মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন রিপাবলিকানপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে এই নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ৫ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন রাজনীতিক। এদের মধ্যে একজন ছাড়া সবাই ডেমোক্যাটপ্রার্থী ছিলেন।
জানা গেছে, নির্বাচিত বাংলাদেশি আমেরিকানরা সবাই যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট অর্থাৎ অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার প্রতিনিধি। এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি-আমেরিকান ফেডারেল পর্যায়ে অর্থাৎ সিনেট অথবা কংগ্রেসে নির্বাচিত হতে পারেননি। নির্বাচনে বিজয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতরা হলেন- নিউ হ্যাম্পশায়ার স্টেট রিপ্রেজেনটেটিভ আবুল বি খান (রিপাবলিকান), নিউজার্সি প্লেইন্সবরো টাউনশিপের কাউন্সিলম্যান ড. নুরান নবী, কানেকটিকাট স্টেট সিনেটর মাসুদুর রহমান, জর্জিয়া স্টেট সিনেটর পদে ডেমোক্রাট প্রার্থী শেখ এম. রহমান ও একই স্টেটের অন্য একটি ডিস্ট্রিক্টের সিনেটর নাবিলা ইসলাম। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি নির্বাচনী ফলাফল ও স্থানীয় কমিউনিটি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, নির্বাচিত পাঁচজন ছাড়াও পেনসিলভানিয়া, মিশিগান, নিউ জার্সিসহ অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি-আমেরিকান নাগরিক কাউন্টি ও অন্যান্য পর্যায়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তবে তদের ফলাফল এখনো জানা যায়নি।
এদিকে সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প ২৭৯টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে জয় নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস পেয়েছেন ২২৩টি ইলেকটোরাল ভোট। তবে এখনো কিছু আসনে ফলাফল ঘোষণা বাকি আছে। অন্যদিকে, মার্কিন সিনেটের নিয়ন্ত্রণও চলে যাচ্ছে রিপাবলিকান পার্টির হাতে। এখনো অনেক আসনের ভোট গণনা চলমান থাকলেও, এটা স্পষ্ট যে ডেমোক্র্যাটরা তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয় যেমন নিশ্চিত হয়েছে একই ভাবে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষ সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদেও এগিয়ে আছেন রিপাবলিকানরা।
মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি ভোটাররা কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন ও সিনেটের ৩৪টি আসনের সিনেটর নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন। বার্তা সংস্থা এপির তথ্য অনুযায়ী, সিনেটের যেসব আসনের ফলাফল এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে তাতে রিপাবলিকানরা এরইমধ্যে ৫২টি আসন নিশ্চিত করেছেন এবং ডেমোক্র্যাটরা ৪৪টি আসন পেয়েছেন। মার্কিন সিনেটে আসন সংখ্যা ১০০। বর্তমান সিনেটে ডেমোক্রেটিক পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল; কিন্তু এখন এর নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে চলে যাচ্ছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে কোনো প্রকার বিভাজনের রাজনীতি না করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
এসময় মন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পর জুলাইকে নিয়ে রাজনৈতিক ভাগাভাগি শুরু করলে এই ঐতিহাসিক অর্জন কারোরই থাকবে না, তাই এমন বিভক্তি থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী আনা হবে, যা হবে এই শতাব্দীর একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন আগামী সংসদে উত্থাপন করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চব্বিশের এই মুক্তি ৩৬ দিনের কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ বছরের রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ, গুম ও নির্যাতনের চরম পরিণতি।
রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারে সরকার আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুসরণে আইন সংশোধন করা হয়েছে যাতে ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনেরও বিচার সুগম হয় এবং আদালতই ঠিক করবে এদের পরিণতি কী হবে।
ফ্যাসিবাদী আচরণের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ সংরক্ষিত থাকবে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হাজারো তর্ক-বিতর্ক থাকলেও ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধে পুরো জাতিকে সর্বদা ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে জাতীয় ঐক্য দৃঢ় করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে এই অভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছিল বিএনপির নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। সেই সময় থেকে ক্ষুদ্র রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে, সব ভেদাভেদ ছাপিয়ে গণতন্ত্রকামী প্রতিটি শক্তির একমাত্র পরিচয় হয়ে উঠেছিল–তারা বাংলাদেশের পক্ষে।
বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সৃষ্টি হয়েছিল ‘ফ্যাসিবাদ বনাম বাংলাদেশ’ এক নতুন মেরুকরণ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আজ দুই বছর পূর্তিতে সেই ঐক্যের মাঝে এক ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দূরত্ব দৃশ্যমান। আমাদের নিজেদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক থাকতে পারে, ইতিবাচক সমালোচনা হতে পারে; তবে কোনো ধরনের অশালীন আচরণ না করেও একে অপরকে প্রশ্ন করা যায়, প্রজ্ঞা ও ইতিবাচকতার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা যায়। ভিন্নমতকে ধারণ করেই পলাতক ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান যেন না ঘটে, সেই লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য দৃঢ় করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে, আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার বীরত্বপূর্ণ অংশগ্রহণে সংঘটিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনবদ্য অধ্যায়ের সূচনা করে।
তিনি বলেন, গণমানুষের জোয়ারের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় এবং বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় এগিয়ে যায়। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের রক্তে রঞ্জিত এই দিন জাতীয়ভাবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে।
ঐতিহ্যগতভাবেই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিএনপির দীর্ঘ সংগ্রাম ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের গৌরবময় পটভূমি রচনা করেছে। এই লড়াইয়ে আপসহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার দৃঢ় নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা আন্দোলনকে শক্তি ও প্রেরণা জুগিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত শক্তি ছিল সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ও ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণ। নারীদের পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিক, কৃষক এবং পোশাকশ্রমিকসহ দল-মত-পেশার ঊর্ধ্বে উঠে সবাই এতে অংশ নেন। এটি ছিল মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, বাকস্বাধীনতা হরণ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, ভোটাধিকার লুণ্ঠন ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে অদম্য প্রত্যয়ের সমন্বিত প্রকাশ।
সরকার মানুষের এই স্রোত দমাতে নির্মমভাবে গুলি চালিয়েছে, যার মধ্যে শহীদ আবু সাঈদ ও ছাত্রদল নেতা শহীদ ওয়াসিম আকরামের বীরত্ব জাতিকে অনুপ্রাণিত করেছে।
মাহদী আমিন জানান, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। এই বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে গণতন্ত্রকামী শক্তির ঐক্য বজায় রাখা আজ সময়ের দাবি।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তির নয়, এর আসল নায়ক দেশের জনগণ। ১৯৭১ সালের মতো ২০২৪-এর শহীদদেরও জাতি কখনো ভুলবে না। বিগত ১৫ বছর ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার বিএনপি এখন রাষ্ট্র পরিচালনায় রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৩১ দফা, নির্বাচনী ইশতেহার ও সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা বর্তমান জাতীয় সংসদের প্রধান দায়িত্ব।
তিনি বলেন, আমাদের এই জাতীয় সংসদের এবং বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো জুলাইতে যারা জীবন দিয়েছে এবং জুলাইতে যাদের অঙ্গহানি হয়েছে তাদের প্রতি যেন আমরা সুবিচার করতে পারি। যে জন্য জুলাই শহীদরা তাদের জীবন দিয়েছে জুলাই যোদ্ধারা আহত হয়েছে তাদের সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা এই সংসদের প্রধান দায়িত্ব।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আজকের দিন আমাদের বিজয়ের দিন। আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে তাদের স্মরণ করছি যারা বুকের রক্ত দিয়ে জীবন দিয়ে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে এনেছে, বাংলাদেশকে মানুষের বাসযোগ্য একটি বাসভূমিতে পরিণত করেছে ‘ এ সময় তিনি সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জীবন বাজি রেখে সংগ্রাম করে স্বৈরশাসনকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছেন। এটি একটি গৌরবময় ইতিহাস, যা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে গর্ব করবে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যেন জুলাইকে হারিয়ে না ফেলি। জুলাইকে যেন ধারণ করতে পারি। আমরা যেন জনগণের চেতনাকে, জনগণের আশাকে বাস্তবায়ন করতে পারি এটি হওয়া উচিত আমাদের আজকের সংকল্প।’
তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা অঙ্গীকার করি, জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে জাতীয় জীবনের প্রেরণায় রূপ দেব। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুদৃঢ় করব। জাতীয় সংসদের মর্যাদা এবং কার্যকারিতা সমুন্নত রাখবো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এমন একটি বাংলাদেশ রেখে যাব, যেখানে ক্ষমতার নয়, জনগণের স্বার্থই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ মানদণ্ড।
এ সময় তিনি সব গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতি ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলার আহ্বান জানান।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বর্তমান সংসদকে গণ-অভ্যুত্থানের ফসল বলে আখ্যায়িত করে বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুদৃঢ় করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে এই সংসদকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান জাতীয় সংসদ একটি ব্যতিক্রমধর্মী সংসদ এবং এটি গণ-অভ্যুত্থানের ফসল। নতুন বাংলাদেশ গঠনে এ সংসদের ওপর অনেক দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি বলেন, সংসদের নারী সদস্যদের মধ্যে ডাক্তার, প্রকৌশলী, ব্যারিস্টারসহ বিভিন্ন পেশার উচ্চশিক্ষিত প্রতিনিধি রয়েছেন। একইভাবে সরাসরি নির্বাচিত সদস্যরাও একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন এবং তারা প্রকৃত জনপ্রতিনিধি।
