অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এই দেশ আমাদের সবার, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এ দেশ সব মানুষের নিরাপদ আবাসভূমি।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে আজ বুধবার প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল ফেসবুকে পেজে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে আমি দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী সব নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।’
তিনি বলেন, ‘দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসবই নয়, এটি এখন সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রধান বৈশিষ্ট্য।’
ড. ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আমাদের সংবিধানে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। এই দেশ আমাদের সবার। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এ দেশ সব মানুষের নিরাপদ আবাসভূমি।
তিনি বলেন, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-শ্রমিক-জনতার অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবার ভাগ্য উন্নয়ন এবং সমান অধিকার সুনিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বৈষম্যবিরোধী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানাই।
বাণীতে বাংলাদেশের সব নাগরিকের শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধিও কামনা করেন ড. ইউনূস।
পুলিশের ৩৩ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। এরমধ্যে ১৪ জন ডিআইজি রয়েছেন। রোববার (৫ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা-১ হতে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এতে স্বাক্ষর করেন সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তাগণকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (২০১৮ সালের ৫৭ নং আইন) এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো।
অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা হলেন, ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম (বর্তমানে গ্রেপ্তার), ডিআইজি মো. সাইফুল ইসলাম (বর্তমানে গ্রেপ্তার), ডিআইজি মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, ডিআইজি শাহ মিজান শাফিউর রহমান, ডিআইজি এস. এম. মোস্তাক আহমেদ খান, ডিআইজি জিহাদুল কবির, ডিআইজি মঈনুল হক, ডিআইজি মো. ইলিয়াছ শরীফ, ডিআইজি শ্যামল কুমার নাথ, ডিআইজি মো. জাকির হোসেন খান, ডিআইজি মো. শাহ আবিদ হোসেন, ডিআইজি মো. জামিল হাসান, ডিআইজি মো. মাহবুবুর রহমান, ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান।
অতিরিক্ত ডিআইজি মো. বরকতুল্লাহ খান, অতিরিক্ত ডিআইজি টি. এম. মোজাহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন খান, অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. মনিরুজ্জামান, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মেহেদুল করিম, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আলমগীর কবীর, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. রশীদুল হাসান, অতিরিক্ত ডিআইজি সঞ্জয় কুমার কুন্ডু, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নিজামুল হক মোল্যা, অতিরিক্ত ডিআইজি এস. এম. এমরান হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান, অতিরিক্ত ডিআইজি ড. শামসুন্নাহার, পুলিশ সুপার (সুপার নিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি সাইফুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত ডিআইজি খান মুহাম্মদ রেজোয়ান, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সাজিদ হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আরেফ এবং অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ।
রাজধানীতে মেট্রোরেলের যাত্রী চাহিদা মেটাতে ২০২৭ সালের এপ্রিলে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বর্ধিতাংশ চালু হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (লাইন-৬) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুল ওহাব জানান, বর্ধিত লাইনে আগামী বছরের এপ্রিলে বাণিজ্যিকভাবে মেট্রোরেল চলাচল শুরু হবে। এর আগে আগামী বছরের জানুয়ারি মাস থেকে খালি ট্রেন চালিয়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করা হবে।
তিনি বলেন, নিয়মিত যাত্রীসেবার সময় পার হওয়ার পর রাতের বেলা উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে কমলাপুর পর্যন্ত পুরো রুটজুড়ে এই পরীক্ষামূলক চলাচল পরিচালনা করা হবে।
এটি দেশের প্রথম মেট্রোরেল রুট, যাকে কর্মকর্তারা লাইন-৬ বলে অভিহিত করছেন।
প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে ১.১৬ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট, একটি স্টেশন ও রেল ট্র্যাক নির্মাণসহ পুরো সম্প্রসারণ কাজের প্রায় ৭৭ শতাংশ শেষ হয়েছে। বর্তমানে স্টেশনের স্থাপত্য এবং প্রবেশ-বাহির পথের কাজ চলছে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত কমলাপুর স্টেশনের সব পাইল, পাইল ক্যাপ, পিয়ার, স্টেশন কলাম, প্রিকাস্ট, কনকোর্স ছাদ, প্ল্যাটফর্ম স্ল্যাব, ট্র্যাক স্ল্যাব, প্যারাপেট ওয়াল এবং স্টিলের ছাদ তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
