বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
২১ ফাল্গুন ১৪৩২

সেপ্টেম্বরে সড়কে নিভেছে ৪২৬ প্রাণ: প্রতিবেদন

প্রতীকী ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৭ অক্টোবর, ২০২৪ ২১:১৬

সেপ্টেম্বরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৯২টি। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪২৬ জন এবং আহত হয়েছেন ৮১৩ জন। তাদের মধ্যে ৬১ জন নারী, শিশু ৫৩টি। এ সময় ১৬৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন ১৭৯ জন, যা মোট নিহতের ৪২ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ৯৭ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২২ দশমিক ৭৬ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৪ জন, অর্থাৎ ১২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ সময় নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেছে ৮টি, এতে নিহত হয়েছেন ১১ জন, আহত হয়েছেন ৪ জন এবং ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ১৭টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হন এবং আহত হয়েছেন ৯ জন।

আজ সোমবার সকালে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের গণমাধ্যমে পাঠানো সেপ্টেম্বর মাসে সংঘটিত দুর্ঘটনাবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সংগঠনটি। সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণে বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৬২টি জাতীয় মহাসড়কে, ১৪৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৪৭টি গ্রামীণ সড়কে এবং ৩৪টি শহরের সড়কে এবং ৫টি অন্যান্য স্থানে সংঘটিত হয়েছে।

যানবাহনভিত্তিক নিহতের চিত্র

দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৭৯ জন (৪২ শতাংশ), বাসের যাত্রী ২৫ জন (৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ), ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি আরোহী ২২ জন (৫ দশমিক ১৬ শতাংশ), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস আরোহী ২৪ জন (৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান) ৬৩ জন (১৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নছিমন-ভটভটি-আলমসাধু) ৬ জন (১ দশমিক ৪০ শতাংশ) এবং বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা আরোহী ১০ জন (২ দশমিক ৩৪ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনা সংঘটিত সড়কের ধরন

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৬২টি (৪১ দশমিক ৩২ শতাংশ) জাতীয় মহাসড়কে, ১৪৪টি (৩৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৪৭টি (১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে এবং ৩৪টি (৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ) শহরের সড়কে এবং ৫টি (১ দশমিক ২৭ শতাংশ) অন্যান্য স্থানে সংঘটিত হয়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন

দুর্ঘটনাগুলোর ৮২টি (২০ দশমিক ৯১ শতাংশ) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৬৯টি (৪৩ দশমিক ১১ শতাংশ) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৯৪টি (২৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেওয়া, ৪১টি (১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ৬টি (১ দশমিক ৫৩ শতাংশ) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহন

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি, লরি, ড্রামট্রাক, তেলবাহী লরি, রোড রোলার ২৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ। মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্স, পাজেরো ৬ শতাংশ। যাত্রীবাহী বাস ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। মোটরসাইকেল ২৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ। থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান) ১৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নছিমন, ভটভটি, আলমসাধু, চান্দের গাড়ি, মাহিন্দ্র, হ্যালোবাইক) ২ দশমিক ৮৪ শতাংশ। বাইসাইকেল, রিকশা, রিকশা ভ্যান ২ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ৬৩২। (বাস ৯৮, ট্রাক ১০৬, কাভার্ড ভ্যান ১৮, পিকআপ ২১, ট্রাক্টর ১১, ট্রলি ৪, লরি ১০, ড্রাম ট্রাক ৭, তেলবাহী লরি ২, রোড রোলার ১, মাইক্রোবাস ১৬, প্রাইভেটকার ১৫, অ্যাম্বুলেন্স ৫, পাজেরো ২, মোটরসাইকেল ১৭৩, থ্রি-হুইলার ৯৬ (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান, লেগুনা), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ১৮ (নছিমন, ভটভটি, আলমসাধু, চান্দের গাড়ি, মাহিন্দ্র, হ্যালোবাইক), বাইসাইকেল, রিকশা, রিকশা ভ্যান ১৩ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ১৬টি।

দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণ

সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে ভোরে ৫ দশমিক ১০ শতাংশ, সকালে ২৬ শতাংশ, দুপুরে ১৮ দশমিক ৬২ শতাংশ, বিকালে ১৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ, সন্ধ্যায় ৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং রাতে ২৮ দশমিক ৮২ শতাংশ।

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যান

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ৩১ দশমিক ৬৩ শতাংশ, প্রাণহানি ৩০ দশমিক ০৪ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১০ দশমিক ৯৬ শতাংশ, প্রাণহানি ১২ দশমিক ২০ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ১৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ, প্রাণহানি ১৯ শতাংশ, খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ১২ দশমিক ২৪ শতাংশ, প্রাণহানি ১৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ, প্রাণহানি ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ, সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ, প্রাণহানি ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ, রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৬ দশমিক ১২ শতাংশ, প্রাণহানি ৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ ঘটেছে।

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২৪টি দুর্ঘটনায় ১২৮ জন নিহত হয়েছেন। বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম ১৫টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে চট্টগ্রাম জেলায় ৩১টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত হয়েছে। সবচেয়ে কম শরীয়তপুর, পটুয়াখালী, সুনামগঞ্জ ও জামালপুরে। এই চারটি জেলায় কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রাণহানি ঘটেনি। রাজধানী ঢাকায় ২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছে।

