বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশসহ প্রায় সব জায়গায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাদ থাকছে না পাঠ্যপুস্তকও। সেই জায়গায়ও আসছে বড় কিছু পরিবর্তন।
আগামী বছরের প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাঠ্যপুস্তকে যুক্ত হচ্ছে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি। বাদ দেওয়া হচ্ছে বইয়ের প্রচ্ছদে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত উক্তি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাসে যার যা ভূমিকা তা সেভাবে সন্নিবেশিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
খবর: বিবিসি বাংলা।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান জানান, ইতিহাসে যার যেমন ভূমিকা সেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার ইতিহাসে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তাদের বিষয় যুক্ত হচ্ছে। আগামী বছরের পাঠ্যপুস্তক ২০২৪ সালের বিদ্যমান পাঠ্যক্রমে নয় বরং ২০১২ সালের পাঠ্যক্রমে হচ্ছে।
যুক্ত হচ্ছে গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মূল দাবি এক সময় সরকার পতনের এক দফা দাবিতে রূপ নেয়। এ আন্দোলনে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে দেয়ালচিত্রকে বেছে নেয়।
শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরও পুরো ঢাকা শহরের বিভিন্ন দেয়ালে দেয়ালে শিক্ষার্থীরা গ্রাফিতি আঁকে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বহু ভবনের দেয়াল, সীমানা প্রাচীর, সড়ক-দ্বীপ, মেট্রোরেলের স্তম্ভ, উড়াল সড়কের স্তম্ভ কোনো কিছুতেই নিজেদের অর্থে গ্রাফিতি আঁকতে বাদ রাখেনি শিক্ষার্থীরা।
এসব গ্রাফিতিতে ওই সময়টুকুকে ধারণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। অভ্যুত্থানে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি ও তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে গ্রাফিতিতে।
পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, রাষ্ট্র-সমাজের সংস্কার, ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, স্বৈরতন্ত্রের অবসান, বাক-স্বাধীনতা, অধিকার নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে সব ধরনের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আর প্রতিরোধের উক্তিও ফুটে উঠেছে এসব গ্রাফিতিতে।
এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানান, জুলাইয়ের গ্রাফিতি যে সবগুলো বইয়ে যাবে তা নয়, কিছু কিছু বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
একই সঙ্গে যেহেতু ২০২৪-এর জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের বিষয়টি একেবারেই সাম্প্রতিক এবং তা নিয়ে লেখা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এ বছর সময়ও একেবারেই কম, ফলে লেখা হিসেবে না রেখে কিছু পাঠ্যবইয়ে অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি বা দেয়ালে আঁকা ছবি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিটিবি।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান বলেন, ’২৪-এর জুলাইয়ের ঘটনাবলি, এ জাতীয় যেসব লেখা রয়েছে তা আসলে কতটা মানসম্পন্ন আর লেখাগুলো তৈরি করাও বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তারপরও কিছু বিষয় যেতে পারে কিন্তু সেটা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি প্রয়োজন। এখনও অনুমোদন আমরা পাইনি। তবে কিছু কিছু বইয়ের ব্যাক কাভারে কিছু গ্রাফিতি যাচ্ছে, বাচ্চারা দেয়ালে যে চিত্রাঙ্কন এঁকেছে বা মনীষীদের বাণী ওই জাতীয় বিষয় যাচ্ছে। বাংলা, ইতিহাস, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের মতো কিছু বইয়ের প্রচ্ছদে বা বইয়ের কোনো কোনো অংশে এসব গ্রাফিতি বা দেয়ালে আঁকা ছবি যুক্ত করা হবে।’
শেখ হাসিনার উক্তি বাদ দেওয়া হবে
এখন বেশ কয়েকটি শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের পেছনের প্রচ্ছদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যেসব ছবি ও উদ্ধৃতি রয়েছে সেগুলো বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিটিবি। বইয়ের শেষ পৃষ্ঠায় থাকা শেখ হাসিনার এসব উক্তিকে অপ্রাসঙ্গিক উল্লেখ করে এনসিটিবির চেয়ারম্যান বলেন, সেগুলো থাকবে না। সেগুলো অপ্রাসঙ্গিক। শিক্ষার্থীদের মনে যাতে রাজনৈতিক কোনো ধারণার উদ্রেক না হয় সে কারণে এসব বাদ দেওয়া হচ্ছে। বইয়ের পেছনের প্রচ্ছদে শেখ হাসিনার উদ্ধৃতির পরিবর্তে চিরন্তন কিছু বাণী যুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
ইতিহাসবিষয়ক যেসব পরিবর্তন হচ্ছে
বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণির বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ইতিহাস নির্ভর বিষয়েও কিছু কাটছাঁট করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে জিয়াউর রহমানসহ অন্যদের ভূমিকাও।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘ইতিহাসের বিষয় আছে, যেগুলোতে যার যার ভূমিকা সেটা সঠিকভাবে ছিল না। এ রকম অভিযোগ আছে। আমরাও পেয়েছি। সেগুলো দেখা হচ্ছে।
যার যতটুকু ভূমিকা সেভাবে দেওয়া হবে। যেমন: মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ইতিহাসের অন্যান্য যারা পিলার তাদের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন- এমন বিষয়ও যুক্ত হচ্ছে আগামী বছরের পাঠ্যইয়ে।
ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণায় আমাদের তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান একাধিক ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেগুলো সেভাবেই আসবে আশা করছি। একইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অন্যান্যদের যে ভূমিকা তাও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ ছাড়া মাওলানা ভাসানী, তাজউদ্দীন আহমেদ, জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী যার যা ভূমিকা এগুলো ইতিহাসের অংশ হিসেবে যুক্ত করা হবে।’
গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের কথা অন্তর্ভুক্ত হবে?
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে গত ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ নিহত হন। পুলিশের গুলির বিপরীতে বুক পেতে দাঁড়িয়ে যান তিনি।
বিভিন্ন ভিডিওতে পুলিশ গুলি করার পর সাঈদকে ঢলে পড়তে দেখা যায়। পরে মারা যান তিনি। যদিও পুলিশ যে মামলা করে তাতে ভিন্ন বক্তব্য থাকায় তা নিয়ে চলে তুমুল সমালোচনা। সাঈদের এ মৃত্যু সে সময় তোলপাড় তোলে দেশে।
এ আন্দোলনে ঢাকায় ১৮ জুলাই নিহত হয়েছেন এমন একজন মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের ছাত্র মুগ্ধ উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। আন্দোলনকারীদের পানি সরবরাহ করছিলেন মুগ্ধ। উত্তরাতেই বাসা তার।
আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তার বলা ‘পানি লাগবে, পানি, পানি লাগবে, পানি’ এ উক্তি পরবর্তীতে আন্দোলনের প্রধান স্লোগানে পরিণত হয়।
গণঅভ্যুত্থানে নিহত এ দুইজনের কথা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে এরই মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানান এনসিটিবির চেয়ারম্যান। তবে এখনো মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে অনুমোদন পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এটা এখনও সিদ্ধান্ত আসে নাই। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত এলে আমরা বলতে পারবে। এখনো সিদ্ধান্ত পাইনি, এ জন্য যুক্ত করার কথা বলা যাবে না। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত দেরিতে এলেও আগামী বছরের বইতে শেষ মুহূর্তেও এ বিষয় বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব।’
তিনি বলেন, ‘ছাপাখানায় কিছু বই চলে গেছে, কিছু বই এখনও যাওয়ার অপেক্ষায় আছে। জানুয়ারিতে বই দেওয়ার জন্য আমাদের প্রিন্টারদের সঙ্গে আমাদের কথা হচ্ছে। বই দেওয়ার জন্য তাদের প্রস্তুতিও আছে। এখন তারা যদি সব সহযোগিতা করে তাহলে তা সম্ভব, কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।’
মূল্যবোধের বিষয় যুক্ত হবে
আগামী বছরের পাঠ্যবইয়ে যাতে কোনো গোষ্ঠী, সম্প্রদায় বা কারো প্রতি আঘাত না করা হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখে সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে জানান এনসিটিবির চেয়ারম্যান এ কে এম রিয়াজুল হাসান। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের মূল্যবোধ, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো কিছু পাঠ্যবইয়ে থাকবে না।’
সতর্কতার জন্য এটা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠী বা সামাজিক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী তারা যেন আহত না হয় বা তাদের বিষয়ে যাতে বিরূপ কোনো মন্তব্য না থাকে সেটা দেখা হয়েছে। কাউকে আঘাত যেন করা না হয় সে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।’
এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন (ইসি) গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্য-অযোগ্যতাটা তৈরি করে নির্বাচন কমিশন। এখন নির্বাচন কমিশন আমাদের আইন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা, সবকিছু নিয়ে ঠিক করবে যে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন, কি পারবেন না।’
