হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পুরান ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
এ সময় দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে শুভেচ্ছা জানান তিনি।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক বাণীতে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব নয়। এটি এখন সবার উৎসবে পরিণত হয়েছে। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের পূজা এ উৎসবের প্রধান বৈশিষ্ট্য।’
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘দেশের সংবিধানে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এই দেশ আমাদের সবার। এই দেশ জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার নিরাপদ আবাসস্থল।’
বাংলাদেশের সব নাগরিকের অশান্তি, মঙ্গল ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তিনি।
দুর্গাপূজায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়টিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আন্তরিকভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত পৃথক দুটি হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৪১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম জুলাই আন্দোলনের সময় মালবাহী ট্রাকচালক মো. হোসেন ও সিএনজি অটোরিকশাচালক সবুজ হত্যার ঘটনায় দাখিলকৃত দুটি পৃথক অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, এই দুই ঘটনায় সর্বমোট ৬৪ জন আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট আমলে নিয়েছে আদালত।
ট্রাকচালক হোসেন হত্যার ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার মধ্য দিয়ে। এই মৃত্যুর ঘটনায় তার মা রীনা বেগম বাদী হয়ে গত ৩১ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তী সময়ে তদন্ত শেষে গত ২৩ নভেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এই মামলায় বর্তমানে ২০ জন আসামি পলাতক রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ চারজন কারাগারে রয়েছেন এবং আরও ১০ জন জামিনে মুক্ত আছেন।
আদালত যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছেন, তাদের মধ্যে শেখ হাসিনা ছাড়াও রয়েছেন সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানসহ আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা।
অন্যদিকে, সিএনজি চালক সবুজ হত্যার সূত্র ধরে জানা গেছে, ৪ আগস্ট মোহাম্মদপুরের ময়ূর ভিলার সামনে তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই ঘটনায় সবুজের ভাই মনির হোসেন ১ সেপ্টেম্বর মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক মো. মাজহারুল ইসলাম শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এই মামলায় শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ২১ জন আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বর্তমানে এই মামলার তিন আসামি কারাগারে রয়েছেন এবং ছয়জন জামিনে আছেন। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সংঘটিত এই দুই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পলাতক ব্যক্তিদের আইনি প্রক্রিয়ায় আনতে আদালত এই কঠোর আদেশ প্রদান করেছেন।
বিগত ২০২৫ সালে দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান রোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। বছরের প্রথম দিন থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকাসহ অন্যান্য স্থানে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে সংস্থাটি সর্বমোট ১,৯০৮ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ চোরাচালান পণ্যসামগ্রী জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, উদ্ধারকৃত এই বিশাল অংকের মালামালের মধ্যে মূল্যবান ধাতু থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও মাদকদ্রব্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জব্দকৃত পণ্যের তালিকায় রয়েছে ৬০ কেজি ৫৫৬ গ্রাম স্বর্ণ, ১৬৮ কেজি ২৪১ গ্রাম রৌপ্য, ১,৭১,১৯০টি শাড়ি, ১,২৬,৭৭৯টি থ্রিপিস বা কম্বল জাতীয় পোশাক এবং ১,৩৩,৩৩৮টি তৈরী পোশাক। এছাড়া ৬৮,৭৬,৬১১টি কসমেটিক্স সামগ্রী, ২,০৭,৪৬,১৪৪টি আতশবাজী, ১১,৬৫,৪৮৯ কেজি চিনি এবং ৩,০৫,৪৩৮ কেজি পিঁয়াজসহ বিপুল পরিমাণ জিরা, রসুন ও কয়লা উদ্ধার করা হয়েছে। বনজ সম্পদ রক্ষায় অভিযানে ১,৪০,২৭৪ ঘনফুট কাঠ এবং পরিবহনের ক্ষেত্রে ১,৭০৮টি বিভিন্ন প্রকার যানবাহনও বিজিবির হাতে ধরা পড়েছে।
দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি গত বছর মারণাস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারেও বিশেষ তৎপরতা দেখিয়েছে। বছরব্যাপী অভিযানে ৬৪টি পিস্তল, ২টি এসএমজি, ১৯টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ১০টি রাইফেল এবং ৩টি রিভলভার উদ্ধার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ১,৫০৯টি গোলাবারুদ, ৫৭টি ম্যাগাজিন, ৮টি মর্টার শেল, ৭৩,১০০টি সীসার গুলি এবং ২০.০৫ কেজি গান পাউডার জব্দ করা হয়। বিস্ফোরক দ্রব্যের মধ্যে ৪টি মাইন, ৭৯টি হাত বোমা, ৪০টি পেট্রাল বোম এবং ১৭৮টি ককটেল উদ্ধার করার মাধ্যমে বড় ধরনের নাশকতার ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানেও বিজিবির অর্জন উল্লেখযোগ্য। গত এক বছরে ১,৪৭,১৪,২৯৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১০ কেজি ৪০৮ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস, ১,৩৩,৩৯৬ বোতল ফেনসিডিল এবং ১,৩০,৫৪৬ বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ২২,১৩৭ কেজি গাঁজা, ৫৫ কেজি ৬৩৬ গ্রাম হেরোইন এবং ১৩ কেজি ৬৪৭ গ্রাম কোকেন জব্দ করা হয়। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় ১,১৪,৫৮,৬৯৩টি বিভিন্ন প্রকার ঔষধ এবং ৬,৯৪,০৮২টি নেশা জাতীয় ও উত্তেজক ইনজেকশন উদ্ধার করেছে বিজিবি।
অভিযানের অংশ হিসেবে কেবল মালামাল জব্দ নয়, বরং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতেও বিজিবি ছিল আপসহীন। মাদক পাচার ও চোরাচালানে জড়িত থাকার দায়ে ২০২৫ সালে ২,৩৩৪ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৪,২৩৮ জন বাংলাদেশী নাগরিক, ১২৪ জন ভারতীয় নাগরিক এবং ৭,৩৬৮ জন মায়ানমার নাগরিককে আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো: শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে সীমান্ত সুরক্ষায় বাহিনীর নিরবচ্ছিন্ন অঙ্গীকারের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
সরকার কারাবন্দিদের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে নতুন নীতিমালা জারি করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা-২ শাখা থেকে জারি করা এ নীতিমালায় প্যারোলে মুক্তির শর্ত, সময়সীমা ও কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা স্পষ্ট করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
সরকার কারাবন্দিদের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে নিম্নরূপভাবে নীতিমালা প্রণয়ন করলো উল্লেখ করে বলা হয়,
(ক) সাধারণ নীতিমালা:
১. (ক) ভিআইপি/অন্যান্য সব শ্রেণির কয়েদি/হাজতি বন্দিদের নিকট আত্মীয় যেমন বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি এবং আপন ভাই-বোন মারা গেলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে;
(খ) ভিআইপি/অন্যান্য সব শ্রেণির কয়েদি/হাজতি বন্দিদের নিকট আত্মীয়ের মৃত্যুর কারণ ছাড়াও কোনো আদালতের আদেশ কিংবা সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্যারোলে মুক্তির দেওয়া প্রয়োজন হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্দীকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে;
উভয়ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও দূরত্ব বিবেচনায় প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ সময় নির্ধারণ করে দেবেন।
২. সেক্ষেত্রে বন্দি সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরাধীনে রাখতে হবে।
৩. মুক্তির সময়সীমা কোনো অবস্থাতেই ১২ ঘণ্টার অধিক হবে না। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার মুক্তির সময়সীমা হ্রাস/বৃদ্ধি করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করবে।
অপরদিকে, কোনো বন্দি নিজ জেলায় অবস্থিত কোনো কেন্দ্রীয়/জেলা/বিশেষ কারাগার/সাব জেলে আটক না থেকে অন্য জেলায় অবস্থিত কোনো কেন্দ্রীয়/জেলা/বিশেষ কারাগার/সাব জেলে আটক থাকলে গন্তব্যের দূরত্ব বিবেচনা করে মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ প্যারোল মঞ্জুর করতে পারবেন। তবে উভয়ক্ষেত্রেই দুর্গম এলাকা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, দূরত্ব ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ প্যারোল মঞ্জুর কিংবা না-মঞ্জুরের ক্ষমতা সংরক্ষন করবেন।
৫. কারাগারের ফটক থেকে পুলিশ প্যারোলে মুক্ত বন্দিকে বুঝে নেবার পর অনুমোদিত সময়সীমার মধ্যেই পুনরায় কারাগারে প্রেরণ করবেন।
(খ) প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
(গ) পূর্বে জারীকৃত নীতিমালা বাতিল:
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর কারা শাখা-২ হতে গত ২২-০৯-২০০৭ খ্রি. তারিখে স্ব: ম:(কারা-২)/বিবিধ-১৬/২০০৭/৩৮৮ এবং ০৪-০৩-২০১০ খ্রি. তারিখে স্ব: ম: (কারা-২) বিবিধ-১৬/২০০৭/৭৭নম্বর স্মারকমূলে জারিকৃত নীতিমালা বাতিল করা হলো।
