সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
১৮ ফাল্গুন ১৪৩২

মাঠে নামতে চায় আ.লীগ, কঠোর অবস্থানে সরকার

আজ পাল্টা গণজমায়েত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের * ৩ দফা দাবিতে একইদিনে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ঢাবি ছাত্রদল
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০১
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০১

৫ আগস্ট ক্ষমতা হারানোর পর টানা প্রায় আড়াই মাস একেবারে নিশ্চুপ ছিল সাবেক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। তবে গত ১৫ দিনে বেশ কয়েকবার দলের ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে ও রাজধানীর দুয়েকটি এলাকায় ঝটিকা মিছিল করে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পতিত দলটির নেতা-কর্মীরা। এর মধ্যে ১০ ডিসেম্বর শহীদ নূর হোসেন দিবসকে সামনে রেখে গতকাল আবারও দলীয় ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে আজ রোববার রাজধানীর জিরো পয়েন্টে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। এদিকে, এ ঘোষণা বিক্ষুব্ধ করেছে অন্তর্বর্তী সরকারকে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসের পরপরই নিজেদের ফেসবুক পেজে পাল্টা স্ট্যাটাস দিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও প্রধান উপদেষ্টার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, গণহত্যাকারী বা নিষিদ্ধ সংগঠনের কেউ কর্মসূচি করার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। আর শফিকুল আলম তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে আওয়ামী লীগকে ‘ফ্যাসিবাদী দল’ হিসেবে উল্লেখ করে লিখেছেন, এই ফ্যাসিবাদী দলের বাংলাদেশে প্রতিবাদ করার কোনো সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভঙ্গের কোনো প্রচেষ্টাকে তারা বরদাশত করবে না।

এদিকে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘোষণার প্রতিবাদে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। আজ দুপুর ১২টায় ওই জিরো পয়েন্টেই ‘পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে’ গণজমায়েত করার ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রদের সংগঠনটি।

১৯৯০ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করার আন্দোলনে বুকে-পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক স্বৈরাচার নিপাত যাক’ লিখে প্রতিবাদ জানানোর সময় ১০ ডিসেম্বর পুলিশের গুলিতে নিহত হন নূর হোসেন। সেই থেকে দিবসটিকে ‘গণতন্ত্র মুক্ত করার দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে রাজনৈতিক দলগুলো। সেই দিনটিকে স্মরণ করে গতকাল ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে’ আজ রোববার (১০ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় রাজধানী ঢাকার জিরো পয়েন্টে নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণকে আসার ডাক দিয়েছে আওয়ামী লীগ। অগণতান্ত্রিক শক্তির অপসারণ এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে গতকাল শনিবার দলটির ফেসবুক পেজে এ-সংক্রান্ত দুটি পোস্ট সংবাদ বিজ্ঞপ্তি হিসেবে দেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগের পোস্টে বলা হয়, ‘১০ নভেম্বর আসুন- নূর হোসেন চত্বরে জিরো পয়েন্ট, গুলিস্তান, ঢাকায়। আমাদের প্রতিবাদ দেশের মানুষের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে, আমাদের প্রতিবাদ মৌলবাদী শক্তির উত্থানের বিরুদ্ধে, আমাদের প্রতিবাদ সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রাকে ব্যাহত করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে। অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আপনিও অংশ নিন।’

দেশব্যাপী সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মসূচি পালনেরও আহ্বান জানানো হয় আওয়ামী লীগের ওই বিজ্ঞপ্তিতে।

আওয়ামী লীগের মাঠে নামার ঘোষণা শুনেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসউদসহ অন্য নেতারা। পরে রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।

শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ তার স্ট্যাটাসে বলেন, গণহত্যাকারী ও নিষিদ্ধ সংগঠনের কেউ কর্মসূচি করার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

