রোববার, ৯ আগস্ট ২০২৬
২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ফের ২০ বিলিয়ন ডলারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৭ নভেম্বর, ২০২৪ ২০:৩৬

প্রবাসী আয় বাড়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভের পরিমাণও বাড়ছে। ফলে দীর্ঘদিন পর ফের বিপিএম-৬ হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পৌঁছেছে। তবে নিট ইন্টারন্যাশনাল রিজার্ভ (এনআইআর বা ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ) এখনো ১৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ২০২১ সালের আগস্টে সর্বোচ্চ উঠেছিল ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার (৪৮ বিলিয়ন)।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি নভেম্বরের মাসের ৬ তারিখ পর্যন্ত গ্রস রিজার্ভ ২ হাজার ৫৭৩ কোটি মার্কিন ডলার বা ২৫ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ এখন ২ হাজার কোটি ডলার (২০ বিলিয়ন)। গত মাসের শুরুর দিকে অর্থাৎ ২ অক্টোবর গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৪ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন এবং বিপিএম-৬ ছিল ১৯ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন।

গ্রস রিজার্ভ ও বিপিএম-৬-এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের আরেকটি হিসাব রয়েছে, যা শুধু আইএমএফকে দেয়, প্রকাশ করে না। চলতি বছরের ৬ নভেম্বর শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ (এনআইআর) আছে ১ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের মতো। প্রতি মাসে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার হিসাবে এ রিজার্ভ দিয়ে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে না। সাধারণত একটি দেশের ন্যূনতম ৩ মাসের আমদানি খরচের সমান রিজার্ভ থাকতে হয়। একটি দেশের অর্থনীতির অন্যতম সূচক হলো বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ।

এদিকে চলতি মাসে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি দায় বাবদ দের বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হবে, ফলে হিসাব কিছুটা কমে যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা জানান, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ বাড়ছে এটা অর্থনীতির জন‌্য ইতিবাচক দিক। আশা করছি, রেমিট্যান্স বাড়ার এ প্রবাহ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

আকু দায় প‌রি‌শোধ প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া প্রতি দুই মাস অন্তর আমাদের এই দায় পরিশোধ করতে হয়। যখন বিলটি পরিশোধ করা হয় তখন রিজার্ভ কমবে এটা স্বাভা‌বিক।

গত জুলাইয়ে কোটা সংস্কার নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সৃষ্ট পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে সংঘাত-সংঘর্ষ, কারফিউ ও ইন্টারনেট বন্ধের প্রেক্ষাপটে বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠাবে না বলে হুমকি দেন প্রবাসীরা। আন্দোলনে নিহত ব্যক্তির কথা বলে প্রতিবাদ হিসাবে দেশে বৈধপথে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স না পাঠানোর বিষয়ে ক্যাম্পেইন করেন অনেক প্রবাসী। যার প্রভাব পড়েছিল প্রবাসী আয়ে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে ১৯০ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা ছিল গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

এরপর নতুন সরকার গঠনের পর আবার দেশ গঠনে বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠানোর বিষয়ে ক্যাম্পেইন শুরু করেন অনেক প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এর ফলে আবারও প্রবাসী আয় বাড়তে শুরু করে।

আগস্ট মাসে দেশে প্রবাসী আয় বেড়ে দাঁড়ায় ২২২ কোটি মার্কিন ডলারে (২ দশমিক ২২ বিলিয়ন)।

গত সেপ্টেম্বর মাসের দেশে বৈধপথে ব্যাংকিং চ্যানেলে ২৪০ কোটি ৪৮ লাখ (২ দশমিক ৪০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ২৮ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২০ টাকা ধরে)। কোনো একক মাসে এত প্রবাসী আয় গত চার বছরে এটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে গত জুন মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে ২৫৪ কোটি ডলার এবং তারও আগে ২০২০ সালের জুলাইয়ে ২৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।

চল‌তি অর্থবছ‌রের অক্টোবরে মাসের দেশে বৈধপথে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রায় ২৪০ কোটি (২ দশমিক ৪০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ২৮ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২০ টাকা ধরে)। অক্টোবরে প্রতিদিন গড়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৭ কোটি ৭৩ লাখ ডলার।


দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করুন: ইউএনওদের প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা প্রত্যেকের জন্য মানুষের সেবা করার সুযোগটি বড় একটি আমানত ও আল্লাহর নিয়ামত।এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসহায়-দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যেতে হবে।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ইউএনওদের উদ্দেশে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
খাল খনন প্রকল্পের কাজ সততার সঙ্গে সম্পন্ন করে উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ায় ৮৩টি উপজেলার ইউএনওকে প্রশংসা ও ধন্যবাদ জানাতে মূলত এই সভার আয়োজন করা হয়।
মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনগণ ও সরকারের সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমরা আছি, কাল থাকব না। আসুন আমরা সবাই মিলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করি। যেখানে সবাই একটু ভালো থাকবে।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি যে উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন, সেটি হয়তো আপনার নিজের উপজেলা নয়। কিন্তু সেই উপজেলা তো আপনার দেশেরই একটা অংশ। সেখানে যে মানুষগুলোকে দেখছেন, তারা হয়তো আপনার এলাকার মানুষ নন; কিন্তু আপনার সেই আপনজনদের মতোই মানুষ। এই দেশটাকে যদি ঠিকঠাক করতে হয়, তাহলে আমাদের সবাইকে মিলেই চেষ্টা করতে হবে।
শুধু আইন করে সমাজের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষকে বুঝিয়ে ও সচেতন করে অনেক সমস্যার সমাধান করা যায়। এ সময় তিনি ইউএনওদের নিজ নিজ এলাকায় জনসচেতনতা তৈরিতে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
পরিবেশ রক্ষায় মাঠ প্রশাসনের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপজেলা ও পৌরসভাগুলোতে অনেক মানুষ নিজেদের উদ্যোগে গাছ রোপণ করতে চান। আপনাদের মতো সরকারি কর্মকর্তারা তাদের উৎসাহ দিলে একজন যেখানে ১০টি গাছ লাগাতেন, সেখানে ৫০টি গাছ লাগাতে পারেন।
একইভাবে খেলাধুলার প্রসারেও ইউএনওদের উদ্যোগী হওয়ার নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, খেলাধুলার আয়োজনের জন্য শুধু বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় দিবসের অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। স্থানীয় ভালো যেকোনো বিষয়, এমনকি স্থানীয় কোনো মানুষের জন্মদিন উপলক্ষেও খেলাধুলার আয়োজন করা যেতে পারে। এতে তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ তৈরি হয়।
সমাজে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে দয়া-মায়া কমে যাচ্ছে এবং মানুষ দিন দিন নিষ্ঠুর হয়ে উঠছে। এই প্রবণতা বাড়তে থাকলে সমাজের শান্তি নষ্ট হবে। তাই নিজ নিজ এলাকায় মানুষের প্রতি মানুষের দরদ ও সহমর্মিতা বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে।
পশুপাখি ও প্রকৃতির প্রতি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তর থেকেই শিশুদের মধ্যে মানবিকতা এবং পশুপাখির প্রতি মায়া-মমতার বিষয়গুলো তাদের পাঠ্য হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে। বাংলাদেশ হোক সকল প্রাণী ও প্রাণের নিরাপদ জায়গা, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সভায় ইউএনওরা নিজ নিজ উপজেলায় খাল খনন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর স্থানীয় কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও জনজীবনে আসা ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
তারা জানান, খাল খননের আগে যেসব এলাকায় বছরে দুই ফসল হতো, সেখানে এখন তিন ফসল উৎপাদন হচ্ছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল খননের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নদীমাতৃক বাংলাদেশের চিত্র ফিরিয়ে আনা। দিন দিন পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, যা পরবর্তীতে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ফেলবে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। সারা দেশে পর্যায়ক্রমে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে বলেও জানান তিনি।
সভায় উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত দেওয়া ৮৩ জন ইউএনওর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সি ২৪ শতাংশ শিশু খর্বকায়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে ৫ বছরের কম বয়সি প্রায় প্রতি ৪ শিশুর ১ জন খর্বাকৃতির। জাতীয় এক জরিপ অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী অপুষ্টি ও শৈশবের শুরুতে দুর্বল স্বাস্থ্যের কারণে বয়সের তুলনায় তাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে। ওই জরিপে দেখা গেছে, ২৪ শতাংশ শিশু মাঝারি বা গুরুতর খর্বাকৃতি সমস্যায় ভুগছে।

খর্বাকৃতির অর্থ হলো, কোনো শিশুর তার বয়স অনুযায়ী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ডের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে খাটো হওয়া। এটি দীর্ঘস্থায়ী অপুষ্টির অন্যতম স্পষ্ট নির্দেশক। জীবনের প্রথম ১ হাজার দিনে পুষ্টির ঘাটতির প্রতিফলন এটি। শারীরিক ও মস্তিষ্কের বিকাশে এই সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সারা দেশে ২৩ হাজারের বেশি শিশুর শারীরিক পরিমাপের ভিত্তিতে পরিচালিত জরিপটিতে তীব্র বৈষম্যের চিত্রও উঠে এসেছে।

সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের শিশুরা সবচেয়ে ধনী পরিবারের শিশুদের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি খর্বাকৃতির ঝুঁকিতে রয়েছে। দরিদ্র পরিবারে এই হার যেখানে ৩২ দশমিক ৩ শতাংশ, যেখানে ধনী পরিবারের ক্ষেত্রে ১৬ দশমিক ১ শতাংশ। শহরের শিশুদের তুলনায় গ্রামের শিশুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এছাড়া, মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের মধ্যে এ সমস্যা কিছুটা বেশি।

গত তিন দশকে এই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হলেও বাংলাদেশ এখনো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ‘উচ্চ প্রকোপ’ শ্রেণিতে রয়েছে। ১৯৯৭ সালে এই হার ছিল ৫৯ দশমিক ৬ শতাংশ, ২০২৫ সালে এটি কমে ২৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

খর্বাকৃতির হার ২০ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে হলে সেটিকে ‘উচ্চ’ এবং ৩০ শতাংশের বেশি হলে ‘অত্যন্ত উচ্চ’ বিবেচনা করে ডব্লিউএইচও।

২০১৯ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ‘অত্যন্ত উচ্চ’ শ্রেণি থেকে বেরিয়ে আসে। এমআইসিএস-এর হিসাবে ওই বছরে খর্বাকৃতির হার ছিল ২৮ শতাংশ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক তাজউদ্দীন সিকদার বলেন, বাংলাদেশে শিশুদের খর্বাকৃতির পেছনে দীর্ঘস্থায়ী অপুষ্টি, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশদূষণ ও শারীরিক কর্মকাণ্ডের সুযোগের অভাব—এসব কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চলে খেলার মাঠ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায়, এমনকি কম আয়সম্পন্ন অনেক দেশের চেয়েও বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) গত মাসে ‘মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫’ শীর্ষক এই জরিপ প্রকাশ করে। ইউনিসেফ এতে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে।

ইউনিসেফের ১৬৩টি দেশের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শিশুদের খর্বাকৃতির হারের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৯তম। অর্থাৎ, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দেশেই এই হার বাংলাদেশের চেয়ে কম।

আফগানিস্তান (৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ), পাকিস্তান (৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ) ও ভারতের (৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ) তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান ভালো হলেও শ্রীলঙ্কার (১০ দশমিক ৫ শতাংশ) দ্বিগুণেরও বেশি। ভুটান (১৭ দশমিক ৯ শতাংশ) ও মালদ্বীপের (১৫ দশমিক ৩ শতাংশ) তুলনায় বাংলাদেশ পিছিয়ে।

