বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
২০ কার্তিক ১৪৩৩

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার শুভেচ্ছা বিনিময়

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত
ইউএনবি
প্রকাশিত
ইউএনবি
প্রকাশিত : ১২ অক্টোবর, ২০২৪ ১৮:৩২

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পুরান ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

এ সময় দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে শুভেচ্ছা জানান তিনি।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক বাণীতে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব নয়। এটি এখন সবার উৎসবে পরিণত হয়েছে। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের পূজা এ উৎসবের প্রধান বৈশিষ্ট্য।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘দেশের সংবিধানে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এই দেশ আমাদের সবার। এই দেশ জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার নিরাপদ আবাসস্থল।’

বাংলাদেশের সব নাগরিকের অশান্তি, মঙ্গল ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তিনি।

দুর্গাপূজায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়টিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আন্তরিকভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

মিরপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়া গেলে নিরীহ পথচারী ও সাধারণ শ্রমিকদের তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি প্রশাসনিক হয়রানির শিকার না হন

তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিহত ও সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার মিরপুরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. মহিদুল ইসলাম।

তিনি জানান, মিরপুর-১, পল্লবী, রূপনগর, মিরপুর-১২ এবং কাফরুল সড়কসহ সংলগ্ন এলাকার স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে জেলা ও মহানগর পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যকার এই নিবিড় সমন্বয়ের ফলে জনদুর্ভোগ ও বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে সড়ক অবরোধ, সরকারি-বেসরকারি যানবাহনে ভাঙচুর এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে চিহ্নিত নাশকতাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নেওয়া হচ্ছে। তবে আটক ব্যক্তিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়া গেলে নিরীহ পথচারী ও সাধারণ শ্রমিকদের তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি প্রশাসনিক হয়রানির শিকার না হন।

মিরপুরের বিদ্যমান পরিবেশ নিয়ে মহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, বুধবার শ্রমিকেরা সড়কে নেমে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ পাননি এবং এলাকার সার্বিক অবস্থা পুরোপুরি শান্ত রয়েছে। বিভিন্ন কারখানায় পুরোদমে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং শ্রমিকেরা স্বস্তিতে কাজে যোগ দিচ্ছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনায় ইতিমধ্যে সরকার আনুষ্ঠানিক মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ফলে প্রকৃত উৎপাদনমুখী শ্রমিকেরা কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারেন না; বরং দেশের পোশাক খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে এবং রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে একটি চক্রান্তকারী মহল পেছন থেকে উসকানি দিচ্ছে। জনগণের জানমাল ও জাতীয় সম্পদ রক্ষায় পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং কোনো ধরনের নাশকতা বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।


নির্বাচিত

ডিসেম্বর থেকে পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি কার্যকর

ডিসেম্বরের মধ্যে নির্ধারণ হবে ন্যূনতম মজুরি, জানুয়ারিতে বেতন পাবেন শ্রমিকরা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১৪:১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

তৈরি পোশাক খাতের কর্মীদের জন্য নতুন ন্যূনতম বেতন কাঠামো কার্যকরের বিষয়ে একমত হয়েছেন মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বর থেকেই এটি কার্যকর ধরা হবে। তবে বর্ধিত এই মজুরি শ্রমিকরা হাতে পাবেন পরবর্তী বছরের জানুয়ারি মাসে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ নিম্নতম মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রথম আনুষ্ঠানিক সভায় মজুরি বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়ে উভয় পক্ষ এই সমঝোতায় পৌঁছায়। পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল।

বৈঠক শেষে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আক্তার বলেন, "নতুন মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে এবং শ্রমিকরা জানুয়ারি থেকে তা পাবেন।"

একই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এ বি এম শামসুদ্দিন জানান, "নতুন মজুরি কাঠামো ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা হবে এবং আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে শ্রমিকরা নতুন হারে বেতন পাবেন।"


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা, পদ হারালেন সরকারি কর্মকর্তা

‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের সঙ্গে হাদিসের তুলনা করে পদ হারালেন সরকারি কর্মকর্তা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর একটি রাজনৈতিক স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা করে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়া ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মসিউর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব জেতী প্রু। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে গত ১ নভেম্বর রাজধানীতে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ উদ্যোগের অধীনে ছয়টি রুটে পরীক্ষামূলক বাস সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি ওই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের সঙ্গে হাদিসের তুলনা টানেন।

