শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬
২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

পাঠ্যবইয়ে আসছে ৫ পরিবর্তন

মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার ইতিহাসে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তাদের বিষয় যুক্ত হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১ নভেম্বর, ২০২৪ ২১:০৬

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশসহ প্রায় সব জায়গায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাদ থাকছে না পাঠ্যপুস্তকও। সেই জায়গায়ও আসছে বড় কিছু পরিবর্তন।

আগামী বছরের প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাঠ্যপুস্তকে যুক্ত হচ্ছে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি। বাদ দেওয়া হচ্ছে বইয়ের প্রচ্ছদে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত উক্তি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাসে যার যা ভূমিকা তা সেভাবে সন্নিবেশিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

খবর: বিবিসি বাংলা।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান জানান, ইতিহাসে যার যেমন ভূমিকা সেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার ইতিহাসে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তাদের বিষয় যুক্ত হচ্ছে। আগামী বছরের পাঠ্যপুস্তক ২০২৪ সালের বিদ্যমান পাঠ্যক্রমে নয় বরং ২০১২ সালের পাঠ্যক্রমে হচ্ছে।

যুক্ত হচ্ছে গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মূল দাবি এক সময় সরকার পতনের এক দফা দাবিতে রূপ নেয়। এ আন্দোলনে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে দেয়ালচিত্রকে বেছে নেয়।

শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরও পুরো ঢাকা শহরের বিভিন্ন দেয়ালে দেয়ালে শিক্ষার্থীরা গ্রাফিতি আঁকে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বহু ভবনের দেয়াল, সীমানা প্রাচীর, সড়ক-দ্বীপ, মেট্রোরেলের স্তম্ভ, উড়াল সড়কের স্তম্ভ কোনো কিছুতেই নিজেদের অর্থে গ্রাফিতি আঁকতে বাদ রাখেনি শিক্ষার্থীরা।

এসব গ্রাফিতিতে ওই সময়টুকুকে ধারণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। অভ্যুত্থানে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি ও তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে গ্রাফিতিতে।

পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, রাষ্ট্র-সমাজের সংস্কার, ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, স্বৈরতন্ত্রের অবসান, বাক-স্বাধীনতা, অধিকার নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে সব ধরনের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আর প্রতিরোধের উক্তিও ফুটে উঠেছে এসব গ্রাফিতিতে।

এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানান, জুলাইয়ের গ্রাফিতি যে সবগুলো বইয়ে যাবে তা নয়, কিছু কিছু বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

একই সঙ্গে যেহেতু ২০২৪-এর জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের বিষয়টি একেবারেই সাম্প্রতিক এবং তা নিয়ে লেখা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এ বছর সময়ও একেবারেই কম, ফলে লেখা হিসেবে না রেখে কিছু পাঠ্যবইয়ে অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি বা দেয়ালে আঁকা ছবি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিটিবি।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান বলেন, ’২৪-এর জুলাইয়ের ঘটনাবলি, এ জাতীয় যেসব লেখা রয়েছে তা আসলে কতটা মানসম্পন্ন আর লেখাগুলো তৈরি করাও বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তারপরও কিছু বিষয় যেতে পারে কিন্তু সেটা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি প্রয়োজন। এখনও অনুমোদন আমরা পাইনি। তবে কিছু কিছু বইয়ের ব্যাক কাভারে কিছু গ্রাফিতি যাচ্ছে, বাচ্চারা দেয়ালে যে চিত্রাঙ্কন এঁকেছে বা মনীষীদের বাণী ওই জাতীয় বিষয় যাচ্ছে। বাংলা, ইতিহাস, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের মতো কিছু বইয়ের প্রচ্ছদে বা বইয়ের কোনো কোনো অংশে এসব গ্রাফিতি বা দেয়ালে আঁকা ছবি যুক্ত করা হবে।’

