বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশসহ প্রায় সব জায়গায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাদ থাকছে না পাঠ্যপুস্তকও। সেই জায়গায়ও আসছে বড় কিছু পরিবর্তন।
আগামী বছরের প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাঠ্যপুস্তকে যুক্ত হচ্ছে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি। বাদ দেওয়া হচ্ছে বইয়ের প্রচ্ছদে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত উক্তি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাসে যার যা ভূমিকা তা সেভাবে সন্নিবেশিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
খবর: বিবিসি বাংলা।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান জানান, ইতিহাসে যার যেমন ভূমিকা সেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার ইতিহাসে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তাদের বিষয় যুক্ত হচ্ছে। আগামী বছরের পাঠ্যপুস্তক ২০২৪ সালের বিদ্যমান পাঠ্যক্রমে নয় বরং ২০১২ সালের পাঠ্যক্রমে হচ্ছে।
যুক্ত হচ্ছে গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মূল দাবি এক সময় সরকার পতনের এক দফা দাবিতে রূপ নেয়। এ আন্দোলনে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে দেয়ালচিত্রকে বেছে নেয়।
শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরও পুরো ঢাকা শহরের বিভিন্ন দেয়ালে দেয়ালে শিক্ষার্থীরা গ্রাফিতি আঁকে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বহু ভবনের দেয়াল, সীমানা প্রাচীর, সড়ক-দ্বীপ, মেট্রোরেলের স্তম্ভ, উড়াল সড়কের স্তম্ভ কোনো কিছুতেই নিজেদের অর্থে গ্রাফিতি আঁকতে বাদ রাখেনি শিক্ষার্থীরা।
এসব গ্রাফিতিতে ওই সময়টুকুকে ধারণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। অভ্যুত্থানে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি ও তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে গ্রাফিতিতে।
পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, রাষ্ট্র-সমাজের সংস্কার, ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, স্বৈরতন্ত্রের অবসান, বাক-স্বাধীনতা, অধিকার নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে সব ধরনের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আর প্রতিরোধের উক্তিও ফুটে উঠেছে এসব গ্রাফিতিতে।
এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানান, জুলাইয়ের গ্রাফিতি যে সবগুলো বইয়ে যাবে তা নয়, কিছু কিছু বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
একই সঙ্গে যেহেতু ২০২৪-এর জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের বিষয়টি একেবারেই সাম্প্রতিক এবং তা নিয়ে লেখা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এ বছর সময়ও একেবারেই কম, ফলে লেখা হিসেবে না রেখে কিছু পাঠ্যবইয়ে অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি বা দেয়ালে আঁকা ছবি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিটিবি।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান বলেন, ’২৪-এর জুলাইয়ের ঘটনাবলি, এ জাতীয় যেসব লেখা রয়েছে তা আসলে কতটা মানসম্পন্ন আর লেখাগুলো তৈরি করাও বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তারপরও কিছু বিষয় যেতে পারে কিন্তু সেটা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি প্রয়োজন। এখনও অনুমোদন আমরা পাইনি। তবে কিছু কিছু বইয়ের ব্যাক কাভারে কিছু গ্রাফিতি যাচ্ছে, বাচ্চারা দেয়ালে যে চিত্রাঙ্কন এঁকেছে বা মনীষীদের বাণী ওই জাতীয় বিষয় যাচ্ছে। বাংলা, ইতিহাস, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের মতো কিছু বইয়ের প্রচ্ছদে বা বইয়ের কোনো কোনো অংশে এসব গ্রাফিতি বা দেয়ালে আঁকা ছবি যুক্ত করা হবে।’
শেখ হাসিনার উক্তি বাদ দেওয়া হবে
এখন বেশ কয়েকটি শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের পেছনের প্রচ্ছদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যেসব ছবি ও উদ্ধৃতি রয়েছে সেগুলো বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিটিবি। বইয়ের শেষ পৃষ্ঠায় থাকা শেখ হাসিনার এসব উক্তিকে অপ্রাসঙ্গিক উল্লেখ করে এনসিটিবির চেয়ারম্যান বলেন, সেগুলো থাকবে না। সেগুলো অপ্রাসঙ্গিক। শিক্ষার্থীদের মনে যাতে রাজনৈতিক কোনো ধারণার উদ্রেক না হয় সে কারণে এসব বাদ দেওয়া হচ্ছে। বইয়ের পেছনের প্রচ্ছদে শেখ হাসিনার উদ্ধৃতির পরিবর্তে চিরন্তন কিছু বাণী যুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
ইতিহাসবিষয়ক যেসব পরিবর্তন হচ্ছে
বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণির বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ইতিহাস নির্ভর বিষয়েও কিছু কাটছাঁট করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে জিয়াউর রহমানসহ অন্যদের ভূমিকাও।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘ইতিহাসের বিষয় আছে, যেগুলোতে যার যার ভূমিকা সেটা সঠিকভাবে ছিল না। এ রকম অভিযোগ আছে। আমরাও পেয়েছি। সেগুলো দেখা হচ্ছে।
