শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

মাঠে নামতে চায় আ.লীগ, কঠোর অবস্থানে সরকার

আজ পাল্টা গণজমায়েত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের * ৩ দফা দাবিতে একইদিনে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ঢাবি ছাত্রদল
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০১
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০১

৫ আগস্ট ক্ষমতা হারানোর পর টানা প্রায় আড়াই মাস একেবারে নিশ্চুপ ছিল সাবেক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। তবে গত ১৫ দিনে বেশ কয়েকবার দলের ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে ও রাজধানীর দুয়েকটি এলাকায় ঝটিকা মিছিল করে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পতিত দলটির নেতা-কর্মীরা। এর মধ্যে ১০ ডিসেম্বর শহীদ নূর হোসেন দিবসকে সামনে রেখে গতকাল আবারও দলীয় ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে আজ রোববার রাজধানীর জিরো পয়েন্টে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। এদিকে, এ ঘোষণা বিক্ষুব্ধ করেছে অন্তর্বর্তী সরকারকে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসের পরপরই নিজেদের ফেসবুক পেজে পাল্টা স্ট্যাটাস দিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও প্রধান উপদেষ্টার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, গণহত্যাকারী বা নিষিদ্ধ সংগঠনের কেউ কর্মসূচি করার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। আর শফিকুল আলম তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে আওয়ামী লীগকে ‘ফ্যাসিবাদী দল’ হিসেবে উল্লেখ করে লিখেছেন, এই ফ্যাসিবাদী দলের বাংলাদেশে প্রতিবাদ করার কোনো সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভঙ্গের কোনো প্রচেষ্টাকে তারা বরদাশত করবে না।

এদিকে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘোষণার প্রতিবাদে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। আজ দুপুর ১২টায় ওই জিরো পয়েন্টেই ‘পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে’ গণজমায়েত করার ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রদের সংগঠনটি।

১৯৯০ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করার আন্দোলনে বুকে-পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক স্বৈরাচার নিপাত যাক’ লিখে প্রতিবাদ জানানোর সময় ১০ ডিসেম্বর পুলিশের গুলিতে নিহত হন নূর হোসেন। সেই থেকে দিবসটিকে ‘গণতন্ত্র মুক্ত করার দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে রাজনৈতিক দলগুলো। সেই দিনটিকে স্মরণ করে গতকাল ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে’ আজ রোববার (১০ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় রাজধানী ঢাকার জিরো পয়েন্টে নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণকে আসার ডাক দিয়েছে আওয়ামী লীগ। অগণতান্ত্রিক শক্তির অপসারণ এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে গতকাল শনিবার দলটির ফেসবুক পেজে এ-সংক্রান্ত দুটি পোস্ট সংবাদ বিজ্ঞপ্তি হিসেবে দেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগের পোস্টে বলা হয়, ‘১০ নভেম্বর আসুন- নূর হোসেন চত্বরে জিরো পয়েন্ট, গুলিস্তান, ঢাকায়। আমাদের প্রতিবাদ দেশের মানুষের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে, আমাদের প্রতিবাদ মৌলবাদী শক্তির উত্থানের বিরুদ্ধে, আমাদের প্রতিবাদ সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রাকে ব্যাহত করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে। অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আপনিও অংশ নিন।’

দেশব্যাপী সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মসূচি পালনেরও আহ্বান জানানো হয় আওয়ামী লীগের ওই বিজ্ঞপ্তিতে।

আওয়ামী লীগের মাঠে নামার ঘোষণা শুনেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসউদসহ অন্য নেতারা। পরে রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।

শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ তার স্ট্যাটাসে বলেন, গণহত্যাকারী ও নিষিদ্ধ সংগঠনের কেউ কর্মসূচি করার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

অন্যদিকে, প্রেস সচিব শফিকুল আলম তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, আওয়ামী লীগ বর্তমানে একটি ফ্যাসিবাদী দল। এই ফ্যাসিবাদী দলের দেশের ভেতর আওয়ামী লীগের সভা-সমাবেশ এমনকি কোনো ধরনের মিছিল করার কোনো সুযোগ নেই। গণহত্যাকারী ও স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার নির্দেশে কেউ সভা-সমাবেশ ও মিছিলের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে। অন্তর্বর্তী সরকার কোনো সহিংসতা বা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভঙ্গের কোনো প্রচেষ্টাকে বরদাশত করবে না।

পরে রাতে আওয়ামী লীগের মাঠে নামা প্রতিহত করতে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ‘পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে’ আজ রোববার দুপুর ১২টায় জিরো পয়েন্টে গণজমায়েত করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

গতকাল শনিবার রাত আটটার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফেসবুক পেজে এই কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তারিকুল ইসলাম আজ রোববার জিরো পয়েন্টে তাঁদের সংগঠনের কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, গতকাল নোয়াখালীতে একটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, ‘আজ ফ্যাসিস্টদের প্রতি অনেকে দরদ ও মায়া দেখাচ্ছে। অনেকে বলছে, আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল, তাদের রাজনীতি করার অধিকার ও ভোটাধিকার দিতে হবে। আওয়ামী লীগ যদি রাজনৈতিক দল হয় তবে গত ১৬ বছর কেন এ দেশের মানুষকে ভোটের অধিকার দেয়নি? তারা রাজনৈতিক দল হয়ে থাকলে কেন আমার দুই হাজারের বেশি ভাইবোনকে হত্যা করেছে? কেন গত ১৬ বছর ধরে ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্ররা নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে? সন্ত্রাসী এবং রাজনৈতিক দলের মধ্যে পার্থক্য ধরতে না পারলে আমরা বুঝে নেব আপনারাও রাজনৈতিক দলের কাতারে পড়েন না। সন্ত্রাসীরা আজীবনের জন্য সন্ত্রাসী। কোনো সন্ত্রাসী ভবিষ্যতে এ দেশের মেম্বার, চেয়ারম্যান, এমপি ও মন্ত্রী হতে পারবে না। সন্ত্রাসী আর রাজনৈতিক দল কখনও এক হতে পারে না।’

