বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা আজ বুধবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে। আগামী রোববার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে ৫ দিনব্যাপী এ উৎসবের।
শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে রাজধানীসহ সারা দেশে উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে। টানা চার দিনের সরকারি ছুটি উৎসবের আমেজ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে। সরকার নির্বাহী আদেশে আগামী বৃহস্পতিবার ছুটি ঘোষণা করেছে।
ছুটি ঘোষণা করে গতকাল প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আগামী শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটিসহ এবার দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিনের ছুটি হতে যাচ্ছে। পরদিন রোববার শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সরকারি ছুটি। সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে রোববার পর্যন্ত ছুটি থাকছে।
এর আগে গতকাল দুপুরে দুর্গাপূজার ছুটি এক দিন বাড়ছে বলে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন। দুর্গাপূজার সময় শুধু বিজয়া দশমীর দিন সরকারি ছুটি থাকে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দুর্গাপূজার ছুটি বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলোতে প্রতিমা, মণ্ডপ তৈরি ও আলোকসজ্জা থেকে শুরু করে নানা আয়োজন প্রায় শেষ পর্যায়ে।
দুর্গা বাধাবিঘ্ন, ভয়, দুঃখ, শোক, জ্বালা, যন্ত্রণা এসব থেকে ভক্তকে রক্ষা করেন। শাস্ত্রকাররা দুর্গার নামের অন্য একটি অর্থ করেছেন। দুঃখের দ্বারা যাকে লাভ করা যায় তিনিই দুর্গা। দেবী দুঃখ দিয়ে মানুষের সহ্য ক্ষমতা পরীক্ষা করেন। তখন মানুষ অস্থির না হয়ে তাকে ডাকলেই তিনি তার কষ্ট দূর করেন।
‘মহা চণ্ডীতে’ উল্লেখ আছে, ত্রেতা যুগে ভগবান রাজা রামচন্দ্র দশানন রাবণের সঙ্গে যুদ্ধে রত হন। পাপের বিনাশের লক্ষ্যে দেবী আদ্যাশক্তি মহামায়ার কাছে শক্তি বৃদ্ধির আশায় শরৎকালে তার পূজা করেছিলেন এবং যুদ্ধে জয়লাভ করে দেবী সীতাকে উদ্ধার করেন ও রাবণকে হত্যা করতে সক্ষম হন রামচন্দ্র। সেই থেকে পৃথিবীতে প্রতি বছর শরৎকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দুর্গোৎসব পালন করে আসছেন।
লোকনাথ পঞ্জিকা অনুযায়ী, আজ মহাষষ্ঠী, আগামীকাল মহাসপ্তমী, শুক্রবার মহাষ্টমী, শনিবার মহানবমী এবং রোববার (১৩ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে সমাপ্তি ঘটবে শারদীয় দুর্গোৎসবের।
এ বছর সারা দেশে এ বছর ৩১ হাজার ৪৬১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হবে। ঢাকা মহানগরে এবছর ২৫২টি পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র্যাবসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। ঢাকেশ্বরী মন্দির মেলাঙ্গনে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হবে।
রাজধানীতে কেন্দ্রীয় পূজা উৎসব হিসেবে পরিচিত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মণ্ডপে পূজার পাশাপাশি ভক্তিমূলক সংগীতানুষ্ঠান, বস্ত্র বিতরণ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আরতি প্রতিযোগিতা, স্বেচ্ছা রক্তদান ও বিজয়া শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, তাঁতীবাজার, শাঁখারি বাজারসহ বিভিন্ন মন্দিরে মন্দিরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ব্যাপক আয়োজন চলছে। ঢাকেশ্বরী আর রামকৃষ্ণ মিশনের পূজা আয়োজন ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দুর্গোৎসবের ব্যাপক আয়োজন চলছে।
দুর্গোৎসব উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ, মহানগর সার্বজনীন পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতারা হিন্দু সম্প্রদায়সহ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব নাগরিককে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. মাইনুল হাসান বলেছেন, আসন্ন দুর্গাপূজা ঘিরে রাজধানী ঢাকায় কোনো থ্রট (হুমকি) নেই। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ঢাকায় পূজাকে ঘিরে কোনো থ্রেট আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের জানামতে এমন কোনো থ্রেট নেই, কোনো ঝুঁকিও দেখছি না।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজায় মণ্ডপ এলাকা, বিসর্জন শোভাযাত্রা ও বিসর্জনের সময় সব ধরনের মাদকদ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। একইসঙ্গে সব ধরনের পটকা ও আতশবাজির ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ করেছেন তিনি।
