৫ আগস্ট ক্ষমতা হারানোর পর টানা প্রায় আড়াই মাস একেবারে নিশ্চুপ ছিল সাবেক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। তবে গত ১৫ দিনে বেশ কয়েকবার দলের ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে ও রাজধানীর দুয়েকটি এলাকায় ঝটিকা মিছিল করে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পতিত দলটির নেতা-কর্মীরা। এর মধ্যে ১০ ডিসেম্বর শহীদ নূর হোসেন দিবসকে সামনে রেখে গতকাল আবারও দলীয় ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে আজ রোববার রাজধানীর জিরো পয়েন্টে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। এদিকে, এ ঘোষণা বিক্ষুব্ধ করেছে অন্তর্বর্তী সরকারকে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসের পরপরই নিজেদের ফেসবুক পেজে পাল্টা স্ট্যাটাস দিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও প্রধান উপদেষ্টার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, গণহত্যাকারী বা নিষিদ্ধ সংগঠনের কেউ কর্মসূচি করার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। আর শফিকুল আলম তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে আওয়ামী লীগকে ‘ফ্যাসিবাদী দল’ হিসেবে উল্লেখ করে লিখেছেন, এই ফ্যাসিবাদী দলের বাংলাদেশে প্রতিবাদ করার কোনো সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভঙ্গের কোনো প্রচেষ্টাকে তারা বরদাশত করবে না।
এদিকে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘোষণার প্রতিবাদে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। আজ দুপুর ১২টায় ওই জিরো পয়েন্টেই ‘পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে’ গণজমায়েত করার ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রদের সংগঠনটি।
১৯৯০ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করার আন্দোলনে বুকে-পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক স্বৈরাচার নিপাত যাক’ লিখে প্রতিবাদ জানানোর সময় ১০ ডিসেম্বর পুলিশের গুলিতে নিহত হন নূর হোসেন। সেই থেকে দিবসটিকে ‘গণতন্ত্র মুক্ত করার দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে রাজনৈতিক দলগুলো। সেই দিনটিকে স্মরণ করে গতকাল ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে’ আজ রোববার (১০ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় রাজধানী ঢাকার জিরো পয়েন্টে নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণকে আসার ডাক দিয়েছে আওয়ামী লীগ। অগণতান্ত্রিক শক্তির অপসারণ এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে গতকাল শনিবার দলটির ফেসবুক পেজে এ-সংক্রান্ত দুটি পোস্ট সংবাদ বিজ্ঞপ্তি হিসেবে দেওয়া হয়।
আওয়ামী লীগের পোস্টে বলা হয়, ‘১০ নভেম্বর আসুন- নূর হোসেন চত্বরে জিরো পয়েন্ট, গুলিস্তান, ঢাকায়। আমাদের প্রতিবাদ দেশের মানুষের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে, আমাদের প্রতিবাদ মৌলবাদী শক্তির উত্থানের বিরুদ্ধে, আমাদের প্রতিবাদ সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রাকে ব্যাহত করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে। অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আপনিও অংশ নিন।’
দেশব্যাপী সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মসূচি পালনেরও আহ্বান জানানো হয় আওয়ামী লীগের ওই বিজ্ঞপ্তিতে।
আওয়ামী লীগের মাঠে নামার ঘোষণা শুনেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসউদসহ অন্য নেতারা। পরে রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।
শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ তার স্ট্যাটাসে বলেন, গণহত্যাকারী ও নিষিদ্ধ সংগঠনের কেউ কর্মসূচি করার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
অন্যদিকে, প্রেস সচিব শফিকুল আলম তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, আওয়ামী লীগ বর্তমানে একটি ফ্যাসিবাদী দল। এই ফ্যাসিবাদী দলের দেশের ভেতর আওয়ামী লীগের সভা-সমাবেশ এমনকি কোনো ধরনের মিছিল করার কোনো সুযোগ নেই। গণহত্যাকারী ও স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার নির্দেশে কেউ সভা-সমাবেশ ও মিছিলের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে। অন্তর্বর্তী সরকার কোনো সহিংসতা বা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভঙ্গের কোনো প্রচেষ্টাকে বরদাশত করবে না।
পরে রাতে আওয়ামী লীগের মাঠে নামা প্রতিহত করতে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ‘পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে’ আজ রোববার দুপুর ১২টায় জিরো পয়েন্টে গণজমায়েত করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল শনিবার রাত আটটার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফেসবুক পেজে এই কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তারিকুল ইসলাম আজ রোববার জিরো পয়েন্টে তাঁদের সংগঠনের কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, গতকাল নোয়াখালীতে একটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, ‘আজ ফ্যাসিস্টদের প্রতি অনেকে দরদ ও মায়া দেখাচ্ছে। অনেকে