সুন্দরবন বাঘ গণনার কাজ শেষ হয়েছে। এক হাজার ২০০টিরও বেশি ক্যামেরা ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে এই গণনা করা হয়। আগামী ৮ অক্টোবর বাঘের সংখ্যা প্রকাশ করা হবে।
পরিবেশ রক্ষাবিষয়ক সংগঠন বেলার খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়ক মাহফুজুর রহমান মুকুল বলেন, খুলনা ফরেস্ট অফিস ২০১৫ ও ২০১৮ সালের পর তৃতীয়বারের মতো সুন্দরবনের বাঘ গণনা শুরু করেছিল ২০২২ সালে। ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে তিন বছরে বাঘ গণনা ও সংরক্ষণবিষয়ক দুইটি মেগা প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে। আমরা জেনেছি বাঘের সংখ্যা সুন্দরবনে বেড়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ উন্নয়ন বেস্টের প্রধান নির্বাহী পরিচালক মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, আমরা এখন অপেক্ষায় আছি কবে ফলাফলটা পাব। আশা করি এবার বাঘ বাড়বে। বাঘ সুন্দরবনসহ প্রকৃতিকে রক্ষা করছে।
তিনি আরও বলেন, সচেতনতার কারণেই বাড়ছে বাঘের সংখ্যা। তবে প্রতি তিন বছর অন্তর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বাঘ গণনা না করে এই টাকা দিয়ে উপকূলীয় মানুষের উন্নয়নে কাজ করলে আরও উপকৃত হবে। প্রতি তিন বছর অন্তর বাঘ গণনা করার কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন না তিনি।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জাতীয় পরিষদ সদস্য ও বিভাগীয় সমন্বয়কারী আইনজীবী মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, প্রতি তিন বছর অন্তর বাঘ গণনার জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। এখানে বড় ধরনের অর্থ অপচয় হচ্ছে। বাঘ গণনার নামে লুটপাট হচ্ছে দেশের কোটি টাকা। এগুলো বন্ধ করতে হবে। সুন্দরবন বাঁচাতে ১০ বছর পর পর একবার গণনা করলে সুন্দরবনের উপর চাপ কমবে।
সুন্দরবন পশ্চিম বনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন বলেন, এর আগে বিশ্ব ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে বাঘ জরিপ হলেও, এ বছর দেশীয় প্রযুক্তি ও দেশের অর্থায়নে খুলনার চারটি রেঞ্জেই ক্যামেরার ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। এছাড়া ঝড়, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস থেকে বাঘকে রক্ষার জন্য বাঘের কেল্লা নির্মাণ করা হচ্ছে সুন্দরবনে। ২০১৫ সালের বাঘশুমারি অনুযায়ী, সুন্দরবনে বাঘ ছিল ১০৬টি। আর ২০১৮ সালের শুমারিতে ছিল ১১৪টি।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিগত সময়ে ঘর, ব্যবসা ও সরকার- সব জায়গায়ই আয়ের সংকট তৈরি হয়েছিল। এর প্রভাব এতটাই গভীর ছিল যে, অনেক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। এতে সমাজে ভাঙন তৈরি হয়েছে। সে সময় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজি পাননি।
সরকার টাকা ছাপাচ্ছে এমন প্রচারকে ‘গালগল্প’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, এর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। সরকার এখন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
আজ শনিবার রাজধানীর এফডিসিতে ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই হবে এবারের বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিগত সময়ে ঘর, ব্যবসা ও সরকার- সব জায়গায়ই আয়ের সংকট তৈরি হয়েছিল। এর প্রভাব এতটাই গভীর ছিল যে, অনেক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। এতে সমাজে ভাঙন তৈরি হয়েছে। সে সময় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজি পাননি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার প্রতি মুহূর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হস্তক্ষেপ করেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত কয়েকটি কোম্পানির হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার কোনো খাতকে ‘সিন্ডিকেটের কাছে ইজারা’ দিতে চায় না; বরং অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে চায়।
তিনি আরো বলেন, অতীতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে বিপুল ঋণ নিয়ে লুটপাট করা হয়েছে। তথ্য জালিয়াতির মাধ্যমে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন, কৃষি ও উৎপাদন খরচও বেড়েছে।
তিনি আরো বলেন, বাজেট যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না বাড়ায় এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যকারিতার কথাও তুলে ধরেন।
প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদ প্রতিযোগিতায় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে বিজয়ী হয় জাতীয় বস্ত্র প্রকৌশল ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (নিটার)। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করা হয়।