শেখ হাসিনার উক্তি বাদ দেওয়া হবে

এখন বেশ কয়েকটি শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের পেছনের প্রচ্ছদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যেসব ছবি ও উদ্ধৃতি রয়েছে সেগুলো বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিটিবি। বইয়ের শেষ পৃষ্ঠায় থাকা শেখ হাসিনার এসব উক্তিকে অপ্রাসঙ্গিক উল্লেখ করে এনসিটিবির চেয়ারম্যান বলেন, সেগুলো থাকবে না। সেগুলো অপ্রাসঙ্গিক। শিক্ষার্থীদের মনে যাতে রাজনৈতিক কোনো ধারণার উদ্রেক না হয় সে কারণে এসব বাদ দেওয়া হচ্ছে। বইয়ের পেছনের প্রচ্ছদে শেখ হাসিনার উদ্ধৃতির পরিবর্তে চিরন্তন কিছু বাণী যুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

ইতিহাসবিষয়ক যেসব পরিবর্তন হচ্ছে

বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণির বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ইতিহাস নির্ভর বিষয়েও কিছু কাটছাঁট করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে জিয়াউর রহমানসহ অন্যদের ভূমিকাও।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘ইতিহাসের বিষয় আছে, যেগুলোতে যার যার ভূমিকা সেটা সঠিকভাবে ছিল না। এ রকম অভিযোগ আছে। আমরাও পেয়েছি। সেগুলো দেখা হচ্ছে।

যার যতটুকু ভূমিকা সেভাবে দেওয়া হবে। যেমন: মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ইতিহাসের অন্যান্য যারা পিলার তাদের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন- এমন বিষয়ও যুক্ত হচ্ছে আগামী বছরের পাঠ্যইয়ে।

ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণায় আমাদের তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান একাধিক ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেগুলো সেভাবেই আসবে আশা করছি। একইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অন্যান্যদের যে ভূমিকা তাও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ ছাড়া মাওলানা ভাসানী, তাজউদ্দীন আহমেদ, জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী যার যা ভূমিকা এগুলো ইতিহাসের অংশ হিসেবে যুক্ত করা হবে।’

গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের কথা অন্তর্ভুক্ত হবে?

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে গত ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ নিহত হন। পুলিশের গুলির বিপরীতে বুক পেতে দাঁড়িয়ে যান তিনি।

বিভিন্ন ভিডিওতে পুলিশ গুলি করার পর সাঈদকে ঢলে পড়তে দেখা যায়। পরে মারা যান তিনি। যদিও পুলিশ যে মামলা করে তাতে ভিন্ন বক্তব্য থাকায় তা নিয়ে চলে তুমুল সমালোচনা। সাঈদের এ মৃত্যু সে সময় তোলপাড় তোলে দেশে।

এ আন্দোলনে ঢাকায় ১৮ জুলাই নিহত হয়েছেন এমন একজন মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের ছাত্র মুগ্ধ উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। আন্দোলনকারীদের পানি সরবরাহ করছিলেন মুগ্ধ। উত্তরাতেই বাসা তার।

আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তার বলা ‘পানি লাগবে, পানি, পানি লাগবে, পানি’ এ উক্তি পরবর্তীতে আন্দোলনের প্রধান স্লোগানে পরিণত হয়।

গণঅভ্যুত্থানে নিহত এ দুইজনের কথা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে এরই মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানান এনসিটিবির চেয়ারম্যান। তবে এখনো মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে অনুমোদন পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এটা এখনও সিদ্ধান্ত আসে নাই। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত এলে আমরা বলতে পারবে। এখনো সিদ্ধান্ত পাইনি, এ জন্য যুক্ত করার কথা বলা যাবে না। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত দেরিতে এলেও আগামী বছরের বইতে শেষ মুহূর্তেও এ বিষয় বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘ছাপাখানায় কিছু বই চলে গেছে, কিছু বই এখনও যাওয়ার অপেক্ষায় আছে। জানুয়ারিতে বই দেওয়ার জন্য আমাদের প্রিন্টারদের সঙ্গে আমাদের কথা হচ্ছে। বই দেওয়ার জন্য তাদের প্রস্তুতিও আছে। এখন তারা যদি সব সহযোগিতা করে তাহলে তা সম্ভব, কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।’