এর প্রভাব কেবল শিশুর উচ্চতায় সীমাবদ্ধ নয়। খর্বাকৃতির শিশুরা তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ও ডায়রিয়ার মতো রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। ফলে শৈশবের প্রথম দিকে তাদের মৃত্যুঝুঁকিও বেশি থাকে।

সেই সঙ্গে মস্তিষ্কের বিকাশও বাধাগ্রস্ত হয়, জ্ঞানীয় সক্ষমতা কমে, শেখার গতি ধীর হয় ও শিক্ষাজীবনে অর্জন সীমিত হয়ে পড়ে।

বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণা অনুযায়ী, খর্বাকৃতির শিশুরা অন্য বাকিদের তুলনায় দেরিতে স্কুলে ভর্তি, একই শ্রেণিতে একাধিকবার পড়া ও কম শিক্ষা বয়সে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে বেশি থাকে।

জরিপের ফলাফলে আরও দেখা গেছে, ৭ থেকে ১৪ বছর বয়সি ১০ শিশুর মধ্যে ৬ জন বয়স-উপযোগী একটি সহজ গল্পের অন্তত ৯০ শতাংশ শব্দ সঠিকভাবে পড়তে পারে। অন্যদিকে মাত্র ৪০ শতাংশ শিশু প্রাথমিক গণনাগত দক্ষতা দেখাতে পেরেছে।

এর প্রভাব প্রাপ্তবয়স্ক জীবনেও দীর্ঘস্থায়ী হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, শৈশবে খর্বাকৃতিতে ভোগা ব্যক্তিরা গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ কম আয় করেন, তাদের দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাসের সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ বেশি ও দক্ষ কর্মসংস্থান পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে।

গবেষকেরা বলছেন, খর্বাকৃতির সমস্যার শুরু শিশুর জন্মেরও আগে হয়।

বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক নারী ১৮ বছর বয়সের আগেই বিয়ে করেন। অন্যদিকে প্রতি ৪ জনের ১ জন কৈশোরেই অন্তঃসত্ত্বা হন। এতে মা ও শিশু উভয়েরই পুষ্টিজনিত ঝুঁকি বেড়ে যায়।

জরিপে আরও দেখা গেছে, এক-তৃতীয়াংশ অন্তঃসত্ত্বা নারী প্রথম ৩ মাস পার হওয়ার পর প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া শুরু করেন। আর অর্ধেক নারী সুপারিশ করা ন্যূনতম চারটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান না।

জন্মের পরও অপর্যাপ্ত ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। ৬ থেকে ২৩ মাস বয়সি প্রায় ৩ শিশুর মধ্যে ২ জনই তাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণে প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত খাদ্যগোষ্ঠীর খাবার খায় না। অর্ধেকের বেশি শিশুকে প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ানো হয়, প্রতি ৫ জনে ১ জন চিনিযুক্ত পানীয় পান করে এবং এক-তৃতীয়াংশ শিশু কোনো ফল বা সবজি পায় না।

এই সমস্যা মোকাবিলায় তাজউদ্দীন খর্বাকৃতির কারণ নিয়ে গবেষণায় আরও বেশি বিনিয়োগ করা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো ও স্কুলে খেলার মাঠ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা শুধু পুষ্টির ওপর নির্ভর করে না; শারীরিক কর্মকাণ্ডের সুযোগও এর জন্য জরুরি।


হাসিনার নির্দেশে গুম করা হয়েছিল সালাহউদ্দিন আহমদকে: তদন্ত সংস্থা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০১৫ সালে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদকে র‍্যাবের টিএফআই সেলে বন্দি রেখে নির্যাতনের ঘটনায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ওই সময়ের র‍্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম করা হয়েছিল বলে তদন্তে ওঠে এসেছে।

শনিবার এ তথ্য জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। দ্রুতই তদন্ত শেষে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলেও জানান তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, গুমের পর ভারতে পাচারে যারা জড়িত ছিল, তাদের তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছ থেকে মৌখিক জবানবন্দি নিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। দ্রুতই আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে।

এছাড়া তদন্ত সংস্থার কাছে দেওয়া গুমের শিকার ছাত্রদল নেতা আইনজীবী সোহেলের জবানবন্দিতেও ওঠে এসেছে সালাহউদ্দিন আহমদকে টিএফআই সেলে গুম করে রাখার চাঞ্চল্যকর তথ্য।


