ছাত্র আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদকে সন্ত্রাসী বলা ও ফেসবুকে অন্তর্বর্তী সরকারকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় বরখাস্ত হওয়া সহকারী সচিব তাপসী তাবাসসুম উর্মির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিবকে গতকাল সোমবার এ বিষয়ে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে চিঠিতে বলা হয়, ‘সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে তার আইডি থেকে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ায় তাকে চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে তাকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়।
ফেসবুকে বিতর্কিত মন্তব্য করায় লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (সহকারী সচিব) তাপসী তাবাসসুম উর্মিকে এর আগে গত ৬ অক্টোবর বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। এরপর ৭ অক্টোবর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন তারেক রহমান।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, ডা. জাহেদ উর রহমান ও মাহ্দী আমিন।
বৈঠকের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। পরে কার্যালয়ের গঠন ও কার্যক্রম সম্পর্কে উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে।”
সরকারের অংশ হিসেবে প্রশাসনের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সরকার তখনি ভালো করবে, যখন আপনারা সরকারকে সহযোগিতা করবেন।”
দেশকে নিজের প্রথম ও শেষ ঠিকানা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা এই দেশকে আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা বলে মনে করি। তাই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্যও আমাদেরকেই কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের একটি মেনিফেস্টো থাকে।”
এরপর যোগ করেন, “একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছে। তাই মেনিফেস্টোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমাদেরকে কাজ করতে হবে।”
স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ক্রীড়াসহ ঘোষিত সব এজেন্ডা বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তারা যেন নিরাপদ বোধ করে। আমরা সবাই যদি একসঙ্গে কাজ করি তাহলে নিশ্চয়ই এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারব।”
দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রশাসনের পূর্ণ সহায়তা প্রত্যাশা করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দেশ ও রাষ্ট্রের স্বার্থে গোপনীয়তা রক্ষা এবং সরকারি নিয়ম-নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিকে সুশৃঙ্খল পথে এগিয়ে নিতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও দাপ্তরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে তিনি তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছান।
কার্যালয়ে প্রবেশের সময় বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা তাকে অভ্যর্থনা জানান। দিনব্যাপী কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অধীনস্থ দপ্তরগুলোর প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কথা রয়েছে তার।
এর আগে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ছুটির দিনেই প্রথমবার রাজধানীর তেজগাঁও কার্যালয়ে অফিস করেন তিনি। সেদিন মূল ভবনে প্রবেশের আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–র সরকারের সময় দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র–এ আজ এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।
দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ইফতার মাহফিলে উপস্থিত থাকার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, আসন্ন ঈদে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। তিনি স্পষ্ট করে জানান, “পরিবহন সেক্টরকে বলে দিয়েছি ঈদে ভাড়া বাড়বে না। যারা ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জ টার্মিনাল ও নির্মাণাধীন খানপুর আইসিটি অ্যান্ড বাল্ক টার্মিনাল, ড্রেজার বেইড এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নারায়ণগঞ্জের নদীবন্দরের মাছঘাট এলাকায় নির্মিতব্য টার্মিনাল ভবন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
ঈদযাত্রা প্রসঙ্গে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা আশা করছি ঈদযাত্রা স্বস্তির ও নিরাপদ হবে। যেসব জায়গায় ব্যত্যয় ঘটতে পারে, যেখানে যানজট তৈরি হয়, সড়কে শৃঙ্খলা থাকে না-সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমি নিশ্চিত করতে চাই এবার সবকিছু সুন্দরভাবে হবে। ট্রাফিক পুলিশ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সব সংস্থা এবার তৎপর থাকবে।”
শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণ ইস্যুতে তিনি জানান, “নদী দূষণের ব্যাপারে আমরা পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে অবগত করব। আমাদের জায়গা থেকেও কিছু করণীয় আছে। সেগুলো চিহ্নিত করে আমাদের পক্ষ থেকে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া দরকার, সেগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে নেব।”
পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঢাকায় আসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান তিনি। সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জেদ্দায় ওআইসির ফিলিস্তিনবিষয়ক কার্যনির্বাহী সভার ফাঁকে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন।
ইসহাক দার বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এবং তিনি ঢাকায় আসতে চান।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন সরকারের অধীনে দুই দেশের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি তিনি ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রশংসা করেন।
সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী যা বলেছেন, সেটাই হবে। যেহেতু তদন্ত হয়েছে, প্রয়োজন হলে আবারও তদন্ত হবে। এখন তো বিষয়টি আদালতে রয়েছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জুমার নামাজ শেষে ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের হাজীপাড়ায় স্থানীয়দের অর্থায়নে নির্মিত একটি হাফেজিয়া মাদরাসার চার তলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচনের পরে ঠাকুরগাঁওয়ে এসে মাদরাসার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে। আল্লাহ তাআলার কাছে এই দোয়া চাইবো, মাদরাসার উন্নয়ন কাজে আমরা যেন শরিক হতে পারি।
তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে জনগণের কাছে আমি ঋণী। বরাবরই তারা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন, আর সেই সমর্থনের কারণে আজকে আমি কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। আমি অনুরোধ করব, ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময় হবে আর গণতন্ত্রকে তার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কাজগুলো করা হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে আমি ঋণী। কারণ তারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। তাদের ভোটের কারণেই আজ আমি মন্ত্রী হয়ে আসতে পেরেছি।
এর আগে দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের তাঁতিপাড়ায় নিজ বাসভবনে পৌঁছালে পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। পরে নেতাকর্মীসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সরদার মোস্তফা শাহীন, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, ঠাকুরগাঁও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস প্রমুখ।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পথে হাঁটছে সরকার জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, প্রায়োরিটি তো ট্যাক্স বাড়াতে হবে আমাদের, ট্যাক্স বাড়ানোর মাধ্যমে ইনভেস্টমেন্ট বাড়াতে হবে। দেশের ভেতরে এবং দেশের বাইরে ইনভেস্টমেন্ট বাড়াতে হবে। এটার মাধ্যমেই একমাত্র আপনি ট্যাক্স বাড়াতে পারবেন।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা মেরিন ড্রাইভ এলাকায় প্রস্তাবিত একটি হাসপাতাল নির্মাণের জন্য জায়গা দেখতে এসে তিনি এ কথা বলেছেন।
তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থান আমাদের আরেকটা কর্মসূচি। বিএনপির নির্বাচনি প্রোগ্রামের মধ্যে কর্মসংস্থান একটা বড় প্রোগ্রাম। সুতরাং বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান কোত্থেকে হবে? এজন্য আমরা জোর দিচ্ছি ইনভেস্টমেন্টের ওপর। দেশি-বিদেশি ইনভেস্টমেন্টে জোর দিচ্ছি।আবারও বলছি, কর্মসংস্থান এটা আমাদের প্রায়োরিটি।
আগামী বাজেটে কী অগ্রাধিকার পাবে জানতে চাইলে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কর্মসংস্থান দিয়েই শুরু হবে। এটা করার জন্য যা যা প্রয়োজন সেটা করা হবে। স্বাস্থ্য খাতেও বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। পতেঙ্গা মেরিন ড্রাইভ এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ সময়োপযোগী। চট্টগ্রামের চিকিৎসা অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘একটা বড় হাসপাতাল করা হবে। ওইটার সাথে নার্সিং ইন্সটিটিউট এবং টেকনোলজিস্টদের জন্য আরেকটা ইনস্টিটিউট হবে। চট্টগ্রামের এই অঞ্চলের মানুষের একটা দাবি ছিল। আমরা জায়গা দেখছি, একটা বড় জায়গা লাগছে।’
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করতে আগামী ১০ মার্চ বগুড়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সোয়া ১টার দিকে শিবগঞ্জের মহাস্থানগড়ে শাহ সুলতান বলখী (রহ.)-এর মাজারে জুমার নামাজের আগে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এ তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধনের জন্য বগুড়ায় আসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১০ মার্চ তিনি বগুড়ায় আসবেন বলে জানা গেছে।’
ফ্যামিলি কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড নির্বাচন করা হয়েছে। সম্ভাব্য সুফলভোগী পরিবার বাছাইয়ে ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে।
প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করে পৃথক জেলা ও উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়েও কমিটি করা হয়েছে।
জানা গেছে, প্রতি কার্ডধারী পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে। দেশের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীরা এ সুবিধার আওতায় আসবেন।
প্রতি ওয়ার্ডে যত পরিবার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে, তাদের সবাইকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। তবে প্রত্যেক সুবিধাভোগী পরিবার থেকে একজন নারী কার্ডধারী হিসেবে নিবন্ধিত থাকবেন। পরীক্ষামূলকভাবে চার মাস পাইলটিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
পাইলট কার্যক্রম সফল হলে ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য উপজেলাতেও এ কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঢাকা সফরের ব্যাপারে নিজের গভীর আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাতের প্রত্যাশা করছেন। আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসির ফিলিস্তিন বিষয়ক এক সভার ফাঁকে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে এই বিশেষ আগ্রহের কথা উঠে আসে।
বৈঠকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে তাঁর দেশের প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার কথা অবহিত করেন। আলোচনার এক পর্যায়ে ইসহাক দার বাংলাদেশের প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাথে তাঁর পূর্ববর্তী সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, "পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এবং তিনি ঢাকায় আসতে চান।"
দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, "নতুন সরকারের অধীনে দুই দেশের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাবে।" এছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের জোরালো ও নীতিগত অবস্থানের বিশেষ প্রশংসা করেন পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাতের সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ক্রমবর্ধমান মব কালচার দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শনের সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, ‘মব কালচার’ বা গণপিটুনির মতো আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং অপরাধী চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
