কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। আজ শুক্রবার পুলিশ সদরদপ্তরের মিডিয়া অ্যান্ড পিআর বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কোথাও কোথাও গণপিটুনি দিয়ে মানুষ হত্যার নৃশংস ঘটনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ ধরনের মব জাস্টিস কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে বাংলাদেশ পুলিশ বদ্ধপরিকর।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কেউ অন্যায় করলে বা অপরাধী হলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ওই ব্যক্তির বিচারের বিধান রয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। কোনো ব্যক্তি অন্যায় বা অপরাধ করলে তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে। কোনোভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না।
পুলিশের সংবাদ আরও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোন ব্যক্তি অন্যায় বা অপরাধ করলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করুন। আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য পুলিশ সদরদপ্তর সকলের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছে। মব জাস্টিস বা গণপিটুনির মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পুলিশ সদরদপ্তর দেশের সকল সচেতন নাগরিকের সহযোগিতা কামনা করছে।
বাংলাদেশ পুলিশ দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় ।
ডিজিটাল অর্থনীতি ও অনলাইন সেবার বিস্তারের সঙ্গে বাড়ছে সাইবার অপরাধের ঝুঁকি। ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশ, আর্থিক তথ্য চুরি, অনলাইন প্রতারণা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে কণ্ঠস্বর ও ভিডিও নকল করে জালিয়াতির ঘটনা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। সম্প্রতি বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপির একাধিক নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে সতর্কতা জোরদার হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশেও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন, স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এসব উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। লক্ষ্য হলো অপরাধ শনাক্তকরণ, ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ এবং নাগরিকের তথ্য ও আর্থিক নিরাপত্তা সুরক্ষায় সমন্বিত সক্ষমতা গড়ে তোলা।
সাইবার অপরাধ তদন্তে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, সার্ভার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে পাওয়া তথ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। এসব তথ্য বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করা গেলে অপরাধের ধরন শনাক্ত এবং তদন্তের কার্যকারিতা বাড়ানো সম্ভব।
এ লক্ষ্যেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডিজিটাল ফরেনসিক সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গত ১৪ অক্টোবর চট্টগ্রামে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার কার্যালয় ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব উদ্বোধন করা হয়। পাশাপাশি আটটি বিভাগীয় শহরে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিভাগীয় পর্যায়ে ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণের সুযোগ বাড়বে। ফলে তদন্তে সময় সাশ্রয়, প্রযুক্তিগত সহায়তা সহজলভ্য করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ মোকাবিলার সক্ষমতা উন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরি হবে। চট্টগ্রামের ল্যাব ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতাও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সরকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন। গত ১ অক্টোবর ইউনিটটির কার্যক্রম শুরু হয়। এতে পুলিশ সদস্য ও অন্যান্য কর্মী মিলিয়ে ৪ হাজার ৫৯২ জনের জনবল রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে পরিচালিত এ ইউনিটের মাধ্যমে সাইবার অপরাধ তদন্ত ও প্রতিরোধে বিশেষায়িত কার্যক্রম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনলাইন আর্থিক প্রতারণা, পরিচয় চুরি, ফিশিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ এবং ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণের মতো বিষয় এ কার্যক্রমে গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও থানা পর্যায়ে সাইবার অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ, প্রাথমিক অনুসন্ধান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষায়িত সহায়তা দেওয়ার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে শুধু জনবল ও সাংগঠনিক কাঠামো গঠনই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, দক্ষ প্রযুক্তিবিদ, নিরাপদ তথ্য সংরক্ষণব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করাও জরুরি।
সাইবার অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় তদন্তকারীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি মিরপুরের পুলিশ স্টাফ কলেজে সাইবার অপরাধের মামলা তদন্তবিষয়ক ১০ দিনব্যাপী ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স’ (টিওটি) কোর্স পরিচালনা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ৩৩২ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পরবর্তী সময়ে মাঠপর্যায়ের তদন্তকারীদের প্রশিক্ষণ দেবেন।
