শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বন্ধ হচ্ছে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে ট্রেনের টিকিট সংরক্ষণ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
৪ নভেম্বর, ২০২৪ ১৩:৫৩
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৪ নভেম্বর, ২০২৪ ১৩:৫৩

ভ্রমণ বা অন্য কাজে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অধিক সংখ্যক ট্রেনের টিকিট প্রয়োজন হলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে টিকিট সংরক্ষণ করা যেত। সে ক্ষেত্রে ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হতো এবং সংরক্ষণ করা এসব টিকিটের ওপর ৩০ শতাংশ অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হতো। তবে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে এখন থেকে আর টিকিট সংরক্ষণ করা যাবে না।

গতকাল রোববার বাংলাদেশ রেলওয়ের উপপরিচালক (টিসি) মো. আনসার আলী স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিটি সহজ লিমিটেড (লিড পার্টনার) সহজ-সিনেসিস-ভিনসেন-জেভির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, গত ২৯ অক্টোবর রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেল ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত টিকিট বিক্রয় ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত সভায় আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে নিম্নোক্ত নির্দেশনা দেওয়া হলো:

১. কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কোনো টিকিট সংরক্ষণ না রাখা।

২. রেলওয়ের জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত সংরক্ষিত আসন ব্যতীত কোনো টিকিট সংরক্ষণ না করা।

৩. রেলওয়ের সংরক্ষিত আসন-সংশ্লিষ্ট ডিসিওরা তত্ত্বাবধান করবেন।

৪. টিকিট সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হলে বা অন্য কোনো প্রয়োজনে টিকিট সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে তা অবশ্যই লিখিত নির্দেশনার ভিত্তিতে কার্যকরী করতে হবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, আগামী ১০ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয় অনুমোদিত সংরক্ষিত আসন ব্যতীত কোনো টিকিট সংরক্ষণ না রাখা এবং একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিসিওদের দালিলিক বা লিখিত নির্দেশনা মোতাবেক উক্ত সংরক্ষিত আসনের টিকিট রিলিজ ও তা রেকর্ড হিসেবে সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।


নির্বাচিত

বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

পাতলী খাল পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি 

কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান। খালের খননকাজ উদ্বোধনের পরপরই মাছুমঘাট সংরক্ষিত বন এলাকায় চারা রোপণের মাধ্যমে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ অভিযানের শুভ সূচনা করবেন তিনি।

সফরের পরবর্তী অংশে প্রধানমন্ত্রী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো শহিদ ওয়াসীমের কবর জিয়ারত করতে যাবেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবেন। এছাড়া তিনি পেকুয়া পৌরসভা ও নতুন গঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করবেন।

বিকেলে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল চত্বরে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে তিনি কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ও মেরিন ড্রাইভ এলাকা ঘুরে দেখবেন এবং একটি সুধী সমাবেশে বিভিন্ন পেশাজীবী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতেই আকাশপথে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।


নির্বাচিত

বৃষ্টি উপেক্ষা করে কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

কক্সবাজারে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার

খাল খনন ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিতে একদিনের সফরে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে জানান, শনিবার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

সকাল থেকেই মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কক্সবাজার জেলাজুড়ে বেশ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তবে এই প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করেই প্রধানমন্ত্রী তার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী এলাকায় যাবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় সেখানে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খনন করা ঐতিহাসিক 'পাতলীখাল' পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সেখানে আয়োজিত একটি পথসভায় স্থানীয় জনগণের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খাল পুনঃখনন ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বৃক্ষরোপণ অভিযানসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।


নির্বাচিত

হজ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন ৫৪ হাজার ৩২৩ হাজি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালন শেষে মোট ৫৪ হাজার ৩২৩ জন বাংলাদেশি হাজি দেশে ফিরেছেন।

শনিবার হজ বুলেটিন থেকে জানা যায়, তিনটি নির্ধারিত বিমান সংস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ সময় ১৩ জুন রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ১২৭টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৫৮টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৪৮টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২১টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১২৭টি ফ্লাইটের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৩১৩ জন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবস্থাপনায় ৫০ হাজার ১০ জন হাজি দেশে ফিরেছেন।

এবার হজ পালন করতে গিয়ে ৩৩ জন পুরুষ ও ১৭ জন নারীসহ মোট ৫০ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে মক্কায় ৩৫ জন, মদিনায় ১৪ জন এবং জেদ্দায় একজন মারা গেছেন।

হজ বুলেটিন অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৪১০ জন বাংলাদেশি হাজি চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ১৮ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

সৌদি আরবের মেডিকেল সেন্টারগুলো ৬২ হাজার ৮৩৭ জনকে এবং আইটি হেল্প ডেস্ক মক্কা ও মদিনায় ২৭ হাজার ৬৬৫ জন হাজিকে সেবা প্রদান করেছে।

এর আগে, গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট (বিজি৩০০১) জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ২১ মে প্রাক হজ ফ্লাইট সম্পন্ন হয়।

