রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
২৮ পৌষ ১৪৩২

টেকসই ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনে নির্মাতাদের প্রতি পরিবেশ উপদেষ্টার আহ্বান

বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ১৪ অক্টোবর, ২০২৪ ১৭:৫৪

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান নির্মাতাদের টেকসই ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে দায়িত্বশীল উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি শুধুমাত্র সাময়িক ট্রেনডিং-এর কারণে ইলেকট্রনিক পণ্য কম সময়ের মধ্যে বাতিল না করার জন্য ভোক্তাদের প্রতি অনুরোধ করেছেন।

আজ সোমবার আন্তর্জাতিক ই-বর্জ্য দিবস উপলক্ষে ঢাকার হোটেল ওয়েস্টিনে আয়োজিত ‘ফরমাল ই-ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক সেমিনারে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে পরিবেশ উপদেষ্টা এ সব কথা বলেন।

সেমিনারে রিজওয়ানা হাসান সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ই-ওয়েস্ট ব্যবস্থাপনা বিধিমালা বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়কে সহায়তা এবং পরামর্শ প্রদান করার আহ্বান জানান। উপদেষ্টা জানান, সরকার ই-ওয়েস্ট বিধিমালা-২০২১ বাস্তবায়ন করবে, যা ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক বর্জ্য কমানোর ওপর জোর দেয়া হচ্ছে এবং রিসাইক্লিং শিল্পকে নিয়মিত ও উৎসাহিত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। দেশব্যাপী একটি ব্যাপক ই-ওয়েস্ট ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার, বেসরকারি খাত ও সাধারণ নাগরিকদের একত্রিত হয়ে এ বিষয়ে কাজ করা উচিত। তিনি সতর্ক করেন যে, অনানুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিকর বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী। এছাড়াও ডব্লিউইইই সোসাইটি-বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সুমন আহমেদ সাবির বক্তব্য রাখেন। বুয়েটের রাসায়নিক প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহিনুর ইসলাম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

সেমিনারে নীতিনির্ধারক, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং শিল্প নেতৃবৃন্দ ই-ওয়েস্ট ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা অনানুষ্ঠানিক রিসাইক্লিং প্রক্রিয়া, যেমন উন্মুক্ত স্থানে পোড়ানোর মাধ্যমে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের কারণে সৃষ্ট দূষণ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।


স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোছাব্বির ঘটনার মূল শুটার জিনাতসহ গ্রেপ্তার ৪

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব ও বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুর রহমান মোছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এক চাঞ্চল্যকর অগ্রগতি হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান শুটার ও পরিকল্পনাকারীসহ মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ডিবির একটি বিশেষ টিম গত কয়েকদিনের নিবিড় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত মূল অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদানের লক্ষ্যে আজ বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের সামনে পুরো ঘটনার নেপথ্য কাহিনী তুলে ধরবেন।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান শুটার হিসেবে চিহ্নিত ‘জিনাত’ এবং পুরো হত্যার নকশা বা পরিকল্পনা যার হাত দিয়ে হয়েছে সেই সন্দেহভাজন মাস্টারমাইন্ড ‘বিল্লাল’ রয়েছেন। এছাড়া তাঁদের সাথে থাকা আরও দুই সহযোগীকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে কারওয়ান বাজার ও তেজগাঁওয়ের মধ্যবর্তী এলাকা হোটেল সুপারস্টারের পাশে আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ওত পেতে থেকে মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। মুছাব্বিরের রাজনৈতিক অবস্থান ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কারণেই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই নৃশংস হামলায় কেবল মোছাব্বির নন, বরং তাঁর সাথে থাকা তেজগাঁও থানা ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মোছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত আবু সুফিয়ান মাসুদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর কারা জড়িত এবং অস্ত্রের যোগান কোথা থেকে হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিবির এই দ্রুত পদক্ষেপকে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা স্বাগত জানিয়েছেন। তবে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তেজগাঁও ও নয়াপল্টন এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।