অন্যদিকে, প্রেস সচিব শফিকুল আলম তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, আওয়ামী লীগ বর্তমানে একটি ফ্যাসিবাদী দল। এই ফ্যাসিবাদী দলের দেশের ভেতর আওয়ামী লীগের সভা-সমাবেশ এমনকি কোনো ধরনের মিছিল করার কোনো সুযোগ নেই। গণহত্যাকারী ও স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার নির্দেশে কেউ সভা-সমাবেশ ও মিছিলের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে। অন্তর্বর্তী সরকার কোনো সহিংসতা বা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভঙ্গের কোনো প্রচেষ্টাকে বরদাশত করবে না।

পরে রাতে আওয়ামী লীগের মাঠে নামা প্রতিহত করতে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ‘পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে’ আজ রোববার দুপুর ১২টায় জিরো পয়েন্টে গণজমায়েত করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

গতকাল শনিবার রাত আটটার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফেসবুক পেজে এই কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তারিকুল ইসলাম আজ রোববার জিরো পয়েন্টে তাঁদের সংগঠনের কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, গতকাল নোয়াখালীতে একটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, ‘আজ ফ্যাসিস্টদের প্রতি অনেকে দরদ ও মায়া দেখাচ্ছে। অনেকে বলছে, আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল, তাদের রাজনীতি করার অধিকার ও ভোটাধিকার দিতে হবে। আওয়ামী লীগ যদি রাজনৈতিক দল হয় তবে গত ১৬ বছর কেন এ দেশের মানুষকে ভোটের অধিকার দেয়নি? তারা রাজনৈতিক দল হয়ে থাকলে কেন আমার দুই হাজারের বেশি ভাইবোনকে হত্যা করেছে? কেন গত ১৬ বছর ধরে ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্ররা নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে? সন্ত্রাসী এবং রাজনৈতিক দলের মধ্যে পার্থক্য ধরতে না পারলে আমরা বুঝে নেব আপনারাও রাজনৈতিক দলের কাতারে পড়েন না। সন্ত্রাসীরা আজীবনের জন্য সন্ত্রাসী। কোনো সন্ত্রাসী ভবিষ্যতে এ দেশের মেম্বার, চেয়ারম্যান, এমপি ও মন্ত্রী হতে পারবে না। সন্ত্রাসী আর রাজনৈতিক দল কখনও এক হতে পারে না।’

গতকাল শনিবার দুপুরে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ কলেজ মাঠে একটি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জুলাইয়ের বিপ্লবে নিহত ও আহতদের পরিবারকে অর্থ ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মাসউদ বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালানোর পর তরুণরা যে স্বপ্ন দেখছে, সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে আজ একটি পক্ষ বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ইতিহাসের পাতায় যদি শহীদদের নাম লিপিবদ্ধ করে রাখতে হয়, তবে আগে তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে হবে। বইয়ের কাগজে আমরা শহীদদের নাম যেভাবে দেখতে চাই, যেভাবে পত্রিকার পাতায় দেখতে চাই ঠিক একইভাবে আমরা দেখতে চাই- দুই যুগ পর যেন দেশের মানুষ বলতে পারে চব্বিশের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আমরা সুন্দর এই বাংলাদেশ পেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যদি রাজনৈতিক দল হয়ে থাকে, তাহলে এতদিন কেন জনগণের ভোটাধিকার দেয়নি। আমাদের ভোটের, গণতন্ত্রের অধিকার নিয়ে আন্দোলন করতে হয়েছে। তাই অবিলম্বে মুজিববাদ ও ফ্যাসিবাদের সংবিধান মুছে ফেলতে হবে।’

এই সমন্বয়ক বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা বার বার সংবিধানকে কাটাছেঁড়া করে এ দেশের মানুষের ভাতের, ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এ দেশের মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। সেই সংবিধানকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে চব্বিশের তরুণদের হাত ধরে বিজ্ঞজনের পরামর্শ নিয়ে নতুন সংবিধান রচনা করা হবে।’