মূল্যবোধের বিষয় যুক্ত হবে

আগামী বছরের পাঠ্যবইয়ে যাতে কোনো গোষ্ঠী, সম্প্রদায় বা কারো প্রতি আঘাত না করা হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখে সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে জানান এনসিটিবির চেয়ারম্যান এ কে এম রিয়াজুল হাসান। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের মূল্যবোধ, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো কিছু পাঠ্যবইয়ে থাকবে না।’

সতর্কতার জন্য এটা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠী বা সামাজিক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী তারা যেন আহত না হয় বা তাদের বিষয়ে যাতে বিরূপ কোনো মন্তব্য না থাকে সেটা দেখা হয়েছে। কাউকে আঘাত যেন করা না হয় সে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।’


নির্বাচিত

স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম গঠনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: তথ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমান প্রশাসন গণমাধ্যমের ওপর কোনো ধরনের খবরদারি করছে না। তিনি মনে করেন, একটি মজবুত গণতান্ত্রিক কাঠামো বিনির্মাণের জন্য মুক্ত ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদপত্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জহির উদ্দিন স্বপন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। তিনি দাবি করেন, অতীতে সংবাদমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে সংশয় ছিল, বর্তমানে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। সেমিনারে উপস্থিত আলোচকদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের বিকাশে স্বাধীন সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই। গণমাধ্যমের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে উদ্বেগ একসময় ছিল, বর্তমান বাস্তবতায় সেই পরিস্থিতি নেই। অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া বক্তারাও সরকারের বর্তমান অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। আলোচকদের এই পর্যবেক্ষণ ও মতামত আমি সরকারপ্রধানের কাছেও পৌঁছে দেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম যেমন টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সহায়ক, তেমনি গণতান্ত্রিক পরিবেশও শক্তিশালী গণমাধ্যম বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয়। তাই এই দুই বিষয়কে পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে দেখতে হবে।’ মন্ত্রীর মতে, সংবাদমাধ্যমকে কেবল সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখলে হবে না, এটি একটি শিল্পও বটে। তাই এখানে বিনিয়োগ ও মুনাফার বিষয় জড়িত। তবে জনস্বার্থ ও জবাবদিহিতার বিষয়টি অগ্রগণ্য। তিনি বলেন, ‘সংবাদমাধ্যম কেবল একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি শিল্পও। ফলে এ খাতে বিনিয়োগ, পরিচালনা এবং মুনাফার বিষয়ও রয়েছে। তবে একই সঙ্গে গণমাধ্যমের রয়েছে জনস্বার্থ রক্ষা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তাই এই খাতকে এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে, যেখানে মালিক, সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা এবং সরকারের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকবে।’

বর্তমান সময়ের জটিল তথ্যপ্রবাহ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের চ্যালেঞ্জ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, এখনকার গণমাধ্যম ব্যবস্থা অনেক বিস্তৃত। তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমের ইকোসিস্টেম এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। প্রচলিত সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যা তথ্যপ্রবাহ ও সংবাদ পরিবেশনের ধরন বদলে দিচ্ছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে নতুন প্রজন্মের গণমাধ্যম গড়ে তোলার সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।’ সবশেষে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সরকার নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে নীতিমালার মাধ্যমে একটি উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়। তিনি বলেন, ‘সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং কার্যকর নীতিমালার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়। এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে পারলে গণমাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়বে, সাংবাদিকদের জন্য উন্নত বেতন-কাঠামো, কর্মপরিবেশ ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।’


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট ২০ আগস্ট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৬ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৪৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে ভোট গ্রহণ হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৩ আগস্ট, যাচাই-বাছাই ১৬ আগস্ট এবং ১৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে। ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে এ তফসিল ঘোষণা করেন।

এখন অপেক্ষা, আগামী ৫ বছরের জন্য বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা দেখার। এটি ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় পদটি শূন্য হয়।

সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। সেই সাংবিধানিক সময়সীমার মধ্যেই ভোটের দিন নির্ধারণ করেছে ইসি। বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুসারে ভোট হয় সংসদ কক্ষে এবং নির্বাচন কমিশন পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করে।

