শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদানের প্রশংসা করেছে জাতিসংঘ।
সংস্থাটির সদরদপ্তরে মঙ্গলবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো. জসিম উদ্দিন এবং জাতিসংঘের শান্তি বিনির্মাণবিষয়ক বিভাগের সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারীর মধ্যেকার বৈঠকে এ প্রশংসা করা হয়।
বৈঠকে শান্তিরক্ষায় গাম্বিয়া ও পেরুর মতো অন্যান্য দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশের নেতৃত্বের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব বিভিন্ন ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে খালেদ খিয়ারীকে অবহিত করেন এবং এ গুরুত্বপূর্ণ পথে বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের সহায়তা কামনা করেন। উভয় পক্ষই বিস্তৃত ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের কথা তুলে ধরেন।
তারা মানবাধিকার, উন্নয়ন ও আইনের শাসনের ক্ষেত্রে জোরদার সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করেছেন। বৈঠকে জাতিসংঘও বাংলাদেশের সাথে শান্তি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এর আগে পররাষ্ট্র সচিব জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৯তম অধিবেশনের দ্বিতীয় ও প্রথম কমিটিতে বক্তব্য দেন। পররাষ্ট্র সচিব তার ভাষণে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে ‘জুলাই-আগস্ট বিপ্লব’-এর চেতনায় একটি শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিস্থাপক বাংলাদেশ বাস্তবায়নে জাতিসংঘ এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
দ্বিতীয় কমিটিতে, পররাষ্ট্র সচিব সমসাময়িক চ্যালেঞ্জগুলো যেমন দ্বন্দ্ব, আর্থিক সংকট, মুদ্রাস্ফীতি, দ্রব্যমূল্যের ক্রমবর্ধমান, পরিবেশগত অবক্ষয় ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি মোকাবেলা করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিশ্বে প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিস্থাপকতা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপগুলো প্রচার করেন।
প্রথম কমিটিতে, পররাষ্ট্র সচিব সকল রাষ্ট্রকে পারমাণবিক অস্ত্র সম্পূর্ণ নির্মূল করার জন্য এবং যুদ্ধ ও সহিংসতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে শান্তির সংস্কৃতিকে উন্নীত করার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, আমরা ধীরে ধীরে ট্যাক্স হলিডে (কর রেয়াত) কালচার থেকে বের হতে চাই। কর কম হোক, বেশি হোক- সবাইকে দিতে হবে। মঙ্গলবার বিকেলে এনবিআর ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রাক-বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিইএ), বাংলাদেশ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রান্সফরমার্স অ্যান্ড সুইচগিয়ারস (বিএমএটিএস)-সহ ১০টি সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা আর এই ট্যাক্স হলিডে কালচার কন্ট্রোল করতে পারছি না। এটার সাইড এফেক্ট অনেক বেশি। আমাদের দেশের একটা গ্রুপের নানা ধরনের ব্যবসা থাকে। ওনাদের ইন্ডাস্ট্রি, মিডিয়া থেকে শুরু করে নানারকম ব্যবসা থাকে। কোনো একটা জায়গায় ট্যাক্স ছাড় দেওয়া হলে তখন সব ব্যবসা ওই জায়গায় চলে যায়। এই জিনিসগুলো বুঝতে হবে। এগুলো কিন্তু লিকেজ তৈরি করে টোটাল সিস্টেমে।’
আবদুর রহমান খান বলেন, সে কারণে আমরা ধীরে ধীরে এই হলিডে কালচার থেকে বের হতে চাই। ট্যাক্স কম হোক বেশি হোক সবাইকে দিতে হবে। ট্যাক্স দিয়ে তারপরে আপনি দেখবেন যে আপনার নেট প্রফিট যদি ইতিবাচক ও টেকসই হয় এই ব্যবসায় আসবেন। নাহলে আসবেন না। কিন্তু ট্যাক্স হলিডে দিলে ব্যবসা করব, নাহলে ব্যবসা করবো না এইখান থেকে ফিতে হবে আমাদের।
সভায় বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিইএ) প্রতিনিধি ও এএইচ ইলেকট্রিক কোম্পানির স্বত্বাধিকারী হারেস মোহাম্মদ অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিল নিয়ে নানা জটিলতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে, কিন্তু পূর্বের রিটার্নগুলো সিস্টেমে হালনাগাদ না থাকায় অনলাইনে জমা দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।’ হালনাগাদের প্রক্রিয়াও জটিল এবং বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাইয়ের নামে দেরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘করদাতাদের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ, স্বচ্ছ ও দ্রুত করার লক্ষ্যেই অনলাইন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। পূর্বে জমা দেওয়া ম্যানুয়াল রিটার্ন করদাতাদের নিজ উদ্যোগে সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যা মার্চের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোথায় কত রিটার্ন ঝুলে আছে, কী কারণে আটকে আছে তা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবেদন আকারে তুলে ধরতে হবে এবং সংশ্লিষ্টদের ডেকে দ্রুত সমাধান করতে হবে।
