ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের আদানি গড্ডা পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আদানি গ্রুপকে আরও ২ হাজার কোটি টাকার (প্রায় ১৭৩ মিলিয়ন ডলার) অর্থায়ন করেছে। শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসের একটি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আদানি পাওয়ার এ অর্থায়নের বিষয়ে একটি নতুন লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) পেয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) থেকে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে বিদ্যুতের জন্য আদানি গ্রুপের কাছে আগের বকেয়া রয়েছে ৮৪৩ মিলিয়ন ডলার, যা সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে পরিশোধের বিষয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। এর ফলে গত রোববার টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘৭ নভেম্বরের মধ্যে ৮৫০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া পরিশোধ না করা হলে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করবে আদানি পাওয়ার।’ এমন পরিস্থিতিতে, বিদ্যুৎ সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিপিডিবি নতুন এ এলসিটি ইস্যু করে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন এলসি বাংলাদেশের কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে ভারতের আইসিআইসিআই ব্যাংকে প্রদান করা হয়েছে, যা আদানি গ্রুপকে দেওয়া তৃতীয় এলসি। এ ছাড়া আগের এলসিগুলো বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির সঙ্গে সমন্বিত ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঝাড়খন্ডের গোড্ডায় আদানি পাওয়ারের দুটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট রয়েছে, যেগুলোর ক্ষমতা ৮০০ মেগাওয়াট করে এবং সম্পূর্ণ উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানি করা হয়। এটি বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ করে। এদিকে, আদানি পাওয়ার বাংলাদেশ থেকে অতিরিক্ত ১৫-২০ মিলিয়ন ডলার দাবি করেছে এবং এ দাবি পূরণ না হলে বন্ধ থাকা ৮০০ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিট পুনরায় চালু করবে না বলে জানিয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কারণে আমদানিকৃত বিদ্যুৎ ও তেলের জন্য অর্থ প্রদান চ্যালেঞ্জে পড়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ২৫ বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ এই বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তির আওতায় প্রতি মাসে বাংলাদেশকে ৯৫ থেকে ৯৭ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হয়। তবে সম্প্রতি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটের ফলে এ অর্থ প্রদানে অসুবিধা হচ্ছে। আইএমএফের সঙ্গে পূর্বের ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ ছাড়াও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার অতিরিক্ত ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ চেয়েছে, যা এই সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হয়ে উঠতে পারে। এর আগে বিদ্যুৎ বাবদ পাওনা পরিশোধের জন্য বাংলাদেশকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় আদানি গ্রুপ। তবে এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হলে সুর নরম করে আদানি গ্রুপ। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বাবদ পাওনা পরিশোধের জন্য সময় বেঁধে দেওয়ার আলটিমেটামের বিষয়টিও অস্বীকার করে তারা। আদানি বলেছে যে ৮৫ কোটি ডলারের বকেয়ার পুরোটা তারা ৭ নভেম্বরের মধ্যে চায়নি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি আকস্মিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় চিকিৎসকরা তাঁকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল তাঁর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন এবং প্রয়োজনীয় সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হচ্ছে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সেলিমা রহমানের হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিএনপির রাজনৈতিক মহলে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রবীণ এই নেত্রীকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।
বেগম সেলিমা রহমানের পরিবার এবং বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁর আশু রোগমুক্তির জন্য দেশবাসীর কাছে বিশেষ দোয়া প্রার্থনা করা হয়েছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং নতুন সরকারের কর্মতৎপরতার মধ্যে দলের এই প্রবীণ নীতি নির্ধারকের অসুস্থতা নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন, নিবিড় চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হতে পারবেন। হাসপাতালের পক্ষ থেকে তাঁর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নিয়মিত আপডেট তাঁর পরিবার ও দলকে অবহিত করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আজ রবিবার সকালে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন। বেলা ১১টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নবগঠিত সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সাথে রাষ্ট্রদূতের এই সাক্ষাৎকে দুদেশের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একান্ত এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জনশক্তি রপ্তানি এবং বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি নিয়ে উভয় পক্ষ অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি সৌদি আরবের অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীও সৌদি আরবকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে অভিহিত করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সচিবালয়ে আজ ছিল প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ব্যস্ত এক কর্মদিবস। সকাল ৯টা ৫ মিনিটে তিনি সচিবালয়ে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। এরপর প্রধানমন্ত্রী তাঁর দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন। সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাথে সাক্ষাতের আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ বৈদেশিক নীতির গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। এই বৈঠকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই নিয়মিত উপস্থিতি এবং বিদেশি কূটনীতিকদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতির সঞ্চার করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সাথে বিশেষ আলোচনার পর সৌদি রাষ্ট্রদূতের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ দুই দেশের ভ্রাতৃত্বপ্রতিম সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন। সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে অভিবাদন জানান এবং বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। দুপুরের পর প্রধানমন্ত্রীর আরও কিছু দাপ্তরিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে আজ সচিবালয় ছিল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজ নিয়ে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের আর্থিক বিরোধের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) বড় ধরনের অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে একটি আন্তর্জাতিক সালিশি বোর্ড। গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় ঘোষিত রায়ে বেবিচককে বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম’ (এডিসি)-এর পাওনা বাবদ প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা সমপরিমাণ অর্থ অবিলম্বে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির তিন বিশেষজ্ঞ বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত এই বোর্ড উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি ও নথি পর্যালোচনার পর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করে। মূলত নির্মাণ কাজের বিভিন্ন পর্যায়ের দেনা-পাওনা এবং অর্থ ছাড়ে বিলম্বকে কেন্দ্র করে এই আইনি জটিলতার সূত্রপাত হয়েছিল।
রায়ের বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের এপিসিএস-৪৮ এবং ৫২-৫৪ শিরোনামের কাজের বিপরীতে এডিসিকে ৫৮৯ কোটি ৮৬ লাখ জাপানি ইয়েন এবং ২৭২ কোটি ৯ লাখ টাকা প্রদান করতে হবে। এর পাশাপাশি রিটেনশন মানির দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে আরও দুটি বিশাল অঙ্কের অর্থ—প্রায় ৬০২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা এবং ৪০০ কোটি ৪২ লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে বোর্ড। পাওনা পরিশোধে বিলম্ব হওয়ার কারণে এবং রিটেনশন মানি ছাড় করতে দেরি করায় সৃষ্ট অতিরিক্ত অর্থায়ন চার্জ বাবদ আরও ২২ কোটি ২৯ লাখ ইয়েন এবং ২৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা যোগ হয়েছে। সব মিলিয়ে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ পরিশোধের দায় এখন বেবিচকের ওপর বর্তেছে, যা প্রকল্প ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সালিশি বোর্ডের পর্যবেক্ষণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনি দিক উঠে এসেছে। রায়ে বলা হয়েছে, প্রকল্পের কাজের পরিধি যেভাবে বাড়ানো হয়েছিল, তা আইনগতভাবে পুরোপুরি বৈধ ছিল না। এছাড়া কাজের ডিফেক্ট নোটিফিকেশন পিরিয়ড বা ডিএনপি ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি শেষ হলেও পারফরম্যান্স সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য এখনো উপযুক্ত সময় হয়নি। একারণেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এডিসি’র পারফরম্যান্স সিকিউরিটি ফেরত দেওয়ার আবেদনটি নাকচ করে দিয়েছে বোর্ড। সালিশি বোর্ড স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের এই সিদ্ধান্ত উভয় পক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক এবং পারস্পরিক সমঝোতা বা চূড়ান্ত কোনো আইনি পরিবর্তন ছাড়া এটি অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। অ্যাডজুডিকেশন পদ্ধতির ব্যয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে বেবিচকের একক কোনো এখতিয়ার নেই বলেও রায়ে সতর্ক করা হয়েছে।
এই বিশাল নির্মাণ যজ্ঞের সাথে জাপানের মিৎসুবিশি করপোরেশন, ফুজিটা করপোরেশন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি করপোরেশন যুক্ত রয়েছে, যারা যৌথভাবে ‘অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম’ গঠন করে কাজটি সম্পন্ন করছে। বেবিচক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সালিশি বোর্ডের এই রায়ের কপি তারা হাতে পেয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। টার্মিনালটির নির্মাণ শেষ পর্যায়ে থাকলেও এই বিশাল অঙ্কের আর্থিক জরিমানা এবং বিরোধ নিষ্পত্তি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ বা এর দু-এক দিন আগে শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি প্রকাশ করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের অধীনে সংসদীয় কার্যক্রম শুরুর এটিই হবে প্রথম আনুষ্ঠানিক ধাপ। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল সম্বলিত গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে হিসেবে আগামী ১৪ মার্চের মধ্যে অধিবেশন ডাকার সময়সীমা নির্ধারিত থাকলেও সরকার ১২ মার্চের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আগ্রহী।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে এবং সরকার গঠন করে। অন্যদিকে, এই নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ইতিমধ্যে সংসদ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। নির্বাচনের পর ১৩ ফেব্রুয়ারি বিজয়ী সংসদ সদস্যদের নামের গেজেট প্রকাশিত হয় এবং গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি এই প্রথম অধিবেশন আহ্বান করবেন।