এসময় তিনি সবাই মিলে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করতে সক্ষম হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ যেমন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ ছিল, তেমনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংঘটিত হয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানকে একদিন বা দুদিনের ঘটনা নয়, দীর্ঘ ১৬ বছরের অক্লান্ত সংগ্রামের ফল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের শেষে তিনি মহান আল্লাহর কাছে বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও গণতন্ত্রের সুদৃঢ় ভিত্তি কামনা করেন। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং জনগণের কল্যাণে সততা, প্রজ্ঞা ও ন্যায়ের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের তৌফিক প্রার্থনা করেন।
জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া।
এর আগে তিনি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন। বিকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
সূত্র: বাসস
ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের পরিবারকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যে, আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করা হবে। সরকারপ্রধান উল্লেখ করেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিটি অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তিনি ঘোষণা দেন, বিগত ১৭ বছরের দুঃশাসন এবং জুলাই অভ্যুত্থানে যারা শহীদ কিংবা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে নিজ নিজ এলাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হবে।
রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন শেষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ আশা করে এই জাদুঘর কোনো একটি দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির একক রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা দলের নয়। এই অভ্যুত্থানের মহানায়ক বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।’
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানের মেলবন্ধন টেনে তিনি মন্তব্য করেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের। আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের মানুষ যেমন ভুলে যায়নি, একইভাবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদেরকেও জনগণ কখনোই ভুলবে না।’
দেশের চলমান পরিস্থিতিতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কৃত্রিম ইস্যু তৈরি করে কেউ যেন স্বৈরাচারের প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম না করে, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারী শাসনামলের অবর্ণনীয় নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আজকের এই দিনটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে আরেকটি যুগান্তকারী মাইলফলক। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম ও অপহরণের শিকার হয়েছিলেন। লাখ লাখ মানুষ নির্যাতন, নিপীড়ন, হামলা ও মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছিলেন। শুধু জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেই শহীদ হয়েছেন হাজারো ছাত্র-জনতা, নারী ও শিশু।’
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ঠেকাতে ফ্যাসিস্ট চক্র হেলিকপ্টার থেকে গুলি করেও গণতন্ত্রকামী জনগণকে হত্যা করেছিল। পতিত, পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের এমন নৃশংসতা, এমন বর্বরতা সভ্য জগতে বিরল। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম-খুন ও অপহরণকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করে ফেলা হয়েছিল। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই নৃশংসতা শুধু স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে তিন বছরের দুঃশাসনের সঙ্গেই তুলনা চলে।’
জাদুঘরটির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, এটি শুধু অতীতের স্মৃতিস্তম্ভ নয়, বরং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সাহসিকতার দলিল হয়ে থাকবে। ইতিহাসের সত্যতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘অসম্পূর্ণ, অতিরঞ্জিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান ইতিহাসকে শক্তিশালী করে না; বরং ইতিহাসের বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করে এবং ভবিষ্যৎ বিভেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং, প্রতিটি বিষয়ে যথাসম্ভব সত্যতা থাকা প্রয়োজন। একইসঙ্গে জাদুঘরে রাখা বিষয়াবলি সম্পর্কে বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি এবং অন্যান্য ভাষায়ও উপস্থাপিত হলে বিশ্বের ভিন্নভাষী মানুষও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে সুবিধা হবে।’
অতীতের রাজনৈতিক পটভূমি স্মরণ করে তিনি উল্লেখ করেন, ‘তাদের পূর্বসূরিরা ১৯৭৫ সালে সংবিধান পরিবর্তন করে দেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিল। পরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। এসব ইতিহাস জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অবশ্যই উপকৃত হবে।’
