বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
২৪ পৌষ ১৪৩২

ঢাকাসহ ৪ বিভাগে বৃষ্টির আভাস

ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৫ অক্টোবর, ২০২৪ ০৫:২২

দেশের চার বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গতকাল সোমবার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে একথা জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা জানান, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, আজ মঙ্গলবার রংপুর, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আগামীকাল বুধবার রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

তারপরের দিন বৃহস্পতিবার রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বর্ধিত পাঁচ দিনে বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।


বাংলাদেশিদের বিজনেস ও ট্যুরিজম মার্কিন ভিসায় দিতে হবে জামানত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে গমনকারী বাংলাদেশিদের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বি১ ও বি২ ক্যাটাগরিতে ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত বা বন্ড জমা দিতে হবে। মূলত ভিসার অপব্যবহার এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার (ওভারস্টে) প্রবণতা রোধ করতেই ট্রাম্প প্রশাসন এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি আরও ৩৭টি দেশের ওপর এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে, যার মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হিসেবে নেপাল ও ভুটানও রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্যমতে, যেসব দেশের নাগরিকদের নির্ধারিত মেয়াদ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার হার ঐতিহাসিকভাবে বেশি, সেই দেশগুলোকেই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ভিসা ইস্যুকারী কনস্যুলার কর্মকর্তা ইন্টারভিউয়ের সময় প্রতিটি আবেদনকারীর প্রোফাইল পর্যালোচনা করে এই জামানতের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। আবেদনকারীকে এই প্রক্রিয়ার জন্য হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নির্দিষ্ট ফর্ম ‘I-352’ পূরণ করতে হবে এবং অর্থ জমা দেওয়ার জন্য শুধুমাত্র মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘Pay.gov’ ব্যবহার করতে হবে। তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে, এই জামানত বা বন্ড জমা দেওয়ার মানেই ভিসা প্রাপ্তির কোনো গ্যারান্টি নয়। যদি কোনো আবেদনকারী কনস্যুলার কর্মকর্তার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ছাড়া আগেই কোনো ফি বা জামানত জমা দেন, তবে সেই অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে না। এই নতুন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করতে চায় যে, ভ্রমণকারীরা দেশটিতে প্রবেশ করার পর আইন মেনে যথাসময়ে নিজ দেশে ফিরে যাবেন।

নতুন এই নিয়মে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও কিছু কঠোর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। জামানত প্রদানকারী ভিসা ধারীদের অবশ্যই নির্দিষ্ট তিনটি বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং প্রস্থান করতে হবে। এই বিমানবন্দরগুলো হলো—বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (BOS), নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (JFK) এবং ওয়াশিংটন ডুলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (IAD)। এই নির্ধারিত পথ ছাড়া অন্য কোনোভাবে যাতায়াত করলে সেটি নিয়মের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং বিমানবন্দর থেকেই প্রবেশ বা প্রস্থানের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। প্রতিটি প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি নিবিড়ভাবে রেকর্ড করবে, যার ওপর ভিত্তি করেই জামানতের পরবর্তী ভাগ্য নির্ধারিত হবে।

সবশেষে, এই জামানতের অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ভিসার শর্ত পালনের ওপর নির্ভর করবে। যদি কোনো পর্যটক বা ব্যবসায়ী তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বা মেয়াদের শেষ দিনে নিয়ম মেনে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন, তবে তাঁর জমা দেওয়া পুরো অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এছাড়াও যদি কারও ভিসা আবেদন শেষ পর্যন্ত প্রত্যাখ্যান করা হয় কিংবা কেউ ভিসা পাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ভ্রমণ না করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলেও তাঁরা অর্থ ফেরত পাবেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন অবস্থান করলে অথবা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো ধরনের আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) প্রার্থনা করলে সেই অর্থ চূড়ান্তভাবে বাজেয়াপ্ত করা হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপটি মূলত বৈধ পথে যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে একটি বড় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।


