বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৬ ফাল্গুন ১৪৩২

ঢাকা ছাড়লেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওয়ানা দেন আনোয়ার ইব্রাহিম। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৪ অক্টোবর, ২০২৪ ২০:০৯

সংক্ষিপ্ত সফর শেষ করে ঢাকা ছেড়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে বহনকারী বিমান মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

এর আগে দুপুরে সংক্ষিপ্ত সফরে ৫৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে ঢাকায় পৌঁছান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কোনো শীর্ষ নেতা হিসেবে ঢাকা সফরে এলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।

আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে ছিল মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ৫৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।


প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যেসব সুবিধা পাবেন তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর গতকাল মঙ্গলবার বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ দেড় দশক পর দেশের শাসনভার গ্রহণ করা নতুন এই প্রধানমন্ত্রীর বেতন, সরকারি ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিদ্যমান ‘দ্য প্রাইম মিনিস্টারস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০১৬’ অনুযায়ী নির্ধারিত আইনি কাঠামোর অধীনেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর যাবতীয় আর্থিক সুবিধা ও বিশেষ অধিকার ভোগ করবেন।

আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মাসিক ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা মূল বেতন পাবেন। এর বাইরেও বাড়িভাড়া বাবদ প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা ভাতার বিধান রয়েছে, যদিও প্রধানমন্ত্রী সাধারণত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন নির্ধারিত বাসভবনেই অবস্থান করেন। সে ক্ষেত্রে বাসভবনের যাবতীয় সাজসজ্জা ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ সরকার বহন করে। দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী যখন বিভিন্ন জেলায় বা দেশের অভ্যন্তরে সফরে থাকেন, তখন তিনি প্রতিদিন ৩ হাজার টাকা হারে দৈনিক ভাতা পাওয়ার অধিকারী হন। এই ভাতা মূলত তাঁর দাপ্তরিক ভ্রমণের খরচ মেটাতে প্রদান করা হয়।

আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর জন্য রয়েছে বিশাল অঙ্কের একটি স্বেচ্ছাধীন তহবিল। আইন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর অধীনে প্রতি বছর দেড় কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল বরাদ্দ থাকে, যা তিনি জনকল্যাণমূলক কাজে তাঁর পছন্দ অনুযায়ী ব্যয় করতে পারেন। এছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে বিমান ভ্রমণের সময় তাঁর জন্য ২৫ লাখ টাকার একটি বিমা কভারেজ নিশ্চিত করা থাকে। প্রধানমন্ত্রীর বিনোদন সংশ্লিষ্ট যাবতীয় ব্যয় এবং তাঁর কার্যালয় ও সরকারি বাসভবনের যাবতীয় ইউটিলিটি বিল যেমন—বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও টেলিফোন খরচ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে মেটানো হয়।

পরিবহন সুবিধার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়ে থাকেন। তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে সচিবালয় বা অন্য যেকোনো দাপ্তরিক গন্তব্যে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত যানবাহনের জ্বালানি ও চালকের বেতনসহ সকল ব্যয় সরকার বহন করে। কেবল প্রধানমন্ত্রী নন, তাঁর পরিবারের সদস্যদের জন্যও নির্দিষ্ট কিছু ব্যয় ভাতা হিসেবে পাওয়ার আইনি সংস্থান রয়েছে। গতকাল বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নেওয়ার পর থেকেই তারেক রহমান এই সকল রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও প্রটোকলের অধীনে চলে এসেছেন। আজ সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তাঁর এই রাজকীয় রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের আনুষ্ঠানিক সূচনা দেখা গেছে। নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি এখন থেকে দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদের এই মর্যাদা ও দায়িত্ব পালন করবেন।


দরিদ্র বাড়িয়ে বিদায় দারিদ্র্যের জাদুকরের, ৩০ লাখ নতুন দরিদ্র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশ্বখ্যাত দর্শন হলো ‘দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানো’। তবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ১৮ মাস দায়িত্ব পালন শেষে তিনি যখন বিদায় নিচ্ছেন, তখন দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা তাঁর এই দর্শনের ঠিক বিপরীত চিত্র ফুটিয়ে তুলছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এক বিশাল জনসমর্থন ও সংস্কারের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এলেও, ড. ইউনূসের শাসনামলে দেশে নতুন করে ৩০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন। অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের যে সুযোগ তিনি পেয়েছিলেন, তা কাজে লাগাতে তিনি চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিকে তিনি তাঁর সাফল্যের স্মারক হিসেবে তুলে ধরলেও এর নেপথ্যে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও উৎপাদন খাতকে সংকুচিত করার এক নেতিবাচক কৌশল ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

