মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন রিপাবলিকানপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে এই নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ৫ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন রাজনীতিক। এদের মধ্যে একজন ছাড়া সবাই ডেমোক্যাটপ্রার্থী ছিলেন।
জানা গেছে, নির্বাচিত বাংলাদেশি আমেরিকানরা সবাই যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট অর্থাৎ অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার প্রতিনিধি। এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি-আমেরিকান ফেডারেল পর্যায়ে অর্থাৎ সিনেট অথবা কংগ্রেসে নির্বাচিত হতে পারেননি। নির্বাচনে বিজয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতরা হলেন- নিউ হ্যাম্পশায়ার স্টেট রিপ্রেজেনটেটিভ আবুল বি খান (রিপাবলিকান), নিউজার্সি প্লেইন্সবরো টাউনশিপের কাউন্সিলম্যান ড. নুরান নবী, কানেকটিকাট স্টেট সিনেটর মাসুদুর রহমান, জর্জিয়া স্টেট সিনেটর পদে ডেমোক্রাট প্রার্থী শেখ এম. রহমান ও একই স্টেটের অন্য একটি ডিস্ট্রিক্টের সিনেটর নাবিলা ইসলাম। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি নির্বাচনী ফলাফল ও স্থানীয় কমিউনিটি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, নির্বাচিত পাঁচজন ছাড়াও পেনসিলভানিয়া, মিশিগান, নিউ জার্সিসহ অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি-আমেরিকান নাগরিক কাউন্টি ও অন্যান্য পর্যায়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তবে তদের ফলাফল এখনো জানা যায়নি।
এদিকে সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প ২৭৯টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে জয় নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস পেয়েছেন ২২৩টি ইলেকটোরাল ভোট। তবে এখনো কিছু আসনে ফলাফল ঘোষণা বাকি আছে। অন্যদিকে, মার্কিন সিনেটের নিয়ন্ত্রণও চলে যাচ্ছে রিপাবলিকান পার্টির হাতে। এখনো অনেক আসনের ভোট গণনা চলমান থাকলেও, এটা স্পষ্ট যে ডেমোক্র্যাটরা তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয় যেমন নিশ্চিত হয়েছে একই ভাবে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষ সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদেও এগিয়ে আছেন রিপাবলিকানরা।
মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি ভোটাররা কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন ও সিনেটের ৩৪টি আসনের সিনেটর নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন। বার্তা সংস্থা এপির তথ্য অনুযায়ী, সিনেটের যেসব আসনের ফলাফল এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে তাতে রিপাবলিকানরা এরইমধ্যে ৫২টি আসন নিশ্চিত করেছেন এবং ডেমোক্র্যাটরা ৪৪টি আসন পেয়েছেন। মার্কিন সিনেটে আসন সংখ্যা ১০০। বর্তমান সিনেটে ডেমোক্রেটিক পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল; কিন্তু এখন এর নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে চলে যাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আঁচ এসে লাগছে বাংলাদেশের মানুষের ঘরে। জ্বালানির দাম বাড়ছে, গ্যাসের সংকটে কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, সার উৎপাদন কমছে। এর প্রভাব পড়ছে পরিবহন থেকে কৃষি, খাবারের দাম থেকে মানুষের আয়-রোজগারে। সংকট দীর্ঘ হলে বাংলাদেশে প্রায় ৬ লাখ মানুষ চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে চলতি বছর দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার কথা ছিল এমন মানুষের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। বিশ্বব্যাংকের জুনের মাঝামাঝি সময়ের মূল্যায়নে এসব ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। সরকারকে বাজেট সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তাবিত একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে মূল্যায়নটি করা হয়।
বাংলাদেশ এমন এক সময়ে এ সংকটে পড়েছে, যখন অর্থনীতি আগে থেকেই চাপে রয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল ব্যাংক খাত এবং সরকারের সীমিত আর্থিক সক্ষমতার কারণে নতুন কর্মসংস্থানও প্রত্যাশিত হারে তৈরি হচ্ছে না।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, শুধু ২০২৫ সালেই দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ১৪ লাখ বেড়েছে। ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ না হলে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু যুদ্ধের প্রভাবে এ সংখ্যা কমে প্রায় ৫ লাখে দাঁড়াতে পারে। অর্থাৎ যুদ্ধের কারণে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ হারাতে পারেন আরও প্রায় ১২ লাখ মানুষ।
বিশ্বব্যাংকের মতে, এ বছর দেশে দারিদ্র্য বাড়ার ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির ভূমিকা থাকবে প্রায় ১০ শতাংশ। জ্বালানির বাড়তি দাম ধাপে ধাপে সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো হলে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি শিল্পকারখানার উৎপাদন খরচও বাড়বে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়বে খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অবশ্য সম্প্রতি বলেছেন, জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে নেমেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ না হলে মূল্যস্ফীতি আরও কমত বলেও তিনি মনে করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের জ্বালানি খাতে। বাংলাদেশের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের অর্ধেকের বেশি আসে গ্যাস থেকে। কিন্তু দেশে গ্যাসের উৎপাদন ২০১৬ সালের সর্বোচ্চ উৎপাদনের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ এবং এলএনজির ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।
যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে পেট্রোবাংলার ছয়টি এলএনজি সরবরাহ চুক্তির পাঁচটিকে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করা হয়েছে। স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম বেড়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ থেকে ২৮ ডলারে উঠেছে, যা আগের দামের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। সংকটের মধ্যে সেপ্টেম্বরে সরবরাহের জন্য দুটি এলএনজি চালান কিনতে বাংলাদেশকে প্রতি ইউনিটে ২৪ ডলারের বেশি দিতে হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জ্বালানি খাতে সরকারের ভর্তুকি জিডিপির ২ দশমিক ৮ শতাংশে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে ভর্তুকির চাপ ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন থেকে ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে। এতে অন্য খাতে সরকারি ব্যয় কমার ঝুঁকি রয়েছে।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়ছে কৃষিতেও। দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সার উৎপাদন ও আমদানিতে সমস্যা হলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বেন ছোট কৃষকরা।
বাংলাদেশে প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে ৩৯১ দশমিক ৯ কেজি সার ব্যবহার করা হয়, যা বৈশ্বিক গড়ের দ্বিগুণের বেশি। দেশে সার উৎপাদনের জন্যও গ্যাস প্রয়োজন। এরই মধ্যে ছয়টি ইউরিয়া সার কারখানার পাঁচটিকে গ্যাস সংকটে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। এদিকে ইউরিয়ার দামও বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের আশঙ্কা, সংকট দীর্ঘ হলে সারের দাম দ্বিগুণ হতে পারে।
জ্বালানি ও সরবরাহ সংকটে স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়ও বাড়ছে। দেশে প্রায় ১৯ হাজার সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ছয় হাজার ২০০ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা হলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। বাড়ছে জ্বালানি ব্যয়।
দেশের প্রায় ২৫০টি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে ওষুধ তৈরির কাঁচামাল আনে। এ ছাড়া হাসপাতালের ৯০ শতাংশের বেশি সরঞ্জাম আমদানিনির্ভর। ফলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট ও জাহাজভাড়া বাড়লে স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়ও বাড়ে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব কর্মসংস্থানে পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, শিল্পকারখানায় নতুন করে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। কোথাও কাজের সময় কমানো হয়েছে, আবার জ্বালানি সংকটে কিছু কারখানা বন্ধও হয়ে গেছে।
তার মতে, কারখানা বন্ধ হওয়া ও শ্রমিকদের চাকরি হারানোর সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের ৬ লাখ চাকরি হারানোর আশঙ্কা সেই বাস্তবতাকেই আরও স্পষ্ট করেছে।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বাংলাদেশের জন্য শুধু জ্বালানি সংকট নয়; কর্মসংস্থান, কৃষি, মূল্যস্ফীতি, দারিদ্র্য ও স্বাস্থ্যসেবায় একযোগে চাপ তৈরি করছে। সংকট দীর্ঘ হলে এর বোঝা সবচেয়ে বেশি বহন করতে হবে নিম্ন-আয়ের মানুষকে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ এবং ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ। সরকারের পক্ষ থেকে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সীমিত সম্পদের মধ্যেও আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে আপনাদের পাশে থাকার। যে অপূরণীয় ক্ষতি আপনাদের হয়েছে, তা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবুও আমরা আপনাদের সাথে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের ৭৪ জন সদস্যের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা এমন কিছু মানুষকে স্মরণ করছি, যাদের আজ আমাদের মাঝে থাকার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা নেই। তাদের এই মহান ত্যাগের বিনিময়েই আজ দেশের ২০ কোটি মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে।
তিনি বলেন, আজ যারা আমাদের মধ্যে অনুপস্থিত তারা কোথায় কি অবস্থায় আছে একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জানেন। আমাদের উচিত হবে দু’হাত তুলে আল্লাহর দরবারে তাদের জন্যে দোয়া করা যাতে আল্লাহ সে মানুষগুলোকে সর্বোচ্চ ভালো অবস্থায় রাখেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বাধীনতাত্তোর বিভিন্ন সময়ের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং সর্বশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মদানকারীদের কথা উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন সময়ে গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিবর্গ এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্তদের যে লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা ছিল-এই সরকার তা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। হয়তো বিভিন্ন বাস্তবতার কারণে অনেক সময় দ্রুত সবকিছু সম্ভব হয় না, কিন্তু আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাভাবিকভাবে বড় কিছু অর্জন করতে গিয়ে যারা বড় ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তারা অনেকেই আজ আমাদের মাঝে নেই। যারা আছে তাদের বলবো, আপনারা এ দেশের মানুষের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবে, আপনারা যে লক্ষ্য ও উদ্দেশে নিজেদের জীবন বাজি রেখেছেন, সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে।