মো. মাইনুল হাসান বলেন, বিসর্জনের সময় উচ্চৈঃস্বরে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে না। যারা সাঁতার জানেন না তাদের বিসর্জনের সময় পানিতে না নামার অনুরোধ করছি।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকা মহানগরীতে এ বছর ২৫৩টি স্থানে মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১৩১টি ও উত্তর সিটিতে ১২২টি স্থানে পূজা উদ্যাপন হবে। ঢাকাসহ সারা দেশে এ পূজা যেন শান্তিপূর্ণ ও যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে উদ্যাপন করতে পারে, সে জন্য আমরা বিভিন্ন সমন্বয় সভা করেছি।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা মহানগরের প্রতিটি পূজামণ্ডপে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিটি পূজামণ্ডপে ফিক্সড পুলিশ মোতায়েন থাকবে, থানা পুলিশের মাধ্যমে নিজস্ব টহল ও চেকপোস্টের ব্যবস্থাসহ সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশ মোতায়েন থাকছে।
থাকবে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সিসি ক্যামেরা, আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে চেকিং ব্যবস্থা ও পূজা কমিটির মাধ্যমে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক। সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি প্রতিটি পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত সংখ্যক আনসার বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। একইসঙ্গে সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যসহ র্যাবের সদস্যরা টহল ও অন্যান্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘বেস্ট ফিউচার জেনারেশনস’ বিষয়ক বিশেষ দূত চার্লস জে হার্ডার পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রসচিবের দপ্তরে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
আজ (সোমবার) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস জানায়, বিশেষ দূত হার্ডার ও রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা যায় এবং উভয় দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণে অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগে একসঙ্গে কাজ করা যায়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘বেস্ট ফিউচার জেনারেশনস’ বিষয়ক বিশেষ দূত চার্লস জে হার্ডার ১৮ এপ্রিল তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ জন্মভূমি ও জেলা বগুড়ায় সফরে এসেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একাধিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নিয়ে সোমবার (২০ এপ্রিল) তিনি সড়কপথে ঢাকার বাসভবন থেকে রওনা হয়ে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে বগুড়া শহরের সার্কিট হাউজে পৌঁছান।
সফরসূচি সূত্রে জানা যায়, বেলা ১১টায় বগুড়া জজ আদালতে ই-বেইল বন্ড সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি। এরপর বগুড়া সিটি করপোরেশনের ফলক উন্মোচন এবং সিটি করপোরেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে।
দিনের দ্বিতীয়ার্ধে গাবতলী উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে রয়েছে খাল খনন কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন।
পরে তিনি নিজ পৈতৃক বাড়ি যাবেন এবং বিকেলে পুনরায় শহরে ফিরবেন। বিকেল ৪টায় জেলা বিএনপির আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
তার এই সফরকে ঘিরে বগুড়া শহর ও আশপাশে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রবেশমুখে নেতাকর্মীরা ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে ভিড় করেন, তাকে এক নজর দেখার জন্য।
ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম ফের বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার নতুন এই দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন নির্ধারিত এই দাম সন্ধ্যা ৬টা থেকেই কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, এবার প্রতি কেজি এলপিজিতে দাম বেড়েছে ১৭ টাকা ৬২ পয়সা। এর আগে চলতি মাসের শুরুতেই প্রতি কেজিতে দাম বাড়ানো হয়েছিল ৩২ টাকা ৩০ পয়সা। সেই হিসেবে এক মাসের মধ্যেই দ্বিতীয় দফায় দাম বাড়ল এলপিজির।
নতুন দাম অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি সিলিন্ডারে গ্রাহককে অতিরিক্ত ২১২ টাকা গুনতে হবে।
বিইআরসি জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় বাজারে এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যা আজ সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হবে।