চলতি বছরের ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজ শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়, যা আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত চলবে।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর আজ, উৎসবমুখর পরিবেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো পর্যটন সমৃদ্ধ জেলা কক্সবাজারে সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সপরিবারে তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে জেলাজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গন, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মাঝে বিরাজ করছে আকাশসম প্রত্যাশা। কক্সবাজারবাসী মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর জেলার উন্নয়ন ও সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচন করবে।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কক্সবাজার সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ এবং মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার করে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কয়েকটি দাবি উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে- কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা, কক্সবাজার সদর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা, কক্সবাজার-মহেশখালী সেতু নির্মাণ, পিএমখালীর পাতলী খালকে শহীদ জিয়া স্মৃতি খাল নামকরণ এবং কক্সবাজার স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা।

কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. ইউসুফ বদরী বলেন, ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতকে বিশ্ব পর্যটনের জন্য আরও উন্মুক্ত ও আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা, মহেশখালী-কক্সবাজার সহজ যোগাযোগের জন্য সেতু নির্মাণ, বাঁকখালী নদীতে ড্রেজিং, সোনাদিয়া দ্বীপকে বিদেশি পর্যটকদের জন্য এক্সক্লুসিভ জোন হিসেবে গড়ে তোলা এবং মহেশখালী-মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।

গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার বাস টার্মিনাল এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, কক্সবাজার কেন্দ্রিক জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে।

দাবির মধ্যে রয়েছে- লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করা এবং কক্সবাজারে ব্লু ইকোনমি ও মেরিন সায়েন্সভিত্তিক একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।

প্রসঙ্গত কক্সবাজার নেমে সড়কপথে চকরিয়ায় পিএমখালীতে পাতলী খাল পুনঃখনন, মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তি প্রস্তরস্থাপন অনুষ্ঠান এবং বিকেলে চকরিয়া বাস টার্মিনালে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভা, সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরে সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমুদ্রের সৌন্দর্য অবলোকনে মেরিন ড্রাইভ সড়ক ঘুরে দেখবেন এবং রাতের ফ্লাইটেই তিনি ঢাকায় ফিরবেন।

গুরুত্বপূর্ণ এই সফরকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন, নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৩ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা পুলিশের ৫০০ সদস্যের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আরও ২ হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্য আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।


নির্বাচিত

সক্রিয় ‘শীর্ষ সন্ত্রাসীরা’, অস্তিত্ব জানান দিতে বাড়ছে খুনোখুনি

# ঢাকা ও খুলনায় প্রকাশ্যে দুজনকে লক্ষ্য করে গুলি, একজনের মৃত্যু, অন্যজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

