রোববার, ১০ মে ২০২৬
২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান

রোববার জলবায়ু সহিষ্ণু সমাজের জন্য নারী (ফেজ-২) প্রকল্পের অ্যানুয়াল কমিউনিটি অফ প্র্যাকটিস (কপ) নেটওয়ার্ক কনভেনশন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৬ অক্টোবর, ২০২৪ ১৫:৪৯

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তিনি আজ রোববার মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘ক্ষমতায়ন: জলবায়ু সহিষ্ণু সমাজের জন্য নারী (ফেজ-২)’ প্রকল্পের অ্যানুয়াল কমিউনিটি অফ প্র্যাকটিস (কপ) নেটওয়ার্ক কনভেনশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রয়োজন। উজানের দেশগুলোকে আগে থেকে বৃষ্টিপাত, স্ট্রাকচারের অবস্থা ও পানি ছাড়ার সময় জানাতে হবে। উজান-ভাটির দেশগুলোকে একসাথে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে খাদ্য সংকট এড়াতে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জিরো কার্বন নির্গমন ও লস এন্ড ড্যামেজ ফান্ড থেকে অর্থ আনতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নারীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় উল্লেখ করে তিনি অভিযোজনের জাতীয় পরিকল্পনায় নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে সুইডেন দূতাবাসের হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন মারিয়া স্ট্রিডসম্যান ও ইউএন উইমেনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ গীতাঞ্জলী সিং।

অনুষ্ঠানে ‘উইমেন্স ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক’ ঘোষণা করা হয় এবং পাঁচ নারী উদ্যোক্তাকে ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নারীর ভূমিকা শীর্ষক পদক-২০২৪’ প্রদান করা হয়।

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা জলবায়ু পরিবর্তনের অভিযোজন ও প্রশমন প্রচেষ্টায় নারীদের অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্ব বাড়ানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে নারীর ক্ষমতায়ন, জলবায়ু সহনশীলতা ও লিঙ্গ সমতার ওপর বিভিন্ন প্যানেল আলোচনা, কর্মশালা ও উপস্থাপনা অনুষ্ঠিত হয়।


বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি

দেশের বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ জানিয়ে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির তিনি বলেছেন, এই প্রক্রিয়ায় আখচাষি, শ্রমিক এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি লাভজনক পরিচালনা—এই তিন বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই মিলগুলো বাংলাদেশের মানুষের সম্পদ। তাই এগুলোর সৎ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। আমরা চাই, বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো আবার উৎপাদনে ফিরুক, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুক এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি নিয়ে আসুক।

শনিবার দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল কারখানা চত্বরে আয়োজিত আখচাষিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো চালু করা নিয়েও কথা বলেছেন শিল্পমন্ত্রী।

শিল্পমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে কয়েকটি চিনিকল বন্ধ রয়েছে এবং চালু থাকা অনেক মিলও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। অধিকাংশ মিলের বয়স ৫০ থেকে ৭০ বছর অতিক্রম করেছে। ফলে আধুনিকায়ন, সংস্কার ও নতুন প্রযুক্তি সংযোজন ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যকর পুনরুজ্জীবন সম্ভব নয়।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, যদি চালা (টিনের চালা) ঠিক না করে চিনি বানানো হয়, তাহলে বৃষ্টি এলে সব শরবত হয়ে যাবে। কোনো কোনো মিল নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে চালু করতে হবে, কোথাও অবকাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন, আবার কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিকল্প পরিকল্পনাও বিবেচনা করতে হবে। তবে সব ক্ষেত্রেই আখচাষিদের স্বার্থ, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং লাভজনক পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

