অন্তর্বর্তী সরকার একটা পরিবর্তনকালীন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই সময়টা সফলভাবে পার করতে পারলে দেশ ঘুরে দাঁড়াবে এবং সম্ভাবনার নতুন নতুন দরজা খুলে যাবে। আর যদি সেটা সম্ভব না হয় তাহলে দেশ পিঁছিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম। এসময় তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারকে পুনর্বাসন এবং আহতদের চিকিৎসায় সহযোগিতার আহ্বানও জানান।
আজ রোববার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অফিস কক্ষে মোবাইল অপারেটর রবি এবং গ্রামীণফোন লিমিটেডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত পৃথক বৈঠকে এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যেহেতু আন্দোলন শুরু হয়েছিল কর্মসংস্থানকে কেন্দ্র করে, তাই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।’
যুব সমাজের আগ্রহ ও প্রত্যাশাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মোবাইল কলরেট কমানো এবং ইন্টারনেটের মেয়াদবিহীন প্যাকেজ চালুর আহ্বান জানান উপদেষ্টা।
বাংলাদেশে এখন কাজ করার উপযুক্ত সময় উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘যেহেতু অন্তর্বর্তী সরকার জনসমর্থিত তাই দেশ ও দেশের মানুষের উপকার হয় এমন যে কোনো কাজ করতে আমরা আগ্রহী।’
টেলিকমিউনিকেশন খাতে উন্নতির জন্য সরকার কর্মতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গ্রামীনফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান বলেন, ‘আগে টেলিযোগাযোগ খাতের কোন অফিসে গিয়ে কথা বলার মতো পরিবেশ ছিল না, কিন্তু বর্তমানে পরিবেশ পরিবর্তন হয়েছে। এখন কথা বলা যাচ্ছে এবং ফিডব্যাকও পাওয়া যাচ্ছে এটা টেলিকমিউনিকেশন খাতের জন্য খুবই ইতিবাচক।’
রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব শেঠী বলেন, ‘গত ১৫ বছরে টেলিকমিউনিকেশন খাতে কমিশন বেইজড বিভিন্ন লেয়ার তৈরি হয়েছে, যার ফলে মোবাইল অপারেটররা মুনাফা বঞ্চিত হচ্ছে।’
বৈঠকে রবি আজিয়াটা পিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং চিফ কর্পোরেট এন্ড রেগুলেটরি অফিসার মো. শাহেদুল আলম, গ্রামীণফোনের নতুন চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার (সিসিএও) তানভীর মোহাম্মদসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আজ ঠাকুরগাঁও বড়মাঠে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: পিআইডি
ঠাকুরগাঁও, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার প্রসার এবং বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
আজ (রোববার) বিকেলে ঠাকুরগাঁও বড়মাঠে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। তবে বিমানবন্দরকে কার্যকর ও টেকসই করতে হলে এলাকায় কলকারখানা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে। আমাদের এখানে কোনো কলকারখানা নাই। তাই লোকের কাজও পায় না। বিমানবন্দর হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
ঠাকুরগাঁওয়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আশাবাদ ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা আশা করছি যে এখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার জন্য খুব শিগগিরই কিছু বিনিয়োগকারী নিয়ে আসতে সক্ষম হব।’
এসময় তিনি কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে চীন থেকে বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞ আনার বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রপতি ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্থানীয়ভাবে আরও বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি কেনা হয়েছে এবং মূল্যও পরিশোধ করা হয়েছে। ভাইস চ্যান্সেলর দায়িত্ব নিয়েছেন। সোমবার সেখানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিও পূরণ হয়েছে। স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আগামী বছর থেকে সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতি আরও জানান, জেলায় একটি স্পোর্টস ভিলেজ তৈরি হবে এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন করে খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয়, আঞ্চলিক সমবায় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং পীরগঞ্জে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত শিবগঞ্জ বিমানবন্দর চালুর আশা ব্যক্ত করে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষির অনেক উন্নতি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা কাজ করতে চাই। যারা কাজ করে তাদের সঙ্গে থাকতে চাই। যারা সততার সঙ্গে মানুষের সেবা এবং কল্যাণের জন্য কাজ করে তাদেরকে আমরা সাহস জোগাতে চাই এবং সমর্থন করতে চাই।’
এসময় তিনি তরুণ ও যুবসমাজকে উদ্যোক্তা হওয়ার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিজস্ব উদ্যোগে স্থানীয় নারীদের বিভিন্ন কাজের প্রশংসা করেন।
তরুণ সমাজের প্রতি মাদকবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার এবং জেলাকে মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়তে তিনি জেলা প্রশাসক ও সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
মানবিক ও সহনশীল সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আসুন, সংঘাত, সংঘর্ষ, কিংবা প্রতিশোধ নয়; আমরা ভালোবাসার মধ্য দিয়ে সত্যিকারের একটা সমাজ গড়ে তুলি। যেখানে সবাই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাব।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ঠাকুরগাঁয়ে কোন সংঘাত কোন সংঘর্ষ চাই না। সমস্ত রাজনৈতিক দলে প্রতি আহ্বান থাকবে, আপনারা নিজেদের রাজনীতি করবেন, দলের মতবাদ প্রচার করবেন কিন্তু সংঘাতে জড়াবেন না।’
এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অতীতে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষদের ওপর হওয়া নির্যাতন, গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলার কথা উল্লেখ করেন এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘সমঝতার রাজনীতি’ বা ‘পলিটিক্স অফ রিকনসলেশন’ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এসময় তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও সমঅধিকারের ভিত্তিতে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর পিতা-মাতা, স্থানীয় মুরুব্বি, শিক্ষকসহ তাঁর জীবনের পথচলায় যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর সহধর্মিনী রাহাত আরা বেগমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার পুরো রাজনৈতিক জীবনে আমার সহধর্মিনী সাহস জুগিয়েছেন এবং পাশে দাঁড়িয়েছেন।’
তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ লড়াই করায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন।
নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুর রহমান, রাষ্ট্রপতির বাল্যবন্ধু অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দীন প্রধান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইএসডিও-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ-জামান।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, বাংলাদেশের সামনে থাকা জনমিতিক লভ্যাংশ (পপুলেশন ডিভিডেন্ট) কাজে লাগাতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ ও শিক্ষিত মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে যথাযথ শিক্ষা, কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে সম্পৃক্ত করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত হবে।
আজ জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘পার্লামেন্টস রোল ইন রিয়্যালাইজিং পপুলেশন ডিভিডেন্টস, এসডিজিস এন্ড আইসিপিডিস কমিটমেন্টস' শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।
স্ট্রেনদেনিং পার্লামেন্টস ক্যাপাসিটি ইন ইন্টিগ্রেশন অব পপুলেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট ইস্যুস (এসপিসিপিডি) প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন কামকং।
চিফ হুইপ বলেন, একটি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ থাকলেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত হয় না; দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো দক্ষ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশকে তার বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। দক্ষ, শিক্ষিত ও উৎপাদনশীল জনগোষ্ঠীই দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান শক্তি।
চিফ হুইপ বলেন, আগামী প্রায় এক দশক বাংলাদেশের জন্য জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগানোর গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ও সক্ষমতাকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। দক্ষতা, শিক্ষা ও উৎপাদনশীলতাই দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি।
তিনি বলেন, জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ, জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে সংসদ সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রতিনিধি হওয়ায় জনসংখ্যা ও উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে তাদের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে শুধু মানুষ পাঠানোই যথেষ্ট নয়; দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করে তাদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে পাঠাতে হবে। দক্ষ কর্মীরা বিদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি দেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাবেন, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
তিনি উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে আরো কার্যকর সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা গেলে একদিকে কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে দেশের উৎপাদনশীলতা ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে।
রাজনৈতিক দলগুলোকে সহিংসতা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত পরিহার করে সমঝোতা এবং সহিষ্ণুতার রাজনীতি করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “আমরা অনেক রক্তপাতের মধ্য দিয়ে এ দেশ পেয়েছি, আর কোনো রক্তপাত দেখতে চাই না। যে গণতন্ত্রের জন্য আমরা লড়াই করেছি, সেই গণতন্ত্র রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে চাই।” আজ রবিবার ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম ঠাকুরগাঁও সফর।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষের মধ্যে কোনো বিভেদ থাকতে পারে না। বাংলাদেশের সকল নাগরিক সমান অধিকার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করবে, এটাই সরকারের মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, “আপনারা নিজস্ব রাজনীতি ও মতবাদ প্রচার করুন; কিন্তু হানাহানি বা সংঘর্ষ থেকে দূরে থাকুন। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক চর্চা চালানো উচিত। কারণ গণতন্ত্রের প্রধান ভিত্তিই হলো সহিষ্ণুতা।”
সততা ও নিষ্ঠার সাথে জনসেবায় আত্মনিয়োগ করার পরামর্শ দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের প্রকৃত উন্নয়ন নির্ভর করে দারিদ্র্য বিমোচন এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের ওপর। শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত নিজ জন্মভূমির প্রতি গভীর আবেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমার জন্ম ও শৈশব এখানে। এ মাটির শিক্ষকরাই আমাকে গড়ে তুলেছেন। আমি যেখানেই থাকি না কেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের পাশে থাকব।” পরিশেষে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় জীবন বাজি রেখে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মানবিক সহায়তার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।
