সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে ‘সুশান্ত দাস গুপ্ত’ নামের একজন ফেসবুক ব্যবহারকারীর করা একটি পোস্টকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
সুশান্ত দাস গুপ্ত নামে ওই ব্যক্তি তার পোস্টে ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি প্যাসিফিকের মধ্যে ল্যান্ড ফোর্সেস টকস’ এর একটি ছবি শেয়ার করে প্রশ্ন করেন, ‘ডিল ডান?’ ‘সেন্ট মার্টিন গন?’
এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘সিএ প্রেস উইং ফ্যাক্টস’ জানিয়েছে, সেন্ট মার্টিন কোনো দেশের কাছে লিজ দেওয়ার পরিকল্পনা নেই। সিএ প্রেস উইং ফ্যাক্টস আরও জানায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি প্যাসিফিকের মধ্যে ল্যান্ড ফোর্সেস টকস কয়েক বছর ধরে চলছে। এর সপ্তম আসর ২০২৩ সালের ১৪ থেকে ১৬ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ের ফোর্ট শ্যাফটারে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই টকসের সঙ্গে সেন্ট মার্টিনকে জড়িয়ে কোনো ধরনের পোস্ট নিছক গুজব। অন্তর্বর্তী সরকার অনেকবার জানিয়েছে যে সেন্ট মার্টিন কোনো বিদেশি দেশের কাছে কোনো উদ্দেশে লিজ দেওয়ার পরিকল্পনা তাদের নেই।
এদিকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে মোরশেদ মাহবুবুল নামে আরেক ফেসবুক ব্যবহারকারীর করা পোস্টেরও ব্যাখ্যা দিয়েছে সিএ প্রেস উইং।
মোরশেদ মাহবুবুল নামের ওই ব্যক্তি তার পোস্টে দাবি করেন, ‘সেন্ট মার্টিন দ্বীপের বর্তমান অবস্থা: ১. সাগরে মাছ ধরা বন্ধ; ২. পর্যটক আসা সম্পূর্ণ বন্ধ; ৩. হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ তিন মাস; ৪. বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ শাটডাউন।’
এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের কারণে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন কমপক্ষে ২০ ধরনের বিপদের মুখে পড়েছে। সম্প্রতি ‘এনভায়রনমেন্টাল অ্যাডভান্স’ নামের একটি বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় একথা বলা হয়েছে।
এদিকে, পর্যটনের কারণে সেন্ট মার্টিনে উচ্চ তাপমাত্রার পাশাপাশি লবণাক্ততা বৃদ্ধি, বন উজাড়, দূষণ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, কচ্ছপের আবাস ধ্বংস, প্লাস্টিকের ব্যবহার, মিঠাপানির সংকট, জোয়ারে সমুদ্রভাঙনসহ নানা বিপদ দেখা দিয়েছে।
ক'মাস ধরে দ্বীপে আরেকটি নতুন বিপদ হাজির হয়েছে। সেখানে দেখা দিয়েছে মারাত্মক ক্ষতিকর সাদা মাছির উৎপাত। এই মাছি দ্বীপের গাছপালা ধ্বংস করছে। সাদা মাছির কারণে গত কয়েক মাসে ৩০০ নারকেল গাছ মারা গেছে বলে জানা যায়।
বিশেষজ্ঞরা সেন্ট মার্টিনের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য অপরিকল্পিত পর্যটনকে দায়ী করছেন।
আন্তর্জাতিক ও জাতীয় গবেষণা অনুযায়ী, দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপটির ৪১ ভাগ প্রবাল ধ্বংস হয়েছে। এই ধ্বংসযজ্ঞ থামানো না গেলে ২০৪৫ সালের মধ্যে এই দ্বীপের সব প্রবল ধ্বংস হবে যাবে, আর দ্বীপটি ডুবে যাবে। সরকার এই দ্বীপ রক্ষায়, অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন নিয়ন্ত্রণে, আর বেআইনি স্থাপনার বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা বৃহত্তর জনস্বার্থে। দেশের একমাত্র প্রবালের দ্বীপ সেন্ট মার্টিন বেঁচে থাকবে আগামী প্রজন্মের জন্যও।
জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ ও স্বতন্ত্র দ্বীপ রক্ষায় বিভিন্ন দেশ নানা উদ্যোগ নেয়। কারণ, এ ধরনের দ্বীপ তৈরি হতে হাজার হাজার বছর লাগে। কিন্তু কিছু পর্যটকের কয়েক যুগের অত্যাচারে তা কয়েক বছরের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। সুতরাং সেন্টমার্টিন রক্ষায় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকা উচিত।
বিশেষজ্ঞরা সেন্ট মার্টিনের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য অপরিকল্পিত পর্যটনকে দায়ী করছেন। তাঁরা বলছেন, মৌসুমি পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত আচরণ ও পরিবেশবিধ্বংসী বিনোদনের ফলে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। গত এক যুগে দ্বীপটি রক্ষায় সরকার তিন দফায় পর্যটন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিয়েছিল। সেন্টমার্টিন দ্বীপ রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর একটি প্রকল্প চালু করে। কিন্তু পর্যটন ব্যবসায়ীদের চাপে ওই অবস্থান থেকে সরে আসে সরকার।