যার যতটুকু ভূমিকা সেভাবে দেওয়া হবে। যেমন: মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ইতিহাসের অন্যান্য যারা পিলার তাদের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন- এমন বিষয়ও যুক্ত হচ্ছে আগামী বছরের পাঠ্যইয়ে।
ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণায় আমাদের তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান একাধিক ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেগুলো সেভাবেই আসবে আশা করছি। একইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অন্যান্যদের যে ভূমিকা তাও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ ছাড়া মাওলানা ভাসানী, তাজউদ্দীন আহমেদ, জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী যার যা ভূমিকা এগুলো ইতিহাসের অংশ হিসেবে যুক্ত করা হবে।’
গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের কথা অন্তর্ভুক্ত হবে?
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে গত ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ নিহত হন। পুলিশের গুলির বিপরীতে বুক পেতে দাঁড়িয়ে যান তিনি।
বিভিন্ন ভিডিওতে পুলিশ গুলি করার পর সাঈদকে ঢলে পড়তে দেখা যায়। পরে মারা যান তিনি। যদিও পুলিশ যে মামলা করে তাতে ভিন্ন বক্তব্য থাকায় তা নিয়ে চলে তুমুল সমালোচনা। সাঈদের এ মৃত্যু সে সময় তোলপাড় তোলে দেশে।
এ আন্দোলনে ঢাকায় ১৮ জুলাই নিহত হয়েছেন এমন একজন মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের ছাত্র মুগ্ধ উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। আন্দোলনকারীদের পানি সরবরাহ করছিলেন মুগ্ধ। উত্তরাতেই বাসা তার।
আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তার বলা ‘পানি লাগবে, পানি, পানি লাগবে, পানি’ এ উক্তি পরবর্তীতে আন্দোলনের প্রধান স্লোগানে পরিণত হয়।
গণঅভ্যুত্থানে নিহত এ দুইজনের কথা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে এরই মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানান এনসিটিবির চেয়ারম্যান। তবে এখনো মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে অনুমোদন পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এটা এখনও সিদ্ধান্ত আসে নাই। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত এলে আমরা বলতে পারবে। এখনো সিদ্ধান্ত পাইনি, এ জন্য যুক্ত করার কথা বলা যাবে না। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত দেরিতে এলেও আগামী বছরের বইতে শেষ মুহূর্তেও এ বিষয় বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব।’
তিনি বলেন, ‘ছাপাখানায় কিছু বই চলে গেছে, কিছু বই এখনও যাওয়ার অপেক্ষায় আছে। জানুয়ারিতে বই দেওয়ার জন্য আমাদের প্রিন্টারদের সঙ্গে আমাদের কথা হচ্ছে। বই দেওয়ার জন্য তাদের প্রস্তুতিও আছে। এখন তারা যদি সব সহযোগিতা করে তাহলে তা সম্ভব, কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।’
মূল্যবোধের বিষয় যুক্ত হবে
আগামী বছরের পাঠ্যবইয়ে যাতে কোনো গোষ্ঠী, সম্প্রদায় বা কারো প্রতি আঘাত না করা হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখে সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে জানান এনসিটিবির চেয়ারম্যান এ কে এম রিয়াজুল হাসান। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের মূল্যবোধ, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো কিছু পাঠ্যবইয়ে থাকবে না।’
সতর্কতার জন্য এটা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠী বা সামাজিক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী তারা যেন আহত না হয় বা তাদের বিষয়ে যাতে বিরূপ কোনো মন্তব্য না থাকে সেটা দেখা হয়েছে। কাউকে আঘাত যেন করা না হয় সে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ভবন হোয়াইট হাউজে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’- এর সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। বিএনপির মিডিয়া সেল জানায়, বুধবার ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউজে এই অনুষ্ঠান হয়। এই সম্মেলনে বিশ্বের ৪৫টির অধিক দেশের ফাস্ট লেডি ও রাষ্ট্র নেতাদের সহধর্মিণী অংশগ্রহণ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প গত মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে এ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তার আমন্ত্রণেই জুবাইদা রহমান দুই দিনের সম্মেলনে অংশ নেন। তার সঙ্গে প্রতিনিধি দলে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক সার্জন শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ এবং ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান।
মিডিয়া সেল জানায়, বুধবার সকালে হোয়াইট হাউজে মার্কিন ফার্স্ট লেডি ও সম্মেলনের আয়োজক মেলানিয়া ট্রাম্প জুবাইদা রহমানসহ আগত সব অতিথিদের স্বাগত জানান। জুবাইদা রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ফাস্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে দুই নেত্রী শিশুদের কল্যাণে একযোগে কাজ করার জন্য একমত হন। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন আয়োজনের জন্য মেলানিয়া ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন জুবাইদা রহমান।
