রোববার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
১১ মাঘ ১৪৩২

সেন্টমার্টিন লিজ দেয়ার বিষয়টি গুজব: প্রেস উইং

বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ৩ নভেম্বর, ২০২৪ ১৬:৩৮

সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে ‘সুশান্ত দাস গুপ্ত’ নামের একজন ফেসবুক ব্যবহারকারীর করা একটি পোস্টকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

সুশান্ত দাস গুপ্ত নামে ওই ব্যক্তি তার পোস্টে ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি প্যাসিফিকের মধ্যে ল্যান্ড ফোর্সেস টকস’ এর একটি ছবি শেয়ার করে প্রশ্ন করেন, ‘ডিল ডান?’ ‘সেন্ট মার্টিন গন?’

এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘সিএ প্রেস উইং ফ্যাক্টস’ জানিয়েছে, সেন্ট মার্টিন কোনো দেশের কাছে লিজ দেওয়ার পরিকল্পনা নেই। সিএ প্রেস উইং ফ্যাক্টস আরও জানায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি প্যাসিফিকের মধ্যে ল্যান্ড ফোর্সেস টকস কয়েক বছর ধরে চলছে। এর সপ্তম আসর ২০২৩ সালের ১৪ থেকে ১৬ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ের ফোর্ট শ্যাফটারে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই টকসের সঙ্গে সেন্ট মার্টিনকে জড়িয়ে কোনো ধরনের পোস্ট নিছক গুজব। অন্তর্বর্তী সরকার অনেকবার জানিয়েছে যে সেন্ট মার্টিন কোনো বিদেশি দেশের কাছে কোনো উদ্দেশে লিজ দেওয়ার পরিকল্পনা তাদের নেই।

এদিকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে মোরশেদ মাহবুবুল নামে আরেক ফেসবুক ব্যবহারকারীর করা পোস্টেরও ব্যাখ্যা দিয়েছে সিএ প্রেস উইং।

মোরশেদ মাহবুবুল নামের ওই ব্যক্তি তার পোস্টে দাবি করেন, ‘সেন্ট মার্টিন দ্বীপের বর্তমান অবস্থা: ১. সাগরে মাছ ধরা বন্ধ; ২. পর্যটক আসা সম্পূর্ণ বন্ধ; ৩. হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ তিন মাস; ৪. বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ শাটডাউন।’

এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের কারণে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন কমপক্ষে ২০ ধরনের বিপদের মুখে পড়েছে। সম্প্রতি ‘এনভায়রনমেন্টাল অ্যাডভান্স’ নামের একটি বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় একথা বলা হয়েছে।

এদিকে, পর্যটনের কারণে সেন্ট মার্টিনে উচ্চ তাপমাত্রার পাশাপাশি লবণাক্ততা বৃদ্ধি, বন উজাড়, দূষণ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, কচ্ছপের আবাস ধ্বংস, প্লাস্টিকের ব্যবহার, মিঠাপানির সংকট, জোয়ারে সমুদ্রভাঙনসহ নানা বিপদ দেখা দিয়েছে।

ক'মাস ধরে দ্বীপে আরেকটি নতুন বিপদ হাজির হয়েছে। সেখানে দেখা দিয়েছে মারাত্মক ক্ষতিকর সাদা মাছির উৎপাত। এই মাছি দ্বীপের গাছপালা ধ্বংস করছে। সাদা মাছির কারণে গত কয়েক মাসে ৩০০ নারকেল গাছ মারা গেছে বলে জানা যায়।

বিশেষজ্ঞরা সেন্ট মার্টিনের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য অপরিকল্পিত পর্যটনকে দায়ী করছেন।

