পাঁচ সংস্কার কমিশন গঠনের পর এবার ৮ সদস্যদের সমন্বয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন’ গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর মধ্য দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ঘোষিত ছয়টি কমিশন গঠন করে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। আজ সোমবার সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে আগেই অধ্যাপক আলী রীয়াজের নাম ঘোষিত হয়েছিল। তাকে প্রধান করে আজ আটজন সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।
তারা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের ও অধ্যাপক মুহাম্মদ ইকরামুল হক, ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিকী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার এম মঈন আলম ফিরোজী, লেখক ফিরোজ আহমেদ, লেখক ও মানবাধিকারকর্মী মো. মুস্তাইন বিল্লাহ এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে আছেন মো. মাহফুজ আলম।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।
আজ রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর দফতরে তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সারাহ কুক।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক এ কথা জানান।
তিনি জানান, সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সার্বিক বিষয়াদি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
এ সময় দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব আরও জানান, পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, অভিবাসন ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও সাক্ষাতে মতবিনিময় হয়।
এ সময় উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়া এবং পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাক্ষাতকালে উপস্থিত ছিলেন।
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সরকারি জান্তা বাহিনী এবং জাতিগত সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যকার চলমান সংঘাতের ক্ষতিকর প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জনপদে পড়ছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রবিবার (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ‘ইনডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’ (আইআইএমএম)-এর প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই উদ্বেগের কথা জানান। বৈঠকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ আশ্রয়হীন লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে স্থান দিলেও অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও সীমান্ত অস্থিরতার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত জটিল রূপ ধারণ করেছে।
বৈঠকে মিয়ানমারে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেখভালে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে, যা বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘ সংস্থাসমূহকে পূর্বের ন্যায় উচ্চ মাত্রার সহায়তা অব্যাহত রাখার জোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) আসন্ন রায় মিয়ানমারের ওপর কার্যকর বৈশ্বিক চাপ সৃষ্টি করবে, যা বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠীকে নিজেদের আদি ভূমিতে ফেরত পাঠাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আইআইএমএম প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান জানান, তাঁদের তদন্তকারী দল কক্সবাজারসহ বিভিন্ন আশ্রয়শিবির সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রায় দুই শতাধিক ভিকটিম ও প্রত্যক্ষদর্শীর সরাসরি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছে। সংগৃহীত এসব তথ্য-প্রমাণ ও নথি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালগুলোতে জমা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আইআইএমএম তাদের তদন্তকাজ কেবল ২০১৭ সালের বড় অভিযানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখছে না; বরং সাম্প্রতিক সময়ে রাখাইনে আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর তীব্র সংঘর্ষের ফলে সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর যে নতুন করে সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে, তাও আন্তর্জাতিক আদালতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নথিভুক্ত করা হচ্ছে।
বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরে মিয়ানমার অংশের পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনের মারাত্মক ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। তিনি জানান, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে মিয়ানমারের পুঁতে রাখা বিপজ্জনক মাইনগুলো আন্তর্জাতিক সীমান্তরেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে চলে আসছে, যার ফলে সীমান্তবর্তী সাধারণ কৃষক ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এছাড়া সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির গৃহীত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে বৈঠকে অবহিত করা হয়; একই সঙ্গে সম্প্রতি সীমান্ত পেরিয়ে আসা ভিকটিমদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহে আইআইএমএম টিমকে মাঠপর্যায়ের বিজিবি কমান্ডারদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সম্মতি প্রদান করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
