সাবেক পরিবেশমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছেন।
রাজধানীর গুলশান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান আজ রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বিকেলে ডিবির একটি টিম গুলশানে সাবের হোসেন চৌধুরীর বাসায় অভিযান পরিচালনা করে। সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এখন তিনি ডিবি কার্যালয়ে আছেন।
সাবের হোসেন চৌধুরী রাজধানীর খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
তাকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
একসময় তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
গণভোটের প্রথম ফলাফলে ভুল থাকায় সম্প্রতি গণভোটের ফলাফল সংশোধন করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে প্রায় ১১ লাখের মতো ভোট কমে যায়।
বিষয়টিকে নির্বাচন কমিশন এর আগে ভুল হিসেবে ব্যাখ্যা দিয়েছে। এবার কোন কোন আসনে গণভোটের ফলাফলের হিসাব ভুলে হয়েছিল, তা জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইসি জানায়, নেত্রকোনা-৩, ৪ ও ৫ আসনে ফলাফল প্রস্তুত করার সময় এক্সেল শিটে ভুল ইনপুটের কারণে গণভোটের ফলাফল বেড়ে যায়। এজন্য পরবর্তীতে তা সংশোধন করা হয়।
এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, নেত্রকোনা-৩ আসনে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫ ভোটের পরিবর্তে ভুল করে ৫ লাখ ২ দুই হাজার ৪৩৮টি ‘হ্যাঁ’ পড়েছে বলে এন্ট্রি করা হয়। আবার ৬০ হাজার ৭৮৭টি ভোটের পরিবর্তে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫ টি ‘না’ ভোট পড়েছে বলে এন্ট্রি করা হয়।
নেত্রকোনা-৪ আসনে ৮২ হাজার ১২৫টির পরিবর্তে ৪ লাখ ২০ হাজার ৬৮৬টি ‘হ্যা’ ভোট পড়েছে বলে এন্ট্রি করা হয়। আবার ১ লাখ ২ হাজার ১১৩ টির পরিবর্তে ৮২ হাজার ১২৫টি ‘না’ ভোট পড়েছে বলে এন্ট্রি করা হয়।
অন্যদিকে নেত্রকোনা-৫ আসনে ১ লাখ ৬৭১টির পরিবর্তে ভুল করে বার্তাশিটের এক্সেলে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩০৮টি ‘হ্যা’ ভোট পড়েছে এন্ট্রি করা হয়। আবার ৪৪ হাজার ৫৭৩ টির পরিবর্তে ১ লাখ ৬৭১টি ‘না’ ভোট পড়েছে বলে তুলে ধরা হয়।
‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এবং সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি যাচাইয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ওই ভোটের ফলাফল যা গত ১৩ ফেব্রুয়ারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছিল।
প্রথম গেজেটের হিসেব অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০টি এবং ‘না’ ভোটের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬টি। ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোট মিলে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩টি। এর মধ্যে বাতিল হয়েছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি। বাতিল ভোট বাদ দিয়ে মোট বৈধ ভোটার সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬টি।
সংশোধিত গেজেটের হিসেব অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টি এবং ‘না’; ভোটের সংখ্যা দাঁড়াবে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টি। ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোট মিলে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭টি। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬টি। বাতিল ভোট বাদ দিয়ে মোট বৈধ ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১টি।
আগের তুলনায় ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০টি ‘হ্যাঁ’ ভোট কমেছে। অন্যদিকে ‘না’ ভোটের সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫টি। বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা আগের চেয়ে ১২ হাজার ৫৫৯টি বেড়েছে। সার্বিকভাবে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি কমেছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ বিষয়ে বলেছেন, ‘তখন করণিক ভুল ছিল, ট্রান্সপজিশনের ছিল। যার কারণে এই ভুল হয়েছে। করণিক ভুলতো হতেই পারে। যেহেতু হাতে করা হয়। যেগুলো এদিক-ওদিক হয়েছে সেগুলো কারেকশন করে পরবর্তীতে যেগুলো মাঠ থেকে দিয়েছে সে অনুযায়ী এগুলো ঠিক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘মূল যে প্রতিপাদ্য, ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’; তাতে ‘হ্যাঁ’-এর সংখ্যা বেশি। সেটাতে কোনো বিচ্যুতি হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলামকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশ দিয়েছেন।