আন্তর্জাতিক ও জাতীয় গবেষণা অনুযায়ী, দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপটির ৪১ ভাগ প্রবাল ধ্বংস হয়েছে। এই ধ্বংসযজ্ঞ থামানো না গেলে ২০৪৫ সালের মধ্যে এই দ্বীপের সব প্রবল ধ্বংস হবে যাবে, আর দ্বীপটি ডুবে যাবে। সরকার এই দ্বীপ রক্ষায়, অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন নিয়ন্ত্রণে, আর বেআইনি স্থাপনার বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা বৃহত্তর জনস্বার্থে। দেশের একমাত্র প্রবালের দ্বীপ সেন্ট মার্টিন বেঁচে থাকবে আগামী প্রজন্মের জন্যও।

জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ ও স্বতন্ত্র দ্বীপ রক্ষায় বিভিন্ন দেশ নানা উদ্যোগ নেয়। কারণ, এ ধরনের দ্বীপ তৈরি হতে হাজার হাজার বছর লাগে। কিন্তু কিছু পর্যটকের কয়েক যুগের অত্যাচারে তা কয়েক বছরের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। সুতরাং সেন্টমার্টিন রক্ষায় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকা উচিত।

বিশেষজ্ঞরা সেন্ট মার্টিনের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য অপরিকল্পিত পর্যটনকে দায়ী করছেন। তাঁরা বলছেন, মৌসুমি পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত আচরণ ও পরিবেশবিধ্বংসী বিনোদনের ফলে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। গত এক যুগে দ্বীপটি রক্ষায় সরকার তিন দফায় পর্যটন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিয়েছিল। সেন্টমার্টিন দ্বীপ রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর একটি প্রকল্প চালু করে। কিন্তু পর্যটন ব্যবসায়ীদের চাপে ওই অবস্থান থেকে সরে আসে সরকার।

এ ধরনের জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ ও স্বতন্ত্র দ্বীপ রক্ষায় বিভিন্ন দেশ নানা উদ্যোগ নেয়। কারণ, এ ধরনের দ্বীপ তৈরি হতে হাজার হাজার বছর লাগে। কিন্তু কিছু পর্যটকের কয়েক যুগের অত্যাচারে তা কয়েক বছরের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। সুতরাং সেন্ট মার্টিন রক্ষায় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকা উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী, সেন্টমার্টিন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের ১ হাজার ৭৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।

সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সর্বশেষ ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে সেন্টমার্টিন নিয়ে আন্তর্জাতিক ওশান সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে বলা হয়, দুই দশকের মধ্যে দ্বীপটি পুরোপুরি প্রবালশূন্য হতে যেতে পারে। বিশ্বজুড়ে বিলুপ্তপ্রায় জলপাই রঙের কাছিম, চার প্রজাতির ডলফিন, বিপন্ন প্রজাতির পাখিসহ নানা বন্য প্রাণীর বাস এই দ্বীপে। এসব প্রাণীও দ্বীপটি ছেড়ে চলে যাবে।

এসব বিষয় মাথায় রেখে ২০২১ সালের ২ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তর গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। এতে সেন্টমার্টিনের সৈকতে আলো জ্বালিয়ে বারবিকিউ, দোকানপাটে বেচাকেনা, সৈকতের পাথরে সংগ্রহ, মোটরসাইকেলসহ যেকোনো ধরনের যানবাহনে চলাচল নিষিদ্ধসহ ১৪টি বিধিনিষেধ আরোপ করে। কিন্তু গণবিজ্ঞপ্তি কার্যকর কিংবা তদারক করা হয়নি।

সর্বশেষ ২০২৩ সালে জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক নিয়ন্ত্রণ, টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল সীমিত করাসহ ১৩টি বিষয়ে নীতিমালা তৈরি করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। ওই বছরের ২৩ জুন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং টেকসই পর্যটন নীতিমালা ২০২২’ শীর্ষক নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির সর্বশেষ বৈঠক হয়।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে দিনে ৯০০ পর্যটককে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হবে। আগ্রহীদের মাথাপিছু সরকারকে এক হাজার টাকা করে রাজস্ব দিতে হবে। দ্বীপের হোটেলে রাতযাপন করতে হলে দিতে হবে দুই হাজার টাকা। আগামী পর্যটন মৌসুম অর্থাৎ নভেম্বর থেকে এই নির্দেশনা কার্যকরের কথা থাকলেও এখন কেউ সেন্টমার্টিন যেতে পারছেন না।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর, সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগের বিষয়টি নিয়ে উল্টো প্রচার শুরু হয়। সেখানে মার্কিন ঘাঁটি তৈরিসহ নানা ধরনের প্রচার চলতে থাকে।