ঢাকা মহানগরের যানজট নিরসনে অভ্যন্তরীণ বৃত্তাকার সড়ক (ইনার সার্কুলার রিং রোড) নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনায় এক সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।
সভায় প্রধানমন্ত্রী সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগকে সমন্বিতভাবে প্রকল্পের বিদ্যমান পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে দ্রুত তা দূর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা এবং কাজ শেষ করতে একটি বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রকল্পের কাজে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেন।
সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সৌদি আরবের পবিত্র মদিনা নগরীর তাইবাহ বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। রবিবার (৪ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়। বেসামরিক নাগরিক সেবা এবং জ্বালানি পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো এই ধরনের সামরিক তৎপরতাকে আন্তর্জাতিক নিয়মরীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ঢাকা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, মসজিদে নববীসহ ইসলামের অতি গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একটি বেসামরিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইচ্ছাকৃতভাবে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের আবেগের কেন্দ্রবিন্দু এবং ইসলামের অন্যতম পবিত্রতম এই স্থানের মর্যাদা ও নিরাপত্তার ওপর এমন আঘাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলে বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষার প্রশ্নে দেশটির পাশে থাকার বিষয়ে অটল অবস্থানের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ। বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, শান্তি এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা অক্ষুণ্ণ রাখার যেকোনো ন্যায্য প্রচেষ্টার প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি অব্যাহত থাকবে।
একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ সরকার। যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড—যা এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে—বাংলাদেশ তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
দেশজুড়ে কিশোর গ্যাং দমনে সরকার অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন অবস্থান নিয়েছে। আগামী ৩ মাসের মধ্যেই দেশ থেকে কিশোরগ্যাং উচ্ছেদ ও নির্মূল করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে শহরাঞ্চলে কিশোর গ্যাংয়ের সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার এবং পুলিশ প্রশাসন দেশব্যাপী বহুমুখী ও সমন্বিত ক্র্যাকডাউন (বিশেষ অভিযান) শুরু করেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের শত শত সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেককে বুঝিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আবার অনেককে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। সন্তানদের দিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কিশোর গ্যাংয়ের বিদ্যমান তালিকা হালনাগাদ করার কাজ শুরু হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশসহ দেশের বিভিন্ন থানা ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে বড় পরিসরে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে ঢাকা মহানগর পুলিশের ক্রাইম জোন ও গোয়েন্দা বিভাগের ডিসিদের নিয়ে সভাও হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইনে কোনো সংশোধন বা সংযোজন প্রয়োজন কি না, কিংবা নতুন আইন প্রণয়নের প্রয়োজন আছে কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকায় ১৫৮টি কিশোর গ্যাং রয়েছে। এসব গ্রুপে মোট সদস্য সংখ্যা ১ হাজার ২১৯ জন। তবে সারাদেশে কিশোর গ্যাংয়ের মোট সংখ্যা ও সদস্যদের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান এখনো পাওয়া যায়নি।
পুলিশের বিভিন্ন মামলার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যে অপরাধের অভিযোগ রয়েছে তা হলো ছিনতাই। মোবাইল ফোন, টাকা, মোটরসাইকেলসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় কিশোরদের জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন জুয়া, চাঁদাবাজি, মাদক বহন ও বিক্রি, গ্যাং-সংঘর্ষ, আধিপত্য বিস্তার, ভাড়াটে হিসেবে হামলা এবং জমি ও স্থাপনা দখলের মতো গুরুতর অপরাধেও কিশোরদের ব্যবহারের অভিযোগ উঠছে। ফলে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে পুলিশের চলমান অভিযান কতটা কার্যকর হয়, তার পাশাপাশি কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে সামাজিক ও পারিবারিক উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কুমিল্লাসহ পাঁচ জেলায় ইতোমধ্যে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। কুমিল্লায় প্রথম দফায় জেলার ১৮ থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এরপর দ্বিতীয় দফায় ২৫৪ জন এবং তৃতীয় দফায় ৪১৫ জনকে আটক করা হয়। তিন দফায় কুমিল্লায় মোট ১ হাজার ২৯৩ কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রামেও বিশেষ অভিযান চলছে। চাঁদপুরের আট উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৩৭০ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৩৫৫ জনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। আটক কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