তিনি বলেন, অনেকে বলতে পারেন সরকার এই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আমি বলব- আপনাদের এই ত্যাগ, সমর্থন ও সহযোগিতার কারণেই সরকার পূর্ণ উদ্যমে কাজ করার সাহস পাচ্ছে। আপনারাই আমাদের শক্তি ও উদ্দীপনার মূল উৎস।
শহীদ পরিবারের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরাও চাই আপনারাও আমাদের সহযোগিতা করবেন। আমাদের উৎসাহ দেবেন। যাতে আমরা শহীদসহ সকল আত্মত্যাগী গণতান্ত্রিক যোদ্ধা যারা আছেন তাদের যে প্রত্যাশা দেশ ও জাতিকে নিয়ে সে প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে পারি। আপনার সর্বাত্মক সমর্থন যেন আমরা পাই।
অনুষ্ঠানে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপ প্রেস-সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, হাসান শিপলু. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারি প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামির, আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য মোকছেদুল মোমিন মিথুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৯৯৬ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (গত শুক্রবার সকাল আটটা থেকে শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল আটটা পর্যন্ত) হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৩৯১ জন, বরিশাল বিভাগের ১৩৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ১০৩ জন, খুলনা বিভাগের ২৬৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ৪৫ জন, রাজশাহী বিভাগের ৩৬ জন, সিলেট বিভাগের ৩ জন এবং রংপুর বিভাগের ২১ জন।
এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৫৮৬ জনে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও সম্মুখসারির জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় মানবাধিকার সুরক্ষায় একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিয়মিত নজরদারি এবং তথ্য-প্রমাণভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ ‘বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে সুরক্ষায় ইউপিআর-৪ সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে এ আহ্বান জানানো হয়। সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি), অ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গার (এসিএফ) এবং ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যালায়েন্স-বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে। এতে নীতিনির্ধারক, মানবাধিকারকর্মী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, গবেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সেমিনারে বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বজনীন পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনা (ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউ—ইউপিআর) পর্বে সরকার সমর্থিত জলবায়ুসম্পর্কিত সুপারিশগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঘাটতি চিহ্নিত করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে মানুষের অধিকার রক্ষায় নীতি ও কর্মপরিকল্পনার সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হয়।
ইউপিআরের ১২ সুপারিশ বাস্তবায়নের কথা:
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী ও ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যালায়েন্স-বাংলাদেশের জাতীয় সমন্বয়ক মো. শামসুদ্দোহা বলেন, ২০১৮ সালে বাংলাদেশের তৃতীয় ইউপিআর চক্রে সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলা ও প্রশমনের বিষয়ে দুটি সুপারিশ সমর্থন করেছিল। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালে চতুর্থ ইউপিআর চক্রে সিপিআরডির নেতৃত্বে ১৫টি নাগরিক সংগঠনের একটি জোট যৌথভাবে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়।
এতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরার পাশাপাশি ৭টি বিষয়ে কৌশলগত পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়। পরে ২০২৪ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য সরকার ১২টি সুপারিশ গ্রহণ করে।
শামসুদ্দোহা বলেন, ‘এই অঙ্গীকারগুলো কতটা নীতি, কর্মসূচি ও বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নিয়েছে, তা অনুসরণ করার দায়িত্ব আমাদের রয়েছে। পাশাপাশি কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং কীভাবে তা দূর করা যায়, সে পথও চিহ্নিত করতে হবে।’
জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবাধিকার:
সেমিনারের প্রধান অতিথি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. নূরুন নাহার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান ভূমিকা রাখছে।
জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও সম্মুখসারির জনগোষ্ঠী এর সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন মোকাবেলার জন্য এখনো যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য বড় উদ্বেগের।
সিপিআরডির প্রোগ্রাম ম্যানেজার—রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি শেখ নূর আতায়া রাব্বি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে তৃতীয় ইউপিআর চক্রের পর থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে চতুর্থ ইউপিআর চক্রে নাগরিক সমাজের দেওয়া সুপারিশ এবং সেগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ:
সেমিনারের বিশেষ অতিথি পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও পিকেএসএফের সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরো কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। নিয়মিতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত অ্যাডভোকেসি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম এমবিই, সিপিআরডি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও সম্মুখসারির জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। মানবাধিকারকর্মী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, গবেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে আরো ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজনিয়তার কথাও বলেন তিনি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি নিয়ে সরকারের উদ্বেগ রয়েছে। তবে মানুষের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো প্রয়োজন। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও নাগরিক সমাজের কাছ থেকে আরো সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সেমিনারে জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবাধিকার সুরক্ষায় বিভিন্ন নীতিগত ও বাস্তবায়ন ঘাটতি নিয়ে বিশেষজ্ঞ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নীতিনির্ধারক, মানবাধিকারকর্মী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, গবেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ এবং নীতিগত ও জনমত গঠনের জন্য নাগরিক সমাজের একটি প্ল্যাটফর্ম গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মকৌশলের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির কথাও জানানো হয়।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান বলেছেন, বর্তমান সরকার গুম, খুন, অত্যাচার ও নির্যাতনমুক্ত দেশ গড়তে কাজ করছে। দেশে আর গুম, অত্যাচার ও নির্যাতন নামে কোনো শব্দ থাকবে না।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা এমন একটি সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই যেখানে গুম, অত্যাচার ও নির্যাতন থাকবে না।
শনিবার (২৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের ভেন্যু পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী বলেন, বিএনপি দীর্ঘ ১৮ বছর গুম, খুন ও নির্যাতন বিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চায়।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও গুম ও খুনের বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। তিনি নিজে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং তার ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
কিন্তু গণতন্ত্র ও দেশের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি।
মন্ত্রী বলেন, আগামীকাল সারা দেশে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালন করা হবে। সকাল ১০টায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার দেশপ্রেমিক ও গণতান্ত্রিক সরকার, যা গুম, খুন বা কোনো ধরনের অত্যাচার ও নির্যাতনে বিশ্বাস করে না।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আমাদেরকে এ দিবস পালন করতে দেওয়া হয়নি। এখন সুস্থ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে দেশপ্রেমিক সরকারের উদ্যোগে আমরা দিবসটি সফলভাবে পালন করব বলে আশা করছি।
এ সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, আমরা দেশের মানুষকে বার্তা দিতে চাইÑ দেশে গুমের দিন শেষ হয়ে গেছে। ভয়াবহ সেই কালো অধ্যায় অতিক্রম করে আমরা একটি ন্যায়বিচারের দেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
তিনি বলেন, এ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ আর কখনো দেশে সংঘটিত হতে দেওয়া যাবে না। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ। অতীতে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে সেগুলোরও বিচার হবে এবং সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা এ দিবস পালন করব। বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি ও অন্যান্য অনেক ব্যক্তি গুমের শিকার হয়েছেন। দেশে আর কখনো যাতে গুম, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন না হয় সে জন্য সরকার কাজ করছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালে দেশে যে রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল এবং এক মাসের ব্যবধানে প্রায় দুই হাজার নিরীহ ছাত্র-জনতাকে যারা হত্যা করেছে তারা জেলে থাকবে- এটাই স্বাভাবিক। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তাদের বিচার হবে।
সূত্র: বাসস
বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) নিজেদের ছবি ও প্রচারণা যতটা সম্ভব কম প্রদর্শন করার অনুরোধ জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিব রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। একই সঙ্গে বিটিভি ও সংসদ টিভিসহ সব সরকারি গণমাধ্যমে সংসদে ও সংসদের বাইরে থাকা বিরোধী দলগুলোর সংবাদ আনুপাতিক হারে প্রচার নিশ্চিত করতে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কিত অগ্রগতির তথ্য জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জানান, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনগুলোতে এখন থেকে কেবল সরকারি দল ও মন্ত্রীদের খবর প্রচারের একচেটিয়া ধারা বন্ধ হবে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী বিরোধী দল এবং সংসদের বাইরে থাকা অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ডও আনুপাতিক হারে প্রচার করতে হবে। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করতে মঙ্গলবার থেকেই সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘উনাদের কথা, যেগুলো বলছেন সরকারের বিরুদ্ধে হোক, পক্ষে হোক, জনগণের পক্ষে যে কথাগুলো, সেগুলো তুলে ধরতে হবে। এটাই হচ্ছে গণতন্ত্র।’
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মন্ত্রীদের অতিরঞ্জিত প্রচার বন্ধ করার উদ্যোগের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, বিটিভি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে তিনি ও প্রতিমন্ত্রী তাদের নিজেদের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ প্রদর্শন যথাসম্ভব কমিয়ে আনার অনুরোধ করেছেন। তবে দীর্ঘদিনের প্রচলিত কাঠামোগত অভ্যাসের কারণে এই সংস্কৃতিতে রাতারাতি পরিবর্তন আনা কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এই নেতিবাচক সংস্কৃতি পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী দেশের জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘ইনশাল্লাহ, আমরা একটা প্রসেসের মধ্যে আছি। আমার বিশ্বাস, আপনারা সঙ্গে থাকলে, দেশের মানুষ সঙ্গে থাকলে আমরা ঠিকমতো এগিয়ে যেতে পারব।’
গুম ও খুনের শিকার পরিবারের সদস্য এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের ৭৪ জনকে চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এই নিয়োগপত্রগুলো হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, মোট ৭৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও ১০ জনের হাতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন।
চাকরিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন গুমের শিকার ইফতেখার আহমেদ দিনারের ভাই ইশফাক আহমেদ, নুরুজ্জামান জনির ভাই মনিরুজ্জামান হীরা, আনোয়ার হোসেন মাহবুবের ভাই আনান হোসেন নূর, সেলিম রেজা পিন্টুর ভাই হাসনাইন রেজা এবং খালেদ হোসেন সোহেলের স্ত্রী শাম্মী সুলতানা। এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে দৃষ্টিশক্তি হারানো যোদ্ধা আলাল আহমেদ, শহীদ আলভীর পিতা মো. আবুল হোসাইন, শহীদ আহনাফের মাতা জারতাজ পারভীন, আহত যোদ্ধা কাজী সাইমুম সিরাজ এবং ইসরাফিল ইসলামের ভাই মাহবুব আলমও প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সরাসরি নিয়োগপত্র গ্রহণ করেছেন।
নিয়োগপ্রাপ্ত শহীদ ও গুম হওয়া পরিবারের সদস্যরা এই উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা এই নিয়োগপত্র প্রদানের মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রায় আশার আলো দেখার কথা উল্লেখ করেন এবং একই সাথে স্বজনদের গুম ও খুনের সাথে জড়িতদের যথাযথ বিচার দাবি করেন। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার এবং প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
লুট হওয়া এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে এবং এই কার্যক্রমে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে বড় অংকের আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গত তিন মাসের অপরাধ সংক্রান্ত পর্যালোচনা সভা শেষে তিনি এই তথ্য জানান। মন্ত্রী জানান, অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান বা উদ্ধারের বিষয়ে তথ্য প্রদানকারীদের তথ্যের গুরুত্ব অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কৃত করা হবে।
রাজারবাগে অনুষ্ঠিত এই সভায় পুলিশ সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রযুক্তিগত সহায়তা বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের বিভিন্ন কারিগরি ও অবকাঠামোগত চাহিদার কথা মন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন। এর প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন যে, পুলিশ বাহিনীকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে এসব চাহিদা পূরণে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এছাড়াও সভায় বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
বৈঠক পরবর্তী সংবাদ ব্রিফিংয়ে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে উন্নতির দিকে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল করতে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানকে আরও গতিশীল করতেই মূলত এই বিশেষ ইউনিট এবং পুরস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশের এই বিশেষ অভিযানে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে মন্ত্রণালয়।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। তবে এবার পুরোনো ব্যবস্থায় নয়—স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও তুলনামূলকভাবে নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
