নিখোঁজ বিষয়ক অনুসন্ধান কমিশনে ১ হাজার ৬০০ অভিযোগ জমা পড়েছে। এ অবস্থায় নিখোঁজ ঘটনার জন্য দায়ীদের শনাক্ত ও তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এসময় তিনি বলেন, আপনারা যে কোনো ধরনের সহযোগিতা চাইলে আমরা তা প্রদান করবো।
গতকাল শনিবার প্রধান উপদেষ্টা তার দপ্তরে আয়োজিত এক বৈঠকে কমিশনের সদস্যদের উদ্দেশে এ কথা বলেন। বৈঠকে আরও কয়েকজন উপদেষ্টা ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, নূরজাহান বেগম, আদিলুর রহমান খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, নাহিদ ইসলাম, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশিদ এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিব মো. সিরাজ উদ্দিন মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
কমিশনের সদস্যরা জানান, তারা আগামী ডিসেম্বরের মাঝামাঝি একটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন সরকারকে প্রদান করবেন এবং এরপর বিষয়টি নিয়ে আরও কাজ করবেন।
আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল জানান, সরকার প্রয়োজনে কমিশনের মেয়াদ আরও দুই বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি করবে এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় আইনগত ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারি করবে।
কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, তারা ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৬০০টি অভিযোগ পেয়েছেন, যার মধ্যে ৪০০টি অভিযোগ পর্যালোচনা করেছেন এবং ১৪০ জন অভিযোগকারীকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।
এ সময় একজন কমিশন সদস্য বলেন, অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়েছে, অনেক মানুষ এখনো কমিশনের কাছে আসতে ভয় পাচ্ছেন, কারণ তারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রতিশোধের আশঙ্কা করছেন। এর থেকে আমরা বুঝতে পারি যে প্রকৃত ঘটনার সংখ্যা রিপোর্টকৃত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি।
কমিশনের আরেক সদস্য জানান, তারা সন্দেহ করছেন যে, নিখোঁজের ঘটনা প্রায় ৩ হাজার ৫০০টি হতে পারে। এছাড়াও তারা এসব ঘটনার অপরাধী এবং যারা নির্দেশ দিয়েছিল তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন।
কমিশনের সদস্য বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনেকে জেলে আছেন এবং কেউ কেউ এমনকি মৃত্যুদণ্ডের সম্মুখীন হচ্ছেন, কারণ তাদের আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। কিছু নিখোঁজ ভুক্তভোগী ভারতের কারাগারে বন্দি আছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
বৈঠকে উপস্থিত স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, অভিযুক্তদের তালিকা পাওয়ামাত্রই এই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম কমিশনের অনুসন্ধানের ফলাফল জনসম্মুখে প্রকাশের এবং নিখোঁজ ঘটনার তত্ত্বাবধানকারীদের উন্মোচনের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
পবিত্র ঈদ উল আযহার ছুটির মাঝে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিএমইউ এর বহির্বিভাগ-১ এবং বহির্বিভাগ-২ এ আজ ২৭ মে বুধবার ২০২৬ইং তারিখ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত খোলা ছিল। এসময় সম্মানিত চিকিৎসকবৃন্দ প্রায় দুইশত (১৯৮) রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। বুধবার চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন সম্মানিত উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ। এসময় বিএমইউর সম্মানিত পরিচালক হাসপাতাল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইরতেকা রহমান, সহকারী প্রক্টর ডা. শাহরিয়ার শামস লস্কর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রোগীদের সুবিধার্থে আগামী ৩০ মে শনিবার ২০২৬ইং তারিখে বিএমইউর বহির্বিভাগ খোলা থাকবে। বিএমইউর সম্মানিত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়। আগামী ৩০ মে ২০২৬ইং তারিখের বহির্বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম সফল করার জন্য কে বিএমইউর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া প্রচলিত নিয়মে ইনডোর ও জরুরি বিভাগসমূহ খোলা রয়েছে।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (২৭ মে) সকাল সোয়া ৭টায় টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হন। যাত্রা পথে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সংক্ষিপ্ত ট্রানজিট নিয়ে তার প্যারিসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
