মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২১ মাঘ ১৪৩২

কেমন গেল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৩ মাস

৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০২

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বয়স ৩ মাস পূর্ণ হয়েছে গতকাল শুক্রবার। দায়িত্ব নেওয়ার বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে তিন মাস পার করেছে এ সরকার। এর মধ্যে কোনোটি দৃশ্যমান, আবার কোনোটি অদৃশ্য চ্যালেঞ্জ। প্রথমত দেশের মানুষের নজিরবিহীন সমর্থন এবং দ্বিতীয়ত উন্নয়ন সহযোগীসহ বহির্বিশ্বের সমর্থন ও স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতার আশ্বাস।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। পরে ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। কেমন গেল সরকারের এ তিন মাস। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে দেশের অর্থনীতি সচল ও বিভিন্ন সেক্টরের সংস্কারে মনোযোগ দিয়েছে এ সরকার। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার বিচারকাজ শুরু, সহিংসতায় অচল মেট্রোরেলের মিরপুর ১০ ও কাজীপাড়া স্টেশন চালু, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আটটি জাতীয় দিবস বাদ দেওয়াসহ নানা কাজে ব্যস্ত ছিল অন্তর্বর্তী সরকার।

তবে প্রথম দিকে নানা চাপে ছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নতুন সরকারের কাছে একের পর এক দাবি-দাওয়া নিয়ে হাজির হতে থাকেন বিভিন্ন মহলের মানুষ। কেউ আসেন চাকরি জাতীয়করণের জন্য, কেউ গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে। এ ছাড়া ঘটেছিল শিক্ষকদের পদত্যাগ, সচিবালয়ে আনসারের অবরোধ কর্মসূচি। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়েও বেশকয়েক দিন আন্দোলন চলছিল। শেষমেশ সেটা রুখতেও সফল হয় সরকার। সবই সামাল দিতে হয়েছে এ সরকারকে।

এদিকে নির্বাচন ও সংস্কার নিয়ে টানাপড়েন এরই মধ্য শুরু হয়ে গেছে। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সর্বশেষ সংলাপে নির্বাচনই প্রাধান্য পেয়েছে। তারা এ সরকারের কাছে নির্বাচন ও সংস্কারের একটি রোডম্যাপ চেয়েছে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার এখনো কোনো রোডম্যাপ দেয়নি। বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক দলের নেতারা অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য দুটি কমন চ্যালেঞ্জের কথা বলেছেন তা হলো- দ্রব্যমূল্য এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা। এর বাইরে সংস্কার, নির্বাচন ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের কথাও বলেছেন তারা।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে ভারতে চলে যেতে বাধ্য হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকে আত্মগোপনে চলে যান আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা। অনেকে আবার গ্রেপ্তারও হয়েছেন। দলীয় নেতা ও আওয়ামী সরকারের ঘনিষ্ঠ ও উচ্চপর্যায়ের আমলারাও গা-ঢাকা দেন।

হাসিনা সরকারের নৃশংস দমন-পীড়নে প্রাণ হারান শিশু-কিশোর-শিক্ষার্থী-নারীসহ হাজারো মুক্তিকামী মানুষ। রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশে জনতার এ বিজয়কে দ্বিতীয় স্বাধীনতা হিসেবে উল্লেখ করেন আন্দোলনকারীরা। আওয়ামী সরকারের অবসানের পর মানুষের মধ্যে জেগে ওঠে রাষ্ট্র সংস্কার ও অর্থনীতি পুনর্গঠন করে একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের ব্যাপারে বিপুল আশা ও উদ্দীপনা। দীর্ঘ স্বৈরশাসনে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসপ্রায়, আইনশৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় লুণ্ঠনে অর্থনীতিও বিপর্যস্ত। সেই জায়গাগুলো সংস্কারের জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠন করতে নেওয়া হচ্ছে উদ্যোগ। এরই মধ্যে রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কারের লক্ষ্যে ১০টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে। তা হলো- সংবিধান সংস্কার কমিশন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন, স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্কার কমিশন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন, শ্রমিক অধিকারবিষয়ক সংস্কার কমিশন ও নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন। এছাড়া গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির কমিশন গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি সংস্কার কমিশন এরই মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে।