গতকাল শনিবার দুপুরে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ কলেজ মাঠে একটি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জুলাইয়ের বিপ্লবে নিহত ও আহতদের পরিবারকে অর্থ ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মাসউদ বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালানোর পর তরুণরা যে স্বপ্ন দেখছে, সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে আজ একটি পক্ষ বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ইতিহাসের পাতায় যদি শহীদদের নাম লিপিবদ্ধ করে রাখতে হয়, তবে আগে তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে হবে। বইয়ের কাগজে আমরা শহীদদের নাম যেভাবে দেখতে চাই, যেভাবে পত্রিকার পাতায় দেখতে চাই ঠিক একইভাবে আমরা দেখতে চাই- দুই যুগ পর যেন দেশের মানুষ বলতে পারে চব্বিশের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আমরা সুন্দর এই বাংলাদেশ পেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যদি রাজনৈতিক দল হয়ে থাকে, তাহলে এতদিন কেন জনগণের ভোটাধিকার দেয়নি। আমাদের ভোটের, গণতন্ত্রের অধিকার নিয়ে আন্দোলন করতে হয়েছে। তাই অবিলম্বে মুজিববাদ ও ফ্যাসিবাদের সংবিধান মুছে ফেলতে হবে।’

এই সমন্বয়ক বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা বার বার সংবিধানকে কাটাছেঁড়া করে এ দেশের মানুষের ভাতের, ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এ দেশের মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। সেই সংবিধানকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে চব্বিশের তরুণদের হাত ধরে বিজ্ঞজনের পরামর্শ নিয়ে নতুন সংবিধান রচনা করা হবে।’

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলও ৩ দফা দাবিতে একই দিন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলকে হেনস্তার প্রতিবাদ ও ১৫ বছরে বিভিন্ন হামলায় জড়িতদের বিচারসহ ৩ দফা দাবিতে রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা পালন করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাষ্কর্যে অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে শেষ হবে।

শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

ছাত্রদলের তিন দাবিগুলো হলো- বিদেশের মাটিতে ড. আসিফ নজরুলের ওপর মাটিতে হামলা ও হেনস্তা করার অপচেষ্টাকারী বিদেশে পলাতক ফ্যাসিবাদী আওয়ামী দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা।

বিগত ১৫ বছর ধরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনকারী ও ছাত্র রাজনীতিকে কলুষিত করা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় নিয়ে আসা এবং আওয়ামী সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনা।


নির্বাচিত

সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, সমঅধিকারের পরিচয় হবে বাংলাদেশি: মাহদী আমিন

রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত 'মহালয়া ১৪৩৩'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই, যেখানে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, পরিচয় হবে বাংলাদেশি।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র, সমাজ এবং সরকারের কাছ থেকে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার, সমান নিরাপত্তা, সমান স্বাধীনতা এবং সমান মর্যাদা পাবেন। নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের এই অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করাই সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত 'মহালয়া ১৪৩৩'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাহদী আমিন একথা বলেন।

সকাল ৬ টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বনানী মাঠে পৌঁছালে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ। পরে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। শুভ মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা ও আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। একইসঙ্গে তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা পেছনে ফেলে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় আধুনিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।

মাহদী আমিন বলেন, মহালয়া মানেই নতুন আশার আলো, অশুভের বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়। অন্ধকারকে পেছনে ফেলে আলোর জয় নিশ্চিত করাই এই উৎসবের মূল বার্তা। সুন্দর ও শৃঙ্খলাবদ্ধ আয়োজনের জন্য তিনি গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

মাহদী আমিন এ সময় বলেন, 'আজ আমরা এমন একটি এলাকায় সমবেত হয়েছি, যা সংসদীয় আসন হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এলাকা। আমরা বিশ্বাস করি, সবাই মিলে সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলব যেখানে ধর্ম, বর্ণ, আদর্শ, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের ভিন্নতা ছাপিয়ে আমাদের একটাই পরিচয় হবে, আর তা হলো আমরা সবাই বাংলাদেশি।'

তিনি সনাতনী সমাজের সর্বাঙ্গীন কল্যাণ ও শারদীয় দুর্গোৎসবের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেন।

মাহদী আমিন বলেন, আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে বৈষম্য কিংবা বিভেদের শিকার হতে হবে না। প্রতিটি মানুষ স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচবেন এবং সমান মর্যাদা নিয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় অংশ নেবেন।

দীর্ঘ সময় পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপে আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে সংগতি রেখে পূজার সরকারি ছুটি বাড়ানো হয়েছে। আমরা চাই এই উৎসবের আনন্দ একইভাবে সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতিটি মানুষের অন্তরে ছড়িয়ে পড়ুক।

তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব আমাদের আবহমান ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক দৃঢ় বন্ধন। আমাদের মধ্যকার ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যকে শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। আমরা এমন এক মানবিক বাংলাদেশ চাই, যেখানে বিদ্বেষের জায়গা নেবে ভালোবাসা, বৈষম্যের জায়গা নেবে ন্যায়বিচার এবং বিভাজনের জায়গা নেবে ঐক্য।

বাংলাদেশের মূল শক্তি এ দেশের জনগণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, জনগণের অন্তরের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা এবং একতাবদ্ধ থাকার দৃঢ় প্রত্যয়ই আমাদের চালিকাশক্তি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব নির্বাচিত সরকার বিশ্বাস করে, দেশের মানুষের স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং সার্বিক জনকল্যাণই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। আর সে কারণেই আমরা বলি 'সবার আগে বাংলাদেশ'। দেশকে অগ্রাধিকার দিয়ে সামনে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মহালয়ার বার্তা ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। দুর্গোৎসবের এই শুভ সূচনা সকলের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল শান্তি ও সমৃদ্ধি। সবশেষে তিনি আয়োজনের সুন্দর ও সার্থকতার মাধ্যমে সনাতনী সমাজের সর্বাঙ্গীন কল্যাণ কামনা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন কান্তি মজুমদার, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলোক সাহা, সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায় প্রমুখ। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে বর্তমান সরকার: চিফ হুইপ