এ ছাড়া সাইবার ট্রেনিং সেন্টার, ফরেনসিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুলের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নতুন মডিউল যুক্ত করার উদ্যোগ রয়েছে। ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের দক্ষতা বাড়ানোই এর লক্ষ্য।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় এবং উন্নত সাইবার ল্যাব পরিদর্শনের বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কারণ, সাইবার অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, অর্থ লেনদেনের মাধ্যম ও ডিজিটাল প্রমাণ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকতে পারে। তাই তথ্য বিনিময় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া এসব অপরাধ মোকাবিলা কঠিন।
বাংলাদেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। ওয়েবসাইট তৈরি ও পরিচালনায় বহুল ব্যবহৃত পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার একাধিক নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট নির্মাতারা সংশোধনী প্রকাশ করেছেন। ব্যবহারকারীদের সফটওয়্যার হালনাগাদ এবং নিজেদের ব্যবস্থার নিরাপত্তা যাচাইয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান নির্বাহী ম্যাথু প্রিন্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ত্রুটিগুলোর বিস্তারিত প্রকাশের পর সেগুলো কাজে লাগানোর প্রচেষ্টা দ্রুত বেড়েছে। তবে হামলার চেষ্টা শনাক্ত হওয়া আর কোনো ব্যবস্থা সফলভাবে আক্রান্ত হওয়া এক বিষয় নয়।
এ ঘটনা দেখিয়েছে, বহুল ব্যবহৃত একটি প্রযুক্তির দুর্বলতা একাধিক দেশ ও খাতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সরকারি ওয়েবসাইট, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন সেবায় নিয়মিত সফটওয়্যার হালনাগাদ, দুর্বলতা পরীক্ষা এবং জরুরি প্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।
প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের অন্যতম উপায়। অপরাধীরা ভুয়া লিংক, নকল ওয়েবসাইট, পরিচয় জালিয়াতি এবং সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে পরিচিত ব্যক্তির কণ্ঠস্বর বা ভিডিও নকল করে অর্থ চাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাইবার অপরাধসংক্রান্ত ১৯১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে জিআর মামলা ৩২টি এবং সিআর মামলা ১৫৯টি। একই সময়ে এসব ঘটনায় ১০১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অপরিচিত লিংকে প্রবেশ না করা, পিন ও ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) গোপন রাখা, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং দুই ধাপের নিরাপত্তা চালু রাখা জরুরি। পরিচিত কারও পরিচয়ে জরুরি অর্থ চাওয়া হলে অন্য মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন, বিশেষায়িত সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা কাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এসব উদ্যোগের কার্যকর বাস্তবায়ন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় এবং নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপরই নির্ভর করবে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য।
সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের একের পর এক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দাম্মাম বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে চালানো এসব হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে; যার মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে এবং সৌদি সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে। একই সঙ্গে, বাংলাদেশ সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার এবং কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রিয়াদ-মদিনাসহ সৌদির চার অঞ্চলে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করে হুতি বিদ্রোহীরা। তবে ১১টি ড্রোন ও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। ।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, ইয়েমেনে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এ তথ্য জানায়। এর একদিন আগে সৌদির পূর্বাঞ্চলে হামলায় চারজন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া বিবৃতিতে বলেন, রিয়াদ, মদিনা, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ও সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের আকাশে ড্রোনগুলো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়। অন্যদিকে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নাজরানের দিকে ছুটে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করা হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দেয়া সর্বশেষ বিবৃতিতে জোটটি জানায়, দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া আরও দুটি ড্রোন প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে। এর আগে রিয়াদ ও মদিনার আকাশে চারটি ড্রোন, শুধু রিয়াদের আকাশে একটি এবং পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আকাশে চারটি ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছিল জোটটি।
