বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

সেপ্টেম্বরে সড়কে নিভেছে ৪২৬ প্রাণ: প্রতিবেদন

প্রতীকী ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৭ অক্টোবর, ২০২৪ ২১:১৬

সেপ্টেম্বরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৯২টি। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪২৬ জন এবং আহত হয়েছেন ৮১৩ জন। তাদের মধ্যে ৬১ জন নারী, শিশু ৫৩টি। এ সময় ১৬৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন ১৭৯ জন, যা মোট নিহতের ৪২ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ৯৭ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২২ দশমিক ৭৬ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৪ জন, অর্থাৎ ১২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ সময় নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেছে ৮টি, এতে নিহত হয়েছেন ১১ জন, আহত হয়েছেন ৪ জন এবং ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ১৭টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হন এবং আহত হয়েছেন ৯ জন।

আজ সোমবার সকালে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের গণমাধ্যমে পাঠানো সেপ্টেম্বর মাসে সংঘটিত দুর্ঘটনাবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সংগঠনটি। সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণে বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৬২টি জাতীয় মহাসড়কে, ১৪৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৪৭টি গ্রামীণ সড়কে এবং ৩৪টি শহরের সড়কে এবং ৫টি অন্যান্য স্থানে সংঘটিত হয়েছে।

যানবাহনভিত্তিক নিহতের চিত্র

দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৭৯ জন (৪২ শতাংশ), বাসের যাত্রী ২৫ জন (৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ), ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি আরোহী ২২ জন (৫ দশমিক ১৬ শতাংশ), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস আরোহী ২৪ জন (৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান) ৬৩ জন (১৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নছিমন-ভটভটি-আলমসাধু) ৬ জন (১ দশমিক ৪০ শতাংশ) এবং বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা আরোহী ১০ জন (২ দশমিক ৩৪ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনা সংঘটিত সড়কের ধরন

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৬২টি (৪১ দশমিক ৩২ শতাংশ) জাতীয় মহাসড়কে, ১৪৪টি (৩৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৪৭টি (১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে এবং ৩৪টি (৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ) শহরের সড়কে এবং ৫টি (১ দশমিক ২৭ শতাংশ) অন্যান্য স্থানে সংঘটিত হয়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন

দুর্ঘটনাগুলোর ৮২টি (২০ দশমিক ৯১ শতাংশ) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৬৯টি (৪৩ দশমিক ১১ শতাংশ) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৯৪টি (২৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেওয়া, ৪১টি (১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ৬টি (১ দশমিক ৫৩ শতাংশ) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহন

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি, লরি, ড্রামট্রাক, তেলবাহী লরি, রোড রোলার ২৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ। মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্স, পাজেরো ৬ শতাংশ। যাত্রীবাহী বাস ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। মোটরসাইকেল ২৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ। থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান) ১৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নছিমন, ভটভটি, আলমসাধু, চান্দের গাড়ি, মাহিন্দ্র, হ্যালোবাইক) ২ দশমিক ৮৪ শতাংশ। বাইসাইকেল, রিকশা, রিকশা ভ্যান ২ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ৬৩২। (বাস ৯৮, ট্রাক ১০৬, কাভার্ড ভ্যান ১৮, পিকআপ ২১, ট্রাক্টর ১১, ট্রলি ৪, লরি ১০, ড্রাম ট্রাক ৭, তেলবাহী লরি ২, রোড রোলার ১, মাইক্রোবাস ১৬, প্রাইভেটকার ১৫, অ্যাম্বুলেন্স ৫, পাজেরো ২, মোটরসাইকেল ১৭৩, থ্রি-হুইলার ৯৬ (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান, লেগুনা), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ১৮ (নছিমন, ভটভটি, আলমসাধু, চান্দের গাড়ি, মাহিন্দ্র, হ্যালোবাইক), বাইসাইকেল, রিকশা, রিকশা ভ্যান ১৩ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ১৬টি।

দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণ

সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে ভোরে ৫ দশমিক ১০ শতাংশ, সকালে ২৬ শতাংশ, দুপুরে ১৮ দশমিক ৬২ শতাংশ, বিকালে ১৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ, সন্ধ্যায় ৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং রাতে ২৮ দশমিক ৮২ শতাংশ।

