শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা

সুষ্ঠু নির্বাচন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার

# নির্বাচনের রোডম্যাপ জানতে চেয়েছে বিএনপি # জামায়াত চায় নির্বাচনের পাশাপাশি সংস্কারের রোডম্যাপ # আরও তিন জোট ও একটি দলের সঙ্গে বৈঠক
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে শনিবার দুপুরে যমুনায় সংলাপে বসে বিএনপির ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। এর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নতুন দফা রাজনৈতিক সংলাপ শুরু করল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ছবি: পিআইডি
আপডেটেড
৬ অক্টোবর, ২০২৪ ০০:০২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৬ অক্টোবর, ২০২৪ ০০:০২

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিশ্রুত ৬টি খাতে সংস্কার শুরুর আগে গতকাল শনিবার দ্বিতীয় দফায় দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল দুপুর আড়াইটায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে এর সূত্রপাত। পরে জামায়াতে ইসলামী, গণতন্ত্র মঞ্চ, ইসলামী ঐক্যজোট, গণতান্ত্রিক বাম জোট ও এবি পার্টির সঙ্গেও সংলাপ করেন তিনি। বৈঠক শেষে বেরিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে জানান, প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের বিষয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তিনি জানিয়েছেন, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক নম্বর অগ্রাধিকার।

ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে অংশ নেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সালাউদ্দিন আহমেদ। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল জানান, বৈঠকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে আগামী জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ জানতে চেয়েছে বিএনপি।

শনিবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংলাপ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সংলাপে নির্বাচন-সংস্কারের, রোডম্যাপ দিতে বলেছি। ইউনিয়ন পরিষদ বাতিলের দাবি জানিয়েছি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের কারণে বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি। জাতীয় পরিচয়পত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে দেওয়ার যে আইন করা হয়েছে বিগত সরকারের সময়ে, সেটিও বাতিল চেয়েছে বিএনপি। মির্জা ফখরুল বলেন, বিতর্কিত কোনো ব্যক্তি যাতে নির্বাচন সংস্কার কমিটিতে না থাকে, সেটিও তারা চেয়েছেন। ফ্যাসিবাদের সময় গঠিত সব ইউনিয়ন পরিষদ বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

বিএনপির মহাসচিব জানান, ২০১৪ সাল থেকে পরপর তিনটি বিতর্কিত ও ভুয়া নির্বাচন করেছে যেসব নির্বাচন কমিশন, সেই কমিশনগুলোর প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যদের আইনের আওতায় আনার কথা বলেছেন তারা। সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককেও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা মনে করি, বিচারপতি খায়রুল হক নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার মূল হোতা। কারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় দিয়ে এই বিচারপতি নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংসের মূল ভূমিকা পালন করেন। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছি রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অনেকে দোসর হয়ে কাজ করেছে এবং লুটপাট ও মানুষের ওপর নির্যাতনে সহায়তা করেছে। এ ছাড়া গুম-খুন ও গণহত্যায় সহায়তাকারীদের অনেকেই এখনো নিজ নিজ জায়গায় বহাল আছে, অবিলম্বে তাদের সরিয়ে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সেসব পদে নিয়োগ করার দাবিও তারা জানিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জেলা প্রশাসকদের নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাদের নিয়োগ বাতিল করতে বলেছি। চুক্তিভিত্তিক কিছু নিয়োগ বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মধ্যেও দুই-একজন আছেন যারা এই গণঅভ্যুত্থানের বিপ্লবের যে স্পিরিট, সেটাকে ব্যাহত করছেন, তাদের সরানোর কথা বলেছি।’

বিচার বিভাগের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বিচার বিভাগের হাইকোর্ট বিভাগে এখনো পরিবর্তন হয়নি, বেশির ভাগ নিয়োগ ছিল দলীয় ভিত্তিতে। এদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেছি। অতি দ্রুত পিপি ও জিপি নতুন নিয়োগের কথা বলেছি। তিনি বলেন, ‘যাদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তাদের জামিন দেওয়া হচ্ছে। এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টা আমরা দেখার জন্য বলেছি। ২০০৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের আমলে দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা গায়েবি, ভুয়া সাজানো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা প্রত্যাহারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি।’

