অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম জানিয়েছেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি একদিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব যেন তারা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করতে পারে সেজন্য সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজই এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
ব্রিফিংয়ে মাহফুজ আলম বলেন, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংখ্যালঘু বিশেষত হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর কুচক্রী মহল আক্রমণ করেছিল, তবে অন্তর্বর্তী সরকার ও ছাত্র-জনতা একসঙ্গে সেই আক্রমণ প্রতিহত করেছে।
তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা প্রদান করা হবে। উৎসবমুখর পরিবেশে তারা যেন পূজা উদযাপন করতে পারে সে লক্ষ্যে দুয়েক দিনের মধ্যে তাদের এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে আজ জানানো হয়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ১০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত একদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করতে পেরে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় আনন্দিত।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আজ এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম এই ঘোষণা দেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর এই ঘোষণা প্রদানকালে সেখানে উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতারা সরকারের ছুটি প্রদানের সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করে।
দেশবাসী নিজেদের মধ্যে ঐক্য, সম্মান ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে সমগ্র জাতি যেন একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপন করতে পারে এ জন্য সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিককে উৎসাহিত করছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নতুন মহাপরিচালক (গ্রেড-১) পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন কাজী জেসিন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। জনস্বার্থে জারীকৃত এই আদেশটি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তাঁর যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ‘বাংলাদেশ টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০১’-এর ১১(২) ধারা অনুসরণে কাজী জেসিনকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন এই দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে শর্ত হিসেবে তাঁকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা এবং সরকারি, আধা-সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সাথে বিদ্যমান সকল প্রকার কর্ম-সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে ত্যাগ করতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে যে, নিয়োগের আনুষঙ্গিক অন্যান্য শর্তাবলি অনুমোদিত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে। গণমাধ্যম ও উপস্থাপনা অঙ্গনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কাজী জেসিনের নিয়োগ রাষ্ট্রীয় এই সম্প্রচারমাধ্যমের প্রশাসনিক ও বস্তুনিষ্ঠ সম্প্রচার কার্যক্রমে নতুন গতি আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নয়াদিল্লির অনুষ্ঠানে ক্ষমতাচ্যুত এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রকাশ্যে অডিও বক্তব্য দেওয়ার পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যত নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে যাবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত ভারতকেই নিতে হবে। গত বুধবার (৫ আগস্ট) দিল্লিতে শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ভারতের মাটিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছেন এবং ভারত সরকার তা অনুমোদন করছে। এতে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।’ তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ অতীতেও বিভিন্ন ঘটনার পর ‘জঙ্গিবাদ’ ও ‘চরমপন্থার’ বয়ান সামনে এনে নিজেদের মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড আড়াল করার চেষ্টা করেছে। একই কৌশল এখন বিদেশের মাটিতেও অনুসরণ করা হচ্ছে।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দুই দেশের সরকার ও জনগণই সম্পর্কের উন্নয়ন চায়। তবে ভারতের মাটিতে বসে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতারা যদি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে থাকেন এবং ভারত সরকার তা বন্ধ না করে, তাহলে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান সহযোগিতার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘একটি দেশের সঙ্গে আরেকটি দেশের সম্পর্ক বহুমাত্রিক। জ্বালানি, পানি, সীমান্তসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চলবে। তবে শেখ হাসিনাকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বাংলাদেশের জনগণ, বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের পরিবারের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তাই এ বিষয়ে ভারতকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে মো. ওবায়দুর রহমানকে। বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর আগে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিসিএস ১৫তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তা ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং চলতি বছরের জুন পর্যন্ত উক্ত দায়িত্ব পালন করেন। মো. ওবায়দুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনে সহকারী কমিশনার হিসেবে তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শুরু হয়েছিল। সর্বশেষ চলতি বছরের জুন মাসে তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়, যেখান থেকে বর্তমান পদায়নের মাধ্যমে তিনি নতুন দায়িত্ব পেলেন।
দেশের সকল বিমানবন্দরে ভিআইপি ও সিআইপিসহ প্রত্যেক যাত্রীর জন্য সমান নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। একই সঙ্গে বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন প্রতিরোধে অত্যাধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএএসসি) প্রথম সভায় এসব যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সভার সভাপতিত্বকালে মন্ত্রী আফরোজা খানম আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) আসন্ন অডিট প্রসঙ্গে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই অডিটের ফলাফলের ওপর দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নির্ভরশীল, তাই আইকাওর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সকল কমপ্লায়েন্স দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি সুস্পষ্টভাবে বলেন, “ভিআইপি ও সিআইপিসহ সবার জন্য নিরাপত্তা প্রটোকল সমান। বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে একই নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করতে হবে।” এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নির্বিঘ্ন ও উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান যে, দীর্ঘ তিন বছর পর অনুষ্ঠিত এই কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। তিনি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও স্ক্যানার বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে বলেন, “নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ও স্ক্যানারের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি থাকাই উত্তম।” পাশাপাশি তিনি আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথের নিরাপত্তা ও আন্ডার ভেহিকেল স্ক্যানিং সিস্টেমের কার্যকারিতা পর্যালোচনার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। এছাড়া বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় যানজট, অনাকাঙ্ক্ষিত জনসমাগম, ভিক্ষুকের উপদ্রব ও অবৈধ লাগেজ র্যাপিং নিয়ন্ত্রণে বেবিচক, পুলিশ, এপিবিএন ও ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন ও শৃঙ্খলা রক্ষায় এসব সমস্যা সমাধানে নিয়মিত আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর সভায় বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাত সহকারী কমিশনারকে (এসি) বিভিন্ন ইউনিটে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়, ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে গুলশান বিভাগের পেট্রোল-ক্যান্টনমেন্ট শাখার সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. সাকিলুর রহমানকে গোয়েন্দা-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম-উত্তর বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
পরিবহন বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মুশফিকুর রহমান তুষারকে লালবাগ বিভাগের চকবাজার জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের পল্লবী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) তানিয়া সুলতানাকে উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার করা হয়েছে।
লজিস্টিকস বিভাগের প্রকিউরমেন্ট শাখার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শেখ সুরাইয়া উর্মিকে পিওএম-পশ্চিম বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
লালবাগ বিভাগের চকবাজার জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. মাহফুজার রহমানকে প্রটেকশন বিভাগের বঙ্গভবন-নিরাপত্তা-১ শাখার সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
ওয়েলফেয়ার ও ফোর্স বিভাগের নারী পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) নুসরাত ইয়াছমিন তিসাকে ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগের ট্রাফিক-পল্লবী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার করা হয়েছে।
আদেশে বলা হয়েছে, বদলি করা কর্মকর্তাদের আগামী ৬ আগস্টের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার অর্পণ করে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন ভারতের কাছে আরও বেশি ডিজেল চেয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
এদিন ভারতীয় হাই কমিশনারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কী নিয়ে আলাপ হয়েছে জানতে চাইলে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘এর আগে অনেক অ্যাম্বাসেডরের সঙ্গে মিটিং হয়েছে, সে রকম রুটিন মিটিং ভারতের অ্যাম্বাসেডরের সঙ্গে হয়েছে। যেহেতু আমাদের প্রতিবেশী দেশ, আমাদের অনেক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যাপার আছে। সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে একটা পাইপলাইন আছে, সেখান থেকে ডিজেল আসে। তাদেরকে বলেছি, আরও বেশি (ডিজেল) দেওয়ার জন্য।’
জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে টুকু বলেন, ‘আমি শেখ হাসিনার সম্পর্কে কিছু বলতে চাই না। উনি তো অনেক কিছুই করেন। দেশটাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন।’
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে বলে জানান টুকু। তিনি আরও বলেন, ‘গ্যাস না থাকলে মানুষও পাবে না, আমার পাওয়ার সমস্যাও যাবে না।’
বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যখন আমরা বলি বিলগুলো নিয়ে আসেন, তখন তো বিল নিয়ে কেউ আসে না।’
ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘জুন মাস থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছি আমরা। মার্চ মাসে যে গরম ছিল
জুন মাসে সে গরম ছিল না।’
একজন গণমাধ্যমকর্মীর অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তার বিল আসতো সাড়ে তিন হাজার টাকা। এখন আসছে সাত হাজার টাকা।
‘আমার লোক পরীক্ষা করে দেখে এসেছে, উনি দুই টনের দুটি এয়ার কন্ডিশনার চালান। উনার ফ্রিজ আছে, ব্লেন্ডার চালান। এত কিছু চালানোর পরেও সাত হাজার টাকা যদি বেশি বিল হয়...আমার মনে হয় না পৃথিবীর কোথাও সাত হাজার টাকা দিয়ে এত কিছু চালানো যায়,’ যোগ করেন তিনি।
সাবেক যোগাযোগ ও কৃষিমন্ত্রী এবং নৌবাহিনীর প্রাক্তন প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মাহবুব আলী খানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যাহ্নে বনানী সামরিক কবরস্থানে মরহুমের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তাঁর কন্যা ও তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেখানে বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, মরহুম মাহবুব আলী খানের প্রয়াণ দিবস স্মরণে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন স্থানে কবর জিয়ারত, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের পর রাজধানীর ধানমন্ডিতে তাঁর নিজস্ব বাসভবন ‘মাহবুব ভবনে’ বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশের নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালের ৬ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্বশুর এবং তাঁর সহধর্মিণী সৈয়দা ইকবাল মন্দ বানু। তাদের দুই কন্যাসন্তান হলেন শাহিনা খান জামান ও ডা. জুবাইদা রহমান।