তবে ড্রোনগুলো কোথা থেকে ছোড়া হয়েছিল কিংবা সেগুলো প্রতিহত করার ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সেই বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সৌদি কর্তৃপক্ষ দেশটির পূর্বাঞ্চলে হামলায় চারজন নিহত হওয়ার খবর দেয়ার এক দিন পর এসব ঘোষণা এল। এর আগে সৌদি আরামকোর একটি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার চেষ্টা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে নস্যাৎ করা হলেও ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুজন নিহত হন। এ ছাড়া দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চালানো হামলায় আরও দুজন নিহত হন।
আনাদোলু বলছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বুধবারও সাতটি ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছিল। এর মধ্যে একটি ড্রোন দক্ষিণাঞ্চলের দিকে যাচ্ছিল। বাকি ছয়টি মদিনা ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আকাশে প্রতিহত করা হয়।
চলতি বছরের জুলাই থেকে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে হুতিদের নতুন করে লড়াই শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সর্বশেষ এসব ঘটনা ঘটল।
২০১৫ সালের মার্চ থেকে ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থন দিয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এর আগে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং দেশটির আরও কয়েকটি এলাকা দখল করে নেয় ইরান সমর্থিত এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে একাধিক বড় বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেশের রপ্তানি আয়ের ওপর চাপ তৈরি করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে পোশাক রপ্তানি আয় কমেছে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও জানুয়ারি-জুলাই সময়ে রপ্তানি কমেছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। পাশাপাশি জার্মানি, ফ্রান্স, ভারত ও রাশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারেও রপ্তানি আয়ে পতন দেখা গেছে। এতে দেশের প্রধান রপ্তানি খাতের বাজার ধরে রাখা, বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার বিষয়গুলো নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে সব বাজারের পরিস্থিতি এক নয়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ দিকে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। আবার চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে সামগ্রিক রপ্তানি বেড়েছে। ফলে বিভিন্ন সময়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে বাজারভিত্তিক পরিস্থিতি বোঝা জরুরি।
ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় কমে ১ হাজার ১৯২ কোটি ইউরো হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ১ হাজার ৩৫০ কোটি ইউরো। অর্থাৎ, আয় কমেছে প্রায় ১৫৮ কোটি ইউরো বা ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ সময়ে ইইউর সামগ্রিক পোশাক আমদানি কমেছে ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি কমার হার ইউরোপের সামগ্রিক বাজার সংকোচনের চেয়ে অনেক বেশি।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মধ্যে জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জার্মানিতে রপ্তানি কমেছে ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ, ফ্রান্সে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং ইতালিতে ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে স্পেন ও নেদারল্যান্ডসে রপ্তানি বেড়েছে। এতে বোঝা যায়, ইউরোপের সব বাজারে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
বাংলাদেশের একক দেশভিত্তিক বৃহত্তম পোশাক রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বাণিজ্য বিভাগের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুলাই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় কমে ৪৬৬ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৪৯৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ, কমেছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানিও কমেছে ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। চীন ও ভারতের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর রপ্তানি আরও বেশি কমেছে। তবে বাংলাদেশের রপ্তানিও কমে যাওয়ায় বাজারটির চাহিদা ও ক্রেতাদের ক্রয় সিদ্ধান্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের অপ্রচলিত পোশাক রপ্তানি বাজারগুলোর মধ্যে ভারত ও রাশিয়ায় উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১ দশমিক ৪০ শতাংশ, আয় হয়েছে ৫৭ কোটি ৭ লাখ ডলার। রাশিয়ায় রপ্তানি কমেছে ২৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ, আয় দাঁড়িয়েছে ২২ কোটি ৮৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার।
একই অর্থবছরে অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া ও মেক্সিকোর বাজারেও রপ্তানি কমেছে। এসব বাজার বাংলাদেশের রপ্তানি বৈচিত্র্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও সাম্প্রতিক পতন সেখানে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৭০ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম। মোট পণ্য রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি আসে এই খাত থেকে। ফলে পোশাক রপ্তানিতে দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা দেখা দিলে তা দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ওই অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ, কানাডায় ৩ দশমিক ২০ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশ। অন্যদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়ে ৪৯০ কোটি ডলার হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি। একই সময়ে স্পেন ও নেদারল্যান্ডসের বাজারেও প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