স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার মানদণ্ড প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের জন্য কোনো ধরনের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার আইনি বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। এর আগে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলির এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রতিমন্ত্রী নিজেও উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীতে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান চালিয়েও থামানো যাচ্ছে না মাদক কারবার। প্রতিদিন গড়ে পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ।
টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হলেও বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা, হেরোইনসহ নানা ধরনের মাদক। পুলিশের হিসাবে, গত এক মাসে বিভিন্ন অভিযোগে ১৫ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রয়েছে মাদক কারবারিও।
ডিএমপি সদর দপ্তর সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রমনা বিভাগে ২২ জন, লালবাগে ২৮, ওয়ারীতে ৬০, মতিঝিলে ৫২, তেজগাঁওয়ে ৯১, মিরপুরে ১৯৩, গুলশানে ৪১, উত্তরা বিভাগে ৪২, গোয়েন্দা বিভাগে ১২ এবং সিটিটিসিতে একজন রয়েছে। এ সময় ৫১টি মামলা করা হয়।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন জানান, অভিযানে তিন হাজার ২৯১টি ইয়াবা, ৪৫ কেজি ৪৯০ গ্রাম গাঁজা, একটি শটগানসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে চার শতাধিক শীর্ষ মাদক কারবারি রয়েছে। তারা বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করে। তালিকা করে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশের তালিকায় থাকা শীর্ষ মাদক কারবারি মো. দিলদার ও তার সহযোগী শাকিরসহ অন্তত ৩৫ জন সীমান্ত থেকে মাদক এনে ঢাকায় বিক্রি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পকেন্দ্রিক মাদক কারবার নিয়েও রয়েছে অভিযোগ।
ক্যাম্পের হুমায়ূন রোডসহ অন্তত ১২ স্পটে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ডিএমপির বিভিন্ন এলাকায় এমন চার শতাধিক মাদক বিক্রির স্পট রয়েছে।
সরেজমিনে গত কয়েক দিনে কারওয়ান বাজার রেলগেট, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, মগবাজার রেলগেট, পল্লবী, খিলগাঁও ও উত্তর বাড্ডার কয়েকটি এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির চিত্র দেখা গেছে। মঙ্গলবার রাতে কারওয়ান বাজার রেলগেট এলাকায় কয়েকজন কিশোর-তরুণকে মাদকের ব্যাগ নিয়ে ঘুরতে দেখা যায়। ক্রেতাদের কাছে ইয়াবা বিক্রির পাশাপাশি রেলগেটের পাশে বসে অন্য বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি করতে দেখা যায়।
মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পেও গত বুধবার ও গত বৃহস্পতিবার রাতে ইয়াবা, হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদক বিক্রির দৃশ্য দেখা যায়। কোথাও কোথাও মাদক কিনতে মানুষের সারিও দেখা গেছে। অথচ ক্যাম্পের চারপাশে পুলিশের একাধিক চেকপোস্ট রয়েছে এবং যৌথ বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালায়।
পুলিশের দাবি, ক্যাম্পের বড় একটি অংশের মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দারিদ্র্য ও বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে মাদক কারবারিরা সেখানে ব্যবসা বিস্তার করেছে।
এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ রাজধানীতে মাদক নিয়ন্ত্রণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কঠোরভাবে অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয়ে ছাড় না দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
‘নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬’ বাস্তবায়নে নতুন বেতন কাঠামোর পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণির সরকারি চাকরিজীবীর জন্য ৭টি পৃথক বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ (এসআরও) জারি করতে যাচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন অনলাইনে নির্ধারণে আইবাস প্লাস প্লাস ব্যবস্থাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রজ্ঞাপন জারির পরই পে-স্কেল বাস্তবায়নের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভেটিং শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে ৭টি পৃথক এসআরও থাকবে। এগুলোতে বিভিন্ন শ্রেণি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং সংশ্লিষ্ট বিধান আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে। ক্ষেত্রগুলো হলো-বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিচার বিভাগ।
অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা একটি গণমাধ্যমকে বলেন, প্রজ্ঞাপন জারির পরই বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন কাঠামো প্রয়োগের ক্ষেত্রে কারিগরি ও প্রশাসনিক পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে পৃথক এসআরও প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রজ্ঞাপন জারির পর সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বাস্তবায়নের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। সাতটি পৃথক এসআরও-এর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবীর বেতন কাঠামো প্রয়োগের বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি আইবাস প্লাস প্লাসে তথ্য হালনাগাদ ও নতুন বেতন নির্ধারণের কারিগরি প্রস্তুতিও চলছে।
এর আগে, গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নবম পে-স্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এতে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে বলে সরকার জানিয়েছে।
এদিকে এবার নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে বড় পরিবর্তন আসছে বেতন নির্ধারণের ডিজিটাল ব্যবস্থায়। অর্থ বিভাগ সরকারি চাকরিজীবীদের ব্যক্তিগত তথ্য আইবাস প্লাস প্লাসের আওতায় আরও পূর্ণাঙ্গভাবে নিয়ে আসতে চায়।
নতুন ব্যবস্থায় প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারী অনলাইনে আইবাস প্লাস প্লাসে প্রবেশ করে চাকরি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করবেন। এর মধ্যে পদ, গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, চাকরিতে যোগদানের তথ্য, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেডসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকবে।
তথ্য পূরণ ও যাচাই শেষে নতুন পে-স্কেলের কাঠামো অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর মূল বেতন ও প্রযোজ্য ভাতা সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ করা হবে। ফলে প্রত্যেক কর্মচারী নিজের তথ্যের ভিত্তিতে নতুন বেতন কাঠামোয় তার আর্থিক অবস্থান জানতে পারবেন।
বর্তমানে আইবাস প্লাস প্লাস সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বেতন, পেনশন, বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ব্যবস্থায় অনলাইন বেতন বিল, জিপিএফ, ঋণ ও আয়কর-সংক্রান্ত হিসাব তৈরি এবং ইএফটির মাধ্যমে বেতন-পেনশন দেওয়ার সুবিধা রয়েছে।
নবম পে-স্কেলে গ্রেড, মূল বেতন, ভাতা, পদোন্নতি, ইনক্রিমেন্ট এবং বিভিন্ন শ্রেণির কর্মচারীর জন্য আলাদা বিধান থাকায় বিদ্যমান সফটওয়্যারকে নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হচ্ছে।
অর্থ বিভাগের লক্ষ্য হলো কাগজে-কলমে বেতন নির্ধারণের পরিবর্তে তথ্যভিত্তিক ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বেতন পুনর্নির্ধারণ করা। এতে বেতন নির্ধারণের জন্য হিসাবরক্ষণ অফিসে বারবার যাওয়ার প্রয়োজন কমবে। পাশাপাশি ভুল হিসাব, দ্বৈত সুবিধা কিংবা অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হবে।
মিয়ানমারে সংঘাত চলমান থাকায় এখনো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি হয়নি। বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের আবাসিক প্রতিনিধি জানান, রোহিঙ্গাদের জন্য জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন কখনো টেকসই হয় না। সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা চায় ঢাকা।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমঝোতা সই হয় ২০১৭ সালে। ৯ বছরে কয়েক দফা কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফেরানোর উদ্যোগ নিলেও পরে তা ভেস্তে যায়। মিয়ানামের অভ্যন্তরীণ সহিংস সংঘাতের কারণে বাংলাদেশে আশ্রিত ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যাচ্ছে না।
২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপে যাবে ১ হাজার ৪৭৬ জন। তবে এ উদ্যোগ আদৌ বাস্তবায়ন হবে কি না তা নিয়ে সংশয়ের কথা জানান বাংলাদেশে থাকা ইউএনএইচসিআরের আবাসিক প্রতিনিধি।
ইউএনএইচসিআরের আবাসিক প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন বলেন, মিয়ানমারের জান্তা সেনাবাহিনী এবং আরাকান আর্মির মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে মোটেও ইতিবাচক নয়। যদি আমরা দেখি যে শরণার্থীদের নিজেরা পরিস্থিতি মূল্যায়নের সুযোগ না দিয়েই তাদের ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, তাহলে অবশ্যই আমরা উদ্বিগ্ন হব।