জরুরি অবতরণের নির্দেশ অমান্য পাইলটের, বিমানের ভেতরেই মারা গেলেন যাত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেট থেকে লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে এক অসুস্থ যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মাঝআকাশে ওই যাত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর পার্শ্ববর্তী কোনো বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের নির্দেশ দেওয়া হলেও পাইলট তা অমান্য করেছেন। গত ৩১ ডিসেম্বর সংঘটিত এই ঘটনায় ফ্লাইট বিজি ২০১-এর পাইলট আলেয়ার বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। বিমানটি যখন পাকিস্তানের আকাশসীমার ওপর দিয়ে যাচ্ছিল, তখনই এই জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে যাত্রীর প্রাণ রক্ষার্থে দ্রুততম সময়ে নিকটস্থ কোনো বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করার স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হলেও পাইলট তা উপেক্ষা করেন। তিনি পার্শ্ববর্তী বিমানবন্দরে না নেমে বরং দীর্ঘ তিন ঘণ্টা সময় ব্যয় করে পুনরায় ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ওই সংকটকালীন সময়টুকু ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল, কিন্তু প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসা সুবিধা না পাওয়ায় এবং মাঝআকাশে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার ফলে বিমানের ভেতরেই ওই যাত্রী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পাইলটের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে কেবল একটি মূল্যবান প্রাণের অবসানই ঘটেনি, বরং আবহাওয়াগত জটিলতায় বিমানটি ওই দিন আর লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা হতে না পারায় সাধারণ যাত্রীরাও চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম জানিয়েছেন যে, পুরো বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার নেপথ্য কারণ খুঁজে বের করতে বিমানের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিমানের পক্ষ থেকে গঠিত তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন সংস্থাটির ফ্লাইট সেফটি প্রধান। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন কাস্টমার সার্ভিসের জেনারেল ম্যানেজার এবং অ্যাকাউন্টস ও প্যাসেঞ্জার রেভিনিউ প্রসেস র‍্যাপিডের ম্যানেজার। এই কমিটি মূলত খতিয়ে দেখবে কেন পাকিস্তানের আকাশসীমা থেকে পার্শ্ববর্তী কোনো নিরাপদ বিমানবন্দরে না নেমে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো এবং এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা কতটুকু ছিল। এছাড়া সংশ্লিষ্ট যাত্রীর উড্ডয়ন পূর্ববর্তী মেডিকেল ফিটনেস যাচাই করা হয়েছিল কিনা এবং বিমানে থাকা জরুরি জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম ও প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা সময়মতো প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, সেসব বিষয়ও প্রতিবেদনে গুরুত্ব পাবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই সংশ্লিষ্ট পাইলট ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে।


নওগাঁয় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.৭ ডিগ্রি রেকর্ড

আপডেটেড ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:৪০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশে বয়ে যাওয়া তীব্র শীতের প্রকোপের মধ্যে আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে নওগাঁ। বুধবার সকাল ৬টার দিকে জেলার বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি শীত মৌসুমের এখন পর্যন্ত সারা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজশাহীতে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল, যা ছিল তখন পর্যন্ত মৌসুমের সর্বনিম্ন। নওগাঁর ওপর দিয়ে বর্তমানে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং এর সাথে যুক্ত হয়েছে উত্তরের হিমেল বাতাস ও বাতাসে অত্যধিক আর্দ্রতা। এই প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নওগাঁর সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি থমকে গেছে। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা প্রকৃতিতে সূর্যের দেখা না মেলায় হাড়কাঁপানো ঠান্ডার তীব্রতা বহুগুণ বেড়েছে।

শীতের এই ভয়াবহ প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন জেলার খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ। তীব্র ঠান্ডার কারণে ভোরবেলা কাজের সন্ধানে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় অনেক দিনমজুর ও রিকশাচালকের আয় মারাত্মকভাবে কমে গেছে। শহরের মোড়ে মোড়ে এবং গ্রামীণ জনপদে অসহায় মানুষদের খড়কুটো ও টায়ার জ্বালিয়ে আগুনের তাপে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা যাচ্ছে। হাড়কাঁপানো ঠান্ডার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে; নওগাঁর বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ নানা ধরণের ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন স্বজনরা।

বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানিয়েছেন যে, গত টানা তিন সপ্তাহ ধরে এ অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। আজ সকালের রেকর্ড করা তাপমাত্রা এ বছরে সারা দেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন। তিনি আরও সতর্ক করে দিয়েছেন যে, আকাশ মেঘলা থাকার কারণে এবং হিমেল বাতাসের প্রবাহ অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েকদিন এই শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে এবং তাপমাত্রা আরও নিচে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী ও শীতবস্ত্র বিতরণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। সামগ্রিকভাবে, তীব্র শীত আর কুয়াশার দাপটে নওগাঁর জনপদে এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।