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির (বিটিএস) ৮ম জাতীয় সম্মেলন ও বার্ষিক সাধারণ সভার প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:৫২
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বর্তমান সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ‘এ খাতে বাজেট বরাদ্দ পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি করা হয়েছে।’ এ উদ্যোগের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানকে ধন্যবাদ জানান।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির (বিটিএস) ৮ম জাতীয় সম্মেলন ও বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ হুইপ বলেন, ‘দেশে গত দুই বছর হামের টিকাদানে ঘাটতি থাকায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পূর্ববর্তী সময়ে সৃষ্ট এ পরিস্থিতির চাপ বর্তমান সরকারকে সামাল দিতে হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সমস্যা মোকাবিলা এবং জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘পতিত সরকার দেশের বিভিন্ন খাতের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতে ডা. জুবাইদা রহমানের পরামর্শ ও সহযোগিতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ খাতে বাজেট বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করেছেন। স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নেও সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।’

থাইরয়েড রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে চিফ হুইপ বলেন, ‘মানবদেহের বৃদ্ধি, বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ এবং শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে থাইরয়েড গ্রন্থির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ রোগের প্রতিরোধ, দ্রুত নির্ণয় ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

তিনি বলেন, থাইরয়েড বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও গবেষণায় সহযোগিতার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেবেন। এ ক্ষেত্রে সংসদে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ থাকলে তা বাস্তবায়নেরও চেষ্টা করবেন। শিক্ষা, উদ্ভাবন ও কার্যকর উদ্যোগের সমন্বয়ের মাধ্যমে থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সম্মেলনের সাফল্য কামনা করে চিফ হুইপ বলেন, এ সম্মেলনে অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সুপারিশ দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সভাপতি ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসের (নিনমাস) পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এম এ করিম এবং ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান। স্বাগত বক্তব্য দেন সোসাইটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. নাসরীন সুলতানা। অনুষ্ঠানে সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ফৌজিয়া মোসলেম উপস্থিত ছিলেন।

দিনব্যাপী সম্মেলনে থাইরয়েড রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার আধুনিক পদ্ধতি, থাইরয়েড ক্যান্সার, গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড সমস্যা, আয়োডিনের ঘাটতিজনিত রোগ এবং থাইরয়েড রোগের সঙ্গে হৃদযন্ত্রের সম্পর্ক নিয়ে বৈজ্ঞানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে ১২টি মৌখিক গবেষণাপত্র ও ১০টি পোস্টার উপস্থাপন করা হয়।


নির্বাচিত

রূপপুর থেকে দ্রুত জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি রোসাটমের

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাশিয়ার মস্কোয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে রোসাটমের মহাপরিচালকের এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্রুততম সময়ের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট (ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর) থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎসংযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাশিয়ার মস্কোয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে রোসাটমের মহাপরিচালকের এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ কথা জানানো হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের’ সার্বিক অগ্রগতি ও প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সীমা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, দ্বিপক্ষীয় এ বৈঠকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ জানিয়েছেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎসংযোগ দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী জানান, ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের মোট বিদ্যুৎ-চাহিদার প্রায় ১১ শতাংশ পূরণ করবে। বৈঠকে রোসাটমের মহাপরিচালক জানান, আগামী বছর থেকে দ্বিতীয় ইউনিটের কমিশনিং ও প্রাথমিক স্টার্ট-আপ কার্যক্রম শুরু হবে।

বৈঠকে রূপপুর প্রকল্পের সাফল্য ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে পারমাণবিক শক্তি খাতের আরও সম্প্রসারণ এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়।


নির্বাচিত

মানবপাচার নির্মূলে ন্যূনতম মানদণ্ড অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মানবপাচার নির্মূলে বাংলাদেশের প্রচেষ্টা বাড়লেও বেশ কিছু ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে। গত বছরগুলোর তুলনায় মানবপাচারবিরোধী উদ্যোগ জোরদার হলেও অপরাধীদের দণ্ডিত করার সংখ্যা কমেছে। দেশের অভ্যন্তরে মানবপাচার বন্ধেও পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রকাশিত ‘ট্রাফিকিং ইন পারসনস রিপোর্ট’-এ বলা হয়েছে, মানবপাচার নির্মূলের ন্যূনতম মানদণ্ড পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। আগের প্রতিবেদনের সময়কালের তুলনায় সামগ্রিক অগ্রগতি হওয়ায় বাংলাদেশকে এবারও ‘টায়ার-২’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মানবপাচার মোকাবিলায় আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতে সরকার মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি করেছে। পাশাপাশি মানবপাচারের ঘটনায় তদন্ত ও মামলা বাড়ানো, অপরাধ শনাক্তকরণ এবং ভুক্তভোগী চিহ্নিত করার নির্দেশিকা হালনাগাদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দ্রুত সুরক্ষাসেবা দিতে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে একটি ডিজিটাল ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম (এনআরএম) পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। মানবপাচারের ঝুঁকি কমাতে অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা জোরদার করার উদ্যোগও নিয়েছে সরকার। তবে এসব অগ্রগতির পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুর্বলতার কথাও তুলে ধরেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার এবার কমসংখ্যক মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে। ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং দেশে ফিরে আসা বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকরা এ ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। ভ্রমণ গাইড বাংলাদেশ এ ছাড়া অভিবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে নিয়োগ ফি আদায়ের প্রচলন বন্ধ হয়নি। এসব ফি দিতে গিয়ে অনেক শ্রমিক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন, যা তাদের মানবপাচারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমাস ‘টমি’ পিগট বলেছেন, মানবপাচার স্বাধীনতা ও মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত হানে—যে মূল্যবোধগুলো আমেরিকার পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত।