কারাগারের চার দেয়ালের অন্ধকার থেকে আলোতে ফিরেই ‘শীর্ষ সন্ত্রাসীরা’ মেতে উঠেছে পুরনো রক্তাক্ত খেলায়। কেউ মেলাচ্ছে পুরনো শত্রুতার হিসাব, কেউবা মরিয়া হয়ে উঠেছে নিজের হারানো সাম্রাজ্য ও আধিপত্য ফিরে পেতে। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জামিনে মুক্ত হওয়া ৯০-এর দশকের এসব সন্ত্রাসীদের অস্তিত্বের জানানে অস্থির হয়ে উঠেছে অপরাধ জগৎ, বাড়ছে খুনোখুনি।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শুক্রবার দেশের দুই বিভাগীয় শহর ঢাকা ও খুলনায় ভরদুপুরে প্রকাশ্যে দুজনকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে খুলনায় এক রাজনৈতিক নেতা নিহত হয়েছেন এবং ঢাকার রামপুরায় এক শীর্ষ সন্ত্রাসী মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে রাজধানীতে এটি দ্বিতীয় কোনো শীর্ষ সন্ত্রাসীর ওপর হামলার ঘটনা।
যেভাবে চালানো হয় হামলা: প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কাইল্লা পলাশ পশ্চিম রামপুরার খান টাওয়ারের সপ্তম তলায় বসবাস করতেন। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বাসার পাশের মক্কি জামে মসজিদে আয়োজিত একটি মিলাদ মাহফিলে অংশ নেন তিনি। মিলাদ শেষে বাসার সামনে এসে রয়েল মিষ্টির দোকানের কাছে পরিচিত কয়েকজনের সাথে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। ঠিক এই সুযোগেরই অপেক্ষায় ছিল ওত পেতে থাকা ঘাতকেরা।
হেলমেট ও মাস্ক পরা দুই যুবক হঠাৎ পায়ে হেঁটে অত্যন্ত কাছ থেকে পলাশকে লক্ষ্য করে পরপর দুটি গুলি ছোড়ে। দুটি গুলিই সরাসরি তার মাথা ভেদ করে যায়। রক্তাত্ব অবস্থায় পলাশ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা সামান্য দূরে স্টার্ট দিয়ে রাখা একটি মোটরসাইকেলের দিকে ছুটে যায়।
পলাশের বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী ইব্রাহিম মিয়া ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, দুই যুবক খুব কাছ থেকে পলাশ ভাইয়ের মাথায় গুলি করে। তারা যখন পালিয়ে যাচ্ছিল, তখন এলাকার লোকজন তাদের ধাওয়া দেয়। ধাওয়া খেয়ে হামলাকারীরা আতঙ্ক তৈরি করতে শূন্যে আরও দুটি গুলি ছুড়তে ছুড়তে হাতিরঝিলের দিকে মোটরসাইকেল চালিয়ে পালিয়ে যায়।
সংকটাপন্ন অবস্থা: গুলিবিদ্ধ পলাশকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সন্ধ্যায় নিউরোসার্জারি বিভাগে তার একটি জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। হাসপাতালের রেসিডেন্ট ট্রেইনি চিকিৎসক তারিকুল ইসলাম জানান, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পলাশের মাথার ভেতর থেকে একটি গুলি বের করা হয়েছে। অন্য গুলিটি মাথা ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। গুলির তীব্র আঘাতে তার মস্তিষ্কের একটি বড় অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে তাকে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে এবং তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ২৯ মে রামপুরায় যুবদল নেতা মিজানুর রহমান মিজানকে গুলি করে হত্যা করা মামলার প্রধান দণ্ডিত আসামি ছিলেন এই কাইল্লা পলাশ। বিচারিক আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালত সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। দীর্ঘ সাজা ভোগের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুবাদে এক মাস আগে তিনি বাইরে আসেন।
খুলনায় বিশেষ অভিযানের মাঝেই বিএনপি নেতা ‘ঢাকাইয়া রফিক’ খুন: ঢাকার ঘটনার মাত্র সোয়া এক ঘণ্টা আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার মাথাভাঙা এলাকার কাজীপাড়া বাজারে ঘটে আরেকটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ যখন নগরীতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক দমনে বিশেষ যৌথ অভিযান চালাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা হয় রফিকুল ইসলাম (৩৫) নামের এক বিএনপি নেতাকে। তিনি অপরাধ জগতে ও রাজনৈতিক মহলে ‘ঢাকাইয়া রফিক’ নামে পরিচিত ছিলেন।
তলপেটে গুলি, স্পট ডেড: পুলিশ জানায়, নিহত রফিকুল ইসলাম বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ঘটনার সময় তিনি কাজীপাড়া বাজারের একটি দোকানে বসে ছিলেন। হঠাৎ একটি মোটরসাইকেলে করে হেলমেট পরা এক দুর্বৃত্ত এসে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই রফিকুলের তলপেট লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং মুহূর্তে মোটরসাইকেল ঘুরিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ বিভাগ) রেজাউর রহমান বলেন, নিহত রফিকুল ইসলাম বেশিরভাগ সময় ঢাকায় থাকতেন, মাঝেমধ্যে এলাকায় আসতেন। তিনি পাথরের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অভ্যন্তরীণ কোনো কোন্দল বা ব্যবসায়িক শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত খুলনা মহানগরীতে ১৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আর ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত খুলনা অঞ্চলে সংঘটিত ৩৪টি হত্যাকাণ্ডের সাথে বিভিন্ন আন্ডারওয়ার্ল্ড সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সরাসরি সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ।
রায়েরবাজারে টিটন হত্যাকাণ্ড, আধিপত্যের প্রথম বলি: গতকাল কাইল্লা পলাশের ওপর হামলার ঘটনাটি একক কোনো ঘটনা নয়। এর ঠিক এক মাস আগে ঢাকার নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ এলাকার একচ্ছত্র ডন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর একজন—খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে (৫২) একইভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়।
২০০১ সালে তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকার দেশের যে ২৩ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছিল, টিটন ছিলেন তাদের অন্যতম। ২০ বছরেরও বেশি সময় কারাগারে কাটানোর পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি কারামুক্ত হন। মুক্তি পেয়েই তিনি রায়েরবাজার ও হাজারীবাগ এলাকায় তার পুরনো সাম্রাজ্য ও চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ গ্রুপ তাকে সেই সুযোগ দেয়নি। জুনের মাঝামাঝি সময়ে রায়েরবাজার এলাকায় তাকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশের দাবি, এলাকাভিত্তিক আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ের প্রথম বলি ছিলেন টিটন।
কারামুক্তির হিড়িক, ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে কার কোন এলাকা: ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে পুরস্কার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা প্রকাশের পর আন্ডারওয়ার্ল্ডে বড় ধরনের ধস নেমেছিল। র‍্যাবের প্রতিষ্ঠা এবং বিশেষ অভিযানের কারণে ক্রসফায়ার ও গ্রেপ্তারের ভয়ে অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল (যেমন: জিসান, বিকাশ, প্রকাশ বা টোকাই সাগর)। আবার অনেকে এনকাউন্টারের ভয়ে নিজেদের নিরাপদ রাখতে সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কারাগারকেই নিরাপদ আশ্রয় মনে করে বছরের পর বছর জেল খেটেছেন।
কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট বদলে গেলে কারাগার থেকে একে একে জামিনে মুক্ত হতে শুরু করেন ৯০-এর দশকের ত্রাস সৃষ্টি করা শীর্ষ অপরাধীরা।
২০০১ সালে ঘোষিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসী’র তালিকার মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধীদের অনেকেই এখন জেলের বাইরে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ দেড় থেকে দুই দশক কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন ৯০-এর দশকের ত্রাস সৃষ্টিকারী এসব আন্ডারওয়ার্ল্ড গডফাদার।
ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে, কে সক্রিয় আর কে দেশ ছেড়ে পালালেন—
শেখ আসলাম ওরফে ‘সুইডেন আসলাম’ (তেজগাঁও-মহাখালী)