নির্বাচনে কোনো দলকেই বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে না সরকার: প্রেস সচিব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। রোববার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সমসাময়িক ব্রিফিংয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সরকার কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলকে অতিরিক্ত বা বিশেষ কোনো সুবিধা প্রদান করছে না। শফিকুল আলম জোর দিয়ে বলেন, একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বর্তমানে বিদ্যমান রয়েছে এবং সরকার সকল দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি দল যাতে নির্বিঘ্নে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূতের সাম্প্রতিক বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরে প্রেস সচিব জানান, আসন্ন নির্বাচনে ইইউ থেকে একটি বড় আকারের পর্যবেক্ষক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসবে। উল্লেখ্য যে, বিগত তিনটি নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় ইইউ কোনো পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল পাঠায়নি, তবে এবার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তারা বাংলাদেশের নির্বাচনি ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখছে। বৈঠকে জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি আসন্ন গণভোট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ইইউ প্রতিনিধিকে আশ্বস্ত করেছেন যে, নির্বাচন কমিশন ও সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সরকার এই গণভোটে জনসাধারণের কাছে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রত্যাশা করতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

নির্বাচনি পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শফিকুল আলম বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়া সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে পতিত স্বৈরাচারী সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে অস্থিতিশীল করতে ইন্টারনেটে বিভিন্ন ধরণের মিসইনফরমেশন বা ভুল তথ্য ছড়াতে পারে। তবে সরকার ও নির্বাচন কমিশন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। দেশের কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে হত্যাকাণ্ডের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সরকার তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রায় প্রতিটি ঘটনায় দ্রুততম সময়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু সাম্প্রদায়িক অপপ্রচারের বিষয়ে সতর্ক করেন। তিনি নরসিংদীর মনি চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ টেনে বলেন, এটি মূলত একটি পারিবারিক কলহের জেরে সংঘটিত হলেও একটি মহল একে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে চালিয়ে দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এমনকি অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি যাচাই-বাছাই না করেই এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছেন যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তিনি সকলকে যেকোনো স্পর্শকাতর বিষয়ে বিবৃতি প্রদানের আগে সত্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। সামগ্রিকভাবে, একটি স্বচ্ছ ও সফল নির্বাচন সম্পন্ন করতে সরকার গুজব প্রতিরোধ এবং সত্য তথ্য প্রবাহ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ সজাগ রয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।


এলপি গ্যাস সংকটে পরিবহন খাত ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে চলমান এলপি গ্যাস সংকটে পরিবহন খাত ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল মাওলা। আশঙ্কা প্রকাশ করে খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলপি গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হলে যাত্রীসেবা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘এলপিজি সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পরিবহন খাতে’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারা।

সিরাজুল মাওলা বলেন, ‘এলপিজি অটোগ্যাস একটি পরিবেশবান্ধব, সহজলভ্য ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী জ্বালানি, যা সিএনজি, পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের বিকল্প হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিগত সরকারের উৎসাহে সারাদেশের ৬৪ জেলায় প্রায় এক হাজার অটোগ্যাস স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্টেশনের ওপর নির্ভর করে প্রায় দেড় লাখ যানবাহন এলপিজিতে রূপান্তর করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তীব্র এলপিজি সংকটের কারণে দেশের প্রায় সব অটোগ্যাস স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে স্টেশন মালিকদের পাশাপাশি এলপিজিচালিত যানবাহনের মালিক ও চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস না পেয়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে যাত্রীসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং যাত্রীরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।’

