মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৫ ফাল্গুন ১৪৩২

মাঠে নামতে চায় আ.লীগ, কঠোর অবস্থানে সরকার

আজ পাল্টা গণজমায়েত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের * ৩ দফা দাবিতে একইদিনে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ঢাবি ছাত্রদল
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০১
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০১

৫ আগস্ট ক্ষমতা হারানোর পর টানা প্রায় আড়াই মাস একেবারে নিশ্চুপ ছিল সাবেক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। তবে গত ১৫ দিনে বেশ কয়েকবার দলের ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে ও রাজধানীর দুয়েকটি এলাকায় ঝটিকা মিছিল করে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পতিত দলটির নেতা-কর্মীরা। এর মধ্যে ১০ ডিসেম্বর শহীদ নূর হোসেন দিবসকে সামনে রেখে গতকাল আবারও দলীয় ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে আজ রোববার রাজধানীর জিরো পয়েন্টে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। এদিকে, এ ঘোষণা বিক্ষুব্ধ করেছে অন্তর্বর্তী সরকারকে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসের পরপরই নিজেদের ফেসবুক পেজে পাল্টা স্ট্যাটাস দিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও প্রধান উপদেষ্টার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, গণহত্যাকারী বা নিষিদ্ধ সংগঠনের কেউ কর্মসূচি করার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। আর শফিকুল আলম তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে আওয়ামী লীগকে ‘ফ্যাসিবাদী দল’ হিসেবে উল্লেখ করে লিখেছেন, এই ফ্যাসিবাদী দলের বাংলাদেশে প্রতিবাদ করার কোনো সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভঙ্গের কোনো প্রচেষ্টাকে তারা বরদাশত করবে না।

এদিকে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘোষণার প্রতিবাদে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। আজ দুপুর ১২টায় ওই জিরো পয়েন্টেই ‘পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে’ গণজমায়েত করার ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রদের সংগঠনটি।

১৯৯০ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করার আন্দোলনে বুকে-পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক স্বৈরাচার নিপাত যাক’ লিখে প্রতিবাদ জানানোর সময় ১০ ডিসেম্বর পুলিশের গুলিতে নিহত হন নূর হোসেন। সেই থেকে দিবসটিকে ‘গণতন্ত্র মুক্ত করার দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে রাজনৈতিক দলগুলো। সেই দিনটিকে স্মরণ করে গতকাল ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে’ আজ রোববার (১০ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় রাজধানী ঢাকার জিরো পয়েন্টে নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণকে আসার ডাক দিয়েছে আওয়ামী লীগ। অগণতান্ত্রিক শক্তির অপসারণ এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে গতকাল শনিবার দলটির ফেসবুক পেজে এ-সংক্রান্ত দুটি পোস্ট সংবাদ বিজ্ঞপ্তি হিসেবে দেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগের পোস্টে বলা হয়, ‘১০ নভেম্বর আসুন- নূর হোসেন চত্বরে জিরো পয়েন্ট, গুলিস্তান, ঢাকায়। আমাদের প্রতিবাদ দেশের মানুষের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে, আমাদের প্রতিবাদ মৌলবাদী শক্তির উত্থানের বিরুদ্ধে, আমাদের প্রতিবাদ সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রাকে ব্যাহত করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে। অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আপনিও অংশ নিন।’

দেশব্যাপী সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মসূচি পালনেরও আহ্বান জানানো হয় আওয়ামী লীগের ওই বিজ্ঞপ্তিতে।

আওয়ামী লীগের মাঠে নামার ঘোষণা শুনেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসউদসহ অন্য নেতারা। পরে রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।

শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ তার স্ট্যাটাসে বলেন, গণহত্যাকারী ও নিষিদ্ধ সংগঠনের কেউ কর্মসূচি করার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

অন্যদিকে, প্রেস সচিব শফিকুল আলম তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, আওয়ামী লীগ বর্তমানে একটি ফ্যাসিবাদী দল। এই ফ্যাসিবাদী দলের দেশের ভেতর আওয়ামী লীগের সভা-সমাবেশ এমনকি কোনো ধরনের মিছিল করার কোনো সুযোগ নেই। গণহত্যাকারী ও স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার নির্দেশে কেউ সভা-সমাবেশ ও মিছিলের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে। অন্তর্বর্তী সরকার কোনো সহিংসতা বা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভঙ্গের কোনো প্রচেষ্টাকে বরদাশত করবে না।

