বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

পুঁজিবাজারে মূলধনী মুনাফার কর অর্ধেক করল এনবিআর

বাজারে ইতিবাচক প্রভাব: সূচক ও লেনদেনে বড় উত্থান
ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৪ নভেম্বর, ২০২৪ ২১:০৯

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার বিক্রি থেকে অর্জিত ক্যাপিটাল গেইন বা মূলধনী মুনাফার ওপর কর হার কমিয়ে অর্ধেক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই কর হার ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সম্পদশালী করদাতাদের প্রদেয় করের ওপর সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ হারে সারচার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এনবিআর। রাজস্ব প্রশাসনের শীর্ষ সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা সৈয়দ এ মু’মেন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

পতনের বৃত্তে ঘূর্ণমান পুঁজিবাজারে মূলধনী মুনাফার ওপর এই কর হার কমানোর ঘোষণা সময়োপযোগী ও ভালো সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন বাজার-সংশ্লিষ্টরা। এতে বাজারের চলমান আস্থার সংকট অনেকটা দূর হতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। তাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন গতকাল বাজারের লেনদেনের চিত্রে কিছুটা দৃশ্যমান হয়েছেও বটে। এ দিন লেনদেনের শুরুতে প্রথম দুই ঘণ্টায় প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সবগুলো সূচক নিম্নমুখী লক্ষ্য করা গেছে। এরপর এনবিআর থেকে জারিকৃত এই প্রজ্ঞাপনের খবর ছড়িয়ে পড়ায় শেষে দেড় ঘণ্টায় পতনের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে সূচকের বড় উত্থান নিয়ে কার্যদিবসটি শেষ হয়েছে। এদিন ঢাকার এ পুঁজিবাজারে আগের দিনের চেয়ে টাকার অঙ্কে লেনদেনও বেড়েছে ৩১ শতাংশের বেশি।

এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শেয়ার কেনার ৫ বছরের মধ্যে অথবা ৫ বছরের পর সব ক্ষেত্রে শেয়ার বিক্রি থেকে অর্জিত মূলধনী আয়ের ওপর করের হার ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন সময়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সব শেয়ার লেনদেন থেকে ৫০ লাখ টাকার বেশি মূলধনী আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে। এ ছাড়া করদাতার নিট সম্পদের পরিমাণ ৪ কোটি টাকার বেশি হলে ১০ শতাংশ, ১০ কোটি টাকার অধিক হলে ২০ শতাংশ, ২০ কোটি টাকার বেশি হলে ৩০ শতাংশ এবং ৫০ কোটি টাকার বেশি হলে ৩৫ শতাংশ হারে সারচার্জ দিতে হবে।

ফলে নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন করদাতার ৫০ কোটি টাকার বেশি নিট সম্পদ থাকলে পুঁজিবাজার থেকে অর্জিত ৫০ লাখ টাকার অতিরিক্ত মূলধনী আয়ের ওপর তাকে ১৫ শতাংশ হারে কর এবং প্রদেয় ওই ১৫ শতাংশ করের ওপর ৩৫ শতাংশ অর্থাৎ ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ সারচার্জসহ মোট (১৫ শতাংশ + ৫.২৫ শতাংশ) ২০ দশমিক ২৫ শতাংশ কর দিতে হবে। এতদিন আয়কর ও সারচার্জ বাবদ মোট ৪০ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কর দেওয়া লাগত।

তবে করদাতার নিট সম্পদের পরিমাণ ৫০ কোটি টাকার কম হলে সারচার্জের হার ৩৫ শতাংশের পরিবর্তে কম (ওপরে উল্লেখিত ১০ শতাংশ, ২০ শতাংশ ও ৩০ শতাংশ) হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আয়কর ও সারসার্জের মোট হার নিট সম্পদের ভিত্তিতে ২০ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে আরও কম হবে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত মূলধনী মুনাফা করমুক্ত রাখা হয়। ৫০ লাখ টাকার বেশি মুনাফা করলে তার ওপর কর আরোপ করা হয়। যেমন- সেকেন্ডারি বাজারে শেয়ার লেনদেন করে কোনো বিনিয়োগকারী এক বছরে ৫৫ লাখ টাকা মুনাফা করলে মুনাফার ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত-সুবিধার আওতায় আছে। বাকি পাঁচ লাখ টাকার মুনাফা ওই বিনিয়োগকারীর মোট আয়ের সঙ্গে যুক্ত হতো এবং এতে কর দেওয়া লাগত।