শিল্পমন্ত্রী মনে করেন, একটি শিল্পকারখানা সচল থাকলে শুধু সরাসরি শ্রমিক নয়, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আরও অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে বন্ধ মিলগুলো পুনরায় সচল করা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দারিদ্র্য হ্রাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান বাড়লে মানুষের হাতে অর্থের প্রবাহ বাড়বে, স্থানীয় অর্থনীতি সক্রিয় হবে এবং দারিদ্র্য কমবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই সরকার শিল্প পুনরুজ্জীবনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মুহম্মদ নওশাদ জমির, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, অনুষ্ঠানে বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন, জেলা পরিষদের প্রশাসক তৌহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন ও পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতিকুজ্জামানসহ আখচাষি প্রতিনিধি, শ্রমিকনেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে বন্ধ চিনিকল চালুর দাবিদাওয়া–সংবলিত প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি বাণিজ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন চিনিকলের শ্রমিক ও আখচাষিরা।


৩ লাখ কোটি টাকার এডিপির প্রাথমিক অনুমোদন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রস্তাবের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, বিদ্যুৎ ও স্থানীয় সরকার খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই উন্নয়ন বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে।

শনিবার অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে পরিকল্পনা কমিশনের এক বর্ধিত সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে খাতভিত্তিক বরাদ্দ চূড়ান্ত করার আগে আগামী ১৬ মে কমিশনের আরেকটি বর্ধিত সভা আহ্বান করা হয়েছে।

সভার সুপারিশের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত এই উন্নয়ন বাজেট আগামী ১৮ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। ওই সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) কর্তৃক প্রস্তুতকৃত কার্যপত্র অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত এডিপির মোট আকার ধরা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা বা ৬৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ অর্থায়ন করা হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। বাকি ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে ৮ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা যোগান দেবে। ফলে সামগ্রিক উন্নয়ন বাজেটের আকার ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

পরিকল্পনা কমিশনের খাতভিত্তিক বরাদ্দ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ৯২ দশমিক ৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট এডিপির ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ।

শিক্ষা খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার ৫৯১ দশমিক ১২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট ব্যয়ের ১৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৫ হাজার ৫৩৫ দশমিক ৫০ কোটি টাকা বা মোট এডিপির ১১ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩২ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা এবং গৃহায়ণ ও কমিউনিটি সুবিধাবলি খাতে ২০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। মূলত এই পাঁচটি খাতেই মোট এডিপি বরাদ্দের প্রায় ৬২ শতাংশ ব্যয় হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার মূলত মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।


দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত বৃষ্টি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারিপুর প্রতিনিধি

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য গিয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন মেধাবী শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। খণ্ডিত মরদেহ গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন ও এলাকাবাসী। পরে জানাজা শেষে দাদা-দাদির কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় তাকে। এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। তারা খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

জুলাই মাসে দেশে ফেরার কথা ছিল নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির। কিন্তু উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া সেই শিক্ষার্থী ফিরলেন লাশ হয়ে। এতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম।

শনিবার সকালে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে বৃষ্টির মরদেহ। দুপুর ২টার দিকে তা নিয়ে যাওয়া হয় মাদারীপুর সদর উপজেলার চর গোবিন্দপুর গ্রামে তাদের বাড়িতে। শেষবারের মতো বৃষ্টিকে দেখতে সেখানে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও শৈশবের বন্ধুরা। পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

স্বজনরা জানান, সাত মাস আগে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান বৃষ্টি। ফ্লোরিডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর সহপাঠী জামিল আহমেদ লিমনের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে লিমনের এক মার্কিন রুমমেটের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে গত ১৬ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে লিমন ও বৃষ্টিকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার আট দিন পর লিমনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ। পরে ৩০ এপ্রিল উদ্ধার করা হয় বৃষ্টির মরদেহও।

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে যাওয়া বৃষ্টির জীবন এভাবেই থেমে গেল বলে মন্তব্য করেন স্বজনরা। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হিশাম নামে যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিককে আটক করেছে দেশটির পুলিশ।

বৃষ্টির ফুফাতো বোন জাবিন মরিয়ম বলেন, ‘সবসময় হাসিখুশি থাকা মেয়েটি এভাবে খুন হবে, তাও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে—এটা মেনে নেওয়া খুব কঠিন। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’