তথ্যমতে, কমলাপুর স্টেশনের জন্য স্বয়ংক্রিয় দরজা, সিগন্যালিং সিস্টেম এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি শিগগিরই স্থাপনের জন্য আনা হবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে ট্র্যাক স্থাপনের কাজ শেষ হবে বলে তারা আশা করছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্টেশনের প্রবেশ-বাহির পথ, অভ্যন্তরীণ দেয়ালের টাইলস, স্থায়ী জানালার গ্লাস স্থাপন এবং অভ্যন্তরীণ ও বাইরের অংশের রঙের কাজ চলছে। এছাড়া উত্তরা কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে ২৯৮টি প্রিকাস্ট সেগমেন্টের মধ্যে ১০০টি প্রিকাস্ট সেগমেন্ট কাস্টিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে।
উত্তরা উত্তর থেকে কমলাপুর স্টেশন পর্যন্ত লাইন-৬ এর মোট দৈর্ঘ্য ২১.২৬ কিলোমিটার। এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের বাণিজ্যিক চলাচল শুরু হয়।
প্রায় চার মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট। পুনরায় চালু হওয়া এ রুটের উদ্বোধনী ফ্লাইটের যাত্রীদের স্বাগত জানিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিদের যাতায়াত আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করতে বিমানভাড়া কমানোর বিষয়ে কাজ করছে সরকার। একই সঙ্গে ম্যানচেস্টার রুটে নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন ফ্লাইট পরিচালনা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রোববার (৫ জুলাই) সকালে ম্যানচেস্টার থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০৮ ফ্লাইটে ২৬৮ জন যাত্রী নিয়ে সিলেটের এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
এর মধ্যে ২২৭ জন সিলেটে নামেন। বাকি ৪১ জন একই উড়োজাহাজে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখেন।
যাত্রীদের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে সংবাদ সম্মেলনে আফরোজা খানম রিতা বলেন, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের, বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ রুটে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য প্রবাসীদের যাতায়াত আরও সহজ, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী করা।
লন্ডন-সিলেট রুটে তুলনামূলক বেশি বিমানভাড়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি সরকারের নজরে রয়েছে। বিশেষ করে রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের কথা বিবেচনায় রেখে কীভাবে ভাড়া আরও সহনীয় করা যায়, সে বিষয়ে কাজ চলছে।
মন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে উড়োজাহাজ সংকটের কারণে যাতে এ রুটে সেবা ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যে অতিরিক্ত উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সিলেট-কক্সবাজার রুটও দ্রুত পুনরায় চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তিনি আরও বলেন, এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার কাজ এগিয়ে চলছে। উন্নয়নকাজ শেষ হলে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোও এখান থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে। এতে সিলেটের পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারিত হবে।
বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তুলে সিলেটকে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণকাজ দ্রুত শেষ হলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর সক্ষমতা ও গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।
হজ মৌসুমে উড়োজাহাজ সংকটের কারণে প্রায় চার মাস ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ছিল। এতে বিশেষ করে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সিলেটিদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। হজ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর সরকার এ রুটে ফ্লাইট পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই আবার চালু হলো সরাসরি এ সেবা।
প্রাথমিকভাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ দিয়ে প্রতি সপ্তাহে মঙ্গলবার ও শনিবার এ রুটে দুটি নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম উন্নয়ন সহযোগী। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, নিরাপদ পানি সরবরাহ ও জনসেবামূলক বিভিন্ন খাতে জাইকার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও জাইকার মধ্যকার সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
রোববার (০৫ জুলাই) সচিবালয়ে জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাইকার চলমান এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সরকার খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই নগর উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে চান। আমরা সবাই তাঁর নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছি।
মন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও জনবান্ধব করতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে সরকার। এ ক্ষেত্রে জাইকার অভিজ্ঞতা, কারিগরি সহায়তা ও বিনিয়োগ দেশের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সাক্ষাৎকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহীদুল হাসান, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মোঃ মাহমুদুল হাসান, এনডিসি এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশ ও জাইকার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত করবে এবং স্থানীয় সরকার খাতসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র সৃষ্টি করবে।