৬৫ পদ নিয়ে আবারও জনপ্রশাসনের দরজায় ইসি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে চারবার অসম্মতি প্রকাশ করে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পরও হাল ছাড়েনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মাঠপর্যায়ের কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম পদমর্যাদা বৈষম্য দূর করতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের মোট ৬৫টি পদ ৬ষ্ঠ থেকে ৫ম গ্রেডে উন্নীত করার পুনর্প্রস্তাব পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক স্থবিরতা ও শৃঙ্খলা কাটাতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার ৪৫টি পদ এবং অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার ২০টি পদ ৬ষ্ঠ গ্রেড থেকে ৫ম গ্রেডে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এই উদ্যোগের প্রস্তাব এর আগে চারবার প্রত্যাখান করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ গত ১২ জুলাই নির্বাচন কমিশনের এই প্রস্তাবে অসম্মতি জানিয়েছে জনপ্রশাসন। এরই প্রেক্ষিতে আবারও প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে জেলা নির্বাচন অফিসার পদে কর্মকর্তারা ৬ষ্ঠ গ্রেডে ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬৭ হাজার ১০ টাকা বেতন স্কেলে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রস্তাবিত কাঠামোতে তাদের গ্রেড-৫ এবং বেতনস্কেল ৪৩ হাজার থেকে ৬৯ হাজার ৮৫০ টাকায় উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে বর্তমানে ১৯টিতে ৫ম গ্রেডের সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার এবং বাকি ৪৫টি জেলায় ৬ষ্ঠ গ্রেডের জেলা নির্বাচন অফিসার কাজ করছেন। একই কাজের পরিধি হওয়া সত্ত্বেও এই বৈষম্য যেমন প্রশাসনিক সমন্বয়ে বাধা তৈরি করছে, তেমনি সম্প্রতি ৪৫টি জেলায় ৬ষ্ঠ গ্রেডের অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার নতুন পদ তৈরি হওয়ায় নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা ও অধীন কর্মকর্তা একই গ্রেডের হয়ে পড়েছেন।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার ২০টি পদ বর্তমানে ৬ষ্ঠ গ্রেডে রয়েছে, যা ৫ম গ্রেডে উন্নীত করা প্রয়োজন। আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার অবর্তমানে তারা মূল দায়িত্ব পালন করেন এবং অন্যান্য বিভাগীয় দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পদমর্যাদার সমতা আনতেই এই সুপারিশ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই ৬৫টি পদের গ্রেড ও বেতনস্কেল উন্নীত করা হলে সরকারের বাড়তি কোনো আর্থিক ব্যয় হবে না এবং এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ, এম, এম, নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশনের পূর্ণ সম্মতি রয়েছে।

ইসি সচিবালয়ের তথ্যমতে, মাঠপর্যায়ের এই জটিলতার মূল উৎস বেতন ও পদমর্যাদার চরম বৈষম্য। অনেক জেলায় ৬ষ্ঠ গ্রেডের জেলা অফিসারের অধীনে পদায়ন করা হয়েছে ৫ম গ্রেডের অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন অফিসারকে। আবার ১৯টি জেলার বেশিরভাগে ৬ষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তারা পদে আসীন থাকলেও সেসব জায়গায় ৫ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের পদায়ন থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এই অব্যবস্থাপনা ও দাপ্তরিক অসংগতি নিরসনে কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

২০০৫ ব্যাচের দুই দশকের জট ও পদোন্নতিহীনতা

ইসির সর্বশেষ গ্রেডেশন তালিকায় ৭৩৮ জন কর্মকর্তার মধ্যে মাঠপর্যায়ে ৭২১ জন কর্মরত আছেন। এর মধ্যে ২০০০ ও ২০০৪ ব্যাচের পদোন্নতি সম্পন্ন হলেও বড় বিপত্তি বেঁধেছে ২০০৫ ব্যাচকে ঘিরে। এই ব্যাচের ১০০ জনেরও বেশি কর্মকর্তা দীর্ঘ ২১ বছর ধরে একই পদে আটকে আছেন। আইনি লড়াই শেষে সম্প্রতি প্রায় ৮০ জন কর্মকর্তা যোগদান করলেও তারা আগের পদেই থেকে গেছেন।

জ্যেষ্ঠতার বিধিমালা অনুযায়ী ২০০৫ ব্যাচের জট না খুললে পরবর্তী সময়ে নিয়োগ পাওয়া ২০০৫-এর পর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যোগদানকারী ৪২০ জন উপজেলা নির্বাচন অফিসারের পদোন্নতির দুয়ার খুলছে না। দীর্ঘদিন পদোন্নতি না পেয়ে ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন। কর্মকর্তাদের মতে, অনেকে টাইমস্কেল পেয়ে উচ্চতর গ্রেডের স্কেলেই বেতন পাচ্ছেন, তাই এটি আর্থিক দাবির চেয়ে সামাজিক মর্যাদা ও মানবিকতার দাবি।

আট বছরে চারবার প্রত্যাখ্যানের ইতিহাস:

কর্মকর্তাদের উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার এই চেষ্টার সূত্রপাত ২০১৮ সালে। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ৪৫টি জেলা নির্বাচন অফিসারের পদ ৫ম গ্রেডে উন্নীত করা এবং ইটিআই মহাপরিচালকের পদ ৩য় থেকে ২য় গ্রেডে নেওয়ার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আধা-সরকারি পত্র পাঠান। কিন্তু ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি ফিডার পদের অসংগতির অজুহাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তা নাকচ করে। পরে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার এবং ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট তৃতীয়বার পূর্ণ কমিশনের অনুমোদনে চিঠি পাঠানো হলেও ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পুনরায় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।

সর্বশেষ, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর ইসির বর্তমান সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ চতুর্থবারের মতো ৪৫টি জেলা অফিসারের পদ ও ২০ জন অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার পদ ৫ম গ্রেডে উন্নীত করার জন্য চিঠি পাঠান। কিন্তু গত ১২ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংস্থাপন ও ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ (সওব্য-১৩)-এর উপসচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তানিয়া সুলতানা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে চতুর্থবারের মতো অসম্মতির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়।

আইনের আলোতে ইসির অনড় অবস্থান ও আশাবাদ

চারবার প্রত্যাখ্যানের পর পুনরায় প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কমিশন তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। প্রস্তাবটি অত্যন্ত যৌক্তিক হওয়ায় প্রয়োজন হলে নতুন করে কমিশনের অনুমোদন নিয়ে অথবা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আবারও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে।

বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারাও আশা ছাড়ছেন না। সম্প্রতি পাস হওয়া নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইনের কথা উল্লেখ করে তারা জানান, এই আইনের মাধ্যমে ইসি এখন ক্যাডার বা নন-ক্যাডার ব্যবস্থার বাইরে একটি স্বতন্ত্র ‘সার্ভিস’ হিসেবে গণ্য হবে। একটি পূর্ণাঙ্গ সার্ভিস বাস্তবায়ন করতে গেলে পদ আপগ্রেডেশন ও কাজের সমন্বয় করা অপরিহার্য।


