টঙ্গীর তুরাগ পাড়ে ২০২৫ সালের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব আগামী ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ইজতেমা ৭, ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
আজ সোমবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।
তিনি বলেন, ‘পূর্বের ধারাবাহিকতায় বিশ্ব ইজতেমার জন্য দুইটি স্লট নির্ধারণ করা হয়েছে। গাজীপুর জেলার টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে আগামী ৩১ জানুয়ারি-২ ফেব্রুয়ারি এবং ৭ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ অনুষ্ঠিত হবে।’
উপদেষ্টা বলেন, তাবলীগ জামায়াতের আলেমদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে আবার আলোচনা হবে। আমরা আলেমদের মধ্যে কোনো বিভেদ চাই না।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত সভায় বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ, মাঠ হস্তান্তর, মাঠ প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক কার্যক্রম তদারকি সংক্রান্ত কমিটি গঠন, বিদেশি মেহমানদের ভিসা প্রদান, ভিভিআইপিদের সার্বিক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সার্বিক শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ, কন্ট্রোল রুম স্থাপন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন, মুসলি¬দের যাতায়াতের জন্য বিশেষ ট্রেন-বাস সার্ভিস, পল্টুন ও ভাসমান ব্রিজ নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়াও জরুরি দুর্যোগ ও দুর্ঘটনা রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ, মুসল্লিদের প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা প্রদান, অস্থায়ী দোকানপাট ব্যবস্থাপনা, বস্তি ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ইজতেমাস্থলে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বিক্রয় মনিটরিং, মাইক সম্প্রসারণ, ইজতেমাস্থলে যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পর্কে জনগণকে অবহিতকরণ, সিনেমার অশ্লীল পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন অপসারণ, আখেরী মোনাজাতের দিন যানজট নিরসনে ব্যবস্থা গ্রহণ, টঙ্গীতে অনুষ্ঠেয় ফলোআপ সভার তারিখ নির্ধারণ, বিশ্ব ইজতেমায় নামাজ পড়ানোসহ অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণ, মাঠ প্রস্তুতিকরণ ইত্যাদি বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল হাফিজ (অব.), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন সহ সংশি¬ষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
গত দেড় বছর এবং এর আগের সরকারের সময়ে র্যাবের অপকর্মের ইতিহাস খুব বেশি নেই বলে জানিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ।
রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর র্যাবের কথিত খুন, গুম ও ‘ক্রসফায়ার’-এর নথি তলব করে মামলাগুলো তদন্ত করবেন– এ ক্ষেত্রে র্যাব সহযোগিতা করবে কি না, জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, ‘বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা চাওয়া হলে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। আমাদের কাছে যা আছে, তা দেব। কোনো তথ্য না থাকলে আমরা অপারগতা প্রকাশ করব। তবে ট্রাইব্যুনাল এই বিষয়ে এখনো আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তারা আমাদের কাছে সহায়তা চাইলে অবশ্যই সহায়তা করা হবে।’
র্যাব বিলুপ্তির বিষয়ে দেশি-বিদেশি সংস্থার চাপের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডিজি বলেন, র্যাব বিলুপ্তি বা বাহিনী সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়ভার র্যাবের ওপর বর্তায় না; সরকার এ বিষয়গুলো বিবেচনা করবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্তব্য হচ্ছে দায়িত্ব পালন করা। যেহেতু আমরা রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছি, তাই আমাদের মূল কাজই হচ্ছে কাজের মাধ্যমে র্যাবকে জনগণের সামনে ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করা। র্যাব সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেবে, আমরা আমাদের কাজ করে যাব।’
বিগত সময়ে র্যাবকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে আহসান হাবীব পলাশ বলেন, ‘গত দেড় বছর এবং এর আগের সরকারের সময়ের র্যাব কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে দেখবেন, র্যাবের অপকর্মের ইতিহাস খুব বেশি নেই। এতেই প্রমাণিত হয় যে সঠিকভাবে পরিচালনা করা গেলে র্যাব সঠিকভাবে চলতে পারে। আমি মনে করি, এ ব্যাপারে সরকার চেষ্টা করছে এবং আমরা সরকারের কিছু নির্দেশনাও পেয়েছি।’
জলদস্যু ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ফের সক্রিয় হওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে এবং এ নিয়ে কাজ চলছে। নির্বাচনসহ বিভিন্ন কারণে আগে পর্যাপ্ত দৃষ্টি দেওয়া সম্ভব না হলেও এখন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের বিষয়ে র্যাব ডিজি বলেন, ‘জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসবাদ– এগুলোর জবাব আমি দিতে চাই না, তবে আমরা কাজ করছি। যে ‘বাদ’-ই থাকুক না কেন, আমরা তা নির্মূল করতে পারব।’