লক্ষ্মীপুরের ছয় থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ২৬৬ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ২১৪ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ফেনী শহরে অভিযান চালিয়ে ৩৮ কিশোরকে আটক করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ১৭ থানা এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ৪৪৫ জনকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সমাজ-অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে প্রকৃত অপরাধ অনুযায়ী মামলা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গ্যাংয়ের ‘বড় ভাই’, পৃষ্ঠপোষক ও অর্থদাতাদেরও আইনের আওতায় আনার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, প্রান্তিক পরিবারের পড়াশোনা ও কর্মের বাইরে থাকা কিশোরদের প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করা দরকার। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিন মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং উৎখাত করা হবে: চিফ হুইপ
কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে বলে মনে করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেছেন, ‘আগামী তিন মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা সমূলে উৎখাত করা হবে। কিশোররা অস্ত্র নিয়ে, চাপাতি নিয়ে ঘুরবে না। তারা বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাবে, লেখাপড়া করবে, দক্ষ হবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করবে। তারা রোবটিক যুগে প্রবেশ করবে।’
গত শুক্রবার এফডিসিতে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসি আয়োজিত ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, ‘এখন যারা সমাজে সন্ত্রাস ও মব করছে বিগত শাসনামলেও তারাই এই অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাদের আমরা ছেঁকে বের করার চেষ্টা করছি। আমরা কোনো হেলমেট বাহিনী দেখতে চাই না, হাতুড়ি বাহিনী তৈরির কোনো ইচ্ছে বর্তমান সরকারের নেই। আমাদের দায় চাপানোর রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’
‘শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের কাছে খুব একটা বিকল্প ছিল না এবং ভারতে তাকে সে দেশের বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী নিয়ে যায়নি’,—এ কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, ‘ভারত থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের অনুরোধের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান এবং বিষয়টির সঙ্গে আদালত যুক্ত থাকায় এর কোনো সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।’
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে এক প্যানেল আলোচনায় প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘বারবার ভারত সরকার এ বিষয়ে বলেছে, একটি প্রক্রিয়া রয়েছে, আর সেই প্রক্রিয়াটি আইনি ও সুসংগঠিত। সুতরাং এ বিষয়ে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’ বিষয়টির সঙ্গে আদালত যুক্ত থাকায় ‘কেউ কোনো সময়সীমা দিতে পারবে না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার পর শেখ হাসিনা যে পরিস্থিতিতে ভারতে পৌঁছান, সে বিষয়েও ত্রিবেদী কথা বলেন। তিনি বলেন, ওই পরিস্থিতির জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত ছিল না।
বাংলাদেশ থেকে শেখ হাসিনার চলে যাওয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে, শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা ভারতীয় সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে আসেনি।’
সে সময় বাংলাদেশের ‘মর্মান্তিক পরিস্থিতির’ কারণে ঘটনাটি ঘটেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি বিশ্বের কোথাও যেন আর কখনও না ঘটে।
হাইকমিশনার বলেন, শেখ হাসিনা যখন ভারতে পৌঁছান, তখনও তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং প্রতিবেশী দেশ হিসেবে নয়াদিল্লিকে ওই পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি টেলিভিশনে দেখছিলাম, স্ক্রলে আসছিল যে তিনি অন্য কোনো দেশে কোথাও যাচ্ছেন।’
ত্রিবেদী বলেন, ‘সেই সময় শেখ হাসিনা তখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এ বিষয়ে আমাদের খুব একটা বিকল্প ছিল না। প্রতিবেশী হিসেবে বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া আমাদের দায়িত্ব ছিল, কারণ এমন অনেক পরিস্থিতি তৈরি হয়, যখন আপনি তার জন্য প্রস্তুত থাকেন না।’
ওই পরিস্থিতিতে ভারতের বিকল্প কী হতে পারত, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ‘আমাদের কী বিকল্প ছিল? আমরা যদি বলতাম, না, আমরা তাকে গ্রহণ করব না, অবতরণের অনুমতিও দেব না—তাহলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াত, আমি জানি না।’
