মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১২ ফাল্গুন ১৪৩২

পাহাড় দখলকারীদের তালিকা প্রকাশের আহ্বান আনু মুহাম্মদের

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ইউপিডিএফ আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন জাবির সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৪ অক্টোবর, ২০২৪ ১৯:২৭

অন্তর্বর্তী সরকারকে অবৈধভাবে পাহাড় দখলকারীদের তালিকা প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) আয়োজিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক শাসন কায়েম এবং জনগণের অধিকার, মর্যাদা ও ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।

আনু মুহাম্মদ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানে সরকার পূর্ণ ক্ষমতা না রাখলেও অনেক কিছুই করতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পাহাড়গুলো কাদের দখলে রয়েছে সেগুলো প্রকাশ করা।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামরিক ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠী পাহাড় দখল করে রেখেছে এবং এ বিষয়ে কোনো জবাবদিহিতা নেই। পাহাড়ের উন্নয়নে স্বচ্ছ জবাবদিহির প্রয়োজন এবং এ জন্য একটি শ্বেতপত্র কমিটি গঠন করতে হবে।

আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হলে সরকারের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা থাকতে হবে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, পাহাড়ের সমস্যা রাজনৈতিক সংকট, যা সামরিকীকরণের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়।

জাতীয়তাবাদী মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফয়জুল হাকিম লালা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে হবে, তা ছাড়া পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যার সমাধান হবে না।

গোলটেবিল বৈঠকে ইউপিডিএফ তাদের সাত দফা প্রস্তাবনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনান প্রত্যাহার, ভূমি সমস্যা সমাধান ও পাহাড়িদের জন্য কোটা পুনর্বহালের দাবি তুলে ধরেছে।


দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিষয়ে সংসদ অধিবেশনে সিদ্ধান্ত: এলজিআরডি মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী সংসদ অধিবেশনে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি উল্লেখ করেন যে, ১২ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে। দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় সংস্কার এবং জনমতের প্রতিফলন ঘটাতেই এই স্পর্শকাতর বিষয়টি সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

দেশের ছয়টি বড় সিটি করপোরেশনে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা আজ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁরা সচিবালয়ে এলজিআরডি মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেন। নবনিযুক্ত প্রশাসকরা এ সময় মন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন যে, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তাঁরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে নাগরিক সেবা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।

নির্বাচন আয়োজনের সময়সীমা সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, যেসব সিটি করপোরেশনের মেয়াদ আগে শেষ হয়েছে বা হচ্ছে, সেগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভোটের আয়োজন করবে সরকার। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন প্রথমে অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সিটি করপোরেশনগুলোতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। বর্তমান সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে বলে মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন।

প্রশাসনিক স্থবিরতা দূর করতে নতুন প্রশাসকদের নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের ভোগান্তি কমানো এবং দাপ্তরিক চেইন অব কমান্ড বজায় রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ১২ মার্চের সংসদ অধিবেশনটি স্থানীয় সরকার কাঠামোর ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় রাজনীতিতে একটি বড় ধরণের গুণগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। সব মিলিয়ে আগামী মার্চের সংসদ অধিবেশনের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে দেশের রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ।


পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন পুলিশের বর্তমান পোশাক পরিবর্তনের সরকারি সিদ্ধান্তটি পুনরায় পর্যালোচনার জন্য বিশেষ দাবি জানিয়েছে। সোমবার রাতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতির মাধ্যমে এই সংক্রান্ত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে বর্তমান ইউনিফর্মের উপযোগিতা এবং পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য জটিলতাগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে ২০০৩ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির দীর্ঘ পর্যালোচনার পর বর্তমান পোশাকটি নির্ধারিত হয়েছিল। পোশাকের রং, স্থানীয় আবহাওয়া এবং দিন-রাত দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো বিবেচনা করেই এই ইউনিফর্মটি চূড়ান্ত করা হয়েছিল। নতুন করে প্রস্তাবিত পোশাকের নকশা বা রং যদি অন্য কোনো বাহিনীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়, তবে মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের পক্ষে পুলিশ বাহিনীকে দ্রুত শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে বাহিনীর স্বতন্ত্র পরিচিতি সংকটের মুখে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে অধিকাংশ পুলিশ সদস্য বর্তমান পোশাকেই নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন। এই মুহূর্তে ইউনিফর্ম পরিবর্তনকে একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হিসেবে দেখছে সংগঠনটি। বিশাল এই ব্যয়ের পরিবর্তে বরাদ্দকৃত অর্থ পুলিশের আধুনিকায়ন ও লজিস্টিক সাপোর্ট বৃদ্ধিতে ব্যয় করার জন্য সরকারের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং পর্যাপ্ত সরঞ্জামের সংস্থান করার মাধ্যমেই বাহিনীর দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