আজ (রোববার) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কোঅপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসিএফ) কর্তৃক আয়োজিত ‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস : ইমার্জিং চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড রিফ্রেমিং রেসপনসিবিলিটিজ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রশাসনিক সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্নভাবে মায়ানমারে ফেরত পাঠাতে চেষ্টা করবে সরকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি যেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক রাডারে সর্বদা সক্রিয় থাকে এবং অন্য কোনো বৈশ্বিক রাজনৈতিক সংঘাত বা সংকটের আড়ালে চাপা পড়ে না যায়।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ প্রচেষ্টা ও কার্যকর কূটনীতির মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে দ্রুত মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, আশ্রয় পাওয়া প্রায় ১.৫ মিলিয়ন (ইউএনএইচসিআর-এর হিসাবে ১.২ মিলিয়ন) বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিককে (এফডিএমএন) যেন আমরা পূর্ণ মর্যাদা ও নিরাপত্তার সাথে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পারি। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহায়তা ও রাজনৈতিক ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।’
মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সফল নেতৃত্বে এবং ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী কূটনৈতিক উদ্যোগে বাংলাদেশ সফলভাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করেছিল। অতীতের সেই সফল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান সরকার আবারও শতভাগ সফল প্রত্যাবাসন বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে ইতোমধ্যে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর্মুলেশন কমিটি অন রোহিঙ্গা অ্যাফেয়ার্স’ গঠিত হয়েছে। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক সমন্বয়ের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে অপর একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি সক্রিয় রয়েছে।
এসময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা পূনর্বাসন নিয়ে সরকার আশাবাদী। বাংলাদেশ মানবিক সহযোগিতা বহাল রাখবে। তবে মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের নিরাপদে সেখানে পৌছাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
আইজিসিএফ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী আদনান রহমানের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে গোলটেবিল আলোচনাটি শুরু হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকী।
গোলটেবিল আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি আইভো ফ্রেইসেন, বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শরণার্থী সেলের প্রধান ও যুগ্মসচিব মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘাত অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস, আইইউবি’র অধ্যাপক ড. কাজী মাহমুদুল রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নুরুল হুদা সাকিব এবং ইউল্যাব-এর সহকারী অধ্যাপক মিসেস অবন্তী হারুন, অ্যাকশন-এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির এবং দৈনিক প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি রাহীদ এজাজ প্রমুখ।
বিশ্বব্যাপী চলমান জ্বালানি সংকটের এই মুহূর্তে হাজার হাজার লিটার তেল খরচ করে বিরোধী জোটের লংমার্চ আয়োজনকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা পরিষদ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং শিশুদের সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ‘বিশ্বের নানা জায়গায় যুদ্ধের কারণে বর্তমানে চলমান তেল সংকটের মধ্যে হাজার হাজার লিটার তেল পুড়িয়ে বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচি অযৌক্তিক।’ তিনি অভিযোগ করেন যে একটি বিশেষ রাজনৈতিক মহল দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এসব হঠকারী কর্মসূচি পালন করছে।
বিরোধী জোটের অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ‘জামাত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট এতদিন জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে আমাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। আজ তারাই আবার তেল, বিদ্যুৎ, সার-সহ বিভিন্ন সংকটের কথা বলে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে দেশের উন্নয়নের ধারা বাধাগ্রস্ত করতেই কৃত্রিম সংকটকে পুঁজি করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
একই অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী দেশীয় মাছের প্রজাতি রক্ষা এবং পানিতে ডুবে শিশুদের অকাল মৃত্যু রোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, প্রতিটি শিশুকে সাঁতার শেখানো জরুরি এবং সেই সঙ্গে যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কে এম আব্দুল হালিম এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং কৃষিভিত্তিক আঞ্চলিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে চিনিশিল্পকারখানায় বৃক্ষরোপণ ও সেতাবগঞ্জের কান্তা কৃষি খামারে ২০২৬-২৭ মৌসুমের আখ রোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