এ ধরনের জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ ও স্বতন্ত্র দ্বীপ রক্ষায় বিভিন্ন দেশ নানা উদ্যোগ নেয়। কারণ, এ ধরনের দ্বীপ তৈরি হতে হাজার হাজার বছর লাগে। কিন্তু কিছু পর্যটকের কয়েক যুগের অত্যাচারে তা কয়েক বছরের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। সুতরাং সেন্ট মার্টিন রক্ষায় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকা উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী, সেন্টমার্টিন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের ১ হাজার ৭৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।
সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সর্বশেষ ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে সেন্টমার্টিন নিয়ে আন্তর্জাতিক ওশান সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে বলা হয়, দুই দশকের মধ্যে দ্বীপটি পুরোপুরি প্রবালশূন্য হতে যেতে পারে। বিশ্বজুড়ে বিলুপ্তপ্রায় জলপাই রঙের কাছিম, চার প্রজাতির ডলফিন, বিপন্ন প্রজাতির পাখিসহ নানা বন্য প্রাণীর বাস এই দ্বীপে। এসব প্রাণীও দ্বীপটি ছেড়ে চলে যাবে।
এসব বিষয় মাথায় রেখে ২০২১ সালের ২ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তর গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। এতে সেন্টমার্টিনের সৈকতে আলো জ্বালিয়ে বারবিকিউ, দোকানপাটে বেচাকেনা, সৈকতের পাথরে সংগ্রহ, মোটরসাইকেলসহ যেকোনো ধরনের যানবাহনে চলাচল নিষিদ্ধসহ ১৪টি বিধিনিষেধ আরোপ করে। কিন্তু গণবিজ্ঞপ্তি কার্যকর কিংবা তদারক করা হয়নি।
সর্বশেষ ২০২৩ সালে জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক নিয়ন্ত্রণ, টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল সীমিত করাসহ ১৩টি বিষয়ে নীতিমালা তৈরি করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। ওই বছরের ২৩ জুন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং টেকসই পর্যটন নীতিমালা ২০২২’ শীর্ষক নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির সর্বশেষ বৈঠক হয়।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে দিনে ৯০০ পর্যটককে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হবে। আগ্রহীদের মাথাপিছু সরকারকে এক হাজার টাকা করে রাজস্ব দিতে হবে। দ্বীপের হোটেলে রাতযাপন করতে হলে দিতে হবে দুই হাজার টাকা। আগামী পর্যটন মৌসুম অর্থাৎ নভেম্বর থেকে এই নির্দেশনা কার্যকরের কথা থাকলেও এখন কেউ সেন্টমার্টিন যেতে পারছেন না।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর, সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগের বিষয়টি নিয়ে উল্টো প্রচার শুরু হয়। সেখানে মার্কিন ঘাঁটি তৈরিসহ নানা ধরনের প্রচার চলতে থাকে।
সর্বশেষ গত ২২ অক্টোবর অন্তর্বতী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভায় সেন্টমার্টিনে চার মাস পর্যটকদের যাতায়াত ও অবস্থান সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে নভেম্বরে পর্যটকেরা যেতে পারলেও রাতে থাকতে পারবেন না। আর ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে গিয়ে রাতেও থাকতে পারবেন। তবে ওই সময় দিনে দুই হাজারের বেশি পর্যটক যেতে পারবেন না। আর ফেব্রুয়ারিতে পর্যটকেরা সেখানে যেতে পারবেন না।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এ সম্পর্কে বলেছেন, ‘আমরা দ্বীপটি বাঁচাতে চাই। এটি দেশের সবার সম্পদ। পর্যটকেরা দায়িত্বশীল আচরণ করলে দেশের ওই সম্পদ রক্ষা পাবে।’
সরকারের ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মাঠে নেমেছে ‘কক্সবাজারে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পরিবেশ ও পর্যটন উন্নয়ন জোট’নামের একটি সংগঠন। জোটের নেতৃত্বে থাকা অনেকের সেন্টমার্টিনে আবাসিক হোটেল রয়েছে। এসব হোটেল প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ আছে ।’
সব দলকে সঙ্গে নিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা এগিয়ে নেবে বিএনপি। এমনটা জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বিগত সরকার (আওয়ামী লীগ) ইতিহাসকে নিজেদের মতো করে বিকৃত করেছিল, কিন্তু বিএনপি কোনোভাবেই ইতিহাসের বিকৃতি হতে দেবে না।
মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘স্বাধীনতার ঘোষক ও রণাঙ্গনের জিয়া’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, অতীতের ভুল সংশোধন করার জন্য অতীতের যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর আইন লঙ্ঘনকারীদেরকে আমরা অবশ্যই সাজার আওতায় আনব। আমরা প্রতিটি ঘটনাকে আইনের আওতায় আনবো। কিন্তু আইনের বাইরে এবং ইতিহাসকে বিকৃত করার কোন কাজের দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করবো না। আমরা মনে করি না যে এই দেশ শুধু আমাদের একার। আমরা মনে করি এই দেশ সকলের।
