বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
৯ মাঘ ১৪৩২
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন

অক্টোবরে ৪৪৩ দুর্ঘটনায় নিহত ৪৬৯, মোটরসাইকেলে মৃত্যু বেশি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১০ নভেম্বর, ২০২৪ ১৭:৩২
ইউএনবি
প্রকাশিত
ইউএনবি
প্রকাশিত : ১০ নভেম্বর, ২০২৪ ১৭:২৯

চলতি বছরের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশে ৪৪৩টি সড়ক দুর্ঘটনা ৪৬৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় ৮৩৭ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৭৪ জন নারী এবং ৬৬ জন শিশু। মোট ২০৮টি মোটরবাইক দুর্ঘটনায় ১৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা মোট মৃত্যুর ৪১.৭৯ শতাংশ এবং মোটরবাইক দুর্ঘটনার হার ৪৬.৯৫ শতাংশ।

এছাড়া, ১০২ জন পথচারী (২১.৭৪ শতাংশ) এবং ৬৭ জন যানবাহন চালক বা তাদের সহকারী (১৪.২৮ শতাংশ) নিহত হন। এ সময়, ৪টি নৌ দুর্ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু এবং ৩ জন আহত হন, আর ২১টি রেল দুর্ঘটনায় ১৮ জন মারা যান এবং ৬ জন আহত হন।

আজ রোববার রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। সংগঠনটি জানায়, ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন সংবাদ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং এর নিজস্ব রেকর্ডের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

যানবাহন অনুযায়ী মৃত্যুর হিসাব

যানবাহনের ধরন অনুযায়ী মৃত্যুর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোটরবাইক চালক বা যাত্রীদের মধ্যে ১৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে (৪১.৭৯ শতাংশ)। বাস যাত্রীদের মধ্যে ৩১ জন (৬.৬০শতাংশ) মারা গেছেন এবং ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ, ট্রলি বা লরির যাত্রীদের মধ্যে ২০ জন (৪.২৬ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।

এছাড়া প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্স যাত্রীদের মধ্যে ১২ জন (২.৫৫ শতাংশ) মারা গেছেন, আর তিন চাকার যান (যেমন অটো রিকশা, সিএনজি, টমটম) যাত্রীদের মধ্যে ৯৪ জন (২০.০৪ শতাংশ) প্রাণ হারিয়েছেন।

নসিমন ও করিমনের মতো স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন দুর্ঘটনা ১০ জন (২.১৩ শতাংশ) এবং সাইকেল চালক ও রিকশা যাত্রীদের মধ্যে ৪ জন (০.৮৫ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার স্থান অনুযায়ী সড়কের ধরন

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৭৩টি (৩৯.০৫ শতাংশ) দুর্ঘটনা জাতীয় মহাসড়কে ঘটেছে, ১৬২টি (৩৬.৫৬ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৬৪টি (১৪.৪৪ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে এবং ৩৮টি (৮.৫৭ শতাংশ) শহুরে এলাকায় এবং এছাড়া অন্যান্য অপ্রত্যাশিত স্থানে ৬টি (১.৩৫ শতাংশ) দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার ধরন

দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ছিল ১১২টি (২৫.২৮ শতাংশ) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৭১টি (৩৮.৬০ শতাংশ) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১০৪টি (২৩.৪৭ শতাংশ) পথচারীকে আঘাত, ৪২টি (৯.৪৮শতাংশ) পেছন থেকে ধাক্কা এবং ১৪টি (৩.১৬শতাংশ) অন্যান্য কারণে ঘটে।

দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহন

দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে ২৫.৪৮ শতাংশ ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ, ট্র্যাক্টর, ট্রলি, লরি ও ড্রাম ট্রাক জড়িত ছিল।

মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপ দুর্ঘটনা ছিল ৪.৩৯ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ছিল ১৪.৪৮ শতাংশ, মোটরবাইকের ছিল ২৮.০৭ শতাংশ এবং তিন চাকার যান (যেমন অটো-রিকশা) ছিল ১৭.৫৯ শতাংশ।

এছাড়া স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ছিল ৫.৪৩ শতাংশ, সাইকেল ও রিকশা ছিল ১.৮১ শতাংশ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ছিল ২.৭১ শতাংশ।

যানবাহনের সংখ্যা

মোট ৭৭৩টি যানবাহন দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। এর মধ্যে ১১২টি বাস, ১১৯টি ট্রাক, ২২টি কাভার্ড ভ্যান, ২৫টি পিকআপ, ৭টি ট্র্যাক্টর, ৬টি ট্রলি, ৯টি লরি, ৮টি ড্রাম ট্রাক, ১টি ১৮-চাকার লরি, ১২টি মাইক্রোবাস, ১৪টি প্রাইভেট কার, ৫টি অ্যাম্বুলেন্স, ৩টি জিপ, ২১৭টি মোটরবাইক, ১৩৬টি তিন চাকার যান, ৪২টি স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন, ১৪টি সাইকেল বা রিকশা এবং ২১টি অজ্ঞাত যানবাহন।

দুর্ঘটনার সময়

দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৫.৪১ শতাংশ দুর্ঘটনা হয়েছিল ভোরে, ২৬.৬৩ শতাংশ সকালে, ১৬.৯৩ শতাংশ দুপুরে, ১৫.৫৭ শতাংশ সন্ধ্যা, ৯.২৫ শতাংশ গোধূলি এবং ২৬.১৮ শতাংশ রাতে।