একযোগে ৯ সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে বড় ধরণের রদবদল এনেছে বর্তমান সরকার। সোমবার রাতে পৃথক নয়টি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কর্মরত ৯ জন সচিব ও সিনিয়র সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এসব আদেশে উল্লেখ করা হয়, সরকারের সাথে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী তাঁদের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হলো। জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগ বাতিল হওয়া কর্মকর্তাদের তালিকায় রয়েছেন দেশের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের আমলারা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। এছাড়া জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক সিদ্দিক জোবায়ের এবং ভূমি আপিল বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফের চুক্তিও বাতিল করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের তিন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা—সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেসুর রহমান, সিনিয়র সচিব এম এ আকমল হোসেন আজাদ এবং সচিব ড. কাইয়ুম আরা বেগমের নিয়োগও এই আদেশের অন্তর্ভুক্ত। তালিকায় আরও রয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এবং বিশ্ব ব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক বেগম শরিফা খান।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলম স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনগুলোতে প্রশাসনিক সংস্কারের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়। মূলত প্রশাসনের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মকর্তাদের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যেই সরকার এই গণ-ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে। চুক্তিবদ্ধ কর্মকর্তাদের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে এমন আকস্মিক অব্যাহতি প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরণের পরিবর্তনের পথ সুগম করল। এই আদেশের ফলে শূন্য হওয়া পদগুলোতে দ্রুত নতুন নিয়োগ বা পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সচিবালয় সূত্রে জানা যায়।

বিগত সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া এসব কর্মকর্তার চুক্তি বাতিলের বিষয়টি প্রশাসনের চেইন অব কমান্ড শক্তিশালী করার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পরিকল্পনা কমিশন ও স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের মতো স্পর্শকাতর দপ্তরগুলোতে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিল বর্তমান সরকার। একযোগে ৯ জন শীর্ষ কর্মকর্তার বিদায়কে কেন্দ্র করে সচিবালয়সহ সরকারি দপ্তরগুলোতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই পদগুলোতে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।


সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ৩৯তম বোর্ড সভায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীকে ট্রাস্টের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। সোমবার রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে আয়োজিত এই সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন তাঁকে এই দায়িত্ব প্রদানের বিষয়টি চূড়ান্ত করেন। নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি ট্রাস্টের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বিশেষ করে সহায়তা কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সুবিধাভোগী সাংবাদিকদের একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেস তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন তথ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন দেশের সামগ্রিক অর্জনে গণমাধ্যমের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি মনে করেন, জনগণ ও সংবাদ মাধ্যমই যেকোনো রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি। গণমাধ্যম সবসময় জনআকাঙ্ক্ষাকে শক্তিশালী করেছে এবং এর প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই সরকার সাংবাদিকদের জন্য অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিফলন ঘটাতে সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ অবসর ভাতা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোতে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও কাজ শুরু করার ঘোষণা দেন মন্ত্রী।

দায়িত্ব গ্রহণের পর তথ্য প্রতিমন্ত্রী ও সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন চেয়ারম্যান ইয়াসের খান চৌধুরী ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে সাংবাদিকদের সাহসিকতার কথা স্মরণ করেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে সত্য তুলে ধরার জন্য তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, ট্রাস্টের মাধ্যমে সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানো কেবল দায়িত্ব নয়, বরং এটি তাঁদের কাজের প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির একটি অংশ। সভায় ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ও তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. নিজামূল কবীর এবং প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফসহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বোর্ড সভা শেষে তথ্য ভবন অডিটোরিয়ামে এক বিশেষ চেক বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে সাংবাদিক পরিবারের ৪০২ জন মেধাবী সন্তানের হাতে শিক্ষাবৃত্তির চেক তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। এই বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে সাংবাদিক পরিবারের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানগণ উপস্থিত থেকে নতুন নেতৃত্বের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। সাংবাদিকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং এই পেশার মানোন্নয়নে ট্রাস্টের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপগুলো একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে সংবাদকর্মীরা মনে করছেন।