সরকারের ২৫ কোটি চারা রোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সেতাবগঞ্জের কান্তা কৃষি খামারের জমিতে উন্নত জাতের আখের চারা ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান মোঃ শামছুজ্জামান সুরুজ বৃক্ষরোপণ ও মাড়াই মৌসুমের আখ রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় বিএসএফআইসির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতিটি চিনি কারখানায় ১ হাজার করে মোট ১৫ হাজার গাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান বলেন, পরিবেশ রক্ষায় আখ চাষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ কার্বন শোষণ ক্ষমতাসম্পন্ন এ ফসল বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন শোষণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় জমিতে অবস্থান করায় আখ মাটির ক্ষয় রোধ এবং পরিবেশগত ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক।
তিনি বলেন, আখের বিভিন্ন উপজাত, বিশেষ করে ছোবড়া ও চিটাগুড় পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জৈব সার উৎপাদনে ব্যবহার করা যায়। এর ফলে আখ চাষ চিনি শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, পাহাড়, শহর, গ্রাম, সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপকূলীয় এলাকা, চরাঞ্চল ও সরকারি বনভূমিতে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা হলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার পাশাপাশি বন্যা ও খরার মতো জলবায়ুজনিত ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, আখের সঙ্গে সাথী ফসল চাষের সুযোগ থাকায় একই জমি থেকে কৃষকের বাড়তি আয় করা সম্ভব। পাশাপাশি চিনি শিল্পকে কেন্দ্র করে আখ চাষ সম্প্রসারিত হলে গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতির বিকাশ ঘটবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি টেকসই কৃষি সম্প্রসারণের উদ্যোগও জরুরি। শিল্পকারখানায় বৃক্ষরোপণ এবং কান্তা কৃষি খামারে আখ রোপণের মতো কর্মসূচি দেশের সবুজায়ন ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত H.E. Mr. Ghanshyam Bhandari সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
আজ (রবিবার) বাংলাদেশ সচিবালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে এ সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও সুদীর্ঘ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বন ও প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক পরিবেশগত সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
মন্ত্রী নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান। তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বলেন, এ শোকাবহ সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ নেপালের সরকার ও জনগণের পাশে রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী মানবিক সহায়তা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ প্রস্তুত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও নেপাল জলবায়ু পরিবর্তনের ভিন্ন ধরনের ঝুঁকির সম্মুখীন হলেও দুই দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। হিমালয় অঞ্চলের বরফ ও হিমবাহের পরিবর্তন, নদী অববাহিকার পরিবেশগত ভারসাম্য, অতিবৃষ্টি, বন্যা ও অন্যান্য জলবায়ুজনিত দুর্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক পরিবেশ এবং মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর প্রভাব ফেলে। আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনকে সামনে রেখে এসব অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রদূত H.E. Ghanshyam Bhandari বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার বিদ্যমান ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন উদ্যোগে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত নেপালের দুর্ঘটনার পর দেশটির জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, সংকটের সময়ে বাংলাদেশের এই সহমর্মিতা দুই দেশের জনগণের গভীর বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন; নেপালের সরকার ও জনগণ এ সহযোগিতা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।
বৈঠকে পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতার পাশাপাশি বাণিজ্য, যোগাযোগ, পর্যটন, শিক্ষা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ ও নেপালের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়। দুই পক্ষ মনে করেন, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব শক্তিশালী হলে তা উভয় দেশের জনগণের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। ভবিষ্যতে পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ দক্ষিণ এশিয়ায় সবুজ ও টেকসই উন্নয়ন অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে উভয় পক্ষ মত প্রকাশ করেন।
এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামকে দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে সেখানকার ব্যবসায়ীদের বিদ্যমান সকল সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিএমসিসিআই) এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এই আশ্বাস প্রদান করেন।
সভায় চট্টগ্রামের শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ব্যবসায়ী নেতারা এই সময় চট্টগ্রাম অঞ্চলের বর্তমান বাণিজ্যিক সংকটগুলো মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।