২। বর্ণিতাবস্থায়, বর্তমান নীতিমালাটি অনুসরণপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেশের রাজস্ব কাঠামোকে আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ এবং জনবান্ধব করতে বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর জানিয়েছে, স্বল্প সময়ের মধ্যেই রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ডিজিটালকরণ এবং করের আওতা বৃদ্ধিতে যুগান্তকারী সাফল্য অর্জিত হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় গৃহীত এসব উদ্যোগের ফলে ইতোমধ্যে রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫) এনবিআর ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ২ শত ২৯ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ হাজার ২০ কোটি টাকা বেশি।
কাঠামোগত ও নীতিগত সংস্কার
এনবিআরের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন এনে 'রাজস্ব নীতি' ও 'রাজস্ব ব্যবস্থাপনা' কার্যক্রমকে পৃথক করতে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছে। প্রশাসনিক সংস্কার সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) ইতোমধ্যে এ বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছে, যা এনবিআরের ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক। এছাড়া রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে ১০ বছর মেয়াদি একটি দীর্ঘমেয়াদী রাজস্ব কৌশল (MLTRS) গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এনবিআরের সম্পূর্ণ কার্যক্রমকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার লক্ষ্যে ‘SDRMP’ প্রকল্প শুরু হয়েছে।
কর অব্যাহতিতে স্বচ্ছতা ও আইনি আধুনিকায়ন
সরকার কর অব্যাহতির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যে রাজস্ব বোর্ডের ক্ষমতা সীমিত করে সংসদের ওপর ন্যস্ত করেছে। এখন থেকে সংসদের অনুমোদন ছাড়া কোনো কর অব্যাহতি দেয়া যাবে না। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস আইনের ‘অথেন্টিক ইংলিশ টেক্সট’ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে, যা আইনি অস্পষ্টতা দূর করবে। পাশাপাশি কর সচেতনতা বাড়াতে ও করদাতাদের পেশাদার সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন ১৩ হাজার ৫০০ জনকে ‘ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার’ (ITP) সনদ প্রদান করা হয়েছে।
ডিজিটাল পেমেন্ট ও ট্রেড ফেসিলিটেশন
আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট শুল্ক-করাদি এখন ‘A Challan’ এর মাধ্যমে সরাসরি সরকারি ট্রেজারিতে জমা দেয়ার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘বিকাশ’ এর মাধ্যমে কোনো ফি ছাড়াই কর পরিশোধের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সমস্যা সরাসরি শোনার জন্য এনবিআর প্রতি মাসে অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন করছে। সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এনবিআরে সার্বক্ষণিক ‘সিকিউরিটি অপারেশনস সেন্টার’ (SOC) স্থাপন করা হয়েছে।
জনস্বার্থে কর ছাড় ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং ধর্মীয় আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বেশ কিছু বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের হজযাত্রীদের বিমান টিকিটের ওপর আবগারী শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া মেট্রো রেলের সেবার ওপর ভ্যাট অব্যাহতি ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাল, ডাল, চিনি, ডিম, ভোজ্যতেল ও খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। এমনকি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা ৩১টি অবিক্রিত গাড়ি জনস্বার্থে সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।
ব্যাগেজ রুলস ও মোবাইল ফোনের দাম হ্রাস
যাত্রীদের সুবিধার্থে নতুন ‘ব্যাগেজ রুলস ২০২৫’ জারি করা হয়েছে। এখন থেকে সাধারণ যাত্রীরা বছরে একটি এবং প্রবাসীরা (BMET কার্ডধারী) বছরে দুটি নতুন মোবাইল ফোন শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনতে পারবেন। এছাড়া মোবাইল আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫% থেকে কমিয়ে ১০% করায় বাজারে মোবাইলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভ্যাট ও আয়কর খাতে ডিজিটালাইজেশন
ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে ‘অনলাইন রিফান্ড মডিউল’ চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে রিফান্ডের টাকা সরাসরি করদাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে যাবে। গত ডিসেম্বর মাসে বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ১ লক্ষ ৩১ হাজার নতুন প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এখন ৭ লক্ষ ৭৫ হাজারে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, আয়কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এ বছর অধিকাংশ করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৪ লক্ষাধিক ই-রিটার্ন জমা পড়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পাসপোর্টের মাধ্যমে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের বিশেষ সুবিধা চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে পাঁচ হাজারেরও বেশি প্রবাসী রিটার্ন জমা দিয়েছেন। অডিট নির্বাচন পদ্ধতিতে মানুষের হস্তক্ষেপ কমাতে সম্পূর্ণ অটোমেটেড এবং রিস্ক-বেসড অডিট সিলেকশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কাস্টমস ও বন্দর ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা
‘বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো’ (BSW) চালুর মাধ্যমে ১৯টি সংস্থার লাইসেন্স ও পারমিট এখন অনলাইনেই পাওয়া যাচ্ছে। বন্ড সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকের তথ্য সংরক্ষণে বেনাপোল বন্দরে ‘ট্রাক মুভমেন্ট’ মডিউল পাইলটিং শুরু হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার জট কমাতে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা ৬ হাজারেরও বেশি কন্টেইনার দ্রুত নিলামে বিক্রির বিশেষ আদেশ কার্যকর করা হয়েছে, যার মধ্যে ৮ শতাধিক কন্টেইনার ইতোমধ্যে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
সারগ্রাহীতায়, নীতি সংস্কার, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় রাজস্ব বৃদ্ধিতে ও আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সরকার সাধারণ ছুটির ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে নির্বাহী আদেশে এই সরকারি ছুটি কার্যকর থাকবে। এছাড়া শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুবিধার্থে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত এবং ‘অ্যালোকেশন অব বিজনেস অ্যামাং দ্য ডিফারেন্ট মিনিস্ট্রিজ অ্যান্ড ডিভিশনস’-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, সংস্থা এবং সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। মূলত নাগরিকদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সহজতর করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সারা দেশে একযোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ছুটির এই ঘোষণার ফলে সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীরা দীর্ঘ অবসরের সুযোগ পাচ্ছেন। ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটির পর ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা চার দিন ছুটি উপভোগ করবেন। অন্যদিকে, শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশেষ ছুটি শুরু হওয়ায় তাঁরা সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা পাঁচ দিন কর্মবিরতি পাবেন।
সদ্য স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী শিশুপুত্রকে হারানো বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিচারপতিদের একটি ফৌজদারি বেঞ্চ মানবিক দিক বিবেচনায় তার এই জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
আদালতে সাদ্দামের পক্ষে জামিন শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। তিনি শুনানিকালে মক্কেলের চরম পারিবারিক বিপর্যয়ের বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন। পরে আইনজীবী নিশ্চিত করেন যে, আদালত সার্বিক পরিস্থিতি ও মানবিক বিপর্যয় বিবেচনা করে সাদ্দামকে এই জামিন প্রদান করেছেন।
জুয়েল হাসান সাদ্দাম গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হন এবং এরপর থেকে একাধিক মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার বেখেডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের নিজ বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুরভানা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ এবং পাশেই তাদের ৯ মাস বয়সী শিশুপুত্র নাজিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ ও পরিবারের ধারণা, স্বামী কারাগারে থাকায় সৃষ্ট বিষণ্নতা ও মানসিক চাপ থেকে সন্তানকে হত্যার পর স্বর্ণালী আত্মহত্যা করেছেন।
পারিবারিক এই ট্র্যাজেডির পর গত ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হয় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকা। আইনি জটিলতায় প্যারোল না পাওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সে করে মৃত স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ কারাগারের গেটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য প্রিয়জনদের মুখ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান বন্দি সাদ্দাম। প্যারোল না দেওয়ায় এবং এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে তাকে মুক্তি না দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। অবশেষে হাইকোর্টের আদেশে তিনি সাময়িক মুক্তি পেতে যাচ্ছেন।