৯০-এর দশকে রাজধানীর তেজগাঁও, ফার্মগেট ও মহাখালী এলাকার মূর্তিমান আতঙ্ক ছিলেন সুইডেন আসলাম। যুবলীগ নেতা গালিব হত্যাসহ একাধিক হত্যা মামলার আসামি তিনি। তার নামের আগে ‘সুইডেন’ যুক্ত হওয়া নিয়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডে নানা গল্প রয়েছে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ কারাবাস ও বয়সের ভারে আসলাম বর্তমানে অপরাধ জগতে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। বর্তমানে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নজরদারিতে রয়েছেন এবং নিজেকে আড়ালে রাখার চেষ্টা করছেন।
‘কিলার আব্বাস’ (মিরপুর-কাফরুল): মিরপুর ও কাফরুল এলাকার একচ্ছত্র অধিপতি ছিলেন কিলার আব্বাস। ২০০১ সালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। ইন্টারপোলের রেড নোটিশধারী এই অপরাধীর মূল শক্তি ছিল ফুটপাত, ডিশ ব্যবসা ও পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি।
২০২৪ সালের আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে কারামুক্ত হন। মুক্তির পর কাফরুল ও মিরপুর এলাকায় তার অনুসারীরা পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসেন তিনি। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, কড়া নজরদারি এড়াতে এবং বয়সের কারণে কিলার আব্বাস সম্প্রতি কৌশলে দেশ ছেড়ে দুবাইতে পাড়ি জমিয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে তার নাম ব্যবহার করে স্থানীয় অনুসারীদের চাঁদাবাজি এখনো থামেনি।
ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে ‘পিচ্চি হেলাল’ : মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকার এক সময়ের ত্রাস পিচ্চি হেলাল। হত্যা ও চাঁদাবাজির ডজনখানেক মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘ দুই দশক কারাবন্দি ছিলেন।
২০২৪ সালের আগস্টে কারামুক্তির পর পিচ্চি হেলালের নেটওয়ার্ক সবচেয়ে বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি ও এলিফ্যান্ট রোড এলাকায় চাঁদাবাজি এবং ব্যবসায়ী শোরুম দখলের নেপথ্যে তার নাম উঠে এসেছে। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, পুলিশি গ্রেফতার এড়াতে পিচ্চি হেলাল বর্তমানে মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার জন্য জোর তদবির ও ভিসা পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
সানজিদুল ইসলাম ওরফে ‘ইমন’ : ৯০-এর দশকের শেষের দিকে ধানমন্ডি, হাজারীবাগ ও মোহাম্মদপুর কাঁপানো কুখ্যাত ‘ইমন-মামুন’ বাহিনীর প্রধান ছিলেন ইমন। অভিনেতা সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলাসহ একাধিক চাঞ্চল্যকর খুনের মামলার প্রধান আসামি তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কারামুক্ত হয়েই ইমন আন্ডারওয়ার্ল্ডে কোনো সাড়াশব্দ না দিয়ে অত্যন্ত গোপনে দেশ ত্যাগ করেন। বর্তমানে তিনি বিদেশে (সম্ভবত দুবাই বা কানাডায়) অবস্থান করে প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার ধানমন্ডি ও হাজারীবাগ এলাকার অপরাধ সিন্ডিকেট ও ডিশ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছেন বলে তথ্য রয়েছে।
খোরশেদ আলম রাসু ওরফে ‘ফ্রিডম রাসু’ : ধানমন্ডি ও হাজারীবাগ এলাকার আতঙ্ক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। ফ্রিডম পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় আন্ডারওয়ার্ল্ডে তিনি ‘ফ্রিডম রাসু’ নামে পরিচিতি পান।
দীর্ঘ কারাবাস শেষে জামিনে মুক্ত হয়ে বর্তমানে রাসু ঢাকায় অবস্থান করছেন। এলাকায় পুনরায় আধিপত্য বিস্তার এবং পুরনো সিন্ডিকেটগুলোর সাথে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছেন তিনি। তার গতিবিধির ওপর গোয়েন্দাদের কড়া নজর রয়েছে।
তোফায়েল আহমেদ জোসেফ : ঢাকার অপরাধ জগতের এক সময়ের একচ্ছত্র ডন। মোহাম্মদপুর এলাকার জোসেফ-হারিস-আনিস ভ্রাতৃদ্বয়ের নাম আন্ডারওয়ার্ল্ডে সুপরিচিত ছিল। ফ্রিডম বাবলু হত্যা মামলায় তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল।
অন্যদের অনেক আগেই তিনি বিশেষ বিবেচনায় কারামুক্ত হন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি সরাসরি প্রকাশ্যে না এলেও মোহাম্মদপুর ও শেরেবাংলা নগর এলাকায় তার পুরনো নেটওয়ার্ক নেপথ্য থেকে অপরাধ জগৎ ও ল্যান্ড ক্রাইম নিয়ন্ত্রণ করছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
নিহত ও পলাতক যারা: খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন (হাজারীবাগ): ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কারামুক্ত হয়ে হাজারীবাগে আধিপত্য পুনরুদ্ধার করতে গিয়ে প্রতিপক্ষ গ্রুপের গুলিতে গত মাসে নিহত হন।
সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদ: দীর্ঘদিন ভারতে গ্রেপ্তার থাকার পর সম্প্রতি রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগে দেশে ফিরে আন্ডারওয়ার্ল্ডের হাল ধরার চেষ্টা করেছিলেন। তবে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদ ইতিমধ্যে পুনরায় গ্রেপ্তার হয়েছেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কারামুক্ত এই শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অধিকাংশেরই বয়স এখন ৫০ থেকে ৬০ বছরের কোঠায়। এদের অনেকেই সশরীরে অপরাধে না জড়ালেও আড়ালে থেকে নতুন প্রজন্মের শুটার ও গ্যাংদের ‘গডফাদার’ হিসেবে গাইড করছেন। আমরা এই নতুন ও পুরনো অপরাধীদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি করছি এবং যারাই জামিনের শর্ত ভেঙে অপরাধে জড়াবে, তাদের পুনরায় আইনের আওতায় আনা হবে।
সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষকদের গভীর উদ্বেগ: কারামুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের এই প্রকাশ্য খুনোখুনি এবং অস্ত্রবাজি সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দিয়েছে। অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এখনই যদি এদের কঠোর হস্তে দমন করা না হয়, তবে ঢাকা ও খুলনার মতো বড় শহরগুলো আবারও নব্বইয়ের দশকের মতো অস্ত্রের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং অপরাধ বিশ্লেষক তৌহিদুল হক এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই শীর্ষ সন্ত্রাসীরা কতটা ভয়ঙ্কর, তা তাদের অতীত রেকর্ড দেখলেই বোঝা যায়। তারা যখন দীর্ঘ এক বা দেড় দশক কারাগারে ছিল, তখনও কিন্তু কারাগারের ভেতর থেকেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বাইরের অপরাধ জগত ও চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করত। এখন তারা জামিনে সরাসরি মুক্ত হয়ে বাইরে চলে এসেছে। স্বাভাবিকভাবেই তারা তাদের পুরনো রাজত্ব উদ্ধার করতে চাইবে এবং এর ফলে প্রতিপক্ষ গ্রুপের সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে উঠবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভঙ্গুর অবস্থার সুযোগ নিয়ে তারা যদি একবার পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, তবে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলার চরম বিপর্যয় ঘটবে।
তিনি আরো বলেন, রামপুরায় কাইল্লা পলাশের ওপর হামলা কিংবা খুলনায় ঢাকাইয়া রফিকের হত্যাকাণ্ড কেবল দুটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; বরং এটি দেশের আন্ডারওয়ার্ল্ডের পুনরুত্থানের স্পষ্ট খতিয়ান। পুলিশ ও যৌথ বাহিনী বর্তমানে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘাতকদের ধরার চেষ্টা করছে ঠিকই, কিন্তু মূল সমস্যার সমাধান এতে হবে না।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনতিবিলম্বে কারামুক্ত সমস্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীর একটি বিশেষ তালিকা প্রস্তুত করতে হবে, তাদের প্রতিদিনের কর্মকাণ্ড কঠোর নজরদারির আওতায় আনতে হবে এবং জামিনের শর্ত ভঙ্গ করার সামান্যতম প্রমাণ পেলেই পুনরায় তাদের গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের সমস্ত প্রচেষ্টা এই আন্ডারওয়ার্ল্ডের অস্ত্রের ঝনঝনানি আর রক্তের হোলিখেলা রুদ্ধ দরজার আড়ালে ঢাকা পড়ে যাবে।