আহতদের চিকিৎসা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, জুলাই যোদ্ধাদের জন্য সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসহ গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক ও রাশিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে অর্ধশত যোদ্ধা দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ১৩ হাজারের বেশি যোদ্ধাকে নিয়মিত সম্মানী ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ৩১ দফা ও জুলাই সনদের ভিত্তিতে একটি স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু হয়েছে। সবশেষে সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি ঘোষণা দেন, ‘বাংলাদেশ আর কখনো কোনো তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।’
অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সরকারের শীর্ষপর্যায় ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শেষে দেশাত্মবোধক গান ও আবৃত্তির মাধ্যমে অভ্যুত্থানের চেতনা ফুটিয়ে তোলা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা মিতুর খোঁজ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আহত যোদ্ধা মিতু হাসপাতালের শয্যা থেকে আজ সরাসরি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’- এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আজ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে কাছে ডেকে আন্তরিকভাবে কথা বলেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী মিতুর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান এবং তাঁর সাহস ও আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানান।
এরআগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, আজ আমন্ত্রিত অতিথিদের একজন ছিলেন মিতু, যিনি চব্বিশের জুলাই যুদ্ধে আহত হয়ে এখনও চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল থেকে সরাসরি অনুষ্ঠানে যোগ দেন মিতু।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর এই আন্তরিক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে।
প্রধানমন্ত্রীর পাশে তাঁর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও এ সময় ছিলেন।
সূত্র: বাসস
নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তার জবাবে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “তারা বলে ডিসেম্বরে দেশে আসবে। আমরা অপেক্ষা করছি। দেশে আসুন, ইনশাল্লাহ রাজপথে দেখা হবে।” জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও অকুতোভয় যোদ্ধাদের সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি দেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের কড়া সমালোচনা করে বলেন যে গুম, খুন, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দলটির মধ্যে কোনো অনুশোচনা বা দায়বদ্ধতা নেই। নিজের দেশপ্রেমের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “২৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। এখন ৮২ বছর বয়সে বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন হলে আবারও লড়াই করব।” তিনি জুলাই অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের পুনর্বাসন ও আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন—উভয় সংগ্রামের মূল লক্ষ্যই ছিল দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করা। তিনি মনে করেন, সুষ্ঠু নির্বাচনই হলো গণতন্ত্রের মূল চালিকাশক্তি এবং দেশাত্মবোধের প্রশ্নে সকল রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবি না থাকাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলাকে তিনি ‘অনভিপ্রেত’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন যে, ভুলবশত এটি ঘটেছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। এরপরও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথিদের সামনে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে হট্টগোল করা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে তিনি ব্যথিত ও দুঃখিত হয়েছেন। অনুসারীদের শৃঙ্খলার সাথে আচরণ করার এবং নেতার নির্দেশ পালনের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরকে দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের এক জীবন্ত দলিল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বুধবার রাজধানীতে আয়োজিত জাদুঘর উদ্বোধন অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে তিনি সুদৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন যে, “কোনো ত্যাগ, কোনো সংগ্রাম কোনোদিন বৃথা যায় না। ইতিহাস কখনো মিথ্যা হয় না। জুলাই গণঅভ্যুত্থান তারই উজ্জ্বল প্রমাণ।” মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দীর্ঘ প্রায় বিশ বছরের স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত সার্থকতা ছিল এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান।