উত্তরাঞ্চলের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জন্য আধুনিক ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নীলফামারীতে নির্মিত হতে যাচ্ছে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল’। রোববার অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সভাপতিত্বকালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই মেগা প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা এই উদ্যোগকে কেবল একটি হাসপাতাল নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার স্বাস্থ্যসেবায় একটি কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক চিকিৎসা কেন্দ্র বা ‘রিজিওনাল হাব’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে গৃহীত এই প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৫৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১৭৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং বাকি অংশের বিশাল অর্থায়ন আসবে চীনা সরকারের অনুদান সহায়তা হিসেবে। উল্লেখ্য, গত বছরের মার্চে চীন সফরকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছে বাংলাদেশে একটি বিশ্বমানের হাসপাতাল স্থাপনের ব্যক্তিগত অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বেইজিং দ্রুততার সঙ্গে এই প্রকল্প গ্রহণে সম্মতি জানায়।
প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী, নীলফামারী সদর উপজেলায় একটি অত্যাধুনিক ১০ তলা মূল হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হবে। রোগীদের সুবিধার্থে সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি এখানে নেফ্রোলজি, কার্ডিওলজি, অনকোলজি, নিউরোলজি, অর্থোপেডিকস এবং বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারির মতো জটিল রোগের বিশেষায়িত চিকিৎসা বিভাগ থাকবে। এছাড়া আইসিইউ, সিসিইউ, এইচডিইউ, আধুনিক অপারেশন থিয়েটার এবং উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে, যা বর্তমানে ওই অঞ্চলের জেলা হাসপাতালগুলোতে অনুপস্থিত। অবকাঠামোগত সুবিধার মধ্যে আরও থাকছে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পৃথক ডরমেটরি, ১০ তলা বিশিষ্ট ডক্টরস কোয়ার্টার, ডিরেক্টরস বাংলো এবং কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবন।
একনেক সভায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ঢাকা ও রংপুর কেন্দ্রিক হাসপাতালের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ এখন সময়ের দাবি। নীলফামারীর এই হাসপাতাল সেই লক্ষ্য অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শুধু বাংলাদেশের রোগীরাই নয়, বরং নেপাল ও ভুটানসহ পার্শ্ববর্তী দেশের রোগীরাও এখানে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এর ফলে আঞ্চলিক পর্যায়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হবে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে মৈত্রী আরও সুদৃঢ় হবে।
বর্তমানে নীলফামারী ও আশপাশের জেলায় প্রায় ২১ লক্ষ মানুষের বসবাস, অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শয্যা ও বিশেষজ্ঞ সেবার তীব্র সংকট রয়েছে। গুরুতর রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল বা ঢাকায় স্থানান্তর করতে হয়, যা দরিদ্র মানুষের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। এই হাসপাতালটি চালু হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ ভ্রমণজনিত ভোগান্তি ও চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। পাশাপাশি, হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গরূপে চালু হলে রাজস্ব খাতে প্রায় ৮৯৩ জন চিকিৎসক, ১,১৯৭ জন নার্স এবং ১,৪১০ জন অন্যান্য জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করার পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ কে সামনে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকা সেনানিবাসের সেনাসদরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে এই বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান উপদেষ্টা আসন্ন নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, শঙ্কামুক্ত ও সকলের জন্য অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