পদোন্নতি পাওয়া দুই সেনা কর্মকর্তাকে র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের নতুন প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নতুন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরীকে র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে এক অনুষ্ঠানে দুই কর্মকর্তাকে র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয় বলে আন্তঃবাহিনীর জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানকে গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) করা হয়।

১৯৯১ সালে সেনাবাহিনীর পদাতিক কোরে কমিশন পাওয়া এই কর্মকর্তা এর আগে প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালকও ছিলেন।

গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) আরেক আদেশে সেনা সদরে দায়িত্বরত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরীকে মেজর জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক করা হয়।


প্রান্তিক পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে ‘কৃষক কার্ড’ চালু সংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত সরকার প্রান্তিক ও তৃণমূল মানুষের নিকট জনকেন্দ্রিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য দুটো প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর একটি হলো ‘ফ্যামিলি কার্ড’, অপরটি হলো ‘স্মার্ট কৃষক কার্ড।’ এর মধ্যে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড দিতে যাচ্ছে। ধাপে ধাপে প্রায় চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধায় আনা হবে। এদিকে, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘স্মার্ট কৃষক কার্ড’ চালুর নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রকৃত কৃষকদের শনাক্তকরণ এবং সরাসরি সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষি। তাই কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে ‘কৃষক কার্ড’ চালু সংক্রান্ত এক সভায় সভাপতিত্ব করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় মন্ত্রিসভার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকরা যাতে ন্যায্য পাওনা ও সরকারি ভর্তুকি সহজে পান, তা নিশ্চিত করতেই এই স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

সভায় দেশের প্রান্তিক কৃষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো এবং কৃষি প্রণোদনা বিতরণ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক করার লক্ষ্যে কৃষক কার্ড চালুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় কৃষক কার্ডের কারিগরি দিক, বিতরণ পদ্ধতি এবং ডাটাবেজ তৈরির অগ্রগতি অবহিত করা হলে প্রধানমন্ত্রী দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের দিক-নির্দেশনা দেন।

এরই মধ্যে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ১৩টি উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১০ মার্চ এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। গত রোববার প্রাথমিকভাবে দুটি উপজেলায় পাইলটিংয়ের পরিকল্পনা থাকলেও তা সম্প্রসারণ করে দেশের ১৩টি উপজেলার ১৩টি ওয়ার্ডে কর্মসূচি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড পাবে যে এলাকাগুলো- বনানীর কড়াইল বস্তি, পাংশা, পতেঙ্গা, বাঞ্ছারামপুর, লামা, খালিশপুর, চরফ্যাশন, দিরাই, ভৈরব, বগুড়া সদর, লালপুর, ঠাকুরগাঁও ও নবাবগঞ্জ।

সূত্রে জানা যায়- ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারকে কাঠামোবদ্ধভাবে সহায়তা দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে।

উপকারভোগী নির্বাচনে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য ব্যবহার করা হলেও আর্থিক তথ্য না থাকায় নির্বাচিত ওয়ার্ডগুলোতে সরেজমিন যাচাই-বাছাই করে সুবিধাভোগী নির্ধারণ করা হবে। উপকারভোগীদের হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত-এই চার শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে টার্গেটিং ত্রুটি প্রায় ৫০ শতাংশ, ফলে অর্থের অপচয় হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে একাধিক কর্মসূচির সুবিধা একীভূত করে এই ত্রুটি কমানো সম্ভব হবে।