এই আন্দোলনে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের সেই অসামান্য অবদান জাতীয় ইতিহাসে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে। মন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গভীরতা ও তাৎপর্য বিশ্লেষণ করলে এটি স্পষ্ট হয় যে, কীভাবে গণতন্ত্রের নামাবলি গায়ে দিয়ে একটি রাষ্ট্র তার সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে সাধারণ জনগণের ওপর নৃশংস নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে পারে। তিনি জানান, সেই রক্তক্ষয়ী ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের তরে যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের লক্ষ্যেই এই বিশেষ জাদুঘরটি স্থাপন করা হয়েছে।
নিতাই রায় চৌধুরী আরও তথ্য প্রদান করেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই এই স্মৃতি জাদুঘরের প্রাথমিক পরিকল্পনা ও কার্যক্রম শুরু হয় এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এটি আজ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। তিনি বলেন, এই জাদুঘরটি কেবল একটি প্রদর্শনী কেন্দ্র নয়, বরং এটি একটি নিয়মিত গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হবে। নতুন প্রজন্ম যেন এই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা, সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা এবং একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন করতে পারে, সেখানে সেই পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অভূতপূর্ব সাফল্যের কথা স্মরণ করে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, এই আন্দোলন বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে জনরোষের মুখে মাত্র ২০ দিনের মাথায় একটি সুসংগঠিত ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। তাঁর মতে, ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট—এই সংক্ষিপ্ত সময়েই তাসের ঘরের মতো ধসে পড়েছিল স্বৈরাচারী শক্তির দীর্ঘদিনের সাজানো সাম্রাজ্য। জুলাই গণঅভ্যুত্থান মূলত সেই অদম্য ইতিহাসেরই এক অবিনাশী নাম বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন। মূলত জুলাই আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পৌঁছে দেওয়াই এই জাদুঘরের মূল অভীষ্ট।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ কেবল জুলাই অভ্যুত্থানের চিহ্ন নয়, বরং বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এক অনন্য প্রতিফলন। তিনি বিশ্বাস করেন, “এই জাদুঘর পরবর্তী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।”
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারপ্রধান বলেন, “জুলাই স্মৃতি জাদুঘর আগামী প্রজন্মের সামনে বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের মুখোশ উন্মোচ করবে।” জাতীয় স্মৃতিতে এদেশের মানুষের লড়াই, আত্মবিসর্জন ও বীরত্বকে ধরে রাখতে এটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই জাদুঘর আমাদের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ আর সাহসকে জাতীয় স্মৃতিতে ধারণ করার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ।”
এ সময় আজকের দিনটিকে দেশের ইতিহাসের একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আজকের এই দিনটি দেশের জন্য যুগান্তকারী মাইলফলক। সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।”
বিগত শাসনের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, “ফ্যাসিবাদের আমলে গুম-খুনকে স্বাভাবিক করে ফেলা হয়েছিল।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “ইতিহাস স্বাক্ষী, বিতাড়িত ফ্যাসিবাদ চক্র দেশে গণতান্ত্রিক শাসন মেনে নিতে পারেনি।”
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে নবপ্রতিষ্ঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধনের পর এর বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী কক্ষগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনার পর তিনি সেখানে সংরক্ষিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক নিদর্শন, অসামান্য আত্মত্যাগ এবং সংগ্রামের দালিলিক চিত্রগুলো অবলোকন করেন। সকাল ৯টায় ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক জাদুঘরের যাত্রা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী।
উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে নিয়ে জাদুঘরের প্রতিটি গ্যালারি ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে তিনি আন্দোলনের কালানুক্রমিক ঘটনাপ্রবাহ, দুর্লভ আলোকচিত্র এবং বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের বিভিন্ন স্মারক অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। জাদুঘরের সাজসজ্জা ও প্রদর্শনীতে গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায় এবং মুক্তিকামী মানুষের বীরত্বগাথাকে জীবন্ত করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