হাদি হত্যার পেছনে সাবেক কাউন্সিলর

হত্যার ১৯ দিনের মাথায় তদন্ত শেষ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীকে। তাঁর নির্দেশেই ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে শরীফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। গত ১২ ডিসেম্বর গুলিবিদ্ধ হওয়ার ২৫ দিন এবং ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে হাদির মৃত্যুর ১৯ দিনের মাথায় গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই অভিযোগপত্রটি জমা দেওয়া হয়। দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করার বিষয়ে ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, কোনো তাড়াহুড়ো না করে বরং সকল তথ্য-প্রমাণ ও ফরেনসিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করেই এই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

ডিবির পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শরীফ ওসমান হাদি নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করেছিলেন এবং তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিগত কর্মকাণ্ড নিয়ে অত্যন্ত সোচ্চার ও সমালোচনামূলক বক্তব্য প্রদান করতেন। তাঁর এই রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা তাঁর ওপর চরমভাবে ক্ষুব্ধ ছিল। চার্জশিটে অভিযুক্ত ১৭ জনের মধ্যে ১২ জন ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হলেও শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও পরিকল্পনাকারী তাইজুল ইসলামসহ ৫ জন এখনো পলাতক রয়েছেন। আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং হাদির দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যের সূত্র ধরেই পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। তদন্তকালে উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যালিস্টিক পরীক্ষা এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামিদের সরাসরি সম্পৃক্ততার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি।

অভিযোগপত্রে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের পাশাপাশি বিভিন্নভাবে সহায়তা প্রদানকারীদের নামও উঠে এসেছে। ফয়সাল ও মোটরসাইকেল চালক আলমগীরকে সীমান্ত পার হতে এবং আত্মগোপনে আর্থিক সহায়তা প্রদান করার জন্য ফয়সালের বাবা-মা, বোন এবং ভগ্নিপতিসহ নিকটাত্মীয়দের অভিযুক্ত করা হয়েছে। এমনকি সীমান্ত পার করে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যারা কাজ করেছেন, তাদেরও এই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি শুটার ফয়সাল দুবাই থেকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও ডিবি প্রধান সেই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। ডিবির মতে, ফয়সাল দুবাইয়ে থাকার যে দাবি করছেন তা সঠিক নয় এবং ভিডিওটির ফরেনসিক পরীক্ষা এখনো বাকি থাকলেও প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী তাঁর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত।

তবে পুলিশের এই তদন্ত প্রতিবেদন এবং অভিযুক্তদের তালিকা মানতে নারাজ ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, মাত্র একজন ওয়ার্ড কমিশনারের নির্দেশে এমন হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়া পাগলেও বিশ্বাস করবে না। তিনি দাবি করেন, এই খুনের পেছনে একটি বিশাল প্রভাবশালী চক্র এবং খোদ রাষ্ট্রযন্ত্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। প্রকৃত দোষীদের আড়াল করতেই প্রশাসন দায়সারাভাবে এই চার্জশিট তৈরি করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ইনকিলাব মঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, রাষ্ট্রযন্ত্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় না আনা পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন ও লড়াই অব্যাহত থাকবে। দ্রুত তদন্ত শেষ করার বিষয়টি নিয়েও বিশেষজ্ঞ মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, যেখানে ন্যায়বিচার নিশ্চিতের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ যোগসূত্র উপস্থাপনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া শরীফ ওসমান হাদিকে গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগরের কালভার্ট রোডে দিনে-দুপুরে গুলি করা হয়। প্রথমে ঢাকা ও পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এই ঘটনা দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার প্রশ্নে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। মামলার এই পর্যায়ে এসে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলেও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ইনকিলাব মঞ্চের তোলা নতুন অভিযোগগুলো এই বিচার প্রক্রিয়াকে আগামী দিনে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ডিবি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে এই মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করার পথও খোলা রয়েছে।


পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে আলোচনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষে পাকিস্তানের কাছ থেকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডন সেদেশের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) বরাত দিয়ে এই খবরটি প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, সম্প্রতি ইসলামাবাদে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধানদের মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের সামরিক নেতৃত্বের এই বৈঠকটি মূলত প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মহাকাশ গবেষণায় পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হলেও সেখানে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বহুমুখী ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়টি।