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যান

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ৩১ দশমিক ৬৩ শতাংশ, প্রাণহানি ৩০ দশমিক ০৪ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১০ দশমিক ৯৬ শতাংশ, প্রাণহানি ১২ দশমিক ২০ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ১৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ, প্রাণহানি ১৯ শতাংশ, খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ১২ দশমিক ২৪ শতাংশ, প্রাণহানি ১৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ, প্রাণহানি ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ, সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ, প্রাণহানি ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ, রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৬ দশমিক ১২ শতাংশ, প্রাণহানি ৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ ঘটেছে।

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২৪টি দুর্ঘটনায় ১২৮ জন নিহত হয়েছেন। বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম ১৫টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে চট্টগ্রাম জেলায় ৩১টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত হয়েছে। সবচেয়ে কম শরীয়তপুর, পটুয়াখালী, সুনামগঞ্জ ও জামালপুরে। এই চারটি জেলায় কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রাণহানি ঘটেনি। রাজধানী ঢাকায় ২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছে।

নিহতদের পেশাগত পরিচয়

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, পুলিশ সদস্য চার জন, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-মাদরাসার শিক্ষক ১২ জন, পল্লি চিকিৎসক একজন, সাংবাদিক তিন জন, প্রকৌশলী দুজন, বিভিন্ন ব্যাংক-বিমা কর্মকর্তা ও কর্মচারী ৫ জন, বিভিন্ন এনজিও কর্মকর্তা-কর্মচারী ১৪ জন, ওষুধ ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রয় প্রতিনিধি ১৬ জন, স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ১৯ জন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ১১ জন, পোশাক শ্রমিক সাত জন, নির্মাণশ্রমিক চার জন, চাল মিলের শ্রমিক দুজন, প্রতিবন্ধী দুজন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন, ঢাকা কলেজের দুজন ছাত্রসহ দেশের বিভিন্ন স্কুল-মাদ্রাসা ও কলেজের ৫৪ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোও চিহ্নিত করা হয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে। এগুলো হচ্ছে- ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন; বেপরোয়া গতি; চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা এবং অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা; বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা; মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচলে হঠাৎ বাধা পাওয়া; তরুণ-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো; জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা; দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা; বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি ও গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।


নির্বাচিত

বাঘ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বাঘ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে বন্যপ্রাণী সুরক্ষার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বুধবার বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বাঘ পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী এবং আমাদের জীববৈচিত্র্যের একটি অপরিহার্য অংশ। এই প্রজাতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।

বাঘের সংখ্যা কমে যাওয়ার পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রায় এক শতাব্দী আগে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ, যা বর্তমানে কমে পাঁচ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এই চিত্র স্পষ্টভাবে বাঘের অস্তিত্বের ওপর আসা হুমকির ইঙ্গিত দেয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা না হয় এবং মানুষকে সচেতন করা সম্ভব না হয়, তবে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও ঘনীভূত হবে। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে বাংলাদেশের সুন্দরবনে ১২৪টি বাঘ রয়েছে। এছাড়া জাতীয় চিড়িয়াখানায় ১৫টি এবং দেশের অন্যান্য চিড়িয়াখানায় সব মিলিয়ে প্রায় ৫০টি বাঘ সংরক্ষিত আছে।

বাঘকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে অভিহিত করে প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, সরকার এই প্রাণী সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে। বাঘ গণনার বাজেট সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই বিষয়টি বন বিভাগের এখতিয়ারভুক্ত, তবে তারা অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গেই এই কাজ পরিচালনা করে থাকে। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী জাতীয় চিড়িয়াখানায় একটি স্যুভেনির শপের উদ্বোধন করেন। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

শিল্পখাতের গ্যাস সংকট সমাধানে বিটিএমএ নেতাদের প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিল্পক্ষেত্রে চলমান গ্যাস সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সকালে সচিবালয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। বৈঠক শেষে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল গণমাধ্যমকে জানান যে, প্রধানমন্ত্রী টেক্সটাইল খাতের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি গুরুত্বের সাথে অনুধাবন করেছেন এবং সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন।

বিটিএমএ সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভাবে দীর্ঘ সময় ধরে শিল্পখাতে এই ভয়াবহ গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় টেক্সটাইল খাতের উদ্যোক্তারা আশার আলো দেখছেন। শওকত আজিজ রাসেল আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যেসব কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে বা আংশিক সচল রয়েছে, সেগুলোর সঠিক অবস্থা এবং কার কতটুকু সহযোগিতা প্রয়োজন তা চিহ্নিত করার জন্য সরকার উদ্যোক্তাদের কাছে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছে।

এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সরকার সংকটে থাকা টেক্সটাইল কারখানাগুলোর জন্য পরবর্তী পুনর্বাসন বা সহযোগিতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই ইতিবাচক মনোভাবে বস্ত্রখাতের ব্যবসায়ীরা নতুন করে উৎসাহিত বোধ করছেন। মূলত দেশের অন্যতম বড় এই রপ্তানি খাতের উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।


নির্বাচিত

সিআইডির প্রধান হিসেবে ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইনের দায়িত্ব গ্রহণ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) নতুন প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল আইজিপি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। বুধবার (২৯ জুলাই) সিআইডি সদর দপ্তরে এক আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নতুন প্রধানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এর আগে গত ২৮ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

সিআইডির প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার আগে ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন প্রেষণে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। সেখানেই কর্মরত থাকাবস্থায় তিনি অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তার দীর্ঘ তিন দশকের ক্যারিয়ারে পিরোজপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এছাড়াও তিনি সিআইডির সদর দপ্তরসহ চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা ইউনিটে বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে সফলভাবে কাজ করেছেন।

তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ, র‌্যাব এবং পুলিশ সদর দপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে নেতৃত্ব দিয়েছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকেও তিনি অত্যন্ত সমৃদ্ধ; ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর শেষ করে যুক্তরাজ্যের সিটি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেছেন তিনি। এছাড়াও আধুনিক পুলিশিং ও ফরেনসিক ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে তিনি উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তার এই দক্ষ নেতৃত্ব সিআইডির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।


নির্বাচিত

এবার চিনিতেও মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন উদ্বেগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বাজারে লভ্য চিনিতে আশঙ্কাজনক মাত্রায় অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিক বা মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন গবেষকরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, বাজার থেকে সংগৃহীত চিনির নমুনার প্রায় ৯৫ শতাংশেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব বিদ্যমান। গবেষকদের তথ্যমতে, প্রতি কেজি চিনিতে ২১০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০৮টি পর্যন্ত প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী Journal of Food Composition and Analysis-এ প্রকাশিত এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন গবেষক সাদিয়া আফরিন, নায়ন হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান।

গবেষণায় ঢাকার বিভিন্ন খুচরা বাজার থেকে সংগৃহীত ব্র্যান্ডেড ও খোলা—উভয় ধরনের চিনির গুণমান বিশ্লেষণ করা হয়। ফলাফলে দেখা গেছে, প্যাকেটজাত বা ব্র্যান্ডেড চিনিতে গড়ে প্রতি কেজিতে ৩২২টি কণা থাকলেও খোলা চিনিতে এর পরিমাণ ছিল তুলনামূলক বেশি, গড়ে প্রায় ৪০৩টি। যদিও পরিসংখ্যানগতভাবে এই পার্থক্য খুব বেশি নয়, তবুও খোলা চিনিতে দূষণের হার গবেষকদের নজরে এসেছে। এসব কণার আকার ১২ মাইক্রোমিটার থেকে ৩.১৯ মিলিমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রাপ্ত কণাগুলোর মধ্যে ৬৩ শতাংশ তন্তু (ফাইবার), ২১ শতাংশ খণ্ড (ফ্র্যাগমেন্ট), ১১ শতাংশ পাতলা স্তর (ফিল্ম) এবং ৫ শতাংশ ছিল গোলাকার কণা।

রাসায়নিক বিশ্লেষণে এসব কণায় পিভিসি, পিইটি, এইচডিপিই, নাইলন এবং এবিএস-এর মতো বিভিন্ন ক্ষতিকারক পলিমারের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। গবেষকদের ধারণা, চিনি পরিশোধন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পাইপ, ফিল্টার, কনভেয়ার বেল্ট এবং পরবর্তীকালে বিপণন ও সংরক্ষণের সময় নিম্নমানের প্লাস্টিক বস্তা বা প্যাকেজিং থেকে এই দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে। এমনকি পরিবেশের বাতাসে ভেসে থাকা অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা থেকেও খোলা চিনিতে এই মিশ্রণ ঘটা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।