সরকারি যেকোনো অনুষ্ঠান উদযাপনের প্রচারকাজে ব্যবহৃত ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারের ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। রোববার (৫ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে এই সংক্রান্ত একটি জরুরি পরিপত্র জারি করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত এই নতুন নির্দেশনাটি অনতিবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিপত্রে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, "সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুত করা ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি—থ্রিডি বা অন্য কোনো আঙ্গিকেই—ব্যবহার করা যাবে না।" মূলত সরকারি কর্মসূচির প্রচারণায় ব্যক্তির চেয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, "সরকারি অনুষ্ঠানের প্রচারণামূলক উপকরণ তৈরির ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তুকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।"
প্রচার উপকরণের নান্দনিকতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিপত্রে আরও বলা হয়, "ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রয়োজনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপনের পাশাপাশি নকশা এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, বার্তা ও বিষয়বস্তু স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।" মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই বিষয়টিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং দেশের সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনকে এই নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালনের আহ্বান জানিয়েছে। সরকারি অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতায় ব্যক্তির অতি-প্রচার বন্ধ করে কাজের উদ্দেশ্যকে ফুটিয়ে তুলতেই সরকার এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে
‘উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস- ২০২৬ উপলক্ষ্যে বিশেষ স্মারক ডাক টিকিট উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। এই আয়োজনে ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাক টিকিটের পাশাপাশি একটি উদ্বোধনী খাম এবং ৫ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটাকার্ডও অবমুক্ত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদুল হাসানও এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ৬ জুলাই ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস’ উপলক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশ ডাক বিভাগ বিশেষ এই স্মারক সামগ্রীগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করেছে।
দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এবং পল্লী অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে যাঁরা বিশেষ অবদান রাখছেন, তাঁদের কর্মের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য জনসাধারণের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই এই স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য। গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনপদের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় এই দিবসের মাধ্যমে নতুন করে ফুটে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের অর্জন নয়। এই অর্জন দেশের প্রত্যেকটি গণতন্ত্রকামী ও শান্তিপ্রিয় মানুষের। যে কারণে এত মানুষ জীবন দিয়েছে, সেই জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করবে সরকার। আইন অনুযায়ী, অন্যায়কারী এবং হত্যাকারীদের বিচার করা হবে। বিচারের নামে যেন কারও প্রতি অবিচার না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের যথাযথ মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আগারগাঁওয়ে ‘বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে’ জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।
শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে তিনি বলেন, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তাদের পরিবার ও যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান, স্বীকৃতি ও জীবনমান নিশ্চিতকরণ, পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন ও সহায়তা প্রদানে সরকার কাজ করছে।
