শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

কেমন গেল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৩ মাস

৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০২

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বয়স ৩ মাস পূর্ণ হয়েছে গতকাল শুক্রবার। দায়িত্ব নেওয়ার বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে তিন মাস পার করেছে এ সরকার। এর মধ্যে কোনোটি দৃশ্যমান, আবার কোনোটি অদৃশ্য চ্যালেঞ্জ। প্রথমত দেশের মানুষের নজিরবিহীন সমর্থন এবং দ্বিতীয়ত উন্নয়ন সহযোগীসহ বহির্বিশ্বের সমর্থন ও স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতার আশ্বাস।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। পরে ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। কেমন গেল সরকারের এ তিন মাস। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে দেশের অর্থনীতি সচল ও বিভিন্ন সেক্টরের সংস্কারে মনোযোগ দিয়েছে এ সরকার। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার বিচারকাজ শুরু, সহিংসতায় অচল মেট্রোরেলের মিরপুর ১০ ও কাজীপাড়া স্টেশন চালু, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আটটি জাতীয় দিবস বাদ দেওয়াসহ নানা কাজে ব্যস্ত ছিল অন্তর্বর্তী সরকার।

তবে প্রথম দিকে নানা চাপে ছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নতুন সরকারের কাছে একের পর এক দাবি-দাওয়া নিয়ে হাজির হতে থাকেন বিভিন্ন মহলের মানুষ। কেউ আসেন চাকরি জাতীয়করণের জন্য, কেউ গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে। এ ছাড়া ঘটেছিল শিক্ষকদের পদত্যাগ, সচিবালয়ে আনসারের অবরোধ কর্মসূচি। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়েও বেশকয়েক দিন আন্দোলন চলছিল। শেষমেশ সেটা রুখতেও সফল হয় সরকার। সবই সামাল দিতে হয়েছে এ সরকারকে।

এদিকে নির্বাচন ও সংস্কার নিয়ে টানাপড়েন এরই মধ্য শুরু হয়ে গেছে। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সর্বশেষ সংলাপে নির্বাচনই প্রাধান্য পেয়েছে। তারা এ সরকারের কাছে নির্বাচন ও সংস্কারের একটি রোডম্যাপ চেয়েছে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার এখনো কোনো রোডম্যাপ দেয়নি। বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক দলের নেতারা অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য দুটি কমন চ্যালেঞ্জের কথা বলেছেন তা হলো- দ্রব্যমূল্য এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা। এর বাইরে সংস্কার, নির্বাচন ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের কথাও বলেছেন তারা।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে ভারতে চলে যেতে বাধ্য হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকে আত্মগোপনে চলে যান আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা। অনেকে আবার গ্রেপ্তারও হয়েছেন। দলীয় নেতা ও আওয়ামী সরকারের ঘনিষ্ঠ ও উচ্চপর্যায়ের আমলারাও গা-ঢাকা দেন।

হাসিনা সরকারের নৃশংস দমন-পীড়নে প্রাণ হারান শিশু-কিশোর-শিক্ষার্থী-নারীসহ হাজারো মুক্তিকামী মানুষ। রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশে জনতার এ বিজয়কে দ্বিতীয় স্বাধীনতা হিসেবে উল্লেখ করেন আন্দোলনকারীরা। আওয়ামী সরকারের অবসানের পর মানুষের মধ্যে জেগে ওঠে রাষ্ট্র সংস্কার ও অর্থনীতি পুনর্গঠন করে একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের ব্যাপারে বিপুল আশা ও উদ্দীপনা। দীর্ঘ স্বৈরশাসনে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসপ্রায়, আইনশৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় লুণ্ঠনে অর্থনীতিও বিপর্যস্ত। সেই জায়গাগুলো সংস্কারের জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠন করতে নেওয়া হচ্ছে উদ্যোগ। এরই মধ্যে রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কারের লক্ষ্যে ১০টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে। তা হলো- সংবিধান সংস্কার কমিশন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন, স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্কার কমিশন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন, শ্রমিক অধিকারবিষয়ক সংস্কার কমিশন ও নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন। এছাড়া গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির কমিশন গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি সংস্কার কমিশন এরই মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে।