প্রসঙ্গত, এর আগে চলতি মাসের (এপ্রিল) শুরুতে প্রতি কেজিতে ৩২ টাকা ৩০ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। এক মাসের মধ্যে দুই দফায় এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সপ্তাহে দুই দিন বুধ ও বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট বিভাগে ভার্চ্যুয়ালি বিচারকাজ চলবে।
রোববার হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ নূরুল আমীন বিপ্লব স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরস্থিতি বিবেচনায় এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০ : (২০২০ সনের ১১ নং আইন) এবং অত্র কোর্ট কর্তৃক জারিকৃত প্রাকটিস ডাইরেকশন অনুসরণ করত’ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতি সপ্তাহে ২ (দুই) দিন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগে ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
হজ যাত্রায় প্রথম দিনে এখন পর্যন্ত ১১ ফ্লাইটে ৪ হাজার ৪৫৭ জন বাংলাদেশি হজ প্রত্যাশি সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি মাধ্যমে গিয়েছেন ১ হাজার ২৪৬ জন, আর বেসরকারি মাধ্যমে ৩ হাজার ২১১ জন।
হজ অফিস জানিয়েছে, হজ যাত্রার দ্বিতীয় দিনে রোববার ১৪টি ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়বেন ৫ হাজার ৭৫৬ জন। এ উপলক্ষে সকাল থেকেই আসকোনা হজ ক্যাম্প মুসল্লিদের আনাগোনায় মুখর হয়ে উঠেছে। অন্যান্য বছরের মতো এবারও দুই দেশের ইমিগ্রেশন আশকোনা হজ ক্যাম্পে হচ্ছে।
এরই মধ্যে শতভাগ হজযাত্রী ভিসা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে হজ অফিস।
হজ ক্যাম্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অধিকাংশ হজযাত্রী সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তবে ক্যাম্পের ভেতরে কিছু অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভও জানিয়েছেন অনেকে। বিশেষ করে খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন হজযাত্রী।
এ ছাড়া ডরমিটরিতে মশার উপদ্রব এবং বিছানায় ছারপোকার কারণে রাত কাটাতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। হজযাত্রীদের দাবি, পবিত্র সফরের শুরুতেই যেন এ ধরনের ছোটখাটো সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা হয়।
হজ অফিস বলছে, ভোগান্তি কমাতে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে তারা।
ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আমিনুল ইসলাম গত শনিবার মেঘনা নদী থেকে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার সরবরাহ সক্ষমতা সম্পন্ন নির্মাণাধীন নাঃগঞ্জ এর রূপগঞ্জস্থ গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগারটি পরিদর্শন করেন।
এ সময় ব্যবস্থপনা পরিচালক ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ প্রথমে একই জেলার আড়াইহাজার উপজেলাস্থ বিষনন্দীতে
মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত ইনটেক পয়েন্ট পরিদর্শন করেন। তারপর রূপগঞ্জস্থ প্লান্ট এরিয়া পরিদর্শন করেন।
এ সময় প্রকল্প পরিচালক ওয়াহিদুল ইসলাম মুরাদ সহ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের উর্ধতন কর্মকর্তার উপস্থিত ছিলেন। তারা ব্যবস্থাপনা পরিচালককে প্লান্টের বিভিন্ন দিক ঘুরিয়ে দেখান ও এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
প্রকল্প কাজ পরিদর্শন করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সেই সাথে ঢাকার পূর্বাঞ্চলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আংশিক পানি সরবরাহের আশা প্রকাশ করেন।
প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ আলোচ্য সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস ও প্রদান করেন।
তিনি আরও বলেন, এ প্রকল্প থেকে পানি সরবরাহ চালু হলে রাজধানী মহানগরীর পূর্বাঞ্চলের মানুষ সর্বাংশে উপকৃত হবে।
সেই সাথে ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশ-বান্ধব ও টেকসই পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার যে লক্ষ্য ঢাকা ওয়াসা নির্ধারণ করেছে তা অর্জন করা সম্ভব হবে।
কেননা এ শোধনাগার চালু হলে কয়েকশ গভীর নলকূপ বন্ধ বন্ধ হয়ে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, আলোচ্য গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার এর প্রথম ফেজ থেকে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পানি রাজধানীতে সরবরাহ করা হবে এবং একই শোধনাগারের সেকেন্ড ফেজ থেকেও সমপরিমাণ পানি দৈনিক রাজধানীতে সরবরাহ করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির সরবরাহে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। বিশ্ববাজারে দফায় দফায় বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। এ পরিস্থিতে গত শনিবার রাতে দেশের বাজারে সব ধরণের জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে সরকার। জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে ভাড়া সমন্বয় করতে সরকারকে অনুরোধ করেছেন বাস-ট্রাক মালিক সমিতির নেতারা।
