বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
৯ বৈশাখ ১৪৩৩

অতীতে বাংলাদেশের কোন রাষ্ট্রপতি কীভাবে বিদায় নিয়েছিলেন

শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান ও খন্দকার মোশতাক আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
বিবিসি বাংলা
প্রকাশিত
বিবিসি বাংলা
প্রকাশিত : ২৩ অক্টোবর, ২০২৪ ১৯:২০

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে রাষ্ট্রপতি এবং বঙ্গভবনকে কেন্দ্র করে নানা ঘটনাপ্রবাহ দেখা যায়। দেশটিতে এখন পর্যন্ত যতজন রাষ্ট্রপতি এসেছেন তাদের মধ্যে অনেকের বিদায় সুখকরও হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে- কেউ ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন, কেউ রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। অনেক সময় দেখা গেছে রাষ্ট্রপতির সাথে ক্ষমতাসীন দলের মানসিক দূরত্ব তৈরির কারণে তাদের পদ ছেড়ে যেতে হয়েছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এখনো পর্যন্ত যেসব রাষ্ট্রপতি ছিলেন তাদের বিদায় কীভাবে হয়েছিল? এই লেখায় সেদিকে ফিরে তাকানো হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পরে যে প্রবাসী সরকার গঠন করা হয়েছিল সেখানে রাষ্ট্রপতি ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। যেহেতু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন সেজন্য অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি দেশে আসার পর শেখ মুজিবুর প্রধানমন্ত্রী হন এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে।

আবু সাঈদ চৌধুরী

আবু সাঈদ চৌধুরী লন্ডন থেকে ফিরে ১৯৭২ সালের ১২ই জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। তখন শেখ মুজিবুর রহমান হয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু রাষ্ট্রপতি পদে থাকার সময় নানা বিষয় নিয়ে আবু সাঈদ চৌধুরীর মধ্যে মনোবেদনা তৈরি হয়।

তার এসব মনোবেদনার কথা রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে প্রকাশ করেছিলেন। মি. চৌধুরী মনে করতেন তাকে অবহেলায় রাখা হয়েছে এবং তিনি দেশের কোনো কাজে লাগছেন না। তাছাড়া বঙ্গভবনে তার দম বন্ধ হয়ে আসছিল। তখন বঙ্গভবনে কর্মরত ছিলেন মাহবুব তালুকদার, যিনি পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনার হয়েছিলেন। বঙ্গভবনের নানা ঘটনা নিয়ে মাহবুব তালুকদার ‘বঙ্গভবনে পাঁচ বছর’ শিরোনামে একটি বই লিখেছেন।

সে বইতে মি. তালুকদার লিখেছেন, প্রথম দিকে কয়েকজন মন্ত্রী তার সঙ্গে দেখা করতে আসলেও কালক্রমে দেখা গেল প্রায় সবাই ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় রাষ্ট্রপ্রধানকে পরিহার করেছেন। রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালনকালে তিনি স্বভাবতই আশা করেছিলেন মন্ত্রীরা নিয়মানুযায়ী তার সঙ্গে মাঝে মাঝে সাক্ষাৎ করে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের বিষয় ও সমস্যাদি নিয়ে আলোচনা করবেন।

এছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনার নানা ইস্যু এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতি নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের নানা সিদ্ধান্ত পছন্দ করেননি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে আর কিছুদিন গেলেই রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার মানসিক দূরত্ব জনসমক্ষে প্রকাশ হয়ে যেতো। এমন প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী পদত্যাগ করেন ১৯৭৩ সালের ২৪শে ডিসেম্বর।

মুহম্মদুল্লাহ

আবু সাঈদ চৌধুরীর পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি করা হয় মুহম্মদুল্লাহকে। তিনি ছিলেন তৎকালীন জাতীয় সংসদের স্পিকার। ব্যক্তিত্বের দিক থেকে আবু সাঈদ চৌধুরী এবং মুহম্মদুল্লাহর মধ্যে অনেক ফারাক ছিল। তাকে নিয়ে সরকারের সাথে কখনো টানাপড়েন সৃষ্টি হয়নি। রাষ্ট্রপতি মুহম্মদুল্লাহ নিজেও এসব বিষয় নিয়ে খুব একটা চিন্তা করতেন না। রাষ্ট্রপতি মুহম্মদুল্লাহকে খুব একটা মূল্যায়ন করা হতো না। এ বিষয়টি নিয়ে তিনি বিচলিত ছিলেন না।