জাতীয় ৮ দিবস বাদ

অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের দলীয় দিবস বলে পরিচিত আটটি জাতীয় দিবস বাদ দিয়েছে। দিবসগুলো হলো- ঐতিহাসিক ৭ মার্চ, ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্ম দিবস ও জাতীয় শিশু দিবস, ৫ আগস্ট শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী, ৮ আগস্ট বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস, ১৮ অক্টোবর শেখ রাসেল দিবস, ৪ নভেম্বর জাতীয় সংবিধান দিবস ও ১২ ডিসেম্বর স্মার্ট বাংলাদেশ দিবস।

দিবসগুলো বাতিলের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের দলীয় দিবসগুলো জাতীয় দিবস হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এগুলো জাতীয় দিবস হওয়ার মতো নয়।

ছাত্র আন্দোলনে গণহত্যার বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

এদিকে জুলাই-আগস্ট গণহত্যা নিয়ে বিচারকাজ শুরু করে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গণহত্যার মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া পৃথক অভিযোগে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক মন্ত্রী-ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আনিসুল হক, ডা. দীপু মনি, আ ক ম মোজাম্মেল হকসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধেও একই আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অর্ধশতাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলের নেতা, পুলিশের তৎকালীন আইজিসহ বেশ কয়েকজন সদস্য, র‍্যাবের তৎকালীন ডিজি, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতাদের আসামি করা হয়।

যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকে বেশ কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে- জুলাই ও আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচারে জাতিসংঘের নেতৃত্বে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করার জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরকে আমন্ত্রণ, শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি, সে সঙ্গে আহত ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা এবং শহীদদের পরিবারের দেখাশোনার জন্য ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ গঠন। এ ছাড়া ব্যাংকগুলোকে বড় বড় ঋণখেলাপি ও লুটেরা ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর দখল থেকে মুক্ত করে পরিচালনা পরিষদ পুনর্গঠন; দুর্নীতি ও অর্থ পাচারে অভিযুক্ত প্রভাবশালী দেড়শ ব্যক্তির তালিকা তৈরি ও ৭৯ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু; ১৫ শতাংশ হারে আয়কর পরিশোধ করে অপ্রদর্শিত পরিসম্পদ অর্থাৎ কালো টাকা সাদা করার বিধান বাতিল; দায়মুক্তি আইন নামে পরিচিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০২১)-এর অধীন চলমান সব কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা; গণশুনানি ছাড়া নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি না করার সিদ্ধান্ত; রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নেওয়া প্রকল্প কিংবা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) যাওয়ার প্রক্রিয়াধীন আছে- এমন প্রকল্প পুনরায় যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত।

এ ছাড়া বলপূর্বক গুম হওয়া থেকে সব ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষর ও বিগত সরকারের আমলে সংগঠিত গুমের ঘটনা তদন্ত করার জন্য একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরতে একটি শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি গঠন; আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০২১)-এর অধীন সম্পাদিত চুক্তিগুলো পর্যালোচনা জন্য একটি জাতীয় কমিটি গঠন; মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে বাংলাদেশি কিশোরী স্বর্ণা দাশ নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারতের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানানো ও দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তিসহ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত নদীর পানিবণ্টন বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার সংলাপ

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোট ছাড়া অন্যান্য সব রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা প্রতিনিয়ত বৈঠক করছেন। সেখানে বিএনপি, জামায়াত ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা সাক্ষাৎ করেন। দলগুলোর প্রতিনিধিরা বৈঠকে রাজনীতিতে সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে তাদের বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, সংস্কার এবং আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়েও আলোচনা চলছে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে। সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গেও বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে গত ৪ সেপ্টেম্বর সচিব সভা হয়। ওই সভায় তিনি সিনিয়র সচিবদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।


ইলিশ সংরক্ষণে রোববার থেকে টানা দুই মাস নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ

আপডেটেড ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২০:০৭
ভোলা প্রতিনিধি

ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে রোববার (১ মার্চ) থেকে আগামী ৩০ এপ্রিল পযর্ন্ত দুই মাস ইলিশ সংরক্ষণে নদীতে সকল ধরনের মাছ ধরা, জাল ফেলা, আহরণ, পরিবহন বাজারজাতকরণ, ও মজুতকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, ‘নদীতে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করার জন্য মৎস্য বিভাগ, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হবে। যারা আইন অমান্য করে নদীতে নামবে, তাদের জেল-জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এইসময় প্রতি জেলে নিষেধাজ্ঞার সময় থেকে শুরু করে শেষ পযর্ন্ত প্রতি মাসে ৪০ কেজি কর‍ে ভিজিএফের চাল পাবে।’