পরে রাতে আওয়ামী লীগের মাঠে নামা প্রতিহত করতে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ‘পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে’ আজ রোববার দুপুর ১২টায় জিরো পয়েন্টে গণজমায়েত করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

গতকাল শনিবার রাত আটটার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফেসবুক পেজে এই কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তারিকুল ইসলাম আজ রোববার জিরো পয়েন্টে তাঁদের সংগঠনের কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, গতকাল নোয়াখালীতে একটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, ‘আজ ফ্যাসিস্টদের প্রতি অনেকে দরদ ও মায়া দেখাচ্ছে। অনেকে বলছে, আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল, তাদের রাজনীতি করার অধিকার ও ভোটাধিকার দিতে হবে। আওয়ামী লীগ যদি রাজনৈতিক দল হয় তবে গত ১৬ বছর কেন এ দেশের মানুষকে ভোটের অধিকার দেয়নি? তারা রাজনৈতিক দল হয়ে থাকলে কেন আমার দুই হাজারের বেশি ভাইবোনকে হত্যা করেছে? কেন গত ১৬ বছর ধরে ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্ররা নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে? সন্ত্রাসী এবং রাজনৈতিক দলের মধ্যে পার্থক্য ধরতে না পারলে আমরা বুঝে নেব আপনারাও রাজনৈতিক দলের কাতারে পড়েন না। সন্ত্রাসীরা আজীবনের জন্য সন্ত্রাসী। কোনো সন্ত্রাসী ভবিষ্যতে এ দেশের মেম্বার, চেয়ারম্যান, এমপি ও মন্ত্রী হতে পারবে না। সন্ত্রাসী আর রাজনৈতিক দল কখনও এক হতে পারে না।’

গতকাল শনিবার দুপুরে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ কলেজ মাঠে একটি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জুলাইয়ের বিপ্লবে নিহত ও আহতদের পরিবারকে অর্থ ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মাসউদ বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালানোর পর তরুণরা যে স্বপ্ন দেখছে, সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে আজ একটি পক্ষ বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ইতিহাসের পাতায় যদি শহীদদের নাম লিপিবদ্ধ করে রাখতে হয়, তবে আগে তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে হবে। বইয়ের কাগজে আমরা শহীদদের নাম যেভাবে দেখতে চাই, যেভাবে পত্রিকার পাতায় দেখতে চাই ঠিক একইভাবে আমরা দেখতে চাই- দুই যুগ পর যেন দেশের মানুষ বলতে পারে চব্বিশের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আমরা সুন্দর এই বাংলাদেশ পেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যদি রাজনৈতিক দল হয়ে থাকে, তাহলে এতদিন কেন জনগণের ভোটাধিকার দেয়নি। আমাদের ভোটের, গণতন্ত্রের অধিকার নিয়ে আন্দোলন করতে হয়েছে। তাই অবিলম্বে মুজিববাদ ও ফ্যাসিবাদের সংবিধান মুছে ফেলতে হবে।’

এই সমন্বয়ক বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা বার বার সংবিধানকে কাটাছেঁড়া করে এ দেশের মানুষের ভাতের, ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এ দেশের মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। সেই সংবিধানকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে চব্বিশের তরুণদের হাত ধরে বিজ্ঞজনের পরামর্শ নিয়ে নতুন সংবিধান রচনা করা হবে।’

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলও ৩ দফা দাবিতে একই দিন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলকে হেনস্তার প্রতিবাদ ও ১৫ বছরে বিভিন্ন হামলায় জড়িতদের বিচারসহ ৩ দফা দাবিতে রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা পালন করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাষ্কর্যে অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে শেষ হবে।

শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

ছাত্রদলের তিন দাবিগুলো হলো- বিদেশের মাটিতে ড. আসিফ নজরুলের ওপর মাটিতে হামলা ও হেনস্তা করার অপচেষ্টাকারী বিদেশে পলাতক ফ্যাসিবাদী আওয়ামী দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা।

বিগত ১৫ বছর ধরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনকারী ও ছাত্র রাজনীতিকে কলুষিত করা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় নিয়ে আসা এবং আওয়ামী সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনা।


নতুন মন্ত্রিসভার ২৫ পূর্ণমন্ত্রীর কে পেলেন কোন মন্ত্রণালয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করে আজ মঙ্গলবার বিকেলে শপথ নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সোয়া ৪টার পর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এসময় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধি এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ঘোষিত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে কে কোন মন্ত্রণালয় পাচ্ছেন তা নিয়ে চলছে জল্পনা।