এ তথ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী। এসময় তারেক রহমান সড়ক পরিবহনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে রবিউল ইসলামের কাছ থেকে তথ্য নেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছেন।
আতিকুর রহমান রুমন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাজধানীতে নারী বাস সার্ভিস চালুর জন্য মন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, তিনি (তারেক রহমান) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীকে শেরেবাংলা নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ ঈদের আগে শেষ করারও নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পিচ রাইটার এবং তিন উপ-প্রেসসচিব নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সোমবার (২ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপনে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার করা হয়েছে বার্তা সংস্থা ইউএনবির সম্পাদক এস এ এম মাহফুজুর রহমানকে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এস এ এম মাহফুজুর রহমানকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সাথে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার (গ্রেড-১) পদে যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল বা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো।
এদিকে সাংবাদিক মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু), মো. জাহিদুল ইসলাম ও মো. সুজাউদ্দৌলাকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেসসচিব পদে গ্রেড-৪ বেতন স্কেলের সর্বশেষ ধাপের বেতনে যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল বা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের হামলা, পাল্টা হামলার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে খুব সোজা। মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। প্রথম কথা হচ্ছে আমাদের নাগরিক যারা ওই অঞ্চলে আছেন, তাদের স্বার্থ রক্ষা এক নম্বর কথা।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিয়ে সরকারের বিবৃতিতে ইরানে হামলার বিষয়ে নিন্দা না জানানোর প্রেক্ষাপটে ওঠা বিতর্কের মধ্যে সোমবার (২ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ কথা বলেছেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করি না যে, যুদ্ধ বা সংঘাত কোনো সমাধান। আমরা চাই অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে একটা আলোচনার মাধ্যমে, কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে এই সমস্যাটার সমাধান হোক।
সরকারের ওই বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনিকে হত্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ না করায় সমালোচনা করেন অনেকে।
সমালোচনার মুখে সোমবার নতুন আরেকটি বিবৃতি দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার ঘটনা জেনে বাংলাদেশ ‘মর্মাহত’।
সেখানে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক আইন ও রীতি লঙ্ঘন করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তাকে হত্যার ঘটনা জেনে সরকার মর্মাহত। ইরানের ভ্রাতৃপ্রতীম জনগণের প্রতি আন্তরিক শোক জানাচ্ছে সরকার।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ‘বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, সংঘাতের মাধ্যমে কোনো সমাধান আসে না। কেবল সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আনুগত্যের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হতে পারে।’
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত এবং প্রবাসীদের অবস্থা নিয়ে সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিল ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাতসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
এরপর বিকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই বলে এসেছি যে, এই সংঘাতময় সময়ে আমাদের সবচাইতে বড় অগ্রাধিকার হচ্ছে ওই অঞ্চলে বসবাসরত আমাদের নাগরিকবৃন্দ। আমরা প্রথম প্রেস রিলিজটা দিয়েছিলাম, সেটা আমরা শুরুই করেছিলাম আমাদের নাগরিকদের স্বার্থ সমুন্নত রেখে। আমাদের নাগরিকরা তারা আক্রান্ত হলে, সেটা যেখানে হোক, আমরা তাদের পাশে দাঁড়াব। আমাদের সবচাইতে বড় জাতীয় স্বার্থ হচ্ছে আমাদের জনগণ। আমরা আশা করি যে, এই সংঘাতে আর কোনো বাংলাদেশির প্রাণহানি ঘটবে না, কিংবা আর কেউ আহত হবেন না। কিন্তু সে রকম অবস্থা হলে আমাদের যা যা কর্তব্য, তা সকলে আমরা পালন করব।’