সমাপনী অনুষ্ঠানের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফাস্ট লেডি ছাড়াও বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্রনেতাদের সহধর্মিণীদের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশলাদি বিনিময় করেন জুবাইদা রহমান।
গত ২৩ মার্চ ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিটে’ যোগ দিতে ঢাকা ছাড়েন জুবাইদা রহমান। লন্ডন যাত্রা বিরতি করে তিনি যুক্তরাষ্ট্র যান। পরে ডা. জুবাইদা ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার: গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’ শীর্ষক সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। তার বক্তব্যে শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
বিএনপির মিডিয়া সেল জানায়, সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিশ্বনেতাদের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞতার বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং শিশুদের কল্যাণে বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের পক্ষে জুবাইদা রহমানের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। সাক্ষাৎকারে জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশ বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা থেকে জ্ঞানার্জন এবং বিশ্বের সব শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য অন্যান্য ফার্স্ট লেডি ও স্পাউসদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
সম্মেলনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ১১টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও প্রয়োগ উপস্থাপন করা হয়। জুবাইদা রহমান এই প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।
দাসত্ব ও নিপীড়ন নির্মূলের জন্য জোরদার বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (২৫ মার্চ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ‘আন্তর্জাতিক দাসত্ব ও ট্রান্স-আটলান্টিক দাস বাণিজ্যের শিকারদের স্মরণে’ আয়োজিত স্মারক সভায় এ আহ্বান জানান।
তিনি দাসত্ব ও ট্রান্স-আটলান্টিক দাস বাণিজ্যের লাখ লাখ শিকারদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং স্বাধীনতা ও ন্যায়ের জন্য লড়াই করা সাহসী মানুষের অদম্য মানসিকতার প্রশংসা করেন। ড. খলিলুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, ট্রান্স-আটলান্টিক দাস বাণিজ্য মানবজাতির ওপর এক স্থায়ী দাগ রেখে গেছে।
দাসত্ব, বর্ণবাদ, গণহত্যা ও সকল প্রকার নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অটল অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশের সংবিধান সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, বর্ণবাদ ও বৈষম্য প্রত্যাখ্যান করে এবং শোষিত জনগণের প্রতি দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করে।
১৯২৬ সালের দাসত্ব সংক্রান্ত কনভেনশন এবং প্রায় ৮০ বছর আগে গৃহীত মানবাধিকার সনদ দাসত্বকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যদিও দাসত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হয়েছে, এর প্রভাব আজও সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক কাঠামোয় বিদ্যমান।
তিনি মানব পাচার প্রতিরোধ, ডিজিটাল ফরেনসিক সমন্বয় এবং দাসত্ব ও দাস বাণিজ্যের মানব ও সভ্যতাগত ক্ষতির বিষয় সম্পর্কে শিক্ষাব্যবস্থা ও সংলাপে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একত্রিত হয়ে এমন একটি বিশ্ব গড়ার আহ্বান জানান, যেখানে দাসত্ব, বৈষম্য ও অন্যায়ের কোনো স্থান থাকবে না এবং মানব মর্যাদা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে।
নানা আয়োজন ও বিভিন্ন কর্মসূচী পালনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, এ ব্লকের দ্বিতীয়তলায় বিএমইউ এর ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী, সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অপর্ণের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত, অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে রোগীদের জন্য উন্নতমানের খাবার পরিবেশন ইত্যাদি। এছাড়া রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ জিয়ার মাজারে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান ঘোষক বীরউত্তম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে বিএমইউ প্রশাসন। এসময় বিএমইউর শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত করেন। পরে বিএমইউ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ সেখানে ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর উদ্যোগে আয়োজিত বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় এবং স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন।
বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ ২০২৬ইং তারিখ সকালে বিএমইউ ক্যাম্পাসে ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন মাননীয় ভারপ্রাপ্ত ভাইস-চ্যান্সেলর ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ। এসময় সেখানে সম্মানিত প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, সার্জারি অনুষদের ডীন অধ্যাপক ডা. মোঃ ইব্রাহীম সিদ্দিক, নার্সিং অনুষদের ডীন অধ্যাপক ডা. মোঃ মনির হোসেন খান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আয়েশা খাতুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এরপর সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভারপ্রাপ্ত ভাইস-চ্যান্সেলর ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ এর নেতৃত্বে সম্মানিত প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন), কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, ডীনবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দ, অফিস প্রধানগণ, শিক্ষকবৃন্দ, সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, ছাত্রছাত্রী, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ পুষ্পস্তবক অপর্ণের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাননীয় ভারপ্রাপ্ত ভাইস-চ্যান্সেলর ও প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের এবং জুলাই আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন, স্বাধীন হয়েছে বলেই বাংলাদেশ আজকের পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশে এখন গণতন্ত্র ও বাক স্বাধীনতার পরিবেশ বিরাজ করছে। এখন সময় ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার। সেই লক্ষ্যে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।
এসময় সম্মানিত প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য প্রয়োজন যোগ্য নেতৃত্ব। বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার সেই লক্ষ্য অবশ্যই পূরণ হবে।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রেই নারীদের অবদান অপরিসীম। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫তম বর্ষ পূর্তিতে আমাদের প্রত্যাশা নারী-পুরুষসহ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে উন্নত ও মর্যাদার উচ্চ শিখরে সু প্রতিষ্ঠিত হবে।
রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বাংলাদেশ গণতন্ত্রের আলোর পথে আবার চলতে শুরু করেছে। এই পথেই বাংলাদেশের উন্নয়ন নিশ্চিত হবে, মানুষের মুখে হাসি ফোটবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ সকল খাতে সাফল্যের নতুন অধ্যায় সূচিত হবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।
বিএমইউর উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় দিবসের এ সকল কর্মসূচীতে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোঃ আদনান হাসান মাসুদ, ড্যাবের উপদেষ্টা ও বিএমইউ এর ডেপুটি রেজিস্ট্রার (আইন) ডা. আবু হেনা হেলাল উদ্দিন আহমেদ, ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ এস এম নওরোজ, বিএমইউ এর চিকিৎসক ডা. আকবর হোসাইন, উপ-রেজিস্ট্রার সাবিনা ইয়াসমিন, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ হুমায়ুন কবীর, কর্মকর্তা জিসান উদ্দিন আহমেদ, মোঃ ইলিয়াছ খাঁন প্রমুখসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ।
এরপর বিএমইউ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ শহীদ জিয়ার মাজারে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান ঘোষক বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে এবং সেখানে ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর উদ্যোগে আয়োজিত বিনামূলে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় এবং স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে বিএমইউ ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক ও বিএমইউর প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ এর সঞ্চালনায় বিএমইউর ভারপ্রাপ্ত ভাইস-চ্যান্সেলর, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার ছাড়াও ড্যাব নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, মহাসচিব ডা. মোঃ জহিরুল ইসলাম শাকিল, সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কেনান, ড্যাবের উপদেষ্টা ডা. মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস ডাম্বেল, সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. পরিমল চন্দ্র মল্লিক, বিএমইউ ড্যাবের সভাপতি ও বিএমইউ এর পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী প্রমুখ।
