অন্তর্বর্তী সরকার একটা পরিবর্তনকালীন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই সময়টা সফলভাবে পার করতে পারলে দেশ ঘুরে দাঁড়াবে এবং সম্ভাবনার নতুন নতুন দরজা খুলে যাবে। আর যদি সেটা সম্ভব না হয় তাহলে দেশ পিঁছিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম। এসময় তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারকে পুনর্বাসন এবং আহতদের চিকিৎসায় সহযোগিতার আহ্বানও জানান।
আজ রোববার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অফিস কক্ষে মোবাইল অপারেটর রবি এবং গ্রামীণফোন লিমিটেডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত পৃথক বৈঠকে এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যেহেতু আন্দোলন শুরু হয়েছিল কর্মসংস্থানকে কেন্দ্র করে, তাই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।’
যুব সমাজের আগ্রহ ও প্রত্যাশাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মোবাইল কলরেট কমানো এবং ইন্টারনেটের মেয়াদবিহীন প্যাকেজ চালুর আহ্বান জানান উপদেষ্টা।
বাংলাদেশে এখন কাজ করার উপযুক্ত সময় উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘যেহেতু অন্তর্বর্তী সরকার জনসমর্থিত তাই দেশ ও দেশের মানুষের উপকার হয় এমন যে কোনো কাজ করতে আমরা আগ্রহী।’
টেলিকমিউনিকেশন খাতে উন্নতির জন্য সরকার কর্মতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গ্রামীনফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান বলেন, ‘আগে টেলিযোগাযোগ খাতের কোন অফিসে গিয়ে কথা বলার মতো পরিবেশ ছিল না, কিন্তু বর্তমানে পরিবেশ পরিবর্তন হয়েছে। এখন কথা বলা যাচ্ছে এবং ফিডব্যাকও পাওয়া যাচ্ছে এটা টেলিকমিউনিকেশন খাতের জন্য খুবই ইতিবাচক।’
রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব শেঠী বলেন, ‘গত ১৫ বছরে টেলিকমিউনিকেশন খাতে কমিশন বেইজড বিভিন্ন লেয়ার তৈরি হয়েছে, যার ফলে মোবাইল অপারেটররা মুনাফা বঞ্চিত হচ্ছে।’
বৈঠকে রবি আজিয়াটা পিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং চিফ কর্পোরেট এন্ড রেগুলেটরি অফিসার মো. শাহেদুল আলম, গ্রামীণফোনের নতুন চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার (সিসিএও) তানভীর মোহাম্মদসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ কাল থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি থেকে বিরত থেকে সরকারের মেয়াদে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানান।
আজ সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। তিন ঘণ্টার এই আলোচনায় তারা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।
তিনি আরও জানান, সভায় ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
প্রধানমন্ত্রী দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই সংকট ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার সমস্যা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং এখন সেগুলো বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে।
বর্তমান গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে। তবে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যাটি এরই মধ্যে সমাধান করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামীকাল সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ এক থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে।’ ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জিটুজি ভিত্তিতে গত এক মাসে আরেকটি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি মোটামুটি সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুতই কাজ শুরু হবে।
সরকার আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনাল সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তারেক রহমান। বিদ্যুৎখাতের সমস্যাও দীর্ঘদিনের বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করেছে, সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসেছে এবং সেগুলো সমাধানে পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এখন তা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যেকোনো কিছু পরিকল্পনা এবং সেটি বাস্তবায়ন করতে সময় লাগে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের এই সমস্যা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। চাইলেই ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এর সমাধান করা সম্ভব নয়।
সরকার কোন কাজ কখন শেষ করতে চায়, তার একটি সম্ভাব্য সময়সীমাও সভায় ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়। বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সময় কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে। তবে সরকারের সামনে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা রয়েছে।
ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা ও শিল্পখাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার সামগ্রিক প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর পড়ে। ফলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান শুধু ব্যবসায়ীদের স্বার্থের বিষয় নয়; এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
তিনি আরও বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তা অর্জন করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে।
