বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশসহ প্রায় সব জায়গায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাদ থাকছে না পাঠ্যপুস্তকও। সেই জায়গায়ও আসছে বড় কিছু পরিবর্তন।
আগামী বছরের প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাঠ্যপুস্তকে যুক্ত হচ্ছে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি। বাদ দেওয়া হচ্ছে বইয়ের প্রচ্ছদে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত উক্তি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাসে যার যা ভূমিকা তা সেভাবে সন্নিবেশিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
খবর: বিবিসি বাংলা।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান জানান, ইতিহাসে যার যেমন ভূমিকা সেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার ইতিহাসে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তাদের বিষয় যুক্ত হচ্ছে। আগামী বছরের পাঠ্যপুস্তক ২০২৪ সালের বিদ্যমান পাঠ্যক্রমে নয় বরং ২০১২ সালের পাঠ্যক্রমে হচ্ছে।
যুক্ত হচ্ছে গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মূল দাবি এক সময় সরকার পতনের এক দফা দাবিতে রূপ নেয়। এ আন্দোলনে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে দেয়ালচিত্রকে বেছে নেয়।
শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরও পুরো ঢাকা শহরের বিভিন্ন দেয়ালে দেয়ালে শিক্ষার্থীরা গ্রাফিতি আঁকে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বহু ভবনের দেয়াল, সীমানা প্রাচীর, সড়ক-দ্বীপ, মেট্রোরেলের স্তম্ভ, উড়াল সড়কের স্তম্ভ কোনো কিছুতেই নিজেদের অর্থে গ্রাফিতি আঁকতে বাদ রাখেনি শিক্ষার্থীরা।
এসব গ্রাফিতিতে ওই সময়টুকুকে ধারণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। অভ্যুত্থানে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি ও তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে গ্রাফিতিতে।
পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, রাষ্ট্র-সমাজের সংস্কার, ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, স্বৈরতন্ত্রের অবসান, বাক-স্বাধীনতা, অধিকার নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে সব ধরনের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আর প্রতিরোধের উক্তিও ফুটে উঠেছে এসব গ্রাফিতিতে।
এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানান, জুলাইয়ের গ্রাফিতি যে সবগুলো বইয়ে যাবে তা নয়, কিছু কিছু বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
একই সঙ্গে যেহেতু ২০২৪-এর জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের বিষয়টি একেবারেই সাম্প্রতিক এবং তা নিয়ে লেখা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এ বছর সময়ও একেবারেই কম, ফলে লেখা হিসেবে না রেখে কিছু পাঠ্যবইয়ে অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি বা দেয়ালে আঁকা ছবি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিটিবি।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান বলেন, ’২৪-এর জুলাইয়ের ঘটনাবলি, এ জাতীয় যেসব লেখা রয়েছে তা আসলে কতটা মানসম্পন্ন আর লেখাগুলো তৈরি করাও বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তারপরও কিছু বিষয় যেতে পারে কিন্তু সেটা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি প্রয়োজন। এখনও অনুমোদন আমরা পাইনি। তবে কিছু কিছু বইয়ের ব্যাক কাভারে কিছু গ্রাফিতি যাচ্ছে, বাচ্চারা দেয়ালে যে চিত্রাঙ্কন এঁকেছে বা মনীষীদের বাণী ওই জাতীয় বিষয় যাচ্ছে। বাংলা, ইতিহাস, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের মতো কিছু বইয়ের প্রচ্ছদে বা বইয়ের কোনো কোনো অংশে এসব গ্রাফিতি বা দেয়ালে আঁকা ছবি যুক্ত করা হবে।’
শেখ হাসিনার উক্তি বাদ দেওয়া হবে
এখন বেশ কয়েকটি শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের পেছনের প্রচ্ছদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যেসব ছবি ও উদ্ধৃতি রয়েছে সেগুলো বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিটিবি। বইয়ের শেষ পৃষ্ঠায় থাকা শেখ হাসিনার এসব উক্তিকে অপ্রাসঙ্গিক উল্লেখ করে এনসিটিবির চেয়ারম্যান বলেন, সেগুলো থাকবে না। সেগুলো অপ্রাসঙ্গিক। শিক্ষার্থীদের মনে যাতে রাজনৈতিক কোনো ধারণার উদ্রেক না হয় সে কারণে এসব বাদ দেওয়া হচ্ছে। বইয়ের পেছনের প্রচ্ছদে শেখ হাসিনার উদ্ধৃতির পরিবর্তে চিরন্তন কিছু বাণী যুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
ইতিহাসবিষয়ক যেসব পরিবর্তন হচ্ছে
বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণির বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ইতিহাস নির্ভর বিষয়েও কিছু কাটছাঁট করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে জিয়াউর রহমানসহ অন্যদের ভূমিকাও।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘ইতিহাসের বিষয় আছে, যেগুলোতে যার যার ভূমিকা সেটা সঠিকভাবে ছিল না। এ রকম অভিযোগ আছে। আমরাও পেয়েছি। সেগুলো দেখা হচ্ছে।
যার যতটুকু ভূমিকা সেভাবে দেওয়া হবে। যেমন: মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ইতিহাসের অন্যান্য যারা পিলার তাদের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন- এমন বিষয়ও যুক্ত হচ্ছে আগামী বছরের পাঠ্যইয়ে।
ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণায় আমাদের তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান একাধিক ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেগুলো সেভাবেই আসবে আশা করছি। একইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অন্যান্যদের যে ভূমিকা তাও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ ছাড়া মাওলানা ভাসানী, তাজউদ্দীন আহমেদ, জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী যার যা ভূমিকা এগুলো ইতিহাসের অংশ হিসেবে যুক্ত করা হবে।’
গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের কথা অন্তর্ভুক্ত হবে?