তিনি আরো বলেন, সবার উদ্দেশে বলতে চাই, আপনাদের মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশে শুধু আমার দলেরই নয় অন্যান্য আরো রাজনৈতিক দল এবং একই সাথে যে সকল অরাজনৈতিক ব্যক্তি যারা ৫ আগস্ট (ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন আন্দোলন) সফল করেছিলেন, তাদের সবার কাছে বলতে চাই যে, আসুন আমাদের প্রতি, বাংলাদেশের লক্ষ-কোটি মানুষের প্রতি স্বৈরাচার যেমন অবিচার করেছিল, বিচারের নামে কারো প্রতি যেন অবিচার না হয় সে বিষয়টিতেও সচেতন থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এই অনুষ্ঠান চলাকালে আমি বারবার ভাবছিলাম এই মুহূর্তে যদি আমি আমার মা’কে জিজ্ঞেস করতে পারতাম, আপনার ওপর যে অবিচার ও অন্যায় হয়েছে আপনি কি চান আমি এসবের প্রতিশোধ নিই? আমার বিশ্বাস মা বলতেন, এই মুহূর্তে তোমার কাজ সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমি জানি, আমার ভাইকে জিজ্ঞেস করলে তিনিও আমাকে একই উত্তর দিতেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জানি, এখানে মা উপস্থিত আছেন। উনি দেখেছেন কীভাবে সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এখানে ভাই উপস্থিত আছেন, সে দেখেছে কীভাবে তার ভাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আপনাদের এই কষ্টের বিপরীতে শুধু একটি কথাই আমি বলতে চাই, আপনাদের যে কষ্ট, সেই কষ্টটি আমিও বুঝি, অনুভব করতে পারি।
তিনি আরো বলেন, স্বৈরাচারের সময় থেকে শুরু করে ৫ আগস্ট জুলাই আন্দোলনে অনেকেই, বহু, হাজারো লক্ষ মানুষ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সেই নির্যাতনের যে কষ্ট আপনাদের এখনো ভোগ করে বেড়াতে হচ্ছে। সেরকম শারীরিক কষ্ট, মানসিক কষ্ট প্রত্যেকটি কষ্ট আমাকেও ভোগ করতে, বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এ কারণে আপনাদের সেই কষ্ট- সেটি মানসিক হোক, সেটি শারীরিক হোক, আমি কিছুটা হলেও অনুভব করতে সক্ষম।
তিনি বলেন, আপনাদের ডান দিকে একটি ব্যানারের লেখা আছে জুলাইয়ের শহীদ হওয়া সর্বকনিষ্ঠ ফুলগুলোর নাম। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ৬৫ জন শিশু শহীদ হয়েছিল। তাদের কি কোনো অপরাধ ছিল? তাদের অপরাধ ছিল না। কিন্তু দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করতে গিয়ে যেভাবেই হোক এই শিশুগুলো জীবন দিয়েছে।
সেই উত্তাল দিনগুলোর প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করে গেছেন যে, জাতিসংঘের হিসাবে প্রায় ১৪শ মানুষ শহীদ হয়েছিলেন। সেই উত্তাল দিনগুলোতে যতটুকু সম্ভব হয়েছে আমার পক্ষে, আমি যতটুকু বিভিন্নভাবে শত বাধা-বিপত্তির মধ্যেও খোঁজ করছিলাম আমার নেতাকর্মীদের মাধ্যমে। অনেকে অনেক হিসাব দিয়েছে। কিন্তু আমার হিসাবের মতে শুধু জুলাই আন্দোলনে শহীদ হয়েছে ২ হাজারের মতো মানুষ, ৩০ হাজারের মতো মানুষ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সার্বিকভাবে।
ফ্যাসিস্ট শাসনামলে দলের নেতা-কর্মীদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন, মামলা-হামলার ঘটনা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আপনাদের সকলের কাছে একটু সহযোগিতা চাই আমি। যে আপনজনকে আপনারা হারিয়েছেন তারও তো লক্ষ্য ছিল এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন, তারও তো লক্ষ্য ছিল এই দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন।
জাতিকে বিভক্ত করে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া যায় না উল্লেখ করে উপস্থিত জুলাই পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই মানুষই ত্যাগ করতে পারে যার সাহস আছে। আপনজনকে আপনারা হারিয়েছেন, যে অঙ্গ হারিয়েছেন তা ঠিক হয়ে যাবে? না... ঠিক হয়ে যাবে না। তবে, সবাই মিলে আমরা যদি এ দেশকে এগিয়ে নিতে পারি, তবে একদিন গর্ব করে বলতে পারবেন আপনার আপনজনের ত্যাগের বিনিময়ে দেশের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে। এখন একমাত্র কাজ শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই দিনে জুলাই অভ্যুত্থানে, জুলাই শহীদ, জুলাই যোদ্ধা এবং বিগত ১৭ বছরের যতজন শহীদ হয়েছেÑ তাদের প্রতি যদি সম্পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করতে হয়, তাহলে যার জন্য তারা ত্যাগ করেছেন সেই লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা। এটি হোক আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের গৃহীত শপথ, এটি হোক আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের গৃহীত প্রতিজ্ঞা।
জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি ও আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজনে এই জাতীয় সম্মেলনে আগত শত জুলাই যোদ্ধা পরিবারের সদস্য সরকার প্রধানের সামনে নিজেদের যন্ত্রণা, মনের ভাব তুলে ধরেন।
সকাল সোয়া ১০টায় পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত এবং জুলাই আন্দোলনের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদ পরিবারের হাতে জুলাই স্মৃতি স্মারক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ সময় শহীদ মিরাজের বাবা রব মিয়া, শহীদ সেলিমের ভাই উজ্জ্বল হোসেন, জুলাই আহত আল মিরাজ, জুলাই যোদ্ধা আমিনুল ইসলাম ঈমন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্মারক গ্রহণ করেন। পরে উপস্থিত সবার জন্য রাখা স্মৃতি স্মারক তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতেও স্মৃতি স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ণ মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সভাপতি আবু হুরায়রা, কওমী ছাত্র ফোরামের সভাপতি মাওলানা জামিল সিদ্দিকী, আয়োজক সংগঠন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইমন, সাধারণ সম্পাদক আল মিরাজ, জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির সভাপতি গোলাম রহমান ও সাধারণ সম্পাদক রবিউল আওয়াল বক্তব্য রাখেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ সন্তানদের নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন শহীদ আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেইন, শহীদ শাহরিয়ার হোসেন আলভীর বাবা আবুল হোসেন, শহীদ আবদুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ্জোহরা, শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা শফিউল আলম এবং যাত্রাবাড়ীতে শহীদ মিরাজ হোসেনের বাবা আবদুর রব মিয়া। জুলাই অভ্যুত্থানে আহত শাহিন মালু, সুজন মোল্লা, মিল্লাত হোসেন, আল-আমীন, মেহেদি হাসান মিরাজ তাদের কথা জানান।
