সম্প্রতি ঢাকা ও জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুজনকে পিটিয়ে হত্যার রেশ না কাটতেই রাজধানীতে ৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার পিটিয়ে, কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে তাদের হত্যা করা হয় বলে জানা গেছে।
এর মধ্যে মোহাম্মদপুরের বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকায় পূর্ব শত্রুতা জের ধরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নাসির বিশ্বাস (২৩) ও মুন্না হাওলাদার (২৪) নামে দুই যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়া সূত্রাপুর এলাকায় ছিনতাইকারিরা ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন জিন্নাহ (৫২) নামে এক অটোরিকশাচালক এবং খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকা থেকে নূর ইসলাম (৫০) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত নাসিরের বড় ভাই ইসলাম বিশ্বাস জানান, তাদের বাড়ি মাদারীপুর জেলার কালকিনি এলাকার পশ্চিম বালিগ্রামে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। নাসির হাজারীবাগ রায়েরবাজার বাড়ৈইখালী ১২ নম্বর রোডের একটি বাসায় বসবাস করতেন। তিন বোন, ৫ ভাইয়ের মধ্যে নাসির ছিলেন চতুর্থ। সন্ধ্যার দিকে তিনি বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। পরে জানা যায়, কে বা কারা তাকে কুপিয়ে আহত করেছে। পরে রাত পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নাসিরের মৃত্যু হয়।
নাসিরের বন্ধু শাওন জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে মোটরসাইকেলে সাদেক খান কৃষি মার্কেট এলাকায় গেলে মারামারির ঘটনা দেখতে পাই। সেখান থেকে এক যুবক এসে নাসিরের পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয়। তখন নাসির মোটরসাইকেল থেকে নেমে কবরস্থানের দিকে দৌড় দেন। কিছু যুবক তার পিছু নিয়ে কবরস্থানের এক নম্বর গেটের পাশে নাসিরকে কুপিয়ে আহত করে চলে যান।
মোহাম্মদপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হাসান জানান, সংঘর্ষে নাসির বিশ্বাস নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এছাড়া সংঘর্ষে আহত মুন্না) নামে একজন আহত হয়। দুই পক্ষের মারপিটের ঘটনায় এই দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে নাসিরের ঢামেক হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে আর মুন্নার মৃত্যু হয়েছে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে। ধারণা করা হচ্ছে, আগের কোনো বিরোধের জের ধরে শুক্রবার দুজনকে একসঙ্গে অপর পক্ষের লোকজন দেখতে পেয়ে তাদের কুপিয়ে হত্যা করেছে। এছাড়া নিহত মুন্নার নামে ছয়-সাতটি মামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে বিস্তারিত ঘটনা জানার জন্য পুলিশ কাজ করছে।
এদিকে, সূত্রাপুর এলাকায় ছিনতাইকারিরা ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন জিন্নাহ (৫২) নামে এক ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাচালক। নিহত অটোরিকশাচালক জিন্নাহর গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ির মালিপাড়ায়। তিনি জুরাইন আলম মার্কেটের পাশে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।
তার ছেলে মো. ইউসুফ জানান, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে অটোরিকশা নিয়ে বের হয়েছিলেন তার বাবা। রাত ৩টার দিকে তার মোবাইল ফোনে এক ব্যক্তি কল করে জানান, জিন্নাহ ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তারা ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে জিন্নাহকে মুমূর্ষ অবস্থায় দেখেন। শনিবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিন্নাহর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর আগে তিনি জানিয়েছেন, সূত্রাপুর লোহারপুর এলাকায় যাত্রীবেশে দু’জন ছিনতাইকারী তার অটোরিকশায় দুজন ছিনতাইকারী উঠেছিলেন। তারাই তাকে ছুরিকাঘাত করে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে ও সংশ্লিষ্ট থানাকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে জানানো হয়েছে।
অপরদিকে, রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকা থেকে নূর ইসলাম (৫০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুর ১২ টার দিকে তালতলা ঝিলপাড়ে ঝোপের মধ্যে মরদেহটি পাওয়া যায়। এসময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিশের ধারণা, তাকে হত্যা করা হয়েছে।
খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল্লাহ আল হাসান জানান, ওই ব্যক্তির সারা শরীরে জখমের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুষ্কৃতিকারিরা ওই ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ ঝোপের মধ্যে ফেলে রেখে গেছে। লাশ উদ্ধারের পরে সিআইডির ক্রাইম সিন আঙুলের ছাপের মাধ্যমে তার পরিচয় সনাক্ত করে।
তিনি আরও জানান, ওই ব্যক্তির নাম নুর ইসলাম। ঢাকা কেরানীগঞ্জ আটিরায়েরচর গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে উনি। ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে প্রয়াত খালেদা জিয়ার মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করেন তার নাতনি জাইমা রহমান। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ দেওয়া হয়েছে। তার পক্ষে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করেছেন নাতনি জাইমা রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাইমার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে বিকেল ৪টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ দেওয়া হয়েছে।