প্রত্যাবাসন প্রশ্নে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের দাবি নিশ্চিত হওয়া জরুরি বলে মনে করেন ইভো। তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন অবশ্যই শরণার্থী-কেন্দ্রিক এবং স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ, নিরাপদ এবং সর্বোপরি টেকসই হতে হবে। জোর করে বা তাড়াহুড়ো করে ফিরিয়ে দেয়ার কোনো অর্থ নেই, যদি তারা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে না পারে। এতে যেমন বড় ধরনের মানবিক দুর্ভোগ সৃষ্টি হবে, তেমনি আর্থিক ব্যয়ও অনেক বেড়ে যাবে, যা অবশ্যই এড়ানো উচিত।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, বিশ্বের কোনো দেশেই মানবিক কারণে এতো বিশাল জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার নজির নেই। আমরা মানবিক কারণে মানুষগুলোকে আশ্রয় দিয়েছি, যাতে তারা হত্যাযজ্ঞের শিকার না হয়। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, এটি কেবল বাংলাদেশের সমস্যা। এটি পুরো বিশ্বের সমস্যা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও দায়িত্ব। শুধু মুখে সমর্থন জানালেই হবে না, আর্থিক সহায়তা এবং সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে এ সংকট সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে।
টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোই এ সমস্যার এক মাত্র সমাধান। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরো সক্রিয় হওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ।
দেশের অভ্যন্তরে সরকারের ঋণের বোঝায় নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে সরকারের মোট পুঞ্জীভূত অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকায়। সদ্যসমাপ্ত এই অর্থবছরে ব্যাংকব্যবস্থা, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সঞ্চয়পত্র খাত থেকে ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার, যা ছিল মূল লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৬ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা বেশি। সম্প্রতি সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণসংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বাজেট ঘাটতি মেটাতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অতিরিক্ত অর্থ ধার করতে হয়েছে সরকারকে। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে সরকারের মোট পুঞ্জীভূত অভ্যন্তরীণ ঋণের স্থিতি ছিল ১০ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, সরকারের এই বিপুল অভ্যন্তরীণ ঋণের সিংহভাগই এসেছে দেশের ব্যাংকব্যবস্থা থেকে। শুধু ব্যাংক খাত থেকেই গত অর্থবছরে সরকার ঋণ নিয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা; যা এর আগের অর্থবছরে ছিল ৭৭ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে।
গত বাজেটে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং ব্যাংকবহির্ভূত ক্ষেত্র থেকে ২১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারিত ছিল। তবে বছর শেষে ব্যাংক খাত থেকে স্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকায়, যা এক বছরে পুঞ্জীভূত ব্যাংকঋণের ক্ষেত্রে ২৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
অন্যদিকে ব্যাংকবহির্ভূত খাতে এই ঋণের স্থিতি প্রায় ৪ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ব্যাংক খাত থেকে গৃহীত এই ঋণের বড় অংশই এসেছে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ড বিক্রির মাধ্যমে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পৃথক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চ শেষে সরকারের বিদেশি ঋণের মোট স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯১ বিলিয়ন বা ৯ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে। প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য ১২৫ টাকা হিসাব করলে দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
সর্বশেষ ২০২৫–২৬ অর্থবছর শেষে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। এই প্রথমবারের মতো সরকারের অভ্যন্তরীণ পুঞ্জীভূত ঋণ সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল। এক বছরে ঋণ বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, সরকারের এখন বড় খরচের খাত হয়ে উঠেছে ঋণের সুদ পরিশোধ, সেটি দেশি ঋণ হোক বা বিদেশি ঋণ হোক। উভয় ক্ষেত্রেই সুদ পরিশোধে সরকারকে বাজেটে বড় অঙ্কের বরাদ্দ রাখতে হচ্ছে। চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান গণামাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের দেশি-বিদেশি ঋণের বোঝা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এতে সুদ পরিশোধের চাপও বাড়ছে। এ কারণে সরকারের খরচের দ্বিতীয় শীর্ষ খাতে পরিণত হয়েছে ঋণ পরিশোধ। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে এখন ঋণ পরিশোধে আমাদের নতুন করে ঋণ করতে হচ্ছে। ফলে আমরা বিপজ্জনক এক ঋণঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছি। এছাড়া বিদেশি ঋণের সুদ বাড়ছে।’
মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, বড় কিছু ঋণের গ্রেস পিরিয়ডও শেষ হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে ঋণের সুদ পরিশোধের চাপ আরও বাড়বে। এ অবস্থায় চাপ সামাল দিতে সরকারের ব্যয়ের ক্ষেত্রে অপচয় কমাতে হবে। সেই সঙ্গে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে আয় বাড়ানোয়।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, পানি বণ্টনসংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য সরকার ইতোমধ্যে একটি কারিগরি দল গঠন করেছে। দলটি শিগগিরই এ বিষয়ে ভারতকে অবহিত করবে।
গত শুক্রবার দিবাগত রাতে রাজবাড়ী জেলার কলিমহড় গ্রামে নিজের বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
পানিসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিতুমীর বলেন, নদীতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি থাকলে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন সঠিকভাবে বজায় রাখা সম্ভব। এ কারণে বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে দেশের পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের অঙ্গীকার করেছে।
তিনি বলেন, এরই অংশ হিসেবে একনেকে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পদ্মা ব্যারেজের মাধ্যমে শুধু পানির আধার তৈরি করা হবে না, সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও রাখা হবে।
উজানের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের পানি সম্পদের সুষ্ঠু ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ৫৪টি নদীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পানি প্রবাহের সম্পর্ক রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের প্রধান ভিত্তি হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। ন্যায়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার।
তিতুমীর বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের স্বীকৃতির ভিত্তিতে এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালা অনুসরণ করে ভাটি অঞ্চলে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বৃদ্ধ বাবা-মাকে সুরক্ষা দিতে ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে। যশোর শহরের পিটিআই হলরুমে এক চাকরি মেলা উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আজ এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। হেবা আইনে স্পর্শ করার ক্ষমতা ইহজাগতিক কারও নাই। সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে আনা সাম্প্রতিক সংশোধনীকে হেবা আইনের লঙ্ঘন বলে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী জানান, বৃদ্ধ বাবা-মাকে সুরক্ষা দিতে ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে এই সংশোধনী আনা হয়েছে। আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, হেবা আইনসহ অন্য যেকোনো আইনের অধীনে দান, উইল বা অন্য কোনোভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই সংশোধনী কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। তিনি অভিযোগ করেন, সংশোধনীর এই অংশটুকু না পড়েই কেউ কেউ বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করছেন।
‘ক্যারিয়ার হোক ক্ষুদ্রঋণ সেক্টরে, অবদান হোক দেশের উন্নয়নে’ প্রতিপাদ্যে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির আয়োজনে দিনব্যাপী এই চাকরি মেলায় ৩৭টি ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। মেলায় ২২ হাজার আবেদনের বিপরীতে এক হাজার ১১৫ জনকে চাকরি দেওয়া হয়। চাকরিপ্রাপ্তরা প্রধান অতিথির হাত থেকে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ও স্থানীয় জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মেরিনা আক্তারসহ অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় কোনো ধরনের ‘কিশোর গ্যাং’-এর অস্তিত্ব রাখা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। শনিবার মোহাম্মদপুর থানা প্রাঙ্গণে স্থানীয় নাগরিকদের সঙ্গে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
মতবিনিময় সভায় মোহাম্মদপুরের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে ডিএমপি কমিশনার জানান, পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতার কারণে গত তিন মাসে এলাকার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পূর্বের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নাগরিকদের বিভিন্ন মতামত ও আশঙ্কার প্রেক্ষিতে তিনি জানান, একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে পুলিশ সম্পূর্ণ একমত। তবে দীর্ঘদিনের সমস্যা বিবেচনায় এনে রাতারাতি বা তাৎক্ষণিকভাবে মোহাম্মদপুরকে শতভাগ অপরাধমুক্ত করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ কৌশলগতভাবে ধারাবাহিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা আরও সুসংহত করতে পুরো তেজগাঁও জোনে পুলিশিং কার্যক্রম ও টহল জোরদার করার কড়া নির্দেশ দেন ডিএমপি কমিশনার। এছাড়া অপরাধীদের