এ রকম একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন মাহবুব তালুকদার। ১৯৭৫ সালের ৮ই জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির কর্মসূচি অনুযায়ী নেপালের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে আসার কথা। এজন্য রাষ্ট্রপতি মুহম্মদুল্লাহ নিজেও তৈরি ছিলেন। কিন্তু সকালে পত্রিকা মারফত তিনি জানতে পারলেন, নেপালের প্রধানমন্ত্রী আজ ঢাকায় আসছেন না। ঢাকায় আসার তারিখ তিনি দুদিন আগেই পিছিয়েছেন। কিন্তু বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রপতিকে জানানোর প্রয়োজন মনে করেনি। ১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতি ছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমান একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি মুহম্মদুল্লাহর মেয়াদও শেষ হয়।

শেখ মুজিবুর রহমান

১৯৭৫ সালের ২৫ শে জানুয়ারি সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালু করে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার। এর মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার প্রবর্তন করা হয়। শেখ মুজিবুর রহমান পুনরায় রাষ্ট্রপতি হন। শেখ মুজিবুর রহমানের যে পদক্ষেপ নিয়ে এখনও সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হয়, সেটি হচ্ছে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা। এই শাসন ব্যবস্থা বাকশাল নামে পরিচিত। এই শাসনব্যবস্থা শেখ মুজিবুর রহমান খুব বেশিদিন ধরে রাখতে পারেননি। বাকশাল প্রবর্তনের মাত্র সাত মাসের মাথায় সেনাবাহিনীর তৎকালীন কিছু কর্মকর্তা তাকে হত্যা করে। শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন খন্দকার মোশতাক আহমদ।

খন্দকার মোশতাক আহমেদ

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর খন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। তিনি মোট ৮১ দিন রাষ্ট্রপতি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন মুজিবনগর সরকারের পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী।

স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রিসভায় তিনি বিদ্যুৎ, সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং পরে তাকে বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। শেখ মুজিবুর রহমানের গঠিত বাকশালে খন্দকার মোশতাক আহমদ ছিলেন কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে একটি অভ্যুত্থানের পর ৫ই নভেম্বর তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।

আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম

খন্দকার মোশতাক আহমেদ ক্ষমতাচ্যুত হবার পরে আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ১৯৭৫ সালের ৬ই নভেম্বর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি। তিনি রাষ্ট্রপতি হলেও তখন রাষ্ট্রক্ষমতা ছিল কার্যত সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের হাতে। ইতিহাসবিদরা মনে করেন, আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ছিলেন ‘ক্ষমতাহীন’ রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সংসদ ও মন্ত্রী পরিষদ ভেঙে দিয়ে সারা দেশে সামরিক আইন জারি করেন এবং নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষণা করেন।

এ বিষয়টিকে অনেকে নজিরবিহীন বলে বর্ণনা করেন। একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি এবং বেসামরিক রাষ্ট্রপতি কীভাবে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হতে পারেন সেটি নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছিল। নির্বাচন অনুষ্ঠানে অপারগতার জন্য তিনি দায়ী করেছিলেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমা‌নের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে।

রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগের পর অবসর জীবনে আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম একটি বই লিখেছেন ‘অ্যাট বঙ্গভবন: লাস্ট ফেইজ’। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, অনেকটা তাড়াহুড়ো করেই তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে যান। মূলত; তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান চাননি যে আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম আর রাষ্ট্রপতি থাকুক। ১৯৭৭ সালের ২১ শে এপ্রিল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম। যদিও মি. সায়েমের পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল তার ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের বিষয়টি।

জিয়াউর রহমান

১৯৭৭ সালের ২১শে এপ্রিল তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম সরিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জিয়াউর রহমান উপরাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে প্রধান করে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) প্রতিষ্ঠা করেন।