বিএনপির দেওয়া তালিকায় দেখা গেছে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যাচ্ছে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর হাতে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেওয়া হবে বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমদকে। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু পাচ্ছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে দেওয়া হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পাচ্ছেন আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট)।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির পেয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। আব্দুল আউয়াল মিন্টু পাচ্ছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেওয়া হচ্ছে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদকে। ভূমি ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পাচ্ছেন যথাক্রমে মিজানুর রহমান মিনু ও নিতাই রায় চৌধুরী।

আ ম ন এহসানুল হক মিলন পাচ্ছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়; সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন পাচ্ছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়; ফকির মাহবুব আনাম পাচ্ছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। শেখ রবিউল আলম পাবেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়।

আরিফুল হক চৌধুরী পাচ্ছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; জহির উদ্দিন স্বপন পাচ্ছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়; মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ পাচ্ছেন কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়; আফরোজা খানম পাচ্ছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি পাচ্ছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

আসাদুল হাবিব দুলু পাচ্ছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়; মো. আসাদুজ্জামান পাচ্ছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়; জাকারিয়া তাহের পাচ্ছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং দীপেন দেওয়ান পাচ্ছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।


টেকসই জ্বালানী ও গ্রামীণ কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত, আনসার-ভিডিপি ও SREDA’র সমঝোতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের টেকসই জ্বালানি উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির মাধ্যমে সবুজ অর্থনীতির বিকাশে অবদান রাখতে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) রাজধানীর শ্রেডা অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং 'Sustainable and Renewable Energy Development Authority (SREDA)'-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, আধুনিক ল্যাব স্থাপন এবং দক্ষ কর্মী গড়ে তোলার মাধ্যমে গ্রামীণ পর্যায়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরশীলতা জোরদার করাই এ অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন উপ-মহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) মোঃ রফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রেডার চেয়ারম্যান ড. মো. মোজাফফ্ আহমেদ, পিএইচডি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন GIZ Bangladesh-এর প্রতিনিধি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রেডা-র সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক। বক্তারা জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই দক্ষ জনবল গঠন এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষে বক্তব্য প্রদানকালে উপমহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) বলেন, “টেকসই উন্নয়ন ও জ্বালানি রূপান্তরের এ সময়োপযোগী উদ্যোগে অংশীদার হতে পেরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি গর্বিত।” তিনি উল্লেখ করেন, দেশের গ্রামীণ পর্যায়ে বিস্তৃত বিপুলসংখ্যক সদস্যকে দক্ষ ও উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের ক্ষেত্রে এ সমঝোতা স্মারক একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে এবং জাতীয় উন্নয়ন অভিযাত্রায় নতুন গতি সঞ্চার করবে।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ৬০ লক্ষ সদস্যের এ বাহিনী—যাদের প্রায় অর্ধেক নারী—দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পাশাপাশি সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন, আয়বর্ধক কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে অধিকতর অবদান রাখার লক্ষ্যে বাহিনী ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। এ সমঝোতা সেই চলমান উন্নয়ন কর্মসূচিকে আরও সুসংহত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রদান করবে।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি দক্ষতা বিষয়ক বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ (ToT), পাইলট প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং এনএসডিএ অনুমোদিত আধুনিক ল্যাব স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে সৌর বিদ্যুৎ প্রযুক্তিবিদ, বয়লার অপারেটরসহ জ্বালানি খাতে দক্ষ কর্মী তৈরি করা সম্ভব হবে। ফলে বাহিনীর সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং প্রাতিষ্ঠানিক চাকরির সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হবে।

উপমহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) তার বক্তব্যে বাহিনীর মহাপরিচালক মহোদয়ের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি শ্রেডার নেতৃত্ব এবং Skills for Sustainable Energy Solutions (Skills4SE) প্রকল্পের মাধ্যমে জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। একই সঙ্গে জিআইজেড বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে এ উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি এ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণ সুবিধা প্রদান, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিতকরণ, উপযুক্ত প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন এবং সার্বিক সমন্বয় কার্যক্রমে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে। সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমে পরিকল্পিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আনসার-ভিডিপি কর্তৃপক্ষ মনে করে, ভবিষ্যতে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দেশব্যাপী সম্প্রসারণের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, নারী ক্ষমতায়ন জোরদার এবং দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের মাধ্যমে এ উদ্যোগ দেশের সবুজ প্রবৃদ্ধি কৌশলকে ত্বরান্বিত করবে। দীর্ঘমেয়াদে এ অংশীদারিত্ব টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জন, জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহতকরণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।