নির্বাচিত

২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন: শনিবার কক্সবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক ও কক্সবাজার প্রতিনিধি

দেশজুড়ে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন হচ্ছে শনিবার (১৩ জুন)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এদিন দুপুর ১২টায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে দুর্লভ ও ঔষধি গুণসম্পন্ন নাগলিঙ্গমগাছ রোপণ করে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ উপলক্ষে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সেল ও বন বিভাগ সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে। নাগলিঙ্গমগাছের পাশাপাশি বৈলাম, গর্জনসহ আরও তিনটি গাছের চারা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচির অংশ হিসেবে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের মালুমঘাট এলাকায় সংরক্ষিত বনে একটি জায়গা প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে ইতিমধ্যে চারা রোপণের জন্য ২ হাজার গর্ত করা হয়েছে।

রোপণের জন্য বন বিভাগ আট প্রজাতির ২ হাজার চারাগাছ প্রস্তুত করেছে। এসবের মধ্যে রয়েছে গর্জন, ঢাকি জাম, তেলসুর, দারমেরা, সিভিট, নিম, চম্পা ও ছাতিম। এ ছাড়া আরও ১২ প্রজাতির বনের উপযোগী চারাগাছ রাখা হয়েছে।

ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নাগলিঙ্গমগাছের চারা প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বৈলাম, গর্জনসহ মোট তিন প্রজাতির চারাও রাখা হয়েছে। আরও একটি সুন্দর গাছের চারা আনা হচ্ছে।’

চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেব বলেন, পূর্বনির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও মোনাজাতে অংশ নেবেন তিনি। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠানস্থলের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টায় বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী-মাছুয়াখালী খাল খনন উদ্বোধন ও সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেবেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, এরপর সড়কপথে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন এবং সাফারি পার্ক পরিদর্শন করবেন।

এরপর বেলা ১টায় জুলাই আন্দোলনে পেকুয়া উপজেলার সন্তান শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বেলা দেড়টায় নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও মোনাজাতে অংশ নেবেন। সেখান থেকে পেকুয়ায় গিয়ে নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজ শেষে তিনি চকরিয়া উপজেলার উদ্দেশে রওনা দেবেন। বিকেল ৪টায় চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে ফিরে মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্রসৈকত পরিদর্শন করবেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কক্সবাজারে সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। সর্বশেষ রাত ৯টায় কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তার।


নির্বাচিত

কুনমিং-চট্টগ্রাম সরাসরি সড়ক ও তিস্তায় চীনা বিনিয়োগের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কুনমিং-চট্টগ্রাম সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন এবং তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণে বিনিয়োগসহ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পর্যটন, অবকাঠামো ও কৃষি উন্নয়নে চীনা বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

চীনের ইউনান প্রদেশের গভর্নরের আমন্ত্রণে কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত ৭ম চায়না-সাউথ এশিয়া কোঅপারেশন ফোরাম ও ১০ম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোজিশনে অংশগ্রহণ করে তিনি এই আহ্বান জানান।

শুক্রবার (১২ জুন) সফরসূচির অংশ হিসেবে ডেপুটি স্পিকার চীনের কুনমিং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় হাসপাতালের কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করেন।

হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় ডেপুটি স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে আরও ব্যাপক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। কুনমিংয়ের বিভিন্ন মেডিকেলে বাংলাদেশের রোগীদের জন্য আবাসন, ভাষা, চিকিৎসা খরচ হ্রাস ও ভিসাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাগুলো সহজ করা হলে, উন্নত চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশের মানুষ কুনমিংকে বেছে নেবে। একই সঙ্গে তিনি ডাক্তার, টেকনিশিয়ান ও নার্সসহ বিভিন্ন পদে কুনমিংয়ের হাসপাতালসমূহে বাংলাদেশিদের কাজ করার সুযোগ করে দেওয়ারও আহ্বান জানান।

এ সময় হাসপাতালের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল হি তাও, মি. ওয়াং জিয়াংকুন এবং কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট প্রফেসর মি. শিয়া সুয়েশানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা সংসদীয় দলকে আশ্বস্ত করে বলেন, চায়না-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে চলমান স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম দিন দিন আরও বেগবান করা হবে। পাশাপাশি কুনমিং মেডিকেলে অধ্যয়নরত এবং পড়তে ইচ্ছুক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা ও আবাসনসহ সম্ভাব্য সব বিষয় সহজতর করার প্রতিশ্রুতি দেন তারা।

পরবর্তীতে ডেপুটি স্পিকারের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সংসদীয় ও বাণিজ্য প্রতিনিধিদল চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) ইউনান প্রদেশের সেক্রেটারি ওয়াং নিংয়ের সঙ্গে হাইজেং গার্ডেন হোটেলে এক দ্বিপক্ষীয় মতবিনিময় সভা করেন। বৈঠকে কায়সার কামাল জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারির অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রায় দেড় যুগ পর বাংলাদেশ গণতন্ত্রের ধারায় ফিরে এসেছে। তিনি, বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও জনগণের পক্ষ থেকে কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারিকে শুভেচ্ছা জানান এবং জুনের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় বিদেশ সফর হিসেবে চীন সফর করবেন বলে সুসংবাদ দেন। ডেপুটি স্পিকার সিপিসির এই গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে তিনি তা সাদরে গ্রহণ করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আশা প্রকাশ করেন।

উক্ত মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোকতাদির চীনের কাছে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অবকাঠামো, পর্যটন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন সেক্টরে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। বাংলাদেশের সংসদীয় ও বাণিজ্য প্রতিনিধিদলকে গুরুত্বের সঙ্গে এই ফোরামে আমন্ত্রণ ও বিশেষ মর্যাদা প্রদান করায় তিনি ইউনান সেক্রেটারিকে ধন্যবাদ জানান।

এ সময় বৈঠকে এনসিপির সদস্য সচিব আকতার হোসেন এমপি, বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব, সংরক্ষিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য জেসমিন সুলতানা জুঁই এবং বেইজিংয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাজল আলমসহ কুনমিংস্থিত বাংলাদেশ কনসুলেট ও ইউনান প্রাদেশিক সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দিনের দ্বিতীয়ভাগে, মধ্যাহ্নভোজের পর ডেপুটি স্পিকারসহ সংসদীয় দলটি কুনমিং থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘পাওথাও’ গ্রাম পরিদর্শন করেন। ভেষজ চিকিৎসার জনক সি জিয়াংয়ের স্মৃতিবিজড়িত ও ঔষধি গাছ সমৃদ্ধ ৭৪৪ জনবসতির এই গ্রামের ৮০ ভাগের বেশি মানুষ আদিবাসী, যারা শত শত বছর ধরে ঐতিহ্যবাহী হারবাল ঔষধি গাছের চাষ ও পরিচর্যা করে আসছেন। স্থানীয় বাসিন্দা জ্যাং অ্যানা ডেপুটি স্পিকারকে গ্রামটির ঐতিহ্য ও বৈশিষ্ট্য ঘুরে দেখান।