বাংলাদেশের পোশাক খাতের রপ্তানি আয় কমলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহে চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় বাজারে চাহিদা দুর্বল হলে নতুন ক্রয়াদেশ, পণ্যের দাম এবং কারখানার উৎপাদন পরিকল্পনায় প্রভাব পড়তে পারে। তবে রপ্তানি কমার তথ্য থেকেই কর্মসংস্থান বা উৎপাদন কতটা কমেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না; এ জন্য আলাদা শিল্পতথ্য প্রয়োজন।
রপ্তানি আয় বাড়াতে বাজার বৈচিত্র্য, উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদন, কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক পণ্যের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত পণ্য সরবরাহের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বন্দর ও পরিবহনব্যবস্থার দক্ষতা, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং ব্যবসার ব্যয় কমানো প্রতিযোগিতায় সহায়ক হতে পারে।
বাংলাদেশের পোশাক খাতের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ শুধু রপ্তানির পরিমাণ বাড়ানো নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা এবং ক্রেতাদের কাছে নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থান শক্তিশালী করা। বড় বাজারগুলোর পতন মোকাবিলার পাশাপাশি যেসব দেশে রপ্তানি বাড়ছে, সেসব বাজারে সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে দেশের রপ্তানি আয় ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা সহজ হবে।
কৃষি, মৎস্য, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা বাড়াতে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর চার দিনের এ সরকারি সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চারটির বেশি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অর্জন ও ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার তুলে ধরে যৌথ বিবৃতি প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে এ সফর অনুষ্ঠিত হবে। সফর সামনে রেখে প্রায় আটটি সহযোগিতা দলিল চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি চলছে। তবে আলোচনা শেষে কতটি দলিল সই হবে, তা নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকগুলোতে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নের বিষয় রয়েছে।
২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান। পরে তার সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন এবং দেশটির ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা করবেন।
এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লীগের প্রতিনিধি, দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির চেয়ারম্যান এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গেও বৈঠক হতে পারে।
চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি সই হওয়া অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়ন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ জোরদারও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
জাপানের সহযোগিতায় বাংলাদেশে মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী অবকাঠামো উন্নয়নসহ বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। তবে ঢাকার এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ব্যয় ৮৩ শতাংশ এবং এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্পের ব্যয় ১১৩ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও অর্থায়নের শর্ত আলোচনায় আসতে পারে।
পররাষ্ট্র সচিব সিয়াম জানান, বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা চেয়েছে। দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে এসব বিষয় আলোচনায় আসবে। বাংলাদেশ সব দেশ থেকেই কম সুদে ঋণ পেতে চায় বলেও জানান তিনি।
২০১৪ সালে চালু হওয়া ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগ অবকাঠামো, শিল্প ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে কাজ করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, জাপানের শিল্প-অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সমন্বয় উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ বাড়াতে পারে। কৃষি ও মৎস্য খাতে উৎপাদনশীলতা, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণে সহযোগিতা এবং ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
জাপানি বিনিয়োগে দেশীয় সরবরাহকারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা এবং সফর শেষে দায়িত্ব, সময়সীমা ও অগ্রগতি পর্যালোচনাসহ বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তৈরিরও পরামর্শ দেন অধ্যাপক চৌধুরী।
সফরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হবে। প্রস্তাবিত কর্মসূচিতে চিবা অঞ্চলের একটি এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নাগোয়ার একটি টয়োটা কারখানা পরিদর্শনও রয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান নিয়ে আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রী, উপদেষ্টা, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও অন্য প্রতিনিধিরা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে জাপান যাবেন।