জাতীয় ৮ দিবস বাদ

অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের দলীয় দিবস বলে পরিচিত আটটি জাতীয় দিবস বাদ দিয়েছে। দিবসগুলো হলো- ঐতিহাসিক ৭ মার্চ, ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্ম দিবস ও জাতীয় শিশু দিবস, ৫ আগস্ট শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী, ৮ আগস্ট বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস, ১৮ অক্টোবর শেখ রাসেল দিবস, ৪ নভেম্বর জাতীয় সংবিধান দিবস ও ১২ ডিসেম্বর স্মার্ট বাংলাদেশ দিবস।

দিবসগুলো বাতিলের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের দলীয় দিবসগুলো জাতীয় দিবস হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এগুলো জাতীয় দিবস হওয়ার মতো নয়।

ছাত্র আন্দোলনে গণহত্যার বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

এদিকে জুলাই-আগস্ট গণহত্যা নিয়ে বিচারকাজ শুরু করে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গণহত্যার মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া পৃথক অভিযোগে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক মন্ত্রী-ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আনিসুল হক, ডা. দীপু মনি, আ ক ম মোজাম্মেল হকসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধেও একই আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অর্ধশতাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলের নেতা, পুলিশের তৎকালীন আইজিসহ বেশ কয়েকজন সদস্য, র‍্যাবের তৎকালীন ডিজি, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতাদের আসামি করা হয়।

যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকে বেশ কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে- জুলাই ও আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচারে জাতিসংঘের নেতৃত্বে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করার জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরকে আমন্ত্রণ, শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি, সে সঙ্গে আহত ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা এবং শহীদদের পরিবারের দেখাশোনার জন্য ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ গঠন। এ ছাড়া ব্যাংকগুলোকে বড় বড় ঋণখেলাপি ও লুটেরা ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর দখল থেকে মুক্ত করে পরিচালনা পরিষদ পুনর্গঠন; দুর্নীতি ও অর্থ পাচারে অভিযুক্ত প্রভাবশালী দেড়শ ব্যক্তির তালিকা তৈরি ও ৭৯ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু; ১৫ শতাংশ হারে আয়কর পরিশোধ করে অপ্রদর্শিত পরিসম্পদ অর্থাৎ কালো টাকা সাদা করার বিধান বাতিল; দায়মুক্তি আইন নামে পরিচিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০২১)-এর অধীন চলমান সব কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা; গণশুনানি ছাড়া নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি না করার সিদ্ধান্ত; রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নেওয়া প্রকল্প কিংবা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) যাওয়ার প্রক্রিয়াধীন আছে- এমন প্রকল্প পুনরায় যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত।

এ ছাড়া বলপূর্বক গুম হওয়া থেকে সব ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষর ও বিগত সরকারের আমলে সংগঠিত গুমের ঘটনা তদন্ত করার জন্য একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরতে একটি শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি গঠন; আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০২১)-এর অধীন সম্পাদিত চুক্তিগুলো পর্যালোচনা জন্য একটি জাতীয় কমিটি গঠন; মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে বাংলাদেশি কিশোরী স্বর্ণা দাশ নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারতের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানানো ও দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তিসহ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত নদীর পানিবণ্টন বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার সংলাপ

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোট ছাড়া অন্যান্য সব রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা প্রতিনিয়ত বৈঠক করছেন। সেখানে বিএনপি, জামায়াত ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা সাক্ষাৎ করেন। দলগুলোর প্রতিনিধিরা বৈঠকে রাজনীতিতে সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে তাদের বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, সংস্কার এবং আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়েও আলোচনা চলছে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে। সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গেও বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে গত ৪ সেপ্টেম্বর সচিব সভা হয়। ওই সভায় তিনি সিনিয়র সচিবদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।