রোববার (১৯ এপ্রিল) মধ্যে সমিতির পক্ষ থেকে দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৫ পয়সা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। দূরপাল্লার পরিবহনে বিশেষ করে ট্রাক-বাসগুলোতে জ্বালানি হিসেবে ডিজেল ব্যবহার করা হয়। যার মূল্য লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়েছে সরকার।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম দুপুরে গণমাধ্যমকে বলেন, আশা করছিলাম যে সরকার তেলের দাম যদি বৃদ্ধি করে, তবে সেই সঙ্গে গেজেটে উল্লেখ করে দেবে যে তেলের কারণে এত পয়সা করে প্রতি কিলোমিটার ইনক্লুড হবে। কিন্তু সেটি হয়নি। আজ মালিকরা বেশি দামে তেল কিনছে কিন্তু ভাড়া নিচ্ছে আগের রেটে। এভাবে তো মালিকরা লস দিয়ে বাস চালাবে না। আমরা অলরেডি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি যে, আজকের মধ্যে এটা নিরসন করে দিতে।
তিনি আরও বলেন, সরকার প্রতি বছর বাজেটের আগে একটা ক্যালকুলেশন করে, কস্টিং বডি দেখে বর্তমানে পরিস্থিতি অনুযায়ী জানিয়ে দিতে পারে যে এই বছরের জন্য এই ভাড়া নির্ধারণ করা হলো। এই হিসাবটা যদি ঠিকভাবে করা হয়, তাহলে সেটাই পুরো বছর চলতে পারে। এর মাঝে যদি কোনো বড় পরিবর্তন হয়, যেমন ডলারের দাম হঠাৎ বাড়ে বা কমে, তখন সেগুলোর প্রভাব নিয়ে আলাদা করে আলোচনা করা যেতে পারে। না হলে সাধারণভাবে ওই নির্ধারিত ভাড়াই কার্যকর থাকতে পারে। আমরা এই প্রস্তাবটাই দিয়েছিলাম স্থায়ী সমাধানের জন্য, কিন্তু সেটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে না।
হাইকমিশনার হিসেবে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দিনেশ ত্রিবেদীকে। দেশটির গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, সব ঠিক থাকলে ত্রিবেদী প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হবেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিন পর প্রতিবেশী কোনো দেশে প্রথমবারের মতো একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে এ পদে নিয়োগ দিচ্ছে ভারত।
দীনেশ ত্রিবেদী আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে বাংলাদেশ সরকোরের থেকে সম্মতি নেবে ভারত।
৭৫ বছর বয়সি একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিককে বাংলাদেশে ভারতের দূত হিসেবে পাঠানোর এই সিদ্ধান্তটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনীতিকদের জন্যও একটি বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ত্রিবেদী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন এবং ৬ মার্চ ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেন।
এই নিয়োগ এমন এক সময়ে করা হচ্ছে, যখন ভারত ও বাংলাদেশ তাদের সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্ক অবনতি ঘটে। এবার দীনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় পাঠিয়ে সেই সম্পর্ক ভারত সরকার পুনরুদ্ধারের আশা করছে বলে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। প্রতিটি জ্বালানি পণ্যের দাম একলাফে অনেকটা বাড়লেও রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষার চিরচেনা চিত্রটি বদলায়নি। আজ রোববার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বর্ধিত মূল্যে তেল কিনতে আসা মানুষের চাপে পাম্পগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষা আগের মতোই বিরাজ করছে। বিশেষ করে মিরপুর-১৪, মহাখালী, রমনা ও মতিঝিলের মতো ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সড়ক ছাপিয়ে মূল রাস্তায় চলে এসেছে, যা নগরীর স্বাভাবিক ট্রাফিক ব্যবস্থায়ও প্রভাব ফেলছে।
সরেজমিনে মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা যায়। সেখানে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের পাশাপাশি গণপরিবহনের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। অন্যদিকে রমনা এলাকার চিত্র ছিল কিছুটা ভিন্ন; সেখানে ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ বেশি থাকলেও বাইকের উপস্থিতি অন্যান্য দিনের তুলনায় প্রায় অর্ধেক দেখা গেছে। তবে মতিঝিল এলাকায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সেখানে ‘করিম অ্যান্ড সন্স’ ফিলিং স্টেশনসহ বেশ কিছু পয়েন্টে ‘ফুয়েল পাশ’ ছাড়া কোনো বাইককে তেল দেওয়া হচ্ছে না, যা নতুন এই ব্যবস্থার সাথে অভ্যস্ত না হওয়া চালকদের জন্য বাড়তি বিড়ম্বনা তৈরি করেছে।