প্রথম অধিবেশনের কার্যসূচি নিয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই অধিবেশনে সংসদের অভিভাবক হিসেবে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতি অনুযায়ী এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। তবে এবারের অধিবেশনটি আইনি দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে যাচ্ছে, কারণ এতে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা বিভিন্ন জরুরি অধ্যাদেশসমূহ আলোচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে। জাতীয় সংসদে এই অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের মাধ্যমেই সেগুলো স্থায়ী আইনে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে।
দীর্ঘদিন পর একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সংসদ ঘিরে সাধারণ মানুষের ব্যাপক প্রত্যাশা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১২ মার্চ অধিবেশন শুরু হলে তা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। বিশেষ করে সরকারি ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণে সংসদ কতটা কার্যকর ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিলগুলো পাসের মাধ্যমে সংসদীয় কার্যক্রম দ্রুত গতিশীল হবে বলে সরকার পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। প্রথম অধিবেশনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ও সময় খুব শিগগিরই রাষ্ট্রপতি সচিবালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি একই দিনে দেশের দুটি বড় জাতীয় উৎসব ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন সকালে তিনি রাজধানীর একটি নির্ধারিত মিলনায়তনে রাষ্ট্রীয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক-২০২৬’ প্রদান করবেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নির্বাচিত গুণীজনদের হাতে তিনি এই পদক তুলে দেবেন। অনুষ্ঠানের পরবর্তী অংশে প্রধানমন্ত্রী বিকেলে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘অমর একুশে বইমেলা’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। শনিবার সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সাংবাদিকদের এই কর্মসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত একুশে ফেব্রুয়ারির ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে পরবর্তী সপ্তাহেই এই বর্ণাঢ্য আয়োজনগুলো সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
সংস্কৃতি মন্ত্রী জানিয়েছেন যে, ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গুণীজনদের হাতে পদক তুলে দেবেন। এরপর বিকেলের অধিবেশনে তিনি বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বইমেলার উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠান দুটি ঘিরে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মেলা প্রাঙ্গণে দর্শকদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আয়োজক কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে। এবারের বইমেলায় প্রকাশকদের জন্য একটি বিশেষ ঘোষণা দিয়েছে সরকার; প্রকাশনা শিল্পকে উৎসাহিত করতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে বইমেলার প্রস্তুতির মধ্যেই প্রকাশকদের পক্ষ থেকে একটি ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দেশের প্রকাশকদের সংগঠন ‘প্রকাশক ঐক্য’ এবারের অমর একুশে বইমেলায় অংশ না নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। শনিবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিরাজমান অস্বচ্ছতা নিরসন না হওয়া এবং মেলার প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রকাশকদের একটি বড় অংশের এই বর্জনের ঘোষণার ফলে মেলার আয়োজনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করছে যে, আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সকল সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে এবং বরাবরের মতো একটি সফল ও উৎসবমুখর বইমেলা আয়োজন করা সম্ভব হবে। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রথম দাপ্তরিক কাজ শুরুর পর এই প্রথম কোনো বড় পাবলিক ইভেন্টে তাঁর অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে জনমনে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
রাজধানীর গুলশানে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া পাঁচজন নারী ও একজন পুরুষকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তারা সহযোগিতার আবেদন নিয়ে সেখানে আসেন। দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা তাদের সরে যেতে অনুরোধ করেন। তবে তারা স্থান ত্যাগে অনড় থাকলে বিষয়টি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) থেকে গুলশান থানা-কে জানানো হয়।
পরে পুলিশ গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসে।