নতুন শিক্ষা আইনের খসড়া প্রকাশ, দেওয়া যাবে মতামত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী এবং বৈষম্যহীন করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত নতুন ‘শিক্ষা আইন’-এর খসড়া প্রকাশ করেছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ গত রোববার এই খসড়াটি জনসমক্ষে উন্মোচন করে। মূলত একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরক্ষরতা দূরীকরণ এবং মানসম্মত শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠাই এই আইনের প্রধান লক্ষ্য। এই খসড়া প্রস্তাবের ওপর শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের গঠনমূলক মতামত আহ্বান করেছে মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো সবার জন্য অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগকে সর্বজনীন করা। এছাড়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও এই খসড়ায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। প্রচলিত আইনের বিধানগুলোকে আরও সংহত ও শক্তিশালী করে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে এই আইনটি ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বৈষম্যহীন ও জীবনব্যাপী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই পরিপূরক বিধানগুলো আনা হয়েছে।

আগ্রহী ব্যক্তিদের আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে তাদের সুচিন্তিত মতামত ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানোর জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। এজন্য নির্দিষ্ট ই-মেইল ঠিকানা ([email protected]) নির্ধারণ করে দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত সকল মতামত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে। মূলত জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর শিক্ষা আইন প্রণয়নের লক্ষ্যেই এই জনমত সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংগৃহীত মতামতগুলো যাচাই-বাছাই শেষে খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে।


দেশে ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল কোথায়?

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত এলাকায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪.১। গভীর রাতে আকস্মিক এই কম্পনের ফলে সাতক্ষীরা, খুলনা ও যশোরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে মানুষের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে মৃদু মাত্রার এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত কিংবা স্থাপনার বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।

ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা শহর থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হাওড়া শহর থেকে প্রায় ৩৬ কিলোমিটার পূর্ব দিকে। ভূ-তাত্ত্বিকভাবে এই অঞ্চলটি ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় এখানে প্রায়ই কম ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের প্রবণতা দেখা যায়। গভীর রাতে ভূকম্পন অনুভূত হওয়ায় অনেক মানুষ ঘুম থেকে জেগে ওঠেন এবং তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তবে কম্পনটি অল্প সময় স্থায়ী হওয়ায় বড় কোনো অঘটন ঘটেনি।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও প্লেটের সক্রিয়তার কারণে এই এলাকায় মাঝেমধ্যেই এ ধরণের ভূকম্পন লক্ষ্য করা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে মৃদু ভূমিকম্পের হার কিছুটা বেড়েছে বলে পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে। উল্লেখ্য যে, এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি ৩ মাত্রার এবং ২৫ জানুয়ারি ৩.৪ মাত্রার আরও দুটি পৃথক ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। বারবার এ ধরণের মৃদু কম্পন বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস কি না, তা নিয়ে জনমনে এক ধরণের উদ্বেগ বিরাজ করছে। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সাতক্ষীরা ও খুলনা অঞ্চলের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো বিশেষ ক্ষয়ক্ষতির তথ্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি।


আজ পবিত্র শবেবরাত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মহিমান্বিত রজনী পবিত্র লাইলাতুল বারাআত বা শবেবরাত আজ। মুক্তি ও মাগফিরাতের বার্তা নিয়ে আসা এই রজনীতে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারা দেশে পালিত হচ্ছে বিশেষ ইবাদত-বন্দেগি। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই রাতে নফল নামাজ, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার এবং মহান আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে বিগত জীবনের গুনাহ থেকে মুক্তি ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য প্রার্থনা করেন। শাবান মাসের এই ১৫তম রজনীকে ইসলামি দর্শনে ভাগ্যরজনী হিসেবেও অভিহিত করা হয়, কারণ এই রাতে আগামী এক বছরের জন্য মানুষের জীবন-মৃত্যু ও রিজিকের ফয়সালা ফেরেশতাদের কাছে অর্পণ করা হয় বলে ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে।

পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ব্যাপক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। আজ মাগরিবের নামাজের পর থেকেই পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, হামদ-না’ত, ওয়াজ ও বিশেষ দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে শবেবরাতের ফজিলত ও গুরুত্ব তুলে ধরে আলোচনা করবেন মুফতি মাওলানা নজরুল ইসলাম কাসেমী। এরপর রাত সাড়ে ৮টায় এই রজনীর শিক্ষা ও করণীয় বিষয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনা পেশ করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আফম খালিদ হোসেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে সারা রাত জাতীয় মসজিদ মুসল্লিদের ইবাদতের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আগামীকাল ফজর নামাজের পর আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে এই কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে, যা পরিচালনা করবেন মসজিদের সিনিয়র পেশইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।

শুধু রাজধানী নয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সহ দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুরূপ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, ‘বারাআত’ শব্দের অর্থ হলো মুক্তি বা নিষ্কৃতি। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, এই রাতে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং শিরককারী ও হিংসা পোষণকারী ছাড়া অন্যদের ক্ষমা করে দেন। এই রজনীর মৌলিক আমল হলো দীর্ঘ ইবাদত ও একাগ্রচিত্তে মোনাজাতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা। এছাড়া শবেবরাতের পরের দিন নফল রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে এই পবিত্র রাতের ধর্মীয় গাম্ভীর্য বজায় রাখতে অনৈসলামিক ও বিজাতীয় সংস্কৃতি বর্জনের জন্য কঠোর আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে আতশবাজি, পটকা ফোটানো, অতিরিক্ত আলোকসজ্জা এবং উচ্চশব্দে আনন্দ প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে, কারণ এসব কর্মকাণ্ড ইবাদতের নিরবচ্ছিন্ন পরিবেশে বিঘ্ন ঘটায়। প্রকৃতপক্ষে শবেবরাত কেবল আনুষ্ঠানিকতা পালনের রাত নয়, বরং এটি আত্মজিজ্ঞাসা এবং অন্তরের আমূল পরিবর্তনের রজনী। এই রাতের শিক্ষা আমাদের জীবনকে আরও সংযত ও আধ্যাত্মিকভাবে সমৃদ্ধ করবে—এমনটাই আশা করা হচ্ছে। দেশের প্রতিটি প্রান্তে ধর্মপ্রাণ মানুষ এই মহান রজনীর বরকত ও মাগফিরাত কামনায় রত রয়েছেন।


আরও ২১ কোটি ৮৫ লাখ ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ২১ কোটি ৮৫ লাখ (২১৮.৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) কেনা এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। ডলার কেনার ক্ষেত্রে কাট-অফ হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।

এ নিয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ২ ফেব্রুয়ারির পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট ডলার কেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১৫ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার, যা ৪.১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ৫ কোটি ৫০ লাখ (৫৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরও আগে গত ২০ জানুয়ারি দুই বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার, ১২ জানুয়ারি ১০ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার, ৬ জানুয়ারি ১৪ ব্যাংক থেকে ২২ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২২.৩০ টাকা কাট-অফ রেটে মোট ২১ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার কেনা হয়েছে।


পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন দ্রুত কার্যকর করার দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ। দাবি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হলে আরও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। সমন্বয় পরিষদ জানায়, আগামী ৩ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা তিন দিন সারা দেশের সব সরকারি দপ্তরে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল ও কর্মচারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

এর পাশাপাশি চলমান গণকর্মবিরতি কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করা হবে।

নেতারা জানান, সরকার দাবি পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আন্দোলনের পরিসর আরও বাড়ানো হবে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত সাত বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা বেতন কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর লক্ষাধিক কর্মচারীর অংশগ্রহণে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলেও ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশের যে প্রত্যাশা ছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ২১ জানুয়ারি কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলেও গেজেট প্রকাশ না করে নতুন কমিটি গঠনের কথা বলে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। এতে কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

