শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩
সার্চ কমিটির প্রথম বৈঠক

ইসিতে আইন অনুযায়ী সৎ ও দক্ষ লোক নিয়োগ করা হবে: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৩ নভেম্বর, ২০২৪ ১৯:৪৯

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে আইন অনুযায়ী সৎ, নির্ভীক ও দক্ষ লোক নিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশিদ। রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

সচিব বলেন, ‘আইন অনুযায়ী সৎ, নির্ভীক ও দক্ষ লোক নিয়োগ করা হবে। আইনে তাই বলা হয়েছে। আমি সার্চ কমিটির মেম্বার নই। আমরা কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেব।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আজকে কমিটির মিটিং হবে এবং মিটিংয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নেওয়া হবে। সার্চ কমিটি তাদের কর্মপদ্ধতি ঠিক করবে। অন্যান্য কাজগুলো কীভাবে হবে আজ সেটি তারা নির্ধারণ করবেন।’

কবে নাগাদ নির্বাচন কমিশন গঠন হবে- জানতে চাইলে আব্দুর রশিদ বলেন, ‘আইন অনুযায়ী এই কমিটি ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশ দেবে। এরপর রাষ্ট্রপতি কবে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন, সেটা তো আমরা বলতে পারব না।’

গত ২৯ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকার দেশের নির্বাচনি কাঠামোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন তদারকির জন্য ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) নুরুল ইসলাম, সরকারি কর্ম-কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মোবাশ্বের মোমেন, রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের নির্বাহী পরিচালক মো. আবরার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জীনাতুন নেসা তাহমিদা বেগম।

আইন অনুযায়ী, সার্চ কমিটি একবার গঠিত হলে নির্বাচন কমিশনের প্রতি সদস্যপদের জন্য দুজন করে ১০ জনের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব করতে ১৫ কার্যদিবসের বেশি সময় লাগে না। এরপর রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চারজন নির্বাচন কমিশনারকে বাছাই করে ইসি গঠন করেন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের এক মাসের মাথায় গত ৫ সেপ্টেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ অন্য চার নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ করেন। পদত্যাগ করা অন্য কমিশনাররা হলেন- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অব আহসান হাবীব খান, বেগম রাশেদা সুলতানা, মোহাম্মদ আলমগীর ও আনিছুর রহমান। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত এই কমিশনের অধীনে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি বহুল বিতর্কিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।


নির্বাচিত

আওয়ামী লীগের এ দেশে আর রাজনীতি করার সুযোগ হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্রগ্রাম প্রতিনিধি

স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদী ও গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগকে এ দেশের মানুষ আর রাজনীতি করার কোনো সুযোগ দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসার ১০৪তম বার্ষিক মাহফিলের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যারা সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে, ইতিহাসের বর্বরোচিত গণহত্যা ও জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে এবং পরবর্তীতে সে জন্য কোনো ক্ষমা প্রার্থনা বা অনুশোচনা প্রকাশ করেনি, সেই রাজনৈতিক দলকে আর এ দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।

বিগত দেড় দশকের শাসন এবং সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানের বিবরণ তুলে ধরে তিনি জানান, জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে অন্তত ১ হাজার ৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন। এর আগে বিগত ১৬-১৭ বছরে প্রায় ৩ হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৭ হাজার মানুষকে বিভিন্নভাবে হত্যা ও নির্যাতন করা হয়েছে। নিজেও দীর্ঘ সময় গুমের শিকার হয়েছিলেন উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মহান আল্লাহর রহমত ও সাধারণ মানুষের দোয়ায় তিনি বেঁচে ফিরেছেন। দেশের লাখ লাখ মানুষ গায়েবি মামলা ও হামলায় নিষ্পেষিত হয়েছে জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সেই পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনরাগমনের ক্ষেত্র কারা তৈরি করছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তৈরি পোশাক খাতে সম্প্রতি যে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে, তার পেছনেও এই ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত রয়েছে।

বক্তব্যে ইসলামের নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করা কিছু মহলের কড়া সমালোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, কিছু গোষ্ঠী মুখে ইসলামের কথা বললেও তাদের দলীয় ইশতেহারে ইসলামের মৌলিক নীতি ‘আকিমুদ্দিন’ বাদ দেওয়া হয়েছে এবং তারা শরিয়াহভিত্তিক আইনের স্পষ্ট বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে নিজেদের রাজনৈতিক দর্শনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ সংযোজন এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় পরিচয় সৃষ্টির মাধ্যমে এ দেশে বিভেদহীন সমাজ গঠনের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আন্দোলনের দিনগুলোতে আলেম-ওলামাদের অবদানের কথা স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অরাজনৈতিক সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও আমিরে হেফাজত আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর নেতৃত্বে হেফাজতে ইসলাম ইসলামবিদ্বেষী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। বাবুনগর মাদরাসার পরিচালক আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া, জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামারা।


নির্বাচিত

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে দ্বিতীয় বৈঠক ৯ নভেম্বর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের সব শ্রেণির শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের সুপারিশ প্রণয়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আগামী ৯ নভেম্বর দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক সভায় বসছে নিম্নতম মজুরি বোর্ড। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের শিল্প শাখা থেকে জারি করা এক নোটিশে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সচিব রাইসা আফরোজ স্বাক্ষরিত নোটিশ অনুযায়ী, আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) বেলা ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত ৪০ নম্বর ভবনে বোর্ডের নিজস্ব সভাকক্ষে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই নীতি-নির্ধারণী সভায় সভাপতিত্ব করবেন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ আজাদ সুবহানী।