তিনি বলেন, ‘২০২৬ সালের প্রতিবেদনে অপরাধী সংগঠন ও দমনমূলক শাসনব্যবস্থাগুলো কীভাবে আর্থিক লাভের জন্য এই ঘৃণ্য অপরাধের নতুন নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করছে, তা তুলে ধরা হয়েছে।’

মানবপাচারকারীদের শাস্তি দিতে এবং নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ সরকারগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।

পিগট বলেন, ‘মানবপাচারকারী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং তাদের বিচারের আওতায় আনতে ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের বিদ্যমান উপায় ব্যবহার করবে।’


নির্বাচিত

২০৩৪ সালের অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে হবে: ববি হাজ্জাজ

ছবি: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে দ্বিগুণ করার লক্ষ্য অর্জনে তরুণদের দক্ষ, কর্মক্ষম ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেছেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জনই যথেষ্ট নয়, শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগের দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং বাস্তব কর্মক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এসব দক্ষতার সমন্বয় ঘটাতে পারলে দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানী ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে (ইউল্যাব) টেসলবিডি ও ইউল্যাবের যৌথ আয়োজনে ২য় ইউল্যাব-টেসলবিডি আন্তর্জাতিক ইএসপি (ইংলিশ ফর স্পেসিফিক পারপাস) কনফারেন্স ২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি জ্ঞান অর্জন করতে এবং নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে। কিন্তু প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি না হলে শুধু ডিগ্রি দিয়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব নয়। একজন শিক্ষার্থীকে এমনভাবে প্রস্তুত হতে হবে, যাতে তিনি অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে পারেন এবং কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারেন।’

ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার ঘাটতি তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ইংরেজি শেখানো ও শেখার ক্ষেত্রে এখনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে।’ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শেখানোর জন্য শিক্ষকদের নিজেদেরও ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইংরেজিতে পড়াশোনা করেও অনেক শিক্ষার্থীর সাবলীলভাবে কথা বলা, লিখিতভাবে ভাব প্রকাশ করা এবং পেশাগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে ভাষার ব্যবহারিক প্রয়োগ ও যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’

ইউল্যাবের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. শামসাদ মর্তুজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব, রিয়েলিইংলিশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নাইজেল কিলিক এবং বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক। এ ছাড়া টেসল সোসাইটি অব বাংলাদেশের সদস্য এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে প্রতারণাকারী এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে প্রতারণা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। যেসব এজেন্সি প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়নে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে ২৫টি ট্রলি হস্তান্তরকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “প্রবাসীদের বিমানবন্দর সেবা আরও সহজ ও হয়রানিমুক্ত করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ‘প্রবাসী কার্ড’ ও ‘প্রবাসী ব্যাংক’সহ নানা খাতের সেবা নিয়ে সরকার কাজ করছে।” এ সময় প্রবাসীদের সমস্যার কথা শুনতে সপ্তাহে অন্তত একদিন সময় বরাদ্দ রাখতে সিলেট ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবী যতদিন থাকবে, সমস্যাও ততদিন থাকবে। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৮ মাসে ধাপে ধাপে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানিমুক্ত ও সহজ সেবা নিশ্চিতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

কারিগরি শিক্ষায় সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশে কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে কারিগরি দক্ষতা জরুরি। এজন্য দেশের প্রতিটি কারিগরি প্রতিষ্ঠানকে আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ সেই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কারিগরি শিক্ষায় জোর দেওয়ার পাশাপাশি দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোতেও কারিগরি শিক্ষা চালু করা হবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ, সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সিলেট জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুবর রব চৌধুরী ফয়সল উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ভারতে পণ্য রপ্তানিতে বিধিনিষেধ ও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি বাংলাদেশের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান স্থলবন্দরভিত্তিক বিধিনিষেধ, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে পাটপণ্য ও পিইটি ফিল্মের ওপর আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরও বিদ্যমান শুল্ক সুবিধা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের ১৬তম সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এসব প্রস্তাবনা উপস্থাপন করে। দুই দিনব্যাপী এই দ্বিপক্ষীয় সভায় বাণিজ্যের নানা প্রতিবন্ধকতা নিরসন, বন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাফটা (SAFTA) চুক্তির আওতায় বর্তমানে ভারতের বাজারে যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে, এলডিসি উত্তরণের পরও তা বহাল রাখা প্রয়োজন। এছাড়া বিআইএস (BIS) সনদপ্রাপ্তি সহজীকরণ, পণ্যের মানে সামঞ্জস্য বজায় রাখা এবং ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে বাংলাদেশি ট্রাক চলাচলের সুযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সীমান্ত বন্দরগুলোতে পার্কিং ইয়ার্ড, গুদাম ও কোয়ারেন্টাইন সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাবও উঠে আসে।

অন্যদিকে ভারত তাদের দিক থেকে তুলা ও সুতাসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থলবন্দরের বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছে। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো থেকে পণ্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি, আখাউড়া-আগরতলা সংযোগসহ সার্বিক রেল যোগাযোগ উন্নয়ন এবং সীমান্ত হাট সচল করার বিষয়টিও ভারতের মূল এজেন্ডায় ছিল।

ভৌগোলিক নৈকট্যকে কাজে লাগিয়ে সীমান্ত বাণিজ্য সম্প্রসারণে দুই দেশই আন্তরিকতা দেখাচ্ছে। যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের এ আলোচনার ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের সময় ও খরচ কমে আসবে এবং বিদ্যমান সমস্যার টেকসই সমাধান আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