সমঝোতা স্মারক সইয়ের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও কর্মসংস্থানে বাস্তব অগ্রগতি অর্জনই এ সফরের মূল প্রত্যাশা।
দেশজুড়ে পুলিশের টহল, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও অপরাধ দমনের সক্ষমতা বাড়াতে ৫ হাজার ৮৩০টি যানবাহন কেনার উদ্যোগ নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ জন্য দুটি প্রকল্পের আওতায় ৬ হাজার ৬০৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। রোববার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্প দুটি উপস্থাপনের কথা রয়েছে। অনুমোদন পেলে ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে এসব যানবাহন সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত দুটি প্রকল্পের মধ্যে ৪ হাজার ৮২৯টি সাধারণ ও কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী যানবাহন কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা। অন্যদিকে, ১ হাজার ১টি বিশেষায়িত যানবাহন কেনার জন্য বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ২ হাজার ২৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকা।
২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর সম্পূর্ণ অর্থায়ন করবে সরকার।
প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, পুলিশের বিদ্যমান যানবাহনের সংখ্যা ও কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। এ ঘাটতি পূরণে নতুন যানবাহন সংগ্রহ করা হলে মাঠপর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো এবং দ্রুত সেবা দেওয়া সহজ হবে।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৩৯টি প্রশাসনিক পুলিশ স্টেশনের অধীনে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় সেবা দিতে বর্তমানে পুলিশের যানবাহন রয়েছে ১ হাজার ২৩৭টি। অর্থাৎ, প্রতিটি স্টেশনের জন্য গড়ে দুটি করে যানবাহনও নেই। এ ছাড়া বিদ্যমান যানবাহনের প্রায় ৬৪ শতাংশের বয়স ১০ বছরের বেশি। পুরোনো যানবাহনের ওপর নির্ভরতা এবং সীমিত সংখ্যক গাড়ির কারণে নিয়মিত টহল, জরুরি ঘটনায় দ্রুত পৌঁছানো ও প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
নতুন যানবাহন যুক্ত হলে এসব সীমাবদ্ধতা কমানোর পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরাপত্তাঝুঁকিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের গাড়ি, দুর্গম এলাকায় চলাচলের উপযোগী যানবাহন, ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার এবং অপরাধস্থল পরিদর্শনের জন্য বিশেষায়িত ভ্যান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব যানবাহনের মাধ্যমে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, দুর্গম এলাকায় অভিযান পরিচালনা, মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় এবং অপরাধ তদন্তে আলামত সংগ্রহের কাজ আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।
দেশের বিস্তৃত নদীপথে পুলিশি কার্যক্রম বাড়াতে স্পিডবোট ও দেশীয় নৌকা কেনার বিষয়টিও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব জলযান নৌপথে টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং জরুরি উদ্ধারকাজে সহায়তা করবে।
যানবাহন সংগ্রহের পাশাপাশি সেগুলো পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সাধারণ যানবাহন প্রকল্পের আওতায় ৬৫০ জনকে হালকা যানবাহন চালনা ও মেকানিক্স, ৩০০ জনকে ভারী যানবাহন চালনা ও মেকানিক্স এবং ৫০ জনকে যানবাহন মেরামতের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পে ৯১০ জনকে ড্রাইভিং ও মেকানিক্স এবং আরও ৫০ জনকে মেকানিক্স প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ যানবাহন প্রকল্পে রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের সরঞ্জাম কেনার জন্য দেড় কোটি টাকা রাখা হয়েছে।
প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যানবাহন পরিচালনায় দক্ষ জনবল তৈরি এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে নতুন বহরের কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব বাড়বে।
প্রস্তাবিত প্রকল্প দুটির সম্মিলিত ব্যয় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২ হাজার ৮০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ২ হাজার ৮৬৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৬০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
প্রকল্প দুটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় ব্যয়-সুবিধা অনুপাত ১ দশমিক ০৫ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, সমীক্ষায় ব্যবহৃত অনুমানের ভিত্তিতে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুবিধা ব্যয়ের তুলনায় সামান্য বেশি বলে হিসাব করা হয়েছে।
সাধারণ যানবাহন প্রকল্পের সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় পর্যালোচনা করা হয়। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, বিদেশি প্রশিক্ষণের প্রস্তাব বাদ দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অর্থ বিভাগের বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গেও প্রকল্পটি সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের পর্যালোচনার পর একনেকের বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। তবে প্রকল্প দুটির কোনোটিই এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। একনেকের সিদ্ধান্তের ওপরই এর বাস্তবায়ন নির্ভর করছে।