তবে তিনি বর্তমান আইনি প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গে ফিরে এসে বলেন, ভারতের বিচারব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রত্যর্পণের বিষয়টি মোকাবিলা করা হচ্ছে।
দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া চালু রয়েছে, এ বিষয়ে আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মতো ভারতেও প্রাণবন্ত গণতন্ত্র রয়েছে এবং এর আইনি ব্যবস্থা বিষয়টি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ বারবার শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন।
আগস্টে ঢাকায় ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বিষয়টি উত্থাপন করেন। এরপর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী বাংলাদেশের অনুরোধটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বিনিয়োগ বাড়ানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি—সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, অর্থনীতিকে গতিশীল করতে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে সরকার।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘ইকন্থন’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
এসময় মন্ত্রী বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশেও। মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় চাপ সৃষ্টি করছে, কমেছে রাজস্ব আদায়ও। এ অবস্থায় সরকারের অগ্রাধিকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংক খাতে আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
পাশাপাশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়িয়ে অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে চায় বর্তমান সরকার। রপ্তানিতে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ধরে রাখা, বেসরকারি বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি এবং মানুষের জন্য সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করাই এখন মূল লক্ষ্য।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা ১০ দিনের ছুটি পাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসার ছুটির তালিকা এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে এ বন্ধ উপভোগ করা যাবে। তবে প্রতিষ্ঠানভেদে ছুটির সময়সূচিতে কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে।
এদিকে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীদের ছুটিও বাড়িয়েছে সরকার। আগামী ২২ অক্টোবর নির্বাহী আদেশে নতুন করে ছুটি ঘোষণা করায় এবারের দুর্গাপূজায় সরকারি চাকরিজীবীরা মোট পাঁচদিনের ছুটি পাচ্ছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী উপলক্ষে আগে থেকেই ছুটি নির্ধারিত ছিল। এর সঙ্গে ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) নতুন করে নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন।
অন্যদিকে ২০২৬ সালের সরকারি, বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচদিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। ছুটি শুরুর আগে ও পরে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শিক্ষার্থীরা আরও চারদিন ছুটি কাটানোর সুযোগ পেতে পারে।
পরদিন ২৫ অক্টোবর রোববার লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে আরও একদিন ছুটির সুযোগ রয়েছে। ফলে ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৬ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১০ দিনের পাওয়া যাবে। তবে এ ছুটির বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারের প্রয়োজন বিবেচনায় ছুটির সময়সূচিতে পরিবর্তনও আসতে পারে।
এদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কলেজ-৪ শাখার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কলেজে এ বছর ১৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১০ দিনের ছুটি রাখা হয়েছে। এ হিসাবের মধ্যে মাঝের দুই শুক্রবার ও শনিবার অন্তর্ভুক্ত নয়। দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমীর পাশাপাশি প্রবারণা পূর্ণিমা ও ২৫ অক্টোবরের লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে এই ছুটি রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারে কোনো তথ্য গোপন, ভুল বা বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন না করার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকায় দেশটির দূতাবাস। অতীতে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা থাকলে তা কনস্যুলার কর্মকর্তাদের জানা থাকতে পারে উল্লেখ করে সতর্ক করেছে দূতাবাস।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এ সতর্কতা জানানো হয়।
বার্তায় বলা হয়েছে, ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীর পূর্ববর্তী অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য কনস্যুলার কর্মকর্তাদের কাছে থাকতে পারে। তাই অতীতের কোনো ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা না করে সাক্ষাৎকারে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দেওয়া উচিত।