এছাড়া জ্বালানি উপদেষ্টার এক সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়েও সমাবেশে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।

বক্তারা দাবি করেন, ওই মন্তব্যে বলা হয়েছিল বর্তমান সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে না এবং আন্দোলন ঠেকাতেই কমিশন গঠন করা হয়েছিল। এমন বক্তব্য প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে গভীর হতাশা সৃষ্টি করেছে।

সমন্বয় পরিষদের নেতারা বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।


তফসিল ঘোষণার ৩৬ দিনে ১৫ জন নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার ৩৬ দিনে দেশে অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সংস্থাটির কার্যালয়ে আয়োজিত ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

টিআইবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনী পরিবেশে সহিংসতা, রাজনৈতিক হয়রানি, সম্ভাব্য প্রার্থীদের ওপর হামলা এবং সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে আক্রমণের ঘটনা বড় ঘাটতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে সারাদেশে ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যাতে প্রাণ হারিয়েছেন ১০২ জন। একই সময়ে এক হাজার ৩৩৩টি অস্ত্র নিখোঁজ হয়েছে। ডিপফেক ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি এবং সংখ্যালঘুদের ওপর ৫০টির বেশি হামলার ঘটনাও নির্বাচনী পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

টিআইবি সতর্ক করে বলেছে, থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নতুন করে অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ সহিংসতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা জনবলের মধ্যে মাত্র ৯–১০ শতাংশ পুলিশ সদস্য থাকায় সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ঘাটতি রয়েছে।

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদলি, বিশেষ করে আগের তিনটি নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়া, উপদেষ্টাদের দলীয়করণ এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সন্দেহ ও মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের মতো দলগুলো সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়ার অভিযোগ তুলেছে।

এদিকে ৪৬টি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে উচ্চ আদালতে অন্তত ২৭টি রিট আবেদন হয়েছে। প্রায় ১২ হাজার ৫৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র হিসেবে উপযুক্ত নয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসি প্রাথমিকভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য যে ৭৩টি সংস্থাকে বাছাই করেছে, সেগুলোর অনেকগুলোর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে টিআইবি।

প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই, ঋণ খেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের ভিত্তিতে প্রার্থিতা বাতিল- এসব ক্ষেত্রে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ রয়েছে। হলফনামায় দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতাতেও সীমাবদ্ধতার কথা বলা হয়েছে।

টিআইবির পর্যবেক্ষণে, প্রায় সব বড় রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হলেও কঠোর প্রয়োগের ঘাটতি থাকায় অনিয়ম পুরোপুরি ঠেকানো যায়নি।

প্রতিবেদনটি বলছে, নির্বাচন ও গণভোট ব্যবস্থায় প্রযুক্তি, আইন ও প্রক্রিয়াগত বড় ধরনের সংস্কার জরুরি। এআই ব্যবহার করে অপতথ্য ছড়ানো এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। নানা অস্থিরতা ও অসুস্থ প্রতিযোগিতা সত্ত্বেও নির্বাচনী পরিবেশ এখনো আংশিক সক্রিয় রয়েছে।


রাজধানীর সব ভোটকেন্দ্রেসর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ ডিএমপির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা মহানগরের প্রতিটি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

সোমবার ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে ডিএমপি প্রণীত নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক সমন্বয় সভায় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দিয়েছেন।

সভাপতির বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, ভোটকেন্দ্রে যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। থানা এলাকা থেকে দূরবর্তী কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখতে হবে। থানা এলাকায় পুলিশি টহল আরো জোরদার করতে হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেছেন, এবারের নির্বাচন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে হচ্ছে। এই বিষয় মাথায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে এবং আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

সমন্বয় সভায় যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, পিপিএম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় বিভিন্ন মতামত প্রদান করেন এবং কমিশনার বিভিন্ন নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।


নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে অসংখ্য অপতথ্য মোকাবেলা করতে হচ্ছে: প্রেস সচিব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিপুল পরিমাণ অপতথ্য মোকাবিলায় করতে হচ্ছে বলে জানিয়ে এর উপর আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এক সংলাপে অংশগ্রহণ করে তিনি বলেন, "পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনের কঠোর প্রয়োগ হওয়া দরকার।" প্রেস সচিবের মতে, উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের ফলে যদি কেউ ব্যক্তিগত বা সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, তবে তার জন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার যথাযথ সুযোগ থাকা অত্যন্ত জরুরি।

এ সময় তিনি অপতথ্য রুখতে সরকারের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বলেন যে, নানামুখী অপতথ্য মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা সীমিত হলেও অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। শফিকুল আলম অভিযোগ করেন যে, ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো নিয়মিতভাবে বাংলাদেশকে নিয়ে নানা বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি নামে-বেনামে ইউটিউব চ্যানেল খুলে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে যা বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। মূলত স্বচ্ছ ও নির্ভুল তথ্যের প্রবাহ নিশ্চিত করতেই তিনি এই আইনি কঠোরতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।


বোয়ালখালীতে জৌলুশ কমছে দুই শতকের সূর্যব্রত মেলা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার প্রাচীন লোকজ উৎসব—মেলা। আগের মতো সেই জমজমাট আয়োজন, লোকসংস্কৃতির প্রাণচাঞ্চল্য আর মানুষের ঢল এখন আর চোখে পড়ে না। তবুও ঐতিহ্যের আলো নিভে যায়নি পুরোপুরি। তারই উজ্জ্বল উদাহরণ বোয়ালখালীর প্রায় দুইশ বছরের ঐতিহ্যবাহী সূর্যব্রত মেলা, যা স্থানীয়দের কাছে ‘সূর্যখোলা’ নামে পরিচিত।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রাচীন এই মেলা চলবে তিন দিনব্যাপী। প্রতি বছর হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের শেষ গত রোববার সূর্যদেবের পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ আয়োজন। এবারও সেই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম বোয়ালখালীর জ্যৈষ্ঠ্যপুরা কানুরদিঘীর পাড়ে সূর্যমন্দির সংলগ্ন মাঠ সাজানো হয়েছে নান্দনিক সাজে।

মেলা প্রাঙ্গণজুড়ে বসেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যের দোকান। শীতের শেষে বসন্তের আগমনের প্রাক্কালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত মানুষ ভিড় জমিয়েছেন এ মেলায়। সরেজমিনে দেখা যায়, গৃহস্থালী সামগ্রী থেকে শুরু করে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নানা পণ্য নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। ফুলের ঝাড়ু, পোড়া আলু, বাঁশ-বেতের আসবাব, শীতল পাটি, তালপাতার হাতপাখা, মাটির তৈজসপত্র—সব মিলিয়ে এক অনন্য গ্রামীণ আবহ। ছোটদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলা। বেচাকেনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিক্রেতারাও।

স্থানীয়রা বলছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লোকজ উৎসবের জৌলুশ কমছে, নতুন প্রজন্মের আগ্রহও কমে যাচ্ছে। তবুও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মিলনই এ মেলার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য।

জ্যৈষ্ঠ্যপুরা সূর্যমন্দির মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বসুতোষ দাশ বলেন, “২২০ বছরের পুরোনো এই মেলা আমাদের বাপ-দাদার আমলের। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীসহ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সবাই এখানে আসে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি নেওয়া হয়েছে।

মেলা কমিটির উপদেষ্টা দয়াল হরি দে জানান, “রবি, সোম ও মঙ্গলবার তিন দিনব্যাপী এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন। সঠিকভাবে কেউ জানেন না, কবে থেকে এ মেলার সূচনা। তবে ১৮০৫ সাল থেকে এটি চলমান বলে জানা যায়।”

ইতিহাস বলছে, প্রায় দুইশ বছর আগে কোনো এক মাঘ মাসের তীব্র শীতে গ্রামবাসী যখন দুর্ভোগে পড়েন, তখন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সূর্যদেবের আরাধনা করেন। উপবাস ও নানা উপাচারের মধ্য দিয়ে মনোবাসনা পূরণের সেই আয়োজন থেকেই ‘সূর্যখোলা’ নামের উৎপত্তি। কালক্রমে ধর্মীয় আচার উৎসবে রূপ নেয়, আর জন্ম হয় সূর্যব্রত মেলার।