প্রকল্প দুটি অনুমোদিত হলে পুলিশের যানবাহন ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে বিনিয়োগের সুফল পেতে স্বচ্ছ ক্রয়প্রক্রিয়া, প্রয়োজন অনুযায়ী যানবাহন বণ্টন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দ্রুত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা-২০২৬ উদ্বোধন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তিনি জাতীয় স্টেডিয়ামে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদকাসক্তি, মোবাইল আসক্তি ও হতাশা থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস শেখায়। তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে সুস্থ জাতি গঠনে মাঠ ও খেলাধুলার প্রসার জরুরি।
তিনি আরও বলেন, অ্যাথলেটিক্সকে ক্রীড়ার জননী বলা হয়। এখানে ক্রীড়াবিদের গতি, শক্তি, ক্ষিপ্রতা, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতার প্রকৃত পরীক্ষা হয়। এটির ভিত্তি মজবুত হলে অন্যান্য খেলায়ও দেশের সক্ষমতা বাড়বে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, খেলাধুলা জাতীয় গৌরব ও ঐক্যের প্রতীক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পতাকা উড়ানো এবং বিজয়মঞ্চে জাতীয় সংগীত বাজানো- পুরো জাতির জন্য গর্বের বিষয়। তখন আমাদের একটাই পরিচয়- আমরা বাংলাদেশি।
তিনি বলেন, নিজেদের খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের দলকে সাফল্য এনে দিতে হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে সব ধরনের খেলাধুলাকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, খেলাধুলার প্রসার, সুস্থ জাতি গঠন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে স্পোর্টস কার্ড, স্পোর্টস অ্যালাউন্স, তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন এবং ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।
এ সময় তিনি অবৈধভাবে দখল করা মাঠ দখলমুক্ত করে সংরক্ষণ এবং নতুন মাঠ চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নারী অ্যাথলেটদেরও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং আর্থিক কারণে যেন কোনো প্রতিভা ঝরে না পড়ে, সে জন্য স্কুল, কলেজ এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজনের আহ্বান জানান।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তঃস্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চালুর উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরিতে সরকারের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষক হিসেবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এই প্রতিযোগিতা থেকে ভবিষ্যতে অনেক প্রতিভাবান অ্যাথলেট উঠে আসবে, যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে আরও গৌরবান্বিত করবে বলে রাষ্ট্রপতি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিযোগিতাটিকে দেশের বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় অ্যাথলেটিক প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন।
এর আগে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ৫৭ টি দলের মার্চ পাস্ট অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রতিযোগিতার থিম সং পরিবেশন করা হয়।
সাবেক অ্যাথলেট মহিউদ্দিন আহমেদ এবং সুমিতা রানী দাস গেমসের মশাল প্রজ্জ্বলন করেন।
উদ্বোধন শেষে রাষ্ট্রপতি ১০০ মিটার স্প্রিন্ট প্রতিযোগিতা (পুরুষ ও নারী) উপভোগ করেন এবং বিজয়ীদের মেডেল প্রদান করেন।
এর আগে বিকেল ৪টার দিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় স্টেডিয়ামে পৌঁছলে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবের, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন তাকে স্বাগত জানান।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত প্রধান শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী লাহোর। সকাল ৮টার দিকে শহরটির বায়ুমান সূচক (একিউআই) ৩৪৪ রেকর্ড করা হয়। একই দিনে অস্বাস্থ্যকর বায়ুমান নিয়ে এই তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল ১২তম। বিপজ্জনক এই বায়ুদূষণ থেকে নিজেদের রক্ষায় শহরটির বাসিন্দাদের মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ১৫৩ একিউআই স্কোর নিয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ১২তম অবস্থানে ছিল ঢাকা, যার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালেও ১৬৫ একিউআই নিয়ে সপ্তম স্থানে ছিল ঢাকা। অন্যদিকে, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত শহরের তালিকায় রয়েছে, যার বায়ুমান সূচক ২৪৪। তালিকায় থাকা অন্যান্য শহরের মধ্যে সেনেগালের ডাকার ১৮৪, ভারতের মুম্বাই ১৭৯ এবং কলকাতা ১৭২ স্কোর রেকর্ড করেছে। এই শহরগুলোর বাতাসও অস্বাস্থ্যকর হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।
সুইস বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট আইকিউএয়ার জানায়, লাহোরের বাতাসে প্রধান দূষণকারী উপাদান হলো ক্যান্সার সৃষ্টিকারী বস্তুকণা পিএম২.৫, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বার্ষিক নির্দেশিকার চেয়ে ৫৭ গুণ বেশি। এই অতি ক্ষুদ্র কণাগুলো রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করতে পারে, যার ফলে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যানসার এবং দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে। লাহোরের বিভিন্ন এলাকায় দূষণের মাত্রা ভিন্ন। এর মধ্যে শহরটির ইকবাল টাউনে সর্বোচ্চ ৫৩৫ একিউআই রেকর্ড করা হয়েছে।
