বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা

সুষ্ঠু নির্বাচন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার

# নির্বাচনের রোডম্যাপ জানতে চেয়েছে বিএনপি # জামায়াত চায় নির্বাচনের পাশাপাশি সংস্কারের রোডম্যাপ # আরও তিন জোট ও একটি দলের সঙ্গে বৈঠক
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে শনিবার দুপুরে যমুনায় সংলাপে বসে বিএনপির ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। এর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নতুন দফা রাজনৈতিক সংলাপ শুরু করল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ছবি: পিআইডি
আপডেটেড
৬ অক্টোবর, ২০২৪ ০০:০২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৬ অক্টোবর, ২০২৪ ০০:০২

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিশ্রুত ৬টি খাতে সংস্কার শুরুর আগে গতকাল শনিবার দ্বিতীয় দফায় দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল দুপুর আড়াইটায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে এর সূত্রপাত। পরে জামায়াতে ইসলামী, গণতন্ত্র মঞ্চ, ইসলামী ঐক্যজোট, গণতান্ত্রিক বাম জোট ও এবি পার্টির সঙ্গেও সংলাপ করেন তিনি। বৈঠক শেষে বেরিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে জানান, প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের বিষয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তিনি জানিয়েছেন, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক নম্বর অগ্রাধিকার।

ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে অংশ নেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সালাউদ্দিন আহমেদ। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল জানান, বৈঠকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে আগামী জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ জানতে চেয়েছে বিএনপি।

শনিবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংলাপ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সংলাপে নির্বাচন-সংস্কারের, রোডম্যাপ দিতে বলেছি। ইউনিয়ন পরিষদ বাতিলের দাবি জানিয়েছি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের কারণে বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি। জাতীয় পরিচয়পত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে দেওয়ার যে আইন করা হয়েছে বিগত সরকারের সময়ে, সেটিও বাতিল চেয়েছে বিএনপি। মির্জা ফখরুল বলেন, বিতর্কিত কোনো ব্যক্তি যাতে নির্বাচন সংস্কার কমিটিতে না থাকে, সেটিও তারা চেয়েছেন। ফ্যাসিবাদের সময় গঠিত সব ইউনিয়ন পরিষদ বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

বিএনপির মহাসচিব জানান, ২০১৪ সাল থেকে পরপর তিনটি বিতর্কিত ও ভুয়া নির্বাচন করেছে যেসব নির্বাচন কমিশন, সেই কমিশনগুলোর প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যদের আইনের আওতায় আনার কথা বলেছেন তারা। সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককেও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা মনে করি, বিচারপতি খায়রুল হক নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার মূল হোতা। কারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় দিয়ে এই বিচারপতি নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংসের মূল ভূমিকা পালন করেন। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছি রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অনেকে দোসর হয়ে কাজ করেছে এবং লুটপাট ও মানুষের ওপর নির্যাতনে সহায়তা করেছে। এ ছাড়া গুম-খুন ও গণহত্যায় সহায়তাকারীদের অনেকেই এখনো নিজ নিজ জায়গায় বহাল আছে, অবিলম্বে তাদের সরিয়ে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সেসব পদে নিয়োগ করার দাবিও তারা জানিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জেলা প্রশাসকদের নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাদের নিয়োগ বাতিল করতে বলেছি। চুক্তিভিত্তিক কিছু নিয়োগ বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মধ্যেও দুই-একজন আছেন যারা এই গণঅভ্যুত্থানের বিপ্লবের যে স্পিরিট, সেটাকে ব্যাহত করছেন, তাদের সরানোর কথা বলেছি।’

বিচার বিভাগের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বিচার বিভাগের হাইকোর্ট বিভাগে এখনো পরিবর্তন হয়নি, বেশির ভাগ নিয়োগ ছিল দলীয় ভিত্তিতে। এদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেছি। অতি দ্রুত পিপি ও জিপি নতুন নিয়োগের কথা বলেছি। তিনি বলেন, ‘যাদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তাদের জামিন দেওয়া হচ্ছে। এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টা আমরা দেখার জন্য বলেছি। ২০০৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের আমলে দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা গায়েবি, ভুয়া সাজানো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা প্রত্যাহারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি।’

কিছু আমলা কিছু পুলিশ কর্মকর্তা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তি এবং মন্ত্রীরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। কার সহযোগিতায় পালাচ্ছে সেই বিষয় সরকারকে দেখার কথাও উল্লেখ করেছেন বলে জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘আরেকটা বিষয় জোর দিয়ে বলেছি, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ভারতে আছেন। ভারতে থেকে তার মাধ্যমে যে সমস্ত প্রচারণা চলছে, এই বিষয়টাতে ভারতের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য; অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভারত সরকারের সঙ্গে কথা বলবে।’