ছয়টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত ফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। এ নির্বাচন নিয়ে বেশ বিতর্ক ছিল। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এটিকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ বলে অভিহিত করেন। জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর প্রধানের পদ না ছেড়েই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি বা বিএনপি গঠন করেন। ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে। ১৯৮১ সালের ৩০শে মে একদল সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে।

আব্দুস সাত্তার

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সহ-সভাপতি পদে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি আব্দুস সাত্তার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৬৬% ভোট পেয়ে তিনি নির্বাচিত হন। যদিও সে নির্বাচন নিয়ে বেশ বিতর্ক ছিল। ১৯৮২ সালের ২৪শে মার্চ সেনাপ্রধান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ কর্তৃক এক সামরিক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার ক্ষমতাচ্যুত হন।

আহসান উদ্দিন চৌধুরী

১৯৮২ সালের ২৪শে মার্চ তৎকালীন সেনাপ্রধান এইচ এম এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ঘোষণা করেন। এর তিনদিন পর, অর্থাৎ ১৯৮২ সালের ৩০ শে মার্চ জেনারেল এরশাদ আহসান উদ্দিন চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি পদে বসান। কিন্তু বিচারপতি চৌধুরীর কোনো প্রকার কর্তৃত্ব ছিল না, কারণ ঘোষিত সামরিক আইনে সুনির্দিষ্টভাবে বলা ছিল যে সিএমএলএর উপদেশ বা অনুমোদন ব্যতীত প্রেসিডেন্ট কোনো ক্ষমতা প্রয়োগ বা কোনো ভূমিকা পালন করতে পারবেন না। আহসান উদ্দিন চৌধুরী ২০ মাসের মতো রাষ্ট্রপতি ছিলেন। এক পর্যায়ে জেনারেল এরশাদ আহসান উদ্দিন চৌধুরীকে সরিয়ে দিয়ে নিজেই রাষ্ট্রপতি হন।

এইচ এম এরশাদ

রাষ্ট্রপতি আহসানউদ্দিন চৌধুরীকে অপসারণ করে ১৯৮৩ সালের ১১ই ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এইচ এম এরশাদ। জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায় থাকার সময় দুটো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। একটি ১৯৮৬ সালে এবং আরেকটি ১৯৮৮ সালে। এ দুটি নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক ছিল। জেনারেল এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার সময় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ধীরে ধীরে সোচ্চার হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে সবগুলো বড় রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে তার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে। আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ই ডিসেম্বর ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন জেনারেল এরশাদ।

বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ

নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর আন্দোলনকারী তিন জোটের অনুরোধে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ। তার প্রধান দায়িত্ব ছিল একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করা। বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ একই সাথে প্রধান নির্বাহী এবং রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ১৯৯১ সালের সে নির্বাচনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বিরল সমঝোতায় দ্বাদশ সংশোধনী পাস হওয়ার পর উত্তরসূরি নির্বাচন করেই তিনি অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে সুপ্রিম কোর্টে ফিরে গিয়েছিলেন।

নতুন রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণের পর সাহাবুদ্দিন আহমদ ১৯৯১ সালের ১০ই অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে ফিরে যান। ১৯৯৫ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি তিনি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

আব্দুর রহমান বিশ্বাস

১৯৯১ সালের ৮ই অক্টোবর জাতীয় সংসদের দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন আব্দুর রহমান বিশ্বাস। আব্দুর রহমান বিশ্বাস বরিশালে আইন পেশা এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৭৭ সালে তিনি বরিশাল পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বরিশাল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর তিনি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রীসভায় যোগ দেন। জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর মি. বিশ্বাস আব্দুস সাত্তার সরকারের মন্ত্রিসভায়ও ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পূর্বে আব্দুর রহমান বিশ্বাস ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি মূলত রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ৪ঠা এপ্রিল ১৯৯১ তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৯৬ সালের ৮ই অক্টোবর তার মেয়াদ শেষ হয়।