হতাশ হওয়ার কারণ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সমস্যার ব্যাপ্তি ও জটিলতা সম্পর্কে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় আগে থেকেই অবগত। সরকার সমস্যাগুলো আড়াল না করে খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে কীভাবে সেগুলোর সমাধান করতে চায়, সেটিও জানিয়েছে। তিনি বলেন, আপনাদের জানাতে চাই যে আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। সে জন্য হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।
সরকারের পরিকল্পনা যৌক্তিক মনে হলে তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এগুলো বাস্তবায়ন হলে শুধু ব্যবসায়ী সম্প্রদায় নয়, পুরো দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।
দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও আশঙ্কার প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণই সময়মতো ঠিক করবে কাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। তবে যে সময় যে সরকার দায়িত্বে থাকে, তাকে তার পরিকল্পিত কাজগুলো সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া উচিত।
আলোচনায় গণমাধ্যমকর্মী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানোর কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা গণমাধ্যমের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। তা না হলে বিচ্ছিন্ন তথ্য থেকে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। গণমাধ্যম সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেলে তা দেশবাসীর কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বড় কোনো কাজ সফলভাবে করতে একটি কার্যকর দল প্রয়োজন। সরকারের সংশ্লিষ্ট সবাই একসঙ্গে কাজ করছেন, যাতে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়। ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সহযোগিতা করবেন, যাতে আমরা আপনাদের জন্য আরও ভালো কিছু করতে পারি।’
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ এবং জ্বালানি সচিব মো. জিয়াউল হক।
ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কামাল, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আমিরুল হক, বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব আনাম প্রমুখ।
এ ছাড়াও দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ইংরেজি দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, মোস্তাফা ফিরোজ, আব্দুন নূর তুষার, আকবর হোসেন, শাহেদ আলম, রেজাউল করিম রনি, আজিজুর রহমান রিপন, তরিকুল ইসলাম সৌরভ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহরিন ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস
বাংলাদেশের শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা বৃদ্ধি ও দু’দেশের মধ্যকার ব্যবসা ও বিনিয়োগ আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ বঙ্গভবনে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলমের স্বাক্ষর করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সাক্ষাতকালে সারাহ কুক রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের পক্ষ থেকে একটি অভিনন্দনপত্র হস্তান্তর করেন।
রাষ্ট্রপতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনপত্রের জন্য রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনারের মাধ্যমে রাজার প্রতি শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানান।
এ সময় তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারণ, কমনওয়েলথ-এর শিক্ষাবৃত্তি বৃদ্ধি, দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, ব্রিটেনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা ব্রিটেন ও বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধন জোরদার ও উন্নয়নে অনেক অবদান রাখছেন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি কমনওয়েলথের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর উন্নয়ন ও অভিন্ন স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আবার গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে। এ ধারাকে আরও শক্তিশালী করতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জনপ্রতিনিধিদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন ।
এ সময় ওয়েস্টমিনিস্টার পদ্ধতির গণতন্ত্র চর্চায় যুক্তরাজ্যের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি দুই দেশের সংসদ সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, পারস্পরিক সফর ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন।
এ সময় হাইকমিশনার জানান, তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের প্রায় ৯৯.৯৯ শতাংশ পণ্য এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আরো তিন বছর যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত অবাধ প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে। রাষ্ট্রপতি এ সুবিধাকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ডিজিটাল ক্লাইমেট ডাটা বিনিময়ের উদ্যোগের বিষয়েও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। দুই দেশের মধ্যে আবহাওয়া ও জলবায়ু-সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস আরও নির্ভুল করা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে রাষ্ট্রপতি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, প্রেস সচিব, ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার ও উন্নয়ন পরিচালক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস
বিগত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও আগামী দিনগুলোতে প্রাণহানি শূন্যে নামিয়ে আনতে কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। সোমবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় আয়োজিত ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালার উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।
কর্মশালায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ অতীতের মতো এবারও বিদ্যমান থাকলেও সার্বিক মৃত্যুর হার পূর্ববর্তী বছরগুলোর চেয়ে কম রয়েছে। তবে এতে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, এডিস মশার বিস্তার রোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় সরকার বিভাগ নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ডেঙ্গুর ঝুঁকি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর, সিটি করপোরেশন ও অংশীজনদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণকে সরকারের মূল লক্ষ্য হিসেবে আখ্যায়িত করে ড. আবদুল মঈন খান জানান, সরকারপ্রধান নিজেও সার্বক্ষণিকভাবে দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছেন। যেকোনো জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় সংস্থার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সুনির্দিষ্ট কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে ডেঙ্গু সংক্রমণ সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
সামরিক প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেওয়ার সময় ডোপ টেস্ট ‘পজিটিভ’ হওয়ায় পুলিশ অধিদপ্তরের পুলিশ সুপার (টিআর) আ ফ ম নিজাম উদ্দিনকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন। সরকারি ওই আদেশে গত ৩১ আগস্ট থেকে তাঁর এই বরখাস্ত কার্যকর করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত এই পুলিশ কর্মকর্তা গত ৮ জানুয়ারি থেকে মিরপুর সেনানিবাসে অবস্থিত ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি)-২০২৬ কোর্সে প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছিলেন। কোর্স চলাকালে গত ৭ জুন তিনি হঠাৎ শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করলে তাঁকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকদের নির্দেশনায় আনুষঙ্গিক শারীরিক পরীক্ষার অংশ হিসেবে তাঁর ডোপ টেস্ট করা হলে প্রস্রাবের নমুনায় বেনজোডায়াজেপিন (বিজেডও) ও অ্যামফিটামিন/মেথঅ্যামফিটামিন 'পজিটিভ পাওয়া যায়, যা শৃঙ্খলা বিধিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
প্রশিক্ষণরত একজন কর্মকর্তার এমন মাদক সংশ্লিষ্টতাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) মোতাবেক ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে উক্ত বিধিমালার ১২(১) অনুযায়ী তাঁকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালীন তিনি বিধি মোতাবেক নিয়মিত খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন এবং জনস্বার্থে এ শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।
আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক জোট ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ কূটনৈতিক মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। সোমবার সকালে ভোলা সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এখনও এই জোটের পূর্ণ সদস্য নয় এবং অংশীদার রাষ্ট্র হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় থাকলেও ব্রিকসে যোগদানের বিষয়ে সরকারের সার্বিক নীতিগত অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়।
প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক প্রসঙ্গে স্পিকার স্পষ্ট করেন যে, গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার কারণে বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে ভারতের প্রতি গভীর রিজার্ভেশন বা অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তবে এই প্রেক্ষাপটেও বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষপাতী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কোনো আধিপত্যের ভিত্তিতে নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সমমর্যাদার নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।
রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে স্পিকার জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংস্কারের নানা দিক নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলমান রয়েছে। সরকার ও বিরোধী দল যদি এই সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে একটি দৃঢ় ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে, তবে সংসদের আসন্ন অধিবেশনেই প্রয়োজনীয় আইন পাস এবং সংবিধান সংশোধনের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে। এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিনের দুঃশাসন ও বঞ্চনা থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো একদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মঙ্গলবার পুণ্যভূমি সিলেটে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্ধারিত সফরসূচি অনুসারে, সিলেটে পৌঁছে রাষ্ট্রপ্রধান প্রথমেই হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত সম্পন্ন করবেন। পরবর্তীতে বিকেলের অধিবেশনে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করবেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির এই প্রথম আগমনকে কেন্দ্র করে সিলেটজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে, যার আনুষ্ঠানিক কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পুরো নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে তোরণ নির্মাণ ও আলোকসজ্জা করার পাশাপাশি চলাচলের পথ ও পারিপার্শ্বিক এলাকাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সুসজ্জিত করা হয়েছে।