অবহেলিত দলিত সম্প্রদায় এখন সমাজের অংশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরনখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

একসময় সমাজের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন ও অবহেলিত ছিল দলিত সম্প্রদায়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন এসেছে তাদের জীবনে। শিক্ষার প্রসার, সরকারি উদ্যোগ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে তারা এখন সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠছে।

দলিত সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা এখন শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা ও বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হচ্ছে। আগে যারা পরিচ্ছন্নতাকর্মী, জুতো মেরামত বা হস্তশিল্পে সীমাবদ্ধ ছিল, তারাও আজ নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছে।

লাকুড়তলা গ্রামের রন ঋষি বলেন, “আগে সমাজ থেকে আমরা বিচ্ছিন্ন ছিলাম। বিয়ে, শ্রাদ্ধ বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে আমাদের ডাকা হতো না। এখন সামাজিক পরিবর্তনের ফলে আমরাও সমাজের অংশ। প্রতিটি অনুষ্ঠানে এখন সবাই আমাদের আমন্ত্রণ জানায়।"

সামাজিক সচেতনতার ফলে তাদের জীবনের মান উন্নত হচ্ছে। সমাজে তাদের গ্রহণযোগ্যতা যেমন বেড়েছে, তেমনি আত্মমর্যাদাবোধও জেগে উঠেছে নতুনভাবে।


ত্রয়োদশ সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান ও চিফ হুইপ নাহিদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে আয়োজিত সংসদীয় দলের এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির 'ডা. শফিকুর রহমান' কে মনোনীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংসদ সদস্যদের শপথ শেষে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদীয় দলের সভায় এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

একই বৈঠকে কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জামায়াতে নায়েবে আমির 'ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের' কে বিরোধী দলীয় উপনেতা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক 'নাহিদ ইসলাম' কে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ হিসেবে নির্বাচনের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী গাইবান্ধা জেলার জামায়াতের আমির ও গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য 'মো. আব্দুল করিম' এই সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। দলীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, শীঘ্রই ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে একটি যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঘোষণাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসীকে জানানো হবে।


শপথ নিলেন ২৪ প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে আজ মঙ্গলবার বিকেলে শপথ নিয়েছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। রাজধানী ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক রাজকীয় ও উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নবনিযুক্ত এই প্রতিমন্ত্রীদের পদের গোপনীয়তা ও শপথ বাক্য পাঠ করান। এর আগে একই মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এবং ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের মেয়াদ শেষে একটি নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়া দেশজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।

প্রতিমন্ত্রীদের এই নতুন তালিকায় একদিকে যেমন বিএনপির প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়েছে, অন্যদিকে তেমনি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের স্পৃহা ধারণ করতে একঝাঁক তরুণ ও প্রভাবশালী মুখকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শপথ নেওয়া প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, কিশোরগঞ্জ থেকে নির্বাচিত মো. শরিফুল আলম এবং ফরিদপুরের শামা ওবায়েদ ইসলাম। এছাড়া যুব রাজনীতির পরিচিত মুখ সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, দলের আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং ঢাকার আলোচিত তরুণ নেতা ইশরাক হোসেন এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। চট্টগ্রামের মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ, মো. রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী এবং মীর শাহে আলমও আজ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের শপথ নেন।

তারেক রহমানের এই নতুন মন্ত্রিসভার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সমন্বয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন। জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিত্ব ও গণসংহতি আন্দোলনের নেতা মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি), গণঅধিকার পরিষদের মো. নুরুল হক নুর (ভিপি নুর) এবং এনডিপি নেতা ববি হাজ্জাজকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। এছাড়াও শপথ নিয়েছেন ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর এবং রাজবাড়ীর প্রবীণ নেতা আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। এই বিচিত্র ও সমন্বিত মন্ত্রিসভা আগামী দিনে রাষ্ট্র সংস্কার ও জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঐতিহাসিক এই শপথ অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে এমন আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে প্রথম, যা অনুষ্ঠানটিকে এক অনন্য মহিমা দান করেছে। বিকেলের এই রাজকীয় মাহেন্দ্রক্ষণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে দীর্ঘ দেড় দশক পর একটি শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার পথ চলা শুরু হলো। শপথ গ্রহণ শেষে নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ গঠনে নিজেদের উৎসর্গ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামীকাল থেকেই নতুন সরকারের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পূর্ণ উদ্যমে শুরু হবে বলে জানা গেছে।