এদিন কুয়েত ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা হওয়ার কথা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা সকলে আমাদের নাগরিক, যারা এ সমস্ত দেশে আছেন, তাদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে তাদের পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন। যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন, তাদের মরদেহ ফেরানোর বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই। আমরা সবসময় নিয়ে আসি। এটা আমাদের পলিসি। কিন্তু এখন তো প্লেন চলাচল করছে না। সুতরাং এই সময়টুকু সেখানে রেখে দিতে হবে এবং সেই নিয়ে আমার সঙ্গে সেই দেশের মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা সমস্ত ব্যবস্থা করছেন।’
বাংলাদেশিদের কেউ ফিরতে চাইলে তাদেরকে দেশে আনার বিষয়ে এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সেটা প্রয়োজন হলে, যা করার তাই করবে সরকার।’
ইরানে হামলা, পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের ‘কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’নিন্দা জানিয়ে গত রোববার বিবৃতি দেয় সরকার। ওই বিবৃতিতে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সাতটি দেশের নাম উল্লেখ করা হলেও সে তালিকায় ইরানকে রাখা হয়নি।
এর মধ্যে গত রোববার পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকার সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাসের প্রতিনিধিরা।
ওইদিন বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ওই অঞ্চলের কয়েকটি দেশের ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’ নিন্দা জানাচ্ছে বাংলাদেশ; যার মধ্যে রয়েছে, বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
ফাল্গুনের মাঝামাঝিতে এসে মৌসুমের প্রথম বৃষ্টির দেখা মিলল রাজধানীতে। সোমবার (২ মার্চ) সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ কিছুটা মেঘলা ছিল। দুপুর সোয়া ৩টার দিকে এক-দুই ফোঁটা করে ঝরতে থাকা বৃষ্টি হঠাৎ করে ঝুম বর্ষণে রূপ নেয়। হঠাৎ বৃষ্টিতে সড়কে থাকা পথচারী আর যাত্রীরা আটকা পড়েন। কেউ-কেউ আশ্রয় নেন সড়কের পাশের অস্থায়ী দোকানের নিচে।
আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, এটা ঢাকা শহরের জন্য মৌসুমের প্রথম বৃষ্টি। ঢাকা ছাড়াও খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব বিভাগগুলোতে বৃষ্টিপাত হয়েছে কি না সে তথ্য এখন আমাদের কাছে এসে পৌঁছায়নি। ঢাকায় কত মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে সে তথ্য এখনো জানা যায়নি।
চলতি মার্চ মাসের দীর্ঘমেয়াদী আবহাওয়ার পূর্বাভাসে অধিদপ্তর জানিয়েছিল, মার্চে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। তবে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এছাড়া, এ মাসে দেশে ২ থেকে ৩ দিন বজ্র ও শিলাবৃষ্টিসহ হালকা বা মাঝারি ধরণের এবং ১ থেকে ২ দিন তীব্র কালবৈশাখী ঝড় হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সোমবার সকালের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, এর বর্ধিতাংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
বুলেটিনে বলা হয়েছে, সোমবার (২ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
এই সময়ে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
গেল ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস; আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল রংপুরে, ১৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলেও বাংলাদেশের চিন্তার কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দুই-চারদিনের মধ্যে এই সংঘাতের সমাধান ঘটলে জ্বালানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে বাংলাদেশের আশঙ্কার কিছু নেই।
সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে আজকের দিনে, এই মুহূর্তে আমাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। আমরা দেখছি, পরিস্থিতি কোনদিকে যায়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে জাহাজগুলোকে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীণ ঘুরে আসতে হয়। সেক্ষেত্রে জাহাজ ভাড়া বেড়ে যায়, যার প্রভাবে সব পণ্যের দাম বাড়ে।
তবে এ ধরনের কোনো পরিস্থিতি আমাদের এখনো তৈরি হয়নি, যোগ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সংবিধান অনুসারেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন। সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয় থেকে বের হওয়ার সময় গণমাধ্যমে এ মন্তব্য করেছেন তিনি।
জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকারের পদ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রস্তাব দিয়েছে- এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুনরায় উল্লেখ করেন, সংসদের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে সংবিধান মেনেই পরিচালিত হবে এবং প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ তারই অংশ।
তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যরা জাতীয় সংসদে অংশ নিতে পারেন না; কেবল নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই সংসদে অংশগ্রহণের অধিকার রাখেন।
সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে চলমান রাজনৈতিক আলোচনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিকভাবে মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকলেও অসাংবিধানিক কোনো বিষয় জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা যাবে না।
তিনি আরও জানান, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রয়োজন হলে তা জাতীয় সংসদে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ জন্য সংবিধান সংশোধনী আনতে হবে এবং তা পাস হওয়ার পরই সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া, শপথ ও অন্যান্য বিষয় চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, থানায় সেবা নিতে আসা মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে, যাতে তারা থানা থেকে হাসিমুখে ফিরতে পারেন। মানুষের সঙ্গে সদাচরণ করে তাদের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি বাড়াতে সচেষ্ট থাকতে হবে। আর নিরপরাধ মানুষকে কোনোভাবেই হয়রানি করা যাবে না। সোমবার (২ মার্চ) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সব জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মতবিনিময়কালে এ নির্দেশনা প্রদান করেন আইজিপি।
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের কড়া বার্তা দিয়ে মতবিনিময়সভায় আইজিপি বলেন, মহাসড়কে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও ডাকাতি বন্ধ করতে হবে। এক্ষেত্রে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশকেও মহাসড়কে তৎপরতা বাড়াতে হবে।
আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার নির্দেশনা দিয়ে পুলিশপ্রধান বলেন, ঈদে যানজট রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানো এবং ফিরে আসা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য জেলা পুলিশ সুপারদের প্রতি আহ্বান জানান।
এ সময় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত আইজিগণসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শীতের শেষে বসন্তের আগমনে বাংলার প্রকৃতিতে গাছে গাছে শোভা ছড়াচ্ছে সজনে ফুল। ডালে ডালে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা এই ফুল গ্রামীণ প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার পাশাপাশি এর পুষ্টিগুণও অপরিসীম। এই ফুলগুলো জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের পথে-প্রান্তরে এক মনোরম দৃশ্য তৈরি করেছে এবং প্রকৃতিতে ভিন্ন রঙ ছড়িয়ে দিচ্ছে।শুধু প্রকৃতিতে ভিন্ন রঙ ছড়িয়ে দিচ্ছেনা, বরং উচ্চ পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এবং ভেষজ গুণসম্পন্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ, যা স্থানীয়ভাবে সুস্বাদু সবজি হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয় ।
জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের আনাচে-কানাচে, রাস্তার পাশে এবং বসতবাড়ির আঙিনায় সজনে গাছে সাদা ও হলুদাভ ফুলে ছেয়ে গেছে, যা প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্য তৈরি করেছে। সজনে গাছ সম্পূর্ন বিনা পরিচর্চায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়, বিভিন্ন বাড়িতে, পরিত্যক্ত জায়গায়, অনাবাদি জায়গায় সজনে গাছ রয়েছে। এছাড়া কিছু এলাকায় সজনে ফুলের সৌন্দর্যে প্রকৃতি রঙিন হয়ে উঠেছে। সজনে ফুলের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ স্থানীয় বাসিন্দারাও। অনেকেই সকাল-বিকেল হাঁটার সময় বা সড়কে যাতায়াতের সময় সজনে ফুল দেখে থমকে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছেন চোখজুড়ানো এই প্রাকৃতিক শোভা। গাছের নিচে পড়ে থাকা ঝরা ফুল কুড়িয়ে নিচ্ছেন শিশু-কিশোররা।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃর্ষিবিদ মো আলমগীর হোসেন বলেন, সজনে একটি ঔষধি গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম মরিঙ্গা ওলিফেরা। এটি মরিঙ্গাসিয়া পরিবারের মরিঙ্গা গণের একটি গাছ। এটি খরা সহিষ্ণু ও গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের একটি উদ্ভিদ। মাঝারি আকারের এই গাছে থোকায় থোকায় ফুল ফোটে। সজনের কাঁচা লম্বা ফল সবজি হিসেবে খাওয়া হয় এবং এর পাতা শাক হিসেবে খাওয়া হয়। এটি ডাল ও বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করলেও আমাদের দেশে সাধারণত ডালের মাধ্যমে বা অঙ্গজ প্রজননের মাধ্যমে এটির বংশবিস্তার করানো হয়।