সম্ভাব্য গোপন তৎপরতা বন্ধের লক্ষ্যে বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে তিনি জানান, রাতের বেলা কোনো অটোরিকশার গ্যারেজের ভেতরে কাউকে পাওয়া গেলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সীমাহীন দুর্নীতির কারণেই দেশের মানুষ বর্তমানে বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে বলে মন্তব্য করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। শনিবার সকালে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও পঞ্চগড় চিনিকল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হওয়ায় এখন গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছে না এবং উদ্ভূত এই পরিস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী ফেনীতে একটি সোলার পাওয়ার প্লান্ট উদ্বোধন করবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে চললে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে, যা প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
দেবীগঞ্জ অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সেখানে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি একটি কৃষিভিত্তিক ‘অ্যাগ্রোজোন’ ও পরিকল্পিত সবুজায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান তৈরিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে চীনের বিখ্যাত জুলং গ্রুপের চেয়ারম্যান পেং ওয়াং দেবীগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলটিকে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হিসেবে উল্লেখ করেন এবং নিজ দেশে ফিরে সেখানে বিনিয়োগের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মাহাবুব হোসেন, জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন, দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীত সাহাসহ দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধ্যায় চিরতরে শেষ হয়ে গেছে এবং শত শত ডিসেম্বর পার হলেও শেখ হাসিনা আর বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙা কবরস্থানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার ও কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগ দেশে যে গণহত্যা চালিয়েছে তা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃত, ফলে তাদের নতুন করে রাজনীতিতে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। তবে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার মতো চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। জ্বালানি সংকটকে একটি জাতীয় সংকট হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দলগুলোকে লংমার্চের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল না করে সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাষ্ট্রকে অশান্ত করলে তার সুযোগ নিয়ে অপশক্তি ফিরে আসার চেষ্টা করতে পারে।
জামায়াতকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, ১৯৯৬ সালের মতো আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলনের চেষ্টা করা হলে দেশের জনগণ জামায়াতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। শহীদ আবরার ফাহাদের হত্যাকারী দল বা সংগঠনের এদেশে ফেরার কোনো অবকাশ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আধিপত্যবাদবিরোধী শক্তির প্রতিনিধি হিসেবে তাঁরা রাজপথে থেকে যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবেন।
ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, আবরার ফাহাদের চেতনা আজ রাষ্ট্রীয়ভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা এবং শহীদ ওসমান হাদী হত্যা মামলার আসামিদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ভারত স্পষ্ট অবস্থান না নেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাবেন না। তিনি আরও জানান, অতীতের অসম সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে ভারতসহ সবার সঙ্গে সমমর্যাদার সম্পর্ক বজায় রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি কুষ্টিয়ায় শহীদ আবরার স্টেডিয়াম ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে হল নামকরণের মতো উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি নিশ্চিত করেন যে, আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই সম্পন্ন হবে।
অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনসংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার লক্ষ্যে একটি বিশেষায়িত কারিগরি দল গঠন করেছে সরকার। গঠিত এই কারিগরি দল অনতিবিলম্বে এ বিষয়ে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। শুক্রবার রাতে রাজবাড়ী জেলার কলিমহড় গ্রামে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য জানান।