ইতিহাস থেকে শহীদ জিয়াকে মুছে ফেলা সম্ভব নয় মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সব দলকে সঙ্গে নিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে এগিয়ে নেবে বিএনপি।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বর্তমান সরকার সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ সময় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করতে কাজ চলছে বলে জানান ইশরাক হোসেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীতে স্কুল চলাকালীন যানজট নিরসনে শিক্ষামন্ত্রীকে বিকল্প খুঁজতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন এবং গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সাক্ষাৎ করেছেন।
তিনি আরও জানান, রাজধানীতে স্কুলের সময়ে যেভাবে যানজট হয়, তা কীভাবে নিরসন করা যায় এবং এ বিষয়ে বিকল্প ব্যবস্থা কী কী হতে পারে— তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাবনা তৈরি করে উপস্থাপন করতে বলেছেন।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘উদাহরণ হিসেবে দেখা গেছে— রাজধানীর একটি স্কুলে ১৫০ শিক্ষার্থীর জন্য ১০০ গাড়ি স্কুলের সামনে ভিড় করে। এতে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসতে বেগ পেতে হয়। সমস্যাগুলো অ্যাড্রেস করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিকল্প খুঁজতে মন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সংবিধানের বাইরে গিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম বিতরণ করে শপথ ভঙ্গ এবং সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি এই পুরো প্রক্রিয়াকে অবৈধ এবং বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি ‘প্রতারণার দলিল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেছেন। স্পিকারের অনুমতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ ও তফশিল উদ্ধৃত করে গত বছরের জারি করা ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’-এর আইনি অসারতা ব্যাখ্যা করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংবিধান সংরক্ষণের জন্য ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শপথ নিয়েছেন। কিন্তু তিনি কোন আইন বলে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে পাঠালেন? এই ফরম দাখিল করার কোনো এখতিয়ার তার নেই। তিনি এটি করে শপথ ভঙ্গ ও সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্যদের নির্বাচনের জন্য একটি ব্যালট দিয়েছিল। সেখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য কোনো আলাদা ব্যালট ছিল না। জনগণ সংসদ সদস্য হিসেবে আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে, অস্তিত্বহীন কোনো পরিষদের সদস্য হিসেবে নয়।
বিগত সরকারের জারি করা আদেশটিকে ‘ভয়েড অ্যাব ইনিশিও’ (শুরু থেকেই বাতিল) আখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিলের পর থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির কোনো ক্ষমতা নেই। সংবিধানের চতুর্থ তফশিলের ১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সেই ক্ষমতা রহিত করা হয়েছে। সুতরাং যে আদেশের জন্মই অবৈধ, তার ভিত্তিতে কোনো অধিবেশন আহ্বান করা যায় না। এই আদেশটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি প্রতারণার দলিল। এটি না অধ্যাদেশ, না আইন। এটি সার্বভৌম পার্লামেন্টের অধিকার ক্ষুণ্ন করার একটি ব্যর্থ চেষ্টা বলে জানান তিনি।
সারাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা বন্ধে নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ ৮ দাবি জানিয়েছেন পেট্রোল পাম্প মালিকরা। এমন অবস্থায় দৈনিক ১১ ঘণ্টা পাম্প বন্ধ রাখতে চান মালিকরা। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকটের গুজবে আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করতে জনসাধারণের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এই দাবি উত্থাপন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল জানান, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে সরকার জ্বালানি রেশনিংয়ের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা বাস্তবায়নে পাম্প মালিকরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে পাম্পগুলোতে ভিড় ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে তেল বিক্রির সময়সীমা সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
তাদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন স্থানে সঠিক তথ্য না জেনে পাম্পে হামলা, কর্মীদের ওপর নির্যাতন এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের পাম্পগুলোতে পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ নাজুক পর্যায়ে রয়েছে। এই অস্থিরতা নিরসনে পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত পেট্রোল পাম্প মালিকরা সরকার নির্ধারিত দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করে আসছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু অনেক জায়গায় সঠিক তথ্য না জেনে পেট্রোল পাম্পে হামলা, কর্মীদের ওপর নির্যাতন ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে—যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্যের বরাতে সংগঠনের নেতারা জানান, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো স্থায়ী সংকট নেই এবং বর্তমানে যে মজুত রয়েছে তা দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের কারণে অনেক গ্রাহক অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রতিযোগিতা শুরু করেছেন যা স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
মালিকরা স্পষ্ট করেছেন, সবাই যদি কেবল নিজের গাড়ির ট্যাঙ্ক পূর্ণ করার প্রতিযোগিতায় নামে, তবে জরুরি প্রয়োজনে অন্য কেউ তেল পাবে না। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনটির উত্থাপিত ৮ দফা দাবির মধ্যে প্রধান বিষয়গুলো হলো পেট্রোল পাম্পগুলোতে ২৪ ঘণ্টা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পাম্প কর্মীদের ওপর হামলা ও সহিংসতা বন্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এছাড়া তেল বিক্রির সময়সীমা নির্দিষ্ট করা, বাস্তবতার নিরিখে ডিপো থেকে তেল সরবরাহ সমন্বয় করা এবং ট্যাঙ্কলরির ধারণক্ষমতা অনুযায়ী তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি জ্বালানি নিয়ে অপপ্রচার ও গুজব রোধে সরকারি মনিটরিং জোরদার করা এবং রেশনিং পদ্ধতি বাস্তবায়নে পাম্প মালিকদের ওপর একতরফা দোষারোপ বন্ধ করার দাবি জানান নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ মানুষকে লাইনে দাঁড়িয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং পাম্পে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পেট্রোল পাম্প মালিকদের ওপর একতরফা দোষারোপ না করার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পাম্পে হামলা ও সহিংসতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা।
আমদানি ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের মধ্যেও এপ্রিল মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার জ্বালানি বিভাগ থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসির) চেয়ারম্যানকে পাঠানো অফিস আদেশে জানানো হয়, ভোক্তাপর্যায়ে ডিজেলের বর্তমান মূল্য প্রতি লিটার ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রল ১১৬ টাকা ও কেরোসিন ১১২ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ১ এপ্রিল থেকে এই মূল্য কার্যকর হবে।
এক দিন আগে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছিলেন, বিশ্ববাজার পরিস্থিতির আলোকে দাম সমন্বয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন জমা পড়েছে। সার্বিক বিশ্লেষণ শেষে সরকারের কাছে সঠিক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হবে।
গত সোমবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, গত ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের গড় দরের তুলনায় ১-২৯ মার্চ সময়ে দাম ৯৮ শতাংশ বেড়েছে, অকটেনের বেড়েছে ২৬ শতাংশ। সরকার জনগণের স্বার্থে উল্লেখযোগ্য ভর্তুকি দিচ্ছে। এই দুটি জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে মার্চ-জুন প্রান্তিকে মোট ভর্তুকির প্রয়োজন হবে ডিজেলের ক্ষেত্রে ১৫ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা ও অকটেনের ক্ষেত্রে ৬৩৬ কোটি টাকা, মোট ১৬ হাজার ৪৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া পেট্রোবাংলার মাধ্যমে এলএনজি আমদানির জন্য এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ১৫ হাজার ৭৭ কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজন হবে।