নিহত বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন বলেন, ‘যে মেয়ের আনন্দঘন পরিবেশে দেশে ফেরার কথা ছিল, সে লাশ হয়ে ফিরল। এ শোক কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমেরিকার মতো দেশে এমন ঘটনা ঘটবে, তা কখনও কল্পনাও করিনি। হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

মাদারীপুর সদর উপজেলার চর গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা জহির উদ্দিন আকনের একমাত্র মেয়ে ছিলেন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। বাদ আসর চর গোবিন্দপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজার নামাজ শেষে দাদা-দাদির কবরের পাশে দাফন করা হয় বৃষ্টিকে।


বিশ্বকবির কবিতা ও সাহিত্য আমাদের জাতির প্রেরণার অন্যতম উৎস: চিফ হুইপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর কবিতা ও সাহিত্য আমাদের জাতির প্রেরণার অন্যতম উৎস। রবীন্দ্রনাথের সেই চিরন্তন উচ্চারণ- ‘সত্য যে কঠিন, কঠিনরে আমি ভালোবাসিলাম, সে কখনো করে না বঞ্চনা’- আমাদের জাতীয় জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। কঠিন সত্যকে ধারণ করেই মানুষ পরিবর্তনের পথ রচনা করেছে এবং সেই সংগ্রাম কখনো তাদের বঞ্চিত করেনি; বরং একটি নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখিয়েছে।

আজ শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।

তিনি আরও বলেন, গত ১৭-১৯ বছরে যারা নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তারাও সত্য ও ন্যায়ের প্রতি আস্থা রেখেই শক্তি সঞ্চয় করেছেন। এ দেশের মানুষ কঠিন বাস্তবতাকে আলিঙ্গন করেই আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।

রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যচিন্তা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, তিনি তার সময়ের চেয়ে বহু অগ্রসর চিন্তার মানুষ ছিলেন। ‘ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা’ কবিতার আবেগ আজও আমাদের সমাজকে জাগ্রত করে। সমাজে যখন স্থবিরতা ও অচলায়তনের সৃষ্টি হয়, তখন তরুণরাই নতুন শক্তি ও সম্ভাবনা নিয়ে সামনে আসে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধেও রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান বাঙালির প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছে।

চিফ হুইপ বলেন, রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে বিচরণ করেননি। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, সুরকার, নাট্যকার ও দার্শনিক। তার সৃষ্টি বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও সংগীতকে বিশ্বদরবারে সমৃদ্ধ করেছে। রবীন্দ্রসংগীতের নিজস্ব এক মাধুর্য রয়েছে, যা বাঙালির সংস্কৃতি ও চেতনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।

বর্তমান প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণদের রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে এবং একটি মানবিক, সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, হুমায়ূন আহমেদ-এর মতো শক্তিশালী সাহিত্যিকের অভাব আজ অনুভূত হচ্ছে। নতুন সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিচর্চার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সমাজে অপসংস্কৃতি ও বিজাতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন বাড়ছে। তাই নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের শিকড়ে ফিরে গিয়ে এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মাদক, অপশক্তি ও স্বৈরাচারের স্থান থাকবে না; মানুষ সুন্দর, মানবিক ও আলোকিত জীবনযাপন করবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে চিফ হুইপকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান এবং উত্তরীয় পরিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শিল্পকলা একাডেমি, সহযোগিতায় ছিল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।


বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান আজ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সুদৃঢ় ও গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এ সময় দুই দেশের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা রাজধানীতে বৈঠক করেন এবং আঞ্চলিক সংযোগ ও দুদেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সফররত পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভির সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম শনিবার (৯ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে সাক্ষাৎ করলে এ আলোচনা হয় বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বৈঠকে দুই মন্ত্রী পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং সাম্প্রতিক দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততায় সৃষ্ট গতিশীলতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তারা দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও জোরদারে তাদের অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

এ সময় তারা উল্লেখ করেন, বাণিজ্য ও ব্যবসা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, নারী উদ্যোক্তা, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল উদ্ভাবন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এখনও উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গভীর করতে, জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন তারা।