কিশোর গ্যাং বা কিশোর অপরাধী চক্রের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি বর্তমানে দেশে প্রকট আকার ধারণ করছে। পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে এটি নিয়ে কাজ করছে। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারাও উন্মোচন করুন কারা কিশোর গ্যাংকে সহায়তা করছে, তাহলে আমাদের কাজ সহজ হয়ে যাবে।’
র্যাবের নাম পরিবর্তন বা সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি জানান, পুনর্গঠন বা কাঠামোগত পরিবর্তন সরকারের বিবেচনার বিষয়। র্যাবের অগ্রাধিকার হচ্ছে অর্পিত দায়িত্ব পালন করা। মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে কেউ ছাড় পাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব ডিজি বলেন, ‘র্যাব গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত কেন এ ঘটনাগুলো ঘটল, তা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কাজের ক্ষেত্রে কিছু ভিন্নতা বা কিছুটা পদস্খলন ছিল। আমরা যদি এই বিষয়গুলো সংশোধন করতে পারি, তবে আমার মনে হয় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আর থাকবে না।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
আজ রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন খবরটি নিশ্চিত করেন। সাক্ষাৎকালে তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
রাষ্ট্রদূত এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে দুটি ছবি এবং হোয়াইট হাউসের একটি রেপ্লিকা তুলে দেন। একটি ছবিতে রয়েছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার এবং অপর ছবিতে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সিনিয়র।
এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো গোপন চুক্তি নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, আমেরিকার সঙ্গে যা কিছু আছে, তা প্রকাশ করা হয়েছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানান, জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে সরকারের ওপর কোনো ধরনের বাধ্যবাধকতা নেই। সাম্প্রতিক বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, বিশেষ করে জ্বালানি, বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে সাধারণ আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বড় দাতা দেশ এবং তাদের এই সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
জ্বালানি খাতে সহযোগিতা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার কিছু বিষয় গোপনীয়তার কারণে এই মুহূর্তে প্রকাশ করা না গেলেও, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।
দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে সহায়তা করবে– এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে সাশ্রয়ী উৎস থেকেই তেল কেনা হবে। ভারত, মধ্যপ্রাচ্য কিংবা যুক্তরাষ্ট্র– সব বিকল্পই সরকারের জন্য খোলা রয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বিদেশ সফর নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সফরের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম চূড়ান্ত হয়নি। তিনি আরও বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ জন্য বিশ্ববাজারে সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ও সাশ্রয়ী উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠলেও এখনো সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর মতো পূর্ণ প্রস্তুতি নেই বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ দেনার চাপ, উচ্চ সুদের হারে ঋণ গ্রহণের ঝুঁকি এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
রবিবার (৫ এপ্রিল) শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বহুপক্ষীয় পরামর্শসভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের উত্তরণ প্রস্তুতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে জাতিসংঘের সংস্থা UN-OHRLLS একটি স্বতন্ত্র মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে, যার মূল বিষয়গুলো এই সভায় উপস্থাপন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়বে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়াবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং বাংলাদেশ এখনো তা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। তবে দীর্ঘদিন এই চাপ বহন করা সরকারের জন্য সম্ভব নয়।