জুলাই জাতীয় সম্মেলনে রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক ঊধর্তন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে যে জুলাই এসেছিল তা ছিল রক্তাক্ত জুলাই। সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল ও সংস্কারের দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন দ্রুতই সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানীর রাজপথ থেকে জেলা, উপজেলা পর্যায়ে বাংলাদেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে গড়ে ওঠে অভূতপূর্ব গণআন্দোলন। পরবর্তীতে এই আন্দোলন সরকারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের যে তালিকা সরকার গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে, সেখানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৪ জন। তবে অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘ যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেখানে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ যেভাবে আকৃষ্ট করা হচ্ছে, তাতে ১ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে দেশ। বিদেশি বিনিয়োগ, সরাসরি বিনিয়োগ, ক্যাপিটাল মার্কেটে বিনিয়োগ এবং ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগ— সবই বাংলাদেশে আসছে। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলের যে সম্ভাবনা আছে, সেটিকে মাথায় রেখে বাজেট করা হয়েছে এবং সেই সম্ভাবনাগুলো কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
চট্টগ্রামকে লজিস্টিক্যাল হাব গড়তে বড় পরিকল্পনা রয়েছে, এজন্য বিদেশি বিনিয়োগও আসছে জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে সম্ভাবনার খাত অনেক বেশি। কারণ, এখানে বন্দর আছে। শুধু সমুদ্রবন্দর নয়, চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানও রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে সরকারের পরিকল্পনায় অনেক কিছু আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, নদীর ওপারে আনোয়ারায় ৬০০ একর জমিতে একটি ফ্রি জোন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে একসঙ্গে অনেকগুলো বন্দর নির্মাণ করা হবে। চট্টগ্রামকে একটি লজিস্টিক্যাল হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার প্রতিফলন এবারের বাজেটে রয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে কার্গো হাব ও প্যাসেঞ্জার হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে একটি চাইনিজ ইকোনমিক জোন হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে লাকসাম অংশের উন্নয়নের মাধ্যমে ট্রেনে যাতায়াতের সময় দুই ঘণ্টা কমিয়ে আনার পরিকল্পনাও বাজেটে রয়েছে। এসব বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক করিডর একটি লজিস্টিক্যাল হাবে পরিণত হবে। বন্দরগুলো আরও বেশি পরিমাণে কাজ করতে পারবে। অন্যদিকে মাতারবাড়ীকেও ঘিরে বড় ধরনের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক্যাল সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখেই বাজেটে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এগুলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগবে। তবে যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করার চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন একটি কঠিন কাজ। বর্তমান সরকার বিগত সরকারের কাছ থেকে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবও যুক্ত হয়েছে। আগে এই ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে বের হয়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হবে। এরপর সম্ভাবনার জায়গাগুলো কাজে লাগানো হবে। সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ বছর থেকে সমৃদ্ধির ধারা শুরু হবে এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। বাংলাদেশ তার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক এম এ আজিজ প্রমুখ।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গণতন্ত্র, উন্নয়ন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা বিদ্যমান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে এবং উভয় দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শনিবার (৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পার্লামেন্টারি ককাস অন বাংলাদেশ-ইউএসএ রিলেশনশিপ এবং বাংলাদেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘A Freedom 250 Musical Performance’ অনুষ্ঠানে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বক্তব্য রাখেন।