শপথ নিলেন ২৫ মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করে আজ মঙ্গলবার বিকেলে শপথ নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা। রাজধানী ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক রাজকীয় অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁদের পদের গোপনীয়তা ও শপথ বাক্য পাঠ করান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের সফল মেয়াদ শেষে আজ একটি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকারের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা হস্তান্তর করা হলো।

বিকেল সোয়া চারটার দিকে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শপথ অনুষ্ঠানের মূল পর্ব শুরু হয়। খোলা আকাশের নিচে বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সালাহউদ্দিন আহমদের মতো জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদরা মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তালিকায় আরও রয়েছেন বীরবিক্রম হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু। এছাড়া কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু এবং আরিফুল হক চৌধুরীর মতো অভিজ্ঞ নেতাদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ মন্ত্রিসভা গঠনের বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নারী নেতৃত্বের প্রতিনিধি হিসেবে আফরোজা খানম রিতা এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে দীপেন দেওয়ান এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

শপথ নেওয়া অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, জহির উদ্দিন স্বপন, আসাদুল হাবিব দুলু, জাকারিয়া তাহের এবং আ ন ম এহসানুল হক মিলন। এছাড়া বিশেষ কারিগরি ও আইনি দক্ষতা বিবেচনায় সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামানকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ফকির মাহবুব আনাম, শেখ রবিউল আলম, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ ও খলিলুর রহমান—তাঁরা প্রত্যেকেই আজ দেশের শাসনভার পরিচালনার শপথ নেন। অভিজ্ঞ ও নবীনদের এই সমন্বিত মন্ত্রিসভাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মাঝে বড় ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

ঐতিহাসিক এই শপথ অনুষ্ঠানের সাক্ষী হতে দেশি-বিদেশি এক হাজার ২০০ আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত ছিলেন। ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নতুন সরকারকে শুভেচ্ছা জানান। একই সাথে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ী উপদেষ্টারাও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াকে পূর্ণতা দেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তারেক রহমান এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিজ নিজ দপ্তরের দায়িত্ব বুঝে নেবেন। এর মাধ্যমেই বাংলাদেশে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার যাত্রা শুরু হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ সন্ধ্যা থেকেই নতুন সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হতে যাচ্ছে।


ত্রয়োদশ সংসদে প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হলেন যারা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য (এমপি) হওয়ার গৌরব অর্জন করার পর সরাসরি মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অনন্য নজির স্থাপন করছেন ৩৩ জন নবীন নেতা। প্রস্তাবিত এই মন্ত্রিসভায় যারা প্রথমবার এমপি হয়েই পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন তাদের সংখ্যা ১০ জন এবং বাকি ২২ জন সদস্যকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। বিশেষত, নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে 'তারেক রহমান' নিজেও প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এবং তিনি সরকার প্রধানের পদের পাশাপাশি 'প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর' গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও নিজে পরিচালনা করবেন বলে জানা গেছে।

এমপি নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রী হচ্ছেন যারা

বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে এবারই প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুটি আসন থেকে জয় পেলেও তিনি বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন। ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি শপথ নিয়েছেন। তিনি সংসদে সরকারি দলের নেতা, মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন।

দিনাজপুর-৬ আসন থেকে এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচন হয়েছেন ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি মন্ত্রিসভায় থাকছেন। ফেনী-৩ আসন থেকে এবারই প্রথম এমপি হয়েছেন আব্দুল আওয়াল মিন্টু। তিনিও মন্ত্রিসভায় থাকছেন।

সিলেট-১ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রী হচ্ছেন খন্দকার আব্দুল মোকতাদির, সিলেট-৪ আসনের আরিফুল হক চৌধুরী, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আফরোজা খানম রিতা, ঝিনাইদহ-১ আসনের মো. আসাদুজ্জামান। এছাড়া প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রী হয়েছেন পার্বত্য রাঙ্গামাটির দীপেন দেওয়ান, ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, শেখ রবিউল আলম।

প্রথমবার নির্বাচিত হয়েই প্রতিমন্ত্রী যারা

জোনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন পুতুল, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, শামা ওবায়েদ ইসলাম, কায়সার কামাল, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