জেএফ-১৭ থান্ডার বিমানটি মূলত চীন ও পাকিস্তানের যৌথ প্রযুক্তিতে তৈরি একটি আধুনিক যুদ্ধবিমান। পাকিস্তান বিমানবাহিনী ভারতের সাথে ২০১৯ এবং ২০২৫ সালের সংঘাতের সময় এই বিমানটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের আইএসপিআর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান ইসলামাবাদ সফরকালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর (পিএএফ) প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অপারেশনাল সহযোগিতা বাড়ানো এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলাপ হয়েছে। এ সময় সফররত বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধানকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়টি নিয়ে এখনই চূড়ান্ত ঘোষণা না দেওয়া হলেও বিষয়টি যে সক্রিয় বিবেচনার অধীনে রয়েছে তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি-উদ-দৌলা চৌধুরী জানিয়েছেন যে, বিষয়টি বর্তমানে মূল্যায়ন পর্যায়ে রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল সিধু বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে পিএএফ-এর সাম্প্রতিক প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন এবং বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া তিনি ‘সুপার মুশশাক’ প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহ এবং একটি দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন।

বৈঠক চলাকালে বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধান পিএএফ-এর গৌরবময় রেকর্ড এবং তাদের অপারেশনাল দক্ষতার প্রশংসা করেন। তিনি বিশেষ করে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পুরনো হয়ে যাওয়া যুদ্ধবিমান বহরের রক্ষণাবেক্ষণ এবং দেশের আকাশসীমায় নজরদারি বাড়ানোর জন্য আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা রাডার সিস্টেম সংহতকরণের বিষয়ে পাকিস্তানের কারিগরি সহায়তা কামনা করেছেন। সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলটি পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করেছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কেবল শক্তিশালী ঐতিহাসিক সম্পর্কই পুনর্জীবিত হয়নি, বরং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে গভীর সহযোগিতা এবং একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার নতুন পথ তৈরি হয়েছে। এটি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যেও এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


মাংসের উৎপাদন খরচ কমলে দামও কমবে : মৎস্য উপদেষ্টা    

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, ৪ এফ মডেলের রেপ্লিকা মডেল দিয়ে ঘাস থেকে শুরু করে বায়ু ফুয়েল এবং জৈবসার তৈরির যে প্রক্রিয়া, সেটি খুব কম খরচে ক্ষুদ্র খামারি পর্যায়েও করা যাবে। উৎপাদন খরচ কমে গেলে নিশ্চয় মাংসের দামও কমে যাবে এবং মাংসের সরবরাহ বাড়াতে পারব।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকালে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআইতে) ‘৪ এফ মডেল’-এর রেপ্লিকা উদ্বোধন ও সেমিনার অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, আমি সবসময় ক্ষুদ্র খামারিদের কথা চিন্তা করি এবং মূল্যায়ন করি।

আমার কাছে এটি খুব সম্ভাবনাময় মডেল মনে হচ্ছে এবং এটা আমাদের আমিষের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখবে। আমাদের প্রথম চেষ্টাই হলো উৎপাদনে খরচ কমানো। কারণ উৎপাদনে খরচ কমানো না গেলে পণ্যের দামটাও কমবে না। তাই বিদেশি জাত দিয়ে নিয়ে আমাদের দেশীয় জাতকে আরও বেশীসংখ্যক পালনের মাধ্যমে মাংসের উৎপাদন বাড়াতে পারলে দাম কমানো যাবে।

বর্তমান সরকারের সফলতার বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রথমত নতুনভাবে নতুন ধরনের কাজ করে এবং নানা ধরনের মানুষকে সম্পৃক্ত করে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে এবং নতুন চিন্তা করছে, এটাই আমাদের সরকারের সফলতা।

উপদেষ্টা আরও বলেন, আমরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বিভিন্নভাবে আমাদের যেসব সমস্যা সামনে এসেছে তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতের জন্য আমরা অনেকগুলো নীতি পরিবর্তন করে দিচ্ছি, যা পরবর্তীতে যে সরকারই আসুক তাদের রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে এগুলো কাজে আসবে।

এর আগে তিনি বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘আইওটি বেইজড ৪ এফ মডেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের খরা-প্রবণ ও উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই জলবায়ু সহিষ্ণু প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সেমিনার ও ‘৪ এফ মডেল’-এর রেপ্লিকা উদ্বোধন করেন।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) গাজী মো. ওয়ালি-উল-হক। বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান।

সেমিনারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রাণী ও পোলট্রি উৎপাদন এবং খামার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত বিশেষজ্ঞ, খামারি, উদ্যোক্তা ও সংগঠনের প্রতিনিধি, বিএলআরআইয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