চট্টগ্রামের শিল্প ও নৌখাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ড্রাই ডক অ্যান্ড জেটি লিমিটেড পরিদর্শন করেছেন সরকারের তিন প্রতিমন্ত্রী। তারা হলেন- নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
শনিবার (১৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম জেলার সফরসূচির অংশ হিসেবে তারা কর্ণফুলী ড্রাই ডকে পরিদর্শনে আসেন।
এসময় তারা প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন স্থাপনা, চলমান কার্যক্রম ও উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘুরে দেখেন। এছাড়া ড্রাই ডকের জেটি, নির্মাণাধীন বিভিন্ন প্রকল্প এবং অবকাঠামো ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বিক কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করেন তারা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (হারবার ও মেরিন) সদস্য কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ, কর্ণফুলী ড্রাই ডক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এম এ রশীদসহ সংশ্লিষ্টরা।
চাঁদপুরের শাহরাস্তির সমাবেশস্থলে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (১৬ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় ‘খোদ খাল’ পুনর্খনন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।
এর আগে, একাধিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নিয়ে সড়কপথে ঢাকার বাসভবন থেকে সকাল ৮টার পরে তিনি রওনা হন। দুপুর ১টা ২০ মিনিটে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত একটি পথসভায় অংশ নেন তিনি।
চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঘোষের হাট-সংলগ্ন ‘বিশ্ব খাল’ পুনর্খনন কাজের উদ্বোধন করবেন তিনি।
এরপর চাঁদপুর সার্কিট হাউসে যাত্রাবিরতি শেষে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকেলে চাঁদপুর ক্লাবে আয়োজিত জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তিনি।
সরকারি এই সফর শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রধানমন্ত্রী পুনরায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন এবং রাত সাড়ে ৯টায় তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
জানা গেছে, দীর্ঘ ২২ বছর আগে ২০০৪ সালে চাঁদপুরে গিয়েছিলেন তারেক রহমান।
দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কাছ থেকে দেখতে এবং তার বক্তব্য শুনতে হাজার হাজার নেতাকর্মী জড়ো হয়েছেন। উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে যারপরনাই উৎসাহ এবং উদ্দীপনা বিরাজ করছে। মঞ্চে উপস্থিত আছেন বিএনপির জাতীয় ও স্থানীয় মন্ত্রী ও নেতা-কর্মীরা।
কুমিল্লাকে বিভাগে রূপান্তর এবং একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দীর্ঘদিনের গণদাবি নিয়ে ইতিবাচক ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। শনিবার দুপুরে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে এক জনাকীর্ণ পথসভায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করা যদি জনগণের দাবি হয়ে থাকে, তবে তা বাস্তবায়ন করা হবে।’ একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবির প্রেক্ষিতে সেখানে একটি উচ্চতর কৃষি গবেষণা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের বিষয়েও জোরালো আশ্বাস প্রদান করেন তিনি। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে তিনি এই সফরে যান।
দলীয় অঙ্গীকার ও বিশ্বস্ততার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সভায় বলেন, ‘বিএনপি জনগণের কাছে যে ওয়াদা দেয়, সরকারে এলে সেই ওয়াদা পূরণ করে।’ তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাঁর সরকার ইতিমধ্যে সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের ইমাম ও পুরোহিতদের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মানীর ব্যবস্থা চালু করেছে। সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে আগামী জুনের জাতীয় বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড খাতের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলেও তিনি উপস্থিত জনতাকে আশ্বস্ত করেন।