অনুষ্ঠানে মসিউর রহমান নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে হাদিস অভিহিত করলে অনেকে ভাবতে পারেন তিনি পরবর্তী কোনো ভালো পদায়নের জন্য তেল মারছেন; তবে তাঁর কাছে এটি চিরন্তন সত্য। তিনি আরও বলেন, ‘আমার আগে আমরা, সবার আগে দেশ—এ কথা কে অস্বীকার করতে পারবেন? স্বার্থপর, যার দেশপ্রেম নেই, সেই বলতে পারে, না, আমি মানি না। আমাকে বাদ দিয়ে আমরা সবাই মিলে থাকব, আর সবার আগে থাকবে দেশ। তারপরে “করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এটা হাদিস, হাদিস। এটা শাশ্বত বাণী।’

বক্তব্যের একপর্যায়ে মসিউর রহমান আরও বলেন, ‘এটা হুজুররা বললে হাদিস হয়ে যেত। তো ওনার মুখে দাড়ি নেই, টুপি পরেন না, এজন্য হাদিস হয়নি! এটা হাদিস।’ ধর্মীয় বাণীর সঙ্গে দলীয় স্লোগানের এমন তুলনামূলক বক্তব্যের ভিডিও মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে নানা মহলে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার পরই সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে ডিটিসিএর দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার সিদ্ধান্ত এলো।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিকমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং

দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত অংশীদারত্ব সুদৃঢ় করা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও চীন। বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাক্ষাৎকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন লিউ হাইশিং। জবাবে প্রধানমন্ত্রীও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী (প্রিমিয়ার) লি ছিয়াংয়ের প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ জ্ঞাপন করেন। সিপিসির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বেইজিং সফরের ধারাবাহিকতায় দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হয়েছে। বাংলাদেশের সার্বিক অগ্রগতি ও অর্থনৈতিক রূপান্তরে চীনের দৃঢ় সমর্থন ভবিষ্যতেও অপরিবর্তিত থাকবে জানিয়ে তিনি বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে জাতীয় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার ওপর গভীর আস্থা প্রকাশ করেন।

দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই বাংলাদেশ ও চীনের সুদৃঢ় বন্ধুত্বের মূল ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল, যা কালক্রমে দুই দেশের জনগণের অন্তরে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। এই ঐতিহ্যবাহী দ্বিপক্ষীয় সেতুবন্ধনকে ধারণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তা আরও ফলপ্রসূ করে তোলা বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়ার চীন সফরের অনুপ্রেরণায় সে সময় কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে ঐতিহাসিক খাল খনন বিপ্লব শুরু হয়েছিল। সেই দর্শনের আলোকেই বর্তমান সরকার কৃষি উন্নয়ন এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার স্বার্থে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের যুগান্তকারী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

বৈঠকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি এবং বিএনপির মধ্যকার দলীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর উভয় পক্ষ বিশেষ গুরুত্ব দেয়। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে বেইজিং সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান লিউ হাইশিং। এ ছাড়া বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়ন এবং এশিয়ার বৃহৎ বাণিজ্যজোট রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার বিষয়ে চীনের স্পষ্ট নীতিগত সমর্থনের কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রিত প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর কারণে জাতীয় অর্থনীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও পরিবেশের ওপর নেমে আসা তীব্র সংকটের কথা তুলে ধরে বেইজিংয়ের কূটনৈতিক সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর জবাবে রোহিঙ্গা ইস্যুর সংবেদনশীলতার কথা স্বীকার করে বিষয়টি সরাসরি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের গোচরে আনার প্রতিশ্রুতি দেন চীনা মন্ত্রী।

উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে চীনা প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন ও সিপিসির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