এ ছাড়া গুম-খুনের সঙ্গে যারা জড়িত তারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে, জাতিসংঘের একটি দল এসেছে, তাদের সেভাবে সহযোগিতা করছে না, দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে কিছু মানুষ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উসকানি দিচ্ছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে-এসব প্রসঙ্গ সংলাপে তুলে ধরেছেন বলে জানান বিএনপির মহাসচিব। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে দুটি রোডম্যাপ চেয়েছে জামায়াত। বিএনপির সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংলাপে অংশ নিতে যমুনায় আসেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। ঘণ্টাব্যাপী ওই সংলাপ শেষে বেরিয়ে সেখানে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের জামায়াত আমির বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংলাপে সংস্কার ও নির্বাচন প্রশ্নে দুটি রোডম্যাপ চেয়েছে তার দল।

সংলাপে জামায়াতের পক্ষ থেকে সংস্কারকে এক নম্বর অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয় বলে জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সংস্কারের সময় কী হবে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা দুটি বিষয় চেয়েছি, একটা রোডম্যাপ হবে সংস্কারের, আরেকটা নির্বাচনের। সংস্কার সফল হলে নির্বাচন সফল হবে। দুটি বিষয়ে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির বলেন, ‘৯ অক্টোবর আপনাদের মাধ্যমে সংস্কারের ব্যাপারে আমাদের প্রস্তাবনাগুলো আমরা জাতির সামনে উন্মুক্ত করব। আমরা আমাদের চিন্তা জাতির সামনে তুলে ধরব কী কী সংস্কার এই মুহূর্তে প্রয়োজন, কী কী সংস্কার পরবর্তী পর্যায়ে আমাদের লাগবে।’ সরকার দেশ শাসনের জন্য আসেনি, দেশ শাসনের সুষ্ঠু পথ বিনির্মাণের জন্য তারা এসেছে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘সরকারের কাজ হচ্ছে, গত তিনটি নির্বাচনে জাতি বঞ্চিত হয়েছে। সে ক্ষেত্রে একটা গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা। এ জন্য কিছু মৌলিক বিষয়ে তাদের সংস্কার করতেই হবে। কী কী মৌলিক বিষয়ে তারা সংস্কার করবে—সংলাপে আমরা সেই বিষয়ে কথা বলেছি।’

শফিকুর রহমান জানান, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে কথা হয়েছে। জনগণ এবং সরকার একসঙ্গে কীভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে পারে; সব ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারে- সে বিষয়গুলো নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, বর্তমান যে সরকার আছে, তারা কোন ধরনের পক্ষ-বিপক্ষের মানসিকতা না নিয়ে, নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে দেশকে একটা ভালো পর্যায়ে নিয়ে নির্বাচন দিতে সক্ষম হবেন।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা শুরু থেকে বলে আসছিলাম সংস্কারের জন্য সরকারকে যৌক্তিক সময় দিতে চাই। সেই যৌক্তিক সময়টা কী হবে? এটা নিয়ে অচিরেই আমরা কাজ করব। এটা দেরি হবে না- এভাবে আমরা সামনে আগাতে চাই। দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখার জন্য করণীয় কী, এমন একটি প্রশ্ন এসেছিল। আমরা এই বিষয়ে আলোচনা করেছি।’ শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সংলাপে অংশ নেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, আ ন ম শামসুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম প্রমুখ। পরে একইদিনে গণতন্ত্র মঞ্চ, ইসলামী ঐক্যজোট, গণতান্ত্রিক বাম জোট ও এবি পার্টির সঙ্গেও সংলাপ করেন প্রধান উপদেষ্টা। এসব বৈঠকে দলগুলো সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে তাদের মনোভাব ও অবস্থান তুলে ধরে। তবে সবগুলো দল সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে প্রয়োজনীয় সময় দেবে বলে মত প্রকাশ করে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন উপদেষ্টা হাসান আরিফ, আদিলুর রহমান খান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম।


স্বল্পতম সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী মীরপুরে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি স্বল্পসময়ের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক ব্রিফিংয়ে একথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত করে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, বাকি বিচারের দায়িত্ব আইন বিভাগের। আমরা আশা করি স্বল্পতম সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল করা হবে। সংক্ষিপ্ত সময়ে বিচারিক প্রক্রিয়াও শেষ হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় বিচার বিলম্ব হয়, এটা আদালতের বিষয়। তনু হত্যাসহ বিভিন্ন মামলায় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সংক্ষিপ্ত সময়ে দৃষ্টান্তমূলক বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হবে। আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখার জন্য যা যা করার, সবই চেষ্টা করছেন বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