কিছু আমলা কিছু পুলিশ কর্মকর্তা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তি এবং মন্ত্রীরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। কার সহযোগিতায় পালাচ্ছে সেই বিষয় সরকারকে দেখার কথাও উল্লেখ করেছেন বলে জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘আরেকটা বিষয় জোর দিয়ে বলেছি, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ভারতে আছেন। ভারতে থেকে তার মাধ্যমে যে সমস্ত প্রচারণা চলছে, এই বিষয়টাতে ভারতের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য; অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভারত সরকারের সঙ্গে কথা বলবে।’

এ ছাড়া গুম-খুনের সঙ্গে যারা জড়িত তারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে, জাতিসংঘের একটি দল এসেছে, তাদের সেভাবে সহযোগিতা করছে না, দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে কিছু মানুষ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উসকানি দিচ্ছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে-এসব প্রসঙ্গ সংলাপে তুলে ধরেছেন বলে জানান বিএনপির মহাসচিব। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে দুটি রোডম্যাপ চেয়েছে জামায়াত। বিএনপির সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংলাপে অংশ নিতে যমুনায় আসেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। ঘণ্টাব্যাপী ওই সংলাপ শেষে বেরিয়ে সেখানে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের জামায়াত আমির বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংলাপে সংস্কার ও নির্বাচন প্রশ্নে দুটি রোডম্যাপ চেয়েছে তার দল।

সংলাপে জামায়াতের পক্ষ থেকে সংস্কারকে এক নম্বর অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয় বলে জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সংস্কারের সময় কী হবে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা দুটি বিষয় চেয়েছি, একটা রোডম্যাপ হবে সংস্কারের, আরেকটা নির্বাচনের। সংস্কার সফল হলে নির্বাচন সফল হবে। দুটি বিষয়ে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির বলেন, ‘৯ অক্টোবর আপনাদের মাধ্যমে সংস্কারের ব্যাপারে আমাদের প্রস্তাবনাগুলো আমরা জাতির সামনে উন্মুক্ত করব। আমরা আমাদের চিন্তা জাতির সামনে তুলে ধরব কী কী সংস্কার এই মুহূর্তে প্রয়োজন, কী কী সংস্কার পরবর্তী পর্যায়ে আমাদের লাগবে।’ সরকার দেশ শাসনের জন্য আসেনি, দেশ শাসনের সুষ্ঠু পথ বিনির্মাণের জন্য তারা এসেছে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘সরকারের কাজ হচ্ছে, গত তিনটি নির্বাচনে জাতি বঞ্চিত হয়েছে। সে ক্ষেত্রে একটা গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা। এ জন্য কিছু মৌলিক বিষয়ে তাদের সংস্কার করতেই হবে। কী কী মৌলিক বিষয়ে তারা সংস্কার করবে—সংলাপে আমরা সেই বিষয়ে কথা বলেছি।’

শফিকুর রহমান জানান, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে কথা হয়েছে। জনগণ এবং সরকার একসঙ্গে কীভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে পারে; সব ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারে- সে বিষয়গুলো নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, বর্তমান যে সরকার আছে, তারা কোন ধরনের পক্ষ-বিপক্ষের মানসিকতা না নিয়ে, নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে দেশকে একটা ভালো পর্যায়ে নিয়ে নির্বাচন দিতে সক্ষম হবেন।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা শুরু থেকে বলে আসছিলাম সংস্কারের জন্য সরকারকে যৌক্তিক সময় দিতে চাই। সেই যৌক্তিক সময়টা কী হবে? এটা নিয়ে অচিরেই আমরা কাজ করব। এটা দেরি হবে না- এভাবে আমরা সামনে আগাতে চাই। দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখার জন্য করণীয় কী, এমন একটি প্রশ্ন এসেছিল। আমরা এই বিষয়ে আলোচনা করেছি।’ শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সংলাপে অংশ নেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, আ ন ম শামসুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম প্রমুখ। পরে একইদিনে গণতন্ত্র মঞ্চ, ইসলামী ঐক্যজোট, গণতান্ত্রিক বাম জোট ও এবি পার্টির সঙ্গেও সংলাপ করেন প্রধান উপদেষ্টা। এসব বৈঠকে দলগুলো সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে তাদের মনোভাব ও অবস্থান তুলে ধরে। তবে সবগুলো দল সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে প্রয়োজনীয় সময় দেবে বলে মত প্রকাশ করে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন উপদেষ্টা হাসান আরিফ, আদিলুর রহমান খান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম।