নির্বাচিত

জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমাতে সক্রিয় করা হচ্ছে বাপেক্সকে: মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমাতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি) আরও সক্রিয় করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে স্থল ও সমুদ্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে দেশ ধীরে ধীরে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে চলে গেছে।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষা মন্ত্রী আ. ন. ম. এহসানুল হক, অর্থ প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, বাপেক্সের সফলতার ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় নিষ্ক্রিয় করে ফেলা হয়েছিল।

দায়িত্ব গ্রহণের পর জ্বালানি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বাপেক্সকে পুনরুজ্জীবিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বাড়াতে আরও পাঁচটি রিগ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সমুদ্রসীমা বিজয়ের পর প্রতিবেশী দেশগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকায় গ্যাস উত্তোলন ও রপ্তানি শুরু করলেও বাংলাদেশে এ খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোকে সমুদ্র এলাকায় অনুসন্ধানের জন্য আহ্বান জানিয়ে দরপত্র ডাকা হয়েছে। এক মাস পর দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হলে নির্বাচিত কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ব্লক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, গভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে বাপেক্সের অভিজ্ঞতা না থাকায় বিদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা অব্যাহত থাকবে।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে কাতার ও সৌদি আরবের সঙ্গে বিদ্যমান কিছু সরবরাহ চুক্তিতে ‘ফোর্স মেজর’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ কারণে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলারের তেল কেনা হয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিলেও বাংলাদেশে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে বিদ্যুৎ খাতে অতীতে উচ্চমূল্যে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনে ভোক্তাদের কাছে কম দামে বিক্রি করায় বড় ধরনের ভর্তুকির চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে একদিকে লোকসান হচ্ছে, অন্যদিকে শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে বিদ্যুৎ সরবরাহও বজায় রাখতে হচ্ছে।

তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারকে প্রথমেই বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া ৫৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের চাপ মোকাবিলা করতে হয়েছে। এর পাশাপাশি চলমান বিল পরিশোধের দায়ও রয়েছে, যা অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ব্যয় কমানোর উদ্যোগ হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। ২০৩০ সালের মধ্যে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাস্তবে এর চেয়েও বেশি উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো ইতোমধ্যে তৈরি পোশাক খাতের জন্য পরিবেশগত মানদণ্ড নির্ধারণ করে দিয়েছে। অন্তত ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ব্যবহার না করলে রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক বৃদ্ধি বা অন্যান্য বিধিনিষেধের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফলে সৌরবিদ্যুতের দিকে অগ্রসর হওয়া বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে ব্যাটারিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে প্রস্তাবিত বাজেটে সৌরবিদ্যুৎ খাতে ব্যবহৃত ব্যাটারিসহ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক ও কর ছাড় দেওয়া হয়েছে।

সরকারের এসব উদ্যোগের সুফল পেতে কিছুটা সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা মাত্র কয়েক মাস দায়িত্বে আছি। আশা করছি, আগামী দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে এসব উদ্যোগের দৃশ্যমান ফল জনগণ দেখতে পাবে।


নির্বাচিত

কালো টাকা বৈধ করার বাজেট নয়, জটিলতা নিরসনের প্রস্তাব: এনবিআর চেয়ারম্যান

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কালো টাকা বৈধ করার কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি, বরং সম্পত্তি লেনদেনে প্রকৃত মূল্য ঘোষণার মাধ্যমে কর-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে স্পষ্ট করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে জনমনে একটি ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে।

এই বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, অতীতে জমি বা ফ্ল্যাট বিক্রির সময় প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম দামে নিবন্ধন করার কারণে ক্রেতা-বিক্রেতারা পরে অতিরিক্ত কর ও জরিমানার মুখোমুখি হতেন। এই পরিস্থিতি এড়াতে কেউ স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রকৃত মূল্য ঘোষণা করলে, নিয়মিত করের পাশাপাশি অতিরিক্ত ২০ শতাংশ কর পরিশোধের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছিল।

তবে এই বিধান নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে সরকার তা পুনর্বিবেচনা করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ বাজেট সরকারের বড় সুযোগ: সিপিডি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে নতুন সরকারের জন্য অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রথম বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটি মনে করে, টেকসই কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে এই বাজেট বাস্তবায়ন করা গেলে সংকটে থাকা অর্থনীতি পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

সংবাদ সম্মেলনে ফাহমিদা খাতুন বলেন, “নতুন সরকারের এই প্রথম বাজেটটি এমন এক সময় পেশ করা হয়েছে, যখন দেশ উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানহীনতা এবং ব্যাংকিং খাতের নাজুক অবস্থার মতো বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই ক্রিটিক্যাল সময়ে বাজেটকে মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার যে দর্শন নেওয়া হয়েছে, তা ইতিবাচক।”