পাসপোর্টে ফের যুক্ত হচ্ছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশি পাসপোর্টে আবারও যুক্ত হচ্ছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ (Except Israel) শব্দবন্ধ। ছয় বছর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাদ দেওয়া হয়। এখন এই শব্দবন্ধ পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি সরকার।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতি, জনমত এবং ফিলিস্তিন ইস্যুর প্রতি সংহতি রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশ সংবাদ বিশ্লেষণ

এর আগে গত বছরের ৭ এপ্রিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দেওয়া এক চিঠিতে আগের মতো বাংলাদেশি পাসপোর্টে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি পুনর্বহালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল। তবে সে সময় কূটনৈতিক পাসপোর্ট ছাড়া সাধারণ পাসপোর্টে এটি বড় পরিসরে কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এবার বর্তমান সরকার সব ধরনের পাসপোর্টের ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকরের উদ্যোগ নিয়েছে।

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পাসপোর্টের বেশ কিছু বিষয় পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এপ্রিল এবং চলতি মে মাসের শুরুতে একাধিক বৈঠক করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের শীর্ষ মহল থেকে এই পরিবর্তনের বিষয়ে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে প্রিন্ট হওয়া নতুন পাসপোর্টে এই শব্দবন্ধ যুক্ত করা হবে। তবে পুরোনো পাসপোর্টধারীদের জন্য আপাতত কোনো জটিলতা তৈরি হবে না। বিদ্যমান পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা নবায়নের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এই নতুন সংস্করণের পাসপোর্ট পাওয়া যাবে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্ট পরিষেবা চালু করার সময় পাসপোর্ট থেকে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি বাদ দেওয়া হয়েছিল। এর আগে বাংলাদেশের প্রচলিত পাসপোর্টে লেখা থাকত, ‘এই পাসপোর্ট বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ, ইসরাইল ছাড়া’। ই-পাসপোর্ট থেকে এটি বাদ পড়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন মহল থেকে লেখাটি পুনর্বহালের দাবি উঠে আসছিল।


সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে ১৪ হাজার কোটি টাকা

* দুর্যোগে কোণঠাসা প্রান্তিক মানুষকে টেনে তোলাই লক্ষ্য   * বাস্তবায়নের পথে কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি * একটি টাকাও যেন অপচয় না হয়, নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

অঞ্চলভিত্তিক দুর্যোগ প্রান্তিকের মানুষকে আরও বেশি প্রান্তিকে ঠেলে দেয়। কর্মহীন করে চাপ বাড়িয়ে ঠেলে দেয় শহরের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে। এ অবস্থায় সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীতে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে সাড়ে তিন কোটিরও বেশি মানুষ। এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সুরক্ষা দিতে ও কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো সরকারের ‘ফ্ল্যাগশিপ’ উদ্যোগ।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বাজেটে সাধারণ মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতা বাড়ানোর বিষয়ে বিশেষভাবে আগ্রহী ছিলেন। তারই ইচ্ছায় অর্থমন্ত্রীকে নিয়ে সম্প্রতি এক জরুরি বৈঠক হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী এই বৈঠকে দেশের দরিদ্র, প্রান্তিক ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য সামাজিক সুরক্ষা জালকে আরও শক্তিশালী করার কৌশলগত দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে আসন্ন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা খাতে মোট বরাদ্দ ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বরাদ্দের (১ লাখ ১৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা) চেয়ে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকা বেশি। এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য হতে যাচ্ছে গর্ভাবস্থা থেকে শুরু করে বার্ধক্য পর্যন্ত মানুষের জীবনের প্রতিটি স্তরে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

বৈঠকে জানানো হয়, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এবার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বিশেষ সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা হিসাবে আলাদাভাবে ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এই অর্থ মূলত তৃণমূল পর্যায়ে সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যবহৃত হবে। বৈঠকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি এর কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আসন্ন বাজেটে দুটি বড় ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি দেশব্যাপী বড় পরিসরে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এগুলো হচ্ছে-ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড। এ ছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্মানী-দেশের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় এবং তৃণমূলের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের জন্য সম্মানী কাঠামোর বরাদ্দও এই বিশেষ তহবিল থেকে দেওয়া হবে।

