রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৯ ফাল্গুন ১৪৩২

সেপ্টেম্বরে সড়কে নিভেছে ৪২৬ প্রাণ: প্রতিবেদন

প্রতীকী ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৭ অক্টোবর, ২০২৪ ২১:১৬

সেপ্টেম্বরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৯২টি। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪২৬ জন এবং আহত হয়েছেন ৮১৩ জন। তাদের মধ্যে ৬১ জন নারী, শিশু ৫৩টি। এ সময় ১৬৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন ১৭৯ জন, যা মোট নিহতের ৪২ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ৯৭ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২২ দশমিক ৭৬ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৪ জন, অর্থাৎ ১২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ সময় নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেছে ৮টি, এতে নিহত হয়েছেন ১১ জন, আহত হয়েছেন ৪ জন এবং ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ১৭টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হন এবং আহত হয়েছেন ৯ জন।

আজ সোমবার সকালে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের গণমাধ্যমে পাঠানো সেপ্টেম্বর মাসে সংঘটিত দুর্ঘটনাবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সংগঠনটি। সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণে বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৬২টি জাতীয় মহাসড়কে, ১৪৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৪৭টি গ্রামীণ সড়কে এবং ৩৪টি শহরের সড়কে এবং ৫টি অন্যান্য স্থানে সংঘটিত হয়েছে।

যানবাহনভিত্তিক নিহতের চিত্র

দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৭৯ জন (৪২ শতাংশ), বাসের যাত্রী ২৫ জন (৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ), ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি আরোহী ২২ জন (৫ দশমিক ১৬ শতাংশ), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস আরোহী ২৪ জন (৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান) ৬৩ জন (১৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নছিমন-ভটভটি-আলমসাধু) ৬ জন (১ দশমিক ৪০ শতাংশ) এবং বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা আরোহী ১০ জন (২ দশমিক ৩৪ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনা সংঘটিত সড়কের ধরন

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৬২টি (৪১ দশমিক ৩২ শতাংশ) জাতীয় মহাসড়কে, ১৪৪টি (৩৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৪৭টি (১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে এবং ৩৪টি (৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ) শহরের সড়কে এবং ৫টি (১ দশমিক ২৭ শতাংশ) অন্যান্য স্থানে সংঘটিত হয়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন

দুর্ঘটনাগুলোর ৮২টি (২০ দশমিক ৯১ শতাংশ) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৬৯টি (৪৩ দশমিক ১১ শতাংশ) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৯৪টি (২৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেওয়া, ৪১টি (১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ৬টি (১ দশমিক ৫৩ শতাংশ) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহন

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি, লরি, ড্রামট্রাক, তেলবাহী লরি, রোড রোলার ২৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ। মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্স, পাজেরো ৬ শতাংশ। যাত্রীবাহী বাস ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। মোটরসাইকেল ২৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ। থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান) ১৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নছিমন, ভটভটি, আলমসাধু, চান্দের গাড়ি, মাহিন্দ্র, হ্যালোবাইক) ২ দশমিক ৮৪ শতাংশ। বাইসাইকেল, রিকশা, রিকশা ভ্যান ২ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ৬৩২। (বাস ৯৮, ট্রাক ১০৬, কাভার্ড ভ্যান ১৮, পিকআপ ২১, ট্রাক্টর ১১, ট্রলি ৪, লরি ১০, ড্রাম ট্রাক ৭, তেলবাহী লরি ২, রোড রোলার ১, মাইক্রোবাস ১৬, প্রাইভেটকার ১৫, অ্যাম্বুলেন্স ৫, পাজেরো ২, মোটরসাইকেল ১৭৩, থ্রি-হুইলার ৯৬ (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান, লেগুনা), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ১৮ (নছিমন, ভটভটি, আলমসাধু, চান্দের গাড়ি, মাহিন্দ্র, হ্যালোবাইক), বাইসাইকেল, রিকশা, রিকশা ভ্যান ১৩ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ১৬টি।

দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণ

সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে ভোরে ৫ দশমিক ১০ শতাংশ, সকালে ২৬ শতাংশ, দুপুরে ১৮ দশমিক ৬২ শতাংশ, বিকালে ১৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ, সন্ধ্যায় ৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং রাতে ২৮ দশমিক ৮২ শতাংশ।