সর্বশেষ গত ২২ অক্টোবর অন্তর্বতী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভায় সেন্টমার্টিনে চার মাস পর্যটকদের যাতায়াত ও অবস্থান সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে নভেম্বরে পর্যটকেরা যেতে পারলেও রাতে থাকতে পারবেন না। আর ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে গিয়ে রাতেও থাকতে পারবেন। তবে ওই সময় দিনে দুই হাজারের বেশি পর্যটক যেতে পারবেন না। আর ফেব্রুয়ারিতে পর্যটকেরা সেখানে যেতে পারবেন না।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এ সম্পর্কে বলেছেন, ‘আমরা দ্বীপটি বাঁচাতে চাই। এটি দেশের সবার সম্পদ। পর্যটকেরা দায়িত্বশীল আচরণ করলে দেশের ওই সম্পদ রক্ষা পাবে।’

সরকারের ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মাঠে নেমেছে ‘কক্সবাজারে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পরিবেশ ও পর্যটন উন্নয়ন জোট’নামের একটি সংগঠন। জোটের নেতৃত্বে থাকা অনেকের সেন্টমার্টিনে আবাসিক হোটেল রয়েছে। এসব হোটেল প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ আছে ।’


বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ১২৫ টন বিস্ফোরক দ্রব্য আমদানি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের পাথর উত্তোলন ও খনন কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ভারত থেকে বড় একটি বিস্ফোরক দ্রব্যের চালান আমদানি করা হয়েছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দর হয়ে ৮টি ট্রাকযোগে প্রায় ১২৫ মেট্রিক টন বিস্ফোরক দ্রব্য বেনাপোল স্থলবন্দরে এসে পৌঁছায়। দেশের একমাত্র এই পাথর খনির খনন কাজে ব্যবহারের লক্ষ্যেই এই চালানটি আনা হয়েছে, যার রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারতের সুপার সিভা শক্তি কেমিক্যাল প্রাইভেট লিমিটেড। দাপ্তরিক তথ্যানুযায়ী, সম্পূর্ণ সরকারি অনুমোদনের ভিত্তিতে শিল্পকারখানায় ব্যবহারের জন্য এই সংবেদনশীল পণ্যটি আমদানি করা হয়েছে।

আমদানিকৃত এই পণ্যের নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, ‘বিস্ফোরক দ্রব্যের চালানটি সরকারি অনুমোদনের আওতায় আনা হয়েছে। বন্দর এলাকায় সার্বক্ষণিক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি রয়েছে। নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি নেই এবং সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।’ বর্তমানে বিস্ফোরকবাহী ট্রাকগুলো বন্দর এলাকায় কড়া পাহারায় রাখা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়।

বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন জানিয়েছেন যে, দিনাজপুরের মধ্যপাড়া খনি প্রকল্পের কাজ সচল রাখার স্বার্থে মোট ১২৭ মেট্রিক টন বিস্ফোরক আনা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পণ্যবোঝাই ভারতীয় ট্রাকগুলো বর্তমানে বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পাহারায় অবস্থান করছে। সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিরা পণ্য খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করেছেন। দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা এবং নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার পর বিস্ফোরক দ্রব্যগুলো বাংলাদেশি বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থায় দিনাজপুরের খনি এলাকায় পাঠানো হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই আমদানির মাধ্যমে খনির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে বলে মনে করছে।


তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরা স্টেশন এলাকায় শনিবার দুপুরে একটি তেলবাহী মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলপথে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে। খুলনা থেকে ৩০টি ওয়াগন নিয়ে আমনুরা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা এই ট্রেনটির দুটি ওয়াগন দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে রেললাইন থেকে বিচ্যুত হয়। এর ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে যাতায়াতকারী শত শত যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এবং অনেকে বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