গবেষণায় মানুষের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি পর্যালোচনা করে বলা হয়েছে, শুধু চিনি গ্রহণের মাধ্যমেই একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন তার শরীরের প্রতি কেজি ওজনের বিপরীতে গড়ে ০.২১৭৮টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করছেন। গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে এই মাত্রা সরাসরি ক্ষতিকর মনে না হলেও চিনি মানুষের শরীরে নিয়মিত মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের একটি অন্যতম উৎসে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নীতিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক সংক্রান্ত নিয়মিত পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে অধিকতর পরিচ্ছন্ন ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে জাপানের সক্রিয় সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন খাতে জাপানের আরও সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী, কৃষিশ্রমিক ও গাড়িচালক নিয়োগে উদ্যোগ নেওয়ার জন্যও তিনি জাপানের প্রতি আহ্বান জানান।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন। এ সময় তিনি এই আহ্বান জানান। বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এ কথা জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করাসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের মতো আরও একটি শিল্পপার্ক স্থাপনে জাপান আগ্রহী হলে বাংলাদেশ সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া বৈঠকে আগামী ১৬ ডিসেম্বর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধন ও চলমান ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) প্রকল্পের অগ্রগতিসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া–প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

জাপানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলবিষয়ক সহকারী ভাইস মিনিস্টার নাকায়ামা রিয়েকো, জাপানের সিভিল এভিয়েশন ব্যুরোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি।


নির্বাচিত

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতার আশ্বাস মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের চলমান গ্যাস সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে।

ফোনালাপ ও চিঠির মাধ্যমে সহায়তার আবেদন জানানো হলে সংকট মোকাবিলায় পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসব বলেন।

অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, ‘গ্যাসের সংকট দূর করতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়ে দুপুরে চিঠি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানিসহ যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করার অনুরোধ করা হয়েছে মালয়েশিয়া সরকারের কাছে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, এ ব্যাপারে মালয়েশিয়া সরকার দ্রুততম সময়ে সাড়া দেবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ।

এর আগে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় সংকট নিরসনে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার কারণে কিছুদিন ধরে আমদানি গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। মালয়েশিয়ার একটি কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল সংকট নিরসনে কাজ করছে।’

আগামী সপ্তাহের শুরুতেই ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহর আশা করেন তিনি। দুই সপ্তাহের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউ-টি পুরোপুরি সচল হতে পারে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।


নির্বাচিত

আইএমএফের সবুজসংকেত পেলেই নবম পে স্কেল

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচির আলোচনা শেষ হওয়ার পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে সরকার। আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি আইএমএফ-সরকার বৈঠকের ফলাফলের ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে নতুন বেতন কাঠামোর ভবিষ্যৎ।

এক প্রতিবেদনে জানা গেছে- রাজস্ব আহরণের দুর্বল অবস্থা এবং ব্যয় বৃদ্ধির ঝুঁকি বিবেচনায় আইএমএফ সরকারকে অন্তত দুই বছর নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। এ কারণে সরকারও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

গত ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে রাজস্ব আদায়, সরকারি ব্যয়, নতুন পে স্কেলের সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থের বিষয়টি তুলে ধরেন। পরে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবটি আরও বিশদভাবে মূল্যায়নের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানির মূল্য, গ্যাস সরবরাহের সম্ভাব্য চাপ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে বলা হয়।

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর ব্যাংককে অনুষ্ঠেয় বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভার ফাঁকে বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফের চূড়ান্ত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকেই অনুন্নয়ন ব্যয়, বিশেষ করে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে সংস্থাটির অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, চলতি মাসে বাংলাদেশ সফরকারী আইএমএফ প্রতিনিধিদল অর্থ বিভাগের সঙ্গে বেতন ও ভাতা বাজেট নিয়ে আলোচনা করেছে। তাদের পর্যবেক্ষণ, বর্তমান রাজস্ব সক্ষমতা বড় পরিসরে সরকারি বেতন বৃদ্ধি বহনের জন্য যথেষ্ট নয়।

আইএমএফের মতে, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সরকারের ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু সেই অনুপাতে রাজস্ব আয় বাড়ছে না। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং সীমিত আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন ১০ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে সংশোধিত একটি কাঠামো প্রস্তুত করেছে। প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

সরকারের একাধিক সূত্র জানায়, আর্থিক চাপ কমাতে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি অথবা বিকল্প বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা চলছে। অক্টোবরের আইএমএফ বৈঠকের আগেই এ বিষয়ে কৌশল চূড়ান্ত হতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা, যাতায়াত ভাতা সংশোধন এবং অন্যান্য ভাতা পুনর্বিন্যাসের সুপারিশও করা হয়। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা জানান। এ লক্ষ্যে জনপ্রশাসন খাতে অতিরিক্ত ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি চাকরিজীবী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও পেনশনভোগীদের সম্ভাব্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০১৫ সালের পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন পুনর্নির্ধারণ না হওয়ায় মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের প্রকৃত আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছেন, রাজস্ব আহরণে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ছাড়া নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করলে সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়তে পারে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) মনে করে, এতে বাজেট ঘাটতি ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