ভোলা জেলা মৎস্য অফিস ও জেলে সূত্রে জানাযায়, জেলায় ২ লাখের বেশি জেলে রয়েছে। এদের মধ্যে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৩৫ জন জেলে নিবন্ধিত। এ সকল জেলেরা মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে সকল ধরনের জাল ফেলা ও মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ভোলার মেঘনা নদীর চর ইলিশা থেকে চর পিয়াল পর্যন্ত এবং তেঁতুলিয়া নদীর ভেদুরিয়া থেকে চর রুস্তম পর্যন্ত একশত নব্বই কিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলা ও উপজেলার বরফকলগুলো বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। জেলেদের সচেতন করার জন্য নদী এবং উপকূলবর্তী মাছঘাট এলাকায় মাইকিং ও পোস্টারিংসহ সকল ধরনের প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য বিভাগ।


কাতারে বাংলাদেশিদের বিশেষ সতর্ক থাকার আহ্বান দূতাবাসের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর প্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাতারে অবস্থানরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিককে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানিয়েছে দোহার বাংলাদেশ দূতাবাস।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে দোহার বাংলাদেশ দূতাবাস বলেছে, নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে সামরিক স্থাপনার আশপাশ থেকে দূরে থাকার এবং নিজ নিজ বাসায় অথবা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার অনুরোধ করা হচ্ছে। বিপদ কেটে না যাওয়া পর্যন্ত অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার জন্য আহ্বান জানানো যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরিস্থিতি বিবেচনায় নগদ টাকা, কাতার আইডি (কিউআইডি), হেলথ কার্ড, প্রয়োজনীয় ওষুধ, মোবাইল চার্জার ও শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সবসময় নিজের সঙ্গে রাখুন।

এ বিষয়ে কাতারি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে কাতার সরকারের বিবৃতি ও নির্দেশনা অনুযায়ী চলার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত ছবি বা ভিডিও আপলোড করা কাতারের প্রচলিত আইনের পরিপন্থি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সবাইকে যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানানো যাচ্ছে।

যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে দূতাবাসের হটলাইন নম্বর অথবা ইমেইল: [email protected]এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।


প্রথমবারের মতো নিজ কার্যালয়ের কর্মীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন তারেক রহমান।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, ডা. জাহেদ উর রহমান ও মাহ্‌দী আমিন।

বৈঠকের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। পরে কার্যালয়ের গঠন ও কার্যক্রম সম্পর্কে উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে।”

সরকারের অংশ হিসেবে প্রশাসনের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সরকার তখনি ভালো করবে, যখন আপনারা সরকারকে সহযোগিতা করবেন।”

দেশকে নিজের প্রথম ও শেষ ঠিকানা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা এই দেশকে আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা বলে মনে করি। তাই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্যও আমাদেরকেই কাজ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের একটি মেনিফেস্টো থাকে।”

এরপর যোগ করেন, “একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছে। তাই মেনিফেস্টোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমাদেরকে কাজ করতে হবে।”

স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ক্রীড়াসহ ঘোষিত সব এজেন্ডা বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তারা যেন নিরাপদ বোধ করে। আমরা সবাই যদি একসঙ্গে কাজ করি তাহলে নিশ্চয়ই এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারব।”

দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রশাসনের পূর্ণ সহায়তা প্রত্যাশা করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দেশ ও রাষ্ট্রের স্বার্থে গোপনীয়তা রক্ষা এবং সরকারি নিয়ম-নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিকে সুশৃঙ্খল পথে এগিয়ে নিতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।


ছুটির দিনেও অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও দাপ্তরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে তিনি তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছান।

কার্যালয়ে প্রবেশের সময় বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা তাকে অভ্যর্থনা জানান। দিনব্যাপী কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অধীনস্থ দপ্তরগুলোর প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কথা রয়েছে তার।

এর আগে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ছুটির দিনেই প্রথমবার রাজধানীর তেজগাঁও কার্যালয়ে অফিস করেন তিনি। সেদিন মূল ভবনে প্রবেশের আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–র সরকারের সময় দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র–এ আজ এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।

দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ইফতার মাহফিলে উপস্থিত থাকার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।