যান্ত্রিক গোলযোগ কাটিয়ে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) আজ বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করতে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এর ফলে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেশের গ্যাস পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গ্যাস সঞ্চালন পুনরায় শুরু হলে লাইনে চাপের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে উন্নতি হবে এবং বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে ঠিক কত সময় লাগবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি মন্তব্য করেন, “স্বাভাবিক হতে দুই-তিন দিন তো লাগবে। মিনিমাম দুই-তিন দিন লাগবে। এটা (এফএসআরইউ) বন্ধ হওয়ার আগে যেমন ছিল, তেমনই হবে।” গ্যাস স্বল্পতার কারণে সৃষ্ট লোডশেডিং প্রসঙ্গে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে, গ্যাস সরবরাহ না থাকলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালানো সম্ভব হয় না। তবে এখন বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া সমালোচনা এবং যান্ত্রিক ত্রুটি প্রসঙ্গে ইকবাল হাসান মাহমুদ পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, “যেটা হয়েছে, সেটা কি মানুষের হাতের মধ্যে আছে?” এদিকে বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বা ‘ভূতুড়ে বিল’ সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, “বিদ্যুৎ ভূতুড়ে বিল, এটা যখন আমরা বলি, বিলগুলো নিয়ে আসেন, তখন তো বিল নিয়ে আসে না কেউ আমাদের কাছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জুন মাস থেকে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত গরমের কারণে যন্ত্রপাতির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বিল বেশি আসতে পারে। এক সাংবাদিকের ফেসবুক পোস্টের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, দুটি এসি ও ফ্রিজ চালানোর পর সাত হাজার টাকা বিল খুব একটা বেশি নয়। মন্ত্রীর ভাষায়, “আমার মনে হয় না পৃথিবীর কোথাও ৭ হাজার টাকা দিয়ে এরকম এত কিছু চালানো যায়?”
ভারতীয় হাইকমিশনারের সাথে বৈঠক প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, এটি একটি রুটিন আলোচনা ছিল যেখানে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে। ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির পরিমাণ আরও বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান। সবশেষে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, “আমি শেখ হাসিনা সম্পর্কে কিছু বলতে চাই না, উনি তো অনেক কিছুই করেন। দেশটা ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন উনি। দেশটাকে শেষ করে দিয়েছেন।”
দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সকল আইনি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তফসিলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে সচিব জানান, আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। সংগৃহীত মনোনয়নপত্রগুলো ১৬ আগস্ট সকাল ১০টায় যাচাই-বাছাই করা হবে। এছাড়া, কোনো প্রার্থী যদি তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে চান, তবে ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টার মধ্যে তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনের মূল পর্ব অর্থাৎ ভোটগ্রহণ ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে বিরতিহীনভাবে চলবে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ আরও জানান যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ভোটার তালিকা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সকল প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই এই নির্বাচন সম্পন্ন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশে বারবার জনগণের অধিকার ও সৃষ্টিশীল ক্ষমতাকে শিকলবদ্ধ করার অপচেষ্টা রোধে একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করতে চায় সরকার, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ কোনোদিন জাতিকে শিকল পরাতে না পারে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘শিকল ভাঙার জুলাই’ প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) এই প্রকাশনা প্রকাশ করে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের বয়স ৫৫ বছরের বেশি হয়ে গেলেও বারবার জনগণের কণ্ঠ ও অধিকারকে শিকলে বাঁধা হয়েছে। এই প্রতিবন্ধকতার শিকল ভাঙতে বারবার আমাদের রক্ত দিতে হয়েছে, প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছে এবং দেশের স্বাভাবিক সমৃদ্ধির প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। পৃথিবীর যে দেশগুলো ধারাবাহিক সমৃদ্ধি বজায় রাখতে পেরেছে, তারাই আজ বিশ্বে অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে।’
অতীতের আন্দোলনগুলোর সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুণগত পার্থক্যের কথা তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘অতীতে বিভিন্ন আন্দোলন কেবল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া ও গণঅভ্যুত্থানেই শেষ হতো, পরে লক্ষ্যহীনভাবে হারিয়ে গিয়ে আবার নতুন কোনো ফ্যাসিবাদের পথ সুগম হতো। কিন্তু এবার আমরা যখন ফ্যাসিবাদের শিকল ভাঙার গান গেয়েছি, তখনই দেশ গড়ার পরিকল্পনা করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই অর্জনকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পুরোনো ব্যবস্থা দিয়ে সম্ভব নয়, সে কারণেই আমরা রাষ্ট্র কাঠামো ও রাজনীতি মেরামতের কথা বলেছি।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতের কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনে লড়াইয়ের আগেই সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ছিল না। এমনকি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়েও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতার একপর্যায়ে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বাঙালি অফিসার মেজর জিয়াউর রহমানকে এসে ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো— শিকল ভাঙার পর আমরা কী করব, তা আমাদের নেতা তারেক রহমান ৩১ দফার মাধ্যমে আগেই নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন এবং সরকার সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলছে।