শামা ওবায়েদ দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) আঞ্চলিক সহযোগিতা, সংযোগ ও অভিন্ন সমৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করতে বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

দুই পক্ষ দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের সম্মিলিত স্বার্থে আরও শক্তিশালী আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করে।


সরকার ‌‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে পররাষ্ট্রনীতি গড়তে চায়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার ‌‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে বহুমুখী ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গড়তে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

শনিবার রাজধানীর গুলশানে এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‌‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে বহুমুখী ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গড়তে চায় সরকার।

এ সময় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের নীতির সমালোচনা করেন তিনি।

হুমায়ুন কবির বলেন, চীন ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে দোটানায় ছিল হাসিনা সরকার। অত্যাচারী এবং অপরাধী হওয়ায় তাদের কাছে তার কোনো সম্মান ছিল না।

তবে বর্তমান সরকারের ভারসাম্য আনার সুযোগ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, কারণ জনগণের ম্যান্ডেট আছে বিএনপির সঙ্গে।


জুলাই হত্যাযজ্ঞের বিচারে কোনও আপস করা হবে না: চিফ প্রসিকিউটর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় দায়ীদের বিচারে কোনো ধরনের পক্ষপাত বা আপস করা হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। শনিবার (৯ মে) সকালে উত্তরার শহীদ মীর মুগ্ধ মঞ্চে আয়োজিত এক গণশুনানিতে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সামনে তিনি এই অঙ্গীকার করেন। আমিনুল ইসলাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ট্রাইব্যুনাল কোনো নির্দিষ্ট পেশাজীবী বা আমলার বিচার করছে না, বরং তাঁরা কেবল সংঘটিত অপরাধ এবং প্রকৃত খুনিদের বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন।

তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে চিফ প্রসিকিউটর জানান, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে। এসব প্রতিবেদন নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই শেষে শীঘ্রই ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে দাখিল করা হবে এবং দ্রুততম সময়ে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই তদন্ত প্রক্রিয়া কোনো বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে নয়, বরং স্বচ্ছতার সাথে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে পরিচালিত হচ্ছে। তাঁদের লক্ষ্য হলো প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার করা এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে কঠোর নজর রাখা।

গণশুনানি চলাকালীন শহীদ পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন যে, অনেক চিহ্নিত অপরাধী এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং তাঁদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের কড়া বার্তা দেন আমিনুল ইসলাম। তিনি নির্দেশ দেন যে, অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাঁদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া যাবে না এবং অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। তিনি আরও বলেন, অপরাধীদের সঙ্গে কোনো আপস বা সমঝোতার সুযোগ নেই এবং এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের আহ্বান জানান।

শহীদদের আত্মত্যাগের সাথে কোনোভাবেই বেইমানি করা হবে না উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্ত কার্যক্রমে পুলিশের সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের কোনো বৈরিতা নেই, কারণ পুলিশ বাহিনীই এই তদন্তে সরাসরি সহায়তা করছে। সবার সহযোগিতা পেলে দ্রুত একটি নির্ভুল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হবে। এদিন গণশুনানির পাশাপাশি চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এবং তদন্ত সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটররা উত্তরার বিভিন্ন ‘জুলাই-আগস্ট হটস্পট’ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তাঁরা ভুক্তভোগীদের সমস্যার কথা শোনেন এবং ন্যায়বিচারের মাধ্যমে তাঁদের আস্থার মর্যাদা রক্ষার আশ্বাস দেন।


হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও নয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এসময় নতুন করে হাম শনাক্ত ও উপসর্গ পাওয়া গেছে ১ হাজার ৪৩৫ শিশুর মধ্যে।

শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে মারা যাওয়া নয় শিশুর মধ্যে তিনজন নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে এবং ছয়জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। দেশজুড়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া তিন শিশুই বরিশাল বিভাগের। সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়াদের মধ্যে তিনজন ঢাকা, দুজন খুলনা এবং একজন সিলেট বিভাগের।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ১ হাজার ৪৩৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৮৯ জন।