মানসিক অসুস্থতা ঘিরে ভয় ও কুসংস্কার দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ফাইল ছবি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আপডেটেড ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:২১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মানসিক অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে সমাজে বিরাজমান ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 'বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬' উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই গুরুত্ব আরোপ করেন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল দৃশ্যত নীরোগ বা শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখাই স্বাস্থ্যের পূর্ণাঙ্গ রূপ নয়; বরং শারীরিক, মানসিক, আত্মিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকার সমন্বিত অবস্থাই হলো প্রকৃত স্বাস্থ্য। ফলে কোনোভাবেই মানসিক স্বাস্থ্যকে অবহেলা বা উপেক্ষা করার অবকাশ নেই।

মানসিক স্বাস্থ্যকে কেবল চিকিৎসার বিষয় না রেখে এটি মানুষের মর্যাদা, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কল্যাণের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত বলে স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত কোনো ব্যক্তিকে অবহেলা না করে তাঁর কথা শোনা, সহানুভূতি নিয়ে পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা সুগম করার ওপর তিনি জোর দেন। এ বছরের দিবসের প্রতিপাদ্য তুলে ধরে তিনি জানান, যারা এ ধরনের শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতাকে সহমর্মিতার সঙ্গে গ্রহণ করাই ইতিবাচক পরিবর্তনের মূল ভিত্তি।

তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের নানামুখী উদ্যোগের বিষয়টিও বাণীতে উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলা, টেলি-কাউন্সেলিং সুবিধা সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং সরকারি হাসপাতালে পেশাজীবীদের সক্ষমতা বাড়ানো। এছাড়া গর্ভবতী মা, শিশু-কিশোরদের সুস্থতা এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক মানসিক সেবা জোরদারে সরকার বিশেষভাবে মনোযোগ দিচ্ছে।

মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত পেশাজীবীদের আরও আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার সঙ্গে সেবা দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন এক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য ব্যক্ত করা হয়, যেখানে মানসিক সুস্থতা নিয়ে কথা বলতে কেউ সংকোচ বা লজ্জা বোধ করবে না।


নির্বাচিত

জুলাই অভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান খালেদা জিয়ার, মেট্রোর পিলারে হবে গ্রাফিতি: ডিএনসিসি প্রশাসক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তৈরিতে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার, তাই মেট্রোরেলের পিলারে তাঁর ছবি আঁকা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম মিল্টন। শুক্রবার সকালে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় ডিএনসিসি আয়োজিত জুলাই গ্রাফিতি পুনর্নির্মাণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পটভূমি নির্মাণে খালেদা জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য হওয়ায় মেট্রোরেলের পিলারে তাঁর প্রতিকৃতি স্থান পাবে। এই পদক্ষেপে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব বা দলীয়করণ করা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে যাদের ভূমিকা রয়েছে, তাঁদের সবার অবদানকেই গ্রাফিতির মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।

একই সঙ্গে নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ পথচারীদের চলাচলের সুবিধার্থে ঢাকার প্রতিটি ফুটপাত অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করা হবে এবং স্থানীয় নাগরিকদের সহযোগিতায় সব জটিলতা নিরসন করা হবে। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল হকারদের উসকানি দিয়ে পুনরায় ফুটপাত দখলের পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি সতর্ক করেন যে, জনস্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো অপচেষ্টা চালানো হলে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।


নির্বাচিত

অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে হবে: ববি হাজ্জাজ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করার জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ, কর্মক্ষম এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শুক্রবার ঢাকায় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) অডিটোরিয়ামে যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘২য় ইউল্যাব-টেসলবিডি আন্তর্জাতিক ইএসপি (ইংলিশ ফর স্পেসিফিক পারপাস) কনফারেন্স ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কেবল প্রাতিষ্ঠানিক সনদ অর্জন কর্মক্ষেত্রে সফলতার নিশ্চয়তা দেয় না; শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনে ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগের দক্ষতা, আধুনিক প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন করা আবশ্যক। দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে এসব প্রায়োগিক যোগ্যতায় প্রস্তুত করা সম্ভব হলে তারাই ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।

শিক্ষাব্যবস্থায় ইংরেজি শিক্ষার বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, উচ্চশিক্ষা শেষ করেও অনেক শিক্ষার্থী সাবলীলভাবে ভাব প্রকাশ ও পেশাগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মুখস্থনির্ভর পড়াশোনার বদলে ব্যবহারিক প্রয়োগ ও কার্যকর যোগাযোগের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ব্যবসা এবং আন্তর্জাতিক গবেষণার সিংহভাগ ইংরেজিতে পরিচালিত হওয়ায় ভাষাগত দক্ষতা না থাকলে মেধাবীরাও কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ে। তবে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের পাশাপাশি মাতৃভাষায় আধুনিক জ্ঞান ও কারিগরি পরিভাষা সহজলভ্য করার প্রয়োজনীয়তার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

তরুণদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান, টেকসই আয় ও উদ্যোক্তা হওয়ার পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উদ্ভাবনী চিন্তা ও কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ পেলে যুবসমাজ বিপথগামিতা এড়িয়ে উৎপাদনশীল কার্যক্রমে নিয়োজিত হতে পারবে। ইউল্যাবের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামসাদ মর্তুজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব, রিয়েলিইংলিশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাইজেল কিলিক এবং বিশিষ্ট লেখক আনিসুল হক। সম্মেলনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ অংশ নেন।


নির্বাচিত

পোস্টাল ভোটিংয়ের ‘বাংলাদেশ মডেল’ গ্রহণে আগ্রহী নেপাল-শ্রীলঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রবাসী এবং দেশের অভ্যন্তরে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পোস্টাল ভোটিংয়ের আওতায় এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