সমন্বিত নিরাপত্তা জোরদারে আনসার-বিসিবির চুক্তি

আপডেটেড ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:৫৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সদরদপ্তরে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং আনসার ও ভিডিপি’র মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের ক্রিকেট ভেন্যুগুলোতে সমন্বিত, আধুনিক ও পেশাদার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার একটি প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপিত হলো। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নিরাপত্তা জোরদার, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং বড় পরিসরের আয়োজন নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ গৃহীত হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ এবং বিসিবির এডহক কমিটির সদস্য ও সিকিউরিটি কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ।

মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, বিসিবির সঙ্গে আনসার ও ভিডিপির দীর্ঘদিনের কার্যকর সহযোগিতা এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে একটি সুসংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো লাভ করল।’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ক্রীড়াঙ্গনের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক, দক্ষ ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আনসার সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া আয়োজন নির্বিঘ্ন রাখতে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিসিবির এডহক কমিটির সদস্য এবং সিকিউরিটি কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ বলেন, ‘ক্রীড়াঙ্গনে নিরাপত্তা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল একটি বিষয়। ক্রিকেট ভেন্যু, খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা এবং দর্শকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা অপরিহার্য।’ তিনি জানান, এই চুক্তির আওতায় দেশের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে প্রশিক্ষিত আনসার সদস্য মোতায়েনের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করা হবে।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট ভেন্যুসমূহে নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে বরিশাল, বগুড়া, রাজশাহী, ফতুল্লা, পূর্বাচল, চট্টগ্রাম ও খুলনা—এই সাতটি স্টেডিয়ামে মোট ২৭২ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর আগে ঢাকার মিরপুর, কক্সবাজার এবং সিলেট—এই তিনটি স্টেডিয়ামে ১০৭ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য ইতোমধ্যে দায়িত্ব পালন করে আসছেন, যা এ উদ্যোগের ধারাবাহিকতা ও কার্যকারিতা নির্দেশ করে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ, বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিজাম উদ্দিন চৌধুরী এবং হেড অব সিকিউরিটি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামিম ফরহাদ (অব.)।

এই সমঝোতা স্মারক দেশের ক্রীড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজতর হবে, বিদেশি দল, কর্মকর্তা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন একটি নিরাপদ ও বিশ্বস্ত গন্তব্য হিসেবে আরও সুদৃঢ় অবস্থান অর্জন করবে। পাশাপাশি, বৃহৎ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি টেকসই, আধুনিক ও বিশ্বমানের নিরাপত্তা অবকাঠামো গড়ে ওঠার পথ সুগম হবে।


বোয়িংয়ের ১৪ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর করল বিমান

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। ছবি: সগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের এভিয়েশন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একযোগে ১৪টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের লক্ষ্যে মার্কিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সাথে চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি সম্পন্ন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশালাকার বাণিজ্যিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। বিমানের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই বিনিয়োগের পরিমাণ আনুমানিক ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের আকাশসেবা খাতের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক।

অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি এই চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "১৪টি উড়োজাহাজ কেনার এই চুক্তি দুই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং বিমানকে এমন একটি স্বল্পসংখ্যক এয়ারলাইন্সে পরিণত করেছে।" তিনি আরও জানান, নতুন ৭৮৭-১০ মধ্যপ্রাচ্য রুটে এবং ৭৮৭-৯ ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দীর্ঘ দূরত্বের রুটে ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি ৪টি ৭৩৭-৮ বিমান যুক্ত হওয়ায় বিমানের স্বল্প দূরত্বের রুট আরও আধুনিক হবে। এই আধুনিক উড়োজাহাজগুলো প্রায় ২০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং যাত্রীদের বিশ্বমানের ভ্রমণ সুবিধা নিশ্চিত করবে।

বাণিজ্য ঘাটতি সমন্বয়ের লক্ষ্যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে উড়োজাহাজ কেনার প্রাথমিক সমঝোতা করেছিল, যার ধারাবাহিকতায় এই চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হলো। চুক্তির আওতায় বিমান ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স বিমান সংগ্রহ করবে। এই বহরের প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের অক্টোবরে সরবরাহ করা হতে পারে এবং পর্যায়ক্রমে ২০৩৫ সালের মধ্যে সব কটি বিমান বিমানের বহরে যুক্ত হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, "এটি শুধু বিমান ও বোয়িংয়ের মধ্যে একটি ক্রয়চুক্তি নয়, বরং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্ব।" তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "নতুন উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বৈশ্বিক সক্ষমতা ও সংযোগ বাড়বে।" অনুষ্ঠানে বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ. হোসেন এবং ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত থেকে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিমানের এই আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক রুটে বাংলাদেশের সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য লন্ডন যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ফাইল ছবি
আপডেটেড ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:৪৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

হৃদরোগের চিকিৎসার পরবর্তী ফলোআপ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আগামী ৯ মে তিনি লন্ডনের উদ্দেশ্যে রাজধানী ঢাকা ত্যাগ করবেন। দাপ্তরিক একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই সফরের জন্য তিনি ইতোমধ্যে সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন লাভ করেছেন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বর্তমানে তাঁর এই সফর ঘিরে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

৭৬ বছর বয়সি রাষ্ট্রপতির এই বিশেষ সফরে তাঁর সঙ্গে থাকছেন সহধর্মিণী ডা. রেবেকা সুলতানা এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসকসহ ৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। লন্ডনের একটি বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে তাঁর শারীরিক পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে। দীর্ঘ এক সপ্তাহের এই সফর শেষে আগামী ১৭ মে রাষ্ট্রপতির দেশে ফেরার কথা রয়েছে। ইতিপূর্বে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে সিঙ্গাপুরে রাষ্ট্রপতির কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়েছিল। মূলত সেই অস্ত্রোপচারের পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবেই এই লন্ডন সফরের আয়োজন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতির এই সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তত্ত্বাবধান করছে।


সাবেক প্রেস সচিবের ভাই আব্দুল্লাহকে বদলি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রেস সচিব শফিকুল আলমের ভাই এবং বর্তমান স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে বদলি করে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বর্তমানে স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বদলির পর তার চাকরি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগে থাকার সময়েই চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি যুগ্ম সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পান আবু নছর। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গত বছর তাকে কিছুদিনের জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়।


ঢাকার প্রথম নারী এসপি হলেন শামীমা পারভীন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা জেলার প্রথম নারী পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পুলিশ অধিদফতরে কর্মরত শামীমা পারভীন। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের এআইজি (শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি) হিসেবে সর্বশেষ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে দায়িত্ব পালন করেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

২০০৬ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করা শামীমা পারভীন দীর্ঘ ১৮ বছরের কর্মজীবনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

ঢাকার ইতিহাসে প্রথম নারী পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের পেশাগত জীবনের অন্যতম বড় সাফল্য হাইতিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ১৩৯ জন পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত ফিমেল ফরমড পুলিশ ইউনিটের কমান্ডার হিসেবে নেতৃত্ব দেন।