এসময় বক্তারা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের আশা-ভরসার প্রতীক জননেতা তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই দেশবাসীকে ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছেন, খাল খনন কর্মসূচী শুরু করেছেন, আগামীতে হেলথ কার্ড দিবেন। ভবিষ্যতে মানুষের ভাগ্য্যের উন্নয়নসহ দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে। ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) বিভিন্ন জাতীয় দিবস ছাড়াও দুর্যোগ ও সংকটকালে সময়োপযোগী কর্মসূচী পালন করে আসছে। আগামী দিনেও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীর মতো মহতী আয়োজন অব্যাহত থাকবে। ড্যাবের উদ্যোগে স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত করা হয়।
বাংলাদেশের সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সিঙ্গাপুর। বাংলাদেশে অবস্থিত সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) মিচেল লি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে এক বৈঠকে এই আগ্রহ প্রকাশ করেন।
গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের শুরুতে মিচেল লি প্রতিমন্ত্রীকে তার দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে অভিনন্দন জানান। প্রতিমন্ত্রী দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করার ব্যাপারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠক চলাকালে সিডিএ প্রতিমন্ত্রীকে চলমান দ্বিপক্ষীয় কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন এবং বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী জনগণের সম্পর্কের ওপর আলোচনা করেন। তিনি সিঙ্গাপুরে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের ইতিবাচক সুনামের কথা উল্লেখ করেন।
মিচেল লি জানান, চাঙ্গি বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালসহ আসন্ন বৃহৎ অবকাঠামো ও ভূমি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী সিঙ্গাপুরে দক্ষ ও আধা-দক্ষ উভয় ধরনের বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সুযোগ সম্প্রসারণের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
তিনি উল্লেখ করেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স দ্রুত বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (বিএসএফটিএ) সম্পাদনে সিঙ্গাপুরের গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং বে টার্মিনাল প্রকল্পে অব্যাহত সহযোগিতার অনুরোধ জানান।
প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে পূর্ণ সহযোগিতা করবে এবং অগ্রগতি সহজতর করবে। প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে, বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর মতো খাতে সিঙ্গাপুরের বৃহত্তর বিনিয়োগকে আমন্ত্রণ জানান।
সিঙ্গাপুরের পক্ষ থেকে ডিজিটাল সুশাসন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে, বিশেষ করে আইসিটি-সম্পর্কিত খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে সরকারি পরিষেবা প্রদানে দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং ব্যয় হ্রাসের ওপর সরকারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। উভয় পক্ষ বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদনকারী বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোগে বিনিয়োগসহ জ্বালানি খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করে। সিঙ্গাপুর পক্ষ থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সুযোগ অন্বেষণে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসের গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিযোগ্য পণ্য চিহ্নিত ও প্রচারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সিঙ্গাপুরের পক্ষ থেকে খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাদ্য আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। তারা সিঙ্গাপুরের সুপারমার্কেট চেইনগুলোর মাধ্যমে আম ও সামুদ্রিক খাবারের মতো কৃষিপণ্যসহ বাংলাদেশ থেকে সম্ভাব্য আমদানির ওপর আলোচনা করেন।
প্রতিমন্ত্রী পাট, সিরামিক এবং চামড়ার পণ্যের মতো বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির জন্যও উৎসাহিত করেন। উভয় পক্ষ লক্ষ্যভিত্তিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল বিনিময়ের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করে। প্রতিমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের সম্ভাব্য বিনিয়োগকে স্বাগত জানান এবং সরকারের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও নীতির ওপর আলোচনা করেন।
উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে এবং এ বছর ঢাকায় পরবর্তী পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ সভার আয়োজনের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানায়। উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) পৃথক অভিনন্দন বার্তার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি এই বন্ধুত্বপূর্ণ শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। এই বার্তার মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘদিনের নিবিড় কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতার অঙ্গীকার আবারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং তাঁর অভিনন্দন বার্তায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ককে অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, চীন ও বাংলাদেশ কেবল ভালো প্রতিবেশী নয়, বরং একে অপরের অকৃত্রিম বন্ধু এবং বিশ্বস্ত অংশীদার। শি জিনপিংয়ের মতে, দীর্ঘকাল ধরে দুই দেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে কাজ করে আসছে এবং একে অপরের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। তিনি মনে করেন, ঢাকা ও বেইজিংয়ের এই সুসম্পর্ক বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র-রাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি আদর্শ মডেল বা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