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলও ৩ দফা দাবিতে একই দিন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলকে হেনস্তার প্রতিবাদ ও ১৫ বছরে বিভিন্ন হামলায় জড়িতদের বিচারসহ ৩ দফা দাবিতে রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা পালন করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাষ্কর্যে অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে শেষ হবে।

শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

ছাত্রদলের তিন দাবিগুলো হলো- বিদেশের মাটিতে ড. আসিফ নজরুলের ওপর মাটিতে হামলা ও হেনস্তা করার অপচেষ্টাকারী বিদেশে পলাতক ফ্যাসিবাদী আওয়ামী দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা।

বিগত ১৫ বছর ধরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনকারী ও ছাত্র রাজনীতিকে কলুষিত করা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় নিয়ে আসা এবং আওয়ামী সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনা।


প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সোমবার ( মার্চ) দুপুরে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ চীনের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং উন্নয়নমূলক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো প্রসারের লক্ষ্যে এই আলোচনাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।


মতিঝিলে রুমমেটকে হত্যার পর মরদেহ সাত টুকরো: আসামি শাহিন ৫ দিনের রিমান্ডে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মতিঝিলে রুমমেট মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহকে নৃশংসভাবে হত্যার পর মরদেহ সাত টুকরো করার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত আসামি শাহিন আলমের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (২ মার্চ) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক মো. শাহরিন হোসেন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মাকসুদুর রহমান একে একটি পরিকল্পিত ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে সর্বোচ্চ রিমান্ডের দাবি জানান। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন, যদিও এ সময় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

আদালতে তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে জানান যে, ভুক্তভোগী ওবায়দুল্লাহ একটি কোম্পানিতে এবং আসামি শাহিন একটি হোটেলে কাজ করতেন এবং তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ মনমালিন্য ছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওবায়দুল্লাহ যখন ওয়াশরুমে কাপড় ধুচ্ছিলেন, তখন আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখা ধারালো চাপাতি দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন শাহিন এবং পরবর্তীতে দেহটি সাতটি খণ্ডে বিভক্ত করেন। মরদেহের কিছু অংশ তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি অংশগুলো এখনো নিখোঁজ রয়েছে। এই দেহাংশগুলো উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা নিশ্চিত হতেই আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

শুনানি চলাকালে আদালত হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে চাইলে আসামি শাহিন দাবি করেন যে, তার মা অসুস্থ এবং ওবায়দুল্লাহর কাছে তিনি কিছু টাকা পাওনা ছিলেন। এছাড়া ওবায়দুল্লাহর আচরণ ও বিভিন্ন বিষয়ে ঝামেলার কারণে তিনি এই কাজ করেছেন বলে জানান, তবে হত্যার কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল না বলে তিনি আদালতে দাবি করেন। উল্লেখ্য যে, গত সাড়ে চার মাস ধরে ঢাকায় বসবাস করা শাহিনের বিরুদ্ধে এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত ওবায়দুল্লাহর বাবা হামিদ মিঞা বাদী হয়ে গতকাল রবিবার (১ মার্চ) মতিঝিল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত শাহিনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।


মধ্যপ্রাচ্যে হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত ও আহত ৭, সরকারের শোক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত এবং সাতজন আহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সোমবার (২ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই শোকবার্তা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে সরকার গভীরভাবে মর্মাহত এবং পরিস্থিতির ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ রাখছে।

নিহতদের মধ্যে সিলেটের বড়লেখার বাসিন্দা সালেহ আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে একটি বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলার সময় ধ্বংসস্তূপের আঘাতে মৃত্যুবরণ করেন। বর্তমানে সেখানে বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হওয়া মাত্রই তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এছাড়া বাহরাইনে আরও একজন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত ও তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের বিষয়ে মানামায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