চেয়ারম্যান নির্দেশ দেন, ৩১ মার্চ নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও যেসব রিটার্ন এখনো ঝুলে আছে, সেগুলোর কারণ খুঁজে বের করে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। একই সঙ্গে কোনও ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।’
সভায় করদাতাদের সমস্যার বিষয়ে খোলামেলা মতামত দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আপনারা নির্দ্বিধায় সমস্যাগুলো তুলে ধরুন, আমরা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।’
প্রাক-বাজেট আলোচনায় বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে ভ্যাট ব্যবস্থা আরও সহজ ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রাক-বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিইএ), বাংলাদেশ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রান্সফরমার্স অ্যান্ড সুইচগিয়ারস (বিএমএটিএস) বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ), বাংলাদেশ অ্যালুমিনিয়াম ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বামা), অ্যাক্যুমুলেটর ব্যাটারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এবিএমইএবি) এবং বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) বিভিন্ন শুল্ক ও ভ্যাট হ্রাসের প্রস্তাব দেয়।
গ্যাসের অবৈধ ব্যবহার শনাক্তকরণ এবং উচ্ছেদ অভিযান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গত গত সোমবার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার শমিত রাজার নেতৃত্বে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি -এর জোনাল বিক্রয় অফিস-মেঘনাঘাট আওতাধীন আষাঢ়িয়ার চর, মৃধাকান্দি ও পিরোজপুর, সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ এলাকার ৪টি স্পটে অবৈধ বিতরণ লাইন উচ্ছেদ/সংযোগ বিচ্ছিন্নের জন্য অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
অভিযানে অবৈধ ২টি চুনা কারখানা ও অবৈধ ২টি ঢালাই কারখানা সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ হোজ পাইপ আনুমানিক ১৫০ ফুট স্পটে কেটে বিনষ্ট করা হয়েছে। এতে, দৈনিক প্রায় ২,৬৯,০০০/- টাকার গ্যাস সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে।
একই দিনে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সিমন সরকারের নেতৃত্বে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি-এর মেট্রো ঢাকা বিক্রয় বিভাগ-১ আওতাধীন শহীদনগর, মাতুয়াইল মেডিকেল, আদর্শনগর, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ ও রাজাখালী, ডেমরা, ঢাকা এলাকার ৩টি স্পটে অবৈধ বিতরণ লাইন উচ্ছেদ/সংযোগ বিচ্ছিন্নের জন্য অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে, সিফাত মোরব্বা ঘর ও হারুন মোরব্বা ঘর এবং ১৬ টি বাড়ির আনুমানিক ৬০ ভাবল চুলার সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ স্টার বার্ণার ০৪ টি, করাই ছোট/বড়- ১০ টি, আবাসিক রেগুরেটর-১৬ টি, এমএস পাইপ ৩/৪" -১৬০ ফুট, এমএস পাইপ ১" -১৩০ ফুট, চুলার ড্রাম- ০১ টি, করাই স্থানান্তর এর চাকার রিং- ৪ টি ও চুলার উপরের রিং-২ টি অপসারণ/জব্দ করা হযেছে। এ সময়, সর্বমোট ২০০,০০০/- টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
এ ছাড়া, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি-এর আঞ্চলিক বিক্রয় ডিভিশন -ময়মনসিংহ -এর ইমারজেন্সি ও জোবিঅ শাখা -ময়মনসিংহ, আঞ্চলিক ভিজিল্যান্স শাখা -ময়মনসিংহ, আঞ্চলিক রাজস্ব শাখা -ময়মনসিংহ, জোবিঅ শাখা-জামালপুর, আঞ্চলিক রাজস্ব শাখা -ভালুকা ও জোবিঅ-ভালুকা ও জোবিঅ -কিশোরগঞ্জ আওতাধীন এলাকায় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অবৈধ বিতরণ লাইন উচ্ছেদ/সংযোগ বিচ্ছিন্নের জন্য অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে, অবৈধভাবে, অনুমোদন অতিরিক্ত ও বকেয়ার কারণে মোট ২৪ টি আবাসিকের ৪৯ ডাবল ও ৯টি সিঙ্গেল চুলার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