দেশের সামগ্রিক কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন সচল রাখতে নদীগুলোতে প্রয়োজনীয় পানির প্রবাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে অভ্যন্তরীণ পানিসম্পদের যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) বহুল প্রতীক্ষিত ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে কেবল বিশাল পানির আধারই গড়ে তোলা হবে না, বরং সমান্তরালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থায়ী অবকাঠামোও সংযোজন করা হবে।
উজানের পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় এবং দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে তিতুমীর জানান, বাংলাদেশের ভৌগোলিক কাঠামোর সঙ্গে ৫৪টি আন্তর্জাতিক নদীর আন্তঃসীমান্ত প্রবাহ জড়িত রয়েছে। এই ক্ষেত্রে সরকারের কূটনৈতিক অবস্থানের মূল ভিত্তি হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আন্তর্জাতিক নদী আইনের পূর্ণ স্বীকৃতি ও বিশ্বজনীন রীতিনীতি অনুসরণের মাধ্যমে ভাটি অঞ্চলের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করে সম্পূর্ণ ন্যায়সংগতভাবে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা করা হবে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বলপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের অবস্থান সম্পর্কে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরোপুরি অবগত ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। শনিবার সকালে ভোলার লালমোহন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় নাগরিক সমাজ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।
স্পিকার উল্লেখ করেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের আশ্বাস দিলেও শেখ হাসিনা নিজেই জানতেন তাঁদের কোথায় আটকে রাখা হয়েছে এবং এ নিয়ে তিনি বিশ্বমানের অভিনয়ের আশ্রয় নিয়েছিলেন। বিগত সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, মা ও স্ত্রীর সামনে থেকে স্বামী ও সন্তানকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার মতো বর্বরোচিত ঘটনাও ঘটানো হয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দেওয়া জবানবন্দিতে এসব লোমহর্ষক তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। বহু স্বজন আজও নিখোঁজ সন্তানের ফিরে আসার প্রতীক্ষায় পথ চেয়ে বসে থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তাঁদের অনেককেই আগেই হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
বিগত ১৭ বছরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার সমালোচনা করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারকে সন্তুষ্ট রাখা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে পুলিশের বিভিন্ন স্তরের সদস্যরা সাধারণ মানুষের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন ও নিপীড়ন চালিয়েছেন। ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার উত্তাল আন্দোলনের মুখে সাবেক সরকারপ্রধান দেশ ছেড়ে পালানোর পর প্রশাসন ও বিচার বিভাগের অনেক শীর্ষ পদধারীও পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। ওই অস্থির সময়ে বিভিন্ন সেনানিবাসে ৬৮৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বক্তব্য রাখেন।
বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার পাঁচ কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে। শনিবার পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই প্রশাসনিক পদায়নের আদেশ জারি করা হয়।
জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারদের মধ্যে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইশতিয়াক হাসান আমীনকে ঢাকায় পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি), পাবনার বেড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লাবীব আবদুল্লাহকে ট্যুরিস্ট পুলিশে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিয়াস বসাককে শিল্পাঞ্চল পুলিশে বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্যে নওগাঁর সাপাহার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মনকে শিল্পাঞ্চল পুলিশে এবং খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রাফিউর রহমানকে হবিগঞ্জের মাধবপুর সার্কেলের দায়িত্ব দিয়ে বদলি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, বদলিকৃত কর্মকর্তাদের আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাঁদের বর্তমান কর্মস্থলের সার্বিক দায়িত্বভার হস্তান্তর করতে হবে। নির্ধারিত এই সময়সীমার মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তরে ব্যর্থ হলে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য হবেন।