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে গত ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ নিহত হন। পুলিশের গুলির বিপরীতে বুক পেতে দাঁড়িয়ে যান তিনি।
বিভিন্ন ভিডিওতে পুলিশ গুলি করার পর সাঈদকে ঢলে পড়তে দেখা যায়। পরে মারা যান তিনি। যদিও পুলিশ যে মামলা করে তাতে ভিন্ন বক্তব্য থাকায় তা নিয়ে চলে তুমুল সমালোচনা। সাঈদের এ মৃত্যু সে সময় তোলপাড় তোলে দেশে।
এ আন্দোলনে ঢাকায় ১৮ জুলাই নিহত হয়েছেন এমন একজন মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের ছাত্র মুগ্ধ উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। আন্দোলনকারীদের পানি সরবরাহ করছিলেন মুগ্ধ। উত্তরাতেই বাসা তার।
আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তার বলা ‘পানি লাগবে, পানি, পানি লাগবে, পানি’ এ উক্তি পরবর্তীতে আন্দোলনের প্রধান স্লোগানে পরিণত হয়।
গণঅভ্যুত্থানে নিহত এ দুইজনের কথা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে এরই মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানান এনসিটিবির চেয়ারম্যান। তবে এখনো মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে অনুমোদন পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এটা এখনও সিদ্ধান্ত আসে নাই। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত এলে আমরা বলতে পারবে। এখনো সিদ্ধান্ত পাইনি, এ জন্য যুক্ত করার কথা বলা যাবে না। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত দেরিতে এলেও আগামী বছরের বইতে শেষ মুহূর্তেও এ বিষয় বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব।’
তিনি বলেন, ‘ছাপাখানায় কিছু বই চলে গেছে, কিছু বই এখনও যাওয়ার অপেক্ষায় আছে। জানুয়ারিতে বই দেওয়ার জন্য আমাদের প্রিন্টারদের সঙ্গে আমাদের কথা হচ্ছে। বই দেওয়ার জন্য তাদের প্রস্তুতিও আছে। এখন তারা যদি সব সহযোগিতা করে তাহলে তা সম্ভব, কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।’
মূল্যবোধের বিষয় যুক্ত হবে
আগামী বছরের পাঠ্যবইয়ে যাতে কোনো গোষ্ঠী, সম্প্রদায় বা কারো প্রতি আঘাত না করা হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখে সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে জানান এনসিটিবির চেয়ারম্যান এ কে এম রিয়াজুল হাসান। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের মূল্যবোধ, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো কিছু পাঠ্যবইয়ে থাকবে না।’
সতর্কতার জন্য এটা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠী বা সামাজিক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী তারা যেন আহত না হয় বা তাদের বিষয়ে যাতে বিরূপ কোনো মন্তব্য না থাকে সেটা দেখা হয়েছে। কাউকে আঘাত যেন করা না হয় সে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী পদে মো. আব্দুর রশীদ মিয়ার নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। নিয়োগ দেওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় গত শনিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার নিয়োগ আদেশ বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গত রোববার বিষয়টি জানা গেছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২৪ মার্চের প্রজ্ঞাপনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী পদে মো. আব্দুর রশীদ মিয়ার নিয়োগের আদেশটি বাতিল করা হলো। এলজিইডির সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ মিয়ার অবসরোত্তর ছুটি স্থগিতের শর্তে এক বছরের চুক্তিতে তাকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগ দিয়েছিল সরকার।
এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন আব্দুর রশীদএলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন আব্দুর রশীদ
কেন আব্দুর রশীদের নিয়োগ আদেশ বাতিল করা হয়েছে সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে কিছু বলা হয়নি। তবে এই কর্মকর্তাকে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগ দেওয়ার পর থেকে এ নিয়ে ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনা হয়। তিনি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও সুবিধাভোগী ছিলেন বলে কেউ কেউ অভিযোগ করেন।
রাজধানীর শ্যামপুরে ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা সংঘর্ষে শেখ ফরিদ (৫০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। রোববার বেলা দেড়টার দিকে শ্যামপুর বাজার ইকোপার্কের পাশের রাস্তায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফরিদের বাড়ি লক্ষ্মীপুর চন্দ্রগঞ্জ থানার বালাশপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত ওবায়দুল্লাহ। বর্তমানে থাকতেন রাজধানীর কদমতলী পলাশপুর এলাকায়। ভ্যানে করে ট্রাউজার বিক্রি করতেন তিনি।
হাসপাতালে মৃত শেখ ফরিদের মামা সোয়াইব মোর্শেদ জানান, মালামাল কিনতে কদমতলী থেকে সিএনজি অটোরিকশা করে কেরানীগঞ্জ যাচ্ছিলেন তিনি। পথে শ্যামপুর বাজারে একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন ফরিদ। তখন পথচারীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত বলে জানান।
কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুসাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুপুরে শ্যামপুর বাজার ইকোপার্কের পাশে ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশার এক যাত্রী ঢাকা মেডিকেলে মারা গেছেন। আহত সিএনজিচালক একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এই ঘটনায় ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিনকে ডিএমপি গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের মুখপাত্র করা হয়েছে। গত শনিবার ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার এক আদেশে নাসিরুদ্দিনকে ডিএমপির পরিবহন বিভাগ থেকে বদলি করে মুখপাত্র করেন।
একই আদেশে ডিএমপির উপকমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়াকে ডিএমপির পরিবহন বিভাগের উপকমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এ ছাড়া ডিএমপির পি অ্যান্ড আর বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. ওয়াহিউল ইসলামকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম উত্তর বিভাগে বদলি করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সংসদে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাষণে নিরপেক্ষতা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সংসদ কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের সার্বভৌমত্বের কেন্দ্র।
গতানুগতিক ধারার বাইরে এবারের সংসদকে ‘মজলুমদের সংসদ’ ও ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী সংসদ পরিচালনার ঘোষণা দেন। আজ রোববার (২৯ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি বৈঠক শুরু হয়। এ বৈঠকে প্রথমবারের মতো সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বক্তব্যের শুরুতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার নির্বাচনী এলাকা কলমাকান্দা-দুর্গাপুরের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। বিশেষ করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং আজ তিনি ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ হিসেবে স্বীকৃত।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানকে গণতন্ত্রের নতুন দ্বার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম ও মীর মুগ্ধসহ সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে জনগণের শক্তিই গণতন্ত্রের প্রকৃত ভিত্তি। আজকের এই সংসদ অসংখ্য পঙ্গুত্ব বরণকারী এবং নির্যাতিত মানুষের ত্যাগের ফসল।
সংসদ পরিচালনায় পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ডেপুটি স্পিকার ঘোষণা করেন, আমি ইতোমধ্যে সরকার এবং দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। স্পিকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি প্রতিটি সদস্যের অধিকার, মর্যাদা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিতে কাজ করব।
হযরত আবু বকর (রা.)-এর আদর্শের কথা উল্লেখ করে তিনি সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, আমি সঠিক থাকলে আপনারা সাহায্য করবেন, আর ভুল করলে শুধরে দেবেন। কারণ এই সংসদে আমার চেয়ে অভিজ্ঞ ও প্রজ্ঞাবান অনেকে আছেন।
এবারের সংসদের বিশেষত্ব তুলে ধরে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, এই সংসদ বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। এখানে কেউ এসেছেন ফাঁসির মঞ্চের কন্ডেম সেল থেকে, কেউ এসেছেন আয়নাঘর থেকে, কেউ দীর্ঘ নির্বাসন থেকে, আর কেউ এসেছেন গুম-নির্যাতনের দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে। আমরা সবাই এখানে মজলুম হিসেবে সমবেত হয়েছি।
বিখ্যাত আইনবিদ এভি ডাইসির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। সরকার বা জনগণ—সবাইকে আইনের অধীনে থাকতে হবে। যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার সুবাদে আমি ওয়েস্টমিনস্টার স্টাইলের গণতন্ত্র সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছি এবং সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব।
বক্তব্যের শেষে তিনি জাতীয় স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গঠনমূলক সমালোচনার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ হবে জাতির দর্পণ এবং আমাদের লক্ষ্য হবে জনগণের কল্যাণ ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।
বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে মাসিক ভাড়া বা মিটার চার্জ প্রত্যাহার করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
রোববার (২৯ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রিপেইড মিটারে চার্জ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে এক ধরনের অসন্তোষ ছিল। আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছি। গ্রাহকবান্ধব বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে আমরা দ্রুতই এই মিটার চার্জ পদ্ধতি তুলে দিচ্ছি।
বর্তমানে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা মিটার ভাড়া হিসেবে দিতে হয়। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করে আসছিলেন, মিটারের দাম উঠে যাওয়ার পরও বছরের পর বছর এই ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও এই চার্জ প্রত্যাহারের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছিল।
