গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদকে সন্ত্রাসী আখ্যা দেওয়ায় লালমনিরহাট জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাপসী তাবাসসুম ঊর্মিকে এবার স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘জাস্টিস ফর জুলাই’ নামক একটি প্ল্যাটফরম। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে আজ সোমবার এ উপলক্ষ্যে অয়োজিত এক গণবিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে এ দাবি তোলা হয়।
আয়োজকরা বলছেন, তাপসী তাবাসসুম ঊর্মির স্থায়ী বহিষ্কার দাবি করে আজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা, রাজশাহী, খুলনা, সাতক্ষীরা, নোয়াখালী, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের ১৫টি জেলায় তাৎক্ষণিকভাবে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, আহতদের সুচিকিৎসা ও গণহত্যার বিচারের দাবিকে সামনে রেখে জাস্টিস ফর জুলাই সংগঠনটি গঠিত হয়েছে।
‘জাস্টিস ফর জুলাই’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কর্তৃক আয়োজিত এই গণবিক্ষোভে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট তাপসীর চাকরি থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান। তারা বলেছেন, জুলাই স্পিরিটের বিরুদ্ধে যারাই অবস্থান নিবে, তারা গণশত্রু। এমন কেউই প্রশাসনের কোনো পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না।
বিক্ষোভে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, আমরা ম্যাজিস্ট্রেট উর্মীকে বিচারের আওতায় দেখতে চাই। সেই সাথে ফ্যাসিবাদের দোসর যারা এখনো সরকারের মধ্যে থেকে শহীদের এবং জুলাই বিপ্লবকে অপমানিত করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছেন সকলকে চাকরিচ্যুত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।
তিনি আরও বলেন, সরকারের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ফ্যাসিবাদের দোসররা যাতে নতুন কোনো ষড়যন্ত্র না করতে পারে এবং বিপ্লবকে ব্যর্থ প্রমাণ না করতে পারে, সে ব্যাপারে সরকারের বলিষ্ঠ ভূমিকা দেখতে চাই।
বিক্ষোভে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জাস্টিস ফর জুলাইয়ের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ফাইজা তাবাসসুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মুস্তাকিম, ইসরাত জাহান গয়না, ফাতিমা তাসনিম জুমা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আম্মার বিন আসাদ প্রমুখ।
আসন্ন ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, গণহত্যা দিবসের গাম্ভীর্য ও শোকাবহ পরিবেশ বজায় রাখতে ২৫শে মার্চ রাত ১০টা থেকে ১০টা ১ মিনিট পর্যন্ত সারাদেশে এক মিনিটের জন্য প্রতীকী ‘ব্ল্যাকআউট’ পালন করা হবে। তবে কেপিআই (কী পাওয়ার ইন্সটলেশন) ও জরুরি সেবা সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো এই কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।
বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে এবারের স্বাধীনতা দিবসে বর্ণিল আলোকসজ্জার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২৫শে মার্চ রাতে কোনোভাবেই আলোকসজ্জা করা যাবে না এবং ২৬শে মার্চের জাতীয় দিবসটি উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করা হলেও তাতে জাঁকজমকপূর্ণ আলোকসজ্জা এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই আদেশ বাস্তবায়নে বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কড়া নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে দেশের সকল স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে নতুন প্রজন্মের কাছে ২৫শে মার্চের কালরাত ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরাই হবে এসব অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। এছাড়া ওই দিন দুপুর ১২টা থেকে সারা দেশের সিটি করপোরেশন এলাকার ডিজিটাল মিনিপোলগুলোতে গণহত্যা সংক্রান্ত দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। পুলিশের আইজিপি এবং জেলা প্রশাসকদের এই কর্মসূচিগুলো নির্বিঘ্ন করার জন্য সমন্বয় করে কাজ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
১৯৭১ সালের সেই কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতায় শহীদদের স্মরণে বিশেষ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতাও পালিত হবে। ২৫শে মার্চ বাদ জোহর অথবা সুবিধাজনক সময়ে দেশের সকল মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের সার্বিক তত্ত্বাবধান করবে। সভা শেষে জানানো হয়, জাতীয় গুরুত্বের এই দুই দিবসকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পালন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সারাদেশে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকবে। কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোরও সিদ্ধান্ত হয়েছে এই সভায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আগামী ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এবার সারাদেশে কোনো ধরনের আলোকসজ্জা করা হবে না। মূলত জ্বালানিসংকট মোকাবিলা এবং সরকারি কৃচ্ছ্রসাধনের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালন এবং ঈদুল ফিতর ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।’
রোববার (৮ মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পর্যালোচনা ও প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রথাগতভাবে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় বর্ণিল আলোকসজ্জা করা হলেও বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে তা পরিহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি সংকট যাতে না হয় এবং আমরা যাতে সাশ্রয়ী হতে পারি, সেজন্য দেশব্যাপী কোনো আলোকসজ্জা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