মেলায় আসা দর্শনার্থী রতন ভট্টাচার্য বলেন, “৪০ বছর পর মেলায় এলাম। আগের মতো সেই জৌলুশ আর নেই। একসময় কাপ্তাই হিলটেক্স থেকে বড় বড় চিতল, রুই, কাতলা, কালিগাইন্না, কোরাল মাছ আসত। পোড়া আলুও অনেক থাকত। এখন তেমন নেই। তবে পরিবার নিয়ে এসে ভালো লাগছে।”

পোড়া আলু বিক্রেতা মৃদুল বলেন, “সূর্যব্রত মেলার পোড়া আলু এই মেলার ঐতিহ্য। এ বছর ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে বিক্রি করতে আসতাম, এখন নিজেই প্রায় ১২ বছর ধরে বিক্রি করছি।”

সূর্যব্রত মেলা শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়—এটি গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক। এই ঐতিহ্য যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে শুধু গল্প হয়ে না থাকে, সে জন্য প্রয়োজন সচেতন উদ্যোগ ও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা।


রূপগঞ্জে ফুলের ব্যবসা জমজমাট, কোটি টাকা বিক্রির সম্ভবনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

ফেব্রুয়ারি মাসেই বসন্ত, আছে ভালোবাসা দিবস, আর্ন্তজাতিক মার্তৃভাষা দিবস। এবার এর সাথে যোগ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সব মিলিয়ে ফেব্রুয়ারিতে ফুলের চাহিদা ব্যাপক। কোটি টাকার ফুল বেচাকিনি হওয়ার আশা করছেন ব্যবসায়িরা। দোকানগুলোতেও দেখা যায় উপচেপড়া ভিড়।

উপজেলার আনাচে কানাচে ভ্রাম্যমাণ ফুলের দোকানগুলোতে দেখা যায় আগের তুলনায় ফুলের দাম বেশ বেড়েছে। প্রতি পিস গোলাপ ফুল ১০-২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০-১০০ টাকার মধ্যে এবং হলুদ, সাদা ও হালকা গোলাপি রঙের গোলাপ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা দরে।

জারবেলা ফুলের প্রতি স্টিক বিক্রি হচ্ছে ৩০টাকায়। তাছাড়া গ্লাডিওলাস ৩০ টাকা ও সূর্যমুখী বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা করে। অর্কিড প্রতি পিছ বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়, গ্রিন হাউস ফুল প্রতি পিছ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায় ও চায়না জিপস প্রতি স্টিক বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়।

তাছাড়া গাঁদা ফুলের মালা ও রজনীগন্ধা ফুলের মালা বিক্রি হচ্ছে ৮০ ও ১০০ টাকা দরে, মাম ফুলের মালা ৩০০-৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের গোলাপ দিয়ে তৈরি তোড়া বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ টাকায়, মাঝারি আকারের গোলাপের তোড়া ৮০০ টাকায় এবং ছোট আকারের গোলাপের তোড়া ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া বড় আকারের বিভিন্ন ফুল দিয়ে তৈরি তোড়া বিক্রি হচ্ছে ১২০০-১৫০০ টাকার মধ্যে। মাঝারি এবং ছোট ফুলের তোড়া বিক্রি হচ্ছে ৮০০ ও ৫০০ টাকা দরে।

ভুলতা বাজারের একজন ফুল বিক্রেতা সুমন মিয়া বলেন, এই সময়ে ফুলের চাহিদা

বেশি থাকায় আগের তুলনায় দাম বেড়েছে কিছুটা। প্রতি পিছ গোলাপ বিক্রি করছি ৪০-৫০ টাকায়। জারবেলা ফুলের প্রতি স্টিক বিক্রি করছি ৩০ টাকা দরে।