বিগত দিনের স্বৈরশাসন ও জনরোষের প্রেক্ষাপট টেনে তারেক রহমান বলেন যে, ফ্যাসিবাদী সময়ে সাধারণ মানুষের কথা বলার অধিকার হরণ করা হয়েছিল এবং গুম-খুনের রাজনীতি কায়েম করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ আজ সেই অন্ধকার থেকে মুক্তি পেয়েছে। তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র স্বৈরাচারমুক্ত হওয়া চূড়ান্ত সাফল্য নয়; বরং প্রকৃত লক্ষ্য হতে হবে রাষ্ট্রকে নতুন করে গড়ে তোলা। তিনি বলেন, জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত অংশীদার এবং যখন সাধারণ মানুষ স্বাবলম্বী হওয়ার দায়িত্ব নেয়, তখনই দেশ প্রকৃত অগ্রগতির পথে ধাবিত হয়। ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রায় তিনি দেশবাসীকে ধৈর্য ধরে পাশে থাকার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে এখন প্রতিটি মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বর্তমানে প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হলেও দুই দেশের প্রকৃত সম্ভাবনার তুলনায় এটি এখনো যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকেরা। এই বাণিজ্যকে আরও শক্তিশালী করতে সরাসরি জাহাজ চলাচল ব্যবস্থা চালু, বিনিয়োগের হার বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে উভয় পক্ষ। শুক্রবার ব্রাসিলিয়ার পালাসিও দো প্লানালতোতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের প্রধান উপদেষ্টা সেলসো আমোরিমের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।
বৈঠকে হুমায়ুন কবির বলেন, দুই দেশের অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক হওয়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্রাজিল থেকে তুলা, সয়াবিন, চিনি ও কৃষিপণ্যসহ শিল্পের কাঁচামাল আমদানি করছে; অন্যদিকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, সিরামিক ও পাটজাত পণ্য ব্রাজিলে রপ্তানির বিশাল ক্ষেত্র পড়ে আছে। তিনি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্য কমিয়ে সরাসরি লেনদেনের ওপর জোর দেন।
প্রেসিডেন্ট লুলার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি অভিনন্দন জানিয়ে সেলসো আমোরিম বলেন, "বাংলাদেশকে গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান কণ্ঠস্বর" হিসেবে দেখে ব্রাজিল। আলোচনায় উঠে আসে যে, ব্রাজিলের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের পরপরই দুই দেশের মধ্যে ফরেন অফিস কনসালটেশনস (এফওসি) অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে কৃষি, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা, ক্রীড়া, জ্বালানি ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে একাধিক চুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার (১৬ মে) সকালে সরকারি ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে চাঁদপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। এই সফরে তিনি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও দুটি গুরুত্বপূর্ণ খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধনসহ বেশ কিছু অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি নিশ্চিত করেছেন যে, শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার পর তিনি রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে যাত্রা শুরু করেন।
সফরের পথে বেলা সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে একটি পথসভায় বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নে পৌঁছাবেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই এলাকার ওয়ারুক বাজারে খোর্দ্দ খালের পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী গ্রামে অবস্থিত বিশ্ব খালের পুনঃখনন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সেটিও উদ্বোধন করবেন তিনি।
ব্যস্ততম এই সফরের মাঝে দুপুর আড়াইটায় চাঁদপুর সার্কিট হাউসে ক্ষণিকের বিরতি নেবেন প্রধানমন্ত্রী। বিরতি শেষে বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবেন তিনি। এছাড়া বিকেল ৫টায় চাঁদপুর ক্লাবে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে তাঁর। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সড়কপথে পুনরায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি এই সফর সমাপ্ত করবেন বলে জানা গেছে।
ভয়াবহ আকার ধারণ করেই যাচ্ছে হাম। টিকাদান কর্মসূচি শুরুর পরও কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না রোগটিকে। প্রতিদিনই প্রাণ যাচ্ছে একের পর এক কোমলমতি শিশু, খালি হচ্ছে মায়ের কোল। হামের রোগীদের ৫ থেকে ৮ শতাংশ আক্রান্ত হচ্ছে নিউমোনিয়ায়, যাদের ৮০ শতাংশের রয়েছে মৃত্যুঝুঁকি। মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি এন্টিবায়োটিক ও অক্সিজেনের সরবরাহ নিশ্চিত করার তাগিদ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের। রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে আলোচনা সভায় এসব কথা জানান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।
এদিকে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টার হিসাবে (গত বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে শুক্রবার (১৫ মে) সকাল আটটা পর্যন্ত) হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে প্রাণ হারাল আরও ১২ শিশুসহ মোট ৪৫১ জন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