সাহাবুদ্দিন আহমদ

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সাহাবুদ্দিন আহমদকে আবারও রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে সংসদের মাধ্যমে। সে বছরের ৯ই অক্টোবর থেকে ২০০১ সালের ১৪ই নভেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিচারপতি আহমেদ। তিনি রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর ‘জননিরাপত্তা আইন’ নামের একটি বিতর্কিত আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। সেকারণে তার সাথে তৎকালীন সরকার এবং আওয়ামী লীগের তিক্ততা তৈরি হয়েছিল। তখন থেকে সেই সম্পর্কে আর উন্নতি হয়নি। ২০০১ সালে নির্বাচনে পরাজিত হবার পর আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ এনেছিলেন। সংসদীয় পদ্ধতিতে সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি অতি সীমিত ক্ষমতার অধিকারী হলেও রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদে সাহাবুদ্দিন আহমেদ তার নিরপেক্ষ ভূমিকার জন্য প্রশংসিত ছিলেন।

বদরুদ্দোজা চৌধুরী

২০০১ সালের ১৪ই নভেম্বর বাংলাদেশের ১৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব শুরু করেন। কিন্তু সাত মাসের মাথায় ২০০২ সালের ২১শে জুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে পদত্যাগ করেন মি. চৌধুরী। সেসময় বিএনপি সংসদে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছিল। বাংলাদেশে প্রেসিডেন্ট হবার পর এমন নাটকীয় পদত্যাগের ঘটনা আর ঘটতে দেখা যায়নি। তার আগে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে অনেক সংসদ সদস্য দাবি তোলেন যে রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী পদত্যাগ করুন। অন্যথায় তাকে ইমপিচ করার হুমকি দেন তারা।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার মাত্র সাত মাসের মাথায় বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে কেন বিদায় নিতে হয়েছিল, তার নানাবিধ কারণ উল্লেখ করে তখনকার সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল। যেসব কারণের কথা ওইসব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, তার মধ্যে রয়েছে- জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে তার সমাধিতে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন না করা; রাষ্ট্রপতির বাণীতে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ না করা; বিরোধী নেত্রী শেখ হাসিনাকে মুন্সিগঞ্জে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতির ছেলে এবং সংসদ সদস্য মাহী বি. চৌধুরীর তোরণ নির্মাণ; রাষ্ট্রপতির বিভিন্ন বক্তব্যে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ ব্যবহার না করা, কারণ ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বিষয়টি বিএনপি রাজনৈতিকভাবে ধারণ করে। এছাড়া বদরুদ্দোজা চৌধুরী বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন। এটি নিয়ে বিএনপি বেশ নাখোশ ছিল।

ইয়াজউদ্দিন আহমদ

বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতির পদের জন্য বিএনপির তরফ থেকে পছন্দ করা হয় অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহমদ। ২০০২ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। বিএনপি ক্ষমতা ছাড়ার পর ২০০৬ সালে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বের সঙ্গেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের দায়িত্বও নেন, যা সেই সময় দেশের রাজনীতিতে একটি সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল বলে মনে করা হয়। বাংলাদেশের রাজনীতির এক উত্তাল সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেব দায়িত্ব নেন ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ।

প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় ২০০৬ সালে তার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানেরও দায়িত্ব নেওয়াটা তুমুল বিতর্কের জন্ম দেয় এবং তার প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার পদ্ধতিটি কিছুটা নিয়মের লঙ্ঘন বলেও মনে করেন অনেকে। ইয়াজউদ্দিন আহমদ বিএনপির মনোনীত রাষ্ট্রপতি হলেও তাকে নিয়ে এক পর্যায়ে বিএনপি নেতারাও সমালোচনা করেছিলেন। তাদের যুক্তি হচ্ছে, ২০০৭ সালে রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ থামাতে তিনি কোনো ভূমিকা রাখেননি। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ২০০৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ইয়াজউদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বিদায় নেন।

জিল্লুর রহমান

২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নেয়া জিল্লুর রহমানকে। ২০০৮ সালে জিল্লুর রহমান জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি নবম জাতীয় সংসদের সংসদ উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জিল্লুর রহমান রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। জিল্লুর রহমানের রাজনৈতিক জীবন ছিল সুদীর্ঘ। ২০১৩ সালের ২০শে মার্চ সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান মারা যান। তার বয়স হয়েছিলো ৮৪ বছর।