তিনি আরো বলেন, সরকার জনগণের ওপর হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে চায় না। কিন্তু সরকারি তহবিল থেকে ধারাবাহিক ব্যয় চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব জনগণের ওপরই পড়বে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। যেন জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা যায় এবং অন্যদিকে অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘প্রতিদিনের সংকট মোকাবেলা’ হিসেবে বর্ণনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই নিম্নমুখী। সরকার এখন অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে, কিন্তু জ্বালানি খাতে ভর্তুকি, বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানি নির্ভরতার কারণে চাপ আরো বাড়ছে।’
সংকট উত্তরণে সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় সংস্কার ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো হবে।’ এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘বর্তমানে উত্তরণ প্রক্রিয়া কিছু সময়ের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং এই সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনীতির মৌলিক সূচকগুলো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে উত্তরণ একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হয়ে উঠবে।’
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন—পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মিজ রাবাব ফাতিমা এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
পয়লা বৈশাখে যে শোভাযাত্রা হবে সেটি আর আনন্দ বা মঙ্গল শোভাযাত্রা নামে হবে না। এবার সেটি ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে উদযাপিত হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
রোববার (০৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে বাংলা নববর্ষ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় একযোগে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে মিজলস (হাম) প্রতিষেধক টিকা প্রদান করা হচ্ছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১১টায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরীক্ষা অনুযায়ী, হামে আক্রান্ত রোগীদের ৮২ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। তাই আমরা বর্তমানে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী দেশের সব শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। আজ থেকে সেই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। তবে এই বয়সী শিশুদের মধ্যে যারা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের এই মুহূর্তে টিকা দেওয়া হচ্ছে না। অসুস্থ শিশু ছাড়া বাকি সবাইকে টিকার পাশাপাশি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। আর যারা অসুস্থ, তাদের কেবল ভিটামিন ‘এ’প্রদান করা হবে।’
মন্ত্রী আরও জানান, প্রথম ধাপে ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও ইউনিসেফ এসব এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বেশি বলে শনাক্ত করেছে। এই এলাকাগুলোতে কার্যক্রম শেষ করার পর পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বিশেষ এই টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।
প্রথম পর্যায়ে শুরু হওয়া এই বিশেষ কর্মসূচির আওতাভুক্ত ৩০টি উপজেলা হলো- রাজশাহীর গোদাগাড়ী; ঢাকার নবাবগঞ্জ; মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর; ঝালকাঠির নলছিটি; ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর; চাঁদপুরের হাইমচর ও সদর; বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ; পাবনার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া; নওগাঁর পোরশা; গাজীপুর সদর; নেত্রকোনার আটপাড়া; শরীয়তপুরের জাজিরা; বরগুনা সদর; মাদারীপুর সদর; কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু; চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, ভোলাগঞ্জ ও সদর; নাটোর সদর এবং যশোর সদর।
দেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং শিল্প খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনার জন্য শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, দ্রুত করতে গভীর সমুদ্রবন্দর চালু, বিদেশি বিনিয়োগকারিদের বিমানবন্দরের ঝামেলা ছাড়াই সহজে দেশে আনা, ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো, রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার এবং বন্ধ কলকারখানা চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। এ সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছেন।
এ পরিষদের মাধ্যমে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা ব্যবসা পরিবেশ, বিনিয়োগ পরিবেশ ও সংস্কারের অগ্রাধিকার নিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সরাসরি মতামত দিতে পারবেন।
গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
দেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা করার ক্ষেত্রে কর-ভ্যাট সংক্রান্ত জটিলতা, উচ্চ সুদহার, বন্দরে পণ্য খালাস এবং নিবন্ধন সমস্যাসহ সহজে ব্যবসা পরিচালনার বাধাগুলো সমাধানে দুই বছরের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশে প্রথমবারের মতো ‘বেসরকারি খাতের পরামর্শক পর্ষদ’ গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত এই পর্ষদ একটি দুই বছর মেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক রাখতে প্রস্তাবনায় অন্যান্য দেশের প্রমাণভিত্তিক আইনগত, নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক দৃষ্টান্ত অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনা ও সমন্বয়ে বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথভাবে একটি কার্যকর ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।
পরিষদের সদস্যরা সরকারি উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং একটি সংক্ষিপ্ত প্রস্তাবনা তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রস্তাবনায় ব্যবসায়িক পরিবেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা চাইলেন ব্যবসায়ীরা :
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা কাউন্সিলের প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বৈঠকে ব্যবসায়ীরা জ্বালানি সংকটের কারণে অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে সরকারি সহায়তা চান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে শিল্প-কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা চেয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে ব্যবসায়ীরা জ্বালানি সংকটের কারণে অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে সরকারি সহায়তা চান।
তিনি আরো জানান, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যেন বিমানবন্দরের ঝামেলা ছাড়াই সহজে দেশে আসতে পারেন, সে বিষয়েও দাবি তোলা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা শোনেন এবং সেগুলো নোট করেন। তিনি জানান, অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং কিছু বিষয় এখনো বাকি রয়েছে। আলোচনা করে সব সমস্যার সমাধান করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
বৈঠকে ব্যবসায়ীরা মাঝারি উদ্যোক্তাদের রফতানিতে উৎসাহ দিতে লাইসেন্স প্রাপ্তি সহজ করার কথা বলেন। পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি ও বাণিজ্য কার্যক্রম দ্রুত করতে গভীর সমুদ্রবন্দর চালুর আহ্বান জানান।
অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো, রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার এবং নির্দিষ্ট ব্যবসায়ীদের ওপর করের চাপ না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর বিষয়েও জোর দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাজেট সহায়তা দেবে এআইআইবি
দেশের জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে বাজেট সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে এশীয় ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়ানো ও বন্ধ কলকারখানা চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।
অর্থমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে এআইআইবি বাজেট সাপোর্ট দেবে। বিশেষ করে জলবায়ু সহনশীল ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে তারা বিনিয়োগ করবে।
সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং ইলেকট্রিক ভেহিকল খাতে অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, মোট বিদ্যুতের ২০-৩০ শতাংশ সৌর শক্তি থেকে উৎপাদন করা।
বৈঠকে ব্যবসায়ীরা ‘কস্ট অব ডুইং বিজনেস’ ও ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ সংক্রান্ত নানা প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী কিছু সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান দেন এবং বাকিগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুরোনো প্রকল্পগুলো সচল করেও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকার ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক চৌধুরী। প্রধান অতিথির সঙ্গে সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুকতাদির, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন এবং বিডার নির্বাহীর চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
এছাড়া পরিষদের সদস্যরা হলেন ড. আরিফ দৌলা (এসিআই পিএলসি), সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর (এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড), হাফিজুর রহমান খান (রানার গ্রুপ), আহসান খান চৌধুরী (প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ), জিয়াউর রহমান (বে গ্রুপ), আবদুল মুকতাদির (ইনসেপ্টা গ্রুপ), মো. আব্দুল জাব্বার (ডিবিএল গ্রুপ), সোহানা রউফ চৌধুরী (র্যাংগস গ্রুপ) এবং সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর (প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপ)।