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩৯ ধারার আলোকে এই সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভার মূল আলোচ্য বিষয় হিসেবে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকপক্ষ ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা পৃথকভাবে নতুন নিম্নতম মজুরি হারের লিখিত প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেবেন। প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি দেশের প্রধান এই রপ্তানিমুখী খাতের সব স্তরের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান এবং শিল্পের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি হারের সুপারিশ চূড়ান্ত করার প্রাথমিক দিকগুলো নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হবে।

উক্ত সভায় উপস্থিত থাকার জন্য বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলে উদ্দিন আহমদ, মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া মালিকপক্ষের অন্যতম প্রতিনিধি ও বোর্ডের সদস্য বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিনকে পোশাকশিল্পের মালিকদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মজুরি হারের লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

জুমার নামাজ না পড়ার শাস্তি ও কোরআনের নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, জুমার দিনে জোহরের পরিবর্তে প্রাপ্তবয়স্ক, মানসিকভাবে সুস্থ, স্বাধীন ও স্থায়ীভাবে বসবাসকারী সুস্থ মুসলিম পুরুষদের ওপর জামাতে জুমার নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। যাঁদের মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো গ্রহণযোগ্য শারীরিক বাধা, গুরুতর অসুস্থতা কিংবা বার্ধক্যজনিত অক্ষমতা নেই, তাঁদের জন্য এই নামাজ পরিত্যাগ করার সুযোগ নেই। সুনান আবু দাউদের ১০৬৭ নম্বর হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জামাতের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা অপরিহার্য কর্তব্য; তবে ক্রীতদাস, নারী, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু এবং অসুস্থ ব্যক্তি—এই চার শ্রেণির মানুষের ওপর জুমার নামাজ ওয়াজিব নয়।

যাঁদের ওপর জুমার নামাজ ফরজ বা ওয়াজিব করা হয়েছে, কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া তাঁদের এই নামাজ আদায়ে অবহেলা করার ব্যাপারে বিভিন্ন হাদিসে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। অলসতা বা অবহেলার কারণে ধারাবাহিকভাবে তিনটি জুমার জামাতে অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অন্তরে স্থায়ী মোহর পড়ে যায় বলে সতর্ক করেছেন মহানবী (সা.)। সুনানে নাসাঈর ১৩৭২ নম্বর হাদিসে হজরত আবুল জা’দ জুমায়রি (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি অলসতা করে ধারাবাহিকভাবে তিনটি জুমার নামাজে অনুপস্থিত থাকে, আল্লাহ তাআলা তার অন্তরে মোহর মেরে দেন; যার ফলে সেই অন্তর হেদায়াত লাভের যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে।

অহেতুক ও ইচ্ছাকৃতভাবে জুমার নামাজ বর্জনকারীকে মুনাফিকদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়েও হাদিসে স্পষ্ট সতর্কবার্তা রয়েছে। তাবারানি গ্রন্থে হজরত উসামা ইবনে জায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, কোনো শরিয়তসম্মত ওজর বা কারণ ছাড়া যে ব্যক্তি তিনটি জুমার নামাজ ছেড়ে দেয়, তার নাম মুনাফিকদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে যায়। জুমার মতো বরকতময় দিনে সামান্য অবহেলার কারণে নিজের অন্তরে মোহর লেগে যাওয়া কিংবা আল্লাহর দরবারে মুনাফিক হিসেবে লিপিবদ্ধ হওয়ার এই মারাত্মক পরিণতি সম্পর্কে প্রতিটি মুমিনের সতর্ক থাকা আবশ্যক।

শুধু নামাজ আদায়ই নয়, জুমার দিন খুতবা শুরুর আগেই মসজিদে উপস্থিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। নামাজের আহ্বান বা আজান শোনার পর যাবতীয় পার্থিব কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে পবিত্র কোরআনে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সুরা জুমার ৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন, যখন জুমার দিনে সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন পার্থিব বেচাকেনা বর্জন করে আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত ধাবিত হতে হবে এবং এটিই মানুষের জন্য সর্বোত্তম। ফলে জুমার আজান হওয়ার পর ব্যবসা-বাণিজ্য ও দুনিয়াবি সব ধরনের ব্যস্ততা স্থগিত রেখে অবিলম্বে মসজিদের উদ্দেশে যাত্রা করা কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী অবশ্য পালনীয় কর্তব্য বা ওয়াজিব।


নির্বাচিত

৮ থেকে ১০ নভেম্বর বৃষ্টির সম্ভাবনা, কমবে তাপমাত্রা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন বিভাগে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে ৮ নভেম্বর থেকে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ দিনে দেশের সার্বিক তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা অর্থাৎ শুক্রবার ও শনিবার সারা দেশে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে এবং আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকবে। এ সময়ে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে দেশের অন্যত্র রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার কথা রয়েছে। এ ছাড়া শনিবার দিন ও রাতের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

পরবর্তী দিনগুলোর বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রোববার (৮ নভেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে এবং সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। সোমবার (৯ নভেম্বর) বৃষ্টির আওতা বেড়ে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; ফলে রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকলেও দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। এরপর মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যার প্রভাবে ওই দিন সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা উভয়েই কিছুটা কমবে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বর্তমানে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপটি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে এবং এর বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। আগামী পাঁচ দিনের বর্ধিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে দেশের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। এদিকে রাজধানী ঢাকার আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্যে জানানো হয়, শুক্রবার সকাল ৬টায় নগরীতে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৭৮ শতাংশ এবং সে সময় পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছিল।


নির্বাচিত

নতুন ৩টি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

দেশে সার উৎপাদন বাড়াতে নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এর মধ্যে ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, চট্টগ্রামে বছরে ৪ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি ও নরসিংদীর পলাশে বছরে ২৪ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) উৎপাদন ক্ষমতার কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে।