পুরস্কৃত অন্য ব্যক্তিত্বরা হলেন—মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত),বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।
এ ছাড়া পুরস্কৃত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো—মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।
স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে। স্বাধীনতা পুরস্কারের ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে পাঁচ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রামের স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়ান ওয়াও সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়-এ এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে তথ্যমন্ত্রী বলেন, চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য বন্ধু। দুই দেশের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হলে তা পারস্পরিক উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় টিকে থাকতে এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, চীনের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় দিক। গণমাধ্যম, প্রশিক্ষণ ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে চীনা রাষ্ট্রদূত তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের আগ্রহ প্রকাশ করেন, যার মাধ্যমে দুই দেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার হবে। পাশাপাশি, আগামী জুলাই ও অক্টোবর মাসে চীনে দুটি সামিট আয়োজনের প্রস্তাব দেন, যেখানে বাংলাদেশের সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরা অংশগ্রহণ করে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়ের সুযোগ পাবেন।
এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরি, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদুর রহমান এবং তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ‘টাইম ম্যাগাজিন’-এর বিশ্বের সেরা ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের তালিকায় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে তিনি এই গৌরবময় অর্জনের কথা দেশবাসীকে অবহিত করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর জনকল্যাণমুখী কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
চিফ হুইপ তার বক্তব্যে বলেন, গতকাল টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত বিশ্বের সেরা ১০০ ব্যক্তিত্বের তালিকায় আমাদের নেতা তারেক রহমানের নাম এসেছে। এটি কেবল তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং পুরো জাতির জন্য এক বিশাল সম্মান। তিনি সম্মানিত হওয়া মানে বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে সম্মানিত করা। এই অনন্য স্বীকৃতির জন্য সংসদ ও দেশবাসীর পক্ষ থেকে তাকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানান চিফ হুইপ।
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের স্মৃতি চারণ করে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী মানুষের মধ্যে নতুন আশার আলো জাগিয়েছেন। দেশের মানুষ তার ওপর আস্থা রেখে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে তাকে এই সংসদে পাঠিয়েছে। জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণে তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
ইশতেহার বাস্তবায়নের গতি তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচনের আঙুলের কালি শুকানোর আগেই প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের সহায়তায় পহেলা বৈশাখে ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা কৃষক কার্ডের উদ্বোধন এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এছাড়াও প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদ ও আসল মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর অবদানের কথা উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, তিনি ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং বিভিন্ন ধর্মের পুরোহিতদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানী ও ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তাকে ভালোবাসার স্বীকৃতি দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছে, আর বিশ্ব আজ তার কাজের স্বীকৃতি দিয়ে টাইম ম্যাগাজিনে স্থান দিয়েছে। চিফ হুইপের এই বক্তব্যের সময় সংসদ সদস্যরা করতালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এ অর্জন গোটা জাতি তথা দেশের অর্জন।’