উল্লেখ্য, সরকারপক্ষ থেকে সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে বিডা কাজ করবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়নে সহায়তা প্রদান করা হবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কোনো এক ব্যক্তির নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। সেদিন (১৯৭১ সালে) শেখ মুজিবুর রহমান বন্দি হয়ে পাকিস্তান চলে গিয়েছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর হামলায় যখন মানুষ কিংকর্তব্যবিমুড় হয়ে পড়েছিলেন তখন মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তৎকালীন মেজর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
শনিবার (৪ এপ্রিল) মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সদর দপ্তর হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধা ও জনতার সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে সেদিন সেনা সদস্যরা এসে পরামর্শ চেয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আপনারা অস্ত্র সমর্পণ করবেন না। এরপর তিনি দুই শিশুপুত্রকে নিয়ে ঢাকায় চলে যান। সেখান থেকে পাকিস্তানি বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে।
তিনি বলেন, এ তেলিয়াপাড়া থেকেই মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। তৎকালীন মেজর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিকল্পনায় মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কর্নেল আতাউল গণি ওসমানীর নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। অথচ আওয়ামী লীগ ওসমানীকে কোনো মূল্যায়ন করেনি। এ ইতিহাস উপেক্ষিত হয়েছে। জনগণের সামনে এ ইতিহাস উপস্থিত হওয়া দরকার। অতীতের দিনগুলোতে এমএজি ওসমানীকে কখনও স্মরণ করা হয়নি।
মন্ত্রী বলেন, আমার খুব কষ্ট হয় যখন কিছুসংখ্যক রাজনীতিবিদ মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেন। যারা মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করতে চায়, আমি তাদের পরিষ্কার করে বলতে চাই- মুক্তিযুদ্ধ আমাদের পরিচয়, গর্ব, ঐতিহ্য, অস্তিত্ব।
জুলাই সংস্কার নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। এদেশে অনেক আন্দোলন হয়েছে। সবশেষে ২০২৪ সালে ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে তাকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করেছে। সেটি আমাদের গৌরবের আরও একটি ইতিহাস। আমরা সে জন্যই জুলাইযুদ্ধকে ধারণ করি।
মির্জা ফখরুল বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছুসংখ্যক রাজনৈতিক দল জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়। তারা বলতে চায়, বর্তমান বিএনপি জুলাইযুদ্ধকে স্বীকার করে না। এ রকম ঢাহা মিথ্যা কথা, মিথ্যা প্রচারণা কোনোভাবেই স্বীকার করে নেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, সংস্কার তো আমরা শুরু করেছি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। সর্বশেষ তারেক রহমান ২০২২ সালেই ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে সংস্কারের সবগুলো বিষয় তুলে ধরেছিলেন। আমরা সংস্কার চাই। সংস্কার বাস্তবায়ন করব।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব হুমায়ূন কবিরের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নাঈম জাহাঙ্গীর, সদস্য সচিব সাদেক খান।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, বর্তমান সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত আন্তরিক। আমরা তামাকের ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নির্মূলের চেষ্টা করব। যদি নির্মূল করতে নাও পারি, অন্তত এর ব্যবহার আর বাড়তে দেবো না। মানবসম্পদ ছাড়া আমাদের আর কোনো সম্পদ নেই। মানবসম্পদকে রক্ষা করতে হলে তামাক রোধ করা জরুরি।
শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার আইন’ শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন তিনি। উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণার (উবিনীগ) সহযোগিতায় এ সংলাপের আয়োজন করে তামাকবিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ)।
চিফ হুইপ বলেন, তামাক খেলে ক্ষতি হয় সব মানুষই জানে। বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। এখানে একজন তামাক সেবন করলে পাশের ১০ জন আক্রান্ত হয়। তামাক রোধের কোনো বিকল্প নেই– এটা আমরা সবাই জানি, এখন দরকার কার্যকর পদক্ষেপ। আপনাদের এই মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।
চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, আমরা বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলেও এর সঙ্গে অনেক ধরনের বিষয় জড়িত আছে, তারা তামাককে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না। তারা বিজ্ঞাপন দেয়—‘গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান’ অথচ নিচে লেখা থাকে ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো। তামাক চাষিদের ব্যাপারে আমার বক্তব্য পরিষ্কার— আপনি কেন তামাক চাষ করবেন? তামাকের বদলে অন্য কিছু চাষ করেন।
মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ভয়েজার ১ ও ২ এর মতো টেকনোলজি তৈরি হয়েছে ৭০ এর দশকে অথচ এখনো মানুষ হার্টঅ্যাটাকে মারা যায়!কোনো চিকিৎসা প্রযুক্তি তৈরি হয় না কেন? এখানে ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য রয়েছে। হার্টের নালির মধ্যে যে ছোট্ট ছোট্ট ঘা তৈরি হয়, আমরা এটা পরিষ্কার করতে এখনো পারি না কেন? পৃথিবীতে থাকার জন্য মানুষ মারার ব্যবস্থা এখন মানুষই করে।
চিফ হুইপ বলেন, অনেক সময় নেগেটিভ প্রচারণার রেজাল্ট পজিটিভ হয়। যেমন বাংলাদেশে হেরোইন বা ইয়াবা আসার আগে আমরা যখন ‘অ্যান্টি-হেরোইন’ ক্যাম্পেইন করতাম, তখন কিশোর বয়সে অনেকেই চিন্তা করতো—হেরোইন খেলে আসলে কী হয়? তা একবার খেয়ে দেখা যায়। এভাবে হেরোইনের আসলে এক ধরনের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। তামাকের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনেকটা সে রকম হতে পারে।
আয়োজকদের পরামর্শ দিয়ে চিফ হুইপ বলেন, ২০০৫ সালে তামাকবিরোধী আইন তৈরি হয়েছিল, বিএনপি সরকারের সময়ই টেলিভিশনে তামাকের বিজ্ঞাপন বন্ধ করা হয়েছে। সিগারেটের ক্ষতি, আইনের প্রয়োজনীয়তা এবং আপনাদের সহযোগিতা এই তিনটি বিষয় উল্লেখ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখতে পারেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সংবেদনশীল মানুষ। তিনি দেশের সকল মানুষের প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী। অনুষ্ঠানে তাবিনাজ ও উবিনীগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, দেশের সরকারি জল মহালগুলো ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রকৃত জেলেদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হবে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সুনামগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সরকারি জলমহাল আইন-২০২৬ এর খসড়া চূড়ান্তকরণ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি জণগণের সরকার। জনগণের জন্যই সবসময় কাজ করে যাবে। তাই অন্যসব বিষয়ের সঙ্গে সরকার প্রকৃত জেলদের স্বার্থ সুরক্ষায় সবসময় সচেষ্ট আছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের ভালবাসা নিয়ে, জনরায় নিয়ে সরকার গঠন করেছে। জনগণের স্বার্থ রক্ষা করাই তাই এ সরকারের মূল লক্ষ্য।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার পর এ দেশের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিন-তিনবার এ দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে জনগণের কল্যাণে কাজ করে গেছেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বৈশ্বিক সমস্যার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, জাল যার-জলা তার এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আগামীতে দেশের প্রকৃত জেলেদেরকে জলমহাল ইজারা দেওয়া হবে। প্রবাহমান নদী কখনো ইজারার আওতায় আসবেনা।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জেলেদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ভোক্তা-অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) বার্ষিক সাধারণ সভা ও ১১ সদস্যের নতুন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ গঠিত হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্যাব কার্যালয়ে এ সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেছেন সংগঠনের সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।
সভায় উপস্থিত ভোটারদের ৫১-২ ভোটে নিরঙ্কুশভাবে ওই নির্বাহী পরিষদ গঠিত হয়। নবনির্বাচিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন সফিকুজ্জামান।
অন্যান্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন- জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জামিল চৌধুরী, সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া, যুগ্ম সম্পাদক মাসুদুর রহমান রনি, কোষাধ্যক্ষ মোহা. শওকত আলী খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ ও প্রচার সম্পাদক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।
এ ছাড়া সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আনোয়ার হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ কাদের মণ্ডল ও বাহাদুর সাজেদা আক্তার।
নবগঠিত নির্বাহী পরিষদ আগামী দুই বছর দায়িত্বে থাকবে বলে জানিয়েছে ক্যাব।
নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে ছিলেন অ্যাডভোকেট আকবর হোসেন ও মোস্তাক আহাম্মদ।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। শনিবার (৪ এপ্রিল) শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব নেতাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি, তাদের জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে দলীয় বিবেচনায় দায়িত্ব পেলেও তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, এসব প্রশাসক ভবিষ্যতে নির্বাচনে অংশ নেবেন, তাই নিজেদের স্বার্থেই তারা নিরপেক্ষ আচরণ করবেন।
