রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬
১৫ চৈত্র ১৪৩২

সেপ্টেম্বরে সড়কে নিভেছে ৪২৬ প্রাণ: প্রতিবেদন

প্রতীকী ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৭ অক্টোবর, ২০২৪ ২১:১৬

সেপ্টেম্বরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৯২টি। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪২৬ জন এবং আহত হয়েছেন ৮১৩ জন। তাদের মধ্যে ৬১ জন নারী, শিশু ৫৩টি। এ সময় ১৬৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন ১৭৯ জন, যা মোট নিহতের ৪২ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ৯৭ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২২ দশমিক ৭৬ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৪ জন, অর্থাৎ ১২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ সময় নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেছে ৮টি, এতে নিহত হয়েছেন ১১ জন, আহত হয়েছেন ৪ জন এবং ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ১৭টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হন এবং আহত হয়েছেন ৯ জন।

আজ সোমবার সকালে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের গণমাধ্যমে পাঠানো সেপ্টেম্বর মাসে সংঘটিত দুর্ঘটনাবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সংগঠনটি। সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণে বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৬২টি জাতীয় মহাসড়কে, ১৪৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৪৭টি গ্রামীণ সড়কে এবং ৩৪টি শহরের সড়কে এবং ৫টি অন্যান্য স্থানে সংঘটিত হয়েছে।

যানবাহনভিত্তিক নিহতের চিত্র

দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৭৯ জন (৪২ শতাংশ), বাসের যাত্রী ২৫ জন (৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ), ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি আরোহী ২২ জন (৫ দশমিক ১৬ শতাংশ), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস আরোহী ২৪ জন (৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান) ৬৩ জন (১৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নছিমন-ভটভটি-আলমসাধু) ৬ জন (১ দশমিক ৪০ শতাংশ) এবং বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা আরোহী ১০ জন (২ দশমিক ৩৪ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনা সংঘটিত সড়কের ধরন

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৬২টি (৪১ দশমিক ৩২ শতাংশ) জাতীয় মহাসড়কে, ১৪৪টি (৩৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৪৭টি (১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে এবং ৩৪টি (৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ) শহরের সড়কে এবং ৫টি (১ দশমিক ২৭ শতাংশ) অন্যান্য স্থানে সংঘটিত হয়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন

দুর্ঘটনাগুলোর ৮২টি (২০ দশমিক ৯১ শতাংশ) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৬৯টি (৪৩ দশমিক ১১ শতাংশ) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৯৪টি (২৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেওয়া, ৪১টি (১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ৬টি (১ দশমিক ৫৩ শতাংশ) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহন

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি, লরি, ড্রামট্রাক, তেলবাহী লরি, রোড রোলার ২৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ। মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্স, পাজেরো ৬ শতাংশ। যাত্রীবাহী বাস ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। মোটরসাইকেল ২৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ। থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান) ১৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নছিমন, ভটভটি, আলমসাধু, চান্দের গাড়ি, মাহিন্দ্র, হ্যালোবাইক) ২ দশমিক ৮৪ শতাংশ। বাইসাইকেল, রিকশা, রিকশা ভ্যান ২ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ৬৩২। (বাস ৯৮, ট্রাক ১০৬, কাভার্ড ভ্যান ১৮, পিকআপ ২১, ট্রাক্টর ১১, ট্রলি ৪, লরি ১০, ড্রাম ট্রাক ৭, তেলবাহী লরি ২, রোড রোলার ১, মাইক্রোবাস ১৬, প্রাইভেটকার ১৫, অ্যাম্বুলেন্স ৫, পাজেরো ২, মোটরসাইকেল ১৭৩, থ্রি-হুইলার ৯৬ (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান, লেগুনা), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ১৮ (নছিমন, ভটভটি, আলমসাধু, চান্দের গাড়ি, মাহিন্দ্র, হ্যালোবাইক), বাইসাইকেল, রিকশা, রিকশা ভ্যান ১৩ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ১৬টি।

দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণ

সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে ভোরে ৫ দশমিক ১০ শতাংশ, সকালে ২৬ শতাংশ, দুপুরে ১৮ দশমিক ৬২ শতাংশ, বিকালে ১৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ, সন্ধ্যায় ৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং রাতে ২৮ দশমিক ৮২ শতাংশ।