ঈদে ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সড়কমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, আসন্ন ঈদে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। তিনি স্পষ্ট করে জানান, “পরিবহন সেক্টরকে বলে দিয়েছি ঈদে ভাড়া বাড়বে না। যারা ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জ টার্মিনাল ও নির্মাণাধীন খানপুর আইসিটি অ্যান্ড বাল্ক টার্মিনাল, ড্রেজার বেইড এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নারায়ণগঞ্জের নদীবন্দরের মাছঘাট এলাকায় নির্মিতব্য টার্মিনাল ভবন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ঈদযাত্রা প্রসঙ্গে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা আশা করছি ঈদযাত্রা স্বস্তির ও নিরাপদ হবে। যেসব জায়গায় ব্যত্যয় ঘটতে পারে, যেখানে যানজট তৈরি হয়, সড়কে শৃঙ্খলা থাকে না-সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমি নিশ্চিত করতে চাই এবার সবকিছু সুন্দরভাবে হবে। ট্রাফিক পুলিশ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সব সংস্থা এবার তৎপর থাকবে।”

শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণ ইস্যুতে তিনি জানান, “নদী দূষণের ব্যাপারে আমরা পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে অবগত করব। আমাদের জায়গা থেকেও কিছু করণীয় আছে। সেগুলো চিহ্নিত করে আমাদের পক্ষ থেকে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া দরকার, সেগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে নেব।”

পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ চান শাহবাজ শরিফ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঢাকায় আসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান তিনি। সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জেদ্দায় ওআইসির ফিলিস্তিনবিষয়ক কার্যনির্বাহী সভার ফাঁকে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন।

ইসহাক দার বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এবং তিনি ঢাকায় আসতে চান।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন সরকারের অধীনে দুই দেশের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি তিনি ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রশংসা করেন।

সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সেখানে উপস্থিত ছিলেন।


পুলিশ হত্যাকাণ্ডে তদন্ত হয়েছে, প্রয়োজনে আবারও হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

পুলিশ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী যা বলেছেন, সেটাই হবে। যেহেতু তদন্ত হয়েছে, প্রয়োজন হলে আবারও তদন্ত হবে। এখন তো বিষয়টি আদালতে রয়েছে।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জুমার নামাজ শেষে ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের হাজীপাড়ায় স্থানীয়দের অর্থায়নে নির্মিত একটি হাফেজিয়া মাদরাসার চার তলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচনের পরে ঠাকুরগাঁওয়ে এসে মাদরাসার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে। আল্লাহ তাআলার কাছে এই দোয়া চাইবো, মাদরাসার উন্নয়ন কাজে আমরা যেন শরিক হতে পারি।

তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে জনগণের কাছে আমি ঋণী। বরাবরই তারা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন, আর সেই সমর্থনের কারণে আজকে আমি কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। আমি অনুরোধ করব, ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময় হবে আর গণতন্ত্রকে তার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কাজগুলো করা হবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে আমি ঋণী। কারণ তারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। তাদের ভোটের কারণেই আজ আমি মন্ত্রী হয়ে আসতে পেরেছি।

এর আগে দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের তাঁতিপাড়ায় নিজ বাসভবনে পৌঁছালে পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। পরে নেতাকর্মীসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সরদার মোস্তফা শাহীন, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, ঠাকুরগাঁও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস প্রমুখ।


বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পথে হাঁটছে সরকার: অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পথে হাঁটছে সরকার জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, প্রায়োরিটি তো ট্যাক্স বাড়াতে হবে আমাদের, ট্যাক্স বাড়ানোর মাধ্যমে ইনভেস্টমেন্ট বাড়াতে হবে। দেশের ভেতরে এবং দেশের বাইরে ইনভেস্টমেন্ট বাড়াতে হবে। এটার মাধ্যমেই একমাত্র আপনি ট্যাক্স বাড়াতে পারবেন।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা মেরিন ড্রাইভ এলাকায় প্রস্তাবিত একটি হাসপাতাল নির্মাণের জন্য জায়গা দেখতে এসে তিনি এ কথা বলেছেন।

তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থান আমাদের আরেকটা কর্মসূচি। বিএনপির নির্বাচনি প্রোগ্রামের মধ্যে কর্মসংস্থান একটা বড় প্রোগ্রাম। সুতরাং বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান কোত্থেকে হবে? এজন্য আমরা জোর দিচ্ছি ইনভেস্টমেন্টের ওপর। দেশি-বিদেশি ইনভেস্টমেন্টে জোর দিচ্ছি।আবারও বলছি, কর্মসংস্থান এটা আমাদের প্রায়োরিটি।

আগামী বাজেটে কী অগ্রাধিকার পাবে জানতে চাইলে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কর্মসংস্থান দিয়েই শুরু হবে। এটা করার জন্য যা যা প্রয়োজন সেটা করা হবে। স্বাস্থ্য খাতেও বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। পতেঙ্গা মেরিন ড্রাইভ এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ সময়োপযোগী। চট্টগ্রামের চিকিৎসা অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘একটা বড় হাসপাতাল করা হবে। ওইটার সাথে নার্সিং ইন্সটিটিউট এবং টেকনোলজিস্টদের জন্য আরেকটা ইনস্টিটিউট হবে। চট্টগ্রামের এই অঞ্চলের মানুষের একটা দাবি ছিল। আমরা জায়গা দেখছি, একটা বড় জায়গা লাগছে।’


বগুড়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করতে আগামী ১০ মার্চ বগুড়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সোয়া ১টার দিকে শিবগঞ্জের মহাস্থানগড়ে শাহ সুলতান বলখী (রহ.)-এর মাজারে জুমার নামাজের আগে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এ তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

মীর শাহে আলম বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধনের জন্য বগুড়ায় আসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১০ মার্চ তিনি বগুড়ায় আসবেন বলে জানা গেছে।’

ফ্যামিলি কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড নির্বাচন করা হয়েছে। সম্ভাব্য সুফলভোগী পরিবার বাছাইয়ে ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে।

প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করে পৃথক জেলা ও উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়েও কমিটি করা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রতি কার্ডধারী পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে। দেশের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীরা এ সুবিধার আওতায় আসবেন।

প্রতি ওয়ার্ডে যত পরিবার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে, তাদের সবাইকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। তবে প্রত্যেক সুবিধাভোগী পরিবার থেকে একজন নারী কার্ডধারী হিসেবে নিবন্ধিত থাকবেন। পরীক্ষামূলকভাবে চার মাস পাইলটিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

পাইলট কার্যক্রম সফল হলে ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য উপজেলাতেও এ কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


বাংলাদেশ সফরের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন পা‌কিস্তা‌নের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঢাকা সফরের ব্যাপারে নিজের গভীর আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাতের প্রত্যাশা করছেন। আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসির ফিলিস্তিন বিষয়ক এক সভার ফাঁকে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে এই বিশেষ আগ্রহের কথা উঠে আসে।

বৈঠকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে তাঁর দেশের প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার কথা অবহিত করেন। আলোচনার এক পর্যায়ে ইসহাক দার বাংলাদেশের প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাথে তাঁর পূর্ববর্তী সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, "পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এবং তি‌নি ঢাকায় আসতে চান।"

দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, "নতুন সরকারের অধীনে দুই দেশের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাবে।" এছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের জোরালো ও নীতিগত অবস্থানের বিশেষ প্রশংসা করেন পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাতের সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।


মব কালচার দমনে কঠোর বার্তা দিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক

দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের নিরাপত্তাব্যবস্থা সশরীরে পরিদর্শনে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ক্রমবর্ধমান মব কালচার দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শনের সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, ‘মব কালচার’ বা গণপিটুনির মতো আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং অপরাধী চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

তিনি আরও বলেন, মব কালচার রোধ করা সম্ভব, তবে এর জন্য সমাজের সব স্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিছু গোষ্ঠী পরিস্থিতি অস্থির রেখে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে।

তরুণ প্রজন্ম ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যে কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইনের কাঠামোর মধ্যেই সমাধান করতে হবে। নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া দেশের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলার গুরুত্ব তুলে ধরে আইজিপি বলেন, নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া বিনিয়োগ বৃদ্ধি সম্ভব নয়। এ দায়িত্ব শুধু পুলিশের নয়, এটি একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা। বিশেষ করে নগরাঞ্চলে নাগরিকদের আইন মানার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর তিনি জোর দেন।