জিডিপিতে পর্যটনের অবদান ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করতে কাজ করছে সরকার: পর্যটনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পর্যটন খাতের অবদান বর্তমানের প্রায় ৩ শতাংশ থেকে ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ট্রাভেল, ট্যুরিজম, এভিয়েশন ও হসপিটালিটি—এই চারটি খাতকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

আফরোজা খানম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশের পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে ট্রাভেল, পর্যটন, এভিয়েশন ও হসপিটালিটি খাতের সংশ্লিষ্টদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, নতুন এই প্ল্যাটফর্মটি পর্যটন খাতের বিভিন্ন অংশীজনকে একত্রিত করে সমন্বিতভাবে কাজ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

পর্যটন খাতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান প্রায় ৩ শতাংশ। সরকার এ অবদান ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করতে চায়।

টেকসইভাবে পর্যটন খাতের বিকাশে বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিতভাবে এগিয়ে এসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

এক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও সমর্থন দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্তমান সরকার পর্যটন খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

তিনি আরও বলেন, পর্যটন খাতের সব অংশীজনের সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে পর্যটন খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।


খুলনার পানখালীসহ দেশের তিন গ্রাম হচ্ছে এসডিজি ভিলেজ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    আজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সমুদ্র উপকূলীয় খুলনার দাকোপ উপজেলার ১নং পানখালী ইউনিয়নের পানখালী গ্রামসহ দেশের পৃথক তিনটি স্থানের গ্রামকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। অপর দুটি হচ্ছে রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের মিতিঙ্গাছড়ি ও দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর গ্রাম।

আজ রোববার খুলনার দাকোপ উপজেলার ১নং পানখালী ইউনিয়নের পানখালী গ্রামকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই দিনে দেশের মিতিঙ্গাছড়ি ও নাফানগর গ্রামের সাথেও ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে ঘোষনা করবেন বলে জানিয়েছেন দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু।

সরকাররের এ উদ্যোগে পানখালী গ্রামের বাসিন্দা গ্রাম্য ডাক্তার মহিদুল শেখ, মৎস্য জেলে পরিমল রায়, কৃষক মাহবুবুর রহমান, অরবিন্দু মন্ডল, দিনমজুর আব্দুর রশিদ গাজীসহ অনেকেই খুশি। তারা বলেন, গ্রাম হবে শহর এটা ছিলো আমাদের দীর্ঘ বছরের এই লালিত স্বপ্ন। আজ আমাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে।

দাকোপের ১নং পানখালী ইউনিয়নের ‘পানখালী গ্রামকে করা হচ্ছে সেই এসডিজি ভিলেজ। আগামী ১০ আগস্ট বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে ঘোষণা করবেন জেনে তাই আমাদের পানখালী গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উৎসব আর আনন্দের কমতি নেই।

অন্ধকারছন্ন এ গ্রামে বৈদ্যুতিক আলো ছড়াবে, গ্রামে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান হবে চতুরমুখি। কৃষি ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষার আলো ছড়াবে এ গ্রামে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেকারত্ব দুর হবে।

এ ছাড়াও মৌলিক সকল সুবিধা গুলো এ গ্রামে দেওয়া হলে এক সময় এ গ্রাম থেকেও সরকার অধিক রাজস্ব আদায়ের সুবিধা পাবেন। পানখালী গ্রামবাসীর স্বপ্ন এখন বাস্তবায়নের পথে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, উদ্বোধনের অপেক্ষারত এসডিজি ভিলেজ পানখালী গ্রামের সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য গত ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার সরজমিনে পানখালী গ্রাম পরিদর্শন করেছেন এবং গ্রামের স্থানীয়দের সাথে কথা বলেছেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ হারুন।

এর আগে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার উপজেলা প্রশাসনের দপ্তর প্রধানের সাথে মতবিনিময় কালে ‘পানখালী গ্রামের’ উন্নয়নে সকলের সার্বিক সহযোগিতা করার পাশাপাশি প্রাপ্য সেবা প্রদান নিশ্চিত করার পরামর্শ প্রদান করেন।

এছাড়াও সম্প্রতি পানখালী গ্রাম পরিদর্শন করেছেন খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত এবং উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) খুলনার মো. আরিফুল ইসলাম।

ইউএনও আরো বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে দেশের তিনটি গ্রামকে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এসডিজির ১৭টি লক্ষ্য বাস্তবায়নের আলোকে পানখালী গ্রামে দারিদ্র বিমোচন, জলাবদ্ধতা নিরসন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হারহ্রাস, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণ, নারীর ক্ষমতায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপন, কৃষি ও জীবিকার উন্নয়ন এবং ডিজিটাল সেবা ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এসডিজি ভিলেজ হিসেবে পানখালীকে গড়ে তোলার মাধ্যমে গ্রামটির সার্বিক উন্নয়ন ও তরান্বিত হবে। এ গ্রামের সকল শ্রেণিপেশার মানুষ তাদের ভবিষ্যত অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবেন। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একক চিন্তা ধারার প্রতিফলনে এদেশ দুর্বর গতিতে এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি এটি দেশের অন্যান্য গ্রামের জন্য এটি অনুসরণযোগ্য উন্নয়ন মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি মনে করেন।

পানখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের পানখালী গ্রামের ইউপি সদস্য শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্রত্যাশিত ও লালিত স্বপ্ন পানখালী গ্রামকে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে ঘোষনার দিনক্ষন ঠিক করেছেন। আগামী ১০ আগস্ট সোমবার প্রধানমন্ত্রী পানখালী গ্রামের সাথেও ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে ঘোষনা করবেন। তাই গ্রামের বাসিন্দাদের মাঝে এব অনান্য আনন্দের উৎসব সৃষ্টি হয়েছে।