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যান

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ৩১ দশমিক ৬৩ শতাংশ, প্রাণহানি ৩০ দশমিক ০৪ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১০ দশমিক ৯৬ শতাংশ, প্রাণহানি ১২ দশমিক ২০ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ১৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ, প্রাণহানি ১৯ শতাংশ, খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ১২ দশমিক ২৪ শতাংশ, প্রাণহানি ১৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ, প্রাণহানি ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ, সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ, প্রাণহানি ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ, রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৬ দশমিক ১২ শতাংশ, প্রাণহানি ৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ ঘটেছে।

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২৪টি দুর্ঘটনায় ১২৮ জন নিহত হয়েছেন। বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম ১৫টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে চট্টগ্রাম জেলায় ৩১টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত হয়েছে। সবচেয়ে কম শরীয়তপুর, পটুয়াখালী, সুনামগঞ্জ ও জামালপুরে। এই চারটি জেলায় কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রাণহানি ঘটেনি। রাজধানী ঢাকায় ২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছে।

নিহতদের পেশাগত পরিচয়

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, পুলিশ সদস্য চার জন, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-মাদরাসার শিক্ষক ১২ জন, পল্লি চিকিৎসক একজন, সাংবাদিক তিন জন, প্রকৌশলী দুজন, বিভিন্ন ব্যাংক-বিমা কর্মকর্তা ও কর্মচারী ৫ জন, বিভিন্ন এনজিও কর্মকর্তা-কর্মচারী ১৪ জন, ওষুধ ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রয় প্রতিনিধি ১৬ জন, স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ১৯ জন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ১১ জন, পোশাক শ্রমিক সাত জন, নির্মাণশ্রমিক চার জন, চাল মিলের শ্রমিক দুজন, প্রতিবন্ধী দুজন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন, ঢাকা কলেজের দুজন ছাত্রসহ দেশের বিভিন্ন স্কুল-মাদ্রাসা ও কলেজের ৫৪ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোও চিহ্নিত করা হয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে। এগুলো হচ্ছে- ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন; বেপরোয়া গতি; চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা এবং অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা; বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা; মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচলে হঠাৎ বাধা পাওয়া; তরুণ-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো; জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা; দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা; বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি ও গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।


সংসদের মুলতবি অধিবেশন শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মুলতবি অধিবেশন শুরু হয়েছে। রোববার বেলা ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। গত ১৫ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ২৯ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছিল।

এই অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন’ এবং ‘গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫’ নিয়ে। বিরোধী দল জামায়াতসহ তাদের জোটের সদস্যরা এ বিষয়ে আলোচনার দাবি করেছেন। ইতোমধ্যে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে একাধিক নোটিশ জমা দেওয়া হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে।

এ ছাড়া দিনের কর্মসূচিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, নির্বাচন কমিশন কার্যালয় এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের প্রশ্নোত্তর পর্ব রয়েছে। জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের (বিধি-৭১) আওতায় প্রাপ্ত নোটিশগুলোর নিষ্পত্তি হয়েছে। এবারের অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল ১২ মার্চ। প্রথম দিনে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যদের মধ্যে ১১ জন বিএনপি, ৩ জন জামায়াতের। ১৩৩টির মধ্যে ১১৩টি অধ্যাদেশে ইতোমধ্যে একমত হয়েছে সরকারি ও বিরোধী দল। বাকি ২০টি অধ্যাদেশ নিয়ে কমিটির তৃতীয় বৈঠক আজ রাতে অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী, অধ্যাদেশ পাস না হলে ৩০ দিনের মধ্যে তা বাতিল হয়ে যাবে। তাই আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো পাস হতে হবে।


সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঠিক সময়ে উপস্থিতি নিশ্চিতে ঝটিকা সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৯ টা ৫ মিনিটে নিজ কার্যালয়ের নিচে এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। তখন সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবন থেকে পায়ে হেঁটে ৬ নম্বর ভবনে যান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী সেখানে জ্বালানি মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। যথাসময়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিত নিশ্চিতের বিষয়ে খোঁজ খবর নেন তিনি।

পরে ৫ নম্বর ভবনের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং ৩ নম্বর ভবনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করেন। এরপর সকাল ১০টার দিকে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন সরকার প্রধান। কৃষক কার্ডের ডেমো প্রদর্শন বৈঠকে অংশ নেন তিনি।


সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্র গেলেন সেনাপ্রধান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি সফরে শনিবার (২৮ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

রোববার আইএসপিআরের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সফরে সেনাবাহিনী প্রধান জর্জিয়া স্টেট ক্যাপিটলের উদ্যোগে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি সম্মাননা প্রস্তাব গ্রহণ এবং সিনেট চেম্বারে বিশেষ লেকচার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সেনপ্রধানের অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।


শাহজালালে বিমানের শৌচাগার থেকে ১৮ কেজি স্বর্ণ জব্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। শনিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাতে দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি ৩৪৮-এর কার্গো কম্পার্টমেন্টের টয়লেট প্যানেলের ভেতর থেকে ১৫৩টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। এগুলোর মোট ওজন ১৭ কেজি ৯০১ গ্রাম এবং বাজার মূল্য প্রায় ৩৮ কোটি টাকা।

বিমানবন্দর কাস্টমস সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ফ্লাইটটিকে অবতরণের পর থেকেই নজরদারিতে রাখেন। অবতরণের পর এভসেকের সহায়তায় কার্গো কম্পার্টমেন্ট তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে টয়লেট প্যানেলের ভেতর সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় স্বর্ণের বারগুলো উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত স্বর্ণ বিমানবন্দর কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান আছে।


বিকালে বসছে সংসদ অধিবেশন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের চলমান প্রথম অধিবেশন মুলতবির পর আজ থেকে পুনরায় শুরু হচ্ছে। বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে এই বৈঠক শুরু হবে।

এর আগে গত ১২ মার্চ শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশন ঈদুল ফিতর ও অন্যান্য ছুটির কারণে ১৫ মার্চ মূলতবি করা হয়। সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের তৃতীয় দিনে মূলত প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা এই আলোচনায় অংশ নেবেন। এছাড়া মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব ও জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ উত্থাপন ও সেই নোটিশের ওপর আলোচনার আলোচনার কর্মসূচি রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনা হবে। সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা এতে অংশ নেবেন। সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অধিবেশন চলবে।


রামেক পরিচালকের ওপর ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আইসিইউ ভেন্টিলেটরের অভাবে ১১ দিনে ৩৩ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, ‘এতগুলো শিশুর মৃত্যু হয়েছে, অথচ আমাদের জানানো হয়নি যে ভেন্টিলেটর নেই। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাকে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত।’

শনিবার রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে চিকিৎসার নৈতিকতাবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘এতগুলো শিশুর মৃত্যু হয়েছে, অথচ আমাদের জানানো হয়নি যে ভেন্টিলেটর নেই- এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাকে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত। ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তিনি পরিচালকের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্যও করেন।

মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি সরাসরি হাসপাতাল পরিচালকের সঙ্গে কথা বললেও প্রথমে তা অস্বীকার করা হয়। তবে পরবর্তীতে পাওয়া প্রতিবেদনে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যই সঠিক প্রমাণিত হয়। সরকারি প্রক্রিয়ায় সময় লাগায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভেন্টিলেটর সংগ্রহের কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

হাসপাতালের পরিচালক ভেন্টিলেটর সংকটের বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেননি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কয়েকজন ওষুধ প্রস্তুতকারকের সহায়তায় ইতোমধ্যে তিনটি ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আরও দুটি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এসব ভেন্টিলেটর সরকারি অর্থে নয়, বেসরকারি সহায়তায় আনা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে চিকিৎসকদের পেশাগত আচরণ ও নৈতিকতার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, রোগীরা চিকিৎসকদের ওপর গভীর আস্থা রাখেন। তাই, তাদের আচরণ ও সেবায় আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। অতিরিক্ত কাজের চাপ ও ক্লান্তির কারণে চিকিৎসায় ভুল হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ওঠা অনৈতিক আচরণের অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে হালনাগাদ জ্ঞান অর্জন এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। নিজের চিকিৎসাসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার এড়ানো সম্ভব, যদি সঠিক পরামর্শ ও বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

সামগ্রিকভাবে, স্বাস্থ্য খাতে সেবার মান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিয়ে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা

ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। শনিবার দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