অন্যদিকে কুয়েতে বেসামরিক বিমানবন্দরের আশেপাশে ড্রোন হামলায় চারজন বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। তারা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আমিনুল ইসলাম, পাবনার সাথিয়ার রবিউল ইসলাম, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের মাসুদুর রহমান এবং কুমিল্লার চান্দিনার দুলাল মিয়া। কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ব্যক্তিগতভাবে হাসপাতালে গিয়ে তাদের খোঁজ নিয়েছেন এবং বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে আটকে পড়া বাংলাদেশ নৌপরিবহন করপোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র ক্রুদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং তারা বর্তমানে নিরাপদ রয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ছয় লাখেরও বেশি বাংলাদেশি অবস্থান করছেন যাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ক্রমবর্ধমান এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের নিজ নিজ দেশের সরকারের জারি করা নিরাপত্তা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য দূতাবাসের মাধ্যমে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।


জুলাই সনদ অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার পাচ্ছে জামায়াত : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি সম্মান জানিয়ে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদের জন্য প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে এটি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেই ঐকমত্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং সমঝোতার বাস্তবায়ন শুরু করতেই সরকারের পক্ষ থেকে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামীকে মৌখিকভাবে এবং সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে এই প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো, যেদিন জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হবেন, সেদিনই যেন বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হতে পারেন। সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করেন যে, যদিও বর্তমান আইন ও সংসদীয় রীতি অনুযায়ী সরকারি দল চাইলে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার—উভয় পদই নিজেদের কাছে রাখতে পারে, কিন্তু জুলাই সনদের অঙ্গীকার অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার পদটি বিরোধী দলকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটিকে সরকারের পক্ষ থেকে একটি বড় ‘গুড উইল’ বা সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

বৈঠক শেষে উচ্চকক্ষ বা আপার হাউস গঠনের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তবে সমঝোতার রাজনীতির অংশ হিসেবে ডেপুটি স্পিকার পদটি এখনই অফার করার সুযোগ রয়েছে এবং সরকার সেই পথেই হাঁটছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে একটি নতুন ধারার সূচনা করতে পারে, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এবং দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকার এই সমঝোতার দলিল পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর বলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।


ভারত ও বাংলাদেশের ভিসা দ্রুত স্বাভাবিক করার আশ্বাস প্রণয় ভার্মার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা। সোমবার (২ মার্চ) নবনিযুক্ত বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই ইতিবাচক বার্তার কথা জানান। প্রণয় ভার্মা বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অত্যন্ত গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে এবং এই সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি বর্ডার হাট ও বন্ধ থাকা স্থলবন্দরগুলো পুনরায় চালু করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের জানান, ভারতীয় হাইকমিশনার মূলত নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানাতে এসেছিলেন। দুই দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর ও বর্ডার হাট বর্তমানে বন্ধ রয়েছে, যা খুব শীঘ্রই পুনরায় সচল করার বিষয়ে একমত হয়েছেন উভয় পক্ষ। এর ফলে দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে এদিনের বৈঠকে ভারতীয় অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভবিষ্যৎ বা নতুন কোনো অর্থায়ন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। মূলত বাণিজ্যিক বাধাগুলো দূর করা এবং দুই দেশের মানুষের যাতায়াত সহজ করতে ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করাই ছিল এই আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। হাইকমিশনারের এই আশ্বাসের ফলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত ভিসা জটিলতা নিরসনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের এই নতুন অধ্যায়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


মধ্যপ্রাচ্য সংকটে শাহজালাল বিমানবন্দরে ফ্লাইটে মহাবিপর্যয়: ৩ দিনে বাতিল ১০২ ফ্লাইট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে আকাশপথের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অচলাবস্থার ফলে টানা তিন দিনে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ১০২টি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করায় এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক এই সংঘাতের প্রভাবে কয়েক হাজার প্রবাসী ও ভ্রমণপ্রত্যাশী যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বেবিচকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম দিনে ২৩টি এবং পরের দিন ১ মার্চ সর্বোচ্চ ৪০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। আজ সোমবার (২ মার্চ) পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার আশা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আরও ৩৯টি ফ্লাইটের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। তিন দিনের এই ধারাবাহিক ফ্লাইট বাতিলের ফলে বিমানবন্দরের শিডিউল পুরোপুরি ওলটপালট হয়ে গেছে। বিশেষ করে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের একটি বড় অংশ সময়মতো কর্মস্থলে ফিরতে না পেরে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