উপজেলা পরিষদগুলোতে এখন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত বিশেষ ‘পরিদর্শন কক্ষ’ প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মঙ্গলবার সংসদে ফ্লোর নিয়ে সংসদ সদস্যদের এই সুসংবাদ দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রীর পরামর্শক্রমে ইতোমধ্যে এ-সংক্রান্ত সরকারি আদেশ বা জিও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) বরাবর জারি করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, উপজেলা পরিষদের নতুন বা পুরোনো কমপ্লেক্স ভবনের দ্বিতীয় তলায় যেখানে যে অবস্থা রয়েছে, সেখানেই এটাচ বাথরুম ও উন্নতমানের আসবাবপত্রসহ সংসদ সদস্যদের বসার জন্য একটি কক্ষ রেডি করে দেওয়া হবে। বিধিমালা অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের নামে সরাসরি কক্ষ বরাদ্দের সুযোগ না থাকায় এই কক্ষটির নাম হবে ‘পরিদর্শন কক্ষ’। এখানে বসে এমপিরা তাদের প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি দেখা-সাক্ষাৎ ও সময় ব্যয় করার সুযোগ পাবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায় যদি একাধিক উপজেলা থাকে, তবে প্রতিটি উপজেলাতেই তার জন্য এমন অফিস বা পরিদর্শন কক্ষের ব্যবস্থা থাকবে।’ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সকল সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান।
এ সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরাও বিপুল উৎসাহে টেবিল চাপড়িয়ে বিষয়টিকে স্বাগত জানান।
তীব্র, ক্লান্তিকর, কখনো কখনো যেন একটু দমবন্ধ, বলছি রাজশাহীতে গ্রীষ্মের কথা। প্রচণ্ড রোদে দিনের ছোট ছোট কাজও যেন হয়ে ওঠে পরিশ্রমসাধ্য। তবুও এই তপ্ত সময়ের মাঝেই আছে এক অটুট আনন্দ, আর তা হলো আম। এই গরমের ভেতরেও আমের উপস্থিতিই যেন রাজশাহীর ঋতুকে সবচেয়ে বেশি মনে রাখার মতো করে তোলে।
আর সেই ঋতুর আসল রূপ দেখাতে ব্র্যাকের পর্যটন বিষয়ক উদ্যোগ ‘অতিথি’ নিয়ে এসেছে রাজশাহী ম্যাঙ্গো অর্চার্ড এক্সপেরিয়েন্স প্যাকেজ। এতে আছে দুই দিন-এক রাতের ভ্রমণ প্যাকেজ, যা আপনাকে নিয়ে যাবে রাজশাহীর বিশেষ সব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কাছে।
ভ্রমণের সূচিতে রয়েছে সবুজ আমবাগানের ভেতর দিয়ে হেঁটে বেড়ানো, বাতাসে ভেসে থাকা মিষ্টি গন্ধে ডুবে যাওয়া, আর গাছ থেকে পেড়ে নেওয়া টাটকা আমের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ। বিশেষ করে যারা শহরে থাকি, এই আয়োজনটি এনে দেয় তাদের জন্য এক বিরল সুযোগ— বাগানেই আম উপভোগ করার।
অতিথির এই বিশেষ প্যাকেজটি শুধু আমবাগানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং রাজশাহীর ইতিহাস ও সংস্কৃতির গভীরতাও তুলে ধরে। ভ্রমণের অংশ হিসেবে আরও থাকছে বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর ঘুরে দেখা, পদ্মার তীরের শান্ত সৌন্দর্য অনুভব আর স্থানীয় সিল্ক হাউসগুলোয় যাত্রা, যেখানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে আছে সূক্ষ্ম কারুশিল্পের ঐতিহ্য।
গত বছর অতিথির সঙ্গে এই ভ্রমণে অংশ নিয়েছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার এবং জার্মান দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন জ্যান-রলফ জানোস্কি।
অতিথির ম্যাঙ্গো অর্চার্ড এক্সপেরিয়েন্স রাজশাহীর তীব্র গরমকে ভিন্নভাবে অনুভব করার এক অনন্য উপায়, যেখানে প্রকৃতি, সংস্কৃতি আর আমের সহজ আনন্দ মিলিয়ে তৈরি হয় এক স্মরণীয় যাত্রা। তাহলে আর অপেক্ষা কীসের? ঘুরে আসুন রাজশাহীর অতিথি হয়ে।
প্যাকেজ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন ;
যেকোনো তথ্যের জন্য কল করুন +8809610800700 অথবা WhatsApp করুন +8801332550542 নম্বরে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষি উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষভাবে কৃষি, বনায়ন ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশ সংরক্ষণে বনায়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।
এ সময় উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান উল্লিখিত খাতগুলোতে চীনের আরও সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশে উন্নয়নমূলক বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, বৈঠকে চীনা দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কাউন্সিলর লি শাওপেং এবং সেকেন্ড সেক্রেটারি হুয়াং মৌছং উপস্থিত ছিলেন।
সম্পন্ন হলো পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ উদ্যোগ’ সম্প্রসারণ বিষয়ক বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিটাল লেনদেনে উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম। দেশব্যাপী এই আয়োজনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত দুইদিনব্যাপী কর্মসূচিতে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি লিড ব্যাংক হিসেবে নেতৃত্ব প্রদান করে। আয়োজনের প্রথম দিন (১৯ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার) সকালে এক বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারী অতিথি ও বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা শহর প্রদক্ষিণ করেন। র্যালি শেষে পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ এর পরিচালক জনাব আ.