বার্তায় বলা হয়েছে, একটি ইউএস ভিসা থাকা মানেই যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের নিশ্চয়তা শতভাগ নয়। একজন ভ্রমণকারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন কি না এবং কতদিন সেখানে অবস্থান করতে পারবেন, তার শর্তাবলি নির্ধারণ করেন সংশ্লিষ্ট প্রবেশস্থলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা। অর্থাৎ, ভিসা থাকা সত্ত্বেও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা চাইলে যে কাউকে প্রবেশে বাধা দিতে পারেন।

দূতাবাস আরও সতর্ক করে জানায়, নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করা বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে কাজ করা (যেমন পর্যটক ভিসায় চাকরি করা) গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বার্তায় বলা হয়, ভিসার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্পূর্ণভাবে ভ্রমণকারীর দায়িত্ব। নিয়ম মেনে অবস্থান এবং সময়মতো দেশে ফিরে আসার ওপরই ভবিষ্যতে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করে।

সম্প্রতি অতিরিক্ত সময় অবস্থান ও ভিসা জালিয়াতি ঠেকাতে সচেতনতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে দূতাবাস নিয়মিত এমন বার্তা দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


র‍্যাবের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আহসান হাবীব পলাশ

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ফোর্সেসের ১২তম মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) ১২তম মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ। শনিবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। তিনি র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

র‍্যাব সদরদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মো. আহসান হাবীব পলাশ ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন। তিনি রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি থেকে এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তার দীর্ঘ ও বর্ণিল কর্মজীবনে পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

কর্মজীবনে আহসান হাবীব পলাশ ৪ এপিবিএন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) ছাড়াও রাঙামাটি, শরীয়তপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হেডকোয়ার্টার্সে প্রশাসনিক ও তদন্ত কার্যক্রমে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন তিনি। পদোন্নতি সূত্রে তিনি চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার কাজের ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় কসোভো, লাইবেরিয়া, সুদান ও দক্ষিণ সুদানে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ পুলিশে অনন্য সেবাদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল’ (বিপিএম-সেবা) পদকে ভূষিত হন।

শিক্ষাজীবনে মো. আহসান হাবীব পলাশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসএস (সম্মান) এবং এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়া থেকে বিভিন্ন উচ্চতর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।


রাজশাহী ও ময়মনসিংহে ছড়িয়ে পড়েছে হাম, ছয় শিশুর মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শনিবার দুপুর তোলা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
    # চলতি মাসে রাজশাহী মেডিকেলে ১২ শিশুর মৃত্যু # আইসিইউয়ে নেওয়ার পরেও ৯ জনকে বাঁচানো যায়নি # ময়মনসিংহ মেডিকেলে বাড়ছে রোগীর চাপ, ১১ দিনে ভর্তি ১০৫

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশু রোগী বাড়ছে। এই দুই হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেলের শিশু ওয়ার্ড থেকে হামে আক্রান্ত যে চার শিশুকে গত বৃহস্পতিবার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল, তাদের তিনজনই মারা গেছে। বেঁচে থাকা শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে শনিবার বিকেলে আইসিইউয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও তিন শিশুকে আইসিইউয়ে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১ দিনে ১০৫ জন হাম আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে তিন শিশুর।