চলতি বছরের মার্চ থেকে দেশজুড়ে চলছে হামের প্রকোপ। এতে ২ মাসে প্রাণ গেছে সাড়ে চারশ শিশুর। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬২ হাজার। শিশুদের সুরক্ষায় দেশে হাম-রুবেলার টিকাদান শুরু হয়েছে গত ২০ এপ্রিল থেকে। তবে টিকাদানের পর শিশুর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে বিধায় দেশে হামের প্রকোপ এখনো কমেনি। এ পরিস্থিতিতে শিশুর মৃত্যুঝুঁকি কমিয়ে আনতে করণীয় নির্ধারণে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন (বএলএফ)
এতে অংশ নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুরা রাতকানা রোগ, নিউরোলজিক্যালসহ দীর্ঘমেয়াদি নানা শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে।
শিশু বক্ষব্যাধী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রুহুল আমীন বলেন, (হাম) অতিমাত্রায় সংক্রমণযোগ্য রোগ, যা খুব দ্রুতমাত্রায় ছড়িয়ে পড়ে। তবে শতকরা ৯৯ শতাংশ রোগী সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে উঠে। শিশুরা জাতির অনাগত ভবিষ্যৎ। প্রতিটি শিশু অসীম সম্ভাবনা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। সুস্থভাবে বেঁচে থাকা প্রতিটি শিশুর জন্মগত অধিকার। যেকোনো শিশুর মৃত্যু শুধু তার পরিবারের জন্য নয়, সমগ্র জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, আমাদের যত রকম সাপোর্ট বলেন সবই আমাদের মধ্যে আছে। কিন্তু অনেক সময় এই একটা জিনিস অ্যান্টিবায়োটিক, তারপর অক্সিজেন- এগুলো যদি আমরা সঠিক সময়ে দিতে পারি তাহলে কিন্তু অনেক কেস ভালো হয়ে যায়।’
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, সেজন্য আমার যে মেসেজটা হলো, রোগী হাম কর্নারে আসলে ইনিশিয়াল স্ক্রিনিংয়ের পরে যে কনসার্ন মেডিকেল অফিসার উনি যদি একেবারে শুরুতেই হাম চিহ্নিত করে রেফারেল সেন্টারে পাঠিয়ে দেন তাহলে খুব দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব। শুরুতেই যদি অ্যান্টিবায়োটিক এবং অক্সিজেনসহ অন্যান্য সাপোর্ট দিয়ে চিকিৎসা শুরু করা যায় তাহলে মৃত্যুহার কমিয়ে আনা সম্ভব।
প্রতি বছর ৫ বছরের নিচে মারা যাওয়া ২৪ হাজার শিশুর মধ্যে প্রতি ৪ জনের ১ জন নিউমোনিয়াজনিত কারণে মারা যায়। দেরিতে হাসপাতালে নেওয়া, বুকের দুধ কম পাওয়া, অপুষ্টিতে ভোগা, হামের ভ্যাকসিন না পাওয়া এবং ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের আওতাধীন না থাকায় মৃত্যুঝুঁকি বেড়েছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।
এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা আরও বলেন, বিভিন্ন এভিডেন্স বলছে, ৫ থেকে ৮ শতাংশ নিউমোনিয়া হয়। কিন্তু এই নিউমোনিয়ায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কিন্তু মৃত্যু হতে পারে। হামে মৃত্যুহার কমাতে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থায় চিকিৎসা দেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামের উপসর্গে ৮ শিশু এবং নিশ্চিত হামে ৪ শিশু মারা গেছে। এ সময় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১১১ শিশু এবং সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৯২ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৭৪ শিশুর এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৭৭ শিশু।
একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৭ হাজার ৪১৬ শিশু। আর সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৫ হাজার ৬১১ শিশু।
দেশি ও বিদেশি ঋণের এক নিদারুণ আবর্তে পড়ে হাঁসফাঁস করছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। দেশের মোট ঋণের স্থিতি আকাশ ছুঁয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকার ওপরে। এই বিপুল ঋণের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশাল রাজস্ব ঘাটতি—চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই যা ৬৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। রপ্তানি আয়েও নেই কোনো আশাবাজির আলো। একদিকে পুঞ্জীভূত ঋণের কিস্তি পরিশোধের রূঢ় বাস্তবতা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের পিঠে চড়তে থাকা করের চাবুক—সব মিলিয়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে অর্থনীতি ঋণের ফাঁদে পড়ে যেন চিড়েচ্যাপ্টা হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এই দমবন্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার এক বিশাল আকৃতির বাজেট প্রণয়নের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। একদিকে ঋণের জোয়াল, অন্যদিকে সাধারণ নাগরিক ও মধ্যবিত্তের ক্ষোভ প্রশমন- এই দুই চ্যালেঞ্জ মোকবিলায় গলদঘর্ম প্রশাসন। ফলে রাজস্বের নতুন উৎস সন্ধানে কর কাঠামোতে আনা হচ্ছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।