দুপুরে বিমানবন্দরের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিমানবন্দরে বিদায়কালে সাবেক এই প্রধান উপদেষ্টাকে যথাযথ ভিআইপি মর্যাদা দেওয়া হয়।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক (ইডি) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ জানান, ড. ইউনূস সকালে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে ইস্তাম্বুলের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। বিমানবন্দর সূত্র তার প্যারিস যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য কিংবা সেখানে তার নির্ধারিত কর্মসূচি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি।
উন্নয়ন প্রকল্পের নামে দেশের আবাদি বা কৃষিজমি যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইক্ষু খামারে প্রস্তাবিত ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য ক্যাম্পাস এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেন, উন্নয়নের প্রয়োজন থাকলেও তা কৃষিজমি ধ্বংস করে করা উচিত হবে না।
পরিদর্শনকালে মির্জা ফখরুল বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশে কৃষিজমি কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও অবকাঠামো নির্মাণের ফলে দেশের আবাদি জমি অতি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় যতটা সম্ভব কৃষিজমি রক্ষা করে বিকল্প স্থানে প্রকল্প গ্রহণের ওপর তিনি জোর দেন।
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য বর্তমানে বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে জামালপুর ইক্ষু খামারের প্রায় ১০০ একর জায়গাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মির্জা ফখরুল জানান, এই বিশাল এলাকাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে এখানে শিক্ষা কার্যক্রমের অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারি খাস জমি বা ইক্ষু খামারের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। যেহেতু এই জমিটি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে রয়েছে, তাই সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য হস্তান্তর করা অনেক সহজ ও দ্রুততর হবে। এতে একদিকে যেমন সাধারণ কৃষকদের ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণের ঝামেলা থাকবে না, অন্যদিকে সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
পরিশেষে তিনি জানান, শুধু একটি নির্দিষ্ট স্থান নয়, বরং জেলার আরও বেশ কয়েকটি এলাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে। সব দিক পর্যালোচনা করে পরিবেশ ও কৃষি রক্ষা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এই বিশ্ববিদ্যালয় যেন আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষাদান কেন্দ্রে পরিণত হয়, সে লক্ষ্যেই বর্তমান প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দেড় কোটি মানুষের ঈদযাত্রা, প্রায় ৮০ লাখ কোরবানির পশু পরিবহন এবং সড়ক, রেল ও নৌপথে বাড়তি চাপের মধ্যেও সার্বিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, নির্ধারিত ভাড়ায় ও শৃঙ্খলার সঙ্গে যাত্রীরা গন্তব্যে যেতে পারছেন এবং নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও সবকিছু মিলিয়ে একটা ভালো ঈদযাত্রা ম্যানেজ করতে সক্ষম হয়েছি।
বুধবার (২৭ মে) দুপুরে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন তিনি।
শেখ রবিউল আলম বলেন, সরকার সার্বক্ষণিকভাবে ঈদযাত্রা মনিটরিং করছে। যমুনা সেতুর আগে চন্দ্রা এলাকায় কিছু যানজট বা ধীরগতি থাকলেও সেটি স্বাভাবিক। কারণ সাত লেনের যানবাহন দুই লেনে প্রবেশ করায় সেখানে গাড়ির গতি কমে যাচ্ছে। তবে ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বিআরটিএর কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলে বসে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে আমি জেনেছি, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রীরা বাড়ি যাচ্ছেন। দেড় কোটি মানুষ দুই-তিন দিনের মধ্যে ঢাকা ছাড়ছে। আবার প্রায় ৮০ লাখ কোরবানিযোগ্য পশুও পরিবহন করতে হচ্ছে। পরিবহন খাতের সামর্থ্যের শতভাগ দিয়ে আমরা চেষ্টা করেছি।
বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কাউন্টার ও বাসস্ট্যান্ডের বাইরে কিছু অসাধু ব্যক্তি সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। যাত্রীদের বাড়ি যাওয়ার তাড়াহুড়োকে পুঁজি করে কেউ কেউ বেশি ভাড়া নিচ্ছে। তবে অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং জরিমানাও করা হচ্ছে। যেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা না যায়, সে জন্য কঠোর নজরদারি চলছে।
রেলপথে নারীদের জন্য বিশেষ কোচ সংযোজনের বিষয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, এরইমধ্যে তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনে বিশেষ কোচ যুক্ত করা হয়েছে। ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। সব ট্রেনে এখনই এটি সম্ভব হয়নি, কারণ আগেই অধিকাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে এবং পর্যাপ্ত কোচও হাতে নেই। ঈদ উপলক্ষ্যে অতিরিক্ত ৫১টি কোচ এরইমধ্যে যুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রো স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানো নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত ছিল না। এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনকে জিজ্ঞেস করেন। যারা এখানে ইজারা দিয়েছে, টাকা নিয়েছে দায় তাদের।