সম্প্রতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের মূলধনী মুনাফার ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহারের দাবি জানায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের সঙ্গে এক বৈঠকে এই দাবি জানানো হয়। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিও এনবিআর চেয়ারম্যানকে চিঠি পাঠায়। এরপরই মূলধনী মুনাফায় কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করা না হলেও কমানো হলো।

এদিকে মূলধনী মুনাফায় কর কমানোয় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে স্টক ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। এক অভিনন্দন বার্তায় সংগঠনটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এই কর ছাড়ের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের প্রতি তার (অর্থ উপদেষ্টা) সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার প্রতিফলন হয়েছে। এর ফলে পুঁজিবাজারে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীর আগমন ঘটে পুঁজিবাজার বিনিয়োগ সমৃদ্ধ হবে। আমরা আশা করি, অর্থ উপদেষ্টা আমাদের বাকি সুপারিশগুলো সুবিবেচনা করবেন এবং প্রস্তাবিত সংস্কারের মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী খাত হিসেবে গড়ে তুলবেন।’

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতকাল দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে ২৫৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১০৭টি প্রতিষ্ঠানের। আর ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে ডিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৬২ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ১৮ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ২৫২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৩৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সবকটি মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫৬৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৩১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। সে হিসেবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১৩৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

এদিকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে নগদ লভ্যাংশ বিতরণ এবং বিতরণ করা লভ্যাংশের ওপর কেটে নেওয়া উৎসে করের বিষয়ে ‘উৎসে কর কর্তন সার্টিফিকেট’ ইস্যু করার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীকে এসএমএস বা ইমেইলের মাধ্যমে জানাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আর এই কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জকে নির্দেশনা দিয়েছে বিএসইসি। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।


স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে চিফ হুইপের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমকে জাতীয় সংসদে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম। এরপর তিনি নবনিযুক্ত ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

আজ (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, এমপি ১১৭ ভোলা-২ এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি ১৫৭ নেত্রকোনা-১ মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নিকট শপথ গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের তৃতীয় তফসিল অনুযায়ী নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এই শপথের মাধ্যমে নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার তাঁদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।


খালেদা জিয়া, মতিয়া চৌধুরীসহ ৩১ জনকে স্মরণে সংসদে শোকপ্রস্তাব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী অধিবেশনে নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম শোকপ্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্বও করেন তিনি।

শোকপ্রস্তাবে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর দেশ হারিয়েছে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়াকে। মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় তার অবদান চিরস্মরণীয়। জাতীয় সংসদ তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশি নেতাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এ তালিকায় রয়েছেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

এছাড়া অধিবেশনে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ মোট ৩১ জন সাবেক সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব আনা হয়।

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী, সাবেক সেনাপ্রধান কে. এম. সফিউল্লাহ, সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান, গণফোরাম নেতা মোস্তফা মোহসীন মন্টু, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে খন্দকার এবং রমেশ চন্দ্র সেনসহ মোট ৩১ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।


মন্ত্রী হলেন আহমদ আজম খান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনের এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট আহমেদ আযম খান মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের বিরতির সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ পড়ান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আহমেদ আযম খান পান ১ লাখ ১৩ হাজার ২১৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর হরিণ প্রতীক নিয়ে পান ৭৬ হাজার ৪৪৮ ভোট। ৩৬ হাজার ৭৬৬ ভোটে জিতে এমপি হন বিএনপির এ নেতা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন স্পিকার হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার পদে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নির্বাচিত হয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ পাঠ করান। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার ও হওয়ায় মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আর মন্ত্রী থাকতে পারবেন না।