এ ছাড়া খাল খনন কর্মসূচি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সামাজিক নিরাপত্তা খাতের একটি টাকাও যেন অপচয় বা অনিয়মের কবলে না পড়ে। ফ্ল্যাগ কর্মসূচির বাইরে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং আহতদের মাসিক কার্যক্রম ভাতার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বিগত বছরের তুলনায় এবার বাজেটে খাতটির ১৮টি ক্যাটাগরিতে উপকারভোগী ১ কোটি বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৬৩ লাখ মানুষ। বরাদ্দ বাড়ছে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী, বয়স্কভাতা। প্রধান কর্মসূচিতে ফ্ল্যাগশিপ ছাড়াও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, দারিদ্রতার সীমানায় থাকা মানুষকে কর্মসংস্থানে জড়িত রাখা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, শিক্ষা উপবৃত্তি ছাড়াও উচ্চশিক্ষায় সুযোগ সৃষ্টি, মাতৃত্বকালীন ভাতা, ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তাকে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অর্থাৎ মানবসম্পদ তৈরির পরিকল্পনা থাকছে মোটাদাগে।

ঢাবির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ‘যে মানুষগুলো সত্যিকার অর্থে সমস্যায় জর্জরিত, তাদের চিহ্নিতকরণ করা হচ্ছে না ভালোভাবে। যে কারণে সামাজিক নিরাপত্তায় যে পরিমাণ অর্থ বণ্টন হচ্ছে, তার অর্ধেক বণ্টনই ভুলভাবে করা হচ্ছে।’

বিশালাকার ঋণ আর স্থবির অর্থনীতি নিয়ে শুরু করা বছরে অবকাঠামো থেকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদ কাজে লাগানোর ওপর জোর বিশ্লেষকদের।

অর্থনীতিবিদ ও বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘৬০ থেকে ৭০ শতাংশের বেশি খরচ করা যায় না। সরকার বড় করে যদি সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য, তাদের বাড়ি, গাড়ি কেনার জন্য ব্যয় করে তাহলে তো হবে না। প্রোডাক্টিভ পারপাসে এটাকে ব্যয় করতে হবে।’


হামের টিকার সংকট নিয়ে ১০ বার সতর্ক করা হয় অন্তর্বর্তী সরকারকে

হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি ও চলমান প্রতিরোধ কার্যক্রমবিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স। ছবি: ইউনিসেফের সৌজন্যে
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে গত বছর দীর্ঘদিন ধরে হামের রুটিন টিকার সংকট ছিল বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। সংস্থাটি বলছে, ২০২৪ সাল থেকে তারা অন্তর্বর্তী সরকারকে টিকার সংকট নিয়ে অন্তত ১০ বার সতর্ক করেছিল; কিন্তু পর্যাপ্ত টিকা না থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠে।

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর ইউনিসেফ বাংলাদেশ কার্যালয়ের জেপিজি কনফারেন্স রুমে আয়োজিত হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি ও চলমান প্রতিরোধ কার্যক্রমবিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ১৭ দশমিক ৮ মিলিয়ন বা ১ কোটি ৭৮ লাখ হামের টিকা আসে, যা মোট চাহিদার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। দেশে বছরে প্রায় ৭ কোটি হামের টিকার প্রয়োজন হলেও দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত রুটিন টিকা পাওয়া যায়নি।

ইউনিসেফ জানায়, টিকার ঘাটতি নিয়ে ২০২৪ সাল থেকে অন্তত ১০টি বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি পাঁচ থেকে ছয়টি আনুষ্ঠানিক চিঠিও দেওয়া হয়। শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দীর্ঘদিন রুটিন টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত থাকায় অনেক শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়। ফলে দেশে হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে চলতি বছরের মে মাসে দেশে আবার হামের রুটিন টিকা আসতে শুরু করেছে। এখন দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের আওতায় আনা এবং আক্রান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীরা।

ইউনিসেফের ভাষ্য, হামের মতো অত্যন্ত সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন হওয়া উচিত নয়। সময়মতো পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতেও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ‘কোনো মহামারি রাতারাতি ঘটে না। কিছু বিশেষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়, বিশেষ করে টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুর রহমানের দাবি—ইউনিসেফ তৎকালীন সরকারকে হামের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে সতর্ক করেনি—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রানা বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমার কাছে সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ নেই। তবে তদন্তে বিষয়টি নিশ্চিত হবে। আমরা ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ-ছয়টি চিঠি পাঠিয়েছি, যার মধ্যে শেষ চিঠিটি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে পৌঁছেছিল।’