ওসি রাকিবুল হাসান বলেন, তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহায়তা চাওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছিলেন। নিরাপত্তা সদস্যরা বুঝিয়ে সরানোর চেষ্টা করলেও তারা সরে যাননি। পরে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে আসে।
থানায় নেওয়ার পর তাদের ইফতার করানো হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরিবারের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন কুতুবখালী পকেট গেট চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকালে দুই দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে মো. শাহ আলম (২৮) নামে এক পুলিশ কনস্টেবল গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলের দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে এবং পরবর্তীতে সহকর্মীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। হামলার শিকার শাহ আলম বর্তমানে যাত্রাবাড়ী থানায় কর্মরত আছেন এবং ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি জানান, “ঘটনার সময় আমি যাত্রাবাড়ী কুতুবখালী পকেট গেটে চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছিলাম। এ সময় দুজন অজ্ঞাত ব্যক্তির কাছে দুটি ব্যাগ ছিল। আমি সেটি তল্লাশি করতে চাইলে কোনো কিছু বোঝার আগেই তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমার ঘাড়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়।” বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, “আজ বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে ঘাড়ে জখম অবস্থায় ওই পুলিশ সদস্যকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে জরুরি বিভাগের অপারেশন থিয়েটারে তার চিকিৎসা চলছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রশাসনকে উদ্দেশ করে বলেছেন, দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যকে খুশি করা প্রশাসনের কাজ নয়। হাসিনা দীর্ঘ ১৭ বছরে প্রশাসনকে দলীয়করণ করা হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি দেখতে চান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কেরানীগঞ্জের মির্জাপুরে নিজ বাসভবনে দক্ষিণ শাখা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, তিনি মন্ত্রী হওয়ার জন্য রাজনীতি করেননি। কেউ তাকে সান্ত্বনা দিতে এলে সেটিকে অপমান হিসেবে নেবেন। তিনি জনগণের প্রতিনিধি হয়ে মানুষের কথা বলার জন্য নির্বাচন করেছেন। প্রশাসন যদি কাউকে খুশি করতে আইনের বাইরে যায়, তাহলে তিনি সংসদে তার বিরুদ্ধে কথা বলবেন বলেও সতর্ক করেন।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিপুল সংখ্যক ব্যাজ বিতরণ করা হলেও প্রত্যাশিত ভোট পাওয়া যায়নি। নিজেদের পরিবার ও সমর্থকদের ভোট নিশ্চিত করতে না পারার বিষয়েও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন কেন্দ্রে ফলাফল সন্তোষজনক হয়নি বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, দুর্বল মনে করে কাউকে আঘাত করা যাবে না। দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। অতীতে প্রশাসন ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নির্দেশনা দিয়ে বলেন, থানার কমিটির অনুমতি ছাড়া কেউ থানায় কোনো কাজে যাবেন না।
সভায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবুসহ স্থানীয় নেতারা।
আগামী ১২ মার্চ অথবা এর দুই একদিন আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে পারে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে আগামী মাসের ১২ মার্চ অথবা এর দুই একদিন আগে। এই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও জানান, অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশ এবং শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে।
এরই মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংসদ নেতা হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন।
সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শের ভিত্তিতে তিনি তা করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, পুরোনো সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন সংসদের অধিবেশন বসে। বিগত তিনটি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। দ্বাদশ সংসদের সদস্যরা ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি শপথ নিলেও প্রথম অধিবেশন বসেছিল ৩০ জানুয়ারি, কারণ একাদশ সংসদের মেয়াদ শেষ হয়েছিল ২৯ জানুয়ারি। এবার সংসদ না থাকায় অধিবেশন শুরুতে অপেক্ষা কম হবে।
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফলাফল ঘোষণা হয়েছে ২৯৭টির। এর মধ্যে বিএনপি ২০৯টি এবং তাদের জোটের তিন শরিক দল তিনটি আসনে জয়ী হয়েছে। স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে। তাদের ১১ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসনে জয়ী হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। এই স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বিএনপির বিদ্রোহী বলে জানা গেছে।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী সোমবার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং কয়েকটি স্থানে বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-একটি জায়গায় হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। ঢাকাসহ ছয় বিভাগের কিছু এলাকায় এই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