সোমবার বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০টি ফ্লাইট রয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের। এছাড়া এয়ার অ্যারাবিয়ার ৮টি এবং এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কাতার এয়ারওয়েজ ও ফ্লাইদুবাইয়ের ৪টি করে এবং গালফ এয়ার, কুয়েত এয়ারওয়েজ ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইটের যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে। যদিও পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় এরই মধ্যে কিছু বিকল্প রুটে পুনরায় ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে, তবে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, আবুধাবি, শারজাহ ও দুবাইগামী রুটগুলোতে এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। আকাশসীমা পুরোপুরি উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা বজায় থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাতের নিয়োগ বাতিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে শেখ মো. সাজ্জাত আলীর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। গত রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, সাজ্জাত আলীর নিজ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে ডিএমপি কমিশনারের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে সরকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী। ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর দুই বছর মেয়াদে তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। নিয়োগের মাত্র কয়েকমাসের মাথায় তাঁর এই প্রস্থান পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ডিএমপি কমিশনারের পদটি বর্তমানে শূন্য হওয়ায় নতুন কাউকে পূর্ণাঙ্গভাবে নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত এর যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) মো. সরওয়ার। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি নতুন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বের কথা জানানো হয়। ফলে এখন থেকে পরবর্তী কমিশনার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত মো. সরওয়ারই ডিএমপির প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রমের তদারকি করবেন। সব মিলিয়ে, রাজধানীর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির নেতৃত্বে এই সাময়িক পরিবর্তন দ্রুতই স্থায়ী রূপ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


বাংলাদেশিদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটেড ২ মার্চ, ২০২৬ ১৩:২১
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্তত কয়েক ডজন দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা (ইমিগ্র্যান্ট ভিসা) প্রদান স্থগিত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। সোমবার (২ মার্চ) সকালে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক বার্তার মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকেই এই নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে আসা অভিবাসীদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে হবে। মূলত যেসব দেশের অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর তুলনামূলক বেশি হারে সরকারি সহায়তা (পাবলিক বেনিফিট) গ্রহণ করেন এবং মার্কিন করদাতাদের ওপর অর্থনৈতিক বোঝা হিসেবে গণ্য হন, সেসব দেশের ক্ষেত্রেই এই স্থগিতাদেশ কার্যকর করা হয়েছে। বর্তমানে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এই দেশগুলোর নাগরিকদের স্ক্রিনিং ও যাচাইকরণ নীতিমালা পুনরায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ পর্যটক বা স্বল্পমেয়াদী ভ্রমণকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। দূতাবাস স্পষ্ট করেছে যে, এই স্থগিতাদেশ শুধুমাত্র অভিবাসী বা স্থায়ীভাবে বসবাসের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, ‘ভিজিটর ভিসা’ বা স্বল্পমেয়াদী ভ্রমণের ভিসার ক্ষেত্রে নয়। অর্থাৎ পর্যটন, ব্যবসা বা চিকিৎসার মতো প্রয়োজনে আগের নিয়মেই ভিসা পাওয়া যাবে। এছাড়া বর্তমানে যারা অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদন করেছেন, তারা আবেদন জমা দিতে পারবেন এবং নির্ধারিত সাক্ষাৎকারেও অংশ নিতে পারবেন। পররাষ্ট্র দপ্তর নিয়মিতভাবে সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই স্থগিতাদেশের তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি আরও কয়েক ডজন দেশ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দেশগুলো হলো—আফগানিস্তান, পাকিস্তান, রাশিয়া, মিয়ানমার, মিশর, ইরান, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, সুদান, নেপাল, ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও ইথিওপিয়া। মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার পথকে সাময়িকভাবে সংকুচিত করল। আন্তর্জাতিক এই সিদ্ধান্তের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে অভিবাসন প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