আব্দুল হামিদ

জিল্লুর রহমানের অসুস্থতার কারণে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন তৎকালীন স্পিকার আব্দুল হামিদ। তিনি হচ্ছেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি পরপর দুই মেয়াদে দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। মি. হামিদ প্রথম মেয়াদে ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সালে। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদি রাষ্ট্রপতি ছিলেন।


অপতথ্য মোকাবিলায় ইউনেস্কোর সহযোগিতা চাইলেন তথ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইউনেস্কোর কারিগরি সহযোগিতা নিয়ে অপতথ্য ও ভুল তথ্যের নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি কার্যকর ‘রোডম্যাপ’ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে মন্ত্রী এ আগ্রহের কথা জানান। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। খবর বাসসের।

এ সময় ইউনেস্কোর প্রতিনিধি বাংলাদেশে সংস্থাটির চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রীকে বিস্তারিত জানান।

ড. সুসান ভাইজ গণমাধ্যম, সংশ্লিষ্ট নীতিমালা এবং বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠা ভুল তথ্য ও অপতথ্য রোধে ইউনেস্কোর ভূমিকা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

তিনি জানান, বর্তমানে অপপ্রচারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘ফ্যাক্ট-চেকিং’ বা তথ্য যাচাইয়ের ওপর ইউনেস্কো বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

ইউনেস্কোর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের যৌথভাবে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

তিনি প্রযুক্তির এই যুগে তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ইউনেস্কোর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

ইউনেস্কো প্রতিনিধি এ বিষয়ে সরকারকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং সচিব মাহবুবা ফারজানাও উপস্থিত ছিলেন।


ঢাকার নতুন ডিসি ফরিদা খানম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফরিদা খানমকে ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের এ কর্মকর্তাকে ডিসি নিয়োগ দিয়ে বুধবার (২২ এপ্রিল) ও প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

অপর আদেশে ঢাকার ডিসি মো. রেজাউল করিমকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে।


নিখোঁজের ২৭ বছর পর মালয়েশিয়ার জঙ্গল থেকে দেশে ফিরলেন প্রবাসী আমির হোসেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়া গিয়ে দীর্ঘ ২৭ বছর নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন শরীয়তপুরের আমির হোসেন তালুকদার। মঙ্গলবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে বাটিক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ৬২ বছর বয়সী আমির হোসেনকে বিমানবন্দরে গ্রহণ করেন তার ছেলে বাবু তালুকদার এবং ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মীরা। প্রবাস জীবনের দীর্ঘ তিন দশক পর বাবাকে ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা আমির হোসেন ১৯৯৬ সালে রং মিস্ত্রির কাজ নিয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। প্রবাস জীবনের প্রথম তিন বছর তিনি পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং নিয়মিত সংসার খরচ পাঠাতেন। কিন্তু এরপর হঠাৎ করেই তার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘ ২৭ বছর পরিবারের কাছে তার কোনো হদিস না থাকায় স্বজনরা একপর্যায়ে আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং ধরে নিয়েছিলেন যে তিনি হয়তো আর বেঁচে নেই।

সম্প্রতি মালয়েশিয়ার পেনাং এলাকার একটি গভীর জঙ্গলে জরাজীর্ণ এক টিনের ঘরে আমির হোসেনকে খুঁজে পান কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি। উদ্ধারের সময় তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে ভারসাম্যহীন অবস্থায় ছিলেন। সেখানে অবস্থানরত প্রবাসী সাংবাদিক বাপ্পি কুমার দাস এবং প্রবাসী দীপুসহ অন্যদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে দেশে থাকা তার পরিবার সেই ভিডিও দেখে আমির হোসেনকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম এবং মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ট্র্যাভেল পাস প্রদান করে দেশে ফেরার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহায়তায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে ব্র্যাকের উদ্যোগে তাকে শরীয়তপুরের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ সময় প্রতিকূল পরিবেশে বসবাসের ফলে আমির হোসেন বর্তমানে শারীরিকভাবে বেশ দুর্বল এবং মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় রয়েছেন। ব্র্যাকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য তারা পাশে থাকবে। দীর্ঘ ২৭ বছর পর প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়াকে অলৌকিক হিসেবে দেখছেন তার স্বজন ও গ্রামবাসী। বর্তমানে তাকে নিজ বাড়িতে রেখে প্রয়োজনীয় সেবা-শুশ্রূষা দেওয়া হচ্ছে।