প্রত্যেক সংসদ সদস্যের একটি করে ভোট থাকে। একাধিক প্রার্থী থাকলে প্রকাশ্য ব্যালটে ভোট হয়; সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থী নির্বাচিত হন। ভোট সমান হলে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীকে অন্তত ৩৫ বছর বয়সী এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে। সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে আগে অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারিত কেউ এ পদে প্রার্থী হতে পারবেন না। একজন সংসদ সদস্য প্রস্তাবক এবং অন্য একজন সমর্থক হিসেবে মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করেন। একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে ভোট ছাড়াই তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।

রাষ্ট্রপতির মেয়াদ দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে পাঁচ বছর। কোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগে তার নির্দিষ্ট সাংবিধানিক ভূমিকা রয়েছে।

এদিকে, দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন- এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চললেও এখন সেই সিদ্ধান্তের ভার এককভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে।

সরকার দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, ইতোমধ্যে তা ঠিক করেছেন তারেক রহমান। এই নাম প্রধানমন্ত্রীর ফোল্ডারে সংরক্ষিত আছে। অতীতে রাষ্ট্রপতি মনোনয়নে আনুগত্য, দক্ষতা ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতা নিয়ে মিশ্র অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়া বিএনপি এবার ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অনেক বেশি সতর্ক।

দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের মতে, রাষ্ট্রপতি শুধু আনুষ্ঠানিক পদ হলেও রাজনৈতিক সংকটের সময় এ পদটির গুরুত্ব বেড়ে যায়। বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি করে বিএনপিকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। অন্যদিকে অদক্ষতার কারণে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ব্যর্থ হয়েছিলেন। তাই অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার দলীয় আনুগত্যের পাশাপাশি দক্ষ, সাহসী, গ্রহণযোগ্য ও রাষ্ট্রনায়কসুলভ ব্যক্তিকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নিতে চায় বিএনপি।

গত শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনের কার্যক্রম, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।

সবশেষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করে স্থায়ী কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব চেয়ারম্যানের ওপর অর্পণ করে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী কে হবেন এবং নির্বাচনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত কবে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ অবস্থায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব সরাসরি দলের চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দেওয়াকে দলটির অভ্যন্তরীণ আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

একই সঙ্গে এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কেন্দ্র করে দলটি একক নেতৃত্বের অধীনেই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে চায়। এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের নজর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তিনি কাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেন, সেটিই নির্ধারণ করবে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধানের পরিচয়।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রশ্নে অতীতের ভালো এবং তিক্ত-দুই ধরনের অভিজ্ঞতাই রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে মূলত তিনটি বিষয় বিএনপি বিবেচনায় নেবে বলে দলটির মধ্যে আলোচনা হচ্ছে।

প্রথমত দেশ ও দলের প্রতি আস্থা বা বিশ্বাস; দ্বিতীয়ত, দক্ষতা ও প্রজ্ঞা এবং তৃতীয়ত, রাষ্ট্রপতি পদের নেতা বা ব্যক্তির মধ্যে কিছুটা সাহস থাকাও প্রয়োজন বলে মনে করে দলটি।

যেমন ১৯৯৬ সালের মে মাসে বিএনপি সরকারের রাষ্ট্রপতি থাকাকালে আবদুর রহমান বিশ্বাসের সাহসিকতায় তৎকালীন সেনাপ্রধান লে. জেনারেল আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিমের একটি অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।

অন্যদিকে ২০০৬ সালে বিএনপির ক্ষমতা ছাড়ার পর রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়েছিলেন অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। কিন্তু বিএনপির প্রতি তার আনুগত্য থাকলেও অদক্ষতার কারণে উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি ব্যর্থ হন বলে অনেকে মনে করেন।

ফলে দেশে এক-এগারোর জরুরি সরকার ক্ষমতায় আসে এবং প্রধান উপদেষ্টার পদ ছাড়তে তিনি বাধ্য হন। এরপর রাষ্ট্রপতি হিসেবেও তিনি সাহসী পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ আছে।