ন.ম. মঈনুল কবীর এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক জনাব আরিফ হোসেন খান। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ আবুল বসার, নির্বাহী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত), বরিশাল অফিস, বাংলাদেশ ব্যাংক; জনাব কিশোর রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল), পটুয়াখালী; জনাব মো. তামিম নূর ইসলাম, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, পটুয়াখালী এবং জনাব সৈয়দ মনসুর মোস্তফা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আইএফআইসি ব্যাংক। সেমিনারে বক্তারা ডিজিটাল লেনদেন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং এ সংক্রান্ত সমষ্টিগত কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
এছাড়া,উক্ত সেমিনার স্থলে বিভিন্ন বুথে অতিথিদের কিউআর (QR) কোড ব্যবহারের মাধ্যমে লেনদেন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সম্মুখ ধারণা প্রদান করা হয়। একই ধারাবাহিকতায় ২০ এপ্রিল ২০২৬ (সোমবার) পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের মাঝে ক্যাশলেস প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন প্রক্রিয়া সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করতে দিনব্যাপী বিশেষ সেমিনার ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আয়োজনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশের একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টার্মিনালটি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে। এই ঘাটতির কারণে গজারিয়া, মেঘনাঘাট, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলসহ তিতাসের অধিভুক্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।
পরিস্থিতির জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে তিতাস জানায়, সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকদের সাময়িক ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে।
বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশে জ্বালানি তেলের দাম যতটা বেড়েছে সে অনুযায়ীই পণ্যের দামের সমন্বয় করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত বা সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তবে প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধি এবং মানুষের মধ্যে সৃষ্ট অযাচিত ভীতি। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব সব দেশেই পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। তবুও সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব দেশীয় বাজারেও পড়ছে। তবে সরকার চেষ্টা করছে যেন জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর কম পড়ে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে সাম্প্রতিক ব্যাংক ঋণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, গত দুই মাসে সরকার প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে। এতে কিছুটা চাপ তৈরি হতে পারে এবং এর প্রভাব জনগণের ওপরও পড়তে পারে। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, পরিস্থিতি এখনো সংকটজনক বা ‘রেড জোন’-এ পৌঁছায়নি। সরকারের নেওয়া ঋণ জনগণের কল্যাণমূলক কাজেই ব্যয় করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাংস্কৃতিক দিক থেকেও নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ মিয়ানমার, কম্বোডিয়া এবং ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে আঞ্চলিকভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আগামী বছরের নববর্ষের আগেই এ বিষয়ে একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনা গ্রহণের কথা রয়েছে। এছাড়া পুরো বৈশাখ মাসজুড়ে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, গত ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে এক লাখ ২২ হাজার ৬৩৩ মেট্রিক টন ডিজেল মজুত রয়েছে, যা বর্তমান চাহিদা বিবেচনায় স্থিতিশীল অবস্থানে আছে।