তাছাড়া এখানে ফুলের তোড়া বিক্রি করছি ১০০০-১৫০০ টাকায়। বলা যায় এই বছর আগের তুলনায় বিক্রির হার মোটামুটি বেড়েছে।

জহিরুল নামের আরেক জন ফুল বিক্রেতা গোলাপ ফুলের একটি তোড়া তৈরি করতে করতে বলেন, এই সময়টা আমাদের জন্য ফুল ব্যবসায়ীদের অন্যতম সময়। এই সময়টাতে আমাদের নির্দিষ্ট কিছু টার্গেট থাকে। সরেজমিনে দেখা যায় তার দোকানে হরেক রকমের ফুলের সমারোহ। তার মধ্যে রয়েছে গোলাপ, জারবেলা, গ্লাডিওলাস, গাঁদা, রজনীগন্ধা এবং চায়না জিবস, তাছাড়া বেশ কিছু কৃত্রিম ফুলও দোকানটিতে রয়েছে।


বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমডি ও সিইও ড. সাফিকুর রহমান গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. মো. সাফিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. শাহরিয়ার আলী গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ড. সাফিকুর রহমান বর্তমানে উত্তরা পশ্চিম থানায় পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তবে ঠিক কোন মামলায় বা কী অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়নি। উপ-কমিশনার শাহরিয়ার আলী জানান, গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার প্রক্রিয়া চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের এই কর্মকর্তার হঠাৎ গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রশাসনিক ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। উত্তরা পশ্চিম থানা সূত্র জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে থাকা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুতই এ ব্যাপারে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিমানে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।


আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন হচ্ছে বিএনসিসি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সারা দেশে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সরকার। এই নিরাপত্তা বলয়ে এবার নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর বা বিএনসিসি সদস্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকেলে বরিশাল শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময়সভা শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, নির্বাচন যেন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ হয়, সেই লক্ষ্যে সব বাহিনীকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনকালীন বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এবার উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তার দিকে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। এজন্য কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর সদস্যসংখ্যা আগের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে। একই সাথে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জন্য বডি ক্যামেরা ব্যবহারের পাশাপাশি স্পর্শকাতর এলাকায় সিসি ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতেই এই আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশাল এক বাহিনী মোতায়েনের বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের সময় সারা দেশে প্রায় এক লাখ সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া দেড় লাখ পুলিশ, ৩৭ হাজার বিজিবি, ১০ হাজার র‍্যাব এবং প্রায় ছয় লাখ আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি পাঁচ হাজার নৌবাহিনী ও প্রায় পাঁচ হাজার কোস্ট গার্ড সদস্য মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাবেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, দায়িত্ব পালনে কোনো প্রকার শৈথিল্য বা অবহেলা প্রদর্শন করা হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে সরকারি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, প্রত্যেকের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা বাধ্যতামূলক। স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সুষ্ঠু ও সফল নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বাত্মক সজাগ থাকবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।


নির্বাচনবিরোধী অপতৎপরতা কঠোর হস্তে দমনের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বা অপতৎপরতা রুখে দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত বা প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। সোমবার দুপুরে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।

সভায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে ফ্যাসিস্টের দোসর, সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। নির্বাচনের আগে এবং পরে যাতে কোনো অরাজকতা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য নির্বাচনের পূর্ববর্তী চার দিন নিবিড় টহল পরিচালনা করতে হবে। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকাগুলোতে বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন তিনি।

নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সতর্ক করে উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচন নিয়ে দেশবাসী ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যাশা অনেক। আগামী নির্বাচন যাতে দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে, সে লক্ষ্যে সবাইকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে। কর্মকর্তাদের সামান্যতম ভুল বা বিচ্যুতি নির্বাচনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে, তাই সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে সরকার কোনো আপস করবে না জানিয়ে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আরও বলেন, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। ভোটের আগে, ভোটের দিন এবং পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব। ভোটাররা যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে ও নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।


banner close