রানা আরও বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের জন্য বারবার চাপ দিয়েছি। আমি ও আমার সহকর্মীরা অন্তত ১০ বার বৈঠকে বলেছি যে—আমরা টিকার সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন। দেশে টিকা আনতে না পারলে সমস্যা তৈরি হবে, এটি স্পষ্ট ছিল।’

গত দুই বছরে বাংলাদেশে টিকার সংকট ছিল কি না—এমন প্রশ্নে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ‘আমরা ২০২৪ সালেই টিকার সংকটের পূর্বাভাস দিয়েছিলাম। এটি পরবর্তী দুই বছরে বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করেছিলাম।’

ইউনিসেফের প্রতিনিধি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব থেকে শিক্ষণীয় অনেক বিষয় রয়েছে। এখন কাউকে দোষারোপ করার কিছু নেই। এখন এমনভাবে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এই দেশের কোনো শিশু প্রতিরোধযোগ্য রোগে মারা না যায়।’

টিকা কেনার প্রক্রিয়া নিয়ে রানা বলেন, ‘আমরা যা যা কিনি, তার জন্য জনসম্মুখে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান সবচেয়ে স্বচ্ছ পদ্ধতি। তবে টিকার ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন, কারণ, এটি একটি অত্যন্ত বিশেষায়িত পণ্য। এখানে আপনি শুধু এক লাখ মানুষের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক কিনছেন না, আপনার লক্ষ্য অনেক বড়সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানো। আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে, আপনার কাছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) অনুমোদিত টিকা আছে। তাই আপনি সবচেয়ে সস্তা টিকার পেছনে ছুটবেন না। আপনি সেই টিকাই নেবেন, যেটার কার্যকারিতা প্রমাণিত এবং যার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তাই ইউনিসেফ বহু বছর আগে বিশ্বের জন্য টিকা সংগ্রহ ও বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।’

ইউনিসেফ প্রতিনিধি বলেন, ‘আমরা বিশ্বের অধিকাংশ দেশের পক্ষ থেকে টিকা সংগ্রহ করি। টিকা প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে আমাদের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এবং তাদের মান নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়। যেহেতু আমরা অনেক বেশি পরিমাণে কিনি, তাই আমরা দামে সাশ্রয় করতে পারি। ইউনিসেফ যে দামে টিকা পায়, তারচেয়ে কম দামে দরপত্র পাওয়া সম্ভব নয়, আমরা তা জানি।’


রাজস্ব ঘাটতি ছাড়াল ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অস্থিরতা ও নানা সংকটে চলছে রাজস্ব আহরণ। এর ফলে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আহরণ হচ্ছে না। দিন দিন বাড়ছে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ। ইতোমধ্যে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) সরকারের রাজস্ব ঘাটতি ছাড়াল এক লাখ চার হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা। বুধবার (২০ মে) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার লাখ ৩১ হাজার ৪৬১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। আয়কর, মূসক (ভ্যাট) ও শুল্ক মিলিয়ে আদায় হয়েছে তিন লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম আহরণ হয়েছে এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা।

অপরদিকে, রাজস্ব ঘাটতি থাকলে রাজস্ব আহরণ প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ৬০ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছিল দুই লাখ ৯৫ হাজার ৬০০ কোটি ৭৩ টাকার। চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে শুল্ক, মূসক ও আয়করে খাতগুলোতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে শুল্কে ৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ, মূসক বা ভ্যাটে ১১ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ ও আয়করে ১১ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের এপ্রিলে রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৫ হাজার ৬০৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, আহরণ হয়েছে ৩৯ হাজার ৬০ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ৩৬ হাজার ৬০৪ কোটি ৩০ লাখ টাকার রাজস্ব আহরণ হয়েছিল। সে হিসাবে এপ্রিলে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। এপ্রিলে শুল্কে ১৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ, আয়করে ১৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, তবে ভ্যাটে প্রবৃদ্ধি হয়নি। এতে নেগেটিভ প্রবৃদ্ধি হয়েছে তিন দশমিক ১৭ শতাংশ।


গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রক্রিয়ায় একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেবে না সরকার: তথ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘দেশে একটি কার্যকর ও স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রক্রিয়ায় সরকার নিজের পক্ষ থেকে কোনো একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেবে না। এ পর্যন্ত অর্জিত সব ধরনের আলোচনা, প্রস্তাবনা এবং ডকুমেন্টকে ধারণ করেই সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হবে।’

বুধবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট’-এর সহায়তায় এবং ‘বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন’ আয়োজিত এক সেমিনারে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