চিফ হুইপ বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনের আইকনিক স্থাপনার সামনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের আয়োজন দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক। এই আয়োজন বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র, শান্তি এবং উন্নয়ন সহযোগিতায় একসঙ্গে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির কঠিন সময়ে বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ ভ্যাকসিন সরবরাহের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যে সহযোগিতা করেছে, তা বাংলাদেশের জনগণ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।
চিফ হুইপ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতার ২৫০ বছরের ঐতিহ্য ধারণ করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করেছে এবং বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করতে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতেও সহযোগিতার হাত প্রসারিত রাখবে এবং দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্ব নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
বক্তব্যের শেষে চিফ হুইপ বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনের এই ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণ থেকে আজ যে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও গণতন্ত্রের বার্তা উচ্চারিত হলো, তা দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করবে।
অনুষ্ঠানে পার্লামেন্টারি ককাস অন বাংলাদেশ-ইউএসএ রিলেশনশিপ-এর চেয়ারম্যান ড. মো. ওসমান ফারুক, এমপি, কো-চেয়ারম্যান ড. মো. মাহবুবুর রহমান, এমপি, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমান সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে সারাদেশের সব হাসপাতাল সার্বক্ষণিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে দেশের সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বায়োমেট্রিক হাজিরা নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
অধিদপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ১৭ আগস্ট বর্তমান সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে হাসপাতালগুলোর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাজিরা নিয়মিত করতে ছয়টি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনাগুলো হলো— এক. সব প্রতিষ্ঠান প্রধান স্ব-স্ব হাসপাতাল নিজ দায়িত্বে সার্বক্ষণিকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবেন। দুই. ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অধীনস্থ হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মনিটর করবেন। তিন. পরিচালক, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতি শনিবার হাসপাতালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করবেন। চার. প্রত্যেক বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) উল্লিখিত তারিখসমূহে সংযুক্ত তালিকা (সংযুক্ত-০১) অনুযায়ী জেলা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শন শেষে সচিত্র পরিদর্শন প্রতিবেদন মন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিচালক (প্রশাসন), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরাবর প্রেরণ করবেন। পাঁচ. প্রত্যেক সিভিল সার্জন মাসের প্রত্যেক শনিবার সংযুক্ত তালিকা (সংযুক্ত-০২) অনুযায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন। এরপর সচিত্র পরিদর্শন প্রতিবেদন মন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিচালক (প্রশাসন), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরাবর প্রেরণ করবেন। ছয়. ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখের মধ্যে সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বায়োমেট্রিক মেশিন সচল করে নিয়মিত বায়োমেট্রিক হাজিরা নিশ্চিত করবেন। ব্যর্থতায় প্রতিষ্ঠান প্রধান দায়ী থাকবেন।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে অলাভজনক ও বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৪ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সভায় তিনি এ নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অলাভজনক ও বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা বিনিয়োগে অনেক বেসরকারি কোম্পানি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কোম্পানিগুলো যে ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে, সেগুলোর সম্ভাব্যতা এখন যাচাই করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু গণমাধ্যমকে এ কথা জানান। তিনি জানান, পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ১০৭টি কারখানার মধ্যে ২৮টি লোকসানে রয়েছে। একই সঙ্গে বন্ধ রয়েছে ৬৮টি কারখানা। বন্ধ ও লোকসানি মিলিয়ে ৪৪টি কারখানা নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে চালু করতে, সরকারের কাছ থেকে নীতি সহায়তার পাশাপাশি কম সুদের ঋণ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার সহায়তা চেয়েছেন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়। শিল্প মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