তবে আলোকসজ্জা না থাকলেও দিবসটির গাম্ভীর্য ও মর্যাদা রক্ষায় কোনো ত্রুটি রাখা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তবে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পমাল্য অর্পণসহ সব রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’
আসন্ন ঈদুল ফিতর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সড়কে যানজট ও ভোগান্তি রোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অসন্তোষ সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।’
ঈদের সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঈদের প্রস্তুতি সমন্বয়ে শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপিকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধি এবং সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করবেন, যাতে কোনো বিচ্যুতি না ঘটে।’
সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত মব জাস্টিস ও বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন সহিংস ঘটনা নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা মবের বিষয়ে অত্যন্ত সিরিয়াস। বাংলাদেশ থেকে মব কালচার বিলুপ্ত করা হবে।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা তুলে ধরে তিনি আরও জানান, নরসিংদীতে সংঘটিত অপরাধের ঘটনায় দ্রুততম সময়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য স্থানে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকেও পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।
রাজধানীর অনেক বাজারেই ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট দেখা যাচ্ছে। এখনো খুচরা পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিনের দাম বাড়েনি। কিন্তু ডিলার বা সরবরাহকারী পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ভোক্তাদের খোলা সয়াবিন ও পাম তেল কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে। যুদ্ধের অজুহাত ঈদ সামনে রেখে বোতলজাত সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মহাখালীসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিক্রেতারা জানান, ৫ লিটারের এক বোতল সয়াবিন তেলের গায়ের দাম (এমআরপি) ৯৫৫ টাকা। ডিলারের কাছ থেকে আগে তারা এই তেল ৯৩০ টাকায় কিনতেন, বেচতেন ৯৪০ টাকায়। ১০ টাকা লাভ থাকত। কিন্তু তিন–চার দিন ধরে তারা ৫ লিটারের বোতল কিনছেন ৯৫০ টাকায়, বিক্রি করেন ৯৫৫ টাকায়। অর্থাৎ ডিলার পর্যায়ে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। তাতে খুচরা বিক্রেতাদের ৫ টাকা লাভ কমেছে। অন্যদিকে ভোক্তাদেরও আগের তুলনায় ৫–১০ টাকা বেশি দামে সয়াবিন তেল কিনতে হচ্ছে।
বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ–সংকটের মধ্যে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে খোলা সয়াবিন তেল কেজি আকারে বিক্রি হয়। গত চার দিনের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে।
কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১৯৮–২০০ টাকায়। চার দিন আগে এ দাম ছিল ১৯৩–১৯৫ টাকা। প্রতি কেজি খোলা পাম তেল বিক্রি হয়েছে ১৭০ টাকায়, যা চার দিন আগে ছিল ১৬৫ টাকা।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, যুদ্ধের সুযোগ নিতে কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ডিলার পর্যায়ে বেড়েছে বোতলজাত তেলের দাম। এতে খোলা তেলের বাজারে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া ক্রেতাদের অনেকেই যুদ্ধের আতঙ্কে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কিনছেন। এভাবে যদি আরও দু-তিন দিন তেলের বাজারে টানাপড়েন থাকে, তাহলে ভোক্তা পর্যায়ে দাম আরও বাড়তে পারে।
তবে আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কেউ কেউ বলছেন, ডিজেল সংকটে তেলবাহী পরিবহন পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়ছে। এ কারণে তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটছে। তাছাড়া বিশ্ববাজারের সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম বেড়েছে। এর কিছুটা প্রভাব পড়েছে বাজারে।
সরবরাহ কমার কারণে দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানান ডিলাররা। কোম্পানি পর্যায়ে বাড়েনি, কিন্তু ডিলার পর্যায়ে দাম বেড়েছে কেন জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের তীর ব্র্যান্ডের ডিলার এটিএন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. সেলিম বলেন, তীরের তেলের বেশ সংকট রয়েছে। শনিবার মাত্র ৫০ কার্টন তেল পেয়েছেন তিনি। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে দুই থেকে আড়াইশ কার্টন তেল পেতেন।
সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে টি কে গ্রুপের পরিচালক শফিউল আথহার তাসলিম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পরিবহন সংকটে ভোজ্যতেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। পণ্যবাহী ট্রাক চাহিদামতো ডিজেল পাচ্ছে না। সে জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও ট্রাকের সংকটে বিভিন্ন স্থানে তেল পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। এচাড়াও সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এসব কারণে বাজারে সরবরাহ কিছুটা কম।
খোলা তেলের ব্যাপারে বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বোতলজাত তেলের কয়েক দিন ধরে সংকট চলছে। খোলা তেলের বাজারেও কিছুটা টান রয়েছে। এ কারণে বাজার বাড়তি।
কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ব্যবসায়ীরা সব সময় অজুহাত খোঁজেন। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল পরিবহনে সংকট হলেও এ কারণে ভোগ্যপণ্যের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে কিছুটা হলেও সময় লাগবে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা তার আগেই দাম বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল জলিল জানিয়েছেন, প্রতিদিনই বাজারে তদারকি করা হচ্ছে। দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে জানা নেই। অধিদপ্তরের কয়েকটি টিম পাঠিয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে দেশের সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য মাসিক সম্মানি ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করছে সরকার। আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই একটি পাইলট স্কিমের আওতায় এই সম্মানী প্রদান কার্যক্রম শুরু হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৪ মার্চ সারা দেশে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকার প্রদত্ত মাসিক ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ।
রোববার (৮ মার্চ) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলট স্কিমের আওতায় দেশের ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ (প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে ১টি করে), ৯৯০টি মন্দির (প্রতিটি উপজেলা হতে ২টি করে), ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার (৭২টি উপজেলা হতে ২টি করে) এবং ৩৯৬টি গির্জা (১৯৮টি উপজেলা হতে ২টি করে) নির্বাচন করা হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ধারিত মাসিক ভাতার পরিমাণ হলো: মসজিদ: ইমাম ৫,০০০ টাকা, মুয়াজ্জিন ৩,০০০ টাকা এবং খাদেম ২,০০০ টাকা। মন্দির: পুরোহিত ৫,০০০ টাকা এবং সেবাইত ৩,০০০ টাকা। বৌদ্ধ বিহার: বিহার অধ্যক্ষ ৫,০০০ টাকা এবং বিহার উপাধ্যক্ষ ৩,০০০ টাকা। গির্জা: যাজক ৫,০০০ টাকা এবং সহকারী যাজক ৩,০০০ টাকা।
এছাড়া প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহায় ১ হাজার টাকা করে এবং দুর্গাপূজা, বৌদ্ধ পূর্ণিমা ও বড়দিনে সংশ্লিষ্ট পুরোহিত, সেবাইত, অধ্যক্ষ ও যাজকদের ২ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা প্রদান করা হবে।
পাইলট স্কিম বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে ২৭ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা প্রয়োজন হবে। আগামী ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যে নির্বাচিত উপকারভোগীদের নিকট সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে এই সম্মানি পৌঁছে দেওয়া হবে।
দেশের সকল উপাসনালয়কে এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হলে বার্ষিক আনুমানিক ৪,৪০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। সরকার আগামী ৪ (চার) অর্থবছরে মোট চারটি ধাপে এটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১,১০০ কোটি, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ২,২০০ কোটি, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৩,৩০০ কোটি এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গ ৪,৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে।
ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য স্থায়ীভাবে মাসিক সম্মানি প্রদানের লক্ষ্যে একটি নীতিমালা প্রণয়নের জন্য ৬ (ছয়) সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত সচিবকে (বাজেট/সংস্থা) সদস্য সচিব করে গঠিত এই কমিটিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকসহ অর্থ বিভাগ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে।
এই কমিটির প্রধান লক্ষ্যগুলো হলো—দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খতিব-ইমাম ও ধর্মীয় প্রধানদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বৃদ্ধি এবং তাদের কর্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিধিমালা বা নীতিমালা প্রণয়ন করা।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন দেশে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া বাংলাদেশের চার রাষ্ট্রদূত ও যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত হাইকমিশনারকে প্রত্যাহার করেছে সরকার। রোববার (৮ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, পর্তুগাল, পোল্যান্ড, মেক্সিকো ও মালদ্বীপে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. মাহফুজুল হক, মো. ময়নুল ইসলাম, এম. মুশফিকুল ফজল (আনসারী) এবং মো. নাজমুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
প্রত্যাহারের পর এসব রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদরদপ্তর ঢাকায় বদলি করা হয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কোনো ধরনের স্বচ্ছতার পরোয়া না করেই। সেই সরকার তথ্য কমিশনকে দেড় বছর প্রতিষ্ঠিত হতে দেয়নি, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। রোববার (৮ মার্চ) দুপুর ১২টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তথ্য কমিশন গঠন ও তথ্য অধিকার আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে তথ্য অধিকার ফোরাম।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, হয়তোবা অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো কিছু গোপন করার মতো ছিল। যে কারণে পুরো চর্চাটাই ছিল অন্ধকারের মধ্যে। গোপনীয়তার মধ্যে সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণীত হতে দেখেছি আমরা।