এদিনই টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনের এমপি এডভোকেট আহমেদ আযম খানকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হয়। তবে এখনো তাকে কোনো মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়নি।


স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নব নির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে এ শপথ পড়ানো হয়। জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে এই শপথ পড়ানো হয়।

তার আগে সংসদ সদস্যের হ্যাঁ ভোটে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করা হয়।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। প্রথমে সভাপতি হিসেবে নির্বাচন করা হয় সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে।


ডেপুটি স্পিকার হলেন কায়সার কামাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

এর আগে ডেপুটি স্পিকার পদে একটিমাত্র মনোনয়ন পেয়েছেন বলে জানান সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি হলেন সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামাল।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টার পর শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন।


ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার হলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।

এর আগে জাতীয় সংসদে স্পিকার পদে নির্বাচনের জন্য একটিমাত্র মনোনয়ন পেয়েছেন বলে জানান সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টার পর শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন।


প্রথম অধিবেশনের সভাপতি খন্দকার মোশাররফ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নাম প্রস্তাব করেন। পরে দলের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেটি সমর্থন জানান।

তারপর এ সিদ্ধান্তে জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমির সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ তাহের বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সমর্থন জানান।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন।


ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে এ অধিবেশন শুরু হয়।

এ অধিবেশনের শুরুতেই উত্তাপ তৈরি হতে পারে, এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থান–পরবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সংসদে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান–সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বাস্তবায়ন প্রশ্নে বিতর্ক ও উত্তাপ ক্রমে বাড়তে পারে।

অধিবেশনে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এর পাশাপাশি পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়ন, শোকপ্রস্তাব উত্থাপন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হবে।

এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৭ আসনের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে। জামায়াত পেয়েছে ৬৮ আসন। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ কয়েকটি দল প্রতিনিধিত্ব করছে।


অধিবেশনে যোগ দিতে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে যোগ দিতে জাতীয় সংসদ ভবনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় সংসদে পৌঁছান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ থেকে শুরু হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। রাষ্ট্রপতির এই ভাষণ মন্ত্রিসভা অনুমোদন করবে এবং পরে সংসদ সদস্যরা তা নিয়ে আলোচনা করবেন।

এটি ২০২৬ সালেরও প্রথম অধিবেশন। সংসদীয় রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রপতি প্রতি বছর সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেন। এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন।

অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের কার্যপ্রণালি নির্ধারণের জন্য সংসদীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে অধিবেশনের সময়কাল ও এজেন্ডা নির্ধারণ করা হবে।

প্রথম বৈঠকে সরকারি দলের (ট্রেজারি বেঞ্চ) প্রধান কাজ হবে সরকার যে সব অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে চায় সেগুলো সংসদের সামনে উপস্থাপন করা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের ১৮ মাসের মেয়াদকালে মোট ১৩০টি অধ্যাদেশ জারি বা সংশোধন করেছে।


সংসদের প্রথম অধিবেশন: ভাগ্য নির্ধারণে বিশেষ কমিটিতে যাচ্ছে ১৩৩ অধ্যাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ)। বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এই ঐতিহাসিক অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনের পর এই প্রথম স্পিকারের চেয়ার শূন্য রেখেই শুরু হচ্ছে নতুন সংসদের যাত্রা। এ অধিবেশনেই ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছেন সরকার দলীয় নেতারা।

বুধবার সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার কথা থাকলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে রয়েছেন। ফলে স্পিকারের আসনটি বর্তমানে শূন্য। অধিবেশনের শুরুতে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাগত বক্তব্য দেবেন। এরপর তার আহ্বানে বিধি অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্য প্রারম্ভিক সভাপতিত্ব করবেন। তার অধীনেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন হবে। নবনির্বাচিতদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

তিনি জানান, অধিবেশনের প্রথম দিনেই আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করবেন। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে।