প্রধানমন্ত্রীর অফিসে খাবারের বাজেট কমল পাঁচ গুণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর অফিসে খাবারের বাজেট আগের চেয়ে পাঁচ গুণ কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

বুধবার (২২ এপ্রিল) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।

জাহেদ উর রহমান বলেন, নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) প্রতিনিধিদের সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়ের সময় লাঞ্চের মেন্যুতে ছিল- ভাত, ছোট চিংড়ি দিয়ে লাউ, ঢেঁড়শ ভাজা, ডিম সেদ্ধ রান্না, ডাল, দই।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুপুরের খাবার ও বিকালের নাস্তা মিলিয়ে একজনের জন্য মোট বাজেট ধরা হয়েছে ১৫০ টাকা, যা আগে এর চেয়ে পাঁচ গুণেরও বেশি ছিল।


সরকারি উদ্যোগে স্কুল ড্রেস ও পাটের ব্যাগ: জুলাইয়ে শুরু হচ্ছে নতুন কার্যক্রম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস ও পরিবেশবান্ধব পাটের তৈরি ব্যাগ বিতরণের বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এই নতুন কার্যক্রমের কথা ঘোষণা করেন। মূলত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণে সহায়তা এবং দেশীয় পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধিতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, এই কার্যক্রমটি প্রাথমিকভাবে একটি পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে শুরু হতে যাচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে কেবল প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি উপজেলার দুটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়কে এই সামগ্রী বিতরণের জন্য নির্বাচন করা হবে। কোন স্কুলগুলো এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হবে, তা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারের লক্ষ্য রয়েছে কার্যক্রমের প্রথম মাসেই অন্তত এক লাখ শিক্ষার্থীর হাতে নতুন পোশাক ও পাটের ব্যাগ তুলে দেওয়া। তিনটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হবে। প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কাছে পর্যায়ক্রমে মানসম্মত ও দেশীয় উৎপাদিত পণ্য পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে সামাজিক ন্যায্যতা ও সমতা নিশ্চিত করা এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

একই দিন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এই কার্যক্রমের পোশাকের ধরন সম্পর্কে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত তথ্য দেন। তিনি জানান, দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিন্ন বা একই রকম পোশাক বা ইউনিফর্ম নিশ্চিত করা হবে। তবে ছাত্র এবং ছাত্রীদের ব্যবহারের সুবিধার্থে তাদের পোশাকের নকশা ও ব্যাগের ধরনে প্রয়োজনীয় ভিন্নতা থাকবে।

শিক্ষা উপকরণ বিতরণের এই অনন্য উদ্যোগ কেবল শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করবে না, বরং দেশের ঐতিহ্যবাহী পাট শিল্পের পুনর্জাগরণেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে। পরিবেশ দূষণ রোধে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ প্রদান সরকারের পরিবেশবান্ধব নীতিরই একটি প্রতিফলন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাইলট প্রকল্পের সাফল্য বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে এই কার্যক্রম দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্প্রসারণ করা হবে।


৩৬ টাকা কেজিতে ধান, ৪৯ টাকায় সিদ্ধ চাল কিনবে সরকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বোরো মৌসুমে ধান, চাল ও গমের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ বছর ৩৬ টাকা কেজি দরে ধান, ৪৯ টাকা কেজি দরে সিদ্ধ চাল কিনবে সরকার। এ ছাড়া আতপ চাল ৪৮ টাকা কেজি এবং ৩৬ টাকা কেজি গমের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ বুধবার সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় সরকারি এই দাম নির্ধারণ করা হয়। সভাশেষে গণমাধ্যমে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ধান ৩ মে থেকে ও চাল ১৫ মে থেকে সংগ্রহ শুরু করবে সরকার। ধান ও চাল সংগ্রহ চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকারি পর্যায়ে গম কেনার আলোচনা চলছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সেখান থেকে কেনা সম্ভব না হলে বাকিটা উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কেনা হবে।


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্কাউটের কার্যনির্বাহী কমিটির সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ স্কাউটের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সভাকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন।