সার্বিকভাবে এর ফলাফল পুরোপুরি বিএনপির বিপক্ষে গেছে বলে আলোচনা আছে। অনেকের মতে, শুধু দলীয় আনুগত্য যে কাজে লাগে না, ইয়াজউদ্দিনের ঘটনায় তা প্রমাণিত।

অন্যদিকে সাহসের অভাব না থাকলেও বিএনপির নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী দলের প্রতি আনুগত্য দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে প্রথমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পরে রাষ্ট্রপতি করা হয়।

কিন্তু ওই পদে তাকে বেছে নেওয়ার ফলও শেষ বিচারে বিএনপির পক্ষে যায়নি। রাষ্ট্রপতি থাকাকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন না করা, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বাণীতে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক উল্লেখ না করা এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে মুন্সীগঞ্জে স্বাগত জানিয়ে ছেলে মাহী বি চৌধুরীর তোরণ নির্মাণসহ কয়েকটি ঘটনায় মাত্র সাত মাসের মধ্যে বিএনপির সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়।

এসব ঘটনার সূত্র ধরে ২০০২ সালের ১৯ ও ২০ জুন বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় রাষ্ট্রপতির পদ থেকে তাকে ‘ইমপিচ’ করার সিদ্ধান্ত হলে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেন।


নির্বাচিত

মহেশখালী থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ-ফ্লোটিং স্টোরেজ এন্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) থেকে এখন ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। গত বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে বেড়েছে ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া পেট্রোবাংলার প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) চট্টগ্রামের উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মো. নাছির উদ্দীন।

তিনি বলেন, বর্তমানে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সঞ্চালন করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউ কয়েকদিনের মধ্যে পুরোপুরি মেরামত সম্পন্ন হলে পুরোদমে গ্যাস সঞ্চালন শুরু হবে।

এর আগে, গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় টার্মিনালটির পুরো অপারেশন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আমদানিকৃত এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রাকৃতিক গ্যাস সবররাহ অর্ধেকে নেমে আসে। নিয়মিতভাবে ৯৫০ থেকে এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে আরপিজিসিএল।


নির্বাচিত

বিমানবন্দরে ভিআইপি-সিআইপিসহ সবাইকে তল্লাশির নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৬ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৩৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভিআইপি ও সিআইপি ব্যক্তিসহ সবার ক্ষেত্রে বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিধি সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি থেকে কাউকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে না।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (ক্যাব) সদর দপ্তরে পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএসসি) প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।

মন্ত্রী বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তাবিষয়ক দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ও সমন্বয়কারী সংস্থা এনসিএসসির ১৩তম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

বাংলাদেশের আসন্ন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) নিরাপত্তা নিরীক্ষার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ নিরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত।’ যেসব ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ আসতে পারে, সেসব বিষয়ে আইসিএও’র মানদণ্ড শতভাগ অনুসরণ নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নির্দেশ দেন।

আফরোজা খানম আরও বলেন, ‘যাত্রীদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার।’ বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি যাত্রীদের সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন প্রতিরোধে সরকার অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপন করবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রায় তিন বছর পর এনসিএসসির সভা হয়েছে। তাই এর সিদ্ধান্তগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আন্তরিক হতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তার চেয়ে বেশি সংখ্যায় স্ক্যানারসহ নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংরক্ষণ করতে হবে।’ পাশাপাশি বিমান চলাচল নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে ছিল বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করা, জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, আইসিএও’র নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ।

কমিটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা, আন্ডার ভেহিকল স্ক্যানিং সিস্টেম (ইউভিএসএস)-এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং দেশের সব বেসামরিক বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সংকট ব্যবস্থাপনা জোরদারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করে।

এ ছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় যানজট, অননুমোদিত জনসমাগম, ভিক্ষাবৃত্তি এবং অবৈধ লাগেজ মোড়ানোর কার্যক্রম প্রতিরোধে ক্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার, বিমানবন্দর ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের সুপারিশ করা হয়।

যাত্রীসেবা উন্নত করা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিমানবন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করে কমিটি।