এছাড়াও ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, টিসিবি কার্ড ও ভ্যালনারেবল উইমেন বেনিফিট কর্মসূচি একীভূত করা যেতে পারে। উপকারভোগী নির্বাচনে এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক থাকবে। দ্বৈত সুবিধা ঠেকাতে অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা সিস্টেমের সঙ্গে আন্তঃসংযোগ করা হবে। উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন এবং পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে উপকারভোগী তালিকা চূড়ান্ত। অনুদানের অর্থ ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে বিতরণ। নারী খানা প্রধান ফ্যামিলি কার্ড ছাড়া অন্য ভাতা পাবেন না, তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের ভাতা বহাল থাকবে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ডের আদলে দেশের সকল কৃষকের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে ‘স্মার্ট কৃষক কার্ড’ চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। এ কথা জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, স্মার্ট কৃষক কার্ড চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আমাদের অনেক আগেই নেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রথম বৈঠক করেছেন। ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষক কার্ড দেওয়া। সেই লক্ষ্যেই পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এর কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। কৃষকরা এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষি জ্ঞান, সার, কীটনাশক ও বীজসহ সকল ধরনের কৃষি উপকরণে সরকারি সহযোগিতা সরাসরি পাবেন। এছাড়া স্মার্ট পদ্ধতিতে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, উৎপাদনের পূর্বাভাস ও আবহাওয়ার বার্তা কৃষকের হাতের নাগালে চলে আসবে। এছাড়া এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক যন্ত্রপাতির সহজলভ্য সেবা নিতে পারবে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, স্মার্ট কৃষক কার্ড বিতরণের কাজ শুরু করতে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি সরকারের সেবা পাবেন এবং কৃষি উপকরণ সংগ্রহে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে।

তিনি আরও বলেছেন, দেশের সকল কৃষককেই এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে শুরু করে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। তবে এর সঠিক সময়সীমা প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গৃহিণীদের জন্য নতুন সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ক্ষমতায় গেলে এই কার্ডের মাধ্যমে দেশের চার কোটি পরিবার নিয়মিত আর্থিক বা খাদ্য সহায়তা পাবে। চার কোটি পরিবারকে ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।


অন্তর্বর্তীর সময় চাঁদাবাজি বেড়েছে ২০-৫০ শতাংশ: ডিসিসিআই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশে চাঁদাবাজি বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত চাঁদাবাজি বেড়েছে।

চাঁদাবাজি কারা করছে— সাংবাদিকদের তরফে এমন প্রশ্ন উঠলে চেম্বার সভাপতি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের লোকজন, পুলিশ ও রাজস্ব কর্মকর্তাসহ অনেকেই চাঁদাবাজি করেন।

‘বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় নবগঠিত সরকারের নিকট প্রত্যাশা’ শিরোনামে এ সংবাদ সম্মেলন করে ডিসিসিআই।

তিনি বলেন, কারা চাঁদাবাজি করছে, সেটা সরকারকে বের করতে হবে। তারা এসে বলে, আমরা সরকারি দলের লোক। যখনই যে সরকার আসে, তখনই বলে আমরা সরকারি দলের লোক; আমাদেরকে চাঁদা দিতে হবে। আমাদের এই অনুষ্ঠান আছে, পাড়ার এই চাঁদা দিতে হবে।

কারখানায় ঢুকতেও চাঁদা দিতে হয় মন্তব্য করে তাসকীন আহমেদ বলেন, ‘অফিস ও রাস্তায় চাঁদা দিতে হয়। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধে আমরা নতুন সরকারের কাছ থেকে কড়া বার্তা প্রত্যাশা করছি।

মূল প্রবন্ধে ডিসিসিআই সভাপতি উল্লেখ করেন, বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বাস্তবসম্মত উন্নয়নে চারটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

প্রথমত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং চাঁদাবাজিসম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা। দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকারি খাতে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা।

তৃতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে তিনি বলেন, যারা ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপি নন, তাদের প্রয়োজনীয় ‘ওয়ার্কিং ক্যাপল’ (চলতি মূলধন)’ সহায়তা দিয়ে পুনরায় ব্যবসায় শুরুতে সহযোগিতা করা। আর তৃতীয় হচ্ছে, ঋণের সুদহারকে যুক্তিসঙ্গত এবং সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা।

বর্তমানে ব্যাংক সুদহার তুলনামূলক বেশি দাবি করে তিনি বলেন, আগামী দিনে অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণ ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যে আরো সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে উঠলে অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকবে।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, ২০২৪ সালের অগাস্টের পরও দেশে আওয়ামী সরকারের সময়ের মতোই দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতি একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি। বরং কিছু ক্ষেত্রে বেড়েছে।