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যান

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ৩১ দশমিক ৬৩ শতাংশ, প্রাণহানি ৩০ দশমিক ০৪ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১০ দশমিক ৯৬ শতাংশ, প্রাণহানি ১২ দশমিক ২০ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ১৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ, প্রাণহানি ১৯ শতাংশ, খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ১২ দশমিক ২৪ শতাংশ, প্রাণহানি ১৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ, প্রাণহানি ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ, সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ, প্রাণহানি ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ, রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৬ দশমিক ১২ শতাংশ, প্রাণহানি ৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ ঘটেছে।

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২৪টি দুর্ঘটনায় ১২৮ জন নিহত হয়েছেন। বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম ১৫টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে চট্টগ্রাম জেলায় ৩১টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত হয়েছে। সবচেয়ে কম শরীয়তপুর, পটুয়াখালী, সুনামগঞ্জ ও জামালপুরে। এই চারটি জেলায় কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রাণহানি ঘটেনি। রাজধানী ঢাকায় ২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছে।

নিহতদের পেশাগত পরিচয়

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, পুলিশ সদস্য চার জন, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-মাদরাসার শিক্ষক ১২ জন, পল্লি চিকিৎসক একজন, সাংবাদিক তিন জন, প্রকৌশলী দুজন, বিভিন্ন ব্যাংক-বিমা কর্মকর্তা ও কর্মচারী ৫ জন, বিভিন্ন এনজিও কর্মকর্তা-কর্মচারী ১৪ জন, ওষুধ ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রয় প্রতিনিধি ১৬ জন, স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ১৯ জন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ১১ জন, পোশাক শ্রমিক সাত জন, নির্মাণশ্রমিক চার জন, চাল মিলের শ্রমিক দুজন, প্রতিবন্ধী দুজন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন, ঢাকা কলেজের দুজন ছাত্রসহ দেশের বিভিন্ন স্কুল-মাদ্রাসা ও কলেজের ৫৪ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোও চিহ্নিত করা হয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে। এগুলো হচ্ছে- ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন; বেপরোয়া গতি; চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা এবং অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা; বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা; মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচলে হঠাৎ বাধা পাওয়া; তরুণ-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো; জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা; দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা; বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি ও গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।


প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে থেকে পাঁচ নারীসহ আটক ৬

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গুলশানে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া পাঁচজন নারী ও একজন পুরুষকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তারা সহযোগিতার আবেদন নিয়ে সেখানে আসেন। দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা তাদের সরে যেতে অনুরোধ করেন। তবে তারা স্থান ত্যাগে অনড় থাকলে বিষয়টি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) থেকে গুলশান থানা-কে জানানো হয়।

পরে পুলিশ গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসে।

ওসি রাকিবুল হাসান বলেন, তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহায়তা চাওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছিলেন। নিরাপত্তা সদস্যরা বুঝিয়ে সরানোর চেষ্টা করলেও তারা সরে যাননি। পরে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে আসে।

থানায় নেওয়ার পর তাদের ইফতার করানো হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরিবারের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।


যাত্রাবাড়ীতে দায়িত্ব পালনকালে ছুরিকাঘাতে পুলিশ কনস্টেবল আহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন কুতুবখালী পকেট গেট চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকালে দুই দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে মো. শাহ আলম (২৮) নামে এক পুলিশ কনস্টেবল গুরুতর আহত হয়েছেন।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলের দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে এবং পরবর্তীতে সহকর্মীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। হামলার শিকার শাহ আলম বর্তমানে যাত্রাবাড়ী থানায় কর্মরত আছেন এবং ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি জানান, “ঘটনার সময় আমি যাত্রাবাড়ী কুতুবখালী পকেট গেটে চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছিলাম। এ সময় দুজন অজ্ঞাত ব্যক্তির কাছে দুটি ব্যাগ ছিল। আমি সেটি তল্লাশি করতে চাইলে কোনো কিছু বোঝার আগেই তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমার ঘাড়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়।” বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, “আজ বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে ঘাড়ে জখম অবস্থায় ওই পুলিশ সদস্যকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে জরুরি বিভাগের অপারেশন থিয়েটারে তার চিকিৎসা চলছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।”


