিধি ৩(৪) অনুযায়ী গত শুক্রবার মধ্যরাতে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। পুনর্বন্টিত দপ্তর ও নতুন দায়িত্ব সংবলিত এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর তিনি চারজন পূর্ণমন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রীকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

নতুন চার পূর্ণমন্ত্রী:

আবদুল মঈন খান – স্থায়ী কমিটির সদস্য, বিএনপি

আন্দালিব রহমান পার্থ – চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)

রশিদুজ্জামান মিল্লাত – সাবেক প্রতিমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়

সাচিং প্রু জেরী – সংসদ সদস্য, বান্দরবান

নতুন দুই প্রতিমন্ত্রী:

হুমায়ুন কবির – প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা

মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন – সংসদ সদস্য, গাইবান্ধা-৪

আন্দালিব রহমান পার্থ'র পারিবারিক ঐতিহ্য ও শিক্ষাজীবন:

১৯৭৪ সালের ২০ এপ্রিল এক সম্ভ্রান্ত ও রাজনৈতিক পরিবারে আন্দালিব রহমান পার্থের জন্ম।

পারিবারিক পরিচিতি: তার বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর ছিলেন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক মন্ত্রী, ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তার মা শেখ রেবা রহমান। পারিবারিকভাবেই রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠার সুযোগ পান তিনি।

শিক্ষাজীবন ও আইন পেশা: ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সেন্ট যোসেফ উচ্চবিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি উচ্চশিক্ষার উদ্দেশে যুক্তরাজ্যে যান। ১৯৯৭ সালে মর্যাদাপূর্ণ লিংকনস ইন থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করে দেশে ফিরে আইন পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। পরবর্তীতে ঢাকার ‘ব্রিটিশ স্কুল অব ল’-এর অধ্যক্ষ হিসেবেও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক জীবন ও সাফল্যের মাইলফলক

রাজনীতিতে অভিষেক:

২০০০ সাল থেকে তিনি বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর হাত ধরে সক্রিয় রাজনীতি শুরু করেন। ২০০৮ সালের এপ্রিলে বাবার প্রয়াণের পর তিনি সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

প্রথমবার সংসদে (২০০৮): নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসন থেকে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী প্রার্থী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনকে পরাজিত করেন এবং প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি সংস্থাপন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ভোট বর্জন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা: জোটগত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে তার দল। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৭ আসন থেকে ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

দ্বিতীয়বার এমপি ও মন্ত্রী পদে আসীন: পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ব্যারিস্টার পার্থ। নির্বাচনে এই অসাধারণ বিজয়ের পরই তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন।

সংসদীয় অভিজ্ঞতা, আইন পেশায় দক্ষতা এবং চমৎকার বাগ্মিতার কারণে তরুণের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় ব্যারিস্টার পার্থ। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দেশ সেবায় তার নতুন পথচলা শুরু হলো।


নির্বাচিত

banner close