সৌদি পৌঁছেছেন ২০ হাজার ৫৬৩ হজযাত্রী, একজনের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ থেকে সৌদি পৌঁছেছেন ২০ হাজার ৫৬৩ জন হজযাত্রী। এর মধ্যে মক্কায় নঈমুদ্দিন মন্ডল নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে।
তার বাড়ি জয়পুরহাট সদর উপজেলায়। তিনি মক্কায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।
হজ বুলেটিন থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বুলেটিন সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পর্যন্ত ২০ হাজার ৫৬৩ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি মাধ্যমে ২ হাজার ৮৭০ জন ও বেসরকারি মাধ্যমে ১৭ হাজার ৬৯৩ জন।
এর মধ্যে মোট ৫১টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইট সংখ্যা ১৯টি, সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইট ১৮ ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইট সংখ্যা ১৪টি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিবহন করেছে ৭ হাজার ৮৫৫ জন হজযাত্রী। সৌদি এয়ারলাইন্স পরিবহন করেছে ৭ হাজার ১৫ জনও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স পরিবহন করেছে ৫ হাজার ৬৯৩ জন হজযাত্রী।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে চলতি বছরের ২৬ মে হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালনে পরিপত্র জারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রতি বছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালনে পরিপত্র জারি করেছে সরকার।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়, সরকার এই মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, প্রতি বছর ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হবে।
এ সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থাকে পরিপত্রে অনুরোধ করা হয়।
অন্যদিকে, প্রতি বছর ৬ জুলাই জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালন করার জন্যও পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে আবার পালনের সিদ্ধান্ত নেয় নতুন সরকার। সরকারি ছুটি হিসেবে দিনটি পালিত হবে।
মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে ওইদিন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. নাসিমুল গণি ব্রিফিংয়ে জানান, ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিগত ১৬ বছর এ দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয়নি। এখন থেকে এটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে এবং এদিন সরকারি ছুটি থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ৬ জুলাই জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস হিসেবে পালন করা হবে। তবে এদিন সরকারি ছুটি থাকবে না।


বাংলাদেশে বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৭৮ বিলিয়ন ডলার: অর্থমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক ঋণ ৭৮.০৬৭ (আটাত্তর দশমিক শূন্য ছয় সাত) বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ১৮তম দিনের প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব তথ্য জানিয়েছেন।

সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা প্রশ্ন রেখে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিদেশি ঋণের পরিমাণ কত; উক্ত ঋণ পরিশোধে এই পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এই পর্যন্ত কোনো ঋণ পরিশোধ করেছে কিনা; করলে, তা কী?

আমির খসরু জানান, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাস পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ৭৮.০৬৭ (আটাত্তর দশমিক শূন্য ছয় সাত) বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সরকারের পক্ষে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করে থাকে। প্রতি অর্থবছর বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের জন্য ঋণের আসল ও সুদ বাবদ সম্ভাব্য মোট ব্যয় কত হতে পারে তার একটি প্রক্ষেপণ তৈরি করা হয় এবং সে পরিমাণ অর্থ ঋণ পরিশোধ বাবদ বাজেটে সংস্থান রাখা হয়। বাজেট বরাদ্দ ব্যবহার করেই সারাবছর পরিশোধ সূচি অনুসরণ করে ঋণ পরিশোধ করা হচ্ছে।

বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৯০.৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।


ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্তে বিরোধীদলও একমত : চিফ হুইপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, এমপিদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ব্যবহার না করার এবং প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিরোধী দলও এ ব্যাপারে একমত পোষণ করেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশন শেষে তিনি এসব কথা বলেছেন।

এর আগে সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ উপজেলায় অফিস পেয়ে ধন্যবাদ জানাতে দাঁড়িয়ে সরকারের কাছে গাড়ির আবদার করেন।

তিনি বলেন, প্রতিটি উপজেলায় ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের জন্য সরকারি গাড়ি থাকলেও সংসদ সদস্যদের জন্য এমন কোনো ব্যবস্থা নেই। অনেক সময় ভাড়ায় গাড়ি চালিয়ে নির্বাচনী এলাকায় যাতায়াত করতে হয়, যা লোকলজ্জার কারণে কাউকে বলাও যায় না। মানুষের কাছাকাছি পৌঁছানোর সুযোগ আরও সহজ করতে সরকারের কাছে একটি গাড়ির সুব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান তিনি।