সজনে ফুলেরও ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে। সজনে ফুলে আছে এমন ওষুধি গুণ যা ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা রাখে। এছাড়াও এই ফুলে আছে ভরপুর পুষ্টিগুণ যা নানা রোগ প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এর ফল শরীরে প্রোটিনের জোগান দেয়। এই গাছের বিভিন্ন অংশে আছে ভিটামিন এ, বি১, বি২, বি৩, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, ম্যাগনেশিয়ামের মতো উপকারী উপাদান।
কৃষিবিদ কামাল উদ্দিন মোল্লা বলেন, প্রকৃতিতে ফোটা এই সজনে ফুলের সৌন্দর্যের পাশাপাশি এ গাছ একটি উপকারী ভেষজ। সজনের ডাটা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ গাছ। সজনের ডাটার বাজারে যেমন চাহিদা থাকে আবর দাম ও ভালো। এর পাতা, ফল ও ফুল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এটি খুব পরিচিত একটি গাছ।
গাজীপুরের শ্রীপুরে দখল ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পড়া চৌক্কার খাল পরিদর্শন করলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানি। মন্ত্রী বলেন, ‘খাল খনন একটি বিপ্লব, একটি আন্দোলন আরও এই বিপ্লবী কর্মসূচি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি নিজে চৌক্কার খালে এসে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে কোদাল হাতে খননকাজ শুরু করেছিলেন এবং মানুষকে একত্র করেছিলেন।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের পরিকল্পনায় ছিল—খালের দুই পাড়ে গাছ থাকবে, খালে পানি ও মাছের উৎপাদন বাড়বে, সেই পানি দিয়ে পাশের জমিতে সেচ দেওয়া যাবে এবং কৃষি উৎপাদন দ্বিগুণ হবে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা দূর হবে, রোগবালাই কমবে এবং মাছ ও কৃষিপণ্যের বাজার স্থিতিশীল থাকবে। এসব দূরদর্শী চিন্তা থেকেই তিনি খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। শুধু চৌক্কার খাল নয়, সারাদেশে হাজার হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছিল তার উদ্যোগে।
শিল্পায়ন কর্তৃক আগ্রাসনের দখলের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন শিল্পকারখানা তো ভেঙে দেওয়া যাবে না। বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। তবে পরিকল্পিত শিল্পকলকারখানা এবং পরিকল্পিতভাবে যেন বর্জ্যগুলো দূর হয় এবং সেখানে বর্জ্যগুলো দূর হতে যাওয়ার মাধ্যমে একটা নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা। বর্জ্য নিষ্কাশনের বিষয়টি আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে আছে। সে দায়িত্বটুকু নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। এবং নতুনভাবে আমরা আজকে যে কাজে আসলাম সেটি হলো খাল পুনঃখনন। এই চৌক্কার খাল এই খালের দুপাশে অনেকগুলো ইন্ডাস্ট্রি আছে, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি আছে। সবকিছু মিলিয়ে এখানে যেনে পানিপ্রবাহ ঠিক থাকে। এ জন্য সাধারণ মানুষ যেন উপকারভোগী হয়। সে উপকারটা পায়, সুবিধাটা পায় সে জন্য আমরা চৌক্কার খাল পুনঃখননের প্রস্তুতি নিয়েছি। খনন করার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ এই কাজটা দ্রুত সময়ের মধ্যে হবে। শ্রীপুরের দুটি খাল অগ্রাধিকার পেয়েছে বলে আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি। আপনাদের এখানে শ্রীপুরে দুটি খাল অগ্রাধিকার পেয়েছি। সারাদেশে এক হাজার না এক হাজার কিলোমিটারের চেয়ে বেড়ে যাবে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সরকার গঠনের পর, দায়িত্ব নেওয়ার পর দৃশ্যমান কিছু কাজ শুরু করেছি। ইতোমধ্যে দেশবাসী অবহিত। চোখের সামনে সবকিছু দৃশ্যমান। এবং বাস্তবে কাজগুলো এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। আমাদের লক্ষ্য সাধারণ মানুষকে পাশে নিয়ে এই দেশটাকে সামনে এগিয়ে নেওয়া।