শিল্পমন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশীয় সার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমানো, কৃষি খাতে সরবরাহ জোরদার ও শিল্প খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।

বিসিআইসি জানিয়েছে, বিসিআইসির অধীনে মোট সাতটি সার কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ইউরিয়া দুইটি নন-ইউরিয়া কারখানা রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ২৬ লাখ মেট্রিক টন। ওই অর্থবছরে সংস্থাটির কারখানাগুলোতে ১১ লাখ ৭৩২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদিত হয়েছে, যা মোট চাহিদার ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

একই অর্থবছরে দেশে টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদা ছিল যথাক্রমে সাত লাখ ৫০ হাজার এবং ১৪ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন। বিপরীতে বিসিআইসির কারখানাগুলোতে উৎপাদন হয়েছে যথাক্রমে ৬৮ হাজার ২৫৯ ও ৮২ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন সার, যা মোট চাহিদার ৯.১০ শতাংশ ও ৫.৫৩ শতাংশ। অর্থাৎ চাহিদার অধিকাংশই পূরণ করা হচ্ছে আমদানির মাধ্যমে।

বিসিআইসি’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারে ২৩ হাজার টাকা, টিএসপি সারে ৪৯ হাজার ১৭০ টাকা, ডিএপি সারে ৯৮ হাজার ৮৪০ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় সরকার নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের পরিকল্পনা

দেশের ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ভোলায় নতুন ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত কারখানাটিতে দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

বিসিআইসির তথ্য অনুযায়ী, কারখানাটি বাস্তবায়নের পর উৎপাদন চালু রাখতে দৈনিক ৪৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হবে। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। কারখানাটি স্থাপিত হলে দেশের ইউরিয়া উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে এবং কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহে দেশীয় উৎপাদনের অবদান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

এ বিষয়ে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, ‘দেশের ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। ভোলায় প্রস্তাবিত ইউরিয়া সার কারখানা নির্মাণের কাজ বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ, কারিগরি প্রস্তুতি, অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।’

চট্টগ্রামে বছরে চার লাখ টন টিএসপি উৎপাদনের উদ্যোগ

ফসফেটজাত সারের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গায় টিএসপিসিএল কমপ্লেক্সের অব্যবহৃত জায়গায় বার্ষিক ৪ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার নতুন টিএসপি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে বিসিআইসির টিএসপি কমপ্লেক্সে কাঁচামালের সংকট ও প্ল্যান্টের সমস্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

এ অবস্থায় নতুন কারখানা স্থাপিত হলে টিএসপি সার উৎপাদনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, ‘টিএসপি সারের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির কারিগরি ও অর্থনৈতিক দিকগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে টিএসপি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে এবং দেশের সার সরবরাহে দেশীয় উৎপাদনের অবদান বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।’

পলাশে ইউএফ-৮৫ কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা

নরসিংদীর পলাশে ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসির অব্যবহৃত জায়গায় বার্ষিক ২৪ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যমান শিল্প অবকাঠামো ও অব্যবহৃত জমি কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিল্পপণ্যের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, ‘বিদ্যমান শিল্প প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জায়গা কাজে লাগিয়ে নতুন শিল্প স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। পলাশে প্রস্তাবিত ইউএফ-৮৫ কারখানার ক্ষেত্রে উৎপাদন প্রযুক্তি, বাজার চাহিদা ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা

নতুন তিনটি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নির্মাণ পর্বে ও উৎপাদন শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ, দক্ষ শ্রমিক ও পরিচালনা কাজে নিয়োজিত কর্মীদের পাশাপাশি পরিবহন, সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট সেবা খাতেও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। ভোলা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যমান শিল্প অবকাঠামোর ব্যবহার বাড়ানো এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এ বিষয়ে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, ‘নতুন কারখানা স্থাপনের ফলে নির্মাণ কাজ থেকে শুরু করে উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে কতজনের কর্মসংস্থান হবে, তা প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা, উৎপাদন প্রযুক্তি ও জনবল কাঠামো নির্ধারণের পর বলা সম্ভব হবে। আমরা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্প খাতে দক্ষ জনবল তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে চাই।’


নির্বাচিত

অন্তর্বর্তী সরকারের হামের টিকা কেনা ও বিতরণে অনিয়ম তদন্তে কমিশন

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা কেনা ও বিতরণে বিলম্ব, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিশন গঠন করেছে সরকার। টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে সংশ্লিষ্টদের দায়দায়িত্ব নির্ধারণের পাশাপাশি এ সময়ের ব্যবস্থাপনার কারণে জনস্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের বিরূপ প্রভাব পড়েছে, তা খতিয়ে দেখবে কমিশন। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কেও সুপারিশ করবে তারা।

গত বুধবার (৪ নভেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে হামের টিকা কেনা ও বিতরণ কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করবে কমিশন। তদন্ত শেষে ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

কমিশনের সভাপতি করা হয়েছে হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি মামনুন রহমানকে। অন্য দুই সদস্য হলেন বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ এন এম মঈনুল ইসলাম।

টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে বিলম্বের কারণ অনুসন্ধান: কমিশনের মূল কাজ হবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা কেনা ও বিতরণে বিলম্বের কারণ অনুসন্ধান করা। টিকা সংগ্রহ, সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোথাও ব্যর্থতা ছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়দায়িত্ব কী ছিল, তা চিহ্নিত করবে কমিশন।

টিকা কেনার উদ্যোগ, সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ে তা বিতরণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ভূমিকা পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা, ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা এবং বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি।

বাংলাদেশ একসময় হামের টিকাদানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালের জাতীয় হাম টিকাদান কর্মসূচিতে ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী ৩ কোটি ৪২ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সেই কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার ১০০ শতাংশ অর্জিত হয়েছিল।