এদিকে রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে বিভাগীয় নগরীটিতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলেছে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানস্থল, চলাচলের রুট এবং আশপাশের সংবেদনশীল অঞ্চলগুলোতে বিশেষ নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), পুলিশ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ সমন্বয়ে এই কড়া নিরাপত্তা তদারকি পরিচালিত হচ্ছে।
সংসার যেখানে নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা, অনেক নারীর জন্য সেই ঘরই হয়ে উঠছে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের জায়গা। মারধর, হুমকি, যৌতুকের চাপ, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কিংবা দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতন—নানা রূপে চলতে থাকা সহিংসতার শেষ পরিণতি কখনো কখনো হচ্ছে মৃত্যু। আর মৃত্যুর আগেও অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনের সংকেত থাকলেও তা থামানো যাচ্ছে না।
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা আবারও সামনে এনেছে ঘরের ভেতরের এই সহিংসতার ভয়াবহতা। রাজধানীর খিলক্ষেতে মুক্তা ইসলামের মৃত্যুর আগে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে গাইবান্ধার তরুণী আল মাইদা আক্তার মৃত্যুর কিছুদিন আগে আহত মুখের ছবি স্বজনকে পাঠিয়ে স্বামীর মারধরের কথা জানিয়েছিলেন। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
এ ধরনের ঘটনা যে বিচ্ছিন্ন নয়, তার প্রমাণ মিলছে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনা সংকলন অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত স্বামীর হাতে অন্তত ১ হাজার ২৭৪ নারী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০২০ সালে ২৪০, ২০২১ সালে ২২৪, ২০২২ সালে ২০৬, ২০২৩ সালে ২০৭, ২০২৪ সালে ১৮০ এবং ২০২৫ সালে ২১৭ নারী নিহত হন।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আরও ১০৮ নারী স্বামীর হাতে নিহত হয়েছেন বলে আসকের হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ২০২০ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১ হাজার ৩৮২।
তবে এই হিসাব কেবল সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনার ওপর নির্ভরশীল। ফলে অপ্রকাশিত বা স্থানীয় পর্যায়ে থেকে যাওয়া বহু ঘটনা এতে যুক্ত হয়নি। বাস্তব পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
নারী নির্যাতনের চিত্র পাওয়া যাচ্ছে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর তথ্যেও। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে নারী নির্যাতনের অভিযোগে ২৭ হাজার ৯১১টি কল এসেছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার ১৯৬টি অভিযোগ ছিল স্বামীর হাতে নির্যাতনের বিষয়ে। অর্থাৎ মোট অভিযোগের প্রায় ৬২ শতাংশই এসেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।
হিসাব করলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০টি অভিযোগ এসেছে স্বামীর নির্যাতন নিয়ে। গত বছর এই হার ছিল প্রায় ৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ অভিযোগের অনুপাতে স্বামীর হাতে নির্যাতনের বিষয়টি আরও বেশি সামনে এসেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের ‘নারীর প্রতি সহিংসতা জরিপ ২০২৪’-এর তথ্য বলছে, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ নারী জীবনে অন্তত একবার স্বামী বা জীবনসঙ্গীর হাতে শারীরিক, যৌন, মানসিক বা অর্থনৈতিক সহিংসতা কিংবা নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। আগের ১২ মাসেও এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ৪১ শতাংশ নারী।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বলেন, পারিবারিক সহিংসতার শুরুটা অনেক সময় ছোটখাটো মতবিরোধ, নিয়ন্ত্রণ কিংবা মানসিক চাপ থেকে হলেও ধীরে ধীরে তা গুরুতর নির্যাতনে রূপ নিতে পারে। দীর্ঘদিনের নির্যাতন সহ্য করতে করতে অনেক নারী যখন সাহায্য চান, তখন পরিস্থিতি অনেকটাই জটিল হয়ে যায়।
তার মতে, শুধু নির্যাতনের পর আশ্রয় দেওয়াই যথেষ্ট নয়। নারীর নিরাপত্তা, আর্থিক সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পারিবারিক সহিংসতাকে ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে না দেখে অপরাধ হিসেবে গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক সহিংসতার বড় বাধা হলো এটিকে অনেক সময় ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিষয় হিসেবে দেখা। নির্যাতনের শিকার নারীকে সন্তান, সামাজিক মর্যাদা ও সংসারের কথা বিবেচনা করে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে নির্যাতনকারী আরও সুযোগ পেয়ে যায় এবং ভুক্তভোগী নারী ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট ‘আমরাই পারি’র প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক মনে করেন, কেবল আইন পরিবর্তন যথেষ্ট নয়। সামাজিক ও আচরণগত পরিবর্তনের পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার দুর্বলতা কাটিয়ে পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
মুক্তা, মাইদা কিংবা সাম্প্রতিক আরো বিভিন্ন ঘটনায় একটি বিষয় স্পষ্ট—চূড়ান্ত বিপর্যয়ের আগে অনেক সময় নির্যাতনের আলামত প্রকাশ পায়। কখনো ভিডিও, কখনো আহত অবস্থার ছবি, কখনো স্বজনের কাছে সাহায্যের আকুতি হয়ে সেই সংকেত সামনে আসে। তবু প্রশ্ন থেকে যায়, সেই সংকেত কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে?