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন আগে নির্বাচিত সরকার ছিল না বলে এমন তদবির ছিল। আমরা আমাদের পরিকল্পনা আইন অনুযায়ী সব করব। নির্বাচিত সরকারের কাজ হলো জনগণের পাশে থেকে এই কাজগুলো বাস্তবায়ন করা। এখানে দীর্ঘদিন অবহেলা বঞ্চনায় ছিলেন। এখন নতুন করে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। এখানে পরিকল্পনা অনুযায়ী নদী আইন খাল খনন অনুযায়ী খনন কাজ সম্পন্ন করা হবে। গতিপথ অনুযায়ী খাল খনন করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পানিসম্পদ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, গাজীপুর-৩ আসনের সাংসদ অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব, সদস্য সচিব খাইরুল কবির মণ্ডল আজাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোসলেম উদ্দিন মৃধা, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির সরকার, সদস্য সচিব মো. বিল্লাল হোসেন বেপারী, শ্রীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহফুল হাসান হান্নান প্রমুখ।
সামনেই ইলিশের ভরা মৌসুম। আষাঢ়-শ্রাবণের জোয়ারে রুপালি ইলিশে ভরে ওঠার কথা পায়রা নদী। ভরা মৌসুমেও পায়রা নদীতে কাঙ্ক্ষিত রুপালি ইলিশের দেখা মেলে না। সাগর মোহনায় সৃষ্টি হওয়া ডুবোচরে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ইলিশ উল্টো পথে ফিরে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জেলেরা। পাশাপাশি তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের গরম পানি ও বর্জ্য নদীতে ফেলার কারণেও ইলিশের প্রবেশ ও প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিছুর রহমান।
পায়রা নদীতে জেলেদের জালে ইলিশ ধরা না পড়ায় উপকূলের ১৪ হাজার ৬৮৯ জন জেলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সাগর মোহনার ডুবোচর খনন করে পায়রা নদীতে ইলিশের প্রবেশ ও প্রজনন কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জানা গেছে, বুড়িশ্বর বা পায়রা নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৯০ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ১২০০ মিটার এবং এটি সর্পিলাকার। বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাটি ইউনিয়নের পাণ্ডব নদী থেকে এর উৎপত্তি। পরে এ নদীর জলধারা বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। উজানের তুলনায় ভাটির দিক বেশি প্রশস্ত। অন্যদিকে বিষখালী ও বলেশ্বর নদীও বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে। তিন নদীর মিলনস্থলকে জেলেরা ‘গাঙ্গের আইল’ নামে চেনেন। বিষখালী-বলেশ্বর মোহনায় রয়েছে লালদিয়া সমুদ্র সৈকত এবং পায়রা-বিষখালীর মোহনায় পদ্মাবাবুগঞ্জ চর। তিন নদীর মোহনায় গড়ে ওঠা এসব চর স্বাভাবিক জোয়ারের পানি প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছে। ফলে নদীর গভীরতা দিন দিন কমে যাচ্ছে।
পায়রা-বিষখালী মোহনায় বড়াইয়ার ডুবোচর ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ফকিরহাট থেকে আশার চর পর্যন্ত বিস্তৃত। এ চর বঙ্গোপসাগর থেকে পায়রা নদীতে জোয়ারের পানি প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে। আশার চরের শেষ সীমানা থেকে শুরু হয়েছে নলবুনিয়ার ডুবোচর, যার বিস্তৃতি প্রায় ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার। এটি পায়রা নদীর প্রবেশমুখে অবস্থিত। প্রবেশমুখ অতিক্রম করে ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার ভেতরে পদ্মা ও কুমিরমারা ডুবোচর রয়েছে, যার বিস্তৃতি প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার। ভাটার সময় এসব চরে মানুষ হাঁটাচলা করে এবং জেলেরা খুঁটি গেড়ে জাল ফেলে। জোয়ারের সময় এখানে তীব্র স্রোত ও ঢেউ সৃষ্টি হয়। ডুবোচরের কারণে সাগর থেকে জোয়ারের পানির সঙ্গে ইলিশের স্বাভাবিক প্রবেশ ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া ২০১৯ সালে তালতলীর জয়ালভাঙ্গা এলাকায় বঙ্গোপসাগর-সংলগ্ন স্থানে আইসোটেক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। ২০২২ সালে কেন্দ্রটি উৎপাদনে যায়। এরপর থেকে কেন্দ্রের গরম পানি ও বর্জ্য পায়রা নদীতে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে পায়রা নদীতে ইলিশ প্রবেশে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অন্য নদীর তুলনায় এখানে ইলিশ কম পাওয়া যাচ্ছে।
উপকূলীয় আমতলী ও তালতলীতে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৪ হাজার ৬৮৯ জন। এর মধ্যে আমতলীতে ৬ হাজার ৭৮৯ এবং তালতলীতে ৭ হাজার ৯০০ জন জেলে রয়েছেন। অধিকাংশই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন। সারা বছর মাছ শিকার করেই তাদের সংসার চলে। মাছ ধরা পড়লে ভালোভাবে জীবনযাপন সম্ভব হয়, আর মাছ না পেলে উনুনে হাঁড়ি ওঠে না বলে জানান জেলে ছত্তার।