প্রযুক্তিভিত্তিক ‘আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং সিস্টেম’ সম্পূর্ণরূপে তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে (‘মেড ইন বাংলাদেশ’)। বিশ্বের কাছে সম্পূর্ণ নতুন এই উদ্ভাবন সফলভাবে বাস্তবায়ন করে নজর কেড়েছে বাংলাদেশ। এবার এই প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা গ্রহণ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশ নেপাল ও শ্রীলঙ্কা।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, অন্য কোনো দেশ এ প্রযুক্তি গ্রহণ করলে কারিগরি নানা ত্রুটি-বিচ্যুতির টেকসই সমাধান সহজ হবে। এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হওয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তিটির গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।

ইসির ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন’ (ওসিভি-এসডিআই) প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বাসস’কে বলেন, ‘পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা বিশ্বজুড়ে এক অনন্য উদ্ভাবন। পুরোপুরি বাংলাদেশে তৈরি এই ব্যবস্থার বৈশ্বিক গুরুত্ব অনেক। নেপালের প্রতিনিধিদল স্বউদ্যোগে এসেছে এবং তারা এ বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক। শুধু নেপাল নয়, গত সেপ্টেম্বরে শ্রীলঙ্কা সফরকালেও আমরা তাদের আগ্রহ দেখেছি। দেশের তৈরি এমন একটি প্রযুক্তি বিদেশে সমাদৃত হওয়া প্রতিটি বাংলাদেশির জন্য গর্বের।’

সালীম আহমাদ খান আরও বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন ও উপ-নির্বাচনে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতার আলোকে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। এটি নির্বাচন কমিশনের একটি বড় সম্পদ, যা ভবিষ্যতে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে।’

আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং বিষয়ে বাংলাদেশে অভিজ্ঞতা নিতে আসা নেপালের নির্বাচন কমিশনার ড. রাজিব সুব্বা বলেন, ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা উন্নয়নশীল বিশ্বের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের এই মডেল অত্যন্ত সফল। বাংলাদেশ ও নেপালের মতো দেশ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশ থেকে কারিগরি সহায়তা পেলে আমরা সম্মানিত বোধ করব।

নেপালের আগামী প্রাদেশিক নির্বাচনে প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ভোটিং চালু করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ড. রাজিব সুব্বা বলেন, ‘বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক নাগরিক প্রবাসে থেকে রেমিট্যান্সের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখেন। নেপালের প্রেক্ষাপটও একই রকম। তাই দেশের বাইরে থাকা নাগরিকদের ভোটদান নিশ্চিত করতে আমরা ‘বাংলাদেশ মডেল’ গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করছি।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ আগে এই প্রযুক্তি পরীক্ষা করেছে বলে নেপাল ভুলগুলো এড়িয়ে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে পারবে।

উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত নেপালি শ্রমিকদের ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে অভ্যস্ত করতে ভোটার শিক্ষার ওপর জোর দেওয়ার কথা জানান তিনি। এছাড়া ডাকযোগে কাগজপত্র আদান-প্রদানে বিলম্বের ঝুঁকি, কাঠমান্ডুতে পৌঁছাতে সময়ের অনিশ্চয়তা এবং সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকির বিষয়টিও তাদের বিবেচনায় রয়েছে।

সফরের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে ড. রাজিব সুব্বা বলেন, ‘বাংলাদেশে আসার মূল লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিভিত্তিক পোস্টাল ভোটিং প্রক্রিয়া সরাসরি দেখা ও জানা। বাংলাদেশ দলের সাথে এটি আমাদের তৃতীয় দফা আলোচনা। আমরা পরবর্তী দেড় বছরের মধ্যে যেকোনো একটি প্রাদেশিক নির্বাচনে এ ব্যবস্থা চালু করতে চাই।’

তবে বাংলাদেশের মডেলটি হুবহু গ্রহণ করা হবে কি না, তা গবেষণার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও সরকারি কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশের মডেলটির প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে এটি সম্পূর্ণ অনলাইন ভোটিং ব্যবস্থায় রূপ নিতে পারে। সবচেয়ে বড় দিক হলো, এই প্রযুক্তির সফটওয়্যার, কোড ও নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নিজের হাতে থাকে। প্রযুক্তি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হয় না, যা অন্যান্য ব্যবস্থার চেয়ে আলাদা।’

ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের কারিগরি সহায়তা ও অভিজ্ঞতা নিতে নেপাল নির্বাচন কমিশনের ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে অন্য চারজন নির্বাচন কমিশনার ও ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন।

বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ-এর নেতৃত্বে ইসির ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নেপালের প্রতিনিধিদল পোস্টাল ভোটিংয়ের অপারেশনাল ও টেকনিক্যাল বিষয়গুলোর ওপর অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন- নেপালের নির্বাচন কমিশনার ড. জানকী কুমারী তুলাধর, সচিব কৃষ্ণ প্রসাদ কাপরী, সিনিয়র কম্পিউটার অফিসার অনুপ নৌপানে, ডেপুটি অ্যাটর্নি কমলা কাফলে এবং ইউএনডিপির প্রতিনিধি প্রভাত কুমার।

ইসির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী ১৫ লাখ ২৮ হাজার ১৩১ জন অনুমোদিত ভোটারের মধ্যে ১২ লাখ ২৪ হাজার ১৮৮ জন ভোট দিয়েছেন (৮০.১১ শতাংশ)। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছেছে ১১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯২টি ভোট (৭৬.২৮ শতাংশ), যার মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৭টি (৭০.২৫ শতাংশ)।

এর মধ্যে প্রবাসীদের পাঠানো ৪ লাখ ৯৮ হাজার ২৬৬টি ব্যালটের মধ্যে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ২০৫টি রিটার্নিং কর্মকর্তা গ্রহণ করেন। অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরে (আইসিপিভি) অবস্থানরত ভোটারদের কাছ থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩৮৮টি ভোট গ্রহণ করেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