এছাড়া তিনি ডিএমপির ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারে সহকারী কমিশনার হিসেবে নির্যাতিত নারী ও শিশুদের আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি এআইজি পদে থেকে পুলিশ সদস্যর সন্তানদের শিক্ষা ও ক্রীড়া বিষয়ক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

‘অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস স্কলারশিপ ২০২২’ অর্জন, সিডনির ম্যাকুয়ারি ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার অব কাউন্টার টেরোরিজম ও মাস্টার অব সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ডিগ্রি সম্পন্ন করেন শামীমা পারভীন।

তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রিমিনোলজিতে এমএসএস ডিগ্রি লাভ করেন। পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে তিনি ইতালির COESPU থেকে ‘প্রোটেকশন অব সিভিলিয়ান’ এবং সিডনি ইউনিভার্সিটি থেকে ‘উইমেন লিডারশিপ’ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

নড়াইল জেলার সন্তান শামীমা পারভীন বর্তমানে ঢাকার অফিসার্স ক্লাব এবং বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবে আছেন।

এদিকে সম্প্রতি ঢাকা জেলার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের উপসচিব ফরিদা খানমকে নিয়োগ দিয়ে গত ২২ এপ্রিল এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।


ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ব্যবহার করতে চাই না: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে সরকার ব্যবহার করতে চায় না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না। রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ধর্মকে ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও আমরা তা করিনি।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ কথাবলেন।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেসসচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ তথ্য জানান।

এসময় বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে একটি শুভেচ্ছা ক্রেস্ট এবং বুদ্ধমূর্তির প্রতিবিম্ব তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি পৃথিবীতে অনেক ধর্ম আছে।

প্রতিটি ধর্মেরই অসংখ্য অনুসারী রয়েছেন। প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে। প্রতিটি ধর্মেরই কিছু বিধিবদ্ধ নিয়মনীতি রয়েছে।

বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু মহামতি গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছিলেন।

এই পঞ্চশীল নীতি হলো প্রাণী হত্যা না করা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। প্রেম, অহিংস এবং সর্বজীবে দয়াও বৌদ্ধধর্মের শিক্ষা।

সরকারপ্রধান বলেন, যে কয়টি জিনিস এখানে অনুসরণের কথা বলা হয়েছে এই নির্দেশনা প্রতিটি মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয়, রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিক যার যার ধর্মীয় নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করলে সবাই মিলে একটি মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ নির্মাণ করতে পারবো।

বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আপনারা কেউ নিজেদের কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না।

রাষ্ট্র আমার আপনার আমাদের সবার পরিচয়। আমরা প্রত্যেকে, প্রত্যেক নাগরিক, সবাই ‘আমরা বাংলাদেশি’।


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের‌ সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শুভ বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে একটি শুভেচ্ছা ক্রেস্ট এবং বুদ্ধমূর্তির প্রতিবিম্ব তুলে দেন।

এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, পার্বত্য বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, পার্বত্য অঞ্চলের বিএনপি মনোনীত সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী মাধবী মারমা এবং ড. সুকোমল বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।


ধাপে ধাপে নিয়োগ পাবে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে অন্তত ১ শতাংশ বরাদ্দ বৃদ্ধির চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। একই সঙ্গে পর্যায়ক্রমে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার।

তিনি বলেন, আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে অন্তত ১ শতাংশ বরাদ্দ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্যখাতে জনবল সংকট মোকাবিলায় ধাপে ধাপে প্রায় ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসাকেন্দ্রিক স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা থেকে ধীরে ধীরে প্রিভেনশনকেন্দ্রিক স্বাস্থ্য-ব্যবস্থার দিকে এগোনোর প্রচেষ্টা চলছে, যাতে রোগ প্রতিরোধেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এছাড়া জরুরি টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে ধীরে ধীরে হামের প্রকোপ কমে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।


৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন করা হবে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন করা হবে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

বৃহস্পতিবার (৩০এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তরে তিনি এ কথা বলেন। সংসদের অধিবেশনের সভাপতিত্ব করছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার প্রশ্ন রেখে বলেন, বর্তমানে গাইবান্ধা জেলায় খাল খনন কর্মসূচির আওতায় কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে কি না; হলে, তা কী?

জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলায় খাল খনন/পুনঃখনন কার্যক্রম চলমান আছে।

তিনি বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় চলমান প্রকল্পের মাধ্যমে জুন ২০২৬ পর্যন্ত পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় সারা দেশে ১২০৪ কিলোমিটার এবং আগামি ৫ বছরে নতুন ও চলমান প্রকল্পের মাধ্যমে ২০,০০০ কি.মি. খাল খনন/পুনঃখনন করবে।

এছাড়াও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জুন ২০২৬ পর্যন্ত কাবিখা-কাবিটা-টিআর এর মাধ্যমে ১৫০০ কি.মি. খাল পুনঃখনন/সংস্কার করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় গাইবান্ধা জেলায় ৩টি খাল পুনঃখননের কাজ চলমান আছে এবং বৃহৎ পরিসরে খাল খননের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে।


মেট্রো রেলের নতুন এমডি শাওগাতুল আলম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. শাওগাতুল আলম। তিনি অতিরিক্ত সচিবের পদমর্যাদা পাবেন।

গতকাল বুধবার (২৯ এপ্রিল) উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলম স্বাক্ষরিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে ঢাকা নভোথিয়েটারের মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন মো. শাওগাতুল আলম।


ফের সক্রিয় ইউনূস আমলে কারামুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা

* অস্থির হয়ে উঠছে অপরাধ জগৎ * টিটন হত্যার নেপথ্যে আধিপত্য বিস্তার * হত্যা, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধের একাধিক মামলা ছিল টিটনের বিরুদ্ধে
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

প্রতিশোধ-প্রতিহিংসা আর আধিপত্য‍ বিস্তারের লড়াইয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে ইউনূস সরকারের আমলে কারামুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও অপরাধীদের সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য না থাকার সুযোগ নিচ্ছে তারা। তাদের অনেকেই এখন অপরাধ জগতে পুরো মাত্রায় সক্রিয়। তাদের কেউ কেউ সন্দেহ আর অবিশ্বাসের জগতে পুরনো হিসাব মেলাতে খাটাচ্ছেন মাথা। এতেই অস্থির হয়ে উঠেছে অপরাধ জগৎ। রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এই তথ্য সামনে এসেছে।

পুলিশ বলছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে হত্যা করা হয়েছে। তেবে যারা টিটনের হত্যায় জড়িত তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হ‌বে। এছাড়া, বি‌দে‌শে পা‌লি‌য়ে থাকা সন্ত্রাসী‌দের ফি‌রি‌য়ে আন‌তে প্রয়োজ‌নে ইন্টার‌পোলের সহায়তা নেয়া হবে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মি‌ডিয়া সেন্টা‌রে এক সংবাদ স‌ম্মেল‌নে এ তথ্য দেন ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম।

পুলিশ ও গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ৫২ বছর বয়সী টিটন ২০০১ সালে তৎকালীন সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর একজন ছিলেন। তিনি ২০ বছরেরও বেশি সময় কারাগারে কাটিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কারামুক্ত হন। মুক্তির পর তিনি ঢাকার রায়েরবাজার ও হাজারীবাগ এলাকায় পুনরায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে নিউমার্কেট ১ নম্বর গেট ও শহিদ শাহ নেওয়াজ হল সংলগ্ন রাস্তায় মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত টিটনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে সে গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা দুর্বৃত্তদের ধাওয়া করলে তারা আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে টিটনকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্থানীয়রা। সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় শীর্ষ ২৩ সন্ত্রাসীকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করে। এতে অপরাধীদের অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল। এরপর একই সরকারের আমলে ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করা পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট র‍্যাবের তৎপরতায় অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছিল, কেউ কেউ পালিয়েও গিয়েছিল। আবার সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অনেক সন্ত্রাসী প্রাণ বাঁচাতে নিরাপদ ঠিকানা হিসেবে কারাগারকেই বেছে নিয়েছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কারামুক্ত হয়ে ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে তারা। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কারামুক্ত হয় ৯০ দশকে তেজগাঁও এলাকার ত্রাস সুইডেন আসলাম, মিরপুরের আব্বাস আলী ওরফে কিলার আব্বাস, মোহাম্মদপুরের ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, হাজারীবাগ এলাকার খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন ও খোরশেদ আলম রাসু ওরফে ফ্রিডম রাসু। এ ছাড়া কারামুক্ত হয়ে হাজারীবাগ ও ধানমন্ডি এলাকার আতঙ্ক সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমন পাড়ি জমান বিদেশে। তাদের মধ‍্যে সুইডেন আসলাম নিষ্ক্রিয় থাকলেও অন্য সবাই সক্রিয়।