গভীর সাগর, উপকূল-সংলগ্ন এলাকা এবং শাখা-প্রশাখা নদীতে তিন ধরনের জেলে মাছ শিকার করেন। ইলিশের ভরা মৌসুম আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিন- এই চার মাসে জেলেরা সারা বছরের আয় নিশ্চিত করেন। কিন্তু মৌসুমের এক মাস পেরিয়ে গেলেও পায়রা নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ ধরা পড়ছে না। দু-একটি মাছ জালে ওঠলেও তা দিয়ে সংসার চলে না বলে জানিয়েছেন জেলেরা।
তাদের দাবি, সাগর মোহনার ডুবোচরই ইলিশ প্রবেশের প্রধান অন্তরায়। ডুবোচরের কারণে ইলিশ উল্টো পথে ফিরে যাচ্ছে। ফলে পায়রা নদীতে ইলিশশিকারি জেলেদের জালে মাছ ওঠছে না।
২০০৭ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে তীব্র ডুবোচরের সৃষ্টি হয়। ফলে জোয়ারের প্রথম ভাগে পায়রা নদীতে পানি প্রবেশের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়। অথচ ওই সময়ই ইলিশ নদীতে প্রবেশের উপযুক্ত সময়। ডুবোচরে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ইলিশ সাগরে ফিরে যায়। জোয়ারের মধ্যভাগে স্রোত বাড়লেও তখন ইলিশের প্রবেশ কমে যায়।
নলবুনিয়া গ্রামের জেলে আলমগীর হাওলাদার বলেন, ‘ডুবোচর খনন করে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ফিরিয়ে না আনলে পায়রা নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাওয়া যাবে না। জেলেদের রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’
জেলে ছত্তার, লাল মিয়া ও জাহিদ মোল্লা জানান, জোয়ারের প্রথম ভাগে স্রোত কম থাকায় ইলিশ প্রবেশ করতে পারে না। মধ্যভাগে স্রোত বাড়লে কিছু মাছ জালে ধরা পড়ে। তাই পায়রা নদীতে ইলিশ কম পাওয়া যায়।
বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘ডুবোচরের কারণে পায়রা নদীর নাব্যতা কমেছে। এতে জোয়ারের স্রোতের তীব্রতা হ্রাস পাওয়ায় ইলিশ প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। ডুবোচর খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে পারলে ইলিশ প্রবেশ ও প্রজননে বাধা থাকবে না।’
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট নদীকেন্দ্র, চাঁদপুরের অবসরপ্রাপ্ত মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘সাগর মোহনায় নাব্যতা সংকট ও ডুবোচরের কারণে ইলিশের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ইলিশ চলাচলের জন্য গভীর পানির প্রয়োজন। গভীরতা না থাকায় ইলিশ নদীতে প্রবেশ করতে পারছে না। পাশাপাশি তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের গরম পানি ও বর্জ্যও এ সমস্যার জন্য দায়ী।’
বরগুনা-২ (বেতাগী-বামনা-পাথরঘাটা) আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নিযুক্ত করা হয়েছে।
আজ সোমবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, The Bangladesh (Whips) Order, ১৯৭২ (P.O. 64 of 1972) এর Article 3(1) এর বিধান অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি নিম্নবর্ণিত সংসদ-সদস্যকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চীফ হইপ নিযুক্ত করিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পিচ রাইটার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দেশের অন্যতম শীর্ষ বার্তা সংস্থা ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশের (ইউএনবি) সম্পাদক এস এ এম মাহফুজুর রহমান। সোমবার (২ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রেড-১ মর্যাদায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এস এ এম মাহফুজুর রহমানকে অন্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে সকল কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। তাঁর যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান মেয়াদকাল অথবা প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) এই নিয়োগ কার্যকর থাকবে। এই নিয়োগের অন্যান্য শর্তাবলী একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে এবং জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে এস এ এম মাহফুজুর রহমানের দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার রয়েছে। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে ইউএনবির সম্পাদক হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ইউএনবিতেই সহ-সম্পাদক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়েছিল। অভিজ্ঞ এই সংবাদকর্মী জাতীয় প্রেস ক্লাবের একজন সম্মানিত সদস্য। তাঁর এই নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের যোগাযোগ ও বক্তৃতা তৈরির প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও মানসম্মত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।