বিভাগ অনুযায়ী দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান

বিভাগীয় পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ২৯.৫৭ শতাংশ এবং মৃত্যুর ৩০.৭০ শতাংশ গটেছে ঢাকা বিভাগে। মোট দুর্ঘটনার ১৫.৩৪ শতাংশ ও মৃত্যুর ১৩.৮৫ শতাংশ হয়েছে রাজশাহী বিভাগে। দুর্ঘটনার ১৭.৮৩ শতাংশ এবং মৃত্যুর ১৭.২৭ শতাংশ ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। মোট দুর্ঘটনার ৯ শতাংশ ও মৃত্যুর ৮ দশমিক ১০ শতাংশ গয়েঠে খুলনা বিভাগে, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনার ৪ দশমিক ০৬ শতাংশ থেকে ১০ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং মৃত্যুর ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ০৮ শতাংশ হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ১৩১টি ঘটনায় ১৪৪ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট। সেখানে ২২টি ঘটনা এবং ২৪ জন মারা গেছে।

বিভিন্ন জেলা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সর্বোচ্চ দুর্ঘটনা ও মৃত্যু হয়েছে। সেখানে ৩৪টি দুর্ঘটনায় ৩৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অপরদিকে, মাগুরা, ঝালকাঠি, বরগুনা ও পঞ্চগড়ে দুর্ঘটনা ঘটলেও কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।

রাজধানী ঢাকা শহরে ২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ জনের মৃত্যু এবং ৩৪ জন আহত হয়েছেন।

মৃত্যুর পেশাগত বিশ্লেষণ

প্রকাশিত গণমাধ্যম তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে তিনজন পুলিশ সদস্য, দুইজন আনসার সদস্য, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নয়জন শিক্ষক এবং চারজন সাংবাদিক ছিলেন।

দুর্ঘটনা ও হতাহতের এসব ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে সড়ক নিরাপত্তা উন্নত করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।


ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চলাচল সাময়িক স্থগিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

উড়োজাহাজ সংকট এবং বহর ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপের কারণে ঢাকা ও সিলেট থেকে ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আগামী ১ মার্চ ২০২৬ থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে পূর্বনির্ধারিত ১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে সময়সীমা বাড়িয়ে ১ মার্চ থেকে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর করা হচ্ছে।

বিমান কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় জানিয়েছে যে, ঢাকা ও সিলেট থেকে ম্যানচেস্টার রুটটি বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়। বিমানের বহরে থাকা সীমিত সংখ্যক বড় উড়োজাহাজ দিয়ে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং হজ রুটের ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। ম্যানচেস্টারের মতো দীর্ঘপথে একটি উড়োজাহাজ দীর্ঘ সময় ব্যস্ত থাকায় অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রুটে শিডিউল ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে আসন্ন হজ মৌসুমে বিপুল সংখ্যক যাত্রী পরিবহনের চাপ সামাল দিতে এই অপারেশনাল পরিবর্তন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে বলে কর্তৃপক্ষ মনে করছে।

তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের রুটগুলোতে প্রবাসী শ্রমিক ও ওমরাহ যাত্রীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিমানের বহরে থাকা উড়োজাহাজগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও ইঞ্জিন মেরামতের প্রয়োজনে মাঝেমধ্যে কিছু বিমান উড্ডয়ন ক্ষমতার বাইরে থাকে, যা সংকটকে আরও ঘনীভূত করে। এর পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ক্রু সংকটের কারণে দীর্ঘ পথের পরিবর্তে স্বল্প দূরত্বের ফ্লাইট পরিচালনা করাকে বর্তমানে বেশি কার্যকর ও যুক্তিযুক্ত মনে করছে বিমান কর্তৃপক্ষ। এসব বাস্তবিক কারণেই ম্যানচেস্টার রুটের ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে ম্যানচেস্টার রুটের যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বিকল্প ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ম্যানচেস্টার ফ্লাইট স্থগিতের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে লন্ডন রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি করে সপ্তাহে পাঁচটি করা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি ফ্লাইট সিলেট হয়ে এবং একটি সরাসরি ঢাকা থেকে লন্ডন যাতায়াত করবে। ম্যানচেস্টার রুটের যাত্রীরা চাইলে কোনো প্রকার অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই তাদের টিকিট ফেরত নিতে পারবেন। এছাড়া লন্ডন হয়ে যাতায়াত করা বা অন্য কোনো সুবিধাজনক তারিখে টিকিট পরিবর্তনের সুযোগও রাখা হয়েছে যাত্রীদের জন্য।

সাময়িক এই অসুবিধার জন্য বিমান কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। তারা আশ্বস্ত করেছে যে, বর্তমানে নতুন উড়োজাহাজ কেনা এবং ক্রু নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন হলে এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে ভবিষ্যতে আবারও ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চালুর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হবে।


নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা, শিল্পাঞ্চলে ১০ তারিখ থেকেই ছুটি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ ছুটির পরিধি বাড়িয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নির্বাচনের আগের দিন অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের ভোট প্রদানের সুবিধার্থে ১০ ফেব্রুয়ারিও সাধারণ ছুটি থাকবে। বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রেস সচিব জানান, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই ছুটির বিষয়টি অনুমোদিত হয়েছে। এর আগে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে ভোটারদের যাতায়াত ও ভোটদানের সুবিধার্থে নির্বাচনের আগের দিনও ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলো। বিশেষ করে যারা শিল্প কলকারখানায় কাজ করেন, তাদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ছুটি কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা ১০, ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি টানা তিন দিন ছুটি উপভোগ করতে পারবেন। এতে করে যারা কাজের প্রয়োজনে নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে অবস্থান করছেন, তারা নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মূলত নির্বাচনকে সর্বজনীন ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যেই সরকার এই বাড়তি ছুটির অনুমোদন দিয়েছে। প্রেস সচিব উল্লেখ করেন, কেবিনেট বা উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার পর জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।


বেবিচকের ৫৩ বছর পূর্তি: নিরাপদ আকাশপথ ও আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব গড়ার প্রত্যয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) সদস্যপদ প্রাপ্তির ৫৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এক বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করেছে। গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সিভিল এভিয়েশন একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারের প্রতিপাদ্য ছিল গ্রোথ, অ্যাচিভমেন্টস, ফিউচার নিডস অ্যান্ড আইকাও এনজিএপি–বাংলাদেশ পারসপেক্টিভ। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের আকাশপথকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন রাখতে বেবিচকের নিরলস প্রচেষ্টা, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নানা দিক এই সেমিনারে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।

সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেবিচকের মেম্বার (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বেবিচকের ৫৩ বছরের যাত্রার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে সবসময়ই ছিল নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন। তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পকে দেশের এভিয়েশন ইতিহাসের একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, এই টার্মিনাল চালু হলে যাত্রী ধারণক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং বাংলাদেশ একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত হওয়ার পথে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। তিনি আরও জানান, শাহ আমানত ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের অন্যান্য বিমানবন্দরের রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে এবং টার্মিনাল সুবিধা উন্নয়নের কাজও চলমান রয়েছে। দ্য লিগ্যাসি অব সেফ স্কাই বা নিরাপদ আকাশের ঐতিহ্যকে বেবিচকের মূল দর্শন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যতে গ্রিন এভিয়েশন, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং দুর্যোগ-সহনশীল বিমানবন্দর গড়ার ওপর জোর দেন।

মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়টিতে সেমিনারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়, যেখানে নেক্সট জেনারেশন অব এভিয়েশন প্রফেশনালস (এনজিএপি) উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। সিভিল এভিয়েশন একাডেমির পরিচালক প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী বলেন, ভৌত অবকাঠামো ও প্রযুক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ জনবলই এভিয়েশন খাতের মূল চালিকাশক্তি। তিনি জানান, কার্যকর প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য ট্রেনিং নিড অ্যাসেসমেন্ট (টিএনএ) অপরিহার্য। প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং আইকাও অডিটের সুপারিশ মেনে ভবিষ্যৎ চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সাজানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন একাডেমির আইকাও ট্রেইনেয়ার প্লাস গোল্ড মেম্বারশিপ অর্জনের কথা উল্লেখ করেন, যা দেশের প্রশিক্ষণ সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বহন করে।

সেমিনারে বেসরকারি এয়ারলাইন্স খাতের বর্তমান পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেন এয়ার অ্যাস্ট্রার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ইমরান আসিফ। তিনি বলেন, দেশের এয়ারলাইন্স শিল্প বর্তমানে একটি পরিবর্তনশীল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যাত্রী চাহিদা বৃদ্ধি, তীব্র প্রতিযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার চাপের কারণে দক্ষ জনবল ও মানসম্মত প্রশিক্ষণের গুরুত্ব এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। অন্যদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চিফ অব ট্রেনিং ও ফ্লাইট অপারেশন ডিরেক্টর ক্যাপ্টেন সাজ্জাদুল হক এনজিএপি উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি মনে করেন, পাইলট, কেবিন ক্রু ও ফ্লাইট অপারেশন সংশ্লিষ্ট জনবলকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও এয়ারলাইন্সগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

উক্ত সেমিনারে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার এবং এয়ার এস্ট্রার প্রতিনিধিবৃন্দসহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক ও বেবিচকের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা সকলে মিলে একটি টেকসই ও নিরাপদ এভিয়েশন শিল্প গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


একটা বিশ্বকাপ না খেললে বাংলাদেশের ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যাবে না: উপ-প্রেস সচিব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে খেলা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কঠোর আল্টিমেটামের প্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে বাংলাদেশ সরকার। আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাংলাদেশকে ভারতেই যেতে হবে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য মাত্র এক দিন সময় বেধে দেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে একটি বিশ্বকাপ না খেললে বাংলাদেশের ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যাবে না।