সিরাজুল মাওলা আরও জানান, দেশে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে যানবাহন খাতে ব্যবহৃত হয় মাত্র ১৫ হাজার মেট্রিক টন, যা মোট ব্যবহারের প্রায় ১০ শতাংশ। অথচ এই তুলনামূলক সামান্য পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় পুরো এলপিজি অটোগ্যাসশিল্প আজ ধ্বংসের মুখে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- এলপিজি সরবরাহকারী কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক সংগঠন যেন যেকোনোভাবে অটোগ্যাস খাতের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে। এলপিজি আমদানিতে কোনো জটিলতা থাকলে বিইআরসি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ যেন তা দ্রুত সমাধান করে অপারেটরদের মাধ্যমে অটোগ্যাসের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এলপিজি সরবরাহে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, সে জন্য আগাম ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের সহসভাপতি সাঈদা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক মো. হাসিন পারভেজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. ইকবাল হোসাইন, যুগ্ম অর্থ সম্পাদক মো. মোকবুল হোসেন, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ন কবির ভূঁইয়া, মো. মশিউর রহমান প্রমুখ।


১৫ বছরে পুলিশ দলীয় পুলিশ হিসেবে গড়ে উঠেছিল : আইজিপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রংপুর প্রতিনিধি

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, বিগত ১৫ বছরে পুলিশ দলীয় পুলিশ হিসেবে গড়ে উঠেছিল। নানা ধরনের বিচ্যুতি ছিল আমাদের মধ্যে। আমরা অনেক গণবিরোধী কাজ করেছি।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রংপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, ‌‘জুলাই-আগস্ট মাসে যে দুঃখজনক ঘটনাগুলো ঘটেছে, বিপুল পরিমাণ আন্দোলনকারী প্রাণ দিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন। এসব ঘটনার ফলে পুলিশের যারা লোভী, দলকানা কিছু নেতৃবৃন্দ এবং সদস্যের কারণে আমাদের ওপরে যে দায়ভার এসেছে, এগুলো থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ পুলিশকে আবার স্বমহিমায় দাঁড় করানো, তাদের মনোবল বৃদ্ধি করে তাদের আবার তাদের কাজে ফিরিয়ে আনা—এই গত এক বছরে আমরা এটা চেষ্টা করেছি। আমরা বলব না আমরা শতভাগ সফল হয়েছি, তবে আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি নেই।’

শতভাগ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কোনো জায়গায় করা যায় না জানিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেন, ‘অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এটা শতভাগ তো কোনো জায়গায় করে ফেলা যায় না। আমাদের দেশের গত ১০-১৫-২০ বছরের অপরাধ পরিসংখ্যান যদি নেন, প্রতি বছরই সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার হত্যা সংঘটিত হয়ে থাকে। আমাদের অবশ্যই চেষ্টা থাকবে একজন লোকও যেন মারা না যায়। সেটা আমাদের লক্ষ্য।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীদের উদ্বেগের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা, নির্বাচনের উপযোগী রাখা এটা আমাদের দায়িত্ব। এখানে শুধু পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ একা না, এখানে পুলিশের সঙ্গে নির্বাচনের দিন তো বিপুল পরিমাণ, ৬ লাখেরর মতো আনসার সদস্য থাকবেন। এখন নির্বাচনে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, প্রতিরক্ষা বাহিনী আমাদের সঙ্গে আছে। বর্ডার গার্ড আছে, ইভেন কোস্ট গার্ড এবং নেভি উপকূলীয় অঞ্চলে এখন আইনশৃঙ্খলা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।’

এর আগে পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড অডিটোরিয়ামে রংপুর রেঞ্জের বিভিন্ন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশেষ কল্যাণ সভা করেন বাহারুল আলম।