বাংলাদেশ পুলিশের পোশাকের রং পরিবর্তন নিয়ে চলমান আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে আবারও নতুন রং নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, পুলিশের পোশাকে গাঢ় নীল ও হালকা অলিভ (জলপাই) রঙের সংমিশ্রণ ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে পুলিশ ড্রেস রুলস, ২০২৫ সংশোধনের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিকস শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সারোয়ার জাহান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগে জারি করা এসআরও অনুযায়ী পুলিশের শার্ট গাঢ় ধূসর এবং প্যান্ট গাঢ় নীল থেকে পরিবর্তন করে শার্ট লৌহ রং ও প্যান্ট কফি রং নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে মাঠপর্যায়ে এ পরিবর্তন নিয়ে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে বাহিনীর ভেতরে-বাইরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর নতুন করে রং নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, সব মেট্রোপলিটন (মহানগর) পুলিশের শার্ট হবে হালকা অলিভ (জলপাই) রঙের। এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি ও র্যাব ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের শার্টের রং হবে গাঢ় নীল। উভয় ক্ষেত্রেই প্যান্টের রং নির্ধারণ করা হয়েছে টিসি টুইল খাকি।
পুলিশের পোশাক বদলের বিরুদ্ধে ছিলেন এসপিরাপুলিশের পোশাক বদলের বিরুদ্ধে ছিলেন এসপিরা
এই পরিবর্তন কার্যকর করতে পুলিশ ড্রেস রুলস, ২০২৫-এর একাধিক বিধি সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের খসড়াও এরই মধ্যে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পোশাক সরবরাহ প্রাপ্যতার ভিত্তিতে হওয়ায় এ পরিবর্তনে সরকারের অতিরিক্ত কোনো আর্থিক ব্যয় হবে না।
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা ও তাদের দ্রুত নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।
স্থানীয় সময় সোমবার (২০ এপ্রিল) সেনেগালের রাজধানী ডাকারে ‘ডাকার ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম অন পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি ইন আফ্রিকা’-শীর্ষক সম্মেলনের সাইড লাইনে জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপমন্ত্রী ওনিশি ইয়োহির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই সহযোগিতা চান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষই বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানুষে মানুষে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রতিমন্ত্রী নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আইসিটি, অবকাঠামো, ফার্মাসিউটিক্যালস, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনের মতো খাতে বৃহত্তর জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় জাপানের অব্যাহত সহায়তার প্রশংসা করেন এবং মিয়ানমারে তাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের সুবিধার্থে আরও সহায়তা কামনা করেন।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওমান, মালয়েশিয়া ও ভারত থেকে এক দিনেই চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে ১ লাখ ১ হাজার টন ডিজেল। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আমদানিকৃত এই জ্বালানি দিয়ে দেশের টানা আট দিনেরও বেশি সময়ের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
বন্দর ও শিপিং সূত্র জানায়, সোমবার (২০ এপ্রিল) ভোররাত ২টার দিকে ওমান থেকে ৩৫ হাজার টন ডিজেল নিয়ে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘গোল্ডেন হরাইজন’ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করে। এটি দিনের প্রথম চালান হিসেবে দেশে পৌঁছায়।
এর ধারাবাহিকতায় বিকেলেই আরো দুটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছায়। এর মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে ৩৩ হাজার টন ডিজেল নিয়ে দুপুর ২টায় জাহাজ ‘এফপিএমসি ৩০’ পৌছায়। একই সময়ে ভারত থেকে সমপরিমাণ ৩৩ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আসছে ‘প্যাসিফিক ইন্ডিগো’ নামের অন্য একটি জাহাজ।
জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য মতে, দেশে দৈনিক গড়ে ১২ হাজার ৫০০ টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে।
সেই হিসাবে আজ আসা ১ লাখ ১ হাজার টন ডিজেল দিয়ে আট দিনেরও বেশি সময় দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যাবে।
জাহাজগুলোর স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনের ম্যানেজিং পার্টনার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, সরবরাহব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে দ্রুত তেল খালাসের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা আগে থেকেই লাইটার জাহাজ প্রস্তুত রেখেছি। বড় জাহাজগুলো বহির্নোঙরে ভেড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খালাস কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, আমদানির এই প্রবাহ গত কয়েক দিন ধরেই অব্যাহত রয়েছে। গত শুক্রবারও ১ লাখ ৩৬ হাজার টন জ্বালানি তেল নিয়ে চারটি জাহাজ বন্দরে এসেছে, যেগুলোর খালাস কার্যক্রম এখনো চলমান।
এদিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে দেশে জ্বালানি তেলের আরো বড় দুটি চালান পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজে ৩৩ হাজার টন ডিজেল এবং অন্যটিতে ৩৪ হাজার ৬০০ টন জেট ফুয়েল (বিমানের জ্বালানি) রয়েছে বলে বন্দর সূত্রে জানা গেছে। ধারাবাহিকভাবে এই আমদানির ফলে দেশের বাজারে জ্বালানি সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্বজুড়েই জ্বালানি তেলের মূল্য বেড়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, আমরা যে খাদ্য খাই, তা জ্বালানি তেলে তৈরি না। এর দাম উৎপাদন খরচ ও পরিবহন ব্যয়ের সঙ্গে জড়িত। ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিতেও জ্বালানি খরচ হয় মোট উৎপাদন খরচের ৭ থেকে ৮ শতাংশ। তাই পণ্যমূল্য খুব বেশি বাড়বে না।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে সিলেট নগরীর অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে মাসব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন।
এ সময় জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সামগ্রিক প্রেক্ষাপট, অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান বিশ্ববাস্তবতার প্রেক্ষাপটে তেলের মূল্য খুব সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এইটুকু বৃদ্ধি না করলে চলছিল না। কেননা, আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। আমদানি মূল্য বাড়লে ভোক্তা পর্যায়ে মূল্য বাড়বে এটিই স্বাভাবিক। পুরো বিশ্বজুড়েই জ্বালানি তেলের মূল্য বেড়েছে। উন্নত দেশগুলোতেও বেড়েছে।
তিনি বলেন, কৃষককে ডিজেলের জন্য সরকার ভর্তুকি দেয়। অন্যান্য ক্ষেত্রেও সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখবে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তুলনায় সিলেট এখনো নানা সামাজিক সূচকে পিছিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার। তবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, টিকাদান কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়া হলে অচিরেই দেশব্যাপী হামের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন সিসিক এর প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম। সিসিক ও স্বাস্থ্য বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সহকারী পরিচালক ডা. নূরে আলম শামীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তা ডা. সুফি মো. খালিদ বিন লুৎফুর, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং ইউনিসেফের সিলেট ফিল্ড অফিসের প্রধান মির্জা ফজলে এলাহী প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই সনদে বিএনপি সই করেছে এবং এর প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি লাইন বাস্তবায়ন করা হবে। আমি এই হাজারো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে পরিষ্কারভাবে আবারও বলে দিতে চাই—সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যে জুলাই সনদে সই করে এসেছে, সেই জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি অক্ষর আমরা এক এক করে বাস্তবায়ন করব ইনশা আল্লাহ। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে বিএনপির জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১১টি কমিশন করেছিল। ১১টি কমিশনের মধ্যে সংবিধান আছে, বিচারের বিষয় আছে, প্রশাসনিক, স্বাস্থ্য এবং নারী আছে। আজকে আমরা ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি। খেয়াল করে দেখবেন- যারা এই সংস্কার সংস্কার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে, জুলাই সনদের সম্পর্কে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে, তারা কিন্তু নারীর স্বাধীনতা অথবা নারীর উন্নয়ন নিয়ে কোনো কথা বলে না।
বাংলাদেশের মানুষের চিকিৎসার জন্য যে চিকিৎসা কমিশন করা হয়েছিল, বাংলাদেশের মানুষ যাতে সহজে ওষুধ পেতে পারে, চিকিৎসা পেতে পারে সেটির ব্যাপারে তারা কোনো কথা বলে না। কীভাবে প্রশাসনকে ঠিক করতে হবে, সেটির কথা তারা বলে না। কীভাবে আইনশৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে, সেইটির কথাও তারা বলে না। তারা শুধু সংবিধান সংবিধান বিষয়ে কথা বলে।