একটি বেসরকারি টেলিভিশনের আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বিশ্বকাপে বিভিন্ন দেশের খেলতে না যাওয়ার ঐতিহাসিক নজির তুলে ধরেন। তিনি যুক্তি প্রদর্শন করে বলেন, অতীতে ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া শ্রীলঙ্কায় খেলতে যায়নি। একইভাবে ইংল্যান্ড জিম্বাবুয়েতে এবং নিউজিল্যান্ড কানাডাতে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। সেই বর্জনের কারণে ওই দেশগুলোর ক্রিকেট থেমে যায়নি বা বন্ধ হয়ে যায়নি। ঠিক একইভাবে বাংলাদেশ যদি যৌক্তিক নিরাপত্তা শঙ্কায় একটি বিশ্বকাপ না খেলে, তবে দেশের ক্রিকেটের কোনো অপূরণীয় ক্ষতি হবে না বা ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যাবে না।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জরুরি বৈঠকে বসছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বিকেল ৩টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। খেলোয়াড়দের মতামত এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেখানেই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বা বর্জনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতে দলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছিল যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা সেখানে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না। বিসিবি ভেন্যু পরিবর্তনের জোর দাবি জানালেও আইসিসি গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাদের কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে। বিশ্ব ক্রিকেটের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়ে দেয়, নির্ধারিত সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না এবং টুর্নামেন্টে অংশ নিতে হলে বাংলাদেশকে ভারতের ভেন্যুতেই খেলতে হবে। আইসিসির এমন অনমনীয় মনোভাবের বিপরীতে বাংলাদেশ সরকারও এখন নিজেদের অবস্থানে অটল থাকার ইঙ্গিত দিল।


মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য গ্রেডভিত্তিক বেতন নির্ধারণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদিমদের জন্য গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো নির্ধারণ করেছে সরকার। পাশাপাশি নিয়োগ, ছুটি, আবাসন ও অবসরকালীন সুবিধার বিষয়গুলোও নতুন মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫–এ সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। গত সোমবার বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, খতিব ছাড়া মসজিদে কর্মরত অন্যান্য জনবলের জন্য গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো কার্যকর হবে। খতিবদের বেতন নির্ধারিত হবে চুক্তিপত্রের শর্ত অনুযায়ী। তবে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও পাঞ্জেগানা মসজিদের ক্ষেত্রে সামর্থ্য অনুসারে বেতন-ভাতা নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী সিনিয়র পেশ ইমামকে ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী পঞ্চম গ্রেডে, পেশ ইমামকে ষষ্ঠ গ্রেডে এবং ইমামকে নবম গ্রেডে বেতন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান মুয়াজ্জিন দশম গ্রেড, মুয়াজ্জিন একাদশ গ্রেড, প্রধান খাদিম পঞ্চদশ গ্রেড এবং খাদিম ষেড়শ গ্রেডে বেতন পাবেন।

জাতীয় বেতন স্কেলে পঞ্চম গ্রেডে মূল বেতন শুরু হয় ৪৩ হাজার টাকায়, সঙ্গে অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ সুবিধা যুক্ত হয়। উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই গ্রেডে বেতন পান।

নীতিমালায় মসজিদে কর্মরত জনবলের কল্যাণের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী সপরিবারে আবাসনের ব্যবস্থা নিতে বলার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য মাসিক সঞ্চয়ের বিধান রাখা হয়েছে। চাকরি শেষে এককালীন সম্মাননা দেওয়ার কথাও আছে নীতিমালায়।

মসজিদে কর্মরত ব্যক্তিদের ছুটির বিষয়টি নীতিমালায় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কমিটির অনুমোদনক্রমে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ চারদিন সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ করা যাবে। এ ছাড়া পঞ্জিকাবর্ষে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি এবং প্রতি ১২ দিনে একদিন অর্জিত ছুটির বিধান রাখা হয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে নীতিমালায় সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি বাছাই কমিটির কথা বলা হয়েছে। এই কমিটির সুপারিশ ছাড়া কোনো পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া যাবে না। নিয়োগের সময় বেতন-ভাতা, দায়িত্ব ও চাকরির অন্যান্য শর্ত উল্লেখ করে নিয়োগপত্র দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

নতুন নীতিমালায় মসজিদে নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি নারীদের জন্য শরিয়তসম্মতভাবে পৃথক নামাজের কক্ষ বা স্থান রাখার বিষয়েও মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ১৫ জন করা হয়েছে। তবে মসজিদের আয়, আয়তন ও অবস্থান বিবেচনায় প্রয়োজনে এই সংখ্যা কম বা বেশি করা যাবে।

চাকরিসংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে সংক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার অথবা সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। নীতিমালা বাস্তবায়নে জটিলতা দেখা দিলে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি তা নিরসনের দায়িত্ব পাবে।

বেতন আসবে যেসব খাত থেকে: এই বেতন কাঠামোর প্রয়োগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতুহল দেখা দিয়েছে। গেজেটের তথ্যানুযায়ী এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:

সরকারি ও মডেল মসজিদ: সরকার কর্তৃক সরাসরি পরিচালিত মসজিদ (যেমন: বায়তুল মোকাররম, আন্দরকিল্লা শাহী মসজিদ) এবং নবনির্মিত ৫৬০টি মডেল মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনরা সরাসরি সরকারি তহবিল বা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই স্কেলে বেতন পাবেন।