নিহতদের পেশাগত পরিচয়

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, পুলিশ সদস্য চার জন, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-মাদরাসার শিক্ষক ১২ জন, পল্লি চিকিৎসক একজন, সাংবাদিক তিন জন, প্রকৌশলী দুজন, বিভিন্ন ব্যাংক-বিমা কর্মকর্তা ও কর্মচারী ৫ জন, বিভিন্ন এনজিও কর্মকর্তা-কর্মচারী ১৪ জন, ওষুধ ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রয় প্রতিনিধি ১৬ জন, স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ১৯ জন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ১১ জন, পোশাক শ্রমিক সাত জন, নির্মাণশ্রমিক চার জন, চাল মিলের শ্রমিক দুজন, প্রতিবন্ধী দুজন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন, ঢাকা কলেজের দুজন ছাত্রসহ দেশের বিভিন্ন স্কুল-মাদ্রাসা ও কলেজের ৫৪ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোও চিহ্নিত করা হয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে। এগুলো হচ্ছে- ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন; বেপরোয়া গতি; চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা এবং অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা; বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা; মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচলে হঠাৎ বাধা পাওয়া; তরুণ-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো; জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা; দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা; বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি ও গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।


স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠান

আপডেটেড ৫ মার্চ, ২০২৬ ১৮:৩৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ পাচ্ছেন প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৫ ব্যক্তি। একইসঙ্গে পাঁচ প্রতিষ্ঠানও এই পুরস্কার পাচ্ছে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রীর আলোকচিত্রী হলেন পাবনার খালেদ হোসেন পরাগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পাবনার কৃতি সন্তান এবং দীর্ঘ তিন দশকের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ফটোসাংবাদিক খালেদ হোসেন পরাগ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অন্য যেকোনো পেশা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগের শর্তে তাঁকে এই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি জাতীয় বেতন স্কেলের গ্রেড-৯ ভুক্ত সুযোগ-সুবিধাসহ প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা তাঁর সন্তুষ্টি অনুযায়ী এই দায়িত্ব পালন করবেন।

নতুন এই দায়িত্বে খালেদ হোসেন পরাগ প্রধানমন্ত্রীর দাপ্তরিক কার্যক্রম, রাজনৈতিক কর্মসূচি, রাষ্ট্রীয় সফর এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আলোকচিত্র ধারণ ও সংরক্ষণের কাজ করবেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন কর্মসূচির ভিজ্যুয়াল ডকুমেন্টেশন এবং আর্কাইভ তৈরির ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। পেশাদার এই আলোকচিত্রীর নিয়োগের খবরে তাঁর জন্মস্থান পাবনাসহ সাংবাদিক মহলে আনন্দের জোয়ার বইছে।

খালেদ হোসেন পরাগের আলোকচিত্র জীবনের পথচলা শুরু হয় ১৯৯৩ সাল থেকে। প্রায় তিন দশকের এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি দৈনিক দিনকাল, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক নির্ভরসহ বিভিন্ন স্বনামধন্য গণমাধ্যমে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। সর্বশেষ তিনি দৈনিক দিনকাল পত্রিকার স্টাফ ফটোগ্রাফার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭৮ সালে পাবনা শহরের এক মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া পরাগ ছোটবেলা থেকেই ক্যামেরার প্রতি এক ধরণের বিশেষ টান অনুভব করতেন। সেই নেশাই পরবর্তীতে তাঁকে পেশাদার আলোকচিত্রীর আসনে বসিয়েছে। ১৯৯৭ সালে পাবনায় তাঁর প্রথম একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘আজকের প্রজন্ম ধারা’ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

ফটোসাংবাদিকতার পাশাপাশি খালেদ হোসেন পরাগ একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক ও সমাজকর্মী। তাঁর হাত ধরেই পাবনায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘আজকের প্রজন্ম ফোরাম’, ‘পাবনা ফটোগ্রাফারস ফোরাম’, ‘পাবনা ফিল্ম সোসাইটি’ এবং ‘পাবনা ইয়াং জার্নালিস্ট ফোরাম’-এর মতো জনপ্রিয় সব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। শুধু তাই নয়, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক জেলা পর্যায়ের প্রথম পত্রিকা ‘প্রযুক্তির সূর্য’ প্রকাশের কৃতিত্বও তাঁর। তিনি সবসময় চেয়েছেন তরুণ প্রজন্মকে সৃজনশীল ও জ্ঞানভিত্তিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে।

তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো বিএনপি ও জিয়া পরিবারের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিরল সব মুহূর্তের সংগ্রহ ও সংরক্ষণ। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘ছবির গল্প বাংলাদেশ’ নামক একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। ২০০৬ সালে প্রকাশিত ‘ছবির গল্প’ এবং পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রামের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ‘দেশনেত্রী’ নামক ফটোডকুমেন্টেশন বই দুটি তাঁকে এক অনন্য পরিচিতি দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করা এই গুণী আলোকচিত্রী এখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত টিমে যুক্ত হয়ে দেশের জন্য নতুন এক দায়িত্বে নামলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তাঁর মেধা ও অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের সঠিক নথিবদ্ধকরণে সহায়ক হবে।


অতিরিক্ত ভাড়া নিলে বাতিল হবে রুট পারমিট: সেতুমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঢাকা থেকে প্রায় দেড় কোটি মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে ঈদযাত্রা সংক্রান্ত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সড়ক পরিবহন, রেল ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

তিনি জানান, সীমিত সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের এই স্থানান্তর একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও অতীতের অভিজ্ঞতায় এবার আরও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

সড়কে চাঁদাবাজির বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মন্ত্রী বলেন, ঈদযাত্রায় সড়কে কোনো ধরনের চাঁদাবাজির সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে তৎপর রয়েছে।

পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের অনৈতিক সুবিধা নেয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সমিতির নামে নিবন্ধিত ফি ছাড়া অন্য কোনো অবৈধ অর্থ আদায় করলে তাৎক্ষণিক কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক টাকাও বেশি নেয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে এসি বাসগুলোর ক্ষেত্রে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের রুট পারমিট বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঈদের আগে যানজট কমাতে পোশাক কারখানার ছুটি ধাপে ধাপে কার্যকর করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। ১৬ মার্চ থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকার গার্মেন্টস ছুটি হবে। এ ছাড়া মহাসড়কের ওপর অস্থায়ী দোকানপাট, যত্রতত্র পার্কিং এবং থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন কাজ করবে। ঈদের আগে ও পরে কয়েক দিন পচনশীল দ্রব্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া ভারী ট্রাক ও লরি চলাচল সীমিত রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সড়কের অবস্থা নিয়ে মন্ত্রী জানান, ঢাকার প্রবেশপথ এবং মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো ঈদের ১০ দিন আগেই সংস্কার সম্পন্ন করার জন্য প্রকৌশলীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। টোল প্লাজায় যানজট কমাতে প্রয়োজনে আগাম টিকিট সিস্টেম চালুর প্রস্তাবও বিবেচনা করছে সরকার। এ ছাড়া নৌপথে সদরঘাটের চাপ কমাতে বসিলা ও কাঞ্চনঘাটে দুটি নতুন অস্থায়ী স্টেশন চালু করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, গার্মেন্টস কর্মীদের যাতায়াত সহজ করতে বিআরটিসির বিশেষ বাস প্রস্তুত রাখা হবে এবং বাস টার্মিনাল ও মহাসড়কে যাত্রী হয়রানি রোধে মোবাইল কোর্টের সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়েছে।

এ ছাড়া রেলওয়ের লেভেল ক্রসিংগুলোতে সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যাতে ক্রসিংয়ের কারণে সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি না হয়।


হাইকোর্টে জামিন পেলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় প্রবীণ সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) তাঁর বিষয়ে ইতিপূর্বে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। উচ্চ আদালতের এই আদেশের ফলে দীর্ঘ কয়েক মাস কারাবাসের পর তাঁর মুক্তির পথ প্রশস্ত হলো।

আদালতে সাংবাদিক আনিস আলমগীরের পক্ষে জামিন আবেদনের শুনানি করেন অ্যাডভোকেট তামান্না ফেরদৌস। এর আগে গত ২২ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন। নিম্ন আদালতে ন্যায়বিচার না পাওয়ায় তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এবং আদালত তাঁর আবেদনের প্রেক্ষিতে কেন জামিন দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন। আজ সেই রুলটি চূড়ান্তভাবে গ্রহণ করে তাঁকে জামিন দেওয়ার আদেশ দেন আদালত।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডির একটি ব্যায়ামাগার থেকে আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁকে উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেই থেকে তিনি টানা কয়েক মাস কারাগারে বন্দি ছিলেন।

সাংবাদিক আনিস আলমগীরের গ্রেপ্তার এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মতো গুরুতর মামলায় তাঁকে অভিযুক্ত করায় সাংবাদিক মহলে সে সময় ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলাটিকে ভিত্তিহীন দাবি করে দীর্ঘ দিন ধরে তাঁর মুক্তি চাওয়া হচ্ছিল। অবশেষে উচ্চ আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে তিনি আইনি স্বস্তি পেলেন। এখন আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুতই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা করছেন তাঁর আইনজীবীরা।


বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি নিজেও বিদ্যুৎ ব্যবহারকে সাশ্রয়ী করতে সচিবালয়ে নিজের কক্ষের অর্ধেক লাইট ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সকল মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, আজ সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে আসেন। তিনি অফিসে এসে নিজের কক্ষের ৫০ শতাংশ লাইটের সুইচ অফ করে দেন এবং এসির বিদ্যুৎ প্রবাহ ২৫ দশমিক ১ মাত্রায় নিয়ে আসেন। এই মাত্রা নিলে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়।

শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রবেশ করেই কক্ষের অর্ধেক লাইট বন্ধ করে দিতে এবং এসির মাত্রা কমিয়ে দিতে বলেন।

সচিবালয়ের ১ নং ভবনটি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। এই দপ্তরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ প্রধানমন্ত্রীর অধীনস্থ বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পরে তাঁর দপ্তরের সব কক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে অর্ধেক লাইট বন্ধ এবং এসির মাত্রা কমানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের সকল মন্ত্রণালয়, সারা দেশে সরকারি অফিস-আদালত, বেসরকারি ভবন, শপিংমল, বিপণি বিতানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

একইসঙ্গে তিনি লাইট কম ব্যবহার করে দিনের বেলা অফিস বা বাড়ি-ঘরের জানালার পর্দা সরিয়ে সূর্যের আলো ব্যবহারের জন্যও সকলকে পরামর্শ দেন।


সরকারের দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতিতে আশার সঞ্চার দেখছে টিআইবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নতুন সরকারপ্রধানের সাম্প্রতিক বেশ কিছু ঘোষণা এবং দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক আশার সঞ্চার করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।

সরকারের সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে টিআইবির পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু সুপারিশ তুলে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন যে, বর্তমান সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে দৃঢ় অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে, তা জনগণের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি প্রধান উল্লেখ করেন যে, নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক মনে হলেও কয়েকজন মন্ত্রীর সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যে জনমনে কিছুটা হতাশা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মনে করেন, কেবল ঘোষণা দিলেই হবে না, বরং দুর্নীতির বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর দৃশ্যমান বাস্তবায়ন জরুরি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান সরকার ও সকল রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং পেশাজীবী সংগঠনকে সম্পূর্ণভাবে দলীয়করণের প্রভাবমুক্ত করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখা না গেলে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন করা সম্ভব নয় বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে টিআইবি বেশ কিছু সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ পেশ করেছে। সংস্থাটি একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন করার পাশাপাশি বিতর্কিত বাহিনী র‍্যাব বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছে।

এ ছাড়াও ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, দলবাজি, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দখলবাজিকে স্বাভাবিক হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার যে অপচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়, তার বিরুদ্ধে সরকারকে অত্যন্ত কঠোর ও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। টিআইবি মনে করে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই অপসংস্কৃতি দূর করা সম্ভব এবং এর মাধ্যমেই প্রকৃত সুশাসন নিশ্চিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে, কেবল শীর্ষ পর্যায়ে নীতি নির্ধারণ করলেই দুর্নীতি কমবে না, বরং তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি দপ্তরগুলোতে সেবার বিনিময়ে ঘুষ বা হয়রানির যে সংস্কৃতি রয়েছে, তা দূর করতে কঠোর তদারকি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানায় সংস্থাটি।

দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের এই অগ্রযাত্রায় তারা সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। বর্তমান সরকারের জন্য এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও এর মাধ্যমেই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথ প্রশস্ত হবে বলে সংস্থাটি বিশ্বাস করে।


প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ৫ মার্চ, ২০২৬ ১১:৪৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই সভায় মন্ত্রিসভার সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীরা অংশগ্রহণ করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টায় সচিবালয়ে প্রবেশ করলে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এই বৈঠকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ সভার পাশাপাশি আজ দিনভর প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও প্রবাসী কল্যাণে গঠিত বিশেষ কমিটির সভায় যোগ দেবেন। এই বৈঠকে জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত চলমান প্রকল্পগুলোর সবশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন তিনি। রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার যে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সভার মাধ্যমে তারই প্রতিফলন ঘটছে।

দুপুরের পর প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে আইসিটি ও প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন প্রাধান্য পাবে। দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারগুলো পরিচালনার জন্য গঠিত কমিটির বিশেষ সভায় সভাপতিত্ব করবেন। দেশের প্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল অবকাঠামো তদারকিতে এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পরবর্তীতে দুপুর ২টায় দক্ষতা বিষয়ক সরকারি সনদ প্রদান ও এর মান নির্ধারণে (প্রমিতকরণ) গঠিত কমিটির বৈঠকে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই নিবিড় তদারকি ও নিয়মিত বৈঠকগুলোর মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতির সঞ্চার হবে। বিশেষ করে প্রবাসী কল্যাণ, আইসিটি এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির ক্ষেত্রে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই আলোচনাগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখবে। দিনভর এসব বৈঠক শেষে বিকেলের দিকে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় ত্যাগের কথা রয়েছে। নবনির্বাচিত সরকারের প্রশাসনিক কাজকে আরও সুসংহত করতে প্রধানমন্ত্রীর এই ধারাবাহিক অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