নির্বাচিত

নিরাপদ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রবৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিরাপদ সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহারে জোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সার্বিক জাতীয় সুরক্ষার ভিত সুদৃঢ় রাখার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, "আধুনিক, সমন্বিত ও প্রযুক্তিভিত্তিক নিরাপদ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।" বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের মেঘনা হলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন ও বর্ডার গভর্নেন্স সংক্রান্ত আইওএম কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭-২০৩১)’ শীর্ষক ব্রিফিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের কার্যকর উপস্থিতির প্রেক্ষাপট টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশ আজ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বহির্বিশ্বের সাথে যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংযুক্ত। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজতর করার পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রমকারী ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।" তিনি আরও বলেন, "সীমান্ত পরিচালনায় জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ ভ্রমণ ও বাণিজ্যকে গতিশীল করতে হবে।" এ ক্ষেত্রে সরকারের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরে 'জাতীয় সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল ২০২৬–২০৩১' এবং 'পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখা ২০২৬–২০৩১'-এর বিষয় উল্লেখ করে তিনি জানান, "ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সরকারি সেবাগুলোর মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা বৃদ্ধিই বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার।"

ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ভূমিকার কথা স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "নীতি ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে আমাদের বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলোর কার্যক্রমগত সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করতে হবে।" তিনি স্পষ্ট করেন যে আধুনিকায়নের পাশাপাশি সীমান্ত প্রক্রিয়াকে মানবাধিকারের প্রতি সংবেদনশীল ও আন্তর্জাতিক পেশাদার মানে উন্নীত করতে হবে। একই সাথে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ ও মানবপাচার প্রতিরোধের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, "সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কোনো একক সংস্থার দায়িত্ব নয়। এর জন্য সকল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ প্রয়াস প্রয়োজন।" আইওএম-এর নতুন রূপরেখাকে স্বাগত জানিয়ে উন্নয়ন অংশীদারদের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধির অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, "আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কেবল বাংলাদেশের সীমান্তকেই সুরক্ষিত করবে না, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপদ বিশ্বায়নে বড় অবদান রাখবে।"

ব্রিফিং অনুষ্ঠানে আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে বলেন, “অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ভ্রমণের ধরন ও কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা পরিবর্তিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থা, দক্ষ জনবল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও ভালো সমন্বয়ের প্রয়োজন বাড়বে। কারিগরি দক্ষতা ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে আইওএম সহযোগিতা করতে আগ্রহী।” অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান ও উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেনসহ বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং এবং ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সরকারের জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ মেয়াদের কৌশলগত রূপরেখার সাথে সংগতি রেখে তৈরি এই আন্তর্জাতিক নীতিতে চারটি মৌলিক ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে সমন্বিত সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা গড়ে তোলা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংস্থাগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নির্দিষ্ট চেকপোস্টসমূহের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও সেবা নিশ্চিত করা।


নির্বাচিত

পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা চলছে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

তৈরি পোশাক শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবি ও চলমান অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণে গঠিত বোর্ডের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সভাকক্ষে এই প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন বোর্ডের চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা জজ শেখ আশফাকুর রহমান।

বোর্ডের শিল্প শাখার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদ্যমান শ্রম আইন অনুযায়ী তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য একটি যৌক্তিক নিম্নতম মজুরি হারের সুপারিশ প্রস্তুত করতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। শ্রম আইনের ১৩৯ ধারার বিধানমতে মালিক কিংবা শ্রমিকপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কোনো শিল্পের জন্য মজুরি নির্ধারণের উদ্যোগ নিতে পারে। সম্প্রতি সংশোধিত শ্রম আইনে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে।

এর আগে বেতন সমন্বয়ের দাবিতে পোশাক খাতে শ্রমিকদের অসন্তোষ তীব্র রূপ নিলে গত ১ নভেম্বর সরকার মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে এবং এই খাতের জন্য পৃথক বোর্ড গঠন করে। পুনর্গঠিত এই বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক এবিএম সামছুদ্দিন এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।

এদিকে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই রাজপথে সরব রয়েছেন পোশাকশ্রমিকেরা। বুধবারও রাজধানী ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।


নির্বাচিত

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ স্মারক ডাক টিকেট উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ স্মারক ডাক টিকেট উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
    সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ স্মারক ডাক টিকেট উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ স্মারক ডাক টিকেট উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে প্রধানমন্ত্রী এই স্মারক ডাক টিকেট উন্মোচন করেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।

তিনি বলেন, ‘ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাক টিকেট ও একটি উদ্বোধনী খাম উন্মোচন করেন।’

এ সময়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, সচিব মো. কামরুজ্জামান ও ডাক অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও প্রধানমন্ত্রীর সহকারি একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে চীনা আন্তর্জাতিক বিষয়কমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    বাংলাদেশ সফররত চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিষয়কমন্ত্রী লিউ হাই সিং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন

বাংলাদেশ সফররত চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিষয়কমন্ত্রী লিউ হাই সিং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। বুধবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়াউর রহমানের মাজারে গিয়ে তিনি এ আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সমাধিবেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে শহীদ জিয়ার স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন চীনা মন্ত্রী। পরবর্তীতে প্রতিনিধিদলটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানায়। শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সমাধি প্রাঙ্গণে রক্ষিত পরিদর্শন বইয়ে নিজের মন্তব্য লিখে স্বাক্ষর করেন লিউ হাই সিং।

সমাধি পরিদর্শনকালে চীনা প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন ইতিবাচক দিক স্মরণ করেন। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন এবং যুগ্ম মহাসচিব ও মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।


নির্বাচিত

৭ নভেম্বর থেকে ঢাকা-দাম্মাম রুটে বিমানের ফ্লাইট চালু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবে সাম্প্রতিক বিমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

আগামী ৭ নভেম্বর থেকে ঢাকা-দাম্মাম-ঢাকা রুটে বিমানের নিয়মিত ফ্লাইট পুনরায় চালু হবে। তবে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন দিনের বেলায় এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

অন্যদিকে, ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেলস সেন্টারে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

বাংলাদেশে হাইব্রিড গাড়ি সংযোজন কারখানা স্থাপনে আগ্রহী টয়োটা

ছবি: হাইব্রিড গাড়ি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব হাইব্রিড গাড়ি সংযোজন কারখানা স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে জাপানের শীর্ষস্থানীয় মোটরযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা। এ উদ্যোগটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের অটোমোবাইল শিল্পে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহ জোরদার হওয়ার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির স্থানান্তর এবং স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

প্রস্তাবিত এ শিল্পায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামে দুটি অত্যাধুনিক ‘থ্রি-এস’ (বিক্রয়, বিক্রয়োত্তর সেবা ও যন্ত্রাংশ) কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রায় ৪ কোটি মার্কিন ডলারের মূলধন বিনিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। চলতি নভেম্বর মাসেই কেন্দ্র দুটির অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ইনভেস্ট বাংলাদেশ সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রগুলো থেকে গাড়ি বিপণন ছাড়াও সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিক মেরামত ও বিশ্বমানের আসল যন্ত্রাংশ সরবরাহের সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করা হবে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমেই দেশের বাজারে টয়োটার সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতির সূচনা ঘটবে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত সুবিধা ও পৃষ্ঠপোষকতা বজায় থাকলে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি হাইব্রিড গাড়ি সংযোজনের চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করবে, যেখানে সার্বিক সহায়তা দেবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।

টয়োটার এই সম্প্রসারণ পরিকল্পনাকে স্থানীয় ভোক্তা ও বাণিজ্যিক মহল অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসির সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আবু ইউসুফ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসকে জানান, স্থানীয়ভাবে সংযোজন প্রক্রিয়া চালু করা গেলে উচ্চ আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পাবে। এর ফলে সাধারণ ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক হাইব্রিড গাড়ি ক্রয়ের সুযোগ পাবেন এবং নির্ভরযোগ্য আসল যন্ত্রাংশ ও দক্ষ বিক্রয়োত্তর সেবা সহজলভ্য হবে, যা বাজারে ব্র্যান্ডটির প্রতি আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

দেশের শিল্প খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ও এসএমএইচ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, টয়োটার এই বিনিয়োগ স্থানীয় খুচরা যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক, সহযোগী ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তিগত জনশক্তির জন্য অবারিত সুযোগ তৈরি করবে। স্থানীয় মেধা ও দক্ষতার বিকাশ ঘটিয়ে এ উদ্যোগটি দেশের মাটিতে একটি আধুনিক অটোমোবাইল শিল্পের ভিত্তি স্থাপন করবে এবং অন্যান্য বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানকেও এ দেশে আসতে উদ্বুদ্ধ করবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, উৎপাদিত গাড়ি অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির উপযোগী করে তুলতে পারলে বাংলাদেশ একটি আঞ্চলিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে সক্ষম হবে। তবে এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে টেকসই নীতিসহায়তা, আকর্ষণীয় শুল্ক ও কর প্রণোদনা এবং সহায়ক পশ্চাৎপদ শিল্পের দ্রুত বিকাশ নিশ্চিত করা জরুরি, যা বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে দেশের অবস্থানকে মর্যাদাপূর্ণ করে তুলবে।