সেমিনারে ‘পিআইএমএইচই’ প্রকল্পের আওতায় ‘নীতি সংস্কার থেকে সংবাদকক্ষের কর্মপদ্ধতি পর্যন্ত শিক্ষা ও আদান-প্রদান’ শীর্ষক মূল বিষয়ের ওপর বিস্তারিত প্যানেল আলোচনা হয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি সরকার প্রধানের সঙ্গেও সংবাদপত্রের মালিক সমিতি এবং সম্পাদক পরিষদের জ্যেষ্ঠ নেতাদের এ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, গণমাধ্যম কমিশন ও তথ্য কমিশনসংক্রান্ত এ পর্যন্ত যত কাজ করা হয়েছে, সেগুলোকেই আমরা প্রথমে আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করছি। সেটাকে হাতে নিয়েই একটা পরামর্শ কমিটি গঠন করা হবে। এই পরামর্শ কমিটির সুপারিশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সব অংশীজন, গণমাধ্যম অ্যাসোসিয়েশন এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে আবারও আলোচনা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম কমিশন গঠনের এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় পূর্বের কোনো ভালো উদ্যোগ বা নথিপত্রকে বাদ দেওয়া হবে না, বরং সবটুকুই ভবিষ্যৎ কাজের মূল ভিত্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’

সেমিনারে এক প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বিশ্বজুড়েই গণমাধ্যম কমিশন গঠনের চমৎকার সব দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে রয়েছে। আধুনিক সভ্যতায় গণমাধ্যম হচ্ছে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। রাষ্ট্রের অন্যান্য স্তম্ভগুলোকে জনগণের পক্ষ থেকে একটি গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার মধ্যে রাখতেই এই স্তম্ভের নৈতিক উপস্থিতিকে সবাই মেনে নিয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যম জগতটা কেবল সরকারের একার নয়, এটি এই জগতের সবারই একটি সম্মিলিত বিষয়। সে ক্ষেত্রে সরকার একদিকে যেমন অন্য সবার মতো সমান সমান অংশীদার, অন্যদিকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই কাজটা সম্পন্ন করার জন্য একটি ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করবে মাত্র। আমাদের মূল লক্ষ্য জনগণের জন্য তথ্যের একটি সুস্থ ও অবাধ প্রবাহ উপস্থাপন করা।’

সেমিনারে উপস্থিত আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদার ও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সারা পৃথিবীতেই এই ধরনের কমিশন গঠনের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ রয়েছে। আমাদের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদার ও দেশীয় সহযোগী সংগঠনগুলো এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় সরকারের ‘‘সহযাত্রী’’ হিসেবে কাজ করবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান কামাল আহমেদ এবং ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) চেয়ারম্যান ও যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম আহমেদ।


গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি: বৃহস্পতিবার কলকাতায় বাংলাদেশ-ভারত বৈঠক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারত-বাংলাদেশ ৯০তম যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক শুরু হচ্ছে কলকাতায়। বৃহস্পতিবার (২১ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে তিন দিনের এ বৈঠক শুরু হবে। চলবে আগামী শনিবার (২৩ মে) পর্যন্ত। আলোচনায় বাংলাদেশ থেকে যোগ দেবেন ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশের জয়েন্ট রিভার কমিশনের সদস্য মহম্মদ আনোয়ার কবির। এ ছাড়া আছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাউথ এশিয়া উইংয়ের ডিরেক্টর মহম্মদ বাকি বিল্লাহ।

ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা কেন্দ্রের জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের এক যুগ্ম সচিব এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দপ্তররের একজন চিফ ইঞ্জিনিয়ারের।

যৌথ নদী কমিশনের এবারের বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরণ ইস্যু। ১৯৯৬ সালে হওয়া গঙ্গার জল বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। তার আগে এটাই সর্বশেষ যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক।

বৈঠকে যোগ দিতে বুধবার (২০ মে) বিকেলেই কলকাতায় পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বৈঠকের শুরুতেই তারা যাবেন মুর্শিদাবাদে। সেখানে বৈঠকের ফাঁকেই ফারাক্কায় নেমে গঙ্গা নদীর পানি পরিমাপ করবেন তারা। পরের দিন শুক্রবার (২২ মে) তারা ফিরে আসবেন কলকাতায়। কলকাতায় শুক্র ও শনিবার একটি অভিজাত হোটেলে হবে বৈঠক।


আগামী বছরের জুনের মধ্যে ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাবে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেছেন, ‘আগামী বছরের জুনের মধ্যে ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে গ্যাস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে সরকার কাজ করছে। এর মধ্যে সরকার চারটি নতুন কূপ খননের কাজ শুরু করেছে। এই চার কূপের গ্যাস উত্তোলনের মাধ্যমে আগামী বছরের জুনের মধ্যে ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে।’