পুলিশ, প্রশাসন, ইনকাম ট্যাক্স অফিস— সব জায়গায় দুর্নীতি ছেয়ে আছে। এগুলো বন্ধ না হলে অর্থনীতি তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে না। আর চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে আমাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে।

ব্যাংক ঋণ নির্ভরতা কমাতে পুঁজিবাজারে ভালো মানের কোম্পানি তালিকাভুক্ত করার পরামর্শ দিয়ে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, গ্রিন চ্যানেল তৈরি করে সরকারি লাভজনক কোম্পানিকে সরাসরি তালিকাভুক্ত করা যেতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গ হওয়া শুল্ক চুক্তির মধ্যে ব্যবসাসংক্রান্ত ধারাগুলো প্রকাশ করার দাবি জানায় ঢাকা চেম্বার।


বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা তদন্তে নতুন কমিশন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পিলখানায় সংঘটিত ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনঃতদন্ত করতে নতুন করে কমিশন গঠন করতে চায় সরকার। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানিয়েছেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘এটার জন্য আরেকটা তদন্ত কমিশন গঠন করার কথা বলেছি, আমাদের প্রতিশ্রুতি আছে। আমাদের ইশতেহারের মধ্যেও আছে। আমরা বিডিআর (বিদ্রোহের) ঘটনাটা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পুনঃতদন্ত অথবা একটা কমিশন গঠন করে কমিশনের রিপোর্ট অনুসারে কাজ করবো। আমরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব অধিদপ্তর ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানিয়েছেন।

৫ আগস্টের পরে যেসব বড় বড় ব্যবসায়ী এবং স্বনামধন্য ব্যক্তি, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মামলার আসামি করা হয়েছে এবং ভোগান্তিতে আছেন, সেসব বিষয় যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এ সভায় পুলিশে ২ হাজার ৭০১ জন কনস্টেবল জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটা দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু হবে বলেও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, আমার জানা মতে ১০ হাজারের বেশি অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা হয়নি। সেগুলো এখন অবৈধ। এগুলো নিয়ে মামলা হতে পারে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় এগুলো উদ্ধার করা হবে।

তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় যেসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে সেগুলো আমরা আবারও ভেরিফাই করব। সেগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়েছে কিনা, আমরা সেটা খতিয়ে দেখব।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করি, এটা দ্রুততার সঙ্গে করতে পারব। লাইসেন্স যারা পেয়েছে তারা এটা পাওয়ার উপযুক্ত কিনা, সেটা যাচাই করা হবে। যেগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে লাইসেন্স পেয়েছে সেগুলো বাতিল করা হবে। এসব লাইসেন্সের অধীনে অস্ত্র থাকলে সেগুলোও বাতিল হবে। জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে পরিচালনা করাই সরবার লক্ষ্য বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের পরে বেশ কিছু মামলা হয়েছে। এখানে কিছু সুবিধাবাদী শ্রেণির মানুষ এ সুযোগে ভোগান্তি সৃষ্টির জন্য অনেককে আসামি করেছে, যারা সেখানে জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না। সেই জায়গায় অনেক বড় বড় ব্যবসায়ী এবং অনেক স্বনামধন্য ব্যক্তি, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও এ রকম আসামি করা হয়েছে। অনেক মানুষকে এভাবে ভোগান্তিতে ফেলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সেটা আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বলেছি। তাদের যথাযথ ব্যবস্থা করা এবং তারা যেন ভোগান্তির শিকার না হন, সেগুলো দেখবে এবং এই ক্ষেত্রে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি, যাতে আইনের শাসন আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারি, সেই লক্ষ্যে যেন এই কাজটা করে। কারণ আমরা ঘোষণা দিলাম, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করব, সুশাসন জারি করব; কিন্তু এই নিরীহ মানুষগুলো অনেক ক্ষেত্রে মামলাবাজির শিকার হয়ে হয়তো ভোগান্তিতে আছেন। এটা এখন যাচাই-বাছাই করে দেখবে এবং সে মতো ব্যবস্থা নেবে।’

এক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা যাচাই-বাছাই করার জন্য কমিটির দরকার নেই, এটা পুলিশের কাজ, তারাই করবে। সময় বেঁধে দেওয়া হয়নি, দ্রুত একটা রিপোর্ট দেবে।