এদিকে জনসভা শুরুর আগেই দুপুর থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভায় আসতে শুরু করেন। বেলা ৩টার মধ্যে পুরো মাঠ প্রাঙ্গণ জনসমুদ্রে রূপ নেয়। মাঠ প্রাঙ্গণ ছাড়িয়ে আশপাশের সড়কগুলোতেও নেতা-কর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা বগুড়ায় এটিই তার প্রথম সফর। সকালে তিনি সড়কপথে ঢাকার গুলশান থেকে রওনা হয়ে সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে বগুড়া সার্কিট হাউসে পৌঁছান। সেখানে জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। সফরসঙ্গী হিসেবে তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৬ বছর বিএনপির অসংখ্য নেকাকর্মী অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করেছেন। মিথ্যা মামলার আসামি হয়েছেন। সেসময় দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা এবং ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার সাথে দেশর মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। গণআন্দোলনের মুখে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পারাতে বাধ্য হয়েছিল।
তিনি বলেন, স্বৈরাচার সরকার মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে মেগা দুর্নীতি করেছে। লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে ম্যান্ডেট দিয়েছে। আমরা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে দেশটাকে নতুন করে সাজানোর কাজ শুরু করেছি। নির্বাচনের আগে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফ করেছি। মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের ধর্মগুরুদের সম্মানী
দিয়েছি। সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কাজ শুরু হয়েছে। স্বল্প খরচে বিদেশে জনশক্তি রপ্তারির জন্য বিভিন্ন দেশের সাথে আলোচনা চলছে। অচিরেই সুখবর আসবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া জাতির সামনে সংষ্কার প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। পরবর্তীতে আমরা জাতির সামনে ৩১ দফা সংষ্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করেছি।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানির সুবিধার্থে বগুড়া বিমান বন্দরে কার্গো বিমান চলাচলের ব্যবস্থা করবেন বলে ঘোষণা দেন। পাশাপাশি বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং সেখানে কৃষিসহ বিভিন্ন বিভাগ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর পত্নী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
এরপর তারেক রহমান বগুড়া প্রেসক্লাবের নবনির্মিত ভবন এবং
বাইতুর রহমতান সেন্ট্রাল জামে মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। এর আগে বগুড়ায় এসে দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। বেলা ১১টায় বগুড়া বার সমিতির নবনির্মিত বহুতল ভবনের নাম ফলক উন্মোচন করেন। এরপর তিনি বগুড়াসহ ৭ জেলায় ই-বেলবন্ড কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊধ্বতন কর্মকর্তা, সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং জেলা প্রশাসকের কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন। এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় পৌর ভবনে তিনি এ ফলক উন্মোচন করেন। এর ফলে প্রতিষ্ঠার প্রায় দেড়শ বছর পর বগুড়া পৌরসভা সিটি করপোরেশনের মর্যাদা পেল। এটি দেশের ১৩ তম সিটি করপোরেশন।
ফলক উন্মোচন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের অনেকদিনের দাবি ছিল, সেটি আজ পূরণ হলো। বগুড়া সিটি কর্পোরেশন হিসেবে যাত্রা শুরু করল। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বগুড়া সদর (বগুড়া-৬) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, স্থানীয় সরকার সচিব শহীদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সেখানে গাছের চারাও রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় ৯১১ জনের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। দুপুরে উপজেলার বাগবাড়ীতে শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে এ কার্ড বিতরণ করেন সরকার প্রধান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়ায় হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। গাবতলীর বাগবাড়ীতে জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে সোমবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে সরকার প্রধান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পিতৃভূমি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীতে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেলা পৌনে ৪টার দিকে নশিপুরে সরকার প্রধান কোদাল দিয়ে মাটি কেটে চৌকিদহ খালের খনন কার্যক্রমের সূচনা করেন। এ সময় বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোরশেদ মিলটন, জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু উপস্থিত ছিলেন।