২০১০ সালের ফলোআপ ক্যাম্পেইনে ৯ মাস থেকে ৫ বছর বয়সি ১ কোটি ৮১ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যও পূরণ হয়। ২০১৪ সালে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা কর্মসূচিতে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সি ৫ কোটি ২৭ লাখ শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে সময় টিকাদানের হার ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।

পরবর্তী বছরগুলোতেও টিকাদানের কভারেজ ধারাবাহিকভাবে ১০০ শতাংশ কিংবা তার বেশি ছিল। তবে সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে হামের টিকাদানের হার হঠাৎ কমে ৫৯ শতাংশে নেমে আসে। দেশের বিভিন্ন স্থানে টিকার স্বল্পতা দেখা দেয়।

ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার ভ্যাকসিন সংগ্রহের প্রচলিত পদ্ধতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিলে ইউনিসেফ বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, এতে ভ্যাকসিন সরবরাহে দীর্ঘ বিলম্ব হবে এবং রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে।

তিনি জানান, ইউনিসেফ একাধিক বৈঠক করেছে, প্রতিটি বৈঠকের পর সরকারকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে এবং সম্ভাব্য ভ্যাকসিন সংকট, রোগের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যুঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে।

অর্থাৎ, টিকা সংকটের ঝুঁকি সম্পর্কে আগেই সতর্কবার্তা ছিল। প্রশ্ন হচ্ছে, সেই সতর্কবার্তার প্রতি যথাসময়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল কি না।

টিকা সংকটের সঙ্গে হামের প্রাদুর্ভাবের সম্পর্ক: বাংলাদেশে হামে এত মৃত্যুর ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। গত আড়াই দশকে দেশে হামের সংক্রমণ ৫০ হাজার ছাড়ায়নি। এর আগে সর্বাধিক রোগী শনাক্ত হয়েছিল ২০০৫ সালে, ২৫ হাজার ৯৩৪ জন। এরপর সংক্রমণের সংখ্যা কমতে থাকে।

২০২৫ সালে দেশে মাত্র ১৩২ জন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছিল। আগের পাঁচ বছরে, অর্থাৎ ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রোগীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ৪১০, ২০৩, ৩১১, ২৮১ ও ২৪৭। ওই সময়ে হামে মৃত্যুর ঘটনা ছিল না।

তবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে দেশে হামের প্রকোপ শুরু হয়। বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকাদানের স্বল্পতা এবার হামের মারাত্মক প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কারণ।

গত ২০ মে এক সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে লেখা অন্তত পাঁচটি চিঠিতে সম্ভাব্য টিকা সংকটের কথা জানিয়ে সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ। এ ছাড়া ১০টি সভায় সরকারের কর্মকর্তাদের একই বিষয়ে অবহিত করা হয়েছিল।

ইউনিসেফের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার টিকা ক্রয়প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনায় দেশে সময়মতো টিকা আসেনি।

হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১০ মাস বয়সী শিশু মাহাজবির মৃত্যু হয়। তিন দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।

পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলেও প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, নজরদারি ও গণটিকাদান কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোয়নি। পরবর্তীকালে বর্তমান সরকার জাতীয় এমআর টিকাদান কর্মসূচি চালু করে।

এ কর্মসূচিতে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি ১ কোটি ৮৪ লাখ ৭৭ হাজার ৬১৬ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়। অথচ একই বয়সি শিশুদের জন্য ২৮ জুন পরিচালিত ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে অংশ নেয় ২ কোটি ২৩ লাখের বেশি শিশু। অর্থাৎ, দুই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিশুর সংখ্যার মধ্যে প্রায় ৪০ লাখের ব্যবধান রয়েছে।

এ ব্যবধানের কারণে দেশে এখনো বিপুলসংখ্যক শিশু হামের সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

গণটিকাদানের দুই মাসেরও বেশি সময় পরও প্রতিদিন নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে এবং মৃত্যুর ঘটনাও পুরোপুরি থামেনি। এ পরিস্থিতিতে টিকাদান কর্মসূচির কার্যকারিতা, সংক্রমণ প্রতিরোধে নেওয়া পদক্ষেপ এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব তদন্তের আওতায়: হামের টিকা কেনা ও বিতরণে বিলম্ব এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে জনস্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের বিরূপ প্রভাব পড়েছে, তা কমিশনের তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে কমিশন গঠন করা হয়েছে। চলতি বছরের ৫ এপ্রিল প্রথম আলো প্রকাশিত প্রতিবেদনে দুই দশকের মধ্যে দেশে হামে সর্বোচ্চ মৃত্যু এবং বেশি মৃত্যুহারের তথ্য উঠে আসে।

এ ছাড়া ১৩ জুলাই প্রকাশিত একটি মতামতধর্মী প্রতিবেদনে হামে সাড়ে সাতশ শিশুর মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এসব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে টিকা সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রমে বিলম্বের সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতির কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করবে কমিশন।

তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে টিকা ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায় নিশ্চিত করা যায়নি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তলব ও জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষমতা: তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কমিশনকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কমিশন দেশের যেকোনো স্থান পরিদর্শন করতে পারবে। তদন্তের প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তিকে তলব ও জিজ্ঞাসাবাদ করার ক্ষমতাও থাকবে তাদের।

টিকা কেনা, সরবরাহ ও বিতরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য ব্যক্তির বক্তব্য তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে পারবে কমিশন। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও তথ্য পর্যালোচনার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার সুযোগ থাকবে তাদের।

কমিশনের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সাচিবিক সহায়তা দেবে। তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা নিশ্চিত করবে এ বিভাগ।

ভবিষ্যতে অনিয়ম প্রতিরোধে সুপারিশ: তদন্তের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণ করাও কমিশনের অন্যতম দায়িত্ব।