কর কাঠামোতে রূপান্তর: সাধারণের স্বস্তি বনাম বিলাসের মাশুলজাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাম্প্রতিক খসড়া পর্যালোচনা বৈঠক থেকে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের জন্য বেশ কিছু যুগান্তকারী ও স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামষ্টিক অর্থনীতির তীব্র চাপের মধ্যেও মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ভোক্তাদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা দেখা গেছে এই নীতিমালায়।
মধ্যবিত্তের পকেটে স্বস্তির হাওয়া মূল্যস্ফীতির আগুনে পুড়তে থাকা সাধারণ মানুষকে কিছুটা নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ দিতে ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ক্ষুদ্র আমানতকারীদের উৎসাহিত করতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক জমার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আবগারি শুল্ক না নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো—চাল, ডাল, চিনি ও খেজুরসহ দৈনন্দিন জীবনের সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর বিদ্যমান উৎসে কর বাড়ানো হচ্ছে না; তা আগের মতোই দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকছে।
বিলাসবহুল জীবনযাত্রায় কঠোর নজরদারিবাজেট ঘাটতি মেটাতে ও সামাজিক সমতা ফেরাতে বিত্তশালীদের ওপর করের বোঝা আরও সুনির্দিষ্ট করা হচ্ছে। আগামী অর্থবছর থেকেই দেশে প্রথমবারের মতো ১ শতাংশ হারে সম্পদ কর ব্যবস্থা চালুর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, তরুণ প্রজন্ম ও ডিজিটাল অর্থনীতির একটি বড় অংশকে করের আওতায় আনতে অনলাইন গেমিংয়ের ওপর ২৫ শতাংশ উৎসে কর বসানো হচ্ছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসছে বিলাসবহুল গাড়ি আমদানিকারক ও ব্যবহারকারীদের ওপর।
পরিবেশবান্ধব যাতায়াতকে উৎসাহিত করতে দামি বৈদ্যুতিক গাড়ি বাদে সব ধরনের সাধারণ বৈদ্যুতিক প্রাইভেট কারের কর কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, ৩ হাজার ৫০০ সিসির বেশি বা সমমানের বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ির অগ্রিম আয়কর ২ লাখ টাকা থেকে একলাফে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মধ্যবিত্তের ব্যবহার্য ১ হাজার ৫০০ সিসির গাড়ির ক্ষেত্রে এই কর ২৫ হাজার টাকাই থাকছে।
নতুন রাজস্বের খোঁজে ডিজিটাল ও অপ্রচলিত খাতরাজস্বের পরিধি বাড়াতে এবার কেরু অ্যান্ড কোম্পানির উৎপাদিত মদের ওপর নতুন করে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বসানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। পাশাপাশি করের জাল সম্প্রসারণে এখন থেকে যেকোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা বিআইএন। তবে এই প্রক্রিয়াকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত করতে কোনো ভ্যাট কর্মকর্তার অনুমোদনের প্রয়োজন রাখা হয়নি; আবেদন করলেই তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যাবে বিআইএন। এছাড়া দেশের সড়ক ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে দাপিয়ে বেড়ানো মোটরবাইক এবং ব্যাটারিচালিত রিকশাকেও এবার নতুন ট্যাক্সের আওতায় আনার রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।
ঘাটতি বাজেটের সমীকরণ: ঋণ দিয়ে ঋণ শোধের বিপজ্জনক খেলা আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেটে বিশাল অংকের ঘাটতি রয়ে গেছে। এই বাজেটে সরকারের নিজস্ব রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি মেটাতে সরকারকে আবারো সেই চড়া সুদের দেশি-বিদেশি ঋণের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাটতি পূরণের জন্য বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং ও অ-ব্যাংকিং উৎস থেকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজস্ব আদায়ের চেনা স্থবিরতা ও সম্ভাব্য ঘাটতির শঙ্কা মাথায় রেখে বাজেট সহায়তা হিসেবে আরও প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার আগাম প্রস্তুতি চালানো হচ্ছে।
ইতিহাসের দায় ও বর্তমানের ক্ষত : রকেট গতিতে বাড়ল ঋণ। এই অর্থনৈতিক চোরাবালির সূত্রপাত কিন্তু হঠাৎ করে হয়নি। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত দেড় দশকের শাসন আমলে দেশের ঋণের গ্রাফ রকেট গতিতে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ২০০৯ সালে যখন শেখ হাসিনা প্রথম ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তখন সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ২ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু দীর্ঘ ১৫ বছরে মেগা প্রকল্পের আড়ালে অপরিকল্পিত ব্যয় ও দুর্নীতির খতিয়ান দীর্ঘ হতে হতে ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুতির সময় সেই ঋণের পরিমাণ গিয়ে ঠেকেছে ১৯ লাখ কোটি টাকার পাহাড়সম ঘরে। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেওয়া বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও মাত্র এক অর্থবছরে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। তবে বর্তমান প্রশাসন এই ঋণের পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করে বলছে—এই অর্থ কোনো নতুন আড়ম্বরপূর্ণ দৃশ্যমান উন্নয়নে খরচ হচ্ছে না, বরং বিগত সরকারের রেখে যাওয়া গভীর ক্ষত ও বকেয়া সারাতে এই ঋণ নেওয়া বাধ্যতামূলক হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিশাল অঙ্কের আন্তর্জাতিক বকেয়া পরিশোধ এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের আশঙ্কাজনক পতন ঠেকাতে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর মতো দাতা সংস্থা থেকে দ্রুত বাজেট সহায়তা নিতে হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ এই প্রসঙ্গে তীব্র আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘জনগণের জন্য সরকারের আসল ব্যয় করার ক্ষমতাই তো লোপ পেয়ে যাচ্ছে। কারণ প্রতি বছর ঋণের কিস্তি আর সুদ শোধ করতেই যদি বাজেটের সিংহভাগ টাকা চলে যায়, তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার মতো মৌলিক খাতগুলোতে সরকার বিনিয়োগ করবে কীভাবে? এই করের টাকা তো জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের কাজে লাগতে পারত।
২০২৯-৩০: অর্থনীতির সামনে অপেক্ষমাণ এক মহাক্রান্তিকাল: বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় অশনি সংকেতটি লুকিয়ে আছে আগামী কয়েক বছরের ঋণ পরিশোধের সূচিতে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অভ্যন্তরীণ তথ্য বিশ্লেষণ করলে গা শিউরে ওঠার মতো এক পরিসংখ্যান বেরিয়ে আসে। ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে মাত্র ৫ বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশকে মোট ২৫.৯৯ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এর মধ্যে আসল হিসেবে যাবে ১৮.৩৮ বিলিয়ন ডলার এবং কেবল সুদ বাবদ গুণতে হবে ৭.৬ বিলিয়ন ডলার।
সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসবে ২০২৯-৩০ অর্থবছরে, যা হবে বাংলাদেশের ঋণ ইতিহাসের সর্বোচ্চ চাপের বছর। শুধু ওই একটি বছরেই দেশকে প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিগত সরকারের নেওয়া বড় বড় মেগা প্রকল্পের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা ঋণের কিস্তি মওকুফের সময়সীমা আগামী বছরগুলোতে শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে এখন থেকে আসল টাকা পরিশোধের মূল পর্ব শুরু হবে। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, এই প্রকল্পগুলোর সিংহভাগই নির্ধারিত সময়ে শেষ হতে পারেনি এবং বিলম্বের কারণে প্রকল্প ব্যয় বাড়লেও এগুলো থেকে এখনো কোনো অর্থনৈতিক সুফল বা রিটার্ন আসা শুরু হয়নি। ফলে এই অনুৎপাদনশীল মেগা প্রকল্পগুলো এখন জাতীয় অর্থনীতির জন্য এক একটি শ্বেতহস্তীতে পরিণত হয়েছে। গ্লোবাল মার্কেটে সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরেও বাংলাদেশকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪০৯ কোটি ডলার ঋণ শোধ করতে হয়েছে, যা চলতি বছর ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের প্রেসক্রিপশন: কাঠামোগত সংস্কারই একমাত্র পরিত্রাণ রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে যে এক ধরণের কাঠামোগত পক্ষাঘাত তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট এনবিআরের আট মাসের হিসাবে। ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৮৭ হাজার, ৮৬২ কোটি টাকা। এই বিশাল ঘাটতি ঢাকতে সরকার যখনই ব্যাংকিং খাত থেকে দেদারসে টাকা ধার করছে, তখন বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রবাহ বা ক্রেডিট ফ্লো সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। এতে নতুন বিনিয়োগ বন্ধ হচ্ছে, কলকারখানার চাকা শ্লথ হচ্ছে এবং কর্মসংস্থান থমকে গিয়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।এই মহাসংকট থেকে উত্তরণের জন্য দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদরা একযোগে আমূল সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
এনবিআরের সাবেক প্রধান ড. আব্দুল মজিদ বলেন, অর্থনীতিতে টাকা নেই—এ কথা সত্য নয়। টাকা আছে, কিন্তু ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছে না বা অনেকে দিচ্ছেন না। এই কর ফাঁকি ও খেলাপি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সরকারকে অত্যন্ত স্বচ্ছ, কঠোর ও নির্মম পদক্ষেপ নিতে হবে।