নির্বাচিত

শাহজালালে বিদেশি এয়ারলাইন্সের অতিরিক্ত ফ্লাইট স্থগিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা ও যাত্রীচাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোয় বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। তৃতীয় টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।

সম্প্রতি বেবিচক দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ৩৮টি বিদেশি এয়ারলাইন্সকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে জানানো হয়েছে, যেসব এয়ারলাইন্সের বাংলাদেশে নিজস্ব অপারেশনাল বেজ নেই, তারা অনুমোদিত সময়সূচি ও নির্ধারিত ফ্রিকোয়েন্সির বাইরে অতিরিক্ত নির্ধারিত যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পাবেন না।

বেবিচক সূত্র জানায়, বর্তমানে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন গড়ে ১৪০ থেকে ১৬০টি আন্তর্জাতিক এবং ১২৫ থেকে ১৪০টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া ১০ থেকে ১৬টি আন্তর্জাতিক কার্গো ফ্লাইট এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন হেলিকপ্টারসহ প্রতিদিন প্রায় ৩১৬টি উড়োজাহাজ ওঠানামা করছে।

এত বিপুলসংখ্যক ফ্লাইট পরিচালনার কারণে রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে, টার্মিনাল, অ্যারো ব্রিজ, চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন ও ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং ব্যবস্থায় ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অতিরিক্ত ফ্লাইটের জন্য আগে কোনো স্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকলেও সেটিকে পরিচালনাগত অনুমোদন হিসেবে গণ্য করা যাবে না। টার্মিনাল-৩ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ঢাকার ওপর চাপ কমাতে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোকে চট্টগ্রামের হজরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনারও আহ্বান জানিয়েছে বেবিচক।

বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বর্তমানে সক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। তাই টার্মিনাল-৩ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয়। তবে কোনো এয়ারলাইন্স চাইলে চট্টগ্রাম বা সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন নিতে পারবে।


নির্বাচিত

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহী রাশিয়া

* কম দামে দিতে চায় ইউরিয়া সার
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৮ জুলাই, ২০২৬ ২৩:৪৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে রাশিয়া। পাশাপাশি বর্তমান বাজারদরের তুলনায় কম মূল্যে ইউরিয়া সারসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ভিয়াচেস্লাভ সেন্টিউরিনের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি সহযোগিতা, সার সরবরাহ এবং সরকার-টু-সরকার বাণিজ্য সম্প্রসারণ।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সূর্যমুখী তেল, হলুদ মটরশুঁটি, ছোলা, লাল মসুর ডাল, সবুজ মসুর ডালসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সরবরাহে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

তারা বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

রাশিয়ার প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) কাছে জেএসসি এফইসি প্রোডিনটর্গের মাধ্যমে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার সরবরাহের আগ্রহের কথা জানায়।

প্রতিনিধিদল জানায়, বাংলাদেশ বর্তমানে যেসব দেশ থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করে, তার তুলনায় প্রতি মেট্রিক টনে ১০ মার্কিন ডলার কম দামে সার সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। এতে দেশের সার আমদানির ব্যয় কমার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত হবে।

বৈঠকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এবং রাশিয়ার জেএসসি এফইসি প্রোডিনটর্গের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত গম ও মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) সার সরবরাহে রাশিয়ার সহযোগিতার প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু। আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মন্ত্রী রাশিয়ার বাণিজ্য সম্প্রসারণের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করা হবে।

বৈঠকে উভয় পক্ষ বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়।

বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

সচিব পদে পদোন্নতি পেলেন ২ কর্মকর্তা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার দুজন কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। এই দুই কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব (অতিরিক্ত সচিব) মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা। পদোন্নতির পর তাকে আবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগেই পদায়ন করা হয়েছে।

অন্যদিকে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামানও সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। পদোন্নতির পর তাকে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) করা হয়েছে।