বলছে, আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল, তাদের রাজনীতি করার অধিকার ও ভোটাধিকার দিতে হবে। আওয়ামী লীগ যদি রাজনৈতিক দল হয় তবে গত ১৬ বছর কেন এ দেশের মানুষকে ভোটের অধিকার দেয়নি? তারা রাজনৈতিক দল হয়ে থাকলে কেন আমার দুই হাজারের বেশি ভাইবোনকে হত্যা করেছে? কেন গত ১৬ বছর ধরে ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্ররা নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে? সন্ত্রাসী এবং রাজনৈতিক দলের মধ্যে পার্থক্য ধরতে না পারলে আমরা বুঝে নেব আপনারাও রাজনৈতিক দলের কাতারে পড়েন না। সন্ত্রাসীরা আজীবনের জন্য সন্ত্রাসী। কোনো সন্ত্রাসী ভবিষ্যতে এ দেশের মেম্বার, চেয়ারম্যান, এমপি ও মন্ত্রী হতে পারবে না। সন্ত্রাসী আর রাজনৈতিক দল কখনও এক হতে পারে না।’
গতকাল শনিবার দুপুরে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ কলেজ মাঠে একটি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জুলাইয়ের বিপ্লবে নিহত ও আহতদের পরিবারকে অর্থ ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মাসউদ বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালানোর পর তরুণরা যে স্বপ্ন দেখছে, সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে আজ একটি পক্ষ বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ইতিহাসের পাতায় যদি শহীদদের নাম লিপিবদ্ধ করে রাখতে হয়, তবে আগে তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে হবে। বইয়ের কাগজে আমরা শহীদদের নাম যেভাবে দেখতে চাই, যেভাবে পত্রিকার পাতায় দেখতে চাই ঠিক একইভাবে আমরা দেখতে চাই- দুই যুগ পর যেন দেশের মানুষ বলতে পারে চব্বিশের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আমরা সুন্দর এই বাংলাদেশ পেয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যদি রাজনৈতিক দল হয়ে থাকে, তাহলে এতদিন কেন জনগণের ভোটাধিকার দেয়নি। আমাদের ভোটের, গণতন্ত্রের অধিকার নিয়ে আন্দোলন করতে হয়েছে। তাই অবিলম্বে মুজিববাদ ও ফ্যাসিবাদের সংবিধান মুছে ফেলতে হবে।’
এই সমন্বয়ক বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা বার বার সংবিধানকে কাটাছেঁড়া করে এ দেশের মানুষের ভাতের, ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এ দেশের মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। সেই সংবিধানকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে চব্বিশের তরুণদের হাত ধরে বিজ্ঞজনের পরামর্শ নিয়ে নতুন সংবিধান রচনা করা হবে।’
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলও ৩ দফা দাবিতে একই দিন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলকে হেনস্তার প্রতিবাদ ও ১৫ বছরে বিভিন্ন হামলায় জড়িতদের বিচারসহ ৩ দফা দাবিতে রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা পালন করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাষ্কর্যে অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে শেষ হবে।
ছাত্রদলের তিন দাবিগুলো হলো- বিদেশের মাটিতে ড. আসিফ নজরুলের ওপর মাটিতে হামলা ও হেনস্তা করার অপচেষ্টাকারী বিদেশে পলাতক ফ্যাসিবাদী আওয়ামী দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা।
বিগত ১৫ বছর ধরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনকারী ও ছাত্র রাজনীতিকে কলুষিত করা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় নিয়ে আসা এবং আওয়ামী সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনা।
জাতীয় সংসদে সদস্যদের হট্টগোল, অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং কার্যপ্রণালি বিধি অমান্যের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। সংসদের ভেতরে একে অপরকে বক্তব্য দিতে বাধা দেওয়া এবং স্পিকারের রুলিং বা নির্দেশনা অমান্য করার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংসদের ভবিষ্যৎ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া শোরগোলের পর এসব কথা বলেন স্পিকার। বিকেল তিনটায় তার সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়েছিল।
অধিবেশন চলাকালে কুমিল্লা-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উক্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মন্তব্য করেন, স্পিকার, এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা হলো, বুঝতে পারিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যদি কথাই না বলতে দেন, তাহলে কিসের বাকস্বাধীনতা। এর পর সংসদে হট্টগোল তুঙ্গে উঠলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার দাবি তোলে বিরোধী দল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে স্পিকার বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে সচল রাখার তাগিদ দেন। নিজের দীর্ঘ ৪০ বছরের সংসদীয় অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে সচল রাখতে এবং জনগণের এই প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর রাখতে হলে রুলস অব প্রসিডিউর কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