পানখালী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ সাব্বির আহম্মেদ বলেন, সরকারের এ মহান উদ্যোগে গোটা পানখালী ইউনিয়নবাসী স্বাগত জানাচ্ছেন। সমুদ্র উপকূলীয় এ উপজেলার সদর ইউনিয়নের পানখালী গ্রামকে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে ঘোষণা হলে এ গ্রামের মানুষের ভাগ্যে বদল হবে। পানখালী গ্রামের প্রতিটি শ্রেণিপেশার মানুষ স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি নানা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আগ্রহী হয়ে উঠবেন।


ডিজিটাল পেমেন্ট নিশ্চিত হলে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে: গভর্নর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, ডিজিটাল পেমেন্ট নিশ্চিত হলে ব্যবসায়ীরা কর্মচারীদের ওপর নির্ভরতা নিয়ে ব্যাবসা পরিচালনা করতে পারবেন। এতে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে, জাল নোটের ঝুঁকি এবং নগদ টাকা পরিবহনের ঝুঁকি কমবে। টাকা ছাপানোর জন্য বছরে ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়, ডিজিটাল মাধ্যমে পেমেন্ট বাস্তবায়ন হলে এ খরচ সাশ্রয় হবে।

শনিবার রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউতে ‘ক্যাশলেস ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে ‘Bangla QR’ লেনদেন বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এসব কথা বলেন।

​কর্মশালায় ২০ নারী মার্চেন্টসহ ১২০ জন ‘Bangla QR; ব্যবহারকারী মার্চেন্ট অংশ নেন। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল সাধারণ গ্রাহক ও মার্চেন্টদের মাঝে ডিজিটাল লেনদেনের বিশেষ করে ‘Bangla QR’-এর সুবিধা ও এর সঠিক ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

গভর্নর বলেন, বর্তমানে মাসে এক কোটি লেনদেন হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যে দৈনিক এক কোটি লেনদেনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আমরা কাজ করছি। এক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধক হলো বর্তমানে ৬ কোটি মানুষের বাটন ফোন ব্যবহার করা এবং তাদের হাতে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেট ও ইন্টারনেট সুবিধা না থাকা। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের স্বল্পমূল্যে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সরবরাহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।

​​প্রধান কার্যালয়ের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ ও ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের প্রতিনিধি হাসান শাহরিয়ার।

হাসান শাহরিয়ার বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল মাসে ২০ লাখ লেনদেন। বর্তমানে মাসে এক কোটি লেনদেন হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সাড়া পাচ্ছি। বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেন অগ্রযাত্রায় আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

ড. মো. কবির আহাম্মদ বলেন, একটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণের জন্য ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিমূলক পেমেন্ট সিস্টেম প্রয়োজন। বাংলা কিউআর এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে দেশে ২৪ লাখ মার্চেন্ট বাংলা কিউআর ব্যবহার করছেন এবং দৈনিক ২ লাখ লেনদেন হচ্ছে, যার আর্থিক পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা। ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধিতে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মার্চেন্টদের সচেতনতার লক্ষ্যে প্রধান কার্যালয়ের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ-১ এর অতিরিক্ত পরিচালক মো. পারওয়েজ আনজাম মুনির, যুগ্মপরিচালক জুয়েল মজুমদার, ও মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন তিনটি সেশন পরিচালনা করেন। যাতে বাংলা কিউআর এর ব্যবহার পদ্ধতি, সুবিধা, প্রয়োজনীয়তা, সচেতনতার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পরে গভর্নর বাংলা কিউআর ব্যবহার সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা, ক্রস বর্ডার পেমেন্ট সিস্টেমস চালু, চার্জ কমানোসহ নানা বিষয়ে মার্চেন্টদের বিভিন্ন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন।

​মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ কর্মশালাটি ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী ও সর্বজনীন করার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

​কর্মশালায় বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম অফিসের নির্বাহী পরিচালক মো. হানিফ মিয়া, চট্টগ্রাম অফিসের পরিচালক (প্রশাসন) স্বরূপ কুমার চৌধুরী, পরিচালক (পরিদর্শন) মো. নুরুল আলম, পরিচালক (ব্যাংকিং) ইয়াসমিন রহমান বুলা, পরিচালক (বৈদেশিক মুদ্রা) মাহবুবুর রহমান এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও ‘Bangla QR’ বাস্তবায়ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াবে: ডা. জুবাইদা রহমান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, ‘ঐতিহ্য, পেশাগত সক্ষমতা ও মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ভবিষ্যতে চিকিৎসকদের কল্যাণ, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশ্বাস করি।’

ড্যাব দেশের চিকিৎসক সমাজের মানবিকতা ও পেশাগত উৎকর্ষের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলেও মন্তব্য করেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে ড্যাবের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন ডা. জুবাইদা রহমান। একই সঙ্গে ড্যাবের সব সদস্য ও দেশের চিকিৎসক সমাজকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান তিনি।

জুবাইদা রহমান বলেন, ড্যাবের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য সংগঠনের সব সদস্যকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিভিন্ন কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে নিম ও অর্জুন গাছের চারা রোপণ করেন।

ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান; সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন; স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।


পিএসসিতে নতুন চার সদস্য নিয়োগ দিল সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) চারজন নতুন সদস্য নিয়োগ দিয়েছে। নবনিযুক্ত সদস্যরা হলেন মো. নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, মো. ফেরদৌস হোসেন ও ইয়াসমিন গফুর। গত বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে তাদের নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাদের বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তারা যোগদানের তারিখ থেকে পাঁচ বছর বা ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া- যেটি আগে ঘটবে, সেই সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

নতুন চার সদস্য নিয়োগের ফলে বর্তমানে পিএসসিতে একজন চেয়ারম্যানসহ মোট সদস্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান ছাড়া সদস্য রয়েছেন ২০ জন।