মধ্যপ্রাচ্য সংকটে অচল আকাশপথ: শাহজালালে ৬ দিনে বাতিল ২১০ ফ্লাইট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তা সংকট ও অস্থিরতার জেরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিপর্যয় অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) একদিনেই আরও ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে, যার ফলে গত ছয় দিনে মোট বাতিলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১০টিতে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ কর্মকর্তা কাওছার মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ায় এই অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বাতিল হওয়া ৩৪টি ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ)। এছাড়া কাতার এয়ারওয়েজ, কুয়েত এয়ারওয়েজ, জাজিরা এয়ারওয়েজ, এমিরেটস ও ফ্লাইদুবাইয়ের ৪টি করে এবং গালফ এয়ার ও ইউএস-বাংলার ২টি করে ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর আগের দিনগুলোতেও ধারাবাহিকভাবে ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি এবং ৪ মার্চ ২৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল। টানা এই ফ্লাইট বাতিলে মধ্যপ্রাচ্যগামী ও সেখান থেকে আসা যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।


জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি সরকারের

* সব উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ * আলোকসজ্জা পরিহার ও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার অনুরোধ * রমজানে জনদুর্ভোগ না হওয়ার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনে নির্দেশনা
আপডেটেড ৫ মার্চ, ২০২৬ ০০:০৭
বিশেষ প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে সারা বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সব উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংকট তৈরি হলে বিকল্প উৎস থেকেও তেল ও গ্যাস আমদানির কথা ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি সাময়িক সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগসমূহ সফল করার জন্য জনগণকে ধৈর্যধারণ করে সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে পবিত্র মাহে রমজানে যাতে জনদুর্ভোগ না হয় সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সব ধরনের আলোকসজ্জ্বা পরিহার করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহার কমিয়ে পাবলিক বাহন ব্যবহারের অনুরাধ জানানো হয়েছে।

বুধবার (৪ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এটি জানানো হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে সারা বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এর ফলে অনিবার্যভাবে দেশের জ্বালানি খাতেও সাময়িক সংকট তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। জ্বালানি সরবরাহ হ্রাস পেতে পারে বা সাময়িক সমন্বয় করার প্রয়োজন হতে পারে, যার প্রভাবে বিদ্যুৎ ও সারের উৎপাদন কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। তাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

খোলাবাজারে ডিজেল, পেট্রোল বিক্রি না করার জন্য ব্যবসায়ীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক হতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও বলা হয়, প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে জ্বালানি পাচার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ইতোমধ্যে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জ্বালানি সংকট পরিস্থিতি মোকাবিলায় গতকাল সকালে জরুরি সভা করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। সভায় জানানো হয়, জ্বালানির সম্ভাব্য উৎসসমূহ থেকে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে ও সঠিক সময়ে জ্বালানির সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার জন্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জ্বালানি সংগ্রহ স্বাভাবিক রাখতে সব উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব, বিপিসির চেয়ারম্যান, পিডিবির চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আমাদের জ্বালানির সরবরাহ চেইনের আপাতত কোনো আশঙ্কা নেই। হরমুজ প্রণালি অফিসিয়ালি বন্ধ করেনি ইরান। যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যায়, মধ্যপ্রাচ্য সংকট আরও দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে আমাদের জ্বালানি আমদানিতে কিছুটা প্রভাব পড়বে। সেই সংকট মোকাবিলায় আমরা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা নিচ্ছি। জ্বালানি তেল, এলপিজি ও এলএনজি আমদানির বিকল্প উৎস নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি।

বিপিসির পরিচালক (অপারেশন ও পরিকল্পনা) ড. এ কে এম আজাদুর রহমান বলেন, আমাদের হাতে এখন ১৫ দিনের মতো জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধের কারণে আমাদের পরিশোধিত জ্বালানি তেলের জন্য সমস্যায় পড়তে হবে না। কারণ আমাদের পরিশোধিত জ্বালানির বেশিরভাগ আমদানি হয় সিঙ্গাপুর, চায়না, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে।

তিনি বলেন, আমাদের অপরিশোধিত ক্রুডগুলো আসে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। এ মাসে এক লাখ টন ক্রুডের একটি চালান আসার কথা রয়েছে। জাহাজটি ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে আসার কথা। তবে মধ্যপ্রাচ্য সংকট দীর্ঘায়িত হলে সারাবিশ্বে এর প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশেও এ প্রভাবের বাইরে নয়।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘বিপিসির ক্রুড অয়েলগুলো আমরা পরিবহন করি। এক লাখ টন ক্রুড লোড করতে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আছে আমাদের চার্টারের একটি জাহাজ। কিন্তু আরামকোতে ইরানের মিসাইল হামলার পর রাস তানুরা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি সরকার। এখন আমাদের জাহাজটিতে ক্রুড লোড করা সম্ভব হয়নি। জাহাজটি এখন রাস তানুরাতে অবস্থান করছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ে ক্রুড না এলে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন ব্যাহত হবে। এতে পুরো জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব তৈরি করবে।’

ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির সহ-মহাব্যবস্থাপক (শিপিং) শাহিনুর তালুকদার বলেন, ‘আমাদের ক্রুড আনার জন্য নর্ডিক পোলাক নামের জাহাজটি রাস তানুরা বন্দরে গেছে। আজকালের মধ্যে এটি লোড হওয়ার কথা ছিল। লোড হলে এটিকে হরমুজ প্রণালি হয়ে আসতে হবে। এখন পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে হবে।’

তবে বর্তমানে মজুত থাকা ক্রুড দিয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারির প্ল্যান্ট আরও এক মাস চালানো যাবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শরীফ হাসনাত।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ৩৮শ থেকে চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। চাহিদার বিপরীতে দৈনিক ২৬শ থেকে তিন হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা। চাহিদার অবশিষ্ট গ্যাস এলএনজির মাধ্যমে আমদানি করতে হয়।

পাইপলাইনের মাধ্যমে গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা, সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন ও শিল্পে এসব গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয়। দেশে গ্যাসের মোট চাহিদার ৩০-৩৫ শতাংশ এলএনজি। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার ও ওমান থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ এলএনজি আমদানি করে। পাশাপাশি বৈশ্বিক স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি কেনে পেট্রোবাংলা।

চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ মাসে ২৩ লাখ ৩৭ হাজার টন এলএনজি আমদানি হয়েছে। এসব এলএনজির ৬৫ শতাংশই এসেছে কাতার থেকে। হরমুজ প্রণালি হয়েই এসব গ্যাস বাংলাদেশে এসেছে।

এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন্স) প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখনো এলএনজিবাহী তিনটি কার্গো পথে রয়েছে। এগুলো হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে এসেছে। এগুলো দিয়ে দুই সপ্তাহ সরবরাহ দেওয়া যাবে। তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহে সমস্যা তৈরি করবে।’


উদ্বেগ বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের

* দুই বাংলাদেশি কর্মীর প্রাণহানি, আহত সাত * আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ, উপসাগরীয় ছয় দেশে কর্মী পাঠানো স্থগিত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্য এখন যুদ্ধের কবলে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশি কর্মীদের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। এখন পর্যন্ত দুই বাংলাদেশি কর্মীর প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে, আহত হয়েছেন আরও সাতজন। আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় বৈদেশিক কর্মসংস্থানের মূল কেন্দ্র উপসাগরীয় ছয়টি দেশে নতুন কর্মী পাঠানো কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) বড় ধরনের ধাক্কার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গালফ কো–অপারেশন কাউন্সিলভুক্ত (জিসিসি) তেলসমৃদ্ধ ছয়টি দেশ—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৪৫ দশমিক ৪০ শতাংশ এসেছে জিসিসিভুক্ত মধ্যপ্রাচ্যের ওই দেশগুলো থেকে।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জিসিসিভুক্ত ছয়টি দেশের মধ্যে সৌদি আরবে প্রায় ২০ লাখ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১০ লাখ, ওমানে ৭ লাখ, কাতারে ৪ লাখ ৫০ হাজার, বাহরাইনে ১ লাখ ৫০ হাজার ও কুয়েতে ১ লাখ ৪০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী আছেন।

আকাশসীমা বন্ধ, যাত্রা অনিশ্চিত: সৌদি আরব, কাতার ও বাহরাইনে বাংলাদেশ মিশন সূত্রে জানা গেছে, চলমান সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, আটকে পড়েছেন বহু কর্মী।

আবার কোনো কোনো দেশে বাংলাদেশের কর্মীদের ভিসা, বিশেষ করে এন্ট্রি ভিসা শেষ হওয়ার পথে, তাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশে নতুন করে কর্মী পাঠানো কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। আবার কেউ কেউ ছুটি বা জরুরি প্রয়োজনে দেশে এসে আটকে গেছেন, এমন কর্মীদের ফিরে যাওয়াও এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, এই দেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে নতুন কর্মীর যাওয়া প্রায় অনিশ্চিত হলেও ভিসা ও ফ্লাইটসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এরই মধ্যে কাতার এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ এক মাস বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্য দেশগুলোও ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে।

যেসব কর্মীর ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, তা কীভাবে সুরাহা করা হবে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট সরকারি এক কর্মকর্তা বলেন, যারা বাংলাদেশ বিমানের টিকিট কেটেছেন, তাদের টিকিট রিশিডিউল করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া অন্যান্য এয়ারলাইনসে যাঁরা টিকিট কেটেছিলেন, তারাও যেন বাংলাদেশের কর্মীদের টিকিট রিশিডিউল করে দেয়, সে ব্যাপারে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মেয়াদোত্তীর্ণ বা মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে থাকা সব ধরনের ভিসার মেয়াদ এক মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কাতার থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস ও সেখানকার গণমাধ্যম দোহা নিউজ জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ সিদ্ধান্ত পরবর্তী এক মাসের জন্য কার্যকর হয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় সময়সীমা আরও বাড়তে পারে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার কাতার সরকার বিদেশি কূটনীতিকদের এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছে, সোমবার কাতার সরকার বিদেশি কূটনীতিকদের জন্য এক ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেছিল। ওই ব্রিফিংয়ে বেশির ভাগ দেশ ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ জানায়। কাতার সরকার ওই অনুরোধ বিবেচনায় নিয়ে এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ এক মাসের জন্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) মোট প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ৭৫৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে জিসিসিভুক্ত ছয়টি দেশ থেকে এসেছে প্রায় ৩৪৪ কোটি টাকা, যা মোট প্রবাসী আয়ের ৪৫ দশমিক ৪০ শতাংশ।

কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি ইলেকট্রনিক সিস্টেমের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে। এর জন্য কোনো ফি দিতে হবে না এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে উপস্থিত হওয়া বা কোনো আবেদন জমা দেওয়ারও প্রয়োজন নেই।

তবে ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে যেসব ভিসার মেয়াদ শেষে হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধের পরই মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাতারের বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের আইনি অবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

প্রবাসী আয়ে জিসিসির অবদান: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জিসিসিভুক্ত ছয়টি দেশের মধ্যে সৌদি আরবে প্রায় ২০ লাখ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১০ লাখ, ওমানে ৭ লাখ, কাতারে ৪ লাখ ৫০ হাজার, বাহরাইনে ১ লাখ ৫০ হাজার ও কুয়েতে ১ লাখ ৪০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী আছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) মোট প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ৭৫৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে জিসিসিভুক্ত ছয়টি দেশ থেকে এসেছে প্রায় ৩৪৪ কোটি টাকা, যা মোট প্রবাসী আয়ের ৪৫ দশমিক ৪০ শতাংশ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সংঘাত দীর্ঘ হলে নতুন কর্মসংস্থান কমে যেতে পারে, পাশাপাশি প্রবাসী আয়ের প্রবাহেও ধীরগতি দেখা দিতে পারে। এতে সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা আছে।


চাঁদাবাজ-অস্ত্রধারীদের তালিকা করে শিগগিরই সারাদেশে অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী দাগি আসামিদের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ সারাদেশে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ঢাকা থেকে শুরু হবে, সারাদেশেই চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী, দাগি আসামিদের তালিকা করা হচ্ছে। নির্মোহ তালিকা করে অভিযান পরিচালনা করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। বুধবার (৪ মার্চ) বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে জনগণের উদ্দেশে বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি দেশের সব জনগণ সহযোগিতা করবেন। আমরা জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই, দেশের শান্তিশৃঙ্খলা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। আশা করি আমরা খুব শিগগিরই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি আজকে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার পরিদর্শনে এসেছিলাম। ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এডিশনাল কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, ডিসি, এডিসি এবং ৫০ থানার ওসিদের সবার সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের সমস্যা শুনেছি এবং আমাদের যে ইনস্ট্রাকশন সেগুলো আমরা জানিয়েছি।

তিনি বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য ও বর্তমান সরকারের প্রধানতম অগ্রাধিকার হচ্ছে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা এবং জনগণে স্বস্তি প্রদান করা এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। সেজন্য পুলিশের ভূমিকা অগ্রগণ্য। আমরা সবাই জানি।

বিগত সরকারের আমলে পুলিশের কালিমা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেহেতু বাংলাদেশ বিগত সময়ে একটা ফ্যাসিস্ট সরকার ব্যবস্থার মধ্যে ছিল। সেই সময় অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশের এই প্রতিষ্ঠানটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই জায়গা থেকে আমরা ক্রমান্বয়ে আজকের এই পর্যায়ে এসেছি। জনমনে যাতে আস্থাটা আমরা সৃষ্টি করতে পারি।

তিনি দাবি করে বলেন, পুলিশের যে ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল সেই ভূমিকায় আমরা আবার অবতীর্ণ হয়েছি এবং মানুষ যাতে মনে করে পুলিশ সত্যিকারভাবে জনগণের বন্ধু এবং সেই হিসেবে আমরা পুলিশ ফোর্সকে পরিচালিত করবো। আমি সবার মধ্যে তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখতে পেয়েছি তারা সবাই সংকল্পবদ্ধ। দেশ ও জাতির কল্যাণে তারা যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত এবং তাদের প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের কপালে যে অতীতে কালিমা লেপন করে দেওয়া হয়েছিল সেজন্য তারা নিজেরা দায়ী নয়। একটা ফ্যাসিবাদী রেজিমের কারণে কিছু সংখ্যক লোক সেই কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। যার দোষটা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানের উপরে এসে পড়েছে। সেজন্য প্রতিষ্ঠান দায়ী নয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই পুলিশ প্রতিষ্ঠানকে আমাদের এমনভাবে দাঁড় করাতে হবে যাতে প্রাতিষ্ঠানিক সিস্টেমে সবাই কাজ করে, এখানে যেন কোনো ব্যক্তি সিস্টেম গড়ে না ওঠে। রুল অব ল’ আমরা প্রতিষ্ঠা করব এবং পুলিশ আইনানুগভাবেই চলবে। এখানে কোনো ব্যক্তির স্বৈরতান্ত্রিক কোনো নির্দেশ পালিত হবে না। আইন যেভাবে বলে সেভাবেই যাবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেভাবে দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার সঙ্গে স্ব স্ব বিভাগ পরিচালিত করবে। তারা সেই সংকল্প আজকে প্রকাশ করেছে। আমি তাদের জনগণের পক্ষে বর্তমান সরকারের যে আইন শাসন প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি সেগুলো স্মরণ করে দিয়েছি। তাদের কাছে আমি আশা করি, তারা জনগণের পক্ষে দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে তাদের কাজ চালিয়ে যাবে।