জাল সনদে নিয়োগ, ৯৭৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ৯০ কোটি টাকা ফেরতের নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের শিক্ষা খাতে অনিয়ম, জালিয়াতি ও দখলদারত্বের এক নজিরবিহীন চিত্র উঠে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) সর্বশেষ তদন্ত প্রতিবেদনে। ৯৭৩টি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ওপর পরিচালিত এই বিশেষ তদন্তে দেখা গেছে, তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভুয়া নিয়োগ এবং জাল সনদের রীতিমতো মহোৎসব চলছে। ডিআইএ-র এই ‘আমলনামায়’ উঠে আসা ভয়ংকর দুর্নীতির কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও অভিযুক্তদের এখন বিপুল অংকের আর্থিক দণ্ড ও জরিমানার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
প্রতিবেদনে জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ এবং বকেয়া ভ্যাট-ট্যাক্সসহ মোট ৮৯ কোটি ৮২ লাখ ২৫ হাজার ৬০৭ টাকা দ্রুত সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কঠোর সুপারিশ করা হয়েছে। কেবল অর্থই নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাতছাড়া হয়ে যাওয়া প্রায় ১৭৬ একরের বেশি জমিও পুনরুদ্ধারের তাগিদ দিয়েছে অধিদপ্তর।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তদন্তে ৯৭৩টি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় নিয়োগ জালিয়াতি ও জাল সনদের এক নজিরবিহীন চিত্র ধরা পড়েছে। ভুয়া সনদে শিক্ষকতা এবং নিয়মবহির্ভূত নিয়োগের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা প্রায় ৯০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতের কঠোর সুপারিশ করা হয়েছে। এই বিপুল অংকের আর্থিক দণ্ড সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও অসাধু শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি সংকটের মুখে ফেলেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে থাকা ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর গত বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ছয় মাস ধরে এই বিশেষ পরিদর্শন ও নিরীক্ষা চালানো হয়। তদন্তে ভয়ংকর আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগ জালিয়াতি ও জমি দখলের সত্যতা মেলায় কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে ডিআইএ।
ভয়াবহ জালিয়াতি ও আর্থিক অনিয়ম: ডিআইএ-র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোতে জাল ও ভুয়া সনদ ব্যবহার করে শিক্ষকতা করা, অগ্রহণযোগ্য সনদে নিয়োগ এবং সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও পরিচালনা পর্ষদ যোগসাজশ করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া ভ্যাট ও আইটি (আয়কর) ফাঁকি দেওয়ার মতো গুরুতর আর্থিক অনিয়মও তদন্তে ধরা পড়েছে।
বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরত ও জমি উদ্ধারের সুপারিশ: তদন্ত শেষে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বমোট ৮৯ কোটি ৮২ লাখ ২৫ হাজার ৬০৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করেছে অধিদপ্তর। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে থাকা কিন্তু প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাওয়া প্রায় ১৭৬.৫২৩ একর জমি পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে কেবল আর্থিক অনিয়মই নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাতছাড়া হয়ে যাওয়া প্রায় ১৭৬ একরের বেশি জমি পুনরুদ্ধারের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে থাকা এই বিপুল পরিমাণ জমি ফিরিয়ে আনতে ডিআইএ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে। দীর্ঘ ছয় মাসের নিবিড় তদন্তে উঠে আসা এই ভূমি জালিয়াতির চিত্র শিক্ষা খাতের সম্পদ রক্ষায় এক নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপিগুলো ইতোমধ্যে ডি-নথি ও ই-মেইলের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড এবং জাতীয় ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং পরিচালনা পর্ষদ সভাপতির ব্যানবেইস (BANBEIS) পোর্টালে দেওয়া ই-মেইলেও প্রতিবেদনটি পাঠানো হয়েছে।
অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান ই-মেইলে প্রতিবেদন না পেয়ে থাকলে তারা নিজ নিজ জেলা শিক্ষা অফিসের ‘ডি-নথি’ সিস্টেম থেকে তা সংগ্রহ করতে পারবে। সেখান থেকেও সংগ্রহ করা সম্ভব না হলে প্রতিষ্ঠানের প্যাডে আবেদন করে ডিআইএ-র ই-মেইলে ([email protected]) পাঠালে পরবর্তী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদনটি পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষকতা বা সরকারি অর্থ আত্মসাতের দিন শেষ। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘আমলনামা’ ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর, শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) পরিচালক অধ্যাপক এম এম সহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আমাদের এই কঠোর অবস্থান। তদন্তে আমরা ৯৭৩টি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ জালিয়াতি ও জাল সনদের মতো গুরুতর অনিয়ম পেয়েছি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছি। প্রায় ৯০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত এবং ১৭৬ একর জমি উদ্ধারের সুপারিশ করেছি আমরা। জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষকতা বা অর্থ আত্মসাতের দিন শেষ।