শি জিনপিং তাঁর বার্তায় আরও গুরুত্বারোপ করেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থা আরও সুদৃঢ় করা এবং দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি প্রস্তুত রয়েছেন। বিশেষ করে চীন-বাংলাদেশ ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বের ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে উভয় দেশের জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
একই দিনে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি বিশেষ অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বার্তায় তিনি দুই দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশীদারিত্বের প্রশংসা করেন। এছাড়া, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন। এসব বার্তায় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক অগ্রগতির প্রশংসা করে বেইজিং আশা প্রকাশ করেছে যে, সামনের দিনগুলোতে এই বন্ধুত্ব আরও টেকসই ও শক্তিশালী হবে। স্বাধীনতা দিবসের এই বিশেষ মুহূর্তে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আসা এই উচ্চপর্যায়ের অভিনন্দন বার্তা দুই দেশের মধ্যকার শক্তিশালী কূটনৈতিক মেরুকরণেরই প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও চিফ হুইপ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
আজ (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, এমপি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ সময় তারা কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন এবং বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব, সার্জেন্ট অ্যাট আর্মসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তুরস্ক সরকারের আমন্ত্রণে ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন সামিট (স্ট্র্যাটকম) ২০২৬’-এ অংশ নিতে বুধবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটায় তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের কনরাড বসফরাস হোটেলে আগামী ২৭ ও ২৮ মার্চ দুই দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমরানুল হাসান এ তথ্য জানান।
সফরসূচি অনুযায়ী, আজ ২৬ মার্চ সৌদি আরবের জেদ্দা হয়ে মন্ত্রীর ইস্তাম্বুলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে পৌঁছানোর পর সন্ধ্যায় তথ্যমন্ত্রী তুরস্কে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন।
সম্মেলনের কার্যসূচি অনুযায়ী, তথ্যমন্ত্রী ২৭ মার্চ সকাল ১১টা ২০ মিনিটে সম্মেলনের প্রথম প্যানেল আলোচনায় অন্যতম আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেবেন।
‘বিশ্বব্যবস্থার জন্য একটি নতুন কাঠামো: একটি কৌশলগত যোগাযোগ পরিপ্রেক্ষিত’ শীর্ষক অধিবেশনে তাঁর সাথে উত্তর সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাহসিন এরতুগ্রুলোগ্লু, সিরিয়ার তথ্যমন্ত্রী হামজা আলমুস্তাফা এবং কাজাখস্তানের সংস্কৃতি ও তথ্য উপমন্ত্রী কানাত ঝুমাবায়েভিচ ইসকাকভ আলোচনায় অংশ নেবেন। প্যানেলটি সঞ্চালনা করবেন টিআরটি ওয়ার্ল্ডের সিনিয়র উপস্থাপক অ্যালিচান আয়ানলার।
সফরকালে তথ্যমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
সম্মেলন শেষে আগামী ৩০ মার্চ সকালে তথ্যমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
দীর্ঘ ১৮ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড ময়দানে আবারও অনুষ্ঠিত হলো সশস্ত্র বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে জাঁকজমকপূর্ণ এই আয়োজনে অংশ নিয়ে সম্মিলিত বাহিনীর অভিবাদন ও সালাম গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম স্বাধীনতা দিবসের আনুষ্ঠানিকতায় এমন বড় মাপের সামরিক প্রদর্শনী ও কুচকাওয়াজ যুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় প্যারেড ময়দানে কুচকাওয়াজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকাল ১০টার দিকে মিলিটারি পুলিশের সুসজ্জিত মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে অভিবাদন মঞ্চে এসে উপস্থিত হন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতিকে অনুষ্ঠানস্থলে অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। এর আগে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্যারেড মাঠে পৌঁছালে তাঁকে সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হয়।