নির্বাচিত

দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু-পদ্মা ব্যারেজের পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

* কুইক রেন্টালের নামে লুটপাটের পরিবর্তে সাশ্রয়ী উপায়ে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘স্ফুরণ: টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনের খোঁজে ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন প্রদর্শনীর স্টল পরিদর্শন করেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান।

তিনি জানান, বৈঠকে জানানো হয়, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর সেতু দুটির অবস্থান, নকশা ও প্রকল্প ব্যয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৈঠকে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে ওয়াই-আকৃতির সংযোগ ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া দ্বিতীয় যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

এছাড়া বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নদীর প্রবাহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ব্যারেজের মাধ্যমে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এছাড়াও বৈঠকে প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন, জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ও উঠে আসে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব।

এর আগে সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কুইক রেন্টালের নামে লুটপাটের পরিবর্তে অবশ্যই সাশ্রয়ী পন্থায় বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব। দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে জনগণের ভোগান্তি সম্পর্কে সরকার সচেতন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। এবারের এক্সপোর প্রতিপাদ্য ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’। বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) যৌথভাবে এ আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতিতে জনগণের ভোগান্তি সম্পর্কে সরকার সচেতন। সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় ও চুক্তি পর্যালোচনা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান এবং জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে কাজ চলছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ খাতের উদ্যোক্তাদের সহায়তায় প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চলতি বাজেটে স্টার্টআপ খাতে বছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যাতে অর্থের অভাবে তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ হারিয়ে না যায়।

তারেক রহমান বলেন, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরেও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিজেলের মজুদ বাড়ানো, কয়লার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জ্বালানি তেল সংগ্রহে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন সহজ করতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য কর ও শুল্ক সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে। নেট মিটারিংয়ের আওতায় নিজস্ব ব্যবহারের পর জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রণোদনাসহ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনার ব্যবস্থা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি নিজেও বাসায় সৌর প্যানেল স্থাপন করেছেন এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছেন। সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়ির ছাদ ব্যবহারের পাশাপাশি বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প পর্যায়ক্রমে সৌরচালিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে এবং জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে।

তিনি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। উন্নয়ন সহযোগী ও প্রবাসীদেরও এ খাতে বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহারে জনগণকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘স্ফুরণ: টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনের খোঁজে ২০২৬’ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

শ্রমিক আন্দোলনে ফের সংঘর্ষ-অবরোধ

* ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট, ভোগান্তিতে লাখো মানুষ * ৩০৬ কারখানা বন্ধ, ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৩ শ্রমিকের কাজ ব্যাহত * শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে ৯ পুলিশসহ আহত ৪৫ * মেট্রোরেলেও বিঘ্ন, মিরপুরে পুলিশ সদস্যকে মারধর * গাজীপুর-নারায়ণগঞ্জে ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সকাল থেকে সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। কোথাও বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে, কোথাও বিকল্প পথে যান চলাচলের চাপে সৃষ্টি হয়েছে বাড়তি জট। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পেরে অনেকেই বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে গেছেন। অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষকে পোহাতে হয়েছে চরম দুর্ভোগ। যানজটে আটকে পড়েছে রোগী বহনকারী যানবাহনও। দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময় সড়কে নষ্ট হওয়ায় অনেকের কর্মঘণ্টা কমেছে, ব্যাহত হয়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে চলমান আন্দোলন মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) চতুর্থ দিনে গড়ানোর পর এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়। রাজধানীর মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন। কোথাও কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে, কোথাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করতে হয়।

এদিকে, আন্দোলনের প্রভাবে শিল্পাঞ্চলের ৩০৬টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, এতে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৩ শ্রমিকের কাজ ব্যাহত হয়েছে। অন্যদিকে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে নয় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। গাজীপুরে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। সব মিলিয়ে শিল্পাঞ্চলের অস্থিরতা এখন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে দেশের প্রধান রপ্তানি খাতের উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি করেছে।

সড়ক অবরোধে ভোগান্তিতে লাখো মানুষ: মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নেন। এতে ঢাকা-আরিচা, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়ে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা। অনেককে বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। বিকল্প পথে চলতে গিয়ে যাত্রীদের বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়।

সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করলে দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। দুপুরে শুরু হওয়া অবরোধ চলে বিকেল ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত। পরে যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে শ্রমিকেরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। এরপর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

গাজীপুরের নাওজোড়, ভোগড়া, মৌচাক ও কোনাবাড়ী এলাকায় বিক্ষোভের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কোথাও সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। পরে পুলিশ ও বিজিবির তৎপরতায় অবরোধ সরিয়ে যান চলাচল শুরু হয়।

নারায়ণগঞ্জের জালকুড়ি ও শিবু মার্কেট এলাকায় বিক্ষোভের কারণে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডেও যান চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে শিল্পাঞ্চল ছাড়িয়ে আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াতেও প্রভাব পড়ে।

মেট্রোরেল চলাচলে বিঘ্ন, পুলিশ সদস্যকে মারধর: রাজধানীর মিরপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এতে চার পুলিশ সদস্য আহত হন।

সংঘর্ষের কারণে মেট্রোরেল চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। নিরাপত্তার কারণে মিরপুর-১০ স্টেশনে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন থামানো বন্ধ রাখা হয়। এতে সড়কপথের পাশাপাশি গণপরিবহনের বিকল্প এই ব্যবস্থার যাত্রীরাও দুর্ভোগে পড়েন।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে কালশী সড়কে এক পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয়। আহত কনস্টেবল মো. সাইমনকে উদ্ধার করে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পল্লবী থানা পুলিশ।

৩০৬ কারখানায় ছুটি, উৎপাদন ও সরবরাহে চাপ: শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ৩০৬টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ। এতে প্রায় ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৩ শ্রমিকের কাজ ব্যাহত হয়েছে।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সাভার ও আশুলিয়ায় অন্তত ২০০টি কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে। তার আওতাধীন প্রায় ৮০০ কারখানার মধ্যে শতাধিক বন্ধ ছিল। নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর ও জিরাবো এলাকায় বন্ধ কারখানার সংখ্যা বেশি।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, প্রথমে ১৫টি এবং পরে আরও ৪৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। আগের দিনও জেলায় অন্তত ১৫০টি কারখানা বন্ধ ছিল।

কারখানা বন্ধ থাকায় শুধু উৎপাদনই নয়, কাঁচামাল সরবরাহ, পণ্য পরিবহন, প্যাকেজিং ও সংশ্লিষ্ট সেবা কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে রপ্তানি আদেশের পণ্য নির্ধারিত সময়ে প্রস্তুত ও জাহাজীকরণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গাজীপুরে সংঘর্ষে আহত ৩০, নারায়ণগঞ্জে ৯ পুলিশসহ ১১: গাজীপুরে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত নাওজোড়, ভোগড়া, মৌচাক ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হন।

নাওজোড় এলাকায় প্যানিসিয়া লিমিটেডের শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন। একই সময়ে কোনাবাড়ীর বে-ফুটওয়্যার, মৌচাকের পূর্বাণী এবং তেলিচালার লগোস অ্যাপারেলস ও এটিএস অ্যাপারেলসের শ্রমিকেরাও বিক্ষোভে যোগ দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবি কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট এলাকায় তারা জড়ো হন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে অবরোধ। এ সময় সড়কে আগুন জ্বালানো ও কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

শ্রমিকদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলে বিক্ষোভকারীরাও ইটপাটকেল ছোড়েন। এতে জেলা পুলিশের তিনজন ও শিল্প পুলিশের ছয় সদস্য আহত হন। পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হন দুই শ্রমিক।

নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) হাসিনুজ্জামান বলেন, শ্রমিকেরা সড়কে অগ্নিসংযোগ ও যানবাহন ভাঙচুর শুরু করলে বিকেল ৫টার দিকে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। সংঘর্ষের পর যান চলাচল শুরু হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি, নজরদারি জোরদার: শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি সদর দপ্তরের মঙ্গলবারের বার্তায় জানানো হয়, গাজীপুরের সফিপুর, কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ী এলাকায় ১০ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় দুই প্লাটুন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে তারা কাজ করছেন। সদর দপ্তরের কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে আশুলিয়া ও সাভারের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক পরিচয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের কথা জানিয়েছেন ঢাকার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বোরকা ও হেলমেট পরে কারা পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করছে, সে বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে। তার দাবি, প্রকৃত শ্রমিকদের পাশাপাশি বাইরে থেকে আসা কিছু ব্যক্তি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