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন হাসপাতালে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) গ্যাস লিকেজের ঘটনায় চিকিৎসাধীন ছয়টি শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে এই হৃদয়বিদারক ঘটনার তথ্য জানাজানি হলে পুরো হাসপাতাল এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের পক্ষ থেকে এই বিপুল সংখ্যক শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসি থেকে নির্গত গ্যাসের বিষক্রিয়া বা দমবন্ধ হয়ে শিশুগুলো প্রাণ হারিয়েছে।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে থাকা এসি সিস্টেমে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। সেখান থেকেই মূলত গ্যাস লিকেজের সূত্রপাত হয়। সেই সময় ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিশুদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে এবং এক পর্যায়ে তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। পুলিশের একটি বিশেষ তদন্ত দল এবং ক্রাইমসিন ইউনিট ইতিমধ্যে হাসপাতাল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ শুরু করেছে।
রমনা বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, মধ্যরাতের পর এই ঘটনা ঘটলেও সকালে এর ভয়াবহতা সামনে আসে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রাথমিকভাবে তাদের ধারণা এসির গ্যাস লিকেজ থেকে তৈরি হওয়া শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনো কারিগরি ত্রুটির কারণে শিশুগুলো মারা গেছে। তবে বিষয়টি নিখুঁতভাবে নিশ্চিত হতে ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল ও তদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে পুলিশ। এটি কোনো অবহেলাজনিত দুর্ঘটনা কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের ভেতরে সাধারণ মানুষ ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে প্রবল আতঙ্ক বিরাজ করছে। শিশু ওয়ার্ডের এই চরম বিপর্যয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে অন্যান্য অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ বেড়ে যায়। তবে এই মর্মান্তিক প্রাণহানির বিষয়ে এখন পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ও বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার কাজ চলছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডটি পুলিশি পাহারায় রাখা হয়েছে এবং সেখানে সাধারণের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। নিহত শিশুদের পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর এই ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং যদি কারো অবহেলা থেকে থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজধানীর নতুন বাজার সংলগ্ন নর্দ্দা এলাকায় বুধবার (২৭ মে) ভোরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন যাত্রী নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ‘ইসলাম পরিবহন’-এর একটি দ্রুতগামী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজক ভেঙে বিপরীত লেনের ‘আকাশ পরিবহন’-এর একটি বাসে সজোরে ধাক্কা দিলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন— লাইজু বেগম (৩৮), তাঁর স্বামী মো. কবির জোমাদ্দার (৪৭), খুশি বেগম (৩৫) এবং মো. রবিউল (২২)। নিহতদের মধ্যে তিনজনের বাড়ি বাগেরহাটের মোংলায় এবং একজনের বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভোর ৬টার দিকে ঘটা এই দুর্ঘটনায় বাস দুটি দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলে। খবর পেয়ে বাড্ডা ও ভাটারা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রেকারের সাহায্যে ক্ষতিগ্রস্ত বাসগুলো সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে ঘটনার পরপরই ঘাতক ইসলাম পরিবহনের চালক ও হেল্পার পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নেসার উদ্দিন একটি বলেন, “নতুন বাজারের নর্দ্দা এলাকায় সড়কের সঙ্গে একটি বাস কাউন্টার আছে। ওখানের রাস্তায় ভিড় থাকে। পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ইসলাম পরিবহনের একটি বাস ওই পথে বেপরোয়া গতিতে আসছিল। নতুন বাজার থেকে উত্তরামুখী সড়ক পার হওয়ার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রোড ডিভাইডারের উপরে বাস উঠিয়ে দেয়। গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় বাসটি বিপরীত লেনের উত্তরা থেকে গুলিস্তানগামী সড়কে থাকা আকাশ পরিবহনের একটি বাসে ধাক্কা দেয়।”