বুধবার দুপুরে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার কামতা গ্যাস ফিল্ডে মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম এসব কথা বলেছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন করে চারটি কূপের গ্যাস উত্তোলনের মাধ্যমে আগামী বছরের জুনের মধ্যে ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারব। এটি শুরু করতে পারলে যেসব কারখানা গ্যাসের অভাবে উৎপাদনের জন্য বসে আছে, বসে থাকা কারখানাগুলোকে আমরা গ্যাস সরবরাহ করতে পারব, যার মাধ্যমে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হবে। অপর দিকে জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর যে চাপ তৈরি হচ্ছে, সে চাপটাও কমে আসবে। এই প্রকল্প উদ্বোধনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকার বাংলাদেশের জনগণকে এই বার্তা দিতে চায়, আমরা আস্তে আস্তে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে এনে স্বাবলম্বী হব। মূল লক্ষ্য হচ্ছে, সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।’

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, ‘সরকার যদি অতিরিক্ত গ্যাস আমদানি করতে চায়, সে ক্ষেত্রে অসুবিধা আছে। যে অবকাঠামো আছে, সেটি ধারণক্ষমতার চেয়ে কম আছে।’

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ বা জ্বালানির দাম বাড়বে কী কমবে, সেটি বলার অবস্থায় আমরা নেই। বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়।’

আবাসিকে গ্যাস-সংযোগ দেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিতে এবং পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা। অগ্রাধিকার তালিকায় আমাদের পাওয়ার প্ল্যান্ট, শিল্প, এরপর আসবে হাউসের কাস্টমার।’

প্রসঙ্গত, কামতা গ্যাসক্ষেত্রটি গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। ১৯৮৪ সালে কামতা-১ কূপে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়ে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত মোট ২১ দশমিক ১০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়। ক্ষেত্রটির মোট উত্তোলনযোগ্য গ্যাস মজুত প্রায় ৬৬ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ঘনফুট, যার মধ্যে অবশিষ্ট উত্তোলনযোগ্য মজুতের পরিমাণ প্রায় ৪৪ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ঘনফুট বলে বিবেচনা করা হয়েছে।


জাবি ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা অভিযুক্তকে ধরতে অর্ধলক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত বহিরাগতকে ধরিয়ে দিতে বা তার সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে পারলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।​

প্রশাসনের ঘোষণায় বলা হয়েছে, সঠিক তথ্যদাতাকে নগদ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। যদি কেউ সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত হওয়া অভিযুক্ত ব্যক্তিকে চিনে থাকেন অথবা তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানেন, তবে তাদের দ্রুত ০১৭১৪০১২৩১৫ অথবা ০১৭২৭২৬৫৯৩৫ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১২ মে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলের পাশের রাস্তায় এক নারী শিক্ষার্থীকে টেনেহিঁচড়ে অন্ধকারে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করে এক বহিরাগত যুবক। এ সময় চিৎকার শোনে কয়েকজন পথচারী শিক্ষার্থী উপস্থিত হলে ওই ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে অভিযুক্ত ব্যক্তি বহিরাগত। এ ঘটনায় পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাত পরিচয়ে একজনকে আসামি করে মামলা করা হয়।

ঘটনার ৮ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


আরইবির কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

আপডেটেড ২০ মে, ২০২৬ ২২:১৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) সদর দপ্তরের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় গত মঙ্গলবার বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘বাংলাভিশন’-এর সংবাদকর্মী মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে বোর্ডের নিরাপত্তাকর্মীদের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আরইবি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করাসহ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্ণিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


পল্লবীতে উচ্ছেদ অভিযানে হামলায় আহত ৭ পুলিশ সদস্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর পল্লবীর বাউনিয়াবাধ এলাকায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের দখল হওয়া সরকারি জমি উদ্ধার অভিযানে গিয়ে স্থানীয়দের হামলার মুখে পড়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যরা। এ ঘটনায় অন্তত সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

বুধবার সকাল ১০টা থেকে কালসী স্টিল ব্রিজ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আবদুল বাতেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য অংশ নিয়েছেন।

মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জাতীয় গৃহায়নের দখল করা জায়গা উচ্ছেদ করতে গেলে একপর্যায়ে স্থানীয়রা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

তিনি বলেন, ‘দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয়রা অতর্কিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। আহতদের চিকিৎসার জন্য রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