রাজশাহী: রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ হাম রাজশাহী অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় ১৮ মার্চ রাজশাহী বিভাগের ১৫৩ রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে ৪৪ জনের হাম পজিটিভ পাওয়া গেছে। আক্রান্তের হার প্রায় ২৯ শতাংশ। তার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও পাবনায় সংক্রমণ বেশি হয়েছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র শঙ্কর কে বিশ্বাস বলেন, শনিবার থেকে ২৪ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডে আইসোলেশন কর্নার করা হয়েছে। সেই কর্নারে রেখে হামের রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাবিবুর রহমান বলেন, তিনি পরিস্থিতি দেখতে পাবনায় গিয়েছিলেন। পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের অবস্থা বেশি খারাপ। পাবনা সদর হাসপাতালে ২৬ জন হামের রোগী ভর্তি ছিল। আলাদা ওয়ার্ডে রেখে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হাবিবুর রহমান আরও বলেন, বিভাগের সব জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা হাসপাতালগুলোয় তিনি আগেই নির্দেশনা দিয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাবনায় আক্রান্ত রোগীদের আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি সামলাতে গত ২৪ মার্চ হাম আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাসপাতাল প্রশাসন। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের তিনটি পৃথক কক্ষ করা হয় হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য। ‘হাম/মিসেলস কর্নার’ নামে ১০ শয্যাবিশিষ্ট কক্ষগুলোতে একটি মেডিকেল টিমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে শিশুদের। তবে কক্ষগুলোতেও রোগী সংকুলান হচ্ছে না।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডকে তিনটি ভাগে ভাগ করে শিশু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। দুটি ওয়ার্ডকেই শিশু ওয়ার্ড বলা হয়। এই শিশু ওয়ার্ডে সব ধরনের শিশু রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। বেলা তিনটার দিকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে শিশু রোগীদের ভিড় দেখা যায়। শয্যা, মেঝে ও বরান্দা—সর্বত্র রোগী। ৬০ রোগীর শয্যার বিপরীতে এখানে তিনশ–চারশর বেশি রোগী ভর্তি থাকে সব সময়, এমনটি জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। এই হাসপাতালে ময়মনসিংহ জেলা ছাড়াও শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, কুড়িগ্রাম, কিশোরগঞ্জ ও গাজীপুরের কিছু অংশ থেকে রোগী ভর্তি করা হয়। বিকেল চারটা পর্যন্ত হাসপাতালের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে ৪৬ জন, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের দুটি ইউনিটে ২৩ জন চিকিৎসাধীন। চলতি মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় ১০৫ জন শিশু।

হাসপাতালের শিশু বিভাগের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৪৬ জন শিশু রোগী হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। নির্ধারিত একটি কক্ষে ১০ জন হাম আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার কথা থাকলেও তাতে ধরছে না রোগী। এক বিছানায় দুই রোগীর চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, ধারণক্ষমতার বেশি রোগী থাকায় অন্য রোগীদের সঙ্গেই হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলছে।

শিশু বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মাজহারুল আমিন বলেন, ‘হামের টিকা নিয়েছে এবং নেয়নি, দুই ধরনের রোগীই আমরা পাচ্ছি। এখন পর্যন্ত কোনো রোগীকে আইসিইউতে পাঠানোর মতো পরিস্থিতি হয়নি। কয়েক মাস ধরে দুয়েকজন রোগী পাওয়া গেলেও এ মাসেই বেশি রোগী পাওয়া যাচ্ছে। তিনটি ‍পৃথক কর্নার করা হলেও সেখানে রোগী না ধরায় হাম আক্রান্ত রোগীদের শতভাগ আইসোলেশনে রাখা যাচ্ছে না। এ ছাড়া অন্য রোগীদেরও চাপ রয়েছে।’

শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান জানান, হাসপাতাল প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণ রোগী থেকে হাম আক্রান্ত রোগীদের আলাদা করে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাম আক্রান্ত রোগী সাধারণ রোগীদের মধ্যে আছে, এমন সংখ্যা কম। খোঁজ করে পেলে সেই রোগীকে নির্ধারিত স্থানে পাঠানো হয়। আপাতত তিনটি কক্ষে রোগীদের রাখা হচ্ছে এবং কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে আর কী করা যায়।

তিনি বলেন, সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) লোকজন এই হাসপাতালে এসে নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করছেন। কিন্তু কী কারণে হঠাৎ হাম আক্রান্ত বেড়ে গেল, তা বোঝা যাচ্ছে না। তবে শিশুদের টিকাদানে সমস্যা হওয়ার কারণে এমনটি হতে পারে। আক্রান্ত রোগী থেকে অন্যদের দূরে রাখতে হবে ও সাবধানে থাকতে হবে। এই রোগটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে।

হাম আক্রান্ত রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার ১৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি করে আলাদা বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে জানান ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ফয়সল আহ্‌মেদ। তিনি বলেন, হাসপাতালের বহির্বিভাগে শিশুদের জন্য ‘ডেডিকেটেড ফিবার ক্লিনিক’ চালুর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


চলে গেলেন ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আমেনা আহমেদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভাষাসৈনিক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আমেনা আহমেদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আমেনা আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা প্রয়াত অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদের সহধর্মিণী। মৃত্যুকালে একমাত্র কন্যা আইভি রহমান, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীদের রেখে গেছেন তিনি।