জামায়াত ও এনসিপিসহ বিরোধী দলগুলোর দাবি, গণভোটে পাস হওয়া জুলাই সনদের হুবহু বাস্তবায়ন করতে হবে। বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাঠামো, সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন এবং সাংবিধানিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

এদিকে, জুলাই সনদের সমঝোতা অনুযায়ী প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকার পদের প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। তবে একক কোনো পদ নয়, বরং পুরো ‘প্যাকেজ’ বাস্তবায়নের দাবিতে অনড় বিরোধীরা।

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই সনদেই আছে একজন ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হবেন। আমরা খণ্ডিত কোনো সুবিধা চাচ্ছি না। আমরা চাই পুরো প্যাকেজটির বাস্তবায়ন। এর ভিত্তিতেই আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে চাই।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট দ্বাদশ সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। দীর্ঘ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের ৩০ দিনের মধ্যে ১২ মার্চ এই প্রথম বৈঠক আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি।


কার্যকর সংসদ গড়তে চায় সরকার: চিফ হুইপ

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার একটি কার্যকর ও প্রাণবন্ত সংসদ গড়ে তুলতে চান বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেছেন, ‘আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমেই সংসদের ভেতরে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।’ বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

চিফ হুইপ বলেন, ‘মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ভাতের অধিকার নিশ্চিত করা ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী যে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তারই ধারাবাহিক প্রতিফলন হচ্ছে আজকের এই জাতীয় সংসদ।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় সংসদ কেবল একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানই নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।’

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে, আজ বৃহস্পতিবার থেকে জাতীয় সংসদের নতুন অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। এই সংসদ হবে দেশের মানুষের অধিকার, আশা ও স্বপ্নের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান।’

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে একটি কার্যকর, প্রাণবন্ত ও দায়িত্বশীল সংসদ পরিচালনা করা। আমরা চাই সংসদে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা, যুক্তিপূর্ণ তর্ক ও সুস্থ বিতর্কের পরিবেশ সৃষ্টি হোক।’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো মতের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা। সেই লক্ষ্যেই আমরা সংসদকে একটি কার্যকর ও অর্থবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

দেশের জনগণের সমর্থন কামনা করে নূরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, ‘দেশের জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন কামনা করছি। একই সঙ্গে আমরা বিরোধী দলের গঠনমূলক ভূমিকা ও সহযোগিতাও প্রত্যাশা করি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও ঐক্যমতের ভিত্তিতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান করা সম্ভব এবং সেই পথ ধরেই আমরা জাতিকে আরও শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে পারব।’

সরকারের অঙ্গীকার হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, ‘দারিদ্র্য দূর করা এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি কার্যকর সংসদের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

পরিশেষে একটি শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে সকলের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ  

* রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন * নির্বাচিত হবেন স্পিকার, সংসদ উপনেতা ও ডেপুটি স্পিকার * নির্ধারিত হবে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভাগ্য
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে। এটি ২০২৬ সালেরও প্রথম অধিবেশন। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে নতুন সংসদের কার্যক্রম। বেলা ১১টায় শুরু হবে অধিবেশন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন। এদিন স্পিকার, সংসদ উপনেতা ও ডেপুটি স্পিকার পদে নির্বাচন হবে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভাগ্যও নির্ধারিত হবে এই অধিবেশনে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন।

অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের কার্যপ্রণালি নির্ধারণের জন্য সংসদীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটির একটি বৈঠক হতে পারে, যেখানে অধিবেশনের সময়কাল ও এজেন্ডা নির্ধারণ করা হবে।

প্রথম বৈঠকে সরকারি দলের (ট্রেজারি বেঞ্চ) প্রধান কাজ হবে সরকার যেসব অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে চায় সেগুলো সংসদের সামনে উপস্থাপন করা।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। আর বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সংসদের প্রথম বৈঠক শুরু হওয়ার পরপরই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন এবং রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ পাঠ করাবেন।