দুপুরের বিরতির পর আবারও উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলেও জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, পল্লবী থানা সেকশন-১১ বাউনিয়াবাধ এলাকায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বস্তিবাসীদের জন্য নির্মিত ৫৩৩ ফ্ল্যাট প্রকল্পের পশ্চিম পাশে অধিগ্রহণ করা সরকারি জমি এবং পুনর্বাসন জোনের তিন রাস্তার ওপর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ চলছিল। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও উৎসুক জনতা উচ্ছেদে বাধা দেয়। পরে তারা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রাণ বাঁচাতে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যদের দৌড়ে সরে যেতে দেখা যায়।

সূত্রটি আরও জানায়, হামলায় প্রাথমিকভাবে পাঁচজন পুরুষ ও দুইজন নারী পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসার জন্য রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বস্তিঘর, গ্যারেজ, ভাঙারির দোকান, মাদক স্পট ও রাজনৈতিক ক্লাব গড়ে তুলে প্রায় ৫০ বিঘা সরকারি জমি দখল করে রাখা হয়েছিল।


বনশ্রীতে মাদ্রাসার বাথরুমে মিলল শিশুর মরদেহ, জখমের চিহ্ন রয়েছে পায়ুপথে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এবার রাজধানীর রামপুরা বনশ্রী এলাকার একটি মাদ্রাসার বাথরুম থেকে মো. আব্দুল্লাহ (১০) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার পায়ুপথে জখমের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে রামপুরা থানা পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে বনশ্রী সি ব্লকের তিন নম্বর রোডে আলোকিত কোরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসার তৃতীয় তলার বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় আব্দুল্লাহর মরদেহ। এরপর ময়নাতদন্তের জন্যও মরদেহটি বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায় পুলিশ।

রামপুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে মাদ্রাসার তৃতীয় তলার বাথরুমে গামছা পেচানো ঝুলন্ত লাশটি উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে কোথাও কোনো জখমের চিহ্ন না থাকলেও পায়ুপথে অস্বাভাবিক। তাকে বলাৎকার করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।


২৩ দিন পর পাওয়া গেল নিখোঁজ সেই এসআইকে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যারাক থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়ার ২৩ দিন পর রাজধানীর কলাবাগান থানার এসআই রাকিবুল হাসান সরকারকে (৩২) সরকারি কর্মজীবী হাসপাতালে চিকিৎসা অবস্থায় পাওয়া গেছে। বুধবার সকালে তাকে খুঁজে পাওয়ার তথ্য দিয়েছেন কলাবাগান থানার ওসি ফজলে আশিক।

তিনি বলেন, ‘আমরা ভোরে গুলিস্তানের কাছে সরকারি কর্মজীবী হাসপাতালে তার অবস্থান জানতে পেরে তাকে উদ্ধার করি।’

রাকিবুল হাসান গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাপতা গ্রামের মাইজ উদ্দিন সরকারের ছেলে। তিনি থানা পুলিশের জন্য নির্ধারিত ব্যারাকে থাকতেন। রাত্রিকালীন দায়িত্ব পালনের কথা বলে গত ২৯ এপ্রিল রাকিবুল হাসান ব্যারাক থেকে বের হন।

পরদিন ওসি ফজলে আশিক বলেছিলেন, ‘মঙ্গলবার এসআই রাকিবের রাত্রিকালীন ডিউটি ছিল। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে একবার সাদা পোশাকে ব্যারাক থেকে বের হন। চা খেয়ে আবার ব্যারাকে ঢোকেন। নাইট ডিউটি আছে বলে রাত পৌনে ৮টার দিকে আবার সাদা পোশাকে ব্যারাক থেকে বের হন।

তারপর থেকে তার খোঁজ নেই। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় জিডি করা হয়েছে এবং সারা দেশের সব থানায় আমরা বার্তা দিয়েছি।’

পরিবারের সদস্যরাও এসআই রাকিবের কোনো খোঁজ জানেন না বলে তথ্য দিয়েছিলেন ওসি ফজলে আশিক।

বুধবার রাকিবকে খুঁজে পাওয়ার বিষয়ে ওসি বলেন, ‘সরকারি কর্মজীবী হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানে থাকা লোকজন থানায় খবর দেন। তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’

ওসি ফজলে আশিক বলেন, ‘দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার সময় খাওয়া-দাওয়া অনিয়মিত হওয়ায় এবং শরীর দুর্বল হওয়ায় গোপনে সরকারি কর্মজীবী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন রাকিবুল।’

নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে এসআই রাকিব ঢাকায় ছিলেন এবং বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে রাত্রিযাপন করেছেন বলে জানা গেছে। ওসি বলেন, ‘রাকিব কেন এমন করেছেন, সে ব্যাপারে তাকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। তারপর বিস্তারিত জানা যাবে।’


banner close