এছাড়া বেদিয়ান রোডের এয়ারওয়াশে ৪৯৭, কানহায় ৪৪৬ এবং ডিফেন্স ফেজ ৫-এ ৩৬০ রেকর্ড করা হয়।
শীতের ঠাণ্ডা বাতাস দূষণকারী কণাগুলোকে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি আটকে রাখে। ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো ধোঁয়া, যানবাহনের নির্গমন, কারখানার ধোঁয়া এবং নির্মাণকাজের ধুলার সংমিশ্রণে এটি একটি মারাত্মক রূপ ধারণ করে। ইউনিসেফ সতর্ক করেছে, দূষিত বাতাস শিশুদের তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলে।
এছাড়া ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে বায়ুদূষণ মানুষের গড় আয়ু পাঁচ বছরেরও বেশি কমিয়ে দিতে পারে। ধোঁয়াশার কারণে স্কুল বন্ধ, যান চলাচল ব্যাহত এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চাপ বাড়ায় এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা নিয়মিতভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে হাইড্রোকার্বন খাতে সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ফলে জ্বালানি আমদানি ও যৌথ অবকাঠামো উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজিয়ার্সে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আত্তাফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে সন্তোষ প্রকাশ করে হুমায়ুন কবির বলেন, এর আওতায় সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ব্যবস্থায় আলজেরিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এ সমঝোতার ফলে যৌথভাবে তেল শোধনাগার ও এলএনজি অবকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি বাংলাদেশে কয়লা ও গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।
আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আত্তাফ বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকে অগ্রাধিকার দিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট তাকে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের কারিগরি সক্ষমতা বাড়াতে দেশটির পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মসূচি আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বৈঠকে দুই মন্ত্রী পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এতে জ্বালানি, সার, কৃষি, বস্ত্র, বাণিজ্য, শিক্ষা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
উভয় দেশের পারস্পরিক কল্যাণে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর উপায় নিয়েও তারা আলোচনা করেন। বাংলাদেশের সার আমদানির চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে আত্তাফ এ খাতে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া, আলজেরিয়ার বস্ত্রশিল্প পুনরুজ্জীবনে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি ওষুধ, চামড়া ও বস্ত্র খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহও প্রকাশ করেন।
দুই পক্ষ নিয়মিত পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। পরবর্তী বৈঠক শিগগিরই ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের প্রয়োজনীয়তার ওপরও তারা জোর দেন।
মর্যাদাপূর্ণ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হকিতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে ভারতের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় দল। শুক্রবার সকালে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে দেশ ছাড়েন খেলোয়াড় ও দলের অন্যান্য সদস্যরা।
মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের এই আসরকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন যাবৎ নিবিড় অনুশীলন শিবিরে ঘাম ঝরিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। প্রস্তুতি পর্বে খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত দক্ষতার ওপর সর্বোচ্চ নজর দিয়েছেন কোচিং স্টাফরা। অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে সাজানো এ দল মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা প্রদর্শন করতে পারবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
দেশ ছাড়ার প্রাক্কালে দলের প্রত্যয় তুলে ধরে বাংলাদেশ হকি দলের অধিনায়ক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এই টুর্নামেন্টের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি। এশিয়ার সেরা দলগুলোর বিপক্ষে খেলাটা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং, তবে আমাদের লক্ষ্য থাকবে প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়া এবং দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনা।’
ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের জলন্ধর ও মোহালিতে আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত এ মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা মাঠে গড়াবে।
টুর্নামেন্টের লিগ পর্বে বাংলাদেশ দল মোট পাঁচটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নেবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, আগামী ২৭ অক্টোবর উদ্বোধনী দিনে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শক্তিশালী স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। পরবর্তীতে ২৯ অক্টোবর বিকেল সোয়া ৫টায় জাপান, ৩০ অক্টোবর বিকেল ৩টায় মালয়েশিয়া, ১ নভেম্বর বিকেল ৩টায় দক্ষিণ কোরিয়া এবং ২ নভেম্বর একই সময়ে চীনের বিপক্ষে মাঠে নামবে দল। লিগ পর্বের খেলা শেষে আগামী ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে সেমিফাইনাল ও স্থান নির্ধারণী লড়াই এবং ৫ নভেম্বর ফাইনালের মধ্য দিয়ে আসরের সমাপ্তি ঘটবে।