কারণ পারিবারিক সহিংসতা ঠেকানোর লড়াই শুধু হত্যার পর শুরু হলে চলবে না। একজন নারী প্রথমবার নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরই যদি নিরাপদ আশ্রয়, আইনি সহায়তা এবং কার্যকর রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা পান, তাহলে অনেক মৃত্যুই হয়তো ঠেকানো সম্ভব। ঘরকে নিরাপদ করতে তাই প্রয়োজন নীরবতা ভাঙা, অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নির্যাতনের প্রথম পর্যায়েই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
যানজটে স্থবির রাজধানীতে গতি ফেরাতে আরও বড় হচ্ছে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক। পশ্চিমের গাবতলী থেকে পূর্বের দাশেরকান্দি পর্যন্ত প্রায় পুরো রাজধানীকে নতুন এক মেট্রো করিডোরে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ের এমআরটি লাইন-৫-এর সাউদার্ন রুট এখন একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায়। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর একনেকের সভায় উঠতে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত চলবে মেট্রোরেল। টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল ও তেজগাঁও হয়ে রুটটি পৌঁছাবে আফতাব নগর ও দাশেরকান্দির দিকে। এতে রাজধানীর পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের লাখো মানুষের যাতায়াতে তৈরি হবে নতুন গতি।
শুধু একটি নতুন মেট্রোরেল লাইন নয়, প্রকল্পটির অন্যতম বড় গুরুত্ব এর আন্তঃসংযোগে। প্রস্তাবিত সাউদার্ন রুট যুক্ত হবে এমআরটি লাইন-৫-এর নর্দার্ন রুট এবং এমআরটি লাইন-১-এর সঙ্গে। ফলে এক রুট থেকে অন্য রুটে সহজে যাতায়াত করতে পারবেন যাত্রীরা। পরিকল্পনা কমিশনের আশা, এর মাধ্যমে ঢাকার সমন্বিত গণপরিবহন নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং যানজট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফ থেকে প্রকল্প ঋণ হিসেবে আসবে ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।
মূল লাইন ও স্টেশন নির্মাণ এবং ডিপোর সিভিল ও ভবন নির্মাণে ব্যয় হবে ১৭ হাজার ৭৩৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। বৈদ্যুতিক, যান্ত্রিক ও রেলওয়ে ব্যবস্থায় ১৩ হাজার ২৫৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা এবং রোলিং স্টক ও ডিপো সরঞ্জামে ৪ হাজার ৮২১ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনে রাখা হয়েছে ৪ হাজার ৯৭৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
তবে এই প্রকল্পের পথ একেবারে মসৃণ ছিল না। শুরুতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৪ হাজার ৬১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। কয়েক দফা পর্যালোচনার পর ব্যয় কমিয়ে সর্বশেষ ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বাস্তবায়ন করবে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।
পরিকল্পনা কমিশনের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম অংশের যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন বিস্তারের পাশাপাশি কমবে সড়কের ওপর চাপ। এখন অপেক্ষা শুধু একনেকের অনুমোদনের।
পদ্মার বুকে ২ দশমিক ১ কিলোমিটারের একটি ব্যারাজ। বর্ষার পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, নদী খনন, সেচ সম্প্রসারণ, নৌপথ সচল রাখা, বন্যা ব্যবস্থাপনা, মাছের চলাচল এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদন—সব মিলিয়ে পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে বদলে যেতে পারে পদ্মা অববাহিকার পানি ব্যবস্থাপনা ও অর্থনীতির চিত্র। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে প্রস্তাবিত এই ব্যারাজ ঘিরে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এখন বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে।
দীর্ঘ আন্দোলন ও দাবির পর চলতি বছরের ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে শতভাগ সরকারি অর্থায়নে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
গত শুক্রবার পাংশার হাবাসপুরে প্রকল্পের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন ও জনসভাকে ঘিরে পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করতে পারেন।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বর্ষাকালে পদ্মার পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে তা নিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার করা। হাবাসপুরে প্রায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডারস্লুইস, দুটি ফিশ পাস, নেভিগেশন লক, গাইড বাঁধ ও অ্যাপ্রোচ বাঁধ। পদ্মায় প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের সক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
শুধু ব্যারাজ নির্মাণ নয়, গড়াই, চন্দনা ও হিসনা নদীর অফটেক স্ট্রাকচার, গড়াই-মধুমতি নদী ব্যবস্থার ১৩৫ দশমিক ৬০ কিলোমিটার ড্রেজিং, হিসনা নদী ব্যবস্থার ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার ড্রেনেজ চ্যানেল পুনঃখনন এবং ১৮০ কিলোমিটার অ্যাফ্লাক্স বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
রাজবাড়ীসহ পদ্মা অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকা কৃষিনির্ভর। বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ও বন্যা, আর শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সংকট—দুই সমস্যার মধ্যেই কৃষকদের কাজ করতে হয়। ব্যারাজে পানি সংরক্ষণ করা গেলে শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সরবরাহ বাড়তে পারে।
সরকারি প্রকল্প-তথ্য অনুযায়ী, বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে। সেচ বাড়লে অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আসা এবং একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