অবৈধ ফোনে বছরে ৬ হাজার কোটি টাকা হারাচ্ছে সরকার

মুঠোফোন নিবন্ধন ব্যবস্থা কঠোরভাবে চালুর দাবি
মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এমআইওবি) সংবাদ সম্মেলন
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে অবৈধ বা ‘গ্রে মার্কেটের’ স্মার্টফোনের দাপটে সরকার প্রতি বছর আনুমানিক ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলে দাবি করেছেন মোবাইল ফোন উৎপাদনকারীরা। এই বিশাল আর্থিক ক্ষতি রোধ এবং দেশীয় মোবাইল শিল্প সুরক্ষায় অবিলম্বে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) বা মোবাইল হ্যান্ডসেট নিবন্ধন ব্যবস্থা কঠোরভাবে চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইওবি) আয়োজিত ‘এনইআইআর-এর মাধ্যমে নিরাপদ বাংলাদেশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার ও এমআইওবির নির্বাহী সদস্য জিয়াউদ্দিন চৌধুরী। তিনি জানান, বর্তমানে দেশে আসা স্মার্টফোনের প্রায় ২০ শতাংশই অবৈধ পথে আসছে। এর ফলে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির বাইরে থাকছে।

তিনি আরও বলেন, ‘৪৩ শতাংশ কর ফাঁকি দিয়ে আসা গ্রে মার্কেটের পণ্যের সঙ্গে বৈধ উৎপাদনকারীদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের অফিসিয়াল স্মার্টফোন বিক্রি কার্যত থমকে গেছে। এনইআইআর কার্যকর হলে এই বিশৃঙ্খলা বন্ধ হবে এবং হ্যান্ডসেটের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসবে।’

অবৈধ ফোন বন্ধ হলে হাজার হাজার দোকান বন্ধ হয়ে যাবে- ব্যবসায়ীদের একাংশের এমন দাবির বিপরীতে জিয়াউদ্দিন চৌধুরী গবেষণার তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশে স্মার্টফোনের ১৩ হাজার খুচরা দোকানের মধ্যে ৯০ শতাংশই বৈধ পণ্য বিক্রি করে। মাত্র এক হাজার থেকে দেড় হাজার দোকান অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ফলে ‘২০ হাজার দোকান বন্ধ হওয়ার’ দাবিটি জনসমর্থন আদায়ের একটি কৌশল মাত্র।

সরকারকে স্মার্টফোনকে কেবল ‘বিলাসদ্রব্য’ হিসেবে না দেখে ডিজিটাল অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে দেখার অনুরোধ জানানো হয়। জিয়াউদ্দিন চৌধুরী আসন্ন বাজেটে বিদ্যমান ৪৩ শতাংশ কর পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্মার্টফোন সহজলভ্য হলে এমএফএস ও ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয় আরও বাড়বে।

এমআইওবির সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, ‘দেশীয় কারখানাগুলো এখন কেবল যন্ত্রাংশ জোড়া লাগায় না, বরং এসএমটি ও পিসিবিএ-র মতো উন্নত প্রযুক্তিতে পৌছেছে। বর্তমানে দেশে উৎপাদিত ফোনে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য সংযোজন হচ্ছে। এনইআইআর চালু হলে উচ্চমূল্যের স্মার্টফোনও দেশে উৎপাদন করে সাশ্রয়ী মূল্যে ভোক্তার হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত এনইআইআর পদ্ধতি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।


হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল: ফয়সালসহ ১৭ জন অভিযুক্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট বা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দীর্ঘ তদন্ত ও প্রাপ্ত তথ্যাদি বিচার-বিশ্লেষণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে বলেই এই চার্জশিট প্রদান করা হয়েছে। অভিযুক্ত ১৭ জনের মধ্যে ইতিমধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি ৫ জন পলাতক রয়েছেন, যাদের খুঁজে বের করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

ডিবির তদন্তে উঠে এসেছে যে, ওসমান হাদিকে পরিকল্পিতভাবে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই হত্যা করা হয়েছে। ডিবি প্রধান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ইতিপূর্বে বিভিন্ন মাধ্যমে ভিডিও বার্তা দিলেও তদন্তে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। ফলে আইনের হাত থেকে তাঁর রক্ষা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। শরিফ ওসমান হাদির মতো একজন মেধাবী ও সক্রিয় সংগঠকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল, যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সরব ছিল বিভিন্ন মহল।