ইউরোপের তিন দেশ ইতালি, গ্রিস ও সাইপ্রাস থেকে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা ৩৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে তাঁরা রাজধানী ঢাকায় অবতরণ করেন।
প্রত্যাবাসন করা নাগরিকদের মধ্যে ইতালি থেকে এসেছেন সর্বোচ্চ ১৯ জন, গ্রিস থেকে পাঠানো হয়েছে ১০ জনকে এবং বাকি ছয়জন এসেছেন সাইপ্রাস থেকে।
ঢাকাস্থ ইতালি দূতাবাসের এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় জানানো হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংস্থা ‘ফ্রন্টেক্স’-এর সার্বিক সমন্বয়ে এই বিশেষ প্রত্যাবাসন ফ্লাইটটি পরিচালনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট তিন দেশের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে সংস্থাটির সহায়তায় এসব বাংলাদেশি নাগরিককে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে গিয়েছেন।
আজ শুক্রবার সকালে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে যান।
এ সময় রাষ্ট্রপতি মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং এই তথ্য জানিয়েছে।
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিকের বিষয়ে রিয়াদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো তথ্য মেলেনি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। শুক্রবার সৌদি আরবে হুথি হামলায় নিহত বাংলাদেশি শ্রমিক শাহেদ আহম্মদের মরদেহ হস্তান্তরের সময় সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দণ্ড কার্যকর হওয়া দুই নাগরিকের বিষয়ে সৌদি সরকার এখনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাঠায়নি। তবে বিস্তারিত পরিস্থিতি জানতে কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি চেয়ে পাঠানো হয়েছে এবং সেটি হাতে পাওয়ার পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও প্রেক্ষাপট স্পষ্টভাবে জানা যাবে।
উল্লেখ্য, মক্কার এক মসজিদে অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সত্যতা ও প্রেক্ষাপট জানতে চেয়ে গত ১৫ অক্টোবর জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয়। সেখানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিবরণ ও বিচারিক রায়ের তথ্য চাওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৮ অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকেও এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল।
এদিকে হুথি হামলায় নিহত শাহেদ আহম্মদের মরদেহ হস্তান্তর প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ জানান, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহতের স্বজনদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। শাহেদের মরদেহসহ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সামরিক সংঘাতে এ পর্যন্ত নিহত ১১ জন বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে প্রবাসীদের উদ্ভূত সংকট নিরসনে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, যুদ্ধের ফলে বহু বাংলাদেশি কর্মী সেখানে আটকা পড়েছেন এবং অনেকের ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সরকার তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে যারা আর কর্মস্থলে ফিরতে পারবেন না, তাঁদের দেশে পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়েও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া উচিত এবং প্রয়োজন। গত ১৭ বছর নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। তাই আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
আজ বৃহস্পতিবার ভোলা সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, একজন মানুষ অর্থশালী বা বিত্তবান নয়, কিন্তু তার জনপ্রিয়তা আছে এবং সমাজে গ্রহণযোগ্যতা আছে, তাদেরকে নির্বাচন করার মত সুযোগ দেওয়া উচিত। এ জন্য নির্বাচন কমিশনকে এমন একটি পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে, যাতে করে সাধারণ মানুষের নির্বাচন করার সুযোগ হয়।
তিনি বলেন, আমার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বলছে- আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনা ফেরার সম্ভাবনা নেই। আওয়ামী লীগ তাদের ক্ষমতার সময় এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করে দিয়েছিল, তখন সমাজের সৎ, ভালো ও নিরপেক্ষ মানুষের পক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা সম্ভব ছিল না। তাই এখন নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন।
ভোলার খনিজ গ্যাসের সম্ভাবনা তুলে ধরে স্পিকার আরো বলেন, এ জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস আছে। এ গ্যাস সারাদেশের বর্তমানের রির্জাভ সমান দেখা যাচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে ভোলায় আরো গ্যাস ভান্ডার রয়েছে। ভোলার সাধারণ মানুষের গ্যাস প্রয়োজন। ভোলাবাসী অনেক দিন ধরে কষ্ট করছে। গ্যাসতো ভোলাবাসীর ন্যায্য অধিকার। তাদের র্দীঘদিনের দাবি। এই বিষয়ে আমি জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবো।
নিজ নির্বাচনী এলাকা লালমোহন-তজুমদ্দিনে তিনদিনের সফর শেষে স্পিকার আজ বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ভোলা ত্যাগ করেন। সূত্র: বাসস