সংসদ সদস্যদের সংসদীয় রুলস অব প্রসিডিউর পড়ার পরামর্শ দিয়ে স্পিকার আরও বলেন, স্পিকার যখন কথা বলেন তখন সবাইকে বসে শুনতে হয়। এই আইন-নীতি যদি না মানেন, ভঙ্গ করেন তাহলে এই সংসদ বেশিদিন চলবে না। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি আদর্শ সংসদীয় পরিবেশ উপহার দেওয়ার জন্য তিনি সর্বদলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মক্কা চুক্তিতে (প্যাক্ট) যোগ দেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে চুক্তিভুক্ত সদস্যদেশগুলোর অভিপ্রায়ের ওপর। তারা বাংলাদেশকে এ চুক্তিতে (প্যাক্টে) নেওয়ার বিষয়ে অভিপ্রায় প্রকাশ করলে বাংলাদেশ নিশ্চয়ই এটাকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে আজ বিকেলে ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মিলে মক্কা প্যাক্ট সই করেছে। তিনি জানতে চান ওই প্যাক্টে যুক্ত হলে বাংলাদেশের সুবিধাটা কী হবে?
জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ‘এ প্যাক্ট তিনটি দেশের মধ্যে হয়েছে। এ প্যাক্টটিকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। এতে যোগদান বা যোগদান না করার বিষয়টি এখনো আসেনি, কারণ এটা নির্ভর করছে প্যাক্টের সদস্যদের অভিপ্রায়ের ওপর। তারা যদি বাংলাদেশকে এ প্যাক্টে নেওয়ার বিষয়ে অভিপ্রায় প্রকাশ করে, তাহলে আমরা নিশ্চয়ই এটাকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করব।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তার আগে এর (প্যাক্ট) ভালো-মন্দ নিয়ে আলোচনা করাটা, সম্ভবত সে সময় আসেনি। আমরা নিশ্চয়ই এসব বিষয় বিবেচনা করব। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে একটা কথা, এ প্যাক্ট যদি বিস্তৃত হয়, এটা হচ্ছে বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার ব্যবস্থা। এটা আমাদের পরিবার। এটা মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তা নিয়ে কারও, অন্যান্যদের উদ্বেগের অবকাশ নেই।’
দেশের ৬৪ জেলার প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ওপর রাজনৈতিক পর্যায়ে নতুন একটি তদারকি ও সমন্বয় কাঠামো তৈরি করলো সরকার। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপ মিলিয়ে ৩০ জনকে এক থেকে তিনটি করে জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই সব জেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সুশাসন, স্বচ্ছতা-জবাবদিহি এবং সরকারি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তারা তদারকি করবেন। এমনকি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেটিও তাদের নজরদারির আওতায় থাকবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ দায়িত্ব বণ্টনের কথা জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়নের বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট হয়েছে।
লুট করা অর্থের একাংশ বিদেশে পাচার হয়েছে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অর্থের অন্য অংশ দেশের ভেতরে মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।
এ অবস্থায় জেলা পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ৫৫ (২) অনুচ্ছেদ এবং কার্যপ্রণালি বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
দায়িত্ব বণ্টনের তালিকা অনুযায়ী, ইকবাল হাসান মাহমুদকে রাজশাহী ও নাটোর; আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়; আবদুল আউয়াল মিন্টুকে লক্ষ্মীপুর; নিতাই রায় চৌধুরীকে চুয়াডাঙ্গা এবং খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকে হবিগঞ্জের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন মৌলভীবাজারের দায়িত্ব। মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে চট্টগ্রাম; এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা; আসাদুল হাবিব দুলুকে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর এবং মো. আসাদুজ্জামানকে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জাকারিয়া তাহেরকে ফেনী ও নোয়াখালী; সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে মানিকগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ; সাচিং প্রুকে কক্সবাজার এবং মো. শরীফুল আলমকে টাঙ্গাইল ও নরসিংদীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শামা ওবায়েদ ইসলাম মাদারীপুর ও শরীয়তপুর; অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ; আব্দুল বারী বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং সুলতান সালাউদ্দিন ঢাকা জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।
পার্বত্য তিন জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে। হাবিবুর রশিদকে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ; মো. রাজীব আহসানকে বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর এবং মীর শাহে আলমকে রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফারজানা শারমিন সিরাজগঞ্জ ও পাবনা; শেখ ফরিদুল ইসলাম যশোর, মাগুরা ও নড়াইল; ইমরান খান চৌধুরী জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ এবং আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠির দায়িত্ব পেয়েছেন। মোহাম্মদ শামীম কায়সারকে জয়পুরহাট ও নওগাঁ; মো. জি কে গউছকে সিলেট ও সুনামগঞ্জ; মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদকে রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং এ বি এম আশরাফ উদ্দিনকে (নিজান) ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি দপ্তরগুলোকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং পুরনো অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। এ ছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি করবেন তারা। প্রয়োজন হলে জেলার বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে পরামর্শও দিতে পারবেন।
মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অনুমোদনবিহীন ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একই সঙ্গে এমন ৩১টি মোবাইল অ্যাপের তালিকা প্রকাশ করে এসব প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ না নেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
বিএফআইইউ জানিয়েছে, সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সহজ শর্তে ও দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে অনুমোদনবিহীন ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব অ্যাপ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত যোগাযোগের তালিকা, ছবি ও অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছে।
পরে ঋণ আদায়ের নামে গ্রাহকদের ওপর অযাচিত চাপ প্রয়োগ, ভয়ভীতি দেখানো, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মতো ঘটনা ঘটছে। এতে ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, অনুমোদনবিহীন অর্থ লেনদেন, অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও হয়রানির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিএফআইইউ।
বিএফআইইউর প্রকাশিত তালিকায় থাকা অ্যাপগুলো হলো—সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়নজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথি লোন, ক্যাশহোরা, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, টাকা ক্যাশ লোন, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও।
সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশে ঋণ প্রদান একটি নিয়ন্ত্রিত আর্থিক কার্যক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন এবং প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো অনুসরণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা ডিজিটাল মাধ্যমে ঋণ প্রদান করা বৈধ নয়। মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার জন্য কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
বিএফআইইউ আরো জানিয়েছে, অনুমোদনবিহীন এসব ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতারণা, আর্থিক অপরাধ ও মানিলন্ডারিংয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ২(শ)(৫) ধারা অনুযায়ী প্রতারণামূলকভাবে ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ একটি সম্পৃক্ত অপরাধ। একই আইনের ৪ ধারায় এ অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে।
এ ধরনের অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মে ঋণের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, মোবাইল ফোনে থাকা যোগাযোগের তালিকা, ছবি বা অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিএফআইইউ। একই সঙ্গে ঋণ দেওয়ার নামে অগ্রিম অর্থ, নিবন্ধন ফি, প্রসেসিং ফি বা অন্য কোনো অর্থ দাবি করা হলে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে থেকে এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা আইন, ২০১৮-এর ধারা ১০(১) অনুযায়ী এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছর মেয়াদে তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।
নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরীকে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে। তার নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলে জানানো হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস মোকাবিলায় বাংলাদেশ প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে এবং একই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের পাশে দাঁড়াতেও প্রস্তুত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ড. খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা তাদের সব ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছি।’
এর আগে সকালে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
ড. খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে জানিয়েছেন যে, তারা এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন তা মূল্যায়ন করছেন। তিনি বলেছেন, আজ সন্ধ্যা বা আগামীকালের মধ্যে তারা আমাদের জানাবেন, কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, নেপাল তাদের নির্দিষ্ট প্রয়োজনের কথা জানানোর পর বাংলাদেশ সাড়া দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