দুর্বল বলে কাউকে আঘাত করবেন না: গয়েশ্বর

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রশাসনকে উদ্দেশ করে বলেছেন, দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যকে খুশি করা প্রশাসনের কাজ নয়। হাসিনা দীর্ঘ ১৭ বছরে প্রশাসনকে দলীয়করণ করা হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি দেখতে চান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কেরানীগঞ্জের মির্জাপুরে নিজ বাসভবনে দক্ষিণ শাখা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, তিনি মন্ত্রী হওয়ার জন্য রাজনীতি করেননি। কেউ তাকে সান্ত্বনা দিতে এলে সেটিকে অপমান হিসেবে নেবেন। তিনি জনগণের প্রতিনিধি হয়ে মানুষের কথা বলার জন্য নির্বাচন করেছেন। প্রশাসন যদি কাউকে খুশি করতে আইনের বাইরে যায়, তাহলে তিনি সংসদে তার বিরুদ্ধে কথা বলবেন বলেও সতর্ক করেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিপুল সংখ্যক ব্যাজ বিতরণ করা হলেও প্রত্যাশিত ভোট পাওয়া যায়নি। নিজেদের পরিবার ও সমর্থকদের ভোট নিশ্চিত করতে না পারার বিষয়েও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন কেন্দ্রে ফলাফল সন্তোষজনক হয়নি বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, দুর্বল মনে করে কাউকে আঘাত করা যাবে না। দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। অতীতে প্রশাসন ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নির্দেশনা দিয়ে বলেন, থানার কমিটির অনুমতি ছাড়া কেউ থানায় কোনো কাজে যাবেন না।

সভায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবুসহ স্থানীয় নেতারা।


১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

আগামী ১২ মার্চ অথবা এর দুই একদিন আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে পারে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে আগামী মাসের ১২ মার্চ অথবা এর দুই একদিন আগে। এই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও জানান, অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশ এবং শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে।

এরই মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংসদ নেতা হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন।

সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শের ভিত্তিতে তিনি তা করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী, পুরোনো সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন সংসদের অধিবেশন বসে। বিগত তিনটি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। দ্বাদশ সংসদের সদস্যরা ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি শপথ নিলেও প্রথম অধিবেশন বসেছিল ৩০ জানুয়ারি, কারণ একাদশ সংসদের মেয়াদ শেষ হয়েছিল ২৯ জানুয়ারি। এবার সংসদ না থাকায় অধিবেশন শুরুতে অপেক্ষা কম হবে।

উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফলাফল ঘোষণা হয়েছে ২৯৭টির। এর মধ্যে বিএনপি ২০৯টি এবং তাদের জোটের তিন শরিক দল তিনটি আসনে জয়ী হয়েছে। স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে। তাদের ১১ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসনে জয়ী হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। এই স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বিএনপির বিদ্রোহী বলে জানা গেছে।


ঢাকাসহ ছয় বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী সোমবার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং কয়েকটি স্থানে বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-একটি জায়গায় হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। ঢাকাসহ ছয় বিভাগের কিছু এলাকায় এই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

মঙ্গলবার বৃষ্টির বিস্তার আরও বাড়তে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। বুধবার দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির প্রভাবে ওই দিন থেকে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ঘনীভূত হতে পারে। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বর্তমানে বিহার ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে।

এদিকে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে বৃষ্টিপাত শুরু হলে তাপমাত্রা কমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


৫২'র ভাষা শহীদদের প্রতি বিজিবি মহাপরিচালকের শ্রদ্ধা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন।

বিজিবি মহাপরিচালক শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহরে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ১৯৫২ সালে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে প্রাণ উৎসর্গকারী জাতির বীর শহীদদের স্মরণে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এ সময় বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও অন্যান্য পদবীর সৈনিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি: নজরুল ইসলাম খান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। বিশ্বের বহু দেশে এত বড় তরুণ জনগোষ্ঠী নেই। তাদের দক্ষতা, নৈতিকতা ও চিন্তাশক্তি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। জনসংখ্যাকে সমস্যা না ভেবে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হবে।

শনিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত নির্বাচনি বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ভালো চাওয়া স্বাভাবিক, তবে বাস্তবতা বিবেচনায় যা সম্ভব তা অর্জনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রতিষ্ঠান ধ্বংস, দলীয়করণ ও দুর্নীতির বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, আমরা খুব ভালো চাই, আরও ভালো চাই। এটি প্রয়োজন, এটি স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবতা বিবেচনা করেই যা সম্ভব, সেটাই অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। বাস্তবায়নের দায় কারও একার নয়, সহযোগিতা ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দলীয়করণ, আত্মীয়করণ, দুর্নীতি, অনাচার এবং অযোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই।