দূতাবাস আরও জানিয়েছে, কোনো আবেদনকারী ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দিলে বা জাল নথি জমা দিলে তার ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে। একই সঙ্গে এমন প্রতারণার কারণে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মুখেও পড়তে পারেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।
তাই ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারের সময় সব প্রশ্নের উত্তর সততার সঙ্গে দেওয়ার এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছর নিশ্চিত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১২২ জনে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১২২ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০২ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১০৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ১৯৭ জনে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৩ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৬৬৬ জনে।
গত ১৫ মার্চ থেকে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৫৬ জন।
গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ২৩৬ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৭৯ জন ধর্ষণের শিকার, যাঁদের ৪৭ জনই শিশু ও কিশোরী। একই সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতার ৬৮টি ঘটনায় চারজন নিহত এবং ৫২৭ জনের বেশি আহত হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) মাসিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এইচআরএসএস জানায়, দেশের ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও সংগঠনটির নিজস্ব তথ্যানুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বরে ১৩ নারী ও কিশোরী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া ২৫ শিশুসহ ৪৯ নারী ও কিশোরী যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের পর পাঁচ নারী ও কিশোরীকে হত্যা করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে তিনজন শিশু ও কিশোরী। এ ছাড়া ধর্ষণের শিকার এক নারী আত্মহত্যা করেছেন।
যৌতুকের কারণে ছয় নারী ও কিশোরীর মৃত্যু এবং চারজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া একজন আত্মহত্যা করেছেন। পারিবারিক সহিংসতায় ৪৩ নারীর মৃত্যু, ২৭ জন আহত এবং ২৬ জন আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এইচআরএসএসের তথ্যমতে, সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক সহিংসতার ৬৮টি ঘটনায় চারজন নিহত ও ৫২৭ জনের বেশি নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুজন, বিএনপির একজন এবং জামায়াতে ইসলামীর একজন কর্মী রয়েছেন।
আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক সহিংসতা ও হতাহতের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। আগস্টে ৭০টি ঘটনায় সাতজন নিহত ও ৫৩৬ জন আহত হয়েছিলেন।
সেপ্টেম্বরে সংঘটিত রাজনৈতিক সহিংসতার ৩৫টি ঘটনা ছিল বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে। এসব ঘটনায় অন্তত ৩৪০ জন আহত ও একজন নিহত হয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সাতটি সংঘর্ষে ৬১ জন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ছয়টি সংঘর্ষে ৪২ জন আহত এবং একজন নিহত হয়েছেন। জামায়াত ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে দুটি সংঘর্ষে একজন নিহত ও তিনজন আহত হন। এ ছাড়া বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে তিনটি সংঘর্ষে ১৬ জন আহত হয়েছেন।
সেপ্টেম্বরে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ৩৫টি ঘটনায় নয়জন নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে এইচআরএসএস। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, তর্ক-বিতর্ক, আধিপত্য বিস্তার, ধর্মীয় অবমাননা, ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মাসটিতে ২০টি ঘটনায় ৩৫ সাংবাদিক হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন আহত, ১২ জন হামলার শিকার এবং তিনজন হুমকির মুখে পড়েছেন। সাইবার নিরাপত্তা আইনে একজন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া চারটি মামলায় তিন সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে।
সেপ্টেম্বরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ছয়টি সভা ও সমাবেশে বাধা দিয়েছে। এতে ৪৭ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ১২টি ঘটনায় অন্তত ১৪ জনকে আটক এবং ১২টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় ২৬ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাসটিতে দেশের বিভিন্ন কারাগারে ২১ বন্দির মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জন দণ্ডপ্রাপ্ত এবং ১০ জন বিচারাধীন ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং নির্যাতনের অভিযোগ থাকা ঘটনায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্য দুজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মারা গেছেন।
এইচআরএসএস জানায়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের হামলার তিনটি ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া একজনকে আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ১০০ জনের বেশি মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টার তথ্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