আলোচনায় সীতাকুণ্ডের বারবকুণ্ডু এলাকায় অবস্থিত ওজন স্কেলটি নিয়ে ব্যবসায়ীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁরা জানান, এই স্কেলটি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বড় ধরণের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, যা দ্রুত সরিয়ে নেওয়া জরুরি। এছাড়া এলসি (LC) পেমেন্টের ক্ষেত্রে কোনো কোনো ব্যাংক মূল নথি বা ডকুমেন্ট ছাড়াই অর্থ পরিশোধ করছে বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা। এই ঝুঁকি এড়াতে মূল নথি যাচাই ছাড়া এলসি পেমেন্ট বন্ধে কঠোর আইন ও ব্যাংকগুলোকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদানের দাবি জানান তাঁরা। পাশাপাশি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হারের কারণে ব্যবসা পরিচালনার খরচ বেড়ে যাওয়ায় সুদের হার সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনারও অনুরোধ জানানো হয়।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শোনার পর আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে চট্টগ্রামের ভূমিকা অপরিসীম এবং এখানকার বাণিজ্যিক পরিবেশ উন্নত করতে সরকার এরই মধ্যে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। তিনি ওজন স্কেল ও এলসি সংক্রান্ত সমস্যাগুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।
সভায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের প্রেসিডেন্ট আলহাজ খলিলুর রহমান, সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান, আব্দুস সালাম ও জসীমউদ্দিন চৌধুরীসহ পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
পেপারবিহীন, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সংসদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ই-পার্লামেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ (রোববার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের লাইব্রেরি কমিটির সভাপতি ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং কমিটির সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমেদ ও এ বি এম মোশাররফ হোসেন এ বিষয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে ই-পার্লামেন্ট সিস্টেমের ওপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপনের জন্যও স্পিকার নির্দেশনা প্রদান করেন। এতে প্রস্তাবিত সিস্টেমের কার্যপদ্ধতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, বাস্তবায়ন পরিকল্পনাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হবে।
সাক্ষাৎকালে সংসদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ই-পার্লামেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রস্তাবিত এ ব্যবস্থায় বাংলা ও ইংরেজি ভাষার সংস্করণ থাকবে। এর মাধ্যমে সংসদীয় নথি ব্যবস্থাপনা, তথ্য সংরক্ষণ ও আদান-প্রদান আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর হবে।
ই-পার্লামেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ডেপুটি স্পিকারকে চেয়ারম্যান করে একটি কমিটি গঠনের জন্য স্পিকার নির্দেশনা দিয়েছেন। কমিটি প্রস্তাবিত সিস্টেমের কাঠামো, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
এসময় উল্লেখ করা হয়, ই-পার্লামেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়ন বর্তমান সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে। এ ব্যবস্থা চালু হলে সংসদের বিভিন্ন কার্যক্রম ও নথি ডিজিটাল ব্যবস্থায় পরিচালিত হবে। ফলে কাগজের ব্যবহার কমার পাশাপাশি সময় ও প্রশাসনিক ব্যয় সাশ্রয় এবং সংসদীয় কার্যক্রমে গতি, দক্ষতা ও সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও অন্যান্য সহযোগিতা নিশ্চিত করতে ইউএনডিপি, দাতা দেশ ও দাতা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্পের পরবর্তী পর্যায়ে তাদের সহযোগিতা গ্রহণ করা হবে। পেপারবিহীন ও প্রযুক্তিনির্ভর সংসদ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ই-পার্লামেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁকে শপথ পাঠ করান প্রধান বিচারপতি ড. জুবায়ের রহমান চৌধুরী। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতিগণ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পিএসসির নবনিযুক্ত ও বর্তমান সদস্যবৃন্দ এবং সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ড. নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া পিএসসির দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে দেশের সরকারি চাকরিতে জনবল নিয়োগ ও প্রশাসনিক সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতির প্রকৃত পরিচয় তার সংস্কৃতি। সংস্কৃতি মানুষকে বিভক্ত নয়, বরং ঐক্যবদ্ধ করে। সাংস্কৃতিক ঐক্যই সম্প্রীতির সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
আজ বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সংস্কৃতি মন্ত্রীর দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংস্কৃতি মন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন, নজরুল বর্ষ উদযাপন, শিল্পী ও গবেষক বিনিময়, ক্ল্যাসিক্যাল সংগীত, লোকসংস্কৃতি, তরুণ প্রতিভা বিকাশ এবং সামুদ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কেবল প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নয়, এটি আত্মার সম্পর্ক। দুই দেশের মানুষের ভাষা, সাহিত্য, সংগীত, লোকঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধের মধ্যে যে গভীর সেতুবন্ধন রয়েছে, সেটিই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি।
সংস্কৃতি মন্ত্রী আরো বলেন, উপমহাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী মোহাম্মদ রফি, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, অলকা ইয়াগনিক ও পণ্ডিত রবিশঙ্করের শিল্পকর্ম দুই দেশের কোটি মানুষের হৃদয়ে সমানভাবে অনুরণিত হয়েছে। তাঁদের সৃষ্টিশীল অবদান প্রমাণ করে যে শিল্প ও সংস্কৃতি সীমান্তের গণ্ডি অতিক্রম করে মানুষের হৃদয়ের ভাষায় কথা বলে।