অনুষ্ঠানে সরকারের শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রীগণ, সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো শহীদদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও আত্মত্যাগের সঠিক ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হৃদয়ে অমলিন রাখাই এই জাদুঘর স্থাপনের প্রধান লক্ষ্য। উল্লেখ্য যে, উদ্বোধনের দিনটি শুধুমাত্র বিশেষ অতিথি ও শহীদ পরিবারের জন্য সংরক্ষিত থাকলেও আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘরটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। মূলত আন্দোলনের চেতনাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতেই এই বিশেষ স্থাপত্যটি নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা ও সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের লক্ষ্যে আজ সকালে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর শুভ উদ্বোধন করেছেন। বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী রক্তঝরা আন্দোলনের স্মৃতি পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই বিশেষ জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এই জাদুঘরের দাপ্তরিক উদ্বোধন সম্পন্ন করেন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাদুঘর উদ্বোধনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী কক্ষ ঘুরে দেখেন। তিনি সেখানে সংরক্ষিত দালিলিক প্রমাণ, দুর্লভ আলোকচিত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন স্মারক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আন্দোলনের পরিক্রমা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানিয়েছেন যে, উদ্বোধনের দিনটি শুধুমাত্র আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। তবে সাধারণ দর্শকদের জন্য ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ আগামী ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার থেকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। মূলত আন্দোলনের চেতনাকে জাগ্রত রাখা এবং জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে দৃশ্যমান করাই এই জাদুঘর স্থাপনের প্রধান লক্ষ্য।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ ও তীব্র প্রতিরোধের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেয়। এর মাধ্যমে প্রায় ১৬ বছরের হাসিনা শাসনের অবসান ঘটে। বাংলাদেশ এক ভয়ঙ্কর ফ্যাসিবাদী শাসনের কবল থেকে মুক্তি পায়।
চব্বিশের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের জনগণের জন্য একদিকে যেমন বিজয়ের, অন্যদিকে ততটাই মর্মান্তিক।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তথ্য অনুযায়ী, এ বিজয় অর্জনে হাজারো শহীদ, ২৩ হাজারেরও বেশি আহত, সাত শতাধিক মানুষ দৃষ্টিহারা, হাজারো মানুষের পঙ্গুত্ববরণ, হাজারো সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষার্থীর কারাবরণ, নির্যাতন-নিপীড়নের অবর্ণনীয় ত্যাগ রয়েছে এ অর্জনে। রয়েছে প্রিয়জন, স্বজন এবং সন্তান হারানোর করুণ আর্তনাদ। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারিক কার্যক্রম চলছে।
চব্বিশের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৬টি মামলায় রায় ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আলোচিত ৬টি রায়ে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি এসব মামলার অপর আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চলমান বিচারের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের বিচারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে যে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয়েছিল, এখন পর্যন্ত দুটি ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ৬টি রায়ের মাধ্যমে সে প্রতিশ্রুতি অনেকাংশে পূরণ হয়েছে। দেশের অন্য কোনো আদালতের চেয়ে অনেক কম সময়ে সেনসিটিভ ৬টি মামলায় যে রায় ঘোষণা করা হয়েছে, তা অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক। এখনো অনেকগুলো মামলা বিচারাধীন রয়েছে, দুটি ট্রাইব্যুনালে সেগুলোর বিচার চলছে এবং সেগুলো বিচারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। আশা করি, আমাদের ট্রাইব্যুনাল চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সব বিচার নিশ্চিত হবে।
যেভাবে হাসিনার পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে: ৫ আগস্টের কারফিউ উপেক্ষা করে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি সফল করতে হাজার হাজার মানুষ রাজধানী ঢাকার অভিমুখে পদযাত্রা করেন। দেশজুড়ে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করার পর জনতার উল্লাসে চারদিক মুখরিত হয়ে ওঠে। শেখ হাসিনার ক্ষমতার আধিপত্য এবং আওয়ামী লীগের কথিত রাজনৈতিক দুর্গ যেন মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে।
রাজধানীর রাজপথ দখলে নেয় লাখ লাখ মানুষ। তাদের মধ্যে হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা শেখ হাসিনার তৎকালীন বাসভবন গণভবনে প্রবেশ করে বিজয় উদ্যাপন করা শুরু করে। শুধু গণভবন নয়, শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পর অসংখ্য মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জাতীয় সংসদেও প্রবেশ করে। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শিশু, বৃদ্ধ, শ্রমজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থী সবাই রাজপথে নেমে দীর্ঘদিনের একনায়কতান্ত্রিক শাসনের পতন উদ্যাপন করে।
হাসিনার পতনের আনন্দে রাজপথে অসংখ্য মানুষ শুকরিয়া আদায়ে সেদিন নফল নামাজ আদায় করেন।
শেখ হাসিনা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করেন। ৫ আগস্ট রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। দুপুরের দিকে হাজার হাজার মানুষ শাহবাগে জড়ো হতে থাকেন। শেখ হাসিনা হঠাৎ দেশত্যাগ করার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজধানীসহ সারা দেশে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালায়। এতে অনেক মানুষ নিহত ও আহত হন।