নতুন করে শ্রমবাজার চালুর শুরুতেই ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে সম্পূর্ণ শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। কর্মীদের বিমানভাড়া ও অন্যান্য অভিবাসন-সংক্রান্ত ব্যয়ও বহন করতে হবে না। প্রথম বহর সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড—বোয়েসেলের মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
শুধু বিদেশযাত্রা নয়, দক্ষ কর্মী তৈরির লক্ষ্য: সরকারের নতুন উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—শুধু কর্মী পাঠানো নয়, দক্ষ ও ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন কর্মী তৈরি করে বিদেশের শ্রমবাজারে পাঠানো।
গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছিলেন, মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহীদের দক্ষতা ও ভাষা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে কর্মীদের কাজের দক্ষতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা ও কর্মপরিবেশ সম্পর্কেও প্রস্তুত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদেশে গিয়ে কাজ না পাওয়া, কর্মক্ষেত্রে মানিয়ে নিতে না পারা কিংবা ভাষাগত সমস্যার মতো ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রথম ধাপে ১০ হাজার কর্মীকে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অতীতে মালয়েশিয়াগামী বাংলাদেশি কর্মীদের বড় একটি অংশকে অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় বহন করতে হয়েছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল এবার প্রথম বহর পাঠানোর দায়িত্বে থাকবে। বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইট ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকায় কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় সরকারি তদারকি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
তবে আবেদন, কর্মী বাছাই, নিয়োগের খাত, কোম্পানি নির্বাচন ও যাত্রার তারিখসহ বিস্তারিত প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তাই সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টাকা দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
মালয়েশিয়ার নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর জন্য ২৫টি প্রধান রিক্রুটিং এজেন্সি সরাসরি নির্বাচিত হয়েছে। এর পাশাপাশি আরও ৩১২টি এজেন্সিকে অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সরকারি বোয়েসেলসহ মোট ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠান কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছে।
এই ব্যবস্থার বড় উদ্দেশ্য হলো আগের মতো সীমিতসংখ্যক এজেন্সির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানো।
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি এজেন্সিগুলো যাচাই-বাছাই করেছে।
মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। ২০২২ সালে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর পর থেকে ২০২৪ সালের মে পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী সেখানে গেছেন। বর্তমানে দেশটিতে ৮ লাখের বেশি বাংলাদেশি কাজ করছেন বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু আগের দফায় নিয়োগব্যবস্থা নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠে। অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য, সিন্ডিকেট এবং কর্মীদের হয়রানির অভিযোগের কারণে ২০২৪ সালের ৩১ মে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।
ফলে এবার শ্রমবাজার পুনরায় খোলার পাশাপাশি কীভাবে কর্মীরা কম খরচে, নিরাপদে এবং প্রকৃত চাকরির নিশ্চয়তা নিয়ে মালয়েশিয়ায় যেতে পারেন, সেটিই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
অতীতে মালয়েশিয়াগামী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রকৃত অভিবাসন ব্যয় সরকারি নির্ধারিত ব্যয়ের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ার অভিযোগ ছিল। ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, অনেক কর্মীর প্রকৃত ব্যয় কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছিল, যদিও সরকার নির্ধারিত ব্যয় ছিল অনেক কম।
এবার ১০ হাজার কর্মীর ক্ষেত্রে বিমানভাড়াসহ অভিবাসন ব্যয় না থাকার নীতিগত সিদ্ধান্ত তাই কর্মীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর।
শূন্য খরচের এই মডেল সফল হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য শ্রমবাজারেও নিয়োগকর্তার বহন করা অভিবাসন ব্যয়ভিত্তিক মডেল সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
শ্রমবাজার দ্রুত চালুর লক্ষ্যে মালয়েশিয়া অনুমোদিত বিদ্যমান তালিকা থেকে বিতর্কিত ও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে ১৬টি মেডিকেল সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসে এসব কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করবে। এরপর নতুন নীতিমালার ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা হবে।
নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শূন্য-খরচের পাশাপাশি ডিজিটাল অভিবাসনব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এক জায়গা থেকে প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার মতো ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর দাবিও উঠেছে।
এ ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর হলে কর্মী, নিয়োগকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান সহজ হবে এবং দালালনির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে নতুন করে কোনো গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে কর্মপ্রত্যাশীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সরকার।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন, মেডিকেল পরীক্ষা বা পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগী, দালাল ও প্রতারক চক্রের ব্যাপারেও সতর্ক করা হয়েছে।
বোয়েসেলের নিজস্ব নিয়োগ প্ল্যাটফর্মে বিদেশে চাকরির জন্য নিবন্ধন ও আবেদন করার ব্যবস্থা রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি নিরাপদ ও সাশ্রয়ী অভিবাসনের ওপর গুরুত্ব দেয়।
দীর্ঘ বন্ধের পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খোলার উদ্যোগ বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের জন্য নিঃসন্দেহে বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে। প্রথম ধাপের ১০ হাজার কর্মীর শূন্য খরচের সুযোগ এই উদ্যোগকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
তবে শুধু শ্রমবাজার খোলাই যথেষ্ট নয়। প্রকৃত চাকরি, ন্যায্য বেতন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, আবাসন, চিকিৎসা এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা নিশ্চিত করাই হবে এই উদ্যোগের সফলতার মূল মাপকাঠি।
অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি এবার স্বচ্ছ নিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন, সরকারি তদারকি এবং দালালমুক্ত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা যায়, তাহলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের হাজারো পরিবারের জন্য শুধু বিদেশযাত্রার সুযোগ নয়—টেকসই কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে দায়িত্ব পালনে নতুন রাষ্ট্রপতির সাফল্য কামনা করেছেন।
ঢাকার রুশ দূতাবাস জানায়, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাঠানো এক অভিনন্দন বার্তায় ভ্লাদিমির পুতিন তার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান।
পুতিন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের মঙ্গলকামনা, সুস্বাস্থ্য এবং বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম জনগণের কল্যাণে তার ভবিষ্যৎ প্রচেষ্টায় সাফল্য কামনা করেন।
রুশ প্রেসিডেন্টের এই অভিনন্দন বার্তায় বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটেছে।
সূত্র : বাসস
আরও একটি নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) জহির উদ্দিন স্বপন।
নতুন দায়িত্ব হিসেবে তাকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে জহির উদ্দিন স্বপনকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব প্রদানের প্রস্তাব উত্থাপন করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
জানা গেছে, পূর্বে এ দায়িত্বে ছিলেন আবদুল মঈন খান। তিনি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হওয়ায় সভাপতির পদটি শূন্য হয়।
এদিকে বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর তার নির্বাচনি এলাকার নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল।
তবে তাকে নতুন দুটি দায়িত্ব প্রদান করায় নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই তাকে (স্বপন) শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আইনজীবী হিসেবে সফল হতে হলে শুধু অর্থের পেছনে না ছুটে পেশাগত দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হতে হবে।
রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ইউএপির ‘ল’ গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা প্রদান উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘ফেলিসিটেশন প্রোগ্রাম ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আজ এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দুর্নীতি কিংবা কোনো ধরনের শর্টকাট অবলম্বন করে দ্রুত বড়লোক হওয়ার চেষ্টা না করে মেধা, সততা, নৈতিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে একজন আদর্শ আইনজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষা পদ্ধতিকে স্বচ্ছ ও কঠোর করার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আইনজীবী হিসেবে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা। যারা এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইনজীবী হিসেবে সনদ পেয়েছেন, তারা কারো দয়া বা অনুকম্পায় নয়, নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই এ অবস্থানে এসেছেন।
তিনি বলেন, এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় কোনো ধরনের নেপোটিজমের সুযোগ নেই। এমনকি এনরোলমেন্ট কমিটির সদস্যদের সন্তানদেরও পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার নজির রয়েছে। তাই নবীন আইনজীবীদের নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার প্রতি আস্থা রেখে পেশাগত জীবনে এগিয়ে যেতে হবে।
নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হতে হলে শুরুতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। কর্মজীবনের শুরুতে কাজ ও পারিশ্রমিক কম থাকলেও ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে। অভিজ্ঞতা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে কাজের পরিধি ও পারিশ্রমিকও বাড়বে। তাই পেশাগত জীবনের শুরুতেই অর্থের পেছনে না ছুটে নিজেকে যোগ্য আইনজীবী হিসেবে গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
আইনমন্ত্রী আইনজীবীদের পেশাগত নৈতিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, দুর্নীতি বা শর্টকাটের পথ অবলম্বন করে দ্রুত অর্থবিত্ত অর্জনের চেষ্টা করা উচিত নয়। মেধা, সততা, নীতি-নৈতিকতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমেই একজন আইনজীবীকে নিজের অবস্থান তৈরি করতে হবে।
তিনি ক্লায়েন্টের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ক্লায়েন্ট ইজ এ ক্লায়েন্ট। ক্লায়েন্টের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে এবং পেশার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, একজন আইনজীবীর দায়িত্ব শুধু অর্থের বিনিময়ে মামলা পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
অসহায় ও দরিদ্র মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করাও আইনজীবীদের সামাজিক ও পেশাগত দায়িত্ব। তিনি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পরিচালিত মামলার পাশাপাশি অসহায় মানুষের কিছু মামলা বিনামূল্যে পরিচালনার চেষ্টা করার আহ্বান জানান।
নিজের আইনজীবী জীবনের একটি ঘটনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আইনজীবীদের সবকিছু অর্থের মানদণ্ডে বিচার করা উচিত নয়। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও আইনজীবীদের ভূমিকা রাখতে হবে।
নবীন আইনজীবীদের নিয়মিত পড়াশোনা ও আইনচর্চার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আইন পেশায় প্রতিদিন শেখার সুযোগ রয়েছে। যত বেশি পড়াশোনা করা হবে, তত বেশি জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব।
বিশেষ করে ভালো ড্রাফটিংসহ পেশাগত দক্ষতা অর্জনের জন্য আইনজীবীদের নিয়মিত অধ্যয়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক আইনজীবী থাকলেও তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।
আইনজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। আইন পেশাকে আরো মর্যাদাপূর্ণ ও দক্ষতাভিত্তিক পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে এমন একটি আইনজীবী সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিক্ষা, মেধা, দক্ষতা, সততা ও নৈতিকতার কারণে আইনজীবী পেশা মানুষের কাছে আরো মর্যাদাপূর্ণ হয়ে উঠবে।
আইনজীবীরা যেন সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন, সেভাবেই নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে. এম. মজিবুল হক, ইউএপির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া এবং স্কুল অব ল’-এর ভারপ্রাপ্ত ডিন প্রফেসর ড. এম. এ. বাকি খলিলি। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউএপির ডিপার্টমেন্ট অব ল’ অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. নূর-ই মেডিনা সূরাইয়া জেসমিন।
অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ইউএপির ‘ল’ গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সম্মাননাপ্রাপ্ত গ্র্যাজুয়েট ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
জাতীয় সংসদে সদস্যদের হট্টগোল, অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং কার্যপ্রণালি বিধি অমান্যের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। সংসদের ভেতরে একে অপরকে বক্তব্য দিতে বাধা দেওয়া এবং স্পিকারের রুলিং বা নির্দেশনা অমান্য করার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংসদের ভবিষ্যৎ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া শোরগোলের পর এসব কথা বলেন স্পিকার। বিকেল তিনটায় তার সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়েছিল।
অধিবেশন চলাকালে কুমিল্লা-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উক্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মন্তব্য করেন, স্পিকার, এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা হলো, বুঝতে পারিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যদি কথাই না বলতে দেন, তাহলে কিসের বাকস্বাধীনতা। এর পর সংসদে হট্টগোল তুঙ্গে উঠলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার দাবি তোলে বিরোধী দল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে স্পিকার বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে সচল রাখার তাগিদ দেন। নিজের দীর্ঘ ৪০ বছরের সংসদীয় অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে সচল রাখতে এবং জনগণের এই প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর রাখতে হলে রুলস অব প্রসিডিউর কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
সংসদ সদস্যদের সংসদীয় রুলস অব প্রসিডিউর পড়ার পরামর্শ দিয়ে স্পিকার আরও বলেন, স্পিকার যখন কথা বলেন তখন সবাইকে বসে শুনতে হয়। এই আইন-নীতি যদি না মানেন, ভঙ্গ করেন তাহলে এই সংসদ বেশিদিন চলবে না। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি আদর্শ সংসদীয় পরিবেশ উপহার দেওয়ার জন্য তিনি সর্বদলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।