বিশ্ব ডিম দিবস আজ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে ডিমের ভূমিকা, পুষ্টিগুণ এবং সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরতে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডিম দিবস। প্রতি বছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি উদযাপিত হয়ে থাকে। এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘প্রোটিন দ্যাট পাওয়ার্স অ্যান্ড প্রোটেক্টস’ অর্থাৎ ‘যে প্রোটিন শক্তি জোগায় ও সুরক্ষা দেয়’। ১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় প্রথম এই দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যার ধারাবাহিকতায় এবার বিশ্ব ডিম দিবসের ৩০ বছর পূর্তি উদযাপিত হচ্ছে।

সুলভ ও সহজলভ্য পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে ডিমের গুরুত্ব অপরিসীম। মানবদেহের পেশি গঠন, সার্বিক বৃদ্ধি, কোষের ক্ষয়পূরণ এবং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে ডিমে বিদ্যমান উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি এবং কোলিন অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে বাড়ন্ত শিশু-কিশোর ও প্রবীণদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ডিম একটি আদর্শ খাদ্য উপাদান। তবে সুষম খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিত করতে ডিমের পাশাপাশি শাকসবজি, ফলমূল, ডাল ও মাছসহ অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারও নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা আবশ্যক। একই সঙ্গে খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি এড়াতে ডিমের পরিচ্ছন্ন সংরক্ষণ ও সঠিকভাবে রান্না করার ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যগত সুবিধার বাইরেও ডিমের উৎপাদন ও বিপণন প্রক্রিয়া দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পোলট্রি খামারি, পশুখাদ্য প্রস্তুতকারক, পরিবহনকর্মী ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের জীবন-জীবিকা এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। ফলে পোলট্রি খাদ্যের মূল্য, রোগের প্রাদুর্ভাব ও বাজারব্যবস্থার প্রভাব সরাসরি ডিমের সরবরাহ ও দামের ওপর পড়ে। সাধারণ মানুষের পুষ্টি নিশ্চিত করতে ডিমের মূল্য সবার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা যেমন জরুরি, তেমনি খামারিদের সুরক্ষা ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ডিমের বহুমুখী পুষ্টির ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং উৎপাদন সংশ্লিষ্টদের অবদানের স্বীকৃতি দিতেই দিবসটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।


নির্বাচিত

আসছে মডেল খাল কর্মসূচি, বহুমুখী জীবিকা ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

প্রস্তাবিত ‘মডেল খাল’। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সরকারি নদী-নালা, খাল ও জলাশয় পুনঃখননের পর সেগুলোকে কেবল পানি নিষ্কাশনের কাজে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবেশ রক্ষা, সামাজিক বনায়ন, দুর্যোগ-সহনশীল জীবিকায়ন এবং অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদে পরিণত করার এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

‘শুধু খাল খনন নয়; খননকৃত খালের বহুমুখী ব্যবহার’— এই ধারণাকে সামনে রেখে দেশের ৮টি বিভাগে ২০টি নির্বাচিত সরকারি খালকে পরীক্ষামূলক ‘মডেল খাল’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এতে উপকারভোগী হিসেবে প্রায় ২ হাজার ৪০০ অতিদরিদ্র পরিবারকে যুক্ত করার প্রাথমিক হিসাব করা হয়েছে।

আগামী ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লালমনিরহাটে নতুন এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত ধারণাপত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু নিজ দপ্তরে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সারাদেশে খাল খননের বিপ্লব শুরু করলেও বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে অবহেলা ও অবৈধ দখলে অধিকাংশ খাল ভরাট হয়ে যায়। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সরকারের ৪টি মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে বর্তমানে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার মধ্যে ত্রাণ মন্ত্রণালয় ৭ হাজার কিলোমিটার খনন কাজ করবে। গত অর্থবছরে আমাদের লক্ষ্যমাত্রার ১২০০ কিলোমিটার কাজ শেষ হয়েছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘শুধু পানি নিষ্কাশন নয়— খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ, পানিতে হাঁস ও মৎস্য চাষ এবং কুটির শিল্পের সুযোগ তৈরি করে এসব খালের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাই। এজন্য আমরা ‘মডেল খাল’ কর্মসূচির ধারণা চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি।’

কেন এই ‘মডেল খাল’ কর্মসূচি?

ধারণাপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে, নদী-নালা ও খাল পুনঃখননের চলমান কর্মসূচির পাশাপাশি দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি এসব জলসম্পদকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহারের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

খালের পানি ধারণক্ষমতা ও স্বাভাবিক পানি প্রবাহ অক্ষুণ্ন রেখে খালপাড়ে সামাজিক বনায়ন, হাঁস ও মাছ পালন, মৌসুমি সবজি চাষ এবং জনসাধারণের বৈধ ব্যবহার নিশ্চিত, নৌচলাচল, অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবিকা ও কর্মসংস্থান তৈরি করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক নিরাপত্তাকে কেবল সাহায্য বা ভাতা-নির্ভর না রেখে উৎপাদনশীল জীবিকার মাধ্যমে মানুষকে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে তোলা এবং দুর্যোগ-সহনশীল অর্থনৈতিক রূপান্তর নিশ্চিত করতেই এ কৌশল নেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান আইনগত, প্রশাসনিক ও কারিগরি এখতিয়ার অক্ষুণ্ন রেখেই পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমালার আলোকে এ কর্মসূচি পরিচালিত হবে।