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছরের লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘বিগত দেড় দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই দেশ আজ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরেছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পেরেছে। আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই এই গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সম্ভব হয়েছে।’
তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. শাহ আলম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির প্রাক্কালে সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ফ্যাসিবাদের সময় জেল-জুলুম, অত্যাচার ও আয়নাঘরের ভয় উপেক্ষা করে যারা রাজপথে ছিলেন, তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। ফলে এই সংকলনটি সময়ের একটি স্বচ্ছ আয়না হিসেবে দীর্ঘকাল পাঠক ও গবেষকদের পথ দেখাবে।’
তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ জানান, বিগত ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে যারা সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন, একাধিক মামলা ও কারাবরণ করেছেন, মূলত তাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি নিয়েই এই বিশেষ বইটি প্রকাশ করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে আন্দোলনকারী ও দায়িত্বশীলদের অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতেই তথ্য অধিদফতরের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।
সূত্র: বাসস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের নদীগুলোর বর্তমান দূষণ পরিস্থিতিকে চরম উদ্বেগজনক হিসেবে বর্ণনা করে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন’ সংক্রান্ত এক বিশেষ বৈঠকে তিনি এই কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নদীদূষণ এখন দুর্বিষহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে।” তিনি নদী রক্ষায় কোনো প্রকার শিথিলতা প্রদর্শন না করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঢাকার পার্শ্ববর্তী বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণ রোধে একটি কার্যকর ও সময়োচিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় নদীগুলোর বর্তমান নাজুক দশা, দূষণের নেপথ্য কারণ এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রতিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষভাবে শিল্পবর্জ্যের অপরিশোধিত নিঃসরণ, ত্রুটিপূর্ণ ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং দখলদারিত্বকে নদী ধ্বংসের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নদী দূষণ রোধে কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই। কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি এর কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে।”
পরিবেশ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি দপ্তরের মধ্যে নিবিড় সমন্বয় সাধনের ওপর সভায় জোর দেওয়া হয়। নদী রক্ষায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোকে সরাসরি সম্পৃক্ত করারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। নদী উদ্ধারের কাজের নিয়মিত তদারকি ও অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। উক্ত বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামসহ সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও বক্তব্যের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার।
বুধবার (৫ আগস্ট) এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, যা দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি স্পষ্ট অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি চরম অসম্মান।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হলে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর তার সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে বাংলাদেশকে আগেই সতর্ক করে ভারতকে উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ভারতীয় ভূখণ্ডে এই প্রকাশ্য কর্মসূচির সুযোগ দেওয়ায় ঢাকা গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত সহিংসতা নিয়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনকে ওই বক্তব্যে অস্বীকার করা হয়েছে বলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ তোলে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জোর দিয়ে বলেছে, পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌম সমতা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সাথে একটি গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে বাংলাদেশ আগ্রহী।
২০১৩ সালের দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও ভারতের দিক থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক সাড়া মেলেনি। শেখ হাসিনাকে এভাবে প্রচারমাধ্যমের সুযোগ দেওয়া দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও জনমানের পারস্পরিক আস্থায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে ঢাকা।
সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘বর্ষা বিপ্লবের গান’ শীর্ষক এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
এ সময় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে যারা শহীদ ও যুদ্ধাহত হয়েছেন, তাঁদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি তরুণদের স্বপ্নের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বিপ্লবের আসল লক্ষ্য থেকে কোনোভাবেই বিচ্যুত হওয়া যাবে না এবং এই অর্জনকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান তাঁর বক্তব্যে যেকোনো জাতীয় সংকটে সবাইকে একতাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরাচারী শাসনের উত্থান ঘটতে না পারে।
এছাড়া বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জুলাই শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।