সিপিডির পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশের কস্ট অব বরোয়িং বা অর্থ ধার করার খরচ বহুগুণ বেড়েছে। আগে আমরা যেসব সহজ শর্তে ও রেয়াতি সুদে ঋণ পেতাম, তা বন্ধ হয়ে এখন মিক্সড এপ্রোচ বা বাণিজ্যিক শর্তে কঠিন ঋণ নিতে হচ্ছে। যেসব প্রকল্প থেকে রিটার্ন আসবে না, সেখানে ঋণ নেওয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বর্তমানের মূল এজেন্ডা নির্ধারণ করে দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ যেন কোনোভাবেই দেউলিয়া হওয়ার বা ঋণ ফাঁদে পড়ার সীমানায় না যায়, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সরকারকে সমস্ত রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ ও রাজস্ব আদায়ের দিকেই পুরো শক্তি উজাড় করে দিতে হবে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, টুকরো টুকরো জোড়াতালি দিয়ে এই ক্ষত নিরাময় সম্ভব নয়। আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য, রেমিট্যান্স প্রবাহের গতি বৃদ্ধি, ভর্তুকির যৌক্তিকীকরণ এবং রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা—এই সবগুলোকে এক সুতোয় গেঁথে সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর সামগ্রিক চাপ কোথায় তা মূল্যায়ন করতে হবে। উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে শুধু টাকা নেওয়া নয়, তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সমন্বিত ও কাঠামোগত অর্থনৈতিক সংস্কার এখন সময়ের দাবি।
সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছেন আরও এক হাজার ৩০৩ জন রোগী। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত একদিনে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ১৯২ জন এবং ল্যাবে নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা ১১১ জন। সব মিলিয়ে একদিনে নতুন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩০৩ জনে। গত দুই মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর মোট সংখ্যা ৫৫ হাজার ৬১১ জনে পৌঁছেছে এবং এর মধ্যে সাত হাজার ৪১৬ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে।
চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যে জানানো হয়েছে, উল্লিখিত সময়ের মধ্যে সংক্রমণের ভয়াবহতায় ৪০ হাজার ১৭৬ জন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। এদের মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৫৫ জন।
ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের আর্থিক নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সম্ভাব্য জালিয়াতি এড়াতে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সম্প্রতি কিছু অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান সাধারণ প্লাস্টিক কার্ডকে আকর্ষণীয় মেটাল কার্ডে বদলে দেওয়ার প্রলোভন দেখাচ্ছে, যাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার রাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্টে এক বার্তার মাধ্যমে গ্রাহকদের এই বিষয়ে সচেতন করা হয়। কোনো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কার্ডের রূপ পরিবর্তন করা নিরাপত্তাগতভাবে চরম বিপদজনক হতে পারে।
সতর্কবার্তায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে যে, বর্তমানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে ‘কিছু অননুমোদিত তৃতীয় পক্ষের (থার্ড-পার্টি) প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের ডেবিট ও ক্রেডিট প্লাস্টিক কার্ডকে মেটাল কার্ডে রূপান্তরের প্রলোভন দেখাচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় গ্রাহকের কার্ড নম্বর, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, সিভিভি (CVV)-সহ সংবেদনশীল তথ্য উক্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে শেয়ার করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’ যেহেতু এসব প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যাংক বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্বারা অনুমোদিত নয়, তাই এর মাধ্যমে কার্ডের গোপনীয় তথ্য ফাঁস হয়ে জালিয়াতির আশঙ্কা প্রবল হয়। এছাড়া এতে অননুমোদিত লেনদেনের সম্ভাবনা বাড়ার পাশাপাশি গ্রাহকের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি এবং তথ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা সামগ্রিক কার্ড ব্যবস্থাপনাকেও সংকটে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সকলকে এই ধরনের ‘অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছে কার্ড সংক্রান্ত তথ্য প্রদানসহ প্লাস্টিক কার্ডকে মেটাল কার্ডে রূপান্তর করা থেকে সব গ্রাহককে বিরত থাকার অনুরোধ’ জানিয়েছে। যেকোনো কার্ড সংক্রান্ত সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অনুমোদিত চ্যানেল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের আর্থিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিলেও ব্যবহারকারীদের