তারেক রহমানকে মিশরের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। এক বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্ব এবং আধুনিক দূরদর্শিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রেসিডেন্ট সিসি তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন যে, সংসদীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং তারেক রহমানের নতুন এই দায়িত্ব পালনে সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন এই নেতৃত্বের অধীনে বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম জনগণের দীর্ঘদিনের আশা ও আকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি সফল হবে।

শুভেচ্ছা বার্তায় মিশরের প্রেসিডেন্ট দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও সুদৃঢ় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে দীর্ঘদিনের চমৎকার সুসম্পর্ক বিদ্যমান এবং আগামীতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে তিনি ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। এই ধরণের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব উভয় দেশের জনগণের জন্য টেকসই কল্যাণ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।

এছাড়া আসন্ন পবিত্র রমজান মাসের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট সিসি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও অব্যাহত সাফল্য কামনার পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের উত্তরোত্তর উন্নতি ও শান্তি কামনা করেন। আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতির মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামীতে আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সব মিলিয়ে মিশরের প্রেসিডেন্টের এই বার্তাটি দুই দেশের ভাতৃপ্রতিম সম্পর্কের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ।


নিজেকে মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলে দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দৃপ্ত শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ১৩০৬ জন নবাগত রেসিডেন্ট চিকিৎসক। রোববার (১ মার্চ) বিএমইউর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ‘রেসিডেন্সি ইনডাকশন প্রোগ্রাম ২০২৬’-এ তাঁরা এই শপথ গ্রহণ করেন। মার্চ ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ফেইজ-এ তে বিভিন্ন অনুষদে ভর্তিকৃত এই নবীন চিকিৎসকদের বরণ করে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন নবীন চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, চিকিৎসাবিদ্যার কোনো শেষ নেই। পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে মানবিকতার সমন্বয় ঘটিয়ে প্রতিটি চিকিৎসককে রোগীদের প্রতি মমত্ববোধ নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, রোগীদের যাতে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে না হয়, সেভাবেই নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিএমইউতে মলিকুলার ল্যাবরেটরি, আধুনিক লাইব্রেরি এবং রেসিডেন্টদের জন্য আবাসিক হোস্টেল নির্মাণে সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত মানসম্পন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং রোবটিকসের ব্যবহারের জ্ঞান অর্জন করে আন্তর্জাতিকমানের বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেদের তৈরি করার জন্য রেসিডেন্টদের পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং মহাসচিব ডা. মোঃ জহিরুল ইসলাম শাকিল নবীন চিকিৎসকদের আগামীর স্বাস্থ্যব্যবস্থার কাণ্ডারি হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং নবাগত রেসিডেন্টদের শপথ বাক্য পাঠ করান বিএমইউর ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম। তিনি বলেন, বিএমইউতে ই-লগ বুক এবং ই-আইআরবি চালুর ফলে চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিকমানের বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে জানান, গত ৫ বছরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১শ গবেষণার ফলাফল ইনডেক্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে উন্নত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসার ব্যয় কমিয়ে আনার জন্য তিনি চিকিৎসকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান।