হাসনাত আব্দুল্লাহর এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকারের অনুমতিতে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের জন্য আলাদা কোনো বিলাসিতা বা অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা না নেয়ার ব্যাপারে শুরুতেই অনুশাসন দিয়েছেন। এমনকি বিদ্যমান আইন সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের জন্য ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধাও বাতিলের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি তেলের বরাদ্দ ৩০ শতাংশ কমানোসহ সরকারি কর্মকর্তাদের লোন সুবিধাও সীমিত করা হয়েছে। তবে সংসদ সদস্যের দাবির বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো বিহিত ব্যবস্থা করা যায় কিনা, সে বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছোটদের আবদারে সবসময় ‘না’ বলতে নেই। হাসনাত আব্দুল্লাহর মতো তরুণ সংসদ সদস্যের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত নেতিবাচক উত্তর না দিয়ে এটি বিবেচনার আশ্বাস দিলে আরও খুশি হতাম।

তবে আলোচনার শেষ পর্যায়ে স্পিকার পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যের শেষ অংশে বিষয়টি বিবেচনার কথা উল্লেখ করেছেন।


সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ নয়: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কারো সাথে বৈরী আচরণ করতে চান না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- নোয়াবের সদস্যদের সাথে আয়োজিত এক বৈঠকে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে নোয়াব সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরীসহ সংগঠনটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কারো সাথে বৈরী আচরণ করতে চান না তিনি। আগের সরকার যে পথে হেটেছে সে পথে যাবে না বর্তমান সরকার।

এসময় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, হয়রানি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনা কারণে কেউ জেলে থাকলে তাদের জামিনের বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে। সংবাদপত্রের বকেয়া বিলের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে নোয়াব সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, সংবাদপত্র শিল্প অর্থনৈতিক চাপসহ নানা চাপের মধ্যে আছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন দাবিদাওয়াও তুলে ধরেন নোয়াব সদস্যরা। এসময় ওয়েজবোর্ড নিয়েও কথা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৈঠক শেষে নোয়াব সদস্যরা জানান, প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকতার সাথে তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সরকার উদার গণতন্ত্রের পথে হাঁটছে এবং বিষয়টিকে ইতিবাচক বলেছেন সংবাদপত্রের মালিক ও সম্পাদকরা।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের পর নোয়াব সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী জানান, এখন থেকে তিন মাসে একবার সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সাথে বসবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এতে সম্পাদক ও মালিকদের সাথে সরকারের দূরত্ব কমবে বলে মনে করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনা সরকারের সময় ১৬-১৭ বছরে একবার এবং বিগত ইউনূস সরকারের সময় ১৮ মাসে একবার মালিক ও সম্পাদকদের সাথে সরকার প্রধানের বৈঠক হয়েছে।


মাদকের বিস্তার রোধে গণমাধ্যমকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাদক ও তামাকের বিষাক্ত ছোবল থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করার লক্ষ্যে গণমাধ্যম ও চলচ্চিত্র শিল্পকে আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে মাদকবিরোধী সংগঠন ‘মানস’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. অরূপ রতন চৌধুরীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, মাদক ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি। কেবল আইন করে নয় বরং গণমাধ্যমের শক্তিশালী প্রচারণার মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা সম্ভব। তাই চলচ্চিত্র নাটক ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাদক বা তামাকের ব্যবহারকে উৎসাহিত করে এমন দৃশ্য প্রদর্শন নিরুৎসাহিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় মানসের প্রতিষ্ঠাতা ডা. অরূপ রতন চৌধুরী মাদক ও তামাকের ভয়াবহতা এবং বর্তমানে এর বিস্তার রোধে তার সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। তিনি গণমাধ্যম, চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তামাক ও মাদকদ্রব্যের প্রদর্শনের নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে এ বিষয়ে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এ সময় মানসের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকার মাদক ও তামাকমুক্ত একটি সুস্থ সমাজ গঠনে বদ্ধপরিকর। এক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং সরকার তাদের সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করতে প্রস্তুত। তিনি এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সহযোগিতায় সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। এসময় তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।


banner close