যুবসমাজের হতাশা প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, অনেকের মনে কষ্ট আছে। তরুণদের আক্ষেপ দূর করতে হবে। একা কিছু সম্ভব নয়, সবাইকে মিলেই কাজ করতে হবে। নইলে তাদের ন্যায্য আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ থেকে যাবে।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনি শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। কষ্ট করেছেন এবং অপেক্ষা করতে প্রস্তুত। যদি দেশ, সহকর্মী ও সন্তানরা সফল হয়, সেটাই তাঁর বড় প্রাপ্তি। এটি একদিনের কাজ নয়, তবে এটি অনিবার্য কাজ।

তিনি বলেন, তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের দক্ষতা ও চিন্তাকে সংগঠিতভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে। জনসংখ্যাকে সমস্যা না ভেবে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হবে।

পানি ব্যবস্থাপনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোথাও পানির অভাব, কোথাও অতিরিক্ত। পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করলে সমস্যার সমাধান সম্ভব। একইভাবে সঠিক পরিকল্পনা নিলেই জাতীয় সমস্যাগুলো মোকাবিলা করা যাবে।

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু স্বপ্ন দেখলে হবে না, বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে। খালি আক্ষেপ নয়, প্রাপ্য অর্জনে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দরকার। বিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে সেই পথ তৈরি করতে হবে।

জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য প্রধানমন্ত্রীর গোল্ড কাপ ঘোষণা করেছিলেন এবং নিজে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করেছিলেন। এই টুর্নামেন্ট পুনরায় চালুর প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিতে আনার বিষয়টি ভালো উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেন তিনি এবং বিষয়টি জানাবেন বলে আশ্বাস দেন।

পাঠ্যপুস্তকে কো-কারিকুলাম কার্যক্রম হিসেবে বিতর্ক অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি সম্ভব এবং জাতীয় ভিত্তিতে বিতর্ক আয়োজন হওয়া উচিত।


মোংলা বন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে চায় সরকার: নৌপরিবহন মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি বলেছেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে সরকার।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মোংলা বন্দর পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে মোংলা বন্দরকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে চায় সরকার। বিগত সরকারের সময়ে বন্দরে সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তি বাতিল হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সেসব চুক্তি পর্যালোচনা করা হবে। দেশের স্বার্থে সহায়ক হলে সেগুলো সংশোধন করে বহাল রাখা হতে পারে।

জাতীয় অর্থনীতিতে মোংলা বন্দরের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, যথাযথ উদ্যোগ নিলে এটিকে একটি শক্তিশালী ও পূর্ণাঙ্গ সামুদ্রিক বন্দরে পরিণত করা সম্ভব। বর্তমানে রেল ও নৌ যোগাযোগ ভালো থাকলেও সেগুলোকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে মোংলা বন্দরকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে রূপান্তর করা হবে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা গেলে বন্দরের কার্যক্ষমতা আরও বাড়বে।

নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই বন্দরের ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।


শাহজালাল বিমানবন্দরে স্বয়ংক্রিয় এয়ার রাইফেলসহ যাত্রী আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটে অত্যাধুনিক গ্যাসচালিত স্বয়ংক্রিয় এয়ার রাইফেলসহ নূর হোসেন নামে এক যাত্রীকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিমানবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোবারক হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানায়, নূর হোসেনের বাড়ি ফেনীর ছাগলনাইয়ায়।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ফিটস এয়ারের একটি ফ্লাইটে দুবাই থেকে শ্রীলঙ্কা হয়ে বাংলাদেশে অত্যাধুনিক অস্ত্র আসছে এমন গোয়েন্দা সংবাদে শাহজালাল বিমানবন্দরে নজরদারি বাড়ানো হয়। রাত ৮টার দিকে ফ্লাইটটি অবতরণ করে। পরে ফ্লাইটটিতে থাকা যাত্রী নূর হোসেনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি জানান, সাইকেলের পার্টসের ভেতরে এয়ার রাইফেলটির পার্ট বাই পার্ট রয়েছে। পরে কাস্টমস ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তল্লাশি করে তা জব্দ করে।

বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা জানান, অস্ত্রটি অত্যাধুনিক। এটি গ্যাসচালিত। নূর হোসেনের কাছ থেকে অস্ত্র ছাড়াও ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার, ৩টি মোবাইল, একটি ল্যাপটপ, ১০ কার্টন সিগারেট, পাঁচ কেজি ফুড আইটেম, দুই লিটার পারফিউম ও একটি বাইসাইকেলের অংশ বিশেষও পাওয়া যায়।

বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


এলডিসি উত্তরণ ২০২৯ পর্যন্ত পেছাতে জাতিসংঘের কাছে বাংলাদেশের আবেদন

আপডেটেড ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:৪০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণের নির্ধারিত সময়সীমা আরও তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে নবনির্বাচিত সরকার। নিয়ম অনুযায়ী ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর এলডিসি থেকে বের হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এই সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি বিষয়ক কমিটি (সিডিপি)-এর কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। ইআরডি সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা এবং চলমান সংস্কার কার্যক্রমগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ‘নীতিগত সুযোগ’ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এই চিঠিতে এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার পেছনে বেশ কিছু যৌক্তিক ও সুনির্দিষ্ট কারণ তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য যে সময় পাওয়া গিয়েছিল, তা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক একের পর এক সংকটের কারণে গুরুতরভাবে ব্যাহত হয়েছে। দেশীয় সংকটের মধ্যে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, আর্থিক খাতের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অনিয়ম এবং বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর উপস্থিতি বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে বৈশ্বিক পর্যায়ে কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতা বাংলাদেশের উন্নয়ন গতিকে শ্লথ করে দিয়েছে। এসব বহুমুখী অভিঘাতের ফলে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও বিনিয়োগ পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বাণিজ্যিক নিরাপত্তার বিষয়টি এই চিঠিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে তার পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে এলডিসি হিসেবে যে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পায়, তা ২০২৬ সালে শেষ হয়ে গেলে তৈরি পোশাক খাতসহ সামগ্রিক রপ্তানি বাণিজ্য বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সরকার মনে করছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস সুবিধা প্রাপ্তিতে সম্ভাব্য জটিলতা, যুক্তরাষ্ট্রের পালটা শুল্ক আরোপের ঝুঁকি এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর নতুন নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) ফলে বাংলাদেশের সক্ষমতা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ এখনো অতিমাত্রায় তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের প্রক্রিয়াটি সংকটের কারণে ধীর হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইআরডি-র চিঠিতে আরও জানানো হয়েছে যে, শুল্ক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, জ্বালানি খাতের সংস্কার এবং শিল্পকারখানার কমপ্লায়েন্স অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলমান থাকলেও সংকটের কারণে সেগুলো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। এই বাস্তবতায় জাতিসংঘের হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের কার্যালয় কর্তৃক পরিচালিত ‘গ্র্যাজুয়েশন রেডিনেস অ্যাসেসমেন্ট’-এর ফলাফলকে বিবেচনায় নিয়ে উত্তরণ প্রক্রিয়াটি ২০২৯ সাল পর্যন্ত স্থগিত রাখার দাবি জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য যে, সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারও নেপাল ও লাওসের মতো একই সারির দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় বাড়ানোর একটি প্রাথমিক সুপারিশ করেছিল, যার ধারাবাহিকতায় বর্তমান নির্বাচিত সরকার এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল। এর ফলে সরকার আশা করছে, অতিরিক্ত তিন বছর সময় পাওয়া গেলে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড় করানো এবং টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।


আইন মেনেই দালান নির্মাণ করতে হবে: গণপূর্তমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের নগর পরিকল্পনা ও অবকাঠামো উন্নয়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং ভবন নির্মাণে বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন। শনিবার বিকেলে কুমিল্লা সার্কিট হাউজে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ সংক্রান্ত কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, আইন অমান্য করে এবং নকশা বহির্ভূতভাবে উঁচু ভবন নির্মাণের সংস্কৃতি আর বরদাশত করা হবে না। ভবিষ্যতে কেউ নিয়ম লঙ্ঘন করে দালান নির্মাণ করলে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে বলে তিনি কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দেন।

মতবিনিময় সভায় অপরিকল্পিত ও অবৈধ স্থাপনা নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন গণপূর্তমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে যারা আইন অমান্য করে অবৈধভাবে উঁচু দালান নির্মাণ করেছেন, জনস্বার্থ ও বর্তমান বাস্তবতায় সেসব ভবন এই মুহূর্তে ভেঙে ফেলা হয়তো পুরোপুরি সমীচীন হবে না। তবে এ ধরনের অন্যায়ের বিপরীতে মালিকপক্ষকে মোটা অঙ্কের জরিমানার মুখোমুখি করার বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। অবৈধ স্থাপনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার পাশাপাশি নতুন কোনো প্রকল্প শুরুর আগে যেন শতভাগ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, সে বিষয়ে তিনি তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দেন।