বেসরকারি বা স্থানীয় মসজিদ: পাড়া-মহল্লা বা গ্রামের স্থানীয় কমিটি দ্বারা পরিচালিত মসজিদগুলোর ক্ষেত্রে এই গেজেটটি একটি ‘আদর্শ মানদণ্ড’ হিসেবে কাজ করবে। তবে এসব মসজিদে বেতন প্রদানের মূল দায়িত্ব এখনো স্থানীয় কমিটির হাতেই থাকছে। সরকার এই কাঠামো অনুসরণ করার জন্য কমিটিগুলোকে উৎসাহিত করছে।

চাকরির বিরোধ নিষ্পত্তি: চাকরির বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার কিংবা সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট ৩০ দিনের মধ্যে আপিল কর্মরত যেকোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি। এছাড়া, নীতিমালা বাস্তবায়নে কোনো জটিলতা দেখা দিলে তা নিরসনের জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটিও রয়েছে এ নীতিমালায়। এ নীতিমালা জারির মাধ্যমে ২০০৬ সালের মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালাটি রহিত করা হয়েছে।


গেল বছরে রাজধানীতে সড়কে মৃত্যু ২১৯

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গেল বছরে রাজধানীতে ৪০৯ সড়ক দুর্ঘটনায় ২১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো ৫১১ জন। নিহতদের মধ্যে পুরুষ ১৭৬ জন (৮০.৩৬ শতাংশ), নারী ২৫ জন (১১.৪১ শতাংশ) এবং শিশু ১৮ জন (৮.২১ শতাংশ)। এদের মধ্যে পথচারী ৪৭.০৩ শতাংশ, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ৪৩.৩৭ শতাংশ এবং বাস, রিকশা, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও আরোহী ৯.৫৮ শতাংশ। গতকাল বুধবার রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভোরে ঘটেছে ১১.২৪ শতাংশ, সকালে ১৮.৩৩ শতাংশ, দুপুরে ৯.৫৩ শতাংশ, বিকেলে ১৩.৪৪ শতাংশ, সন্ধ্যায় ৫.৮৬ শতাংশ এবং রাতে সর্বোচ্চ ৪১.৫৬ শতাংশ দুর্ঘটনা।

রাজধানীতে দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে বাস ২৪.৮৭ শতাংশ, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্যাংকার ও ময়লাবাহী ট্রাক ৩৫.১৪ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২১.৫৩ শতাংশ, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও জীপ ৪.১২ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (অটোরিকশা, সিএনজি ও লেগুনা) ১১.৮২ শতাংশ এবং রিকশা ২.৪৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীতে যানবাহন পরিচালনায় চরম অব্যবস্থাপনার কারণে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষ করে রাতে ও সকালে দুর্ঘটনার হার বেশি। বাইপাস সড়ক না থাকায় রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে ভারী মালবাহী যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে, ফলে পথচারীরা বেশি হতাহত হচ্ছেন। এছাড়া যানজটের কারণে চালকদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা ও ধৈর্যহীনতা তৈরি হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। যাত্রাবাড়ি, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড ও বিমানবন্দর সড়ককে দুর্ঘটনার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে— মেয়াদোত্তীর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া চলাচল, যানবাহনের তুলনায় অপ্রতুল সড়ক, একই সড়কে বিভিন্ন গতির যানবাহনের চলাচল, ফুটপাত দখল, অপরিকল্পিত ও ব্যবহার অনুপযোগী ফুটওভার ব্রিজ, সড়কে পর্যাপ্ত সাইন ও মার্কিংয়ের অভাব, সড়ক ব্যবহারকারীদের অসচেতনতা এবং সড়ক ও যানবাহনে চাঁদাবাজি।

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে প্রতিবেদনে একাধিক সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক আধুনিক বাস সার্ভিস চালু, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার, বাসের জন্য আলাদা লেন চালু, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বাস সার্ভিস বাধ্যতামূলক করা, উন্নত বিকল্প তৈরি করে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার, বহুতল পার্কিং স্টেশন নির্মাণ, রেল ক্রসিংয়ে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণ, রাজধানীর চারপাশে বাইপাস সড়ক নির্মাণ, জনসচেতনতামূলক প্রচারণা এবং গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করা।


গুম শুধু ভুক্তভোগীকে নয়, পুরো সমাজকেই শাস্তি দেয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গুম শুধু ভুক্তভোগীকে নয়, পুরো সমাজকেই শাস্তি দেয় বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, একজন মানুষ গুম হলে তার পরিবার প্রতিদিন বিচারহীনতার কারাগারে বন্দী থাকে। বুধবার আওয়ামী লীগের শাসনামলে টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেলে (টিএফআই সেল) গুম করে নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর আগে সূচনা বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর এ কথা বলেন।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ চিফ প্রসিকিউটর সূচনা বক্তব্যে বলেন, আমরা গুমের যে মামলার বিচার শুরু করছি, সেগুলো কেবল কিছু ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ছিল না। এগুলো ছিল নির্মম আওয়ামী ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রীয় শাসনপদ্ধতির কৌশলের সাক্ষ্য। যে কৌশল স্রেফ গোপনে হত্যা করে লাশ গোপনই করেনি, বরং বিরোধী মতের হাজার হাজার মানুষকে জ্যান্ত লাশ বানিয়ে অক্ষম করে রেখেছিল।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, নীরব ও আলো-বাতাসহীন অন্ধকার কুঠরিতে হাত-পা বেঁধে মাসের পর মাস বিনা বিচারে বন্দীদের আটকে রাখার এই কৌশল, সমাজে ভয়, অনিশ্চয়তা ও একটি দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করেছিল। এই ক্ষত কেবল রাজনৈতিক জনপরিসরে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং জনগণের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসমূহ বিদ্যমান ছিল, সেই বাহিনীগুলোর কাঠামোর মধ্যেও গভীরভাবে প্রবেশ করেছিল।