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, শূন্যপদ পূরণের জন্য এরইমধ্যে ৬ মাস, ১ বছর এবং ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। ৬ মাসের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২৮৭৯টি, ১ বছরের মধ্যে ৪৪৫৯টি এবং ৫ বছরের মধ্যে ৩১১০টি শূন্যপদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সংসদে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের টেবিলে উপস্থাপিত তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, এছাড়া, কর্মপরিকল্পনায় বর্ণিত ‘স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারীর নিয়োগ’-এর বিষয়ে অন্যান্য মন্ত্রণালয়/বিভাগের নিয়োগের সর্বশেষ অবস্থা এবং শূন্য পদে নিয়োগের তথ্য প্রেরণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের জনবল সংক্রান্ত হালনাগাদ করা তথ্যের ভিত্তিতে সর্বশেষ প্রকাশিত স্ট্যাটিসটিক্স অব পাবলিক সার্ভেন্টস ২০২৪ অনুযায়ী সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসগুলোর শূন্যপদের সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। এরমধ্যে ১ম গ্রেড থেকে ৯ম গ্রেডে ৬৮ হাজার ৮৮৪টি, ১০ম গ্রেড থেকে ১২তম গ্রেডে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি, ১৩তম গ্রেড থেকে ১৬তম গ্রেডে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি, ১৭তম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেডে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি এবং অনারারি, নির্দিষ্ট বেতনভুক্ত ও চুক্তিভিত্তিক-যারা বিভিন্ন শ্রেণিতে অবস্থান করে এমন ৮ হাজার ১৩৬টি শূন্যপদ রয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
এ বছর স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের জন্য প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এছাড়াও ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বেগম খালেদা জিয়া ছাড়াও স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত অন্য ১৪ ব্যক্তি হলেন— মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত), বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।
এছাড়া স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো— মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।
স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে। স্বাধীনতা পুরস্কারের ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ৫ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রামের স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।
জ্বালানি তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে আরও তিনটি জাহাজ। বুধবার (১৫ এপ্রিল) এসব জাহাজ থেকে তেল খালাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে জাহাজ তিনটি সিঙ্গাপুর থেকে জেট ফুয়েল ও ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সহকারী ব্যবস্থাপক (গণ-সংযোগ) ফারজিন হাসান মৌমিতা জানান, তিনটি জাহাজের মধ্যে ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেডের সরবরাহ করা ‘এমটি গ্রেট প্রিন্সেস’ জাহাজে রয়েছে ১১ হাজার টন জেট ফুয়েল। বাকি দুটি জাহাজের মধ্যে ‘এমটি টর্ম দামিনি’ জাহাজে রয়েছে প্রায় ৩২ হাজার টন ডিজেল, যা সরবরাহ করেছে ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড। আর ‘এমটি লুসিয়া সলিস’ নামক অপর জাহাজে করে এসেছে প্রায় ৩৪ হাজার টন ডিজেল। এটির সরবরাহকারী কোম্পানি সিঙ্গাপুরভিত্তিক ভিটল এশিয়া। বর্তমানে তিন জাহাজ থেকেই জ্বালানি তেল খালাস কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বন্দর কর্মকর্তা ও শিপিং এজেন্টরা জানান, ডিজেলবাহী জাহাজ দুটির একটি আংশিক খালাস শেষে গতকাল বুধবার বন্দরের পতেঙ্গার ডলফিন জেটির দিকে রওনা হয়েছে। অন্য জাহাজটি আজ বৃহস্পতিবার জেটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
চলতি এপ্রিল মাসে ভারত থেকে বাংলাদেশে আরো ১৭ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছেছে। আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে এই ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন) কাজী মো. রবিউল আলম জানিয়েছেন, এপ্রিল মাসে মোট ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।
ইতোমধ্যে ৮ হাজার টন পৌঁছেছে এবং আজ আরো ৫ হাজার টন ডিজেল পাম্পিং শুরু হবে। পাম্পিং শুরু হলে ৪-৫ দিনের মধ্যে ৫ হাজার টনের পুরো চালান পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ভারত থেকে পরিশোধিত ডিজেল আমদানি একটি চলমান প্রক্রিয়া। পাম্পিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে পর্যায়ক্রমে পুরো চালান দেশে পৌঁছাবে এবং পরবর্তী পাম্পিং দ্রুত শুরু করা হবে। এপ্রিল মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বর্তমানে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থাও স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে কোনো ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৫ হাজার টন আসার পর পরবর্তী দুই ধাপে ৭ হাজার ও ৫ হাজার টন করে ডিজেল আমদানি করা হবে।
বাংলাদেশ পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) থেকে ‘সুপারনিউমারারি পদোন্নতি’ পাওয়া অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার ১৭ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (পুলিশ-১ শাখা) তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শিল্পাঞ্চল পুলিশের মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনকে পিবিআইয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। কামরুল হাসান মাহমুদকে এসবিতে অতিরিক্ত ডিআইজি, তোফায়েল আহমেদকে আরপিএমপিতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং সুফিয়ান আহমেদকে ডিএমপিতে যুগ্ম কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