এই হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট স্মরণ করলে দেখা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ঠিক পরদিন ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে এই ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হয়। ওসমান হাদি যখন রিকশায় করে যাচ্ছিলেন, তখন একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা তাঁর মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। তবে সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে ১৮ ডিসেম্বর সেখানে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এই ঘটনার পরপরই ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। পরবর্তীতে ওসমান হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি নিয়মিত হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই এই মামলার তদন্তে স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। আজকের চার্জশিট দাখিলের মাধ্যমে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় এক নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরু হলো। সাধারণ জনগণ ও ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা এখন আদালতের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।


গভীর সমুদ্রে গবেষণা ও সমস্যা চিহ্নিত করতে গুরুত্বারোপ প্রধান উপদেষ্টার

আপডেটেড ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৪:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার বিশাল মৎস্যসম্পদ ও নীল অর্থনীতির সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে গভীর সমুদ্রে নিবিড় গবেষণা ও বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ মঙ্গলবার সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গবেষণা জাহাজ ‘আর. ভি. ড. ফ্রিদজফ ন্যানসেন’-এর মাধ্যমে পরিচালিত জরিপ ও গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রধান উপদেষ্টার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়ার সময় তিনি এই নির্দেশনা দেন। গত বছরের ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আটটি দেশের ২৫ জন বিজ্ঞানীর সমন্বয়ে এই জরিপ পরিচালিত হয়, যার মধ্যে ১৩ জন ছিলেন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ। প্রতিবেদনটি জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরীসহ পদস্থ কর্মকর্তারা।

গবেষণায় উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্যের বিষয়ে অধ্যাপক সায়েদুর রহমান জানান যে, এই জরিপের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের গভীরে নতুন ৬৫ প্রজাতির জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে গবেষণায় কিছু নেতিবাচক দিকও ফুটে উঠেছে, যা সামুদ্রিক ইকোসিস্টেমের জন্য বড় হুমকি। বিশেষ করে গভীর সমুদ্রে জেলিফিশের সংখ্যা অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে গেছে, যা মূলত ‘ওভারফিশিং’ বা অতিরিক্ত মাছ শিকারের ফলে তৈরি হওয়া প্রাকৃতিক ভারসাম্যের অভাবকে নির্দেশ করে। এছাড়া সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার মিটার গভীরতায়ও প্লাস্টিকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যা সামুদ্রিক পরিবেশের ভয়াবহ দূষণ চিত্র তুলে ধরেছে। ২০১৮ সালের এক গবেষণার সাথে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করে দেখা গেছে, গভীর সমুদ্রে বড় মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে এবং স্বল্প গভীর পানিতে মাছের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়েও বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বর্তমানে গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণে নিয়োজিত ২৭০ থেকে ২৮০টি বড় ট্রলারের মধ্যে অন্তত ৭০টি ট্রলার ‘সোনার’ (Sonar) প্রযুক্তির মাধ্যমে অত্যন্ত আগ্রাসী পদ্ধতিতে মাছ শিকার করছে। এই পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট মাছ লক্ষ্য করে জাল ফেলার কারণে গভীর সমুদ্রের মজুদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উপকূলীয় ও স্বল্প গভীর পানিতে মাছ শিকার করা সাধারণ জেলেরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন। মৎস্য উপদেষ্টা ফরিদা আখতার সতর্ক করে বলেন যে, এমন পরিকল্পিত ও আগ্রাসী মাছ শিকার অব্যাহত থাকলে বঙ্গোপসাগর খুব দ্রুতই মাছশূন্য হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে। এমতাবস্থায় সরকার ‘সোনার ফিশিং’ বন্ধের বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

অবশ্য গবেষণার ফলাফল বাংলাদেশের জন্য কিছু আশার আলোও নিয়ে এসেছে। দেশের সমুদ্রসীমায় প্রচুর পরিমাণে টুনা মাছের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। এছাড়া সুন্দরবনের নিচে একটি প্রাকৃতিক ফিশিং নার্সারির সন্ধান পাওয়া গেছে, যা সংরক্ষণের জন্য সরকার ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করেছে। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের স্থলভাগের প্রায় সমপরিমাণ এলাকা জলভাগে থাকলেও আমরা এই বিশাল সম্পদকে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারছি না। সামুদ্রিক সম্পদের সঠিক পরিমাণ ও সম্ভাবনা জানতে পর্যাপ্ত গবেষণা এবং শক্তিশালী পলিসি সাপোর্টের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।

