সুন্দরবন বাঘ গণনার কাজ শেষ হয়েছে। এক হাজার ২০০টিরও বেশি ক্যামেরা ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে এই গণনা করা হয়। আগামী ৮ অক্টোবর বাঘের সংখ্যা প্রকাশ করা হবে।
পরিবেশ রক্ষাবিষয়ক সংগঠন বেলার খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়ক মাহফুজুর রহমান মুকুল বলেন, খুলনা ফরেস্ট অফিস ২০১৫ ও ২০১৮ সালের পর তৃতীয়বারের মতো সুন্দরবনের বাঘ গণনা শুরু করেছিল ২০২২ সালে। ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে তিন বছরে বাঘ গণনা ও সংরক্ষণবিষয়ক দুইটি মেগা প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে। আমরা জেনেছি বাঘের সংখ্যা সুন্দরবনে বেড়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ উন্নয়ন বেস্টের প্রধান নির্বাহী পরিচালক মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, আমরা এখন অপেক্ষায় আছি কবে ফলাফলটা পাব। আশা করি এবার বাঘ বাড়বে। বাঘ সুন্দরবনসহ প্রকৃতিকে রক্ষা করছে।
তিনি আরও বলেন, সচেতনতার কারণেই বাড়ছে বাঘের সংখ্যা। তবে প্রতি তিন বছর অন্তর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বাঘ গণনা না করে এই টাকা দিয়ে উপকূলীয় মানুষের উন্নয়নে কাজ করলে আরও উপকৃত হবে। প্রতি তিন বছর অন্তর বাঘ গণনা করার কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন না তিনি।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জাতীয় পরিষদ সদস্য ও বিভাগীয় সমন্বয়কারী আইনজীবী মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, প্রতি তিন বছর অন্তর বাঘ গণনার জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। এখানে বড় ধরনের অর্থ অপচয় হচ্ছে। বাঘ গণনার নামে লুটপাট হচ্ছে দেশের কোটি টাকা। এগুলো বন্ধ করতে হবে। সুন্দরবন বাঁচাতে ১০ বছর পর পর একবার গণনা করলে সুন্দরবনের উপর চাপ কমবে।
সুন্দরবন পশ্চিম বনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন বলেন, এর আগে বিশ্ব ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে বাঘ জরিপ হলেও, এ বছর দেশীয় প্রযুক্তি ও দেশের অর্থায়নে খুলনার চারটি রেঞ্জেই ক্যামেরার ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। এছাড়া ঝড়, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস থেকে বাঘকে রক্ষার জন্য বাঘের কেল্লা নির্মাণ করা হচ্ছে সুন্দরবনে। ২০১৫ সালের বাঘশুমারি অনুযায়ী, সুন্দরবনে বাঘ ছিল ১০৬টি। আর ২০১৮ সালের শুমারিতে ছিল ১১৪টি।
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেছেন, হজ আসন্ন, হজের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। হজে ক্ষেত্রে কেউ যদি বিন্দুমাত্র ব্যত্যয় ঘটান তাহলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার দ্বিধাবোধ করবে না। শুধু হজ নয়, সরকারি অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রেও যদি কেউ দায়িত্বে অবহেলা করে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ভালো অফিসার সাজা খুব সহজ। মন্ত্রী বা সচিবের হুকুম সঙ্গে সঙ্গে পালন করেই ভালো অফিসার সাজা সম্ভব। তবে এ ধরনের ভালো অফিসার সেজে অফিসের বা দেশের খুব একটা লাভ হয় না। এমন ভালো অফিসার সাজার কোনো মানে নেই। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও বেতনটাকে হালাল করার জন্য আপনাকে-আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেটা যথাযথভাবে পালন করতে হবে। আমরা যদি সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারি, দেশটাকে এগিয়ে নিতে পারি তাহলে দায়িত্ব পালন স্বার্থক হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আপনাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হবে কাজের মাধ্যমে। আপনারা যদি দেশ ও মন্ত্রণালয়ের জন্য ভালো কাজ করেন তাহলে খুশি হব। সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আপনারা যদি এক পা অগ্রসর হন, আমি আপনাদের দিকে তিন পা এগিয়ে আসব।
মন্ত্রী বলেন, আপনাদের একজন হিসেবে আপনাদের ব্যক্তিগত কোনো অসুবিধা থাকলে সেটা সরাসরি আমাকে বলতে পারেন। আমরা পরামর্শ করে কাজ করব। আমি আপনাদেরকে কোনো কাজের আদেশ করলে সেটা যদি বিধিসঙ্গত না হয়, তাহলে সেটা আমাকে বলতে হবে, এটা আইনবিরোধী, আমি খুশি হব।
এর আগে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিচিতি ও কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।
এ সময় ধর্মসচিব মো. কামাল উদ্দিন, হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আয়াতুল ইসলাম, প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. ইমতিয়াজ হোসেন, বাজেট ও অনুদান অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই এবং সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাইয়ের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণে নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয় এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
মন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধই দেশের স্বাধীনতার মূল ভিত্তি। মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্যান্য আন্দোলন-সংগ্রামকে এক করে দেখা উচিত নয়। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাজনৈতিক অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ইতিহাস ও চেতনার অপব্যবহারের কারণে তরুণ প্রজন্মের অনেকেই সঠিক ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধই এই রাষ্ট্রের জন্মের ভিত্তি, তা সবার মনে রাখা প্রয়োজন।
সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সদস্য এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চাঁদার দাবিতে একাধিক ব্যবসায়ীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়ভাবে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত ফারুক ওরফে কালা ফারুককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে হাতকড়া পরানো অবস্থায় তাকে নিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মাইকিং করা হয়।
আজ রোববার বিকেলে কেরানীগঞ্জ থানার কলাতিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মোহাম্মদপুর থানার বসিলা গার্ডেন সিটি ও আশপাশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ফারুক ও তার সহযোগীরা চাঁদার দাবিতে হুমকি দিতেন। সম্প্রতি এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করলে পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে তার হুমকি দেওয়ার একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি বলেন, ফারুক স্থানীয় চিহ্নিত চাঁদাবাজ। তাকে সামনে রেখেই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মাইকিং করা হয়েছে, যাতে অন্য সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দখলবাজরা সতর্ক হয়। অপরাধ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বসিলায় দোকান ও মার্কেটে চাঁদার দাবিতে হুমকির ঘটনা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ফারুক আত্মগোপনে যান। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর তীর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ ফারুককে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় মাইকিং করেন। প্রচারে তিনি বলেন, কেউ যেন চাঁদা না দেন এবং কোথাও চাঁদাবাজ দেখলে তাকে ধরে পুলিশকে খবর দেন।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় দুদিন বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বিষুবীয় ভারত মহাসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এটি দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে এবং পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
এদিকে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বিহার ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে।
আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকতে পারে। তবে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। এ সময় রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এদিন তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্য অংশে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকতে পারে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এদিন রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে।
দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রবর্তিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ রাখা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন। আজ রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। কার্ড বিতরণের পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সরকার তিন পর্যায়ের কঠোর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদ্ধতিতে স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় প্রশাসন পর্যন্ত নিবিড় নজরদারি রাখা হবে। এর ফলে প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে এই সুবিধা পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে এই প্রকল্পের অগ্রাধিকার ভিত্তিক রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, তালিকার শীর্ষে রাখা হবে দেশের হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে। কার্ডধারীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হবে এবং সে অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধার মাঝেও ভিন্নতা থাকবে। মূলত সমাজের একদম নিচের তলার মানুষ যেন রাষ্ট্রের এই সহায়তা থেকে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হয়, সেই দিকটিই এখন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রধান বিবেচ্য বিষয়। অতীতে এই ধরনের কর্মসূচিতে যেসব ত্রুটি ছিল, সেগুলো নিরসন করে একটি আধুনিক ও কার্যকর ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে।
ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে কেবল খাদ্য বা আর্থিক সহায়তা দেওয়াই নয়, বরং নারীদের ক্ষমতায়নের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, প্রতিটি পরিবারে নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনাই বর্তমান সরকারের এই মহতী উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে কার্ড বিতরণের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে এই কর্মসূচি একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। অসাধু উপায়ে কার্ড দখল বা স্বজনপ্রীতির মতো যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা রাষ্ট্রের সুফল ভোগ করবেন।
দেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের তৎপরতা চলতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে সব ইউনিটপ্রধান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপারদের সঙ্গে ভার্চুয়াল সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
আইজিপি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বা মাদকসংক্রান্ত অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মহাসড়কে ডাকাতি কঠোরভাবে দমন করতে হবে। এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা পুলিশকেও মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশনা দেন তিনি।
সভায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স প্রান্তে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকেরা উপস্থিত ছিলেন।
২০২৫ সালে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য মোট ১৪ লাখ ভিসা ইস্যু করেছে সৌদি সরকার। এর মধ্যে ৭ লাখ ৫০ হাজার কাজের ভিসা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি এই তথ্য জানান এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি আরবকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে ১৯৭৬ সালে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা হয়। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক সৌদি সফরের কথাও তুলে ধরেন এবং মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সৌদি নেতৃত্বের ভূমিকার প্রশংসা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও অন্যান্য অগ্রাধিকার খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনুরোধে ১৯৭৯ সালে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনে সৌদি আরবের সহায়তার বিষয়টি স্মরণ করেন তিনি। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য সৌদি আরবের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রশংসা করে মিয়ানমারে তাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে সমর্থন কামনা করেন।
সৌদি রাষ্ট্রদূত বর্তমান সরকারের প্রতি সমর্থন জানান এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত পর্যায়ে উন্নীত করতে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সৌদি আরবে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে দক্ষ ও আধা-দক্ষ শ্রমিকদের জন্য কাজের সুযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রতিমন্ত্রী সৌদি ভিশন ২০৩০-এর অধীনে সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। উভয়পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে দেশের অন্যান্য কোনো আন্দোলন বা সংগ্রামকে এক করে দেখা ঠিক হবে না। আজ রোববার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাজনৈতিক অপব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং চেতনার এত বেশি অপব্যবহার হয়েছে, যার ফলে বর্তমান তরুণ প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানা থেকে ব্যাপকভাবে বঞ্চিত হয়েছে। অসীম ত্যাগ ও তিতিক্ষার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধারা কীভাবে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছেন, তা নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছেই আজ অজানা রয়ে গেছে। রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদাকে সবসময় সমুন্নত রাখার প্রতি তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
এদিনের সভায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাই এবং মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের লক্ষ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এই মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী, জামুকার সদস্যবৃন্দ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। কোনো ধরনের বিকৃতি ছাড়াই আগামী প্রজন্মের কাছে একাত্তরের প্রকৃত বীরত্বগাথা পৌঁছে দিতে মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করছে বলে এই সভা থেকে সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়।
নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস দীর্ঘ ১৮ মাস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের পর আবারও তাঁর পুরোনো কর্মস্থলে ফিরেছেন। আজ রোববার সকালে তিনি রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত টেলিকম ভবনের ইউনূস সেন্টারে পৌঁছালে এক আবেগঘন ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সেখানে তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী, গ্রামীণ পরিবারের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং উপদেষ্টারা তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভ্যর্থনার মাধ্যমে বরণ করে নেন। রাষ্ট্রীয় গুরুদায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করে নিজের প্রিয় কর্মক্ষেত্রে ফিরে আসার এই খবরটি ড. ইউনূস নিজেই তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ছবিসহ দেশবাসীকে নিশ্চিত করেছেন।