আমনুরা স্টেশনের স্টেশন মাস্টার হাসিবুল ইসলাম জানান যে, ট্রেনটি লাইনচ্যুত হওয়ার কারণে দুপুর ১টার রাজশাহীগামী কমিউটার ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ে স্টেশন ছেড়ে যেতে পারেনি এবং বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রেলওয়ের কারিগরি দল বিশেষ যন্ত্রপাতিসহ উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। যদিও এই ঘটনায় জ্বালানি তেল ছিটকে পড়া বা অগ্নিকাণ্ডের মতো কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, তবুও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

আমনুরা রেলের স্টেশন মাস্টার হাসিবুল ইসলাম উদ্ধার তৎপরতার সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে বলেন, ‘লাইনচ্যুত ওয়াগন দুটি পুনরায় লাইনে ওটানের জন্য কাজ চলমান রয়েছে। আশা করি, রাত ৮টার মধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে।’ রেললাইনটি পুনরায় সচল না হওয়া পর্যন্ত এই রুটে যাত্রীবাহী সকল ট্রেনের সময়সূচি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।


নৌবাহিনীর বিশেষ অভিযানে কোটি টাকার মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৩

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে বাংলাদেশ নৌবাহিনী তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনা করছে। এই ধারাবাহিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্ট বিভিন্ন স্থানে সাড়াসি অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ৬ কোটি টাকা মূল্যের ক্রিস্টালম্যাথ আইস, বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৩ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ভোরে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি জুনায়েদ ওরফে মুন্না এবং তার রোহিঙ্গা সহযোগী হামিদুল্লাহকে আটক করা হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, ধৃত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জুনায়েদ ও স্থানীয় মো. ইউনুসের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আনুমানিক ৬ কোটি টাকা বাজারমূল্যের ১২৫০ গ্রাম ক্রিস্টালম্যাথ আইস, ১২৬ পিস ইয়াবা, ১টি এক নলা বন্দুক, ২টি ওয়াকি-টকি, ৪৭ রাউন্ড তাজা গোলা এবং ৮টি দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত এই মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্রগুলো রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে বাসায় মজুত করে রাখা হয়েছিল।

একই সময়ে পৃথক আরেকটি অভিযানে বরগুনার বামনা এলাকা থেকে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সালমা পারভীনকে আটক করা হয়, যার কাছ থেকে ইয়াবা, গাঁজা ও মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ নগদ ৬৪,৪৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ভোলার দৌলতখানে পরিচালিত অন্য একটি অভিযানে ১০টি ককটেল ও ১টি দেশীয় পাইপগান উদ্ধার করে নৌবাহিনী। অভিযান পরবর্তী সময়ে জব্দকৃত মালামালসহ আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। নৌবাহিনীর এমন সক্রিয় ভূমিকার ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন পরিলক্ষিত হচ্ছে।


অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে পুলিশকে নিরপেক্ষ থাকার কঠোর নির্দেশ আইজিপির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বাহিনীর সকল স্তরের সদস্যদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন।

শনিবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইন্সের সিভিক সেন্টারে আয়োজিত এক প্রাক-নির্বাচনি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সময়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা, ধৈর্য ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। যাতে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা যায়।’

আইজিপি তাঁর বক্তব্যে জনগণের জান-মাল রক্ষা এবং দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পেশাদারিত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জনবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় কার্যকর পুলিশি সেবা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান। মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব পালনের সময় বডিওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি পাবে এবং জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন। তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশের প্রস্তুতি এবং নিরপেক্ষ ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন। সভায় উপস্থিত পুলিশ অফিসার ও ফোর্স সদস্যদের পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। মূলত একটি অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে পুলিশ বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এই সভা থেকে।