নির্বাচিত

বিটিভির মহাপরিচালক হলেন কাজী জেসিন

কাজী জেসিন।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নতুন মহাপরিচালক (গ্রেড-১) পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন কাজী জেসিন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। জনস্বার্থে জারীকৃত এই আদেশটি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তাঁর যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ‘বাংলাদেশ টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০১’-এর ১১(২) ধারা অনুসরণে কাজী জেসিনকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন এই দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে শর্ত হিসেবে তাঁকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা এবং সরকারি, আধা-সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সাথে বিদ্যমান সকল প্রকার কর্ম-সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে ত্যাগ করতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে যে, নিয়োগের আনুষঙ্গিক অন্যান্য শর্তাবলি অনুমোদিত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে। গণমাধ্যম ও উপস্থাপনা অঙ্গনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কাজী জেসিনের নিয়োগ রাষ্ট্রীয় এই সম্প্রচারমাধ্যমের প্রশাসনিক ও বস্তুনিষ্ঠ সম্প্রচার কার্যক্রমে নতুন গতি আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

সম্পর্ক কোন দিকে যাবে, সিদ্ধান্ত ভারতকেই নিতে হবে: প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নয়াদিল্লির অনুষ্ঠানে ক্ষমতাচ্যুত এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রকাশ্যে অডিও বক্তব্য দেওয়ার পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যত নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে যাবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত ভারতকেই নিতে হবে। গত বুধবার (৫ আগস্ট) দিল্লিতে শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ভারতের মাটিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছেন এবং ভারত সরকার তা অনুমোদন করছে। এতে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।’ তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ অতীতেও বিভিন্ন ঘটনার পর ‘জঙ্গিবাদ’ ও ‘চরমপন্থার’ বয়ান সামনে এনে নিজেদের মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড আড়াল করার চেষ্টা করেছে। একই কৌশল এখন বিদেশের মাটিতেও অনুসরণ করা হচ্ছে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দুই দেশের সরকার ও জনগণই সম্পর্কের উন্নয়ন চায়। তবে ভারতের মাটিতে বসে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতারা যদি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে থাকেন এবং ভারত সরকার তা বন্ধ না করে, তাহলে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান সহযোগিতার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘একটি দেশের সঙ্গে আরেকটি দেশের সম্পর্ক বহুমাত্রিক। জ্বালানি, পানি, সীমান্তসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চলবে। তবে শেখ হাসিনাকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বাংলাদেশের জনগণ, বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের পরিবারের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তাই এ বিষয়ে ভারতকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’


নির্বাচিত

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব মো. ওবায়দুর রহমান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে মো. ওবায়দুর রহমানকে। বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর আগে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিসিএস ১৫তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তা ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং চলতি বছরের জুন পর্যন্ত উক্ত দায়িত্ব পালন করেন। মো. ওবায়দুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনে সহকারী কমিশনার হিসেবে তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শুরু হয়েছিল। সর্বশেষ চলতি বছরের জুন মাসে তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়, যেখান থেকে বর্তমান পদায়নের মাধ্যমে তিনি নতুন দায়িত্ব পেলেন।


নির্বাচিত

বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় বসছে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সকল বিমানবন্দরে ভিআইপি ও সিআইপিসহ প্রত্যেক যাত্রীর জন্য সমান নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। একই সঙ্গে বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন প্রতিরোধে অত্যাধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএএসসি) প্রথম সভায় এসব যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সভার সভাপতিত্বকালে মন্ত্রী আফরোজা খানম আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) আসন্ন অডিট প্রসঙ্গে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই অডিটের ফলাফলের ওপর দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নির্ভরশীল, তাই আইকাওর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সকল কমপ্লায়েন্স দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি সুস্পষ্টভাবে বলেন, “ভিআইপি ও সিআইপিসহ সবার জন্য নিরাপত্তা প্রটোকল সমান। বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে একই নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করতে হবে।” এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নির্বিঘ্ন ও উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান যে, দীর্ঘ তিন বছর পর অনুষ্ঠিত এই কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। তিনি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও স্ক্যানার বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে বলেন, “নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ও স্ক্যানারের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি থাকাই উত্তম।” পাশাপাশি তিনি আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা প্রদান করেন।