ড. ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনামলে অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি সূচকই ছিল নিম্নমুখী। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল বায়েসের মতে, একজন অর্থনীতিবিদ সরকার প্রধান হওয়ার পর প্রত্যাশা ছিল বিপর্যস্ত অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে, কিন্তু বাস্তবে ব্যবসায়িক আস্থায় ধস নেমেছে এবং শিল্প উৎপাদন মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর আমলে নতুন করে বিপুল সংখ্যক মানুষ দরিদ্র হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ছিল জিডিপির ২৪ শতাংশ, যা এক বছর পর ২০২৫ সালে ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমে আসে—যা গত চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সাথে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ড. ইউনূসের সরকার নির্বাচিত সরকারের জন্য ২৩ লাখ কোটি টাকার এক বিশাল ঋণের বোঝা রেখে গেছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য এক বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা ড. ইউনূসের আমলের অন্যতম কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট বিতরিত ঋণের প্রায় ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। গবেষণা সংস্থাগুলোর মতে, বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের এই হার বর্তমানে বিশ্বে সর্বোচ্চ। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের চিত্রটিও বেশ করুণ। ডিসেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতির হার যখন সাড়ে ৮ শতাংশ, তখন মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১ শতাংশের নিচে। অর্থাৎ, মানুষের আয় যে হারে বেড়েছে, খরচ বেড়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি। অথচ বিদায়ী ভাষণে ড. ইউনূস ৩৪ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভের পরিসংখ্যান দিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। গবেষকদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে এবং আমদানি কঠোরভাবে সংকুচিত করে সাধারণ মানুষকে চাপে ফেলে এই রিজার্ভ বাড়ানো হয়েছে, যা কোনো টেকসই সমাধান নয়।

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে প্রধান উপদেষ্টা পদের প্রভাব খাটিয়ে নিজের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তাঁর শাসনামলে গ্রামীণ ব্যাংকের কর মওকুফ এবং ব্যাংকে সরকারি শেয়ারের পরিমাণ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া গ্রামীণ ইউনির্ভাসিটির অনুমোদন, গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসের জন্য জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স এবং গ্রামীণ টেলিকমের ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর অনুমতি দ্রুততার সাথে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে থাকা শ্রম আইন লঙ্ঘন ও অর্থ পাচারের মামলাগুলো অত্যন্ত দ্রুততার সাথে খারিজ হয়ে যাওয়ায় বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। দায়িত্বরত অবস্থায় তিনি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সরাসরি কোনো সংবাদ সম্মেলন করেননি, যা তাঁর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অঙ্গীকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় ছিল তাঁর আমলে দেশে সৃজিত ‘মব কালচার’ বা বিশৃঙ্খল জনরোষ। বিভিন্ন গণমাধ্যম অফিসে আগুন দেওয়া, সংবাদকর্মীদের অবরুদ্ধ করা এবং ভিন্নমতের কারণে সাংবাদিকদের কারারুদ্ধ করার ঘটনা বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হয়েছে। তাঁর সরকারের অধীনে মাজার, মন্দির ও ধর্মীয় উপাসনালয় ভাঙচুর এবং ধর্মের দোহাই দিয়ে পিটিয়ে হত্যার মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি দেশের দীর্ঘ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের অমূল্য নথিপত্র এবং ভাস্কর্য বিনষ্টের সময়ও রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি নীরব ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বিশ্বব্যাপী যে ‘তিন শূন্য’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ) তত্ত্ব প্রচার করেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় এসে তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে পারেননি। বরং দারিদ্র্য ও বেকারত্ব উভয়ই বৃদ্ধি পাওয়ায় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, ড. ইউনূস তাঁর এই তত্ত্বের নৈতিক ভিত্তি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কতটা ধরে রাখতে পারবেন। বিদায়লগ্নে এই বিশাল ব্যর্থতা ও ঋণের বোঝা তাঁর ১৮ মাসের শাসনের এক ধূসর অধ্যায় হিসেবেই ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।


ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে ইসিকে চিঠি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ডামাডোল শুরু হয়েছে। দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মহানগরী—ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের আয়োজন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এর মাধ্যমে রাজধানী ও বাণিজ্যিক নগরীর অভিভাবক নির্বাচনের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো পৃথক চিঠিতে এই তিন সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়াদের বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালের ২ জুন, ফলে আইন অনুযায়ী গত বছরের ১ জুন এই সিটির পাঁচ বছরের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়েছে। একইভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালের ৩ জুন, যার মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের ২ জুন। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি এবং বর্তমান হিসাব অনুযায়ী আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি এই সিটির মেয়াদ পূর্ণ হতে যাচ্ছে।

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, কোনো সিটি করপোরেশনের প্রথম সভার তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর সেটির মেয়াদ গণনা করা হয় এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম—উভয় মহানগরের ক্ষেত্রেই মেয়াদের সেই সময়সীমা ইতোমধ্যে অতিক্রান্ত বা সন্নিকটে হওয়ায় দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, সরকারের এই চিঠিটি ইতোমধ্যেই কমিশনের হস্তগত হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে দ্রুতই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক সভা আয়োজন করা হবে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সংসদ নির্বাচনের পর এখন তাদের মূল মনোযোগ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। সে হিসেবে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাসিন্দারা বছরের মাঝমাঝি সময়ে নতুন জনপ্রতিনিধি বেছে নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে এবং তৎকালীন মেয়র ও চেয়ারম্যানদের একটি বড় অংশ আত্মগোপনে চলে যান অথবা পদত্যাগ করেন। সেই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১২টি সিটি করপোরেশনসহ দেশের অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছিল। বর্তমানে শুধুমাত্র ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া অন্য সব স্তরের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে আদালতের এক বিশেষ আদেশে বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপি নেতা ডা. শাহadat হোসেন। দীর্ঘ বিরতির পর এই তিনটি মেগাসিটিতে ভোটের ঘোষণা আসায় সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার কাঠামোতে গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত নেতৃত্বের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ঘটবে।


জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে তিনি স্মৃতিসৌধের মূল বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এই শ্রদ্ধা জানান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার শপথ গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি।

সাভারে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এক বিশেষ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এরপর তিনি মন্ত্রিসভার নবনিযুক্ত সদস্যদের সাথে নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে প্রধানমন্ত্রী শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল তাঁকে রাষ্ট্রীয় সালাম বা ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে এবং বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই প্রথম সফরকে কেন্দ্র করে স্মৃতিসৌধ ও এর আশপাশের এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। তাঁর সাথে এ সময় নবনিযুক্ত পূর্ণ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর গতকাল বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নেন তারেক রহমান। আজ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর প্রশাসনিক মেয়াদের প্রথম কার্যদিবসের সূচনা করলেন।

সাভারের কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ দিনভর তাঁর আরও বেশ কিছু শ্রদ্ধা নিবেদন ও দাপ্তরিক কর্মসূচি রয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার যে অঙ্গীকার তিনি শপথের পর করেছিলেন, জাতীয় স্মৃতিসৌধে এই শ্রদ্ধা নিবেদন তারই এক আনুষ্ঠানিক প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও নিরাপত্তা বজায় রাখতে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার এই সফরের মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো।


ড. ইউনূস যমুনা ছাড়ছেন কবে?

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে নতুন নির্বাচিত সরকার গঠিত হওয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের রাষ্ট্রীয় বাসভবন ত্যাগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের সাথে সাথেই ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রধান উপদেষ্টার পদটি বিলুপ্ত হয়। এর ফলে দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অবস্থানের পর এখন তিনি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই তিনি যমুনা ছেড়ে গুলশানে অবস্থিত তাঁর নিজস্ব বাসভবনে স্থায়ীভাবে ফিরে যাবেন।