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নগরবাসীর নিরাপত্তায় বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ঈদযাত্রা ও কেনাকাটার সময় ছিনতাই প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শপিং মল ও ব্যাংক এলাকায় বাড়তি নজরদারি থাকবে। কাউকে হয়রানি ছাড়া নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ ২৪ ঘণ্টা কাজ করবে বলেও জানান আইজিপি।


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান

আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:৪৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচন আগামী ২ জুন নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস। আলোচনায় থাকলেও ফিলিস্তিন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরে দায়িত্ব পরিবর্তনের কারণে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে নতুন প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন এবং ভোটের আগে সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচারণা জোরদার করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হবে। তার আগে ২ জুন অনুষ্ঠিত হবে সভাপতির নির্বাচন। প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক আবর্তন নীতিমালা অনুযায়ী এবার এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ অব স্টেটস থেকে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা।

ফিলিস্তিনকে আসন ছেড়ে দেওয়ার গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছে। তাদের দাবি, কয়েকটি দেশের কূটনৈতিক চাপের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

বাংলাদেশ এর আগে ২০২১ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছিল। এছাড়া ২০১৬-১৭ মেয়াদে ৭১তম অধিবেশনেও সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করে দেশটি। প্রায় চার দশক পর এবার সভাপতি পদে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে বাংলাদেশ।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সুয়ে। একই সঙ্গে ইউনাইটেড লীগ অব আরাকান (ইউএলএ)-এর চেয়ারম্যান ও আরাকান আর্মির প্রধান ত্বান ম্রাত নাইং প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার ও সহযোগিতা বৃদ্ধির অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। আরাকান আর্মির প্রধান তার বার্তায় বলেন, নতুন দায়িত্বে তিনি বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধানের জন্য একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করেন এবং বাংলাদেশ ও আরাকানের মধ্যে বন্ধুত্বের নতুন পথ তৈরির সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।


প্রধানমন্ত্রী তার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছেন: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:৩৩
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার পূর্ণ উদ্যমে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি বিষয় একজন দক্ষ সিইও’র মতো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করছেন।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে লক্ষ্মীপুর সার্কিট হাউসে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জেলা লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার এই বাসিন্দার এটিই প্রথম সফর।

বিগত দেড় দশকের প্রশাসনিক ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে উপদেষ্টা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে জনপ্রশাসনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করায় এটি তার নিজস্ব নিরপেক্ষতা ও সক্ষমতা হারিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। তিনি তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছেন এবং ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। একটি প্রতিষ্ঠানের সিইও’র মতো প্রতিটি বিষয় বিস্তারিত দেখছেন এবং সেভাবেই কাজ আদায় করছেন।’ ইসমাইল জবিউল্লাহ আরও বলেন, ‘জনপ্রশাসন নিরপেক্ষতা হারিয়েছে, দক্ষতা হারিয়েছে। দেশের সর্বস্তরেই প্রায় ধ্বস নেমেছে। প্রশাসনও সেটা থেকে মুক্ত নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পলিসি অনুযায়ী আমরা একটা দক্ষ, নিরপেক্ষ, মেধাভিত্তিক প্রশাসন দেশের জনগণকে উপহার দেবো। তারা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে, প্রশাসক হিসেবে নয়। সবাই মিলে বাংলাদেশকে বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ হিসেবে পরিণত করবো।’

দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে নিজের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি জানান, সরকার ‘একটা উদার গণতান্ত্রিক এবং সমৃদ্ধ-জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়বো’—এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ও জনগণের আস্থার প্রতিফলন ঘটানোই প্রশাসনের বর্তমান মূল লক্ষ্য বলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দায়বদ্ধতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ এটি হচ্ছে আমাদের মূল পরিচয়, মূল বক্তব্য। নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি ছিল একরকম, নির্বাচনের পরে পুরোপুরি পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখন আমাদের সবার দায়িত্ব এসে পড়েছে। যে কথাগুলো বলে আমরা জনগণের কাছে গিয়েছি, ভোট চেয়েছি, জনগণ অকৃপণভাবে আমাদের ভোট দিয়েছে, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি বিজয় অর্জন করেছে। এই বিজয়ের সাংঘাতিক দায়ভার আছে। দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা অনেক। সেগুলো মনে রেখে আগামী দিনগুলোতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো।’

সার্কিট হাউসে পৌঁছানোর পর উপদেষ্টাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান এবং পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক তাকে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেন। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।


banner close