গণতন্ত্রের সুসংহতকরণ ও গণভোট সফল করতে আইন উপদেষ্টার উদাত্ত আহ্বান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) মাদারীপুর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আসন্ন নির্বাচনকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরবর্তী ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেন। মাদারীপুরের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের পর তিনি জানান যে, "এ নির্বাচনে দুটি বৈশিষ্ট্য আছে, পোস্টাল ব্যালট ও গণভোট।" দীর্ঘ ১৭ বছর পর আয়োজিত এই জাতীয় নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, "মানুষের মধ্যে ভোট দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা আছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটি জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার। এটি অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে করার জন্য আমরা বদ্ধপরিকর। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রস্তুত আছে।"

নির্বাচনের বিশেষ দিকগুলো আলোচনা করতে গিয়ে তিনি জানান যে, এবারের নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং একই সাথে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক ধারা ও আইনের শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে তিনি দেশবাসীকে গণভোটে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, "বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন শক্ত হোক। অনেক বেশি দৃঢ়তর হোক, এজন্য হ্যাঁ ভোট দেওয়া জরুরি।" এ সময় মাদারীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রোকনুজ্জামান, জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


কর্ণফুলী টানেলে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ট্রাফিক ডাইভারসন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালনাধীন কর্ণফুলী টানেলের সুষ্ঠু ও নিরাপদ রুটিন রক্ষণাবেক্ষণ কাজের স্বার্থে আগামী ২৫ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ট্রাফিক ডাইভারসন ও যানচলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, উক্ত দিনগুলোতে দিবাগত রাত ১০:০০টা হতে ভোর ০৪:০০টা পর্যন্ত প্রয়োজন অনুযায়ী 'পতেঙ্গা হতে আনোয়ারা' অথবা 'আনোয়ারা টু পতেঙ্গা' টিউবের মাধ্যমে ট্রাফিক ডাইভারসন করা হবে এবং নিয়ন্ত্রিতভাবে যান চলাচল অব্যাহত থাকবে। এই রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চলাকালে বিদ্যমান যানবাহনের চাপ বিবেচনায় নিয়ে যাত্রীদের টানেলের উভয় প্রবেশমুখে সর্বনিম্ন ০৫(পাঁচ) হতে সর্বোচ্চ ১০(দশ) মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষমাণ থাকার প্রয়োজন হতে পারে। সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো: মাসুদ রানা শিকদার স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে টানেলের নিরাপদ ও কার্যকর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।


ভবিষ্যৎ সরকারের প্রতি ৭ দফা ‘পরিবেশ অ্যাজেন্ডা’ দিলেন উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাধীনতার ৫৪ বছরে পুঞ্জীভূত পরিবেশগত সংকট ও অব্যবস্থাপনা মাত্র ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে সম্পূর্ণ সমাধান করা অবাস্তব বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন যে, সমস্যার বিশাল পাহাড় রাতারাতি সরানো সম্ভব না হলেও বর্তমান সরকার একটি সুসংহত সমাধানের ভিত্তি তৈরি করছে। তাঁর মতে, "চীন যে সমস্যা ১০ বছরে শেষ করতে পারে না, তা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দেড় বছরে প্রত্যাশা করা যুক্তিযুক্ত নয়।" তবে এই দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য সাত দফার একটি সুনির্দিষ্ট ‘পরিবেশ অ্যাজেন্ডা’ উপস্থাপন করেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতির আধিক্য থাকলেও বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পথরেখা না থাকায় হতাশা প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক সস্তা জনপ্রিয়তার বাইরে এসে প্রকৃত দায়বদ্ধতা প্রদর্শন জরুরি। তিনি আগামী সরকারের জন্য বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্লকের ব্যবহার বাড়ানো, শব্দদূষণ রোধে পুলিশকে সরাসরি জরিমানার ক্ষমতা প্রদান, দখলকৃত বনভূমি উদ্ধার এবং প্রাকৃতিক বনের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। একইসাথে বন্যপ্রাণী কল্যাণ, অনলাইন মনিটরিংয়ের মাধ্যমে শিল্প দূষণ রোধ, তিস্তা ও পদ্মার মতো আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা এবং উৎসস্থলে বর্জ্য পৃথকীকরণের মাধ্যমে সার উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব করেন। তাঁর মতে, ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দেওয়া সহজ হলেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া স্পষ্ট না হলে সাধারণ মানুষ তার সুফল পায় না।