ইউনূস সেন্টারে পৌঁছানোর পর ড. ইউনূস তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের সঙ্গে এক বিশেষ সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে তিনি গ্রামীণ পরিবারের বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বর্তমান গতিপ্রকৃতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন এবং দীর্ঘ বিরতির পর আবারও তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। উপস্থিত কর্মীরা তাঁদের প্রিয় ‘স্যার’কে আবারও কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের পর দেশের এক কঠিন সময়ে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশ এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে পায় এবং নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে তিনি তাঁর রাষ্ট্রীয় মিশনের সফল সমাপ্তি ঘটান।
ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পাশাপাশি ড. ইউনূস তাঁর আবাসস্থলেও আমূল পরিবর্তন আনছেন। বর্তমানে তিনি সরকারি বাসভবন যমুনায় অবস্থান করলেও চলতি মাসের শেষ নাগাদ তিনি স্থায়ীভাবে তাঁর গুলশানের নিজ বাসভবনে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এর আগে তিনি তাঁর ব্যবহৃত বিশেষ ‘লাল পাসপোর্ট’ বা কূটনৈতিক পাসপোর্টটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছেন, যা তাঁর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে সাধারণ নাগরিক জীবনে ফিরে আসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। নবনির্বাচিত সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও তাঁকে সম্মুখ সারিতে উপস্থিত থেকে নতুন প্রশাসনকে স্বাগত জানাতে দেখা গেছে।
২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এই বিশ্ববরেণ্য অর্থনীতিবিদের পুরোনো ঠিকানায় ফিরে আসা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁর সহকর্মীরা জানিয়েছেন, ড. ইউনূসের এই প্রত্যাবর্তনে গ্রামীণ পরিবারের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততা কাটিয়ে এখন তিনি আবারও তাঁর বিশ্বজনীন ‘থ্রি জিরো’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ) তত্ত্ব এবং সামাজিক ব্যবসার আন্তর্জাতিক প্রচার ও প্রসারে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন। সব মিলিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার অসামান্য অভিজ্ঞতা নিয়ে আবারও আপন ভূুবনে ফিরলেন এই প্রবীণ পথপ্রদর্শক।
বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচন আগামী ১৪ এপ্রিলের আগেই আয়োজনের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচিত হন তারেক রহমান। পরে ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধিত্বের সিদ্ধান্ত জানিয়ে কমিশনে ঘোষণাপত্র জমা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই দিন থেকে বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ৩টার দিকে কিডনি রোগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল। বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী ওই আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনের ফলাফলে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। জোটের শরিকদের তিনটি আসন যুক্ত হলে বিএনপি জোটের মোট আসন দাঁড়ায় ২১২। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৭৭টি আসন নিয়ে বিরোধী দলে রয়েছে।
পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বদলির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য দেন।
মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন ডাকবেন। সেই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার চূড়ান্ত হবে। এর পাশাপাশি অন্তর্বতী সরকারের শাসনামলের অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করা হবে।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, না— সে বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার পরে চূড়ান্ত করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
এদিকে শনিবার রাতে রাজধানীর আদাবরে ঘটে যাওয়া ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত থার্ড টার্মিনাল দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালুর জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই নির্দেশ প্রদান করেন। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই মেগা প্রকল্পটি জনস্বার্থে দ্রুত উন্মুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেশের আর্থিক ও প্রশাসনিক শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে অংশ নেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। বৈঠকে থার্ড টার্মিনালের বর্তমান কারিগরি অবস্থা এবং এটি চালুর পথে যে সমস্ত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে প্রকল্পটির ৯৯ শতাংশের বেশি কাজ সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও কেন এটি এতদিনেও সাধারণ যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়নি, তা নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়।