গতকাল শনিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার অকটেনের দাম ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা করা হয়েছে। পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ১৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ টাকায়। এছাড়া ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বেড়ে ১১৫ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারিও জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছিল, যার দুই মাস যেতে না যেতেই আবারও বড় ধরণের মূল্যবৃদ্ধির মুখে পড়লেন দেশের সাধারণ মানুষ।
পাম্পে অপেক্ষারত চালকদের বক্তব্যে চরম ক্ষোভ ও নিরুপায় অবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বাসচালক সেলিম জানান, পরিস্থিতির ভয়াবহতার কারণে তিনি এখন একদিন তেল সংগ্রহ করেন এবং অন্যদিন গাড়ি চালান। তাঁর মতে, দাম বাড়লেও যদি লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি কমত, তবে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যেত। তিনি বলেন, "দাম বেশি নিলে নিক, কিন্তু এই সাত-আট ঘণ্টার প্রতীক্ষা থেকে মুক্তি চাই।" আবার ফুড ডেলিভারি কর্মী মনিরের কণ্ঠে ছিল জীবন সংগ্রামের করুণ চিত্র। তিনি জানান, মোটরসাইকেল চালানোই তাঁর পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস। অকটেনের দাম যাই হোক না কেন, সেটি সংগ্রহ করা তাঁর জন্য বাধ্যতামূলক। বাইক বন্ধ হয়ে গেলে তাঁর পরিবারের অন্নসংস্থানও বন্ধ হয়ে যাবে।
নীতিনির্ধারকরা বিশ্ববাজারের সাথে সমন্বয় এবং সরবরাহ সচল রাখার স্বার্থে এই মূল্যবৃদ্ধিকে অপরিহার্য বললেও সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক বাজেটে এটি এক বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে পরিবহন ভাড়া ও নিত্যপণ্যের দামের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। উচ্চমূল্য সত্ত্বেও পাম্পগুলোতে এই নজিরবিহীন ভিড় মূলত জ্বালানি তেলের তীব্র চাহিদা এবং আমদানিনির্ভর অর্থনীতির এক নাজুক পরিস্থিতিকেই নির্দেশ করছে। সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই ভোগান্তি সহসা কাটছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পদে ড. মোহাম্মদ জকরিয়া, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী এবং ওয়াক্ফ প্রশাসক পদে শফিক উদ্দিন আহমেদকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। রবিবার (১৯ এপ্রিল) এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ এর ৪৯ তারা অনুযায়ী সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা যেকোনও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এই তিন আমলাকে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল আমদানিতে সরকার দুই বিলিয়ন ডলার বেশি খরচ করেছে উল্লেখ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণ হওয়ার পরেও সরকার জনগণের কষ্টের কথা বিবেচনা করে দেশে তেলের দাম খুব সামান্য বাড়িয়েছে।
আজ রবিবার (১৯ এপ্রিল) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ কথা বলেন তিনি।
জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের যা দাম ছিল, বর্তমান বাজারে তা প্রায় দ্বিগুণ। এই বিপুল দাম বৃদ্ধির ফলে সরকারের ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে।
তবু, আমরা জনগণের স্বস্তির কথা চিন্তা করে সেই অনুপাতে দাম বাড়াইনি।
ইকবাল হাসান আরো বলেন, সরকার ভর্তুকি দিয়ে হলেও বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। জনগণের ভোগান্তি কমাতে এবং অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই সরকার এই বাড়তি ব্যয়ের বোঝা নিজে বহন করছে এবং অত্যন্ত সীমিত পরিসরে দাম সমন্বয় করেছে।
উল্লেখ, আজ রবিবার (১৯ এপ্রিল) থেকে দেশব্যাপী নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পেট্রলের দাম লিটার প্রতি ১৯ টাকা ও অকটেনের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। সেইসঙ্গে ডিজেলের দাম বেড়েছে প্রতি লিটারে ১৫ টাকা। এর ফলে, বর্তমানে প্রতি লিটার অকটেনের দাম দাঁড়িয়েছে ১৪০ টাকা, পেট্রলের দাম হয়েছে ১৩৫ টাকা এবং ডিজেলের দাম হয়ে গেছে ১১৫ টাকা। নতুন সিদ্ধান্তে দাম বাড়ানো হয়েছে কেরোসিনেরও।
ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার কেরোসিন এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়।
রাজধানীর মিরপুর মাজার রোড সংলগ্ন ঐতিহাসিক গাবতলী খেলার মাঠের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে তা পুনরায় খেলার উপযোগী করার ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