ফোনালাপে খলিলুর রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে গভীর সহানুভূতি ও সমবেদনা প্রকাশ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই দুর্যোগকে একটি ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, বাংলাদেশের মানুষের ভাবনা ও প্রার্থনা সেই পরিবারগুলোর সাথে রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সমবেদনা বার্তাও পৌঁছে দেন এবং নেপালের সরকার ও জনগণের প্রতি ঢাকার পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এই দুর্যোগে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে নেই। এখন পর্যন্ত আমরা কোনো বাংলাদেশির নাম পাইনি।
তিনি আরো জানান, দুর্যোগ যখন আঘাত হানে, তখন বেশ কয়েকজন বিদেশি পর্যটক মানস সরোবর এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই দুর্যোগে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই ঢাকাকে অবিলম্বে তা জানানোর জন্য নেপালি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে। ‘জীবিত বা মৃত, যেকোনো অবস্থায় কোনো বাংলাদেশির খোঁজ পাওয়া গেলে, আমরা আমাদের পূর্ণ সহযোগিতা প্রসারিত করব এবং তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
তিনি বলেন, পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্যও বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় ফ্লাইট বা বিমান চলাচলের ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, দুর্যোগে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলে তার সরকার এ বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতা করবে।
এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সংহতি প্রকাশের জন্য বাংলাদেশের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল এবং ড. খলিলুর রহমানকে অবহিত করেছেন যে, সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন শেষ করার পর নেপাল তাদের নির্দিষ্ট প্রয়োজনের কথা বাংলাদেশকে জানাবে।
ছবি: বাসস
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সদস্যদের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।
বাংলাদেশে অবকাঠামো, বন্দর ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে চীনের সহযোগিতা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পয়ঃনিষ্কাশন, আবাসনসহ বাংলাদেশের শিক্ষা কারিকুলামে ম্যান্ডারিন তথা চীনা ভাষা অন্তর্ভুক্তকরণ, দাশেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় পাইপলাইন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়।
রাজধানীর কড়াইল, গুলশান ও মহাখালী বস্তির উন্নয়নে আধুনিক আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চীনের কাছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। প্রস্তাবটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নে চীন প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।
বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার ও সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার। দেশের উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও নগর উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে চীনের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পারে।
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটি আরও বৃদ্ধি করতে চীন আগ্রহী।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনের সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বরে তার চীন সফরের সময় এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ রয়েছে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আজ ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে।
বিকেল ৩টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এ অধিবেশন শুরু হবে।
আজকের দিনের কার্যসূচিতে রয়েছে- সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন, শোকপ্রস্তাব, প্রশ্ন জিজ্ঞাসা এবং উত্তর, জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ (বিধি-৭১), বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব এবং আইন-প্রণয়ন কার্যাবলী।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় অধিবেশনটি ৫, ৭ বা ১০ দিনের সংক্ষিপ্ত অধিবেশন হতে পারে। তবে প্রয়োজন হলে এর মেয়াদ বাড়ানো হবে।
তিনি বলেন, এই অধিবেশনে সংসদীয় কমিটিগুলো গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সদস্যদের নাম পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো চূড়ান্ত করা হবে।
বুধবার সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
চিফ হুইপ বলেন, তৃতীয় অধিবেশনে প্রায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপিত হতে পারে। এর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম ও মানবাধিকার সুরক্ষা-সংক্রান্ত বিল উল্লেখযোগ্য।