সোমবার সকালে প্রধান উপদেষ্টা সেনাসদরে পৌঁছালে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জেনারেল এস এম কামরুল হাসান। সভার শুরুতেই ড. ইউনূস দেশের ক্রান্তিলগ্নে এবং দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্য ও সাহসিকতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাহিনীর সদস্যদের ত্যাগের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে নির্বাচনকেন্দ্রিক বিবিধ চ্যালেঞ্জ, নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে ভোটের মাঠে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ নির্বিঘ্ন রাখতে বাহিনীর সদস্যদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান। মতবিনিময় সভায় তিন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অন্যান্য অতিথিবৃন্দ ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতাকে আইনি সুরক্ষা ও দায়মুক্তি প্রদান করে একটি বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ শীর্ষক এই অধ্যাদেশের গেজেট রবিবার রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছিল। নতুন এই আইনের ফলে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব ধরনের দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা ও অভিযোগ প্রত্যাহার করা হবে এবং ভবিষ্যতেও এ সংক্রান্ত কোনো মামলা তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা যাবে না।
অধ্যাদেশটিতে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছাত্র-জনতা এক সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিল। সেই সময়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে চলা নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ করতে এবং জনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আন্দোলনকারীদের আত্মরক্ষাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা অনিবার্য হয়ে পড়েছিল। সংবিধানের ৪৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই প্রতিরোধ সংগ্রামে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, যদি কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের সময়কার কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য মামলা বা অভিযোগ দায়ের হয়ে থাকে, তবে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারনিযুক্ত আইনজীবীর প্রত্যয়ন সাপেক্ষে তা প্রত্যাহারের আবেদন করা হবে। আদালতে এই আবেদন দাখিল করার পর সংশ্লিষ্ট মামলা বা কার্যধারা সম্পর্কে আর কোনো কার্যক্রম চালানো হবে না। মামলাটি প্রত্যাহার হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি অবিলম্বে দায়মুক্তি বা খালাস পাবেন।
তবে গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কোনো হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে তার জন্য বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এমন অভিযোগ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দায়ের করতে হবে এবং কমিশনই তা তদন্তের ব্যবস্থা করবে। তদন্তের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে বলা হয়েছে যে, যদি হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি পুলিশ বা অন্য কোনো বাহিনীর সদস্য হন, তবে সেই বাহিনীর বর্তমান বা প্রাক্তন কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। এছাড়া তদন্ত চলাকালে কাউকে গ্রেপ্তার করতে হলে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখিয়ে কমিশনের পূর্বানুমোদন নিতে হবে।
মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপরাধমূলক অপব্যবহার করেছেন, তবে কমিশন আদালতে প্রতিবেদন দেবে এবং আদালত সেটিকে পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করবে। অন্যদিকে, যদি দেখা যায় যে অভিযুক্তের কাজ রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, তবে কমিশন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারকে আদেশ দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে কোনো মামলা বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না।
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পোস্টাল ব্যালট পেপার প্রবাস থেকে আসা শুরুর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিস তা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতি আসনে ৪০০ পোস্টাল ব্যালটের জন্য একটি করে বাক্স রাখা হচ্ছে। এবার ৩০০ আসনে প্রবাসে ও দেশে ১৫ লাখেরও বেশি পোস্টাল ভোটিংয়ে নিবন্ধন করেছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন বিকালে সাড়ে চারটার মধ্যে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যাদের ব্যালট পেপার পৌঁছবে তাদের ব্যালট গণনা করা হবে।
রোববার ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৫ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পোস্টাল ব্যালটের স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স লক করেছেন ও তা গ্রহণের জন্য কক্ষ নির্ধারণ করেছেন।