অন্তর্বর্তী সরকারের বর্তমান অর্জনগুলো তুলে ধরে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান যে, ইতিমধ্যে দেশে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ ‘যানবাহন স্ক্র্যাপ পলিসি’ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের জন্য ১০০টি ইলেকট্রিক বাস আমদানির প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এছাড়া বেজা ও প্রশাসনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ২০ হাজার একরের বেশি বনভূমি উদ্ধার করা হয়েছে এবং সাভারকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বুড়িগঙ্গার তলদেশে জমে থাকা কয়েক মিটার পলিথিন স্তরের ভয়াবহতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি পলিথিনমুক্ত বাজার নিশ্চিতে জনগণের আচরণগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।

পরিশেষে ভবিষ্যৎ সরকারের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, "যদি পরিবেশবান্ধব কাজ করা হয়, আমরা সহযোগিতা করব। কিন্তু পরিবেশের বিরুদ্ধে গেলে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান সরকার পরিবেশগত যে মজবুত ভিত্তি স্থাপন করছে, আগামী নির্বাচিত সরকার তা আরও সুদৃঢ় করবে। পরিবেশ রক্ষা কোনো প্রান্তিক বিষয় নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের মূল অ্যাজেন্ডায় পরিণত হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। অন্তর্বর্তী সরকার কেবল সংস্কারের পথ দেখাচ্ছে, তবে দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ প্রশাসনের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর পদক্ষেপের ওপর।


সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে অংশীজনদের সম্মিলিত দায়িত্ব পালনের আহ্বান সুজনের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে অংশীজনদের ভূমিকা নিয়ে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। উক্ত সম্মেলনে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার গুরুত্বারোপ করেন যে, নির্বাচন পরিচালনার প্রধান দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হলেও একটি সার্থক নির্বাচনের জন্য সরকার, রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম ও ভোটারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। অংশীজনদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, "নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হলেও একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের সঙ্গে বহু অংশীজন জড়িত। সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম ও ভোটার সবার সম্মিলিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব।"

সংবাদ সম্মেলনে সুজনের পক্ষ থেকে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রতি শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার দাবি জানানো হয়। একইসাথে নির্বাচন কমিশনকে কালোটাকা ও পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত হয়ে কঠোরভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয় এবং অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে প্রয়োজনে ভোট স্থগিত বা ফলাফল বাতিলের ক্ষমতা প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়। গণমাধ্যমকে অনুসন্ধানী ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের এবং পর্যবেক্ষকদের নিরপেক্ষ প্রতিবেদন প্রকাশের অনুরোধ জানিয়ে ভোটারদের প্রতি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। দুর্নীতিবাজ ও অপরাধীদের বর্জনের আহ্বান জানিয়ে সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলিপ কুমার সরকার বলেন, "জনগণ যেন কোনও দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মানবতাবিরোধী, নারী বিদ্বেষী ও নির্যাতনকারী, মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারী, ঋণখেলাপী, বিলখেলাপী, সাম্প্রদায়িক ব্যক্তি, ভূমিদস্যু, পরিবেশ ধ্বংসকারী, কালোটাকার মালিক অর্থাৎ কোনও অসৎ, অযোগ্য ও গণবিরোধী ব্যক্তিকে ভোটদানে বিরত থাকেন।"