এ নিয়ে গত ৫৫ দিনে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫২ জনে।


কাল থেকে শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আগামীকাল রবিবার (১০ মে) শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬। ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’এ প্রতিপাদ্যে চারদিনব্যাপী ১০ থেকে ১৩ মে উদযাপিত হচ্ছে এবারের পুলিশ সপ্তাহ।

আগামীকাল রবিবার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে পুলিশ সপ্তাহ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের সুশৃঙ্খল, দৃষ্টিনন্দন ও বর্ণিল প্যারেড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করবেন। তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ প্রদান করবেন।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ মো. আলী হোসেন ফকির পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, পুলিশ বাহিনীর সততা, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার ওপর একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, সুশাসন ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অনেকাংশে নির্ভর করে। বিভিন্ন জাতীয় আয়োজন ও ক্রান্তিকালীন সময়েও পুলিশ বাহিনীর নৈর্ব্যক্তিক, পেশাদার ও জনবান্ধব ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি আয়োজিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনে বাংলাদেশ পুলিশ সততা ও দক্ষতার সাথে ভূমিকা পালন করেছে। এজন্য পুলিশ বাহিনীর সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অপরাধের ধরন দিন দিন জটিল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে। সাইবার স্পেস, এআই ও ডিপফেক ইত্যাদি আধুনিক প্রযুক্তি-মিথ্যাচার, চরিত্রহনন, জনবিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, আর্থিক প্রতারণা, জঙ্গিবাদ, মাদকদ্রব্য পাচার, মানবপাচারসহ নানা অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পুলিশ সদস্যদের এআই, ডেটা অ্যানালিটিকস, সিসিটিভি নজরদারি, ডিজিটাল ফরেনসিকসসহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। বাহিনীর ভাবমূর্তিকে সমুন্নত রাখতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। কমিউনিটি পুলিশিং জোরদারকরণ, সেবামুখী মনোভাব গড়ে তোলা এবং মানবাধিকার সমুন্নত রাখার মাধ্যমে পুলিশ-জনগণের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিস্তারিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলছে। তবে ঘরে-বাইরে জনমনে নিরাপত্তা, স্বস্তি না থাকলে লক্ষ্য অর্জন দুরূহ হয়ে উঠবে। এজন্য পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নই এই মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং জাতীয় অগ্রগতির সঙ্গে পুলিশের উন্নয়ন নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। এ কারণে পুলিশের উন্নয়নে বিনিয়োগকে সরকার জননিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি। মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং এবং মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তার বাণীতে বলেন, প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে পেশাদারিত্বের আর্দশে উজ্জীবিত হয়ে মানুষের নিকট সেবা ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠতে হবে, ভুক্তভোগীকে তার প্রাপ্য আইনি সেবা পেতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে। প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে, কোন নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়- সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তার বাণীতে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ পুলিশ যে নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও ত্যাগের পরিচয় দিয়ে আসছে, তা প্রশংসার দাবীদার। দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একটি কার্যকর, আধুনিক ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনীর বিকল্প নেই।

আইজিপি তার বাণীতে বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে আমরা পুলিশের কার্যক্রমকে আরো জনবান্ধব, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। এবারের পুলিশ সপ্তাহের শ্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। আমরা জনগণের পুলিশ হিসেবে তাদের পাশে থেকে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে সেবা দিতে চাই।

এবারের বার্ষিক পুলিশ প্যারেডে অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্বে রয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন কন্টিনজেন্টের পুলিশ সদস্যরা প্যারেডে অংশ নেবেন।

বার্ষিক পুলিশ প্যারেড অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালে অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’, ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’ এবং ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা’ দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী পদকপ্রাপ্তদের পদক পরিয়ে দিবেন।

বার্ষিক পুলিশ প্যারেড অনুষ্ঠানে মন্ত্রীবর্গ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ, বিদেশী কূটনীতিকগণ, অতিরিক্ত আইজিগণ, সকল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপার এবং নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।

পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। এ উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পুলিশ সপ্তাহের গুরুত্ব তুলে ধরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়কদ্বীপ বিশেষভাবে সাজানো হবে।

পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ এর উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) স্টল পরিদর্শন, পুলিশ সদস্যদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ প্যারেড, ঊর্ধ্বতন পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, আইজি'জ ব্যাজ, শিল্ড প্যারেড, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার পুরস্কার বিতরণ, পুলিশ কর্মকর্তাগণের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীবর্গ এবং আইজিপির সম্মেলন ইত্যাদি।

পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন কর্ম অধিবেশনে বিগত বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে পরবর্তী বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়। আগামী ১৩ মে পুলিশ সপ্তাহ শেষ হবে।


যুক্তরাষ্ট্রে নিহত শিক্ষার্থী বৃষ্টির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে, কফিন ধরে বাবা-মায়ের আহাজারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। শনিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে দুবাই হয়ে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তাঁর মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে মেয়ের কফিন ধরে বাবা–মায়ের আহাজারি আর স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার এই শিক্ষার্থীর মরদেহ দেশে পৌঁছালে সেখানে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য।

এর আগে গত বুধবার টাম্পায় তাঁর প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয় এবং বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাতে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো বিমানবন্দর থেকে মরদেহটি দেশের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয় বলে

একই হত্যাকাণ্ডের শিকার অপর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ গত ৪ মে বাংলাদেশে পৌঁছেছিল। এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষিতে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ এক অনন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি নিহত দুই মেধাবী শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে তাদের বসন্তকালীন সমাবর্তনে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করবে। মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে এক চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি অবহিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে সম্মাননা গ্রহণের জন্য কনস্যুলেটের প্রতিনিধিকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।

নিহতদের শিক্ষাগত পটভূমি অনুযায়ী, জামিল আহমেদ লিমন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। অন্যদিকে, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চতর গবেষণা করছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হওয়ার পর ফ্লোরিডার একটি ব্রিজের নিচ থেকে জামিলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ।

এই জোড়া খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে হিশাম আবুঘরবেহ নামক এক মার্কিন নাগরিককে ইতোমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যার দুটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।


দেশের চার অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা: নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

সংগৃহীত ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

শনিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের চারটি অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ওইসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দুপুরের মধ্যে রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া ও টাঙ্গাইল অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে সারা দেশের জন্য প্রকাশিত অপর এক পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো এবং বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্যত্র আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকতে পারে এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় স্থিতিশীল থাকবে।


কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে চালু হচ্ছে বন্ধ শিল্পকারখানা

* ৪০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালুর উদ্যোগ * ডেপুটি গভর্নরের নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের কমিটি * ব্যবসায়ী সংগঠরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অন্যতম নির্বাচনী ইশতেহার ছিল দেড় বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। সেই ইশতেহার বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ইতোমধ্যে তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কোন কারখানাগুলো দ্রুত চালু করা যায়, সেগুলোর তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ পরিবেশ পুনরুদ্ধারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক থাকায় বন্ধ কারখানা চালু শুধু অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নয়, বরং সরকারের কৌশলগত জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য ইস্যুতেও পরিণত হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে গত এক বছরে সাভার, গাজীপুর, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জসহ প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে তিন শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র পোশাক শিল্প ও টেক্সটাইল খাতেই অধিকাংশ কারখানা বন্ধ হওয়ায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। মূলত আর্থিক সংকট, ঋণের উচ্চ সুদ, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং শ্রমিক অসন্তোষের কারণে কারখানাগুলো বন্ধ হয়েছে।

সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রথম ১৮ মাসে এককোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য পূরণে বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুধু তহবিল সহায়তা নয়, কারখানাগুলো কীভাবে দ্রুত উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা যায়— সেই লক্ষ্যে নীতি সহায়তার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের বন্ধ থাকা কারখানাগুলো চালু ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে কোন কারখানাগুলো দ্রুত চালু করা যায়, সেগুলোর তালিকা তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন।