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে বর্তমান অস্থিতিশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতি-বিশেষ করে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আবীর ট্রেড অ্যান্ড গ্লোবাল মার্কেটসের মাধ্যমে ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের অপর এক প্রস্তাবের ভিত্তিতে এক্সন মোবিল কাজাখস্তান ইনকের (ইএমকেআই) কাছ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল। ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের আরেক প্রস্তাবের ভিত্তিতে জিটুজি ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান পি.টি. বুমি সিয়াক পুসাকো জাপিন (বিএসপি জাপিন), ইন্দোনেশিয়া থেকে চুক্তির আওতায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন গ্যাস অয়েল ০.৫ শতাংশ ‘এস’ (ডিজেল) ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন সময়সূচি চালুর পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে অনলাইন ও সরাসরি ক্লাস মিলিয়ে একটি সমন্বিত পদ্ধতি চালুর ভাবনা রয়েছে।
রাজধানীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও প্রধানদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে প্রস্তাবটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভায় নেওয়া হবে।
প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সপ্তাহে ছয় দিনের ক্লাসের মধ্যে তিন দিন সরাসরি এবং বাকি তিন দিন অনলাইনে পাঠদান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর একান্ত সচিব জি. এম. ফারহান ইসতিয়াক জানান, শিক্ষার্থীদের সশরীরে উপস্থিতির চাপ কমাতে ‘অল্টারনেট ডেইজ’ বা একদিন পরপর ক্লাস নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে এবং এতে উপস্থিত সবাই সম্মতি দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, অনলাইন ক্লাসের দিনেও শিক্ষকদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পাঠদান চালাতে হবে। এই উদ্যোগ মূলত জ্বালানি সাশ্রয়ের সরকারি পরিকল্পনার অংশ।
এর আগে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিষয়টি তুলে ধরেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকট বিবেচনায় নিয়ে আমরা শিক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখার পরিকল্পনা করছি। বিশেষ করে মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টি মাথায় রেখে অনলাইনে ক্লাসের এই চিন্তাভাবনা করা হয়েছে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভায় উপস্থাপন করা হবে এবং অনুমোদন পাওয়া গেলে পরবর্তীতে বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করা হবে।
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের সার-বীজ সরাসরি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, ‘কৃষকরা জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকার সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের জন্য প্রণোদনা পাবেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান মন্ত্রী। এদিন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
এ সময় কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কৃষিকাজে সহায়তার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখী ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে কেবলমাত্র ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র শ্রেণির কৃষকদের কার্ডের মাধ্যমে এসব বিতরণ করা হবে।’
মন্ত্রী জানান, কৃষির উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে বীজ, সার, কীটনাশক এবং অন্যান্য উপকরণ সহায়তা দেওয়া হয়। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দের মধ্যে ৪০১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে।
এতে ২৫ লাখ ২২ হাজার কৃষক উপকৃত হয়েছেন। নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে কৃষকপ্রতি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। এ কার্যক্রমে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এতে উপকৃত হচ্ছেন প্রায় ১২ লাখ কৃষক।
মন্ত্রী জানান, সরকার কৃষি উৎপাদনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সার, সেচকাজে বিদ্যুৎ, ইক্ষু ইত্যাদি খাতে মার্চ/২০২৬ পর্যন্ত ১৬ হাজার ২৪০ লাখ কোটি টাকা এবং ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৬ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৯ দশমিক ৫০ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি, ১০ দশমিক ৫০ লাখ মেট্রিক টন এমওপি এবং ১৬ দশমিক ৮৫ লাখ মেট্রিক টন ডিএপি সার ভর্তুকি মূল্যে কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে।