টিকা সংগ্রহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় কোথায় দুর্বলতা রয়েছে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে সুপারিশ করবে কমিশন।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিকা সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রমের সময়োপযোগিতা নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক জবাবদিহি বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও কার্যকর করার বিষয়গুলোও সুপারিশে গুরুত্ব পেতে পারে।

কমিশনকে ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা কেনা ও বিতরণে বিলম্ব, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণ তুলে ধরার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে।

তদন্তের ফলাফল ও সুপারিশের মাধ্যমে টিকা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পথ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ৮ মাসে সরকারের ভর্তুকি ৪৬ হাজার কোটি টাকা

বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইলের ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত আট মাসে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে সরকার। তারপরও চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎকে বিকল্প হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। আগামী বছরের গ্রীষ্ম শুরুর আগেই সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেছেন, যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট প্রকট হয়েছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে সরকারকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। গত আট মাসেই এ খাতে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিকল্প নেই। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী বছরের গ্রীষ্মের আগেই সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চায় সরকার।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সভায় উপস্থিত সব পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি। তার মতে, সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো গেলে একদিকে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা সহজ হবে, অন্যদিকে কৃষিনির্ভন অর্থনীতির অগ্রগতিও অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।


নির্বাচিত

ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জবাব দেবে জনগণ: প্রধানমন্ত্রী

* শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ * ৫০৩ উপজেলায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন * মোংলা বন্দর হবে সম্ভাবনাময় নতুন অর্থনৈতিক হাব * ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকায় মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন * পঞ্চগড় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত শিল্প-বাণিজ্য সম্প্রসারণের পরিকল্পনা * বন্ধ শিল্পকারখানা চালু ও শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণের উদ্যোগ * শিল্পকারখানা রক্ষায় ২০২৪ সালের মতো জনগণের জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি
বাগেরহাটে এক পথসভায় কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ০০:১৪
খুলনা ব্যুরো

দেশের শিল্পকারখানা ধ্বংস ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের সরকার দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কিন্তু যারা অতীতে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশের অর্থসম্পদ বিদেশে পাচার করেছিল, তারা উন্নয়নপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। শিল্পকারখানা ও শ্রমিকদের জীবিকা রক্ষায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত পথসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। পরে বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত এবং বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

২০২৪ সালের মতো জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি: কাটাখালী মোড়ের পথসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে জবাব দেবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সকল শক্তি নিয়ে দেশের মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দাঁড়াব। ২০২৪ সালে যেভাবে বাংলাদেশের মানুষ তাদের উচিত জবাব দিয়েছিল, সামনের দিনেও একইভাবে তাদের উচিত জবাব দেওয়া হবে।’

তারেক রহমান অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়া ব্যক্তিরা এখন সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়িয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। দেশের মিল-কারখানা ধ্বংসের অপচেষ্টাও চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিল-কারখানাগুলো দেশের মানুষের সম্পদ এবং শ্রমিকদের জীবিকার উৎস। এসব প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমিক, তাদের সন্তান ও পরিবার। তাই শিল্পপ্রতিষ্ঠান রক্ষা এবং ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা সকল শক্তি দিয়ে এই ষড়যন্ত্রকারীদের সঠিক জবাব দেব। আমরা সকল শক্তি দিয়ে এই ষড়যন্ত্রকারীদের দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে, খেটে খাওয়া মানুষকে সঙ্গে নিয়ে, শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে ইনশাল্লাহ জবাব দেব। আমাদের সামনে লক্ষ্য একটাই—করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

দুই-এক মাসের মধ্যে শ্রমিকদের নতুন মজুরি: শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের দাবিদাওয়া বিবেচনায় সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ড ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা হবে। একসময় খুলনা ছিল দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। কিন্তু নানা কারণে এ অঞ্চলের অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বন্ধ মিল-কারখানা চালু এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।

৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকায় মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ করা হলে এটি দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য সম্ভাবনাময় নতুন অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হবে।

গতকাল সকালে মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে তিনি ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মোংলা বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। এ সময় বন্দরপ্রাঙ্গণে একটি গাছের চারাও রোপণ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। পঞ্চগড় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ, বন্দরের সরবরাহব্যবস্থা ও পণ্য পরিবহন সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি থেকে কনটেইনারবাহী ট্রেন সরাসরি মোংলা বন্দরে চলাচল করতে পারবে। এতে পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়বে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে।

তিনি বলেন, জ্বালানি, সার, খাদ্যশস্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি এবং দেশীয় পণ্য রপ্তানিতে মোংলা বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বন্দরের নাব্যতা, নৌ চ্যানেলের নির্ভরযোগ্যতা, জাহাজের নিরাপদ চলাচল ও প্রতিযোগিতামূলক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী পরিবেশবান্ধব বন্দর ব্যবস্থাপনা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অগ্নিনিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। এ জন্য বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অংশীজন, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, সহজ সেবা প্রক্রিয়া, নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো ও নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী বাংলাদেশ: কাটাখালী মোড়ে পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।

বিকেল পৌনে ৪টায় বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে অনলাইনে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় দ্বিতীয় আসরের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশু-কিশোরদের মেধা, প্রতিভা ও সৃজনশীলতার বিকাশের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠবে একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। এ জন্য পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও বিদেশি ভাষা শিক্ষায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশ তোমাদের গড়তে হবে, তোমাদের তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে শক্তিশালী হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। তোমরা প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর এবং এই দেশের মালিক।’

তারেক রহমান বলেন, শুধু পড়ালেখা করলেই চলবে না। প্রত্যেক শিশুকে খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। বিশ্বে এগিয়ে যেতে হলে জ্ঞান, খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রেই পারদর্শী হতে হবে।