গতকাল শপথ অনুষ্ঠানের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ছাড়াই সাধারণ নাগরিক হিসেবে যমুনা ভবনে ফিরে যান, যা ক্ষমতা হস্তান্তরের এক বিরল ও মার্জিত উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট এক কঠিন পরিস্থিতিতে দেশের হাল ধরেছিলেন এই নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ। টানা ৫৫৯ দিন দায়িত্ব পালন শেষে তিনি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করলেন। এখন থেকে তিনি তাঁর পূর্বের শিক্ষা ও গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডে পুনরায় মনোনিবেশ করবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে সরকারি একটি উচ্চপদস্থ সূত্র জানিয়েছে, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নতুন আবাসের জন্য রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাকেই প্রাথমিকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সেখানে প্রধানমন্ত্রীর স্থায়ী বসবাসের জন্য ভবনটিতে বেশ কিছু অবকাঠামোগত সংস্কার ও নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন। এই সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্তত দুই মাসের মতো সময় লাগতে পারে। সংস্কার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বর্তমান আবাসস্থল থেকেই দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় গুরুদায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পর ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংক ও তাঁর বিভিন্ন সামাজিক ব্যবসার প্রকল্পের কাজে যুক্ত হবেন। বিশেষ করে তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়’ বা গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি দেখভালের কাজে তিনি সরাসরি সময় দেবেন বলে ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, দেশের ১১৬তম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গত বছর মার্চ মাসে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছিল। দেড় বছরের এই শাসনকাল শেষে ড. ইউনূসের প্রস্থান এবং নতুন সরকারের আগমন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন গণতান্ত্রিক ধারার সূচনা করল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব পদে নিয়োগ পেলেন আব্দুস সাত্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মুখ্য সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রশাসনের অভিজ্ঞ ও সাবেক সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার। প্রশাসনের ৮২ ব্যাচের এই চৌকশ কর্মকর্তাকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ রফিকুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে এই নিয়োগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছর মেয়াদে এবিএম আব্দুস সাত্তার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, এই দায়িত্ব পালনকালে তিনি অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদ্যমান সব ধরনের কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগ করতে বাধ্য থাকবেন। তাঁর নিয়োগের অন্যান্য শর্তাবলি একটি পৃথক চুক্তিনামার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

এবিএম আব্দুস সাত্তার একজন সজ্জন, মেধাবী ও দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে প্রশাসনিক মহলে সুপরিচিত। রাষ্ট্র পরিচালনার শীর্ষ পর্যায়ের কাজের ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি থেকে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একান্ত সচিব হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এর আগে তিনি দীর্ঘ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব হিসেবেও কাজ করেছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কাজ করার ফলে তাঁর গভীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নতুন সরকারের নীতি নির্ধারণে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের পর আজ থেকেই নতুন সরকার পূর্ণ উদ্যমে কাজ শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব পদের এই নিয়োগ মূলত নতুন প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে একজন বিশ্বস্ত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বকে রাখারই একটি প্রতিফলন। আগামীকাল থেকে নবনিযুক্ত এই মুখ্য সচিব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁর দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করবেন বলে জানা গেছে। একই দিনে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস), সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ও প্রটোকল অফিসার পদেও নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের শীর্ষ নির্বাহী দপ্তরের প্রশাসনিক কাঠামোটি পূর্ণতা পেল।


নতুন মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন যারা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ৪৯ জন। তাদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ঘোষিত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে তিনজন টেকনোক্র্যাট কোটায় জায়গা পেয়েছেন।

বিএনপির দেওয়া তালিকায় দেখা গেছে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদকে এবং ভূমি ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে যথাক্রমে মিজানুর রহমান মিনু ও নিতাই রায় চৌধুরীকে।

আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়; সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়; ফকির মাহবুব আনামকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, শেখ রবিউল আলমকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরিফুল হক চৌধুরীকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; জহির উদ্দিন স্বপন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়; মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ পাচ্ছেন কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়; আফরোজা খানম বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

আসাদুল হাবিব দুলু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়; মো. আসাদুজ্জামান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়; জাকারিয়া তাহের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রীরা কে কোন দপ্তর পেলেন :

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত (এমপি) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়; অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (এমপি) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়; মো. শরিফুল আলম (এমপি), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়; শামা