জানা যায়, ভাষাসৈনিক আমেনা আহমেদের মৃত্যুতে ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন এবং ব্যক্তি পর্যায়ে অনেকে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ন্যাপের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, আজ বাদ মাগরিব স্বামীর বাড়ি কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মান প্রদর্শন শেষে স্বামী মোজাফফর আহমেদের কবরের পাশে আমেনা আহমেদকে সমাহিত করা হবে।

প্রসঙ্গত, ভাষাসৈনিক আমেনা আহমেদ ইডেন কলেজে অধ্যয়নকালে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে রাজপথের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী ও ইডেন কলেজ ছাত্র সংসদের সহসভাপতি ছিলেন তিনি। তিনি ২০০৯ এবং ২০১৪ সালে সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়াও আমেনা আহমেদ ন্যাপ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও বর্তমান কার্যকরী কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন।


সংসদ ভবনের মেডিক্যাল সেন্টার আধুনিকায়ন ও চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়াতে সংসদ কমিটির সুপারিশ

সংসদ ভবনে সংসদ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদ ভবনের মেডিক্যাল সেন্টারের আধুনিকায়ন ও চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়াতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্ট কমিটি।

শনিবার (২৮ মার্চ) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। সভায় কমিটির সদস্যবৃন্দ-রকিবুল ইসলাম, মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, মো. শহিদুল ইসলাম, নায়ার ইউসুফ আহমেদ, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. সাইফুল আলম এবং মো. আবুল হাসনাত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে বিশেষ করে কার্ডিয়াক চিকিৎসা জোরদারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুল্যান্স সংযোজন, লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ি ক্রয় এবং মানসম্মত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ সময় জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধির ২৫০ ও ২৫১ ধারা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও নাখালপাড়ায় অবস্থিত সংসদ সদস্যদের আবাসিক ভবনের সংস্কার কাজের অগ্রগতি, শেরেবাংলানগরের এমপি হোস্টেলের ১৫৬টি অফিস কক্ষ সংস্কার এবং সিভিল, ই/এম ও কাঠের কারখানা বিভাগের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। সংসদ সদস্যদের জন্য ২৪ ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মেডিক্যাল সেন্টারে পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও মেডিক্যাল অফিসার নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আবাসন এলাকায় সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা জোরদার এবং নির্ধারিত জনবল পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী পদায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) এমপির সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

এছাড়া সংসদ সদস্যদের আবাসন ভবনের আসবাবপত্র দ্রুত প্রস্তুত ও সংস্কারের নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং প্রতিটি আসবাবের মান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। সভায় সংসদ অধিবেশন কক্ষের সাউন্ড সিস্টেমের সমস্যা নির্ণয়ে গঠিত কমিটিকে আগামী ৩ এপ্রিলের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।


বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারে মৌলিক নীতি অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

ক্যামেরুনের ইয়াউন্দেতে ডব্লিউটিওর এমসি-১৪ সম্মেলনের ‘বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক সেশন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কার প্রক্রিয়ায় সতর্কতা অবলম্বনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, “বর্তমান বাস্তবতায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। তবে এই সংস্কার যেন সংস্থাটির মৌলিক নীতিমালাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।”

ক্যামেরুনের ইয়াউন্দেতে বৃহস্পতিবার ডব্লিউটিওর মন্ত্রী পর্যায়ের চতুর্দশ সম্মেলনে (এমসি১৪) তিনি এ মন্তব্য করেন বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ২৬ থেকে ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের ‘ডব্লিউটিও রিফর্ম: ফান্ডামেন্টাল ইস্যুজ’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন তিনি। বক্তব্যে তিনি তুলে ধরেন, ডব্লিউটিওর মূল ভিত্তি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যনির্ভর উন্নয়নকে উৎসাহিত করা। বৈষম্যহীনতা ও অন্তর্ভুক্তির নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ঐকমত্যভিত্তিক ও নিয়মভিত্তিক এই বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা নিশ্চিত করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ বা এমএফএন সুবিধা, শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধা বা ডিএফকিউএফ বাজার প্রবেশাধিকার এবং স্পেশাল অ্যান্ড ডিফারেনশিয়াল ট্রিটমেন্ট বা এসঅ্যান্ডডিটি সুবিধা বিশ্ব বাণিজ্যে সমতা ও অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকট এবং কোভিড মহামারীর সময় ছাড়া গত তিন দশকে উন্নত দেশগুলোর মধ্যম আয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি বিদ্যমান বাণিজ্য ব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্দেশ করে। তবে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে গড়ে ওঠা বর্তমান কাঠামো সংস্কারের নামে নষ্ট করা উচিত নয়, কারণ বিশ্বের অধিকাংশ অর্থনীতি এই নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।”