তিনি বলেন, ‘তোমরা পড়ালেখা করে কেউ ডাক্তার হবে, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট কিংবা আইনজীবী হবে। কিন্তু এর পাশাপাশি তোমাদের খেলাধুলা, আর্ট ও কালচারও জানতে হবে।’

১৬ লাখের বেশি শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণ: নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে সারাদেশ থেকে ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন প্রতিযোগী অনলাইনে নিবন্ধন করেছে। আগের আটটি ইভেন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভলিবল ও টেবিল টেনিস। ফলে মোট ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৬ লাখ শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে, দেশের শিশুদের মধ্যে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। এখন তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও পরিবেশ সৃষ্টি করা সরকারের দায়িত্ব।

বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরও ছয়-সাতটি বিদেশি ভাষার মধ্য থেকে প্রত্যেক শিশুকে একটি ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘তোমরা যদি পড়ালেখায় ভালো হও, খেলাধুলা ও শিল্প-সংস্কৃতিতে দক্ষ হও এবং তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শিখতে পারো, তাহলে পৃথিবীর কোনো জাতিই তোমাদের আটকে রাখতে পারবে না।’

তিনি বলেন, একদিন বাংলাদেশ এমন একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে, যাকে বিশ্বের সামনে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হবে।

‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচির প্রথম আসর গত ২ মে সিলেটে উদ্বোধন করা হয়েছিল। দ্বিতীয় আসরের চূড়ান্ত পর্ব আগামী জুনে হওয়ার কথা রয়েছে।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ক্রীড়া পরিদপ্তর এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র ধারাবাহিকতায় তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় বাছাই, প্রশিক্ষণ ও ভবিষ্যৎ জাতীয় ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিকেএসপির শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পরিবেশনা উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। চীনের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত ঐতিহ্যবাহী ড্রাগন ড্যান্স ও লায়ন ড্যান্সও দেখেন তিনি। গ্যালারিতে উপস্থিত শিশু-কিশোরদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গ্যালারিতে উপস্থিত শিশু-কিশোরদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এসময় পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা

খুলনা সফর শেষে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন: নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে যান। সেখানে সমবেত সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও হাত মেলান তিনি। বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় ফেরেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বিশ্ব যুদ্ধের কারণে জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না: বিদ্যুৎমন্ত্রী

নাটোরে একটি সভায় বক্তব্য দেন মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ২৩:০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ‘যুদ্ধের কারণে জ্বালানি নিয়ে সারা বিশ্বেই টালমাটাল অবস্থা। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিগত ছয় মাসে জ্বালানি খাতে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে সরকার। এই কারণে দেশের স্বাভাবিক উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।’

বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) বিকালে নাটোর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়নমূলক কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলি তদারকি ও সমন্বয় সংক্রান্ত সভা শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

সোলার প্যানেলের জন্য আমরা ভর্তুকি দিচ্ছি জানিয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘যেন কৃষি জমিতে সেচ দেওয়া যায়, যেখানে কৃষি জমি আছে সেখানে সোলার দিয়ে সেচ দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করছি। আমরা চেষ্টা করছি, আগামী মৌসুমে কৃষি জমিতে সেচে যাতে অসুবিধা না হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় আসার পরে গ্যাস ফিল্ডগুলো খনন করছি। খনন করে পজিটিভ দুইটা রেজাল্ট এসেছে। এই গ্যাসগুলো যদি উত্তোলন করা হয় তাহলে নাটোরে অবশ্যই সুষমভাবে শিল্পক্ষেত্রে গ্যাস বিতরণ করা হবে।’

দেশে মাদকের বিস্তার ঘটেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘মাদকের হাত থেকে আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে। এজন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সন্তানের জন্য অভিভাবকদের বাড়ি থেকেই কাজ করতে হবে। থানার ওসিদের এ ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।’

জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং নাটোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আসমা খাতুন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ, সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন।


নির্বাচিত

ডিসেম্বরেই ফ্রি অব কস্টে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী

সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী বিজয় দিবস ও জয়ের মাস ডিসেম্বর থেকেই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (ফ্রি অব কস্ট) কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানো শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে রিক্রুটিং এম্বাসি ও এজেন্সিদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের তিনি এই তথ্য জানান।

মন্ত্রী জানান, প্রথম কয়েকটি ফ্লাইটে নির্বাচিত কর্মীদের থেকে ‘নট এ সিঙ্গেল অ্যামাউন্ট’ অর্থাৎ কোনো ধরনের অর্থ নেওয়া হবে না। এমনকি সরকারি সার্ভিস চার্জও মওকুফ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কর্মীরা অনলাইনে আবেদন করবেন এবং স্বচ্ছ লটারির মাধ্যমে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে।

সরকারিভাবে বিনামূল্যে কর্মী পাঠানোর পাশাপাশি বেসরকারিভাবে কর্মী গমনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অভিবাসন ব্যয় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরিকল্পনা চলছে। এছাড়া বর্তমানে তালিকায় থাকা সীমিতসংখ্যক এজেন্সির বাইরে নিবন্ধিত সব বৈধ এজেন্সি যাতে সমানভাবে কর্মী পাঠানোর ব্যবসায় যুক্ত হতে পারে, সে বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের সাথে আলোচনার চেষ্টা চলছে বলে জানান মন্ত্রী। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুনভাবে সমঝোতা স্বাক্ষরিত হবে।