অসতর্কতার ফলে বড় বিপদ ঘটতে পারে। তাই ‘কোনো অবস্থাতেই ওটিপি বা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (011) কিংবা কার্ডের কোনো তথ্য কারও সঙ্গে শেয়ার’ না করার জন্য কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক কিছু পরিলক্ষিত হলে দেরি না করে তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য গ্রাহকদের বিশেষভাবে বলা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে একে একে একই পরিবারের পাঁচজনই মৃত্যুবরণ করেছেন। শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরিবারের সর্বশেষ সদস্য মা সায়মা (৩২) মারা যাওয়ার মাধ্যমে একটি সাজানো সংসার পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেল। রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা এই মর্মান্তিক পরিণতির কথা নিশ্চিত করেছেন।
বিস্ফোরণের সেই ভয়াল ঘটনার পর গত সোমবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে এই ট্র্যাজেডি সম্পন্ন হয়েছে। ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, গত সোমবার সকালে গৃহকর্তা মো. কালাম (৩৫) দগ্ধ হয়ে প্রথম প্রাণ হারান, যার শরীরের ৯৫ শতাংশই পুড়ে গিয়েছিল। এরপর বুধবার সন্ধ্যায় সাত বছর বয়সী শিশু কথা এবং বৃহস্পতিবার সকালে মুন্না ও দুপুরে মুন্নি (১০) মৃত্যুবরণ করে। চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের প্রত্যেকের শরীরের শ্বাসনালীসহ শরীরের বড় একটি অংশ দগ্ধ হয়েছিল। সর্বশেষ আজ শুক্রবার সকালে মা সায়মার মৃত্যুতে পরিবারটি অভিভাবক ও সন্তানহীন হয়ে পড়ল।
উল্লেখ্য, গত ১০ মে সকালে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, তিতাস গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে নির্গত গ্যাস ফ্ল্যাটের ভেতরে জমে ছিল, যা পরবর্তীতে কোনোভাবে আগুনের সংস্পর্শে এসে বিস্ফোরিত হয়। অবহেলা ও গ্যাস লিকেজের কারণে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার অবসরে গেছেন। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ডিএমপির নতুন ভারপ্রাপ্ত কমিশনারের দায়িত্ব পেয়েছেন অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ারের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এস এন নজরুল ইসলাম। চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় অবসরে যান মো. সরওয়ার।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী দায়িত্ব ছাড়ার পর সরকার নতুন কোনো কমিশনার নিয়োগ দেয়নি। ফলে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে মো. সরওয়ার ভারপ্রাপ্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
সূত্র আরও জানায়, বৃহস্পতিবার ছিল মো. সরওয়ারের চাকরিজীবনের শেষ কর্মদিবস। অবসরকালীন ছুটিতে যাওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এস এন নজরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত কমিশনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, নতুন সরকার গঠনের পর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক’ কারণ দেখিয়ে চাকরি থেকে ইস্তফা দেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর ডিএমপির ৩৮তম পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
বগুড়া পৌরসভা এবং এর সংলগ্ন সম্প্রসারিত এলাকাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে ‘বগুড়া সিটি করপোরেশন’ গঠনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় সরকার বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা ইতোমধ্যে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই নতুন সিটি করপোরেশনকে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের প্রথম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর এক সভায় গত ৭ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বগুড়া সিটি করপোরেশন গঠনের এই ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়। নবগঠিত এই সিটি করপোরেশনের সীমানা উত্তর দিকে নিশিন্দারা, রাজাপুর (অংশ) ও শাখারিয়া ইউনিয়ন; দক্ষিণে আশেকপুর, মাদলা ও মাঝিড়া ইউনিয়ন; পূর্ব দিকে সাবগ্রাম, রাজাপুর ও মাদলা ইউনিয়ন এবং পশ্চিম দিকে ফাঁপোড় ও এরুলিয়া ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে জনমতামত যাচাইয়ের জন্য বগুড়া জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। জেলা প্রশাসক নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং স্থানীয়দের মতামতের ভিত্তিতে নতুন এই সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার স্বপক্ষে ইতিবাচক প্রতিবেদন দাখিল করেন। সরকার সেই প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের এই স্বপ্ন পূরণের ফলে এলাকার নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।