কৃষকের উৎপাদিত শাক-সবজি ও ফল সংরক্ষণের জন্য ১৮০টি মিনি কোল্ড স্টোরেজ, আলু সংরক্ষণের জন্য ৭০৩টি মডেল ঘর, পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ৮০০টি মডেল ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী আহমেদ আজম খান জানিয়েছেন, ‘তন্ত্র-মন্ত্র’ বা জালিয়াতির মাধ্যমে যারা মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম ঢুকিয়ে অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন, তাদের খুব দ্রুত চিহ্নিত করে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে। একইসঙ্গে বিগত সরকারের আমলে বাদ পড়া ও হয়রানির শিকার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের করা সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।
মন্ত্রী বলেন, আশা করি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই ধরনের অমুক্তিযোদ্ধা, যারা ‘তন্ত্র-মন্ত্র’ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন, তাদের সন্তানদের চাকরি দিয়েছেন এবং নিজেরাও বিভিন্নভাবে অবৈধভাবে লাভবান হয়েছেন-আমরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি।
শিগগিরই এর একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী জানান, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় অল্প দিনের মধ্যেই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বলতে ও তা জাতির সামনে উপস্থাপন করতে সক্ষম হবে।
বিগত সরকারের আমলের অনিয়মের কথা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে আরও অনেক অভিযোগ এসেছে। সংসদ সদস্যরা যে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন, সেটিও দেখা হচ্ছে। পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে অনেক মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তাদের সনদ স্থগিত করা হয়েছিল এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল।
আহমেদ আজম খান বলেন, এসব অনিয়মের মধ্য দিয়ে অনেক অমুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে ভাতা ও অন্যান্য অবৈধ সুবিধা নিয়েছে। আমরা এ বিষয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছি। তিনি সংসদ সদস্যদের আশ্বস্ত করে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন করে তা জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন লে. কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান। তিনি সদ্য বিদায়ী পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৯ মার্চ এই দুই কর্মকর্তা নিজ নিজ দায়িত্বভার গ্রহণ ও অর্পণ করেন। ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স শাখার নতুন এই প্রধান কর্মকর্তা লে. কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে পদাতিক কোরে কমিশন লাভ করেন।
শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে তিনি অত্যন্ত মেধাবী। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে ডিফেন্স স্টাডিজ বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এছাড়া তিনি মিরপুর ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের একজন গ্র্যাজুয়েট।
দেশের আরও ১৪ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর ধারা ৩ দ্বারা জেলা পরিষদ আইন, ২০০০-এ সন্নিবেশিত ধারা ৮২৭(১) মোতাবেক ব্যক্তিগণকে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের নামের পার্শ্বে উল্লিখিত জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলো।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মোঃ মিজানুর রহমান চৌধুরীকে নীলফামারী, এ কে এম মমিনুল হককে লালমনিরহাট, মোহাম্মাদ জহুরুল ইসলামকে পাবনা, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান আলেককে নড়াইল, মোঃ নজরুল ইসলাম মোল্লাকে বরগুনা, মোঃ সিরাজুল হককে জামালপুর, মোঃ ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদকে ঢাকা, চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকীকে গাজীপুর, জামিলুর রশিদ খানকে মানিকগঞ্জ, তোফাজ্জল হোসেনকে নরসিংদী, মোঃ আফজাল হোসেন খ' 'পলাশকে ফরিদপুর, আহমেদ আলীকে হবিগঞ্জ, এ কে এম সলিম উল্যা সেলিমকে চাঁদপুর, অধ্যাপক এম এ খালেককে ফেণী জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অস্থিরতার মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে একের পর এক জ্বালানিবাহী জাহাজ। সবশেষ মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে পিভিটি সোলানা নামে একটি।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে পানামার পতাকাবাহী জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, গত এক মাসে ৩০টি জাহাজ জ্বালানি তেল নিয়ে বন্দরে ভিড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর ৩ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত এসব জাহাজ এসেছে। এর মধ্যে সবকয়টি জাহাজ জ্বালানি খালাস করে ফিরে গেছে। আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে আরও ছয়টি জাহাজ বন্দরে ভিড়বে। এসব জাহাজের মধ্যে তিনটিতে এলএনজি, দুটিতে গ্যাস অয়েল এবং একটিতে এলপিজি আসছে।