শরিফুল আলম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ফরহাদ হোসেন আজাদ, ডা. এম এ মুহিত, আহমদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ, মীর মুহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, রাজিব আহসান, মুহাম্মদ আব্দুল বারী ও মীর শাহে আলম।


প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক নির্বাসন ও রাজপথের কঠোর সংগ্রাম শেষে বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক রাজকীয় ও ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁকে পদের গোপনীয়তা ও শপথ বাক্য পাঠ করান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের সফল মেয়াদ শেষে আজ একটি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

বিকেল ঠিক চারটায় জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শপথ অনুষ্ঠানের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। খোলা আকাশের নিচে সংসদ ভবনের মনোরম পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি প্রায় এক হাজার ২০০ জন আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পাকিস্তানের ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবালসহ দক্ষিণ এশীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে অংশ নেন। শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে শপথপত্রে স্বাক্ষর করেন, যা উপস্থিত জনতা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের হর্ষধ্বনিতে মুখরিত হয়।

তারেক রহমানের এই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিষেক কেবল একটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন নয়, বরং বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক বিশেষ মাইলফলক। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। আজ সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার পর দুপুরে সংসদীয় দলের সভায় তারেক রহমানকে সর্বসম্মতিক্রমে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়। এর পরপরই রাষ্ট্রপতির আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন এবং বিকেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের সামনে এখন ভঙ্গুর অর্থনীতি সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠনের বিশাল চ্যালেঞ্জ। তাঁর শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো। শপথ অনুষ্ঠান শেষে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিরা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল বুধবার সকালে নতুন প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রথম কার্যদিবস শুরু করবেন এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হবেন। সারাদেশ থেকে আসা মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আজ রাজধানী ঢাকা এক উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে, যেখানে সবাই একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন।


নতুন মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হচ্ছেন ৩ জন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পর বিএনপি বর্তমানে নতুন সরকার গঠনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নবগঠিত মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। এই মন্ত্রিসভায় বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিত্বকে টেকনোক্র্যাট কোটায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যারা সরাসরি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে পেশাগত ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার ভিত্তিতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দায়িত্ব পাচ্ছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে যারা নির্দিষ্ট কোনো কারিগরি, পেশাগত কিংবা একাডেমিক যোগ্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনায় অবদান রাখেন তারাই মূলত 'টেকনোক্র্যাট (Technocrat)' হিসেবে পরিচিত।

বাংলাদেশের সংবিধানের '৫৬ (২)' অনুচ্ছেদের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার মোট সদস্য সংখ্যার অনধিক এক-দশমাংশ সদস্যকে সংসদ সদস্য নন এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নিয়োগ করার এখতিয়ার রাখেন, যদিও তাদের অবশ্যই সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে। সংবিধানের নিয়ম মেনে প্রধানমন্ত্রীকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে মন্ত্রিসভার ১০ ভাগের ৯ ভাগ সদস্য মনোনীত করতে হয় এবং অবশিষ্ট এক ভাগ তিনি চাইলে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বা বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ টেকনোক্র্যাট হিসেবে নিয়োগ দিতে পারেন। সাধারণত সংসদ ভেঙে যাওয়ার অন্তত ৯০ দিন আগে অথবা জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে এই টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগ করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বর্তমান ৪৯ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন যেখানে টেকনোক্র্যাট কোটায় মোট তিনজনকে মনোনীত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই তালিকায় মন্ত্রী হিসেবে স্থান পেয়েছেন 'আমিনুর রশিদ ইয়াছিন' ও 'ড. খলিলুর রহমান' এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন 'আমিনুল হক'। মূলত বিশেষ দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই প্রধানমন্ত্রী তাদের এই উচ্চপদে আসীন করেছেন বলে জানা গেছে।

আমিনুর রশীদ ইয়াছিন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাজি আমিনুর রশীদ ইয়াছিন কুমিল্লা–৬ (সদর) আসনে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তবে এই আসনে দলের মনোনয়ন পান দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিলেও গত ১৯ জানুয়ারি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াসিন। তিনি কুমিল্লা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৯ আসনে থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা-৬ থেকে পরাজিত হন।

ড. খুলিলুর রহমান

ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন ড. খলিলুর রহমান।

২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে নিয়োগ পান খলিলুর রহমান। পরে খলিলুর রহমানকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব দেয়া হয়।