সম্পত্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনের বিষয়ে তিনি বলেন, বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও তাঁরা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহারের অধিকার বজায় রাখবেন। এর মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পর বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের অবহেলা রোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মনি বলেন, জুলাই সনদের ধারাবাহিকতায় জনগণ নির্বাচনী ইশতেহার দেখেই ভোট দিয়েছেন এবং তাঁদের ওপর আস্থা রেখেছেন। সেই আস্থার ভিত্তিতেই তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে নতুন আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের একটি কমা, দাঁড়ি কিংবা সেমিকোলনের পরিবর্তনও সংবিধান সংস্কারের অংশ। জুলাই সনদে দক্ষিণ প্লাজায় সব রাজনৈতিক দল সম্মিলিতভাবে যে অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেছে, তার প্রতিটি বিষয় যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।
সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে উল্লেখ করে চিফ হুইপ জানান, এতে বিএনপি থেকে ৭ জন এবং জামায়াত থেকে ৫ জন সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যান্য ছোট দল থেকেও একজন করে সদস্য রাখার প্রস্তাব রয়েছে। বিরোধী দল তাদের সদস্যদের নাম দিলে তাঁদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবিধান সংশোধন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। উদাহরণ হিসেবে তিনি ভারতের সংবিধান গত ৭৬ বছরে ১০৬ বার সংশোধনের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, তৃতীয় অধিবেশনের মধ্য দিয়ে সংসদীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন, সংসদীয় কমিটির কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে কাঠমান্ডুকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ঢাকা।
বুধবার (২৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় বাংলাদেশের জনগণ গভীরভাবে শোকাহত।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নেপালের এই ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ। এতে শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং পর্যটকসহ আরও অনেকের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ এই কঠিন সময়ে নেপাল সরকার ও দেশটির বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে।
বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর সমবেদনা জানিয়ে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত উদ্ধার, চিকিৎসা ও পুনরুদ্ধার কামনা করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘নিহতদের জন্য আমরা গভীর সমবেদনা জানাই। নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি।’
নেপালের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি পুনর্ব্যক্ত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুর্যোগের পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাঠমান্ডুকে সহায়তা দিতে ঢাকা প্রস্তুত রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।’
সূত্র: বাসস
আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় কমিটিগুলো গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সদস্যদের নাম পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো চূড়ান্ত করা হবে। অধিবেশনটি ৫, ৭ বা ১০ দিনের সংক্ষিপ্ত অধিবেশন হতে পারে; তবে প্রয়োজন হলে এর মেয়াদ বাড়ানো হবে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সংসদ ভবনে গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সংসদীয় কমিটি, সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা, সংবিধান সংশোধন এবং আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, তৃতীয় অধিবেশনে প্রায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপিত হতে পারে। এর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম ও মানবাধিকার সুরক্ষা-সংক্রান্ত বিল উল্লেখযোগ্য। সম্পত্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনের বিষয়ে তিনি বলেন, বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও তাঁরা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহারের অধিকার বজায় রাখবেন। এর মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পর বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের অবহেলা রোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদের ধারাবাহিকতায় জনগণ নির্বাচনী ইশতেহার দেখেই ভোট দিয়েছেন এবং তাঁদের ওপর আস্থা রেখেছেন। সেই আস্থার ভিত্তিতেই তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে নতুন আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।
তিনি বলেন, সংবিধানের একটি কমা, দাঁড়ি কিংবা সেমিকোলনের পরিবর্তনও সংবিধান সংস্কারের অংশ। জুলাই সনদে দক্ষিণ প্লাজায় সব রাজনৈতিক দল সম্মিলিতভাবে যে অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেছে, তার প্রতিটি বিষয় যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।রাজনৈতিক আলোচনা
চিফ হুইপ জানান, সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এতে বিএনপি থেকে ৭ জন এবং জামায়াত থেকে ৫ জন সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যান্য ছোট দল থেকেও একজন করে সদস্য রাখার প্রস্তাব রয়েছে। বিরোধী দল তাদের সদস্যদের নাম দিলে তাঁদেরও
কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবিধান সংশোধন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। উদাহরণ হিসেবে তিনি ভারতের সংবিধান গত ৭৬ বছরে ১০৬ বার সংশোধনের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানানো বিরোধী দলের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিরোধী দল সংসদের বাইরে অস্থিরতা সৃষ্টি না করে জনগণের সমস্যা ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংসদে তুলে ধরবে এবং আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করবে।
চিফ হুইপ বলেন, “সংসদের বাইরে আন্দোলন করে আবার স্বৈরাচারী ব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি করে দেবে না আশা করি। ১৭ বছর ধরে জেল, গুম ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যে অর্জন এসেছে, সেই অর্জন অন্য কারও হাতে তুলে দেওয়া হবে—এটা আমি বিশ্বাস করি না। আমরা চাই, বিরোধী দল সংসদে এসে জনগণের কথা বলবে, সরকারের ভুল ধরিয়ে দেবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমাধানের পথ বের করবে।”
তিনি বলেন, তৃতীয় অধিবেশনের মধ্য দিয়ে সংসদীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন, সংসদীয় কমিটির কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
চলমান সংকট মোকাবিলায় সময় প্রয়োজন—এ কথা উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, কোনো সরকারের পক্ষে মাত্র ছয় মাসে দীর্ঘদিনের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “আপনার গভর্নমেন্টের বয়স ছয় মাস। ইচ্ছা করলাম, আমি দারুণভাবে চেষ্টা করলাম—আমি ছয় মাসে একটা বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট করতে পারব? সবকিছু অনুকূলে থাকলেও একটা বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট করতে দুই বছর লাগে মিনিমাম।”
তিনি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণসহ বড় অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে সময় প্রয়োজন। তাই জনগণকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করতে হবে। অস্থিরতা সৃষ্টি হলে এর ক্ষতি কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়, বরং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর পড়তে পারে।
বিদ্যুৎ খাতের চুক্তি প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, বিগত সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ খাতে করা বিভিন্ন চুক্তি দেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক দায় সৃষ্টি করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, দায়মুক্তির ব্যবস্থা রেখে এমন আইন করা হয়েছিল, যার ফলে এসব চুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ সীমিত হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধের কারণে জনগণের অর্থের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
আদানির সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তিকে ‘গর্হিত অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। দেশের স্বার্থে এ ধরনের চুক্তির অর্থনৈতিক চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
নেপালের আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে বিপুলসংখ্যক প্রাণহানি এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। একইসাথে, দেশটির এই বিপদ মুহূর্তে পাশে থেকে উদ্ধার, ত্রাণ কার্যক্রমসহ যেকোনো ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তায় বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই শোক ও সংহতি প্রকাশ করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, নেপালের এই মর্মান্তিক দুর্যোগের খবর ও পরিস্থিতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছে এবং পর্যটকসহ অনেকের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার এবং বাংলাদেশের জনগণ এই কঠিন সময়ে বন্ধুপ্রতীম দেশ নেপালের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা ও পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে।
বিজ্ঞপ্তিতে নিহতদের আত্মার প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে, পাশাপাশি নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতার আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
দুর্যোগকালীন এই সময়ে ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার তৎপরতায় নেপালকে যেকোনোভাবে সম্ভাব্য সহায়তার জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় বুধবার বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া আগামীকাল বৃহস্পতিবারও (২৭ আগস্ট) দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
অধিদপ্তর জানায়, বুধবার (২৬ আগস্ট)সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণও হতে পারে।
এ সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিনও সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে টেকনাফে। একই সময়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহী, শ্রীমঙ্গল, যশোর ও চুয়াডাঙ্গায়। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সিলেটে, ২৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঝাড়খন্ড ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।
এ ছাড়া মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।