সিপিডির মতে, প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অনেক মিল রয়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা তৈরি এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে বাজেটের সাফল্য এর বিশাল আকারের ওপর নয়, বরং বাস্তবায়নের দক্ষতার ওপর নির্ভর করবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

ফাহমিদা খাতুন আরও উল্লেখ করেন, বাজেটের লক্ষ্য অর্জনে শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানের কোনো বিকল্প নেই। উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য থাকলেও যদি বাস্তবায়ন দুর্বল হয়, তবে সাধারণ মানুষ এর সুফল পাবে না।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার যে বাজেট উপস্থাপন করেছেন, তাতে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থা ও বৈদেশিক ঋণের ওপর সরকারের নির্ভরশীলতা বাড়তে পারে, যা অর্থনীতির জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

সিপিডির পর্যালোচনায় আরও উঠে আসে যে, আগামী অর্থবছরের জন্য মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করার যে লক্ষ্য ধরা হয়েছে, তা অর্জন করা বর্তমান প্রেক্ষাপটে বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে সরকার যদি কাঠামোগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে।

সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান ও জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকারী তামিম আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে ১ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৪২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের তুলনায় ১ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা বেশি। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা খাতে সংশোধিত বাজেট ছিল ৪০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রায় আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী।

এবার প্রতিরক্ষা বাজেটে প্রতিরক্ষা সার্ভিসের পরিচালন ব্যয় বাবদ ৩৮ হাজার ৭২১ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য এক হাজার ৬১১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাজেটে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্য সার্ভিসের জন্য পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৯১৫ কোটি টাকা। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পরিচালন ব্যয় বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ৪৪ কোটি টাকা।


নির্বাচিত

সীমান্তে পুশ-ইন নিয়ে উদ্বেগ আসকের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সাম্প্রতিক সময়ে নারী, শিশু, প্রবীণসহ বহু মানুষকে জোরপূর্বক পুশ-ইনের (ঠেলে পাঠানো) ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংগঠনটি দুই দেশের প্রতি বিষয়টির মানবাধিকারসম্মত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বান জানায় আসক। বিশেষ করে নারী, শিশু ও প্রবীণ ব্যক্তিদের এ ধরনের ঘটনার শিকার হওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আসক বলেছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে বহু মানুষকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের জাতীয়তা ও পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। আইনসম্মত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

আসক বলেছে, কোনো ব্যক্তিকে অন্য দেশের নাগরিক বলে সন্দেহ করা হলেও তার সঙ্গে অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ করা গ্রহণযোগ্য নয়। মানুষের মৌলিক অধিকার তার জাতীয়তা, ধর্ম, ভাষা বা অভিবাসন অবস্থার ওপর নির্ভর করে না। প্রত্যেক মানুষ মানবিক মর্যাদা পাওয়ার অধিকার রাখে।

সংগঠনটি বলেছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালা অনুযায়ী কাউকে এমন পরিস্থিতিতে ফেলা যাবে না, যেখানে তার জীবন, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য বা মর্যাদা ঝুঁকির মুখে পড়ে। সীমান্তে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় ও আইনি অবস্থান যাচাইয়ের জন্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিষয়গুলোর সমাধান হওয়া উচিত।

আসক আরও বলেছে, সাম্প্রতিক ঘটনায় অনেক মানুষকে দিনের পর দিন শূন্যরেখায় অবস্থান করতে হয়েছে। সেখানে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের মতো মৌলিক সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছেন। এ ধরনের পরিস্থিতি মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। অনেক ক্ষেত্রে এটি নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

সংগঠনটি মনে করে, কোনো ব্যক্তি কোন দেশের নাগরিক—এ প্রশ্নের সমাধান স্বচ্ছ, আইনসম্মত ও পারস্পরিকভাবে স্বীকৃত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত। এ জন্য দুই দেশের মধ্যে তথ্যবিনিময়, পরিচয় যাচাই এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

আসক বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে। একই সঙ্গে সীমান্তে অবস্থানরত মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।


নির্বাচিত

দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠনে ব্যয় ৪০ হাজার কোটি টাকা 

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি অর্থবছরে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে শক্তিশালী করতে সরকার প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করার সময় এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো আর্থিক খাতকে স্থিতিশীল করা, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা শক্তিশালী করা এবং জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার করাই সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য। এজন্য ব্যবস্থাপনা সংস্কার এবং ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

এছাড়া ব্যাংক খাতে অনাদায়ী ঋণ কমানো, ঋণ অনুমোদন ও পুনঃতফসিল প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা এবং ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকার লুট হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাও চালাচ্ছে এবং ব্যাংক খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও অনিয়ম বন্ধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নতুন নীতিমালার আওতায় আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, মূলধন পর্যাপ্ততা এবং করপোরেট গভর্ন্যান্স নিশ্চিত করা হবে, যেন দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকগুলো স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে ওঠে, বলেন তিনি।

এছাড়া নারী, তরুণ উদ্যোক্তা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থিক সেবা প্রাপ্তি বাড়িয়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।


নির্বাচিত

banner close