সভায় সরকারি কর্মকর্তারা এই কারখানাগুলোতে বিনিয়োগের সুযোগের কথা তুলে ধরেন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি), যৌথ উদ্যোগ, দীর্ঘমেয়াদি ইজারা এবং সরাসরি বিক্রির মাধ্যমে এগুলো চালুর পরিকল্পনা পেশ করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, চীন, ভারত, রাশিয়াসহ বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত সম্পর্ক জাতীয় স্বার্থ ও পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে। কোনো দেশের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নয়, বরং ‘কৌশলগত ভারসাম্য’ বজায় রেখেই বর্তমান সরকার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করছে।
শনিবার (৪ জুলাই) গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক (ব্রেন) আয়োজিত ‘পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘প্রত্যেকটা দেশের সঙ্গে আমাদের কৌশলগত সম্পর্ক নির্ধারণ করবে পারস্পরিকভাবে আমরা কী পাচ্ছি, বাংলাদেশের মানুষ কী পাচ্ছে—সম্পূর্ণ ওই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে।’
তিনি বলেন, ‘প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অন্ধভাবে কোনো দেশের পক্ষে বা বিপক্ষে না গিয়ে সম্পূর্ণ কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রেখেই পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মতো দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রথমবারের মতো সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং সৃজনশীল অর্থনীতিকে ‘সফট পাওয়ার’ হিসেবে ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার’, ‘মাইগ্রেশন’ এবং ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স’ নামে তিনটি নতুন অনুবিভাগ চালু করা হয়েছে।’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা, বাণিজ্য ঘাটতি ও পানিবণ্টনসহ বিদ্যমান সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে বাংলাদেশ বিশ্বাসী। এজন্য প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে কার্যকর কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখা জরুরি।’
গোলটেবিল আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ বহুপক্ষীয় সহযোগিতায় বিশ্বাসী।’ তিনি বলেন, ‘আমরা মাল্টিল্যাটারালিজমকে ধারণ করি। সে কারণেই ব্রিকস, আসিয়ান, এসসিও ও আরসিইপির সদস্য হতে চাই। ক্ষয়প্রাপ্ত বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন এবং জনগণের স্বার্থে কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য।’
শিক্ষক ও গবেষক আসিফ বিন আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান), চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহবুব উজ জামান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আমেনা মহসিন, অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, সহযোগী অধ্যাপক ওবায়দুল হক এবং ব্রেনের নির্বাহী পরিচালক সফিকুর রহমান।
বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে মার্কিন উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার সমান সুযোগ নিশ্চিত, নীতিগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে।
শনিবার (৪ জুলাই) ঢাকায় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) এবং ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে সরকার বেসরকারি খাতকে গুরুত্ব দেয়। বিনিয়োগ সহজ করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সুশাসন ও আইনের শাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে। বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ কর্মশক্তি ও ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে মুনাফা দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ সহজ করা, উদার অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল, শিল্পপার্ক ও হাইটেক পার্কে কর–সুবিধাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অতীতে অসম প্রতিযোগিতা নিয়ে যে উদ্বেগ ছিল, তা দূর করে দেশি-বিদেশি সব বিনিয়োগকারীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রযুক্তি ও দক্ষতা স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় শিল্পের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নে তারা আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘উড়োজাহাজ, জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), বস্ত্র, ওষুধ, কৃষিভিত্তিক রপ্তানি এবং ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে দুই দেশের সহযোগিতা ও বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।’
মাহদী আমিন আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবীদের দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে ‘ব্রেইন ড্রেইন’কে ‘ব্রেইন সার্কুলেশনে’ রূপান্তর করা প্রয়োজন।’
তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগসংক্রান্ত রোডশো আয়োজন এবং নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা খুঁজে বের করতে সরকারি নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে মাহদী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগের সফলতা বিশ্বের অন্যান্য বিনিয়োগকারীদেরও এ দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।’
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখায় অ্যামচেম ও ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানান তিনি।