ওই নির্দেশনার পর কারখানাগুলো চালু করতে ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল পুনঃঅর্থায়ন (রিফাইন্যান্স) স্কিম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রস্তাবিত প্যাকেজের আওতায়– বড় শিল্প খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা; কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (সিএমএসএমই) জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা এবং কৃষি খাতে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে।

জানা গেছে, তহবিল গঠনের আগে ব্যাংকগুলোর কাছে বন্ধ কারখানার তালিকা ও তাদের ঋণের হালনাগাদ তথ্য চাওয়া হয়েছে। ১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে, শুধু এসব কারখানার তালিকা চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সম্পূর্ণ বন্ধ ও আংশিক বন্ধের তালিকা আলাদাভাবে চাওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদের নেতৃত্বে গঠিত ১৯ সদস্যের কমিটি এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে। কমিটিতে নির্বাহী পরিচালক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন। ইতোমধ্যে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের মতামতও নেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, সরকার বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা চালুর জন্য নীতিগত সুবিধা দিতে চাচ্ছে। এটি ইতিবাচক উদ্যোগ; এর ফলে নতুন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। তবে এ কারখানাগুলোর জন্য অর্থ কোথা থেকে আসবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

তিনি বলেন, বর্তমানে দুই ডজনের বেশি ব্যাংক তারল্য সংকটে রয়েছে, অনেক ব্যাংকের মূলধনও নেতিবাচক অবস্থায়। অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আদায়ও আশানুরূপ বাড়ছে না। কারণ, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কম থাকায় উৎপাদনও কমে গেছে। এর ফলে রাজস্ব সংগ্রহেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি রিফাইন্যান্স স্কিমের আওতায় এসব প্রতিষ্ঠানকে অর্থায়ন করে, তাহলে তা মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। কারণ, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থ সরবরাহ করা হলে বাজারে টাকার প্রবাহ বেড়ে যাবে। তিনি সরকারকে দুটি পরামর্শ দিয়ে বলেন, প্রথমত, যেসব ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি ভালো, সেখান থেকে আংশিকভাবে ফান্ড সংগ্রহ করা যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, আসন্ন জাতীয় বাজেট থেকে একটি অংশ এই খাতে বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি তিনি ধাপে ধাপে এই স্কিম বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকগুলো থেকে তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। বন্ধ কারখানা চালু করতে কী ধরনের সুবিধা দেওয়া যায়, তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আলোচনা চূড়ান্ত হওয়ার পর তহবিল গঠন ও নীতিমালা জারি করা হবে। এখন মূল্যস্ফীতি বেশি, তাই সরকারি অর্থে তহবিলটি গঠন হতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, সহজ শর্তে ঋণ নিয়মিত করে কারখানার কাঁচামাল কিনতে অর্থায়নসুবিধা দিতে হবে। এ জন্য ঋণপত্র খোলার সুবিধা দেওয়া হবে। তবে অর্থ পাচার ও বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো এই সুযোগ পাবে না। নতুন করে যাতে কোনো অনিয়ম–দুর্নীতি না হয়, সেদিকেও বাড়তি নজর রাখা হবে।

ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— ঋণ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে ডাউন পেমেন্টের শর্ত শিথিল করা। কারখানা চালুর সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত অর্থায়ন নিশ্চিত করা। আমদানি-রফতানি কার্যক্রম সহজ করতে ব্যাংকিং সুবিধা বৃদ্ধি। কম মার্জিনে এলসি খোলার সুযোগ দেওয়া।

বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। এসব কারখানা আগে থেকেই চালু থাকলে অর্থনীতিতে আরও গতি সঞ্চার হতো, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেত এবং জিডিপিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ত।

তিনি আরও বলেন, বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করলে দ্বিমুখী সুবিধা পাওয়া সম্ভব। প্রথমত, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই উৎপাদনে ফেরা যায়। দ্বিতীয়ত, তুলনামূলক কম ব্যয়ে এসব কারখানা সচল করা সম্ভব। এর বিপরীতে নতুন কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে জায়গা নির্বাচন, উচ্চ ব্যয় এবং উৎপাদনে যেতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়।