রিটার্নিং অফিসার ইউনুচ আলী নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ব্যালট বাক্স লক করার পর সাংবাদিকদের বলেন, ওসিভি ও আইসিপিভি-ভোটের ব্যবস্থা হয়েছে এবার। পোস্টাল ব্যালটে যারা ভোট দেবেন তাদের ব্যালট পেপার রাখার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। এ ভোটকক্ষে ঢাকা-১৩ আসনের জন্য ২৪টি ব্যালট বাক্স রয়েছে।
ঢাকা-১৩ আসনে পোস্টাল ব্যালটের নিবন্ধিত রয়েছে পাঁচ হাজার ৬১৭ জন, আর ঢাকা-১৫ আসনে সাত হাজার ৪০৫ জন।
ইউনুচ আলী বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি; তাদের উপস্থিতিতে বাক্স বন্ধ করাসহ সার্বিক কার্যক্রম করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি সবশেষ ডাক বিভাগের ডাক আসবে। নিয়ম অনুযায়ী বারকোড মেশিন দিয়ে, কিউ আর কোড স্ক্যান করে যথাযথভাবে ল্যাপটপে ডিজিটালি সেভ করা হবে ও ব্যালটের খামটি বাক্সে রাখা হবে।
ইউনুচ আলী জানান, কোন ব্যালট বাক্স, লক নম্বরসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিটি কক্ষে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তায় থাকবে। সাড়ে চারটার মধ্যে যেসব ব্যালট আসবে তা বাক্সে রাখা হবে। এরপর এলে তা বাক্সে রাখা হবে না, আলাদাভাবে থাকবে।
দায়িত্বশীল কর্মকর্তা অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল হাসান বলেন, প্রতিনিয়ত ডাক বিভাগ থেকে যেসব পোস্টাল ব্যালট আসবে, তা স্ক্যান করে, চেক করে রেজিস্ট্র এন্ট্রির করে বাক্সে রাখা হবে। ভোটগণনার সময় বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থেকে সব কিছু মিলিয়ে নেবেন; তারপর গণনা করা হবে।
সরবরাহকেন্দ্রিক জটিলতা না থাকলে আসন্ন রমজানে পণ্যমূল্য আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশিরউদ্দিন। তিনি বলেছেন, গত বছরের তুলনায় এবার রমজানে বাজার আরও স্থিতিশীল থাকবে। উৎপাদন, আমদানি, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেটা বিশ্লেষণ করে সামগ্রিক বিবেচনায় এমনটিই মনে হয়েছে। রোববার বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ে টাস্কফোর্সের সভা শেষে এ কথা বলেন তিনি।
প্রতিবার রোজার আগে নানা অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়, এবারও এরকম কোনো আশঙ্কা আছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে এই মুহূর্তে গ্যাসের সংকট নেই, ডলারের সংকট নেই। বিনিময় হারও স্থিতিশীল। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আমরা ভোজ্যতেলকে বৈচিত্র্যময় করেছি।
এর আওতায় বাজারে প্রায় ৫ লক্ষ টন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত রাইস ব্র্যান তেল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতা আসার ফলে সরকার কর্তৃক স্বীকৃত মূল্যের চেয়েও বাজারে তেলের পাইকারি দাম কম। আমরা আশা করি, বাজারে যত প্রতিযোগিতা বাড়বে, আমরা এই ইনক্লুসিভ পলিসি নেয়ার ফলে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতেই বাজারমূল্য স্থির হবে।
টাস্কফোর্স ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উনারা আমাদের বিশেষ কোনো চ্যালেঞ্জ জানাননি। ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরাও বলছেন বাজারমূল্য স্থিতিশীল। সরবরাহকেন্দ্রিক কোনো জটিলতা যদি না থাকে, তাহলে আশা করা যায় রমজানে পণমূল্য আরও কমবে, ইনশাআল্লাহ।
পদ্মা সেতু নিয়ে উপদেষ্টার মন্তব্য নিয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ২০০৮ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায়িত হওয়ার সময় দেনা ছিল ২ লাখ কোটি টাকা। এ বছর সেটি ২৩ লাখ কোটি টাকার উপরে চলে গেছে। এই সামগ্রিক দায়ের ফলে টাকার মূল্যমান কমেছে ৪৬ ভাগ।
তিনি বলেন, ঋণভিত্তিক যে ব্যয়গুলো করা হয়েছে, সেটি আয় তৈরি করতে পারেনি। এর ফলে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি দায় তৈরি হয়েছে। যে কারণে আইএমএফের কাছ থেকেও ঋণ নিতে হয়েছে।
বশিরউদ্দিন বলেন, শুধু পদ্মা সেতু নয়; কর্ণফুলী টানেল, পদ্মা রেল সেতু, পায়রা বন্দরের মতো বিভিন্ন ধরনের যে অযাচিত ও অপরিণামদর্শী ব্যয় করা হয়েছে, তার সামগ্রিক প্রতিফলন এসেছে নিত্যপণ্যের বাজারে। পদ্মা রেল সেতুতে প্রাক্কলন ছিল ১৪শ কোটি টাকা টোল উঠবে, কিন্তু আসছে মাত্র ২৬ কোটি টাকা। বলা হয়েছিল, পদ্মা সেতু হলে জিডিপি ২ শতাংশ কমে আসবে, কিন্তু উল্টো জিডিপি কমছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, সাংবাদিকদের ওনার অ্যাসোসিয়েশন নোয়াব (নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) অনেক বড় বড় কথা বলে, একটা সাংবাদিকদের ইকুইপমেন্ট তারা দেয় না। জুলাই অভ্যুত্থানে যে ছয়জন সাংবাদিক মারা গেছেন, তাদের সঙ্গে সুরক্ষা সামগ্রী হিসেবে সামান্য হেলমেটও ছিল না।
রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ডিআরইউ এবং গণমাধ্যম ও যোগাযোগ উন্নয়ন সংগঠন সমষ্টি, ইউনেস্কো গ্লোবাল মিডিয়া ডিফেন্স ফান্ডের সহায়তায় ‘সাংবাদিক সহায়তা ডেস্ক হস্তান্তর অনুষ্ঠান’ শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, কয়েকদিন আগে তারা অনেক বড় সম্মেলন করলেন, সাংবাদিকদের কোনো ইকুইপমেন্ট কথা বলেছেন কেউ? এডিটর কাউন্সিল (সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ) অনেক বড় বড় কথা বলে, এ বিষয়গুলো নিয়ে কোনো কথা বলেছে? আমার জানা নেই। কতজন সাংবাদিক মারা গেল0, সেটা নিয়েও একটা স্টেটমেন্ট দিয়েছে? আমি দেখিনি।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, যারা আপনার প্রতিষ্ঠানের মালিক, যারা অ্যাসাইনমেন্ট কাভার করতে পাঠাচ্ছে, তাদের অনেক দায়িত্ব আছে। সে দায়িত্ব তারা কতটুকু পালন করছে সেই বিষয়ে আপনারা সোচ্চার হবেন।
শফিকুল আলম আরও বলেন, সাংবাদিকরা অনেক ক্ষেত্রে সরকারের অনেক বেশি সমালোচনা করে। কিন্তু এতে যারা প্রকৃত দায়ী তাদের কথা ভুলে যায়। অন্যদের ব্যর্থতার কথাও বলা উচিত।
তিনি আরও বলেন, আমরা সাংবাদিকদের মধ্যে সার্বজনীন ঐক্যের কথা বলি। তবে সেটা শুধু সুবিধাবাদীদের জন্য হোক সেটা কাম্য নয়। সবার মধ্যে সেটা দরকার। একটি গ্রুপ নিজেরা ঐক্য তৈরি করবে, কিন্তু অন্য গ্রুপের এডিটরকে টেনে-হেঁচড়ে আনবে, কিন্তু তখন কিছু বলব না, সেটা হবে না।
প্রেস সচিব বলেন, এই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমরা চেষ্টা করেছি আপনারা কতটা প্রাণ খুলে ফ্রি জার্নালিজম করেছেন, সেটা চিন্তা করুন। এ সময় আপনারা ফ্রি ভাবে সমালোচনা করতে পেরেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে সাংবাদিকতার কোনো গাইডবুক নেই। কোনো সেন্সিটিভ বিষয়ে যে ঝুঁকি, সেটি কীভাবে মোকাবিলা হবে; সেটা বলা হয় না।
অনুষ্ঠানে ইউনেস্কো বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান ও বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুসান ভাইজ সভাপতিত্ব করেন। ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলসহ অনুষ্ঠানে সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, সাংবাদিক সংগঠনের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা, আইনগত সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার প্রতিনিধি, গণমাধ্যম পেশাজীবী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক কঙ্গোতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত এভিয়েশন ট্রান্সপোর্ট ইউনিট কন্টিনজেন্টের নিয়মিত প্রতিস্থাপন কার্যক্রম শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে মোট ৬২ জন শান্তিরক্ষী সদস্য নতুন কন্টিনজেন্ট হিসেবে কঙ্গোতে মোতায়েন হচ্ছেন।
প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে বিমান বাহিনীর ৩৫ জন সদস্য জাতিসংঘের ভাড়া করা ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে রোববার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কঙ্গোর উদ্দেশে যাত্রা করেছেন। অবশিষ্ট ২৭ জন সদস্য একই এয়ারলাইন্সের ভাড়া করা বিমানে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি কঙ্গোর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন।
রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এই কন্টিনজেন্টের নেতৃত্বে থাকবেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ সেলিম জাভেদ। উল্লেখ্য, কঙ্গোতে বিবদমান সংঘাত নিরসনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষতা, পেশাদারিত্ব এবং আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সে দেশের সরকার ও আপামর জনসাধারণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের অর্জিত এ সুনাম ও সাফল্য অক্ষুণ্ন রেখে শান্তিরক্ষীরা ভবিষ্যৎ দিনগুলোতে যেন আরও উৎকর্ষতা অর্জন করতে পারেন, এ কামনা করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এক মোনাজাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আইএসপিআর আরও জানায়, সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (পরিচালন) এয়ার ভাইস মার্শাল জাভেদ তানভীর খান ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিমান বন্দরে উপস্থিত থেকে তাদেরকে বিদায় জানান।
উল্লেখ্য, গত ২০ জানুয়ারি বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন কঙ্গোগামী এভিয়েশন ট্রান্সপোর্ট ইউনিট-১৫ কন্টিনজেন্ট সদস্যদের উদ্দেশে বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে ব্রিফিং করেন এবং মিশনের সাফল্য কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। এসময় তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তাদেরকে শৃঙ্খলা, সততা, পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তথা দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনার আহ্বান জানান।