ওবায়েদ ইসলাম (এমপি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়; সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (এমপি) কৃষি মন্ত্রণালয়; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও খাদ্য মন্ত্রণালয়; ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (এমপি) ভূমি মন্ত্রণালয়; ফরহাদ হোসেন আজাদ (এমপি) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়; মো. আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়; মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (এমপি) পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়; হাবিবুর রশিদ (এমপি) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়; মো. রাজিব আহসান (এমপি) রেলপথ মন্ত্রণালয় ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়; মো. আব্দুল বারী (এমপি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়; মীর শাহে আলম (এমপি) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (এমপি) অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়; ইশরাক হোসেন (এমপি) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়; ফারজানা শারমীন (এমপি) মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়; শেখ ফরিদুল ইসলাম (এমপি) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়; মো. নুরুল হক নুর (এমপি) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; ইয়াসের খান চৌধুরী (এমপি) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়; এম ইকবাল হোসেইন (এমপি) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়; এম এ মুহিত (এমপি) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়; আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর (এমপি) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়; ববি হাজ্জাজ (এমপি) শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম (এমপি) সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।


গণতন্ত্রের শুভ সূচনা, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাইয়ুম আহমেদ

বাবা জিয়াউর রহমান ছিলেন সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি। তার হাতে গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির হয়ে বেগম খালেদা জিয়া তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। এবার তাদের বড় ছেলে তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল জয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন। এর মধ্য দিয়ে তারেক রহমান এবং তার পরিবারের ঝুলিতে যুক্ত হলো নতুন এক রেকর্ড। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শুভ সূচনা হলো নতুন অধ্যায়ের, গণতন্ত্রের। বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার পর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি শপথ নেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ পাঠ করান। একই অনুষ্ঠানে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নেন। চব্বিশের গণঅভ্যূত্থানের দেড় বছর পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন যাত্রা শুরু হলো বাংলাদেশের। এর মধ্য দিয়ে দুই দশক পর আবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিল বিএনপি। আর তিন দশক পর নতুন একজন রাজনীতিবিদকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেল বাংলাদেশ।

রেওয়াজ ভেঙে বঙ্গভবনের বদলে এবারের শপথ অনুষ্ঠান হয় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় জাতীয় সংগীত এবং তারপর কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক রহমানের নাম ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

তারেক রহমান নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে প্রথমে সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের এবং তারপর গোপনীয়তার শপথ নেন। সব শেষে তিনি শপথের নথিতে স্বাক্ষর করেন।

নতুন প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন জানানোর পর মন্ত্রিপরিষদে জায়গা পাওয়া নেতাদের নাম ঘোষণা করা হয় এবং শপথ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়।

এরপর নতুন মন্ত্রীদের পর্যায়ক্রমে শপথ এবং গোপনীয়তার শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

সবশেষে প্রতিমন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করে তাদেরকে শপথগ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়ে মঞ্চে ডাকেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলামেলা এই শপথ অনুষ্ঠানে ১ হাজার ২০০ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন তার মেয়ে দীনা আফরোজকে সঙ্গে নিয়ে। উপদেষ্টাদের মধ্যে আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, চৌধুরী রফিকুল আববারকেও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেখা গেছে।

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, ভারতীয় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল, শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম বিষয়ক মন্ত্রী নালিন্দা জয়াসিতা, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মাসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, তিন বাহিনীর প্রধান, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকসহ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং তাদের মেয়ে জাইমা রহমান ও পরিবারের সদস্যরাওে উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে।

বিশ্বে অল্প কয়েকটি রাজনৈতিক পরিবার আছে, যাদের পরিববারের তিন সদস্য কোনো দেশের রাষ্ট্র কিংবা সরকারপ্রধানের গুরুদায়িত্ব সামলেছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক রহমানের আসীন হওয়ার মধ্য দিয়ে এই পরিবারগুলোর তালিকায় নাম লেখাল জিয়া পরিবারও।

তারেক রহমানের বাবা জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮১ সালে তারেক যখন কিশোর, তখন এক সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন জিয়াউর রহমান। এর পর থেকে খালেদা জিয়া দলের নেতৃত্ব দেন এবং ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সরকার গঠন করেন। বাংলাদেশের একাধিক সাধারণ নির্বাচনে একাধিক আসনে দাঁড়িয়ে কখনোই কোনোটিতে না হারার অনন্য রেকর্ড রয়েছে খালেদা জিয়ার দখলে। গত ৩০ ডিসেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেন।