তিনি আরও বলেন, মব কালচার রোধ করা সম্ভব, তবে এর জন্য সমাজের সব স্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিছু গোষ্ঠী পরিস্থিতি অস্থির রেখে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে।
তরুণ প্রজন্ম ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যে কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইনের কাঠামোর মধ্যেই সমাধান করতে হবে। নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া দেশের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলার গুরুত্ব তুলে ধরে আইজিপি বলেন, নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া বিনিয়োগ বৃদ্ধি সম্ভব নয়। এ দায়িত্ব শুধু পুলিশের নয়, এটি একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা। বিশেষ করে নগরাঞ্চলে নাগরিকদের আইন মানার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর তিনি জোর দেন।
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নগরবাসীর নিরাপত্তায় বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ঈদযাত্রা ও কেনাকাটার সময় ছিনতাই প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শপিং মল ও ব্যাংক এলাকায় বাড়তি নজরদারি থাকবে। কাউকে হয়রানি ছাড়া নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ ২৪ ঘণ্টা কাজ করবে বলেও জানান আইজিপি।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচন আগামী ২ জুন নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস। আলোচনায় থাকলেও ফিলিস্তিন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরে দায়িত্ব পরিবর্তনের কারণে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে নতুন প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়।
সূত্র আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন এবং ভোটের আগে সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচারণা জোরদার করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হবে। তার আগে ২ জুন অনুষ্ঠিত হবে সভাপতির নির্বাচন। প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক আবর্তন নীতিমালা অনুযায়ী এবার এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ অব স্টেটস থেকে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা।
ফিলিস্তিনকে আসন ছেড়ে দেওয়ার গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছে। তাদের দাবি, কয়েকটি দেশের কূটনৈতিক চাপের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
বাংলাদেশ এর আগে ২০২১ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছিল। এছাড়া ২০১৬-১৭ মেয়াদে ৭১তম অধিবেশনেও সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করে দেশটি। প্রায় চার দশক পর এবার সভাপতি পদে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে বাংলাদেশ।
এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সুয়ে। একই সঙ্গে ইউনাইটেড লীগ অব আরাকান (ইউএলএ)-এর চেয়ারম্যান ও আরাকান আর্মির প্রধান ত্বান ম্রাত নাইং প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন।
মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার ও সহযোগিতা বৃদ্ধির অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। আরাকান আর্মির প্রধান তার বার্তায় বলেন, নতুন দায়িত্বে তিনি বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধানের জন্য একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করেন এবং বাংলাদেশ ও আরাকানের মধ্যে বন্ধুত্বের নতুন পথ তৈরির সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার পূর্ণ উদ্যমে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি বিষয় একজন দক্ষ সিইও’র মতো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করছেন।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে লক্ষ্মীপুর সার্কিট হাউসে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জেলা লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার এই বাসিন্দার এটিই প্রথম সফর।
বিগত দেড় দশকের প্রশাসনিক ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে উপদেষ্টা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে জনপ্রশাসনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করায় এটি তার নিজস্ব নিরপেক্ষতা ও সক্ষমতা হারিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। তিনি তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছেন এবং ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। একটি প্রতিষ্ঠানের সিইও’র মতো প্রতিটি বিষয় বিস্তারিত দেখছেন এবং সেভাবেই কাজ আদায় করছেন।’ ইসমাইল জবিউল্লাহ আরও বলেন, ‘জনপ্রশাসন নিরপেক্ষতা হারিয়েছে, দক্ষতা হারিয়েছে। দেশের সর্বস্তরেই প্রায় ধ্বস নেমেছে। প্রশাসনও সেটা থেকে মুক্ত নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পলিসি অনুযায়ী আমরা একটা দক্ষ, নিরপেক্ষ, মেধাভিত্তিক প্রশাসন দেশের জনগণকে উপহার দেবো। তারা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে, প্রশাসক হিসেবে নয়। সবাই মিলে বাংলাদেশকে বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ হিসেবে পরিণত করবো।’
দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে নিজের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি জানান, সরকার ‘একটা উদার গণতান্ত্রিক এবং সমৃদ্ধ-জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়বো’—এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ও জনগণের আস্থার প্রতিফলন ঘটানোই প্রশাসনের বর্তমান মূল লক্ষ্য বলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দায়বদ্ধতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ এটি হচ্ছে আমাদের মূল পরিচয়, মূল বক্তব্য। নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি ছিল একরকম, নির্বাচনের পরে পুরোপুরি পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখন আমাদের সবার দায়িত্ব এসে পড়েছে। যে কথাগুলো বলে আমরা জনগণের কাছে গিয়েছি, ভোট চেয়েছি, জনগণ অকৃপণভাবে আমাদের ভোট দিয়েছে, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি বিজয় অর্জন করেছে। এই বিজয়ের সাংঘাতিক দায়ভার আছে। দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা অনেক। সেগুলো মনে রেখে আগামী দিনগুলোতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো।’
সার্কিট হাউসে পৌঁছানোর পর উপদেষ্টাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান এবং পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক তাকে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেন। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সংযুক্তির লক্ষ্যে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ভূমি-সংক্রান্ত আইনকে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ।
সৌদি আরবের জেদ্দায় ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের উন্মুক্ত নির্বাহী কমিটির বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এ অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সংযুক্তির উদ্দেশ্যে ইসরায়েলের ভূমি ক্রয়সংক্রান্ত সাম্প্রতিক আইন গ্রহণযোগ্য নয়।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই চলমান সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।
জেদ্দার বৈঠকে তিনি আরও বলেন, নতুন এই আইন ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের আইনগত ও জনমিতিক চরিত্র পরিবর্তনের লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে, যার মধ্যে আল-কুদস আল-শরিফও রয়েছে।
তিনি গভীর উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, পশ্চিম তীরে ভূমি ক্রয় সহজ করা ও ভূমি নিবন্ধন উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনি মালিকদের ভয়ভীতি ও হয়রানির ঝুঁকিতে ফেলছে। এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং ন্যায়ভিত্তিক ও স্থায়ী শান্তির ভিত্তি দুর্বল করছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই-রাষ্ট্র সমাধানের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের কার্যকর পথ। ইসরায়েলের ভূমি আইন প্রত্যাখ্যান করে ফিলিস্তিনিদের ভূমি অধিকার সুরক্ষার আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তাকর্মীদের অবাধ ও শর্তহীন প্রবেশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত নারী, পুরুষ ও শিশুদের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছানোর দাবি জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৈঠকে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর পক্ষ থেকে মুসলিম উম্মাহকে রমজানের শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, নবনির্বাচিত সরকার ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
বৈঠকের সাইডলাইনে তিনি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দার, গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মদু এনজি, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আগাবেকিয়ান, তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়া এবং সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ এলখরেইজি-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।
এসব আলোচনায় অংশ নেওয়া দেশগুলোর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সরকার ও জনগণকে অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিজয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান। তারা নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আগ্রহও প্রকাশ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকগুলোতে সরকারের পররাষ্ট্রনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং ওআইসি সচিবালয়ের কার্যকারিতা জোরদারের বিষয়ে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জোরালো সমর্থনের কথাও উল্লেখ করা হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তঃসরকারি সংস্থা বিষয়ক সচিব এম ফরহাদুল ইসলাম এবং ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এম জে এইচ জাবেদ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী এক ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। জুমার নামাজের পরপরই আকস্মিক এই কম্পনে জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে রাজধানীসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা এই ভূকম্পনে কেঁপে ওঠে।
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৫। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসাম ও মেঘালয় সীমান্তবর্তী এলাকায়। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার, যার ফলে কম্পনের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়েছে।
হঠাৎ এমন কম্পন শুরু হলে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ দ্রুত বাসাবাড়ি ও বহুতল ভবন থেকে নিচে নেমে খোলা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। ঢাকা ছাড়াও সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোতেও এই কম্পন বেশ জোরালোভাবে অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য যে, এই ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ২৮০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।
এর আগে গত বুধবার রাতে ৫.১ মাত্রা এবং বৃহস্পতিবার দুপুরে ৪.৬ মাত্রার দুটি পৃথক কম্পনে দেশ কেঁপে উঠেছিল। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে পর পর এমন ভূমিকম্পের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এদিনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার প্রাণহানি কিংবা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।