জেলা পরিষদসংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো আইন হিসেবে পাস হওয়ার পরই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না।
এ সময় তিনি জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক এজাজের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
চলতি বছরের মার্চ মাসে সারাদেশে রাজনৈতিক ও নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় দলীয় কোন্দল ও অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জেরে ১৮ জন নিহত এবং ৯১২ জনের অধিক বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। শনিবার (৪ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং এইচআরএসএস-এর সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রণীত ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে ১১৩টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৯১২ জন। দেখা গেছে, মার্চ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনার সংখ্যা ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় কিছুটা কমলেও নিহতের সংখ্যা বেড়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ৩৪৬টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ১০ জন।
এইচআরএসএস-এর প্রতিবেদনে সহিংসতার বিস্তারিত বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মার্চ মাসে সহিংসতার ১১৩টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ৪৫টি ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৫০১ জন ও নিহত ৯ জন। ১৬টি বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১০৯ জন ও নিহত ৫ জন, ২২টি বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১৫৬ জন এবং নিহত হয়েছেন ২জন। ২টি বিএনপি-এনসিপি মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১১ জন, ২১টি বিএনপি-অন্যান্য দলের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৩৯ জন।
এছাড়া, বিভিন্ন দলের মধ্যে ৭টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ৯৬ জন ও নিহত হয়েছেন ২ জন। নিহত ১৮ জনের মধ্যে বিএনপির ১৩ জন, জামায়াতের ২ জন, পার্বত্য চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক রাজনৈতিক দলের ২ জন ও একজন সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৮ জনের মধ্যে একজন নারী, একজন কিশোর ও একজন সাধারণ মানুষ রয়েছেন।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই মাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের নামে ২৮টির অধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ৩০৩ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১২৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্চ মাসে রাজনৈতিক মামলায় বিভিন্ন দলের অন্তত ২২৫ জন নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আওয়ামী লীগের অন্তত ১১০ জন, বিএনপির ৮৫ জন, জামায়াতের ২০ জন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির ৮ জন রয়েছেন। এছাড়া সারাদেশে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে প্রায় দেড় হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মব ভায়োলেন্স বা গণপিটুনির ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চ মাসে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাকবিতণ্ডা, আধিপত্য বিস্তার ও ধর্মীয় অবমাননাসহ নানা অভিযোগে ২৫টি গণপিটুনির ঘটনায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩৮ জন আহত হয়েছেন।
সাংবাদিক নির্যাতনের তথ্য উল্লেখ করে প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্চ মাসে সাংবাদিক নির্যাতনের ৩৪টি ঘটনায় মোট ৫৯ জন সংবাদকর্মী হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৩ জন আহত, ৩ জন লাঞ্ছিত এবং ১২ জন সাংবাদিক হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন। এছাড়া ১ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে এবং সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ-২০২৫ এর অধীনে ৮ জন সাংবাদিককে আসামি করে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।
কারাগারে মৃত্যুর বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ মাসে দেশের বিভিন্ন কারাগারে অন্তত ১২ জন কয়েদি মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ২ জন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী এবং বাকি ১০ জন সাধারণ কয়েদি।
সার্বিক পরিস্থিতির ওপর মন্তব্য করে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনী সহিংসতা, মব সহিংসতা, হেফাজতে মৃত্যু, রাজনৈতিক উত্তেজনা, এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ-এসব বিষয় সমাধান করা না হলে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।