গাজীপুরে নিরাপত্তা জোরদারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যাও ২১ থেকে বাড়িয়ে ২৫ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পেছনে ইন্ধনদাতাদের শনাক্তের কথা জানিয়েছেন।

মজুরি দাবি ও অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা: পোশাকশ্রমিকদের প্রধান দাবি মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ। পাশাপাশি ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধ, শ্রমিকদের অধিকার ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে বর্তমান মজুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে দাবি শ্রমিকদের।

আন্দোলনের সূত্রপাত মিরপুরের বিভিন্ন কারখানায় হলেও পরবর্তী সময়ে তা সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন স্থানে কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার মিরপুরে দুই দফায় প্রায় ছয় ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর শ্রমিকেরা সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। শনিবার কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু হয়ে পরে সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। রোববার বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া যায়। সোমবার মিরপুরের কয়েকটি এলাকায় পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আবারও একাধিক শিল্পাঞ্চলে সংঘর্ষ ও অবরোধের ঘটনা ঘটে।

এ পরিস্থিতিতে পোশাকশিল্পের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এবং রপ্তানি আদেশ সময়মতো সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সড়কে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কাঁচামাল কারখানায় পৌঁছানো এবং তৈরি পোশাক বন্দরে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য জাহাজীকরণ সম্ভব না হলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সরবরাহের সময়সূচি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে পোশাক খাত থেকে। এ শিল্পে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা দেখা দিলে এর প্রভাব শুধু কারখানার মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; পরিবহন, ব্যাংকিং, সরবরাহ ও সহযোগী শিল্পেও পড়বে।

তবে আন্দোলনের কারণে এখন পর্যন্ত মোট কত টাকার উৎপাদন বা রপ্তানি ক্ষতি হয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য সমন্বিত হিসাব পাওয়া যায়নি। তাই ক্ষতির নির্দিষ্ট অঙ্ক বলা যাচ্ছে না।

শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি এবং শিল্পের উৎপাদন অব্যাহত রাখা—দুটিই দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মালিক, শ্রমিক প্রতিনিধি ও সরকারের মধ্যে দ্রুত কার্যকর আলোচনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সহিংসতা ও উসকানির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং শ্রমিকদের দাবির গ্রহণযোগ্য সমাধান নিশ্চিত করা জরুরি।


নির্বাচিত

শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগের অর্থ খরচের সংযোগ থাকতে পারে: তথ্য উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পোশাক শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির বিষয়টি বিবেচনা করে সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করা সত্ত্বেও চলমান আন্দোলনে সহিংসতা ও নাশকতার পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের লুটপাটের অর্থ বিনিয়োগের সংযোগ থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। পোশাক খাতের আন্দোলন ও নাশকতার প্রসঙ্গ টেনে উপদেষ্টা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই সরকার পূর্বনির্ধারিত সময়ের আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ফলে এখন আর শ্রমিকদের মূল আন্দোলন বা দাবির যৌক্তিকতা থাকার কথা নয়। কিন্তু এর মধ্যেও যারা সহিংস আচরণ করছে, তাদের সঙ্গে সাধারণ শ্রমিকদের কোনো সম্পৃক্ততা থাকতে পারে না।

গোয়েন্দা তথ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট চক্র বা নিষিদ্ধ দলটির কাছে থাকা প্রচুর লুটপাটের টাকা খরচ করে কোথাও না কোথাও নাশকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যার সাথে শ্রমিক আন্দোলনের সংযোগ থাকতে পারে। সরকার ও প্রশাসন এটি কঠোরভাবে প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে এর মানে ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ফেরার পথ তৈরি করা হচ্ছে সরকার সেটা মনে করে না। উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন প্রসঙ্গে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী তিনি আসতে চাইলে সরকার কোনো বাধা দেবে না।

এছাড়া বিগত আমলের মতো নির্বিচারে বা মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের সংস্কৃতি থেকে পুলিশ বাহিনীকে বের করে আনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, পুলিশের আইনি অধিকার রয়েছে পরিস্থিতি সাপেক্ষে বলপ্রয়োগ করার, তবে তা যেন সুনির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে থেকে নিশ্চিত করে পরিচালিত হয়। জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনা করেই সরকার এই পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে বলে তিনি জানান।

ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

banner close