মতবিনিময় সভায় পুলিশের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এসময় উপস্থিত ছিলেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির, ডিএমপি কমিশনার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. সারওয়ারসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


ঈদে টানা সাতদিন ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঘরমুখী মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ১৮ মার্চ নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিসভা বৈঠকে ছুটির বিষয়টি অনুমোদন দেওয়ার কথা রয়েছে। ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণা করা হলে ঈদুল ফিতরে টানা সাত দিন ছুটি পাবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

চলতি বছর রমজান মাস ৩০ দিন ধরে ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের সাধারণ ছুটি নির্ধারণ করে রেখেছে সরকার। ঈদুল ফিতরের আগে-পরে ১৯ ও ২০ মার্চ এবং ২২ ও ২৩ মার্চ চার দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা আছে।

ঈদের ছুটি শুরুর আগে ১৭ মার্চ শবে কদরের সরকারি ছুটি। এরপর ১৮ মার্চ অফিস খোলা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ১৮ মার্চ নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণার প্রস্তাব করেছে। আজকের মন্ত্রিসভা বৈঠকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হবে বলে একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। বুধবার (৪ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এই দাবি জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঈদকে ঘিরে প্রায় দেড় কোটি মানুষ রাজধানী ছাড়বে। কিন্তু গণপরিবহন-সংকট, স্টেশন ও সড়ক অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে স্বল্প সময়ে এত বিপুল যাত্রীর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ১৮ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হলে মানুষ ধাপে ধাপে গ্রামে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে একসঙ্গে চাপ কমবে, সড়ক দুর্ঘটনা ও ভোগান্তি কমবে।

১৮ মার্চ নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হলে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা সাত দিন ঈদের ছুটি পাবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ঈদের ছুটি শেষে ২৪ ও ২৫ মার্চ অফিস খোলা থাকবে। এরপর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের সাধারণ ছুটি রয়েছে। ২৭ ও ২৮ মার্চ শুক্র-শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ঈদের ছুটির পরেও টানা তিন দিনের ছুটি পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।


বাংলাদেশের নির্বাচন প্রত্যাশার চেয়েও বেশি শান্তিপূর্ণ হয়েছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা সফররত মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর বলেছেন, নির্বাচন ঘিরে ওয়াশিংটন যে প্রত্যাশা করেছিল, তার চেয়েও বেশি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘পল কাপুর স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, ওয়াশিংটনে আমার সফরের সময় বলেছিলাম, আমরা নির্বাচনকে উৎসবমুখর করতে চাই। তখন তারা ভেবেছিলেন এটি আদৌ সে রকম হবে কিনা। পরে তারা দেখেছেন যে, এটি সত্যিই উৎসবমুখর নির্বাচনে পরিণত হয়েছে।’

খলিলুর আরো বলেন, বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতও অনুরূপ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বলেন, কিছু ভোটকেন্দ্রে মেলার মতো পরিবেশ ছিল।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচনে বিপুল বিজয় লাভ করেছে।

তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছে। নির্বাচনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তারেক রহমানকে একটি অভিনন্দনপত্র পাঠিয়েছিলেন।

খলিলুর রহমান বলেন, তিনি পল কাপুরকে সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন এবং জাতীয় স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রগতি লাভ করতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রাখার ঢাকার কৌশল তুলে ধরেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং হতাহতের সংখ্যা কমিয়ে আনা ও আরো আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা প্রতিরোধে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, বৈঠকে প্রতিরক্ষার বিষয়টি আলোচনায় আসেনি এবং জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্ট (জিএসওএমআইএ) ও অ্যাকুইজিশন ক্রস-সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট (এসিএসএ)-এর উল্লেখ করা হয়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততাসহ বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করার বিষয়ে উভয় দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

পল কাপুর শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও উৎসবমুখর সাধারণ নির্বাচন হিসেবে বর্ণনা করে নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানান এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অব্যাহতভাবে আরো শক্তিশালী হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

তিনি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে রিসিপ্রোকাল ট্রেড এগ্রিমেন্টের বিধানসমূহ বাস্তবায়নের গুরুত্বও তুলে ধরেন।

আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যুও অন্তর্ভুক্ত ছিল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী অব্যাহত মানবিক সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান এবং সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা কামনা করেন।

উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেছে, নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংলাপ আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ককে আরো গভীর করবে।

বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, পল কাপুর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন।


banner close