মুছাব্বির হত্যার ঘটনায় প্রধান শুটারসহ গ্রেপ্তার ৩

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকার কারওয়ান বাজার এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এক বড় ধরণের সাফল্য অর্জন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। শুক্রবার গভীর রাতে মানিকগঞ্জ এবং গাজীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকাণ্ডের প্রধান শুটার ও পরিকল্পনাকারীসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিবির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে প্রধান শুটার হিসেবে চিহ্নিত জিনাত এবং এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সন্দেহভাজন পরিকল্পনাকারী বিল্লাল রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃত তৃতীয় ব্যক্তি এই দুজনের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মুছাব্বিরকে হত্যার পর থেকেই আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করেছিল। ডিবি পুলিশের একাধিক টিম প্রযুক্তিগত সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে এবং একযোগে দুই জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করতে সক্ষম হয়। এই গ্রেপ্তারের ফলে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এবং কার কার ইন্ধন রয়েছে তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বর্তমানে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে এবং তাঁদেরকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য যে, গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কারওয়ান বাজারের তেজতুরী বাজারে অবস্থিত স্টার হোটেলের পেছনের গলিতে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায়। এতে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বির মারাত্মকভাবে আহত হন এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। ঘটনার পরপরই নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল উদ্দেশ্য এবং অস্ত্র সরবরাহের উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে কারওয়ান বাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।


ভারতীয়দের বাংলাদেশের পর্যটক ভিসা দেওয়া সীমিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কলকাতা, মুম্বাই ও চেন্নাইতে অবস্থিত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন থেকে ভারতীয় নাগরিকদের পর্যটক ভিসা দেওয়া সীমিত করা হয়েছে। এর আগে দিল্লির হাইকমিশন এবং আগরতলায় অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশন থেকে ভিসা দেওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) থেকে এসব জায়গা থেকে পর্যটক ভিসা দেওয়া ‘সীমিত’ করা হয়েছে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিবিসি বাংলা জানিয়েছে।

বিবিসি বলছে, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা না হলেও, কলকাতায় ডেপুটি হাইকমিশনের সূত্রগুলি খবরটি নিশ্চিত করেছে।

এখন পর্যটক ভিসা সীমিত হলেও বাণিজ্যিক ভিসাসহ অন্যান্য ভিসা দেওয়া চালু থাকছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশে থাকা চারটি ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রে ভাঙচুর করা হয়। তখন ঢাকায় ভিসা সেন্টারের সামনেও বিক্ষোভ হয়। তারপর কয়েকদিন ভিসা কার্যক্রম বন্ধ রাখে ভারত।

পরে ভিসা সেন্টারগুলো চালু হলেও মেডিকেল ভিসা ও কিছু জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্যান্য ভিসা ইস্যু বন্ধ রেখেছে ভারত। বর্তমানে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় পর্যটক ভিসা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।


খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ইরানের শোকবার্তা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এ শোক প্রকাশ করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

শোকবার্তায় বলা হয়, অত্যন্ত গভীর শোক ও দুঃখের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং দেশটির সমসাময়িক ইতিহাসের অন্যতম প্রখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের সংবাদ পেয়েছে ইরান সরকার।

বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়, সাহস ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করে বেগম খালেদা জিয়া দুইবার বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও জাতির অগ্রগতির সংগ্রামে তিনি ছিলেন এক উজ্জ্বল প্রতীক। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় তার অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

শোকবার্তায় ইরান জানায়, বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও মহান জাতির দুঃখ–সুখে তারা (ইরান) সর্বদা অংশীদার। একই সঙ্গে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত ও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করা হয়।


Energy & Power sector Master Plan 2026-2050 বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সভা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:৫৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

৭ জানুয়ারি ২০২৬, বুধবার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর সভাপতিত্বে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় “Energy and Power Sector Master Plan 2026-2050” সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তপক্ষ (বিড)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মোঃ খায়েরুজ্জামান মজুমদার, প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। উল্লেখ্য, উক্ত সভায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল এস এম জিয়া-উল-আজিম এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি উপস্থিত ছিলেন।

এ মহাপরিকল্পনার লক্ষ্য হলো দেশীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত দায়বদ্ধতার মাধ্যমে বাংলাদেশের সকল মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও টেকসই প্রাথমিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা।