প্রথম দিন যা হবে: নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে কিছু নির্ধারিত কাজ হয়। এর মধ্যে প্রথম কাজ হচ্ছে, নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা। বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার প্রথম বৈঠকের শুরুতে সভাপতিত্ব করেন। তবে এবার এর ব্যতিক্রম হচ্ছে। কারণ, দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করার পর তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক (টুকু) কারাগারে।

সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে এবং বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়ে থাকেন। শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। অধিবেশনজুড়ে এই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা।

বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। এতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে, যার মধ্যে বিএনপি একাই পেয়েছে ২০৯টি আসন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৬টি আসন, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী একাই পেয়েছে ৬৮টি আসন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত ২৯৬ জন গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। এই সংসদে সরকার দল, বিরোধী দলসহ যেসব দল নির্বাচনে জয় পেয়েছে তার সবগুলো দলীয় প্রধানরাই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া সংসদ সদস্য হিসেবে যারা নির্বাচিত হয়েছে তাদের ২৯৬ জনের মধ্যে ২২৭ জনই প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ প্রথম অধিবেশন থেকে শুরু করে পরবর্তী পাঁচ বছর। সে হিসেবে আগামী ২০৩১ সালের মার্চ পর্যন্ত মেয়াদ থাকবে এই সংসদের।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন যেসব কাজ করে থাকে তা পরিচালিত হয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুসরণ করে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী সংসদের কার্যপ্রণালি, বিধি-বিধান, স্থায়ী কমিটির কাজ, আইন প্রণয়নের জটিল প্রক্রিয়াগুলো বুঝতেও কিছুটা সময় লাগবে আগামী সংসদের।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন বলেন, ‘প্রথমত এবারের নির্বাচনে যারা নির্বাচিত তাদের ৭৫ শতাংশের বেশি প্রথমবারের মতো সংসদে। তাদের অনেকেরই কার্যপ্রণালি বিধি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেই। যে কারণে এবারে সংসদে কিছু ব্যতিক্রমী বিষয়ও দেখা যেতে পারে।’


প্রতি সপ্তাহে চলবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 নিজস্ব প্রতিবেদক   

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় আগামী শনিবার থেকে প্রতি সপ্তাহে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১১ মার্চ) এক বার্তায় তিনি দেশবাসীর প্রতি এ আহ্বান জানান। পরে বার্তাটি তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে শেয়ার করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগ এরই মধ্যে মানুষের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সবাই সচেতন হলে এ ধরনের রোগ থেকে নিজেদের রক্ষা করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ছড়ায়। তাই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণত বর্ষা মৌসুম, জুন থেকে অক্টোবর ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি দেখা যায়। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন ডেঙ্গু নির্দিষ্ট কোনো মৌসুমে সীমাবদ্ধ নেই; বছরের যেকোনো সময় মানুষ আক্রান্ত হতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্ষাকালে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা জন্মায় এবং মাত্র ৩ দিন পানি জমে থাকলেই সেখানে মশার বংশবিস্তার হতে পারে। তাই ড্রেন, ডোবা, নর্দমা কিংবা যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে, সেসব জায়গা পরিষ্কার রাখা সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা।’

এ কারণে ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, পরিত্যক্ত টায়ার, ডোবা কিংবা বাসার ছাদে পানি জমে থাকতে না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি পানির ট্যাংক ঢেকে রাখা এবং সপ্তাহে অন্তত একবার বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই ১৪ মার্চ থেকে প্রতি সপ্তাহে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে।’ এ কাজে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার জাতীয় সংসদ সদস্য এবং জনপ্রতিনিধিদের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতি শনিবার নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘সরকারের জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির মূল দর্শন হলো, ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’, অর্থাৎ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। তাই কোথাও ময়লা পানি জমে থাকতে না দেওয়া এবং বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে সবাইকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে।’

বার্তার শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে নিজেদের পাশাপাশি অন্যদের সুরক্ষায় সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।


banner close