সভায় বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথের নিরাপত্তা ও আন্ডার ভেহিকেল স্ক্যানিং সিস্টেমের কার্যকারিতা পর্যালোচনার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। এছাড়া বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় যানজট, অনাকাঙ্ক্ষিত জনসমাগম, ভিক্ষুকের উপদ্রব ও অবৈধ লাগেজ র‌্যাপিং নিয়ন্ত্রণে বেবিচক, পুলিশ, এপিবিএন ও ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন ও শৃঙ্খলা রক্ষায় এসব সমস্যা সমাধানে নিয়মিত আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর সভায় বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।


নির্বাচিত

ডিএমপির ৭ কর্মকর্তাকে বদলি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাত সহকারী কমিশনারকে (এসি) বিভিন্ন ইউনিটে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

আদেশে বলা হয়, ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে গুলশান বিভাগের পেট্রোল-ক্যান্টনমেন্ট শাখার সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. সাকিলুর রহমানকে গোয়েন্দা-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম-উত্তর বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

পরিবহন বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মুশফিকুর রহমান তুষারকে লালবাগ বিভাগের চকবাজার জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের পল্লবী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) তানিয়া সুলতানাকে উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার করা হয়েছে।

লজিস্টিকস বিভাগের প্রকিউরমেন্ট শাখার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শেখ সুরাইয়া উর্মিকে পিওএম-পশ্চিম বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

লালবাগ বিভাগের চকবাজার জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. মাহফুজার রহমানকে প্রটেকশন বিভাগের বঙ্গভবন-নিরাপত্তা-১ শাখার সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

ওয়েলফেয়ার ও ফোর্স বিভাগের নারী পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) নুসরাত ইয়াছমিন তিসাকে ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগের ট্রাফিক-পল্লবী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, বদলি করা কর্মকর্তাদের আগামী ৬ আগস্টের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার অর্পণ করে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

ভারতকে বলেছি পাইপলাইনে আরও বেশি ডিজেল দিতে: জ্বালানিমন্ত্রী

জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু | ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন ভারতের কাছে আরও বেশি ডিজেল চেয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

এদিন ভারতীয় হাই কমিশনারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কী নিয়ে আলাপ হয়েছে জানতে চাইলে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘এর আগে অনেক অ্যাম্বাসেডরের সঙ্গে মিটিং হয়েছে, সে রকম রুটিন মিটিং ভারতের অ্যাম্বাসেডরের সঙ্গে হয়েছে। যেহেতু আমাদের প্রতিবেশী দেশ, আমাদের অনেক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যাপার আছে। সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে একটা পাইপলাইন আছে, সেখান থেকে ডিজেল আসে। তাদেরকে বলেছি, আরও বেশি (ডিজেল) দেওয়ার জন্য।’

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে টুকু বলেন, ‘আমি শেখ হাসিনার সম্পর্কে কিছু বলতে চাই না। উনি তো অনেক কিছুই করেন। দেশটাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন।’

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে বলে জানান টুকু। তিনি আরও বলেন, ‘গ্যাস না থাকলে মানুষও পাবে না, আমার পাওয়ার সমস্যাও যাবে না।’

বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যখন আমরা বলি বিলগুলো নিয়ে আসেন, তখন তো বিল নিয়ে কেউ আসে না।’

ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘জুন মাস থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছি আমরা। মার্চ মাসে যে গরম ছিল

জুন মাসে সে গরম ছিল না।’

একজন গণমাধ্যমকর্মীর অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তার বিল আসতো সাড়ে তিন হাজার টাকা। এখন আসছে সাত হাজার টাকা।

‘আমার লোক পরীক্ষা করে দেখে এসেছে, উনি দুই টনের দুটি এয়ার কন্ডিশনার চালান। উনার ফ্রিজ আছে, ব্লেন্ডার চালান। এত কিছু চালানোর পরেও সাত হাজার টাকা যদি বেশি বিল হয়...আমার মনে হয় না পৃথিবীর কোথাও সাত হাজার টাকা দিয়ে এত কিছু চালানো যায়,’ যোগ করেন তিনি।