বিদেশে কর্মী প্রেরণে কোনো প্রতারণা বা ভোগান্তি যাতে না হয়, সেজন্য প্রতিটি ডিমান্ড লেটার সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মালয়েশিয়ার হিউম্যান রিসোর্স মিনিস্ট্রি থেকে সত্যায়ন করার নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া মেডিকেল ফি সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা ফিক্সড করা হয়েছে এবং দুর্নীতি বা অনিয়মে জড়িত হাসপাতালগুলোকে বাদ দেওয়ার কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গন্তব্য দেশে কর্মীদের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইন্ডিভিজুয়াল অঙ্গীকারনামা গ্রহণ এবং প্রবাসে বিশেষ সহায়ক সেল গঠনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।


নির্বাচিত

পদন্নোতি পেয়ে এএসপি হলেন পুলিশের ৭৮ কর্মকর্তা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ পুলিশের ৭৮ পুলিশ পরিদর্শককে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত তিনটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব তৌছিফ আহমেদ প্রজ্ঞাপনগুলোতে সই করেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে যোগদান করতে হবে। একইসঙ্গে আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক ৬৭ জন, শহর ও যানবাহন শাখার ১০ জন এবং সশস্ত্র শাখার এক কর্মকর্তা রয়েছেন। পদোন্নতির পর তাদের চাকরি পুলিশ অধিদফতরে ন্যস্ত করা হয়েছে।

নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক থেকে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন- মো. হাবিবুল্লাহ সরকার (ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা), মো. আহসান হাবিব (ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, নীলফামারী), মো. জামাল উদ্দিন (সিআইডি), মো. সাজ্জাদ হোসেন (ডিএমপি, ঢাকা), মো. হাছানুজ্জামান (মাগুরা জেলা), মো. মোক্তার হোসেন (হবিগঞ্জ জেলা), মো. শহীদ উল্লাহ (ডিএমপি, ঢাকা), মো. সাইফুল ইসলাম খান (ডিএমপি, ঢাকা), মো. মাহফুজুর রহমান (লক্ষ্মীপুর জেলা) ও মো. গোলাম মোস্তফা (এসপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টার, খাগড়াছড়ি)।

এ ছাড়া পদোন্নতি পেয়েছেন- মোহাম্মদ ইয়াছিন (এসবি, ঢাকা), মো. মজিবুর রহমান (পিবিআই), আবু হেনা মো. মোস্তফা কামাল (পিবিআই), মো. আমান উল্লাহ (রাজশাহী রেঞ্জ অফিস), মোহাম্মদ ওবায়দুল হক (সিএমপি, চট্টগ্রাম), মো. বদরুল মামুন (পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা), মামুন খান (কেএমপি, খুলনা), মো. আব্দুর রহিম মন্ডল (রংপুর জেলা), মোহা. শহিদুল ইসলাম (দিনাজপুর জেলা) ও মো. নঈম উদ্দিন (এসবি, ঢাকা)।

তালিকায় আরও রয়েছেন- মো. নজরুল ইসলাম (জামালপুর জেলা), মো. আনোয়ারুল কবির (এসআরইউ), মো. মাসুদুর রহমান (এসবি, ঢাকা), এস এম জাহাঙ্গীর আলম (ডিএমপি, ঢাকা), মো. কামরুজ্জামান (পুলিশ স্টাফ কলেজ, ঢাকা), কে এম ইনাম আহমেদ (সিআইডি), মো. ইসমাইল হোসেন শাহীন (পিটিসি, টাঙ্গাইল), শেখ বশির আহমেদ (ডিএমপি, ঢাকা), মো. আতিকুর রহমান (কুষ্টিয়া জেলা), মো. ওমর আলী (হবিগঞ্জ জেলা), মো. লুৎফর রহমান (খুলনা জেলা), পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান (ময়মনসিংহ জেলা), মো. আবদুর রহিম (পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা), মো. নূরুন নবী সরকার (পিবিআই), মো. আব্দুল লতিফ (সাতক্ষীরা জেলা), এস এম আতাউর রহমান (ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৩), মো. জেহাদ হোসেন (ডিএমপি, ঢাকা), মো. দিদারুল আলম (এসবি, ঢাকা), মো. জয়নাল আবেদীন (পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা), মো. আলমগীর হোসেন (ঢাকা জেলা) ও মো. জাহির হোসেন (এসবি, ঢাকা)। মো. সোহেল রেজা (এসবি, ঢাকা), মো. তরিকুল ইসলাম (সিআইডি থেকে প্রেষণে পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা), মো. শামীম আক্তার খান (এসবি, ঢাকা), এ কে এম আলীনূর হোসেন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা), মোহাম্মদ নেছার উদ্দিন কাদরী (এসবি, ঢাকা), মো. মোবারক হোসেন (ডিএমপি, ঢাকা), খান মোহা. হাসান মোস্তফা (ময়মনসিংহ জেলা), মো. রেজাউল ইসলাম খান (জামালপুর জেলা), মো. সোহেল আহমেদ (নারায়ণগঞ্জ জেলা, প্রেষণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা), মো. আনিছুর রহমান সরদার (রাজশাহী জেলা), মোহাম্মদ আলী হায়দার (এসবি), খান মো. শাহরিয়ার (পঞ্চগড় জেলা), মো. শফিকুল ইসলাম (সিআইডি), মো. গোলাম ফারুক (সিআইডি), মো. মাহাবুব আলম (পিটিসি, রংপুর), মো. সিরাজুল ইসলাম খান (এসবি), মো. অছিকুর রহিম ছিদ্দিক (সিআইডি), মো. আবুল কালাম আজাদ (পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা), শেখ ফারুকুজ্জামান (পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা), মোহাম্মদ জাকের হোসাইন মাহমুদ (সিএমপি, চট্টগ্রাম), আরিফ ইফতেখার (চাঁদপুর জেলা), সরকার তোফায়েল আহমেদ (পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা), মো. আক্তার হোসেন (ডিএমপি, ঢাকা), শাহানা বানু (এসবি), মোহতারেমা আশরাফী খানম (বিপিএ, সারদা, রাজশাহী) এবং মো. মনজুর কাদের মজুমদার (সিআইডি)।