জিয়াউর রহমান: ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অধিষ্ঠিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত জিয়াউর রহমান। সেনাপ্রধান হন তিনি। এরপর প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক করা হয় তাকে। বিএনপির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এ এস এম সায়েম পদত্যাগ করলে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান নিজে চেয়ারম্যান হিসেবে থেকে নতুন রাজনৈতিক দল বিএনপি গঠন করেন। ১৯৯১ সালের পর থেকে তার প্রতিষ্ঠিত দলটি এবার নিয়ে চারবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হলো। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে জিয়াউর রহমান নিহত হন।

বেগম খালেদা জিয়া: স্বামীর মৃত্যুর পর ১৯৮১ সালে দলের হাল ধরেন পুরোদস্তুর গৃহবধূ খালেদা জিয়া। দুই সন্তানকে নিয়ে তখন ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থান করছিলেন। সে সময় খালেদা জিয়া রাজনীতিতে যোগ দেন নেতাকর্মীদের আগ্রহে।

১৯৮২ সালের দলের প্রাথমিক সদস্য হওয়ার পর এক বছরের মাথায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন খালেদা জিয়া। ১৯৮৪ সালের নির্বাচিত হন দলীয় চেয়ারপারসন। সেই থেকে চার দশকের বেশি সময় ধরে তিনি বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজনীতিতে এসে রাজপথের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান খালেদা জিয়া। চষে বেড়ান দেশের নানা প্রান্ত। এর ফলও পান। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর তিনি তিন দফা সরকারপ্রধানের দায়িত্ব সামলেছেন।

তারেক রহমান: নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে তিনি দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের নেতা, দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির বিপুল বিজয় সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম সেরা রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন। গত বছর ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে লাখো জনতার সংবর্ধনা সমাবেশে তারেক রহমান তার একটি পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছিলেন। মার্কিন অধিকারকর্মী মার্টিন লুথার কিংয়ের ঐতিহাসিক উক্তির অনুকরণে বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান।’ নির্বাচনী প্রচারের সময় সারাদেশে তিনি সেই পরিকল্পনার কথাই বলে বেড়িয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে জনমত গঠন করেছেন, পাশাপাশি দলের তৃণমূলকেও সংগঠিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এই উত্থান গত তিন দশক ধরে দেশের রাজনীতিতে চলে আসা দ্বিমেরুকরণের দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাকে ভেঙে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ নির্বাসনে থাকা ৬০ বছর বয়সি তারেক রহমান ১৭ বছরের বেশি সময় পর দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পাঁচ দিনের মধ্যে তার মা বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর ১০ দিন পর দলের হাল ধরেন তারেক। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি দলকে সুসংগঠিত করতে বিরামহীন কাজ করেন। দেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন এবং নির্বাচনী সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চষে বেড়িয়েছেন দেশের বিভিন্ন জেলা। লাখো নেতাকর্মী আর সমর্থক তার প্রচারণায় অংশ নেন। টানা ৪০ দিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে দলকে তুলে দেন ক্ষমতার শীর্ষে। তারেক রহমান ১৯৬৭ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এর আগে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক উত্থান-পতনের একজন সাক্ষী ও অংশগ্রহণকারী। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়, যখন তার পিতা জিয়াউর রহমান বীরউত্তম বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং দেশকে স্বাধীন করার জন্য যুদ্ধ শুরু করেন, তখন তাকে, তার মা ও ভাইকে অন্য অনেক মুক্তিযোদ্ধা সামরিক কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়।

শৈশব ও কৈশোর ঢাকায় কাটানো তারেক রহমান ১৯৮৮ সালে ২২ বছর বয়সে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য হন। তবে দলীয় রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার আগে থেকেই তিনি এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে মায়ের সঙ্গে রাজপথে ছিলেন। ১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকারের পাতানো নির্বাচনের প্রাক্কালে স্বৈরাচারী সরকার তাকে তার মায়ের সঙ্গে গৃহবন্দি করে একাধিকবার।