সেপ্টেম্বরে সারা দেশে ২৭১ শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৯৩ জন শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ ছাড়া সাত শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, সেপ্টেম্বরে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির কিছু সূচকে উন্নতি হলেও কয়েকটি ক্ষেত্রে অবনতি হয়েছে। মাসজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতা, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেন্দ্রিক সংঘাত, ক্যাম্পাসে সহিংসতা, গণপিটুনি, কারাগারে মৃত্যু, নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিক নির্যাতন, নারী ও শিশু নির্যাতন, সীমান্তে সহিংসতা এবং শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনা অব্যাহত ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে ঠেকাতে অনলাইনে সংরক্ষিত বিবাহ ও তালাকের তথ্য পর্যায়ক্রমে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে বিয়ের আগে একজন ব্যক্তির আগের বৈবাহিক তথ্য অনলাইনে যাচাই করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন আইন ও বিচারমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর নিকেতনে ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের (কাজী) জন্য আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনলাইনে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনের সফটওয়্যার ব্যবহারে দক্ষতা বাড়াতে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব নিকাহ রেজিস্ট্রারকে ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এ জন্য তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অনলাইনে বিয়ে ও তালাকের তথ্য একটি সমন্বিত ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকলে একজন ব্যক্তি আগে বিয়ে করেছেন কি না, একাধিক বিয়ে থাকলে তার সংখ্যা এবং নতুন বিয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পূর্বানুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করা যাবে।
মন্ত্রী বলেন, অনলাইন নিবন্ধন চালু হলে আগের বিয়ের তথ্য গোপন করে অন্যত্র বিয়ে করা, গোপনে বিয়ে এবং পরে বৈবাহিক সম্পর্ক অস্বীকার করার সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও বিয়ে-সংক্রান্ত আইন যথাযথভাবে প্রয়োগে এ ব্যবস্থা সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বৈবাহিক তথ্য অনলাইনে যাচাইয়ের সুযোগ থাকলে সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীর আগের বিয়ের তথ্য জানাও সহজ হবে। এ ছাড়া কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর স্ত্রী বা সন্তান হিসেবে একাধিক ব্যক্তি দাবি করলে নিবন্ধিত তথ্যের ভিত্তিতে বৈবাহিক সম্পর্ক যাচাই করা সম্ভব হবে। এতে উত্তরাধিকার ও বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে বিরোধ এবং মামলা-মোকদ্দমার প্রবণতা কমতে পারে বলে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর বিষয়েও কথা বলেন মো. আসাদুজ্জামান। ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রারদের দীর্ঘদিনের প্রভাব ও সিন্ডিকেট ভাঙতে শিগগিরই লটারির মাধ্যমে পদায়ন প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানান তিনি। এ উদ্যোগের মাধ্যমে পদায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্য রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস ও এস এম এরশাদুল আলম, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুর হোসেন, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শামীমা আফরোজ এবং প্রকল্প পরিচালক মো. আজিজুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছাপাখানার যেসব মালিক পাঠ্যবই ছাপার কাজে প্রতারণার আশ্রয় নেবেন, আগামী বছর থেকে তাদের আর পাঠ্যবই ছাপার কাজ দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো ছাপাখানা একবার প্রতারণার আশ্রয় নিলে পরবর্তী সময়ে তাকে আর পাঠ্যবই ছাপার সুযোগ দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় শিল্পের উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাই ছাপাখানা মালিকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, কোনো ছাপাখানা যদি একবার প্রতারণা করে, তাহলে আগামী দিনে তাকে আর বই ছাপাতে দেব না।’ তিনি বলেন, একবার প্রতারণা করলে পরেরবার ওই প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়া হবে।
এর আগে বিভিন্ন বছর ভারত থেকে পাঠ্যবই ছাপিয়ে আনার কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার দেশের ছাপাখানাগুলো বই ছাপার কাজে সহযোগিতা করছে। এ বছরের ছাপার মানও কিছুটা ভিন্ন। ছাপাখানা মালিকদের সবাই সহযোগিতা করলে নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
শিক্ষার্থীদের বছরের শুরুতেই পাঠ্যবই দেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়মতো পাঠ্যবই ছাপিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে দেওয়া হয়েছিল। এবারও পাঠ্যবইয়ের মান ভালো হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সবার সহযোগিতা পাওয়া গেলে সময়মতো পাঠ্যবই পাওয়া যাবে এবং তা শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।