নির্বাচিত

মেয়েকে নিয়ে বাবার কবর জিয়ারত করলেন জোবায়দা রহমান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক যোগাযোগ ও কৃষিমন্ত্রী এবং নৌবাহিনীর প্রাক্তন প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মাহবুব আলী খানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যাহ্নে বনানী সামরিক কবরস্থানে মরহুমের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তাঁর কন্যা ও তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেখানে বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, মরহুম মাহবুব আলী খানের প্রয়াণ দিবস স্মরণে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন স্থানে কবর জিয়ারত, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের পর রাজধানীর ধানমন্ডিতে তাঁর নিজস্ব বাসভবন ‘মাহবুব ভবনে’ বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশের নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালের ৬ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্বশুর এবং তাঁর সহধর্মিণী সৈয়দা ইকবাল মন্দ বানু। তাদের দুই কন্যাসন্তান হলেন শাহিনা খান জামান ও ডা. জুবাইদা রহমান।


নির্বাচিত

তিন দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: জ্বালানিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যান্ত্রিক গোলযোগ কাটিয়ে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) আজ বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করতে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এর ফলে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেশের গ্যাস পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গ্যাস সঞ্চালন পুনরায় শুরু হলে লাইনে চাপের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে উন্নতি হবে এবং বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে ঠিক কত সময় লাগবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি মন্তব্য করেন, “স্বাভাবিক হতে দুই-তিন দিন তো লাগবে। মিনিমাম দুই-তিন দিন লাগবে। এটা (এফএসআরইউ) বন্ধ হওয়ার আগে যেমন ছিল, তেমনই হবে।” গ্যাস স্বল্পতার কারণে সৃষ্ট লোডশেডিং প্রসঙ্গে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে, গ্যাস সরবরাহ না থাকলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালানো সম্ভব হয় না। তবে এখন বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া সমালোচনা এবং যান্ত্রিক ত্রুটি প্রসঙ্গে ইকবাল হাসান মাহমুদ পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, “যেটা হয়েছে, সেটা কি মানুষের হাতের মধ্যে আছে?” এদিকে বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বা ‘ভূতুড়ে বিল’ সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, “বিদ্যুৎ ভূতুড়ে বিল, এটা যখন আমরা বলি, বিলগুলো নিয়ে আসেন, তখন তো বিল নিয়ে আসে না কেউ আমাদের কাছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জুন মাস থেকে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত গরমের কারণে যন্ত্রপাতির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বিল বেশি আসতে পারে। এক সাংবাদিকের ফেসবুক পোস্টের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, দুটি এসি ও ফ্রিজ চালানোর পর সাত হাজার টাকা বিল খুব একটা বেশি নয়। মন্ত্রীর ভাষায়, “আমার মনে হয় না পৃথিবীর কোথাও ৭ হাজার টাকা দিয়ে এরকম এত কিছু চালানো যায়?”

ভারতীয় হাইকমিশনারের সাথে বৈঠক প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, এটি একটি রুটিন আলোচনা ছিল যেখানে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে। ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির পরিমাণ আরও বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান। সবশেষে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, “আমি শেখ হাসিনা সম্পর্কে কিছু বলতে চাই না, উনি তো অনেক কিছুই করেন। দেশটা ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন উনি। দেশটাকে শেষ করে দিয়েছেন।”


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করল ইসি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সকল আইনি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তফসিলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে সচিব জানান, আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। সংগৃহীত মনোনয়নপত্রগুলো ১৬ আগস্ট সকাল ১০টায় যাচাই-বাছাই করা হবে। এছাড়া, কোনো প্রার্থী যদি তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে চান, তবে ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টার মধ্যে তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনের মূল পর্ব অর্থাৎ ভোটগ্রহণ ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে বিরতিহীনভাবে চলবে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ আরও জানান যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ভোটার তালিকা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সকল প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই এই নির্বাচন সম্পন্ন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।


নির্বাচিত

banner close