রোববার (১৯ এপ্রিল) ১০৭ বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী মাঠটি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
মাঠ পরিদর্শন শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, এই মাঠে কাজী সালাউদ্দীন থেকে শুরু করে আমি নিজেও ফুটবল খেলেছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারা দেশের গ্রামীণ জনপদসহ ঢাকা মহানগরের যেখানেই খেলার মাঠ দখলদারদের কবলে আছে, তা উদ্ধার করার কার্যক্রম শনিবার থেকে শুরু হয়েছে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রতিটি মাঠকে খেলার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।
গাবতলী মাঠের আইনি জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে আদালতের একটি রায় রয়েছে। আমরা আদালতের প্রতি সম্মান রেখেই আইনি প্রক্রিয়া মোকাবিলা করে মাঠের বৃহৎ অংশটি দখলমুক্ত করব। এখানে কোনোভাবেই অবৈধ স্থাপনা থাকতে দেওয়া হবে না। এটি এলাকাবাসী ও স্কুলের শিশুদের খেলার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমরা সরেজমিনে দেখেছি, মাঠের চার ভাগের দুই ভাগের বেশি অংশে অবৈধ স্থাপনা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। আইন ও আদালত জনগণের কল্যাণের জন্য। সিটি কর্পোরেশনের আওতায় যত অবৈধ স্থাপনা আছে, তার সব উচ্ছেদ করা হবে। আমরা স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে কথা বলে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেব, এর মধ্যে দখল না ছাড়লে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই মাঠ শুধু খেলাধুলা নয়, এলাকার সামাজিক কর্মকাণ্ড ও সমাবেশের জন্যও উন্মুক্ত রাখা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আজ থেকে ১০৭ বছর আগে মরহুম মুন্সি লাল মিয়া মিরপুর সিদ্ধান্ত হাই স্কুলের নামে ১.৭ একর আয়তনের এই মাঠটি ওয়াক্ফ করে গিয়েছিলেন। এটি ঢাকা-১৪ আসনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের একমাত্র খেলার মাঠ।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক মদদে মাঠের তত্ত্বাবধায়ক বাবলা নামের এক ব্যক্তি করোনা মহামারির সময় রাতের আঁধারে মাঠের জায়গা দখল করে অবৈধ ভবন ও দোকানপাট নির্মাণ করেন।
সাংবাদিকদের জীবনমান উন্নয়নে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বাইরেও প্রবীণ সাংবাদিকদের অবসর ভাতার আওতায় আনার কাজে হাত দিয়েছি। ইতোমধ্যে কাজ অনেকটা অগ্রগতি হয়েছে। আশা করছি আমরা একটি সন্তোষজনক ফলাফল দিতে পারব।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) চিকিৎসাধীন অসুস্থ সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন নেগাবানকে দেখতে গিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে অসুস্থ সাংবাদিকের হাতে এক লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণমাধ্যম হলো চতুর্থ স্তম্ভ। রাষ্ট্রের নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগ যেভাবে সুরক্ষা পায়, গণমাধ্যমকেও সেই আদলে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে সুরক্ষা দিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নীতিমালা তৈরির কাজ করছে সরকার।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে না থাকায় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সুরক্ষা বা পৃষ্ঠপোষকতায় কিছু ঘাটতি থাকে। আমরা বিশ্বাস করি, গণমাধ্যমকে যদি স্বাধীন ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে দেওয়া হয়, তবে তা শেষ পর্যন্ত জনগণ ও রাষ্ট্রের কল্যাণেই কাজে লাগে। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।
তিনি বলেন, সাংবাদিকতার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক পেশায় যারা জীবন দিয়ে কাজ করেন, তাদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা চেষ্টা করছি।
সিনিয়র সাংবাদিকদের বর্তমান দুরবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অনেক মেধাবী সাংবাদিক ব্যক্তিগত জীবনে দুর্দশার মধ্যে আছেন। অথচ তারা অন্য পেশায় থাকলে হয়তো অনেক ভালো করতে পারতেন। গুণী বা রত্নদের সব সময় রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা করা উচিত। প্রতিভা যেখানে থাকবে, রাষ্ট্রের দায়িত্ব সেখানে তাদের পাশে দাঁড়ানো।
চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও সিনিয়র সাংবাদিক খোন্দকার কাওছার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী এ সময় চিকিৎসাধীন সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন নেগাবানের চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।