তিনি চলমান নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশে আয়োজিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভারতের খ্যাতিমান নজরুল গবেষক, শিল্পী ও সংস্কৃতিবিদদের অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। একই সঙ্গে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন শাহ এবং বাংলা লোকসংগীতকে দুই দেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে ধর্মীয় উগ্রবাদ, অসহিষ্ণুতা ওসাম্প্রদায়িক বিভাজনের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক জাগরণই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ। সাহিত্য, সংগীত, নাটক ও লোকসংস্কৃতির মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ ও সম্প্রীতির চর্চা জোরদার করতে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সাক্ষাতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী, দুই দেশের মধ্যে একটি ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। তিনি প্রাথমিক পর্যায়ে ভারত থেকে দুইজন ক্ল্যাসিক্যাল শিল্পীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বাংলাদেশে কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব করেন। এছাড়া বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তি নবায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, নবনিযুক্ত সংস্কৃতি সচিব মিজ ইয়াসমিন বেগমসহ, ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার ও ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের ডিরেক্টর এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের ' ইয়াং ট্যালেন্টদের জন্য যৌথ প্রশিক্ষণ, রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রম চালু করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও সুদৃঢ় হবে। এছাড়া বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে কনজারভেশন অব মেরিটাইম কালচার বা সামুদ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ গবেষণা ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ গ্রহণেরও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আত্মার সম্পর্ক। খাদ্যাভ্যাস, ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বহু ক্ষেত্রে আমাদের গভীর অভিন্নতা রয়েছে। বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সংগীত ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
হাইকমিশনার কাজী নজরুল ইসলামের জন্মস্থান চুরুলিয়ায় আরো ব্যাপক পরিসরে আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং সেই আয়োজনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিয়মিত যৌথ অনুষ্ঠান করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য এক বড় হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ‘ইনস্টিটিউট অব গ্লোবাল কোঅপারেশন ফাউন্ডেশন’ (আইজিসি ফাউন্ডেশন) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি। মাদকসহ বিভিন্ন ইস্যুতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর নেতিবাচক পরিবেশও আইনশৃঙ্খলার জন্য একটি উদ্বেগের বিষয়। ক্যাম্পের সীমানা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রোহিঙ্গাদের এই বিপুল উপস্থিতির কারণে স্থানীয় কক্সবাজারের সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি ও নানাবিধ সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ক্যাম্পের জনঘনত্ব যত বাড়বে, আইনশৃঙ্খলার ঝুঁকি ও মানবিক সংকট ততটাই তীব্র হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
রোহিঙ্গাদের টেকসই সমাধানের পথ নিশ্চিত করার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর আগ পর্যন্ত মানবিক সহায়তা খুবই জরুরি। তবে এই মানবিক সহায়তা অবশ্যই একটি সাময়িক ব্যবস্থা, প্রত্যাবাসনের বিকল্প নয়।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুত প্রত্যাবাসনই একমাত্র সমাধান। এ লক্ষ্যে বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রসমূহ এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সক্রিয় সমর্থন ও সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।
পরিশেষে, আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুটি যেন বিশ্বনেতাদের গুরুত্বের তালিকায় থাকে এবং অন্য কোনো বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এই মানবিক সংকটটি চাপা না পড়ে যায়।
রাজধানীর চারপাশের নদ-নদী রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশবাসীকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নৌপথের উন্নয়ন সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা সভায় তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী ও বালু নদীর দূষণ রোধ, বর্জ্য অপসারণ এবং নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য গৃহীত পূর্ববর্তী পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি নদী সংলগ্ন খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ঢাকার চারপাশে বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়নের বিষয়গুলো বিশদভাবে পর্যালোচনা করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করে প্রকল্পগুলোর কাজ এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, “নিজেদের পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও দূষণমুক্ত নদী ও একটি বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য শুধু সরকারি নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করলে হবে না, ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকেও কাজ করতে হবে।” তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, পরিবেশ সুরক্ষায় কোনো প্রকার গাফিলতি সহ্য করা হবে না।
উক্ত সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্য ও সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরাও এই সভায় অংশগ্রহণ করেন।