তিনি বলেন, বিরোধী চিন্তার মানুষদের গুম করে তিলে তিলে অক্ষম করে দেয়ার মাধ্যমে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকল্পের যে উগ্র বাসনা বাস্তবায়িত হয়েছে, তার পথে দেশের প্রধান কয়েকটি নিরাপত্তা বাহিনীর একদল সদস্য মার্সেনারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল, এর ফলে খোদ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যেই যে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা নজিরবিহীন।

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষ হিসেবে মানুষের যে ন্যূনতম মর্যাদা থাকে, বলপূর্বক গুম সেই মর্যাদাকে সম্পূর্ণভাবে নিঃশেষ করে দেয়। এ কারণেই আন্তর্জাতিক আইনে বলপূর্বক গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে, কারণ এটি একযোগে বহু অধিকার ধ্বংস করে।’

তিনি বলেন, হাসিনার রাষ্ট্রকল্পে গুমের কৌশল মানুষকে কেবল দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দেয়নি, অনেক ক্ষেত্রে নিষ্ঠুর নির্যাতনের মাধ্যমে দেহকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু বা চিরতরে অক্ষম করে দিয়েছে। এখানে মৃত্যু ঘটানো হয় না প্রকাশ্যে, বরং মানুষকে ঝুলিয়ে রাখা হয় জীবিত ও মৃতের মাঝখানে। পরিবার জানে না সে বেঁচে আছে কি-না।


রোজার আগেই এলপিজি সংকট সমাধানের আশ্বাস জ্বালানি উপদেষ্টার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, রোজার আগেই তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকট সমাধান হবে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সচিবালয়ে ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে এ কথা বলেন তিনি।

উপদেষ্টা আরও বলেন, রোজার আগেই এলপিজি সংকট কাটাতে ইরানের বিকল্প উৎস থেকে এলপিজি আমদানি করা হচ্ছে। বেসরকারি খাতের পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনও (বিপিসি) আমদানি অব্যাহত রাখবে। আশা করি রোজার আগেই সংকটের সমাধান হয়ে যাবে।

বাজারে এলেই এলপিজি সরবরাহ সংকট রয়েছে দাবি করে উপদেষ্টা বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা এটার সুযোগ নিয়েই এলপিজির দাম বাড়িয়েছে। বাজারে সরকার মনিটরিং করছে।

জ্বালানি উপদেষ্টা আরও বলেন, এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে এবং বাজারে ন্যায্যমূল্যে ভোক্তাকে পৌঁছে দিতে সামর্থ্যের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার। বাজারে সরবরাহ সংকট হলে এলপিজির দাম বাড়বেই। এটা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এলপিজির নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি খাতের হাতে থাকায় সংকটের বিষয়টি সরকার আগাম আঁচ করতে পারেনি।


১৮৩ দিন পর বাড়ি ফিরল আবিদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ১৮৩ দিন পর হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরল সর্বশেষ শিক্ষার্থী আবিদুর রহিম (১২)। স্কুলটিতে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে সে। বুধবার দুপুরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা তাকে ছাড়পত্র দেন।

ইনস্টিটিউটের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. মারুফুল ইসলাম বলেন, ‘ভয়াবহ এই বিমান দুর্ঘটনায় আবিদের শরীরের ২২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। সেদিনই তাকে বার্ন ইনস্টিটিউটে আনা হয়। জীবন-মরণের সমস্যা ছিল আবিদের। তবে চিকিৎসকরা হাল ছাড়েননি। হাল ছাড়েনি আবিদ ও তার পরিবার। সর্বমোট ৫ দিন আইসিইউতে ভর্তি ছিল সে। এরপর ৬ দিন হাইডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয়েছে। এরপর বাকি দিনগুলো কেবিনে থাকার পর আজ সুস্থ হয়েছে। আজ সে হাসিমুখে বাড়ি ফিরছে।’

তিনি বলেন, ‘আবিদের মোট ৩৫ বার ছোট-বড় অপারেশন হয়েছে। শরীরের ক্ষতস্থানে চামড়া প্রতিস্থাপন হয়েছে ১০ বার এবং তার দুই হাতের অকার্যকর টিস্যু ২৩ বার অপসারণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন সূর্যের আলো থেকে বঞ্চিত ছিল সে। সেজন্য ক্ষতস্থান শুকাচ্ছিল না। আবিদের মুখমণ্ডল দগ্ধ হয় বেশী। ৪৮ বার অক্সিজেন থেরাপি দেওয়া হয়েছে এবং ২৩ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে।’