সংস্কার প্রক্রিয়া ‘অত্যন্ত সতর্কতার’ সঙ্গে পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এতে ব্যবস্থার অখণ্ডতা বজায় রাখা, পূর্বের অর্জন সংরক্ষণ এবং সব সদস্য দেশের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী ফল নিশ্চিত করা জরুরি। এবারের সম্মেলনে ডব্লিউটিও সংস্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সদস্য দেশগুলো জেনিভায় আলোচনার পর একটি রূপরেখা প্রস্তুত করেছে, যা এমসি১৪-তে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ পদ্ধতি, উন্নয়ন ইস্যু, বিশেষ ও পার্থক্যমূলক সুবিধা, সমতাভিত্তিক প্রতিযোগিতা এবং বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

উদ্বোধনী দিনে ডব্লিউটিও মহাপরিচালক এনগোজি ওকনজো ইওয়েলা বলেন, বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থা বর্তমানে বড় চাপের মুখে রয়েছে। তার ভাষায়, সংস্থার বিরোধ নিষ্পত্তি কাঠামো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে এবং ভর্তুকি সংক্রান্ত তথ্য প্রদানে স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। ২০২৫ সালের জন্য ১৬৬ সদস্য দেশের মধ্যে মাত্র ৬৪টি দেশ ভর্তুকি নোটিফিকেশন জমা দিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে থাকায় বাংলাদেশের জন্য এই আলোচনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ডব্লিউটিওর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এলডিসি হিসেবে প্রাপ্ত বিশেষ ও পার্থক্যমূলক সুবিধা, শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজারে প্রবেশাধিকার এবং কিছু নীতিগত নমনীয়তা উত্তরণের পর আংশিকভাবে হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্লেষণে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কৃষি, ট্রিমস, ভর্তুকি, ট্রিপস, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন ও সেবা বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এলডিসিভুক্ত দেশগুলো অতিরিক্ত সুবিধা পেয়ে থাকে। এ কারণে ডব্লিউটিও সংস্কার প্রসঙ্গে বাংলাদেশের মতো দেশের ক্ষেত্রে উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তি এবং বিশেষ সুবিধা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সম্মেলনে ১৬৬টি সদস্য দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ও প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। প্রতিনিধিদলে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জেনিভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন।


ডিপো থেকে জ্বালানি তেল নেওয়ার নতুন সময়সূচি নির্ধারণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিপো থেকে তেল উত্তোলনের নতুন সময়সূচি ঘোষণা করেছে বিপিসি। এখন সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলবে সরবরাহ কার্যক্রম।

বিপিসির বিভিন্ন কোম্পানির ডিপো থেকে জ্বালানি তেল পেট্রোল পাম্পে সরবরাহের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সময়সূচিতে ২ ঘণ্টা এগিয়ে সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় জ্বালনি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বিপণন কোম্পানিসমূহের মাধ্যমে সারাদেশে নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সে প্রেক্ষিতে, দেশব্যাপী ফিলিং স্টেশন, প্যান্ড পয়েন্ট ডিলার ও পাম্পসমূহে জ্বালানি পণ্য সঠিকভাবে সরবরাহ কার্যক্রম নিশ্চিতে বিপিসির অধীনের কোম্পানিসমূহের প্রধান স্থাপনা/ডিপো হতে জ্বালানি পণ্য সরবরাহের জন্য নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রধান স্থাপনা/ডিপো হতে জ্বালানি পণ্য সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হবে সকাল ৭টায়। আর প্রধান স্থাপনা/ডিপো হতে জ্বালানি পণ্য সরবরাহ কার্যক্রম শেষ হবে বেলা ৩টায়।

এদিকে দেশব্যাপী জ্বালানি তেলের ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে দেশের সব পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের সব পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করতে হবে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করবে।


banner close