সামুদ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈঠকে আরও জানানো হয় যে, যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভির বহুমুখী ওশেনোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে, যা সমুদ্রের তলদেশের তথ্য সংগ্রহে সহায়ক হবে। প্রধান উপদেষ্টা জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও মালদ্বীপের মতো দেশগুলোর সাথে যৌথ গবেষণা ও তথ্য আদান-প্রদানের ওপর জোর দেন। তিনি বিশ্বাস করেন, বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের সঠিক প্রয়োগ ও সমস্যা সমাধানের মাধ্যমেই নীল অর্থনীতি বাংলাদেশের অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। সমুদ্র সম্পদ রক্ষা ও উন্নয়নের এই উদ্যোগ জাতীয় সমৃদ্ধির পথে এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।


বীরাঙ্গনা যোগমায়া মালো আর নেই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শরীয়তপুরের অকুতোভয় বীরাঙ্গনা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগমায়া মালো আর নেই। বার্ধক্যজনিত নানাবিধ জটিলতা এবং দুরারোগ্য ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে গত সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার মধ্যপাড়া এলাকার নিজ বাসভবনে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। এই বীর নারীর প্রয়াণে স্থানীয় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিকেলে তাঁর অন্তিমযাত্রার আগে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা স্বরূপ ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইলোরা ইয়াসমিন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সম্মান প্রদর্শন করেন এবং মরহুমার বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শোক জ্ঞাপন করেন।

যোগমায়া মালোর জীবন ছিল একাত্তরের দুঃসহ স্মৃতি ও অসীম ত্যাগের এক অনন্য উপাখ্যান। ১৯৭১ সালের ২২ মে শরীয়তপুর সদরের মনোহর বাজারের দক্ষিণ মধ্যপাড়া এলাকায় যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হিন্দু অধ্যুষিত জনপদে তাণ্ডব চালায়, তখন মাত্র ১৫ বছরের কিশোরী গৃহবধূ ছিলেন যোগমায়া মালো। সেই দিন তাঁকে ঘর থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মাদারীপুরের এআর হাওলাদার জুট মিলে অন্তত ১০০ জন নারী-পুরুষের সঙ্গে বন্দি করা হয়। সেখানে পুরুষদের নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হলেও নারীদের ওপর চালানো হয়েছিল তিন দিনব্যাপী অমানবিক পাশবিক নির্যাতন। সেই ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করেও যোগমায়া মালো কেবল জীবনের টানেই ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৭ বছর পর ২০১৮ সালে তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে বীরাঙ্গনা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করেন।

মরহুমার জামাতা সুভাষ দাড়িয়া জানান যে, তাঁর শাশুড়ি দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন এবং শেষ সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সসম্মানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ায় তাঁরা পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিন এই বীর নারীর অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন যে, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনা যোগমায়া মালোর জন্য কিছুদিন আগেই সরকারের পক্ষ থেকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তিনি জীবনের শেষ সময়টুকু স্বস্তিতে কাটাতে পেরেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর এই আত্মত্যাগ এবং দেশপ্রেমের ইতিহাস শরীয়তপুরবাসী ও নতুন প্রজন্ম চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে মনে রাখবে। প্রশাসনিক সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে পারিবারিক উদ্যোগে তাঁকে সসম্মানে বিদায় জানানো হয়।


ওবায়দুল কাদেরসহ ১৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ১৪ জন সাবেক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ মোট ১৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে করা এক বিশেষ আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা যাতে তদন্ত চলাকালীন দেশত্যাগ করতে না পারেন, সেজন্যই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম এই নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদনটি দাখিল করেছিলেন।

দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও রয়েছেন একঝাঁক সাবেক ক্ষমতাধর সচিব। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—সেতু বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের মো. নজরুল ইসলাম, জননিরাপত্তা বিভাগের মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, বিদ্যুৎ বিভাগের আহমদ কায়কাউস, ভূমি মন্ত্রণালয়ের মো. আবদুল জলিল এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জাফর আহমেদ খান। তালিকায় আরও নাম রয়েছে—সাবেক অর্থ ও সিএএজি সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের মোহাম্মদ শহিদুল হক, এসডিজি–বিষয়ক সাবেক মুখ্য সমন্বয়ক মিজ জুয়েনা আজিজ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মো. মোফাজ্জেল হোসেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কাজী শফিকুল আযম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আখতার হোসেন ভূঁইয়া এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