ড. খলিলুর রহমান ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। তিনি ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পররাষ্ট্র) ক্যাডারে যোগ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন ও কূটনীতিতে এমএ এবং অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন ড. খলিলুর রহমান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে ১৯৮৩-৮৫ সময়কালে দায়িত্ব পালন করেন খলিলুর রহমান। ১৯৮৫ সালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে বদলি করা হয় তাকে। এছাড়া ১৯৯১ সালে তিনি জেনেভায় জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনে (আঙ্কটাড) বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে জাতিসংঘ সচিবালয়ে যোগ দেন।

আমিনুল হক

জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। তিনি ঢাকা-১৬ আসন থেকে জাতীয় নির্বাচন করেছিলেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জামায়াত ইসলামের প্রার্থী কর্নেল (অব) আব্দুল বাতেনের কাছে হেরে যান। কোনো সাবেক ক্রীড়াবিদ নির্বাচনে পরাজিত হয়ে কিংবা টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী কখনো হননি। আমিনুল হকই প্রথম।

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে সাবেক তারকা ফুটবলারদের মধ্যে মেজর হাফিজই প্রথম মন্ত্রীত্ব পেয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘদিন পর আরেক সাবেক জাতীয় ফুটবলার আরিফ খান জয় ক্রীড়া উপমন্ত্রী হয়েছিলেন। আমিনুল হক তৃতীয় সাবেক জাতীয় ফুটবলার হিসেবে মন্ত্রী হতে চলছেন।


নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে রাজধানী ঢাকায় পৌঁছেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে তিনি একটি বিশেষ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দরে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। নতুন বাংলাদেশের এই গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় অংশ নিতে হিমালয়কন্যা ভুটানের সরকার প্রধানের এই আগমনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও দুই দেশের গভীর বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আজ বিকেল চারটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এই রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ঢাকা এখন বিশ্বনেতাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু এবং ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষে সার্কভুক্ত দেশগুলোর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের এই সরব উপস্থিতি বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের জোরালো সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিদেশি অতিথিদের এই দীর্ঘ তালিকায় আরও রয়েছেন পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবাল, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা এবং মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ খলিল। এছাড়া শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিন্দা জয়াতিসা এবং ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রিও এই অনুষ্ঠানে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। কেবল দক্ষিণ এশিয়া নয়, পশ্চিমা বিশ্ব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও এই আয়োজনে শামিল হচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রা এবং তুরস্কের আন্ডার সেক্রেটারি বেরিস একিনচি ইতোমধ্যে ঢাকা পৌঁছেছেন।

বিকেলের এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। দেশি-বিদেশি অন্তত এক হাজার ২০০ আমন্ত্রিত অতিথির উপস্থিতিতে খোলা আকাশের নিচে আয়োজিত এই অভিষেক অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন নজির স্থাপন করতে যাচ্ছে। আমন্ত্রিত অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অনুষ্ঠানটি নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনাল থেকে শুরু করে সংসদ ভবন এলাকা পর্যন্ত বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে, যা নতুন সরকারের যাত্রালগ্নকে এক উৎসবমুখর আবহ দান করেছে। সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই বিশাল উপস্থিতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।


শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় ওম বিড়লা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে রাজধানী ঢাকায় পৌঁছেছেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাঁকে বহনকারী একটি বিশেষ বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বাংলাদেশের এই নতুন রাজনৈতিক যাত্রার সঙ্গী হতে এবং নতুন সরকারের প্রতি শুভেচ্ছা জানাতে প্রতিবেশী দেশের এই প্রভাবশালী নেতার আগমনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিমানবন্দরে ভারতের লোকসভার স্পিকারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। ওম বিড়লার নেতৃত্বে আসা ভারতীয় প্রতিনিধি দলটিকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এবং ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. রিয়াজ হামিদুল্লাহ। ওম বিড়লার এই সফর মূলত নতুন নির্বাচিত সরকারের সাথে নয়াদিল্লির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার একটি জোরালো বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, নতুন সরকারের এই ঐতিহাসিক শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজধানী ঢাকা এখন বিশ্বনেতাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ওম বিড়লার আসার কিছু সময় আগেই ঢাকায় পৌঁছান মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু। তাঁকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগের ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবালসহ দক্ষিণ এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা আজ ঢাকায় সমবেত হচ্ছেন। পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিনিধি হিসেবে যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রাও এই রাজকীয় আয়োজনে অংশ নেবেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আজ আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের শাসনভার গ্রহণ করতে যাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার বিকেল চারটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এই শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। দেশি-বিদেশি এক হাজার ২০০ অতিথির উপস্থিতিতে আয়োজিত এই মেগা ইভেন্টটি সফল করতে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের এই সরব উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর বিশ্ববাসীর কাছে কতটা গুরুত্ব বহন করছে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ বিকেলের এই মাহেন্দ্রক্ষণের মাধ্যমেই বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।