এর মধ্যে সাংবাদিক আছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা কি মানুষ না, সব মানুষই আছে, আইনের শাসন সবাই পাবে।


সাংবাদিকদের মর্যাদায় ভূষিত করতে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশের সাংবাদিক সমাজ ও গণমাধ্যম নানান রকমের একটা জটিল পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে আছে। সে জন্য সাংবাদিকদের সম্মান প্রদানে এই সরকার খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এ জন্য এই পেশার মানুষদের সম্মান এবং মর্যাদায় কীভাবে ভূষিত করা যায়- এটা নিয়ে আমাদের সরকার একটা পরিকল্পনা রেখেছে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ৪০২ সাংবাদিকের সন্তানকে কল্যাণ তহবিলের অনুদানের চেক বিতরণ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠান হয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান আছে তথ্য সরবরাহ করা বাদ দিয়ে অন্যান্য এজেন্ডা নিয়ে ব্যস্ত আছেন। এর মধ্যে অনেকে বিভিন্ন রকম মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন ছড়ানোর তৎপরতায় ব্যস্ত অথবা এটাকে একটা ব্ল্যাকমেইলিং অথরিটি হিসাবে তৈরি করতে চায়। সুতরাং আমরা সেই সেই জায়গায় কীভাবে মনিটর করা যায়, যাতে জনগণ প্রকৃতপক্ষে একটা অবাধ তথ্যসেবা পেতে পারে সেটা নিয়ে কাজ করব।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আমাদের কাজগুলো সাংবাদিক সমাজ ছাড়া সম্ভব না। সে কারণে মন্ত্রণালয়ের প্রধান মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হবেন আপনারা। আমরা চাই আপনাদের পরিবার, সন্তানকে নিয়ে এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা মনোযোগের অংশীদার হওয়ার। তিনি বলেন, আপনাদের সম্মান জানানোর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সেটাকে অর্থের দিকে থেকে বিবেচনা করবেন না। আপনারা বিবেচনা করবেন সাংবাদিকদের প্রতি আমাদের সম্মান, মর্যাদাকে।

প্রবীণ সাংবাদিক বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের নিয়ে আমাদের আন্তরিকতার কমতি নেই। আমরা চেষ্টা করব যত দ্রুত সম্ভব তাদের নিয়ে একটা কার্যকর ‍সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য। সাংবাদিকদের দৈনন্দিন জীবনের ক্ষেত্রে চিকিৎসা একটা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এটা নিয়েও আমরা আলাপ করেছি। সেই ক্ষেত্রে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি- কোনো একটা হাসপাতাল অথবা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমরা একটা সমঝোতার মধ্যে আসব। সেখানে যেন সাংবাদিকরা নিয়মিত ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন। সেই সময়টুকু আপনারা দিবেন। ভবিষ্যতের সুযোগ, সম্ভাবনা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী আমাদের মন্ত্রণালয়ের সাংবাদিক সমাজের জন্য আরও কী কী সুবিধা নিশ্চিত করতে পারে, আমরা সেসব ব্যাপারেও মনোযোগী হয়ে উদ্যোগ নেব।

এ সময় বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা এবার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৪০২ জন সাংবাদিকের পরিবারকে অনুদানের চেক দিয়েছি। সাংবাদিক ও তাদের পরিবার পরিবারের জন্য আমাদের এসব কাজ চলবে। তা ছাড়া প্রবীণ সাংবাদিকদের চিকিৎসার জন্য সরকারের তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই এটাও বাস্তবায়ন করার আশ্বাস তিনি দিয়েছেন। ফলে আশা করা যায় খুব দ্রুত ভালো কিছু হবে।

চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বোর্ড সদস্য শাহীন হাসনাত প্রমুখ।


সার্ক পুনরুজ্জীবনে সমর্থন দেবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সার্ক প্রক্রিয়ার প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন এবং দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সার্কের মহাসচিব মো. গোলাম সারওয়ার সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তারা সার্ক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রতিমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণাটি বাংলাদেশ প্রথম ১৯৮০ সালের গোড়ার দিকে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জনগণের কল্যাণ, জীবনযাত্রার মান উন্নত এবং সম্মিলিত স্বনির্ভরতা জোরদারের জন্য প্রস্তাব করেছিলেন। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বরে সার্কের প্রথম শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক হিসেবে, বাংলাদেশ ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক গতিশীলতার মধ্যে সার্কের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখতে সদস্য দেশগুলোর মূল্যবান অবদানকে স্বীকৃতি দেয়।