গণঅভ্যুত্থান আকস্মিক ঘটনা নয়, দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের চূড়ান্ত ফল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল দীর্ঘ ১৭ বছরের ধারাবাহিক সংগ্রামের চূড়ান্ত ফল। আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘জুলাই-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।

আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থান কোনো নিউটনের আপেল ছিল না। এটাকে আমাদের পাকাতে হয়েছে, এটা কখনো অটোমেটিক ছিঁড়ে পড়েনি।’ তিনি রাজনৈতিক পরিপক্কতার গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘কেউ যদি মনে করে, মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনের ভেতরে ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের কিছুই নেই, তাহলে এটাও রাজনৈতিক অপরিপক্কতা।’

সালাহউদ্দিন আহমদ উদীয়মান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, নতুন বন্ধুরা নতুন বন্দোবস্ত ও রাজনীতির কথা বললেও অনেক ক্ষেত্রে তারা পুরোনো ধারাতেই পরিচালিত হচ্ছেন। রাজনীতির পথকে কণ্টকাকীর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চেতনা বিক্রির রাজনীতি বাংলাদেশে আর হবে না।’ একইসঙ্গে আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে দল গঠনের চেষ্টা সফল হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কেউ ছিনিয়ে নিয়ে সেটিকে ভিত্তি করে রাজনৈতিক দল গঠন করতে চাইলে সেই রাজনীতি সফল হবে না।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একাত্তরের চেতনা বিক্রির রাজনীতি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, শেখ হাসিনা ‘চেতনার রাজনীতি করতে করতে’ দিল্লিতে গিয়ে বসে আছেন। তিনি সতর্ক করে দেন যে, ভবিষ্যতে এমন কোনো রাজনৈতিক চর্চা করা যাবে না যাতে ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তনের পথ সহজ হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন, যাদের বর্তমানে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। উপাচার্য বলেন, ‘এটা কোনো প্রতিহিংসা নয়। কিন্তু অন্যায়কারীকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার সঙ্গে যুক্ত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তাঁদের ভূমিকা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।


জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সময়ের হঠকারী ও ত্রুটিপূর্ণ সিদ্ধান্তের কারণেই বর্তমানে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আজ শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক চিকিৎসক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার দেশ ও দেশের মানুষকে এই সংকট থেকে রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।’ সংকটের নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র, রাজনীতি ও প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা বসে নেই। এই চক্র কৌশলে দেশের জ্বালানি বা বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করতে বেশ সক্রিয় রয়েছে। তারা বিভিন্নভাবে সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ খাত নিয়ে তারা নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।’

সরকার বর্তমান বাস্তবতাকে আড়াল করছে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার অস্বীকার করেনি যে বর্তমানে দেশের মানুষ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে রয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিতে পূর্বে যে অপরিকল্পিত উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, তার খেসারত এখন দেশ, দেশের মানুষ ও সরকারকে দিতে হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, একটি ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে টেনে তোলার কাজ শুরু হয়েছে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে মানুষ ধীরে ধীরে এই কষ্ট থেকে মুক্তি পাবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে নিম ও অর্জুন গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সমাবেশের উদ্বোধন করা হয়। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও মোনাজাতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ।

স্বাস্থ্যখাতের দর্শন তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী টমাস আলভা এডিসনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘ভবিষ্যতের চিকিৎসকরা কোনো ওষুধ দেবেন না। বরং তারা রোগীদের শরীরচর্চা, সুষম খাদ্য এবং রোগ প্রতিরোধের কারণ ও উপায় সম্পর্কে সচেতন করবেন।’ এই দর্শনের সঙ্গে বর্তমান সরকারের মিল রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’ নীতিতে বিশ্বাস করে। এর অর্থ হলো ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’। মানে কোনো রোগ হওয়ার পরে তার সমাধান বা চিকিৎসা খোঁজার চেয়ে, তা যেন না হতে পারে সেই বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক থাকা দরকার।’

দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের সচেতন করতে চিকিৎসকদেরই এই বিশাল কর্মীবাহিনীকে নেতৃত্ব দিতে হবে। পেশাজীবীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি তাঁর নিজস্ব ভাবনা বিনিময় করে বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেহেতু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সকল কাজকেই প্রভাবিত করে, তাই শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা পেশাজীবী সবাই যার যার মতাদর্শ অনুসারে রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত থাকা বা রাজনৈতিকভাবে সচেতন থাকা অযৌক্তিক নয়।’ তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, ‘অতিমাত্রায় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটার কারণ না হয়ে দাঁড়ায় সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকা জরুরি। প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।’

চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে পেশাগত মানোন্নয়ন ও নিরাপত্তার স্বার্থে বেশ কিছু প্রস্তাবনা দেওয়া হয়, যার মধ্যে রয়েছে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ থেকে ৩৪ এবং অবসরের বয়স ৬৫ বছরে উন্নীত করা। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং ঢাকার বাইরে বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী এসব দাবিকে যৌক্তিক অভিহিত করে বলেন, ‘আপনাদের এসব প্রস্তাবনা অযৌক্তিক নয়। ইতোমধ্যেই শিশু হাসপাতালসহ ঢাকার বাইরে বেশ কিছু বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। অন্যান্য প্রস্তাবগুলোও ইতিবাচকভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করা হবে।’

দেশের অর্থনীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার নাজুক পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, স্বাস্থ্য খাতে অভাবনীয় পরিবর্তন আনতে প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরে তা জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি ই-হেলথ কার্ড প্রবর্তন এবং উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলছে। চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানান, ‘আসুন, আমরা সকলে মিলে এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে বিদেশমুখী হতে হবে না।’

সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও ড্যাবের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা চিকিৎসকেরাউপস্থিতছিলেন।