ডা. মারুফুল আরও বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে সে বাসায় যাওয়ার উপযোগী হয়েছে। আবিদের বাবা-মা যথেষ্ট ধৈর্যধারণ করেছেন। তার ফিজিওথেরাপি দরকার। যেটা সে হাসপাতালে এসে দিতে পারবে অথবা বাসায় গিয়েও দেওয়া যেতে পারে।’

ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আবিদুর রহিমের শরীরের কম অংশ দগ্ধ হলেও আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জিং ছিল। তার সেফটিসেমিয়া হয়েছিল। যে কারণে ৬ মাস লেগেছে। আমরা যে ৩৬ জন রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছি, তার মধ্যে সর্বশেষ রোগী হিসেবে আবিদুর রহিম সুস্থ হয়ে বাসায় যাচ্ছে। এটা আমাদের সবার জন্য আনন্দের বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের ডাকে সারা দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে চিকিৎসকরা এসেছিলেন। তারা যে পরামর্শ দিয়েছেন, আমরা আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে একসঙ্গে বসে এমন কিছু ওষুধ ও ড্রেসিং মেটেরিয়ালস ব্যবহার করতে পেরেছি, যা এর আগে বার্ন ইনস্টিটিউটে ব্যবহার হয়নি। ভবিষ্যতে যাতে সব রোগীকে উন্নতমানের চিকিৎসা ও মেটেরিয়ালস দিতে পারি, সেজন্য সবাই বসে সরকারের কাছে আবেদনও করেছি। যেন মাইলস্টোনের রোগীদের মত সাধারণ রোগীদেরও এমন চিকিৎসা দিতে পারি।’

এসময় আবিদুর রহিমের কাছে তার অনুভূতির কথা জানতে চাইলে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে সে শুধু বলে, ‘আমি যখন হাসপাতালে এসেছি কোনো ভয় পাইনি।’ এরপর কান্না শুরু করে দেয়। আর কথা বলতে পারেনি। তবে ধরা কণ্ঠে বলে, ‘যুদ্ধ জয় করেছি’।

আবিদের বাবা আবুল কালাম আজাদ চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেশবাসীর কাছে ছেলে ও এই ঘটনায় হতাহতদের জন্য দোয়া চান।

বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে, সেই পরিমাণটা কম হয়েছে।’ বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ জুলাই দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দোতলা ভবনে আছড়ে পড়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান। মুহূর্তেই দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। এসময় আগুনে পুড়ে ও চাপা পড়ে প্রাণ হারান স্কুলের বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক।


ভোটে প্রান্তিক নারী-পুরুষের নিরাপত্তা চাইল সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের নারী-পুরুষ, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকল সাধারণ জনগণ যাতে স্বেচ্ছায় ও সুষ্ঠুভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেজন্য যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি। গতকাল বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন বরাবর স্মারকলিপি পেশ করে তাদের এ দাবি জানিয়েছে। সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির পক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দিয়েছেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে প্রার্থীদের ভোটের প্রচার।

দেশের ৭১টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত প্ল্যাটফর্ম সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি বলেছে, ‘আমরা সকলেই চাই একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের সরকার গঠিত হোক; যাতে দেশের প্রতিটি নাগরিকের মতামতের প্রতিফলন ঘটে। শুধু রাজনৈতিক দলের জন্য নয় নারী, আদিবাসী, দরিদ্র ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ সকল নাগরিকের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ এবং ভীতি-সন্ত্রাস-নির্যাতনমুক্ত এবং জেন্ডার সংবেদনশীল পরিবেশ চাই।’

নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, নারীর মানবাধিকার অর্জন ও রক্ষার লক্ষ্যে বহুমুখী প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করা সংগঠনটি বলেছে, ‘আমরা চাই, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে একটি সমতাভিত্তিক, জনপ্রতিনিধিত্বশীল, জবাবদিহিমূলক স্থায়ী কার্যকরী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠুক।’

নির্বাচন কমিশনে তাদের তরফে যেসব দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো হল- দেশের সব প্রান্তের সব নাগরিক যাতে নির্বিঘ্নে, স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন পূর্ববর্তী, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নারীসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক নারী-পুরুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব ধরনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীদের প্রতি হয়রানি, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও সহিংস আচরণ প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগ ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। নির্বাচনী ব্যায় সংকোচ করে ন্যূনতম নির্বাচনী ব্যয় নির্ধারণ করতে হবে এবং এ বিষয়ে কঠোরভাবে মনিটরিং করতে হবে। স্বতন্ত্র নারী প্রর্থীসহ নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

নারী, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী যাতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সে দিকে দৃষ্টি রেখে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুবিধাজনক স্থানে ভোট কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।

জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য নিরপেক্ষভাবে সকল ধরণের সহায়তা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনী প্রচারে ধর্মের ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নির্বাচনি প্রচারণায় ধর্মীয় সখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষদের হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।


শিল্প-সংস্কৃতি বিকাশে জিয়াউর রহমানের অবদান ও সাংস্কৃতিক উত্থানের আহ্বান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন যে সংস্কৃতি হচ্ছে সমাজের প্রাণ এবং একটি জাতি কতটা উন্নত তা সেই দেশের সংস্কৃতি থেকেই বোঝা যায় যেখানে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা মানুষকে সুন্দরের দিকে নিয়ে যায় আর অপসংস্কৃতি মানুষকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়ে জাতীয় মূল্যবোধকে গলাটিপে হত্যা করে।