এর আগে শীর্ষ সন্ত্রাসীর তকমা মুছে কারামুক্ত হয় জোসেফ আহমেদ। দীর্ঘদিন তিনি ঢাকার অপরাধ জগতের একচ্ছত্র অধিপতি সেজে ছিলেন।

এসব সন্ত্রাসীর বেশিরভাগই এক থেকে দেড় যুগের বেশি সময় ধরে ছিল কারাগারে। এখনো কারাগারে আছে— এমন সন্ত্রাসীর কেউ কেউ মুক্তির জন্য জোর তদবির চালাচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরনো ও নতুন গজিয়ে ওঠা অপরাধীদের হালনাগাদ তথ‍্য নেই তাদের কাছে। কাজ চলছে নতুন তালিকা তৈরির।

তাদের দাবি, তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীর মধ্যে বড় অংশই এখন দেশের বাইরে। মারা গেছে কেউ কেউ। তাদের বাইরে যারা কারাগারে রয়েছে, তাদের বেশিরভাগই দুয়েকটি মামলা ছাড়া অন্যগুলোয় খালাস পেয়ে কিংবা জামিন নিয়ে কারাগারে অবস্থান করছিল। পরিবর্তিত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এখন তারা জামিনে বের হয়ে আসছে।

২০০১ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম প্রকাশ করে। তাতে নাম ছিল আব্বাস, হেলাল, টিটন ও রাসুর। এই চারজনসহ জামিনে বের হওয়া প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই হত্যা, হত্যাচেষ্টাসহ আরও মামলা রয়েছে। কোনো কোনো মামলায় তাদের সাজাও হয়। আবার কোনো কোনো মামলায় উচ্চ আদালত থেকে অব্যাহতিও পায় কেউ কেউ।

ঢাকার অপরাধ জগৎ নিয়ে কাজ করা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, বড় অপরাধীদের মামলা, জামিন, গ্রেপ্তার ও সামগ্রিক কার্যক্রমের ওপর পুলিশের বিশেষ শাখাসহ অন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সবসময় করত নজরদারি। তবে ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর কাঠামোয় ভঙ্গুর অবস্থা তৈরি হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা খুব সহজেই বের হয়ে আসে। তাদের ওপর কোনো নজরদারি ছিল না।

যদিও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলামের দাবি, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কেউ যাতে নতুন করে অপরাধে জড়াতে না পারে, তা নিশ্চিতে সক্রিয় তারা। তিনি বলেন, জামিনে বের হয়ে কেউ যেন নতুন করে অপরাধমূলক কাজে জড়াতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে আমাদের কঠোর নজরদারি রয়েছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী, গডফাদার বা যেকোনো পরিচয়েই হোক, অপরাধ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

কোনো অপরাধী কারামুক্ত হলে তাতে অপরাধের মাত্রা বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয় বলে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হকের মত, ‘শীর্ষ সন্ত্রাসীরা কারাগারে থেকেই নিয়ন্ত্রণ করত বাইরের অপরাধ। তাই জামিনে মুক্ত হলে তাদের অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়।’


সরবরাহ-সংকটের মধ্যেই বাড়ল সয়াবিন তেলের দাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক  

বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট ক্রমেই বাড়ছে। আগে যেখানে খুচরা দোকানগুলোতে থরে থরে সাজনো থাকতো বোতলজাত সয়াবিন তেল, সেখানে এখন হাতেগোনা কয়েকটি বোতল দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ডিলার পর্যায়ে অন্য পণ্য গ্রহণের শর্তে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে খোলা তেল নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় ভোক্তাদের অতিরিক্ত মূল্য গুনতে হচ্ছে। এই অবস্থার মধ্যেই বাড়ল দাম। প্রতি লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৫ টাকা থেকে ১৯৯ টাকা করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে ভোজ্যতেলের মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১ হাজার ৪০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ভোজ্যতেলের মূ ল্য পর্যালোচনা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও জানান, ভোজ্যতেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। নতুন এই মূল্য গতকাল বুধবার থেকেই কার্যকর হয়েছে।

এদিকে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সয়াবিন তেলের আমদানির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৪৮ হাজার টন, সেখানে এ বছর তা নেমে এসেছে ২ লাখ ৬১ হাজার টনে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী মাসে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দেশে ভোজ্য তেলের চাহিদা আরো বাড়বে। তাই এখনই সয়াবিন তেলের সরবরাহ সমস্যা দ্রুত সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বাড়লেও দেশে তা সমন্বয়ের জন্য সরকারকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র আমদানি পরিস্থিতি সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে সয়াবিন তেলের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত বছরের একই সময়ে যেখানে আমদানির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৪৮ হাজার টন, সেখানে এ বছর তা নেমে এসেছে ২ লাখ ৬১ হাজার টনে। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। তবে একই সময়ে পাম অয়েলের আমদানি প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পাম অয়েল আমদানি হয়েছিল ৪ লাখ ৫৯ হাজার টন, যা এ বছর একই সময়ে ৪ লাখ ৫৭ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। ফলে সয়াবিন তেলের ঘাটতি পাম অয়েল দিয়ে পূরণ হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৪ লাখ টন, যার প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানিনির্ভর। এই বাস্তবতায় আমদানি কমে যাওয়ার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও সয়াবিন তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১ হাজার ১৫৪ ডলার, যা ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে ১ হাজার ২৮২ ডলার এবং মার্চে ১ হাজার ৪৮২ ডলারে পৌঁছায়। ফলে আমদানিকারকদের ব্যয় আরো বেড়েছে।


সংবিধান সংশোধনে হচ্ছে ১৭ সদস্যের কমিটি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সংবিধান সংশোধনে ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে বলে সংসদকে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বিশেষ কমিটিতে সরকারি দলের ৭ জন এবং স্বতন্ত্র ও অন্য দল থেকে থাকবেন ৫ জন সদস্য। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, সংসদের রুল ২৬৬ অনুযায়ী ঠিক করা হয়েছে ১২ সদস্যের একটি প্রাথমিক তালিকা। এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি এবং স্বতন্ত্র সদস্যদের। এই ১২ জনের মধ্যে বিএনপি থেকে সাতজন এবং অন্য দল থেকে রাখা হয়েছে পাঁচজনকে।

বিরোধী দলের অনুপাত প্রায় ২৬ শতাংশ হওয়ায় তাদের পক্ষ থেকে চাওয়া হয়েছে পাঁচজনের নাম। বিরোধী দল যদি এই পাঁচজনের নাম দেয়, তাহলে মোট ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা সম্ভব হবে,’ বলছিলেন মন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিরোধী দল নাম দিলে পরদিনই কমিটি গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা যাবে এবং সংবিধান সংশোধন ও ‘জুলাই সনদ’-এর আলোকে কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

এ সময় স্পিকার বলছিলেন, ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে ১২ সদস্যের একটি তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং বিরোধী দলের কাছ থেকে চাওয়া হয়েছে পাঁচজনের নাম। এভাবে গঠন করা হবে ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি। বিরোধী দল দ্রুত তালিকা দিলে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এগোবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।


banner close