থার্ড টার্মিনাল চালুর সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আফরোজা খানম জানান, প্রধানমন্ত্রী কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিলেও এখনই কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, টার্মিনালটি সচল করার জন্য বর্তমানে প্রয়োজনীয় আলাপ-আলোচনা ও কারিগরি তদন্ত চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব উপায়ে প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রকল্পের কিছু অংশ সংস্কার বা পরিবর্তন এবং নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত যে সমস্ত কারিগরি জটিলতা ও সুপারিশ ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে, সেগুলো নিরসনে বর্তমানে নিবিড়ভাবে কাজ চলছে। নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মানের সেবার মান শতভাগ নিশ্চিত করেই এই টার্মিনালটি উন্মুক্ত করা হবে।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে প্রকল্পের স্থবিরতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী জানান, সে সময়ে কেন এটি চালু করা সম্ভব হয়নি সেই জবাবদিহিতা তৎকালীন প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের কাছে চাওয়া সমীচীন। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই প্রকল্পের সরাসরি তদারকি করছেন এবং জনভোগান্তি কমাতে তিনি দ্রুত এটি কার্যকর করতে চান। প্রশাসনিকভাবে এখন মূল লক্ষ্য হলো আগের সময়কার সমন্বয়হীনতা দূর করে কারিগরি ত্রুটিগুলো দ্রুত সারিয়ে নেওয়া। থার্ড টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে শাহজালাল বিমানবন্দরের যাত্রী ধারণ সক্ষমতা ও সেবার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
দেশের প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কার এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বিগত সরকারের সময় কেবল দুর্নীতির উদ্দেশ্যে যেসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল, সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে বাতিল করা হবে। অন্যদিকে, যে প্রকল্পগুলো প্রকৃতপক্ষেই জনমুখী এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে সহায়ক হবে, সেগুলো গুরুত্বের সাথে বাস্তবায়ন করা হবে। আজ রবিবার সকালে বরিশালের গৌরনদীতে ‘কাপলাতলী খাল’ পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনা এবং একটি সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নীতি-নির্ধারকদের একটি অংশ আমলাতন্ত্রকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে রাষ্ট্রের শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের ইউএনও অফিস, এমনকি বিবাহ নিবন্ধন অফিস পর্যন্ত দলীয় কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য চরম অবমাননাকর। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পুলিশের মতো জনবান্ধব একটি বাহিনীকে জনগণের কাছে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করা ছিল বিগত সরকারের সবচেয়ে বড় অপরাধ। পুলিশের ইউনিফর্মকে একটি বিশেষ দলের স্বার্থে ব্যবহার করে এর নিরপেক্ষ মর্যাদা নষ্ট করা হয়েছে।
মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন একটি শক্তিশালী ও পেশাদার আমলাতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, সরকার পরিবর্তনশীল এবং এটি কেবল পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় আসে। কিন্তু রাষ্ট্র চিরস্থায়ী এবং এটি দেশের সকল মানুষের। তাই রাষ্ট্রের সেবা নিশ্চিত করতে একটি নিরপেক্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক আমলাতন্ত্র থাকা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সেই বিকৃত ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রকে মুক্ত করে পুনরায় জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে চায়। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, ক্ষমতায় আসা বা না আসা জনগণের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে, তবে স্বচ্ছ নির্বাচনী ব্যবস্থার মাধ্যমেই ক্ষমতার পরিবর্তন হওয়া উচিত। নির্বাচনই ক্ষমতা হস্তান্তরের একমাত্র বৈধ পথ এবং সরকার এই ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বদ্ধপরিকর।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের পর অনেক মহল থেকে বাঁকা পথে বা ভিন্ন উপায়ে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। তবে বিএনপির অবস্থান ছিল স্বচ্ছ—নির্বাচন ছাড়া কোনোভাবেই ক্ষমতায় আরোহণ নয়। তারা জনগণের অধিকার ধ্বংস করে ক্ষমতায় যাওয়ার নীতিতে বিশ্বাসী নয়। ধর্মীয় অপব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, কিছু ধর্ম ব্যবসায়ী রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এবং নির্বাচনকে বিলম্বিত করতে ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তবে ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষ আর ধর্ম ব্যবসায়ীদের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। প্রকৃত ধর্মপ্রাণ মানুষ কখনো ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে না, কিন্তু ধর্ম ব্যবসায়ীরা নিজেদের হীন স্বার্থে সমাজ ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে দ্বিধা করে না।
সবশেষে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন একটি সুখী ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে। অতীতের সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির পথ পরিহার করে একটি জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা কায়েম করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। প্রকল্প উদ্বোধনের এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রীর এই দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।