গতকাল বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে ‘শিল্প-সংস্কৃতি বিকাশে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বহুদলীয় গণতন্ত্রের রূপকার ও মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই প্রথম বাংলাদেশি শিল্প-সংস্কৃতি বিকাশে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং তার সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেম এ দেশের গণমানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছিল।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক ফোরাম (বিসিএফ) আয়োজিত এই সভায় তিনি বলেন যে, জিয়াউর রহমানের কীর্তি বাস্তবিকই বিপুল ও বিশাল কারণ তিনি ক্যান্টনমেন্ট থেকে এসে মানবিক আদর্শ দিয়ে মানুষের মন জয় করেছিলেন এবং দেশে ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জনগণের মধ্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিলেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে শিল্প-সংস্কৃতির পাশাপাশি শিক্ষা, কৃষি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে দৃষ্টান্ত স্থাপনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে দেওয়া জাতীয় পুরস্কার নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই কারণ তিনি প্রকৃত গুণীজনদেরই যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা দিতেন।’

কাদের গনি চৌধুরী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, জিয়াউর রহমান একটি আগ্রাসনমুক্ত সাংস্কৃতিক উত্থান চেয়েছিলেন; কিন্তু সেই প্রত্যাশা এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে এবং জাতীয়তাবাদী চেতনার শিল্পী-সাহিত্যিকরা দীর্ঘদিন অবহেলিত হয়েছেন। তিনি তারেক রহমানের হাত ধরে সাংস্কৃতিক অঙ্গন দুর্ভিক্ষমুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং বিসিএফের সভাপতি মো. এরশাদ হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, এরফানুল হক নাহিদ, কামরুল হাসান দর্পণ ও জাকির হোসেন রোকনসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।


নির্বাচনী কেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিতে উপদেষ্টার কঠোর নির্দেশনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জোরালো নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, “যেসব ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, ৭ দিনের মধ্যে সেসব কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ বা বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।” মূলত পবিত্র রমজান মাস, আসন্ন নির্বাচন এবং গ্রীষ্ম মৌসুমে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতেই এই সভার আয়োজন করা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশের প্রায় ৩২৫টি কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সুবিধা না থাকায় নির্বাচন কমিশন থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল, যার প্রেক্ষিতেই এই জরুরি নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ৩২৫টি বিদ্যুৎহীন ভোটকেন্দ্রের একটি তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রদান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সবুর হোসেন জানান, দেশের ৪টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির আওতাধীন এলাকাগুলোতে এই কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং দ্রুত সংযোগ প্রদানের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে, যেসব দুর্গম এলাকায় সরাসরি বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে নির্বাচনের আগেই বিকল্প পন্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনিক তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।


রাজবাড়ীর হস্তশিল্পে আলজেরিয়ার আগ্রহ: গোল্ডেন জুট কারখানা পরিদর্শনে রাষ্ট্রদূত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আবদেলোহাব সাইদানী বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের ভবদিয়া এলাকায় অবস্থিত গোল্ডেন জুট প্রোডাক্ট লিমিটেডের তিনটি পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরির কারখানা পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে তিনি গোল্ডেন জুট প্রোডাক্ট লিমিটেড, গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফ্টস লিমিটেড এবং গোল্ডেন প্লাস ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলজেরিয়ান অ্যাম্বাসেডর একেএম সাঈদাদ হোসাইন, রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তারিফ উল হাসান এবং গোল্ডেন গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. হাকিম আলী সরদারসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কারখানা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় এই ফ্যাক্টরি থেকে পাট, হোগলাপাতা, কচুরিপানা, খড় ও ছন দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব হস্তশিল্প আলজেরিয়াতে রপ্তানি এবং আলজেরিয়া থেকে অলিভ অয়েল, খেজুর ও জুস আমদানির বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। আলোচনায় দুই দেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার নানামুখী দিক উঠে আসে, যা ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে রাষ্ট্রদূত আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি আলজেরিয়াতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ট্রেড ফেয়ারে এই কোম্পানির উৎপাদিত পণ্যসমূহ প্রদর্শনের জন্য বিশেষ প্রস্তাবনা পেশ করেন।

উল্লেখ্য যে, ২০১৪ সালে মো. হাকিম আলী সরদারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই কারখানায় বর্তমানে প্রায় দুই হাজার শ্রমিক কাজ করছেন, যাদের অধিকাংশ নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারানো মানুষ। এখানকার উৎপাদিত নার্সারি পট, ফ্লোর ম্যাট, বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ ও গৃহস্থালি পণ্য বর্তমানে বিশ্বের ২৬টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির একটি বড় বিশেষত্ব হলো এর মোট শ্রমিকের ৮০ শতাংশই নারী এবং এখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব কাঁচামাল ব্যবহার করে বিশ্বমানের পণ্য তৈরি করায় রাজবাড়ীর এই কারখানাটি আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করে নিয়েছে।


banner close