দেশের মানুষ কখনো কল্পনাও করতে পারেনি, ১ জুলাই শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলন একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার সম্মিলিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এ রূপ নেবে।
শিক্ষার্থীরা শুরুতে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিকে কেন্দ্র করেই রাজপথে নামেন। ২০১৮ সালে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের আন্দোলনের মুখে সরকার এক প্রজ্ঞাপনে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে দেয়। ২০২৪ সালের জুনে হাইকোর্ট সেই প্রজ্ঞাপনকে অবৈধ ঘোষণা করে কোটা পুনর্বহালের রায় দেন।
হাইকোর্টের রায়ে ফের ৫৬ শতাংশ কোটা প্রথা পুনর্বহাল হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। মেধাবী শিক্ষার্থীদের বঞ্চনার প্রতীক হিসেবে এই কোটা পুনর্বহালকে তারা প্রত্যাখ্যান করে এবং তীব্র ছাত্র আন্দোলন গড়ে ওঠে।
সরকার শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন দমন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সমর্থক ক্যাডারদের মাঠে নামিয়ে দেয়, যার ফলে এ আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর আওয়ামী ক্যাডার বাহিনীর হামলার চিত্র মনে হলে এখনো গা শিউরে ওঠে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন এবং প্রায় ২০ হাজার মানুষ আহত হন। যার ফলে দেশ রক্তাক্ত এক প্রান্তরে পরিণত হয়।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫ আগস্ট সকাল থেকেই ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা শাহবাগে আসতে শুরু করেন। তারা যখন কারফিউ ও পুলিশের ব্যারিকেড উপেক্ষা করে রাজধানীতে প্রবেশের চেষ্টা করেন, তখনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা মূলত ৬ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু ৩ ও ৪ আগস্ট আওয়ামী লীগের ‘রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের’ নামে চালানো হামলায় যথাক্রমে অন্তত ৯৩ ও ৬৬ জন নিহত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কর্মসূচির সময় এগিয়ে এনে ৫ আগস্ট নির্ধারণ করেন।
আন্দোলন যখন সহিংস হয়ে ওঠে, সমন্বয়করা সারাদেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায় স্বীকার করে শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়াসহ বেশ কয়েকটি দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার তা না করে আন্দোলন দমনে কৌশল অবলম্বন করে। একপর্যায়ে ৯ দফা ঘোষণা করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ছাত্র সমন্বয়করা।
এরপর চব্বিশের ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক জনসভায় শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবি তুলে এক দফা ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা।
শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণার পর আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন আরও বেড়ে যায়। এরপর আন্দোলনকারীরা ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দিনটিকে তারা ‘৩৬ জুলাই’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাদের মতে, শেখ হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত জুলাই মাস শেষ হবে না।
অবশেষে আসে সেই ঐতিহাসিক দিন ৫ আগস্ট। ভোরে আলো ফুটতেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ও শহরতলি থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজধানীর শাহবাগ অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। ঢাকার বাইরে থেকেও হাজার হাজার মানুষ পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে রাজধানীতে আসার চেষ্টা করেন।
পরিস্থিতি তখন ছিল চরম উত্তেজনাপূর্ণ ও অস্থির। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হাজার হাজার মানুষ জীবন দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। কোনো কিছুই তাদের থামাতে পারেনি। তারা যেকোনো নিরাপত্তাব্যবস্থাকে পদদলিত করে গণভবনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনা উপলব্ধি করেন, বাংলাদেশের মাটিতে এটাই তার শেষ মুহূর্ত। এবার বিদায় নিতে হবে।
এরপর শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং তার ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে একটি সামরিক হেলিকপ্টারে করে ভারতের উদ্দেশে দেশত্যাগ করেন। এর মধ্য দিয়ে তার দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে রাজপথ কাঁপানো বিভিন্ন স্লোগান আন্দোলনকে বেগবান করেছিল। সেই স্লোগানগুলো অধিকার আদায়, প্রতিবাদ ও সরকার পতনের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। প্রাথমিক প্রতিবাদ ও মেধার স্লোগান ছিল-‘কোটা না মেধা? মেধা! মেধা!’, ‘চাইলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার!’, ‘আমি কে, তুমি কে? রাজাকার, রাজাকার! কে বলেছে, কে বলেছে? স্বৈরাচার, স্বৈরাচার!’, ‘আপোস না সংগ্রাম? সংগ্রাম! সংগ্রাম!’ এবং ‘দালালি না রাজপথ? রাজপথ! রাজপথ!’
প্রতিরোধ ও প্রতিবাদের স্লোগান ছিল-‘আমার ভাই মরল কেন? প্রশাসন জবাব চাই!’, ‘আমার খায়, আমার পরে, আমার বুকেই গুলি করে!’, ‘তোর কোটা তুই নে, আমার ভাই ফিরিয়ে দে!’, ‘লাশের ভেতর জীবন দে, নইলে গদি ছাইড়া দে!’ এবং ‘ভয় পেলে শেষ, লড়লে বাংলাদেশ!’
সরকার পতনের চূড়ান্ত স্লোগান ছিল-‘এক দুই তিন চার, শেখ হাসিনা গদি ছাড়!’, ‘দফা এক, দাবি এক, হাসিনা সরকারের পতন!’ এবং ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ!’