মঙ্গলবার বৃষ্টির বিস্তার আরও বাড়তে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। বুধবার দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির প্রভাবে ওই দিন থেকে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ঘনীভূত হতে পারে। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বর্তমানে বিহার ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে।
এদিকে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে বৃষ্টিপাত শুরু হলে তাপমাত্রা কমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন।
বিজিবি মহাপরিচালক শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহরে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ১৯৫২ সালে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে প্রাণ উৎসর্গকারী জাতির বীর শহীদদের স্মরণে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এ সময় বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও অন্যান্য পদবীর সৈনিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। বিশ্বের বহু দেশে এত বড় তরুণ জনগোষ্ঠী নেই। তাদের দক্ষতা, নৈতিকতা ও চিন্তাশক্তি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। জনসংখ্যাকে সমস্যা না ভেবে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হবে।
শনিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত নির্বাচনি বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ভালো চাওয়া স্বাভাবিক, তবে বাস্তবতা বিবেচনায় যা সম্ভব তা অর্জনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রতিষ্ঠান ধ্বংস, দলীয়করণ ও দুর্নীতির বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, আমরা খুব ভালো চাই, আরও ভালো চাই। এটি প্রয়োজন, এটি স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবতা বিবেচনা করেই যা সম্ভব, সেটাই অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। বাস্তবায়নের দায় কারও একার নয়, সহযোগিতা ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দলীয়করণ, আত্মীয়করণ, দুর্নীতি, অনাচার এবং অযোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই।
যুবসমাজের হতাশা প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, অনেকের মনে কষ্ট আছে। তরুণদের আক্ষেপ দূর করতে হবে। একা কিছু সম্ভব নয়, সবাইকে মিলেই কাজ করতে হবে। নইলে তাদের ন্যায্য আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ থেকে যাবে।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনি শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। কষ্ট করেছেন এবং অপেক্ষা করতে প্রস্তুত। যদি দেশ, সহকর্মী ও সন্তানরা সফল হয়, সেটাই তাঁর বড় প্রাপ্তি। এটি একদিনের কাজ নয়, তবে এটি অনিবার্য কাজ।
তিনি বলেন, তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের দক্ষতা ও চিন্তাকে সংগঠিতভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে। জনসংখ্যাকে সমস্যা না ভেবে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হবে।
পানি ব্যবস্থাপনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোথাও পানির অভাব, কোথাও অতিরিক্ত। পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করলে সমস্যার সমাধান সম্ভব। একইভাবে সঠিক পরিকল্পনা নিলেই জাতীয় সমস্যাগুলো মোকাবিলা করা যাবে।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু স্বপ্ন দেখলে হবে না, বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে। খালি আক্ষেপ নয়, প্রাপ্য অর্জনে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দরকার। বিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে সেই পথ তৈরি করতে হবে।
জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য প্রধানমন্ত্রীর গোল্ড কাপ ঘোষণা করেছিলেন এবং নিজে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করেছিলেন। এই টুর্নামেন্ট পুনরায় চালুর প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিতে আনার বিষয়টি ভালো উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেন তিনি এবং বিষয়টি জানাবেন বলে আশ্বাস দেন।
পাঠ্যপুস্তকে কো-কারিকুলাম কার্যক্রম হিসেবে বিতর্ক অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি সম্ভব এবং জাতীয় ভিত্তিতে বিতর্ক আয়োজন হওয়া উচিত।
সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি বলেছেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে সরকার।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মোংলা বন্দর পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে মোংলা বন্দরকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে চায় সরকার। বিগত সরকারের সময়ে বন্দরে সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তি বাতিল হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সেসব চুক্তি পর্যালোচনা করা হবে। দেশের স্বার্থে সহায়ক হলে সেগুলো সংশোধন করে বহাল রাখা হতে পারে।
জাতীয় অর্থনীতিতে মোংলা বন্দরের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, যথাযথ উদ্যোগ নিলে এটিকে একটি শক্তিশালী ও পূর্ণাঙ্গ সামুদ্রিক বন্দরে পরিণত করা সম্ভব। বর্তমানে রেল ও নৌ যোগাযোগ ভালো থাকলেও সেগুলোকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে মোংলা বন্দরকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে রূপান্তর করা হবে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা গেলে বন্দরের কার্যক্ষমতা আরও বাড়বে।
নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই বন্দরের ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।