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী, দেশের কৃষিজমিতে সেচসুবিধা বৃদ্ধি, পানিসম্পদ সংরক্ষণ এবং কৃষি উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা, খাল, জলাধার খনন, পুনঃখনন কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ‘স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচি’র অনুসরণ করে জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে দেশের হারিয়ে যাওয়া নদী, খাল ও প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধারের এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, সরকারি খাল পুনঃখনন শেষ হওয়ার পর সেগুলোর নিয়মিত তদারকি ও সমন্বিত সামাজিক ব্যবহারের অভাবে যেন খালগুলো পুনরায় অবৈধ দখল, আবর্জনা ফেলা বা পলি জমে ভরাট না হয়— সেজন্যই এই পুনঃখননকৃত খালের ওপর ভিত্তি করে ‘মডেল খাল’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বাসসকে বলেন, ‘খালপাড়ের উপকারভোগী দরিদ্র জনগোষ্ঠী যখন নিজেরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন, তখন দরদ দিয়ে তারা নিজেরা খাল পাহারা দেবেন ও রক্ষণাবেক্ষণ করবেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন কর্মচঞ্চলতা সৃষ্টি করবে।’

প্রকল্পের আওতা ও উপকারভোগী নির্বাচন হবে যেভাবে

প্রস্তাবিত রূপরেখা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে দেশের ৮টি বিভাগের ২০টি নির্বাচিত খালকে মডেল হিসেবে নিয়ে পাইলটিং করা হবে। এর মধ্যে— ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে ৩টি করে এবং রংপুর, সিলেট, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে ২ টি করে খাল নির্বাচন করা হয়েছে।

প্রতি খালের গড় দৈর্ঘ্য ৩ কিলোমিটার ধরে আনুমানিক মোট ৬০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খালের বহুমুখী ব্যবহারকে পাইলটিংয়ের আওতায় আনা হচ্ছে। তবে, ইতোমধ্যে পুনঃখনন হয়েছে— এমন খালকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মডেল খাল হিসেবে নির্বাচন করা হবে না। প্রতিটি জেলার প্রাপ্ত প্রস্তাবনার মধ্য থেকে জিপিএস স্থানাঙ্ক, জমির খতিয়ান, দখল পরিস্থিতি, পানি প্রবাহ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের চাষাবাদের উপযোগিতা যাচাই করে চূড়ান্ত ২০টি খাল নির্বাচন করা হবে।

রূপরেখায় আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় অতিদরিদ্র কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি), নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এবং প্রতিবন্ধী সদস্যসম্পন্ন দরিদ্র পরিবার থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।

মডেল খালের বহুমুখী ব্যবহার ও ‘জোন’ বিন্যাস

ধারণাপত্রে খালের পরিবেশ ও স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি অক্ষুণ্ন রেখে এলাকাভিত্তিক ‘জোন’ বিন্যাসের মাধ্যমে এর বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, খালের নির্দিষ্ট অংশ স্থানীয় জনসাধারণ ও গবাদিপশুর গোসল, গৃহস্থালি কাজে পানি সংগ্রহের জন্য ‘পাবলিক জোন’ হিসেবে উন্মুক্ত থাকবে। খালের গভীর ও উপযোগী অংশে দেশীয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরামর্শে নিয়ন্ত্রিত হাঁস পালনে ‘প্রোডাকশন জোন’ এবং নৌযান চলাচলের সুযোগ থাকা খালে স্বাচ্ছন্দ্য চলাচলের জন্য ‘ন্যাভিগেশন চ্যানেল’ রাখা হবে।

এছাড়া খালের দুই পাড়ের মাটি ধস রোধে জলসহিষ্ণু ও ফলজ গাছের ‘সোশ্যাল ফরেস্ট্রি’ এবং পাড়ের ঢালু অংশে মাচা পদ্ধতিতে মৌসুমি সবজি চাষের সুযোগ রাখা হবে।

কর্মসংস্থান, স্থায়ী জীবিকা ও সমবায় পদ্ধতি

প্রস্তাবনায় ২০টি মডেল খালে প্রায় ২ হাজার ৪০০ অতিদরিদ্র উপকারভোগী পরিবারকে সম্পৃক্ত করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ে সমবায়ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা হবে, যেখানে অন্তত ৫০ শতাংশ নারী সদস্যের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

তবে কোনো উপকারভোগী বা সমবায়কে খাল বা খালের পাড়ের জমি কিংবা সরকারি অবকাঠামোর ওপর স্থায়ী স্বত্ব দেওয়া হবে না; কেবল শর্তসাপেক্ষ ও অ-হস্তান্তরযোগ্য ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে।

অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন হবে যেভাবে

ধারণাপত্র অনুযায়ী, কোনো পৃথক বৃহৎ প্রকল্প ছাড়াই বিদ্যমান সরকারি কাঠামোর আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় এটি বাস্তবায়িত হবে।

প্রাথমিক বিনিয়োগের জন্য সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা কোনো স্থায়ী অনুদান বা দীর্ঘমেয়াদি ভর্তুকি নয়, বরং একটি ঘূর্ণায়মান তহবিল হিসেবে পরিচালিত হবে। সরকারের প্রাথমিক সহায়তায় উৎপাদন শুরুর পর অর্জিত আয় থেকে স্থানীয় সমবায়গুলো নিজস্ব পরিচালনায় ব্যয় বহন করবে, যা সরকারি আর্থিক নির্ভরতা অনেকাংশে কমিয়ে আনবে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় স্টিয়ারিং কমিটি থাকবে। কর্মসূচি পাইলট পর্যায়ে ১২ মাস পরিচালনার পর একটি স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে এই মডেল সারাদেশে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সেখ ফরিদ আহমেদ বাসসকে বলেন, ‘মডেল খালের মূল ভিত্তি হলো স্থানীয় নিবন্ধিত হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে সুসংগঠিত করে সমবায় সমিতি গঠন করা। কর্মসূচির শুরুর প্রথম দুই বছর সরকার প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ, উৎপাদন উপকরণ, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেবে। পরীক্ষামূলক পর্ব শেষে এসব খালের উৎপাদন, আর্থিক আয় ও তৈরি হওয়া সম্পদের ওপর সমবায়ের স্থানীয়দের সরাসরি অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে, যা তাদেরকে সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীল করে তুলবে।’ সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

banner close