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, ইসলাম পরিবহনের বাসটি শুরু থেকেই অত্যন্ত অনিয়ন্ত্রিত গতিতে চালানো হচ্ছিল। এসআই নেসার উদ্দিন জানান, “গুলিস্তানগামী আকাশ পরিবহনের বাসে যাত্রী ছিল বেশি। আর ঘাতক ইসলাম পরিবহনে যাত্রী ছিল ৫-৭ জন। ইসলাম পরিবহনের বাসের ধাক্কায় আকাশ পরিবহনের বাসটি অনেকটা দূরে সরে যায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান একজন নারী যাত্রী। কুর্মিটোলা হাসপাতালে মারা যাওয়ার পর আরও দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোট চার যাত্রী নিহত ও অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর অবস্থায় কুর্মিটোলা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।” বাসের যাত্রীদের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ আরও জানায়, “পটুয়াখালী থেকেই বাসটি বেপরোয়া গতিতে আসছিল। চালক ও হেল্পার ছিল অবাধ্য। পুরো রাস্তায় চিৎকার চেঁচামেচি করেছে চালক।” বর্তমানে ঘাতক বাসটি থানা হেফাজতে রয়েছে এবং পলাতক চালক ও হেল্পারকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পার্বত্য প্রতিকূলতা ও শ্বাসরুদ্ধকর প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে বাংলাদেশের বিজয় নিশান উড়িয়েছেন পর্বতারোহী নুরুন্নাহার নিম্নি। নেপাল সময় মঙ্গলবার (২৭ মে) ভোর ৫টা ২৪ মিনিটে এভারেস্টের সর্বোচ্চ চূড়ায় আরোহণ করেন তিনি। বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব (বিএমটিসি) নিম্নি’র এই ঐতিহাসিক সাফল্যের তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের নারী পর্বতারোহণের ইতিহাসে দীর্ঘ ১৪ বছরের বিরতি ভেঙে তৃতীয় নারী হিসেবে এভারেস্ট জয়ের গৌরব অর্জন করলেন তিনি। এর আগে ২০১২ সালে নিশাত মজুমদার প্রথম এবং পরবর্তীতে ওয়াসফিয়া নাজরীন বাংলাদেশের হয়ে এভারেস্ট জয় করেছিলেন।
গত ১১ এপ্রিল ঢাকা থেকে নেপালের উদ্দেশে যাত্রা করে কাঠমান্ডু ও লুকলা হয়ে এভারেস্ট বেজক্যাম্পে পৌঁছান নিম্নি। সেখানে উচ্চতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার পর ১৭ মে চূড়ান্ত অভিযানের লক্ষ্যে বেজক্যাম্প ত্যাগ করেন। যাত্রাপথে ২৩ মে ক্যাম্প-৪ এ পৌঁছালেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চূড়ার খুব কাছ থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হন তিনি। এরপর দমে না গিয়ে কয়েক দিন ক্যাম্প-২ এ অবস্থান করে অনুকূল পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করেন। অবশেষে ২৫ মে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পুনরায় যাত্রা শুরু করে সোমবার সন্ধ্যায় ক্যাম্প-৪ থেকে চূড়ান্ত আরোহণ শুরু করেন এবং মঙ্গলবার ভোরে নেপালের এইটকে এক্সপেডিশনের একজন শেরপার সহযোগিতায় সফলভাবে শিখর স্পর্শ করেন।
পেশাগত জীবনে পূবালী ব্যাংক পিএলসি–এর জেনারেল ব্যাংকিং বিভাগে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত নুরুন্নাহার নিম্নি’র এই অভিযানের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে তাঁর কর্মস্থল। রংপুরের এই কৃতী সন্তান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে অধ্যয়নকালীন ২০০৬ সালে সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে গিয়ে প্রথম পাহাড়ের প্রতি টান অনুভব করেন। পরবর্তীতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পাহাড়ে ট্রেকিংয়ের অভিজ্ঞতা তাঁকে এভারেস্ট জয়ের স্বপ্নে উদ্বুদ্ধ করে। ২০২২ সালে ভারতের দার্জিলিংয়ের হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং বিএমটিসি-র সঙ্গে যুক্ত হওয়া তাঁর এই সাফল্যের পথকে আরও সুগম করে।
বাংলাদেশের এভারেস্ট জয়ের ইতিহাসে ২০১০ সালে মুসা ইব্রাহীমের হাত ধরে যে শুভসূচনা হয়েছিল, তা ধারাবাহিকভাবে সমৃদ্ধ করেছেন এম এ মুহিত, সজল খালেদ, বাবর আলী ও ইকরামুল হাসান শাকিলের মতো অভিযাত্রীরা। ২০২৬ সালে দেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে এভারেস্টের শীর্ষে আরোহণ করে নুরুন্নাহার নিম্নি সেই গৌরবের মুকুটে একটি নতুন পালক যুক্ত করলেন। তাঁর এই অদম্য স্পৃহা ও সাফল্য বাংলাদেশের নারীদের জন্য এক নতুন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টার রেশ ধরে আজ বুধবারও (২৭ মে) ভারী বর্ষণ ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ দুপুরের মধ্যে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের আটটি অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
ঢাকার আবহাওয়া:
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দুপুর পর্যন্ত ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এ সময়ের মধ্যে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৩ শতাংশ। উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে ৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