২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ২০০২ সালের জুনে তাকে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব করা হয়। ২০০৫ সালে তিনি দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলনের আয়োজন করেন এবং বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলা ইউনিটের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এই সম্মেলনের সময় তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলা, স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করা এবং সমর্থকদের চিন্তাধারা শোনেন এবং জনগণের কাছে বিএনপির কর্মসূচি প্রচার করেন। তিনি কৃষকদের জন্য সরকারি ভর্তুকি, বয়স্কদের জন্য ভাতা, পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য প্লাস্টিক ব্যাগবিরোধী আন্দোলন এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি বিতরণ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করেন, যা স্কুলে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য কমিয়ে ভারসাম্য আনতে সহায়ক হয়। তিনি ব্যক্তিগতভাবে সম্মেলনে নিবন্ধনকারীদের অন্তত ১৮ হাজার চিঠির উত্তর দেন।

২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। অভিযোগ রয়েছে, ১৮ মাস কারাগারে থাকাকালে তিনি নির্যাতনের শিকার হন। ওই সময়ের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আদালতে হাজির করার সময় তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়েছিলেন। ২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট চিকিৎসার জন্য তিনি জামিন এবং ৩ সেপ্টেম্বর কারাগার থেকে মুক্তি পান। এর এক সপ্তাহ পর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান তিনি। সে সময় দেশে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছিল। প্রবাসে থাকাকালেই তিনি দলের নীতি-কৌশল ঠিক করতেন। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। এর মাঝে ২০১৫ সালে ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুতে ব্যক্তিগত শোক সইতে হয় তাকে। দীর্ঘ প্রবাস জীবন তারেক রহমানকে রাজনীতিতে আরও সহনশীল ও ধীর-স্থির করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার বিরুদ্ধে থাকা সকল মিথ্যা, উদ্দেশ্যমূলক মামলা ও দণ্ড বাতিল হলে দেশে ফেরার আইনি বাধা কাটে। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরলে তাকে বিপুল সংবর্ধনা দেওয়া হয়।


মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হলেন ১০ জন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ জনকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মন্ত্রী পদমর্যাদায় মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আর প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, জাহেদ উর রহমান, মাহাদি আমিন ও রেহান আসিফ আসাদকে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও নিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।


শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না বিএনপির সংসদ সদস্যরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জয়ী সংসদ সদস্যরা সরকারি সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার পর সংসদীয় দলের সভাকক্ষে বৈঠক করেছেন বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। শপথ নেওয়ার পর এই বৈঠক হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হয় বলে জানান শায়রুল কবির খান।

এর আগে বেলা পৌনে ১১টার কিছু আগে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থীরা। তাদের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। তবে তারা সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।


টেকসই জ্বালানি ও গ্রামীণ কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত, আনসার-ভিডিপি ও SREDA’র সমঝোতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের টেকসই জ্বালানি উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির মাধ্যমে সবুজ অর্থনীতির বিকাশে অবদান রাখতে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শ্রেডা অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং ‘Sustainable and Renewable Energy Development Authority (SREDA)’-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, আধুনিক ল্যাব স্থাপন এবং দক্ষ কর্মী গড়ে তোলার মাধ্যমে গ্রামীণ পর্যায়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরশীলতা জোরদার করাই এ অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন উপ-মহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. রফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রেডার চেয়ারম্যান ড. মো. মোজাফফ্ আহমেদ, পিএইচডি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন GIZ Bangladesh-এর প্রতিনিধি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রেডা-র সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক। বক্তারা জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই দক্ষ জনবল গঠন এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষে বক্তব্য প্রদানকালে উপমহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন ও জ্বালানি রূপান্তরের এ সময়োপযোগী উদ্যোগে অংশীদার হতে পেরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি গর্বিত।’

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের গ্রামীণ পর্যায়ে বিস্তৃত বিপুলসংখ্যক সদস্যকে দক্ষ ও উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের ক্ষেত্রে এ সমঝোতা স্মারক একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে এবং জাতীয় উন্নয়ন অভিযাত্রায় নতুন গতি সঞ্চার করবে।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ৬০ লাখ সদস্যের এ বাহিনী, যাদের প্রায় অর্ধেক নারী দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পাশাপাশি সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন, আয়বর্ধক কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে অধিকতর অবদান রাখার লক্ষ্যে বাহিনী ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। এ সমঝোতা সেই চলমান উন্নয়ন কর্মসূচিকে আরও সুসংহত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রদান করবে।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি দক্ষতাবিষয়ক বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ (ToT), পাইলট প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং এনএসডিএ অনুমোদিত আধুনিক ল্যাব স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে সৌর বিদ্যুৎ প্রযুক্তিবিদ, বয়লার অপারেটরসহ জ্বালানি খাতে দক্ষ কর্মী তৈরি করা সম্ভব হবে। ফলে বাহিনীর সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং প্রাতিষ্ঠানিক চাকরির সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হবে।

উপমহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) তার বক্তব্যে বাহিনীর মহাপরিচালক মহোদয়ের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি শ্রেডার নেতৃত্ব এবং Skills for Sustainable Energy Solutions (Skills4SE) প্রকল্পের মাধ্যমে জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। একই সঙ্গে জিআইজেড বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে এ উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি এ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণ সুবিধা প্রদান, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিতকরণ, উপর্যুক্ত প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন এবং সার্বিক সমন্বয় কার্যক্রমে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে। সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমে পরিকল্পিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আনসার-ভিডিপি কর্তৃপক্ষ মনে করে, ভবিষ্যতে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দেশব্যাপী সম্প্রসারণের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, নারী ক্ষমতায়ন জোরদার এবং দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের মাধ্যমে এ উদ্যোগ দেশের সবুজ প্রবৃদ্ধি কৌশলকে ত্বরান্বিত করবে। দীর্ঘমেয়াদে এ অংশীদারিত্ব টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জন, জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহতকরণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।


ধর্মমন্ত্রী হলেন ৬ বারের এমপি কায়কোবাদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা-৩ আসনে ষষ্ঠবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিনি শপথ গ্রহণ করেন। তাকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শপথ বাক্য পড়ান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে অর্ধ লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন তিনি।

নির্বাচনে কায়কোবাদ পেয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ২৫১ ভোট। অপরদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ইউসুফ সোহেল পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৫৯৯ ভোট।

এর আগে ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন কায়কোবাদ। ২০০২ সালের ৩ আগস্ট থেকে ২০০৩ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত তিনি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

নতুন সরকারে মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন যারা

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, আবু জাফর জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, আমিনুর রশিদ, আফরোজা রিতা, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, আসাদুল হাবিব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কায়সার সাখাওয়াত হোসেন, জাকির আলম, শেখ রবিউল আলম।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন যারা

এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. শরিফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ, মো. রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলম, মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (জুনায়েদ সাকি), ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, মো. নুরুল হক নুর (ভিপি নুর), ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।


ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, কম সিলেটে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন ৪৯ জন। নির্বাচনী আসন ও জন্মসূত্রে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগের-১৩ জন। বিপরীতে মাত্র দুজন পূর্ণ মন্ত্রী পেয়েছেন সিলেট বিভাগের বাসিন্দারা।

সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে চট্টগ্রাম বিভাগ-১১ জন। পাঁচজন করে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী রাজশাহী, রংপুর ও বরিশাল বিভাগের। খুলনা ও ময়মনসিংহে চারজন করে। নির্বাচনী আসন ও জন্মসূত্রে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা কে কোন বিভাগের তা নিচে তুলে ধরা হলো;

ঢাকা বিভাগ: খলিলুর রহমান (পররাষ্ট্র, টেকনোক্র্যাট), শামা ওবায়েদ ইসলাম (পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী) আফরোজা খানম রিতা (বেসামরিক বিমান ও পর্যটন), সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা), ফকির মাহবুব আনাম (ডাক ও টেলিযোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি), শেখ রবিউল আলম (সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন), শরিফুল আলম (বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী), সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (কৃষি ও মৎস্য প্রতিমন্ত্রী), আমিনুল হক (যুব ও ক্রীড়া-টেকনোক্র্যাট), হাবিবুর রশিদ (সড়ক ও সেতু প্রতিমন্ত্রী), ইশরাক হোসেন (মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী), ববি হাজ্জাজ (শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী) এবং আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম (সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী)।

সিলেট বিভাগ: খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির (বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট) এবং আরিফুল হক চৌধুরী (শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান)।


banner close