কুচকাওয়াজের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর রাষ্ট্রপতির সম্মানে চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। এরপর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন একটি খোলা জিপে চড়ে প্যারেড পরিদর্শন করেন। প্যারেড অধিনায়ক মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হকের সাথে জিপে চড়ে তিনি বিভিন্ন কন্টিনজেন্টের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং শেষে অভিবাদন মঞ্চে ফিরে সালাম গ্রহণ করেন। এ সময় প্যারেড স্কয়ারজুড়ে সম্মিলিত বাহিনীর শৃঙ্খল ও সাহসিকতাপূর্ণ পদচারণা এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা করে। অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৮ সালের পর থেকে স্বাধীনতা দিবসে এই ধরনের কুচকাওয়াজ বা প্যারেড প্রদর্শনী নিয়মিত আয়োজন করা হয়নি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালেও স্বাধীনতা দিবসের এই ঐতিহ্যবাহী জাঁকজমকপূর্ণ প্যারেড বন্ধ ছিল, যদিও বিজয় দিবসে এটি আয়োজন করা হতো। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ২৬ শে মার্চের এই রাষ্ট্রীয় প্যারেড পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেয়। এই আয়োজন সফল করতে পবিত্র রমজান মাসের শুরু থেকেই প্যারেড স্কয়ার মাঠে কঠোর অনুশীলন ও প্রস্তুতি শুরু হয় এবং গত মঙ্গলবার চূড়ান্ত মহড়ার মাধ্যমে প্রস্তুতির সমাপ্তি ঘটে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘ বিরতির পর স্বাধীনতা দিবসের এই জাঁকজমকপূর্ণ কুচকাওয়াজ জাতীয় ঐক্য ও সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত করতে এই ধরনের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কুচকাওয়াজ শেষে বিভিন্ন বাহিনীর পক্ষ থেকে প্যারেড গ্রাউন্ডে তাদের রণকৌশল ও আধুনিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের বিমোহিত করে। মহান স্বাধীনতা দিবসের এই উৎসব প্যারেড ময়দান ছাড়িয়ে দেশজুড়ে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
বিনম্র শ্রদ্ধা, যথাযথ মর্যাদা আর গভীর ভালোবাসার মধ্য দিয়ে আজ পালিত হচ্ছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। একাত্তরের সেই অকুতোভয় বীর শহীদদের স্মরণে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে আজ সকাল থেকেই নেমেছে সর্বস্তরের মানুষের উপচে পড়া ঢল। রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে স্মৃতিসৌধ এলাকা এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে শহীদ বেদি, আর বাতাসের অনুরণিত হচ্ছে দেশাত্মবোধক গান ও বীরদের প্রতি কৃতজ্ঞতার সুর।
দিবসের শুরুতে ভোর ৬টার দিকে কুয়াশাভেজা সকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন, যা এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে। এ সময় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন প্রদান করে এবং বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে পুনরায় শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাঁর প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান।
রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্মৃতিসৌধ এলাকা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ৮৪ একরজুড়ে বিস্তৃত এই স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে মানুষের স্রোত বাড়তে থাকে। ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা থেকে আসা হাজার হাজার মানুষ ব্যানার, ফেস্টুন আর লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা হাতে বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই জমায়েত এক বিশাল মিলনমেলায় রূপ নেয়। শহীদ বেদিতে ফুল দিতে আসা মানুষের কণ্ঠে ছিল অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার।
এদিকে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দলীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। এছাড়া বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠনগুলো পৃথকভাবে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।
বাঙালির ইতিহাসের এই গৌরবোজ্জ্বল দিনে সারা দেশে সরকারি ছুটি পালিত হচ্ছে। ১৯৭১ সালের এই ২৬শে মার্চেই জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এ দেশের মুক্তিকামী মানুষ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের ডাক দিয়েছিল। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ই ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমে অর্জিত হয় কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। সেই স্বাধীনতার চেতনাকে বুকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে একটি উন্নত ও বৈষম্যহীন দেশ উপহার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আজকের নেতৃবৃন্দ। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতির গৌরবময় ইতিহাসের অন্যতম অধ্যায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর ৬টায় তারা জাতীয় স্মৃতিসৌধে উপস্থিত হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। পরে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী পরিষদ সদস্যদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেখান থেকে ঢাকা ফেরার সময় সকাল ৭টার মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন তিনি।