তিনি আরও বলেন, সার্ক অভিন্ন আঞ্চলিক মূল্যবোধকে লালন করে চলেছে এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, দারিদ্র্য বিমোচন, বিদ্যুৎ, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, মানুষে মানুষে যোগাযোগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রচার অব্যাহত রেখেছে।

প্রতিমন্ত্রী সার্কভুক্ত সংস্থার প্রক্রিয়া জোরদার ও প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সার্বভৌম সাম্য, আঞ্চলিক অখণ্ডতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং সদস্য দেশগুলোর জনগণের পারস্পরিক সুবিধাসহ সার্ক সনদে উল্লিখিত নীতিমালার প্রতি অবিচল প্রতিশ্রুতিতে বাংলাদেশের দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।


নির্বাচনের পর ইসিতে বড় রদবদল, বদলি ১১২ কর্মকর্তা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হতেই মাঠ প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন। দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও থানা পর্যায়ে কর্মরত ১১২ জন নির্বাচন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করা হয়েছে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জনবল ব্যবস্থাপনা শাখার সহকারী সচিব মোহাম্মদ শহীদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা জারি হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়সহ বিভিন্ন উপজেলা ও থানায় কর্মরত কর্মকর্তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে সরিয়ে নতুন দায়িত্বস্থলে পদায়ন করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।

বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের আগামী ১ মার্চের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে ওইদিন অপরাহ্ণে তাদের সরাসরি অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে বলে আদেশে উল্লেখ রয়েছে।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এটিই সবচেয়ে বড় বদলির পদক্ষেপ। সামনে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই রদবদল করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এদিনই ইসি সচিবালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি।


বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজে মাতৃভাষা দিবস পালন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ পালন করেছে রাজধানীর বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজ। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল প্রভাতফেরি, দেয়ালিকা উদ্বোধন, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অমর একুশের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে কলেজ প্রাঙ্গণ সাজানো হয়েছিল বর্ণিল সাজে। একুশের প্রথম প্রহরে কলেজের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে বের করা হয় এক বিশাল প্রভাতফেরি। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ এই কালজয়ী গানের সুরে সুরে নগ্ন পায়ে সবাই কলেজের শহীদ মিনারে উপস্থিত হন এবং পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

দিবসটি যথাযথভাবে পালন উপলক্ষে কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজন করা হয় বিশেষ আলোচনা সভার। কলেজের রেক্টর প্রফেসর তরুণ কান্তি বড়ুয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ ড. সঞ্জয় কুমার ধর এবং মাতৃভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে তথ্যবহুল বক্তব্য দেন শিক্ষক প্রতিনিধি মোস্তাকিয়া মাহমুদা পারভীন ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. শাফাকাত চৌধুরী সায়াদ।

অনুষ্ঠানের শেষাংশে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়, যেখানে ছিল দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা আবৃত্তি। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন কলেজে জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলা বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক রতন কুমার ধর এবং সঞ্চালনা করেন সহকারী শিক্ষক রানজুনি চাকমা। উল্লেখ্য যে, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে গত ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের চিত্রাঙ্কন ও সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল।


নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হচ্ছেন ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী

ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী। সংগৃহীত ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তার পদ নিয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে একাধিক নাম সামনে এসেছে। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্যভাবে আলোচিত হচ্ছে।

আইন মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরীকে নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত ঘোষণা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরীর বাবা ছিলেন ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত আব্দুর রউফ চৌধুরী।

শিক্ষাজীবনে তিনি কুষ্টিয়া জিলা স্কুল থেকে এসএসসি এবং ঢাকা নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর যুক্তরাজ্যের দুটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি নিয়ে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন। আইনের সঠিক প্রয়োগ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে তিনি তার প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করেন বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তখন থেকে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদটি শূন্য রয়েছে।


banner close