মহিউদ্দিন রুবেলের ভাষায়, সরকার যদি কার্যকরভাবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে অর্থনীতিতে স্থবির হয়ে থাকা অর্থ পুনরায় গতিশীল হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


বাজার চড়া, ৮০ টাকার নিচে নেই কোনো সবজি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কয়েক দিনের বৃষ্টি, জ্বালানি তেলের কারণে পরিবহনের খরচ বেশি হওয়া এবং বেশ কিছু সবজির মৌসুম শেষ হওয়ার কারণে সরবরাহ কম— এমন সব কারণ দেখিয়ে বাজারে সব ধরনের সবজির দাম বাড়তি যাচ্ছে। বেশিরভাগ সবজির কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকার ঘরে। সব মিলিয়ে বাজারে চড়া দাম সব সবজির।

শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামের এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে সবচেয়ে বেশি দামের সবজির তালিকায় রয়েছে কাঁকরোল, শসা ও বেগুন, যেগুলোর কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা।

বাজারে প্রতি কেজি পটল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, কাঁকরোল প্রতি কেজি ১২০ টাকা, বেগুন (গোল) প্রতি কেজি ১২০ টাকা, বেগুন (লম্বা) প্রতি কেজি ১০০ টাকা, দেশি শসা প্রতি কেজি ১২০ টাকা, হাইব্রিড শসা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ঝিঙা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া ধুন্দল প্রতি কেজি ১০০ টাকা, ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা, জালি প্রতি পিস ৬০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৭০ টাকা, কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৮০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, মাংস, ডিম ও মাছের বাজারে এখনো চড়া দামই গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বিশেষ করে গরুর মাংস, ডিম ও বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক ক্রেতা।

পূর্ব রামপুরা এলাকার বউবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে পাকিস্তানি কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৭০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ টাকা এবং গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি দরে।

ডিমের বাজারেও উচ্চমূল্য বজায় রয়েছে। সাদা ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। বাদামি রঙের ছোট ও মাঝারি আকারের মিক্স ডিমের ডজন ১৪০ টাকা এবং অপেক্ষাকৃত বড় আকৃতির বাদামি ডিমের ডজন ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া হাঁসের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়।

অন্যদিকে মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, কাতল মাছ প্রতি কেজি ৩৬০ টাকা, রুই মাছ ৩২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, সিলভার কার্প ১৮০ টাকা, কই মাছ ২২০ টাকা, পাঙাশ মাছ ২০০ টাকা এবং পাবদা মাছ ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে আসা আতাউর রহমান বলেন, ডিমের দাম দেখে অবাক হচ্ছি, ১৫০ টাকা ডজন হলে এক হালি ৫০ টাকা। এই একটা জিনিসই একটু কম ছিল। সেটাও দুই তিন সপ্তাহ যাবত বেশি। আর ২০০ টাকার নিচে তো কোনো মাছই পাওয়া যায় না।

রামপুরা বাজারে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, বাজারে এসে দেখছি সব ধরনের সবজির দাম বাড়তি। এত বেশি দামে সাধারণ মানুষের সবজি কিনে খাওয়া অনেকটাই কঠিন। ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই।

সবজির দাম বাড়ার বিষয়ে মালিবাগ বাজারের সবজি বিক্রেতা চাঁদ মিয়া বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে সবজির দাম বাড়তি যাচ্ছে। এর মূল কারণ হলো সবজি পরিবহনের খরচ বেড়ে গেছে, এ ছাড়া কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির কারণে কৃষকের সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, চাহিদার তুলনায় বাজারে সবজি সরবরাহ তুলনামূলক কম; সব মিলিয়ে সবজির দাম বাড়তি যাচ্ছে। এ ছাড়া বেশ কিছু সবজির মৌসুম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, সে কারণেও সবজির সরবরাহ কিছুটা কম। সবজির দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে আমাদের মতো খুচরা ও ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়ে গেছে, আমাদের বিক্রি আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।


banner close