এরপর সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ‘কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে’ মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন।
এদিকে, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে দেশবাসীর জন্য বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাণীতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণসহ প্রবাসে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে তিনি লিখেন, ২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবময় ও ঐতিহাসিক দিন। এই দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি জাতির শ্রেষ্ঠ সূর্যসন্তানদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আমি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিতা মা, বোন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মনিবেদিত সকলকে গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া’র সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ জিয়া’র মাজারে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান।
এরপর মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিএনপি চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে দলের নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সকল বীর সন্তানের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে সচিব পদে বড় ধরনের পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নতুন সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দায়িত্বে থাকা পাঁচজন সচিবকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব (চুক্তিভিত্তিক) ড. মো. নেয়ামত উল্লাহ ভুইয়াকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম এবাদুর রহমানকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিকভাবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহানকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলাকে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব করা হয়েছে।
এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. দেলোয়ার হোসেনকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফাহমিদা আখতারকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) জাকারিয়াকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব করা হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহা. রায়হান কাওছার পেয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব। খুলনার বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. মোখতার আহমেদকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে।
ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের এসডিএস (অতিরিক্ত সচিব) ইয়াসমীন পারভীনকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়াকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) জাহেদা পারভীন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরীকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে সচিব পদে বড় ধরনের পরিবর্তন করা হয়েছে। একসঙ্গে ১২ মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে নতুন সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পদোন্নতি, বদলি ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে এসব পরিবর্তন করা হয়েছে।
বুধবার রাতে পৃথক প্রজ্ঞাপনে এসব সিদ্ধান্ত জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা হলেন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের এসডিএস (অতিরিক্ত সচিব) ইয়াসমিন পারভীনকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রায়হান কাওছারকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়াকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনকে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগে, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফাহমিদা আখতারকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দেলোয়ার হোসেনকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে।
এ ছাড়া এসএম এবাদুর রহমানকে এক বছরের চুক্তিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অপর দিকে সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলাকে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগে, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহানকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়াকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য পদে বদলি করা হয়েছে। আর চারজন সচিবকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।