সভায় আগের তিনটি মহাপরিকল্পনার পলিসি গ্যাপ চিহ্নিত করে তা সংক্ষেপে পর্যালোচনা হয়। নতুন মহাপরিকল্পনা তিন ধাপে (প্রথম ধাপ ২০২৬-২০৩০ সাল, দ্বিতীয় ধাপ ২০৩০-২০৪০ সাল ও তৃতীয় ধাপ ২০৪০-৫০ সাল) বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

বিস্তারিতভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের খুঁটিনাটি তুলে ধরার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ এখানে। এটা সবল হলে অর্থনীতি দাঁড়াবে। দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনকে এই খাত প্রভাবিত করে।’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংক্রান্ত গবেষণার জন্য পৃথক ইনস্টিটিউশন তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা। সভায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, ট্রান্সমিশন, সরবরাহ, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সাসটেইনাবিলিটি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বিষয়ে কিছু সুপারিশ উপস্থাপন করা হয় এবং ২০৫০ সালের মধ্যে প্রাইমারি এনার্জি সেক্টরকে আরও নিরাপদ, দক্ষ, কম আমদানিনির্ভর ও আর্থিকভাবে টেকসই করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।


মার্কিন ‘ভিসা বন্ড’ আরোপ দুঃখজনক হলেও অস্বাভাবিক নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর ‘ভিসা বন্ড’ বা মোটা অংকের জামানত আরোপের যে সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটন নিয়েছে, তাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও কষ্টকর হিসেবে অভিহিত করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। তবে একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও অভিবাসন সংকট বিবেচনায় নিলে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপটি খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কেবল বাংলাদেশের ওপরই নয়, বরং বিশ্বের আরও ৩৭টি দেশের ওপর এই নিয়ম কার্যকর করেছে এবং এই তালিকায় এমন সব দেশ রয়েছে যাদের নাগরিকদের অভিবাসন ও নির্দিষ্ট মেয়াদের অতিরিক্ত অবস্থানের (ওভারস্টে) হার অনেক বেশি।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন মার্কিন কৌশলের একটি বিশেষ দিক তুলে ধরে বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দেশটির সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা সোশ্যাল সিস্টেম থেকে সরকারি সুবিধা গ্রহণ করেন, তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা সর্বাধিক। ফলে মার্কিন প্রশাসন যখন নির্দিষ্ট কিছু দেশের ওপর এমন কঠোর বিধিনিষেধ বা আর্থিক সুরক্ষা কবচ আরোপ করে, সেখানে বাংলাদেশের নাম থাকাটা অপ্রত্যাশিত নয়। তিনি মনে করেন, এটি আমাদের জন্য একটি বড় বার্তা এবং জাতীয় ভাবমূর্তির ক্ষেত্রে একটি নেতিবাচক প্রভাব। তবে এই পরিস্থিতির জন্য বর্তমান সরকারকে দায়ী না করে তিনি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যাকেই সামনে নিয়ে আসেন।

উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে বলেন যে, যদি গত এক বছরের মধ্যে অভিবাসনের এই নেতিবাচক হার বৃদ্ধি পেত, তবে বর্তমান সরকারের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেত। কিন্তু এই সংকটটি দীর্ঘ সময় ধরে তৈরি হয়েছে এবং পূর্ববর্তী সকল সরকারের ধারাবাহিক পলিসি ও জনশক্তি রপ্তানির ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনার ফলেই আজ বাংলাদেশিদের এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে। তাঁর মতে, মানুষের বিদেশ যাওয়ার বা অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার এই প্রবণতা কোনো একক সরকারের পক্ষে রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এটি একটি কাঠামোগত সমস্যা যা বছরের পর বছর ধরে শেকড় গেড়েছে।