স্থানীয় কৃষক শাহীন মণ্ডল বলেন, ‘পদ্মা ব্যারেজ হলে সেচের পানির সংকট কমবে। কৃষি উৎপাদন বাড়বে, এতে আমাদের মতো কৃষকরাই বেশি উপকৃত হবে।’
আরেক কৃষক হামিদল ইসলাম বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজ হলে সেচ সুবিধা বাড়বে, কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে। আমরা চাই দ্রুত এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হোক।’
পদ্মা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটসহ বিভিন্ন ঘাট দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। নেভিগেশন লক ও নদী ব্যবস্থাপনার অবকাঠামো থাকায় নৌযোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। পণ্য পরিবহন সহজ হলে কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত ও আন্তঃজেলা বাণিজ্য বাড়ার সুযোগ রয়েছে।
স্থানীয় এমাদ আলী বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজ হলে শুধু কৃষি নয়, এলাকার যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি আসবে। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, বদলে যাবে মানুষের জীবনযাত্রা।’
শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজ হলে এ অঞ্চলে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে। মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে, তরুণদের জন্যও নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।’
কৃষি উৎপাদন বাড়লে পরিবহন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণেও নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হতে পারে। কোল্ড স্টোরেজ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং পণ্য পরিবহন ব্যবসার সুযোগ বাড়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় জিডিপিতে প্রায় শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ অবদান এবং বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার প্রত্যক্ষ আর্থিক সুবিধা পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় মোট ১১৩ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার দুটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় ও আশপাশের এলাকার চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে ব্যারাজের কারণে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ, পলি জমা, মাছের প্রজনন ও বিচরণে প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। প্রকল্পে দুটি ফিশ পাস রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি মাছের স্বাভাবিক চলাচল, প্রজননক্ষেত্র, অভয়াশ্রম ও জেলেদের জীবিকা রক্ষায় নিয়মিত পরিবেশগত নজরদারি প্রয়োজন।
পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে রাজবাড়ীসহ ২৪ জেলার মানুষের প্রত্যাশার কথা প্রকল্পসংশ্লিষ্ট আলোচনায় উঠে এসেছে। পানিসম্পদমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু রাজবাড়ী নয়, দেশের ২৪টি জেলার প্রায় ৭ কোটি মানুষ সুফল পাবেন। তবে বিভিন্ন প্রকাশিত প্রকল্প-তথ্যে উপকারভোগী জেলার সংখ্যা নিয়ে পার্থক্য রয়েছে। চূড়ান্ত উপকারভোগী এলাকার তালিকা বিস্তারিত বাস্তবায়ন নকশায় স্পষ্ট হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
পদ্মা ব্যারাজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নিয়ে দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তিনি বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজ রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। এটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি, নৌযোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফল হিসেবে এখন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে। আমরা চাই দ্রুত এর কাজ শুরু ও শেষ করা হোক।’
রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে রাজবাড়ীসহ আশপাশের জেলার কৃষি ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি নৌযোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। এ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।’
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘এটি আগের পরিকল্পনার মতো নয়, নতুন ধরনের চিন্তা ও নকশায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ডিজাইন ফেজের কাজ শুরু হবে।’
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘খুব শিগগিরই, সম্ভবত আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চ মাসের যেকোনো এক সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাংশার হাবাসপুরে এসে পদ্মা ব্যারাজের শুভ উদ্বোধন করবেন।’
তবে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার এই বিশাল প্রকল্পে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, সময়মতো কাজ শেষ করা, নদীর গতিপথ ও পলি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত প্রভাব এবং পুনর্বাসন বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যারাজ নির্মাণই সব সমস্যার স্বয়ংক্রিয় সমাধান নয়; নিয়মিত ড্রেজিং, নদী পর্যবেক্ষণ, তীর সংরক্ষণ ও পরিবেশগত ব্যবস্থাপনাও জরুরি।
সঠিক নকশা, স্বচ্ছ বাস্তবায়ন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং নদীর স্বাভাবিক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে পদ্মা ব্যারাজ রাজবাড়ীসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের কৃষি, নৌযোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও অর্থনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে। রোববার দুপুরে বঙ্গভবনে তার সঙ্গে দেশের ৩৩টি জেলা পরিষদের প্রশাসকদের এক সৌজন্য সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি জেলা পরিষদের প্রশাসকদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলের রেখে যাওয়া দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আপনাদের সক্রিয় ও সজাগ থেকে কাজ করতে হবে।’
এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের পদমর্যাদা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রপতি তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, এই সরকার জনগণের সরকার। সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর সরকার গুরুত্বসহকারে কাজ করছে বলেও রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দীর্ঘকাল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জেলা পরিষদের প্রশাসকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।
এছাড়াও রাষ্ট্রপতি জেলা পরিষদগুলোর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনা, স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
১০ টাকার পাউরুটি ১৫ টাকা। ১৫ টাকারটি ২০ টাকা। ২০ টাকার পাউরুটির দাম ঠেকেছে ২৫ টাকায়। শুধু পাউরুটি নয়, বিস্কুট, কেকসহ প্রায় সব ধরনের বেকারি পণ্যের দামই এখন বাড়তি। অথচ সংশ্লিষ্ট সমিতির ঘোষণা ছিল, দাম বাড়বে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ। বাস্তবে সেই ঘোষণার সীমা ছাড়িয়ে কোথাও ৩০, কোথাও ৪০, এমনকি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বেকারি পণ্য। মূল্যস্ফীতির চাপে যখন সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন তুলনামূলক সাশ্রয়ী হিসেবে পরিচিত পাউরুটি, বিস্কুট ও কেকের বাজারেও শুরু হয়েছে নতুন চাপ। অনেক পরিবারের কাছে এখন পাউরুটি আর শুধু নাশতার খাবার নয়; এটি হয়ে উঠেছে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অংশ। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়ার প্রভাবও সরাসরি পড়ছে সংসারের বাজেটে।
বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি চিনির দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ১৫ টাকা। আটা-ময়দায় বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা, ভোজ্যতেলে ৫ টাকা এবং ডালডায় প্রতি কার্টনে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লাইন গ্যাসের সংকট।
গ্যাস না থাকায় অনেক বেকারিকে বাড়তি দামে এলপিজি কিনে উৎপাদন চালাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম বাড়ায় ওভেন, মিক্সারসহ বিভিন্ন যন্ত্র চালানোর খরচও বেড়েছে। এসব কারণ দেখিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বেকারি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সমিতি। কিন্তু বাজারে সেই ঘোষণার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বরং অনেক ক্ষেত্রেই ঘোষিত হারের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান আবার দাম না বাড়িয়ে পণ্যের আকার বা ওজন কমিয়ে দিয়েছে। এতে একই দামে কম পণ্য পাচ্ছেন ক্রেতারা।
দাম বাড়ার পাশাপাশি নতুন করে দেখা দিয়েছে সরবরাহ সংকট। কয়েকটি বেকারি গত কয়েক দিন ধরে দোকানে পণ্য সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা।
পুরানা পল্টনের টং দোকানি রাইসুল মিয়া বলেন, ‘১০ টাকার ব্রেড ১৫ টাকা, ১৫ টাকারটা ২০ টাকা এবং ২০ টাকার ব্রেড এখন ২৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। গত পাঁচ দিন ধরে কোম্পানির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দোকানে ব্র্যান্ডের পণ্যই বেশি রাখতে হচ্ছে।’
অর্থাৎ একদিকে দাম বাড়ছে, অন্যদিকে পছন্দের বা নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের পণ্যও সব সময় পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ক্রেতাদের বাড়তি দাম দিয়েই পণ্য কিনতে হচ্ছে।
বেকারি পণ্যের দাম বাড়ার সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি লাগছে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবনে। তেজগাঁওয়ের রিকশাচালক তমিজউদ্দিন বলেন, ‘সারাদিন রিকশা চালিয়ে ভারী খাবারের বদলে রুটি-কলা খেয়েই দিন পার করি। আগে যা খরচ হতো, এখন দিনে তিনবার রুটি-কলা খেতেই বাড়তি ৩০ থেকে ৪০ টাকা চলে যাচ্ছে। আমাদের মতো মানুষের পেটে টান পড়ছে।’
বেসরকারি হাসপাতালের চাকরিজীবী জুয়েল রানার হিসাবও একই রকম। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন ব্রেড, বিস্কুট, কেক খেয়ে ৩০ টাকা করে বাড়তি খরচ হলে মাস শেষে তা প্রায় হাজার টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়, যা আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বড় চাপ।’ ছোট ছোট বাড়তি খরচ মিলিয়েই যে মাসের বাজেটে বড় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, তাদের কথায় সেটিই স্পষ্ট।
শুধু ভোক্তারাই চাপে নেই। উৎপাদন ব্যয় সামলাতে গিয়ে অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে ক্ষুদ্র বেকারি শিল্পও।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বেকারি শিল্পের সিংহভাগই অসংগঠিত ও হস্তচালিত। সারাদেশে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৭ হাজার বেকারি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকাতেই রয়েছে প্রায় ৭০০টি। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ খাতের সঙ্গে জড়িত লক্ষাধিক শ্রমিক ও কর্মী।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট এবং মাত্রাতিরিক্ত উৎপাদন ব্যয়ের কারণে ইতোমধ্যে ৫০০ থেকে ৬০০ ক্ষুদ্র বেকারি কারখানা বন্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে।