দুদকের আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘন করে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁরা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট মূল্যবান জমিতে ব্যক্তিস্বার্থে ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন করেছেন এবং নীতিবহির্ভূতভাবে ফ্ল্যাট বরাদ্দ নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন। এমনকি অনুমোদিত নীতিমালাগুলো আইন অনুযায়ী গেজেট বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ না করার অভিযোগও তাঁদের বিরুদ্ধে রয়েছে। বর্তমানে এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছে দুদক। তদন্তকালে সংস্থাটি জানতে পেরেছে যে, অভিযুক্তরা সপরিবারে দেশত্যাগ করে বিদেশের মাটিতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। আসামিরা যদি একবার বিদেশে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন, তবে চলমান এই মামলা ও তদন্ত কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত বা দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা ও সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে তাঁদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া অপরিহার্য ছিল বলে মনে করেছেন আদালত।


রাজশাহীতে হাড়কাঁপানো শীত: দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি রেকর্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে জেঁকে বসা শীতের প্রকোপের মধ্যে আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে রাজশাহী। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় উত্তরের এই জনপদে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মাত্র ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন। আকাশে ঘন কুয়াশার দাপট খুব বেশি না থাকলেও ভোর থেকে বয়ে যাওয়া হাড়কাঁপানো হিমেল হাওয়ায় জনজীবন অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে আসায় এবং বাতাসের আর্দ্রতা ১০০ শতাংশ থাকায় শীতের অনুভূতি অন্যান্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে।

প্রকৃতির এই রুদ্ররূপে রাজশাহীর শহর ও গ্রাম—উভয় অঞ্চলেই মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাহত হচ্ছে। আজ ভোর ৬টা ৪৭ মিনিটে সূর্যোদয় হওয়ার কথা থাকলেও সকাল ১০টা পর্যন্ত কুয়াশাচ্ছন্ন ও মেঘলা আকাশের কারণে সূর্যের দেখা মেলেনি। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের উষ্ণতা না পাওয়ায় শীতের দাপট আরও বেড়েছে। রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশ কম লক্ষ্য করা গেছে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের জন্য এই আবহাওয়া চরম অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শীতের এই তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ। সকালে পেটের তাগিদে বাইরে বের হওয়া রিকশাচালক ও কুলি-মজুরদের ঠান্ডায় কাহিল হতে দেখা গেছে। স্থানীয় রিকশাচালক আব্দুল কুদ্দুস তাঁর কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন যে, ঠান্ডায় হাত-পা জমে যাওয়ার মতো অবস্থা হলেও জীবিকার তাগিদে তাঁদের রাস্তায় নামতে হচ্ছে। মাঘ মাস আসার আগেই এমন অস্বাভাবিক শীতের দাপট এবং কনকনে বাতাসে সড়কের পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন জানিয়েছেন, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকায় এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রার এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও আভাস দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতার্ত ও দুস্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের প্রক্রিয়া শুরু হলেও চাহিদার তুলনায় তা সামান্য বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বর্তমান পরিস্থিতিতে খড়কুটা জ্বালিয়ে অনেককে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। সামগ্রিকভাবে, তীব্র শীতের গ্রাসে রাজশাহী অঞ্চলের স্বাভাবিক ছন্দ এখন অনেকটাই থমকে গেছে।


সাগর-রুনি হত্যা : মামলার প্রতিবেদন পেছাল ১২৩ বার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 নিজস্ব প্রতিবেদক 

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়ে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। এ নিয়ে এ পর্যন্ত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২৩ বার পেছানো হলো। সোমবার (৫ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত এই দিন ধার্য করেন। এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের অতিরিক্ত এসপি মো. আজিজুল হক আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। তাই আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এ তারিখ ধার্য করেন।

এ মামলার আসামিরা হলেন- রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুন, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাড়ির দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের ‘বন্ধু’ তানভীর রহমান খান। এদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ জামিনে রয়েছেন। বাকিরা কারাগারে আটক রয়েছেন।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে হত্যা করা হয়। এরপর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই)। চার দিন পর চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে রহস্য উদ্‌ঘাটনে ব্যর্থ হয় ডিবি। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে একই বছরের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলার তদন্তভার র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর সাগর ও রুনি হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্তে বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। তাদের ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে বলা হয়। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত থেকে র‍্যাবকে সরিয়ে দেওয়ারও আদেশ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ৬ এপ্রিল দিন ধার্য করা হয়। পরে ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগ থেকে টাস্কফোর্স গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়।


banner close