প্রধানমন্ত্রী কাছ থেকে চাকরির নিয়োগপত্র পেলেন জুলাইয়ের শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো শহীদ ও গুরুতর জখম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের ১০ জন সদস্যের হাতে কর্মসংস্থানের নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই নিয়োগপত্রগুলো হস্তান্তর করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

নিয়োগপত্র প্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন শহীদ মো. সোহাগের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রিমা, শহীদ মো. শাহরিয়ারের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন, শহীদ মো. আব্দুল্লাহ কবিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার, শহীদ মো. মোস্তফা কামাল রাজুর স্ত্রী আকলিমা আক্তার, শহীদ মো. জুয়েলের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা, শহীদ মিরাজের বোন সামিয়া ইসলাম পপি, শহীদ আহসান কবিরের স্ত্রী হাফিজা আক্তার হ্যাপি এবং শহীদ ওমর নুরুল আবছারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাণী। এছাড়া গুরুতর আহত মো. আব্দুল মতিনের স্ত্রী সাবানা আক্তার এবং গুরুতর আহত মো. জুলফিকার আলমের স্ত্রী মোছা. আরজু আক্তারকেও নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের বর্তমান অবস্থার বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত সকল বীরত্বগাথার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এসব আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে দেশের মানুষ আরও ভালোভাবে বসবাস করতে পারবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যাঁদের আমরা হারিয়েছি, যাঁরা শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন কিংবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের সবার আত্মত্যাগের পেছনে একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেটি হলো বাংলাদেশকে আরও ভালো করা।’

রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশকে বাস্তবতার নিরিখে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা কী পেলাম, সেটিই সবচেয়ে বড় কথা নয়। বরং আমরা দেশকে কী দিতে পারলাম, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারলে আগামী দিনে আমরা যে বাংলাদেশ চাই, সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’ জুলাই আন্দোলনে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের সঠিক মূল্যায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ইতিপূর্বে চাকুরিতে যোগদানকারী শহীদ আব্দুল্লাহ বীন জাহিদের মাতা ফাতেমা তুজ জোহরা ও আহত জুলাই যোদ্ধা সোহেলি তামান্নাও উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। নিয়োগপত্র পেয়ে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।


বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে সু-কৌশলে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে একটি চক্র: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিগত সময়ের অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ড এবং বিশেষ কোনো গোষ্ঠীকে অন্যায্য সুবিধা দেওয়ার কারণেই বর্তমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমকালীন রাজনীতির গতিপ্রকৃতি ও সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন খুব সম্ভবত প্রতিটি সেক্টরে সামগ্রিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশে এখন খুব স্ট্রং ডিমান্ড, এটা আমরা সকলেই সেটা অনুভব করতে পারি। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকে।’ একইসঙ্গে পেশাজীবীদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেহেতু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সব কাজকেই প্রভাবিত করে, সেহেতু শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা পেশাজীবী—সবাই যার যার মতাদর্শ অনুযায়ী সচেতনভাবে সুসংগঠিত থাকবেন। এটা কোনো অযৌক্তিক বিষয় নয়। তবে— এই তবেটাই হচ্ছে ইম্পর্টেন্ট বিষয়। তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটায় বা বিঘ্ন ঘটার কারণ না হয়, সেটি হচ্ছে মোস্ট ইম্পর্টেন্ট।’

স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি জানান যে, বর্তমান প্রশাসন এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং ই-হেলথ কার্ড চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জনগণের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করতে যাচ্ছে। যতদ্রুত সম্ভব ই-হেলথ কার্ডের কাজ শুরু হবে। উপজেলা হাসপাতালগুলো ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে সচল করতে চেষ্টা করছে ।’ বর্তমান সরকার যে পরিস্থিতিতে দেশের দায়িত্ব নিয়েছে তার বর্ণনা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার যখন দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে, আমরা একটি ধ্বংসস্তূপ পেয়েছি বলা যায়। আমরা পেয়েছি এক দুর্বল অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন, ভঙ্গুর শিক্ষা বা ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। সেই অবস্থা থেকে সরকার চেষ্টা করছে সমগ্র দেশকে সফলভাবে ঘুরে যাতে দাঁড় করাতে পারে।’

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের জন্য দায়ী অসাধু চক্রের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে সচল করতে চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার। একটি চক্র অত্যন্ত সু-কৌশলে জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সেক্টরকে অস্থিতিশীল করতে সক্রিয়। নানাভাবে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এমন পরিস্থিতিতেও রাষ্ট্র, রাজনীতি, শাসন-প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা কিন্তু বসে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে একটি চক্র খুব সুকৌশলে জ্বালানি কিংবা বিদ্যুৎ সেক্টরকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয়। তারা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য উপস্থাপন করছে।’ জনগণের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘সরকার কিন্তু একবারও অস্বীকার করেনি যে বহু মানুষ এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংক্রান্ত বিষয়ে অনেক কষ্ট ভোগ করছে। আমরা জানি এটি, তবে আমি মাত্রই উল্লেখ করেছি, আমরা সামগ্রিকভাবে একটি ভঙ্গুর অবস্থা বা ব্যবস্থা আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি।’ পরিশেষে বিগত আমলের অব্যবস্থাপনার খেসারত নিয়ে তিনি বলেন, ‘গ্যাস বা জ্বালানি বা পেট্রোল, সামগ্রিকভাবে জ্বালানি খাতে যেই অপরিকল্পিতভাবে প্ল্যান-প্রোগ্রামগুলো গ্রহণ করা হয়েছিল অথবা বিগত দিনগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট মহলকে সুবিধা পাইয়ে দেয়ার জন্য যেসব নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল, তার খেসারত সমগ্র দেশ, দেশের মানুষ এবং বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে।’


banner close