লন্ডনে থেকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মুখে উচ্চারিত বিভিন্ন স্লোগান আন্দোলনে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। উল্লেখ্য, বিতর্কিত ১/১১ এর জরুরি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়ে দীর্ঘদিন লন্ডনে নির্বাসিত ছিলেন তিনি।
তারেক রহমানের স্লোগানগুলো ছিল: ‘যদি তুমি ভয় পাও, তবে তুমি শেষ; যদি তুমি রুখে দাঁড়াও-তবেই তুমি বাংলাদেশ।’ ‘দফা ১, দাবি ১, খুনি হাসিনার পদত্যাগ।’
তবে স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্ত করে জনগণের বাংলাদেশ জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার মূল লক্ষ্য নিয়ে ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’ স্লোগানটি আন্দোলনকারীদের মাঝে জোরালো প্রচার পায়।
কোটা সংস্কার আন্দোলন তীব্র রূপ ধারণ করার পর তারেক রহমান সরাসরি এই এক দফা দাবির স্লোগানটি সামনে নিয়ে আসেন। সেটি হলো-‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ স্বৈরাচার পতন ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের ডাক দিতে গিয়ে তিনি এই স্লোগানটির ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেন।
আগামী প্রজন্মের স্বার্থ ও দেশের ভবিষ্যৎ প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে সংবিধান সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। এটি কোনো স্বল্পমেয়াদি উদ্দেশে নয় জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘সংবিধান সংশোধন আমরা এক বছর বা দুই বছরের জন্য নয়, আগামী প্রজন্মের জন্য করব, যাতে জনগণ এর সুফল পায়। সে জন্য সময়ের আকাঙ্ক্ষা, সময়ের পরিবর্তন এবং জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে আমরা সংবিধান সংশোধন করব।’
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, সংবিধান একটি চলমান ও সময়োপযোগী দলিল। তাই সময়ের পরিবর্তন, জনগণের প্রত্যাশা এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। তিনি এ প্রক্রিয়ায় সকল রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ, অংশীজন ও জনগণের গঠনমূলক অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি জানান, বর্তমান সংসদের বিশেষ করে বিরোধী দলের অধিকাংশ সদস্য প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের গভীরভাবে অনুধাবন করে কার্যকর অবদান রাখতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের দরজা খোলা আছে। তারা যখনই আসবেন, তখনই আমরা তাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করব।’
আন্তর্জাতিক উদাহরণ তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, ভারতে বহুবার এবং যুক্তরাষ্ট্রেও সফলভাবে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। তাই দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের বিকল্প নেই।
চিফ হুইপ বলেন, সংবিধানের প্রতিটি সংশোধন ও সংস্কারের ক্ষেত্রে সরকার সব রাজনৈতিক দলের মতামতকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। বিশেষ করে বিরোধী দলের মতামত গ্রহণে সরকার আন্তরিক থাকবে। তিনি বলেন, ‘যখনই তারা (বিরোধী দল) মতামত দেবেন, তখনই তাদের মতামত নিয়ে আমরা এই কাজটা করব।’
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের প্রতিটি সংশোধন ও সংস্কারের ক্ষেত্রে সরকার সব রাজনৈতিক দলের মতামতকে গুরুত্ব দেবে। বিশেষ করে বিরোধী দলের মতামত গ্রহণে সরকার আন্তরিক থাকবে। যখনই তারা মতামত দেবেন, তখনই তাদের মতামত নিয়ে আমরা এই কাজটি করব।
সরকার চলতি অর্থবছরে মোট ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য উপাসনালয়ের ব্যক্তিবর্গকে মাসিক সম্মানি ভাতা দেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য মাসিক সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক গঠিত সেপলর ৭ম সভা মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) এবং সেল সভাপতি মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানী প্রদানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১,১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রথম বছরে দেশের মোট এর চতুর্থাংশ ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন সুবিধাভোগীকে এ ভাতা প্রদান করে আগামী চার বছরে শতভাগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এর আওতায় আসবে। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরে ৮২,৬৫৬টি মসজিদের ২,৪৭,৯৬৮ জন, ৩০০০ মন্দিরের ৬০০০ জন, ৭৫২ টি বৌদ্ধ বিহারের ১৫০৪ জন এবং ৩০১ টি গির্জার ৬০২ জন উপোকারভোগীকে এ অর্থ প্রদান করা হবে।
মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের ৬০১৭টি নির্বাচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের মোট ১৩,৯৪৯ জনকে সম্মানি প্রদান করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, মাসিক ভিত্তিতে ইমাম, পুরোহিত, বিহার অধ্যাক্ষকে ও যাজকদের ৫০০০ টাকা, মুয়াজ্জিন, সেবাইত, বিহার উপধ্যাক্ষ ও সহকারি যাজকদের ৩০০০ এবং মসজিদের খাদেমদের ২০০০ টাকা হারে এ সম্মানি প্রদান করা হবে। এছাড়া বছরে প্রত্যেকে ২০০০ টাকা করে উৎসব ভাতা পাবেন। উপকারভোগীর চাহিদা অনুযায়ী মোবাইল ব্যাংকিং বা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এ অর্থ প্রদান করা হবে।
সভায় স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, গাইবান্দা-৪ এর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্ম মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর মহাপরিচালক, এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক এবং অর্থ বিভাগ ও স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।