এছাড়া মুহাম্মদ বাছির উদ্দিনকে সিআইডিতে, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানকে এসবিতে এবং হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়াকে সিএমপিতে অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মাহবুবুল করিমকে পুলিশ সদর দপ্তরে, আল মামুনকে আরএমপিতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং মোহা. আসাদুজ্জামানকে পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া মোহাম্মদ আনিছুর রহমানকে এসবিতে, ড. আ ক ম আকতারুজ্জামান বসুনিয়াকে পুলিশ সদরদপ্তরে, মো. জাহাঙ্গীর আলমকে পুলিশ সদরদপ্তরে এবং মোহাম্মদ হায়াতুন নবীকে সিআইডিতে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পুলিশ সদর দপ্তরে, আফরোজা পারভীনকে পুলিশ স্টাফ কলেজে এবং তোফায়েল আহমেদ মিয়াকে রেলওয়ে পুলিশে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা এবং ভারতীয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত অমুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জানিয়েছেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৪৭৬ জনের নাম বাতিল করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিনে, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, অমুক্তিযোদ্ধা শনাক্তকরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনেক ব্যক্তি ভুয়া তথ্য দিয়ে ভারতের তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন; যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ৮৪২টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে তদন্ত শেষে ৪৮১ জনের নাম বাতিলের চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়েছে, যা গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা এবং ভারতীয় তালিকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
সংসদে মন্ত্রী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত ও শুনানি পরিচালনা করে জামুকার উপকমিটি। কোনো ব্যক্তি অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হলে তার সনদ ও সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করা হয়।
রংপুর-৪সহ দেশের যেকোনো এলাকার ক্ষেত্রে একই প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তালিকা আরও স্বচ্ছ করার কাজ চলমান থাকবে।
এর আগে, জামুকা প্রতিষ্ঠার পর ধাপে ধাপে মোট ৬ হাজার ৪৭৬ জনকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যার একটি বড় অংশ ভারতীয় তালিকার অপব্যবহারকারী।
সংবিধান সংশোধনের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করে সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সংবিধান সংশোধন একটি প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এবং এ বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। বিরোধী দলের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকলেও তা মূলত সংশোধনের পদ্ধতি নির্ধারণকে কেন্দ্র করেই হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনের বিরতির পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়েছে, যা প্রমাণ করে কেউই জবাবদিহিতার বাইরে নন।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজতে কাজ করছে এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। কর্মমুখী শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
চিফ হুইপ বলেন, শিক্ষার্থীদের ইংরেজিকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনী প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকার বাহিনীকে রাজনীতিকরণ করেছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
গণমাধ্যমের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরনের সংবাদই প্রকাশ করা উচিত। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধ হওয়ার খবর প্রচারিত হলেও তেলবাহী জাহাজ বন্দরে আসার বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি।
সবশেষে তিনি বলেন, কিছু বিষয়ে মতানৈক্য থাকলেও সংবিধান সংশোধনে রাজনৈতিক ঐকমত্য খুব বেশি দূরে নয়।
আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম-এর ‘বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তি’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্থান, দীর্ঘ নির্বাসন শেষে প্রত্যাবর্তন এবং জাতীয় নেতৃত্বে তার ভূমিকার কারণে এই স্বীকৃতি এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
টাইম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—কয়েক মাস আগেও লন্ডনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন ৫৭ বছর বয়সি তারেক রহমান। কিন্তু ২০২৪ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন আনে। সেই প্রেক্ষাপটে বিরোধী আন্দোলনের মুখ থেকে তিনি দ্রুত জাতীয় নেতৃত্বের কেন্দ্রে উঠে আসেন।
এরই ধারাবাহিকতায়, প্রায় ১৭ বছর দেশের বাইরে থাকার পর দেশে ফিরে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বড় ধরনের বিজয় অর্জন করেন তারেক রহমান। এই বিজয়ের মাধ্যমে তিনি তার মা, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার অনুসরণ করেন। তবে দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিন পরই খালেদা জিয়ার মৃত্যু তাকে ব্যক্তিগতভাবে গভীর শোকের মধ্যে ফেলে।
টাইমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, ব্যক্তিগত শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে দেশের মানুষকে তিনি ঐক্যবদ্ধ করতে চান। প্রায় ১৭৫ মিলিয়ন মানুষের এই দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, তরুণদের বেকারত্ব এবং আঞ্চলিক শক্তি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি—এসব চ্যালেঞ্জ দ্রুত সমাধানের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
একই সঙ্গে অতীতের দুর্নীতির অভিযোগ (যেগুলো পরবর্তীতে আদালতে খারিজ হয়েছে) তার নেতৃত্বের শুরুটা কিছুটা কঠিন করে তুলতে পারে বলেও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। তবুও দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে দূরে থাকার পর তিনি আর সময় নষ্ট করতে চান না বলে জানান।
তারেক রহমান বলেন, আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে—যাতে মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতে পারে।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মহামারি রূপে ধারণ করার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত মার্চ মাস থেকে সংক্রমণের হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে ৫৬ জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত এক মাসে হাম সন্দেহে এবং নিশ্চিত হামে ১৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ অবস্থায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত ও যথাযথ বহুমুখী পদক্ষেপ না নিলে এটি বড় ধরনের স্বাস্থ্য বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একটি শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাকি দুই শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। একই সময় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৬৬ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৬ জনের। এছাড়া ১৫ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ১৬১ জন। এসময় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৭৬ জন, ১৫ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা দুই হাজার ৯৭৩ জন।
বিগত বছরগুলোর চিত্র: এশিয়া অঞ্চলের অন্য দেশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে হাম ও রুবেলা ভাইরাস নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০২২ সালে প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যায় হামের সংক্রমণের হার ছিল ১ দশমিক ৪১, ২০২৩ সালে ১ দশমিক ৬০, ২০২৪ সালে ১ দশমিক ৪৩ এবং ২০২৫ সালে শূন্য দশমিক ৭২। কিন্তু বর্তমানে এই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশে। লক্ষ্যমাত্রার বছরেই এমন ভয়াবহ সংক্রমণ জনমনে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
টিকাদানের পরিসংখ্যান: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে এমআর-১ টিকার কভারেজ ছিল ৮৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং এমআর-২ ছিল ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০১৮ সালে তা ছিল যথাক্রমে ৮৬ দশমিক ৪ ও ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০১৯ সালে ৮৮ দশমিক ১ ও ৮৬ দশমিক ১ শতাংশ, ২০২০ সালে ৮১ দশমিক ৭ ও ৮০ দশমিক ৫ শতাংশ।
২০২১ সালে এই হার বেড়ে দাঁড়ায় ৯৭ দশমিক ৩ ও ৯৪ দশমিক ৮ শতাংশে। ২০২২ সালে এমআর-১ শতভাগ এবং এমআর-২ ছিল ৯৭ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২৩ ও ২০২৪ সালেও কভারেজ ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে ছিল।
তবে ২০২৫ সালে টিকাদানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ওই বছর এমআর-১ টিকার কভারেজ নেমে আসে ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশে এবং এমআর-২ দাঁড়ায় ৫৭ দশমিক ১ শতাংশে। ফলে প্রায় ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন কভারেজ।
দেশে প্রতি চার বছর অন্তর হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়। তবে ২০২০ সালের করোনা মহামারি, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং চলতি বছরের শুরুতে নতুন সরকারের নির্বাচন; এসব কারণে টিকাদান কার্যক্রম সময়মতো সম্পন্ন হয়নি।
সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ: বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদানে ব্যত্যয়ই হামের প্রকোপ বৃদ্ধির প্রধান কারণ। আগে যেখানে ৯৭-৯৮ শতাংশ শিশু টিকার আওতায় ছিল, সেখানে গত প্রায় ১৮ মাস ধরে এই হার ৬০ শতাংশের নিচে নেমে আসে। ফলে হার্ড ইমিউনিটি ভেঙে পড়ে এবং সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। বছরে দুবার হওয়ার কথা থাকলেও গত দুই বছরে এটি মাত্র দুবার হয়েছে। ভিটামিন ‘এ’ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এছাড়া অপুষ্টিও বড় একটি কারণ। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় তারা সহজেই সংক্রমিত হয়। বর্তমানে আক্রান্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু অপুষ্টির শিকার বলে জানা গেছে।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, করোনার সময় মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়। অনেক শিশু সময়মতো টিকা পায়নি। পরবর্তীতে গণটিকাদান কার্যক্রমও বন্ধ থাকায় টিকাবঞ্চিত শিশুর সংখ্যা বাড়তে থাকে, যা চলতি বছরে হামের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। শিশুরা টিকা না পাওয়ায় এটি মহামারি আকার ধারণ করেছে। যেকোনো সংক্রমণ যখন অতিরিক্ত হয়ে যায়, ভাইরাস মারাত্মক শক্তি ধারণ করে।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, প্রাথমিক পর্যায়েই আউটব্রেক ইনভেস্টিগেশন করা হলে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা যেত। টিকা সংগ্রহ, সরবরাহ ও জনবল সংকটসহ একাধিক কারণ একত্রে কাজ করেছে।