এর আগে গত ২৬ মার্চ ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে ‘গ্রান কুভা’ নামের একটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছে। একই দিন অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬১ হাজার ৯৯৭ টন এলএনজি নিয়ে ‘এইচএল পাফিন’ ইতোমধ্যে কুতুবদিয়া উপকূলে এসেছে। পরদিন (২৭ মার্চ) ইন্দোনেশিয়া থেকে ‘নিউ ব্রেভ’ এবং বর্তমানে পথে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রওনা দেওয়া ‘সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস’ নামের আরও একটি ট্যাংকার। আগামী ৪ এপ্রিল জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার কথা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে এলএনজি আমদানির বড় অংশই কাতার থেকে এলেও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে সরবরাহে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়েও কাতার থেকে কয়েকটি চালান না আসায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সারাদেশে অবৈধভাবে মজুদ করা জ্বালানি তেল উদ্ধারে সরকারের চলমান অভিযানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। ৩০ মার্চ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত অভিযানে মোট ৮৭ হাজার ৭০০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল ৬৭ হাজার ৪০০ লিটার, অকটেন ৬৪৪ লিটার এবং পেট্রোল ১৩ হাজার ৮৫৬ লিটার। আর দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সার্বিক জ্বালানির পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী এ কথা বলেন।
যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতিও স্থিতিশীল রয়েছে। দেশে ডিজেলের মজুদ রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন, অকটেন ৭ হাজার ৯৪০ টন এবং পেট্রোল ১১ হাজার ৪৩১ টন। এছাড়া জেট ফুয়েলের মজুদ রয়েছে ৪৪ হাজার ৬০৯ টন। সর্বমোট এক লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন।
তিনি বলেন, নিয়মিত আমদানির মাধ্যমে জ্বালানির সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। সামনে হজ মৌসুমকে সামনে রেখে জেট ফুয়েলের মজুদ পরিস্থিতিও বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
যুগ্মসচিব বলেন, এসব পরিসংখ্যান থেকে দেশে বিভিন্ন স্থানে অবৈধ জ্বালানি মজুদের ব্যাপকতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এদিন সারাদেশে মোট ৩৯১টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ১৯১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৯ লাখ ৩ হাজার ৫৭০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরায় এক ব্যক্তিকে দুই বছর, চাঁদপুরে এক বছর এবং অন্য এক স্থানে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
চলমান অভিযানের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত মোট ৩৫৫৯টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এতে ১২৪৪টি মামলা দায়ের এবং ৮৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৯ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চলমান অভিযানের আওতায় এখন পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৯৬ হাজার ৩০৫ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬৫ লিটার, অকটেন ২৮ হাজার ৯৩৮ লিটার এবং পেট্রোল ৬০ হাজার ২ লিটার।
যুগ্মসচিব আরও বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি তদারকিতে সরকার নতুন উদ্যোগ হিসেবে সারাদেশে ফিলিং স্টেশনভিত্তিক ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দিয়েছে। ঢাকা বিভাগে ১৩ জেলায় ৪৭৯ জন এবং মহানগর এলাকায় ১১৬ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১১ জেলায় ৩৩০ জন এবং মহানগরে ৬২ জন কর্মকর্তা নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগেও একইভাবে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব ট্যাগ অফিসারদের নিবিড় তদারকির ফলে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা আরও বাড়বে।