বর্তমানে প্রিপেইড মিটারে প্রতি কিলোওয়াটে মাসিক ডিমান্ড চার্জ ৪২ টাকা এবং সিঙ্গেল ফেজে মিটার ভাড়া ৪০ টাকা। এই চার্জের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হয়।
দেশের ১১ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি বর্তমানে দায়িত্বরত ১১ জেলা প্রশাসককে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসকরা হলেন, রাজশাহীতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজী শহিদুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লুৎফুন নাহার, খুলনায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের হুরে জান্নাত, মাদারীপুরে অর্থ বিভাগের উপসচিব মর্জিনা আক্তার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারি প্রিন্টিং প্রেসের উপপরিচালক আবু সাঈদ, চাঁদপুরে জ্বালানি ও খানিজ সম্পদ বিভাগের আহেমদ জিয়াউর রহমান, হবিগঞ্জে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জি এম সরফরাজ, নরসিংদীতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ইসরাত জাহান কেয়া, মেহেরপুরে সংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের শিল্পী রানী রায়, লালমনিরহাটে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বিভাগের রাশেদুল হক প্রধান, বান্দরবানে ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের সানিউল ফেরদৌস।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মুলতবি অধিবেশন শুরু হয়েছে। রোববার বেলা ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। গত ১৫ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ২৯ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছিল।
এই অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন’ এবং ‘গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫’ নিয়ে। বিরোধী দল জামায়াতসহ তাদের জোটের সদস্যরা এ বিষয়ে আলোচনার দাবি করেছেন। ইতোমধ্যে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে একাধিক নোটিশ জমা দেওয়া হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ছাড়া দিনের কর্মসূচিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, নির্বাচন কমিশন কার্যালয় এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের প্রশ্নোত্তর পর্ব রয়েছে। জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের (বিধি-৭১) আওতায় প্রাপ্ত নোটিশগুলোর নিষ্পত্তি হয়েছে। এবারের অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল ১২ মার্চ। প্রথম দিনে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যদের মধ্যে ১১ জন বিএনপি, ৩ জন জামায়াতের। ১৩৩টির মধ্যে ১১৩টি অধ্যাদেশে ইতোমধ্যে একমত হয়েছে সরকারি ও বিরোধী দল। বাকি ২০টি অধ্যাদেশ নিয়ে কমিটির তৃতীয় বৈঠক আজ রাতে অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী, অধ্যাদেশ পাস না হলে ৩০ দিনের মধ্যে তা বাতিল হয়ে যাবে। তাই আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো পাস হতে হবে।
সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঠিক সময়ে উপস্থিতি নিশ্চিতে ঝটিকা সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৯ টা ৫ মিনিটে নিজ কার্যালয়ের নিচে এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। তখন সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবন থেকে পায়ে হেঁটে ৬ নম্বর ভবনে যান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী সেখানে জ্বালানি মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। যথাসময়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিত নিশ্চিতের বিষয়ে খোঁজ খবর নেন তিনি।
পরে ৫ নম্বর ভবনের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং ৩ নম্বর ভবনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করেন। এরপর সকাল ১০টার দিকে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন সরকার প্রধান। কৃষক কার্ডের ডেমো প্রদর্শন বৈঠকে অংশ নেন তিনি।
সরকারি সফরে শনিবার (২৮ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
রোববার আইএসপিআরের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সফরে সেনাবাহিনী প্রধান জর্জিয়া স্টেট ক্যাপিটলের উদ্যোগে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি সম্মাননা প্রস্তাব গ্রহণ এবং সিনেট চেম্বারে বিশেষ লেকচার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সেনপ্রধানের অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। শনিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাতে দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি ৩৪৮-এর কার্গো কম্পার্টমেন্টের টয়লেট প্যানেলের ভেতর থেকে ১৫৩টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। এগুলোর মোট ওজন ১৭ কেজি ৯০১ গ্রাম এবং বাজার মূল্য প্রায় ৩৮ কোটি টাকা।
বিমানবন্দর কাস্টমস সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ফ্লাইটটিকে অবতরণের পর থেকেই নজরদারিতে রাখেন। অবতরণের পর এভসেকের সহায়তায় কার্গো কম্পার্টমেন্ট তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে টয়লেট প্যানেলের ভেতর সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় স্বর্ণের বারগুলো উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত স্বর্ণ বিমানবন্দর কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান আছে।