অনিয়মিত অভিবাসনের কুফল নিয়ে সতর্ক করে তৌহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার প্রথম দিন থেকেই অবৈধ পথে বিদেশ যাত্রার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। তিনি মনে করেন, অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করাই এই ধরণের আন্তর্জাতিক অপমান ও কঠোরতা থেকে বাঁচার একমাত্র সমাধান। প্রতিনিয়ত সংবাদমাধ্যমে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর খবর কিংবা সাগর থেকে উদ্ধারের ঘটনাগুলো অত্যন্ত বেদনাদায়ক হলেও, এটি প্রকারান্তরে আইন ভঙ্গেরই শামিল। ভুক্তভোগীদের প্রতি মানবিক সহানুভূতি থাকলেও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং আন্তর্জাতিক সম্মান পুনরুদ্ধারে প্রতিটি নাগরিককে আইনসম্মত ও নিয়মিত পন্থায় বিদেশ গমনের আহ্বান জানান তিনি। মূলত সঠিক অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নই এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।


৮০ শতাংশ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের দাম কমবে: ডা. সায়েদুর রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে এবং ওষুধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমিয়ে আনতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় নতুন করে আরও ১৩৬টি ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে এই তালিকাভুক্ত ওষুধগুলোর বিক্রয়মূল্য সরাসরি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হবে এবং কোনো প্রতিষ্ঠানই নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে ওষুধ বিক্রি করতে পারবে না। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান যে, ১৯8৫ সালে প্রথম এই তালিকা তৈরি করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে সামান্য কিছু পরিবর্তন আনা হলেও দীর্ঘ সময় পর এবারই প্রথম বড় ধরনের কোনো বৈজ্ঞানিক গাইডলাইন বা ফর্মুলার মাধ্যমে এই সংস্কার সম্পন্ন হলো।

সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অত্যাবশ্যকীয় তালিকায় থাকা ওষুধগুলো মূলত দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ সাধারণ মানুষের সব ধরণের রোগের চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট। ফলে এই ওষুধগুলোর মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে দেশের স্বাস্থ্য খাতে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, সরকার এ ক্ষেত্রে প্রচলিত মার্কআপ (লাভের হার) বা কাঁচামালের ব্যয়ের কোনো পরিবর্তন করেনি, তবে একটি সুনির্দিষ্ট ফর্মুলা প্রয়োগ করা হয়েছে যাতে ওষুধের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে থাকে। যেসব প্রতিষ্ঠানের ওষুধের দাম বর্তমানে নির্ধারিত সীমার ওপরে রয়েছে, তাঁদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে পর্যায়ক্রমে দাম কমিয়ে আনতে হবে। এটি মূলত সাধারণ মানুষের চিকিৎসা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার পথে একটি বিশাল মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

ওষুধ শিল্পের ওপর এই সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাবের কথা বিবেচনা করে সরকার অত্যন্ত সতর্ক ও দীর্ঘমেয়াদী একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাঁদের দাম সমন্বয় করার জন্য চার বছর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে, যাতে ইন্ডাস্ট্রিগুলো কোনো বড় ধরণের ধাক্কা না খেয়ে ধাপে ধাপে নতুন ব্যবস্থার সাথে মানিয়ে নিতে পারে। অত্যাবশ্যকীয় তালিকার বাইরে থাকা আরও প্রায় ১,১০০ ওষুধের ক্ষেত্রেও সরকার একটি স্বচ্ছ তদারকি ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ‘ইন্টারনাল রেফারেন্স প্রাইসিং’ এবং ‘এক্সটারনাল রেফারেন্স প্রাইসিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। যদি কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ সাতটির বেশি কোম্পানি উৎপাদন করে, তবে তাঁদের মূল্য একটি নির্দিষ্ট রেঞ্জের মধ্যে থাকতে হবে এবং প্রতি বছর ২৫ শতাংশ হারে সমন্বয় করে চার বছরের মধ্যে নির্ধারিত সীমায় পৌঁছাতে হবে। আর যদি উৎপাদক সাতটির কম হয়, তবে দেশি ও বিদেশি বাজারের মূল্যের তুলনা করে যেটি কম, সেটিকেই মানদণ্ড হিসেবে ধরা হবে।

বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার বিষয়ে ডা. সায়েদুর রহমান আরও উল্লেখ করেন যে, এটি বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই এই পুরো কার্যক্রমের সুফল সাধারণ মানুষ পেতে শুরু করবে। বাংলাদেশের বর্তমান স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি বা ‘হেলথ ট্রানজিশন’—যেখানে সংক্রামক ও অসংক্রামক উভয় ধরণের ব্যাধিই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা এই নতুন তালিকায় পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়েছে। সংক্রামক ব্যাধির পাশাপাশি ডায়াবেটিস এবং হাঁপানির মতো দীর্ঘমেয়াদী অসংক্রামক রোগের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সব ওষুধ এই তালিকায় রাখা হয়েছে। তবে ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে অনেক দামী ওষুধ এই তালিকায় এখনই যুক্ত করা হয়নি। সামগ্রিকভাবে, এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা অনেক বেশি নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন মনে করলে ডিসি রদবদলে প্রস্তুত সরকার: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনে কোনো পরিবর্তন বা জেলা প্রশাসক (ডিসি) রদবদলের প্রয়োজন হলে সরকার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ সরকারের এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন। তিনি জানান যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের যেকোনো সিদ্ধান্ত বা অভিমত সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সরকার কমিশনের প্রতিটি চাওয়াকে যথাযথ সম্মান বা ‘অনার’ করার চেষ্টা করবে। মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কমিশন যদি কোনো পরিবর্তন অপরিহার্য মনে করে, তবে সরকার সেখানে আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে।

সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে মাঠ পর্যায়ের ডিসিদের বিষয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তাঁদের রদবদলের দাবি জানিয়েছে। নির্বাচনের আর মাত্র এক মাস বাকি থাকা অবস্থায় এই ধরণের রদবদল সম্ভব কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন যে, সরকার নিজ থেকে কোনো রদবদলের কথা বলছে না। তবে নির্বাচন কমিশন যদি সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে কনভিন্সড হয় এবং মনে করে যে রদবদল করা জরুরি, তবেই কেবল সরকার বিষয়টি বিবেচনা করবে এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, যেকোনো পরিবর্তনের আগে কমিশনকে বিষয়টির যৌক্তিকতা নিয়ে নিশ্চিত হতে হবে।

মাঠ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে ড. শেখ আব্দুর রশীদ জানান যে, তিনি এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো বিচ্যুতি বা অস্বাভাবিক কিছু দেখেননি। তাঁর মতে, মাঠ পর্যায়ে অনেক সময় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং সেই সিদ্ধান্তে সব পক্ষ সবসময় সন্তুষ্ট না হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। প্রতিটি প্রার্থীর পরিস্থিতি যেমন ভিন্ন ছিল, তেমনি প্রশাসনের নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তে ভিন্নতা থাকতেই পারে। তবে কোনো সিদ্ধান্তে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তাঁদের জন্য আইনি পথে আপিলের সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে এবং বর্তমানে শত শত প্রার্থী সেই সুযোগ ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করছেন।

প্রশাসনের পক্ষপাতের অভিযোগ নিয়ে সচিব তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান উন্মুক্ত তথ্যপ্রবাহের যুগে যে কেউ যেকোনো বিষয়ে কথা বলতে পারেন এবং সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা অভিযোগ করবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে প্রশাসন কোনো একটি বিশেষ পক্ষের হয়ে কাজ করছে এমন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তাঁর নজরে আসেনি। তিনি আশ্বাস দেন যে, প্রশাসনে যদি সত্যিই কোনো ত্রুটি বা অস্বচ্ছতা থাকে, তবে তা মেধা ও যোগ্যতার (মেরিট) ভিত্তিতে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। মূলত একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে সরকারের সকল বিভাগ এখন নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ সহায়তা দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন।