২৫ মন্ত্রী ও ২৪ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডাক পেলেন যাঁরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী থাকছেন। সরকারি সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী যারা ডাক পেয়েছেন তাঁদের তালিকা দেওয়া হয়েছে—

পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে ডাক পেয়েছেন যারা:

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

সালাহউদ্দিন আহমদ

ইকবাল হাসান মাহমুদ

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ

আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন

ড. খলিলুর রহমান

আব্দুল আওয়াল মিন্টু

কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ

মিজানুর রহমান মিনু

নিতাই রায় চৌধুরী

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

আরিফুল হক চৌধুরী

জহির উদ্দিন স্বপন

মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ

আফরোজা খানম (রিতা)

মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি

আসাদুল হাবিব দুলু

মো. আসাদুজ্জামান

জাকারিয়া তাহের

দীপেন দেওয়ান

আ ন ম এহসানুল হক মিলন

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন

ফকির মাহবুব আনাম

শেখ রবিউল আলম

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডাক পেয়েছেন:

এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

মো. শরিফুল আলম

শামা ওবায়েদ ইসলাম

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

কায়সার কামাল

ফরহাদ হোসেন আজাদ

মো. আমিনুল হক

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন

হাবিবুর রশিদ

মো. রজাবি আহসান

মো. আব্দুল বারী

মীর শাহে আলম

মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম

ইশরাক হোসেন

ফারজানা শারমিন

মো. নুরুল হক নুর

ইয়াসের খান চৌধুরী

এম ইকবাল হোসেইন

এমএ মুহিত

আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর

ববি হাজ্জাজ

আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম


প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডাক পেলেন যারা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর রাষ্ট্র পরিচালনার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আজ মঙ্গলবার সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং সংসদীয় দলের সভায় তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচনের পর নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে নতুন সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য মোট ২৩ জন নেতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আজ দুপুরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন হবু সরকারের পক্ষ থেকে এই সম্ভাব্য তালিকার একটি অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

নতুন এই মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি একঝাঁক তরুণ ও প্রভাবশালী নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করে চমক দিয়েছেন হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডাক পাওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, যশোর থেকে নির্বাচিত অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, কিশোরগঞ্জের মো. শরিফুল আলম এবং ফরিদপুর থেকে নির্বাচিত শামা ওবায়েদ ইসলাম। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন যুবদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, দলের আইন সম্পাদক কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক মো. আমিনুল হক। এই তালিকায় আরও রয়েছেন চট্টগ্রামের মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ঢাকা থেকে নির্বাচিত হাবিবুর রশিদ, মো. রজাবি আহসান ও মো. আব্দুল বারী।

মন্ত্রিসভার এই নতুন তালিকায় রাজনৈতিক বৈচিত্র্য আনতে বিভিন্ন দল ও জোটের শরিকদেরও মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যান্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যারা শপথ নিতে ডাক পেয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন মীর শাহে আলম, মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম এবং ঢাকার অন্যতম আলোচিত নেতা ইশরাক হোসেন। নারী নেতৃত্ব ও তরুণদের প্রাধান্য দিয়ে ফারজানা শারমিন এবং গণঅধিকার পরিষদের নেতা মো. নুরুল হক নুরকেও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর, এনডিপি নেতা ববি হাজ্জাজ এবং রাজবাড়ী থেকে নির্বাচিত প্রবীণ নেতা আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ামকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমান তাঁর নতুন মন্ত্রিসভায় মেধা ও সক্রিয়তাকে প্রাধান্য দিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠনের চেষ্টা করেছেন। এই তালিকায় যেমন রাজপথের লড়াকু সৈনিকেরা রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন পেশাজীবী ও তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, আজ বিকেল চারটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠানে এই প্রতিমন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিক শপথ নেবেন। ইতোমধ্যে শপথ অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংসদ এলাকায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এই নতুন সরকারের হাত ধরে বাংলাদেশে একটি সুসংহত গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হবে বলে প্রত্যাশা করছে সাধারণ মানুষ।


banner close