মহামারি কি না : বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো রোগের স্বাভাবিক সংক্রমণ হঠাৎ করে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে তাকে মহামারি বলা হয়। যেমন, কোনো একটি অঞ্চলে সাধারণত প্রতি বছর কোনো রোগে যতজন মানুষ আক্রান্ত হয়, হঠাৎ করে যদি একই সময়ে সেই সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়, তখন সেটাকে মহামারি বলা হয়। যেমন ঢাকা বিভাগে বা বাংলাদেশে যদি প্রতি বছর ১০০ জন হাম রোগী থাকে, আর কোনো বছরে হঠাৎ তা বেড়ে ৫০০ জনে পৌঁছে যায়, তাহলে সেটিকে মহামারি বলা হয়।
ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, মানুষ ভয় পাবে বলে এখন মহামারি শব্দটা ব্যাবহার করা হচ্ছে না।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ১৫-২০ বছরে বাংলাদেশে এত সংখ্যক মানুষ হামে আক্রান্ত হয়নি এবং মৃত্যুও এত হয়নি। চলতি বছর হামের প্রকোপ অনেক বেড়েছে। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী এটি মহামারি হিসেবে বিবেচনা করা যায়। দেশে হামের মহামারি শুরু হয়ে গেছে।
প্রতিরোধে করণীয়: বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত সময়ের মধ্যে সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা এখন সবচেয়ে জরুরি। আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রাখা, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, হাম হলে বাচ্চারা খুব দুর্বল হয়ে যায়। তাদের মধ্য থেকেই অনেকের মৃত্যু হয়। ফলে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও শিশুকে একটা নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। করোনাভাইরাসের সময় আমরা যেখানে একটা টাইমলাইন মেনে চলতাম, ঠিক সেভাবেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক ও জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কোনো শিশুর মৃত্যু যেন না হয় তা নিশ্চিত করা। এজন্য চিকিৎসার মান উন্নয়ন জরুরি। অর্থাৎ হামের চিকিৎসায় জোর দিতে হবে। আমাদের চিকিৎসায় ঘাটতি রয়েছে। এখন যে পরিমাণ রোগী ভর্তি হচ্ছে, তাতে আগামী চার থেকে আট সপ্তাহ এই পরিস্থিতি চলমান থাকা অস্বাভাবিক নয়। চিকিৎসা যদি উন্নত না হয়, তাহলে প্রতিদিন এভাবে আমাদের শিশুদের মৃত্যু মেনে নিতে হবে।
এই জনস্বাস্থ্যবিদ আরও বলেন, গাইডলাইনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধসহ চিকিৎসার সব উপকরণ সব হাসপাতালে সরবরাহ করতে হবে। টিকাদান কার্যক্রম চলছে, সেটি ভালো উদ্যোগ। তবে সেই টিকাদানেও কিছু ঘাটতি রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত এসব পদক্ষেপ নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিতে হবে।
বিশ্বে পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতি হয়েছে। হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স-এর প্রকাশিত ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, আগের ৯৩তম অবস্থান থেকে দুই ধাপ পিছিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৫তম।
প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশের সাধারণ পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে আগাম ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ৩৬টি দেশে যাতায়াত করতে পারবেন। এর মধ্যে কিছু দেশে সরাসরি ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার এবং কিছু দেশে অন-অ্যারাইভাল বা বিমানবন্দরে নামার পর ভিসার সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে যাত্রার আগে ই-ভিসা সংগ্রহ করতে হবে।
বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণের তালিকায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে— ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, কম্বোডিয়া, কেনিয়া, রুয়ান্ডা, সেশেলস, ফিজি এবং জ্যামাইকা। এছাড়াও বার্বাডোজ, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, বুরুন্ডি, কেপ ভার্দ আইল্যান্ডস, কোমোরো আইল্যান্ডস, কুক আইল্যান্ডস, জিবুতি, ডমিনিকা, গ্রেনাডা, গিনি-বিসাউ, হাইতি, কিরিবাতি, মাদাগাস্কার, মাইক্রোনেশিয়া, মন্টসেরাট, নিউই, সামোয়া, সিয়েরা লিওন, সেইন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাউন, বাহামাস, গাম্বিয়া, তিমুর, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, টুভ্যালু এবং ভানুয়াতু।
হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের নতুন তালিকায় এককভাবে শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে সিঙ্গাপুর। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। তৃতীয় স্থানে সুইডেন এবং চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন ও সুইজারল্যান্ড।
প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানসহ অধিকাংশ দেশের সূচকেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণত কোনো দেশের পাসপোর্ট দিয়ে কতটি দেশে আগাম ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করা যায়, তার ওপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা এর তথ্যের সাহায্যে এই বৈশ্বিক সূচক তৈরি করা হয়।