গুলিতে নিহত মুসাব্বিরের মরদেহ নেওয়া হবে নয়াপল্টনে, বাদ জোহর জানাজা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান মুসাব্বিরের জানাজা আজ বৃহস্পতিবার বাদ জোহর নয়াপল্টনে অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এই জানাজায় দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রধান অফিস কর্মকর্তা মুহা. রেজাউল করিমের পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বার্তার মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ দাফনের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

গতকাল বুধবার রাতে কারওয়ান বাজারে স্টার কাবাবের পেছনের গলিতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মোটরসাইকেলে করে আসা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে ৫ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। সেই সময় মুসাব্বিরের সঙ্গে তেজগাঁও থানা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদও উপস্থিত ছিলেন। গুলিতে মুসাব্বির ও আবু সুফিয়ান দুজনেই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুসাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহত আবু সুফিয়ান মাসুদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানিয়েছেন, আবু সুফিয়ানের পেটের বাম পাশে গুলি লেগেছে এবং বর্তমানে জরুরি বিভাগে তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে। মাসুদের বাসা কেরানীগঞ্জে হলেও তিনি সাংগঠনিক কাজে কারওয়ান বাজার এলাকায় মুসাব্বিরের সাথে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ করে এই অতর্কিত হামলায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ফজলুল করিম এই খুনের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, স্টার কাবাবের পাশের গলিতে দুজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। এই হামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুসাব্বির নিহত হয়েছেন এবং পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, জড়িতদের দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তেজগাঁও ও নয়াপল্টন এলাকায় এক ধরনের থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে অপরাধী চক্র এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে, যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে গোয়েন্দা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।


নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনে খসড়া অধ্যাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জ ও এর আশপাশের এলাকা নিয়ে একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার ‘নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠন করতে যাচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে একটি খসড়া অধ্যাদেশ প্রস্তুত করেছে এবং বর্তমানে তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের মতামত গ্রহণ করছে। শীতলক্ষ্যা তীরবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, অপরিকল্পিত নগরায়ন রোধ, দুর্যোগ সহনশীল ব্যবস্থাপনা এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশ নিশ্চিত করাই এই কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য। প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে থাকবেন একজন চেয়ারম্যান ও চারজন সার্বক্ষণিক সদস্য, যাদের মেয়াদ হবে তিন বছর। কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি এই পদে থাকতে পারবেন না। এছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে আরও পাঁচজন প্রতিনিধি এই কর্তৃপক্ষের সদস্য হিসেবে থাকবেন।

প্রস্তাবিত খসড়ায় কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ও কার্যাবলি সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে এবং এর আওতাভুক্ত এলাকায় ভূমি ক্রয়, অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন ফি ধার্য করতে পারবে। মহাপরিকল্পনায় উল্লিখিত উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো কাজে ভূমি ব্যবহার করা যাবে না। যদি কেউ এই বিধান লঙ্ঘন করেন, তবে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে। বিশেষ করে জলাধার রক্ষার ক্ষেত্রে খসড়ায় অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নদী, খাল-বিল বা কোনো প্রাকৃতিক জলাধারের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।

কৃত্রিম জলাধার খনন বা নিচু ভূমি ভরাটের মাধ্যমে পানির প্রবাহ বন্ধ করলে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে খসড়াটিতে। কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে যেকোনো খননকাজ বন্ধের নির্দেশ দিতে পারবে। এই নির্দেশ অমান্য করলে বা জলাধার ভরাট করলে প্রথমবার দুই বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে শাস্তির মাত্রা বেড়ে দুই থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং দুই থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হতে পারে। এছাড়া খেলার মাঠ, উদ্যান ও প্রাকৃতিক জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ২০০০ সালের প্রচলিত সংরক্ষণ আইনটি কার্যকর থাকবে বলে খসড়া অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।


banner close