নির্বাচনী সংস্কার প্রসঙ্গে বদিউল আলম মজুমদার কিছু অপ্রাপ্তি ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো আরপিওতে অন্তর্ভুক্ত না হওয়া এবং তৃণমূল পর্যায়ে প্রার্থী মনোনয়নের বিধান বাস্তবায়িত না হওয়ার বিষয়টিকে তিনি নেতিবাচক হিসেবে চিহ্নিত করেন। এই প্রেক্ষাপটে তিনি মন্তব্য করেন যে, "নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো কার্যকর করা হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নির্বাচন আরও গ্রহণযোগ্য হতো।" পরিশেষে, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করার পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় এবং সকল অংশীজন নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।


রাষ্ট্রের সকল গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোতে তরুণদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করা প্রয়োজন: শিক্ষা উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে সরাসরি সংলাপ ও সংবেদনশীল প্রশাসনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি উল্লেখ করেন যে, অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার নিরিখেই কেবল নীতিনির্ধারণের মাধ্যমে বৈষম্য দূর করা সম্ভব। ড. আবরারের মতে, শিক্ষা কেবল পুঁথিগত বিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি নাগরিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরির একটি প্রধান ক্ষেত্র। তরুণদের সৃজনশীলতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গণতান্ত্রিক চর্চার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "আমরা টোকেনিজম চাই না, চাই অ্যাকটিভ পার্টিসিপেশন ও এনগেজমেন্ট।"

নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি আরও বলেন যে, রাষ্ট্র পরিচালিত হয় জনগণের অর্থে, যার একটি বিশাল অংশ হলো তরুণ সমাজ। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, একসময় নাগরিক অধিকার হরণের শঙ্কা থাকলেও তরুণরাই পরিবর্তনের পথ উন্মোচন করেছে। শিক্ষা উপদেষ্টার মতে, শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে সহায়ক পরিবেশ ও রিসোর্স মোবিলাইজেশনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম, যেখানে ক্লাব ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে। বর্তমান সময়ে সমাজে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন যে, সংস্কৃতি, গান, নাচ কিংবা পরিচয়ের কারণে কাউকে হেয় করা উচিত নয়। এ ধরনের সংকীর্ণ ও একমাত্রিক চিন্তাভাবনার বিরুদ্ধে তরুণদেরই নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

সবশেষে, আসন্ন নির্বাচন এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রসঙ্গে ড. রফিকুল আবরার প্রতিষ্ঠানগত পরিবর্তনে তরুণদের সম্পৃক্ত হওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি মনে করেন, শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, বরং জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রের সকল গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোতে তরুণদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিক যেহেতু জনগণই, তাই সব স্তরে স্বচ্ছতা ও কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলাদেশ ইউনেস্কো কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সারভীনা মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় শিক্ষা সচিব রেহানা পারভীন এবং ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুজান ভাইজসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।


পোস্টাল ব্যালট গণনা প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের জরুরি নির্দেশনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে এবারই প্রথম পোস্টাল ব্যালটে ভোটগ্রহণ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শনিবার ইসি থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, "নির্বাচনের দিন (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে যে পোস্টাল ভোটগুলো আসবে, শুধু সেগুলোই গণনা করা হবে"।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, "মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী ভোটারদেরকে ব্যালট প্রাপ্তির পর যত দ্রুত সম্ভব ভোটদান সম্পন্ন করে নিকটস্থ পোস্ট অফিস কিংবা ডাক বাক্সে হলুদ খাম জমা দিতে হবে"। ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, "রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট ১২ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে ব্যালট পৌঁছালে ভোট গণনায় সম্পৃক্ত হবে"।

উল্লেখ্য, দেশ ও দেশের বাইরে থেকে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ভোটার এই প্রক্রিয়ায় ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন, যাদের অর্ধেকের বেশি প্রবাসী। সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত এবং "ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত" অনুষ্ঠিত হবে।


কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজি-আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড: ডিবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও গোয়েন্দা প্রধান শফিকুল ইসলাম।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত ৭ জানুয়ারি কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের পাশের একটি গলিতে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা উত্তর সিটি ইউনিটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করে ডিবি প্রধান বলেন, কারওয়ান বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে ও গোপনে চাঁদা আদায়ের সঙ্গে জড়িত আট থেকে নয়টি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে এবং চাঁদার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে দিলীপ ওরফে বিনাশের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ঘটনার পরদিন নিহতের স্ত্রী তেজগাঁও থানায় মামলা করার পর গোয়েন্দা পুলিশ এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের মধ্যে জিন্নাত, আবদুল কাদির, মো. রিয়াজ ও বিলালের পর সর্বশেষ গতকাল নরসিংদী থেকে কথিত শুটার রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় সম্পর্কে শফিকুল ইসলাম বলেন, “তাদের চাঁদাবাজ হিসেবেই চিহ্নিত করা উচিত। চাঁদাবাজদের কোনো রাজনৈতিক আদর্শ নেই। চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানারের আশ্রয় নেয়।” বর্তমানে এসব অপরাধী চক্র নির্মূলে গোয়েন্দা পুলিশ সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “এসব সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে ডিবি কাজ করছে এবং শিগগিরই অভিযান শুরু করা হবে।”


শিক্ষা সংস্কারে তরুণদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার আহ্বান ইউনেসকোর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইউনেসকোর হেড অব অফিস ও বাংলাদেশে রিপ্রেজেন্টেটিভ সুজান ভাইজ মন্তব্য করেছেন যে, তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে ঢাকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় সম্মানীয় অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সম্মানীয় অতিথির বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “শিক্ষা ব্যবস্থার তরুণদের অংশীদার হিসেবে যুক্ত করতে হবে। তাদের শুধু নির্দেশনা দেওয়া নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের অংশ বানানোই সময়ের দাবি।” বর্তমানে বাংলাদেশ যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেখানে তরুণদের আবেগ ও দায়বদ্ধতা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে তিনি জানান যে, ইউনেসকো তরুণদের কেবল উপদেশগ্রহীতা নয় বরং মাঠপর্যায়ের উদ্ভাবনী অংশীদার হিসেবে দেখে। তবে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ২০২৩ সালের মূল্যায়নে অষ্টম শ্রেণির ৫৪ শতাংশ শিক্ষার্থীর বাংলায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকা এবং গণিতে আরও পিছিয়ে থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আগামী কয়েক বছরে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে শিক্ষার্থীদের বাস্তবসম্মত প্রস্তাব গ্রহণ এবং শিক্ষকদের কেবল জ্ঞানদাতা নয় বরং মেন্টর ও মানসিক বিকাশের সহযাত্রী হিসেবে গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

এছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে ইউনেসকো ও ইউনিসেফ আগামী চার বছর শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নে নিবিড়ভাবে কাজ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেসকো কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সারভীনা মনীরের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন।


রায়েরবাজারে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে কিশোর গ্যাংসহ আটক ১৮

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর রায়েরবাজারের ক্যান্সার গলি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় কিশোর গ্যাং এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে সেনাবাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার সকালে ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান যে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে মধ্যরাত ১টা পর্যন্ত বসিলা সেনা ক্যাম্পের একটি বিশেষ দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে শাহরিয়ার, লিংকু, ইয়াসিন (২০), ইয়াসিন (২১), জসিম, স্বাধীন, রিয়াজ, নিজাম, মাহাবুব, হৃদয়, আকাশ, নিদ্রয়, সানি, করিম, রুজন, সাকিব, ফয়সাল ও উজ্জ্বল নামে ১৮ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটককৃতদের কাছ থেকে ১২টি ধারালো তলোয়ার, ২টি চাপাতি, একটি চাইনিজ কুঠার, ২টি ধারালো সামুরাই, ১৩টি স্মার্টফোন, মাদক বিক্রির নগদ ৪০ হাজার ২০০ টাকা ও ১২৫ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন এবং তারই ধারাবাহিকতায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা নিয়মিত মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক অভিযোগ ও মামলা থাকায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তাদের মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হবে।


banner close