আওয়ামী লীগ সরকারে প্রসঙ্গে টেনে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তথ্য কমিশনকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল, আর সুযোগ থাকার পরও অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে কোনো দৃষ্টান্ত দেখাতে পারেনি।
সুশানের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, তথ্য অধিকার আইন দিয়ে যেকোনো তথ্য পাওয়া সম্ভব, যা সরকারি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। তথ্যের অধিকার মানে সত্য জানার অধিকার। নাগরিকদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অধিকার কারও নাই। গত ১৬ বছরে দেশে গণতন্ত্র অনুপস্থিত ছিল। রাজনৈতিক দলকে যেন সম্পৃক্ত করা হয়, যেন আমরা তাদের হিসেব নিকেশের বিষয়ে জানতে পারি। Politics
বিলস-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, তথ্য প্রবাহ ঠিক থাকলে এই যে বাংলাদেশ থেকে এতো টাকা লুট হলো সেটা কমানো যেত। তথ্য কমিশনের ক্ষেত্রে সরকারের জবাবদিহিতা দরকার যে কাকে ওই আসনে বসাবে সেটি যেন দলীয় না হয়। আর সরকার পরিবর্তন হলে সব পরিবর্তন করতে হবে এই সংস্কৃতিও পরিবর্তন দরকার।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক এবং তথ্য অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক শাহীন আনাম, মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)-এর নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান ও নাগরিক উদ্যোগ-এর প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেনসহ আরও অনেকে।
ভারতের ঋণ সহায়তায় বাংলাদেশে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন বড় প্রকল্পে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, সেগুলো সমাধানের আশ্বাস দিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, দুই দেশের যৌথ প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে সামগ্রিকভাবে উভয় পক্ষই সন্তুষ্ট, তবে যেসব বড় প্রকল্পে সমস্যা রয়েছে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে।
রোববার (৮ মার্চ) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানিয়েছেন।
প্রণয় ভার্মা বলেন, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে তার আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের আর্থিক খাতে সহযোগিতা বাড়ানো, অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ভারতের ঋণ সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, এসব প্রকল্পের অগ্রগতি সন্তোষজনক। বড় প্রকল্পে কিছু প্রাথমিক জটিলতা থাকলেও সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামগ্রিকভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে দুই পক্ষই সন্তুষ্ট বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের অগ্রাধিকার বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসা সহজীকরণ, করব্যবস্থার সংস্কার এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
ভারতের ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামোর অভিজ্ঞতার কথাও অর্থমন্ত্রীকে জানিয়েছেন বলে জানান প্রণয় ভার্মা। প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত করা যায়, সে বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের উন্নয়ন সহযোগিতা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বাণিজ্য প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সমুদ্র, স্থল ও আকাশপথে বিদ্যমান যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও সহজ করে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ব্যবসা সহজীকরণের জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়া আরও সহজ করা গেলে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়বে। এতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দুই দেশের অর্থনীতিকে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্দর ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও ভবিষ্যতে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রণয় ভার্মা। তিনি বলেন, দুই দেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, নতুন ধারণা, প্রযুক্তি এবং জনগণকেন্দ্রিক সহযোগিতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
রোববার (৮ মার্চ) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজের আদালত দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ৩০ মার্চ গ্রেপ্তারসংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে অভিযোগপত্র দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। তবে তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পাওয়া যায়।
এতে মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, এসব অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে তিনি বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।
ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পুলিশ। রোববার (৮ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের পুলিশের একটি বিশেষ শাখার সদস্যরা বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে আটক করেন। ভারতের প্রভাবশালী বার্তা সংস্থা এএনআই এক প্রতিবেদনে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর গ্রেপ্তারের খবরটি নিশ্চিত করেছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ শাখার সদস্যরা বনগাঁও সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ফয়সালকে নিজেদের হেফাজতে নেন। ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ফয়সাল করিম মাসুদ আত্মগোপনে ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় হত্যা মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আইনি প্রক্রিয়া থেকে বাঁচতে অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে আত্মগোপন করার চেষ্টা করেছিলেন।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ফয়সালের বিষয়ে বর্তমানে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করার আইনি দিকগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মতো একটি স্পর্শকাতর ও আলোচিত মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় এই মামলার তদন্তে বড় ধরণের অগ্রগতি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বর্তমানে ফয়সাল ভারতীয় পুলিশের কঠোর নজরদারিতে রয়েছেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তাই দাম বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল মজুত করার কোনো প্রয়োজন নেই। রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের ২০তম কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বর্তমানে এক ধরণের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। বিশেষ করে যেসব দেশ থেকে বাংলাদেশে পেট্রোলিয়াম আমদানি করা হয়, সেসব অঞ্চলে সংঘাত চলায় সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার একটি আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার আগাম সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং মজুতকৃত তেলের সঠিক ও সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে সাময়িকভাবে রেশনিং পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হবে তা নিশ্চিত নয় বলেই এই সর্তকতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে দীর্ঘ সময় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়।
জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুত ও আমদানি পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি জানান, সাগরে থাকা জ্বালানিবাহী জাহাজগুলো ইতিমধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছাতে শুরু করেছে। আজ বেলা ১১টার দিকে একটি তেলবাহী জাহাজ বন্দরে নোঙর করেছে এবং আরও একটি জাহাজ দ্রুতই ভেড়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এসব জাহাজ থেকে সরবরাহ শুরু হলে দেশের জ্বালানি মজুত আরও শক্তিশালী হবে এবং পাম্পগুলোতে দেখা দেওয়া ভিড় কমে আসবে। তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে সরকারের নেই, তাই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি না করতে তিনি সবার প্রতি অনুরোধ জানান।
রমজান মাসে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি জানান, পবিত্র রমজান মাসে ইফতার, তারাবি ও সেহরির সময় যাতে কোনোভাবেই লোডশেডিং না হয়, সে বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, মাত্র ২০ দিন আগে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তাঁরা একটি অত্যন্ত ভঙ্গুর জ্বালানি খাত পেয়েছেন, যেখানে আগের সরকারের ৭৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়ে গেছে। এত বড় ঋণের বোঝা ও প্রতিকূলতার মাঝেও বর্তমান সরকার সিস্টেমটিকে সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে।
আলোচনা সভায় সরকারের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের সচেতনতা ও সমর্থন ছাড়া কোনো সরকারের পক্ষেই এই ধরণের সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তাই জনগণকে সচেতনভাবে জ্বালানি ব্যবহার করার এবং কোনো ধরণের গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফারজানা আক্তার রিমির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এবং নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম আলীমসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সব মিলিয়ে সরকারের এই বক্তব্য জ্বালানি বাজার নিয়ে চলমান অস্থিরতা কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. আব্দুস সালাম ব্যাপারীকে তাঁর পদ থেকে অপসারণ করেছে সরকার। এই সিদ্ধান্তের মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রোববার (৮ মার্চ) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওয়াসার শীর্ষ পদে এই রদবদল এবং তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপের ফলে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে মো. আব্দুস সালাম ব্যাপারীর অপসারণের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আগে থেকেই একটি পদত্যাগপত্র প্রস্তুত করে রাখা হয়েছিল, যাতে আজ তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ঢাকা ওয়াসার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নেতৃত্বে এই পরিবর্তনের বিষয়টি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী অবগত রয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। মূলত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে গতিশীলতা এবং স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পদ থেকে অপসারণের রেশ কাটতে না কাটতেই সিআইডির পক্ষ থেকে অর্থ পাচারের অনুসন্ধানের খবরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সিআইডি সূত্রে জানানো হয়েছে, আব্দুস সালাম ব্যাপারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তরের কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য তাদের হাতে এসেছে। এই অনুসন্ধানের মাধ্যমে তাঁর আয়ের উৎস এবং বিদেশে অর্থ পাচারের প্রকৃত চিত্র উদঘাটন করা হবে। তদন্ত কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখছেন যে, ওয়াসার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সাথে এই অবৈধ লেনদেনের কোনো যোগসূত্র আছে কি না।