জাতীয় সংসদের চলমান প্রথম অধিবেশন মুলতবির পর আজ থেকে পুনরায় শুরু হচ্ছে। বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে এই বৈঠক শুরু হবে।
এর আগে গত ১২ মার্চ শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশন ঈদুল ফিতর ও অন্যান্য ছুটির কারণে ১৫ মার্চ মূলতবি করা হয়। সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের তৃতীয় দিনে মূলত প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা এই আলোচনায় অংশ নেবেন। এছাড়া মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব ও জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ উত্থাপন ও সেই নোটিশের ওপর আলোচনার আলোচনার কর্মসূচি রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনা হবে। সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা এতে অংশ নেবেন। সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অধিবেশন চলবে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আইসিইউ ভেন্টিলেটরের অভাবে ১১ দিনে ৩৩ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, ‘এতগুলো শিশুর মৃত্যু হয়েছে, অথচ আমাদের জানানো হয়নি যে ভেন্টিলেটর নেই। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাকে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত।’
শনিবার রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে চিকিৎসার নৈতিকতাবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘এতগুলো শিশুর মৃত্যু হয়েছে, অথচ আমাদের জানানো হয়নি যে ভেন্টিলেটর নেই- এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাকে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত। ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তিনি পরিচালকের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্যও করেন।
মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি সরাসরি হাসপাতাল পরিচালকের সঙ্গে কথা বললেও প্রথমে তা অস্বীকার করা হয়। তবে পরবর্তীতে পাওয়া প্রতিবেদনে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যই সঠিক প্রমাণিত হয়। সরকারি প্রক্রিয়ায় সময় লাগায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভেন্টিলেটর সংগ্রহের কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
হাসপাতালের পরিচালক ভেন্টিলেটর সংকটের বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেননি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কয়েকজন ওষুধ প্রস্তুতকারকের সহায়তায় ইতোমধ্যে তিনটি ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আরও দুটি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এসব ভেন্টিলেটর সরকারি অর্থে নয়, বেসরকারি সহায়তায় আনা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে চিকিৎসকদের পেশাগত আচরণ ও নৈতিকতার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, রোগীরা চিকিৎসকদের ওপর গভীর আস্থা রাখেন। তাই, তাদের আচরণ ও সেবায় আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। অতিরিক্ত কাজের চাপ ও ক্লান্তির কারণে চিকিৎসায় ভুল হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ওঠা অনৈতিক আচরণের অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে হালনাগাদ জ্ঞান অর্জন এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। নিজের চিকিৎসাসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার এড়ানো সম্ভব, যদি সঠিক পরামর্শ ও বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
সামগ্রিকভাবে, স্বাস্থ্য খাতে সেবার মান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। শনিবার দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়েছে, একটি ইউএস ভিসা থাকা মানেই যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের নিশ্চয়তা শতভাগ নয়। একজন ভ্রমণকারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন কি না এবং কতদিন সেখানে অবস্থান করতে পারবেন, তার শর্তাবলি নির্ধারণ করেন সংশ্লিষ্ট প্রবেশস্থলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা। অর্থাৎ, ভিসা থাকা সত্ত্বেও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা চাইলে যে কাউকে প্রবেশে বাধা দিতে পারেন।
দূতাবাস আরও সতর্ক করে জানায়, নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করা বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে কাজ করা (যেমন পর্যটক ভিসায় চাকরি করা) গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বার্তায় বলা হয়, ভিসার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্পূর্ণভাবে ভ্রমণকারীর দায়িত্ব। নিয়ম মেনে অবস্থান এবং সময়মতো দেশে ফিরে আসার ওপরই ভবিষ্যতে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করে।
সম্প্রতি অতিরিক্ত সময় অবস্থান ও ভিসা জালিয়াতি ঠেকাতে সচেতনতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে দূতাবাস নিয়মিত এমন বার্তা দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।