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে, কারণ বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মতো তাদের উৎপাদন ব্যয় কমানোর সুযোগ সীমিত। ফলে কাঁচামাল থেকে জ্বালানি—প্রতিটি স্তরে ব্যয় বাড়লে তার চাপ গিয়ে পড়ে পণ্যের দামে।
তবে বাজারে ঘোষিত ২০ শতাংশের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করছে না সংশ্লিষ্ট সংগঠন। বরং কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগে বাড়তি মুনাফা নেওয়ার চেষ্টা করছে। আবার কিছু দোকানি আমাদের সমিতিকে বিব্রত করতে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। নির্ধারিত ২০ শতাংশের বেশি দাম যাতে কেউ না নিতে পারে, সেজন্য আমরা মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করছি।’
অর্থাৎ উৎপাদন খরচ বেড়েছে—এটি যেমন বাস্তবতা, তেমনি সেই সুযোগে অস্বাভাবিক মুনাফা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। আর এই দুইয়ের মাঝখানে পড়ে সবচেয়ে বেশি চাপ সামলাতে হচ্ছে ভোক্তাকেই।
বেকারি শিল্পের জন্য উদ্বেগের আরেকটি কারণ সামনে থাকা নতুন ব্যয়। সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন জানান, ময়দার মিল মালিকরা প্রতি বস্তায় আরও ১০০ টাকা দাম বাড়িয়েছেন। ফলে বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির রেশ কাটার আগেই নতুন করে দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এতে প্রশ্ন উঠেছে—২০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণাই যেখানে বাজারে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশের ধাক্কায় পরিণত হয়েছে, সেখানে কাঁচামালের নতুন মূল্যবৃদ্ধির চাপ শেষ পর্যন্ত গিয়ে কোথায় ঠেকবে?
বেকারি পণ্য এখন আর কেবল নাশতা বা বিলাসী খাবার নয়। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের বহু পরিবারের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এর জায়গা তৈরি হয়েছে। তাই এই বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি শুধু একটি শিল্পের উৎপাদন ব্যয়ের বিষয় নয়; এটি সরাসরি জড়িয়ে গেছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে।
ঘোষণায় ২০ শতাংশ, বাজারে ৫০ শতাংশ—এই ফারাক বন্ধে কার্যকর নজরদারি না হলে বেকারি পণ্যের বাড়তি দাম শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের খাবারের তালিকাকেই আরও ব্যয়বহুল করে তুলবে।
খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়া রোধে সরকার বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করছেন এবং খুদে শিক্ষার্থীরা যাতে দুপুরে টিফিন পায়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকার বিএনপি দেশের জনগণের জন্য শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করছে যাচ্ছে। যে শিক্ষার মাধ্যমে সামাজিক, মানবিক ও জবাবদিহিকতা মূলক সমাজ গড়তে পারব। কারণ শিক্ষা ব্যবস্থার যত উন্নত হবে, দেশ সামনের দিকে তত এগিয়ে যাবে।
রোববার দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত খুদে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ (স্কুল পোশাক, স্কুল ব্যাগ) বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের কোনো শিক্ষার্থী যেন অর্থের অভাবে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। শিক্ষার মান যত উন্নত হবে ততই দেশ এগিয়ে যাবে। মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করাও সরকারের দায়িত্ব।
খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষা দিলেই হবে না। তাদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশিক্ষিত ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষক ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে ভূমিকা রাখতে হবে।
এ সময় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোকুল চন্দ্র নাথ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী নাসরিন ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য মো. ফরিদ হোসেনসহ স্থানীয় নেতাকর্মী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সরাসরি গুলি করেছিলেন সেনাবাহিনীর তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মতিউর রহমান এবং ওই হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন গ্রেপ্তারকৃত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর রবিবার বিকেলে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা।
প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানান, রবিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় মোজাফফর হোসেনকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং সোমবারও (১৪ সেপ্টেম্বর) তাঁকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে তিনি জানান, ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার আগে ওই বছরের ২৮ মে তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে মতিউর রহমানই জিয়াউর রহমানকে লক্ষ্য করে গুলি চালান।
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে নির্মমভাবে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ঐতিহাসিক এই হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪৫ বছর পর গত ১৫ জুলাই রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায়ও মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ওই মামলায় গত ২৩ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছিলেন। প্রসিকিউটর জানান, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ—উভয় বিষয়ের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতেই তাঁকে এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।