অন্যদিকে, শহর ও যানবাহন শাখার পুলিশ পরিদর্শক থেকে এএসপি পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ১০ জন। তারা হলেন- এ এন এম মাসুদ (নাটোর জেলা), মো. মোফাক-খারুল ইসলাম (সিরাজগঞ্জ জেলা), মো. এনামুল হক (কক্সবাজার জেলা), এস এম শহিদুর রহমান (টিডিএস, ঢাকা), মো. মুনজুরুল করিম (আরএমপি, রাজশাহী), মো. আলী আকবর হাওলাদার (পটুয়াখালী জেলা, সংযুক্ত পুলিশ টেলিকম সংস্থা), কাজী আজম মাহমুদ (ডিএমপি, ঢাকা), মোহাম্মদ কামরুল আলম (এসআরবি সদর দপ্তর, ঢাকা), মুহাম্মদ সুমন জাহিদ লোভেল (খাগড়াছড়ি জেলা) ও মো. আতিকুর রহমান (ডিএমপি, ঢাকা)।

এছাড়া সশস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার (ডিএমপি, ঢাকা) এএসপি পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।


নির্বাচিত

আইসিএপিপির অধিবেশনে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন বিএনপির ইসমাইল জবিউল্লাহ

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ আইসিএপিপির অধিবেশনে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এশিয়ার রাজনৈতিক দলগুলোর সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিজ’ (আইসিএপিপি)-এর ১৩তম সাধারণ অধিবেশনে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে ‘দ্য শিলা সিউল’ হোটেলে আয়োজিত এই সম্মেলনে ক্ষমতাসীন মিনজু পার্টি ও বিরোধী দল পিপল পাওয়ার পার্টির যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত প্রথম প্ল্যানারি সেশনে বক্তব্য রাখেন তিনি। বক্তব্যে তিনি বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংঘাত ও আস্থার সংকট মোকাবিলায় গণতন্ত্র, সুশাসন, আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ‘গণতন্ত্র কেবল নির্বাচনী প্রক্রিয়া নয়, এটি জবাবদিহিতা ও মৌলিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতার সামাজিক চুক্তি।’ ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের মানবিক বিপর্যয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আন্তর্জাতিক নীতি কোনো বৈষম্য ছাড়াই সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগের দাবি জানান। এ ছাড়া তিনি কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বহিরাগত হস্তক্ষেপ বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ঝুঁকি মোকাবিলায় অভিন্ন কৌশলগত নীতিপত্র প্রণয়ন, জলবায়ু অর্থায়নে ন্যায্যতা নিশ্চিত করা এবং তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আইসিএপিপিকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

আজ শুক্রবার পর্যন্ত চলা এই সম্মেলনে বাংলাদেশের বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।


নির্বাচিত

লংমার্চে গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান হলে আমরাই করতাম: মীর শাহে আলম

ছবি: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

লংমার্চ করে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান সম্ভব হলে সরকারই সবচেয়ে বড় লংমার্চের আয়োজন করত বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ‘লংমার্চ কিংবা ফাঁকা সিলিন্ডার দেখিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। জনগণ সরকারকে পাঁচ বছর সময় দিয়েছে।’

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরায় ১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। মীর শাহে আলম বলেন, ‘হুমকি-ধমকি বা আন্দোলনের পথে না গিয়ে বিরোধীদের সংসদে এসে সরকারকে পরামর্শ দেওয়া উচিত।’ গবেষকদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে মেধাবী ব্যক্তিরা গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হন। কিন্তু দেশে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না। দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষে তিন-চার নম্বর বেঞ্চে বসা ব্যক্তিরা একসময় মহাপরিচালক (ডিজি) হন। গবেষকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।’

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের পর দেশের কৃষি অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মেলা ও বাজারব্যবস্থাপনা পণ্য উৎপাদক ও ক্রেতাদের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে। আগের সরকারের সময়ে সঠিক জরিপ না হওয়ায় দেশের প্রকৃত জনসংখ্যা, পরিবারের সংখ্যা ও কৃষকের সংখ্যা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।’ কৃষিতে আমদানিনির্ভরতা কমছে দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘টমেটো, কাঁচামরিচ, চিনি ও সয়াবিন তেল ছাড়া তেমন কিছু আমদানি করতে হয় না। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মতো প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বর্তমানে সার খাতে সরকারকে ২৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।’ দেশের গ্যাস অনুসন্ধান ও কূপ খনন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, ‘গত ২০ বছরে কেন নতুন গ্যাসকূপ খনন করা হয়নি, তার জবাব দিতে হবে। ভোলা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের বিষয়টি আগেই কেন বিবেচনা করা হয়নি, সেই প্রশ্নও রয়েছে। বর্তমানে ভোলার সঙ্গে গ্যাস সংযোগ তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি নতুন করে ৫২টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রাতে ভোট করার কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই। পেশিশক্তি ব্যবহার করে নির্বাচন করার ইচ্ছা তারেক রহমানেরও নেই। সফল হয়েই ২০৩১ সালের নির্বাচনে জনগণের কাছে যাবে সরকার।’ বগুড়া বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলকে অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। বাংলাদেশ চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, ‘পুষ্টিগুণ বাড়াতে ফর্টিফাইড বা পুষ্টিসমৃদ্ধ আটা-ময়দা বাজারজাতের জন্য নীতিমালা করা হচ্ছে। ভোজ্যতেলে ভিটামিন এ যোগ করার মতো চাল ও আটাকেও পুষ্টিসমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’


নির্বাচিত

banner close