নির্বাচিত

দেশীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম উদ্ভাবনে প্রধানমন্ত্রীর পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে তাঁর কার্যালয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন প্রস্তুতকারকদের সাথে বৈঠকে বক্তব্য দেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ভেন্টিলেটর এবং হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনের উদ্ভাবকদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় তিনি এসব জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম ব্যবহারোপযোগী করা এবং বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়নে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশে সরকার গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, মান যাচাই এবং উৎপাদনের ক্ষেত্রে সরকার সহযোগিতা দেবে।’

সভায় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, দুটি ভিন্ন বিশেষজ্ঞ দল এই আধুনিক ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন মেশিন উদ্ভাবন করেছেন। যথাযথ প্রশাসনিক অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন করার পর এই সরঞ্জামগুলো দেশের সব হাসপাতালে ব্যবহারের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ার কারণে আমদানিকৃত যন্ত্রের তুলনায় এগুলো অনেক কম মূল্যে পাওয়া যাবে, যা দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় কমিয়ে আনতে সহায়ক হবে। এই উদ্ভাবন সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসা খাতে বিদেশের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

যন্ত্র দুটির কারিগরি দিক সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা জানান, ভেন্টিলেটরটি মূলত গুরুতর শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের জীবন বাঁচাতে ব্যবহৃত হয়, যার ফলে এর সুরক্ষা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। অন্যদিকে, হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনটি সাধারণ শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এই যন্ত্রের একটি বড় সুবিধা হলো এটি বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াই সচল থাকতে পারে, যা বিদ্যুৎবিহীন দুর্গম এলাকা কিংবা অ্যাম্বুলেন্সে রোগী স্থানান্তরের সময় অত্যন্ত কার্যকর। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং বুয়েটের প্রো ভিসি ড. মুহাম্মদ শরীফুল ইসলামসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।


নির্বাচিত

দেশজুড়ে তিন মাসে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার প্রায় দেড় লাখ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশব্যাপী গত তিন মাসে পরিচালিত বিশেষ ও নিয়মিত অভিযানে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৮৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিশাল সংখ্যক গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির বিবরণ অনুযায়ী, গত ১ মে থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত চলা এই কার্যক্রমে বিশেষ অভিযানে ৩৯ হাজার ২৬৭ জন এবং বিভিন্ন নিয়মিত মামলায় ১ লাখ ২ হাজার ৭২২ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

এই দীর্ঘ সময়ের অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত ৩২৫টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ১০১টি পিস্তল, ৯২টি বন্দুক, ৩৮টি এলজি, ৩৫টি শুটারগান এবং ১৯টি রিভলভারসহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে। এছাড়া ২ হাজার ৮০২ রাউন্ড গুলি, ১০৩টি ম্যাগাজিন, ৪৬টি ককটেল এবং ১০ হাজার ৩০০টি চকলেট বোমা জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের তালিকায় রাইফেল, এসএমজি, এয়ারগান এমনকি একটি পেনগান থাকার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন।

একই সময়ে মাদকের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানে ছিল পুলিশ। তিন মাসের এই মাদকবিরোধী অভিযানে ৯১ লাখ ২২ হাজার ৯৯৬ পিস ইয়াবা, ৯ হাজার ৮০ পুরিয়া হেরোইন এবং প্রায় ৮ হাজার ২১১ বোতল বিদেশি মদসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এই সংক্রান্ত অপরাধে এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার ৬৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ২৪ হাজার ৮২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূলত জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির বৈঠক

জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন (ইসি)’র প্রতিনিধি দলের বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সিইসির নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে। বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ‘প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি এবং আইনের বিধান ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, কমিশন যেকোনো সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।’

সিইসি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের তারিখ ও সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। স্পিকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সমন্বয়ের পর নির্দিষ্ট দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে এবং তা গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’ তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই এই নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং নির্বাচন কমিশন কার্যালয় থেকেই যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সংসদীয় অধিবেশন চলুক বা না চলুক, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এর কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। কমিশন চাইছে দ্রুততম সময়ে এই প্রক্রিয়া শেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কাজে মনোযোগ দিতে। এ লক্ষ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদের বিষয়ে ইতোমধ্যে সংসদ সচিবালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এদিকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্যের সাম্প্রতিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্যের সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে সংসদ সচিবালয় থেকে লিখিতভাবে রেফার করা হলে ইসি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’ সামগ্রিক প্রস্তুতি গুছিয়ে এনে যথাসময়েই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো জানানো হবে বলে জানা গেছে।


নির্বাচিত

banner close