বিএমইউর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার। অনুষ্ঠানে সার্জারি অনুষদের ৫৪৩ জন, মেডিসিন অনুষদের ৪০০ জন, শিশু অনুষদের ১২৪ জন, বেসিক সাইন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সাইন্স অনুষদের ১৫৬ জন এবং ডেন্টাল অনুষদের ৮৩ জন রেসিডেন্ট অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনরা নিজ নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং দেশবরেণ্য চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নবীনদের উৎসাহিত করেন। সব মিলিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশে আগামীর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের যাত্রা শুরু হলো।


মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও আটকে পড়া যাত্রীদের সার্বিক খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট যুদ্ধাবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সকালে সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে এসে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা বাংলাদেশিদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের জরুরি নির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যগামী অসংখ্য ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এই পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন এবং আটকে পড়া রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের দেখভাল করার জন্য বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী সরাসরি কাজ করছেন। বিশেষ করে বিমান প্রতিমন্ত্রী সকাল থেকেই বিমানবন্দরে অবস্থান করে যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা তদারকি করছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের চারটি দেশে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে এবং প্রবাসীদের সহায়তায় সার্বক্ষণিক হটলাইন চালু করা হয়েছে।

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর আজকের দিনটি ছিল অত্যন্ত ব্যস্ততাপূর্ণ। সকাল ৯টা ১০ মিনিটে নিজের অফিসে আসার পর তিনি পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ভূমিকম্প পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবিলার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ঢাকাসহ সারাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেন এবং জরুরি উদ্ধারকাজের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে এক লাখ দক্ষ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করার কথা বলেন। মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বৈঠক শেষে জানান, জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী স্বেচ্ছাসেবক তৈরির এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করতে বলেছেন।

এছাড়া জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী আজ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাবে বাংলাদেশে যেন কোনো সংকট তৈরি না হয়, সে বিষয়ে আগাম সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন তিনি। বর্তমান আন্তর্জাতিক টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝেও দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশিদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক সংকটের মাঝেও প্রধানমন্ত্রীর এই প্রচ্ছন্ন তদারকি প্রশাসনের কাজে নতুন গতি সঞ্চার করেছে।


শাহজালাল বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ৫৪ ফ্লাইট বাতিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় শনিবার বিকেল থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যগামী মোট ৫৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে হাজার হাজার প্রবাসী কর্মী ও ভ্রমণপ্রত্যাশী যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

রোববার সকালে শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বর্তমানে অনিরাপদ হওয়ায় ফ্লাইটগুলো বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ফ্লাইট চলাচল ঠিক কবে নাগাদ স্বাভাবিক হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি এখনই সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এয়ারলাইন্সগুলো পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, শুধুমাত্র গতকালই আকাশসীমা বন্ধ হওয়ার প্রভাবে ২৭টি ফ্লাইটের প্রায় ১০ হাজার যাত্রীর বিদেশযাত্রা বাতিল হয়েছে। হঠাৎ ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণায় অনেক রেমিট্যান্স যোদ্ধা বিপাকে পড়েছেন, যাদের অনেকেরই ভিসার মেয়াদ শেষ পর্যায়ে। আটকে পড়া এসব যাত্রীদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। অনেক যাত্রীকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অস্থায়ীভাবে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে, আবার অনেকে কোনো উপায় না পেয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।

সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের মুঠোফোনের মাধ্যমে নতুন শিডিউল ও ভ্রমণের সময় জানিয়ে দেওয়া হবে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ পুনরায় উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা বজায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক এই সংঘাতের ফলে বাংলাদেশের বিমান যোগাযোগ খাতে যে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে, তা নিরসনে কর্তৃপক্ষ নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।


banner close