উল্লেখ্য, বর্তমান সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যে শুদ্ধি অভিযান চলছে, এই অপসারণ তারই একটি অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে। বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন নেতৃত্ব নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সব মিলিয়ে, এক ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাগুলো দেশের সেবা খাতের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এক শক্তিশালী বার্তা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
সারা দেশে কৃষির উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে এক বিশাল কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার। আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে দেশব্যাপী খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া এলাকায় খাল খনন প্রকল্পের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন শেষে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। পরিদর্শনের সময় তাঁর সাথে ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগুরুত্বপূর্ণ ও জনদাবির প্রেক্ষিতে এই বৃহৎ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ১৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী স্বশরীরে উপস্থিত থেকে সাহাপাড়া খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন এবং একই সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারা দেশে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। বিশেষ করে উত্তরের জেলাগুলোতে বর্ষা মৌসুমে যে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, এই খাল খননের ফলে তা স্থায়ীভাবে দূর হবে। এছাড়া খালের পানি সেচ কাজে ব্যবহারের সুযোগ পাবেন কৃষকরা, যা দেশের সামগ্রিক ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। সাহাপাড়া এলাকায় খননযোগ্য এই খালটির দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার।
প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়েও কঠোর বার্তা দিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী। তিনি বলেন, “খাল খনন প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই যাতে দুর্নীতির আশ্রয় বা প্রশ্রয় না দেওয়া হয়, সেদিকে সরকার তীক্ষ্ণ নজর রাখবে। সম্পূর্ণ জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই কাজগুলো অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সাথে সম্পন্ন করা হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন নদীমাতৃক বাংলাদেশের হারানো জলপথগুলো প্রাণ ফিরে পাবে, অন্যদিকে স্থানীয় কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার দেশজুড়ে এই পুনঃখনন প্রকল্পটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচিটি এক জাতীয় আন্দোলনে রূপ নেবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দিনাজপুরের কাহারোল থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা কামনা করেছেন মন্ত্রী। সব মিলিয়ে ১৬ মার্চের এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উত্তরের জনপদে এখন সাজ সাজ রব বিরাজ করছে।
আসন্ন পবিত্র শব-ই-কদর ও ঈদুল ফিতরের নির্ধারিত ছুটির মাঝে থাকা ১৮ মার্চ (বুধবার) একদিনের বিশেষ সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আজ রোববার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। মূলত উৎসবের মৌসুমে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টানা ছুটির সুযোগ করে দিতেই নির্বাহী আদেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে পূর্বনির্ধারিত ছুটির সাথে আরও একদিন যুক্ত হয়ে দেশজুড়ে ঈদের আমেজ দীর্ঘতর হবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে যে, ১৯৯৬ সালের কার্যপ্রণালী বিধিমালা অনুযায়ী অর্পিত ক্ষমতা বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই নির্বাহী আদেশ জারি করেছে। এই আদেশের ফলে দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ওই দিন বন্ধ থাকবে। নাগরিকদের নিরবচ্ছিন্ন উৎসব উদযাপনের কথা বিবেচনায় রেখেই সরকার এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তবে জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেশ কিছু সেবা এই ছুটির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম এবং পরিচ্ছন্নতা সেবা প্রদানকারী কর্মীরা যথারীতি কর্মস্থলে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া টেলিফোন, ইন্টারনেট ও ডাক সেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যমগুলো সচল থাকবে এবং এসকল সেবার সাথে সংশ্লিষ্ট যানবাহনগুলো চলাচলে কোনো বাধা থাকবে না।
চিকিৎসা সেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে যে, হাসপাতাল ও জরুরি স্বাস্থ্য সেবা এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। সকল পর্যায়ের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহনগুলো নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ওই দিন লেনদেনের জন্য খোলা থাকবে কি না, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। অন্যদিকে উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট থেকে পৃথক নির্দেশনা আসবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবের বাড়তি আনন্দ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।