সারাদেশের পূর্বাভাস:
আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের শঙ্কা রয়েছে। এই সময়ে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
নদীবন্দরের সতর্কতা:
আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১২ মিনিটে। বর্ষণমুখর এই পরিস্থিতির কারণে ঈদের শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা ও ঈদযাত্রায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটতে পারে।
মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহার প্রাক্কালে দেশবাসী ও বিশ্ববাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত পৌনে ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বার্তার মাধ্যমে তিনি এই শুভকামনা জ্ঞাপন করেন। উৎসবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তার পোস্টে উল্লেখ করেন, “ত্যাগের পরাকাষ্ঠা, তাকওয়ার মহিমান্বিত পথনির্দেশনা এবং আত্মশুদ্ধির অনন্য বার্তা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বছর ঘুরে আবারও বিশ্বমুসলিমের দুয়ারে হাজির পবিত্র ঈদুল আজহা। আমি এই শুভক্ষণে দেশ এবং বিশ্বের সব মুসলমানকে জানাই ঈদ মোবারক। বিশ্ববাসীকে জানাই পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা।”
ত্যাগের শাশ্বত বার্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী আরও লিখেছেন, “ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মুসলমান ঈদুল আজহা উদ্যাপনের জন্য প্রস্তুত। ইসলামের মহিমান্বিত এই উৎসব শুধু একটি আনন্দ-উৎসবই নয় বরং স্রষ্টার প্রতি গভীর বিশ্বাস, আত্মনিবেদন এবং ত্যাগের এক চিরন্তন বার্তা বহন করে। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর অটল ঈমান, নিঃশর্ত আনুগত্য এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই দিবসকে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কাছে মহিমান্বিত ও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।”
দেশ ও দশের মঙ্গল কামনা করে তারেক রহমান মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানিয়ে বলেন, “তিনি যেন আমাদের ত্যাগ কবুল করেন। আমাদের মাতৃভূমিসহ সমগ্র মুসলিমবিশ্ব ও মানবজাতির জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা দান করেন। একই সঙ্গে আমি বিশ্বজুড়ে শান্তি, সম্প্রীতি এবং নিরাপত্তার জন্যও মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করছি।” পরিশেষে সবার জীবন শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বাণীতে বলেন, “ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক এই পবিত্র ঈদুল আজহা। আল্লাহ আমাদের কোরবানি ও ইবাদত কবুল করে নিন। তার অশেষ রহমত ও বরকতে আমাদের জীবন ভরে উঠুক শান্তি ও সমৃদ্ধিতে।” বিশ্বজুড়ে ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি ছড়িয়ে পড়ুক—এমনই বার্তা উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রীর এই শুভেচ্ছায়।
পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত আয়োজনের লক্ষে রাজধানীর ঐতিহাসিক জাতীয় ঈদগাহ ময়দান এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিবিড় তত্ত্বাবধানে এবারও এই প্রাঙ্গণে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই ধর্মীয় সমাবেশে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্যবর্গ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিবৃন্দ, পদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকরা অংশ নেবেন।
ঈদের এই জামাতকে সুশৃঙ্খল ও আরামদায়ক করার লক্ষে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক যাতায়াত এবং বসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রায় ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই বিশালাকার ময়দানের একটি বড় অংশ জুড়ে তৈরি করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন প্যান্ডেল, যার আয়তন প্রায় ২৫ হাজার ৪০০ বর্গমিটার। এখানে মোট ১২১টি কাতারে প্রায় ৩৫ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলিম একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায়ের সুযোগ পাবেন। ভিআইপি অতিথিদের সুরক্ষায় ২৫০ জন পুরুষ এবং ৮০ জন নারীর জন্য বিশেষ স্থান সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ এবং সাড়ে ৩ হাজার নারীর জন্য আলাদা অংশে নামাজের সুব্যবস্থা করা হয়েছে।
নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য ময়দানে প্রবেশের উদ্দেশ্যে ৪টি গেট এবং প্রস্থানের জন্য ৭টি সুনির্দিষ্ট গেট রাখা হয়েছে, যেখানে ভিআইপি, সাধারণ পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা পথ বরাদ্দ থাকবে। অজুর জন্য পুরুষদের ১১৩টি ও নারীদের জন্য ২৭টি ট্যাপসহ মোট ১৪০ জনের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। আকস্মিক বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে স্থাপন করা হয়েছে ওয়াটারপ্রুফ সামিয়ানা ও উন্নত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। এছাড়া গ্রীষ্মের তাপদাহ থেকে মুসল্লিদের রক্ষা করতে পর্যাপ্ত ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার ও পর্যাপ্ত আলোর সংস্থান রাখা হয়েছে। বিশুদ্ধ পানীয় জল, আরামদায়ক কার্পেট ও জায়নামাজের পাশাপাশি জরুরি সেবার জন্য ফায়ার সার্ভিস, প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র এবং ভ্রাম্যমাণ টয়লেট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘আড়ালে-আবডালে দুর্বৃত্ত আছে, সেটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে তাদের কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
এরপরও কেউ যদি ভাড়া বেশি নিয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেওয়া হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি কাউন্টারে নির্ধারিত ভাড়ার স্টিকার লাগানো হয়েছে। বাসেও ভাড়ার তালিকা সংযুক্ত করা হয়েছে।
যাত্রীরা আগের তুলনায় নির্ধারিত সময়ে ভালোভাবে বাড়ি যেতে পারছেন এবং মোবাইল কোর্টও কাজ করছে। যাত্রীরা পরিবহনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, অনেক যাত্রী অগ্রিম টিকিট না কাটার কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে চালক বা সুপারভাইজার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।
কোরবানির পশুর হাট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল যে সড়কে গরুর হাট বসবে না। তবে পশু ও ক্রেতার চাপ বেড়ে যাওয়ায় অনেক সময় হাট সড়কে চলে আসছে। এতে কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের মনিটরিংয়ে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ পণ্যবাহী ট্রাকে যাতায়াত করছে।
এসব ট্রাক থামাতে গেলে অনেক সময় মহাসড়কে যানজট তৈরি হয়। নাগরিকদের সচেতন না হলে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।’
চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় কঠোর বার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে কোনো আইনের শাসন ছিল না, তাই জঙ্গল সলিমপুরের মতো ঘটনা ঘটেছে।
জঙ্গল সলিমপুরসহ অন্যান্য জায়গায় যেখানে পুলিশ-সদস্যদের ওপর হামলা হচ্ছে, সেটা নজরে রাখা হচ্ছে। তারা যে দুঃসাহস দেখিয়েছে, সেটি কঠোরভাবে নির্মূলভাবে করা হবে। এদেশে কোনোভাবেই সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, এবার সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কম। যা হচ্ছে বেশিরভাগই নিজেদের ভুলে। এ জন্য যাত্রীদের সচেতন হতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের মনিটরিং সেল বিশেষভাবে কাজ করে ঈদের সময়।
মহাসড়ক, পশুর হাট সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকারী ব্যবস্থাপনা আছে। ঈদ পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য সরাতে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়েও কাজ চলবে।
সড়কে যানজট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, টোলে আধুনিকায়নে সড়ক মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়া হবে। ডিজিটালাইজেশন প্রয়োজন। নারায়ণগঞ্জে লোকনাথ উৎসব ও মাদারীপুরে কুম্ভ মেলার নিরাপত্তায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত রবিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে জঙ্গল সলিমপুরের আলী নগর যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালায় কয়েক শ সন্ত্রাসী। তারা নির্মাণাধীন ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেয়। উপস্থিত লোকজনকে মারধর করে। আত্মরক্ষার্থে ১০৫ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে যৌথ বাহিনী। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। এ ঘটনার পর গতকাল সোমবার সেখানে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বেশকয়েক জনকে আটক করা হয়েছে।
রাজধানীতে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূতি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল ১১টা ৪২ মিনিটের দিকে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৬।
ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমসিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পেটির উৎপত্তিস্থল ছিল টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থেকে ২৯ কিলোমিটার উত্তর-পূবে। আর ময়মনসিংহ থেকে ৪৭ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং সখিপুর থেকে ২২ কিলোমিটার উত্তর-পূবে। এর ভৌগোলিক অবস্থান ছিল ২৪ দশমিক ৩৩ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০ দশমিক ৩৯ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।
এই ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পনের সৃষ্টি হয় বলেও জানায় সংস্থাটি।