কুমিল্লা শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও স্থানীয় সমস্যা সমাধান নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন জাকারিয়া তাহের সুমন। কুমিল্লার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে তিনি জানান, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারটি বর্তমান অবস্থান থেকে শহরের বাইরে স্থানান্তরের বিষয়টি নিয়ে সরকার ইতিবাচক চিন্তা করছে। কারাগার সরিয়ে নিলে শহরের মূল ভূখণ্ডের ওপর চাপ কমবে এবং আধুনিক নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া কুমিল্লা শহরকে ক্রমবর্ধমান যানজট থেকে মুক্ত করতে এবং যাতায়াত ব্যবস্থা আরও সুশৃঙ্খল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, উন্নয়নের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়নে সততা বজায় রাখতে হবে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের মাধ্যমে নগর জীবনে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং টেকসই নগরায়ণ নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন। কুমিল্লার সার্বিক উন্নয়নে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।


ঈদের আগেই ভাতা পাবেন ইমাম-মুয়াজ্জিনরা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মগুরুদের জন্য সম্মানি ভাতা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। তবে ভাতার পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গেটে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপির অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন-খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মগুরুদের সম্মানি ভাতা প্রদান করা। ক্ষমতায় এসে সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সরকার ঈদুল ফিতরের আগেই প্রাথমিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু করবে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে তা চালু হবে।

সম্মানির পরিমাণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আন্ত মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে তা চূড়ান্ত করা হবে।’

এ সময় স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেসসচিব সালেহ শিবলী জানান, আজ ছিল তারেক রহমানের তৃতীয় কর্মদিবস। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বেশ কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আজ তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো অফিস করেছেন তারেক রহমান। অফিসে প্রবেশের আগে ব্রিফ করেছেন। অনেক পুরোনো কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলেছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা নীতিগত কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করেছেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।


মাতৃভাষা দিবসে আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে দেশের সর্বোচ্চ পতাকা স্তম্ভ উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রভাতে গাজীপুরের সফিপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর একাডেমিতে নবনির্মিত ফ্ল্যাগপোল উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা স্তম্ভটির উদ্বোধন করেন। একাডেমি প্রাঙ্গণে স্থাপিত এই সুউচ্চ স্তম্ভে উত্তোলিত পতাকার নাম দেওয়া হয়েছে ‘চির উন্নত বিজয় নিশান’।

পতাকা স্তম্ভটির উচ্চতা ১২০ ফুট, যা দেশের সর্বোচ্চ হিসেবে বিবেচিত। এতে উত্তোলিত জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ২৮ ফুট এবং প্রস্থ ১৬ দশমিক ৮ ফুট। ‘চির উন্নত বিজয় নিশান’ বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চিরন্তন প্রতীক হিসেবে জাতির গৌরবগাথা বহন করছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি দেশের সর্ববৃহৎ জনসম্পৃক্ত বাহিনী হিসেবে জাতীয় অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাহিনীর প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার সদস্য-সদস্যা দায়িত্ব পালন করেছেন, যা সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর মধ্যে সর্বাধিক।

তিনি আরও বলেন, আজ মহান ভাষা শহীদদের স্মরণের দিন। ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার এ বাহিনীর একজন গর্বিত প্লাটুন কমান্ডার ছিলেন। ভাষার মর্যাদা রক্ষায় তার আত্মত্যাগ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের জন্য দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধে অনুপ্রাণিত হওয়ার উৎস।

মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, ‘চির উন্নত বিজয় নিশান’ আমাদের গৌরবময় ইতিহাস ও দায়িত্বশীল ভবিষ্যতের প্রতীক। এই পতাকা সদস্যদের শপথ করাবে— দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত থাকার।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এই পতাকা উদ্বোধন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ভাষা আন্দোলনের চেতনা আত্মমর্যাদা ও অধিকার রক্ষার সংগ্রামের শিক্ষা দেয়। আনসার-ভিডিপি সদস্যদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, এই চেতনাকে ধারণ করে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে স্থাপিত ‘চির উন্নত বিজয় নিশান’ কেবল একটি স্থাপনা নয়, এটি জাতির অগ্রযাত্রা, আত্মত্যাগ ও শৌর্যের দৃশ্যমান স্মারক। একাডেমির চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, শৃঙ্খলা সুদৃঢ়করণ এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাহিনীকে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও সক্ষম করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ এবং জাতীয় পতাকার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্তের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।


banner close